সাসানীয় সাম্রাজ্য

Spread the love

Featured Artwork: “Qaran Unhorses Barman, a folio from the Shahnameh of Shah Tahmasp, Tabriz, about 1523 – 35. The Sarikhani Collection, I.MS.4025.”

World History Encyclopedia.

সাল

২২১ পার্থীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন পার্সিসের রাজা আরদাশির।

২২৪ পার্থীয়দের শেষ রাজাকে উৎখাত করলেন আরদাশির। প্রবর্তন করলেন শাহেনশাহ উপাধি, অর্থ: “রাজাদের রাজা”। প্রতিষ্ঠা করলেন সাসানীয় সাম্রাজ্য।

২২৪-৬৫১ সাসানীয় সাম্রাজ্য

জরাথুস্ট্রবাদ সাসানীয় পারস্যেও দরবারি ধর্মের মর্যাদা পায়। অগ্নি মন্দিরগুলো তাদের সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছায়। সাসানীয় পারস্যে জরবানবাদ পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হয়। কিন্তু হাখমানেশি আর পার্থীয়দের সাথে সাসানীয়দের একটা তাৎপর্যপূর্ণ ফারাক ছিল। পূর্বসুরীদের মত ধর্ম প্রশ্নে মোটেও উদার ছিলেন না সাসানীয়রা। সাম্রাজ্যে অন্য সব ধর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল।

পার্থীয়দের মত সাসানীয় রাজাদের রাজধানীও ছিল তেসিফন। প্রাচীন পারস্যের শহরগুলোর বাসিন্দাদের জীবনমানের বিকাশ ঘটানো এবং কৃষি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সাসানীয়রা বিখ্যাত হয়ে আছেন। সাসানীয়দের উত্থানপতন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, Daryaee (2023) ও Pourshariati (2017).

২২৪-২৪০ প্রথম আরদাশিরের রাজত্বকাল।*
* সাম্রাজ্যিক সংস্কারক ছিলেন। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটান। তাঁর রাজত্বকালে পারস্য রোমের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

২৩০ মেসোপটেমিয়ার উচ্চভূমির রুমি-নিয়ন্ত্রিত অংশে হামলা চালালো সাসানীয় বাহিনী। নিসিবিস দখলের চেষ্টা করলো। ব্যর্থ হল।

২৩৭-৩৮ হাররান ও নিসিবিস দখল করলেন প্রথম আরদাশির।

২৪০-২৭০ প্রথম শাপুরের রাজত্বকাল।*
* তাঁর রাজত্বকালে সাসানীয় সাম্রাজ্য উৎকর্ষের শীর্ষে ছিল।

২৪১সাসানীয় আরব। হাত্রানদের রাজ্যকে সাসানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল। প্রথম শাপুরের রাজ্যাভিষেক।

২৪২-৭৩ পারস্য সফর করলেন পয়গম্বর মানি।

২৫২ আর্মেনিয়া রাজ্যে হামলা চালাল সাসানীয় সাম্রাজ্য।

২৫২-৫৬ রোমক সাম্রাজ্যে অভিযান চালালেন প্রথম শাপুর।

২৬০ এডেসায় রোমক সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে পাকড়াও করলেন প্রথম শাপুর।

২৬১ অ্যান্টিওক লুঠ করে বিজয়ীর বেশে দেশে ফেরা পারসিক সেনাদের থামালেন পালমিরার শাসক ওডেন্যাথাস। শাপুরের অনুপস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন করলেন এবং সাসানীয়দের ফোরাত নদীর ওপারে তাড়িয়ে দিলেন। তবে তিনি তেসিফন দখল করতে ব্যর্থ হন এবং সাসানীয়রা বিজয়ী হয়।

২৭১ প্রথম হরমিজদের রাজ্যাভিষেক।

২৭৩ প্রথম বাহরামের রাজ্যাভিষেক।

৩০১-৪০০ পূর্ব আরবে সাসানীয় সাম্রাজ্যের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ল।

৩০৯-৭৯ দ্বিতীয় শাপুরের রাজত্বকাল।*
* মৌখিক ঐতিহ্যনির্ভর আবেস্তাকে লিপিবদ্ধ করার ওয়াদা করেন।

৩৩০-১৪৫৩ পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কুরআন শরিফের ৩০ সংখ্যক সূরার নাম আর-রুম। সেখানে রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে। যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল। আজকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য পদ দুটি সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, পূর্ব রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিকরা নিজেদের রুমি বিবেচনা করতেন। গ্রিক ভাষায় কথা বললেও আচারব্যবহারে রুমি ছিলেন। তারা কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে বাইজেন্টাইন বলেন নি। কিন্তু অতিকথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাইজেন্টাইন। শব্দটি ব্যবহারিক কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আজ আর এই ভুল শোধরানো সম্ভব নয়।

৩৬৮-৩৬৯ আর্মেনিয়া রাজ্যের একাধিক শহর ধবংস করল সাসানীয় সাম্রাজ্য।

৩৮৭ আর্মেনিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে রাজি হলেন রোমক সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস ও সাসানীয় সম্রাট তৃতীয় শাপুর।

৪০১-৫০০ আরবের বনু ঘাসসান গোত্র বাইজেন্টাইনদের মক্কেলে পরিণত হল।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত। এখানে বাইজেন্টাইন বলতে সাম্রাজ্যটির শাসকদের বোঝাবে। কুরআন শরিফে রুম বলতে এই সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে; যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল, বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

৪২৮-৬৫২ মার্জপানাত। আর্মেনিয়ার অর্ধেকটা এ সময় সাসানীয়রা শাসন করছে। ভাইসরয় হিসেবে স্থানীয়দের নিয়োগ দেয়া হয়।

৪৫১ আভারআয়িরের সমর। আরমানি ও সাসানীয় বাহিনীগুলোর মধ্যে।

৪৮৪ ভারসাকের চুক্তি। সাসানীয় সাম্রাজ্য ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সই হয়। যা শেষোক্তদের অধিকতর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় চিন্তার স্বাধীনতা দেয়।

৫০১-৬০০ আরবে এ সময় সাসানীয় আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মক্কেলদের মধ্যে ভয়াবহ আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে।

৫০৩ এডেসা দখল করে নেয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন সাসানীয় সম্রাট কাভাদ।

৫৩১-৫৭৯ প্রথম খসরুর রাজত্বকাল। তাঁর শাসনামলে আবেস্তা লিখিত রূপ পায়। এভাবে ধর্মটি প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র লাভ করে।

৫৪৪ এডেসা দখল করে নেয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন সাসানীয় সম্রাট প্রথম খসরু।

৫৭০ মক্কার কুরাইশ গোত্রে জন্ম নিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৫৭৫ সাসানীয় সাম্রাজ্য বর্তমান ইয়েমেন দখল করে নিল।

৫৯০-৬২৮ দ্বিতীয় খসরুর রাজত্বকাল।

৬০২ সাসানীয়রা তাঁদের মক্কেল লাখমি সর্দারকে খুন করল।

৬০২-২৮/৬০৭-২৭ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে দ্বিতীয় খসরুর দীর্ঘকালীন যুদ্ধ। এর ফলে সাসানীয় সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে যায়। গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

৬০৫ কাবা পুনর্নিমাণ করার বছর, অংশ নিয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৬১০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নবুয়ত লাভ ও কুরআন নাজিলের সূচনা।

৬১৪ সাসানীয়রা আরবের উত্তর সীমান্ত দখল করে নিল এবং বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করল।

৬১৪-২৮ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে সাসানীয় দখলদারিত্বের কাল।

৬২২ জুলাই ১৬ মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। আরবিতে মদিনা অর্থ: “শহর।” মদিনা শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। এর অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এবছর থেকে শুরু হয়।

৬২৪ বদরের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে আরব মুসলমানদের জয়লাভ।

৬২৫ উহুদের যুদ্ধ। আরব মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কার ক্ষমতাশালীদের জয়লাভ।

৬২৭ নিনেভেতে সাসানীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটা নির্ধারকমূলক বিজয় অর্জন করলেন বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

খন্দকের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীরা ইয়াসরিব ঘেরাও করার চেষ্টা চালাল। আরব মুসলমানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হল।

৬২৮-৩২ সাসানীয় সাম্রাজ্যের গৃহযুদ্ধ

৬২৮ হুদায়বিয়ার সন্ধি। মক্কার ক্ষমতাশালী ও মুসলমানদের মধ্যে। খায়বার বিজয়। এই যুদ্ধ বেদুঈনদের মধ্যে মুসলমানদের জনপ্রিয়তা বাড়ায়, বহু বেদুঈন এ সময় ইসলাম গ্রহণ করেন।

৬২৯ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে মুসলমানদের মক্কা গমন ও ওমরা পালন। মুত’আর যুদ্ধ। বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে জর্দান নদীর পূর্বদিকের একটি গ্রাম দখল করার চেষ্টা করলেন মুসলমানরা, কিন্তু ব্যর্থ হলেন।

৬৩০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে আরব মুসলমানদের মক্কা বিজয়। হুনাইনের যুদ্ধ, বেদুঈন হাওয়াজিন গোত্রের বিরুদ্ধে একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয় অর্জন করলেন আরব মুসলমানরা। তায়েফ শহর ও থাকিফ গোত্রের সাথে জোট গঠন করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। জেরুসালেমে পবিত্র ক্রুশকাঠের অংশবিশেষ পুনর্বহাল করলেন রোমক সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

৬৩২ বিদায় হজ। হযরত মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যু।

৬৩২-৬১ রাশিদুন খেলাফত

৬৩২-৫১ তৃতীয় ইয়াজদেগার্দের রাজত্বকাল।

৬৩২-৩৪ প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের শাসনকাল।

৬৩৩ সাসানীয় সাম্রাজ্যের মসনদে বসলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ।

৬৩৪-৪৪ দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাবের শাসনকাল।*
* তিনি বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যভুক্ত ভূখণ্ডগুলো মুসলমানদের অধিকারে আনার একটি সফল পরিকল্পনা করেন।

৬৩৪ আল-জিসরের সমর। মুসলমানদের ওপর সাসানীয়দের জয়লাভ। আরব বাহিনীকে কচুকাটা করলেন বাহমান জাধুইয়া ও জালিনুস।

৬৩৫ রাশিদুন খেলাফতের দামিশক জয়।

৬৩৫-৪১ রাশিদুন খেলাফতের জেরুসালেম, ত্রিপোলি, অ্যান্টিওক, ও মিসর জয়।

৬৩৬ নভেম্বর কাদিসিয়ার সমর

৬৩৭ রাশিদুন খেলাফতের হাতে তেসিফনের পতন। পালিয়ে রাইয়ে আশ্রয় নিলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ।

রাশিদুন খেলাফতের লেভান্ত* জয়। অঞ্চলটি থেকে বাইজেন্টাইনদের বের করে দেয়া হল।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

৬৪২ নেহাওয়ান্দের সমর

৬৪২-৬৫১ তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ নিজ রাজত্ব রক্ষার জন্য সেনা সমাবেশ করার চেষ্টাকালে রাশিদুন খেলাফতের বাহিনীর আক্রমণের মুখে পালিয়ে যান।

৬৪৪ আবু লুলু ফিরোজ নামের এক পারসিক গোলামের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব।

৬৪৪-৫৬ তৃতীয় রাশিদুন খলিফা উসমান ইবনে আফফানের শাসনকাল।

৬৫০ খলিফা উসমানের উদ্যোগে কুরআন শরিফের একটি মান সংস্করণ প্রস্তুত করা হল। এটি আল-মুশহাফ আল-উসমানি নামে পরিচিত। বাকি সব সংস্করণ ধ্বংস করে ফেলা হল।

৬৫১ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ। সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন। পারস্য জয় করল রাশিদুন খেলাফত।

তথ্যসূত্র

Daryaee, Touraj. 2023. Sasanian Persia: The Rise and Fall of an Empire. 2nd ed. I. B. Tauris.

Hoyland, Robert G.. 2014. In God’s Path: the Arab Conquests and the Creation of an Islamic Empire. Oxford University Press.

Pourshariati, Parvaneh. 2017. Decline and Fall of the Sasanian Empire: The Sasanian-Parthian Confederacy and the Arab Conquest of Iran. Paperback edition. I. B. Tauris.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

One Reply to “সাসানীয় সাম্রাজ্য”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *