প্রাচীন নিকট প্রাচ্য

Spread the love

Featured Image: Apollo Magazine.

World History Encyclopedia.

পূর্বসাল

৭২০০ চোঘা বনুতে প্রতিষ্ঠা লাভ করল এলামীয় সম্প্রদায়।

পূর্বসাল ৬৫০০-৬০১ সাল প্রাচীন নিকট প্রাচ্য

৬৫০০-৪০০০ সুমেরে উবাইদ পর্ব।

৬০০০ এ সময় জর্দানে মানুষের বসবাস ছিল।

৫৪০০ প্রতিষ্ঠা করা হল এরিদু নগর।

৫০০০ গোদিন তেপে মানুষ বসতিস্থাপন করল। এ সময় সুমেরে মৃতদের সমাধিস্থ করা হচ্ছে।

৫০০০-৪৫০০ প্রতিষ্ঠা করা হল উরুক নগরী।

৪৫০০ সুমেরীয়রা নির্মাণ করলেন তাঁদের প্রথম মন্দির।

৪৫০০-৪০০১ গাজা উপত্যকার দক্ষিণ প্রান্তে নিকটে কাতিফের প্রত্নস্থানে এ সময়ে মানব বসবাস থাকার আদি নিদর্শন দেখা গেছে।

৪৫০০-৩৬০০ জর্দানে তাম্র যুগ।

৪৩৯৫ প্রতিষ্ঠা করা হল অন্যতম প্রাচীন নগরী সুসা।*
* বর্তমানে এটি ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের সীমানায় অবস্থিত।

৪৩০০-২৩৩৫/৩৩০০-১৯০০ সুমেরীয় সভ্যতা

৪০০০-৩১০০ মেসোপটেমিয়ায়* উরুক পর্ব, দেখা দিল প্রথম নগররাষ্ট্রগুলো।
* “দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান”। মেসোপটেমিয়া ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর গ্রিকদের দেয়া নাম। এই দুই নদী হল দজলা ও ফোরাত।

পূর্ব আরবে আল-ওবায়েদ সংস্কৃতি

৪০০০-৩০০০ ব্যাবিলোস ও মিশরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হল।

৪০০০ প্রতিষ্ঠা করা হল নগররাষ্ট্র সিদন।

৩৭৬১ অক্টোবর ৭ দ্বিতীয় শতাব্দী সালে ইহুদি রাব্বি ইয়োসে বেন হালাফতা বাইবেল ঘেঁটে দাবি করেন, এই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে।*
* ইহুদি পঞ্জিকার প্রথম বছর বলে বিবেচিত হয়।

৩৬০০ উরুক শহরে লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন সুমেরীয়রা।*
* ইতিহাসের এই প্রথম লেখাগুলো গল্প-কবিতা ছিল না  ছিল ধারকর্জের হিসাব  মানুষের হাতে মানুষের বন্দী হয়ে যাওয়ার দলিল।

৩৬০০-৩৫০০ সুমেরিয়ায় প্রথম লিখিত ভাষার নিদর্শন দেখা গেল।

৩৫০০-১২০০ ব্রোঞ্জ যুগ, কেনানীয়* রাজ্যগুলোর কাল। প্রাচীন কেনানীয়রা এ সময় এক ধাতুবিদ্যার দেবতায় বিশ্বাস করতেন, যাঁর ধারণা পরবর্তীকালে বিকশিত হয়ে বিধাতার রূপলাভ করে। যাঁর উচ্চারণনিষিদ্ধ নাম ইয়াহওয়েহ বা জিহোভা (יהוה‎)।**
* এই কেনানীয়দেরই ফিলিস্তিনিদের পূর্বপুরুষ মনে করা হয়। এঁরা পৌত্তলিক ছিলেন। কালের প্রবাহে খ্রিস্টান ও মুসলমান হয়ে যান।
** ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, বিধাতা এতই পবিত্র যে, তার নাম উচ্চারণ করা যাবে না। তাই তাঁরা ইয়াহওয়েহ বা জিহোভার (יהוה‎) নাম মুখে নেন না। আদোনাই বা প্রভু বলে ডাকেন।

জর্দানে ব্রোঞ্জ যুগ।

৩৪০০ প্রাচীন মেসোপটেমীয় শহরগুলোর শাসক হয়ে উঠলেন পুরোহিতরা।

৩২০০-১৬০০ পূর্ব আরবে দিলমুন সভ্যতা

৩২০০ মিসরে হায়ারোগ্লিফিক লিপির বিকাশ ঘটছে।

৩১৫০ বিজয়াভিযানের মাধ্যমে মিসরকে ঐক্যবদ্ধ করলেন রাজা মেনেস।

৩১৫০-৩০ প্রাচীন মিসর

৩১৫০-২৬১৩ আদি রাজতান্ত্রিক পর্ব

৩১৫০-০০ রাজা মেনেসের শাসনকাল।*
* নার্মার নামেও পরিচিত।

৩১০০ তেল আল-সাকানে মিসরীয় বসতি।

৩০০০-২৯০০ দজলা নদীর পূর্ব তীরে মারি নগরীর উত্থান।

৩০০০-২৩০০ সিরিয়ায় সেমিটিকভাষীদের কিশ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে।

৩০০০-২০০১ হুররীয়রা আনাতোলিয়ায় বসতি স্থাপন করতে শুরু করল। এ সময় মর্মর সাগর আর ইজিয়ান সাগরের পারে সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল নিশ্চিতভাবে বলা যায়। কারণ কার্বন ডেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এ সময় অস্তিত্বশীল ছিল এমন হিসালরিক নামের এক প্রাচীন শহরের কথা জানা গেছে।*
* হিসালরিকই হোমারের মহাকাব্যইলিয়াডয়ের ট্রয় নগরী।

উপসাগরীয় অঞ্চলের তারুত দ্বীপে বাণিজ্য বসতি স্থাপিত।

৩০০০-২০০০ বিভিন্ন মেসোপটেমীয় সাম্রাজ্যের সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতার সাথে নানানভাবে জড়িয়ে পড়ছে কুয়েত।

৩০০০ সিরিয়া আর মিসরের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপিত।

ইন্দো-ইরানি আর্যদের একটি শাখা পারস্যে প্রবেশ করল। পারসিকরা এঁদের অংশ। আর্যদের আরেকটি শাখা পরবর্তীতে ভারতে প্রবেশ করে।*
* ফারসি আর সংস্কৃত ভাষার মিলের রহস্য এটাই।

প্রাচীন পারস্যে ধর্মের বিকাশ ঘটতে শুরু করল।

২৯০০-২৩৩৪ সুমেরের আদি রাজবংশীয় পর্ব

২৯০০-২৩০০ বালবেকে প্রথম বসতিস্থাপন।

২৯০০ সিরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হল মারি আর এবলা রাজ্য।

২৭৫০ প্রতিষ্ঠা করা হল নগররাষ্ট্র টায়ার।

২৭০০ মধ্য আনাতোলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী হাত্তিরা সুমেরীয় সভ্যতার সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলল।

২৬৭০ এ সময় মিসর শাসন করছেন রাজা জোসের, আমাদের জানাশোনার মধ্যে প্রথম পিরামিডটির নির্মাতা।

২৬৭০-৫০ রাজা জোসেরের শাসনামলে ইমহোতেপ কর্তৃক নির্মিত হল স্টেপ পিরামিড।

২৬১৩-২১৮১ পুরনো রাজত্ব পর্ব

২৬০০ সুমেরীয় ভাষায় সাহিত্যচর্চার সূচনা।

২৬০০-২০০০ এ সময় উরের রাজকীয় সমাধিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

২৬০০-২০২৫ আদি অ্যাসিরীয় পর্ব

২৫৬০ ফারাও খুফু কর্তৃক নির্মিত হল গিজার মহা পিরামিড।

২৫০০ হাত্তিদের নগররাষ্ট্রগুলো রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল হাত্তুসা। বর্তমান ইরাক আর বর্তমান সিরিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠল মারি। নির্মিত হল গিজার স্ফিংস।

লাগাশের প্রথম রাজবংশ।*
* মেসোপটেমিয়ার প্রথম সাম্রাজ্য বিবেচিত হয়।

২৫০০-১১০০ সাইপ্রাসে ব্রোঞ্জ যুগ।

২৪০০-২২৫০ কৃষি ও বাণিজ্যনির্ভর একটি নগরকেন্দ্র হয়ে উঠল এবলা।

২৪০০ আদিতম কয়েকটি সুমেরীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এসময় মেসোপটেমিয়ায় অভিবাসিত হন আমোরীয় গোষ্ঠী।

জর্দানে অগ্রসর সেডেন্টারি কৃষি সভ্যতার সমৃদ্ধি ঘটছে।

২৩৫০ মেসোপটেমীয় নগররাষ্ট্র লাগাশের রাজা উরুকাগিনা একগুচ্ছ বিধিবিধান প্রণয়ন করলেন, যা শাসকের ক্ষমতাকে সীমিত করার আদিতম পদক্ষেপগুলোর একটি।

২৩৩৪-২১৫৪ আক্কাদীয় সাম্রাজ্য

২৩৩৪-২১০০ জর্দান অঞ্চলটি এ সময় আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের অংশ।

২৩৩৪ মেসোপটেমিয়া শাসন করতে শুরু করলেন আক্কাদের সারগন।

২৩৩৪-২২৭৯ আক্কাদের সারগনের রাজত্বকাল।

২৩৩০ উর নগরীতে একটা ধবংসলীলা চালালেন আক্কাদের সারগন।

২৩২০ আক্কাদের সারগন হাত্তিদের অঞ্চলে আক্রমণ চালালেন, কিন্তু হাত্তুসা দখল করতে ব্যর্থ হলেন।

২৩০০ কুয়েত এ সময় দিলমুন সভ্যতার অংশ ছিল।

২২৮৫-৫০ এ সময় মেসোপটেমিয়ায় বাস করছেন পৃথিবীর প্রথম কবি। নাম তাঁর এনহেদুয়ান্না।* দেবী ইনান্নাকে নিয়ে দুটি স্তোত্র লিখেছিলেন তিনি।
* সুমেরীয়রা তাঁকে এই নামেই চিনত। আক্কাদীয়, অ্যাসিরীয়, আর ব্যাবিলনীয়রা চিনত ইশতার নামে। ইনিই ফিনিশীয়দের আসতার্তে আর গ্রিকদের আফ্রোদিতি।

২২৭৮-২২৭০ রিমুশের রাজত্বকাল।

২২৬৯-২২৫৫ মানিশতুশুর রাজত্বকাল।

২২৫৪-২২১৮ নারাম-সিনের রাজত্বকাল।

২২৫০ মারি আর এবলা রাজ্য ধবংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলেন আক্কাদের সারগন।

২২৪০ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আমোরীয়দের বিরুদ্ধে একটা সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেন নারাম-সিন।

২২২০-২১৫০ মারি অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আক্কাদীয় সাম্রাজ্য। শাক্কানাক্কু নামক সামরিক প্রশাসকরা শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২২১৮-২০৪৭/২১৪১-২০৫০ সুমেরে গুতীয় পর্ব

২২১৭-২১৯৩ শার-কালি-শাররির রাজত্বকাল।

২২০০ সারগনের নাতি ও আক্কাদীয় রাজা নারাম-সুয়েন হাত্তিদের অঞ্চলে অভিযান চালালেন। তাঁকে বাধাপ্রদান করলেন হাত্তিদের রাজা পামবা। এ সময় হাত্তীয় নগররাষ্ট্রগুলোতে শিল্পের সমৃদ্ধি ঘটছে।

২২০০-১৮০০ দিলমুন সভ্যতার মানুষেরা ফাইলাকা দ্বীপে বসতিস্থাপন করলেন।

২১৯৩-২১৫৪ আক্কাদীয় সাম্রাজ্যে গুতীয় আগ্রাসন।

২১৮৯-২১৬৯ দুদুর রাজত্বকাল।

২১৮১-২০৪০ প্রথম মধ্যবর্তী পর্ব

২১৬৮-২১৫৪ শু-তুরুলের রাজত্বকাল।

২১৫৪ গুতীয়দের হাতে আক্কাদের পতন, আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের অবসান।

২১৫০-২০০০ নব্য সুমেরীয় পর্ব

২১১৯-২১১২ সুমেরের উরুক নগরীতে উতু-হেগালের রাজত্ব।

২১১২-২০৯৪ সুমেরে উর-নাম্মুর রাজত্ব।

২১১২-২০০৪ সুমেরীয় রেনেসাঁ

২১১২ উরের তৃতীয় রাজবংশের শাসন শুরু হল।

২১০০-১৪০০ এ সময়ই কখনো রচিত হয় সুমেরীয় মহাকাব্য গিলগামেশ। এই মহাকাব্যে একটি মহাপ্লাবনের কথা বলা আছে। যা সেমিটিক ধর্মগুলোতে বর্ণিত মহাপ্লাবনের ঐতিহাসিক উৎস।

২১০০ সিরিয়ায় আমোরীয় নামের একটি সেমিটিকভাষী গোষ্ঠীর আগমন। এরা বর্তমান সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল। এর মধ্যে আলেপ্পো আর দামিশকও অন্তর্ভুক্ত।

২১০০ উর, এরিদু, উরুক, আর নিপ্পুর শহরগুলোতে মেসোপটেমিয়ার প্রথম জিগুরাতগুলো নির্মিত হয়। উরুক শহরে এসময় রাজত্ব করছেন উতু-হেগাল। তৈরি হচ্ছে প্রথম সুমেরীয় রাজাদের তালিকা। এসময় থেকে ২০৫০ সালের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে রচিত হল উর-নাম্মুর বিধান।

২০৮৩-৫০ মেসোপটেমিয়ার অন্ধকার যুগ।

২০৩৮ সুমেরের মহাপ্রাচীর নির্মাণ করলেন উরের রাজা শুলগি।

২০২৫-৬০৯ অ্যাসিরিয়া

২০২৫-১৩৬৪ পুরনো অ্যাসিরীয় পর্ব

২০০৪ এলামীয়দের হাতে উৎখাত হল উরের তৃতীয় রাজবংশ।

২০০৪-১৫৯৫ পুরনোবাবেলীয় পর্ব

২০০০-১৫০০ আরবে ভাষা এ সময় প্রথম লিখিত রূপ পাচ্ছে।

২০০০-১০০১ উত্তর আরবে ঘোড়ায় চালিত রথ ব্যবহৃত হচ্ছে। উর্বর চন্দ্রকলা* ছেড়ে একদল যাযাবরের আরবে আগমন। সিরিয়া-ফিলিস্তিন ছেড়ে সাবাঈদের পূর্বপুরুষরা দক্ষিণ আরবে আসছেন।
* এই অঞ্চলটি সভ্যতার দোলনা বলে বিবেচিত হয়। বর্তমান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন, এবং মিসর, তুরস্ক ও ইরানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত উর্বর চন্দ্রকলা অঞ্চল। ১৯১৬ সালে মিসরবিদ জে. এইচ. ব্রেস্টেড প্রথমবারের মত উর্বর চন্দ্রকলা পদটি ব্যবহার করেন।

২০০০ বৃহত্তর সিরিয়া অঞ্চল শাসন করছে আমোরীয়রা। আলেপ্পোর ইয়ামখাদ রাজবংশ কর্তৃক পুনর্নির্মিত হল এবলা। হাত্তি সংস্কৃতি এ সময় উৎকর্ষের শিখরে আছে।

মেসোপটেমিয়ায় পোষ মানানো ঘোড়ার ব্যবহার শুরু হল।

জর্দানে হিকসোদের আগমন।

১৯০০-১৭৫৭ আমোরীয় রাজবংশের অধীনে মারি রাজ্যের পুনরুত্থান।

১৯০০-১৪০০ মেসোপটেমিয়ার সাথে অন্যান্য অঞ্চলের বাণিজ্যের সমৃদ্ধির কাল।

১৯০০ অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল আশুর। সেমিটীয় একেশ্বরবাদী বিশ্বাসে বিশেষ গুরুত্ব রাখে আশুর। বাইবেলে বলা হয়েছে, নূহ নবীর পুত্র শেমের পুত্রের নাম আশুর, মহাপ্লাবনের পর যিনি নির্মাণ করেন আশুর নগরী।*
* এই বিশ্বাসের পক্ষে কোন ঐতিহাসিক-প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই।

১৮১৩-১৭৯১ প্রথম শামসি আদাদের রাজত্বকাল।*
* আমোরীয়দের বিতাড়িত করেন, আশুরকে অ্যাসিরিয়ার রাজধানী বানান।

১৮৯৪-৫৩৯ ব্যাবিলনিয়া

১৮৯৪ ব্যাবিলনে প্রতিষ্ঠা করা হল আমোরীয় রাজবংশ।

১৮১২-১৬৩৭ ইব্রাহিম নবি কাবা ঘর নির্মাণ করলেন। এই কাজে তাঁকে সহায়তা করলেন পুত্র ইসমাইল।*
* মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী, আরবরা ইসমাইল নবির বংশধর।

১৮০০ ইব্রাহিম নবি তাঁর জন্মভূমি প্রাচীন সুমেরীয় নগরী উর ছেড়ে জ্ঞাতিগোষ্ঠী নিয়ে কানানে চলে এলেন। মিসরের ব্রোঞ্জের ব্যবহার শুরু হল। কাহুনের গাইনাকোলজিকাল প্যাপিরাসে নারী স্বাস্থ্য ও গর্ভনিরোধের প্রসঙ্গ উল্লিখিত হল।

১৭৯৫-১৭৫০ হাম্মুরাবির রাজত্বকাল।

১৭৯২ ব্যাবিলনের দেয়ালগুলো নির্মাণ করলেন রাজা হাম্মুরাবি।

১৭৮৩ হিকসোরা আভারিস নির্মাণ করে শহরটিকে তাদের রাজধানী বানাল।

১৭৮২-১৫৭০ দ্বিতীয় মধ্যবর্তী পর্ব

১৭৮৭ উরুক ও ইসিন জয় করলেন হাম্মুরাবি।

১৭৭২ হাম্মুরাবির বিধান

১৭৬১ অজ্ঞাত কারণে মারা গেলেন মারির শেষ শাসক জিমরি-লিম। মারি নগরী দখল করে নিলেন তাঁর সাবেক মিত্র হাম্মুরাবি।

১৭৬০-১৭৫৭ মারি নগরী ধবংস করে দিলেন হাম্মুরাবি। তবে নগরবাসীর জান বকশ দেয়া হয়।

১৭৫৯-৫৭ মারি রাজ্য ধবংস করে দিলেন হাম্মুরাবি।

১৭৫৫ ব্যাবিলন থেকে পুরো মেসোপটেমিয়া শাসন করছেন হাম্মুরাবি।

১৭৫০ আমোরীয় অভিবাসন ও এলামীয় আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে গেল সুমেরীয় সভ্যতা।

১৭৫০-১৩০০ ট্রয় নগরী এ সময় উৎকর্ষের শিখরে আছে।

১৭০০ মিসরের দক্ষিণাঞ্চলে গঠিত হল কুশ রাজ্য।

হিত্তীয় গোষ্ঠী হাত্তিদের অঞ্চলে হামলা চালাল ও হাত্তিদের রাজধানী হাত্তুসা ধ্বংস করে দিল, হিত্তীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটল।

১৭০০-১৬০১ গোত্রপিতাদের যুগ, ইব্রাহিম, ইসহাক, ও ইয়াকুবের যুগ।*
* আদিপুস্তক ছাড়া সেই সময়ের আর কোন প্রাথমিক সূত্রে গোত্রপিতাদের নাম পাওয়া যায় না।

১৭০০-১১৭৮ হিট্টাইট সাম্রাজ্য

১৬৮০ হুররীয়রা অ্যাসিরিয়া দখল করে নিল।

১৬৭৪-১৫৬৭ সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে এ সময় তাণ্ডব চালাচ্ছে হিকসোরা।

১৬৬০-১৫০০ আনাতোলিয়ায় হিত্তীয় শক্তি, মিসরে নতুন রাজত্ব, আর উত্তরপূর্ব সিরিয়ায় মিতান্নিদের উত্থান ঘটছে। এরা সবাই লড়ছে সিরিয়ার জন্য।

১৬৫০ হাত্তিদের সম্পূর্ণরূপে অধীনস্ত করলেন হিত্তীয় যোদ্ধা-রাজা হাত্তুসিলি। হিত্তীয়দের রাজধানী হিসাবে হাত্তুসাকে পুনঃনির্মাণ করা হল। হাত্তিদের হিত্তীয় সংস্কৃতিতে আত্মীকৃত করে নেয়া হল।

তেল আল-আজ্জুলে দুর্গ বানাচ্ছে হিকসোরা।

১৬০০-১২০০ সিরিয়া এ সময় হিত্তীয়দের দ্বারা শাসিত হচ্ছে। মিসর ও সাইপ্রাসের সাথে উগারিতের ঘনিষ্ঠতার কাল।

১৬০০-৮০০ সিরিয়ার আলেপ্পো এ সময় হিত্তীয়দের নিয়ন্ত্রণে আছে।

১৬০০ এবলা রাজ্য ধবংস করে দিল আনাতোলিয়ার হিত্তীয়রা।

এডউইন স্মিথ প্যাপিরাস, একটি মিসরীয় মেডিকেল টেক্সট।

১৫৯৫ হিত্তীয়দের রাজা প্রথম মার্সিলি কর্তৃক ব্যাবিলনের ধবংসসাধন। পুরনো বাবেলীয় পর্বের অবসান ঘটল। ব্যাবিলনের “অন্ধকার যুগের” সূচনা হল।

১৫৯৫-১১৫৫ এ সময় ব্যাবিলনিয়া শাসন করছে কাসসাইট রাজবংশ।

১৫৭০-১০৬৯ নতুন রাজত্ব পর্ব

১৫৭০ হিকসোদের মিসর থেকে তাড়িয়ে দিলেন প্রথম আহমোস। ধবংস করে দিলেন তাদের রাজধানী আভারিস। জর্দান থেকেও হিকসোদের বিতাড়িত করলো মিসরীয়রা।

১৫৫০- ১০৭০ এ সময়ই কখনো লিখিত হয় ইজিপশিয়ান বুক অফ দ্য ডেড

১৫৫০ প্রতিষ্ঠিত হল হুররীয় রাজ্য মিত্তানি।

১৫০৪-১৪৯২ মিসরীয় সাম্রাজ্যকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করলেন ফারাও তুতমোস।

১৫০০-১৪০১ হাইল, তাইমা, আর দাইরাতের আল-কুরিয়াতে নির্মিত হচ্ছে দেয়ালঘেরা নগরী।

১৫০০-১২০০ তুরস্ক আর আর্মেনিয়ায় আদিবাসী গোষ্ঠীদের হায়াসা-আজ্জি কনফেডারেশন সমৃদ্ধি লাভ করছে।

১৫০০-১০০০ আধুনিক পণ্ডিতদের হিসেবে, পারস্যের নবি জরাথুস্ট্রের জীবনকাল। জরাথুস্ট্রবাদের পবিত্র বই আবেস্তা নামে পরিচিত, এসময়ই তা মৌখিকভাবে বিকশিত হতে শুরু করে। আবেস্তার সাথে ঋগ্বেদের বহু মিল পাওয়া গেছে।*
জরাথুস্ট্রবাদ সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে দেখুন, (Hartz 2009).

এ সময় কখনো উটকে পোষ মানানো হয়।

১৫০০ ফোরাত নদী পর্যন্ত সম্প্রসারিত হল মিসরীয় সাম্রাজ্য।

এ সময় মিসরে ছেলেদের খতনা বহুলপ্রচলিত প্রথা ছিল, ইহুদিরা প্রথাটি আত্মীকরণ করেন।

মিত্তানি রাজ্যের উত্থান।

১৪৭৯-৫৮ রানী হাতশেপসুতের শাসনামল।

১৪৭২ মিততানিরা অ্যাসিরিয়া দখল করে নিল।

১৪৫৮-২৫ ফারাও তৃতীয় তুতমোসের রাজত্ব।

১৪৫৮ কানান – ফিলিস্তিনের একটি প্রাচীন নাম – আক্রমণ করলেন ফারাও তৃতীয় তুতমোস। কাদেশ ও মেজিদ্দোর নেতৃত্বে গঠিত হল কানান, কাদেশ, মিত্তানি, ও মেজিদ্দোদের কানানীয় ঐক্যজোট। মেজিদ্দোর যুদ্ধ, কাদেশের রাজা দুরুশার নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটকে পরাস্ত করলেন ফারাও তৃতীয় তুতমোস।

১৪১৫ আমার্না যুগের সূচনা।

১৪০০-১৩৬৫ ভূমধ্যসাগরের উপকূলে এসময় উগারিত রাজ্যের বিকাশ ঘটছে। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আবিষ্কার করেছে একটি বর্ণমালা, যা বণিকরা পুরো পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

১৪০০-১৩০১ কেনানে মিসরীয় রাজ্যের রাজধানী হিসেবে গাজার প্রতিষ্ঠা।

১৪০০-১৩০০ মিসর সিরিয়াকে তার প্রভাববলয়ের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এই করতে গিয়ে সে হিত্তীয়দের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল।

১৪০০ মুসা নবির সময়।

স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করল অ্যাসিরিয়া।

১৩৮৬-৫৩ ফারাও তৃতীয় আমেনহোতেপের রাজত্ব।

১৩৮০ হিত্তীয়দের রাজধানী হাত্তুসাকে পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল কাসকা নামের একটি দখলদার গোষ্ঠী। হিত্তীয় সাম্রাজ্যে প্রথমবারের মত লোহা ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৩৬৩-৯১২ মধ্য অ্যাসিরীয় পর্ব

১৩৫৩-৩৬ ফারাও আখেনাতেনের রাজত্ব। তিনি ও তাঁর স্ত্রী নেফারতিতি মিসরের বহুদেবত্ববাদ ত্যাগ করে একপ্রকার একেশ্বরবাদ প্রচার করেন।* তাই ঐতিহ্যিক বহুদেবত্ববাদীদের নজরে তাঁরা ছিলেন ধর্মদ্রোহী।
*এই একেশ্বরবাদ ইহুদি-খ্রিস্টান-মুসলমানদের নিরাকার ঈশ্বরের ধর্ম না। আখেনাতেন সূর্যদেবতা আতেনকে একমাত্র ঈশ্বর মনে করতেন। তথাপি একেশ্বরবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ আখেনাতন।

১৩৫০-১২৫০ হিত্তীয় সাম্রাজ্য এ সময় উৎকর্ষের চূড়ায় আছে।

১৩৫০ মিত্তানি রাজ্য এ সময় সমৃদ্ধির শীর্ষ চূড়ায় আছে। হিত্তীয়দের হাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল মিতান্নিরা।

১৩৪৪-২২ হিত্তীয়দের রাজা প্রথম সুপ্পিলুলিউমা মিত্তানিদের রাজধানী ওয়াশুকান্নি ধবংস করে দিলেন এবং দ্বিতীয় আর্তাতামাকে পুতুল শাসক হিসাবে মিত্তানি সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসালেন।

১৩৩৬-২৭ ফারাও তুতেনখামুনের রাজত্ব।

১৩৩৪ সামোসের ডুরিসের মতে, ট্রয় যুদ্ধ ঘটার বছর।

১৩২৭-২৩ ফারাও আঈয়ের রাজত্ব। এসময় আখেনাতেনের একেশ্বরবাদের প্রভাব প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। মিসর ফিরে গেছে তার ঐতিহ্যিক বহুদেবত্ববাদী ধর্মে।

১৩২১ মিত্তানি সাম্রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল দখল করে নিল হিত্তীয়রা।

১৩২০ আঈকে উৎখাত করে ফারাও হলেন সেনাপ্রধান হোরেমহেব। হায়াসা-আজ্জি কনফেডারেশনের ওপর হামলা চালালেন হিত্তীয়দের রাজা দ্বিতীয় মুসিলি।

১৩২০-১২৯২ ফারাও হোরেমহেবের রাজত্ব।

১৩০৭-১২৭৫ প্রথম আদাদ নিরারির রাজত্বকাল।*
* অ্যাসিরিয়ার করদ রাজ্যে পরিণত হল মিততানি।

১২৯৫ ফারাও রামেসিস প্রতিষ্ঠান করলেন মিসরের ১৯তম রাজত্ব।

১২৯৪-৭৯ ফারাও প্রথম সেতির রাজত্ব।

১২৭৯-১২ ফারাও দ্বিতীয় রামেসিসের রাজত্বকাল।*
* সেমিটীয় একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের ফেরাউন এই দ্বিতীয় রামেসিস। যিনি ইহুদিদের বন্দী করে রেখেছিলেন এবং মুসা নবি যার অত্যাচারের হাত থেকে ইহুদিদেরকে রক্ষা করে কানানে – বর্তমান ফিলিস্তিন – নিয়ে যান। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত এই কথিত এক্সোডাসের পক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১২৭৪ কাদেশের যুদ্ধ। সিরীয় শহর কাদেশে মিসরের ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস আর হিত্তীয় রাজা দ্বিতীয় মুওয়াতাল্লির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অমীমাংসিত, দুই পক্ষই নিজেকে বিজয়ী দাবি করে।

১২৬৪-৪৪/১২৪৪-২৪ আবু সিম্বেল মন্দির নির্মাণের সম্ভাব্য সময়কাল।

১২৫৮ মিসরের ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস ও হিত্তীয়দের সম্রাট তৃতীয় হাত্তুসিলির মধ্যে শান্তি চুক্তি সই।*
* নথিবদ্ধ ইতিহাসের প্রথম শান্তি চুক্তি বিবেচিত হয়।

১২৪৫ নিহরিয়ার যুদ্ধ। অ্যাসিরিয়ার সম্রাট প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তা হিত্তীয়দের সম্রাট চতুর্থ তুদাহালিজাকে পরাজিত করলেন।

১২৫৮ কাদেশের সন্ধি, মিসরীয় ও হিত্তীয়দের মধ্যে শান্তি চুক্তি সাক্ষরিত হল, যা ইতিহাসের প্রথম শান্তি চুক্তি।

১২৫০-১২০০ হিব্রুদের কেনানে আগমন।* মুসার নবুয়ত লাভ। তাবুতে সাকিনা বা “আর্ক অফ দ্য কোভেন্যান্ট”।
* ইহুদি বাইবেলে লেখা আছে, ইহুদিরা মিসর থেকে বিতাড়িত হয়ে যাযাবরের মত সিনাই উপত্যকায় ঘুরতে ঘুরতে শেষে জোশুয়ার নেতৃত্বে জয় করে কেনান। স্থানীয়দের – আজকের ফিলিস্তিনিদের পূর্বপুরুষ – ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। মাসালহার মতে, এই ধর্মীয় বক্তব্যের পক্ষে কোন ঐতিহাসিক-প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই; বাইবেলীয় বয়ানগুলোর ক্ষেত্রে যা একটি সাধারণ সত্য। (Masalha 2018)

১২৫০-১১৫০ এ সময় বহু কনানীয় শহর ধ্বংস হয়।

১২৫০ মিততানি রাজ্য জয় করলেন অ্যাসিরিয়ার সম্রাট প্রথম শালমানেসের, পরাজিত করলেন রাজ্যটির সব মিত্রকে।

হেরোডোটাসের মতে, ট্রয় যুদ্ধ ঘটার বছর।

১২৪৫ নিহরিয়ার সমর। হিত্তাইতদের চতুর্থ তুদাহালিজাকে পরাজিত করলেন অ্যাসিরিয়ার প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তা। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় অ্যাসিরীয় শাসন কায়েম হল।

১২৪৪-১২০৮ প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তার রাজত্বকাল।*
* হিত্তাইতদের জয় করল অ্যাসিরিয়া।

১২২৫ ব্যাবিলনকে ধ্বংস করলেন তুকুলতি-নিনুর্তা।

১২২০ ব্যাবিলন এ সময় অ্যাসিরিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে।

১২০০-১১৫০ আরামীয় নামের আরেকটি সেমিটিকভাষী গোষ্ঠীর সিরিয়ায় আগমন, কালক্রমে এরা দেশটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

১২০০-১১০১ ফিলিস্তিয়ার পাঁচটি প্রধান শহরের একটিতে পরিণত হল গাজা।

১২০০-৮০০ ফিনিশীয় উপনিবেশায়নের প্রথম ঢেউ। পুরো ভূমধ্যসাগর জুড়ে ফিনিশীয়রা বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে।

১২০০-৬২৫ এ সময় আনাতোলিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চল ফ্রিজীয়দের নিয়ন্ত্রণে আছে।

১২০০-৫৫০ জর্দানে লৌহ যুগ।*
* চারটি সেমিটিক গোষ্ঠী অঞ্চলটিতে বসতিস্থাপন করল।

১২০০ নব্যহিত্তীয় রাজ্য হিসাবে লিডিয়ার উত্থান ঘটল। ফ্রিজীয় নামের একটি সমুদ্রচারী গোষ্ঠী আনাতোলিয়ায় হামলা চালাল। হিত্তীয় সাম্রাজ্যের পতন।

লেভান্তে* হামলা চালাল সমুদ্রচারী মানুষেরা। সিরিয়ায় আগ্রাসন চালালো। ধবংস করে দিলো উগারিত রাজ্য।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

১১৮৫-৬৮৭ এ সময় লিডিয়া শাসন করছে হেরাক্লীয় রাজবংশ।

১১৮৪-৫৩ ফারাও তৃতীয় রামেসিসের রাজত্ব।

১১৮৪ এরাতোস্থেনেসের মতে, ট্রয় যুদ্ধ ঘটার বছর।

১১৮০ সমুদ্রচারী গোষ্ঠীদের আক্রমণের শিকার হল মিসর।

১১৭৮ সমুদ্রচারী গোষ্ঠীদের পরাস্ত করলেন রাজা দ্বিতীয় রামেসিস।

১১৫০-৯০০ লৌহ যুগ, ইস্রাইল নামের কথিত যুক্তরাজ্যের কাল।*
* এই কথিত যুক্তরাজ্যের পক্ষে এক বাইবেলের বর্ণনা ছাড়া আর কোনো ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

১১২০ অনেক পুরোনো একটি পাঠ্য থেকে তৈরি করা হল সুমেরীয় এনুমা এলিশের (সৃষ্টি কাহিনী) বিদ্যমান প্রতিলিপি।

১১১৫-১০৭৬ প্রথম টিগলাথ-পিলেসারের রাজত্বকাল।*
* ফিনিশিয়া জয় করেন।

১১১৫-৬১২ জর্দান এ সময় অ্যাসিরীয় ও নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের অংশ।

১১১০ প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ কাদিজ।

১১০১ প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ উটিচা।

১১০০ ফিনিশীয় বর্ণমালা।

১০৮০-৭২ ইয়াহওয়েহ বা জিহোভা (יהוה‎) এ সময় ইস্রাইল নামের কথিত যুক্তরাজ্যের দরবারি উপাস্য হয়ে উঠেছেন। পরবর্তীকালে তিনি জুদাহ/জুদিয়া রাজ্যের উপাস্যে পরিণত হবেন। কালক্রমে হয়ে উঠবেন ইহুদিদের একমাত্র উপাস্য।

১০৮০ মেসোপটেমিয়ায় আরামীয়দের আগ্রাসন।

১০৬৯-৫২৫ তৃতীয় মধ্যবর্তী পর্ব

পূর্বসাল ১০০০-২৭৫ সাল দক্ষিন আরবে সাবা রাজ্য

১০২০ শমূয়েল কর্তৃক ইস্রাইল নামের কথিত যুক্তরাজ্যের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হলেন শৌল।

১০২০-১০০৪ রাজা শৌলের রাজত্বকাল।

১০০৪-৯৬৫ রাজা দাউদের রাজত্বকাল।

১০০৪/১০০৩ রাজা দাউদ জেরুসালেমে তাঁর ইহুদি রাজ্যের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করলেন।*
* জেরুসালেম ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলমান – এই তিন একেশ্বরবাদী সম্প্রদায়ের চোখেই এক পবিত্র নগরী। পশ্চিম দেয়াল, দ্য চার্চ অফ দ্য হোলি সেপুলচার, আর আল আকসা মসজিদ এই নগরীর ওল্ড সিটিতে অবস্থিত। “জেরুজালেম এক ঈশ্বরের ঘর, দুই জাতির রাজধানী, তিন ধর্মের মন্দির, আর একমাত্র শহর যা অস্তিত্বশীল ছিল দুইবার – একবার স্বর্গে আর একবার মর্ত্যে।” (Montefiore 2011)

১০০০-১ ইহুদি বাইবেলের প্রথম পাঁচটি বইকে তোরাহ (תּוֹרָה) বলে, গ্রিকে যা পেন্টাটিউখ (πεντάτευχος) নামে পরিচিত। তোরাহ মানে আইন বা শিক্ষা বা নির্দেশনা। তোরাহের অন্তর্ভুক্ত বইগুলো হল আদিপুস্তক (בְּרֵאשִׁית), যাত্রাপুস্তক (שְׁמוֹת), লেবীয় পুস্তক (וַיִּקְרָא), গণনাপুস্তক (בְּמִדְבַּר), এবং দ্বিতীয় বিবরণ (דְּבָרִים)।

এই সহস্রাব্দেই তোরাহ লিখিত রূপ লাভ করে।

আমাদের জানাশোনার মধ্যে প্রথম স্বাধীন আরব রাষ্ট্র এ সময় দুমাতুল জান্দালে* আবির্ভূত হয়। পরিবহনের কাজে আরবের সর্বত্র উট ব্যবহৃত হচ্ছে।
* আধুনিক নাম আল-জউফ।

১০০০ এ সময় টায়ার নগররাষ্ট্র সমৃদ্ধির শীর্ষে আছে। সিদনের রাজা হলেন আহিরাম। এ বছরই ব্যাবিলোসের আহিরাম মারা যান, যার শবাধারে ফিনিশীয় বর্ণমালার প্রাচীনতম শিলালিপি খোদিত আছে।

এশিয়ার স্তেপ থেকে পারস্যে অভিবাসিত হল সিথিয়ানরা। চালদীয়রা দখল করে নিল উর।

সম্ভবত এ সময়ই তোরাহের জে উৎস লিপিবদ্ধ হয়।

৯৬৯-৯৩৬ টায়ারের রাজা হিসেবে প্রথম হিরামের রাজত্বকাল।

৯৬৫ ইস্রাইল নামের কথিত যুক্তরাজ্যের রাজা হলেন সোলেমান।

৯৬১-৯২৮ ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময়ই কখনো রাজা সোলেমান নির্মাণ করেন জেরুসালেমের প্রথম মন্দির।*
* এই মন্দির যে আদৌ রাজা সোলেমান নির্মিত তার পক্ষে কোন ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

৯৫০ ইস্রাইলিরা আনুমানিক এ সময় জর্দান জয় করে।

৯২৮/৯২৫ ইস্রাইল এ বছর দক্ষিণে জুদাহ/জুদিয়া আর উত্তরে ইস্রাইল নামে দুটি আলাদা রাজ্যে ভাগ হয়ে গেল

৯১২-৮৯১ দ্বিতীয় আদাদ নিরারির রাজত্বকাল।

৯১২-৬১২/৯১১-৬০৯ নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য

৯০০-৮০১ থাজ আর নাজরানে বসতি স্থাপিত হল।

৯০০-৮০০ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নয়া হিত্তীয় আরামীয় রাজ্যগুলোর উত্থান। দক্ষিণে আরাম-দামিশক রাজ্য। ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাজ্য দাউদ আর সোলেমানের ইস্রাইল রাজ্যের সম্প্রসারণ রুখে দিয়েছিল।

অ্যাসিরীয় সভ্যতা থেকে টিকে থাকা স্ফিংস, সাধারণত প্রাসাদের বাইরে প্রহরী হিসেবে রাখা হতো।

৯০০-১০১ আল-ফাউ এ সময় সমৃদ্ধি লাভ করে।

৯০০ সম্ভবত এ সময়ই তোরাহের ই উৎস লিপিবদ্ধ হয়।

৮৮৪-৮৫৯ প্রথম আশুরনাসিরপালের রাজত্বকাল।*
* রাজধানী আশুর থেকে সরিয়ে কালহুতে নিয়ে যান।

৮৬৮ অ্যাসিরীয়দের ফিনিশিয়া বিজয়।

৮৫৪ অ্যাসিরীয়রা এ সময় জর্দানে আগ্রাসন চালায়।

৮৫৩ এ সময় থেকে প্রাপ্ত একটি কিউনিফর্মে অ্যাসিরীয় রাজা তৃতীয় শালমানেসারের কারকারের সমরয়ের কথা বলা হল। যেখানে আরিবি শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। যার অর্থ: “যাযাবর”। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত আরবরা উল্লিখিত হল। অ্যাসিরীয় শিলালিপি থেকে আরো জানা যায়, গিন্দিবু নামের এক আরব অ্যাসিরীয়দের একটি শত্রু বাহিনীকে উট সরবরাহ করেছিল।

এ সময় ব্যাবিলনের রাজারা অ্যাসিরিয়ার সামরিক তাকতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

৮৫০ এশিয়া থেকে প্রাচীন পারস্যে অভিবাসিত হল মিদীয়রা। ফ্রিজীয় রাজ্যের রাজধানী হয়ে উঠল গর্ডিয়াম। জর্দানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেন মোয়াবের রাজা মেশা।

৮৪১ উত্তরের ইস্রাইল রাজ্য এ সময় অ্যাসিরিয়াকে খাজনা দিচ্ছে।

৮৩৯-৮৩০ অ্যাসিরীয় রাজা তৃতীয় শালমানেসারের বর্ষপঞ্জিতে প্রথমবারের মত লিখিত হরফে পারসিকদের উল্লেখ করা হল।

৮২৪-৮১১ চতুর্থ শামসি আদাদের রাজত্বকাল।*
* তাঁর শাসনামলেই কখনো অ্যাসিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেছিল।

৮২০-৭৭৪ টায়ারের রাজা হিসেবে পিগম্যালিয়নের রাজত্বকাল।

৮১৪ প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ কার্থেজ।

৮০০-৭০০ মহাকবি হোমার এ সময়ই লিখছেন ইলিয়াড ও ওডিসি।*
* ইজিয়ান পারের শহর স্মিরনায় জন্মেছিলেন হোমার, আজকে অবশ্য শহরটি তুর্কি নামে পরিচিত: ইজমির

৮০০-৬০০ ফিনিশীয় উপনিবেশায়নের দ্বিতীয় ঢেউ। পুরো ভূমধ্যসাগর জুড়ে স্থাপন করা বাণিজ্যকুঠিগুলো পূর্ণ উপনিবেশে পরিণত হল।

পূর্বসাল ৮০০-১০০ সাল দক্ষিণ আরবে মাঈন রাজ্য

৮০০ সাবাঈরা উর্বর চন্দ্রকলার সাথে ব্যবসা করছেন।

৭৫০-৭০০ জাগরোস পর্বতমালার ওপর বসবাসকারী মিদীয় গোষ্ঠীর ওপর অ্যাসিরীয় সম্রাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৭৫০-৬০০ মধ্য আনাতোলিয়ায় ফ্রিজীয় রাজ্য; পূর্ব আনাতোলিয়ায় উরার্তু রাজ্য।

৭৫০-২৫০ মাঈন রাজ্যের একটা ফাঁড়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল মাদাইন সালেহ।

৭৫০ মিসরে লোহার ব্যবহার শুরু হল। ব্যাবিলনে নির্মিত হল অত্যাধুনিক জলপ্রণালী ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ কার্থেজ।

উত্তর আরবে এ সময় কেদার নামে একটি গোষ্ঠীগত ফেডারেশন গড়ে উঠেছে।

৭৪৫-৭২৭ তৃতীয় টিগলাথ পিলেসারের রাজত্বকাল।*
* সরকার ও সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন, এবং সাম্রাজ্যকে সম্প্রসারিত করেন।

৭৪৫ অ্যাসিরীয় সম্রাট দ্বিতীয় টিগলাথ পিলেসার ব্যাবিলনের রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ব্যাবিলনের ওপর অ্যাসিরীয় শাসন চাপিয়ে দিলেন।

৭৩৮-৬৯৬ ‘মুশকির মিতার’ রাজত্বকাল।*
* প্রাচীন ফ্রিজীয় শিলালিপি ও অ্যাসিরীয় উৎসগুলোতে তাঁকে এই নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রিক পুরাণে মাইডাস নামে এক রাজার কথা বলা আছে, দেবতার বরে যিনি চাইলেই কোনকিছু স্পর্শ করে স্বর্ণ বানিয়ে ফেলতে পারতেন। অনেকে মনে করেন, ‘মুশকির মিতা’ই রাজা মাইডাস।

৭৩৪ চালদীয়রা দখল করে নিল ব্যাবিলন।

৭৩৪ অ্যাসিরীয়দের গাজা জয়।

৭৩২ এশিরীয়রা দামিশক জয় করে এবং আরাম-দামিশক রাজ্য ধবংস করে দেয়।

৭৩০ আরবদের রানী শামসিকে পরাজিত করলেন অ্যাসিরীয়রা।

৭২৯ ব্যাবিলনে অ্যাসিরীয় দখলদারিত্ব।

৭২৮-৬৬৮ জাকুতু।*
* সেনাচেরিবের স্ত্রী, এসারহাদ্দোনের মা এবং আশুরবনিপালের দাদী। অ্যাসিরিয়ার ইতিহাসে তিনিই একমাত্র নারী যিনি নিজ নামে নির্মাণ প্রকল্প কমিশন করতেন কিংবা চুক্তি সম্পাদন করতেন।

৭২৭-৭২২ পঞ্চম শালমানেসেরের রাজত্বকাল।

৭২৭-৬৭৫ মিদীয়রা তাঁদের রাজা দায়ুককুর রাজত্বকালে ঐক্যবদ্ধ হলেন।

৭২২-৭০৫ দ্বিতীয় সারগনের রাজত্বকাল।*
* রাজধানী কালহু থেকে সরিয়ে দুর-শাররুকিনে যান। অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য এ সময় সমৃদ্ধির শীর্ষে ছিল।

৭২২ অ্যাসিরীয়রা সামারিয়া ও উত্তরের ইস্রাইল রাজ্য জয় করল। ইস্রাইল রাজ্যের উচ্চকোটিকে নির্বাসনে পাঠাল।

৭১৩ অ্যাসিরিয়ার যুবরাজ সেনাচেরিবের সাথে জাকুতুর বিয়ে হল।

৭১২-৬৭১ এ সময় মিসর শাসন করছেন কুশীয়রা।

৭০৯ অ্যাসিরিয়ার রাজা দ্বিতীয় সারগনের সাথে জোট বাঁধলেন মুশকির মিতা।

৭০৯-৬৯৯ অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যকে খাজনা প্রদান করছে সাইপ্রাস।

৭০৫-৬৮১ সেনাচেরিবের রাজত্বকাল।

৭০৫ সেনাচেরিব রাজধানী দুর-শাররুকিন থেকে সরিয়ে নিনেভেতে নিয়ে যান।

৭০১ জুদাহয়ের লাচিশ শহরটি ধবংস করে দিলেন সেনাচেরিব, তবে জেরুসালেম দখল করতে ব্যর্থ হলেন।

৭০০-৬৯৮ নিনেভের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাল। পার্ক এবং সম্ভবত ঝুলন্ত উদ্যান নির্মাণ করেন সেনাচেরিব।

৭০০-৬০১ অ্যাসিরীয়রা তাদের পুতুল রানী তাবুয়াকে কেদারের ক্ষমতায় বসালেন।

৭০০-৫৪৬ এ সময় লিডিয়া শাসন করছে মার্মনা রাজবংশ।

৭০০ ফিনিশীয়দের কাছ থেকে ত্রিরেম বানানো শিখলো করিন্থীয়রা।

৬৯৮-৬৯৪ এলাম ও ব্যাবিলনের সাথে যুদ্ধে জড়ালো অ্যাসিরিয়া।

৬৯৬ সিমেরীয়রা ফ্রিজিয়ার রাজধানী গর্ডিয়াম ধবংস করে দিল।

৬৯৪ মসনদের উত্তরাধিকারী যুবরাজ আশুর-নাদিন-সুমির মৃত্যুর সম্ভাব্য বছর।

৬৮৯ ব্যাবিলনকে ধ্বংস করা হল।

৬৮৭-৫২ এ সময় লিডিয়া শাসন করছেন রাজা গাইগেস। তিনি রাজ্যের সীমান্ত সম্প্রসারণ করেন। সার্ডিসকে লিডিয়ার রাজধানী করা হয়।

৬৮৫ এসারহাদ্দোন ও আশুর-হামাতের ঘরে জন্ম নিলেন আশুরবনিপাল।

৬৮৩ জাকুতুর পুত্র এসারহাদ্দোনকে নিজ ওয়ারিশ হিসেবে মনোনীত করলেন সেনাচেরিব।

৬৮১ নিজের দুই পুত্রের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন সেনাচেরিব।

৬৮১-৬৬৯ এসারহাদ্দোনের রাজত্বকাল।*
* সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত করেন। এ সময় রানী দোওয়াগের হিসেবে তাঁর মা জাকুতুর উত্থান ঘটে।

৬৭৭-৬৭৩ নিনেভেতে এসারহাদ্দোনের জন্য নিজ নামে একটি প্রাসাদ নির্মাণের হুকুম দিলেন জাকুতু।

৬৭৬ অ্যাসিরিয়ায় সিথীয় ও মান্নাইয়ানরা একযোগে হামলা চালাল।

৬৭৫-৬৪০ পারসিকরা তাঁদের রাজা তেইসপেসের রাজত্বকালে পারসিসে বসতিস্থাপন করল।

৬৭১ মিসরে দ্বিতীয়বারের মত অভিযান চালালো অ্যাসিরীয়রা। অ্যাসিরীয় সেনাবাহিনী সফলভাবে মেম্ফিস দখল করতে সক্ষম হল। অ্যাসিরীয়দের মিসর জয়।

৬৭০-৬৬৮ আনুগত্য চুক্তি জারি করলেন অ্যাসিরিয়ার রানী নাকিয়া-জাকুতু, যা আশুরবনিপালের রাজা হিসেবে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করে।

৬৭০ মিদিয়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাল অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য। এ সময় উত্তর আরবের ভেতর দিয়ে সিরিয়া জয় করতে যাচ্ছেন অ্যাসিরীয় সম্রাট।

৬৬৯ মিসরে নিজ শাসন পোক্ত করার পথে মারা যান এসারহাদ্দোন।

৬৬৮-৬২৭ আশুরবনিপালের রাজত্বকাল।*
* নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের শেষ রাজা।

৬৬৭-৬৬৫ মিসরীয় বিদ্রোহ দমন করলেন অ্যাসিরীয় সম্রাট আশুরবনিপাল।

৬৫৩ অ্যাসিরীয়দের মিসর থেকে বিতাড়িত করা হল।

৬৫৩-৬৪৮ অ্যাসিরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো ব্যাবিলন। ব্যাবিলন ঘেরাও করা হল।

৬৪৮ অ্যাসিরীয় ও এলামীয়দের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে গেল।

৬৪৭-৬২৯ নিনেভেতে এ সময়কালের মাটির ফলকের বিশাল সংগ্রহ পাওয়া গেছে যা আশুরবনিপালের পাঠাগার নামে পরিচিত।

৬৪৬ এলামীয় শহর সুসা ধ্বংস করলেন আশুরবনিপাল।

৬৪০ অ্যাসিরিয়ার রাজা আশুরবনিপালের বশ্যতা স্বীকার করলেন পরসুমাশের রাজা কুরুশ।

৬৪০-৫৫০ মিদিয়ার ক্ষমতার উৎকর্ষকাল।

৬৩৫-৫৮৫ এসময় লিডিয়া শাসন করছেন রাজা আলিয়াত্তেস।*
* নথিবদ্ধ ইতিহাসের প্রথম কয়েনগুলো এসময়ই তৈরি হয় লিডিয়ায়, যা তৈয়ারে ব্যবহৃত হয়েছিল ইলেকট্রাম।

৬২৮-৫৫১ পাহলবি উৎসগুলোতে দেয়া পারস্যের নবি জরাথুস্ট্রের জীবনকাল। এসব উৎসের ঐতিহাসিকতা খুব মজবুত না। সাম্রাজ্যিক প্রচারণা মনে হয়।

৬২৭ আশুরবনিপালের মৃত্যুতে সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে শুরু করলো।

৬২৬-৫২৯ নব্য-বাবেলীয় সাম্রাজ্য

৬২৬ যিরমিয়র নবুয়ত লাভ।

৬২৫ লিডীয়রা ফ্রিজিয়া থেকে সিমেরীয়দের তাড়িয়ে দিল ও ফ্রিজীয়দের রাজ্যটি জয় করে নিল।

৬২১ সম্ভবত এ সময়ই তোরাহের ডি উৎস লিপিবদ্ধ হয়।

৬১২ আশুর, কালহু ও নিনেভের মত অ্যাসিরীয় শহরগুলো ধ্বংস করলো ও পুড়িয়ে দিলো মিদীয়, ব্যাবিলনীয় ও পারসিক বাহিনী।

৬০৯ অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের পতন।

পূর্বসাল ৬০৯-২৪০ সাল অ্যাসিরিয়ার সাম্রাজ্যোত্তর পর্ব

৬০৫-৫৬২ দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের রাজত্বকাল।*
* মুসলিম পরম্পরায় ইনি বখতে নসর নামে পরিচিত।

৬০৫-৫৪৯ সিরিয়া এ সময় নব্য বাবেলীয়দের শাসনের অধীনে আছে।

৬০১ মিসর দখলের একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালালেন বাবেলের সম্রাট দ্বিতীয় নেবুশেডনেজার।

গাজায় বাবেলীয় দখলদারিত্ব।

৬০০-৩০০ কুয়েতের ফাইলাকা* দ্বীপে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করল গ্রিকরা।
* গ্রিকদের কাছে দ্বীপটা ইকারোস নামে পরিচিত ছিল।

৬০০-১ তুরস্কের পারসিক অধীনস্ততার কাল। বর্তমান ইস্তানবুল এ সময় একটি ছোট উপনিবেশ ছিল। গ্রিক শহর মেগারা ছেড়ে আসা বসতি স্থাপনকারীরা বসফরাসের ইওরোপীয় অংশে এটি স্থাপন করেছিল, তবে তখন এর নাম ছিল বাইজেন্টিয়াম

৬০০ বাবেলীয়দের ফিনিশিয়া বিজয়।

৫৯৭ জেরুসালেম জয় করলেন ব্যাবিলনিয়ার রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার।

৫৯৭-৫৮৭ ইহুদিদের ব্যাবিলনিয়ায় নির্বাসিত করা হল।

৫৮৭/৫৮৬ বাবেলীয়রা জেরুসালেমের প্রথম মন্দির ধবংস করে দিল। জুদিয়ার এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দাকে বাবেলে নির্বাসিত করল।

৫৮৭-৫৩৯ ইহুদিদের ব্যাবিলনিয়ায় নির্বাসিত থাকার বছরগুলো।

৫৮৫ মিদিয়ার রাজা হলেন অস্তাইজেস। লিডিয়ার সাথে যুদ্ধ। ফল অনির্ধারিত হওয়ায় শান্তিচুক্তি সই হল।

৫৮০ ব্যাবিলনীয়রা আনুমানিক এ সময় জর্দানে আগ্রাসন চালায়। ইহুদিদের উপাসনা স্থান হিসাবে সিনাগোগের বিকাশ ঘটল।

৫৭৫ ইশতার গেট ও ব্যাবিলনের মহাপ্রাচীরগুলো নির্মাণ করলেন বখতে নসর।

৫৬০-৪৬ মিসরীয় সাম্রাজ্যকে খাজনা প্রদান করছে সাইপ্রাস।

৫৬০ লিডিয়ার রাজা ক্রসাস পারসিক সাম্রাজ্যে হামলা চালান।*
* এই হামলা চালানোর আগে পরামর্শের জন্য ক্রসাস ডেলফি আর থিবসের ওরাকলের কাছে গেলে দুই ওরাকলই তাঁকে জানায়, যুদ্ধে এক বৃহৎ সাম্রাজ্য ধবংস হবে। যুদ্ধ শেষে দেখা গেল ভবিষ্যৎবাণী সঠিক ছিল। যুদ্ধে আসলেই এক বৃহৎ সাম্রাজ্য ধবংস হয়ে যায়, আর সেই সাম্রাজ্যটি হল – লিডিয়া।

৫৫৯ পারস্যের রাজা হলেন কুরুশ।

৫৫৯-৫৩০ কুরুশের রাজত্বকাল।

৫৫০ মিদিয়ার রাজা অস্তাইজেসকে পরাস্ত করলেন কুরুশ।

ব্যাবিলনের বন্দীদশায় ইহুদিদের মধ্যেমসীহ ধারণার বিকাশ ঘটে। শব্দটির মানে ত্রাণকর্তা। এসময় থেকেই ইহুদিরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন; একজন মসীহ আসবেন, এবং তাঁদের সব দুঃখদুর্দশার অবসান ঘটাবেন।

৫৫০-৫০১ কৃষ্ণসাগর আর ইজিয়ান সাগরের তীরে কিছু গ্রিক উপনিবেশ গড়ে ওঠে।

৫৫০-৩৩০ হাখমানেশি সাম্রাজ্য*
* ৫৫০ পূর্বসালে পারস্যের কুরুশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। যিনি সাইরাস দ্য গ্রেট নামে অধিক পরিচিত। দরবারি ধর্ম হিসেবে জরাথুস্ট্রবাদ গ্রহণ করে নেয়। তবে হাখমানেশি সম্রাটরা ধর্ম প্রশ্নে উদার ছিলেন। তাঁরা সাম্রাজ্যবিস্তার করেছেন। কিন্তু বিজিতদের ওপর নিজেদের ধর্ম চাপিয়ে দেননি। হাখমানেশি সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, (Brosius 2020; Waters 2014).

হাখমানেশি সাম্রাজ্যের শেষদিকে জরবানবাদের বিকাশ শুরু হয়।*
* জরাথুস্ট্রবাদের একটি শাখা। তবে জরবানবাদকে জরাথুস্ট্রবাদের “হেরেসি” বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হল, দুটি ক্ষেত্রে জরবানবাদ এমন বিশ্বাস প্রচার করে, যার জরাথুস্ট্রবাদের বিশ্বাসের সাথে একেবারে সরাসরি সাংঘর্ষিক: (১) জরবানবাদ দাবি করে, সুনীতির প্রতীক আহুরা মাজদা আর দুর্নীতির প্রতীক আংরা মান্যু আসলে যমজ ভাই, দুজনেই সৃষ্ট। প্রকৃত সৃষ্টিকর্তার নাম জরবান আকারানা, “অসীম সময়।” তাই একমাত্র অসীম সময়ই মানুষের উপাসনার যোগ্য। (২) জরবানবাদ দাবি করে, মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা নেই; কেননা সময়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। মানুষ নিয়তির হাতের পুতুল।

হাখমানেশি সাম্রাজ্যে নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে আবেস্তা। গ্রিক সূত্রগুলো বলছে, এ সময়ই পারস্য জুড়ে দেখা দেয় অগ্নি মন্দির, জরাথুস্ট্রবাদের উপাসনাস্থল। জরাথুস্ট্রীরা ‘অগ্নিপূজারী’, এরকম একটি ভুল ধারণা রয়েছে; বাস্তবে আগুন অপার্থিবের একটি প্রতীক মাত্র।

৫৪৯-৫৪০ কুরুশের লিডিয়া জয়।*
* লিডিয়ার রাজা ক্রসাস হাখমানেশি সাম্রাজ্যে হামলা চালান। এই হামলা চালানোর আগে পরামর্শের জন্য ক্রসাস ডেলফির ওরাকলের কাছে গেলে ওরাকল তাঁকে জানায়, এই যুদ্ধে এক বৃহৎ সাম্রাজ্য ধবংস হবে। যুদ্ধ শেষে দেখা গেল ওরাকল ঠিকই অনুমান করেছিল, যুদ্ধে আসলেই এক বৃহৎ সাম্রাজ্য ধবংস হয়ে যায়, তবে সেই সাম্রাজ্যটি হল – লিডিয়া।

৫৪৯-৩৩০ জর্দান এ সময় হাখমানেশি সাম্রাজ্যের অংশ।

৫৪৯-৩০০ সিরিয়ায় পারসিক শাসন।

৫৪৭ হাখমানেশিদের আনাতোলিয়া জয়। ফ্রিজিয়া পারস্য সাম্রাজ্যের একটি সত্রপিতে* পরিণত হল।
* প্রাচীন ফারসি ভাষায় ‘সত্রপ’ বলতে প্রদেশরক্ষক বোঝায়, সংস্কৃতে ক্ষত্রপ এসেছে এই সত্রপ থেকে।

৫৪৬ সিপ্রিয়ট নেতাদের আহবানে সাইপ্রাস দখল করল হাখমানেশিরা।

৫৪৫-৪০ বর্তমান মধ্য এশিয়ায় অভিযান চালালেন কুরুশ।

৫৩৯ কুরুশের ব্যাবিলন জয়। ইহুদিদের ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিলেন কুরুশ।* পুরো উর্বর চন্দ্রকলা** হাখমানেশিদের নিয়ন্ত্রণে চলে এল।
* বাইবেলের ইসায়ার কেতাবে কুরুশকে মসীহা বলা হয়েছে। কুরুশের সাথে অনেক ইহুদিই ইরানে চলে আসেন। এই ইহুদিরাই হলেন আজকের ইরানি ইহুদিদের পূর্বপুরুষ।
** এই অঞ্চলটি সভ্যতার দোলনা বলে বিবেচিত হয়। বর্তমান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন, এবং মিসর, তুরস্ক ও ইরানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত উর্বর চন্দ্রকলা অঞ্চল। ১৯১৬ সালে মিসরবিদ জে. এইচ. ব্রেস্টেড প্রথমবারের মত ‘উর্বর চন্দ্রকলা’ পদটি ব্যবহার করেন।

৫৩৯-৫১০ পাসারগাদে মূল নির্মাণকাজ সমাপ্ত হল।

৫৩৯-৩৩০ সম্ভবত এ সময়ই তোরাহের পি উৎস লিপিবদ্ধ হয়।

৫৩৮ কুরুশের ফিনিশিয়া বিজয়।

৫৩০ সমরে কুরুশের মৃত্যু। নতুন সম্রাট হলেন ক্যামবিসেস। হাখমানেশিদের সিন্ধু বিজয়।

৫৩০-৫২২ দ্বিতীয় ক্যামবিসেসের রাজত্বকাল।

৫২৯ পারস্যের রাজা খসরুর হাতে ব্যাবিলনের পতন ঘটল। গাজা একটি পারসিক সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হল।

৫২৫-৪০৪ ক্যামবিসেসের মিসর বিজয়।

৫২৫ মিসরীয় পলিম্যাথ ইমহোতেপের ওপর দেবত্ব আরোপিত হল। পারস্যের রাজা দ্বিতীয় ক্যামবিসাস পেলুসিয়াম জয় করলেন। ৩৪১ পূর্বসালে পারস্যের মিসর জয় সম্পূর্ণ হবে।

৫২২ এপ্রিল দ্বিতীয় ক্যামবিসেসের মৃত্যু। মসনদে বসে মাত্র ৬ মাস রাজত্ব করার পর দারিয়ুস ও তাঁর ৬ সহযোগীর হাতে খুন হলেন বারদিয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দারিউস হিসেবে মসনদে বসলেন দারিউস, এবং ক্ষমতায় এসেই বাবেলীয়দের একটি বিদ্রোহ দমন করলেন।

৫২২-৪৮৬ প্রথম দারিউসের রাজত্বকাল।

৫২১ হাখমানেশি সাম্রাজ্যজুড়ে অসংখ্য বিদ্রোহ দেখা দিল, এসব বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করলেন প্রথম দারিউস।

৫২০-৫১৯ বেহিস্তুন লিপি কমিশন করলেন প্রথম দারিউস।

৫২০-৫১৫ বাবেলের বন্দীত্ব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ইহুদিরা জেরুসালেমে ফিরলেন।

৫২০ পারস্যের রাজা দারিউস একটি খালের মাধ্যমে নীল নদকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করলেন।

৫১৯-৫১০ প্রাচীন পারসিক উপাসনা ও উৎসবকেন্দ্র পার্সিপোলিস নির্মিত। ইওরোপ ও ভারতে অভিযান চালালেন প্রথম দারিউস।

৫১৬/৫১৫ জেরুসালেমে নির্মিত হল ইহুদিদের দ্বিতীয় মন্দির।

পূর্বসাল ৫১৫-৭০ সাল দ্বিতীয় মন্দির পর্ব, ইহুদিধর্ম* এ সময়ই সংগঠিত ধর্মের রূপ লাভ করে। এই পর্বেই ইহুদিদের পবিত্র বইগুলো কানুনীকৃত হয়। ইয়াহওয়েহ বা জিহোভা (יהוה‎) একমাত্র উপাস্য হয়ে ওঠেন।
* ইহুদিধর্ম সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে দেখুন, (Morrisson & Brown 2009).

৫১৩ প্রথম দারিউসের সিথিয়া অভিযান।

৫১২-১১ থ্রেসে পারস্যের দখলদারিত্ব।

৫০৯-২৭ রোমক প্রজাতন্ত্র

পূর্বসাল ৫০০-১০০ সাল উত্তর-পশ্চিম আরবে লিহইয়ান রাজ্য।*
* এর রাজধানী ছিল দাইদানে, বর্তমানে আল-উলায়।

৫০০-৪০১ মিসরের বিরুদ্ধে নিজেদের সীমান্ত রক্ষার কাজে আরবদের নিয়োগ দিলেন হাখমানেশিরা।

৫০০ আনুমানিক এ সময় জর্দানে আসে নাবাতীয় আরব গোত্র।

৪৯৯ নাক্সোসে একটি হাখমানেশি অভিযান ব্যর্থ হয়ে গেল।

৪৯৯-৪৯৩ আয়োনীয় বিদ্রোহ।

৪৯০ ম্যারাথনের যুদ্ধ।

৪৮৬ প্রথম দারিউসের মৃত্যু। নতুন সম্রাট প্রথম জেরজেস। হাখমানেশি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মিসরে বিদ্রোহ দেখা দিল।

৪৮৬-৪৬৫ প্রথম জেরজেসের রাজত্বকাল।

৪৮৫ হাখমানেশি সম্রাট জেরজেসের হাতে ধ্বংস হল ব্যাবিলন।

৪৮৪ বাবেলে বিদ্রোহ।

৪৮১ সার্ডিসে প্রথম জেরজেসের আগমন। গ্রিসে হাখমানেশি অভিযান ঠেকাতে বদ্ধপরিকর গ্রিক নগররাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা স্পার্টায় মিলিত হলেন। গোয়েন্দাগিরি করার জন্য সার্ডিসে গুপ্তচর পাঠানো হল।

৪৮০ হেলেসপন্ত পেরোলেন প্রথম জেরজেস। অ্যাথেনীয়রা শহর খালি করার পক্ষে ভোট দিল। থার্মোফিলি, আর্তেমিসিয়াম, আর হিমেরার যুদ্ধ। এথেন্স দখল করে শহরটি পুড়িয়ে দিলেন প্রথম জেরজেস। সালামিসের যুদ্ধ। গ্রিকদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হঠলেন প্রথম জেরজেস। ফিরে এলেন সার্ডিসে।

৪৭৮ সাইপ্রাস ও বাইজান্টিয়াম দখল করে নিলেন স্পার্টার সেনাপতি পজানিয়াস।

৪৭২ মঞ্চস্থ হল এস্কাইলাসের লেখা নাটক দ্য পার্সিয়ানস

৪৬৫ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন জেরজেস।

৪৬৫-৪২৪ প্রথম আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৪৬৪/৪৬৩-৪৫৪ মিসরীয়দের বিদ্রোহ।

পূর্বসাল ৪৫০-১৯৪৮ সাল ২ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জর্দান নদী আর ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অঞ্চলটুকু ফিলিস্তিন নামে পরিচিত ছিল।

৪৪৯ এথেন্স আর পারস্যের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই হল।

৪২৪ প্রথম আর্তাজেরজেসের মৃত্যু, মসনদে বসলেন দ্বিতীয় জেরজেস।

৪২৪ দ্বিতীয় জেরজেসের রাজত্বকাল।*
* মাত্র ৪৫ দিন রাজত্ব করেন। এরপর গুপ্তহত্যার শিকার হন। মসনদে বসেন দ্বিতীয় দারিউস।

৪২৩-৪০৫ দ্বিতীয় দারিউসের রাজত্বকাল।

পূর্বসাল ৪২০-১০৫ সাল উত্তর আরবে নাবাতীয় সভ্যতা

৪০৮ কনিষ্ঠ কুরুশকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে আনাতোলিয়ায় পাঠানো হল।

৪০৫ দ্বিতীয় দারিউসের মৃত্যু, ক্ষমতায় এলেন দ্বিতীয় আর্তাজেরজেস।

৪০৫-৩৫৯ দ্বিতীয় আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৪০১ ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ। দ্বিতীয় আর্তাজেরজেসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন কনিষ্ঠ কুরুশ। কুনাক্সার সমর

৪০১-৩৪৩/৩৪২ মিসরে বিদ্রোহ দেখা দিল। তা কার্যত হাখমানেশি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।

৩৮৭/৩৮৬ আন্তালসিডাসের সন্ধি, গ্রিসের ওপর রাজার সন্ধি চাপিয়ে দেয়া হল।

৩৫৯ দ্বিতীয় আর্তাজেরজেসের মৃত্যু, মসনদে বসলেন তৃতীয় আর্তাজেরজেস।

৩৫৯-৩৩৮ তৃতীয় আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৩৫১ সিদনকে ধ্বংস করলেন হাখমানেশি সম্রাট তৃতীয় আর্তাজেরজেস।

৩৪৩/৩৪২ পুনরায় মিসর দখল করে নিলেন তৃতীয় আর্তাজেরজেস।

৩৩৮ তৃতীয় আর্তাজেরজেসের মৃত্যু, মসনদে বসলেন চতুর্থ আর্তাজেরজেস।

৩৩৮-৩৩৬ চতুর্থ আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৩৩৬ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন চতুর্থ আর্তাজেরজেস, মসনদে বসলেন তৃতীয় দারিউস।

৩৩৬-৩৩০ তৃতীয় দারিউসের রাজত্বকাল।

৩৩৪ হাখমানেশি সাম্রাজ্যে হামলা চালালেন ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শা। গ্রানিকুসের সমর

৩৩৪-৩৩ ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শা আনাতোলিয়ায় আসলেন, তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করল সার্ডিস।

৩৩৩-৩২ ম্যাকিদোনিয়ার সিকান্দার শা সিরিয়াকে তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত করলেন।

৩৩৩ ইস্যুসের সমর। দামিশকে তৃতীয় দারিউসের পরিবারের বৃহৎ অংশটুকুকে পাকড়াও করা হল।

৩৩২ সিদন ও বালবেককে ধবংস করলেন সেকান্দার শা। বালবেকের নাম বদলে হেলিওপোলিস।

ফিনিশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর গ্রিকদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

জানুয়ারি-জুলাই সেকান্দার শা কর্তৃক ঘেরাও হয়ে থাকলো টায়ার।

৩৩১ গউগামেলার সমর। ব্যাবিলন ও সুসায় সেকান্দার শাকে স্বাগত জানাল হল। তিনি ফার্সে অভিযান চালালেন। বিনা প্রতিরোধে মিসর জয় করলেন সেকান্দার শা। মিসরের বন্দরনগরী হ্রাকোটিসে প্রতিষ্ঠা করলেন একটি নগরী। এটিই বিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া।

শান্তিপূর্ণভাবে জুদিয়া জয় করলেন ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শা।

৩৩০ ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শার হাতে হাখমানেশি সাম্রাজ্যের পতন।*
* তৃতীয় দারিউসের মৃত্যু। পারস্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর পার্সিপোলিসকে পুড়িয়ে ফেলা হল। কিছুদিন পরেই অবশ্য সেকান্দার শা পারস্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। দেশটির এক রাজকন্যা রোকসানাকে বিয়ে করেন তিনি। নিজের সেনাবাহিনীর ১০,০০০ সেনাকে পারসিক নারী বিয়ে করতে তাগিদ দেন সেকান্দার শা। পারস্যের শহর সুসায় সম্পন্ন হয় গণবিবাহ। সেকান্দার শা চেয়েছিলেন একটি গ্রেকো-পারসিক সংস্কৃতির নির্মাণ।

৩২৩ সেকান্দার শার মৃত্যু। মিসর জয় করলেন তাঁর সেনাপতি টলেমি প্রথম সটার। প্রতিষ্ঠা করলেন টলেমীয় রাজবংশ। টলেমীয় সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে গেল সাইপ্রাস।

৩২৩-৩১ হেলেনীয় যুগ

৩২৩ ব্যাবিলনে একটি কেল্টিক প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানালেন সেকান্দার শা।

মাত্র ৩২ বছর বয়সে সেকান্দার শার মৃত্যু। সেকান্দার শার এক সেনাপতি পারস্যের তখতে বসলেন। সেলুসীয় শাসন শুরু।

ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শার আরব জয় করার পরিকল্পনা থাকলেও এ বছর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটায় পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়।

৩২১-৩১৫ সাত্রাপি বা ক্ষত্রপ হিসেবে এ সময় ব্যাবিলন শাসন করছেন সেলুকাস।

৩১২-৮৩ সিরিয়ায় সেলুসীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করলেন সেলুকাস প্রথম নিকাটোর। হেলেনীয় সংস্কৃতির প্রসার ঘটাতে প্রতিষ্ঠা করলেন ডেকাপলিস, বা দশ শহর। সিরিয়া নিয়ে সেলুসীয়দের সাথে মিসরের টলেমিদের বিবাদ।

৩১২ সেকান্দার শার সেনাপতি সেলুকাস ব্যাবিলন জয় করলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন সেলুসীয় রাজবংশ। ৬৩ পূর্বসাল পর্যন্ত শাসন করেছে এই রাজবংশ।

নাবাতীয় রাজ্য দখল করে নেয়ার একটি অসফল প্রয়াস চালালেন হেলেনীয় সেনাপতি আন্তিগোনাস।

টলেমীয়দের মিসরীয় রাজ্যের অংশ হয়ে গেল গাজা।

৩০১-১৯৫ টায়ারসমেত পুরো ফিনিশিয়া এ সময় শাসন করছে টলেমীয়রা।

পূর্বসাল ৩০০-১০৬ সাল উত্তর আরবে নাবাতীয় রাজ্য।*
* এর রাজধানী ছিল পেত্রায়।

৩০০-১০১ রুমিরা দক্ষিণপূর্ব ইওরোপ ও এশিয়া মাইনর – বর্তমান তুরস্ক – জয় করে নেয়। সিরিয়া থেকে গ্রিস তাদের হাতে চলে আসে। রোমক প্রজাতন্ত্র পরিণত হয় এক বিশাল সাম্রাজ্যে।

৩০০ আলেকজান্দ্রিয়ার যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা প্রথম টলেমি।

২৮৫-৪৬ এ সময়ই কখনো নির্মিত হয় আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত পাঠাগার।

২৮০ আলেকজান্দ্রিয়ার ইহুদি সম্প্রদায় ডায়াসপোরা শব্দটি প্রবর্তন করেন।* ওই একই সম্প্রদায় এসময়ই ইহুদি বাইবেল গ্রিক ভাষায় অনুবাদ করার কাজ হাতে নেন। যা “৭০ জন অনুবাদকের অনুবাদ” (Ἡ μετάφρασις τῶν Ἑβδομήκοντα) বা সেপ্টুয়াজিন্ট নামে পরিচিতি পাবে।
* ইস্রাইল ভূমি থেকে দূরে বাস করা ইহুদিদের নির্দেশ করতে শব্দটির ব্যবহার চালু হয়। ইংরেজিতে এটি এসেছে গ্রিক ডায়াসপিয়েরো (διασπείρω) থেকে, যার অর্থ “আমি ছড়িয়ে পড়ি”। বর্তমানে শব্দটি প্রবাসী অর্থে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়।

সেলুসীয় সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে গেল লিডিয়া।

২৭৪-২৭১ প্রথম সিরিয়া যুদ্ধ। ফিনিশিয়া ও কোয়েলে-সিরিয়াকে কেন্দ্র করে টলেমীয় ও সেলুসীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হল।

২৬৪-১৪৬ পিউনিক যুদ্ধ। রোম আর কার্থেজের* মধ্যে। এই যুদ্ধের অবসান ঘটে কার্থেজের ধবংসের মধ্য দিয়ে।
* আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ফিনিশীয় বণিকদের প্রতিষ্ঠা করা শহর। সামুদ্রিক বাণিজ্যে তাদের তুলনা মেলা ভার ছিল। বর্তমান তিউনিসিয়ায় অবস্থিত।

২৫০ পারস্য উপসাগর এ সময় পার্থীয়দের দ্বারা শাসিত হচ্ছে।

২৪৭ আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘরের – ফারোস – নির্মাণকাজ শেষ হল। গ্রিক সেলুসীয়দের বিরুদ্ধে পারস্যবাসী বিদ্রোহ করে এবং পার্থীয় নামের একটি রাজবংশকে ক্ষমতায় বসায়।

পূর্বসাল ২৪৭-২২৪ সাল পার্থীয় সাম্রাজ্য।*
*এই সাম্রাজ্যেও প্রভাবশালী ধর্ম ছিল জরাথুস্ট্রবাদ। পার্থীয়রা নিজেদের হাখমানেশিদের উত্তরসূরী হিসেবে দেখতেন। ধর্ম প্রশ্নে তাঁরা হাখমানেশিদের মতই উদার ছিলেন। পার্থীয় পারস্যে নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে আবেস্তা। অগ্নি মন্দির এ সময় আরো সমৃদ্ধ হয়। এ সময় যুদ্ধদেবী হিসেবে পূজিত হচ্ছেন আনাহিতা। পার্থীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, (Ellerbrock 2021).

১৯৮ এ সময় গাজা শাসন করছে অ্যান্টিওকের সেলুসীয় রাজবংশ।

টলেমিদের কাছ থেকে দক্ষিণ সিরিয়া ছিনিয়ে নিলেন তৃতীয় অ্যান্টিওকাস।

১৯৫প্যানিয়নের সমর। টায়ারসমেত পুরো ফিনিশিয়া সেলুসীয়দের হাতে চলে এল। সিরিয়ায় রুমিদের দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাই থাকবে।

১৭৫-৬৪ জর্দানে প্রতিষ্ঠা করা হল হেলেনীয় শহর জেরাশ।

১৬৮ সিরিয়ার গ্রিক রাজা চতুর্থ অ্যান্টিওকাস দ্বিতীয় মন্দিরে গ্রিক দেবতা জিউসের একটি মূর্তি স্থাপন করে মন্দিরটিকে অপবিত্র করেন। এই ঘটনায় ইহুদিদের ধর্মানুভূতি আহত হওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত সহিংসভাবে এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। চতুর্থ অ্যান্টিওকাস জেরুসালেম থেকে ইহুদিধর্মের নাম ও নিশানা মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালান।

১৬৭-১৬০ হাসমোনীয় বিদ্রোহ, জুদাস ম্যাকাবির নেতৃত্বে দেখা দিল।

১৬৫/১৬৪ জেরুসালেমের দ্বিতীয় মন্দিরকে মুক্ত করা হল, মন্দিরটি পবিত্র করলেন জুদাস ম্যাকাবি।

১৪১ জেরুসালেমের মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ পেলেন সিমন ম্যাকাবি, এ সময় থেকে পদটি বংশানুক্রমিকভাবে ম্যাকাবি পরিবারের দখলে থাকবে।

সেলুসীয়দের হাত থেকে পার্থীয়দের দখলে এল পার্সিস।

১৪০ প্রাচীন ইহুদি মুরুব্বিদের সংসদ সানহেদ্রিনে সাদুচ্চি আর ফারিসি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিল।

১৩৩ লিডিয়া আর তাঁর রাজধানী সার্ডিস রোমক শাসনের অধীনস্ত হল।

১২৯ পার্থীয়দের মেসোপটেমিয়া জয়। এর ফলে সিল্ক রোড থেকে চীনের পুরোটাই পার্থীয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে এল।

পূর্বসাল ১১০-৫৩০ সাল দক্ষিণ আরবে হিমইয়ার রাজ্য

১০০ এসেন নামে ইহুদিদের একটি গোষ্ঠী দুনিয়াবি জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মরুভূমিতে সন্ন্যাসীদের সম্প্রদায় গঠন করতে শুরু করল।

গ্রিক ঐতিহাসিক দিওদোরাস সিকুলাস তাঁর বিবওলিওথিকা হিস্টোরিকায় একটি উপাসনালয়ের কথা বললেন। সিকুলাসের মতে, উপাসনালয়টি সকল আরবের চোখেই শ্রদ্ধেয়। অনেকে মনে করেন, তিনি কাবার কথা বলছিলেন।

৯৯-৬৩ এ সময় জেরাশ শাসন করছে হাসমোনীয় রাজবংশ।

৯৬ গাজাকে ইহুদিধর্মের সাথে পরিচিত করাচ্ছে হাসমোনীয়রা।

৮৮ নাবাতীয়দের বিরুদ্ধে একটি অসফল যুদ্ধ পরিচালনা করলেন সেলুসীয় রাজা দ্বাদশ অ্যান্টিওকাস।

৮৭ পার্থীয় রাজকীয় গ্রীষ্মকালীন বাসভবন একবাটানায় ধবংসলীলা চালালেন আরমানি রাজা দ্বিতীয় টাইগ্রেনেস।

৮৩ আর্মেনিয়ার টাইগ্রানেস সিরিয়াকে মুক্ত করলেন।

৭০-৬০ আনুমানিক এ সময় জর্দানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল রুমিরা।

৬৯ রানী ক্লিওপেট্রার জন্ম।

৬৪ ফিনিশিয়া রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। টায়ার পরিণত হল একটি রোমক উপনিবেশ। পম্পেইয়ের নেতৃত্বে সেলুসীয় রাজ্য জয় করল রুমিরা। সিরিয়া একটি রোমক প্রদেশে পরিণত হল। বর্তমান জর্দানের পেত্রায় অবস্থিত নাবাতীয় আরবরা এ-সময় দামিশক নিয়ন্ত্রণ করছে।

৬৩ জেরুসালেম দখল করলেন পম্পেই। জুদিয়াকে রোমের নিয়ন্ত্রণে আনা হল। রোমক সাম্রাজ্যের সিরিয়া প্রদেশের অংশ হয়ে গেল গাজা ও জেরাশ।

৬২ নাবাতীয় রাজ্য রুমিদের মক্কেল রাষ্ট্রে পরিণত হল।

পূর্বসাল ৫৮-৬৪৮ সাল এ সময় সাইপ্রাস রোমক সাম্রাজ্যের প্রদেশ ছিল।

৫৮-৫৭ তেসিফনকে পার্থীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী বানালেন দ্বিতীয় ওরোদেস।

৫৫ দ্বিতীয়বারের মতো কনসাল নিযুক্ত হলেন মার্কাস লিসিনিয়াস ক্রাসাস। বেরিয়ে পড়লেন পার্থিয়া অভিযানে।

পূর্বসাল ৫৪-২১৭ সাল রোমক সাম্রাজ্যের সাথে পার্থীয় পারস্যের পর্যায়ক্রমিক যুদ্ধ।

৫৩ কারিয়ার সমর। পার্থীয়দের হাতে ধরা পড়লেন ক্রসাস। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

৫০-১ তুরস্ক রুমিদের হাতে আসে। হাজার বছর ধরে রুমিরা শাসন করবে তুরস্ক। এরপর ওসমানি তুর্কিরা রুমিদের হাত থেকে এশিয়া মাইনরের দখল নেবেন।

৪৭ মিসরের নিরঙ্কুশ শাসক হয়ে উঠলেন ক্লিওপেট্রা, নিজেকে তিনি দেবী আইসিস হিসেবে উপস্থাপন করেন।

৪৩-৩৬ সিরিয়ার রোমক প্রশাসক মার্ক অ্যান্টনি মিসরের রানী ক্লিওপেট্রার প্রেমাসক্ত হলেন, রোমের বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন।

৪০ রুমিদের বিরুদ্ধে পারসিকদের সাথে সাময়িক ঐক্য গড়লেন নাবাতীয়রা।

৪০-৩৬ মার্ক অ্যান্টনি আনাতোলিয়ায় হামলা চালালে রোমক সাম্রাজ্যের মিত্রে পরিণত হলেন রাজা দ্বিতীয় পারনাভাজ।

পূর্বসাল ৩৭-৪ সাল রোমের সিনেট হেরোদকে জুদিয়ার রাজা হিসাবে নিয়োগ দিলো, ফিলিস্তিনের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৩৭ পার্থীয়দের কাছ থেকে জেরুসালেম হস্তগত করলেন রাজা হেরোদ।

৩১ অ্যাক্টিয়ামের যুদ্ধে অগাস্টাস অ্যান্টনি আর ক্লিওপেট্রার মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত করলেন।

৩০ রানী ক্লিওপেট্রার মৃত্যুতে মিসরে টলেমীয় রাজবংশের অবসান। রোমক সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হল মিসর। ৪৭৬ সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বহাল থাকবে।

পূর্বসাল ২৭-৩৯৫ সাল রোমক সাম্রাজ্য

২৬ দক্ষিণ আরবের সাবাঈদের বিরুদ্ধে রুমিদের সামরিক আক্রমণে যোগ দিল উত্তর আরবের নাবাতীয়রা।

২৪ এলিয়াস গ্যালাসের নেতৃত্বে রোমক সেনাবাহিনীর আরব আক্রমণ।

২০/১৯ জেরুসালেমের মন্দিরের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করলেন হেরোদ।

১৯ পার্থীয়দের ওপর বিজয় উদযাপন করার জন্য রোমে নির্মাণ করা হল অগাস্টাসের খিলান।

১৭ এক ভূমিকম্পে লিডিয়ার ১২টি শহর ধবংস হল, এর একটি ছিল লিডীয়দের রাজধানী সার্ডিস।

৯ নাবাতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন রাজা হেরদ।

পূর্বসাল ৬-৩০ সাল বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের শহর বেথলেহেমে জন্ম নেয়া খ্রিস্টধর্মের প্রাণকেন্দ্র জেসাস ক্রাইস্টের জীবনকাল।*
* ইবরানি জেশুয়া মেসিয়ার গ্রিক অনুবাদ ইউসুস খ্রিস্তোস; ইউসুস খ্রিস্তোসের ইংরেজি অনুবাদ জেসাস ক্রাইস্ট। জেসাস ক্রাইস্টের অনুসারীরা খ্রিস্টান নামে পরিচিত। বাংলায় খ্রিস্টান শব্দটি গ্রিক ভাষার খ্রিস্তোস (Χριστός) থেকে এসেছে, এর সোজাসাপটা অর্থ ‘ত্রাতা।’

সাল

১-২০০ ব্রিটিশ দ্বীপগুলো থেকে দজলা ও ফোরাত নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত হল রোমক সাম্রাজ্য।

১-১০০ দক্ষিণ আরবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে হিমইয়ারিরা।

মিসর আর ভারতবর্ষের মধ্যে নৌ যোগাযোগের সূচনা।

১৩ অগাস্টাস সীজার, ডিডস

১৯ প্রথম গন্ডোফারেস পার্থীয় শাসন থেকে বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করলে ইন্দো-পার্থীয় রাজ্যের সূচনা হয়।

২০ জেসাস ক্রাইস্টের সরাসরি শিষ্যদের একজন সেইন্ট পল এ সময় একজন কিশোর। পলের পিতা ছিলেন একজন গ্রিকভাষী ইহুদি। একইসাথে রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিক।

২৭-৪৪ জুদিয়ার হেরোদীয় রাজাদের সাথে নাবাতীয়দের বিক্ষিপ্ত যুদ্ধবিগ্রহ।*
* জুদিয়া প্রাচীন ইস্রাইলি গোষ্ঠীর দুটি রাজ্যের একটি।

২৯ এ সময় রোমক ফিলিস্তিনের গালিলি প্রদেশে প্রচারকার্য চালাচ্ছেন ও অসুস্থদের সুস্থ করছেন জেসাস ক্রাইস্ট।

৩০/৩৩ রোমক সম্রাট টাইবেরিয়াসের রাজত্বে প্রোকিউরেটর পন্টিয়াস পাইলেটের অধীনে জেসাস ক্রাইস্টকে রোমক ফিলিস্তিনের জেরুসালেমের গলগথায় ক্রুশবিদ্ধ করা হল।*
* রোমক সাম্রাজ্যে নিচুশ্রেণির অপরাধীদের ক্রুশবিদ্ধ করা হত। সমকালীন শাসকদের চোখে জেসাস ক্রাইস্ট তাই ছিলেন। ইতিহাস খুবই পরিহাসপ্রবণ।

জেরুসালেমে খ্রিস্টানদের ক্ষুদ্র সম্প্রদায়টির নেতা হলেন পিটার।

৩৫ রোমক ফিলিস্তিনের জেরুসালেমের নগর দেয়ালের বাইরে সেইন্ট স্টিফেনকে পাথর মেরে হত্যা করা হল।*
* খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসের প্রথম শহিদ বিবেচিত হয়ে থাকেন।

খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন চালাতে দামিশকে যাওয়ার পথে এক চোখধাঁধানো আলো দেখলেন সাউল। দীক্ষিত হলেন খ্রিস্টধর্মে। পরবর্তীকালে পরিচিত হলেন সেইন্ট পল নামে।

৪১ তার্সুসে মার্ক অ্যান্টনির সাথে দেখা করলেন ক্লিওপেট্রা। পার্থীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রোমক সম্রাটের এই মিশরীয় রানীকে প্রয়োজন হয়েছিল। প্রাচীন টলেমীয় অঞ্চলগুলোর শাসনভার ক্লিওপেট্রার হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি।

৪৮ খ্রিস্টধর্ম শুরুতে ইহুদিদের মধ্যে সীমিত ছিল। এসময় একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে। রুমি সাম্রাজ্যে সফর করে অইহুদিদেরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে শুরু করেন সেইন্ট পল।

৪৯ ঠিক হল পল জেন্টাইলদের মধ্যে প্রচারকার্য চালাবেন, পিটার আর জেমস যাবেন ইহুদিদের কাছে।

৫০ এবছর সেইন্ট পলের পত্রগুলোর প্রথমটি পেল থিষলনিকীয়রা। এটি বাইবেলের* নব সন্ধির আদিতম রচনা। গ্রিক ভাষায় লেখা।
* ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র বইগুলোর সমষ্টি বাইবেল। খ্রিস্টানদের চোখে, ইহুদি বাইবেল হচ্ছে প্রাক্তন সন্ধি। নব সন্ধি হচ্ছে বাইবেলের খ্রিস্টীয় অংশ, তবে খ্রিস্টানরা ধর্মীয় ঐতিহ্যগত পরম্পরার জায়গা থেকে প্রাক্তন সন্ধির ঐশীত্বে বিশ্বাস করে থাকেন।

জেরুসালেম কাউন্সিল, জেসাসের জেন্টাইল (অইহুদি) অনুসারীদের জন্য ইহুদি আচার পালন করা জরুরি কিনা তা নিয়ে তীব্র বাহাস দেখা দিল।

৫২ আর্মেনিয়া আক্রমণ করলেন পার্থীয় রাজা প্রথম ভলোগাসেস।

৫৪-৬০ আর্মেনিয়ায় সফল অভিযান চালালেন রুমি সেনাপতি করবুলো।

৫৮-৬৩ রুমি-পার্থীয় যুদ্ধ।

৬০-১০০ সুসমাচারগুলো এ সময়ই কখনো লিখিত হয়ে থাকবে।
* আদিতে সুসমাচার বলতে স্রেফ খ্রিস্টধর্মের বার্তা বোঝাত। পরবর্তীকালে, সুসমাচারের অর্থ দাঁড়ায় জেসাসের জীবনীমূলক রচনা। মার্ক, মথি, লুক ও যোহনের লেখা চারটি সুসমাচার বাইবেলের নব সন্ধির অংশ বিবেচিত।

৬০ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতা হিসাবে রোমে আসলেন পিটার। কালক্রমে, তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রথম পোপ বিবেচিত হবেন। পলকে বন্দী করে রোমে নিয়ে আসা হল।

৬৩ হ্রান্দিয়া চুক্তি। রোমক সাম্রাজ্য ও পার্থীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে সম্পাদিত হয়। আর্মেনিয়ার ওপর উভয় পক্ষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হল।

৬৪ এক অগ্নিকাণ্ডে রোমের অধিকাংশ এলাকা পুড়ে খাক হয়ে গেল। দুর্ঘটনাটিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করলেন সম্রাট নিরো। সন্ত পিটারসহ আরো কিছু নিরীহ মানুষকে ভ্যাটিকান পাহাড়ের ওপর ক্রুশবিদ্ধ করলেন।

৬৬ রোমের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহে জিলটরা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তাঁরা গাজায় হামলা চালান।

৬৬-৭০ জেরুসালেমে ইহুদি শাসন।

৬৭-৭০ ফিলিস্তিনে ইহুদি বিদ্রোহ দমনে রুমিদের সহায়তা করলেন নাবাতীয়রা।

৬৭ সেইন্ট পলকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন রোমক সম্রাট নিরো।*
* পল রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিক ছিলেন। তাই তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়। অপেক্ষাকৃত কম যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিটি পেত অভিজাত অপরাধীরা।

৬৮ এসেনরা তাঁদের পবিত্র পুঁথিগুলো রুমিদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মৃত সাগরের নিকটবর্তী গুহাগুলোয় লুকিয়ে রাখল।

৭০ রুমিদের হাতে ধবংস হল জেরুসালেমের দ্বিতীয় মন্দির। এই ধবংসযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন সম্রাট ভেসপাসিয়ানের পুত্র ও রোমের সাম্রাজ্যিক সেনাবাহিনীর অধিনায়ক টাইটাস। জেরুসালেমে চার বছরের ইহুদি শাসনের রক্তাক্ত অবসান।*
* আনুমানিক এ সময়ই কখনো সিরিয়া বা এশিয়া মাইনরে (আনাতোলিয়া, বর্তমান তুরস্কের অধিকাংশ অঞ্চল) লিখিত হয় মার্কের সুসমাচার, যা আদিতম সুসমাচার বলে বিবেচিত।

আনুমানিক এ সময়ই কখনো সিরিয়া বা এশিয়া মাইনরে (আনাতোলিয়া, বর্তমান তুরস্কের অধিকাংশ অঞ্চল) লিখিত হয় মার্কের সুসমাচার, যা আদিতম সুসমাচার বলে বিবেচিত হয়।

ইয়াভনে ইহুদিধর্মের প্রথম ইয়েশিবা স্থাপন করা হল। স্থাপন করলেন ইহুদি রাব্বি ইয়োহান্নান বেন জাক্কাই। ইহুদি ডায়াসপোরার মধ্যে বিদ্যাচর্চার ঐতিহ্য চালু হল।

৭০-৩৯৫ ফিলিস্তিনে রোমক সাম্রাজ্যের পরোক্ষ শাসন।

৭৩ বিদ্রোহী ইহুদিদের শেষ দুর্গ মাসাদার পতন ঘটল।

৭৫ সম্ভবত লুক কর্তৃক লিখিত হল প্রেরিতদের কার্য, বাইবেলের নব সন্ধির অংশ বিবেচিত হয়।

ফ্লাভিয়াস জোসেফাস, দ্য জিউইশ ওয়ার

৮৪ ফিলিস্তিনের সিনাগোগ থেকে নাজোরীয়দের* বহিষ্কার করা হল।
* জেসাসের ইহুদি অনুসারী। এঁরা খ্রিস্টান ছিলেন। তবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ইহুদি পরিচয়ও ধরে রেখেছিলেন।

৯০-৯৫ আনুমানিক এ সময়ই কখনো মথি ও লুকের সুসমাচার লিখিত হয়।

১০০-২৫০ এ সময় জুরহামের ইয়েমেনি গোষ্ঠীগুলো মক্কা শাসন করছে।

১০১-২০০ পশ্চিম আরবের সামুদরা রোমক সাম্রাজ্যকে খাজনা দিচ্ছে।

১০৫ রোমক আরব। নাবাতীয় রাজ্যকে রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল।

১০৬ একটি রোমক প্রদেশে পরিণত হল পেত্রা।

১০৬-৬৩৪ জর্দান এ সময় রোমক সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।

১১০ আনুমানিক এ সময়ই কখনো যোহনের সুসমাচার লিখিত হয়।

১১২ রোমক সম্রাট ত্রাজানের কাছে একটি চিঠি লিখলেন প্রাকৃতিক দার্শনিক (বিজ্ঞানী) প্লিনি দ্য এল্ডার। তিনি সম্রাটকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন, যে খ্রিস্টানরা আইন মেনে চলা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়। সাম্রাজ্যের জন্য এরা কোন হুমকি নয়।

১১৪ আর্মেনিয়াকে রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন রোমক সম্রাট ত্রাজান। পার্থীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

১১৫-১৭ রুমিদের মেসোপটেমিয়া জয়।

১১৫ কিটোস যুদ্ধে আলেকজান্দ্রিয়া ধ্বংস হয়ে গেল।

১১৫-১৭ দ্বিতীয় ইহুদি-রোমক যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল সাইপ্রাস।

১১৭ রোমক সম্রাট হাড্রিয়ান পুনর্নিমাণ করলেন আলেকজান্দ্রিয়া নগরী।

১২৪ লিডিয়া সফর করলেন রোমক সম্রাট হাদ্রিয়ান।

১২৭-৫০ কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক কাশ্মীর জয় করলেন। পার্থীয়দের পরাজিত করলেন। পৌঁছালেন মগধ রাজ্যে। পেরোলেন পামীর পর্বতমালা। পরাজিত করলেন সেনাপতি পান ইয়াংয়ের অধীনস্ত চীনাদের। কাশগড়, খোটান ও ইয়ারকান্দ তাঁর সাম্রাজ্যের সীমানাভুক্ত হল।

১২৯ সিরিয়ার পালমীরা সফর করলেন রোমক সম্রাট হাদ্রিয়ান।

১৩০ জেরুসালেম সফর করলেন সম্রাট হাদ্রিয়ান। শহরটিকে একটি রোমক শহর হিসেবে পুনর্নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই সিদ্ধান্ত ইহুদিদের ক্ষুব্ধ করে তুলল।

একই সময় তিনি গাজা সফর করেন।

১৩২-৩৫ জেরুসালেমে ইহুদি শাসন।

১৩২ শিমন বার-কোচবার নেতৃত্বে রোমের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহ। জেরুসালেম থেকে রুমিদের বিতাড়িত করল ইহুদিরা। ফিলিস্তিন থেকে আরব উপদ্বীপে অভিবাসিত হলেন ইহুদিরা।

আলেকজান্দ্রিয়ায় লিপিবদ্ধ হল বাইবেলের গ্রিক তর্জমা সেপ্টুয়াজিন্ট

১৩৫/১৩৬-৩৯০ প্রভিন্সিয়া সিরিয়া প্যালেস্টাইনা (Ἐπαρχία Συρίας τῆς Παλαιστίνης)।

১৩৫ শিমন বার-কোচবার নেতৃত্বাধীন ইহুদিদের কাছ থেকে জেরুসালেম পুনঃদখল করল রোম। শহরটি থেকে সব ইহুদিকে তাড়িয়ে দেয়া হল।

১৬১-১৬৬ রুমি-পার্থীয় যুদ্ধ।*
* ময়দানে রুমিদের ফৌজের নেতৃত্ব দেন লুসিয়াস ভেরাস।

১৯৩-২১১ রোমক সম্রাট সেপ্টিমিয়াস সেভারাস সিরিয়াকে পাঁচটি প্রদেশে পুনর্বিন্যস্ত করলেন।

১৯৫ প্রথম পার্থীয় যুদ্ধ।

১৯৭-১৯৮ দ্বিতীয় পার্থীয় যুদ্ধ।

২০০ রাব্বি জুদাহ হা-নাসি কর্তৃক সংকলিত হল মিশনা, মৌখিক ঐতিহ্যনির্ভর তোরাহের ছয় খণ্ডের সারসংক্ষেপ।

আনুমানিক এ সময় জর্দানে আসে ঘাসসানীয় আরব গোত্র।

২০১-৩০০ আরবের লাখমি গোত্র পারসিকদের মক্কেলে পরিণত হল।

তুর্কিচভাষীরা মঙ্গোলিয়ার আলতাই পাহাড় থেকে নেমে আসেন। আজকের তুর্কিদের পূর্বসূরী। তুরস্ক ছাড়াও মূলত মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে তুর্কিচভাষীরা বাস করেন, চীনের ঝিনঝিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানরাও তুর্কিচভাষী।

২০৩ পার্থীয়দের ওপর বিজয় উদযাপন করতে রোমের ফোরাম রোমানামে নির্মাণ করা হল সেপ্টিমিউস সেভিউরুসের খিলান।

২১১ পার্থীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন পারসিসের রাজা আরদাশির।

২১৫ লিডিয়া সফর করলেন রোমক সম্রাট কারাকাল্লা।

২১৭-৭৫ পারস্যে মানির সময়কাল। তিনি প্রাচীন দুনিয়ায় মানিকিয়ান ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। জানা যায়, তিনি আফগানিস্তানের বামিয়ানে সক্রিয় ছিলেন।

২২১ পার্থীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন পার্সিসের রাজা আরদাশির।

২২৪ হরমোজদোগানের সমর। পার্থীয়দের শেষ রাজা চতুর্থ আর্তাবানসকে উৎখাত করলেন প্রথম আরদাশির। পার্থীয় সাম্রাজ্যের পতন। প্রথম আরদাশির কর্তৃক প্রবর্তিত হল শাহেনশাহ উপাধি। অর্থ: “রাজাদের রাজা”। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন সাসানীয় সাম্রাজ্য।

২২৪-৬৫১ সাসানীয় সাম্রাজ্য

জরাথুস্ট্রবাদ সাসানীয় পারস্যেও দরবারি ধর্মের মর্যাদা পায়। অগ্নি মন্দিরগুলো তাদের সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছায়। সাসানীয় পারস্যে জরবানবাদ পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হয়। কিন্তু হাখমানেশি আর পার্থীয়দের সাথে সাসানীয়দের একটা তাৎপর্যপূর্ণ ফারাক ছিল। পূর্বসুরীদের মত ধর্ম প্রশ্নে মোটেও উদার ছিলেন না সাসানীয়রা। সাম্রাজ্যে অন্য সব ধর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল।

পার্থীয়দের মত সাসানীয় রাজাদের রাজধানীও ছিল তেসিফন। প্রাচীন পারস্যের শহরগুলোর বাসিন্দাদের জীবনমানের বিকাশ ঘটানো এবং কৃষি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সাসানীয়রা বিখ্যাত হয়ে আছেন। সাসানীয়দের উত্থানপতন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, Daryaee (2023) ও Pourshariati (2017).

২২৪-২৪০ প্রথম আরদাশিরের রাজত্বকাল।*
* সাম্রাজ্যিক সংস্কারক ছিলেন। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটান। তাঁর রাজত্বকালে পারস্য রোমের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

২৩০ মেসোপটেমিয়ার উচ্চভূমির রুমি-নিয়ন্ত্রিত অংশে হামলা চালালো সাসানীয় বাহিনী। নিসিবিস দখলের চেষ্টা করলো। ব্যর্থ হল।

২৩২ ফোরাত নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরের সীমান্তবর্তী শহর দৌরা-ইওরোপাসের একটি বাড়ি খ্রিস্টধর্মীয় উপাসনালয় হয়ে উঠল।

২৩৭-৩৮ হাররান ও নিসিবিস দখল করলেন প্রথম আরদাশির।

২৪০-২৭০ প্রথম শাপুরের রাজত্বকাল।*
* তাঁর রাজত্বকালে সাসানীয় সাম্রাজ্য উৎকর্ষের শীর্ষে ছিল।

২৪০ সাসানীয় সাম্রাজ্যের হাতে চূড়ান্তভাবে ধবংস হল আশুর।

২৪১সাসানীয় আরব। হাত্রানদের রাজ্যকে সাসানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল। প্রথম শাপুরের রাজ্যাভিষেক।

২৪২-৭৩ পারস্য সফর করলেন পয়গম্বর মানি।

২৪৪-৪৯ রোমক সাম্রাজ্যের ইতিহাসের একমাত্র আরব শাসকের রাজত্বকাল, যিনি ফিলিপ দ্য আরব নামে পরিচিত।

২৪৫ সিজারিয়ার বাসিন্দা অরিজেন কর্তৃক সংকলিত হল হেক্সাপ্লা।*
* এতে তুলনামূলক অধ্যয়নের সুবিধার্থে প্রাক্তন সন্ধির বিভিন্ন সংস্করণকে ছয়টি কলামে বিন্যস্ত করে দেখানো হল।

২৫০-৩৮০ খুজা নামের একটি গোষ্ঠী মক্কা শাসন করছে।

২৫০ খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন রোমক সম্রাট দেসিয়াস। রোমের খ্রিস্টানরা ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্রগুলোকে কবরগৃহ হিসাবে ব্যবহার করতে আরম্ভ করল। যার দেয়ালে বাইবেলের নব সন্ধির কাহিনীগুলোর অনুসরণে নানান ম্যুরাল আঁকা হচ্ছিল।

২৫২ আর্মেনিয়া রাজ্যে হামলা চালাল সাসানীয় সাম্রাজ্য।

২৫২-৫৬ রোমক সাম্রাজ্যে অভিযান চালালেন প্রথম শাপুর।

২৫৬ পারস্যের সাসানীয়রা ফোরাত নদীর তীরে দুরা ইউরোপাস নিয়ে নিল।

২৫৮ রোমের দেবতাদের উদ্দেশ্যে কোরবানি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কার্থেজের* বিশপ সাইপ্রিয়নকে** শহিদ করা হল।
* প্রাচীন ফিনিশীয় বণিকদের তৈরি করা বাণিজ্য নগরী, যা বর্তমান তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে অবস্থিত।
** তিনি ছিলেন এহেন আরো অসংখ্য শহিদের একজন।

২৬০ সাসানীয়রা পশ্চিমে অ্যান্টিওক পর্যন্ত পৌঁছে গেল। রোমক সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে পাকড়াও করে মৃত্যুদণ্ড দিলেন পারস্যের সাসানীয় শাসক শাহ প্রথম শাপুর। নতুন সম্রাট গ্যালেনিয়াস পালমীরার আরব রাজা ওডিনাথুসের সহায়তা চাইলেন, যিনি সাসানীয়দেরকে ঠেলে ফোরাত নদীর ওপারে ফিরে

২৬১ অ্যান্টিওক লুঠ করে বিজয়ীর বেশে দেশে ফেরা পারসিক সেনাদের থামালেন পালমিরার শাসক ওডেন্যাথাস। শাপুরের অনুপস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন করলেন এবং সাসানীয়দের ফোরাত নদীর ওপারে তাড়িয়ে দিলেন। তবে তিনি তেসিফন দখল করতে ব্যর্থ হন এবং সাসানীয়রা বিজয়ী হয়।

২৬৭-৭২ খুন হলেন ওডিনাথুস। পালমীরার মসনদে বসলেন তার রানী জেনোবিয়া। মিসর আর সিরিয়ায় রুমিদের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করলেন।

২৬৭ সৌদি আরবের মাদাইন সালেহতে এ সময় থেকে প্রথমবারের মত একটি পুরোপুরি আরবিতে লেখা শিলালিপির সন্ধান পাওয়া গেছে।

২৭১ প্রথম হরমিজদের রাজ্যাভিষেক।

২৭২ রোমক সম্রাট অরেলিয়ানের হাতে পালমীরার পতন ঘটল।

২৭৩ প্রথম বাহরামের রাজ্যাভিষেক।

২৯১ গাজা শহরে জন্ম নিলেন সেইন্ট হিলারিয়ন।

৩০০ ইহুদি ডায়াসপোরা এ সময়ের মধ্যে সমগ্র রুমি সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছেন। যেখানে তাদের সহ্য করা হচ্ছে।

৩০১-৪০০ পূর্ব আরবে সাসানীয় সাম্রাজ্যের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ল। আরবের বনু ঘাসসান গোত্র বাইজেন্টাইনদের আর লাখমি গোত্র সাসানীয়দের মক্কেলে পরিণত হল।

রুমি সাম্রাজ্য পূর্ব পশ্চিমে ভাগ হয়ে যায়। এই বিভাজনের প্রভাব এশিয়া মাইনরের ওপর পড়ে। এই শতাব্দীতেই অ্যাটিলা দ্য হুন ইওরোপে হামলা চালান, যিনি একটি তুর্কি গোত্রের নেতা ছিলেন।

৩০৩ খ্রিস্টানদের ওপর অপেক্ষাকৃত পদ্ধতিগতভাবে নতুন উদ্যমে নির্যাতন চালাতে শুরু করলেন রোমক সম্রাট ডায়াক্লেশিয়ান।

৩০৬ রোমের অন্যতম সম্রাট হলেন কনস্টান্টাইন।*
* খ্রিস্টধর্মকে রোমক সাম্রাজ্যের বঞ্চিত-লাঞ্চিতদের ধর্ম থেকে বিশ্বধর্মে রূপান্তরিত করায় বিশেষ অবদান আছে তাঁর।

৩০৯-৭৯ দ্বিতীয় শাপুরের রাজত্বকাল।*
* মৌখিক ঐতিহ্যনির্ভর আবেস্তাকে লিপিবদ্ধ করার ওয়াদা করেন।

৩১২ মিলভিয়ান সেতুর একটি নিষ্পত্তিমূলক যুদ্ধে জিতলেন কনস্টান্টাইন। রোমে প্রবেশ করলেন। পশ্চিম সাম্রাজ্যের অধিপতি হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন।

এ বছরই কখনো তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন।

৩১৩ মিলানের ফরমান। রোমক সম্রাটদ্বয় কনস্টান্টাইন ও লিসিনিয়াস খ্রিস্টানদের সহ্য করার নীতি ঘোষণা করলেন।

৩১৪ আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌত্তলিকদের সাথে খ্রিস্টানদের সংঘাত দেখা দিল।

৩২৪ সম্রাট প্রথম কনস্টান্টাইনের নির্দেশে সেইন্ট পিটারের কবরের ওপর একটা ব্যাসিলিকার নির্মাণ কাজ শুরু হল।

৩২৫ নিসিয়ার* কাউন্সিল। রোমক সম্রাট কনস্টান্টাইনের তত্ত্বাবধানে খ্রিস্টানদের প্রথম নিখিল সাম্রাজ্য কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হল।
* বর্তমান তুরস্কের ইজনিক।

৩২৬ সম্রাট কনস্টান্টাইনের মা হেলেনা জেরুসালেমে তীর্থযাত্রায় গেলেন। তিনি পবিত্র স্থানগুলোতে নির্মাণকাজের কর্মসূচি হাতে নিলেন। কালক্রমে, পবিত্র ভূমি খ্রিস্টানদের তীর্থকেন্দ্র হয়ে উঠল।

৩২৭ হেলেনা জেরুসালেমে কথিত প্রকৃত ক্রুশ “আবিষ্কার” করলেন।*
* যেই কাঠের ওপর জেসাসকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। হেলেনার এই দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্য খুবই পরিকল্পিতভাবে উত্থাপন করা হয়েছিল এই দাবি।

৩২৮ লাখমি রাজা ইমরুল কায়েসের এপিটাফে তাঁকে সকল আরবের রাজা বলে বর্ণনা করা হল।

৩৩০ প্রাচীন গ্রিক শহর বাইজান্টিয়ামে একটি নতুন খ্রিস্টান শহর নির্মাণ করলেন কনস্টান্টাইন। নাম দিলেন কনস্টান্টিনোপল।* নবগঠিত শহরটিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হল।
* বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

৩৩০-১৪৫৩ পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কুরআন শরিফের ৩০ সংখ্যক সূরার নাম আর-রুম। সেখানে রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে। যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল। আজকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য পদ দুটি সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, পূর্ব রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিকরা নিজেদের রুমি বিবেচনা করতেন। গ্রিক ভাষায় কথা বললেও আচারব্যবহারে রুমি ছিলেন। তারা কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে বাইজেন্টাইন বলেন নি। কিন্তু অতিকথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাইজেন্টাইন। শব্দটি ব্যবহারিক কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আজ আর এই ভুল শোধরানো সম্ভব নয়।

৩৩২ গাজা শহরের বন্দর অঞ্চলে খ্রিস্টান অভ্যুত্থান, বন্দরটির নাম বদলে কন্সটান্টিয়া রাখা হল।

৩৩৫ জেরুসালেমে নির্মিত হল চার্চ অফ দ্য হোলি সেপুলচার।

৩৬৮-৩৬৯ আর্মেনিয়া রাজ্যের একাধিক শহর ধবংস করল সাসানীয় সাম্রাজ্য।

৩৮৬ বেথলেথেমে থিতু হলেন সেইন্ট জেরোমি। তাঁর শিষ্যারা তাঁর নিবাসের জন্য একটি মঠ স্থাপন করলেন। কাছেই নিজেদের জন্য স্থাপন করলেন একটি কনভেন্ট।

৩৮৭ আর্মেনিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে রাজি হলেন রোমক সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস ও সাসানীয় সম্রাট তৃতীয় শাপুর।

৩৯০-৬৩৬/৩৯৫-৬৩৮ প্রভিন্সিয়া প্যালেস্টিনা সেকুন্দা (ἐπαρχία Δευτέρα Παλαιστίνης)।

৩৯১ আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রিস্টান প্যাট্রিয়ার্ক থিওফিলাস নগরীর পৌত্তলিক মন্দিরগুলো ধ্বংস করলেন।

৩৯৫-৬৩৬ সিরিয়ায় বাইজেন্টাইন শাসন। ধর্মীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি অভয়ারণ্য হয়ে উঠল সিরিয়া। বাইজেন্টাইন আর সাসানীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে মুহুর্মুহু সংঘর্ষ।

৪০১-৫০০ আরবি কবিতার সমৃদ্ধিকাল।

৪০১-৫০০ আরবের বনু ঘাসসান গোত্র বাইজেন্টাইনদের মক্কেলে পরিণত হল।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত। এখানে বাইজেন্টাইন বলতে সাম্রাজ্যটির শাসকদের বোঝাবে। কুরআন শরিফে রুম বলতে এই সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে; যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল, বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

৪০২ গাজা শহরে রুমিদের দেবমন্দিরগুলো ধবংস করা হল।

৪০৫ বেথলেহেমে বাইবেলের লাতিন তর্জমা সমাপ্ত করলেন জেরোমি, যা পরবর্তীকে ভালগেট নামে পরিচিতি পাবে।

৪১৫ একদল ধর্মান্ধ খ্রিস্টানের হাতে খুন হলেন আলেকজান্দ্রিয়ার হাইপেশিয়া।*
* হাইপেশিয়াকে বলা হয় ‘আফ্রোদাইতের শরীরে প্লেটোর আত্মা।’ দার্শনিক ও গণিতবিদ। তাঁকে ‘বিজ্ঞানের শহিদ’ বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

৪২৮-৬৫২ মার্জপানাত। আর্মেনিয়ার অর্ধেকটা এ সময় সাসানীয়রা শাসন করছে। ভাইসরয় হিসেবে স্থানীয়দের নিয়োগ দেয়া হয়।

৪৫১ আভারআয়িরের সমর। আরমানি ও সাসানীয় বাহিনীগুলোর মধ্যে।

৪৭৬ জার্মান বর্বরদের আক্রমণে পশ্চিম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। পশ্চিম ইওরোপের অন্ধকার যুগয়ের সূচনা। তবে পূর্ব সাম্রাজ্যে কন্সটান্টিনোপলের বিকাশ ঘটা অব্যাহত থাকে।

৪৮৪ ভারসাকের চুক্তি। সাসানীয় সাম্রাজ্য ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সই হয়। যা শেষোক্তদের অধিকতর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় চিন্তার স্বাধীনতা দেয়।

৪৯০ আরবের বনু ঘাসসান গোত্র বাইজেন্টাইনদের মক্কেলে পরিণত হল।

৫০১-৬০০ আরবে এ সময় সাসানীয় আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মক্কেলদের মধ্যে ভয়াবহ আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। ঘাসসানি আর লাখমিদের এলাকাগুলোয় খ্রিস্টধর্মের প্রসার। এ সময়ই কখনো হিমইয়ারিদের রাজা ইহুদিধর্ম গ্রহণ করেন।

৫০৩ এডেসা দখল করে নেয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন সাসানীয় সম্রাট কাভাদ।

৫২৭-৬৪৬ এসময় মিসর শাসন করছে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য (Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখানে বাইজেন্টাইন বলতে সাম্রাজ্যটির শাসকদেরকে বোঝাবে। কুরআন শরিফে রুম বলতে এই সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে, যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল, বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

৫৩০-৪৯ মের্সিয়ান বিশপ অফ গাজা।

৫৩১-৫৭৯ প্রথম খসরুর রাজত্বকাল। তাঁর শাসনামলে আবেস্তা লিখিত রূপ পায়। এভাবে ধর্মটি প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র লাভ করে।

৫৩৭ রোমক সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের শাসনামলে বিখ্যাত ক্যাথেড্রাল আয়া সোফিয়ার নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত এটি দুনিয়ার সবচে বড় বাইজেন্টাইন চার্চ ছিল, ফাতিহ সুলতান মেহমেত যেটিকে মসজিদে রূপান্তরিত করেন। ১৯৩৫ সালে মসজিদটিকে যাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

৫৪৪ এডেসা দখল করে নেয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন সাসানীয় সম্রাট প্রথম খসরু।

৫৭০ মক্কার কুরাইশ গোত্রে জন্ম নিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৫৭৩ সিরিয়ায় অভিযান চালালেন সাসানীয় সম্রাট প্রথম খসরু।

৫৭৫ সাসানীয় সাম্রাজ্য বর্তমান ইয়েমেন দখল করে নিল।

৫৯০-৬২৮ দ্বিতীয় খসরুর রাজত্বকাল।

৫৯০-৬২৭ বাইজেন্টাইন সম্রাট মরিসের সাহায্য নিয়ে পারস্যের শাহ হলেন দ্বিতীয় খসরু, বিনিময়ে বাইজেন্টাইনদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চুক্তি করলেন।

৬০২ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অন্তর্দ্বন্দ্বে ফোকাসের হাতে মরিস খুন হয়ে গেলে বাইজেন্টাইনদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করলেন খসরু। সিরিয়ায় অভিযান চালালেন। সাসানীয়রা তাঁদের মক্কেল লাখমি সর্দারকে খুন করল।

৬০২-২৮/৬০৭-২৭ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে দ্বিতীয় খসরুর দীর্ঘকালীন যুদ্ধ। এর ফলে সাসানীয় সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে যায়। গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

৬০৫ কাবা পুনর্নিমাণ করার বছর, অংশ নিয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৬১০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নবুয়ত লাভ ও কুরআন নাজিলের সূচনা।

৬১১-৬১৪ সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল জয় করে নিল পারসিকরা।

৬১৪-২৮ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে সাসানীয় দখলদারিত্বের কাল।

৬১৪ সাসানীয়রা আরবের উত্তর সীমান্ত দখল করে নিল এবং বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করল।

৬১৫ পারস্যের সাসানীয় সাম্রাজ্য সার্ডিসকে ধবংস করে দিল।

৬১৯ পারস্যের সাসানীয়রা আলেকজান্দ্রিয়া দখল করে নিল।

৬২২ জুলাই ১৬ মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। আরবিতে মদিনা অর্থ: “শহর।” মদিনা শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। এর অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এবছর থেকে শুরু হয়।

৬২২-৬২৮ বাইজেন্টাইনরা পারসিকদের সিরিয়া থেকে বিতাড়িত করল।

৬২৪ বদরের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে আরব মুসলমানদের জয়লাভ।

৬২৫ উহুদের যুদ্ধ। আরব মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কার ক্ষমতাশালীদের জয়লাভ।

৬২৭ নিনেভেতে সাসানীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটা নির্ধারকমূলক বিজয় অর্জন করলেন বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

খন্দকের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীরা ইয়াসরিব ঘেরাও করার চেষ্টা চালাল। আরব মুসলমানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হল।

৬২৮-৩২ সাসানীয় সাম্রাজ্যের গৃহযুদ্ধ

৬২৮ হুদায়বিয়ার সন্ধি। মক্কার ক্ষমতাশালী ও মুসলমানদের মধ্যে। খায়বার বিজয়। এই যুদ্ধ বেদুঈনদের মধ্যে মুসলমানদের জনপ্রিয়তা বাড়ায়, বহু বেদুঈন এ সময় ইসলাম গ্রহণ করেন।

৬২৯ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে মুসলমানদের মক্কা গমন ও ওমরা পালন।

মুত’আর যুদ্ধ। বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে জর্দান নদীর পুবদিকের একটি গ্রাম দখল করার চেষ্টা করলেন আরব মুসলমানরা। কিন্তু ব্যর্থ হলেন।

৬৩০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে আরব মুসলমানদের মক্কা বিজয়। হুনাইনের যুদ্ধ, বেদুঈন হাওয়াজিন গোত্রের বিরুদ্ধে একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয় অর্জন করলেন আরব মুসলমানরা। তায়েফ শহর ও থাকিফ গোত্রের সাথে জোট গঠন করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। জেরুসালেমে পবিত্র ক্রুশকাঠের অংশবিশেষ পুনর্বহাল করলেন রোমক সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

৬৩২ বিদায় হজ। হযরত মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যু।

৬৩২-৬১ রাশিদুন খেলাফত

৬৩২-৫১ তৃতীয় ইয়াজদেগার্দের রাজত্বকাল।

৬৩২-৩৪ প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের শাসনকাল।

৬৩৩ সাসানীয় সাম্রাজ্যের মসনদে বসলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ।

৬৩৪-৪৪ দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাবের শাসনকাল।*
* তিনি বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যভুক্ত ভূখণ্ডগুলো মুসলমানদের অধিকারে আনার একটি সফল পরিকল্পনা করেন।

৬৩৪ আল-জিসরের সমর। মুসলমানদের ওপর সাসানীয়দের জয়লাভ। আরব বাহিনীকে কচুকাটা করলেন বাহমান জাধুইয়া ও জালিনুস।

৬৩৫ রাশিদুন খেলাফতের দামিশক জয়।

ফাহলের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের বাহিনী বাইজেন্টাইনদের ফিলিস্তিন গ্যারিসনকে পরাজিত করল।

৬৩৫-৪১ রাশিদুন খেলাফতের জেরুসালেম, ত্রিপোলি, অ্যান্টিওক, ও মিসর জয়।

৬৩৬ আগস্ট ইয়ারমুকের যুদ্ধ, রাশিদুন খেলাফতের হাতে বাইজেন্টাইনরা পরাস্ত হলেন।

নভেম্বর কাদিসিয়ার সমর

৬৩৭ রাশিদুন খেলাফতের হাতে তেসিফনের পতন। পালিয়ে রাইয়ে আশ্রয় নিলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ।

রাশিদুন খেলাফতের লেভান্ত* জয়। অঞ্চলটি থেকে বাইজেন্টাইনদের বের করে দেয়া হল।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

৬৪১ রাশিদুন খেলাফতের সিজারিয়া জয়।

৬৪২ নেহাওয়ান্দের সমর

৬৪২-৬৫১ তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ নিজ রাজত্ব রক্ষার জন্য সেনা সমাবেশ করার চেষ্টাকালে রাশিদুন খেলাফতের বাহিনীর আক্রমণের মুখে পালিয়ে যান।

৬৪৪ আবু লুলু ফিরোজ নামের এক পারসিক গোলামের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব।

৬৪৪-৫৬ তৃতীয় রাশিদুন খলিফা উসমান ইবনে আফফানের শাসনকাল।

৬৫০ খলিফা উসমানের উদ্যোগে কুরআন শরিফের একটি মান সংস্করণ প্রস্তুত করা হল। এটি আল-মুশহাফ আল-উসমানি নামে পরিচিত। বাকি সব সংস্করণ ধ্বংস করে ফেলা হল।

৬৫০-৫৩ রাশিদুন খেলাফতের সাথে সন্ধি করল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৫১ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ। সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন। পারস্য জয় করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৫৪-৫৫ মাস্তুলের যুদ্ধ। কন্সটান্টিনোপলের বিরুদ্ধে রাশিদুন খেলাফতের প্রথম বৃহদায়তন অভিযান।

৬৫৯ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে শান্তিচুক্তি সই করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৯২ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে উমাইয়া খেলাফতের শান্তিচুক্তির অবসান। সেবাস্তোপলিসের যুদ্ধ

তথ্যসূত্র

করোভকিন, ফিওদর। ১৯৮৬। পৃথিবীর ইতিহাস: প্রাচীন যুগ। দ্বিতীয় সংস্করণ। মূল রুশ থেকে হায়াৎ মামুদ কর্তৃক অনূদিত। প্রগতি প্রকাশন।

রিজন, শাহরিয়ার। ২০১৮। “ফারাও আখেনাতেন এবং মিসরীয় একেশ্বরবাদ।” ইতিবৃত্ত, আগস্ট ১৪।
https://itibritto.com/pharaoh-akhenaten-and-egyptian-monotheism/

Brosius, Maria. 2020. A History of Ancient Persia: The Achaemenid Empire. Willey Blackwell.

Daryaee, Touraj. 2023. Sasanian Persia: The Rise and Fall of an Empire. 2nd ed. I. B. Tauris.

Ellerbrock, Uwe. 2021. The Parthians: The Forgotten Empire. Routledge.

Hartz, Paula R. 2009. Zoroastrianism. 3rd ed. Chelsea House.

Holland, Tom. 2007. Persian Fire: The First World Empire and the Battle for the West. Anchor Books.

Hoyland, Robert G.. 2014. In God’s Path: the Arab Conquests and the Creation of an Islamic Empire. Oxford University Press.

Masalha, Nur. 2018. Palestine: A Four Thousand Year History. Zed.

Montefiore, Simon Sebag. 2011. Jerusalem: The Biography. Weidenfeld & Nicolson.

Morrisson, Martha A. and Brown, Stephen F.. 2009. Judaism. 4th ed. Chelsea House.

Pourshariati, Parvaneh. 2017. Decline and Fall of the Sasanian Empire: The Sasanian-Parthian Confederacy and the Arab Conquest of Iran. Paperback edition. I. B. Tauris.

Waters, Matt. 2014. Ancient Persia: A Concise History of the Achaemenid Empire, 550–330 BCE. Cambridge University Press.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

5 thoughts on “প্রাচীন নিকট প্রাচ্য”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *