প্রাচীন নিকট প্রাচ্য

Spread the love

Featured Image: Apollo Magazine.

World History Encyclopedia.

পূর্বসাল

৭২০০ চোঘা বনুতে প্রতিষ্ঠা লাভ করল এলামীয় সম্প্রদায়।

পূর্বসাল ৬৫০০-৬০১ সাল প্রাচীন নিকট প্রাচ্য

৬৫০০-৪০০০ সুমেরে উবাইদ পর্ব।

৫৪০০ প্রতিষ্ঠা করা হল এরিদু নগর।

৫০০০ গোদিন তেপে মানুষ বসতিস্থাপন করল। এ সময় সুমেরে মৃতদের সমাধিস্থ করা হচ্ছে।

৫০০০-৪৫০০ প্রতিষ্ঠা করা হল উরুক নগরী।

৪৫০০ সুমেরীয়রা নির্মাণ করলেন তাঁদের প্রথম মন্দির।

৪৩৯৫ প্রতিষ্ঠা করা হল অন্যতম প্রাচীন নগরী সুসা।*
* বর্তমানে এটি ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের সীমানায় অবস্থিত।

৪০০০-৩১০০ মেসোপটেমিয়ায়* উরুক পর্ব, দেখা দিল প্রথম নগররাষ্ট্রগুলো।
* “দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান”। মেসোপটেমিয়া ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর গ্রিকদের দেয়া নাম। এই দুই নদী হল দজলা ও ফোরাত।

৪৩০০-২৩৩৫/৩৩০০-১৯০০ সুমেরীয় সভ্যতা

৪০০০ প্রতিষ্ঠা করা হল নগররাষ্ট্র সিদন।

৪০০০-৩০০০ ব্যাবিলোস ও মিশরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হল।

৩৬০০ উরুক শহরে লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন সুমেরীয়রা।*
* ইতিহাসের এই প্রথম লেখাগুলো গল্প-কবিতা ছিল না  ছিল ধারকর্জের হিসাব  মানুষের হাতে মানুষের বন্দী হয়ে যাওয়ার দলিল।

৩৬০০-৩৫০০ সুমেরিয়ায় প্রথম লিখিত ভাষার নিদর্শন দেখা গেল।

৩৪০০ প্রাচীন মেসোপটেমীয় শহরগুলোর শাসক হয়ে উঠলেন পুরোহিতরা।

৩২০০ মিসরে হায়ারোগ্লিফিক লিপির বিকাশ ঘটছে।

৩১৫০ বিজয়াভিযানের মাধ্যমে মিসরকে ঐক্যবদ্ধ করলেন রাজা মেনেস।

৩১৫০-৩০ প্রাচীন মিসর

৩১৫০-২৬১৩ আদি রাজতান্ত্রিক পর্ব

৩১৫০-০০ রাজা মেনেসের শাসনকাল।*
* নার্মার নামেও পরিচিত।

৩০০০-২৯০০ দজলা নদীর পূর্ব তীরে মারি নগরীর উত্থান।

৩০০০-২০০১ হুররীয়রা আনাতোলিয়ায় বসতি স্থাপন করতে শুরু করল। এ সময় মর্মর সাগর আর ইজিয়ান সাগরের পারে সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল নিশ্চিতভাবে বলা যায়। কারণ কার্বন ডেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে এ সময় অস্তিত্বশীল ছিল এমন হিসালরিক নামের এক প্রাচীন শহরের কথা জানা গেছে।*
* হিসালরিকই হোমারের মহাকাব্যইলিয়াডয়ের ট্রয় নগরী।

৩০০০ সিরিয়া আর মিসরের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপিত।

ইন্দো-ইরানি আর্যদের একটি শাখা পারস্যে প্রবেশ করল। পারসিকরা এঁদের অংশ। আর্যদের আরেকটি শাখা পরবর্তীতে ভারতে প্রবেশ করে।*
* ফারসি আর সংস্কৃত ভাষার মিলের রহস্য এটাই।

প্রাচীন পারস্যে ধর্মের বিকাশ ঘটতে শুরু করল।

২৯০০-২৩৩৪ সুমেরের আদি রাজবংশীয় পর্ব

২৯০০-২৩০০ বালবেকে প্রথম বসতিস্থাপন।

২৭৫০ প্রতিষ্ঠা করা হল নগররাষ্ট্র টায়ার।

২৭০০ মধ্য আনাতোলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠী হাত্তিরা সুমেরীয় সভ্যতার সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলল।

২৬৭০ এ সময় মিসর শাসন করছেন রাজা জোসের, আমাদের জানাশোনার মধ্যে প্রথম পিরামিডটির নির্মাতা।

২৬৭০-৫০ রাজা জোসেরের শাসনামলে ইমহোতেপ কর্তৃক নির্মিত হল স্টেপ পিরামিড।

২৬১৩-২১৮১ পুরনো রাজত্ব পর্ব

২৬০০ সুমেরীয় ভাষায় সাহিত্যচর্চার সূচনা।

২৬০০-২০০০ এ সময় উরের রাজকীয় সমাধিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

২৬০০-২০২৫ আদি অ্যাসিরীয় পর্ব

২৫৬০ ফারাও খুফু কর্তৃক নির্মিত হল গিজার মহা পিরামিড।

২৫০০ হাত্তিদের নগররাষ্ট্রগুলো রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল হাত্তুসা।

লাগাশের প্রথম রাজবংশ।*
* মেসোপটেমিয়ার প্রথম সাম্রাজ্য বিবেচিত হয়।

নির্মিত হল গিজার স্ফিংস।

২৪০০ আদিতম কয়েকটি সুমেরীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এসময় মেসোপটেমিয়ায় অভিবাসিত হন আমোরীয় গোষ্ঠী।

২৩৫০ মেসোপটেমীয় নগররাষ্ট্র লাগাশের রাজা উরুকাগিনা একগুচ্ছ বিধিবিধান প্রণয়ন করলেন, যা শাসকের ক্ষমতাকে সীমিত করার আদিতম পদক্ষেপগুলোর একটি।

২৩৩৪-২১৫৪ আক্কাদীয় সাম্রাজ্য

২৩৩৪ মেসোপটেমিয়া শাসন করতে শুরু করলেন আক্কাদের সারগন।

২৩৩৪-২২৭৯ আক্কাদের সারগনের রাজত্বকাল।

২৩৩০ উর নগরীতে একটা ধবংসলীলা চালালেন আক্কাদের সারগন।

২৩২০ আক্কাদের সারগন হাত্তিদের অঞ্চলে আক্রমণ চালালেন, কিন্তু হাত্তুসা দখল করতে ব্যর্থ হলেন।

২২৮৫-৫০ এ সময় মেসোপটেমিয়ায় বাস করছেন পৃথিবীর প্রথম কবি। নাম তাঁর এনহেদুয়ান্না।* দেবী ইনান্নাকে নিয়ে দুটি স্তোত্র লিখেছিলেন তিনি।
* সুমেরীয়রা তাঁকে এই নামেই চিনত। আক্কাদীয়, অ্যাসিরীয়, আর ব্যাবিলনীয়রা চিনত ইশতার নামে। ইনিই ফিনিশীয়দের আসতার্তে আর গ্রিকদের আফ্রোদিতি।

২২৭৮-২২৭০ রিমুশের রাজত্বকাল।

২২৬৯-২২৫৫ মানিশতুশুর রাজত্বকাল।

২২৫৪-২২১৮ নারাম-সিনের রাজত্বকাল।

২২৪০ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আমোরীয়দের বিরুদ্ধে একটা সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেন নারাম-সিন।

২২২০-২১৫০ মারি অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আক্কাদীয় সাম্রাজ্য। শাক্কানাক্কু নামক সামরিক প্রশাসকরা শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২২১৮-২০৪৭/২১৪১-২০৫০ সুমেরে গুতীয় পর্ব

২২১৭-২১৯৩ শার-কালি-শাররির রাজত্বকাল।

২২০০ সারগনের নাতি ও আক্কাদীয় রাজা নারাম-সুয়েন হাত্তিদের অঞ্চলে অভিযান চালালেন। তাঁকে বাধাপ্রদান করলেন হাত্তিদের রাজা পামবা। এ সময় হাত্তীয় নগররাষ্ট্রগুলোতে শিল্পের সমৃদ্ধি ঘটছে।

২১৯৩-২১৫৪ আক্কাদীয় সাম্রাজ্যে গুতীয় আগ্রাসন।

২১৮৯-২১৬৯ দুদুর রাজত্বকাল।

২১৮১-২০৪০ প্রথম মধ্যবর্তী পর্ব

২১৬৮-২১৫৪ শু-তুরুলের রাজত্বকাল।

২১৫৪ গুতীয়দের হাতে আক্কাদের পতন, আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের অবসান।

২১৫০-২০০০ নব্য সুমেরীয় পর্ব

২১০০-১৪০০ এ সময়ই কখনো রচিত হয় সুমেরীয় মহাকাব্য গিলগামেশ। এই মহাকাব্যে একটি মহাপ্লাবনের কথা বলা আছে। যা সেমিটিক ধর্মগুলোতে বর্ণিত মহাপ্লাবনের ঐতিহাসিক উৎস।

২১১২ উরের তৃতীয় রাজবংশের শাসন শুরু হল।

২১১৯-২১১২ সুমেরের উরুক নগরীতে উতু-হেগালের রাজত্ব।

২১১২-২০৯৪ সুমেরে উর-নাম্মুর রাজত্ব।

২১১২-২০০৪ সুমেরীয় রেনেসাঁ

২১০০ উর, এরিদু, উরুক, আর নিপ্পুর শহরগুলোতে মেসোপটেমিয়ার প্রথম জিগুরাতগুলো নির্মিত হয়। উরুক শহরে এসময় রাজত্ব করছেন উতু-হেগাল। তৈরি হচ্ছে প্রথম সুমেরীয় রাজাদের তালিকা। এসময় থেকে ২০৫০ সালের মধ্যবর্তী কোনো সময়ে রচিত হল উর-নাম্মুর বিধান। 

২০৩৮ সুমেরের মহাপ্রাচীর নির্মাণ করলেন উরের রাজা শুলগি।

২০২৫-৬০৯ অ্যাসিরিয়া

২০২৫-১৩৬৪ পুরনো অ্যাসিরীয় পর্ব

২০০৪ এলামীয়দের হাতে উৎখাত হল উরের তৃতীয় রাজবংশ।

২০০৪-১৫৯৫ পুরনোবাবেলীয় পর্ব

২০০০ হাত্তি সংস্কৃতি এ সময় উৎকর্ষের শিখরে আছে।

১৯০০ অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল আশুর। সেমিটীয় একেশ্বরবাদী বিশ্বাসে বিশেষ গুরুত্ব রাখে আশুর। বাইবেলে বলা হয়েছে, নূহ নবীর পুত্র শেমের পুত্রের নাম আশুর, মহাপ্লাবনের পর যিনি নির্মাণ করেন আশুর নগরী।*
* এই বিশ্বাসের পক্ষে কোন ঐতিহাসিক-প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই।

১৮১৩-১৭৯১ প্রথম শামসি আদাদের রাজত্বকাল।*
* আমোরীয়দের বিতাড়িত করেন, আশুরকে অ্যাসিরিয়ার রাজধানী বানান।

১৮৯৪-৫৩৯ ব্যাবিলনিয়া

১৮৯৪ ব্যাবিলনে প্রতিষ্ঠা করা হল আমোরীয় রাজবংশ।

১৮০০ মিসরের ব্রোঞ্জের ব্যবহার শুরু হল। কাহুনের গাইনাকোলজিকাল প্যাপিরাসে নারী স্বাস্থ্য ও গর্ভনিরোধের প্রসঙ্গ উল্লিখিত হল।

১৭৯৫-১৭৫০ হাম্মুরাবির রাজত্বকাল।

১৭৯২ ব্যাবিলনের দেয়ালগুলো নির্মাণ করলেন রাজা হাম্মুরাবি।

১৭৮৩ হিকসোরা আভারিস নির্মাণ করে শহরটিকে তাদের রাজধানী বানাল।

১৭৮২-১৫৭০ দ্বিতীয় মধ্যবর্তী পর্ব

১৭৮৭ উরুক ও ইসিন জয় করলেন হাম্মুরাবি।

১৭৭২ হাম্মুরাবির বিধান

১৭৬১ অজ্ঞাত কারণে মারা গেলেন মারির শেষ শাসক জিমরি-লিম। মারি নগরী দখল করে নিলেন তাঁর সাবেক মিত্র হাম্মুরাবি।

১৭৬০-১৭৫৭ মারি নগরী ধবংস করে দিলেন হাম্মুরাবি। তবে নগরবাসীর জান বকশ দেয়া হয়।

১৭৫৫ ব্যাবিলন থেকে পুরো মেসোপটেমিয়া শাসন করছেন হাম্মুরাবি।

১৭৫০ আমোরীয় অভিবাসন ও এলামীয় আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে গেল সুমেরীয় সভ্যতা।

১৭৫০-১৩০০ ট্রয় নগরী এ সময় উৎকর্ষের শিখরে আছে।

১৭০০ মিসরের দক্ষিণাঞ্চলে গঠিত হল কুশ রাজ্য।

হিত্তীয় গোষ্ঠী হাত্তিদের অঞ্চলে হামলা চালাল ও হাত্তিদের রাজধানী হাত্তুসা ধ্বংস করে দিল, হিত্তীয় সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটল।

১৭০০-১১৭৮ হিট্টাইট সাম্রাজ্য

১৬৮০ হুররীয়রা অ্যাসিরিয়া দখল করে নিল।

১৬৫০ হাত্তিদের সম্পূর্ণরূপে অধীনস্ত করলেন হিত্তীয় যোদ্ধা-রাজা হাত্তুসিলি। হিত্তীয়দের রাজধানী হিসাবে হাত্তুসাকে পুনঃনির্মাণ করা হল। হাত্তিদের হিত্তীয় সংস্কৃতিতে আত্মীকৃত করে নেয়া হল।

১৬০০-৮০০ সিরিয়ার আলেপ্পো এ সময় হিত্তীয়দের নিয়ন্ত্রণে আছে।

১৬০০ এডউইন স্মিথ প্যাপিরাস, একটি মিসরীয় মেডিকেল টেক্সট।

১৫৯৫ হিত্তীয়দের রাজা প্রথম মার্সিলি কর্তৃক ব্যাবিলনের ধবংসসাধন। পুরনো বাবেলীয় পর্বের অবসান ঘটল। ব্যাবিলনের “অন্ধকার যুগের” সূচনা হল।

১৫৯৫-১১৫৫ এ সময় ব্যাবিলনিয়া শাসন করছে কাসসাইট রাজবংশ।

১৫৭০ হিকসোদের মিসর থেকে তাড়িয়ে দিলেন প্রথম আহমোস, ধবংস করে দিলেন তাদের রাজধানী আভারিস।

১৫৭০-১০৬৯ নতুন রাজত্ব পর্ব

১৫৫০- ১০৭০ এ সময়ই কখনো লিখিত হয় ইজিপশিয়ান বুক অফ দ্য ডেড

১৫০৪-১৪৯২ মিসরীয় সাম্রাজ্যকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করলেন ফারাও তুতমোস।

১৫০০-১২০০ তুরস্ক আর আর্মেনিয়ায় আদিবাসী গোষ্ঠীদের হায়াসা-আজ্জি কনফেডারেশন সমৃদ্ধি লাভ করছে।

১৫০০-১০০০ আধুনিক পণ্ডিতদের হিসেবে, পারস্যের নবি জরাথুস্ট্রের জীবনকাল। জরাথুস্ট্রবাদের পবিত্র বই আবেস্তা নামে পরিচিত, এসময়ই তা মৌখিকভাবে বিকশিত হতে শুরু করে। আবেস্তার সাথে ঋগ্বেদের বহু মিল পাওয়া গেছে।*
জরাথুস্ট্রবাদ সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে দেখুন, (Hartz 2009).

১৫০০ ফোরাত নদী পর্যন্ত সম্প্রসারিত হল মিসরীয় সাম্রাজ্য।

১৪৭৯-৫৮ রানী হাতশেপসুতের শাসনামল।

১৪৭২ মিততানিরা অ্যাসিরিয়া দখল করে নিল।

১৪৫৮-২৫ ফারাও তৃতীয় তুতমোসের রাজত্ব।

১৪৫৮ কানান – ফিলিস্তিনের একটি প্রাচীন নাম – আক্রমণ করলেন ফারাও তৃতীয় তুতমোস। কাদেশ ও মেজিদ্দোর নেতৃত্বে গঠিত হল কানান, কাদেশ, মিত্তানি, ও মেজিদ্দোদের কানানীয় ঐক্যজোট। মেজিদ্দোর যুদ্ধ, কাদেশের রাজা দুরুশার নেতৃত্বাধীন ঐক্যজোটকে পরাস্ত করলেন ফারাও তৃতীয় তুতমোস।

১৪০০ স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করল অ্যাসিরিয়া।

১৩৮৬-৫৩ ফারাও তৃতীয় আমেনহোতেপের রাজত্ব।

১৩৮০ হিত্তীয়দের রাজধানী হাত্তুসাকে পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিল কাসকা নামের একটি দখলদার গোষ্ঠী। হিত্তীয় সাম্রাজ্যে প্রথমবারের মত লোহা ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৩৬৩-৯১২ মধ্য অ্যাসিরীয় পর্ব

১৩৫৩-৩৬ ফারাও আখেনাতেনের রাজত্ব। তিনি ও তাঁর স্ত্রী নেফারতিতি মিসরের বহুদেবত্ববাদ ত্যাগ করে একপ্রকার একেশ্বরবাদ প্রচার করেন।* তাই ঐতিহ্যিক বহুদেবত্ববাদীদের নজরে তাঁরা ছিলেন ধর্মদ্রোহী।
*এই একেশ্বরবাদ ইহুদি-খ্রিস্টান-মুসলমানদের নিরাকার ঈশ্বরের ধর্ম না। আখেনাতেন সূর্যদেবতা আতেনকে একমাত্র ঈশ্বর মনে করতেন। তথাপি একেশ্বরবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ আখেনাতন।

১৩৫০-১২৫০ হিত্তীয় সাম্রাজ্য এ সময় উৎকর্ষের চূড়ায় আছে।

১৩৪৪-২২ হিত্তীয়দের রাজা প্রথম সুপ্পিলুলিউমা মিত্তানিদের রাজধানী ওয়াশুকান্নি ধবংস করে দিলেন এবং দ্বিতীয় আর্তাতামাকে পুতুল শাসক হিসাবে মিত্তানি সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসালেন।

১৩৩৬-২৭ ফারাও তুতেনখামুনের রাজত্ব।

১৩৩৪ সামোসের ডুরিসের মতে, ট্রয় যুদ্ধ ঘটার বছর।

১৩২৭-২৩ ফারাও আঈয়ের রাজত্ব। এসময় আখেনাতেনের একেশ্বরবাদের প্রভাব প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। মিসর ফিরে গেছে তার ঐতিহ্যিক বহুদেবত্ববাদী ধর্মে।

১৩২১ মিত্তানি সাম্রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল দখল করে নিল হিত্তীয়রা।

১৩২০ আঈকে উৎখাত করে ফারাও হলেন সেনাপ্রধান হোরেমহেব। হায়াসা-আজ্জি কনফেডারেশনের ওপর হামলা চালালেন হিত্তীয়দের রাজা দ্বিতীয় মুসিলি।

১৩২০-১২৯২ ফারাও হোরেমহেবের রাজত্ব।

১৩০৭-১২৭৫ প্রথম আদাদ নিরারির রাজত্বকাল।*
* অ্যাসিরিয়ার করদ রাজ্যে পরিণত হল মিততানি।

১২৯৫ ফারাও রামেসিস প্রতিষ্ঠান করলেন মিসরের ১৯তম রাজত্ব।

১২৯৪-৭৯ ফারাও প্রথম সেতির রাজত্ব।

১২৭৯-১২ ফারাও দ্বিতীয় রামেসিসের রাজত্বকাল।*
* সেমিটীয় একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের ফেরাউন এই দ্বিতীয় রামেসিস। যিনি ইহুদিদের বন্দী করে রেখেছিলেন এবং মুসা নবি যার অত্যাচারের হাত থেকে ইহুদিদেরকে রক্ষা করে কানানে – বর্তমান ফিলিস্তিন – নিয়ে যান। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্ণিত এই কথিত এক্সোডাসের পক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১২৭৪ কাদেশের যুদ্ধ। সিরীয় শহর কাদেশে মিসরের ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস আর হিত্তীয় রাজা দ্বিতীয় মুওয়াতাল্লির মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। অমীমাংসিত, দুই পক্ষই নিজেকে বিজয়ী দাবি করে।

১২৬৪-৪৪/১২৪৪-২৪ আবু সিম্বেল মন্দির নির্মাণের সম্ভাব্য সময়কাল।

১২৫৮ মিসরের ফারাও দ্বিতীয় রামেসিস ও হিত্তীয়দের সম্রাট তৃতীয় হাত্তুসিলির মধ্যে শান্তি চুক্তি সই।*
* নথিবদ্ধ ইতিহাসের প্রথম শান্তি চুক্তি বিবেচিত হয়।

১২৪৫ নিহরিয়ার যুদ্ধ। অ্যাসিরিয়ার সম্রাট প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তা হিত্তীয়দের সম্রাট চতুর্থ তুদাহালিজাকে পরাজিত করলেন।

১২৫৮ কাদেশের সন্ধি, মিসরীয় ও হিত্তীয়দের মধ্যে শান্তি চুক্তি সাক্ষরিত হল, যা ইতিহাসের প্রথম শান্তি চুক্তি।

১২৫০-১১৫০ এ সময় বহু কনানীয় শহর ধ্বংস হয়।

১২৫০ মিততানি রাজ্য জয় করলেন অ্যাসিরিয়ার সম্রাট প্রথম শালমানেসের, পরাজিত করলেন রাজ্যটির সব মিত্রকে।

হেরোডোটাসের মতে, ট্রয় যুদ্ধ ঘটার বছর।

১২৪৫ নিহরিয়ার সমর। হিত্তাইতদের চতুর্থ তুদাহালিজাকে পরাজিত করলেন অ্যাসিরিয়ার প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তা।

১২৪৪-১২০৮ প্রথম তুকুলতি-নিনুর্তার রাজত্বকাল।*
* হিত্তাইতদের জয় করল অ্যাসিরিয়া।

১২২৫ ব্যাবিলনকে ধ্বংস করলেন তুকুলতি-নিনুর্তা।

১২২০ ব্যাবিলন এ সময় অ্যাসিরিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে।

১২০০-৮০০ ফিনিশীয় উপনিবেশায়নের প্রথম ঢেউ। পুরো ভূমধ্যসাগর জুড়ে ফিনিশীয়রা বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে।

১২০০ নব্যহিত্তীয় রাজ্য হিসাবে লিডিয়ার উত্থান ঘটল। ফ্রিজীয় নামের একটি সমুদ্রচারী গোষ্ঠী আনাতোলিয়ায় হামলা চালাল। হিত্তীয় সাম্রাজ্যের পতন।

লেভান্তে* হামলা চালাল সমুদ্রচারী মানুষেরা।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

১১৮৪-৫৩ ফারাও তৃতীয় রামেসিসের রাজত্ব।

১১৮০ সমুদ্রচারী গোষ্ঠীদের আক্রমণের শিকার হল মিসর।

১১৭৮ সমুদ্রচারী গোষ্ঠীদের পরাস্ত করলেন রাজা দ্বিতীয় রামেসিস।

১১২০ অনেক পুরোনো একটি পাঠ্য থেকে তৈরি করা হল সুমেরীয় এনুমা এলিশের (সৃষ্টি কাহিনী) বিদ্যমান প্রতিলিপি।

১১১৫-১০৭৬ প্রথম টিগলাথ-পিলেসারের রাজত্বকাল।*
* ফিনিশিয়া জয় করেন।

১১১০ প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ কাদিজ।

১১০১ প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ উটিচা।

১১০০ ফিনিশীয় বর্ণমালা।

১০৬৯-৫২৫ তৃতীয় মধ্যবর্তী পর্ব

১০০০ এ সময় টায়ার নগররাষ্ট্র সমৃদ্ধির শীর্ষে আছে। সিদনের রাজা হলেন আহিরাম। এ বছরই ব্যাবিলোসের আহিরাম মারা যান, যার শবাধারে ফিনিশীয় বর্ণমালার প্রাচীনতম শিলালিপি খোদিত আছে।

এশিয়ার স্তেপ থেকে পারস্যে অভিবাসিত হল সিথিয়ানরা।

৯৬৯-৯৩৬ টায়ারের রাজা হিসেবে প্রথম হিরামের রাজত্বকাল।

৯১২-৮৯১ দ্বিতীয় আদাদ নিরারির রাজত্বকাল।

৯১২-৬১২/৯১১-৬০৯ নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য

৯০০-৮০০ অ্যাসিরীয় সভ্যতা থেকে টিকে থাকা স্ফিংস, সাধারণত প্রাসাদের বাইরে প্রহরী হিসেবে রাখা হতো।

৮৮৪-৮৫৯ প্রথম আশুরনাসিরপালের রাজত্বকাল।*
* রাজধানী আশুর থেকে সরিয়ে কালহুতে নিয়ে যান।

৮৬৮ অ্যাসিরীয়দের ফিনিশিয়া বিজয়।

৮৫৩ এ সময় থেকে প্রাপ্ত একটি কিউনিফর্মে অ্যাসিরীয় রাজা তৃতীয় শালমানেসারের কারকারের সমরয়ের কথা বলা হল। যেখানে আরিবি শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়। যার অর্থ: “যাযাবর”। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত আরবরা উল্লিখিত হল। অ্যাসিরীয় শিলালিপি থেকে আরো জানা যায়, গিন্দিবু নামের এক আরব অ্যাসিরীয়দের একটি শত্রু বাহিনীকে উট সরবরাহ করেছিল।

এ সময় ব্যাবিলনের রাজারা অ্যাসিরিয়ার সামরিক তাকতের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

৮৫০ এশিয়া থেকে প্রাচীন পারস্যে অভিবাসিত হল মিদীয়রা।

৮৪১ উত্তরের ইস্রাইল রাজ্য এ সময় অ্যাসিরিয়াকে খাজনা দিচ্ছে।

৮৩৯-৮৩০ অ্যাসিরীয় রাজা তৃতীয় শালমানেসারের বর্ষপঞ্জিতে প্রথমবারের মত লিখিত হরফে পারসিকদের উল্লেখ করা হল।

৮২৪-৮১১ চতুর্থ শামসি আদাদের রাজত্বকাল।*
* তাঁর শাসনামলেই কখনো অ্যাসিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেছিল।

৮২০-৭৭৪ টায়ারের রাজা হিসেবে পিগম্যালিয়নের রাজত্বকাল।

৮১৪ প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ কার্থেজ।

৮০০-৬০০ ফিনিশীয় উপনিবেশায়নের দ্বিতীয় ঢেউ। পুরো ভূমধ্যসাগর জুড়ে স্থাপন করা বাণিজ্যকুঠিগুলো পূর্ণ উপনিবেশে পরিণত হল।

৭৫০-৭০০ জাগরোস পর্বতমালার ওপর বসবাসকারী মিদীয় গোষ্ঠীর ওপর অ্যাসিরীয় সম্রাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৭৫০ মিসরে লোহার ব্যবহার শুরু হল। ব্যাবিলনে নির্মিত হল অত্যাধুনিক জলপ্রণালী ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠা করা হল ফিনিশীয় উপনিবেশ কার্থেজ।

৭৪৫-৭২৭ তৃতীয় টিগলাথ পিলেসারের রাজত্বকাল।*
* সরকার ও সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন, এবং সাম্রাজ্যকে সম্প্রসারিত করেন।

৭৪৫ অ্যাসিরীয় সম্রাট দ্বিতীয় টিগলাথ পিলেসার ব্যাবিলনের রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ব্যাবিলনের ওপর অ্যাসিরীয় শাসন চাপিয়ে দিলেন।

৭৩৪ চালদীয়রা দখল করে নিল ব্যাবিলন।

৭৩৪ অ্যাসিরীয়দের গাজা জয়।

৭৩০ আরবদের রানী শামসিকে পরাজিত করলেন অ্যাসিরীয়রা।

৭২৯ ব্যাবিলনে অ্যাসিরীয় দখলদারিত্ব।

৭২৮-৬৬৮ জাকুতু।*
* সেনাচেরিবের স্ত্রী, এসারহাদ্দোনের মা এবং আশুরবনিপালের দাদী। অ্যাসিরিয়ার ইতিহাসে তিনিই একমাত্র নারী যিনি নিজ নামে নির্মাণ প্রকল্প কমিশন করতেন কিংবা চুক্তি সম্পাদন করতেন।

৭২৭-৭২২ পঞ্চম শালমানেসেরের রাজত্বকাল।

৭২৭-৬৭৫ মিদীয়রা তাঁদের রাজা দায়ুককুর রাজত্বকালে ঐক্যবদ্ধ হলেন।

৭২২-৭০৫ দ্বিতীয় সারগনের রাজত্বকাল।*
* রাজধানী কালহু থেকে সরিয়ে দুর-শাররুকিনে যান। অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য এ সময় সমৃদ্ধির শীর্ষে ছিল।

৭২২ অ্যাসিরীয়রা সামারিয়া ও উত্তরের ইস্রাইল রাজ্য জয় করল। ইস্রাইল রাজ্যের উচ্চকোটিকে নির্বাসনে পাঠাল।

৭১৩ অ্যাসিরিয়ার যুবরাজ সেনাচেরিবের সাথে জাকুতুর বিয়ে হল।

৭১২-৬৭১ এ সময় মিসর শাসন করছেন কুশীয়রা।

৭০৫-৬৮১ সেনাচেরিবের রাজত্বকাল।

৭০৫ সেনাচেরিব রাজধানী দুর-শাররুকিন থেকে সরিয়ে নিনেভেতে নিয়ে যান।

৭০১ জুদাহয়ের লাচিশ শহরটি ধবংস করে দিলেন সেনাচেরিব, তবে জেরুসালেম দখল করতে ব্যর্থ হলেন।

৭০০-৬৯৮ নিনেভের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাল। পার্ক এবং সম্ভবত ঝুলন্ত উদ্যান নির্মাণ করেন সেনাচেরিব।

৭০০-৬০১ অ্যাসিরীয়রা তাদের পুতুল রানী তাবুয়াকে কেদারের ক্ষমতায় বসালেন।

৭০০ ফিনিশীয়দের কাছ থেকে ত্রিরেম বানানো শিখলো করিন্থীয়রা।

৬৯৮-৬৯৪ এলাম ও ব্যাবিলনের সাথে যুদ্ধে জড়ালো অ্যাসিরিয়া।

৬৯৪ মসনদের উত্তরাধিকারী যুবরাজ আশুর-নাদিন-সুমির মৃত্যুর সম্ভাব্য বছর।

৬৮৯ ব্যাবিলনকে ধ্বংস করা হল।

৬৮৫ এসারহাদ্দোন ও আশুর-হামাতের ঘরে জন্ম নিলেন আশুরবনিপাল।

৬৮৩ জাকুতুর পুত্র এসারহাদ্দোনকে নিজ ওয়ারিশ হিসেবে মনোনীত করলেন সেনাচেরিব।

৬৮১ নিজের দুই পুত্রের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন সেনাচেরিব।

৬৮১-৬৬৯ এসারহাদ্দোনের রাজত্বকাল।*
* সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত করেন। এ সময় রানী দোওয়াগের হিসেবে তাঁর মা জাকুতুর উত্থান ঘটে।

৬৭৭-৬৭৩ নিনেভেতে এসারহাদ্দোনের জন্য নিজ নামে একটি প্রাসাদ নির্মাণের হুকুম দিলেন জাকুতু।

৬৭৬ অ্যাসিরিয়ায় সিথীয় ও মান্নাইয়ানরা একযোগে হামলা চালাল।

৬৭৫-৬৪০ পারসিকরা তাঁদের রাজা তেইসপেসের রাজত্বকালে পারসিসে বসতিস্থাপন করল।

৬৭১ মিসরে দ্বিতীয়বারের মত অভিযান চালালো অ্যাসিরীয়রা। অ্যাসিরীয় সেনাবাহিনী সফলভাবে মেম্ফিস দখল করতে সক্ষম হল। অ্যাসিরীয়দের মিসর জয়।

৬৭০-৬৬৮ আনুগত্য চুক্তি জারি করলেন অ্যাসিরিয়ার রানী নাকিয়া-জাকুতু, যা আশুরবনিপালের রাজা হিসেবে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করে।

৬৭০ মিদিয়ার ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাল অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য। এ সময় উত্তর আরবের ভেতর দিয়ে সিরিয়া জয় করতে যাচ্ছেন অ্যাসিরীয় সম্রাট।

৬৬৯ মিসরে নিজ শাসন পোক্ত করার পথে মারা যান এসারহাদ্দোন।

৬৬৮-৬২৭ আশুরবনিপালের রাজত্বকাল।*
* নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের শেষ রাজা।

৬৬৭-৬৬৫ মিসরীয় বিদ্রোহ দমন করলেন অ্যাসিরীয় সম্রাট আশুরবনিপাল।

৬৫৩ অ্যাসিরীয়দের মিসর থেকে বিতাড়িত করা হল।

৬৫৩-৬৪৮ অ্যাসিরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো ব্যাবিলন। ব্যাবিলন ঘেরাও করা হল।

৬৪৮ অ্যাসিরীয় ও এলামীয়দের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে গেল।

৬৪৭-৬২৯ নিনেভেতে এ সময়কালের মাটির ফলকের বিশাল সংগ্রহ পাওয়া গেছে যা আশুরবনিপালের পাঠাগার নামে পরিচিত।

৬৪৬ এলামীয় শহর সুসা ধ্বংস করলেন আশুরবনিপাল।

৬৪০ অ্যাসিরিয়ার রাজা আশুরবনিপালের বশ্যতা স্বীকার করলেন পরসুমাশের রাজা কুরুশ।

৬৪০-৫৫০ মিদিয়ার ক্ষমতার উৎকর্ষকাল।

৬২৮-৫৫১ পাহলবি উৎসগুলোতে দেয়া পারস্যের নবি জরাথুস্ট্রের জীবনকাল। এসব উৎসের ঐতিহাসিকতা খুব মজবুত না। সাম্রাজ্যিক প্রচারণা মনে হয়।

৬২৭ আশুরবনিপালের মৃত্যুতে সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে শুরু করলো।

৬২৬-৫২৯ নব্য-বাবেলীয় সাম্রাজ্য

৬১২ আশুর, কালহু ও নিনেভের মত অ্যাসিরীয় শহরগুলো ধ্বংস করলো ও পুড়িয়ে দিলো মিদীয়, ব্যাবিলনীয় ও পারসিক বাহিনী।

৬০৯ অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের পতন।

পূর্বসাল ৬০৯-২৪০ সাল অ্যাসিরিয়ার সাম্রাজ্যোত্তর পর্ব

৬০৫-৫৬২ দ্বিতীয় নেবুচাদনেজারের রাজত্বকাল।*
* মুসলিম পরম্পরায় ইনি বখতে নসর নামে পরিচিত।

৬০১ মিসর দখলের একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালালেন বাবেলের সম্রাট দ্বিতীয় নেবুশেডনেজার।

৬০০ বাবেলীয়দের ফিনিশিয়া বিজয়।

৫৯৭ জেরুসালেম জয় করলেন ব্যাবিলনিয়ার রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার।

৫৯৭-৫৮৭ ইহুদিদের ব্যাবিলনিয়ায় নির্বাসিত করা হল।

৫৮৭-৫৩৯ ইহুদিদের ব্যাবিলনিয়ায় নির্বাসিত থাকার বছরগুলো।

৫৮৫ মিদিয়ার রাজা হলেন অস্তাইজেস। লিডিয়ার সাথে যুদ্ধ। ফল অনির্ধারিত হওয়ায় শান্তিচুক্তি সই হল।

৫৭৫ ইশতার গেট ও ব্যাবিলনের মহাপ্রাচীরগুলো নির্মাণ করলেন বখতে নসর।

৫৫৯ পারস্যের রাজা হলেন কুরুশ।

৫৫৯-৫৩০ কুরুশের রাজত্বকাল।

৫৫০ মিদিয়ার রাজা অস্তাইজেসকে পরাস্ত করলেন কুরুশ।

৫৫০-৩৩০ হাখমানেশি সাম্রাজ্য*
* ৫৫০ পূর্বসালে পারস্যের কুরুশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। যিনি সাইরাস দ্য গ্রেট নামে অধিক পরিচিত। দরবারি ধর্ম হিসেবে জরাথুস্ট্রবাদ গ্রহণ করে নেয়। তবে হাখমানেশি সম্রাটরা ধর্ম প্রশ্নে উদার ছিলেন। তাঁরা সাম্রাজ্যবিস্তার করেছেন। কিন্তু বিজিতদের ওপর নিজেদের ধর্ম চাপিয়ে দেননি। হাখমানেশি সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, (Brosius 2020; Waters 2014).

হাখমানেশি সাম্রাজ্যের শেষদিকে জরবানবাদের বিকাশ শুরু হয়।*
* জরাথুস্ট্রবাদের একটি শাখা। তবে জরবানবাদকে জরাথুস্ট্রবাদের “হেরেসি” বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হল, দুটি ক্ষেত্রে জরবানবাদ এমন বিশ্বাস প্রচার করে, যার জরাথুস্ট্রবাদের বিশ্বাসের সাথে একেবারে সরাসরি সাংঘর্ষিক: (১) জরবানবাদ দাবি করে, সুনীতির প্রতীক আহুরা মাজদা আর দুর্নীতির প্রতীক আংরা মান্যু আসলে যমজ ভাই, দুজনেই সৃষ্ট। প্রকৃত সৃষ্টিকর্তার নাম জরবান আকারানা, “অসীম সময়।” তাই একমাত্র অসীম সময়ই মানুষের উপাসনার যোগ্য। (২) জরবানবাদ দাবি করে, মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা নেই; কেননা সময়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। মানুষ নিয়তির হাতের পুতুল।

৫৫০-৩৩০ হাখমানেশি সাম্রাজ্যে নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে আবেস্তা। গ্রিক সূত্রগুলো বলছে, এ সময়ই পারস্য জুড়ে দেখা দেয় অগ্নি মন্দির, জরাথুস্ট্রবাদের উপাসনাস্থল। জরাথুস্ট্রীরা ‘অগ্নিপূজারী’, এরকম একটি ভুল ধারণা রয়েছে; বাস্তবে আগুন অপার্থিবের একটি প্রতীক মাত্র।

৫৪৯-৫৪০ কুরুশের লিডিয়া জয়।*
* লিডিয়ার রাজা ক্রসাস হাখমানেশি সাম্রাজ্যে হামলা চালান। এই হামলা চালানোর আগে পরামর্শের জন্য ক্রসাস ডেলফির ওরাকলের কাছে গেলে ওরাকল তাঁকে জানায়, এই যুদ্ধে এক বৃহৎ সাম্রাজ্য ধবংস হবে। যুদ্ধ শেষে দেখা গেল ওরাকল ঠিকই অনুমান করেছিল, যুদ্ধে আসলেই এক বৃহৎ সাম্রাজ্য ধবংস হয়ে যায়, তবে সেই সাম্রাজ্যটি হল – লিডিয়া।

৫৪৭ হাখমানেশিদের আনাতোলিয়া জয়। ফ্রিজিয়া হাখমানেশি সাম্রাজ্যের একটি ক্ষত্রপে পরিণত হল। প্রাচীন পারস্যে সাম্রাজ্যিক প্রদেশগুলোকে বলা হত ক্ষত্রপ।

৫৪৬ সিপ্রিয়ট নেতাদের আহবানে সাইপ্রাস দখল করল হাখমানেশিরা।

৫৪৫-৪০ বর্তমান মধ্য এশিয়ায় অভিযান চালালেন কুরুশ।

৫৩৯ কুরুশের ব্যাবিলন জয়। ইহুদিদের ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিলেন কুরুশ।* পুরো উর্বর চন্দ্রকলা** হাখমানেশিদের নিয়ন্ত্রণে চলে এল।
* বাইবেলের ইসায়ার কেতাবে কুরুশকে মসীহা বলা হয়েছে। কুরুশের সাথে অনেক ইহুদিই ইরানে চলে আসেন। এই ইহুদিরাই হলেন আজকের ইরানি ইহুদিদের পূর্বপুরুষ।
** এই অঞ্চলটি সভ্যতার দোলনা বলে বিবেচিত হয়। বর্তমান ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন, এবং মিসর, তুরস্ক ও ইরানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত উর্বর চন্দ্রকলা অঞ্চল। ১৯১৬ সালে মিসরবিদ জে. এইচ. ব্রেস্টেড প্রথমবারের মত ‘উর্বর চন্দ্রকলা’ পদটি ব্যবহার করেন।

৫৩৯-৫১০ পাসারগাদে মূল নির্মাণকাজ সমাপ্ত হল।

৫৩৮ কুরুশের ফিনিশিয়া বিজয়।

৫৩০ সমরে কুরুশের মৃত্যু। নতুন সম্রাট হলেন ক্যামবিসেস। হাখমানেশিদের সিন্ধু বিজয়।

৫৩০-৫২২ দ্বিতীয় ক্যামবিসেসের রাজত্বকাল।

৫২৯ পারস্যের রাজা খসরুর হাতে ব্যাবিলনের পতন ঘটল।

৫২৫-৪০৪ ক্যামবিসেসের মিসর বিজয়।

৫২৫ মিসরীয় পলিম্যাথ ইমহোতেপের ওপর দেবত্ব আরোপিত হল। পারস্যের রাজা দ্বিতীয় ক্যামবিসাস পেলুসিয়াম জয় করলেন। ৩৪১ পূর্বসালে পারস্যের মিসর জয় সম্পূর্ণ হবে।

৫২২ এপ্রিল দ্বিতীয় ক্যামবিসেসের মৃত্যু। মসনদে বসে মাত্র ৬ মাস রাজত্ব করার পর দারিয়ুস ও তাঁর ৬ সহযোগীর হাতে খুন হলেন বারদিয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দারিউস হিসেবে মসনদে বসলেন দারিউস, এবং ক্ষমতায় এসেই বাবেলীয়দের একটি বিদ্রোহ দমন করলেন।

৫২২-৪৮৬ প্রথম দারিউসের রাজত্বকাল।

৫২১ হাখমানেশি সাম্রাজ্যজুড়ে অসংখ্য বিদ্রোহ দেখা দিল, এসব বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করলেন প্রথম দারিউস।

৫২০-৫১৯ বেহিস্তুন লিপি কমিশন করলেন প্রথম দারিউস।

৫২০ পারস্যের রাজা দারিউস একটি খালের মাধ্যমে নীল নদকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করলেন।

৫১৯-৫১০ প্রাচীন পারসিক উপাসনা ও উৎসবকেন্দ্র পার্সিপোলিস নির্মিত। ইওরোপ ও ভারতে অভিযান চালালেন প্রথম দারিউস।

৫১৩ প্রথম দারিউসের সিথিয়া অভিযান।

৫১২-১১ থ্রেসে পারস্যের দখলদারিত্ব।

৫০০-৪০১ মিসরের বিরুদ্ধে নিজেদের সীমান্ত রক্ষার কাজে আরবদের নিয়োগ দিলেন হাখমানেশিরা।

৪৯৯ নাক্সোসে একটি হাখমানেশি অভিযান ব্যর্থ হয়ে গেল।

৪৯৯-৪৯৩ আয়োনীয় বিদ্রোহ।

৪৯০ ম্যারাথনের যুদ্ধ।

৪৮৬ প্রথম দারিউসের মৃত্যু। নতুন সম্রাট প্রথম জেরজেস। হাখমানেশি সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে মিসরে বিদ্রোহ দেখা দিল।

৪৮৬-৪৬৫ প্রথম জেরজেসের রাজত্বকাল।

৪৮৫ হাখমানেশি সম্রাট জেরজেসের হাতে ধ্বংস হল ব্যাবিলন।

৪৮৪ বাবেলে বিদ্রোহ।

৪৮১ সার্ডিসে প্রথম জেরজেসের আগমন। গ্রিসে হাখমানেশি অভিযান ঠেকাতে বদ্ধপরিকর গ্রিক নগররাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা স্পার্টায় মিলিত হলেন। গোয়েন্দাগিরি করার জন্য সার্ডিসে গুপ্তচর পাঠানো হল।

৪৮০ হেলেসপন্ত পেরোলেন প্রথম জেরজেস। অ্যাথেনীয়রা শহর খালি করার পক্ষে ভোট দিল। থার্মোফিলি, আর্তেমিসিয়াম, আর হিমেরার যুদ্ধ। এথেন্স দখল করে শহরটি পুড়িয়ে দিলেন প্রথম জেরজেস। সালামিসের যুদ্ধ। গ্রিকদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হঠলেন প্রথম জেরজেস। ফিরে এলেন সার্ডিসে।

৪৭২ মঞ্চস্থ হল এস্কাইলাসের লেখা নাটক দ্য পার্সিয়ানস

৪৬৫ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন জেরজেস।

৪৬৫-৪২৪ প্রথম আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৪৬৪/৪৬৩-৪৫৪ মিসরীয়দের বিদ্রোহ।

৪৪৯ এথেন্স আর পারস্যের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই হল।

৪২৪ প্রথম আর্তাজেরজেসের মৃত্যু, মসনদে বসলেন দ্বিতীয় জেরজেস।

৪২৪ দ্বিতীয় জেরজেসের রাজত্বকাল।*
* মাত্র ৪৫ দিন রাজত্ব করেন। এরপর গুপ্তহত্যার শিকার হন। মসনদে বসেন দ্বিতীয় দারিউস।

৪২৩-৪০৫ দ্বিতীয় দারিউসের রাজত্বকাল।

পূর্বসাল ৪২০-১০৫ সাল উত্তর আরবে নাবাতীয় সভ্যতা

৪০৮ কনিষ্ঠ কুরুশকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে আনাতোলিয়ায় পাঠানো হল।

৪০৫ দ্বিতীয় দারিউসের মৃত্যু, ক্ষমতায় এলেন দ্বিতীয় আর্তাজেরজেস।

৪০৫-৩৫৯ দ্বিতীয় আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৪০১ ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ধ। দ্বিতীয় আর্তাজেরজেসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন কনিষ্ঠ কুরুশ। কুনাক্সার সমর

৪০১-৩৪৩/৩৪২ মিসরে বিদ্রোহ দেখা দিল। তা কার্যত হাখমানেশি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল।

৩৮৭/৩৮৬ আন্তালসিডাসের সন্ধি, গ্রিসের ওপর রাজার সন্ধি চাপিয়ে দেয়া হল।

৩৫৯ দ্বিতীয় আর্তাজেরজেসের মৃত্যু, মসনদে বসলেন তৃতীয় আর্তাজেরজেস।

৩৫৯-৩৩৮ তৃতীয় আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৩৫১ সিদনকে ধ্বংস করলেন হাখমানেশি সম্রাট তৃতীয় আর্তাজেরজেস।

৩৪৩/৩৪২ পুনরায় মিসর দখল করে নিলেন তৃতীয় আর্তাজেরজেস।

৩৩৮ তৃতীয় আর্তাজেরজেসের মৃত্যু, মসনদে বসলেন চতুর্থ আর্তাজেরজেস।

৩৩৮-৩৩৬ চতুর্থ আর্তাজেরজেসের রাজত্বকাল।

৩৩৬ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন চতুর্থ আর্তাজেরজেস, মসনদে বসলেন তৃতীয় দারিউস।

৩৩৬-৩৩০ তৃতীয় দারিউসের রাজত্বকাল।

৩৩৪ হাখমানেশি সাম্রাজ্যে হামলা চালালেন ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শা। গ্রানিকুসের সমর

৩৩৩ ইস্যুসের সমর। দামিশকে তৃতীয় দারিউসের পরিবারের বৃহৎ অংশটুকুকে পাকড়াও করা হল।

৩৩২ সিদন ও বালবেককে ধবংস করলেন সেকান্দার শা। বালবেকের নাম বদলে হেলিওপোলিস।

জানুয়ারি-জুলাই সেকান্দার শা কর্তৃক ঘেরাও হয়ে থাকলো টায়ার।

৩৩২ ফিনিশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর গ্রিকদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৩৩১ গউগামেলার সমর। ব্যাবিলন ও সুসায় সেকান্দার শাকে স্বাগত জানাল হল। তিনি ফার্সে অভিযান চালালেন। বিনা প্রতিরোধে মিসর জয় করলেন সেকান্দার শা। মিসরের বন্দরনগরী হ্রাকোটিসে প্রতিষ্ঠা করলেন একটি নগরী। এটিই বিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া।

৩৩০ ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শার হাতে হাখমানেশি সাম্রাজ্যের পতন।*
* তৃতীয় দারিউসের মৃত্যু। পারস্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর পার্সিপোলিসকে পুড়িয়ে ফেলা হল। কিছুদিন পরেই অবশ্য সেকান্দার শা পারস্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। দেশটির এক রাজকন্যা রোকসানাকে বিয়ে করেন তিনি। নিজের সেনাবাহিনীর ১০,০০০ সেনাকে পারসিক নারী বিয়ে করতে তাগিদ দেন সেকান্দার শা। পারস্যের শহর সুসায় সম্পন্ন হয় গণবিবাহ। সেকান্দার শা চেয়েছিলেন একটি গ্রেকো-পারসিক সংস্কৃতির নির্মাণ।

৩২৩ সেকান্দার শার মৃত্যু। মিসর জয় করলেন তাঁর সেনাপতি টলেমি প্রথম সটার। প্রতিষ্ঠা করলেন টলেমীয় রাজবংশ।

৩২৩-৩১ হেলেনীয় যুগ

৩২৩ ব্যাবিলনে একটি কেল্টিক প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানালেন সেকান্দার শা।

মাত্র ৩২ বছর বয়সে সেকান্দার শার মৃত্যু। সেকান্দার শার এক সেনাপতি পারস্যের তখতে বসলেন। সেলুসীয় শাসন শুরু।

৩২১-৩১৫ সাত্রাপি বা ক্ষত্রপ হিসেবে এ সময় ব্যাবিলন শাসন করছেন সেলুকাস।

৩১২ সেকান্দার শার সেনাপতি সেলুকাস ব্যাবিলন জয় করলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন সেলুসীয় রাজবংশ। ৬৩ পূর্বসাল পর্যন্ত শাসন করেছে এই রাজবংশ।

৩০১-১৯৫ টায়ারসমেত পুরো ফিনিশিয়া এ সময় শাসন করছে টলেমীয়রা।

৩০০ আলেকজান্দ্রিয়ার যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা প্রথম টলেমি।

২৮৫-৪৬ এ সময়ই কখনো নির্মিত হয় আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত পাঠাগার।

২৭৪-২৭১ প্রথম সিরিয়া যুদ্ধ। ফিনিশিয়া ও কোয়েলে-সিরিয়াকে কেন্দ্র করে টলেমীয় ও সেলুসীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হল।

২৪৭ আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘরের – ফারোস – নির্মাণকাজ শেষ হল। গ্রিক সেলুসীয়দের বিরুদ্ধে পারস্যবাসী বিদ্রোহ করে এবং পার্থীয় নামের একটি রাজবংশকে ক্ষমতায় বসায়।

পূর্বসাল ২৪৭-২২৪ সাল পার্থীয় সাম্রাজ্য।*
*এই সাম্রাজ্যেও প্রভাবশালী ধর্ম ছিল জরাথুস্ট্রবাদ। পার্থীয়রা নিজেদের হাখমানেশিদের উত্তরসূরী হিসেবে দেখতেন। ধর্ম প্রশ্নে তাঁরা হাখমানেশিদের মতই উদার ছিলেন। পার্থীয় পারস্যে নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে আবেস্তা। অগ্নি মন্দির এ সময় আরো সমৃদ্ধ হয়। এ সময় যুদ্ধদেবী হিসেবে পূজিত হচ্ছেন আনাহিতা। পার্থীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, (Ellerbrock 2021).

১৯৫প্যানিয়নের সমর। টায়ারসমেত পুরো ফিনিশিয়া সেলুসীয়দের হাতে চলে এল। সিরিয়ায় রুমিদের দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাই থাকবে।

১৪১ সেলুসীয়দের হাত থেকে পার্থীয়দের দখলে এল পার্সিস।

১২৯ পার্থীয়দের মেসোপটেমিয়া জয়। এর ফলে সিল্ক রোড থেকে চীনের পুরোটাই পার্থীয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে এল।

৮৭ পার্থীয় রাজকীয় গ্রীষ্মকালীন বাসভবন একবাটানায় ধবংসলীলা চালালেন আরমানি রাজা দ্বিতীয় টাইগ্রেনেস।

৬৯ রানী ক্লিওপেট্রার জন্ম।

৬৪ ফিনিশিয়া রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। টায়ার পরিণত হল একটি রোমক উপনিবেশ।

৫৮-৫৭ তেসিফনকে পার্থীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী বানালেন দ্বিতীয় ওরোদেস।

৫৫ দ্বিতীয়বারের মতো কনসাল নিযুক্ত হলেন মার্কাস লিসিনিয়াস ক্রাসাস। বেরিয়ে পড়লেন পার্থিয়া অভিযানে।

পূর্বসাল ৫৪-২১৭ সাল রোমক সাম্রাজ্যের সাথে পার্থীয় পারস্যের পর্যায়ক্রমিক যুদ্ধ।

৫৩ কারিয়ার সমর। পার্থীয়দের হাতে ধরা পড়লেন ক্রসাস। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

৪৭ মিসরের নিরঙ্কুশ শাসক হয়ে উঠলেন ক্লিওপেট্রা, নিজেকে তিনি দেবী আইসিস হিসেবে উপস্থাপন করেন।

৪০ রুমিদের বিরুদ্ধে পারসিকদের সাথে সাময়িক ঐক্য গড়লেন নাবাতীয়রা।

৩০ রানী ক্লিওপেট্রার মৃত্যুতে মিসরে টলেমীয় রাজবংশের অবসান। রোমক সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হল মিসর। ৪৭৬ সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বহাল থাকবে।

১৯ পার্থীয়দের ওপর বিজয় উদযাপন করার জন্য রোমে নির্মাণ করা হল অগাস্টাসের খিলান।

সাল

১৯ প্রথম গন্ডোফারেস পার্থীয় শাসন থেকে বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করলে ইন্দো-পার্থীয় রাজ্যের সূচনা হয়।

৪১ তার্সুসে মার্ক অ্যান্টনির সাথে দেখা করলেন ক্লিওপেট্রা। পার্থীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রোমক সম্রাটের এই মিশরীয় রানীকে প্রয়োজন হয়েছিল। প্রাচীন টলেমীয় অঞ্চলগুলোর শাসনভার ক্লিওপেট্রার হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি।

৫২ আর্মেনিয়া আক্রমণ করলেন পার্থীয় রাজা প্রথম ভলোগাসেস।

৫৪-৬০ আর্মেনিয়ায় সফল অভিযান চালালেন রুমি সেনাপতি করবুলো।

৫৮-৬৩ রুমি-পার্থীয় যুদ্ধ।

৬৩ হ্রান্দিয়া চুক্তি। রোমক সাম্রাজ্য ও পার্থীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে সম্পাদিত হয়। আর্মেনিয়ার ওপর উভয় পক্ষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হল।

১১৪ আর্মেনিয়াকে রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন রোমক সম্রাট ত্রাজান। পার্থীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

১২৭-৫০ কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক কাশ্মীর জয় করলেন। পার্থীয়দের পরাজিত করলেন। পৌঁছালেন মগধ রাজ্যে। পেরোলেন পামীর পর্বতমালা। পরাজিত করলেন সেনাপতি পান ইয়াংয়ের অধীনস্ত চীনাদের। কাশগড়, খোটান ও ইয়ারকান্দ তাঁর সাম্রাজ্যের সীমানাভুক্ত হল।

১৬১-১৬৬ রুমি-পার্থীয় যুদ্ধ।*
* ময়দানে রুমিদের ফৌজের নেতৃত্ব দেন লুসিয়াস ভেরাস।

১৯৫ প্রথম পার্থীয় যুদ্ধ।

১৯৭-১৯৮ দ্বিতীয় পার্থীয় যুদ্ধ।

২০১-৩০০ আরবের লাখমি গোত্র পারসিকদের মক্কেলে পরিণত হল।

২০৩ পার্থীয়দের ওপর বিজয় উদযাপন করতে রোমের ফোরাম রোমানামে নির্মাণ করা হল সেপ্টিমিউস সেভিউরুসের খিলান।

২১১ পার্থীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন পারসিসের রাজা আরদাশির।

২১৭-৭৫ পারস্যে মানির সময়কাল। তিনি প্রাচীন দুনিয়ায় মানিকিয়ান ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। জানা যায়, তিনি আফগানিস্তানের বামিয়ানে সক্রিয় ছিলেন।

২২১ পার্থীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন পার্সিসের রাজা আরদাশির।

২২৪ হরমোজদোগানের সমর। পার্থীয়দের শেষ রাজা চতুর্থ আর্তাবানসকে উৎখাত করলেন প্রথম আরদাশির। পার্থীয় সাম্রাজ্যের পতন। প্রথম আরদাশির কর্তৃক প্রবর্তিত হল শাহেনশাহ উপাধি। অর্থ: “রাজাদের রাজা”। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন সাসানীয় সাম্রাজ্য।

২২৪-৬৫১ সাসানীয় সাম্রাজ্য

জরাথুস্ট্রবাদ সাসানীয় পারস্যেও দরবারি ধর্মের মর্যাদা পায়। অগ্নি মন্দিরগুলো তাদের সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছায়। সাসানীয় পারস্যে জরবানবাদ পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হয়। কিন্তু হাখমানেশি আর পার্থীয়দের সাথে সাসানীয়দের একটা তাৎপর্যপূর্ণ ফারাক ছিল। পূর্বসুরীদের মত ধর্ম প্রশ্নে মোটেও উদার ছিলেন না সাসানীয়রা। সাম্রাজ্যে অন্য সব ধর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল।

পার্থীয়দের মত সাসানীয় রাজাদের রাজধানীও ছিল তেসিফন। প্রাচীন পারস্যের শহরগুলোর বাসিন্দাদের জীবনমানের বিকাশ ঘটানো এবং কৃষি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সাসানীয়রা বিখ্যাত হয়ে আছেন। সাসানীয়দের উত্থানপতন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, Daryaee (2023) ও Pourshariati (2017).

২২৪-২৪০ প্রথম আরদাশিরের রাজত্বকাল।*
* সাম্রাজ্যিক সংস্কারক ছিলেন। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটান। তাঁর রাজত্বকালে পারস্য রোমের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

২৩০ মেসোপটেমিয়ার উচ্চভূমির রুমি-নিয়ন্ত্রিত অংশে হামলা চালালো সাসানীয় বাহিনী। নিসিবিস দখলের চেষ্টা করলো। ব্যর্থ হল।

২৩৭-৩৮ হাররান ও নিসিবিস দখল করলেন প্রথম আরদাশির।

২৪০-২৭০ প্রথম শাপুরের রাজত্বকাল।*
* তাঁর রাজত্বকালে সাসানীয় সাম্রাজ্য উৎকর্ষের শীর্ষে ছিল।

২৪০ সাসানীয় সাম্রাজ্যের হাতে চূড়ান্তভাবে ধবংস হল আশুর।

২৪১সাসানীয় আরব। হাত্রানদের রাজ্যকে সাসানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল। প্রথম শাপুরের রাজ্যাভিষেক।

২৪২-৭৩ পারস্য সফর করলেন পয়গম্বর মানি।

২৫২ আর্মেনিয়া রাজ্যে হামলা চালাল সাসানীয় সাম্রাজ্য।

২৫২-৫৬ রোমক সাম্রাজ্যে অভিযান চালালেন প্রথম শাপুর।

২৬০ এডেসায় রোমক সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে পাকড়াও করলেন প্রথম শাপুর।

২৬১ অ্যান্টিওক লুঠ করে বিজয়ীর বেশে দেশে ফেরা পারসিক সেনাদের থামালেন পালমিরার শাসক ওডেন্যাথাস। শাপুরের অনুপস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন করলেন এবং সাসানীয়দের ফোরাত নদীর ওপারে তাড়িয়ে দিলেন। তবে তিনি তেসিফন দখল করতে ব্যর্থ হন এবং সাসানীয়রা বিজয়ী হয়।

২৭১ প্রথম হরমিজদের রাজ্যাভিষেক।

২৭৩ প্রথম বাহরামের রাজ্যাভিষেক।

৩০১-৪০০ পূর্ব আরবে সাসানীয় সাম্রাজ্যের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ল।

৩০৯-৭৯ দ্বিতীয় শাপুরের রাজত্বকাল।*
* মৌখিক ঐতিহ্যনির্ভর আবেস্তাকে লিপিবদ্ধ করার ওয়াদা করেন।

৩৩০-১৪৫৩ পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কুরআন শরিফের ৩০ সংখ্যক সূরার নাম আর-রুম। সেখানে রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে। যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল। আজকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য পদ দুটি সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, পূর্ব রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিকরা নিজেদের রুমি বিবেচনা করতেন। গ্রিক ভাষায় কথা বললেও আচারব্যবহারে রুমি ছিলেন। তারা কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে বাইজেন্টাইন বলেন নি। কিন্তু অতিকথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাইজেন্টাইন। শব্দটি ব্যবহারিক কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আজ আর এই ভুল শোধরানো সম্ভব নয়।

৩৬৮-৩৬৯ আর্মেনিয়া রাজ্যের একাধিক শহর ধবংস করল সাসানীয় সাম্রাজ্য।

৩৮৭ আর্মেনিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে রাজি হলেন রোমক সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস ও সাসানীয় সম্রাট তৃতীয় শাপুর।

৪০১-৫০০ আরবের বনু ঘাসসান গোত্র বাইজেন্টাইনদের মক্কেলে পরিণত হল।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত। এখানে বাইজেন্টাইন বলতে সাম্রাজ্যটির শাসকদের বোঝাবে। কুরআন শরিফে রুম বলতে এই সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে; যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল, বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

৪২৮-৬৫২ মার্জপানাত। আর্মেনিয়ার অর্ধেকটা এ সময় সাসানীয়রা শাসন করছে। ভাইসরয় হিসেবে স্থানীয়দের নিয়োগ দেয়া হয়।

৪৫১ আভারআয়িরের সমর। আরমানি ও সাসানীয় বাহিনীগুলোর মধ্যে।

৪৮৪ ভারসাকের চুক্তি। সাসানীয় সাম্রাজ্য ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সই হয়। যা শেষোক্তদের অধিকতর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় চিন্তার স্বাধীনতা দেয়।

৫০১-৬০০ আরবে এ সময় সাসানীয় আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মক্কেলদের মধ্যে ভয়াবহ আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে।

৫০৩ এডেসা দখল করে নেয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন সাসানীয় সম্রাট কাভাদ।

৫৩১-৫৭৯ প্রথম খসরুর রাজত্বকাল। তাঁর শাসনামলে আবেস্তা লিখিত রূপ পায়। এভাবে ধর্মটি প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র লাভ করে।

৫৪৪ এডেসা দখল করে নেয়ার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন সাসানীয় সম্রাট প্রথম খসরু।

৫৭০ মক্কার কুরাইশ গোত্রে জন্ম নিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৫৭৫ সাসানীয় সাম্রাজ্য বর্তমান ইয়েমেন দখল করে নিল।

৫৯০-৬২৮ দ্বিতীয় খসরুর রাজত্বকাল।

৬০২ সাসানীয়রা তাঁদের মক্কেল লাখমি সর্দারকে খুন করল।

৬০২-২৮/৬০৭-২৭ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে দ্বিতীয় খসরুর দীর্ঘকালীন যুদ্ধ। এর ফলে সাসানীয় সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে যায়। গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

৬০৫ কাবা পুনর্নিমাণ করার বছর, অংশ নিয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৬১০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নবুয়ত লাভ ও কুরআন নাজিলের সূচনা।

৬১৪ সাসানীয়রা আরবের উত্তর সীমান্ত দখল করে নিল এবং বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করল।

৬১৪-২৮ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে সাসানীয় দখলদারিত্বের কাল।

৬২২ জুলাই ১৬ মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। আরবিতে মদিনা অর্থ: “শহর।” মদিনা শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। এর অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এবছর থেকে শুরু হয়।

৬২৪ বদরের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে আরব মুসলমানদের জয়লাভ।

৬২৫ উহুদের যুদ্ধ। আরব মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কার ক্ষমতাশালীদের জয়লাভ।

৬২৭ নিনেভেতে সাসানীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটা নির্ধারকমূলক বিজয় অর্জন করলেন বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

খন্দকের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীরা ইয়াসরিব ঘেরাও করার চেষ্টা চালাল। আরব মুসলমানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হল।

৬২৮-৩২ সাসানীয় সাম্রাজ্যের গৃহযুদ্ধ

৬২৮ হুদায়বিয়ার সন্ধি। মক্কার ক্ষমতাশালী ও মুসলমানদের মধ্যে। খায়বার বিজয়। এই যুদ্ধ বেদুঈনদের মধ্যে মুসলমানদের জনপ্রিয়তা বাড়ায়, বহু বেদুঈন এ সময় ইসলাম গ্রহণ করেন।

৬২৯ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে মুসলমানদের মক্কা গমন ও ওমরা পালন। মুত’আর যুদ্ধ। বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে জর্দান নদীর পূর্বদিকের একটি গ্রাম দখল করার চেষ্টা করলেন মুসলমানরা, কিন্তু ব্যর্থ হলেন।

৬৩০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে আরব মুসলমানদের মক্কা বিজয়। হুনাইনের যুদ্ধ, বেদুঈন হাওয়াজিন গোত্রের বিরুদ্ধে একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয় অর্জন করলেন আরব মুসলমানরা। তায়েফ শহর ও থাকিফ গোত্রের সাথে জোট গঠন করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। জেরুসালেমে পবিত্র ক্রুশকাঠের অংশবিশেষ পুনর্বহাল করলেন রোমক সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

৬৩২ বিদায় হজ। হযরত মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যু।

৬৩২-৬১ রাশিদুন খেলাফত

৬৩২-৫১ তৃতীয় ইয়াজদেগার্দের রাজত্বকাল।

৬৩২-৩৪ প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের শাসনকাল।

৬৩৩ সাসানীয় সাম্রাজ্যের মসনদে বসলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ।

৬৩৪-৪৪ দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাবের শাসনকাল।*
* তিনি বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যভুক্ত ভূখণ্ডগুলো মুসলমানদের অধিকারে আনার একটি সফল পরিকল্পনা করেন।

৬৩৪ আল-জিসরের সমর। মুসলমানদের ওপর সাসানীয়দের জয়লাভ। আরব বাহিনীকে কচুকাটা করলেন বাহমান জাধুইয়া ও জালিনুস।

৬৩৫ রাশিদুন খেলাফতের দামিশক জয়।

৬৩৫-৪১ রাশিদুন খেলাফতের জেরুসালেম, ত্রিপোলি, অ্যান্টিওক, ও মিসর জয়।

৬৩৬ নভেম্বর কাদিসিয়ার সমর

৬৩৭ রাশিদুন খেলাফতের হাতে তেসিফনের পতন। পালিয়ে রাইয়ে আশ্রয় নিলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ।

রাশিদুন খেলাফতের লেভান্ত* জয়। অঞ্চলটি থেকে বাইজেন্টাইনদের বের করে দেয়া হল।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

৬৪২ নেহাওয়ান্দের সমর

৬৪২-৬৫১ তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ নিজ রাজত্ব রক্ষার জন্য সেনা সমাবেশ করার চেষ্টাকালে রাশিদুন খেলাফতের বাহিনীর আক্রমণের মুখে পালিয়ে যান।

৬৪৪ আবু লুলু ফিরোজ নামের এক পারসিক গোলামের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব।

৬৪৪-৫৬ তৃতীয় রাশিদুন খলিফা উসমান ইবনে আফফানের শাসনকাল।

৬৫০ খলিফা উসমানের উদ্যোগে কুরআন শরিফের একটি মান সংস্করণ প্রস্তুত করা হল। এটি আল-মুশহাফ আল-উসমানি নামে পরিচিত। বাকি সব সংস্করণ ধ্বংস করে ফেলা হল।

৬৫১ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন তৃতীয় ইয়াজদেগার্দ। সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন। পারস্য জয় করল রাশিদুন খেলাফত।

তথ্যসূত্র

রিজন, শাহরিয়ার। ২০১৮। “ফারাও আখেনাতেন এবং মিসরীয় একেশ্বরবাদ।” ইতিবৃত্ত, আগস্ট ১৪।
https://itibritto.com/pharaoh-akhenaten-and-egyptian-monotheism/

Brosius, Maria. 2020. A History of Ancient Persia: The Achaemenid Empire. Willey Blackwell.

Daryaee, Touraj. 2023. Sasanian Persia: The Rise and Fall of an Empire. 2nd ed. I. B. Tauris.

Ellerbrock, Uwe. 2021. The Parthians: The Forgotten Empire. Routledge.

Hartz, Paula R. 2009. Zoroastrianism. 3rd ed. Chelsea House.

Holland, Tom. 2007. Persian Fire: The First World Empire and the Battle for the West. Anchor Books.

Hoyland, Robert G.. 2014. In God’s Path: the Arab Conquests and the Creation of an Islamic Empire. Oxford University Press.

Pourshariati, Parvaneh. 2017. Decline and Fall of the Sasanian Empire: The Sasanian-Parthian Confederacy and the Arab Conquest of Iran. Paperback edition. I. B. Tauris.

Waters, Matt. 2014. Ancient Persia: A Concise History of the Achaemenid Empire, 550–330 BCE. Cambridge University Press.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *