
সুবাহ বাংলা
Featured Artwork: Benjamin West.

DeepSeek and Gemini.
সাল
১৫২৬-১৮৫৮ মুঘল সাম্রাজ্য।
১৫২৬ এপ্রিল ২১ পানিপথের প্রথম যুদ্ধ। জাহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুরের কাছে হেরে গেলেন দিল্লির লোদি রাজবংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদি। দিল্লি সুলতানশাহির অবসান ও মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
১৫২৬-৩০ মুঘল সম্রাট হিসেবে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুরের রাজত্বকাল।
১৫২৯ বাবুরের বাংলা আক্রমণ।
১৫৪০ ফরিদুদ্দিন শেরশাহ নামে দিল্লির মসনদে বসলেন শের খান।
১৫৪০-৪৫ বর্তমান ভারতের উত্তরাঞ্চল শাসন করছেন শের শাহ। সুরি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমান বাংলায় শাসনকালটি পাঠান রাজত্ব বলে পরিচিত।
১৫৬৪ শেরশাহের এককালীন সেনাপতি তাজ খান কররানি মুঘলদের ধাওয়া খেয়ে বিহার থেকে বাংলায় এসে নিজেকে বাংলার সুলতান বলে ঘোষণা করলেন।
১৫৬৪-৭৬ বাংলায় কররানিদের রাজত্ব।
১৫৬৯-১৬২৭ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ সেলিম।*
* জাহাঙ্গীর নামে অধিক পরিচিত।
১৫৭৬-১৭৯৩ সুবাহ বাংলা।
১৫৭৪ দাউদ খান কররানির কাছ থেকে রাজা উপাধি পেলেন প্রতাপাদিত্যের পিতা বিক্রমাদিত্য। গৌড়ের যশ হরণ করে বিক্রমাদিত্যের রাজ্যের সমৃদ্ধি ঘটেছে দাবি করে গৌড় থেকে আসা কিছু লোক রাজ্যটিকে ‘যশোহর’ ডাকা শুরু করল। কালক্রমে যা লোকমুখে যশোর হয়ে উঠবে।
১৫৭৫ সুলায়মান খান কররানির ছেলে দাউদ খান কররানির বিদ্রোহ দমন করতে বাংলায় এলেন দিল্লির সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর, বিদ্রোহ দমন করে মুনেম খানকে সুবাদার নিযুক্ত করে আকবর ফিরে গেলেন আগ্রায়। মহামারীতে মুনেম খানের মৃত্যু। সোনারগাঁওয়ের কাছাকাছি অবস্থান নেয়া মুঘল নৌবহর ধবংস করে ফেললেন ঈসা খাঁ, দাউদ খান কররানি দ্বিতীয়বারের মত বাংলা দখলের চেষ্টা চালালেন।
১৫৭৬ জুলাই ১২ রাজমহলের যুদ্ধ। মুঘলদের কাছে পরাজিত হলেন দাউদ খান কররানি। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল।
১৫৭৯ মুজাফফর খান তুরবাতিকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করলেন আকবর।
১৫৮১ মাসুম খান কাবুলির সাথে ঈসা খাঁর মৈত্রীচুক্তি। নিজেকে বাংলার পূর্বাংশের স্বাধীন শাসক বলে ঘোষণা করলেন তিনি, সুবর্ণগ্রাম হল পূর্ব বাংলার রাজধানী। উপাধি নিলেন মসনদ-ই-আলা।
১৫৮২ জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবরকে বিভ্রান্ত করে যশোর রাজ্যের সনদ নিজের নামে লিখে নিয়ে বাংলায় ফিরলেন প্রতাপাদিত্য, মনক্ষুন্ন হলেন তাঁর কাকা বসন্ত রায়।
১৫৮৪ এবছর পর্যন্ত মুঘলদের সাথে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলেছেন ঈসা খাঁ, তবে মুঘলদের বিরুদ্ধে মাসুম খান কাবুলিকে নিয়মিত নৌবহর দিয়ে সাহায্য করেছেন। বক্তারপুরে ঈসা খাঁর নৌঘাঁটি আক্রমণ করলেন মুঘল সুবাদার শাহবাজ খান। এগারসিন্দুর আর ভাওয়ালের যুদ্ধে ঈসা খাঁর জয়।
১৫৮৪-১৬১২ বারো ভূঁইয়া বিদ্রোহ।*
* এই বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে গেলেও বাংলার বিদ্রোহী মনোভাবের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে।
১৫৮৬ শাহবাজ খানের সাথে ঈসা খাঁর মৈত্রীচুক্তি। কিন্তু এই চুক্তি বেশিদিন টেকেনি।
১৫৮৮ চাঁদ রায় ও কেদার রায় ঈসা খাঁকে আক্রমণ করলেন, কিন্তু শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে রায়দের বাহিনী খাঁ বাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হল।
১৫৯২-১৬৬৬ শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররম।*
* শাহজাহান নামে অধিক পরিচিত।
১৫৯৪ মানসিংহকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করলেন জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর, দায়িত্ব দিলেন ঈসা খাঁকে উৎখাত করার।
১৫৯৭ মানসিংহের ছেলে কুমার দুর্জন সিংহ বিক্রমপুরে ঈসা খাঁর মুখোমুখি হলেন, যুদ্ধে কুমার সিংহের মৃত্যু। আগ্রায় গিয়ে আকবরের সাথে সাক্ষাৎ করেন ঈসা খাঁ। আকবর ঈসা খাঁর মসনদ-ই-আলা উপাধি স্বীকার করে নেন, তাঁকে বাংলার দেওয়ান নিযুক্ত করেন, এবং নামমাত্র কর দিয়ে ঈসা খাঁ স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।
১৫৯৯ এগারসিন্দুর দুর্গ থেকে বক্তারপুরে নৌঁঘাটি পরিদর্শন করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ঈসা খাঁ। অচিরেই মৃত্যুবরণ করেন। ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর বাংলার মসনদে বসেন মুসা খাঁ। পূর্বসূরীর মত তিনিও মুঘলদের আনুগত্য অস্বীকার করেন। লড়াই চালিয়ে যান সুবর্ণগ্রাম থেকে।
১৬০৫-২৭ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ সেলিমের রাজত্বকাল।
১৬০৮ ইসলাম খানকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর।
১৬০৯ রাজা প্রতাপাদিত্যের প্রতি সুবাদার ইসলাম খানের প্রস্তাব: মুসা খাঁর বিরুদ্ধে মুঘলদের অভিযানে সৈন্য ও নৌবহর দিয়ে সাহায্য করবেন প্রতাপাদিত্য। বিনিময়ে তিনি পাবেন শ্রীপুর ও বিক্রমপুরের জমিদারি। সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও টালবাহানা করলেন প্রতাপাদিত্য। ইসলাম খানের সেনাপতি ইনায়েত খান আক্রমণ করলেন প্রতাপাদিত্যকে।
১৬১০ মুসা খাঁকে পরাজিত করলেন সুবাদার ইসলাম খান। পরবর্তী সুবাদার ইব্রাহিম খান ফতেহ-ই-জঙ্গ মুসা খাঁর সাথে মৈত্রী স্থাপন করে তাঁকে মুঘলদের ত্রিপুরা ও কামরূপ অভিযানে কাজে লাগান। মুঘল বাহিনীর সাথে প্রতাপাদিত্যের বাহিনীর তুমুল লড়াই। পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন রাজা প্রতাপাদিত্য। ঢাকাকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল। সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক নতুন নামকরণ: জাহাঙ্গীরনগর। জাহাঙ্গীরনগর এসময় থেকে বাংলার রাজধানী হয়ে ওঠে।
১৬১১ রাজা প্রতাপাদিত্যকে শিকলে বেঁধে বাঘের মত করে প্রদর্শন করতে করতে ঢাকা থেকে আগ্রায় নিয়ে যাবার সময় সম্ভবত কাশীতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
১৬১২ উপমহাদেশে ব্রিটিশদের আগমন। বঙ্গীয় বদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর মুঘলদের শাসন কায়েম হল।
১৬১৮-১৭০৭ মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর।*
* আওরঙ্গজেব নামে অধিক পরিচিত।
১৬২৮-৫৮ শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররমের রাজত্বকাল।
১৬৩৩ সম্রাট শাহজাহানের এক ফরমানের বলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় তাঁদের উপনিবেশিক বাণিজ্য শুরু করে।
১৬৬০ আগস্ট ২৬ উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে দাক্ষিণাত্যের সুবাদার শাহজাদা আওরঙ্গজেবের কাছে হেরে আরাকানের রাজধানী ম্রোহংয়ে পালিয়ে গেলেন বাংলার সুবাদার শাহ সুজা। আশ্রয় নিলেন আরাকানের রাজা চন্দ্র সুধর্মার দরবারে। এক পর্যায়ে তিনি সেখানেই সপরিবারে নিহত হন।
১৬৬৪-৭৮ বাংলায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা সুবাদার শায়েস্তা খানের আমল।*
* সমৃদ্ধি আর প্রাচুর্যের যুগ হিসেবে প্রবাদপ্রতিম হয়ে আছে।
১৬৬৬ জানুয়ারি ২৭ চট্টগ্রামের ওপর দাবি ছেড়ে দিল পর্তুগিজ উপনিবেশিক শক্তি আর আরাকানিরা, ফলে তা মুঘলদের নিয়ন্ত্রণে এল।
১৬৮৫ চট্টগ্রামে একটা ব্রিটিশ নৌবহরকে পরাজিত করল মুঘলরা।
১৬৯৮ আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে কলিকাতা, সুতানুটি, আর গোবিন্দপুর – এই তিনটি গ্রাম খরিদ করার অনুমতি পেল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬৯৯-১৯৩৫ ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সি।
১৭১৫-৬০ বর্তমান বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এ সময় মুঘলদের রাজস্ব হিসেবে কার্পাস প্রদান করত; তাই কার্পাসমহল নামে পরিচিত হয়।
১৭১৭-৫৭ সুবাহ বাংলা এ সময় কার্যত স্বাধীন ছিল।
১৭২৫-৭৪ রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৩৩-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
১৭৩৯ পারস্যের শাসক নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করলেন। মুঘলদের ময়ূর সিংহাসন নিয়ে গেলেন পারস্যে। এর কাছাকাছি সময়েই বাংলায় মারাঠা আক্রমণ আরম্ভ হয়, ইতিহাসে যা বর্গি আক্রমণ বলে পরিচিত হয়ে আছে।
১৭৫৬-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলার আমল।
১৭৫৬ আলিবর্দি খানের মৃত্যু। সিরাজুদ্দৌলার হাতে প্রথমে কাশিমবাজার কুঠি, তারপর ফোর্ট উইলিয়ামের পতন। কলকাতা জয় করে নগরীর নতুন নাম দিলেন আলিনগর।
১৭৫৭ জানুয়ারি ২ ব্রিটিশ বণিকরা পুনর্দখল করল কলকাতা, পুনরুদ্ধার করল ফোর্ট উইলিয়াম। মণিহারির প্রান্তরে – বর্তমান নবাবগঞ্জ, বিহার – শওকত জংকে পরাস্ত করলেন সিরাজুদ্দৌলা।
ফেব্রুয়ারি আলিনগরে সিরাজুদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে সন্ধি করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন।
মার্চ ইংরেজি নৌবহর ফরাসি ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ করল।
জুন কোম্পানির গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের মুর্শিদাবাদ যাত্রা।
২৩ পলাশীর যুদ্ধ, নিজের আত্মীয়, দেশি অমাত্য, আর বিদেশি বণিকদের ত্রিমুখী আক্রমণের শিকার হয়ে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত হলেন নবাব সিরাজুদ্দৌলা। মুর্শিদাবাদের নবাবি আরো কিছুদিন নামকাওয়াস্তে টিকে থাকলেও সিরাজই শেষ স্বাধীন নবাব বিবেচিত হন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উপনিবেশিক শাসনের শুরুয়াত।
২৮ ব্রিটিশ পুতুল হিসেবে নামকাওয়াস্তে নবাব হলেন মির জাফর আলি খান। বাংলার গভর্নর হলেন রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৫৭-৯৩ সুবাহ বাংলা এ সময় ব্রিটিশদের পুতুল রাষ্ট্র ছিল।
১৭৫৮ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হল চব্বিশ পরগনা।
১৭৫৯ রবার্ট ক্লাইভের সৈন্যরা মিরনকে গুলি করে হত্যা করল, ক্লাইভ অবশ্য রটিয়ে দিলেন বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মিরনের।
১৭৬০ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রবার্ট ক্লাইভকে ইংল্যান্ডে ফেরত পাঠাল। কোম্পানির নতুন প্রশাসক হলেন হেনরি ভ্যানসিটারট। প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ক্লাইভ। তৃতীয় জর্জের রাজ্যাভিষেক। তিনি রবার্ট ক্লাইভকে ব্যারন অফ পলাশি খেতাব দিলেন। ভ্যানসিটারট মুর্শিদাবাদ গিয়ে মির জাফরকে অপসারণ করলেন। বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার নতুন নবাব হিসেবে মির জাফরের মেয়ের জামাই মির কাসিমকে স্বীকৃতি দেয়া হল। নবাবকে রাজ্য পরিচালনার কাজে ‘সহযোগিতা’ করার দায়িত্ব দেয়া হল কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে বর্ধমান, মেদিনীপুর, ও চট্টগ্রাম জেলা তুলে দিলেন মির কাশেম। পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রিটিশদের রাজস্ব প্রদান শুরু করল।
১৭৬৩ কোম্পানির নতুন প্রশাসক জোসেফ অ্যামিয়টকে খুন করলেন মির কাসিমের সেনাপতি মুহাম্মদ ত্বকি খান। কোম্পানির পরিষদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অ্যামিয়ট হত্যার বদলা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল। মির কাসিমের স্থলে আবার মির জাফর আলী খানকে বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার নবাবের পদে বসান হল। পলাশীর কাছাকাছি মির কাসিমের বাহিনী হেরে গেল ইংরেজ বাহিনীর কাছে। মুর্শিদাবাদের পতন ঘটল। কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
১৭৬৩-১৮০০ ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।*
* ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকরা এই বিদ্রোহীদেরকে ‘ডাকাত’ হিসেবে দেখেছেন, উপমহাদেশের ‘মূলধারার’ জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকরাও এদেরকে প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দেন নি। কিন্তু ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ উপনিবেশিক আমলে যে-কৃষক বিদ্রোহের ঐতিহ্য তৈরি করেছিল, তাই পরবর্তী সকল কৃষক বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এই বিদ্রোহের নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মজনু শাহ, ভবানী পাঠক, ও দেবী চৌধুরানী।
১৭৬৩-৬৯ উপনিবেশিক ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রথম পর্ব।
১৭৬৪ অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও কাশীর রাজা বলবন্ত সিংয়ের সাথে জোট বাঁধলেন মির কাসিম।
অক্টোবর ২২ বক্সারের যুদ্ধ। গঙ্গার তীরে বক্সার শহরে তিন বাহিনী ইংরেজদের মুখোমুখি হল। মেজর হেক্টর মুনরোর কাছে হেরে গেল মিলিত বাহিনী।
১৭৬৫ কুষ্ঠরোগে মির জাফর আলী খানের মৃত্যু।
মার্চ তৃতীয়বারের মত ভারতে এলেন রবার্ট ক্লাইভ। ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ ফেরার অনুমতি পেলেন সিরাজুদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নিসা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁর জন্য মাসিক ১০০ টাকা ভাতা বরাদ্দ করল।
আগস্ট ১২ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাৎসরিক ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ করার অধিকার, দেওয়ানি, লাভ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৭৬৫-৬৭ গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের দ্বিতীয় আমল।
১৭৬৭-৬৮ ত্রিপুরার সমশের গাজীর বিদ্রোহ।
১৭৬৯ সন্দ্বীপের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ।
১৭৭০ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিষ্কাশনমূলক রাজস্ব নীতির ফলে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। বাংলার ১ কোটি মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেলেন।
১৭৭০-৭২, ১৭৭৩-৭৮, ১৭৭৫-৮০, ১৭৮১-৮৬, ১৭৮৭-৯২ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ পর্ব।
১৭৭২-১৮৯০ লালন শাহ।
১৭৭২-১৮৩৩ রামমোহন রায়।
১৭৭৩ রেগুলেটিং অ্যাক্ট। বাংলার আফিমের উৎপাদন ও বিক্রয়ের ওপর একচেটিয়া অধিকার লাভ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৭৭৫ আগস্ট ৬ মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসি।
১৭৭৬-৭৭ প্রথম চাকমা বিদ্রোহ।
১৭৭৭ ফকিরের বেশে রোহিলাখন্ড ও এলাহাবাদ হয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেয়া মির কাসিম কপর্দকশূন্য অবস্থায় রাস্তার পাশে মারা যান।*
* তাঁর শেষ সম্পদ ছিল দুটো দামি শাল। এগুলো বেচে মির কাসিমকে কবর দিতে হয়। শেষ হয়ে যায় মুর্শিদাবাদে নবাবি আমল।
১৭৭৮ সেপ্টেম্বর ৬ হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা স্থাপন করা হল।
১৭৭৯-১৮০২ ফরস্টার, ইংরেজি-বাঙ্গালা ও বাঙ্গালা-ইংরেজি অভিধান।
১৭৮০ জানুয়ারি ২৯ প্রকাশিত হতে শুরু করল হিকির বেঙ্গল গেজেট।
১৭৮১ আরমানি বণিকরা ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করলেন আর্মেনীয় চার্চ। ইরানের ইস্ফাহানে জন্মানো জনৈক আরমানি বণিক জোসেফ ল্যাজারাসের এস্টেট থেকে এই চার্চর জন্য ১ লক্ষ রুপি এসেছিল।
বাংলার একটি মানচিত্র প্রকাশ করলেন মেজর জেমস রেনেল।
১৭৮২ দ্বিতীয় চাকমা বিদ্রোহ।*
* চাকমা রাজা শের দৌলত খানের মৃত্যু। চাকমাদের নতুন রাজা হলেন জান বকশ খান। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পিতার বিদ্রোহ অব্যাহত রাখেন তিনি।
১৭৮৩ রংপুর বিদ্রোহ।
১৭৮৪ যশোর ও খুলনার প্রথম প্রজাবিদ্রোহ।
জানুয়ারি ১৫ আইনজীবী ও ভাষাবিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম জোনস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি।
১৭৮৪-৮৭ তৃতীয় ও শেষ চাকমা বিদ্রোহ।
১৭৮৫-৮৬ বীরভূমের গণবিদ্রোহ।
১৭৮৬ ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় গভর্নর-জেনারেল হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস। উইলিয়াম জোনস কর্তৃক ঘোষিত হল ইন্দো-ইওরোপীয় ভাষাপরিবার।
১৭৮৭ চাকমা রাজা জান বখশ খান শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের বশ্যতা স্বীকার করলেন। বিনিময়ে ব্রিটিশরা অঞ্চলটির প্রশাসনিক ব্যাপারে নাক না গলানোর প্রতিশ্রুতি দিল। এসময় দ্বিতীয় শের দৌলত খান নামে অভিহিত আরেকজন চাকমা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।
১৭৮৮ ন্যাথানিয়াল ব্র্যাসি হ্যালহেড, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৭৮৯ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে চাকমা রাজা দ্বিতীয় শের দৌলত খানের বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়ে গেল, এর ফলে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
১৭৮৯-৯১ বীরভূম ও বাঁকুড়ার পাহাড়িয়া বিদ্রোহ।
১৭৯০ নবাব সিরাজুদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নিসার মৃত্যু।
১৭৯৩ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যাকে ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সির অংশ করে ব্রিটিশ উপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল।
আপজন, ইঙ্গরাজি ও বাঙালা বোকবিলারি।
তথ্যসূত্র
আজাদ, হুমায়ুন। ২০১৯। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ সপ্তদশ মুদ্রণ। আগামী।— ২০২১। কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ একাদশ মুদ্রণ। আগামী।
রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর। ২০০৮। বাংলাদেশের তারিখ। তৃতীয় সংস্করণ। মাওলা ব্রাদার্স।
রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।
রায়, সুপ্রকাশ। ২০১৮। ভারতের কৃষক-বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। দ্বিতীয় র্যাডিকাল প্রকাশ। র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন।
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



