ইরান

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ

পূর্বসাল

পূর্বসাল ৬৫০০-৬০১ সাল প্রাচীন নিকট প্রাচ্য – সময়রেখা।

১১০০-১৪৬ প্রাচীন গ্রিস – সময়রেখা।

পূর্বসাল ৭৫৩-৪৭৬/৪৮০ সাল প্রাচীন রোম – সময়রেখা।

সাল

২২৪-৬৫১ Sasanian Empire – Wikipedia।

৩৩০-১৪৫৩ Byzantine Empire – Wikipedia।

৬৩২-১২৫৮ আরব-ইসলামী সাম্রাজ্য – সময়রেখা।

১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি – সময়রেখা।

১৫০১-১৭৩৬ সাফাভি সাম্রাজ্য – সময়রেখা।

১৭৯৮-১৯৬০ঔপনিবেশিক মধ্যপ্রাচ্য – সময়রেখা।

কাজার ইরান
১৭৮৯-১৯২৫

Wikimedia Commons.

১৭৫০-৭৯ করিম খানের শাসনামল।*
* শাহ উপাধি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন করিম খান। নিজেকে জনগণের সেবক বলে দাবি করেন। দয়ালু শাসক হিসেবে তাঁকে স্মরণ করা হয়।

১৭৮৯-১৯২৫ কাজার ইরান।

১৭৯৪/১৭৯৫ কাজার রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করলেন মোহাম্মদ খান কাজার। রাজধানী ইস্ফাহান থেকে তেহরানে সরিয়ে নেয়া হল।

১৮১৩ গুলিস্তান চুক্তি, ১৮২৮ তুর্কমানচাই চুক্তি এই দুটি আলাদা চুক্তির মাধ্যমে পারস্যের ককেশীয় অঞ্চলগুলো (জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, ও আজারবাইজান) দখল করে সাম্রাজ্যিক রাশিয়া।

১৮১৭ নভেম্বর ১২ তেহরানে মির্জা হুসাইন আলী নূরির জন্ম।

১৮১৯ অক্টোবর ২০ শিরাজে সিয়িদ আলি মুহাম্মদের জন্ম।

১৮৪৪ মে ২৩ সিয়িদ আলি মুহাম্মদ নিজেকে ঐশী বানীপ্রাপ্ত ঘোষণা করলেন। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে বাব ডাকা শুরু করলেন, অর্থ দরজা। ধর্মটি বাবীধর্ম নামে পরিচিত হলেন।

বাবীধর্মে দীক্ষিত হলেন মির্জা হুসাইন আলী নূরি।

১৮৪৪-১৯২১ মির্জা হুসাইন আলী নূরির ছেলে আবদুল বাহার জীবনকাল।

১৮৪৬ গ্রেপ্তার এড়িয়ে শিরাজ ছেড়ে গেলেন বাব।

১৮৪৮ বাদাশতে বাবীদের একটা সম্মেলন আয়োজিত হল। এই সম্মেলনেই বাহাউল্লা উপাধি লাভ করলেন নূরি। এর অর্থ: “ঈশ্বরের গৌরব”।

১৮৪৮-৫০ বাবীদের ইসলামের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালাল পারস্যের মোল্লারা।

১৮৫০ মোল্লাদের হুকুমে ৭৫০ জন আরমানি খ্রিস্টানের একটি ফায়ারিং স্কোয়াড বাবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল। এরপর মুসলমান সৈনিকদেরকে এই দায়িত্ব দেয়া হল। তারা এতে সফল হল, নিহত হলেন বাব।

১৮৫১-১৯০৬ পারস্যের মধ্য এশীয় ভূখণ্ডগুলো নিয়ে নিল রাশিয়া। ব্রিটিশরা পারস্যবাদীদের বাধ্য করল আফগানিস্তানে হেরাত-সহ অন্যান্য শহরের ওপর তার দাবি ছেড়ে দিতে।

১৮৫২ বিশৃঙ্খলা আর নেতৃত্বশূন্যতার কারণে বাবীধর্মের অবক্ষয়ের শুরু। সিয়া-চালে কারারুদ্ধ হলেন বাহাউল্লা, অন্ধকূপে শেকলে বাঁধা থাকা অবস্থায় তাঁর মনে হল, তিনি ঐশী প্রত্যাদেশ লাভ করেছেন। বাগদাদে নির্বাসিত হলেন।

১৮৫৮ এসময়ই কখনো কালিমাত-ই-মাকনুনিহ লেখা শেষ করেন বাহাউল্লা।

১৮৬২ কিতাব-ই-ইকান লেখা শেষ করলেন বাহাউল্লা।

১৮৬৩ ইস্তানবুলে নির্বাসিত হলেন বাহাউল্লা। রিদভান ঘোষণা। এদির্নেতে নির্বাসিত হলেন বাহাউল্লা।

১৮৬৮ আক্রেতে কারারুদ্ধ হলেন বাহাউল্লা।

১৮৭৩ কিতাব-ই-আকদাস লেখা শেষ করলেন বাহাউল্লা।

১৮৯০ একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে তামাক উৎপাদন ও বিক্রির ওপর একচেটিয়া অধিকার প্রদান করেন কাজার রাজা নাসিরুদ্দিন শাহ। পারস্যবাসী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করলে মির্জা শিরাজি নামের এক মোল্লা পারস্যবাসীদেরকে তামাক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ও তামাক বয়কট করার আহবান জানিয়ে ফতোয়া দেন। কাজাররা ব্রিটিশদের সাথে করা চুক্তি রদ করতে বাধ্য হয়।

১৮৯২ মে ২৯ বাহাউল্লার মৃত্যু।

১৮৯৭-১৯৫৭ বাহাইধর্মের গার্ডিয়ান অফ দ্য ফেইথ শোগি এফেন্দি রাব্বানির জীবনকাল। বাহাউল্লা আর আবদুল বাহার লেখাগুলো অনুবাদ করেন। সারা দুনিয়ায় বাহাইধর্ম প্রচার করার উদ্যোগ নেন।

১৯০২ খোমিনে রুহুল্লার জন্ম।*
* পরবর্তীকালে আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনি নামে পরিচিত হবেন।

১৯০৬ সাংবিধানিক বিপ্লব, প্রথম সংসদ মজলিস প্রতিষ্ঠা। মোজাফফরুদ্দিন শাহ একটা সংবিধান প্রবর্তন করলেন, যেখানে মোল্লাদের যেকোন বিধানের বিরুদ্ধে ভেটো দেয়ার অধিকার দেয়া হল।

১৯০৮ তেল আবিষ্কৃত, পারস্যে ব্রিটিশ প্রভাব বৃদ্ধি পেল।

১৯১০-১১ সাংবিধানিক সরকারের সাথে মোহাম্মদ আলী-শাহের দ্বন্দ্ব দেখা দিল। আলী-শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল। তেহরানে হোজ্জাতুল ইসলাম শেখ ফজলুল্লাহ নূরিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হল।

১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia।

১৯১৪-২১ পারস্যের বিপ্লবী মির্জা কুচিক খানের জঙ্গল আন্দোলন।

১৯১৪ মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, জোরোয়েস্ট্রিয়ান থিওলজি।

১৯১৭ রুশ বিপ্লব।

পারস্যের সোশাল ডেমোক্র্যাটরা প্রতিষ্ঠা করলেন জাস্টিস পার্টি।

এরভাদ ফিরোজ শাপুরজি মাসানি, জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম: অ্যানসেইন অ্যান্ড মডার্ন।

১৯১৮-১৯ বিশ্বযুদ্ধের সময় ইরান দখল করে রাখা বিদেশি সেনারা দেশটি ছেড়ে গেল। রুহুল্লা আরাকে চলে এলেন, মাদ্রাসায় ভর্তি হলেন। এরপর শেখ আবদুল-করিমকে অনুসরণ করে কোমে চলে গেলেন ও সেখানেই থিতু হলেন।

১৯১৯-২২ পারস্যে শেকাক গোত্রের কুর্দি সর্দার ইসমাইল আগা সিমকোর বিদ্রোহ।

১৯২০ পারস্যের জাস্টিস পার্টির নাম বদলে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরান রাখা হল।
জুন সোভিয়েত লাল ফৌজের সহায়তায় ইরানের গিলান প্রদেশে পার্সিয়ান সোশালিস্ট সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন মির্জা কুচিক খান। অস্বীকৃত রাষ্ট্রটি ১৯২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকেছিল।

১৯২১ ব্রিটিশদের মদতে সামরিক কর্মকর্তা রেজা খানের ক্যুদেতা। এতে কাজারদের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

সেপ্টেম্বর জঙ্গল আন্দোলনের নেতা মির্জা কুচিক খানের মৃত্যুতে পার্সিয়ান সোশালিস্ট সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের পতন। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরানকে নিষিদ্ধ করা হল।

মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, জোরোয়েস্ট্রিয়ান সিভিলাইজেশন।

১৯২২-২৬ ক্ষমতা সংহত করলেন রেজা খান। শাহেনশাহ (রাজাদের রাজা) খেতাব নিয়ে গদিতে বসলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন পাহলবী রাজবংশ।

পাহলবী ইরান
১৯২৫-৭৯

Wikimedia Commons.

১৯২৫-৭৯ পাহলবী ইরান।

১৯২৬ পারস্যের প্রথম পাহলবী রাজা হলেন রেজা খান। রেজা শাহ পাহলবী নামে মসনদে আরোহণ করেন।

১৯২৭-৪০ রেজা শাহ নিজের সেক্যুলারাইজেশন প্রচারাভিযান চালু করলেন। মোল্লাদের বিদ্রোহ রক্তাক্ত উপায়ে দমন করা হল, সারা দেশের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব জোরদার করা হল। মহিলাদের হিজাব করা নিষিদ্ধ করা হল, মোল্লাদের দাঁড়ি কামাতে এবং পাগড়ির পরিবর্তে কেপি পরতে বাধ্য করা হল।

১৯৩০ পারস্যে গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন শেকাক গোত্রের কুর্দি সর্দার ইসমাইল আগা সিমকো।

১৯৩৫ পারস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে ইরান রাখা হয়।*
* পার্সিয়া – বাংলায় পারস্য – নামটা গ্রিকদের দেয়া। ইরান নামটা এসেছে আরইয়ানা ভায়েহো থেকে। এর অর্থ হল: “আর্যদের উৎপত্তিস্থল”।

ধর্মীয় পোষাক পরিধানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে মাশহাদের এক মোল্লার অনুসারীরা রেজা শাহের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শুরু করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মসজিদে বোমাবর্ষণ করেন রেজা শাহ।

১৯৩৮ মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, দ্য হিস্ট্রি অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।

১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia।

১৯৪১ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেজা শাহ অক্ষশক্তির পক্ষাবলম্বন করলে ব্রিটেন আর সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলে দখল করে নেয় ইরান। চাপের মুখে পুত্রের পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন রেজা শাহ ও নির্বাসনে চলে যান। শাহ হিসাবে শপথ নেন রেজা শাহের পুত্র মোহাম্মদ শাহ।

সোলেইমান মির্জা এসকান্দারি প্রতিষ্ঠা করলেন তুদেহ পার্টি।*
* একটি কমিউনিস্ট পার্টি।

১৯৪২ আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনি, কাশফ আল আসরার।

১৯৪৫ কাজী মোহাম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান।

১৯৪৬ জানুয়ারি কুর্দিরা ইরানি কুর্দিস্তানে প্রতিষ্ঠা করে মাহাবাদ প্রজাতন্ত্র। সোভিয়েত সহায়তায় প্রায় বছরখানেক টিকে ছিল প্রজাতন্ত্রটি।

ডিসেম্বর সোভিয়েত সৈন্যরা ইরান ছেড়ে চলে গেলে ইরান মাহাবাদ পুনর্দখল করে এবং মাহাবাদ প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটে।

১৯৪৭ মার্চ ৩১ কুর্দি নেতা কাজী মোহাম্মদকে ফাঁসিতে ঝোলাল ইরান।

১৯৪৯ মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ কর্তৃক গঠিত হল ন্যাশনাল ফ্রন্ট। মোল্লাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লা বোরুজের্দি একটি সম্প্রসারিত সেমিনার আয়োজন করলেন। রুহুল্লা এই সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন এবং সক্রিয়তাবাদী উপদলের পক্ষে ছিলেন।

১৯৫০ ইরানের দ্বিতীয় পাহলবি রাজা হলেন রেজা শাহের ছোট ছেলে ও রাজপুত্র মোহাম্মদ রেজা।

১৯৫১ ফেদাইন ইসলাম সংগঠনের এক সদস্যের আততায়ী হামলায় খুন হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী হজ আলী-রাহমারা। নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ। শাহ রাজকীয় অনুমতি প্রদান করলে মোসাদ্দেগ সরকার ইরানের তেল শিল্পের জাতীয়করণ করে। এতে ব্রিটেনের সাথে সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজকীয় নৌবহর। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়া প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেগ দেশটির মোল্লাদের এক উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন পান, যাঁদের অন্যতম আয়াতুল্লাহ কাশানি। এসময় ইরানের রাজনীতিতে মোল্লাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

১৯৫২ মোসাদ্দেগ ও শাহের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এতে আয়াতুল্লা কাশানি প্রথমে মোসাদ্দেগের পক্ষে ছিলেন। পরে পক্ষত্যাগ করে শাহের শিবিরে চলে যান।

১৯৫৩-৫৪ কমিউনিস্ট তুদেহ পার্টি রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে। শাহ-মোসাদ্দেগ দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত মাত্রায় এসে পৌঁছাল। দেশ ছাড়লেন শাহ। সিআইএ-পরিচালিত এক ক্যুদেতায় মোসাদ্দেগ সরকারের পতন। ফজলুল্লাহ জাহেদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হল। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলবির সাময়িক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

১৯৫৫ শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ, ফরাসি, ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাথে একটা নতুন তেল চুক্তি সম্পাদিত হল। গঠিত হল সাভাক, শুরু হল কমিউনিস্ট শিকার। সেনাবাহিনীতে ৬০০ জন সোভিয়েতপন্থী সামরিক কর্মকর্তার একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হল।

১৯৫৯ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের সাথে একটা সামরিক চুক্তি সই করলেন শাহ, যাকে শাহ তাঁর নিজের সরকারকে দেয়া মার্কিন গ্যারান্টি বলে ধরে নিলেন।

১৯৬০-৬৯ শাহ তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা নিরঙ্কুশীকরণের লক্ষ্যে বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ণ চালাতে গোপন পুলিশ সাভাকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

১৯৬০ শাহ ভূমি সংস্কারের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়ন করার চেষ্টা করলে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লা বোরুজের্দি এর বিরোধিতা করলেন। এই বিরোধিতায় তিনি অন্য মোল্লাদের সমর্থন পেলেন। চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকারকে আইনটি রদ করে দিতে বললেন শাহ।

আয়াতুল্লা রহুল্লা খোমিনি, তৌজিহ আল মাসায়েল (এক্সপ্লিকেশন অফ প্রবলেমস)।

১৯৬১ প্রতিষ্ঠিত হল ফ্রিডম মুভমেন্ট ইন ইরান।

১৯৬১-৬২ শাহ বিরোধী বাজারিরা খোমিনির সাথে যোগাযোগ করল। বোরুজের্দির মৃত্যুতে উত্তরাধিকারের লড়াই শুরু হয়ে গেল। তাতে জিতলেন আয়াতুল্লা আবদুল্লা হাকিম তাবাতাবা’ঈ। গ্র্যান্ড আয়াতুল্লার খেতাব নিলেন রুহুল্লা খোমিনি।

১৯৬৩ মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির চাপে শাহের ‘শ্বেত বিপ্লব’। ভূমি সংস্কারসহ নানা ধরণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণের কর্মসূচি হাতে নেয়া হল। মোল্লা আয়াতুল্লা খোমিনী শ্বেত বিপ্লবের বিরোধিতা করলেন। চাষীদের মধ্যে জমি পুনর্বন্টন, নারী মুক্তি, এবং স্থানীয় সরকারের চাকুরিতে অমুসলিমদের নিয়োগ দেয়ার বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শুরু করলেন। খোমিনীকে গ্রেপ্তার করে তেহরানে নিয়ে যাওয়া হল। এতে তেহরান ও অন্য বড় শহরগুলায় বেশ বড় আকারের দাঙ্গা দেখা দিল। ‘খোমিনি জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দেয়া অনেকে খুন হলেন।

১৯৬৪ খোমিনিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হলেও তাঁকে তেহরানে গৃহবন্দী করে রাখা হল। পরে তাঁকে কোমে ফিরে আসতে দেয়া হয়। যেখানে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। ইরানে মার্কিন সেনাদের প্রতি কূটনৈতিক সুরক্ষা সম্প্রসারিত করা একটি আইনকে তিনি সমালোচনার জন্য বেছে নেন। ফলে, তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। তুরস্কে নির্বাসিত হন খোমিনী।

১৯৬৫ তেহরানে খোমিনীর সহযোগীদের হুকুমে আততায়ী হামলায় খুন হলেন ইরানের প্রিমিয়ার হাসান আলী-মনসুর। তাঁর স্থলে প্রধানমন্ত্রী হলেন আমির আব্বাস হোভায়দা। ইরানের শাহবিরোধী বামপন্থী ছাত্রদের দ্বারা গঠিত হল মুজাহিদিন-ই খালক।

১৯৬৬ নিজের ধর্মীয় পোশাক পরিধান করা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন খোমিনী। ইজমির, আঙ্কারা, ইস্তানবুল, আর বুরসায় কয়েক মাস বাস করার পর ইরাকের জন্য তুরস্ক ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি লাভ করলেন। পবিত্র শহর নাজাফে থিতু হলেন খোমিনী।

১৯৬৭ জুন ৫-১০ তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, জুন যুদ্ধ বা ছয় দিনের যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এই যুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে আরব রাষ্ট্রগুলোর পরাজয় সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। খোমিনীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আয়াতুল্লা মোহাম্মদ-বাকের সদর এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে ইসলামি সংগ্রাম শুরু করার পরামর্শ দেন।

১৯৬৮ খোমিনী তাঁর সেমিনারি পুনরায় চালু করেন। নতুন ছাত্রদের আকৃষ্ট করতে থাকেন। র‍্যাডিকাল হয়ে ওঠার সাথে সাথে তাঁর সার্কেলও বড় হতে থাকে।

১৯৬৯ ইরানি মাওবাদীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল অর্গানাইজেশন অফ কমিউনিস্ট রেভল্যুশনারিজ (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট)।

দারিউশ মেরজাই, দ্য কাউ।

১৯৬৯-৭১ শাহের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে ইরানিদের প্রতি বারংবার আহবান জানালেন খোমিনী, কিন্তু এসময় তিনি উপেক্ষিত হন। পারসিক সাম্রাজ্যের ২৫০০ বছর উদযাপনকে সুনির্দিষ্টভাবেই খারিজ করেন খোমিনী। তেহরানে তাঁর সহযোগীরা নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটান ও গোপন সেল তৈরি করতে শুরু করেন।

১৯৭০-৭৯ ইরানি বিপ্লবের দশক। শুরুতে বিপ্লবের কোন ইসলামি এজেন্ডা ছিল না। জাতীয়তাবাদী, মার্কসবাদী, আর নারীবাদীরা বিপ্লবের সম্মুখভাগে ছিল।

১৯৭২-৭৬ খোমিনীর লেকচার নাজাফে আরো বেশি বেশি করে ছাত্রদের আকৃষ্ট করতে লাগল। শাহবিরোধী ছাত্ররা ইওরোপ ও যুদ্ধরাষ্ট্র থেকে তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন।

আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনী, ভেলায়েত-ই-ফাকিহ (দ্য রিজেন্সি অফ দ্য থিওলজিয়ান), প্রথম সংস্করণ।
আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনী, হুকুমত-ই-এসলামি (ইসলামি হুকুমত)।

১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১ তিন খণ্ডে প্রকাশিত হল মেরি বয়েসের আ হিস্ট্রি অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।

১৯৭৫ উত্তর ইরাককে আরবায়িত করার উদ্যোগ নিল বা’থিরা। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটি থেকে কুর্দিদের তাড়িয়ে দিয়ে আরবদের বসতিস্থাপন করল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মদতে বা’থিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ইরাকি কুর্দিরা। আলজিয়ার্স চুক্তিতে সই করল ইরান ও ইরাক। ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন দেয়া বন্ধ করল মার্কিনী-ইরানিরা। কুর্দি বিদ্রোহের অবসান। মোস্তফা বারজানিকে প্রতিক্রিয়াশীল আখ্যা দিয়ে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি) থেকে বেরিয়ে আসলেন জালাল তালাবানি, গঠন করলেন প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান (পিইউকে)।

১৯৭৬ ইরানি মাওবাদীদের অর্গানাইজেশন অফ কমিউনিস্ট রেভল্যুশনারিজ (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) থেকে গঠিত হল ইউনিয়ন অফ ইরানিয়ান কমিউনিস্টস (সারবেদারান)।

১৯৭৭ জানুয়ারি-জুলাই ইরানের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীরা শাহের হাতে ক্ষমতা সঞ্চিত হওয়ার সমালোচনা করে এক গুচ্ছ খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।

অক্টোবর শাহ সরকারের সমালোচনা করে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তেহরানস্থ গ্যেটে ইনস্টিটিউটে দ্য ইরানিয়ান রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ১০ রাত ধরে চলা একটি কবিতা উৎসবে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
২৩ ইরাকে নির্বাসিত আয়াতুল্লা খোমিনীর বড় ছেলে মোস্তফা খোমিনী ৪৭ বছর বয়সে নাজাফে অজ্ঞাত কারণে মারা যান।

নভেম্বর ১৫-১৬ যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে শাহকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানানো হল। এ সময় শাহের বিরুদ্ধে প্রবাসী ইরানি ছাত্ররা তুমুল প্রতিবাদ করেন। পুলিশ প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

ডিসেম্বর ৩১ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সংক্ষিপ্ত ইরান সফর। এ সময় তিনি শাহের নামে টোস্ট করেন। “বিশ্বের সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটিতে স্থিতিশীলতার এক দ্বীপ” বলে ইরানের প্রশংসা করেন।

প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নতুন মার্কিন প্রশাসন ইরানের শাহের ক্ষমতাচ্যুতি চায় দাবি করে ইয়াজদি খোমিনীকে শাহবিরোধী প্রচারাভিযান জোরদার করার পরামর্শ দিলেন। খোমিনী শাহকে ‘উৎখাত’ করার ফরমান জারি করলেন। শাহ আমেরিকা ও কার্টার ইরান সফর করলেন।

১৯৭৮ জানুয়ারি ৬ তেহরানের দৈনিক এত্তেলা’আত পত্রিকা খোমিনীর মানহানি করা একটা জাল চিঠি প্রকাশ করল। পরে জানা যায়, চিঠিটা শাহের হুকুমে লেখা হয়েছিল।

জানুয়ারি ৯ খোমিনীর মানহানির প্রতিবাদে কোমের মূল বাজার, যেখানে ইরানের প্রধান মাদ্রাসাগুলো অবস্থিত, বন্ধ ঘোষণা করা হল। রাজতন্ত্রের প্রতীকগুলোয় আক্রমণ করলেন কয়েক হাজার প্রতিবাদী। নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৫ ব্যক্তিকে খুন করে।

ফেব্রুয়ারি ১৮ শিয়া রীতিরেওয়াজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে, কোম প্রতিবাদীদের মৃত্যুর ঠিক চল্লিশতম দিনে ইরানের বিভিন্ন শহরে শোক পালন করা হল। তাবরিজে একজন ছাত্র প্রতিবাদীকে খুন করা হল। যা পুরো দেশ জুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দিল।

মার্চ-মে ইরানের তিন ডজন শহরে প্রতিবাদ, নিপীড়ন, সহিংসতা এবং শোক চক্রাকারে চলতে থাকল।

জুন ৭ সাভাক প্রধান জেনারেল নেমাতুল্লা নাসিরিকে বরখাস্ত করলেন শাহ। সাভাকের নতুন প্রধানের প্রাথমিক কাজগুলোর একটি ছিল ৩০০ কারাবন্দী মোল্লাকে মুক্তি দেয়া।

জুলাই ২০ সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোল্লার মৃত্যুতে মাশহাদ জুড়ে প্রতিবাদ দেখা দিল। এ সময় সেখানে ও অন্যান্য জায়গায় বেশ কিছু মানুষ খুন হন।

আগস্ট ৯-১০ এক মোল্লার মৃত্যুতে ইস্ফাহানে দাঙ্গা বেঁধে গেল। দ্রুত তা সিরাজ, কাজভিন, তাবরিজ, আবাদান, ও আহওয়াজ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। সিরাজের শিল্প উৎসব বাতিল করা হল। এক হিসেবে, এ সময় ১০০ ব্যক্তি খুন হন। ইস্ফাহানে জারি করা হল সামরিক আইন।
১৯ আবাদানের রেক্স সিনেমায় বাইরে থেকে তালা আটকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ৪৭৭ জন ইরানিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময়, ইরানের বিরোধী দলগুলো এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের জন্য শাহের সাভাককে দায়ী করে। বিপ্লবের পর এক ইসলামপন্থী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২৭ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জামশেদ আমুজেগার। নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন জাফর শরিফ-ইমামি। দেশবাসীর ক্ষোভ কমানোর জন্য কিছু সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিলেন।

সেপ্টেম্বর সামরিক আইন জারি করা হল।
৮ ব্ল্যাক ফ্রাইডে। শাহ সামরিক আইন জারি করার পরদিন সকালে তেহরানের জালেহ স্কয়ারে বিশাল এক প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে অন্তত ১০০ জনকে খুন করে। জখম হন বেশুমার। মূলত এই ম্যাসাকারের ভেতর দিয়েই শাহের রাজনৈতিক হায়াত ফুরিয়ে গেছিল। তাঁর পতন হয়ে উঠেছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অক্টোবর ৩ শাহের দরখাস্তে খোমিনীকে বিতাড়িত করল ইরাক সরকার। তিনি কুয়েতে ঢুকতে চেয়ে বাধা পেলে ফ্রান্সে চলে গেলেন এবং প্যারিসের এক শহরতলী নুফ্লে-লে-শাতোয় থিতু হলেন। এতে খোমিনীর একটা লাভ হল: তিনি যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছিলেন, প্যারিসে সহজেই সেটা পেলেন।

নভেম্বর ৬ বিরোধী দলগুলোর সাথে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের চেষ্টা চালালেন শাহ। খোমিনীর নারাজির কারণে এই প্রয়াস ভেস্তে যায়। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শরিফ-এনামি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন জেনারেল গোলামরেজা আজহারি। জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারে এলেন শাহ। ওয়াদা করলেন অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, এবং ভুলত্রুটি শুধরে নেয়া হবে। জানালেন যে, তিনি “বিপ্লবের স্বর শুনতে পেরেছেন।”

ডিসেম্বর ৬ শাহের প্রতি “আস্থা’ ব্যক্ত করার মাত্র হপ্তাখানেক পরে, সুর বদলে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, “আমরা ব্যক্তিগতভাবে এটাই পছন্দ করব যে, ইরানের রাজনীতি শাহ প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। তবে সেই সিদ্ধান্তটা ইরানের জনগণকেই নিতে হবে।”
১০-১১ শাহের অপসারণ আর আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে লক্ষ লক্ষ ইরানি দেশ জুড়ে প্রতিবাদ শুরু করলেন।
২৯ জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক ও শাহের দীর্ঘদিনের সমালোচক শাপুর বখতিয়ারকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিলেন শাহ।

ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খোরাসানে রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ২৫,০০০ মানুষের মৃত্যু, এই ভূমিকম্পে প্রাচীন শহর তাবাস পুরোপুরি ধবংস হয়ে যায়।

১৯৭৯ জানুয়ারি ১২ প্যারিসে, ক্ষমতা রূপান্তর প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করার জন্য একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করলেন খোমিনী।
১৬ শাহ তাঁর পরিবার নিয়ে মিসরে পালিয়ে গেলেন। “ছুটি কাটানোর” দোহাই দিয়ে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি বখতিয়ারকে বলে যান, “আমি দেশটাকে আপনার, আপনার আর খোদার হাওলায় রেখে গেলাম।”

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান
১৯৭৯-বর্তমান

১৯৭৯ ফেব্রুয়ারি ১ ১৪ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন খোমিনী, তেহরানে লাখ জনতা তাঁকে স্বাগত জানাল।
৪ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে মেহদি বাজারগানকে নিয়োগ দিলেন খোমিনী। বখতিয়ার দাবি করলেন, তিনিই ইরানের একমাত্র বৈধ সরকারের প্রতিনিধি।দ্বৈত ক্ষমতা।
১০ বখতিয়ার দেশ জুড়ে কারফিউ ও সামরিক আইন জারি করলেন। খোমিনী তাঁর সমর্থকদের এই কারফিউ ভঙ্গ করার আহবান জানালেন। সম্পন্ন করতে বললেন জাতীয় বিপ্লব।
১১ ইরানের সেনাবাহিনী ঘোষণা করল, তাঁরা নিরপেক্ষ থাকবে। বখতিয়ার দ্রুত ইরান ছেড়ে ফ্রান্সে পালিয়ে গেলেন। ১৯৯১ সালে সেখানে তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হন।
১৪ তেহরানস্থ মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালাল বিপ্লবী জনতা। দূতাবাস কর্মীরা শুরুতে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু ইরানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম ইয়াজদির হুকুমে পরে বিপ্লবী জনতাকে দূতাবাস থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

মার্চ ইরানের খোমিনীপন্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ইরানি কুর্দিরা।
৮ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তেহরানের রাস্তায় নেমে আসলেন অসংখ্য নারী।
৩০-৩১ ইরানের একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র হওয়া উচিত কিনা, সেই ইস্যুতে গণভোট আয়োজন করা হল। গণভোটে কোন বিকল্প রাখা হয়নি। অধিকাংশ ভোট প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে।

মে ৫ একটি ডিক্রি জারি করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) গঠন করলেন খোমিনী।

আগস্ট ৩ ইরানে দেশ জুড়ে বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন হল। এই বিশেষজ্ঞরা ছিলেন আয়াতুল্লাদের নিয়োগ দেয়া একটি প্রতিষ্ঠান, যাঁদের একটি সংবিধান মুসাবিদা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। দেশটির বামপন্থী, জাতীয়তাবাদী, ও ইসলামপন্থীদের কিছু অংশ নির্বাচন বয়কট করে।
১৮ ইরানি কুর্দিস্তানের কুর্দিদের বিরুদ্ধে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ ঘোষণা করলেন আয়াতুল্লা খোমিনী।

অক্টোবর ১৪ বিশেষজ্ঞ পরিষদ একটি নয়া সংবিধান অনুমোদন দিল। যার ভিত্তি ছিল খোমিনীর অভিনব ভেলায়েত-ই-ফাকিহ মতবাদ। যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে অর্পণ করে।
২২ চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি পেলেন ইরানের শেষ শাহ। বিপ্লবে উৎখাত হওয়া শাহকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়ায় দেশটির সমালোচনা করলেন খোমিনী।

নভেম্বর ৪ শাহকে প্রত্যর্পণ করার দাবিতে ইরানের বিপ্লবী ছাত্ররা তেহরানস্থ মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে পড়ে ৫২ জন মার্কিনীকে জিম্মি করলেন।
৬ মার্কিন দূতাবাসের ঘটনার প্রতিবাদে ইরানের প্রাদেশিক সরকারের নেতারা নিজ নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। যা নয়া বন্দোবস্তে খোমিনী ও তাঁর বিপ্লবী পরিষদের হাতে নজিরবিহীন ক্ষমতা এনে দিল।
৭ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার জিম্মি মুক্তির জন্য আলোচনা করতে ইরানে ব্যক্তিগত পত্রসহ দূত পাঠালেন। কিন্তু তাঁদের প্রবেশ করতে বাঁধা দেয়া হল।
১৪ ইরানের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব সম্পত্তি ফ্রিজ করল যুক্তরাষ্ট্র।
১৯-২০ ১৩ জন নারী ও আফ্রিকান-আমেরিকান জিম্মিকে একতরফাভাবে মুক্তি দিল ইরান।

ডিসেম্বর ২-৩ মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৭৫%য়ের অংশগ্রহণে এক গণভোটে পাশ হয়ে গেল ইরানের নয়া সংবিধান।
৪ ইরানকে সব জিম্মি মুক্ত করতে বলে একটি প্রস্তাব পাশ করল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
১৪ তেহরান জানাল, ইরানে অনুপ্রবেশ চালানোর একটি ইরাকি প্রচেষ্টা তারা রুখে দিয়েছে।
১৫ পানামার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেলেন ইরানের শাহ।

মনসুর হেকমত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ইউনিয়ন অফ কমিউনিস্ট মিলিট্যান্টস।*
* ১৯৭৯ সালে ইরানি বামপন্থীদের একটা বড় অংশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতার দোহাই দিয়ে খোমিনীকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এই ক্ষেত্রে মনসুর হেকমত একজন উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। তিনি শাহ আর খোমিনী উভয়েরই বিরোধিতা করেন।

১৯৭৯-বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

১৯৮০-৮৮ সাদ্দাম হোসেনের ইরান আক্রমণের ফলে ইরান-ইরাক যুদ্ধ। দুই দেশেই কুর্দিদের প্রতিপক্ষের দালাল বলা হল, খুন হলেন বহু বেসামরিক কুর্দি নাগরিক। দুই দেশের কুর্দিদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হল।

১৯৮০ জানুয়ারি ২৫/২৬ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আবোল হাসান বনি-সদর।

ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইরাকের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক সীমান্ত সংঘাত।

এপ্রিল ৮ ইরানের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল যুক্তরাষ্ট্র।
১৭ আয়াতুল্লা খোমিনী ইরাকের বা’থি সরকারকে উৎখাত করতে দেশটির জনগণ ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানালেন।
২৫ অপারেশন ইগল ক্ল।

জুলাই ৯ ইরানি কর্তৃপক্ষ একটি ক্যুদেতা প্লট আবিষ্কার করে এবং সেনাবাহিনীতে নতুন করে পার্জ চালায়।
২৭ নির্বাসিত শাহ মিসরে ক্যান্সারের দরুণ মারা গেলেন।

সেপ্টেম্বর ৪ ইরাকের খানাকিন ও মান্দালি শহরে শেলিং করল ইরান।
সেপ্টেম্বর ১২ এক বক্তৃতায় জিম্মি মুক্তির শর্তগুলো জানালেন খোমিনী।
২২ সাদ্দাম হোসেনের ইরাক ইসলামি প্রজাতন্ত্র আক্রমণ করল। প্রতিষ্ঠিত হল ওয়ার্ল্ড জোরোয়েস্ট্রিয়ান অর্গানাইজেশন (ডব্লিউজেডও)।

আলী শরিয়তি, ইংরেজি অনুবাদ, মার্ক্সিজম অ্যান্ড আদার ওয়েস্টার্ন ফ্যালাসিস: অ্যান ইসলামিক ক্রিটিক।

১৯৮১ জানুয়ারি ২২ ৪৪৪ দিন পর জিম্মি সংকটের অবসান হল।

প্রেসিডেন্টের পদ থেকে বনি-সদরকে বরখাস্ত করা হল, তিনি জান বাঁচাতে ফ্রান্সে পালিয়ে গেলেন।*
* ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৮১ সালের জুনের মধ্যবর্তী সময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিপ্লবী আদালতগুলো ৪৯৭ জন রাজবন্দীর বিরুদ্ধে প্রতিবিপ্লবী হওয়ার অভিযোগ এনে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

১৯৮২ ইসরায়েল লেবাননে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমণ করলে এ সময় ৩ ইরানি কূটনীতিক ও ১ ইরানি আলোকচিত্রী গুম হয়ে যান।

এরভান্দ আব্রাহামিয়ান, ইরান বিটুইন টু রেভল্যুশনস।

১৯৮৩ আবদুল্লাহ মোহতাদি ও মনসুর হেকমত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরান।

জুন ১৮ শিরাজ শহরে ফাঁসিতে লটকিয়ে ১৭ থেকে ৫৬ বছর বয়সী ১০ জন বাহাই নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। “অপরাধ” ছিল বাহাইধর্ম পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করা। তাঁদের নাম মুনা, মাহশিদ, সিমিন, জারিন, আখতার, শাহীন/শিরিন, রুয়া, ইজ্জাত, তাহিরি, ও নুসরাত।*
* জরাথুস্ট্রবাদীদের প্রটেক্টেড মাইনরিটি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা প্রদান করা হয়। বাহাইদের এমন কোন সুরক্ষা প্রদান করা হয় না। দেশটিতে বাহাইধর্ম প্রচার করা মৃত্যুদণ্ডের দ্বারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচিত হয়।

১৯৮৫ ইরান-কন্ট্রা স্ক্যান্ডাল। ১৯৮১ সালের জুন থেকে এ বছরের জুনের মধ্যে ইরানের “বিপ্লবী আদালতগুলো” ৮,০০০এরও বেশি রাজবন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অনেকেই শাহবিরোধী বিপ্লবে মোল্লাদের মিত্র ছিলেন।

১৯৮৬ সাইরাস বারুচা, অন উইংস অফ ফায়ার।

১৯৮৮ জুলাই ৩ মার্কিন নৌ ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় ইরান এয়ার ফ্লাইট ৬৫৫ ভূপাতিত, ২৯০ জন ইরানির মৃত্যু।
১৯ ১৯৮৮ সালের রাজবন্দীদের গণ মৃত্যুদণ্ড। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেবে ২৮০০ থেকে ৩০,০০০য়ের মধ্যে। এঁদের মধ্যে ছিলেন শিয়া ইসলামের বৈপ্লবিক ব্যাখ্যাদানকারী আলী শরিয়তিপন্থী মুজাহিদিন-ই-খালক, এবং বামপন্থী ফেদাইন ও তুদেহ পার্টির সদস্যরা। মৃতদের লাশকাফেরাস্তান (অবিশ্বাসীদের ভূমি) ও লানতাবাদ (অভিশপ্তদের ভূমি) নামের দুটি জনশূন্য স্থানে ডাম্প করা হয়। ১৯৭৯ সালে এঁরা ইসলামি বিপ্লবের পক্ষে ছিলেন।

আগস্ট ২০ জাতিসংঘের মধ্যস্ততায় ইরান ও ইরাকের মধ্যে যুদ্ধবিরতি।

মোহসেন মিলানি, দ্য মেকিং অফ ইরানস ইসলামিক রেভল্যুশন: ফ্রম মোনার্কি টু ইসলামিক রিপাবলিক।

১৯৮৯ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক সালমান রুশদীর স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসের বিরুদ্ধে ধর্মাবমাননার অভিযোগ এনে রুশদীকে হত্যা করার আহবান জানিয়ে ফতোয়া দিলেন আয়াতোল্লাহ খোমিনী।

জুন ৩ আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনীর মৃত্যু।

আগস্ট ৬ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হলেন আয়াতুল্লা আলী খামেনী।
১৬ ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আলি আকবর হাশেমি-রাফসানজানি।

এরভান্দ আব্রাহামিয়ান, র‍্যাডিকাল ইসলাম: দ্য ইরানিয়ান মোজাহেদিন।

১৯৯০ জুন ২১ ইরানের উত্তরাঞ্চলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৩৫-৫০,০০০ মানুষের মৃত্যু ও ১০০,০০০ মানুষ আহত। ভিটেমাটি হারান ৫ লক্ষ মানুষ। ইরাক কুয়েতে আগ্রাসন চালালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নিরপেক্ষ থাকার নীতি গ্রহণ করে।

সেপ্টেম্বর ইরান আর ইরাকের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল।

আব্বাস কিয়ারুস্তম, ক্লোজ-আপ।
দারিউশ মেরজাই, হামুন।

১৯৯১ পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ।

ডিসেম্বর ৯ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইরান-ইরাক যুদ্ধের জন্য ইরাককে আগ্রাসনকারী বলে শনাক্ত করল।

মনসুর হেকমত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ওয়ার্কার-কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরান।

১৯৯২ মোহসেন মাখমালবাফ, ওয়ান্স আপন আ টাইম, সিনেমা।

১৯৯৪ আগস্ট ৩ কাজভিন প্রতিবাদ।

আব্বাস কিয়ারুস্তমি, থ্রো দ্য অলিভ ট্রিজ।

১৯৯৫ ইরানের ওপর তেল ও বাণিজ্য অবরোধ দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৯৬ মোহসেন মাখমালবাফ, গাব্বেহ।

১৯৯৭ ইরানের পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পে ২,০০০ মানুষের মৃত্যু হল।

আগস্ট ২ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সংস্কারপন্থী মোহাম্মদ খাতামি।

আব্বাস কিয়ারুস্তমি, টেস্ট অফ চেরি।
মজিদ মাজিদী, চিলড্রেন অফ হ্যাভেন।

১৯৯৮ আলী রাহনেমা, অ্যান ইসলামিক ইউটোপিয়ান: আ পলিটিকাল বায়োগ্রাফি অফ আলী শরিয়তি।

দারিউশ মেরজাই, দ্য পিয়ার ট্রি।
সামিরা মাখমালবাফ, দ্য আপেল।

১৯৯৯ গণতন্ত্রের দাবিতে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষোভ করে।

আব্বাস কিয়ারুস্তমি, দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস।
মজিদ মাজিদী, দ্য কালার অফ প্যারাডাইস।

২০০০ এজ্জাতুল্লা সাহাবি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল কাউন্সিল অফ ন্যাশনালিস্ট-রিলিজিয়াস অ্যাকটিভিস্টস অফ ইরান।

সামিরা মাখমালবাফ, ব্ল্যাকবোর্ডস।

২০০১ জর্জ বুশ জুনিয়র তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ইরানকে ‘শয়তানের অক্ষের’ অংশ বলে উল্লেখ করেন।

জুন ৮ দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন খাতামি।

ইরানি মাওবাদীদের ইউনিয়ন অফ ইরানিয়ান কমিউনিস্টস (সারবেদারান) থেকে গঠিত হল কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরান (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট-মাওয়িস্ট)।

মোহসেন মাখমালবাফ, কান্দাহার।

২০০২ ফেব্রুয়ারি ১২ তেহরানে বিধ্বস্ত হল ইরান এয়ার টুর্স ফ্লাইট ৯৫৬।

জুন ২২ ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্প। ২৬১ জনের মৃত্যু। ১৩০০রও বেশি জখম হলেন, ২৫,০০০-এরও বেশি গৃহহীন।

ইফ্রাইম কার্শ, দ্য ইরান-ইরাক ওয়ার, ১৯৮০-৮৮।

২০০৩ অক্টোবর ২১ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ ও সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করতে এবং আইএইএ কর্তৃক অঘোষিত পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হল ইরান।

নভেম্বর ১২ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনও প্রমাণ খুঁজে পেল না আইএইএ, তবে প্লুটোনিয়াম উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল।

ডিসেম্বর ২৬ ইরানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে এক ভূমিকম্পে ৩৪,০০০ মানুষ নিহত।

আয়াতুল্লাদের বিরুদ্ধে তেহরানে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সহস্রজনের বিক্ষোভ। প্রথম ইরানি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী শিরিন এবাদি।

আজার নাফিসি, রিডিং ইন লোলিতা ইন তেহরান: আ মেমোয়ার ইন বুকস।
ফরিদেহ কুহি-কামালি, দ্য পলিটিকাল ডেভলাপমেন্ট অফ দ্য কুর্দস ইন ইরান।

২০০৪ ফেব্রুয়ারি ১৮ ইরানের নিশাপুরে পেট্রোল, সার ও সালফার বহনকারী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত ও বিস্ফোরিত হলে ৩০০ জন নিহত হয়।
২০ ইরানের আইনসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেন রক্ষণশীলরা।

জুন ২৪ ইরানের নোসরাতাবাদের এক পুলিশ চেকপয়েন্টে একটি পেট্রোল ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাসের সাথে ধাক্কা খেলে এতে ৯০ জন নিহত হন।

ওয়ার্কার-কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বেরিয়ে আসা কমিউনিস্টদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল ওয়ার্কার-কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরান-হেকমতবাদী। ইরানি কুর্দিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হল দ্য পার্টি ফর আ ফ্রি লাইফ ইন কুর্দিস্তান (পিজেএকে)। প্রতিষ্ঠিত হল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রিভাইভাল অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম (এআরজেড)।

কানাডা ইরান থেকে নিজ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করল।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক তদন্তের মুখোমুখি হল। আইএইএ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল। এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলির সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্তার নিয়ে আলোচনা শুরু হল।

২০০৫ ফেব্রুয়ারি ১৪ তেহরানের এক মসজিদে আগুন লেগে ৫৯ ব্যক্তির মৃত্যু।

এপ্রিল ১৮ ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশে জাতিগত দাঙ্গায় ৫ ব্যক্তির মৃত্যু।

আগস্ট ৩ ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন রক্ষণশীল মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

অক্টোবর ২৬ তেহরানের এক “জায়নবাদ মুক্ত বিশ্ব” সম্মেলনে ইসরায়েলকে “মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার” আহবান জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

ডিসেম্বর ৬ তেহরানের এক আবাসিক এলাকায় একটি দশতলা ভবনে একটা ইরানি সি-১৩০ হারকিউলিস বিধ্বস্ত হলে ৯৪ ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

কানাডা জানাল, কানাডিয়ান-ইরানি আলোকচিত্রী সাংবাদিক জাহরা “জিবা” কাজেমি-আহমেদাবাদির মৃত্যুর বৈশ্বিক তদন্তের ব্যাপারে যদ্দিন না সম্মতি দিচ্ছে ইরান, তদ্দিন দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হবে না।

প্রতিষ্ঠিত হল ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স অফ পার্সি অ্যান্ড ইরানি জরথোশতিজ (ওয়াপিজ)।

আজাদেহ মোয়াভেনি, লিপস্টিক জিহাদ: আ মেমোয়ার অফ গ্রোয়িং আপ ইরানিয়ান ইন আমেরিকা অ্যান্ড আমেরিকান ইন ইরান।

বাহমান ঘোবাদি, টার্টলস ক্যান ফ্লাই।

২০০৬ জন ডব্লিউ. ওয়াটারহাউজ, জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।
হামিদ রেজা সদর, ইরানিয়ান সিনেমা: আ পলিটিকাল হিস্ট্রি।

২০০৭ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অবরোধ দিল।

মাইকেল আক্সওয়ার্দি, এম্পায়ার অফ দ্য মাইন্ড: আ হিস্ট্রি অফ ইরান।
কেরিম ইলদিজ, দ্য কুর্দস ইন ইরান: দ্য পাস্ট, প্রেজেন্ট, অ্যান্ড ফিউচার।

দারিউশ মেরজাই, সান্তুরি।
মারজানে সাত্রাপি আর ভিনসেন্ট পারোন্নাউড, পার্সিপোলিস।

২০০৮ সামিরা মাখমালবাফ, টু-লেগড হর্স।
মজিদ মাজিদী, দ্য সং অফ স্প্যারোজ।

২০০৯ দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

আসগর ফরহাদি, অ্যাবাউট এলি।

২০০৯-১০ ইরানের সবুজ আন্দোলন।

২০১০ হোমা কাতৌজিয়ানে, দ্য পার্সিয়ানস: এনসিয়েন, মেডিইভাল অ্যান্ড মডার্ন ইরান।

২০১১ আব্বাস ভালি, কুর্দস অ্যান্ড দ্য স্টেট ইন ইরান: দ্য মেকিং অফ কুর্দিশ আইডেনটিটি।
অ্যান্ড্রু স্কট কুপার, দ্য অয়েল কিংস: হাউ দ্য ইউ.এস., ইরান, অ্যান্ড সৌদি অ্যারাবিয়া চেঞ্জড দ্য ব্যালেন্স অফ পাওয়ার ইন দ্য মিডল ইস্ট।
জেনি রোজ, জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন।
— জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম: আ গাইড ফর দ্য পারপ্লেক্সড।
হামিদ দাবাশি, ব্রাউন স্কিন, হোয়াইট মাস্কস।
হামিদ নাফিসি, আ সোশাল হিস্ট্রি অফ ইরানিয়ান সিনেমা, প্রথম ও দ্বিতীয় বালাম।

আসগর ফরহাদি, আ সেপারেশন।

২০১২ হামিদ দাবাশি, দ্য আরব স্প্রিং: দ্য এন্ড অফ পোস্টকলোনিয়ালিজম।
হামিদ নাফিসি, আ সোশাল হিস্ট্রি অফ ইরানিয়ান সিনেমা, তৃতীয় ও চতুর্থ/শেষ বালাম।
প্যাট্রিসিয়া ক্রোন, দ্য নেটিভিস্ট প্রফেটস অফ আর্লি ইসলামিক ইরান: রুরাল রিভোল্ট অ্যান্ড লোকাল জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।
প্রডস অক্টর স্কজায়েরভো, দ্য স্পিরিট অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।

২০১৩ ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সংস্কারপন্থী হাসান রুহানি।

মাইকেল আক্সওয়ার্দি, রেভল্যুশনারি ইরান: আ হিস্ট্রি অফ দ্য ইসলামিক রিপাবলিক।

২০১৪ ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানালেন, আইএসের বিরুদ্ধে ইরাক সরকারের যুদ্ধে সহায়তা করতে তাঁর দেশ প্রস্তুত; ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ইরাক সেনাবাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া শুরু করল।

২০১৫ বহুলআকাঙ্খিত পারমাণবিক আপোসমীমাংসা। বছরের পর বছর ধরে দরকষাকষির পর বৈশ্বিক শক্তিগুলো ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হল। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিতকরণের ওয়াদা করল।

আমির আহমাদি, দ্য দেভা কাল্ট ইন দ্য গাথাজ: অ্যান ইডিওলজিকাল আর্কিওলজি অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।
শিবা রাহবারান, ইরানিয়ান সিনেমা আনসেন্সর্ড: কনটেম্পোরারি ফিল্ম-মেকার্স সিন্স দ্য ইসলামিক রেভল্যুশন।

আসগর ফরহাদি, ট্যাক্সি।
ওরভাজি ইরানি, দ্য পাথ অফ জরথুস্ত্র।
মজিদ মাজিদী, মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ।

২০১৬ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শিয়া ধর্মযাজক আয়াতুল্লাহ শেখ নিমর বকির আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সাথে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটল। তেহরানে উত্তেজিত জনতা সৌদি দূতাবাসে অগ্নিসংযোগ করল। দেড় দশকের মধ্যে প্রথম ইরানি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইওরোপ সফর করলেন রুহানি।

রোহিন্তন ফালি নারিমান, দ্য ইনার ফায়ার: ফেইথ, চয়েস, অ্যান্ড মডার্ন-ডে লিভিং ইন জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।

আসগর ফরহাদি, দ্য সেলসম্যান।

২০১৭ দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন হাসান রুহানি। ইরানের পার্লামেন্ট আর আয়াতোল্লাহ খোমিনির মাজারে সমন্বিত হামলায় একাধিক মানুষের মৃত্যু, আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে। অর্থনৈতিক অসন্তোষের দরুণ ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ।

আব্বাস আমানত, ইরান: আ মডার্ন হিস্ট্রি।

মজিদ মাজিদী, বিয়োন্ড দ্য ক্লাউডস।

২০১৮ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আন্তর্জাতিক আপোসমীমাংসা থেকে সরে আসার ঘোষণা ও দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজে এক সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুকধারীদের প্রকাশ্য গুলিবর্ষণে ২৫ জন মানুষের মৃত্যু। একটি আরব জাতীয়তাবাদী সংগঠন ও আইএস আলাদা আলাদাভাবে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে।

লিওর বি. স্টার্নফিল্ড, বিটউইন ইরান অ্যান্ড জায়ন: জিউইশ হিস্ট্রিজ অফ টোয়েন্টিথ-সেঞ্চুরি ইরান।

২০১৯ পারস্য উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে আক্রমণের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তেহরান এই হামলার দায় অস্বীকার করল। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে ইরান জুড়ে বিক্ষোভ। ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ণ চালালে তাতে ১০০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

২০২০ মার্কিন বিমানহামলায় নিহত হলেন আইআরজিসির বহিঃস্থ শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সোলেমানি।

জন গাজভিনিয়ান, আমেরিকা অ্যান্ড ইরান: আ হিস্ট্রি, ১৭২০ টু দ্য প্রেজেন্ট।

২০২১ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন রক্ষণশীল ইব্রাহিম রাইসি, যাঁর বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালে ৩ হাজার ভিন্নমতাবলম্বীর ওপর নিধনযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ আছে।*
* তেহরানের যে ডেথ কমিটি এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন আয়াতুল্লা হোসেইন আলি মোনতাজেরি। তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত সমর্থন করতে পারেননি। একটি সভায় বলেছিলেন, “ইতিহাস আমাদের অভিযুক্ত করবে।”

এরভান্দ আব্রাহামিয়ান, অয়েল ক্রাইসিস ইন ইরান: ফ্রম ন্যাশনালিজম টু ক্যুদেতা।
আলী রাহনেমা, কল টু আর্মস: ইরান’স মার্ক্সিস্ট রেভ্যলুশনারিজ: ফর্মেশন অ্যান্ড এভল্যুশন অফ দ্য ফাদা’ইজ, ১৯৬৪-৭৬।
আহমেদ দীন রুমি, সাইরাস: একজন জাতির পিতা আইনপ্রণেতা ও মুক্তিদাতার জীবন।

২০২২ সেপ্টেম্বর ১৩ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পোশাকবিধি লঙ্ঘণ করার অভিযোগে ইরানি কুর্দিস্তানের তরুণী জিনা মাহসা আমিনিকে আটক করল তেহরানের মোরালিটি পুলিশ।
১৬ তেহরানের এক হাসপাতাল কোমায় মৃত্যু হল জিনার। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানাল, নিকটবর্তী এক স্টেশনে ‘শিক্ষা’ দিতে নিয়ে গেলে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। জিনার পরিবার এই রাষ্ট্রীয় ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
১৭ জিনার দেশের বাড়ি সাকেজে জানাজা সম্পন্ন হল। সেখান থেকে প্রতিবাদ প্রথমে প্রাদেশিক রাজধানীতে দেখা দেয়। এরপর দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে যায়। প্রতিবাদ আন্দোলনে “স্বৈরাচার নিপাত যাক” শ্লোগান ওঠে। প্রতিবাদীদের মধ্যে কিছু নারী নিজেদের মাথা থেকে হিজাব খুলে ফেলেন ও আগুনে পোড়ান।
১৯ ইরানি কুর্দিস্তানের কোন কোন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে প্রতিবাদীদের সংঘাত দেখা দিল।
২০ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির এক সহকারী সমবেদনা জানাতে জিনার পরিবারের সাথে দেখা করলেন, জানালেন খামেনি জিনার মৃত্যুর ব্যথা অনুভব করেন।
২১ কর্তৃপক্ষ ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ অভিগম্যতা সীমিত করল। সরকারিভাবে ৮ জনের মৃত্যু স্বীকার করা হল।
২২ প্রেসিডেন্ট রাইসি বললেন, “অরাজকতা” গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের মোরালিটি পুলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল।
২৩ বিভিন্ন শহরে সরকারি র‍্যালির আয়োজন করা হল, যেখান থেকে প্রতিবাদীদের ফাঁসির দাবি উঠল। সেনাবাহিনী “শত্রুদের নানামুখী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়ার” শপথ নিল।
২৪ ইরাকি কুর্দিস্তানে অবস্থিত ইরানের সশস্ত্র বিরোধীপক্ষীয় ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে মদত দেয়ার অভিযোগ এনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করল রেভল্যুশনারি গার্ডস।
৩০ জাহেদান হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানাল, জাহেদান শহরে জুম্মার নামাজের পর প্রতিবাদীদের ওপর গুলি চালিয়ে শিশুসহ ৬৬ জনকে খুন করা হয়েছে। সরকারি টিভি বলল, ‘সন্ত্রাসবাদীরা’ একটা থানায় গুলি চালিয়েছিল, তাই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডস বলল, এর বাহিনীর ও বাসিজ মিলিশিয়ার ৫ জন খুন হয়েছেন।

অক্টোবর ৩ নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করলেন খামেনি। জানালেন, জিনার মৃত্যু তাঁর “বুক ভেঙে দিয়েছে”; কিন্তু অভিযোগ তুললেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইরানের শত্রুদের উসকানি আছে। একাধিক শহরে সর্বস্তরের ইরানিরা রাস্তায় নেমে এলেন, “স্বৈরাচার নিপাত যাক” শ্লোগান দিলেন; এবং সরকার পরিবর্তনের দাবি তুললেন।
৭ সরকারি তদন্তকারী বিচারকের প্রতিবেদনে দাবি করা হল, জিনার মৃত্যু পুলিশ হেফাজতে মাথায় ও দেহে আঘাতজনিত কারণে হয়নি; আগে থেকেই থাকা অসুস্থতার কারণে হয়েছে।
১০ ইরানের প্রতিবাদ আন্দোলন জ্বালানি খাতেও ছড়িয়ে পড়ল। আবাদান ও কাঙ্গান তেল শোধনাগার এবং বুশেহের পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পের শ্রমিকরা প্রতিবাদে অংশ নিলেন।
১৫ তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে আগুন লেগে গেল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন তাঁরা গুলির শব্দ শুনেছেন। আইনী কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে জানাল, কারাগারে দেখা দেয়া অসন্তোষে ৮ জন মারা গেছেন।

নভেম্বর ১৪ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্মানুয়েল মাখোঁ ইরানের চলমান আন্দোলনকে “বিপ্লব” বলে আখ্যায়িত করলেন।
২১ ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকার জানিয়ে প্রতিবাদীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করল।

ডিসেম্বর ৪ ইরানের পাবলিক প্রজিকিউটর জানালেন, মোরালিটি পুলিশ তুলে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানাল, বাধ্যতামূলক হিজাব আইন ভিন্ন উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
৮ তেহরানে সড়ক অবরোধ করা, ছুরিকাঘাতে বাসিজ মিলিশিয়ার এক সদস্যকে জখম করা, এবং ‘মোহারেবের’ (খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা) অভিযোগ এনে ২২-বছর-বয়সী প্রতিবাদী মোহসেন শেকারিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হল।
১২ মাশহাদে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ‘মোহারেব’ (খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা) সংঘটিত করার অভিযোগ এনে আরেক ইরানি প্রতিবাদী ২৩-বছর-বয়সী মজিদরেজা রাহনাবার্দের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

মাহমুদ মুনশিপুরি, ইন দ্য শ্যাডো অফ মিসট্রাস্ট: দ্য জিওপলিটিকস অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি অফ ইউএস-ইরান রিলেশনস।
মেহরান কামরাভা, আ ডাইনাস্টিক হিস্ট্রি অফ ইরান: ফ্রম দ্য কাজারস টু দ্য পাহলভিজ।
— ট্রিম্ফ অ্যান্ড ডিসপেয়ার: ইন সার্চ অফ ইরান’স ইসলামিক রিপাবলিক।

সায়ীদ রুস্তায়ি, লেইলা’স ব্রাদার্স।

২০২৩ ফেব্রুয়ারি ৫ মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানাল, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের হাতে ছয় মাসে ৫০০ জন প্রতিবাদী খুন হয়েছেন, যাঁদের ৭১ জন শিশু।

মার্চ চীনের মধ্যস্ততায় সৌদি-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতি।
৩ ইরানজুড়ে শত শত স্কুলছাত্রী বিষপ্রয়োগে খুন হলেন। প্রেসিডেন্ট রাইসি বললেন, এটা ‘তেহরানের শত্রুদের’ কাজ। পরদিন ইরান সরকারকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে নতুন করে প্রতিবাদ দেখা দিল।
৭ ইরান সরকার জানাল, ছয় মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫৩ জন সদস্য খুন হয়েছেন।

মে ১৩ প্রতিবাদ আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে ৩ জনকে ফাঁসিতে ঝোলাল ইরান।

জুলাই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) যোগ দিল ইরান।
১৬ মোরালিটি পুলিশ বাধ্যতামূলক হিজাব আইন মান্য করা নিশ্চিত করতে আবারও রাস্তায় টহল দিতে শুরু করল।

অক্টোবর ৬ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন ইরানের নার্গিস মোহাম্মদি।
৭ ইসরায়েলে হামাসের হামলার প্রেক্ষিতে গাজা গণহত্যা শুরু।
৮ হামাসের হামলার একদিন পর ইরান-সমর্থিত লুবনানী শিয়াদের সংগঠন হিযবুল্লা ইসরায়েলের সাথে সীমান্তে নিম্ন মাত্রার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল।

নভেম্বর ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাতে শুরু করল।

মেহরান কামরাভা (সম্পা.), দ্য স্যাক্রেড রিপাবলিক: পাওয়ার অ্যান্ড ইন্সটিটিউশনস ইন ইরান।
রুহুল মাহফুজ জয়, অনুবাদ, আব্বাস কিয়ারোস্তামি কবিতাসমগ্র।

২০২৪ জানুয়ারি ১ বিআরআইসিএস গ্রুপে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিল ইরান।
৩ কেরমানে এক বোমা হামলায় অন্তত ১০৩ ব্যক্তি নিহত।
১১ ওমান উপসাগরে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী, যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত এবং গ্রিস-পরিচালিত বেসামরিক তেল ট্যাঙ্কার সেইন্ট নিকোলাসয়ের নিয়ন্ত্রণ নিল ইরানের নৌবাহিনী।
১৫ ইরাকি কুর্দিস্তানের এরবিলে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৪ জনকে খুন করল আইআরজিসি। সিরিয়ার আলেপ্পো গভর্নরেটেও একটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল।
১৬ “প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর” দায়ে নোবেল লরিয়েট নার্গিস মোহাম্মদির ১২ বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়াল ইরান সরকার। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে “সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি” লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। পাকিস্তান দাবি করল, এতে বিনা উসকানিতে দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘিত হয়েছে, যাতে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
১৭ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাকিস্তানের দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ইরান থেকে নিজ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করল।
১৮ অপারেশন মার্গ বার সরমাচার, ১৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ইরানের ভেতরে বেলুচিস্তান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে “প্রিসিশন বিমানহামলা” চালাল। বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির শিবিরগুলোতে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেল। পাক-ইরান সীমান্তের কাছে ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সারাভানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেল। এই হামলায় ৪ মহিলা ও ৩ শিশু নিহত হন। যাঁদের সকলেই বিদেশী নাগরিক।
২০ সিরিয়ার দামিশকে এক ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমানহামলায় জেনারেল সাদেগ ওমিদজাদে সহ ৫ আইআরজিসি সদস্য নিহত হন।
২১ ইরানের কেরমান শহরে এক ব্যারাকের ছাত্রাবাসের ভেতরে একজন সৈনিক প্রকাশ্যে গুলি চালালে তাতে ৫ সৈনিক নিহত হন।
২৫ ইরানি ব্যবসায়ী হোসেইন হাতেফি আরদাকানির তথ্যের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ। আরদাকানির বিরুদ্ধে আইআরজিসি কর্তৃক সংগৃহীত এবং পরে রাশিয়ার কাছে বিক্রি করা ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগ ছিল।
২৭ সারাভানে ৩ বন্দুকধারী ৯ পাকিস্তানি শ্রমিককে হত্যা করে।
২৯ সামরিক সরঞ্জাম তৈরির একটি কারখানায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নির্দেশে বোমা হামলার পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ৪ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান।

ফেব্রুয়ারি ৮ মেটা তাঁদের “বিপজ্জনক সংগঠন ও ব্যক্তি নীতি” ভঙ্গ করায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনির ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিল।
১১ ইরানের সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশের এক ফাঁড়িতে হামলায় বাসিজ মিলিশিয়ার ২ সদস্যের মৃত্যু।

এপ্রিল ১ দামিশকে ইরানের এক দূতাবাস ভবনে একটি হামলায় আইআরজিসির দুই ইরানি সেনাপতি নিহত হলেন। ইরান এই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে।
এপ্রিল ১৪ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান ৩০০টি ড্রোন, ক্রুজ, ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করল।

মে ১৯ এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যু।

জুলাই ২৮ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সংস্কারপন্থী মাসুদ পেজকেশিয়ান।

মোহাম্মদ রাসূলফ, দ্য সীড অফ দ্য স্যাক্রেড ফিগ।

২০২৫ জানুয়ারি ১৭ রাশিয়ার সাথে একটি কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ট্রিটিতে সই করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
১৮ তেহরানের প্যালেস অফ জাস্টিসের ভেতরে ইরানের সুপ্রিম কোর্টের ২ বিচারপতি জনৈক বন্দুকধারীর গুলিতে খুন হলেন, যাঁদের একজন ১৯৮৮ সালে রাজবন্দীদের গণ মৃত্যুদণ্ড প্রদানের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

ফেব্রুয়ারি ৬ ইরানের প্রথম ড্রোন-বহনকারী যুদ্ধজাহাজ শহিদ বাঘেরির উদ্বোধন।

এপ্রিল ৭ দামঘানের নিকটে এক কয়লা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে ৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যু।
১২ সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের মেহরেস্তান কাউন্টিতে এক হামলায় ১২ পাকিস্তানি মজদুরের মৃত্যু।
১৪ এভিন কারাগারের পরিচালক হেদায়েতুল্লা ফারজাদিকে অন্তর্ভুক্ত করে ৭ জন ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
২৪ ইরানের স্টেট ব্রডকাস্টার আইআরআইবিতে খলিফা আবু বকরকে অবমাননা করা একটি প্রোগ্রাম সম্প্রচার করার দায়ে সংস্থাটির ৪ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হল।
২৬ শহিদ রাজায়ী বন্দর বিস্ফোরণে ৫৭ ব্যক্তির মৃত্যু।
২৯ ইস্ফাহান প্রদেশে এক বিস্ফোরণে ২ ব্যক্তির মৃত্যু।
৩০ কারাজ প্রদেশের গেজেল হেসার কারাগারের বন্দী মোহসেন লাঙ্গারনেশিনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। লাঙ্গারনেশিন ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি ও আইআরজিসির জনৈক কর্নেল হাসান সাইয়াদ খোদায়ীকে গুপ্তহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। একাধিক মানবাধিকার সংস্থা বিচারটিকে অন্যায্য দাবি করল, বলল নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

মে ৪ ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করল, তাঁরা কাশেম বাসির নামের নতুন একটা ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে।
১৬ ২০২২ সাল থেকে ২ ফরাসি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ও কারাবন্দী রেখে এবং তাঁদের জিম্মি করার মাধ্যমে অধিকার ভঙ্গ করার অভিযোগ এনে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসে (আইসিজে) ইরানের বিরুদ্ধে একটা মামলা করল ফ্রান্স।
২১ ২০২৩ সালে তেহরানস্থ আজারবাইজানি দূতাবাসে হামলা চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান।

জুন ৪ আইএস-খোরাসানের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করল ইরান।
১০ ২০১৮ সাল থেকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে চলে আসা সংঘর্ষের কালে ৩ আইআরজিসি সদস্যকে হত্যা করার দায়ে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের ৯ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান।
১১ বন্দর-ই-দাইয়ার শহরের এক রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে ৩ ব্যক্তির মৃত্যু।
১২ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এই মর্মে রুল জারি করল যে, ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মত ইরান তাঁর নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করেছে।
১৩-২৪ ইরান-ইসরায়েল জুন যুদ্ধ। বারো দিনের যুদ্ধ নামেও পরিচিত।
১৩ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিমানহামলা চালাল ইসরায়েল। এই হামলায় একাধিক সামরিক কর্মকর্তা খুন হন। যাঁদের মধ্যে আছেন দেশটির সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি ও আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন সালামি।
১৪ ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করল।
১৬ তেহরানে স্টেট ব্রডকাস্টার আইআরআইবির সদরদপ্তরে বোমা হামলা চালিয়ে অন্তত ১ ব্যক্তিকে খুন করল ইসরায়েল। অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানের সাথে নিজ সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিল পাকিস্তান।৩
২১ ইরানে বিমানহামলা চালানোর ভেতর দিয়ে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে প্রবেশ করল যুক্তরাষ্ট্র।
২৩ কাতারের আল উবেইদ বিমান ঘাঁটিতে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরানের বিমানবাহিনী। কাতারি সশস্ত্র বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ইন্টারসেপ্ট করে। উল্লেখ্য, অই বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন বিমানবাহিনীর।
২৪ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২৫ আইএইএর সাথে ইরানের সহযোগিতা স্থগিত করার পক্ষে ভোট দিল দেশটির কনসালটেটিভ এজেন্সি।
২৬ আইএইএর সাথে ইরানের সহযোগিতা স্থগিত করার পক্ষে ভোট দিল দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল।

জুলাই ২ আইএইএর সাথে ইরানের সহযোগিতা স্থগিত করার হুকুম দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজকেশিয়ান।
১১ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে মনোনীত হল খোররামাবাদের উপত্যকার প্রাগৈতিহাসিক জায়গাগুলো।
১৪ কোমে এক আবাসিক ব্লকে বিস্ফোরণে ৭ ব্যক্তি আহত।
১৯ ফার্স প্রদেশে এক বাস উল্টে গিয়ে ২১ জনের মৃত্যু। আবাদান শোধনাগারে আগুন লেগে ১ ব্যক্তির মৃত্যু।
২১ কাসেদ রকেট ব্যবহার করে একটি সাব-অরবিটাল স্যাটেলাইট পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করল ইরান।
২৩ তাপপ্রবাহের কারণে তেহরান সহ সাতটি প্রদেশে সরকারি পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হল।
২৬ জাহেদানের এক আদালত প্রাঙ্গনে বন্দুকধারীদের হামলায় ৩ হামলাকারী সহ ৯ ব্যক্তি নিহত।
২৭ সন্ত্রাসবাদী হামলার ষড়যন্ত্রের দায়ে পিপল’স মোজাহেদিন অর্গানাইজেশন অফ ইরানের (পিএমওআই) ২ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

আগস্ট ৪ সুপ্রিল ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল নামে একটা নয়া নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করল ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
৫ দ্বিতীয়বারের মত আলি লারিজানিকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব নিযুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
৬ ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি ও কথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপের পক্ষে হামলার ষড়যন্ত্রের পৃথক দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ২ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান।
৯ তাবাসে একটা খননকারী যন্ত্রের সাথে ধাক্কা খেয়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হলে তাতে ৩০ ব্যক্তি আহত হন।
২০ ইরান-ইসরায়েল জুন যুদ্ধের পর নিজেদের প্রথম একক সামরিক মহড়া পরিচালনা করল ইরান। সাসটেইনেবল পাওয়ার ১৪০৪ ড্রিল চলাকালে ভারত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করল।
২২ সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহরের কাছে দুটি পুলিশের গাড়িতে অতর্কিত হামলায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত।
২৬ ইরানি রাষ্ট্রদূত আহমেদ সাদেঘিকে বহিষ্কার করল অস্ট্রেলিয়া। আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা দিল। ২০২৪ সালে একটি ইহুদি রেস্তোরাঁ এবং একটি উপাসনালয়ে দুটি হামলার জন্য আইআরজিসিকে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক দায়ী করার প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা আসে।
২৭ সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত।

সেপ্টেম্বর ৮ সিস্তান ও বালুচিস্তানের গোলশান সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে প্রবেশের চেষ্টারত ১২০ জন আফগান অভিবাসীর একটি দলের উপর ইরানি সীমান্তরক্ষীরা গুলি চালালে এতে ৬ ব্যক্তি নিহত হন।
৯ ইরান আইএইএর সাথে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার জন্য মিসরে পারমাণবিক সংস্থাটির সাথে একটি চুক্তি সই করল।
১৬ ইরান সরকারের জন্য তেল বিক্রির জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয়কে ফ্যাসিলিটেট করার দায়ে ইরানি নাগরিক আলিরেজা দেরাখশান ও আরাশ এস্তাকি আলিভান্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র।
১৭ ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
২৪ কিশ দ্বীপের দক্ষিণে ২,৫০০ টন সিমেন্ট বহনকারী তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ আংশিকভাবে ডুবে গেল। জাহাজের ৯ জন ক্রুকেই উদ্ধার করা হয়।
২৬ ইরান রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তি সই করে যার মাধ্যমে হরমোজগান প্রদেশের বন্দর সিরিকে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়।
২৮ ২০১৫ সালে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশনের অধীনে প্রত্যাহার করা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইরানের ওপর পুনরায় আরোপ করা হল।
২৯ পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করল ইওরোপীয় ইউনিয়ন।

অক্টোবর ২ তেহরানের আমির আবাদ জেলায় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল কলেজের একটি পরীক্ষাগারে সন্দেহভাজন হাইড্রোজেন ক্যাপসুল বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত ও ৪ জন আহত।
৪ ইসরায়েলের তরফে খোররামশহরে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ৬ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান।
৮ জুন মাসে ইরান সফরের সময় আটক ফরাসি-জার্মান সাইক্লিস্ট লেনার্ট মন্টেরলোকে মুক্তি দেয়া হল।
১৪ ইরানের একটি আদালত গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২ ফরাসি নাগরিককে ৩০ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দিল।
২১ ফারস প্রদেশে ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮ জন আহত।

নভেম্বর ৪ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০২২ সাল থেকে ইরানে আটক থাকা ২ ফরাসি নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হল।
১১ পৌর কর্মকর্তাদের দ্বারা তাঁর পরিবারের খাবারের দোকান বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে ২ নভেম্বর আহভাজে একজন ব্যক্তি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মারা যান। তীব্র জনরোষ দেখা দেয়। একজন জেলা মেয়র ও একজন আইন প্রয়োগকারী গ্রেপ্তার করা হয়।
১২ তেহরান সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার পরিবেশনা পরিচালনা করা প্রথম নারী হলেন পানিজ ফারুসেফি।
১৪ আফগান অভিবাসীদের বহনকারী দুটি গাড়ি সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের খাশে উল্টে গেলে এতে ১৩ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। “অননুমোদিত পণ্যসম্ভার” বহন করার দায়ে হরমুজ প্রণালীতে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার তালারাকে আটক করল আইআরজিসি।
১৬ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানালেন, ইরান-ইসরায়েল জুন যুদ্ধ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার ফলে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে না।
১৯ তালারা জাহাজ এবং এর ২১ জন ক্রুকে মুক্তি দেয়া হল।

ডিসেম্বর ১ “প্রচারণা কার্যক্রমে” জড়িত থাকার অভিযোগে ফিল্মমেকার জাফর পানাহিকে in absentia এক বছরের কারাদণ্ড দিল এবং তাঁর বিদেশ সফরের ওপর দু’বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করল একটি ইসলামী বিপ্লবী আদালত।
১০ সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশের লারের কাছে এক অতর্কিত হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত হন।
১১ পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ১৭ বছর বয়সে স্বামীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন বাল্যবধূ গোলি কোহকানকে মৃতের আত্মীয়দের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য রক্তপণ (দিয়াত) আদায়ের পর গোলেস্তান প্রদেশের একটি কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হল।
১২ মাশহাদে একজন মৃত মানবাধিকার আইনজীবীর শোকসভায় যোগ দেয়ার সময় নোবেল বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মদীকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হল।
১৩ সরকার তার জ্বালানি ভর্তুকি প্রকল্প সংশোধন করল এবং ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো আংশিক মূল্য বৃদ্ধি করল।
১৫ ইস্ফাহান প্রদেশে একটি মহাসড়কে একটি বাস উল্টে গিয়ে ১৩ জন নিহত এবং আরও ১৩ জন জখম হন।
২০ উর্মিয়ায় মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
২৪ ৪ মিলিয়ন লিটার জ্বালানি পাচারের সন্দেহে পারস্য উপসাগরে ১৬ জন ক্রু সদস্য বহনকারী একটি বিদেশী পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার আটক করল আইআরজিসি। নির্বাসিত প্রাক্তন আফগান পুলিশ কমান্ডার ও তালেবানদের একজন সমালোচক ইকরামউদ্দিন সারিকে তেহরানে তাঁর অফিসের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হল।
২৮ তেহরানের ডাউনটাউনের দুটি প্রধান বাজারে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন ইরানি রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে নেমে আসে ১৪ লাখ ২০ হাজারে—যা এক নতুন সর্বনিম্ন রেকর্ড। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যায় এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। সরকার ডিসেম্বরের শুরুতে ভর্তুকিপ্রাপ্ত পেট্রলের দাম বাড়িয়েছিল, যা অসন্তোষকে আরও উসকে দেয়।
২৯ ইরানি রিয়ালের মূল্য হ্রাসের প্রতিবাদের মাঝেই ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মোহাম্মদ রেজা ফারদিন। তেহরানে বিক্ষোভ অন্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ।
৩০ বিক্ষোভ আরও শহর ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। তিনি তাঁদের দাবি শোনেন ও বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
৩১ আবদোলনাসের হেম্মতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নয়া গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিল ইরান। চলমান অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীরা ফাসায় ফার্স প্রাদেশিক সরকারের একটি ভবন আংশিকভাবে ধ্বংস করে দিলেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ভালি নাসর, ইরান’স গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি: আ পলিটিকাল হিস্ট্রি।

জাফর পানাহি, ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট।

২০২৬ জানুয়ারি ১ বিক্ষোভে প্রথম মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হল। কর্তৃপক্ষ জানাল, অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচে তীব্র সহিংসতা লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা যায় ও গুলি চলার শব্দ শোনা যায়। মানুষকে “লজ্জা! লজ্জা!” স্লোগান দিতে দেখা যায়। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, নিহতের সংখ্যা ৩। বখতিয়ারি ও ইস্ফাহান প্রদেশেও বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। লোরেস্তানে আইআরজিসির বাসিজ মিলিশিয়ার এক ২১-বছর-বয়সী স্বেচ্ছাসেবক নিহত।
২ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি বার্তা লেখেন। তিনি তাতে বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের রক্ষা করবে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প আরও লেখেন, “আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” এদিকে বিক্ষোভ ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২২টিতে ছড়িয়ে পড়ে। ১০০টিরও বেশি স্থানে মানুষ প্রতিবাদ করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইআরএএনএ) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
৩ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনী বললেন, “দাঙ্গাবাজদের দমন করতে হবে।” অনেকে এটিকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন। বিক্ষোভ ২৫টি প্রদেশে ১৭০টির বেশি স্থানে ছড়িয়ে পড়ল। এইচআরএএনএ জানাল, অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৫৮০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
৬ তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। এইচআরএএনএ জানাল, মৃতের সংখ্যা ৩৬য়ে পৌঁছেছে। যাঁদের ২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বিক্ষোভ ২৭টি প্রদেশের ২৮০টির বেশি স্থানে ছড়ায়।
৮ নির্বাসিত যুবরাজের আহবানে মানুষ রাতে জানলা থেকে স্লোগান দেন, রাস্তায় নেমে আসেন। ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন কল বন্ধ করে দেয় সরকার। দেশের ৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে।
৯ কঠোর দমনপীড়নের ইঙ্গিত সত্ত্বেও বিক্ষোভ চলমান থাকে। এইচআরএএনএ জানায়, সহিংসতায় অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আটক হয়েছেন ২,৩০০ জনের বেশি।
১০ বিক্ষোভের দুই সপ্তাহ। এইচআরএএনএ জানায়, মৃতের সংখ্যা অন্তত ১১৬ জনে পৌঁছেছে। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেন, বিক্ষোভে অংশ নিলে তাঁকে “খোদার শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।*
* ইরানে এই গুরুতর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
১১ ট্রাম্প বলেন, তাঁর হামলার হুমকির পর ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। অ্যাক্টিভিস্টরা জানান, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৪৪ জনে পৌঁছেছে।
১২ সরকারপন্থী সমাবেশ আয়োজন করল ইরান। মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬৪৬ জনে পৌঁছাল।
১৩ অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, মৃতের সংখ্যা ২,৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকদিন যোগাযোগবিচ্ছিন্ন থাকার পর মানুষ আবার বিদেশে ফোন করতে সমর্থ হল। ট্রাম্প বললেন, তিনি ইরানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন এবং, “সহায়তা আসছে।”
১৪ ইরান হুমকি দিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হস্তক্ষেপ করলে প্রতিশোধ নেয়া হবে। কর্মকর্তারা জানালেন, আটককৃতদের দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
১৫ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সম্মুখীন হন। মার্কিন প্রতিনিধি আবারও হুমকি দেন। এ সময় একজন ইরানি কূটনীতিক অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্থিরতায় সরাসরি জড়িত।
২০ হ্যাকাররা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের স্যাটেলাইট সম্প্রচার ব্যাহত করলেন। নির্বাসিত যুবরাজের সমর্থনে ভিডিও প্রচার করলেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের দিকে অস্ত্র তাক না করার আহবান জানালেন। অ্যাক্টিভিস্টরা জানালেন, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪,০০০ জনে পৌঁছেছে।
২৬ ট্রাম্পের হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছালো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তিনটি যুদ্ধজাহাজ।
২৮ মুদ্রা ব্যবসায়ীরা জানালেন, ৪৮ ঘণ্টায় ইরানি রিয়ালের মূল্য ১১% কমে গেছে। ডলারের বিপরীতে দর দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ। এটি নতুন সর্বনিম্ন রেকর্ড।
২৯ সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দিল ইরান। জানাল, পরের সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে* মহড়া হবে। সেখানে সরাসরি গুলি চালানোর মহড়াও থাকবে।
* বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। যা বন্ধ করে দিলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। বিপন্ন হবে বিশ্বায়িত অর্থনীতি।

ফেব্রুয়ারি ১ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার প্রতিবাদে ইওরোপের সামরিক বাহিনীগুলোকে “সন্ত্রাসবাদী সংগঠন” হিসেবে পাল্টা ঘোষণা করল ইরান।
২ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুনরায় আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ২০২৫-২৬ সালের ইরান বিক্ষোভে দমনপীড়নের ভূমিকার জন্য দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি এবং অন্য নয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যুক্তরাজ্য। ২০২৫-২০২৬ সালের ইরান বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালানোর এবং রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন প্রদানের জন্য আইআরজিসিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করল ইউক্রেন।
৩ ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানাল, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার এম/ভি স্টেনা ইম্পারেটিভ দখলের চেষ্টা চালালে মার্কিন নৌবাহিনী তা রুখে দেয়। আরব সাগরে একটি ইরানি শাহেদ ১৩৯ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করল মার্কিন বাহিনী। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নজরদারি মিশন সম্পন্ন করছিল।
৪ ওমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা করার ব্যাপারে সম্মত হল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানি নারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি পেলেন।
৫ পারস্য উপসাগরের ফারসি দ্বীপের কাছে দুটি বিদেশি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করল আইআরজিসি।
৬ ওমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হল।
৭ ইরানের সাথে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। “অপরাধ করার জন্য সমাবেশ ও যোগসাজশ” এবং প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং দক্ষিণ খোরাসানের খোসফে দুই বছরের অভ্যন্তরীণ নির্বাসনের দণ্ড দেয়া হল।
৮-৯ ২০২৫-২৬ সালের ইরান বিক্ষোভের সময় “দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার” চেষ্টা এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে আজার মানসুরি, ইব্রাহিম আসগরজাদে এবং মোহসেন আমিনজাদে সহ ৪ জন সংস্কারপন্থী রাজনীতিককে গ্রেপ্তার করা হল।
১১ ২০২৫-২৬ সালের ইরান বিক্ষোভে দমনপীড়নের জন্য জাতির কাছে মাফ চাইলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
১৭ লাইভ ফায়ার মহড়া পরিচালনার জন্য সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান।
১৯ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইরানে আটক এক ব্রিটিশ দম্পতিকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল। হামাদান প্রদেশে প্রশিক্ষণ চলাকালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিমান বাহিনীর একটি বিমান বিধ্বস্ত হল। এতে বিমানে থাকা ২ পাইলটের মধ্যে একজন নিহত হন।
২৪ ইস্ফাহানের দোরচেহের একটি বাজারে বিধ্বস্ত হল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আর্মি এভিয়েশনের একটি পানহা-২০৯১ হেলিকপ্টার। এতে বিমানে থাকা ২ ক্রু সহস্য এবং মাটিতে থাকা ২ ব্যক্তি নিহত হন।
২৮ ২০২৬ সালে ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন হামলা। ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করল এবং একে প্রিএম্পটিভ স্ট্রাইক হিসেবে অভিহিত করল। যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় অংশ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধা এবং নৌ সম্পদ লক্ষ্য করে একটি “বড় ধরনের মার্কিন যুদ্ধ অভিযান” চলছে। তিনি ইরানি সামরিক বাহিনীর প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহবান জানালেন। তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেল। কারণ সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়সহ হুকুমতের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হেনেছে মার্কিন-উৎক্ষেপিত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। শনিবার সকালে এয়ারবাসের নেয়া ও পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশ করা স্যাটেলাইট চিত্রে খামেনির কম্পাউন্ড ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেল। ইরান জানাল, হরমোগজান প্রদেশের মিনাবে বিমান হামলার ফলে অন্তত ৮৫ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশু খুন হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছে। বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। শেষোক্ত দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, এতে আবুধাবিতে একজন নিহত হয়েছেন। বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিল। সমস্ত জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল আইআরজিসি নৌবাহিনী।

মার্চ ১ ইরান নিশ্চিত করল, আগেরদিন (ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬) তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা (রাহবারে মোয়াজ্জেম ইনকেলাবে ইসলামি) আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে। চল্লিশ দিনের শোক ঘোষণা করা হল। আবদোলরাহিম মুসাভি, আজিজ নাসিরজাদে, মোহাম্মদ পাকপুর এবং আলী শামখানির মত হুকুমতের প্রধান কর্মকর্তারা একই দিনে তেহরানে একটি বৈঠকের সময় বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হল। নারমাকে নিজ গৃহে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাঁর দেহরক্ষীদের সাথে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেল। তেহরান জুড়ে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করল ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। আইআরজিসি ও বাসিজ স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেল। সাইপ্রাসের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল ইরান। যা দ্বীপটির ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সাইপ্রাসে পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইন্টারসেপ্ট করা হয়। আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদে নিয়োগ দিল ইরান, যা সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই পরিষদ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজে’ইয়ের পাশাপাশি শাসন করবে যতক্ষণ না বিশেষজ্ঞদের পরিষদ (মজলিস-ই খবরগান-এ রাহবারি) একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেন। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবিতে ফরাসি নৌ বিমান ঘাঁটি ক্যাম্প দে লা পাইক্সয়ে আঘাত হানল একাধিক ইরানি শাহেদ ড্রোন। চাবাহার বন্দরের কাছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান মৌজ-শ্রেণীর ফ্রিগেট আইআরআইএস জামারান ডুবিয়ে দিল মার্কিন বাহিনী।
২ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনী হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আকাশপথে ইসরায়েলে একটি হামলা চালাল হিজবুল্লা। জবাবে ইসরায়েল লেবাননে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে।
৩ তেহরানে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রপতি প্রশাসন ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ভবনগুলোতে দিয়ে হামলা চালালো আইএএফ।
৪ আইডিএফ জানালো, একটি ইসরাইলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান তেহরানের ওপর একটি ইরানি ইয়াক-১৩০ বিমান ভূপাতিত করেছে। যা ১৯৮৫ সালের পর আইএএফের প্রথম বিমান ভূপাতিত করার ঘটনা।
৬ ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ওপর একটি ইসরায়েলি আইএআই হেরন ড্রোন ভূপাতিত করা হল।
৮ তেহরান ও অন্যান্য ইরানি শহরের তেল স্থাপনায় আকাশপথে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা। যাতে কমপক্ষে ৪ ট্রাক চালক নিহত হন। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড।
১৩ উত্তর ইসরাইলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৫৮ জন আহত।
১৬ তেহরানের ইরানি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে আকাশপথে হামলা চালালো আইএএফ। দাবি করল, এটি ইসরায়েলি উপগ্রহের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মহাকাশ যুদ্ধ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
১৭ তেহরানে আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি ও বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলেমানিকে হত্যা করল ইসরায়েল।
১৮ রামাত গানে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় ২ ব্যক্তি নিহত।
১৯ তেহরানে আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে খুন করল ইসরায়েল।

এপ্রিল ১ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ইরানের ড্রোন হামলায় বড় আকারে আগুন লাগে। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় সাবেক মার্কিন দূতাবাস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেলো। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর ভবনটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছিলো। হামলায় সেইন্ট নিকোলাস অর্থোডক্স চার্চও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২ চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া তেহরান-কারাজ সংযোগকারী কারাজ বি১ সেতুতে মার্কিন বিমান হামলায় ৮ জন নিহত। বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) সার্ভার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ওরাকলের ডেটা সেন্টারে হামলা চালালো ইরান।
৩ দেশের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলো ইরানি বাহিনী। দুইদিন ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলার পর ৫ তারিখে ওই বিমানের উইপন্স সিস্টেম অফিসারকে (ডব্লিউএসও) উদ্ধার করে মার্কিন কমান্ডোরা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি জানালো, তারা ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ১৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
৪ ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও ১৯৮ জন কর্মী সরিয়ে নিল রাশিয়া। একই সময়ে একটি বিমান হামলায় ওই কেন্দ্রের একজন ইরানি নিরাপত্তারক্ষী নিহত হলেন।
৫ ইরানি গণমাধ্যম দাবি করলো, নিখোঁজ এক মার্কিন বিমানসেনার সন্ধান ও উদ্ধারে অংশ নেওয়ার সময় একটি মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান ইস্ফাহানে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানে স্থাপিত একটি অস্থায়ী মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং চারটি এমএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করে। তাদের দাবি, এগুলো ফেলে গেলে ইরানি বাহিনীর হাতে চলে যেতে পারত।
২০২৫-২৬ সালের ইরানজুড়ে বিক্ষোভের সময় একটি সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রাগারে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
৬ তেহরানের কাছে এসলামশাহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত। সাউথ পার্স তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলো। পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ জন নিহত, ৭ জন আহত এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ। ইসরায়েল দাবি করলো, তারা কুদস ফোর্সের ইউনিট ৮৪০য়ের কমান্ডার আসগার বাকরিকে হত্যা করেছে। আসালুয়েহে ইরানের সবচে গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা চালালো আইডিএফ, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হলেন আইআরজিসির গোয়েন্দা সুরক্ষা বিভাগের প্রধান মজিদ খাদেমি। পাকিস্তানের দেয়া একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছালো। প্রস্তাবটির অনানুষ্ঠানিক নাম ছিলো ইসলামাবাদ চুক্তি। এতে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ১৫-২০ দিনের আলোচনার আহবান জানানো হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, বিশেষ দূত স্টিভ হুইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই প্রস্তাব আসে বলে জানা যায়। পরে ইরান এটি প্রত্যাখ্যান করে। রাতভর বন্দর লেঙ্গেহ ও কং এলাকায় হামলায় ৬ জন নিহত ও ১৭ জন আহত। তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির মসজিদ ও একটি জ্বালানি স্টেশন বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এর ফলে আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলো।
৭ তেহরান মহানগর অঞ্চল, আহভাজ, চাবাহার, যাস্ক, সিরাজ, ও ইয়াজদে নৈশকালীন হামলার খবর পাওয়া যায়। এছাড়া শহিদ কালান্তারি বন্দর, তিস বন্দর এবং ইমাম আলী ঘাঁটির কাছেও হামলার খবর আসে। এক বিমানহামলায় ধ্বংস হয়ে যায় মধ্য তেহরানের রাফি-নিয়া সিনাগগ। খার্গ দ্বীপে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালো মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান, এতে একাধিক বড় বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের বিভিন্ন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদ জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের নেতৃত্ব যদি রাত ৮টার (ইএসটি) মধ্যে কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে” এবং তা “আর কখনও ফিরিয়ে আনা যাবে না”।
৮ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বললেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে ইরান। ইরান আরও জানালো, দেশটির ওপর হামলা বন্ধ হলে তারা তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযানও স্থগিত করবে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানে সরকারপন্থী বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা “আমেরিকার মৃত্যু হোক”, “ইসরায়েলের মৃত্যু হোক” এবং “আপোসকারীদের মৃত্যু হোক” স্লোগান দেন। তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকাও পোড়ান। ইরানি গণমাধ্যম জানালো, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।
১১ যুদ্ধবিরতি বিষয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছালো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বললেন, হরমুজ প্রণালি “নিরাপদ ও পরিষ্কার” করার কাজ শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানালো, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে।
১২ জেডি ভ্যান্স ঘোষণা করলেন, একদিনের আলোচনার পরও কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এরপর, হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। জানান, জাহাজগুলোকে প্রণালীতে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে বাধা দেবে মার্কিন নৌবাহিনী এবং যেসব জাহাজ ইরানকে টোল দিয়েছে সেগুলোকে আটক করবে।
১৭ ইরান ঘোষণা করলো, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।
১৮ ইরান জানালো, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে।
২১ পাকিস্তানের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেন।
২২ ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র।
২৩ মার্কিন নৌবাহিনীকে হরমুজে মাইন পেতে রাখা যে কোন ইরানি নৌকা ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প।

মে ৫ তেহরান প্রদেশের আন্দিশের একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত।
৬ ইরানের সাথে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ব্যাপারে “ব্যাপক অগ্রগতির” কথা উল্লেখ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর “প্রজেক্ট ফ্রিডম” অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
২৫ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের অবসানের হুকুম দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের উপর “আত্মরক্ষামূলক” হামলার খবর দিলো। জানালো, যুদ্ধবিরতি এখনও বলবৎ আছে। এতে বেশ কয়েকজন ইরানি সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেলো। ইরানি সূত্র অনুসারে, মার্কিন হামলার আগে ইরানি সামরিক বাহিনী সমুদ্রে একটি জাহাজকে নিশানা বানিয়েছিলো।
২৬ আংশিকভাবে ইন্টারনেট পুনর্বহাল করলো ইরান।
২৭ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি ভারতীয় ট্যাংকার আটক করেছিলো ইরান। “ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার” পর দেশটি ১০ জন ভারতীয় নাবিককে মুক্তি দিলো।

জুন ৪ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
৭ লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানালো, বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ইসরায়েলি হামলায় ২ ব্যক্তি নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। আইডিএফ জানালো, হিজবুল্লা উত্তর ইসরায়েলের দিকে গোলাবর্ষণ করলে তারা হিজবুল্লার অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে নিশানা করে ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলো ইরান। ইসরায়েল জানালো, তারা সব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
৮ আইডিএফ ঘোষণা করলো, তারা মধ্য ও পশ্চিম ইরানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তেহরান, ইস্ফাহান ও তাবরিজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলো। এতে ২ ইরানি সেনা নিহত হন। এর ফলে দুটি দেশের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার সূত্রপাত হলো। যাতে যোগ দেয় হুথিরা। পরে একই দিনে উভয় দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত করে।
৯ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বললেন, ইরানিরা হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। ইরান জানালো, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করেনি। সেন্টকম পরে জানায়, তারা এর বদলা হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে “আত্মরক্ষামূলক” হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলোর একটি সিরিকের দুটি পানির জলাধার ট্যাঙ্কের ক্ষতি করে। ইরানের দাবি, এর ফলে ২০,০০০ মানুষ নিরাপদ পানীয় জলে অধিগম্যতা হারিয়েছেন।
১০ ইরান জানালো, তারা মার্কিন হামলার বদলা হিসেবে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্দানের এফ-৩৫ বিমানবহর বিশিষ্ট মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির দিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী একাধিক ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, এই প্রক্রিয়ায় ৪৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। প্রাথমিক মার্কিন নির্ভুল অস্ত্র হামলাগুলোর বিরুদ্ধে বেমানির নিকটে পানীয় জল সরবরাহের ফ্যাসিলিটিগুলোকে নিশানা করার অভিযোগ উঠলো। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করলো, এসব হামলার ফলে প্রায় ২০,০০০ মানুষ জল সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন।
১১ হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলো ইরান। সেইসাথে জানালো, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের যোগাযোগ অ্যান্টেনা ও রাডার স্থাপনা, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং জর্দানে একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে গোলাবর্ষণ করেছে। তেহরানে ইরানি কর্মকর্তা এবং কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত” আলোচনার সময় প্রাথমিক ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি, হরমুজ খাল পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবেলার প্রোটোকল সংক্রান্ত মূল গ্যাপগুলো কমে আসে।
১৩ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির প্রতিবাদে ইরানি কট্টরপন্থীরা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের বাইরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সংসদীয় স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
১৪ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ঘোষণা করলো, যুদ্ধ শেষ করতে ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সময় জানান, তিনি ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেয়ার অনুমোদন দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, যদি একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী পরে স্পষ্ট করে, ১৯ জুন চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কার্যকর থাকবে।
১৫ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা করলেন, ইসলামাবাদ স্মারকলিপিটি আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কর্তৃক ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
১৭ যুদ্ধ শেষ করার জন্য সমঝোতা স্মারক সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান। জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে রাতের খাবার খাওয়ার সময় এই দস্তাবেজে সই করেন ট্রাম্প।
১৮ পাকিস্তান জানালো যে, যুদ্ধ শেষে মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অর্থ হলো তেহরান “তাৎক্ষণিকভাবে” হরমুজ পুনরায় খুলে দেবে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ “অবিলম্বে” শেষ হবে। সেন্টকম ঘোষণা করলো, তারা ইরানি বন্দরগুলোর নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে।
২০ ইরান ঘোষণা করলো, তারা লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, একে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের চুক্তি লঙ্ঘণ হিসেবে বর্ণনা করে।
২১ হরমুজ বন্ধ করলে ইরান আক্রমণের হুমকি দিলেন ট্রাম্প। ইরানের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যে, তারা লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে হরমুজ বন্ধ করেছে।
২২ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী তেল বিক্রির জন্য ইরান-সম্পর্কিত ৬০-দিনের সাধারণ লাইসেন্স প্রদান করলো যুক্তরাষ্ট্র।
২৫ নতুন হরমুজ রুটকে “গ্রহণঅযোগ্য ও বিপজ্জনক” বলে ঘোষণা করলো ইরান। অনুমোদন ছাড়া চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে সতর্ক করলো।
২৬ ইরানকে হরমুজে জাহাজের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘণের অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন ট্রাম্প। সেন্টকম পরে ঘোষণা করে, অভিযুক্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘণের বদলা হিসেবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন গুদাম এবং উপকূলীয় রাডার স্টেশনগুলোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরান বললো হামলার প্রতিশোধ “দ্রুত ও নির্ণায়ক” হবে, পরে সেই বিবৃতি মুছে ফেলা হয়।
২৭ ইরান জানালো, হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে তারা। মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করলো, হরমুজে একটি জাহাজের উপর কথিত ইরানি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সর্বাধিনায়কের নির্দেশে তারা ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প ইরানকে বারবার যুদ্ধবিরতি স্মারকলিপি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করলেন এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন। তিনি এমন একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে “কাজটি সম্পূর্ণ করতে” বাধ্য হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, এমনটা ঘটলে ইরানে হুকুমতের অস্তিত্ব লোপ পেতে পারে।
২৮ ইরান জানালো, ৫টি ইরানি উপকূলীয় স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা কুয়েতের মার্কিন আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান তাদের মধ্যে হামলা বিনিময় বন্ধ করতে রাজি হয়।
৩০ ইরান ঘোষণা করলো, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বন্দর অবরোধের কালে তারা কোন তেল রপ্তানি করতে পারে নি। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে বন্দুকধারীরা ২ ইরানি সেনাকে হত্যা করে।

জুলাই ২ ইরানের সংসদ এবং সুপ্রীম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল কর্তৃক পাশ করা একটি আইনের দোহাই দিয়ে দেশটি জানালো, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইস্ফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কোন অবস্থাতেই আইএইএ পরিদর্শকদের ঢুকতে দেয়া হবে না।
৩ হুথীরা দাবি করলো, সানায় অবতরণ করতে আসা একটি ইরানি বিমানকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করার সময় একটি সৌদি যুদ্ধবিমানের মুখোমুখি হয়েছিল তারা।
৪ তেহরানের ইমাম খোমিনী গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা (রাহবারে মোয়াজ্জেম ইনকেলাবে ইসলামি) আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হলো। চলবে ৯ জুলাই পর্যন্ত। এতে ১৫ মিলিয়ন মানুষ অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, দেশটির জনসংখ্যার প্রতি ৬ জনে ১ জন।
৫ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানালো, প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ইরান ও কাতারের সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে।
৭ হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরান অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। এই হামলার বদলা হিসেবে ইরানের সাথে একটি তেল বিক্রি ও উৎপাদন চুক্তি বাতিল করার ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র।
৮ ইরান জানালো, তারা দক্ষিণ ইরানে একটি মার্কিন এমকিউ৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কথিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘণের বদলা হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক নিশানায় হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ঘোষণা করলো, বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে মার্কিন হামলায় ৮ সেনা ও ২ জেলে নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ঘোষণা করলো, তারা দেশটির উপকূল বরাবর প্রায় ৯০টি ইরানি সামরিক নিশানায় আঘাত হেনেছে।
৯ ইরান জানালো, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, ইরানে মার্কিন হামলায় ১৪ জন নিহত এবং আরও ৭৮ জন আহত হন।
১০ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হলো।
১১ আইআরজিসি নৌবাহিনী জানালো, একটি অননুমোদিত পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী একটি জাহাজের দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোঁড়ার পর তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছে।
১২ বাহরাইন, জর্দান, কাতার, কুয়েত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করলো ইরান। কাতার জানালো, এই হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
১৩ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, “হরমুজ প্রণালীতে ইরানি অবরোধ” পুনর্বহাল করবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রণালীটি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করবে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত সামুদ্রিক বাহিনীর জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) ঘোষণা করে, অবরোধটি পরের দিন থেকে শুরু হবে।
ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করলো, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালিয়েছে তারা। হুথীরা এই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে। পরবর্তীতে সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথীরা।
১৪ বাহরাইন ও জর্দানে হামলা চালালো ইরান। ফার্স নিউজ জানালো, হরমুজগান প্রদেশে রাতভর মার্কিন হামলায় ৩ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। কথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপের সদস্য হিসেবে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিলো ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর হেফাজত থেকে ৫৫ জন ইরানি জেলেকে মুক্তি দেয়া হলো।
হুথীরা দাবি করলো, একটি সৌদি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
১৫ ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনরায় চালু করলো যুক্তরাষ্ট্র। আইআরআইবি জানালো, মার্কিনীরা হোভেইজেতে একটি গম সংরক্ষণের সাইলোতে হামলা চালিয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে অগ্নিসংযোগের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিলো ইরান। ইরান জানালো, বামপুরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এক মার্কিন হামলায় ৭ সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহত্তর তুনব দ্বীপেও হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
১৬ জর্দান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক নিশানাগুলোতে হামলা চালালো ইরান। সেন্টকম জানালো, উত্তর ইরানের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত হামলা প্রসারিত করা হয়েছে।
১৭ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেলো, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামোগুলোতে মার্কিন হামলায় ৮ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
১৮ ইরান জানালো, যাস্কের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি পরিশোধন পাম্পে হামলা চালানো হয়েছে। যার ফলে ১০,০০০ মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিজের ওয়াদা বরখেলাপের জন্য অভিযুক্ত করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বললেন, দেশটির সাথে অন্তর্বর্তী চুক্তির অংশ হিসেবে সমঝোতা স্মারকের ওয়াদা বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে ইরান।
জিনা আমিনি বিক্ষোভের সময় একজন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
১৯ ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানালো, দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাইটে হামলা চালিয়েছে মার্কিনীরা। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
২০ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানালো, খোমেইনের একটি শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
২২ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
২৪ পিপলস মোজাহেদিন অর্গানাইজেশন অফ ইরানের (পিএমওআই) সাথে কথিত যোগাযোগ রক্ষার দায়ে ৬ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
সন্দেহভাজন মানবাধিকার লঙ্ঘণের দায়ে ইরানি বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একইসাথে একটি সাইবার গ্রুপের নেতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যে গ্রুপটি সরকারের তথ্য দমনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিল।
ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করায় ব্যবসায়ী বাবাক জানজানির সাথে যুক্ত ৪ ব্যক্তি এবং ৯ ইরান-সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলো মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
২৫ ১৩ রাত পর ইরানের বিরুদ্ধে নৈশকালীন হামলা বন্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ জানুয়ারি মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার দায়ে এরফান এসফেন্দিয়ারি ও গোল-মোহাম্মদ মোহাম্মদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
২৯ বীমা কোম্পানি এবং আরও ট্যাংকারের বিরুদ্ধে ইরানের শাসকগোষ্ঠী-সম্পর্কিত নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র।
৩০ মার্কিন সামরিক বাহিনী জানালো, তারা ইরানের কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিকভাবে ভারী প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানালো, এই হামলাগুলোর মধ্যে একটি কেশম দ্বীপের এক আবাসিক ভবনে আঘাত হানে এবং তাতে দুই বছর বয়সী এক শিশুসহ ৩ জনের একটি পরিবার নিহত হয়। নয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে নিশানা করলো যুক্তরাষ্ট্র।

আগস্ট ৩ যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।
৫ আইআরজিসি-সম্পৃক্ত ৩টি এনটিটির ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র
৬ যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশটিতে সৌদি আরবের তেল আমদানির পরিমাণ শূন্যে নেমে এসেছে, যা ১৯৮৫ সালের পর এই প্রথম কোন পুরো মাসের জন্য ঘটলো।
৭ এমবিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরোধী দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চলাকালে চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে কাঁধে বহনযোগ্য শত শত সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে ইরান। যুদ্ধের সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আনা হয়েছে। কুর্দি ও আহওয়াজি আরব গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী এই বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন, তিন ধরনের বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাড) সংগ্রহ করেছে আইআরজিসি। তারা এই অস্ত্রগুলো ইরানের সামরিক ঘাঁটি, শহরাঞ্চল ও সীমান্ত অঞ্চলে বিতরণ করছে। একইসাথে কিছু অস্ত্র ইরাকের মিত্রস্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে হস্তান্তর করছে। এমবিএন এই চালান বা এর পরিমাণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোন তথ্য যাচাই করতে পারেনি। উল্লিখিত দেশ তিনটি এই কথিত চুক্তিগুলোর কথা প্রকাশ্যে এখন পর্যন্ত স্বীকার করে নি।
ইরানি হুকুমতকে সহায়তা করার দায়ে দুবাইয়ের একটি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনলো যুক্তরাষ্ট্র।
৮ ইরানের সুপ্রীম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জারি করা এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য একাধিক শর্ত তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে, ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে, যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দিতে, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে, অত্র অঞ্চলে ইরানের মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকিধামকি দেয়া বন্ধ করতে আহবান জানান যুলঘাদর। ইরানের দাবিগুলোর ব্যাপারে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউজের কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।
ইরানি শাসকগোষ্ঠীর প্রতিকূল বলে বিবেচিত গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুক্ত বলে কথিত সংস্থাগুলোকে ছবি সরবরাহ করার অভিযোগে ইয়ালদা মোয়াইরিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি কোর্ট।
১৫ কাতার সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ৩ ইরানি যুদ্ধবিমানের পাইলটকে আটক করার অভিযোগ করলো ইরানের সামরিক বাহিনী। উক্ত পাইলটরা সুখোই এসইউ-২৪ বিমান চালাচ্ছিলেন। কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বিমানগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করে। ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধের সময় মার্চের শুরুতে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর এই ঘটনাটি ঘটেছিল। ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানায়, ৩ পাইলটকে ৬ মাস ধরে আটক রাখা হয়েছিল। এ সময় তাদের ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে বা যোগাযোগ করতে দেয়া হয় নি। এছাড়াও, তাঁদের পরিবারের সাথে দেখা করতে বা যোগাযোগ করতেও বাধা দেয়া হয়েছিল।
দুই ফরাসি কূটনীতিককে ইরানের ভেতরে একটি “অনুপ্রবেশ ও হস্তক্ষেপ” অভিযানে অংশ নেয়ার দায়ে অভিযুক্ত করলো ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়।
১৬ সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে একটি যানবাহন ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তাদের আহত করার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিলো ইরান। সেনাপ্রধান আমির হাতামি ঘোষণা করলেন, মার্কিন হানাদার বাহিনীর সৈন্যদের হত্যা বা বন্দী করার জন্য ৩০,০০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সেনাবাহিনী। কাজটি কোন ইরানি নারী করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
১৭ যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের একটি “চূড়ান্ত চুক্তি” নিয়ে আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলো।
২০ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিলো ইরান। দেশটি জানালো, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন অই ব্যক্তি।
“অর্থনৈতিক ডি-ডে” ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানালেন, ইরান সরকারের সাথে বাণিজ্য করা যে কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
২২ বিভিন্ন মাধ্যমে, বিশেষ করে সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ইরাক সফরের সময়, ইরাকের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলো ইরান।
২৩ সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিলো ইরান। ফার্স প্রদেশের দক্ষিণে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কারের ঘোষণা দিলো কর্তৃপক্ষ। ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করলো ইরান।
২৪ ইরানি হুকুমতের বিরুদ্ধে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট নামে একটি নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অভিযান চালানোর ঘোষণা দিলেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করবে, সেগুলো বন্ধ করার জন্য প্রতিটি দেশকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ না করলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারে, যার মধ্যে দেশটিকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার থেকে বাদ দেয়ার পদক্ষেপও থাকতে পারে।
২৬ ইরানি হুকুমত ঘোষণা করলো, বিবিসি পার্সিয়ান, ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও রেডিও ফারদাসহ ইরানের বাইরে পরিচালিত বেশ কয়েকটি ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে তাদের “সামরিক নিশানা তালিকা”র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২৭ ইরানি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করলো, যুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর গ্যাসক্ষেত্রটির ৪০% সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
২৮ ইরানি হুকুমতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র। আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরানে বার্ষিক ৫৫ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ২০২২ সালের একটি প্রকল্প পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিলেন রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি। “সামাজিক সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে” এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
৩০ মার্কিন বাহিনী জানালো, তারা লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করলো, হরমুজ প্রণালীর দিকে সমুদ্র মাইন বহনকারী রকেট ছোঁড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আইআরজিসি। আইআরজিসি জানালো, এই হামলায় কয়েকজন ইরানি সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
৩১ আগের দিন লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্দানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করলো ইরান।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ার দায়ে তারানে রহিমি ও ল্যায়লা আবোলহাসানি নামের দুই মহিলা নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো।

সেপ্টেম্বর ১ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সেনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসির লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানালো, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জিরোফত বিমানবন্দরও ছিলো। কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় দুই শিশুসহ ৫ জন নিহত ও ৬৩ জনেরও বেশি আহত হয়।
হরমুজ দিয়ে যাতায়াতের জন্য ১১টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করলো ইরান।
২ ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করার অভিযোগে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো পেরু।
উপসাগরে জ্বালানি পাচারকারী একটি জাহাজ জব্দ করলো ইরান।
৪ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানালো, ইরানি হুকুমতের সাথে লেনদেনের কারণে তুরস্কের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংকাসি আনোনিম শিরকেতি এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ডলারে লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
৫ মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করলো, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাবে তারা আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করলো, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করায় তারা ওই ট্যাংকার ৩টিকে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। এ সময় আইআরজিসি আরও জানায়, তারা অন্য কয়েকটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে হামাদান-সানান্দাজ মহাসড়কে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে ১০ ব্যক্তি নিহত ও ৬ জন আহত।
ইসরায়েলে গিয়ে ছেলের বার মিজভা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কারণে কারাবন্দী এক ইহুদি ইরানি-আমেরিকান নাগরিককে মুক্তি দিলো ইরান। তবে তাঁকে ইরান ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয় নি।
৬ ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারকারীদের জন্য পেট্রলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলো সরকার।
৮ পারুদ জেলায় একটি ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ নিহত হলেন এক বাসিজ কমান্ডার।
ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র।
৯ যুক্তরাষ্ট্র জানালো, তাদের একটি নৌযুদ্ধজাহাজে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানো হলে তার জবাবে তারা ইরানের ৫টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে। এরপর ইরান জর্দান, দুটি মার্কিন জাহাজ ও হরমুজ প্রণালীতে ৮টি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। মার্কিন জাহাজে হামলার বিষয়ে আইআরজিসির দাবি যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র। ইরান জানালো, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ৯টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে নিহত হলেন বাসিজ সদস্য এক সুন্নী ধর্মীয় নেতা।
দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠালো আইএইএ।
১০ ইরানের সাথে জ্বালানিসংশ্লিষ্ট পণ্য পরিবহনকারী বিদেশি জাহাজের পরিবহন ফি মওকুফ করা হলো।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণকাজ চলার বিষয়টি নিশ্চিত করলো আইএইএ।
১২ সারাভানে বন্দুকধারীদের সাথে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত।
১৪ যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামিকে ভিয়েনায় আইএইএর বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে বাধা দিলো অস্ট্রিয়া।
ইরানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হলেন এক জ্যেষ্ঠ সুন্নী ধর্মীয় নেতা।
ইরান সরকারের সাথে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র।
১৬ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ইরানি দূতাবাসের এক কর্মীকে বহিষ্কার করলো সুইডেন। জবাবে ইরানও এক সুইডিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।
১৭ জাতিসংঘের একটি মিশন জানালো, ২০২৬ সালের মিনাব স্কুলে হামলা এবং লামের্দের ক্রীড়া হলে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। একইসাথে, ২০২৫-২৬ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি হুকুমতও মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে বলে মিশনটি জানায়।
ইরানি অর্থায়নকারী বাবাক জানজানির ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হতো।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানি হুকুমতের ‘বিলাসী কেনাকাটা’ সীমিত করার ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র।
১৮ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিলো রাশিয়া ও চীন।
১৯ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যাংক মেল্লাতের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স বাতিল করলো তুরস্ক।
মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরানের একটি আদালত।
১৯ Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026 আইনে সই করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যা আংশিকভাবে তাকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে চীন ও ভারতসহ রুশ তেল ক্রেতাদের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ করে দেয়। আইনের একটি অংশে ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
২০ “কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘণ করে “অবৈধ কর্মকাণ্ডে” জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তেহরানে একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিলো ইরান।
২১ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করলো, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে ইরানি দেশটির প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দেয় নি যুক্তরাষ্ট্র।
২২ সরকারবিরোধী সমালোচকদের মালিকানাধীন ২,১৯১টি ব্যাংক হিসাব ও ৩৯টি যানবাহন জব্দ করলো ইরানের বিচার বিভাগ।
২৩ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। এই প্রথমবার জাতিসংঘের কোনো সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য মার্কিন ভূখণ্ডে পা রাখলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধরত কোন দেশের নির্বাচিত কোন নেতা।
কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করলো, তারা সাউথ পার্স/নর্থ ডোম গ্যাস-কনডেনসেট ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করেছে।
নিয়মকানুন মেনে না চলার কারণ দেখিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক মেল্লি ইরানকে দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিলো।
সিস্তান ও বালুচিস্তানের সারাভানে একটি অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নিহত হলেন আইআরজিসির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন জারিফি।
২৪ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহারের দায়ে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতশাহির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ঘোষণা করলো, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই দেশে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।
২৫ ইরান সরকারের সাথে “(কলম্বিয়ার) নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর” যোগাযোগ থাকার অভিযোগ এনে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ওই দিন থেকে ইরানের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করলো বাগদাদ, নাজাফ, এরবিল, ও সুলায়মানিয়া বিমানবন্দর।
২৬ মার্কাজি প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১১ ব্যক্তি নিহত ও ২৪ জন আহত।
২৯ ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
৩০ মাশহাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ৪ নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান।

তথ্যসূত্র

Abrahamian, Ervand. 2018. A History of Modern Iran. 2nd ed. Cambridge University Press.

Council on Foreign Relations – cfr.

Hartz, Paula R. 2009a. Zoroastrianism. 3rd ed. Chelsea House.
— 2009b. Baha’i Faith. 3rd ed. Chelsea House.

Internet Movie Database (IMDb).

Kheirabadi, Masoud. 2003. Iran. Chelsea House.

MBN.

Murray, Williamson, and Woods, Kevin M. 2014. The Iran-Iraq War: A Military and Strategic History. Cambridge University Press.

Rose, Jenny. 2011. Zoroastrianism: A Guide for the Perplexed. Bloomsbury.

Taheri, Amir. 1985. The Spirit of Allah: Khomeini and the Islamic Revolution. Hutchinson.

The Brookings Institution.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *