Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Image: The Nations Online Project.

পূর্বসাল

৩৬০০ সুমেরীয়রা প্রাচীন উরুক শহরে লেখালিখি আবিষ্কার করল। ইতিহাসের সূচনা হল। ইতিহাসের এই প্রথম লেখাগুলো সাহিত্যসংক্রান্ত ছিল না; ছিল ধারকর্জের হিসাব, মানুষের হাতে মানুষের বন্দী হয়ে যাওয়ার দলিল।

৩৪০০ প্রাচীন মেসোপটেমীয়* শহরগুলোর শাসক হয়ে উঠলেন পুরোহিতরা।

* * ‘দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান’। মেসোপটেমিয়া ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর গ্রিকদের দেয়া নাম। এই দুই নদী হল দজলা ও ফোরাত।

৩০০০-২৯০০ দজলা নদীর পূর্ব তীরে মারি নগরীর উত্থান।

২৯০০-২৩৩৪ সুমেরের আদি রাজতান্ত্রিক পর্ব।

২৪০০ আদিতম কয়েকটি সুমেরীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এসময় মেসোপটেমিয়ায় অভিবাসিত হন আমোরীয় গোষ্ঠী।

২৩৫০ মেসোপটেমীয় নগররাষ্ট্র লাগাশের রাজা উরুকাগিনা একগুচ্ছ বিধিবিধান প্রণয়ন করলেন, যা শাসকের ক্ষমতাকে সীমিত করার আদিতম পদক্ষেপগুলোর একটি।

২৩৩৪ মেসোপটেমিয়া শাসন করতে শুরু করলেন আক্কাদের সারগন। সারগন দুনিয়ার প্রথম সম্রাট বলে বিবেচিত হন। ২২১৮ পূর্বসাল পর্যন্ত আক্কাদীয়রা শাসন করবে মেসোপটেমিয়া।

২৩৩০ উর নগরীতে একটা ধবংসলীলা চালালেন আক্কাদের সারগন।

২২৮৫-৫০ এসময় মেসোপটেমিয়ায় বাস করছেন পৃথিবীর প্রথম কবি। নাম তাঁর এনহেদুয়ান্না। দেবী ইনান্নাকে নিয়ে দুটি স্তোত্র লিখেছিলেন তিনি।*

* সুমেরীয়রা তাঁকে এই নামেই চিনত। আক্কাদীয় আর অ্যাসিরীয়রা চিনত ইনান্না নামে। ইনিই ফিনিশীয়দের আসতার্তে আর গ্রিকদের আফ্রোদিতি।

২২১৮-২০৪৭ সুমেরে গুতীয় পর্ব।

২১৫০- ২০০০ নব্য সুমেরীয় পর্ব।

২১৫০-১৪০০ এসময়ই কখনো রচিত হয় সুমেরীয় মহাকাব্য গিলগামেশ। এই মহাকাব্যে একটি মহাপ্লাবনের কথা বলা আছে। যা সেমিটিক ধর্মগুলোতে বর্ণিত মহাপ্লাবনের ঐতিহাসিক উৎস।

২১১২ উরের তৃতীয় রাজবংশের শাসন শুরু হল।

২১০০ উর, এরিদু, উরুক, আর নিপ্পুর শহরগুলোতে মেসোপটেমিয়ার প্রথম জিগুরাতগুলো নির্মিত হয়। উরুক শহরে এসময় রাজত্ব করছেন উতু-হেগাল। তৈরি হচ্ছে প্রথম সুমেরীয় রাজাদের তালিকা। এসময় থেকে ২০৫০ সালের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে রচিত হল উর-নাম্মুর বিধান।

২০৮৩-৫০ মেসোপটেমিয়ার অন্ধকার যুগ।

২০৫৫-৪৭ সুমেরীয় ও আক্কাদীয় নগরগুলোতে উতু-হেগালের রাজত্ব।

২০৪৭-৩০ সুমেরে উর-নাম্মুর রাজত্ব।

২০৪৭-১৭৫০ এই কালপর্বটি ‘সুমেরীয় রেনেসাঁ’-র সময়কাল বলে পরিচিত।

২০৩৮ সুমেরের মহাপ্রাচীর নির্মাণ করলেন উরের রাজা শুলগি।

২০০৪ এলামীয়দের হাতে উৎখাত হল উরের তৃতীয় রাজবংশ।

২০০৪-১৫৯৫ পুরনো বাবেলীয় পর্ব।

২০০০ মেসোপটেমিয়ায় পোষ মানানো ঘোড়ার ব্যবহার শুরু হল।

২০০০-১৬০০ মেসোপটেমিয়ায় আমোরীয় পর্ব।

১৯০০ আশুর অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল আশুর। সেমিটীয় একেশ্বরবাদী বিশ্বাসে বিশেষ গুরুত্ব রাখে আশুর। বাইবেলে বলা হয়েছে, নূহ নবীর পুত্র শেমের পুত্রের নাম আশুর, মহাপ্লাবনের পর যিনি নির্মাণ করেন আশুর নগরী।*

* এই বিশ্বাসের পক্ষে কোন ঐতিহাসিক-প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই।

১৯০০-১৪০০ মেসোপটেমিয়ার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের বাণিজ্যের সমৃদ্ধির কাল।

১৮৯৪ বাবেলে প্রতিষ্ঠিত হল আমোরীয় রাজবংশ।

১৭৯৫-৫০ বাবেলে হাম্মুরাবির শাসন।

১৭৯২ বাবেলের দেয়ালগুলো নির্মাণ করলেন রাজা হাম্মুরাবি।

১৭৭২ হাম্মুরাবির বিধান।

১৭৬০-৫৭ মারি নগরী ধবংস করে দিলেন রাজা হাম্মুরাবি।

১৭৫০ এলামীয় আগ্রাসন ও আমোরীয় অভিবাসনের মধ্য দিয়ে সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটল।

১৬৮০ হুররীয়দের এশিরিয়া দখল।

১৫৯৫ হিত্তীয়দের রাজা প্রথম মার্সিলি কর্তৃক বাবেলের ধবংসসাধন। পুরনো বাবেলীয় পর্বের অবসান ঘটল। বাবেলের অন্ধকার যুগের সূচনা হল।

১৫৫০ প্রতিষ্ঠিত হল হুররীয় রাজ্য মিত্তানি।

১৫০০ মিত্তানি রাজ্যের উত্থান।

১৪৭৫ বাবেলে ক্ষমতায় এল কাসসীয়রা।

১৪৭২ মিত্তানিরা অ্যাসিরিয়াকে নিজ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিল।

১৪১৫ আমার্না যুগের সূচনা।

১৪০০ মিত্তানিদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল অ্যাসিরিয়া।

১৩৫০ মিত্তানি রাজ্য এসময় সমৃদ্ধির শীর্ষ চূড়ায় আছে।

১৩৫০-১২৫০ হিত্তীয় সাম্রাজ্য এসময় সমৃদ্ধির শীর্ষচূড়ায় আছে।

১৩৪৪-২২ হিত্তীয়দের রাজা প্রথম সুপ্পিলুলিউমা মিত্তানি রাজ্যের রাজধানী ওয়াশুকান্নি ধবংস করে দিলেন এবং দ্বিতীয় আরতাতামাকে পুতুল হিসাবে গদিতে বসালেন।

১৩২১ পশ্চিম মিত্তানি জয় করে নিল হিত্তীয়রা।

১২৪৪-৮ অ্যাসিরীয় রাজা প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তার রাজত্বকাল।

১২২০ বাবেল এসময় অ্যাসিরীয়দের নিয়ন্ত্রণে আছে।

১১৫৭ এলামীয়রা কাসসীয়দের উৎখাত করে বাবেলের নিয়ন্ত্রণ নিল।

১০৮০ মেসোপটেমিয়ায় আরামীয়দের আগ্রাসন।

১০০০ চালদীয়রা দখল করে নিল উর।

১০০০-৮০০ পারসিক ও মিদীয় গোষ্ঠী পারস্যে অভিবাসিত হল।

৮৫৩ বাবেলের রাজারা এশিরীয়দের সামরিক সহায়তায় ক্ষমতায় আছেন।

৭৫০-৭০০ জাগরোস পর্বতমালার ওপর বসবাসকারী মিদীয় গোষ্ঠীর ওপর অ্যাসিরীয় সম্রাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৭৪৫ অ্যাসিরীয় সম্রাট দ্বিতীয় টিগলাথ পিলেসার বাবেলের রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাবেলের ওপর অ্যাসিরীয় শাসন চাপিয়ে দিলেন।

৭৩৪ চালদীয়রা দখল করে নিল বাবেল।

৭২২-৫ দ্বিতীয় সারগনের শাসনামল, এসময়য় অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য তার সমৃদ্ধির শীর্ষচূড়ায় আছে।

৬৭০ মিদিয়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাল অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য।

৬১২ মিদীয় আর বাবেলীয়রা অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী নিনেভে ধবংস করে দিল, এর মধ্য দিয়ে অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের শুরু।

৬০৮ অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের পতন।

৬০৫-৫৬২ বাবেলের রাজা হলেন দ্বিতীয় নেবুশেডনেজার।

৫২৯ পারস্যের রাজা খসরুর হাতে বাবেলের পতন ঘটল।

৫০০-৩৩০ এসময় মেসোপটেমিয়া শাসন করছেন পারস্যের আকামেনীয় সম্রাটগণ।

৪৮৫ পারস্যের রাজা জেরজেস বাবেলকে ধবংস করে দিলেন।

৩২৩-৩১ মেসোপটেমিয়ায় হেলেনীয় যুগ।

৩১২ সেকান্দার শার সেনাপতি সেলুকাস বাবেল জয় করলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন সেলুসীয় রাজবংশ। ৬৩ পূর্বসাল পর্যন্ত শাসন করেছে এই রাজবংশ।

১২৯ পার্থীয়দের মেসোপটেমিয়া জয়।

সাল

১১৫-১৭ রুমিদের মেসোপটেমিয়া জয়।

২২৪ পার্থীয়দেরকে উৎখাত করে পারস্যে ক্ষমতায় এল সাসানীয়রা।

৫৭০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) জন্ম।

৬১০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নবুয়তলাভ ও কুরআন শরিফ নাজিলের সূচনা।*

* হযরত মুহাম্মদের (সা.) অনুসারীরা মুসলিম নামে পরিচিত, আরবিতে এর অর্থ ‘আত্মসমর্পণকারী’; যাঁরা আল্লাহ’র কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরাই মুসলিম। বাংলায় ঐতিহাসিকভাবে মুসলমান শব্দটিই বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেই ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মুসলমান শব্দটি ব্যবহার করি আমি। মুসলমানদের পবিত্র বই কুরআন শরিফ নামে পরিচিত।

৬৩২ হযরত মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যু। তাঁর কোন জীবিত পুত্রসন্তান না থাকায় ও উত্তরাধিকারী মনোনীত করে না যাওয়ায় যে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়, কালক্রমে তাই শিয়া-সুন্নী বিভাজনে রূপ নেবে।*

* শিয়া-সুন্নী বিভাজনের ইতিহাস জানতে, দেখুন, (McHugo 2017) ও (Louër 2020).

৬৩২-৬১ ‘রাশিদুন খেলাফত’।*

* সুন্নিরা যেই চার খলিফাকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশিত বলে বিশ্বাস করেন, সেই রাশিদুন খেলাফতের কাল। শিয়াদের অধিকাংশ প্রথম তিন খলিফাকে অবৈধ ভাবেন, তাঁদের বিশ্বাসে সুন্নিদের চতুর্থ খলিফা আলীই একমাত্র বৈধ খলিফা। তবে জায়েদি শিয়ারা চার খলিফাকেই বৈধ ভাবেন।

৬৩৬ নভেম্বর: ‘কাদিসিয়ার যুদ্ধ’: ইরাকের ওপর রাশিদুন খেলাফতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৬৫১ রাশিদুন খেলাফতের মেসোপটেমিয়া জয়।

৬৬১-৭৫০ এসময় মেসোপটেমিয়া শাসন করছেন উমাইয়া খলিফারা।

৭৫০-১২৫৮ এসময় মেসোপটেমিয়া শাসন করছেন আব্বাসীয় খলিফারা।

৭৬২ আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর প্রতিষ্ঠা করলেন বাগদাদ।

১০৫৫ সেলজুক তুর্কিদের বাগদাদ জয়।

১২৫৮ মঙ্গোলদের আক্রমণে বাগদাদ ধবংস হয়ে গেল, এর মধ্য দিয়ে আব্বাসীয় খেলাফতের অবসান ঘটে।

১২৫৮-১৩৩৪ মেসোপটেমিয়ায় মঙ্গোল শাসন।

১৩৩৪-১৫০৯ মেসোপটেমিয়া শাসন করছে জালাইরি রাজবংশ ও তুর্কমানরা।

১৫০৯-৩৪ এসময় মেসোপটেমিয়া শাসন করছে পারস্যের সাফাভীয় সাম্রাজ্য।

১৫৩৪-১৯১৫ এসময় মেসোপটেমিয়া শাসন করছে তুরস্কের ওসমানি সুলতানশাহি।

১৯১৭ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা বাগদাদ দখল করল।

১৯২০ লীগ অফ নেশনসের কাছ থেকে ইরাকের ম্যান্ডেট পেল ব্রিটেন।

১৯২১ মক্কার শরিফ হোসেনের ছেলে ফয়সালকে ইরাকের রাজা হিসেবে নিয়োগ দিল ব্রিটেন।

১৯২৮ প্রতিষ্ঠা করা হল ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (আইপিসি)।

১৯৩২ ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অবসান, স্বাধীনতা লাভ করল ইরাক।

১৯৪১ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইরাকে অক্ষশক্তির পক্ষে ক্যুদেতা সংঘটিত হলে সেই উছিলায় পুনরায় ইরাক দখল করে নিল ব্রিটেন।

১৯৪৫ ইরাক জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করল।

১৯৪৬ ইরাকে একটি কুর্দি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করলেন মোস্তফা বারজানি, পরবর্তীকালে যার নাম হয় কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি)।

১৯৪৮ ব্রিটেনের সাথে পোর্টসমাউথ চুক্তি সই করল ইরাক। এই চুক্তির বিরুদ্ধে দেখা দিল ওয়াতবাহ বিদ্রোহ। বিদ্রোহীরা চুক্তিটিকে স্বাধীন ইরাকের ওপর ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার নয়াউপনিবেশিক ফন্দি হিসেবে দেখেছিলেন।

১৯৫৫ ইরান, পাকিস্তান, ও তুরস্কের সাথে বাগদাদ চুক্তি সই করল ইরাক।

১৯৫৮ আবদুল করিম কাশেমের নেতৃত্বে বামপন্থী সামরিক ক্যুদেতা। ইরাকে রাজতন্ত্রের অবসান। ব্রিটিশপন্থী বাগদাদ চুক্তি থেকে বেরিয়ে এল ইরাক।

১৯৬০ অর্গানাইজেশন অফ পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজে (ওপেক) যোগ দিল ইরাক।

১৯৬১ কাশেম সরকারের বিরুদ্ধে কুর্দি নেতা বারজানির বিদ্রোহ।

১৯৬৩ আরব সোশালিস্ট বা’থ পার্টির ইরাকি শাখা প্রতিষ্ঠিত। এক সামরিক ক্যুদেতায় কাশেম সরকারের পতন ঘটল, নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন আবদুল সালাম আরিফ। ক্ষমতায় এল বা’থিরা, কিন্তু দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত হল।

১৯৬৮ ইরাকে আরব সোশালিস্ট বা’থ পার্টির নেতৃত্বাধীন এক ক্যুদেতায় ক্ষমতায় এলেন আহমাদ হাসান আল-বকর।

১৯৭০ ইরাকে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হল। এই সংবিধানে ইরাককে একটি দ্বিজাতিক রাষ্ট্র বলা হল, এবং আরব ও কুর্দি উভয় জাতিকেই স্বীকৃতি দেয়া হল। ব্রিটিশ মালিকানাধীন তেলশিল্পের জাতীয়করণ শুরু করল ইরাক।

১৯৭২ দ্য ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানিটি জাতীয়করণ করল ইরাক।

১৯৭৪ ইরাক তার কুর্দিভাষী অঞ্চলটিকে সীমিত সায়ত্ত্বশাসন দিল।

১৯৭৫ উত্তর ইরাককে আরবায়িত করার উদ্যোগ নিল বা’থিরা। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটি থেকে কুর্দিদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে আরবদের বসতিস্থাপন করল। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে বা’থিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ইরাকি কুর্দিরা। আলজিয়ার্স চুক্তিতে সই করল ইরান ও ইরাক। ইরাকি কুর্দিদের সমর্থন দেয়া বন্ধ করল মার্কিনীরা। কুর্দি বিদ্রোহের অবসান। মোস্তফা বারজানিকে প্রতিক্রিয়াশীল আখ্যা দিয়ে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি) থেকে বেরিয়ে আসলেন জালাল তালাবানি, গঠন করলেন প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান (পিইউকে)।

১৯৭৯ ইরাকের আরব সোশালিস্ট বা’থ পার্টির প্রধান হলেন সাদ্দাম হোসেন, যা তাকে আইন অনুসারে ইরাকি প্রেসিডেন্টে পরিণত করল। কেডিপির প্রেসিডেন্ট হলেন মোস্তফার ছেলে মাসুদ বারজানি। ডিসেম্বর ১৪: তেহরান জানাল, ইরানে অনুপ্রবেশ চালানোর একটি ইরাকি প্রচেষ্টা তারা রুখে দিয়েছে।

১৯৮০-৮৮ সাদ্দাম হোসেনের ইরান আক্রমণের ফলে ইরান-ইরাক যুদ্ধ। দুই দেশেই কুর্দিদেরকে প্রতিপক্ষের দালাল বলা হল, খুন হলেন বহু বেসামরিক কুর্দি নাগরিক। দুই দেশের কুর্দিদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হল।

১৯৮০ ফেব্রুয়ারি: ইরান ও ইরাকের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক সীমান্ত সংঘাত। এপ্রিল ১৭: আয়াতুল্লা খোমিনী ইরাকের বা’থি সরকারকে উৎখাত করতে দেশটির জনগণ ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানালেন। সেপ্টেম্বর ৪: ইরাকের খানাকিন ও মান্দালি শহরে শেলিং করল ইরান। সেপ্টেম্বর ২২: সাদ্দাম হোসেনের ইরাক ইসলামি প্রজাতন্ত্র আক্রমণ করল।

১৯৮৫ প্রকাশিত হল ফিবি মারের দ্য মডার্ন হিস্ট্রি অফ ইরাক

১৯৮৮ ইরাকি কুর্দিদের বিরুদ্ধে সাদ্দামের আল-আনফাল অভিযান, এই কুর্দি গণহত্যায় ৫০,০০০ থেকে ১৮০,০০০ বেসামরিক কুর্দি নাগরিকের মৃত্যু হয়। মার্চ ১৬: ইরাকের কুর্দি শহর হালাবজায় বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করলেন সাদ্দাম, যাতে ৫০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। আগস্ট: ইরান আর ইরাকের এক দশকব্যাপী যুদ্ধের অবসান।

১৯৯০ সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইরাক কুয়েতে হামলা চালাল। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক অভিযানের কারণে পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুয়েত ছাড়ল ইরাক।

সেপ্টেম্বর: ইরান আর ইরাকের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল।

১৯৯১ ইরাকের উত্তরে কুর্দি আর দক্ষিণে শিয়া বিদ্রোহ। উত্তর ইরাকে সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করল জাতিসংঘ। ইরাক সেখানে সর্বপ্রকার সামরিক তৎপরতা বন্ধ করল।

১৯৯২ দক্ষিণ ইরাকে নো-ফ্লাই জোন প্রতিষ্ঠা করা হল।

১৯৯৪ ইরাকি কুর্দিদের দুই রাজনৈতিক দল কেডিপি আর পিইউকে-র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ২০০০-এরও বেশি কুর্দি নাগরিকের মৃত্যু হল। ইরাকি কুর্দিস্তানে গৃহযুদ্ধ। ১৯৯৮ সালে মার্কিন মধ্যস্ততায় গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।

১৯৯৮ ইরাকের গণবিধবংসী অস্ত্র ধবংস করার ব্যাপারটি তত্ত্বাবধান করার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক নিযুক্ত বিশেষ কমিশনের সাথে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দিল ইরাক। ‘অপারেশন ডেজার্ট ফক্স।’ ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ বোমা হামলার ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের পারমাণবিক, রাসায়নিক, ও জৈব অস্ত্রের কর্মসূচিগুলোর বিনাশ ঘটান।

২০০০ প্রকাশিত হল অ্যান্থনি আর্নোভ আর আলী আবুনিমাহ’য়ের ইরাক আন্ডার সিয়েজ: দ্য ডেডলি ইমপ্যাক্ট অফ স্যাংশনস অ্যান্ড ওয়ার। প্রকাশিত হল চার্লস আর. এইচ. ট্রিপের আ হিস্ট্রি অফ ইরাক

২০০২ প্রকাশিত হল ইফ্রাইম কার্শের দ্য ইরান-ইরাক ওয়ার, ১৯৮০-৮৮

২০০৩ মার্চ ২০: জর্জ বুশ জুনিয়রের নেতৃত্বে ইরাকে মার্কিন হামলা। এপ্রিল ৯: সাদ্দাম সরকারের পতন। মে ১: বুশ বললেন, ইরাকে মার্কিন লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। মে ২৩: দ্য কোয়ালিশন প্রভিন্সিয়াল অথোরিটি ইন ইরাকের প্রধান পল ব্রেমার এক হুকুমে ইরাকি সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে দিলেন। জুন ২২: ইরাকের উত্তরাঞ্চলের শহর মসুলে মার্কিন সেনাদের হাতে খুন হলেন সাদ্দাম হোসেনের দুই ছেলে উদয় আর কুসাই। আগস্ট ১৯: বাগদাদে মার্কিন সদরদপ্তরে ট্রাক বোমা হামলা, এতে ইরাকে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি সার্জিও ভিয়েরা দে মিলোর মৃত্যু হয়। আগস্ট ২৯: নাজাফে এক গাড়ি বোমা হামলায় ১২৫ জনের মৃত্যু হল, নিহতদের একজন শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বাকির আল-হালিম। ডিসেম্বর ১৪: তিকরিতে মার্কিনীদের হাতে ধরা পড়লেন সাদ্দাম হোসেন। প্রকাশিত হল তারিক আলীর বুশ ইন ব্যাবিলন: দ্য রিকলোনাইজেশন অফ ইরাক। প্রকাশিত হল টোবি ডজের ইনভেন্টিং ইরাক: দ্য ফেইলিয়ার অফ নেশন বিল্ডিং অ্যান্ড আ হিস্ট্রি ডিনাইড

২০০৪ জানুয়ারি ২৪: বুশ প্রশাসন স্বীকার করল, যে-গণবিধবংসী অস্ত্রের দোহাই পেড়ে ইরাকে যুদ্ধ করে গেছিল তারা, তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মার্চ: বাগদাদ আর কারবালায় শিয়াদের নিকট পবিত্র স্থানগুলোতে আল কায়েদা ইন ইরাকের (আকি) চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪০ জন মানুষের মৃত্যু হল। মার্চ ৩১: ফাল্লুজায় ৪ জন মার্কিন কন্ট্রাক্টরকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে তাদের পোড়া লাশ ফোরাত নদীর ওপরকার এক সেতুতে ঝুলিয়ে রাখা হল। এপ্রিল ২৮: বাগদাদের আবু ঘারিব কারাগারে ইরাকি বন্দীদের ওপর মার্কিন সেনাদের অত্যাচারের আলোকচিত্রীয় প্রমাণ মিলল। মে ৩১: মার্কিন ব্যবসায়ী নিকোলাস বার্গের অপহরণকারীরা আবু ঘারিবের প্রতিশোধ নেয়ার দোহাই দিয়ে বার্গকে জবাই করল এবং জবায়ের দৃশ্যটি ভিডিওতে ধারণ করে একটি জঙ্গি ওয়েবসাইটে আপলোড করল, মার্কিনীরা পরে দাবি করে জবাইকারী আল কায়েদা ইন ইরাকের (আকি) প্রতিষ্ঠাতা আবু মুসাব আল-জারকাওয়ি। আগস্ট: নাজাফে মার্কিন সেনাদের সাথে ইরাকি শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদরের শিয়া মিলিশিয়ার লড়াই চলছে এ-সময়। সেপ্টেম্বর ৮: ফাল্লুজায় মার্কিন অভিযান, পেন্টাগনের হিসাবে ১২০০ জন বিদ্রোহীর মৃত্যু হয়, রেড ক্রসের হিসাবে এর পাশাপাশি ৮০০ জন বেসামরিক নাগরিক মারা যান।

মুক্তি পেল বাহমান ঘোবাদির টার্টলস ক্যান ফ্ল্যাই

২০০৫ এপ্রিল: ইরাকে প্রেসিডেন্ট হলেন কুর্দি নেতা জালাল তালাবানি আর প্রধানমন্ত্রী হলেন ইব্রাহিম জাফারি। এপ্রিল-মে’তে ইরাক জুড়ে গাড়ি বোমা হামলা, বোমা বিস্ফোরণ, আর গোলাগুলিতে সরকারি হিসেবেই ১,০০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হল। ইরাকি কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হলেন মাসুদ বারজানি। অক্টোবর ১৫: ইরাকে ভোটাররা একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করলেন। সংবিধানের লক্ষ্য একটি ইসলামি ফেডারেল গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। মার্কিন আগ্রাসন পরবর্তী ইরাকের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত।

২০০৬ ফেব্রুয়ারি ২৬: সামারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়া মাজারে বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল, সহস্র মানুষের মৃত্যু হল। এপ্রিল ২২: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নূরি আল-মালিকির নাম প্রস্তাবিত হল, যিনি ইরানপন্থী রাজনীতিক বলে বিবেচিত হন। জুন ৮: বাকুবায় এক মার্কিন বিমান হামলায় খুন হলেন আল কায়েদা ইন ইরাকের (আকি) প্রতিষ্ঠাতা আবু মুসাব আল-জারকাওয়ি। নভেম্বর: ইরাক আর সিরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত। নভেম্বর ৫: সাদ্দাম হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল। নভেম্বর ৮: পদত্যাগ করলেন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব ডোনাল্ড রামসফেল্ড। ডিসেম্বর ৩০: ঈদের দিন সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝোলান হল।

২০০৭ ফেব্রুয়ারি ১০: ইরাকে মার্কিন বাহিনীর প্রধান হলেন ডেভিড পেট্রাস। জুন ১: ইরাকে ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সুন্নী গোত্রগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে শুরু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগস্ট: প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির সরকারকে সহায়তা করতে ইরাকের শিয়া আর কুর্দি নেতারা একটি জোট গঠন করলেন, কিন্তু ইরাকি সুন্নি নেতারা এই জোটে যোগ দেননি। আগস্ট ১৯: উত্তর মসুলে আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় জাতিগত সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কয়েকশো মানুষের মৃত্যু। সেপ্টেম্বর: ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ব্ল্যাকওয়াটারের নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে ১৭ জন বেসামরিক ইরাকি নাগরিকের মৃত্যু হল। ডিসেম্বর ১৬: ব্রিটিশরা বসরা প্রদেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব ইরাকি বাহিনীগুলোর হাতে তুলে দিল, দক্ষিণ ইরাকে পাঁচ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান।

মুক্তি পেল ব্রায়ান দে পালমার রিডাক্টেড

২০০৮ মার্চ ২৪: বসরায় নূরি আল-মালিকির বাহিনীর সাথে মুকতাদা আল-সদরের মাহদী আর্মির সংঘাতে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু। সেপ্টেম্বর ১: ইরাকের সুন্নী অধ্যুষিত আনবার প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে তুলে দিল মার্কিনীরা। ডিসেম্বর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা নিরাপত্তা চুক্তির অনুমোদন দিল ইরাকি সংসদ, যেই চুক্তির অধীনে ২০১১ সালের মধ্যে সব মার্কিন সেনাকে ইরাক ছেড়ে যেতে হবে। ডিসেম্বর ১৪: ইরাকে এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়রের দিকে জুতা ছুঁড়ে মারেন ইরাকি সাংবাদিক মুনতাজার আল-জায়েদি। জুতানিক্ষেপের সময় মুনতাজার আরবিতে চিৎকার করে বলেন, “This is a farewell kiss from the Iraqi people, dog.” এই ঘটনার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিসেম্বর ১৫: বাগদাদ, বসরা, ও নাজাফে হাজার হাজার ইরাকি মুনতাজারের মুক্তির দাবিতে পথে নেমে আসেন।

প্রকাশিত হল মার্সিয়া ও টমাস মিশেলের দ্য স্পাই হু ট্রাইড টু স্টপ আ ওয়ার: ক্যাথারিন গুণ অ্যান্ড দ্য সিক্রেট প্লট টু স্যাংশন দ্য ইরাক ইনভ্যাশন। প্রকাশিত হল ডেক্সটার ফিলকিনসের দ্য ফরএভার ওয়ার। প্রকাশিত হল জোনাথন কুকের ইসরায়েল অ্যান্ড দ্য ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশনস: ইরাক, ইরান, অ্যান্ড দ্য প্ল্যান টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট

মুক্তি পেল ক্যাথরিন বিগলোর দ্য হার্ট লকার

২০০৯ সেপ্টেম্বর ১৫: গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক মুনতাজার আল-জায়েদিকে মুক্তি দেয়া হল। তিনি জেল থেকে বেরিয়ে এসে জানালেন, জেলখানায় তাঁর ওপর ভয়াবহ টর্চার করা হয়েছে। দেশপ্রেমিক ইরাকিদের চোখে মুনতাজার ইরাকি প্রতিরোধের প্রতীক।

২০১০ এ-বছরের অক্টোবরে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের উইকিলিকস ইরাক যুদ্ধ বিষয়ক ৩৯১,৮৩২-টি গোপন মার্কিন নথি ফাঁস করে দেয়, যা ইরাক ওয়ার লগস নামে পরিচিত।

২০১১ চারবছর ইরানে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর ইরাকে ফিরে আসলেন ইরাকি শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর। ডিসেম্বরের মধ্যে ইরাক ছেড়ে গেল মার্কিন সেনারা। শীর্ষস্থানীয় ইরাকি সুন্নী রাজনীতিক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক আল-হাশমির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার প্রতিবাদে সংসদ বর্জন করল ও মন্ত্রীসভা থেকে বেরিয়ে গেল দেশটির রাজনীতির সুন্নী ব্লক।

২০১২ মুক্তি পেল ক্যাথরিন বিগলোর জিরো ডার্ক থার্টি

২০১৩ এপ্রিলে ইরাকে দেখা দিল সুন্নী বিদ্রোহ, যা জুলাই নাগাদ দেশটিকে একটা চরম সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। সেপ্টেম্বরে ইরাকি কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে সিরিজ বোমা হামলা, ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক (আইএসআই) হামলার দায় স্বীকার করল। জাতিসংঘের হিসেবে এ-বছর ইরাক জুড়ে চলা সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৭,১৫৭ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটে।

২০১৪ জানুয়ারি: ইসলামি জঙ্গিরা ফাল্লুজা আর রামাদিতে প্রবেশ করল। এপ্রিল: নির্বাচনে জিতল প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকীর নেতৃত্বাধীন জোট।জুন ১০: ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরাক ও সিরিয়ার একাংশে খেলাফত ঘোষণা করল ইসলামিক স্টেট (আইএস)। জুন ১৬: সিনজার থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের তেল আফার দখল করে নিল আইএস। আগস্ট ৩: আইএসের সিনজার আক্রমণ। হাজার হাজার ইয়েজিদি সিনজার পর্বতে পালিয়ে গেলেন, যেখানে তাঁরা হপ্তাখানেক ঘেরাও হয়ে ছিলেন। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শতাধিক ইয়েজিদির মৃত্যু হল। আগস্ট ৪: হারদান গ্রামে ৬০ জন ইয়েজিদি পুরুষকে হত্যা করল আইএস, নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করে তেল আফারে নিয়ে গেল। আগস্ট ৭: সিনজার পর্বতে ইয়েজিদিদের ঘেরাও হয়ে থাকার অবসান ঘটাতে ও সেখানে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা ঠেকাতে বিমানহামলার অনুমোদন দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগস্ট ৯-১১: সিরীয় কুর্দিরা সিনজার পর্বতের ইয়েজিদিদের জন্য একটা নিরাপত্তা করিডোর তৈরি করল। ইরাকি কুর্দিস্তানে আশ্রয় নিলেন ১ লক্ষ ইয়েজিদি। তাঁদের অধিকাংশ এখনো সেখানকার শরণার্থী শিবিরদেরগুলোতে আছেন। আগস্ট ১৫: কোচো গ্রামে একটি নিধনযজ্ঞ চালাল আইএস। গ্রামটির সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদেরকে হত্যা করা হল। নাবালক ছেলেদেরকে শিশুসৈনিক বানাতে কেড়ে নেয়া হল। নারী ও কন্যাশিশুদেরকে যৌনদাসী হিসাবে বিক্রি করা হল। আগস্ট ১৯: দ্য নেদারল্যান্ডসে নিবন্ধিত হল ফ্রি ইয়েজিদি ফাউন্ডেশন। সেপ্টেম্বর: সুন্নি আরব ও কুর্দিদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি সরকার গঠন করলেন ইরাকি শিয়া রাজনীতিক হায়দার আল-আবাদ। অক্টোবর আইএস তার ইংরেজিভাষী ম্যাগাজিন দাবিকে ইয়েজিদিদেরকে দাস বানানোর কথা গর্বের সাথে প্রচার করল।* ডিসেম্বর: আইএসের আক্রমণের মুখে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে ইরাক সরকার এবং ইরাকি কুর্দিস্তানের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হল।

* ইয়েজিদিরা মালেক তাউসের উপাসনা করেন। আইএস যাকে শয়তান মনে করে। ফলে, আইএসের প্রচারণায় ইয়েজিদিরা হচ্ছে ‘শয়তানের উপাসক।’

প্রকাশিত হল পল ক্রিওয়াসজেকের ব্যাবিলন: মেসোপটেমিয়া অ্যান্ড দ্য বার্থ অফ সিভিলাইজেশন। প্রকাশিত হল তাজ হাশমী’র গ্লোবাল জিহাদ অ্যান্ড আমেরিকা: দ্য হান্ড্রেড-ইয়ার ওয়ার বিয়োন্ড ইরাক অ্যান্ড আফগানিস্তান

২০১৪-১৫ তিকরিত আর আনবার প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরাক সরকারের সাথে আইএসের যুদ্ধ।

২০১৫ ইরাকের নিমরুদ আর হাত্তার প্রাচীন এশিরীয় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো ধবংস করল আইএস।

২০১৬ এপ্রিল: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং সরকারি পদের সাম্প্রদায়িক বিলিবন্টন বন্ধ করার দাবিতে ইরাকি শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদরের সমর্থকগোষ্ঠী সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ল। নভেম্বর: ইরাকি সংসদ শিয়া মিলিশিয়া পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস-কে (পিএমইউ) ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর সমান আইনী মর্যাদা প্রদান করল।

২০১৭ সেপ্টেম্বর ২৫: ইরাকি কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার কর্তৃক আয়োজিত গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলেন ইরাকি কুর্দিরা। বাগদাদ গণভোটের ফল মেনে নিতে অস্বীকার জানাল এবং এরবিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল। নভেম্বর: ইরাকি সেনাবাহিনী, শিয়া মিলিশিয়া, ও তাদের কুর্দি মিত্ররা আইএসের খেলাফতের ইরাকি অংশের প্রায় পুরোটা পুনরুদ্ধার করল।

২০১৮ মে: ইরাকের সংসদীয় নির্বাচনে মুকতাদা আল-সদরপন্থীদের বিশাল বিজয়। অক্টোবর: ইরাকের প্রেসিডেন্ট হলেন কুর্দি রাজনীতিক বারহাম সালিহ। প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া রাজনীতিক আদেল আবদুল মাহদি।

প্রকাশিত হল জ্যাকব এরিকসন ও আহমেদ খলিল সম্পাদিত ইরাক আফটার আইসিস: দ্য চ্যালেঞ্জেস অফ পোস্টওয়ার রিকভারি। প্রকাশিত হল হেলগা তুর্কু’র দ্য ডেসট্রাকশন অফ কালচারাল প্রোপার্টি অ্যাজ আ উইপন অফ ওয়ার: আইসিস ইন সিরিয়া অ্যান্ড ইরাক

২০১৯ সেপ্টেম্বর-নভেম্বর: ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দুর্নীতি আর বেকারত্বের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলন দেখা দিল। মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪০০। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আদেল আবদুল মাহদি।

প্রকাশিত হল জেমস এইচ. লেবোভিচের প্ল্যানিং টু ফেইল : দ্য ইউএস ওয়ার্স ইন ভিয়েতনাম, ইরাক, অ্যান্ড আফগানিস্তান। মুক্তি পেল ম্যাথিউ মাইকেল কার্নাহানের মসুল। মুক্তি পেল গেভিন হুডের অফিসিয়াল সিক্রেটস

এক গবেষণা মতে, ইরাকে ২০০৩ সালের মার্চে মার্কিন হামলার পর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে যুদ্ধরত সকল পক্ষের হাতে প্রায় ২০০,০০০ বেসামরিক ইরাকি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

২০২০ প্রকাশিত হল রবার্ট ড্রেপারের টু স্টার্ট আ ওয়ার: হাউ দ্য বুশ এডমিনিস্ট্রেশন টুক আমেরিকা টু ইরাক

২০২১ ইরাকের একটি হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ডে আগুন লেগে ৬৪ জনের মৃত্যু। নাজাফে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিসতানির সাথে সাক্ষাৎ করলেন পোপ ফ্রান্সিস। মার্চ ১: ইরাকি সংসদে পাশ হল দ্য ইয়েজিদি সার্ভাইভর’স ল।

প্রকাশিত হল ওমর আশুরের হাউ আইসিস ফাইটস:মিলিটারি ট্যাকটিকস ইন ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া অ্যান্ড ইজিপ্ট

২০২৩ ইরাকে ২০০৩ সালের মার্চে মার্কিন হামলার পর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত যুদ্ধরত সকল পক্ষের হাতে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ ১৫ হাজারের মাঝামাঝি সংখ্যক বেসামরিক ইরাকি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। (Watson Institute for International and Public Affairs 2022)

তথ্যসূত্র

রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। ঢাকা: দিব্যপ্রকাশ।

BBC. 2018. “Iraq profile – Timeline.” BBC, October 3, 2018.
https://www.bbc.com/news/world-middle-east-14546763
2008a. “Shoes thrown at Bush on Iraq trip.” BBC, December 15, 2008.
http://news.bbc.co.uk/2/hi/7782422.stm
2008b. “Iraq rally for Bush shoe attacker.” BBC, December 15, 2008.
http://news.bbc.co.uk/2/hi/middle_east/7783608.stm

Blean, I. R. 2008. Iraq. Florida: Rourke Publishing LLC.

Chulov, Martin. 2009. “Freed Iraqi shoe thrower tells of torture in jail.” The Guardian, September 15, 2009.
https://www.theguardian.com/world/2009/sep/15/iraqi-shoe-thrower-freed

Council on Foreign Relations – cfr. 2022a. “The Iraq War.” Accessed August 31, 2022.
https://www.cfr.org/timeline/iraq-war
2022b. “The Kurds’ Quest for Independence.” Accessed August 31, 2022.
https://www.cfr.org/timeline/kurds-quest-independence

Davies, Nick, Steele, Jonathan, and Leigh, David. 2010. “Iraq war logs: secret files show how US ignored torture.” The Guardian, October 22, 2010.
https://www.theguardian.com/world/2010/oct/22/iraq-war-logs-military-leaks

Free Yezidi Foundation. 2023. “Yezidi Genocide Timeline.” Accessed March 7, 2023.
https://freeyezidi.org/yezidi-genocide-timeline/

Hunt, Courtney. 2005. The History of Iraq. Westport, Connecticut: Greenwood Press.

Lightfoot, Dale. 2007. Iraq. New York, Chelsea House.

Louër, Laurence. 2020. Sunnis and Shiʻa: A Political History of Discord. Translated by Ethan Rundell. Princeton & Oxford: Princeton University Press.

Mark, Joshua J.. 2018a. “Mesopotamia.” World History Encyclopedia. Last modified March 14, 2018. https://www.worldhistory.org/Mesopotamia/.
2018b. “Fertile Crescent.” World History Encyclopedia. Last modified March 28, 2018. https://www.worldhistory.org/Fertile_Crescent/.

McHugo, John. 2018.. A Concise History of Sunnis & Shi‘is. Washington, DC: Georgetown University Press.

Murray, Williamson, and Woods, Kevin M.. 2014. The Iran-Iraq War: A Military and Strategic History. Cambridge: Cambridge University Press.

Pryke, Louise. 2019. “Enheduanna: The world’s first known author was a priestess in ancient Mesopotamia.” Scroll, February 19, 2019.
https://scroll.in/article/913287/enheduanna-the-worlds-first-known-author-was-a-priestess-in-ancient-mesopotamia

Watson Institute for International and Public Affairs. 2022. “Iraqi Civilians.” Accessed August 31, 2022.
https://watson.brown.edu/costsofwar/costs/human/civilians/iraqi

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

By irrafinofficial

ইরফানুর রহমান রাফিনের জন্ম ঢাকায়, ১৯৯২ সালে। বর্তমানে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে লিখে অন্নসংস্থান করেন। নিজেকে স্মৃতি সংরক্ষণকারীদের পরম্পরার একজন হিসাবে দেখেন। যোগাযোগ: irrafin2022@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Creative Commons License
Except where otherwise noted, the content on this site is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License.