
প্রাচীন রোম
Featured Image: Wikimedia Commons.
Auferre, trucidare, rapere, falsis nominibus imperium, atque, ubi solitudinem faciunt, pacem appellant.
[To ravage, to slaughter, to usurp under false titles, they call empire, and where they make a desert, they call it peace.]Attributed to the Caledonian chieftain Calgacus by the Roman Historian Tacitus (55-?)
“Rome has bequeathed us understandings of freedom and citizenship, as well as imperialist exploitation, along with today’s political vocabulary from “senators” to “dictators.””
Mary Beard (1955-), English Classicist & Historian
“Rome is our point of departure and of reference; it is our symbol, or if you like, it is our Myth. We dream of a Roman Italy, that is to say wise and strong, disciplined and imperial. Much of that which was the immortal spirit of Rome resurges in Fascism.”
Benito Mussolini (1883-1945), Italian Politician & Dictator

পূর্বসাল
পূর্বসাল ৭৫৩-৪৭৬/৪৮০ সাল প্রাচীন রোম।
৭৫৩-৫০৯ রোমক রাজ্য।
৭৫৩ স্থানীয় পশুপালক গোষ্ঠীগুলো টাইবার নদীর তীরে সাত পাহাড়ের মাঝে রোম নগরীর পত্তন ঘটাল।* কিংবদন্তী অনুসারে, রেমুস আর রোমুলাস নামের দুই ভাই যৌথভাবে রোম নগরীর প্রতিষ্ঠাতা, নগরীর নামকরণ হয়েছে রোমুলাসের নামে। ইতালির প্রথম রাজা রোমুলাস।**
* সাত পাহাড়ের মধ্যে একটিতে ছিল রুমিদের দুর্গ। নাম তার ক্যাপিতোলিউম। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট থেকে শুরু করে ক্যাপিটোল হিল পর্যন্ত অনেক নামই ইংরেজি ভাষায় এসেছে প্রাচীন রুমিদের কাছ থেকে।
** রোমের আদিম অধিবাসীরা নিজেদের বলতেন প্যাত্রিসিউস: পিতৃবংশীয়। প্রতিটি পিতৃবংশীয় পরিবারকে বলা হত ফ্যামিলিয়া: পরিবার। পিতৃবংশীয় প্রবীনদের পরামর্শসভাকে বলা হত সেনাতুস: সিনেট।
সিনেটের সাথে মিলে রাজা রোম শাসন করতেন।
কিন্তু প্যাত্রিসিউস ছাড়াও আরেকটি জনগোষ্ঠী ছিল রুমে। প্লেবেইউস: সাধারণ মানুষ। এরা ছিলেন বহিরাগত, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, গরিব।
রোমক প্রজাতন্ত্র
৫০৯-২৭ পূর্বসাল

৫০৯-২৭ রোমক প্রজাতন্ত্র।
৫০৯ রোমে রাজতন্ত্র উৎখাত। ঠিক করা হল, এখন থেকে দুজন কনসাল শাসন করবেন রোম, বলাই বাহুল্য আসবেন তারা প্যাত্রিসিউসের মাঝ থেকে। প্যাত্রিসিউসরা এই শাসনব্যবস্থাটার নাম দিল রেস পাবলিকা, যা থেকে ইংরেজিতে রিপাবলিক শব্দটা এসেছে, বাংলা অনুবাদে যা প্রজাতন্ত্র।*
* লাতিনে রেস পাবলিকা বলতে জনগণের রাজত্ব বোঝালেও রুমিরা এ সময় জনগণ বলতে শুধু প্যাত্রিসিউসদের বুঝত। যারা ছিল অভিজাত। এই প্রজাতন্ত্রে প্লেবেইউসদের – সাধারণ মানুষদের – কোন ভাগ ছিল না।
পূর্বসাল ৪৫০-১৯৪৮ সাল ২ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে জর্দান নদী আর ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অঞ্চলটুকু ফিলিস্তিন নামে পরিচিত ছিল।
৪০১-৩০০ প্যাত্রিসিউস আর প্লেবেইউসের সুদীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান ঘটে, এবং শেষ পর্যন্ত, প্লেবেইউসরা রোম নগরীরা নাগরিক হিসেবে প্যাত্রিসিউসদের সমান অধিকার লাভ করে। এই শতাব্দীর প্রথম দিকে রুমিরা দক্ষিণ ইতালির গ্রিক শহরগুলোকে দখল করে নেয়। ক্রমে, সমগ্র আপেনাইন উপদ্বীপ তাদের অধিকারে আসে।*
* দিভিদে এত ইম্পেরা রুমিদের সাম্রাজ্যনীতি। ইংরেজিতে এর থেকে এসেছে ডিভাইড অ্যান্ড রুল, বাংলায় বলা হয় ভাগ করো ও শাসন করো। পরবর্তী সব সাম্রাজ্যই এই নীতি অনুসরণ করেছে।
২৬৪-১৪৬ পিউনিক যুদ্ধ। রোম আর কার্থেজের* মধ্যে। এই যুদ্ধের অবসান ঘটে কার্থেজের ধবংসের মধ্য দিয়ে।
* আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে ফিনিশীয় বণিকদের প্রতিষ্ঠা করা শহর। সামুদ্রিক বাণিজ্যে তাদের তুলনা মেলা ভার ছিল। বর্তমান তিউনিসিয়ায় অবস্থিত।
৩০০-১০১ রুমিরা দক্ষিণপূর্ব ইওরোপ ও এশিয়া মাইনর – বর্তমান তুরস্ক – জয় করে নেয়। সিরিয়া থেকে গ্রিস তাদের হাতে চলে আসে। রোমক প্রজাতন্ত্র পরিণত হয় এক বিশাল সাম্রাজ্যে।
কিন্তু সাফল্য একইসাথে নতুন সমস্যা তৈরি করে। সাম্রাজ্যের নানান জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণে দাস আমদানি করার কারণে রোমের চাষীরা বেকার হয়ে যায়, কারণ দাসদের দিয়ে কাজ করানো দাসমালিকদের জন্য অনেক বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে। সিসিলির দাসবিদ্রোহ অতি কষ্টে দমন করেছিল রোম।
গ্রাখি ভাইয়েরা ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে জমি বিলি করার একটা কর্মসূচি হাতে নিলেও সম্পত্তিবান শ্রেণির বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেন নি, তবে ৮০,০০০ নিঃস্ব চাষী পেয়েছিলেন জমি।
২১২ কার্থেজীয়দের কাছ থেকে সাগুনটুম জয় করলো রুমিরা।
২০৬-২০৫ রুমিদের গাডিস জয়। ইবেরীয় উপদ্বীপে কার্থেজীয়দের উপস্থিতির অবসান।
১৯৫/১৮৫-১৫৯ রোমক আফ্রিকার নাট্যকার তেরেন্সের আনুমানিক জীবনকাল।*
* মানবিক কোনোকিছুই আমার অনাত্মীয় নয় কথাটির জন্য বিখ্যাত।
১৯১ রুমিদের নিয়ন্ত্রণে আসলো ডেলফি। রোমের সাথে একটি মৈত্রী চুক্তি সই করলো একিয়ান লীগ।
১৮৮ সামোসকে স্বাধীনতা দিলো রোম।
১৬৬ অ্যাথেন্সকে সাইক্লাডেসের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করলো রোম।
১৫০ একটি রোমক প্রদেশে পরিণত হলো ম্যাকিদোনিয়া। রুমিদের বেঈমানির শিকার হলো লুসিতানিরা। তাদের হত্যা করা হয়।
১৪৮ করসিরাকে রোমক প্রদেশ ম্যাকিদোনিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
১৪৬ থেসালোনিকাকে রোমক প্রদেশ ম্যাকিদোনের রাজধানী করা হলো।
তৃতীয় পিউনিক যুদ্ধের অবসান। কার্থেজ ধ্বংস হলো এবং এর ভূখণ্ড রোমক প্রদেশ আফ্রিকায় পরিণত হলো। উটিচাকে রোমক প্রদেশ আফ্রিকার রাজধানী করা হলো।
১৩৩ লিডিয়া আর তাঁর রাজধানী সার্ডিস রোমক শাসনের অধীনস্ত হল।
১২৯ সামোসকে রোমক প্রদেশ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
১০৬ সিসেরোর জন্ম।
১০১ জুলিয়াস সিজারের জন্ম।
১০০-১ রোমে নির্মিত হল কলোসিয়াম।
৯৯ বিজ্ঞানী ও কবি লুক্রেসিয়াসের জন্ম।
৯৬ একটি রোমক প্রদেশে পরিণত হলো সিরেনাইকা।
৭৪ রুমিদের নিয়ন্ত্রণে আসলো সিরেন নগরী।
৭৪-৭১ রোমক দাসমালিকদের বিরুদ্ধে স্পার্টাকাসের নেতৃত্বে দাস বিদ্রোহ। বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়। ৬,০০০ দাসকে ক্রুশবিদ্ধ করে কাপুয়া থেকে রোমের পথে রাস্তার দুধারে ঝুলিয়ে রাখা হয়।*
* ব্যর্থ হলেও স্পার্টাকাসের বিদ্রোহ বিশাল গুরুত্ব রাখে। যুগে যুগে স্বাধীনতার পিয়াসীদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি। প্রেরণা যুগিয়েছেন লড়াইয়ে।
৭০ কবি ভার্জিলের জন্ম।
৬৪ একটি রোমক উপনিবেশে পরিণত হলো টায়ার। ব্যাবিলোস জয় করলেন রোমক সেনাপতি পম্পেই।
৬৩ জেরুসালেম দখল করলেন পম্পেই। জুদিয়াকে রোমের নিয়ন্ত্রণে আনা হল। রোমক প্রদেশ সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত হলো গাজা ও জর্দানের জেরাশ।
৬০ সিজার, ক্রসাস, আর পম্পেই গঠন করলেন প্রথম ত্রিউমভিরেট।
৫৮ গলের – বর্তমান ফ্রান্সের – শাসনকর্তা নিযুক্ত হলেন সিজার।
৫৫ বিজ্ঞানী ও কবি লুক্রেসিয়াসের মৃত্যু।
৫০-১ তুরস্ক রুমিদের হাতে আসে। হাজার বছর ধরে রুমিরা শাসন করবে তুরস্ক। এরপর ওসমানি তুর্কিরা রুমিদের হাত থেকে এশিয়া মাইনরের দখল নেবে।
৪৯ নিজের বাহিনী নিয়ে রুম আক্রমণ করলেন সিজার। গৃহযুদ্ধে অনায়াসে জিতলেন। নিজেকে ইম্পেরাতোর ঘোষণা করলেন, যা থেকে ইংরেজি এমপেরর শব্দটি এসেছে, বাংলা অনুবাদে সম্রাট।
৪৮ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি রোমক উপনিবেশে পরিণত হল বুট্রিন্ট।
৪৪ জুলিয়াস সিজার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হলো রোমক উপনিবেশ করিন্থ।
গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন জুলিয়াস সিজার।*
* সিজার রোমে একধরণের স্বেচ্ছাচারী একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। এটা সাম্রাজ্যের প্রথাগত অভিজাতদের পছন্দ হয় নি। তাই তারা সিজারকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়।
৪৩ মার্ক অ্যান্টনি, লেপিডাস, আর অক্টাভিয়ান গঠন করলেন দ্বিতীয় ত্রিউমভিরেট। মার্ক অ্যান্টনির নির্দেশে সিসেরোর শিরশ্ছেদ করা হল।
৪১ সাইক্লাডেসের নাক্সোসের নিয়ন্ত্রণ নিলো রোম।
৪০-৩৬ মার্ক অ্যান্টনি আনাতোলিয়ায় হামলা চালালে রোমক সাম্রাজ্যের মিত্রে পরিণত হলেন রাজা দ্বিতীয় পারনাভাজ।
পূর্বসাল ৩৭-৪ সাল জুদিয়ায় হেরোদের রাজত্বকাল।*
* রোমের সিনেট হেরোদকে জুদিয়ার রাজা হিসাবে নিয়োগ দিল, ফিলিস্তিনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
৩১ করসিরাকে একটি রোমক নৌঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করলেন অক্টাভিয়ান।
পূর্বসাল ৩০- ১৪ সাল অক্টাভিয়ানের রাজত্বকাল।
৩০ রোমক সাম্রাজ্যের একটি প্রদেশে পরিণত হলো মিশর।
পূর্বসাল ৩০-৪৭৬ সাল রোমক মিসর।
২৭-১৯ ক্যান্টাব্রিয়ান সমরসমূহ। ইবেরীয় উপদ্বীপে রোমক দখলদারিত্ব।
২৭ কলোনিয়া জুলিয়া অগাস্টা ফিলিপ্পেনসিস নামক সম্মানসূচক উপাধি লাভ করলেন ফিলিপ্পি। গোরটিনকে রোমক প্রদেশ ক্রিট ও সিরিনের রাজধানী করলেন অগাস্টাস।
রোমক সাম্রাজ্য
পূর্বসাল ২৭-৩৯৫ সাল

পূর্বসাল ২৭-৩৯৫ সাল রোমক সাম্রাজ্য।
২৫ গালাতিয়াকে শান্তিপূর্ণভাবে রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
২৩ অক্টাভিয়ান নিজের নাম বদলে অগাস্টাস রাখলেন। রোম প্রজাতন্ত্রের চরিত্র হারিয়ে বহু আগেই সাম্রাজ্যে পরিণত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে অগাস্টাসকেই প্রথম রোমক সম্রাট বিবেচনা করা হয়।
১৯ ইবেরীয় উপদ্বীপে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করল রুমিরা। প্রতিষ্ঠা করল হিসপানিয়া। তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে, “শান্তি ও সমৃদ্ধির” পর্ব।
রোমক কবি ভার্জিলের মৃত্যু।*
* মৃত্যুর বছরই প্রকাশিত হয় তাঁর মহাকাব্য ঈনিড।
পূর্বসাল ৬-৩০ সাল বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের শহর বেথলেহেমে জন্ম নেয়া খ্রিস্টধর্মের প্রাণকেন্দ্র জেসাস ক্রাইস্টের জীবনকাল।
সাল
১-২০০ ব্রিটিশ দ্বীপগুলো থেকে দজলা ও ফোরাত নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত হলো রোমক সাম্রাজ্য।
১-১০০ রোমক সাম্রাজ্য জুড়ে মিথ্রাবাদের প্রসার ঘটলো।
৬ জার্মানিয়ার গভর্নর নিযুক্ত হলেন পাবলিয়াস কুইন্টিলিয়াস ভারুস।
৯ টিউটোবার্গ জঙ্গলের সমর। ভারুসের নেতৃত্বাধীন রোমক সেনাবাহিনীর পরাজয়। রাইন নদীকে লাতিন ও জার্মানভাষী বিশ্বের মধ্যকার সীমানা হিসেবে স্থাপন করা হলো।
১৩ অগাস্টাস সীজার, ডিডস।
২০ জেসাস ক্রাইস্টের সরাসরি শিষ্যদের একজন সেইন্ট পল এ সময় একজন কিশোর যাঁর পিতা ছিলেন একজন গ্রিকভাষী ইহুদি ও রোমক সাম্রাজ্যের একজন নাগরিক।
২৯ এ সময় রোমক ফিলিস্তিনের গালিলি প্রদেশে প্রচারকার্য চালাচ্ছেন ও অসুস্থদের সুস্থ করছেন জেসাস ক্রাইস্ট।
৩০/৩৩ রোমক সম্রাট টাইবেরিয়াসের রাজত্বে প্রোকিউরেটর পন্টিয়াস পাইলেটের অধীনে জেসাস ক্রাইস্টকে রোমক ফিলিস্তিনের জেরুসালেমের গলগথায় ক্রুশবিদ্ধ করা হল।*
* রোমক সাম্রাজ্যে নিচুশ্রেণির অপরাধীদের ক্রুশবিদ্ধ করা হত। সমকালীন শাসকদের চোখে জেসাস ক্রাইস্ট তাই ছিলেন। ইতিহাস খুবই পরিহাসপ্রবণ।
জেরুসালেমে খ্রিস্টানদের ক্ষুদ্র সম্প্রদায়টির নেতা হলেন পিটার।
৩৫ রোমক ফিলিস্তিনের জেরুসালেমের নগর দেয়ালের বাইরে সেইন্ট স্টিফেনকে পাথর মেরে হত্যা করা হল।*
* খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসের প্রথম শহিদ বিবেচিত হয়ে থাকেন।
খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন চালাতে দামিশকে যাওয়ার পথে এক চোখধাঁধানো আলো দেখলেন সাউল। দীক্ষিত হলেন খ্রিস্টধর্মে। পরবর্তীকালে পরিচিত হলেন সেইন্ট পল নামে।
৪৮ খ্রিস্টধর্ম শুরুতে ইহুদিদের মধ্যে সীমিত ছিল। এসময় একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে। রোমক সাম্রাজ্যে সফর করে অইহুদিদের খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে শুরু করেন সেইন্ট পল।
৬০ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে রোমে আসলেন পিটার। কালক্রমে, তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রথম পোপ বিবেচিত হবেন। পলকে বন্দী করে রোমে নিয়ে আসা হল।
৬০-৬২ রোমে দুই বছর স্বাধীনভাবে প্রচারকার্য চালালেন পল।
৬৪ এক অগ্নিকাণ্ডে রোমের অধিকাংশ এলাকা পুড়ে খাক হয়ে গেলে এটাকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করে সন্ত পিটারসহ আরো কিছু নিরীহ মানুষকে ভ্যাটিকান পাহাড়ের ওপর ক্রুশবিদ্ধ করলেন সম্রাট নিরো।
৬৬ রোমের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহে জিলটরা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তাঁরা গাজায় হামলা চালান।
৬৭ রোমক সম্রাট নিরো সেইন্ট পলকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন।*
* পল রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিক ছিলেন। তাই তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়। অপেক্ষাকৃত কম যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিটি পেত অভিজাত অপরাধীরা।
৬৮ এসেনরা তাঁদের পবিত্র পুঁথিগুলো রুমিদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মৃত সাগরের নিকটবর্তী গুহাগুলোয় লুকিয়ে রাখল।
৭০ রুমিদের হাতে ধবংস হল জেরুসালেমের দ্বিতীয় মন্দির। এই ধবংসযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন সম্রাট ভেসপাসিয়ানের পুত্র ও রোমের সাম্রাজ্যিক সেনাবাহিনীর অধিনায়ক টাইটাস। জেরুসালেমে চার বছরের ইহুদি শাসনের রক্তাক্ত অবসান।
৭০-৩৯৫ ফিলিস্তিনে রোমক সাম্রাজ্যের পরোক্ষ শাসন।
৭৩ বিদ্রোহী ইহুদিদের শেষ দুর্গ মাসাদার পতন ঘটল।
৭৫ ফ্লাভিয়াস জোসেফাস, দ্য জিউইশ ওয়ার।
৭৯ ভিসুভিয়াস পর্বতের অগ্নুৎপাতে রোমক সাম্রাজ্যের একটি রিসোর্ট ও বাণিজ্যনগরী পম্পেই ধবংস হয়ে গেল।
১০১-২০০ পশ্চিম আরবের সামুদরা রোমক সাম্রাজ্যকে খাজনা দিচ্ছে।
১০৫ রোমক আরব। নাবাতীয় রাজ্যকে রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল।
১১২ রোমক সম্রাট ত্রাজানের কাছে একটি চিঠি লিখলেন প্রাকৃতিক দার্শনিক (বিজ্ঞানী) প্লিনি দ্য এল্ডার। তিনি সম্রাটকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন, যে খ্রিস্টানরা আইন মেনে চলা একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়। সাম্রাজ্যের জন্য এরা কোন হুমকি নয়।
১২৪ লিডিয়া সফর করলেন রোমক সম্রাট হাদ্রিয়ান।
১৩০ জেরুসালেম সফর করলেন সম্রাট হাদ্রিয়ান। শহরটিকে একটি রোমক শহর হিসেবে পুনর্নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই সিদ্ধান্ত ইহুদিদের ক্ষুব্ধ করে তুলল।
একই সময় তিনি গাজা সফর করেন।
১৩১ ফ্লাভিয়াস আরিয়ানকে কলচিস আর কার্তলি সফরে পাঠালেন রোমক সম্রাট হাদ্রিয়ান।
১৩২ শিমন বার-কোচবার নেতৃত্বে রোমের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহ। জেরুসালেম থেকে রুমিদের বিতাড়িত করল ইহুদিরা।
১৩২-৩৫ জেরুসালেমে ইহুদি শাসন।
১৩৪/১৩৮ দ্বিতীয় পারসমানকে রোমে বরণ করে নেয়া হল।
১৩৫ শিমন বার-কোচবার নেতৃত্বাধীন ইহুদিদের কাছ থেকে জেরুসালেম পুনঃদখল করল রোম। শহরটি থেকে সব ইহুদিকে তাড়িয়ে দেয়া হল।
১৩৫/১৩৬-৩৯০ প্রভিন্সিয়া সিরিয়া প্যালেস্টাইনা (Ἐπαρχία Συρίας τῆς Παλαιστίνης)।
১৭৭ এ সময় রোমক সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের হুকুমে লায়ন্সের খ্রিস্টানদের ওপর আমৃত্যু নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
২১৫ লিডিয়া সফর করলেন রোমক সম্রাট কারাকাল্লা।
২৪৪-৪৯ রোমক সাম্রাজ্যের ইতিহাসের একমাত্র আরব শাসকের রাজত্বকাল, যিনি ফিলিপ দ্য আরব নামে পরিচিত।
২৫০ খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন রোমক সম্রাট দেসিয়াস। রোমের খ্রিস্টানরা ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্রগুলোকে কবরগৃহ হিসাবে ব্যবহার করতে আরম্ভ করল, যার দেয়ালে বাইবেলের নব সন্ধির কাহিনীগুলোর অনুসরণে আঁকা হচ্ছে নানান ম্যুরাল।
২৫৮ রোমের দেবতাদের উদ্দেশ্যে কোরবানি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কার্থেজের* বিশপ সাইপ্রিয়নকে** শহিদ করা হল।
* প্রাচীন ফিনিশীয় বণিকদের তৈরি করা বাণিজ্য নগরী, যা বর্তমান তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে অবস্থিত।
** তিনি ছিলেন এহেন আরো অসংখ্য শহিদের একজন।
২৮৪ রোমক সৈন্যরা সম্রাটের রক্ষীবাহিনীর প্রধান দিওক্লেশিয়ানকে ধরে সম্রাট বানিয়ে দিল, ২১ বছর ধরে চলবে তার একনায়কতান্ত্রিক শাসন।
৩০০ ইহুদি ডায়াসপোরা এ সময়ের মধ্যে সমগ্র রুমি সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছেন। যেখানে তাদের সহ্য করা হচ্ছে।
৩০৩ খ্রিস্টানদের ওপর অপেক্ষাকৃত পদ্ধতিগতভাবে নতুন উদ্যমে নির্যাতন চালাতে শুরু করলেন রোমক সম্রাট ডায়াক্লেশিয়ান।
৩০৬ রোমের অন্যতম সম্রাট হলেন কনস্টান্টাইন।*
* খ্রিস্টধর্মকে রোমক সাম্রাজ্যের বঞ্চিত-লাঞ্চিতদের ধর্ম থেকে বিশ্বধর্মে রূপান্তরিত করায় বিশেষ অবদান আছে তাঁর।
৩১২ মিলভিয়ান সেতুর একটি নিষ্পত্তিমূলক যুদ্ধে জিতলেন কনস্টান্টাইন। রোমে প্রবেশ করলেন। পশ্চিম সাম্রাজ্যের অধিপতি হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন।
৩১৩ মিলানের ফরমান। রোমক সম্রাটদ্বয় কনস্টান্টাইন ও লিসিনিয়াস খ্রিস্টানদের সহ্য করার নীতি ঘোষণা করলেন।
৩২৪ সম্রাট প্রথম কনস্টান্টাইনের নির্দেশে সেইন্ট পিটারের কবরের ওপর একটা ব্যাসিলিকার নির্মাণ কাজ শুরু হল।
৩২৫ নিসিয়ার* কাউন্সিল। রোমক সম্রাট কনস্টান্টাইনের তত্ত্বাবধানে খ্রিস্টানদের প্রথম নিখিল সাম্রাজ্য কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হল।
* বর্তমান তুরস্কের ইজনিক।
৩২৬ সম্রাট কনস্টান্টাইনের মা হেলেনা জেরুসালেমে তীর্থযাত্রায় গেলেন। তিনি পবিত্র স্থানগুলোতে নির্মাণকাজের কর্মসূচি হাতে নিলেন। কালক্রমে, পবিত্র ভূমি খ্রিস্টানদের তীর্থকেন্দ্র হয়ে উঠল।
৩২৭ হেলেনা জেরুসালেমে কথিত প্রকৃত ক্রুশ “আবিষ্কার” করলেন।*
* যেই কাঠের ওপর জেসাসকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল। হেলেনার এই দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্য খুবই পরিকল্পিতভাবে উত্থাপন করা হয়েছিল এই দাবি।
৩৩০ প্রাচীন গ্রিক শহর বাইজান্টিয়ামে একটি নতুন খ্রিস্টান শহর নির্মাণ করলেন কনস্টান্টাইন। নাম দিলেন কনস্টান্টিনোপল।* নবগঠিত শহরটিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী করা হল।
* বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।
৩৩০-১৪৫৩ পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কুরআন শরিফের ৩০ সংখ্যক সূরার নাম আর-রুম। সেখানে রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে। যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল। আজকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য পদ দুটি সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, পূর্ব রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিকরা নিজেদের রুমি বিবেচনা করতেন। গ্রিক ভাষায় কথা বললেও আচারব্যবহারে রুমি ছিলেন। তারা কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে বাইজেন্টাইন বলেন নি। কিন্তু অতিকথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাইজেন্টাইন। শব্দটি ব্যবহারিক কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আজ আর এই ভুল শোধরানো সম্ভব নয়।
৩৬১-৬৩ রোমক সম্রাট জুলিয়ানের রাজত্বকাল। ইতিহাসের চাকা উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন জুলিয়ান। ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন রোমের বহুঈশ্বরবাদী ব্যবস্থা।
* তাঁর এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। কালক্রমে খ্রিস্টধর্ম সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে গেছে। খ্রিস্টানরা তাঁকে ডাকেন জুলিয়ান দ্য অ্যাপোস্টেট।
৩৬৩ একটি অপ্রামাণিক (ἀπόκρυφος : apocryphal) গল্প অনুসারে, তার্সুসে মরতে মরতে জেসাস ক্রাইস্টের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছিলেন জুলিয়ান দ্য অ্যাপোস্টেট।
৩৬৭ পিক্ট, স্কট, সাক্সন, ও ফ্রাঙ্করা আক্রমণ করলো রোমক সাম্রাজ্য।
৩৯০-৬৩৬/৩৯৫-৬৩৮ প্রভিন্সিয়া প্যালেস্টিনা সেকুন্দা (ἐπαρχία Δευτέρα Παλαιστίνης)।
৩৯১ বহুঈশ্বরবাদীদের মন্দিরগুলো বন্ধ করে দিলেন সম্রাট প্রথম থিওডোসিয়াস।
৩৯৫ সম্রাট থিওডোসিয়াসের মৃত্যু। সাম্রাজ্য তার দুই ছেলের মধ্যে পুবে পশ্চিমে ভাগ হয়ে গেল। রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙন হিসপানিয়ায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করল।
পশ্চিম রোমক সাম্রাজ্য
৩৯৫-৪৭৬ সাল

৩৯৫-৪৭৬ পশ্চিম রোমক সাম্রাজ্য।
৪০২ পশ্চিম রোমক সাম্রাজ্যের রাজধানী হয়ে উঠলো রাভেন্না। গাজা শহরে রুমিদের দেবমন্দিরগুলো ধবংস করা হল।
৪১০ রোমে ধ্বংসলীলা চালালেন ভিসিগথদের অ্যালারিক।
৪৩৯ পশ্চিম রোমক সাম্রাজ্যের কাছ থেকে কার্থেজ দখল করে নিলো ভ্যান্ডালরা, বানালো নিজেদের নতুন রাজধানী।
৪৫১ কাতালাউনিয়ান ফিল্ডসের সমর। রোমের মিত্রদের সাথে মিলে হুনদের অ্যাটিলাকে পরাজিত করেন এটিয়াস।
৪৫৫ রোম লুণ্ঠন করলো ভ্যান্ডালরা।
৪৭৬ পশ্চিম রোমক সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট রোমুলাস অগাস্টাস জার্মানিক রাজা ওডোয়াসারের দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাকে ক্যাম্পানিয়ায় জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠানো হয়।* পশ্চিম ইওরোপের অন্ধকার যুগয়ের সূচনা। তবে পূর্ব সাম্রাজ্যে কন্সটান্টিনোপলের বিকাশ ঘটা অব্যাহত থাকে।
* এটিই রোমান সাম্রাজ্যের “আনুষ্ঠানিক” সমাপ্তি।
৪৮০ জুলিয়াস নেপোসের মৃত্যু।*
* এটিই পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের “অনানুষ্ঠানিক” সমাপ্তি।
৪৮৬ গলে রুমিদের পরাজিত করেন ফ্রাঙ্কদের প্রথম ক্লোভিস। ফ্রাঙ্কিশ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
৪৮৮-৪৯৩ ইতালি জয় করলেন অস্ট্রোগথদের মহান থিওডোরিক।
তথ্যসূত্র
করোভকিন, ফিওদর। ১৯৮৬। পৃথিবীর ইতিহাস: প্রাচীন যুগ। দ্বিতীয় সংস্করণ। মূল রুশ থেকে হায়াৎ মামুদ কর্তৃক অনূদিত। প্রগতি প্রকাশন।
World History Encyclopedia.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



