পাহলবী ইরান

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Wikimedia Commons.

সাল

১৯২২-২৬ ক্ষমতা সংহত করলেন রেজা খান। শাহেনশাহ (রাজাদের রাজা) খেতাব নিয়ে গদিতে বসলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন পাহলবী রাজবংশ।

১৯২৫-৭৯ পাহলবী ইরান

১৯২৬ পারস্যের প্রথম পাহলবী রাজা হলেন রেজা খান। রেজা শাহ পাহলবী নামে মসনদে আরোহণ করেন।

১৯২৭-৪০ রেজা শাহ নিজের সেক্যুলারাইজেশন প্রচারাভিযান চালু করলেন। মোল্লাদের বিদ্রোহ রক্তাক্ত উপায়ে দমন করা হল, সারা দেশের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব জোরদার করা হল। মহিলাদের হিজাব করা নিষিদ্ধ করা হল, মোল্লাদের দাঁড়ি কামাতে এবং পাগড়ির পরিবর্তে কেপি পরতে বাধ্য করা হল।

১৯৩০ পারস্যে গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন শেকাক গোত্রের কুর্দি সর্দার ইসমাইল আগা সিমকো।

১৯৩৫ পারস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে ইরান রাখা হয়।*
* পার্সিয়া – বাংলায় পারস্য – নামটা গ্রিকদের দেয়া। ইরান নামটা এসেছে আরইয়ানা ভায়েহো থেকে। এর অর্থ হল: “আর্যদের উৎপত্তিস্থল”।

ধর্মীয় পোষাক পরিধানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে মাশহাদের এক মোল্লার অনুসারীরা রেজা শাহের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শুরু করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মসজিদে বোমাবর্ষণ করেন রেজা শাহ।

১৯৩৮ মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, দ্য হিস্ট্রি অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম

১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

১৯৪১ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেজা শাহ অক্ষশক্তির পক্ষাবলম্বন করলে ব্রিটেন আর সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলে দখল করে নেয় ইরান। চাপের মুখে পুত্রের পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন রেজা শাহ ও নির্বাসনে চলে যান। শাহ হিসাবে শপথ নেন রেজা শাহের পুত্র মোহাম্মদ শাহ।

সোলেইমান মির্জা এসকান্দারি প্রতিষ্ঠা করলেন তুদেহ পার্টি।*
* একটি কমিউনিস্ট পার্টি।

১৯৪২ আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনি, কাশফ আল আসরার

১৯৪৫ কাজী মোহাম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান।

১৯৪৬ জানুয়ারি কুর্দিরা ইরানি কুর্দিস্তানে প্রতিষ্ঠা করে মাহাবাদ প্রজাতন্ত্র। সোভিয়েত সহায়তায় প্রায় বছরখানেক টিকে ছিল প্রজাতন্ত্রটি।

ডিসেম্বর সোভিয়েত সৈন্যরা ইরান ছেড়ে চলে গেলে ইরান মাহাবাদ পুনর্দখল করে এবং মাহাবাদ প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটে।

১৯৪৭ মার্চ ৩১ কুর্দি নেতা কাজী মোহাম্মদকে ফাঁসিতে ঝোলাল ইরান।

১৯৪৯ মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ কর্তৃক গঠিত হল ন্যাশনাল ফ্রন্ট। মোল্লাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লা বোরুজের্দি একটি সম্প্রসারিত সেমিনার আয়োজন করলেন। রুহুল্লা এই সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন এবং সক্রিয়তাবাদী উপদলের পক্ষে ছিলেন।

১৯৫০ ইরানের দ্বিতীয় পাহলবি রাজা হলেন রেজা শাহের ছোট ছেলে ও রাজপুত্র মোহাম্মদ রেজা।

১৯৫১ ফেদাইন ইসলাম সংগঠনের এক সদস্যের আততায়ী হামলায় খুন হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী হজ আলী-রাহমারা। নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ। শাহ রাজকীয় অনুমতি প্রদান করলে মোসাদ্দেগ সরকার ইরানের তেল শিল্পের জাতীয়করণ করে। এতে ব্রিটেনের সাথে সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজকীয় নৌবহর। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়া প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেগ দেশটির মোল্লাদের এক উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন পান, যাঁদের অন্যতম আয়াতুল্লাহ কাশানি। এসময় ইরানের রাজনীতিতে মোল্লাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

১৯৫২ মোসাদ্দেগ ও শাহের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এতে আয়াতুল্লা কাশানি প্রথমে মোসাদ্দেগের পক্ষে ছিলেন। পরে পক্ষত্যাগ করে শাহের শিবিরে চলে যান।

১৯৫৩-৫৪ কমিউনিস্ট তুদেহ পার্টি রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে। শাহ-মোসাদ্দেগ দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত মাত্রায় এসে পৌঁছাল। দেশ ছাড়লেন শাহ। সিআইএ-পরিচালিত এক ক্যুদেতায় মোসাদ্দেগ সরকারের পতন। ফজলুল্লাহ জাহেদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হল। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলবির সাময়িক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।

১৯৫৫ শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ, ফরাসি, ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাথে একটা নতুন তেল চুক্তি সম্পাদিত হল। গঠিত হল সাভাক, শুরু হল কমিউনিস্ট শিকার। সেনাবাহিনীতে ৬০০ জন সোভিয়েতপন্থী সামরিক কর্মকর্তার একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হল।

১৯৫৯ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের সাথে একটা সামরিক চুক্তি সই করলেন শাহ, যাকে শাহ তাঁর নিজের সরকারকে দেয়া মার্কিন গ্যারান্টি বলে ধরে নিলেন।

১৯৬০-৬৯ শাহ তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা নিরঙ্কুশীকরণের লক্ষ্যে বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ণ চালাতে গোপন পুলিশ সাভাকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

১৯৬০ শাহ ভূমি সংস্কারের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়ন করার চেষ্টা করলে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লা বোরুজের্দি এর বিরোধিতা করলেন। এই বিরোধিতায় তিনি অন্য মোল্লাদের সমর্থন পেলেন। চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকারকে আইনটি রদ করে দিতে বললেন শাহ।

আয়াতুল্লা রহুল্লা খোমিনি, তৌজিহ আল মাসায়েল (এক্সপ্লিকেশন অফ প্রবলেমস)।

১৯৬১ প্রতিষ্ঠিত হল ফ্রিডম মুভমেন্ট ইন ইরান।

১৯৬১-৬২ শাহ বিরোধী বাজারিরা খোমিনির সাথে যোগাযোগ করল। বোরুজের্দির মৃত্যুতে উত্তরাধিকারের লড়াই শুরু হয়ে গেল। তাতে জিতলেন আয়াতুল্লা আবদুল্লা হাকিম তাবাতাবা’ঈ। গ্র্যান্ড আয়াতুল্লার খেতাব নিলেন রুহুল্লা খোমিনি।

১৯৬৩ মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডির চাপে শাহের ‘শ্বেত বিপ্লব’। ভূমি সংস্কারসহ নানা ধরণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণের কর্মসূচি হাতে নেয়া হল। মোল্লা আয়াতুল্লা খোমিনী শ্বেত বিপ্লবের বিরোধিতা করলেন। চাষীদের মধ্যে জমি পুনর্বন্টন, নারী মুক্তি, এবং স্থানীয় সরকারের চাকুরিতে অমুসলিমদের নিয়োগ দেয়ার বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শুরু করলেন। খোমিনীকে গ্রেপ্তার করে তেহরানে নিয়ে যাওয়া হল। এতে তেহরান ও অন্য বড় শহরগুলায় বেশ বড় আকারের দাঙ্গা দেখা দিল। ‘খোমিনি জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দেয়া অনেকে খুন হলেন।

১৯৬৪ খোমিনিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হলেও তাঁকে তেহরানে গৃহবন্দী করে রাখা হল। পরে তাঁকে কোমে ফিরে আসতে দেয়া হয়। যেখানে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। ইরানে মার্কিন সেনাদের প্রতি কূটনৈতিক সুরক্ষা সম্প্রসারিত করা একটি আইনকে তিনি সমালোচনার জন্য বেছে নেন। ফলে, তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। তুরস্কে নির্বাসিত হন খোমিনী।

১৯৬৫ তেহরানে খোমিনীর সহযোগীদের হুকুমে আততায়ী হামলায় খুন হলেন ইরানের প্রিমিয়ার হাসান আলী-মনসুর। তাঁর স্থলে প্রধানমন্ত্রী হলেন আমির আব্বাস হোভায়দা। ইরানের শাহবিরোধী বামপন্থী ছাত্রদের দ্বারা গঠিত হল মুজাহিদিন-ই খালক

১৯৬৬ নিজের ধর্মীয় পোশাক পরিধান করা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন খোমিনী। ইজমির, আঙ্কারা, ইস্তানবুল, আর বুরসায় কয়েক মাস বাস করার পর ইরাকের জন্য তুরস্ক ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি লাভ করলেন। পবিত্র শহর নাজাফে থিতু হলেন খোমিনী।

১৯৬৭ জুন ৫-১০ তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, জুন যুদ্ধ বা ছয় দিনের যুদ্ধ নামেও পরিচিত। এই যুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে আরব রাষ্ট্রগুলোর পরাজয় সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। খোমিনীর সাথে সাক্ষাৎ করেন আয়াতুল্লা মোহাম্মদ-বাকের সদর এবং ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে ইসলামি সংগ্রাম শুরু করার পরামর্শ দেন।

১৯৬৮ খোমিনী তাঁর সেমিনারি পুনরায় চালু করেন। নতুন ছাত্রদের আকৃষ্ট করতে থাকেন। র‍্যাডিকাল হয়ে ওঠার সাথে সাথে তাঁর সার্কেলও বড় হতে থাকে।

১৯৬৯ ইরানি মাওবাদীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল অর্গানাইজেশন অফ কমিউনিস্ট রেভল্যুশনারিজ (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট)।

দারিউশ মেরজাই, দ্য কাউ

১৯৬৯-৭১ শাহের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে ইরানিদের প্রতি বারংবার আহবান জানালেন খোমিনী, কিন্তু এসময় তিনি উপেক্ষিত হন। পারসিক সাম্রাজ্যের ২৫০০ বছর উদযাপনকে সুনির্দিষ্টভাবেই খারিজ করেন খোমিনী। তেহরানে তাঁর সহযোগীরা নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটান ও গোপন সেল তৈরি করতে শুরু করেন।

১৯৭০-৭৯ ইরানি বিপ্লবের দশক। শুরুতে বিপ্লবের কোন ইসলামি এজেন্ডা ছিল না। জাতীয়তাবাদী, মার্কসবাদী, আর নারীবাদীরা বিপ্লবের সম্মুখভাগে ছিল।

১৯৭২-৭৬ খোমিনীর লেকচার নাজাফে আরো বেশি বেশি করে ছাত্রদের আকৃষ্ট করতে লাগল। শাহবিরোধী ছাত্ররা ইওরোপ ও যুদ্ধরাষ্ট্র থেকে তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন।

আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনী, ভেলায়েত-ই-ফাকিহ (দ্য রিজেন্সি অফ দ্য থিওলজিয়ান), প্রথম সংস্করণ।
আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনী, হুকুমত-ই-এসলামি (ইসলামি হুকুমত)।

১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১ তিন খণ্ডে প্রকাশিত হল মেরি বয়েসের আ হিস্ট্রি অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম

১৯৭৫ উত্তর ইরাককে আরবায়িত করার উদ্যোগ নিল বা’থিরা। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটি থেকে কুর্দিদের তাড়িয়ে দিয়ে আরবদের বসতিস্থাপন করল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মদতে বা’থিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ইরাকি কুর্দিরা। আলজিয়ার্স চুক্তিতে সই করল ইরান ও ইরাক। ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন দেয়া বন্ধ করল মার্কিনী-ইরানিরা। কুর্দি বিদ্রোহের অবসান। মোস্তফা বারজানিকে প্রতিক্রিয়াশীল আখ্যা দিয়ে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি) থেকে বেরিয়ে আসলেন জালাল তালাবানি, গঠন করলেন প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান (পিইউকে)।

১৯৭৬ ইরানি মাওবাদীদের অর্গানাইজেশন অফ কমিউনিস্ট রেভল্যুশনারিজ (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) থেকে গঠিত হল ইউনিয়ন অফ ইরানিয়ান কমিউনিস্টস (সারবেদারান)।

১৯৭৭ জানুয়ারি-জুলাই ইরানের সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীরা শাহের হাতে ক্ষমতা সঞ্চিত হওয়ার সমালোচনা করে এক গুচ্ছ খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।

অক্টোবর শাহ সরকারের সমালোচনা করে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তেহরানস্থ গ্যেটে ইনস্টিটিউটে দ্য ইরানিয়ান রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ১০ রাত ধরে চলা একটি কবিতা উৎসবে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
২৩ ইরাকে নির্বাসিত আয়াতুল্লা খোমিনীর বড় ছেলে মোস্তফা খোমিনী ৪৭ বছর বয়সে নাজাফে অজ্ঞাত কারণে মারা যান।

নভেম্বর ১৫-১৬ যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে শাহকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানানো হল। এ সময় শাহের বিরুদ্ধে প্রবাসী ইরানি ছাত্ররা তুমুল প্রতিবাদ করেন। পুলিশ প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

ডিসেম্বর ৩১ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সংক্ষিপ্ত ইরান সফর। এ সময় তিনি শাহের নামে টোস্ট করেন। “বিশ্বের সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটিতে স্থিতিশীলতার এক দ্বীপ” বলে ইরানের প্রশংসা করেন।

প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নতুন মার্কিন প্রশাসন ইরানের শাহের ক্ষমতাচ্যুতি চায় দাবি করে ইয়াজদি খোমিনীকে শাহবিরোধী প্রচারাভিযান জোরদার করার পরামর্শ দিলেন। খোমিনী শাহকে ‘উৎখাত’ করার ফরমান জারি করলেন। শাহ আমেরিকা ও কার্টার ইরান সফর করলেন।

১৯৭৮ জানুয়ারি ৬ তেহরানের দৈনিক এত্তেলা’আত পত্রিকা খোমিনীর মানহানি করা একটা জাল চিঠি প্রকাশ করল। পরে জানা যায়, চিঠিটা শাহের হুকুমে লেখা হয়েছিল।

জানুয়ারি ৯ খোমিনীর মানহানির প্রতিবাদে কোমের মূল বাজার, যেখানে ইরানের প্রধান মাদ্রাসাগুলো অবস্থিত, বন্ধ ঘোষণা করা হল। রাজতন্ত্রের প্রতীকগুলোয় আক্রমণ করলেন কয়েক হাজার প্রতিবাদী। নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৫ ব্যক্তিকে খুন করে।

ফেব্রুয়ারি ১৮ শিয়া রীতিরেওয়াজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে, কোম প্রতিবাদীদের মৃত্যুর ঠিক চল্লিশতম দিনে ইরানের বিভিন্ন শহরে শোক পালন করা হল। তাবরিজে একজন ছাত্র প্রতিবাদীকে খুন করা হল। যা পুরো দেশ জুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দিল।

মার্চ-মে ইরানের তিন ডজন শহরে প্রতিবাদ, নিপীড়ন, সহিংসতা এবং শোক চক্রাকারে চলতে থাকল।

জুন ৭ সাভাক প্রধান জেনারেল নেমাতুল্লা নাসিরিকে বরখাস্ত করলেন শাহ। সাভাকের নতুন প্রধানের প্রাথমিক কাজগুলোর একটি ছিল ৩০০ কারাবন্দী মোল্লাকে মুক্তি দেয়া।

জুলাই ২০ সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোল্লার মৃত্যুতে মাশহাদ জুড়ে প্রতিবাদ দেখা দিল। এ সময় সেখানে ও অন্যান্য জায়গায় বেশ কিছু মানুষ খুন হন।

আগস্ট ৯-১০ এক মোল্লার মৃত্যুতে ইস্ফাহানে দাঙ্গা বেঁধে গেল। দ্রুত তা সিরাজ, কাজভিন, তাবরিজ, আবাদান, ও আহওয়াজ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। সিরাজের শিল্প উৎসব বাতিল করা হল। এক হিসেবে, এ সময় ১০০ ব্যক্তি খুন হন। ইস্ফাহানে জারি করা হল সামরিক আইন।
১৯ আবাদানের রেক্স সিনেমায় বাইরে থেকে তালা আটকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ৪৭৭ জন ইরানিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময়, ইরানের বিরোধী দলগুলো এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের জন্য শাহের সাভাককে দায়ী করে। বিপ্লবের পর এক ইসলামপন্থী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
২৭ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জামশেদ আমুজেগার। নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন জাফর শরিফ-ইমামি। দেশবাসীর ক্ষোভ কমানোর জন্য কিছু সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিলেন।

সেপ্টেম্বর সামরিক আইন জারি করা হল।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে। শাহ সামরিক আইন জারি করার পরদিন সকালে তেহরানের জালেহ স্কয়ারে বিশাল এক প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে অন্তত ১০০ জনকে খুন করে। জখম হন বেশুমার। মূলত এই ম্যাসাকারের ভেতর দিয়েই শাহের রাজনৈতিক হায়াত ফুরিয়ে গেছিল। তাঁর পতন হয়ে উঠেছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অক্টোবর ৩ শাহের দরখাস্তে খোমিনীকে বিতাড়িত করল ইরাক সরকার। তিনি কুয়েতে ঢুকতে চেয়ে বাধা পেলে ফ্রান্সে চলে গেলেন এবং প্যারিসের এক শহরতলী নুফ্লে-লে-শাতোয় থিতু হলেন। এতে খোমিনীর একটা লাভ হল: তিনি যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছিলেন, প্যারিসে সহজেই সেটা পেলেন।

নভেম্বর ৬ বিরোধী দলগুলোর সাথে একটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের চেষ্টা চালালেন শাহ। খোমিনীর নারাজির কারণে এই প্রয়াস ভেস্তে যায়। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শরিফ-এনামি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন জেনারেল গোলামরেজা আজহারি। জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারে এলেন শাহ। ওয়াদা করলেন অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, এবং ভুলত্রুটি শুধরে নেয়া হবে। জানালেন যে, তিনি “বিপ্লবের স্বর শুনতে পেরেছেন।”

ডিসেম্বর ৬ শাহের প্রতি “আস্থা’ ব্যক্ত করার মাত্র হপ্তাখানেক পরে, সুর বদলে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, “আমরা ব্যক্তিগতভাবে এটাই পছন্দ করব যে, ইরানের রাজনীতি শাহ প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। তবে সেই সিদ্ধান্তটা ইরানের জনগণকেই নিতে হবে।”
১০-১১ শাহের অপসারণ আর আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে লক্ষ লক্ষ ইরানি দেশ জুড়ে প্রতিবাদ শুরু করলেন।
২৯ জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক ও শাহের দীর্ঘদিনের সমালোচক শাপুর বখতিয়ারকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিলেন শাহ।

ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খোরাসানে রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ২৫,০০০ মানুষের মৃত্যু, এই ভূমিকম্পে প্রাচীন শহর তাবাস পুরোপুরি ধবংস হয়ে যায়।

১৯৭৯ জানুয়ারি ১২ প্যারিসে, ক্ষমতা রূপান্তর প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করার জন্য একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করলেন খোমিনী।
১৬ শাহ তাঁর পরিবার নিয়ে মিসরে পালিয়ে গেলেন। “ছুটি কাটানোর” দোহাই দিয়ে। দেশ ছাড়ার আগে তিনি বখতিয়ারকে বলে যান, “আমি দেশটাকে আপনার, আপনার আর খোদার হাওলায় রেখে গেলাম।”

তথ্যসূত্র

Internet Movie Database (IMDb).

Maloney, Suzanne, and Razipour, Keian. 2019. “The Iranian revolution—A timeline of events.” The Brookings Institution, January 19.
https://www.brookings.edu/articles/the-iranian-revolution-a-timeline-of-events/

Rose, Jenny. 2011. Zoroastrianism: A Guide for the Perplexed. Bloomsbury.

Taheri, Amir. 1985. The Spirit of Allah: Khomeini and the Islamic Revolution. Hutchinson.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

One Reply to “পাহলবী ইরান”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *