আরব-ইসলামী সাম্রাজ্য

Spread the love

Featured Image: unesco.

World History Encyclopedia.

“The history of Islam refutes all the caricatures that one tries to impose on it.”

John Tolan (1959-), American Historian

পূর্বসাল

পূর্বসাল ৬৫০০-৬০১ সাল প্রাচীন নিকট প্রাচ্য

১৮১২-১৬৩৭ ইব্রাহিম নবি কাবা ঘর নির্মাণ করলেন। এই কাজে তাঁকে সহায়তা করলেন পুত্র ইসমাইল।*
* মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী, আরবরা ইসমাইল নবির বংশধর।

১০০ গ্রিক ঐতিহাসিক দিওদোরাস সিকুলাস তাঁর বিবওলিওথিকা হিস্টোরিকায় একটি উপাসনালয়ের কথা বললেন। সিকুলাসের মতে, উপাসনালয়টি সকল আরবের চোখেই শ্রদ্ধেয়। অনেকে মনে করেন, তিনি কাবার কথা বলছিলেন।

সাল

২২৪-৬৫১ সাসানীয় সাম্রাজ্য

৩৩০-১৪৫৩ পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কুরআন শরিফের ৩০ সংখ্যক সূরার নাম আর-রুম। সেখানে রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে। যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল। আজকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য পদ দুটি সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, পূর্ব রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিকরা নিজেদের রুমি বিবেচনা করতেন। গ্রিক ভাষায় কথা বললেও আচারব্যবহারে রুমি ছিলেন। তারা কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে বাইজেন্টাইন বলেন নি। কিন্তু অতিকথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাইজেন্টাইন। শব্দটি ব্যবহারিক কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আজ আর এই ভুল শোধরানো সম্ভব নয়।

৩৩০ প্রাচীন গ্রিক শহর বাইজান্টিয়ামে একটি নতুন খ্রিস্টান শহর নির্মাণ করলেন কনস্টান্টাইন। নাম দিলেন কনস্টান্টিনোপল।* নবগঠিত শহরটিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হল।
* বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

৪৯৬-৫৭৮ আবদুল মুত্তালিবের জীবনকাল।

৫০০ মক্কার ওপর কুরাইশ গোত্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

৫০১-৬০০ আরবে এ সময় সাসানীয় আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মক্কেলদের মধ্যে ভয়াবহ আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। ঘাসসানি আর লাখমিদের এলাকাগুলোয় খ্রিস্টধর্মের প্রসার। এ সময়ই কখনো হিমইয়ারিদের রাজা ইহুদিধর্ম গ্রহণ করেন।

৫১৮ নাজরান ম্যাসাকার। হিমইয়ারিরা নাজরানের খ্রিস্টানদের ওপর একটা হত্যালীলা চালাল।

৫২৫ ইথিওপিয়ার খ্রিস্টান রাজ্য হিমইয়ারি-সাবাঈ রাজ্য জয় করে।*
* বর্তমান ইয়েমেনে অবস্থিত।

৫৩৫-৬১৯ আবু তালেব ইবনে আবদুল মুত্তালিবের জীবনকাল।

৫৪২ বর্তমান ইয়েমেনে অবস্থিত মারিব বাঁধ ধবসে পড়ল।

৫৪৫-৭০ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের জীবনকাল।

৫৪৯-৭৭ আমিনা বিনতে ওহাবের জীবনকাল।

৫৫৪-৬১৯ উম্মুল মোমিনিনখাদিজা বিনতে খুওয়ালিদের জীবনকাল।
* অর্থ: “বিশ্বাসীদের আম্মাজান”। ইসলামের নবির স্ত্রীদের ক্ষেত্রে সম্মানসূচকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই রচনার সর্বত্র প্রাসঙ্গিক স্থলে ব্যবহৃত হবে।

৫৬৬/৮০-৬৪৪/৭৪ উম্মুল মোমিনিন সাওদা বিনতে জাম’আর জীবনকাল।

৫৭০ আম আল-ফীল (عام الفيل: Year of the Elephant)।*
* মুসলিম বিশ্বাসে, এ বছর হিমইয়ার রাজ্যের আকজুমীয় ভাইসরয় আবরাহা তাঁর অগ্রিম হস্তিবাহিনী নিয়ে মক্কার বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কাবা ঘর ভেঙে ফেলা, যা আল্লাহ্‌-প্রেরিত আবাবিলের উছিলায় ব্যর্থ হয়। কুরআন শরিফের সূরা ফীল এই ঘটনা নিয়ে।

মুহাম্মদের (সা.) বাবা আবদুল্লার মৃত্যু। মক্কার কুরাইশ গোত্রের বনু হাশিম শাখায় জন্ম নিলেন মুহাম্মদ (সা.)।* সম্ভাব্য জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল।
* ইসলামের নবি হযরত মুহাম্মদের (সা.) অনুসারীরা মুসলিম (المسلمون) নামে পরিচিত। আরবিতে আল-মুসলিমুন অর্থ “আত্মসমর্পণকারী”। যাঁরা আল্লাহর (ٱللَّٰه) কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরাই মুসলিম। বাংলায় পরম্পরাগতভাবে মুসলমান শব্দটিই বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মুসলমান শব্দটি ব্যবহার করি আমি। মুসলমানদের পবিত্র বই কুরআন ( ٱلۡقُرۡءَانُ‎ ) নামে পরিচিত। যার অর্থ “পাঠ করা” বা “তিলাওয়াত করা”।

৫৭০-৬২২ মুহাম্মদের (সা.) মক্কী জীবন।

৫৭৫ সাসানীয় সাম্রাজ্য বর্তমান ইয়েমেন দখল করে নিল।

৫৭৭ মুহাম্মদের (সা.) মা আমিনার মৃত্যু।

৫৮০/৯৬-৬৮০/৮৩ উম্মুল মোমিনিন উম্মে সালামার জীবনকাল।

৫৮২ বাইজেন্টাইনদের মক্কেলগিরি থেকে ঘাসসানিদের বরখাস্ত করা হল।

৫৮৩ মুহাম্মদ (সা.) এ সময় সিরিয়ায় অবস্থান করছেন।

৫৮৯/৯৪-৬৬৪/৬৫ উম্মুল মোমিনিন উম্মে হাবিবার জীবনকাল।

৫৯০-৬৪০/৪১ উম্মুল মোমিনিন জয়নব বিনতে জাহশের জীবনকাল।

৫৯৪ লাখমিরা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হল।

৫৯৪-৬৭১ উম্মুল মোমিনিন মায়মুনা বিনতে আল-হারিস আল-হিলালিয়ার জীবনকাল।

৫৯৫/৫৯৬ খাদিজা বিনতে খুওয়ালিদকে বিয়ে করলেন মুহাম্মদ (সা.)।*
* এই বিয়ের সময় খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর। মুহাম্মদের (সা.) ২৫ বছর। ৬১৯ সালে খাদিজার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আর কাউকে বিয়ে করেননি।

৫৯৬-৬২৫ উম্মুল মোমিনিন জয়নব বিনতে খুজাইমার জীবনকাল।

৫৯৮-৬০১ কাশিম ইবনে মুহাম্মদের জীবনকাল।*
* মুহাম্মদের (সা.) বড় ছেলে। নাবালক দশায় মারা যান।

৬০০-২৯ জয়নব বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।

৬০২ সাসানীয়রা তাঁদের মক্কেল লাখমি সর্দারকে খুন করে, এর মধ্য দিয়ে হীরায় লাখমিদের রাজত্ব শেষ হয়।

৬০৩-২৪ রুকাইয়াহ বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।

৬০৩-৩০ উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।

৬০৫ কাবা পুনর্নিমাণ করার বছর, অংশ নেন মুহাম্মদ (সা.)।

৬০৫/৬১৫-৩২ ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।*
* মুহাম্মদের (সা.) ছোট মেয়ে। সাইয়্যিদাত নিসা আল-জান্না অর্থাৎ বেহেশতি নারীকুলের সর্দার বিবেচিত। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে শিয়া আর সুন্নীদের মধ্যে মতভেদ আছে।

৬০৫/০৬-৬১০ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদের জীবনকাল।*
* মুহাম্মদের (সা.) মেঝো ছেলে। নাবালক দশায় মারা যান।

৬০৫-৬৫ উম্মুল মোমিনিন হাফসা বিনতে ওমরের জীবনকাল।

৬০৮-৭৬ উম্মুল মোমিনিন জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসের জীবনকাল।

নববী যুগ
৬১০-৬৩২ সাল

ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ ١
Read: In the name of thy Lord Who createth,

(Al-‘Alaq 96:1)

Translation: Muhammad Marmaduke Pickthall

৬১০ লাইলাতুল কদর (لیلة القدر: Laylat al-Qadr)।*
* কুরআন শরিফের সূরা কদর এই ঘটনা নিয়ে। ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করলেন মুহাম্মদ (সা.)। মক্কার হেরা গুহার জাবাল আল-নূর অর্থাৎ আলোর পাহাড়ে জিবরাইল ফেরেশতার আগমনের মধ্য দিয়ে কুরআন নাজিলের সূচনা হল।

তিনি গোপনে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করলেন।

ঝুকারে লাখমিদের সেনাবাহিনী সাসানীয়দের বিরুদ্ধে জয়লাভ করল।

৬১০/১৪-৬৬৪/৭২ উম্মুল মোমিনিন সাফিয়া বিনতে হুওয়াইয়ের জীবনকাল।

৬১৩ মক্কায় প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করলেন মুহাম্মদ (সা.)।

৬১৪ সাসানীয়রা আরবের উত্তর সীমান্ত দখল করে নিল। বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করল। মক্কায় মুসলমানদের ওপর ব্যাপক জুলুম শুরু হল।

৬১৪-২৮ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে সাসানীয় দখলদারিত্বের কাল।

৬১৪-৭৮ উম্মুল মোমিনিন আয়েশা বিনতে আবু বকরের জীবনকাল।

৬১৫ মুসলমানদের একটি দল আকজুম রাজ্যে হিজরত করলেন।*
* আফ্রিকার আবিসিনিয়ায়, বর্তমানে যা ইথিওপিয়া নামে পরিচিত।

৬১৬ মক্কার ক্ষমতাশালীদের সাথে মুসলমানদের সম্পর্কের অবনতি হল। শুরু হল জুলুম। মক্কায় মুহাম্মদের (সা.) অবস্থান ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠল।

৬১৬-১৯ বনু হাশিমের তরফে মুসলমানদের বয়কট করার বছরগুলো।

৬১৯ শোকের বছর। মুহাম্মদের (সা.) স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালেব একই বছরে মারা যান। এ বছরই সাওদা বিনতে জাম’আকে বিয়ে করেন তিনি।

৬২০ ধর্মান্তরিত করতে ও আশ্রয় খুঁজতে তায়েফে গেলেন মুহাম্মদ (সা.)। কিন্তু প্রচেষ্টাটি সফল হয়নি। মেরাজের বছর

এ বছরই আয়েশা বিনতে আবু বকরকে বিয়ে করেন মুহাম্মদ (সা.)।*
* ইসলামের নবির তৃতীয় ও সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী। প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের মেয়ে। তিনি একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ছিলেন।

ইয়াসরিবের আরবরা ইসলামের নবির সাথে যোগাযোগ করলেন এবং তাঁকে ইয়াসরিবে এসে তাঁদের নেতৃত্বভার গ্রহণ করার আহবান জানালেন।

৬২১ প্রথম আকাবা চুক্তি। খাজরাজ ও আউস গোত্রের ১২ জন পুরুষের সাথে। যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন।

৬২২ জুন ইয়াসরিবের আনসাররা আনুগত্যের ওয়াদা করেন এবং মুহাম্মদকে (সা.) ইয়াসরিবে আমন্ত্রণ জানান।

জুলাই ১৬ হিজরত। প্রায় ৭০টি মুসলিম পরিবার নিয়ে মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। মদিনা মানে “শহর”। শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। আরবিতে যার অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এ বছর থেকে শুরু হয়।

মক্কার ক্ষমতাশালীরা শোধ নেয়ার কসম খেলো।

৬২২-৬৩২ মুহাম্মদের (সা.) মাদানী জীবন।

৬২৩ ওয়াতিকাত আল-মদিনা/সহিফাত আল-মদিনা ( وثيقة المدينة/ صحیفة المدينة,)। মুসলমান ও ইহুদিদের সহাবস্থানের নীতি নির্ধারণ করে। গঠিত হয় উম্মা।*
* শত্রুর বিরুদ্ধে মদিনার প্রতি অনুগত থাকার শর্তে মদিনার অমুসলিমরাও এই উম্মার অংশ ছিলেন।

ফাতেমাকে* বিয়ে করলেন আলি ইবনে আবু তালেব**।
* মুহাম্মদের (সা.) মেয়ে।
** মুহাম্মদের (সা.) কাজিন।

৬২৪ মার্চ ১৩ বদরের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে আরব মুসলমানদের নাটকীয় জয়লাভ। শত্রুর সাথে যোগসাজশের অভিযোগে ইহুদি গোত্র বনু কায়নুকাকে মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হলো।

রমজান মাসকে রোজার মাস হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

জেরুসালেমের স্থলে মক্কাকে কেবলা নির্ধারণ করা হলো।

৬২৫ মার্চ ২৩ উহুদের যুদ্ধ। আরব মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কার ক্ষমতাশালীদের জয়লাভ। তবে বিজয়ী পক্ষ আর অগ্রসর হয় নি। শত্রুর সাথে যোগসাজশের অভিযোগে ইহুদি গোত্র বনু নাদিরকে মদিনা থেকে বহিষ্কার করা হলো।

হাফসা বিনতে ওমর*, জয়নব বিনতে খুজাইমা**, ও হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়াকে*** বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
* দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা ওমরের মেয়ে। হাফসার প্রথম স্বামী ছিলেন খুনাইস বিন হুজাফা নামের জনৈক সাহাবি। ৬২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষদিকে মৃত্যুবরণ করেন খুনাইস।
** উম্মুল মাসাকিন বা গরিবদের মা হিসেবে পরিচিত।
*** তাঁর কুনিয়া উম্মে সালামা অর্থাৎ সালামার মা হিসেবে অধিক পরিচিত।

৬২৭ মার্চ ৩১-১৪ এপ্রিল খন্দকের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীরা মদিনা ঘেরাও করার চেষ্টা চালাল। আরব মুসলমানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হল।

বনু কুরাইজা ঘটনা।*
* পরম্পরাগত ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনার ইহুদিরা আরব মুসলমানদের সাথে থাকা তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, এবং গোপনে মক্কার ক্ষমতাশালীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। তাই রাজনৈতিক গাদ্দারির সাজা হিসেবে পরম্পরাগত ইহুদি আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বনু কুরাইজার সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের শিরশ্ছেদ করা হয় এবং নারী ও শিশুদের দাস হিসেবে বেচে দেয়া হয়। বিদ্যায়তনিক ঐতিহাসিকদের অন্তত একজন (Arafat 1976) এই ঘটনার ঐতিহাসিকতা ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নিনেভেতে সাসানীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটা নির্ধারকমূলক বিজয় অর্জন করলেন বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

জয়নব বিনতে জাহশ* ও জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসকে** বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। রায়হানা বিনতে জায়েদকে*** বিয়ে করলেন বা কনক্যুবাইন হিসেবে পেলেন।
* জয়নবের প্রথম স্বামী ছিলেন জায়েদ ইবনে হারিস। জায়েদ ছিলেন একজন দাস, যাঁকে ইসলামের নবি খাদিজাকে বিয়ে করার সময় শেষোক্তের কাছ থেকে তোহফা হিসেবে পেয়েছিলেন। পরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) জায়েদকে আজাদ করে দেন এবং স্বীয় পুত্র হিসেবে দত্তক নেন।
** জুওয়াইরিয়ার প্রথম স্বামী ছিলেন মোস্তফা ইবনে সাফওয়ান। ৬২৭ সালে বনু মুস্তালিকের সাথে মুসলমানদের সমর চলাকালে প্রথমোক্ত পক্ষের মোস্তফার মৃত্যু হয়। বনু মুস্তালিকের সর্দারের মেয়ে জুওয়াইরিয়া যুদ্ধবন্দী হন, যাকে পরে ইসলামের নবি আজাদ করে দেন।
*** রায়হানা ইসলামের নবির স্ত্রী ছিলেন না উপপত্নী ছিলেন তা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে। তাঁর জন্ম মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাদিরে, আর প্রথম বিয়ে মদিনার আরেক ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজায়। বনু কুরাইজা ঘটনার সময় তিনি বিধবা ও যুদ্ধবন্দী হন, পরবর্তীতে ধর্মান্তরিত হলে ইসলামের নবির স্ত্রী/কনক্যুবাইন হন।

৬২৮ মার্চ হুদায়বিয়ার সন্ধি। মক্কার ক্ষমতাশালী ও মুসলমানদের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদী শান্তিচুক্তি সই হল। এ সময় ইসলামের নবিকে আরবের সবচে শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বহু আরব গোত্র তাঁর কনফেডারেসির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।

খায়বার বিজয়। এই সমর বেদুঈনদের মধ্যে মুসলমানদের জনপ্রিয়তা বাড়ায়, বহু বেদুঈন এ সময় ইসলাম গ্রহণ করেন।

সাফিয়া বিনতে হুওয়াই* ও রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান আল হার্বকে** বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। আলেকজান্দ্রিয়ার জনৈক খ্রিস্টান প্রশাসক আল-মুকাওকিসের কাছ থেকে কপ্টিক খ্রিস্টান দাসী মারিয়া আল-কিবতিয়াকে*** তোহফা হিসেবে পেলেন।
* সাফিয়ার জন্ম মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাদিরে। খায়বারের সমরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়ার সময় তাঁর বাবা আর স্বামী উভয়েই নিহত হন। ইসলামের নবি যুদ্ধবন্দী সাফিয়াকে ইসলাম গ্রহন করার দাওয়াত ও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা কবুল করেন।
** তাঁর কুনিয়া উম্মে হাবিবা অর্থাৎ হাবিবার মা হিসেবে অধিক পরিচিত। তৃতীয় রাশিদুন খলিফা ওসমানের কাজিন। প্রথম উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার সৎ বোন।
*** ইসলামের নবি মারিয়াকে বিয়ে করেছিলেন, নাকি তিনি উপপত্নী রয়ে গেছিলেন তা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে।

৬২৮-৩২ সাসানীয় সাম্রাজ্যের গৃহযুদ্ধ

৬২৯ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে মুসলমানদের মক্কা গমন ও ওমরা পালন।

মুত’আর যুদ্ধ। বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে জর্দান নদীর পূর্বদিকের একটি গ্রাম দখল করার চেষ্টা করলেন মুসলমানরা, কিন্তু ব্যর্থ হলেন।

হুদায়বিয়ার সন্ধি ভঙ্গ করলো মক্কার ক্ষমতাশালীদের বেদুঈন মিত্ররা।

৬২৯ ডিসেম্বর-জানুয়ারি ৬৩০ মক্কা বিজয়।*
* মুহাম্মদ (সা.) প্রায় ১০,০০০ সৈন্য নিয়ে বিনা বাধায় মক্কায় প্রবেশ করেন। মুসলমানরা কাবাঘরের মূর্তিগুলো ধ্বংস করেন। এর অভ্যন্তরভাগকে হারাম ঘোষণা করেন।

হুনাইনের যুদ্ধ। বেদুঈন হাওয়াজিন গোত্রের বিরুদ্ধে একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয় অর্জন করলেন আরব মুসলমানরা। তায়েফ শহর ও থাকিফ গোত্রের সাথে জোট গঠন করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

জেরুসালেমে পবিত্র ক্রুশকাঠের অংশবিশেষ পুনর্বহাল করলেন রোমক সম্রাট হেরাক্লিয়াস।

৬৩০-৩১ প্রতিনিধি প্রেরণের বছরগুলো। গোত্রসর্দাররা ইসলাম গ্রহণ করেন। মক্কায় হজযাত্রার নেতৃত্ব দেন আবু বকর।

৬৩০-৩২ ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদের জীবনকাল।

৬৩১ রায়হানা বিনতে জায়েদের মৃত্যু।

৬৩২ বিদায় হজ

গাদীর খুমের ঘটনা

জুন ৮ মদিনায় হযরত মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যু। তাঁর কোন জীবিত পুত্রসন্তান না থাকায় ও উত্তরাধিকারী মনোনীত করে না যাওয়ায় যে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়, কালক্রমে তাই শিয়া-সুন্নী বিভাজনে রূপ নেবে।*
* শিয়া-সুন্নী বিভাজনের ইতিহাস জানতে, দেখুন, Hazleton (2010), McHugo (2017) ও Louër (2020).

৬৩২-১২৫৮ আরব-ইসলামী সাম্রাজ্য

রাশিদুন খেলাফত
৬৩২-৬১ সাল

Ibn Abbas reported: Abu Bakr, may Allah be pleased with him, went to the door of the mosque when he heard the news of the passing of the Prophet. Abu Bakr said, “To proceed: Whoever among you worships Muhammad, peace and blessings be upon him, then Muhammad has died. Whoever worships Allah, then Allah is alive and cannot die. Allah Almighty said: Muhammad is only a messenger before whom many messengers have been and gone. If he died or was killed, would you revert to your old ways?” (3:144) Ibn Abbas said, “By Allah, it was as if the people had not known that Allah revealed this verse until Abu Bakr recited it.”

Source: Ṣaḥīḥ al-Bukhārī 1241
Quranic verse translation: M.A.S. Abdel Haleem

৬৩২-৬১ রাশিদুন খেলাফত।*
* সুন্নিরা যেই চার খলিফাকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশিত বলে বিশ্বাস করেন, সেই রাশিদুন খেলাফতের কাল। শিয়াদের অধিকাংশ প্রথম তিন খলিফাকে অবৈধ ভাবেন, তাঁদের বিশ্বাসে সুন্নিদের চতুর্থ খলিফা আলীই একমাত্র বৈধ খলিফা। তবে জায়েদি শিয়াদের অধিকাংশ চারজনকেই বৈধ ভাবেন।

৬৩২-৩৪ প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের শাসনকাল।

৬৩২-৩৩ রিদ্দা যুদ্ধ। হযরত মুহাম্মদের মৃত্যুর পর অনেক গোত্রাধিপতি ইসলাম ত্যাগ করতে শুরু করেন, এদের কেউ কেউ এমনকি নিজেকে নবি দাবি করে বসেন। এই মুরতাদদের (ধর্মত্যাগী) বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন খলিফা আবু বকর, সমগ্র আরব উপদ্বীপকে ইসলামের ব্যানারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেন।

৬৩২ ইয়ামামার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে নিহত হন মুসাইলামা। মুসলমানদের কাছে তিনি ভণ্ড নবি ও আল-কাজ্জাব (মিথ্যুক) হিসেবে পরিচিত।

৬৩৪ আজনাদাইনের যুদ্ধ। এটি ছিল রাশিদুন খেলাফতের জন্য একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয়। আরব মুসলমানদের দামিশক জয়।

৬৩৪-৪৪ দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাবের শাসনকাল।

৬৩৫ ফাহলের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের বাহিনী বাইজেন্টাইনদের ফিলিস্তিন গ্যারিসনকে পরাজিত করল। আল-আহসা মরুদ্যানে নির্মিত হল জাওয়াথা মসজিদ, যা পূর্ব আরবের প্রাচীনতম মসজিদ বিবেচিত হয়।

৬৩৬ আগস্ট ইয়ারমুকের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের হাতে বাইজেন্টাইনরা পরাস্ত হলেন।

৬৩৭ রাশিদুন খেলাফতের লেভান্ত* জয়, অঞ্চলটি থেকে বাইজেন্টাইনদের বের করে দেয়া হল।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

মারিয়া আল-কিবতিয়ার মৃত্যু।

৬৩৮ কাদিসিয়ার যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের জেরুসালেম জয়। মক্কা ও মদিনার পর ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম নগরী বিবেচিত হয় জেরুসালেম।

৬৪০-৪২ রাশিদুন খেলাফতের মিসর জয়।

৬৪০ রাশিদুন খেলাফতের সেলুসিয়া-তেসিফন জয়। আর্মেনিয়ার তৎকালীন রাজধানী দভিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হল। সিরিয়ার প্রশাসক নিযুক্ত হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান।

৬৪১ রাশিদুন খেলাফতের সিজারিয়া জয়। কুফা, বসরা ও ফুস্তাতের সেনানিবাস শহরগুলো মুসলিম সেনাদের আবাসনের জন্য নির্মিত হয়েছিল। যারা সাধারণ প্রজাদের থেকে আলাদাভাবে বাস করত।

৬৪২ রাশিদুন খেলাফতের আলেকজান্দ্রিয়া জয়। নেহাওয়ান্দের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের হাতে পরাজিত হল সাসানীয় বাহিনী।

৬৪৩ আর্মেনিয়া ও ককেশাসে একটি অসফল অভিযান পরিচালনা করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৪৪ আবু লুলু ফিরোজ নামের জনৈক পারস্যদেশীয় গোলামের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন খলিফা উমর।

৬৪৪-৫৬ তৃতীয় রাশিদুন খলিফা উসমান ইবনে আফফানের শাসনকাল।

৬৪৬ সাময়িকভাবে আলেকজান্দ্রিয়া পুনর্দখল করল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৪৯-৫০ রাশিদুন খেলাফতের সাইপ্রাস ও আরওয়াদ অভিযান।

৬৫০-৫৩ রাশিদুন খেলাফতের সাথে সন্ধি করল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৫০ খলিফা উসমানের উদ্যোগে কুরআন শরিফের একটি মান সংস্করণ প্রস্তুত করা হল। এটি আল-মুশহাফ আল-উসমানি নামে পরিচিত। বাকি সব সংস্করণ ধ্বংস করে ফেলা হল।*
* কুরআন সংকলন সম্পর্কে শিয়া ন্যারেটিভ একটু আলাদা। তাঁরা বিশ্বাস করেন, কুরআন শরিফ ইসলামের নবির জীবদ্দশায় তাঁর উদ্যোগে সংকলিত হয়েছিল। এই ন্যারেটিভ অনুসারে, তৎকালে মসজিদে নববীর মিম্বরের পাশে কুরআনের একটা সম্পূর্ণ সংস্করণ রাখা ছিল।

নুবিয়ায় একটা ব্যর্থ অভিযান চালাল রাশিদুন খেলাফত।

৬৫১ রাশিদুন খেলাফতের মেসোপটেমিয়া জয়।*
* “দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান”। মেসোপটেমিয়া বর্তমান ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর গ্রিকদের দেয়া নাম। দুই নদী হল দজলা ও ফোরাত।

রাশিদুন খেলাফতের হাতে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন। রাশিদুন খেলাফতের ইরান জয়। শেষ সাসানীয় সম্রাট তৃতীয় ইয়াজদিগার্দের মৃত্যু।

৬৫২-৫৩ রাশিদুন খেলাফতের করদ রাজ্যে পরিণত হল আর্মেনিয়া।

৬৫৪ রাশিদুন খেলাফতের ক্রীট, কস, ও রোডস জয়।

৬৫৪-৫৫ মাস্তুলের যুদ্ধ। কন্সটান্টিনোপলের বিরুদ্ধে রাশিদুন খেলাফতের প্রথম বৃহদায়তন অভিযান।

৬৫৬ একদল বিদ্রোহীর হাতে খুন হলেন খলিফা উসমান। যারা আলীকে নতুন খলিফা বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে সবাই এই ঘোষণা মেনে নেন নি।

৬৫৬-৬১ প্রথম ফিতনা। আরবিতে ফিতনাত মাকতাল উসমান বলে পরিচিত। খলিফা উসমান হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেখা দেয়।

চতুর্থ খলিফা ও শিয়াদের প্রথম ইমাম আলী ইবনে আবু তালেবের শাসনকাল।

৬৫৬ উটের যুদ্ধ। উসমান হত্যার বিচার না করায় আলীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন আয়েশা বিনতে আবু বকর, তালহা আর জুবায়ের। আলীর সমর্থকদের কাছে পরাজিত হন তাঁরা।

সিরিয়ায় উসমানের আত্মীয় মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এই বিরোধিতার নেতৃত্ব দেন।

৬৫৭ সিফফিনে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলে। সেই মধ্যস্থতা আলীর বিপক্ষে চলে গেলে মুয়াবিয়া তাঁকে পদচ্যুত করেন; জেরুসালেমে মুয়াবিয়াকে খলিফা বলে ঘোষণা করা হয়। খারিজিরা আলীর শিবির থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।

৬৫৯ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে শান্তিচুক্তি সই করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৬০, ৬৬৮, ৭১২ কনস্টান্টিনোপল জয়ের একাধিক আরব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল।

৬৬১ মুসাইলামার স্ত্রী সাজাহ বিনতে আল-হারিস ইবনে সুয়াদের মৃত্যু, রিদ্দা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনিই একমাত্র মহিলা যিনি নিজেকে নবি বলে দাবি করেছিলেন।

এক খারিজি চরমপন্থীর হাতে খুন হলেন আলী। আলীর সমর্থকরা তাঁর পুত্র হাসানকে পরবর্তী খলিফা বানাতে চাইল। কিন্তু সিরিয়ার প্রশাসক মুয়াবিয়ার সাথে একটা সমঝোতায় এসে মদিনায় অবসরে গেলেন হাসান।

উমাইয়া খেলাফতের প্রথম খলিফা হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, ‘প্রথম মুয়াবিয়া’ হিসাবে পরিচিত।

উমাইয়া খেলাফত
৬৬১-৭৫০ সাল

“After Ali’s death, the khalifate was just an empire.”

Tamim Ansary (1948-), Afghan-American Author

৬৬১-৭৫০ উমাইয়া খেলাফত।*
* এই খেলাফতের কেন্দ্র ছিল বর্তমান সিরিয়ার দামিশক।

৬৬১-৮০ খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার রাজত্বকাল।*
* রাজধানী মদিনা থেকে সরিয়ে দামিশকে নিয়ে আসেন।

৬৬৪ খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার প্রতি আনুগত্য ব্যক্ত করলেন আলবানিয়ার রাজকুমার জুয়ানশের।

৬৬৮-৭০ কন্সটান্টিনোপোলের বিরুদ্ধে উমাইয়া খেলাফতের অভিযান।

৬৬৯ মদিনায় মৃত্যুবরণ করলেন হাসান ইবনে আলী।*
* শিয়া ইসলামের দ্বিতীয় ইমাম বিবেচিত হন।

৬৭০ কায়রাওয়ান প্রতিষ্ঠা, মার্ভে ঘাঁটি গাড়লো উমাইয়া সেনাবাহিনী।

৬৭০-৭৯ উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে লেবাননের পাহাড়গুলোতে গড়ে উঠল মারদাইতেস গেরিলা আন্দোলন।

৬৭৩ লিসিয়ায় আরবদের নৌ অভিযাত্রা, উমাইয়া খলিফা প্রথম মুয়াবিয়া আর বাইজেন্টাইন সম্রাট চতুর্থ কন্সটান্টাইনের মধ্যে সন্ধি।

৬৭৪ আরবরা প্রথমবারের মত আমু দরিয়া পার হল।

৬৮০-৮৯ উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে উত্তর আফ্রিকার কুসায়লা বিদ্রোহ।

৬৮০-৯২ দ্বিতীয় ফিতনা। খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর, মতান্তরে তাঁর পুত্র খলিফা প্রথম ইয়াজিদের মৃত্যুর পর, দেখা দেয়া রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা। আস্কেলন ও সিজারিয়ায় অভিযান চালাল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৮০ খলিফা প্রথম মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় উমাইয়া খলিফা হলেন তাঁর পুত্র প্রথম ইয়াজিদ। কুফার মুসলমানরা, যাঁরা নিজেদের শিয়াতু আলী বা আলীর পার্টিজান বলতেন, আলীর দ্বিতীয় পুত্র হোসেনকে খলিফা দাবি করলেন। মদিনা থেকে কুফার দিকে রওনা করলেন হোসেন।

অক্টোবর কারবালার যুদ্ধ। শহিদ হলেন হোসেন ইবনে আলি।* নারী শিশু নির্বিশেষে তাঁর পক্ষে থাকা মানুষদের কারবালার ময়দানে নির্মমভাবে হত্যা করা হল।
* শিয়া ইসলামের তৃতীয় ইমাম বিবেচিত হন।

আরবে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের।

৬৮১ উত্তর আফ্রিকা বিজয় শেষে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছে গেল ইসলামী বাহিনী।

৬৮১-৯২ উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ইবনে জুবায়ের। বিদ্রোহের কেন্দ্র মক্কা। কঠোরহস্তে বিদ্রোহ দমন করলেন হাজ্জাজ বিন ইউসূফ।

৬৮৩ খলিফা প্রথম ইয়াজিদের মৃত্যু। তাঁর পুত্র দ্বিতীয় মুয়াবিয়ার মৃত্যু। সিরীয়দের মদতে ক্ষমতায় এলেন প্রথম মারওয়ান।

৬৮৪ উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মধ্য আরবে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেন খারিজিরা। ইরাক ও ইরানে খারিজি বিদ্রোহ। কুফায় শিয়া অভ্যুত্থান।

৬৮৫-৭০৫ খলিফা আবদুল মালেকের রাজত্বকাল।*
* উমাইয়া শাসন পুনর্বহাল করেন।

৬৮৭-৬৯১ আরবের অধিকাংশ জায়গা এ সময় খারিজিদের নিয়ন্ত্রণে আছে।

৬৯১ খারিজি ও শিয়া বিদ্রোহীদের পরাস্ত করল উমাইয়ারা। জেরুসালেমে কুব্বাতুস সাখরার (قبة الصخرة: Dome of the Rock) নির্মাণকাজ সম্পন্ন হল।

৬৯২ উমাইয়াদের হাতে পরাস্ত ও খুন হলেন ইবনে জুবায়ের।

ফিতনা যুদ্ধের ফলে বসরা, মদিনা ও কুফায় একটি ধর্মীয় আন্দোলন গড়ে ওঠে। বিভিন্ন মতবাদ জনজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনে কুরআনের আরও কঠোর প্রয়োগের জন্য প্রচারণা চালায়।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে উমাইয়া খেলাফতের শান্তিচুক্তির অবসান। সেবাস্তোপলিসের যুদ্ধ

৬৯৭ উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো বার্বার রানীর মৃত্যু। তাঁর আরব প্রতিপক্ষ তাঁর নাম দিয়েছিল আল-কাহিনা। অর্থ: “দিব্যদর্শী”।

৬৯৮ উমাইয়া খেলাফতের কার্থেজ জয়।

৬৯৯-৭৬৭ আবু হানিফা।*
* সুন্নী ইসলামের চার মাজহাবের একটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম, যা হানাফি মাজহাব নামে পরিচিত।

৭০১-৮০০ এ সময়ই কখনো নির্মিত হয় দার্ব জুবাইদা

৭০৫-১৭ খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজত্বকাল। উত্তর আফ্রিকা জয়।

৭০৩ ভার্ডানেকার্টে আরব গ্যারিসন একটি আরমানি সেনাবাহিনীর কাছে হারল।

৭০৫-১৭ খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজত্বকাল।

৭০৬ উমাইয়া খেলাফতের পায়কান্দ জয়। আরমানি অভিজাতদের হত্যা করা হল।

৭০৮ উমাইয়া খেলাফতের তানজিয়ার্স জয়।

৭১০ উমাইয়া খেলাফতের সিন্ধ জয়।

৭১১-১৪ উমাইয়াদেরআল-আন্দালুস অভিযান।

৭১১-১৪৯২ আল-আন্দালুস

৭১২-১৩ উমাইয়া খেলাফতের সমরখন্দ ও বুখারা জয়।

৭১৩-৭৯৫ মালিক ইবনে আনাস।*
* সুন্নী ইসলামের চার মাজহাবের একটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম, যা মালিকি মাজহাব নামে পরিচিত।

৭১৭-২০ খলিফা দ্বিতীয় উমরের রাজত্বকাল।*
* প্রথম খলিফা যিনি ইসলামে ধর্মান্তরে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

৭২০-২৪ খলিফা দ্বিতীয় ইয়াজিদের রাজত্বকাল।*
* এই উচ্ছৃঙ্খল শাসকের বিরুদ্ধে এ সময় শিয়া ও খারিজিদের মধ্যে নতুন করে তুমুল অসন্তোষ দেখা দেয়।

৭২৪-৪৩ খলিফা প্রথম হিশামের রাজত্বকাল।*
* একজন ধর্মপ্রাণ কিন্তু অধিকতর স্বৈরাচারী শাসক, যিনি অধিকতর ধার্মিক মুসলমানদেরও শত্রুভাবাপন্ন করে তোলেন।

৭২৮ বসরায় সূফী ও ধর্মতাত্ত্বিক হাসান বসরীর মৃত্যু।

৭২৮-৩০ আমু দরিয়া আর সির দরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে বড় ধরণের বিদ্রোহ দেখা দিল।

৭৩২ পয়তিয়ের্সের/তুর্সের সমর। ফ্রান্সে শার্ল মার্টেলের হাতে উমাইয়া সেনাবাহিনীর পরাজয়। ব্যর্থ হয়ে গেল আরবদের ইওরোপ জয়ের প্রচেষ্টা।

ইবনে ইসহাক কর্তৃক রচিত হল সীরাত রাসূল উল্লাহ।*
* ইসলামের নবির চিরন্তন হওয়ার ১০০ বছর পর রচিত হয় তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী। এর কোন কপি আর পাওয়া যায় না। তবে ৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করা আব্বাসীয় ঐতিহাসিক ইবনে হিশামের সম্পাদিত সংস্করণটি টিকে আছে।ইসলামের ইতিহাসের আদিপর্বের প্রাথমিক উৎস বিবেচিত সীরাত। এ সময় সম্পর্কে পরবর্তীতে যাঁরাই ইতিহাস লিখেছেন, সবাইকেই সীরাতয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ইবনে ইসহাকের সীরাত পরম্পরাগত ঐতিহাসিকদের প্রধান উৎস।

৭৪০ আনাতোলিয়ায় উমাইয়া বাহিনী বাইজেন্টাইন বাহিনীর কাছে হারল।

৭৪০-৪২ উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে উত্তর আফ্রিকায় বার্বার বিদ্রোহ।

৭৪৩ খলিফা দ্বিতীয় ওয়ালিদের রাজত্বকাল।

৭৪৩-৪৪ উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করল আব্বাসী বংশ। পারস্যে। তাঁরা লড়ছিলেন শিয়াদের ব্যানারে।

৭৪৪-৪৯ খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ানের রাজত্বকাল।*
* বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে উমাইয়া আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তাঁর সিরীয় বাহিনী কিছু শিয়া বিদ্রোহ দমন করে।

৭৪৪-৫০ তৃতীয় ফিতনা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসংঘাতে উমাইয়া খেলাফত দুর্বল হয়ে পড়ল। আখেরে পতন ঘটে।

৭৪৭-৫০ আব্বাসী বিপ্লব।

৭৪৯ আব্বাসীদের কুফা বিজয় ও উমাইয়া খেলাফত উৎখাত।

আব্বাসী খেলাফত
৭৫০-১২৫৮ সাল

“By the early 800s, they had their empire, which stretched from the Atlantic to the Indus. They had their capital, a world city of over a million people in Baghdad, and they had the diverse cultures of the Greeks, Copts, Persians, and Indians from which to adopt the best aspects of previous civilizations. It was high time for the inauguration of the idealistic society they promised. In the mind of the seventh Abbasid caliph, al-Ma’mun (r. 813–833), that future idealistic society could only be achieved through science and rationalism. In order to achieve this, the various threads of scientific knowledge that existed throughout the empire had to be brought together in a central location. He believed that if the best scholars from the Muslim world could be brought together to learn from each other, limitless possibilities would open up. With this in mind, he established an educational institute in Baghdad known as the House of Wisdom (Arabic: Bayt al-Hikmah). Its scope was such that it defies definition by modern understandings of educational establishments. It was at once a university, library, translation institute and research lab, all on one campus. Libraries and small schools had existed since Umayyad times, but the emphasis placed on the acquisition of knowledge by the Abbasids far surpassed that of their predecessors. It was said that if a scholar would translate any book from its original language into Arabic, he would be given that book’s weight in gold. The most renowned scholars, Muslim and non-Muslim, from across the world flocked to Baghdad to be a part of al-Ma’mun’s project. For the first time in history, the best of Persia, Egypt, India, and former Byzantine lands could be brought together to advance science in ways that would benefit the entire world.”

Firas Alkhateeb (1986-), American Historian 

৭৫০-১২৫৮ আব্বাসী খেলাফত
* এই খেলাফতের কেন্দ্র ছিল বর্তমান ইরাকের বাগদাদ।

৭৫০-৫৪ খলিফা আবু আব্বাস আস-সাফফার রাজত্বকাল।*
* তিনি উমাইয়া পরিবারের ওপর একটা হত্যাযজ্ঞ চালান।

৭৫০ আব্বাসীরা উমাইয়াদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে ক্ষমতায় আসে। এই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া উমাইয়া রাজকুমার প্রথম আবদুর রহমান শরণার্থী হিসেবে সাম্রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তে পালিয়ে যান। পাঁচবছর পর তিনি নিজেকে আল-আন্দালুসে আবিষ্কার করেন।

ইমাম ইব্রাহিমের মৃত্যু। তিনি আব্বাসী বংশের প্রধান ছিলেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন তাঁর ভাই ইব্রাহিম।

৭৫১ তালাসের সমর। চীনের তাং রাজবংশের সাথে। যুদ্ধ শেষে উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

৭৫৫-৭৫ খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের রাজত্বকাল।*
* শিয়া ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যা করেন।

৭৫৫ আব্বাসীয় বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড আবু মুসলিমের মৃত্যু।

৭৫৬ আব্বাসী খেলাফত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল স্পেন। স্থানীয়ভাবে একটা নয়া উমাইয়া খেলাফত গড়ে উঠল। যার নেতৃত্বে ছিলেন আব্বাসী হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া উমাইয়া পরিবারের একমাত্র সদস্য, স্পেনে শরণার্থী, প্রথম আবদুর রহমান।

৭৬২ আব্বাসী খেলাফতের নতুন রাজধানী হিসেবে বাগদাদের প্রতিষ্ঠা।

৭৬৫ শিয়া ইসলামের ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদিকের মৃত্যু।*
* তিনি শিয়াদের রাজনীতি থেকে সরে আসতে বলেছিলেন।

শিয়াদের ধর্মীয় আন্দোলন তিনটা উপদলে ভাগ হল: ইসমাইলি, ইসনা আশারিয়া (দ্বাদশবাদী), ও জায়েদি

৭৬৭-৮২০ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস শফি।*
* সুন্নী ইসলামের চার মাজহাবের একটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম, যা শাফেঈ মাজহাব নামে পরিচিত।

৭৬৮ ইবনে ইসহাকের মৃত্যু।

৭৭৫-৮৫ খলিফা আল-মাহদীর রাজত্বকাল।*
ফিকহ, অথা ইসলামি আইনশাস্ত্রের, বিকাশে উৎসাহ যোগান। ধর্মীয় আন্দোলনটির ধার্মিকতাকে স্বীকার করেন। যা ক্রমান্বয়ে আব্বাসী রাজবংশের স্বৈরাচারের সাথে সহাবস্থান করতে শিখছিল।

৭৮০-৮৫৫ আহমাদ ইবনে হাম্বল।*
* সুন্নী ইসলামের চার মাজহাবের একটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাম, যা হাম্বলী মাজহাব নামে পরিচিত।

৭৮৫-৮৬ খলিফা আল-হাদীর রাজত্বকাল।

৭৮৬-৮০৯ খলিফা হারুনুর রশিদের রাজত্বকাল।*
* আব্বাসী ক্ষমতা এ সময় উৎকর্ষের শীর্ষে আছে। বাগদাদ ও সাম্রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলিতে এক মহান সাংস্কৃতিক রেনেসাঁ দেখা দিয়েছে। পাণ্ডিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতা করার পাশাপাশি খলিফা ফিকহ অধ্যয়ন ও হাদিস সংকলনকেও উৎসাহিত করেন যা শরিয়াকে সুসংহত রূপ প্রদান করবে।

৭৮৬ মক্কায় শিয়া বিদ্রোহ।

৮০০-৯০৯ আগলাবি রাজবংশ।*
* এঁরা স্রেফ নামকাওয়াস্তে আব্বাসী খলিফাদের সামন্ত ছিলেন।

৮০০-৯০৯ সিসিলির পশ্চিম অংশ ও ইফ্রিকিয়ার ওপর আগলাবিদের স্বশাসন দেয়া হল।

৮০১ সূফী ও কবি রাবেয়া বসরীর মৃত্যু।

৮০৬ বাইজেন্টাইন ভূখণ্ডে হারুনুর রশিদের বিখ্যাত অভিযান।

৮০৯-১৩ খলিফা হারুনুর রশিদের দুই ছেলের মধ্যে গৃহযুদ্ধ। যুদ্ধে আল-মামুন জেতেন। হেরে যান আল-আমিন।

৮১০-৭০ ইমাম বুখারি।*
* হাদিস সংগ্রাহক, বুখারি শরিফের জন্য বিখ্যাত।

৮১৩-৩৩ খলিফা আল-মামুনের রাজত্বকাল।*
* তাঁর রাজত্বকালে যুক্তিবাদী ধর্মতাত্ত্বিক মুতাজিলাদের উত্থান ঘটে।

৮১৪-১৫ বসরায় শিয়া বিদ্রোহ ও খোরাসানে খারিজি বিদ্রোহ।

৮১৭ শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম আল-রিজাকে নিজ উত্তরসূরী হিসেবে মনোনীত করলেন আল-মামুন।

৮১৮ আল-রিজার মৃত্যু, সম্ভবত হত্যার শিকার হন।

মিহনা।*
* খলিফার মদতপুষ্ট একটি নির্যাতনব্যবস্থা লোকসমাজে অধিক জনপ্রিয় আহলে হাদিসদের ওপর যুক্তিবাদী মুতাজিলাদের মতামত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। আহলে হাদিসরা নিজ মতামতের জন্য জেলজুলুমের শিকার হন। আহলে হাদিসদের একজন আইকন ছিলেন ইমাম হাম্বল।

৮৩৩-৪২ খলিফা আল-মুতাসিমের রাজত্বকাল।*
* তুর্কি দাস যোদ্ধাদের নিয়ে নিজস্ব বাহিনী তৈরি করেন মুতাসিম, রাজধানী সরিয়ে নেন সামারায়।

৮৪২-৪৭ খলিফা আল-ওয়াসিকের রাজত্বকাল।

৮৪৭-৬১ খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের রাজত্বকাল।*
* মুতাজিলাদের গুরুত্বহ্রাস করেন।

৮৪৮ শিয়া ইসলামের দশম ইমাম আলী আল-হাদীকে সামারা আশকারি দুর্গে আটক করে রাখা হয়।

৮৬১ নিজ তুর্কি দেহরক্ষীদের এক প্রাসাদ ক্যুদেতায় খুন হলেন আল-মুতাওয়াক্কিল।

৮৬১-৯৪৫ আব্বাসীয় খেলাফতের ভাঙন। প্রদেশগুলো স্বাধীন হতে শুরু করে। এসব প্রদেশে কেন্দ্রীয় খেলাফত সরকারের নিয়ন্ত্রণ নামেমাত্র বহাল থাকে।

৮৬১-৬২ খলিফা আল-মুনতাসিরের রাজত্বকাল।

৮৬২-৬৬ খলিফা আল-মুস্তাইনের রাজত্বকাল।

৮৬৬-৬৯ খলিফা আল-মুতাজের রাজত্বকাল।

৮৬৫ আল-আজরাকি, আখবার মাক্কাহ।*
* শহরটির প্রথম ইতিহাস বলে বিবেচিত হয়।

৮৬৮ শিয়া ইসলামের দশম ইমাম আলী আল-হাদীর মৃত্যু। তাঁর পুত্র হাসান আল-আশকারি সামারায় কারাবন্দী হিসেবে বাস করতে থাকলেন।

৮৬৯-৭০ খলিফা আল-মুহতাদির রাজত্বকাল।

৮৭০ দার্শনিক ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কিন্দির রাজত্বকাল।

৮৭০-৭২ খলিফা আল-মুতামিদের রাজত্বকাল।

৮৭৩/৮৭৪ সামারায় কারাবন্দী দশায় মৃত্যুবরণ করেন শিয়া ইসলামের একাদশ ইমাম হাসান আল-আশকারি। তাঁর ছেলে আবুল কাশেম মোহাম্মদ নিজের জীবন বাঁচাতে উধাও হয়ে যান বলে বিশ্বাস করা হয়। তিনিই শিয়া ইসলামের দ্বাদশ তথা গায়েব ইমাম।

“মাতাল” সূফীদের প্রথম জন বায়েজীদ বোস্তামির মৃত্যু।*
* এই “মাতাল” মানে আক্ষরিক অর্থে মদ্যপ নয়, বরং খোদাপ্রেমে বেদিশা হয়ে যাওয়া বুঝায়।

৮৭৩/৮৭৪-৯৪০ স্বল্পকালীন গায়েবা (غيبة: Occultation)। এ সময় দ্বাদশবাদী শিয়াদের ইমামের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন চারজন উকিল।

৮৯২-৯০২ খলিফা আল-মুতাদিদের রাজত্বকাল।

৮৯৯-১০৭৭ পূর্ব আরবে কারমাতীয় রাজ্য।*
* এর রাজধানী ছিল আল-হাসায়।

৯০২-৮ খলিফা আল-মুকতাফির রাজত্বকাল।

৯০৮-৩২ খলিফা আল-মুকতাদিরের রাজত্বকাল।

৯০৯ ইফ্রিকিয়াতে আগলাবীয়রা ফাতিমিদের* হাতে উৎখাত হয়ে গেল।
* ফাতিমিরা ইসমাইলী শিয়া।

৯০৯-১১৭১ ফাতিমি খেলাফত।*
* এই খেলাফতের কেন্দ্র ছিল বর্তমান তিউনিসিয়ার ইফ্রিকিয়া।

৯১০ সূফি জোনায়েদ বাগদাদীর মৃত্যু।

৯২২ ধর্মদ্রোহিতার দায়ে সূফী মনসুর হাল্লাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

৯২৩ বাগদাদে ঐতিহাসিক আবু জাফর আল-তাবারির মৃত্যু।

৯৩০ কারমাতীয়রা মক্কায় ঢুকে অসংখ্য হাজীকে হত্যা করে। ব্যাপক লুঠতরাজ চালায়। কাবা ঘরের পবিত্র পাথরটিও চুরি করে কাতিফে নিয়ে যায় তারা।

৯৩২-৩৪ খলিফা আল-কাহিরের রাজত্বকাল।

৯৩৪-৪০ খলিফা আল-রাজির রাজত্বকাল।

৯৩৪ আলী ইবনে বুইয়া ফার্স জয় করলেন। সিরাজকে রাজধানী করে প্রতিষ্ঠা করলেন বুয়ী রাজবংশ। আলীর লকব ছিল ইমাদুদ্দৌলা

৯৩৪-১০৬২ বুয়ী রাজবংশ

৯৩৫ দার্শনিক হাসান আল-আশ’আরীর মৃত্যু। এ সময় থেকে খলিফাদের আর জাগতিক ক্ষমতা ছিল না, তাঁরা স্রেফ একটি প্রতীকী কর্তৃত্ব বজায় রেখে চলছিলেন। প্রকৃত ক্ষমতা স্থানীয় শাসকদের হাতে চলে গেল, যারা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। এদের অধিকাংশই আব্বাসীয় খলিফাদের আধিপত্য স্বীকার করেন।

৯৪০ বৃহত্তর গায়েবা (غيبة: Occultation)র সূচনা। দ্বাদশবাদী শিয়ারা তাঁদের ইমামের সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেললেন।

৯৪৫ বাগদাদের নিয়ন্ত্রণ নিল বুয়ীরা।

৯৫০ কারমাতীয়রা চুরিকৃত পবিত্র পাথরটি মক্কাকে ফিরিয়ে দিল।  কর্দোবা খেলাফতের করদ রাজ্যে পরিণত হল বার্সেলোনা।

৯৬০ মক্কার স্থানীয় শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেন শরিফরা।

১০৩৭-১১৯৪ সেলজুক সাম্রাজ্য

১০৫৫ বুইরদের খেদিয়ে দিয়ে বাগদাদের নিয়ন্ত্রণ নিল সেলজুকরা।

১০৭৭-১৩০৮ রুমি সুলতানশাহি

১০৯৫-১২৯১ ক্রুসেডস

১০৯২-১১৩৫ খলিফা আল-মুস্তারশিদের রাজত্বকাল।

১০৯৫-১২৭০ মূলত ফ্রান্সের নেতৃত্বে সংঘটিত হল আটটি ক্রুসেড

১১৩৫ সেলজুকদের হাতে খুন হলেন খলিফা আল-মুস্তারশিদ।

১১৩৬-৬০ খলিফা আল-মুকতাফির রাজত্বকাল।

১১৫৭ সেলজুকরা বাগদাদ ঘেরাও দিল কিন্তু অনুপ্রবেশ করতে ব্যর্থ হল।

১১৭১ ফাতিমি খেলাফত বিলুপ্ত করে দিলেন সালাউদ্দিন আইয়ুবী।

১১৭৪-৯৩ মিসর ও সিরিয়ার সুলতান এবং আইয়ুবী সুলতানশাহির প্রতিষ্ঠাতা সালাউদ্দিন আইয়ুবীর রাজত্বকাল।

১১৮১-৮৩ ফরাসি নাইট রেনঁ দ্য শাতিলীয় মক্কাকে হুমকি দিলেন। রেনঁর বাহিনী সমগ্র হিজাজ অঞ্চলে লুঠতরাজ চালাল। ফ্রাঙ্কদের অঞ্চলটি থেকে বিতাড়িত করা হল।

১২০২ ইবনে আরাবি, দ্য মেক্কান রেভল্যুশনস

১২২৫ শেষ সামর্থ্যবান আব্বাসী খলিফা আল-নাসিরের মৃত্যু।

১২৫৮ মঙ্গোলদের আক্রমণে বাগদাদ ধবংস হয়ে গেল, এর মধ্য দিয়ে আব্বাসী খেলাফতের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র

রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।

Adamec, Ludwig W. 2017. Historical Dictionary of Islam. 3rd ed. Rowman & Littlefield.

Arafat, W. N. 1976. “New Light on the Story of Banū Qurayẓa and the Jews of Medina.” Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain and Ireland, no. 2: 100–107. http://www.jstor.org/stable/25203706.

Armstrong, Karen. 2002. Islam: A Short History. Modern Library.

Hazleton, Lesley. 2010. After the Prophet: The Epic Story of the Shia-Sunni Split in Islam. Vintage.

Hoyland, Robert G.. 2014. In God’s Path: the Arab Conquests and the Creation of an Islamic Empire. Oxford University Press.

Louër, Laurence. 2020. Sunnis and Shiʻa: A Political History of Discord. Translated by Ethan Rundell. Princeton University Press.

McHugo, John. 2018. A Concise History of Sunnis & Shi‘is. Georgetown University Press.

Ruthven, Malise, and Azim Nanji. 2004. Historical Atlas of Islam. Harvard University Press.

Sardar, Ziauddin. 2017. Mecca: The Sacred City. Paperback ed. Bloomsbury.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

2 thoughts on “আরব-ইসলামী সাম্রাজ্য”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *