মধ্যযুগীয় আফ্রিকা

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

World History Encyclopedia.

পূর্বসাল

পূর্বসাল ৬৫০০-৬০১ সাল প্রাচীন নিকট প্রাচ্য – সময়রেখা

সাল

৩০০-১১০০ ঘানা সাম্রাজ্য। এসময় উত্তর আফ্রিকীয় বণিকদের সুবাদে এই অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ঘটে।

৫০০-১২৪০ ঘানা সাম্রাজ্য শাসন করছে পশ্চিম আফ্রিকা।

৬০০-১৮০০ Medieval and early modern Africa – Wikipedia

৬০০-১০০০ দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর ও পুবদিকে বৃহৎ আকারের নগররাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হল।

৬০০ কেনিয়ার উপকূলে বসতিস্থাপন করতে শুরু করল আরবরা।

৬০১-৭০০ আরবরা তিউনিসিয়া দখল করে নিল। সোমালিল্যান্ডে ইসলামের প্রসার। ইরিত্রিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ইসলামের প্রসার ঘটালেন আরবরা।

৬০১-৮০০ মরক্কোর আরবীকরণ, ইদ্রিস একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

৬৩২-১২৫৮ আরব-ইসলামী সাম্রাজ্য – সময়রেখা

৬৩৯ মিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৪১ রাশিদুন খেলাফতের সেনাবাহিনী ডঙ্গোলা সমভূমি পর্যন্ত পৌঁছাল, কিন্তু তাদের পিছু হঠিয়ে দেয়া হয়।

৬৪৩ আরবদের লিবিয়া বিজয়।

৬৫২ মুসলিম মিসরের সাথে খ্রিস্টান নুবিয়ার বাক্ত শান্তিচুক্তি।

৬৯৭-৭০৭ খ্রিস্টান নুবিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষার স্বার্থে নোবাতিয়া আর মুকুররাকে এক করা হল।

৭০০ বান্টু আর পিগমিরা একসাথে বাস করতে শুরু করলেন ও বাণিজ্য এলাকা প্রতিষ্ঠা করলেন।

৭০১-৮০০ কমোরোস দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত দ্বীপগুলোতে বসতিস্থাপন করল মানুষ।

৭০১-১১০০ পূর্ব আফ্রিকার বাণিজ্য পথগুলোর জন্য ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল কমোরোস দ্বীপপুঞ্জ। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পারসিক ও আরব বণিকরা ঘনঘন দ্বীপপুঞ্জটি সফর করতে লাগলেন। এসময়ই এখানে ইসলামের প্রসার ঘটে।

৭১১-১৪৯২ আল-আন্দালুস।*
* এ সময় স্পেনের অংশবিশেষ শাসন করছেন মুসলমানরা। এই পুরো কালপর্বটাই আবার রিকনকুইস্তা নামে পরিচিত। যে ইবেরীয় ক্রুসেডের উদ্দেশ্য ছিলো সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মুসলমানদের হাত থেকে আল-আন্দালুসের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় খ্রিস্টানদের হাতে নেয়া।

সাতশো বছর ধরে সেউতা মুসলিম শাসনাধীন ছিলো, যার কেন্দ্র ছিলো আজকের স্পেন-স্থিত আল-আন্দালুস।

৭৫৮ আব্বাসীয় মিসরকে বাক্ত খাজনা দিতে অস্বীকার করল নুবীয়রা।

৮০০-৯৯ সেনেগালে প্রতিষ্ঠিত হল তেকরুর সাম্রাজ্য।

৮০১-১০০০ ঘানা সাম্রাজ্যের রাজধানী এসময় মৌরিতানিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ছিল।

৮১৯-২২ আব্বাসীয় মিসরকে আবারও বাক্ত খাজনা দিতে অস্বীকার করল নুবীয়রা।

৮২৫ জিবুতিতে প্রবর্তিত হল ইসলাম।

৮৩৫ প্রথম জর্জকে ডঙ্গোলার রাজমুকুট পরানো হল।

৮৩৬ কায়রো থেকে বাগদাদ সফর করলেন প্রথম জর্জ।

৯০৯ বার্বাররা আরবদের কাছ থেকে তিউনিসিয়ার দখল নিল।

৯২০ ডঙ্গোলায় শুরু হল রাজা জাকারিয়াসের রাজত্ব।

৯৫০ সোবায় এই সময় কিছু মুসলিম বাস করছেন।

৯৫১, ৯৫৬, ৯৬২ মিসরের উচ্চভূমিতে হামলা চালাল নুবীয়রা।

৯৬৯ ইখশিদি মিসরে হামলা চালালেন নুবিয়ার দ্বিতীয় জর্জ।

৯৯৮ গঠন করা হল কানো রাজ্য।

১০০০ সালের আগে ফিনিশীয়, মালয়, সোয়াহিলি, ও আরব নাবিকরা মরিশাস দ্বীপের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু তাঁরা কেউ বসতিস্থাপন করেন নাই।

১০০১ এ সময় থেকে গড়ে উঠছে নগররাষ্ট্র, রাজ্য, সাম্রাজ্য। উত্তরে হাউসা ও বোর্নো রাজ্য। দক্ষিণে ওয়ো ও বেনিন রাজ্য।

১০০১-১১০০ লিম্পোপো ও জাম্বেজি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠল শোনা সাম্রাজ্য।

১০৫০ এ সময় মিসরের ফাতিমিদের সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৫০ হাজার নুবীয়।

১০৭৬ ঘানা সাম্রাজ্য সফর করলেন আরব পরিব্রাহক আল-বকরি। উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা আলমোরাভিদরা ঘানা সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিল।

১০৮০ সেনেগালের ইসলামায়ন শুরু।

১১০০ পশ্চিম আফ্রিকার নাইজার নদীর তীরে বর্তমান মালিতে তুগারেগ মানুষদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল টিমবুকটু।*
* গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। কালক্রমে ইসলামি জ্ঞানচর্চার একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

১১০১-১২০০ ঘানা সাম্রাজ্যের পতনের পর সোসো সাম্রাজ্যের বিকাশকাল।

১১৪০-৪৯ নুবিয়ার নিম্নভূমিতে উল্লেখকৃত হল খ্রিস্টান রাজ্য দোতাও।

১১৬৩ আইয়ুবীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য এ সময় নুবীয় খ্রিস্টানদের মধ্যে মিত্র খুঁজছে ক্রুসেডাররা।

১১৭২ কায়রো ও বদ্বীপে আইয়ুবীদের ওপর হামলা চালাল নুবীয়-ক্রুসেডার ঐক্যজোট। খ্রিস্টান নুবিয়ায় পাল্টা হামলা চালালেন তুরান শাহ। চতুর্থ জর্জের অধীনস্ত নুবীয়দের মিসরের উচ্চভূমিতে ফেরত পাঠাল সালাউদ্দিন আইয়ুবীর সেনারা।

১১৭৩ কাসর ইব্রিম দখল করলেন সালাউদ্দিন আইয়ুবীর ভাই শামসুদ্দৌলা। ইব্রাহিম আল-কুর্দি অঞ্চলটি লুট করে। ১১৭৫ সাল পর্যন্ত এই লুঠতরাজ চলতে থাকে।

১২০০-১৩৯৯ সেনেগালের পশ্চিমাঞ্চল ভিত্তিক মালি সাম্রাজ্য।

১২০০-৯৯ মধ্য সেনেগালে জোলোফ সাম্রাজ্যের উত্থান।

১২০১-১৭০০ আফ্রিকার শৃঙ্গের অধিকাংশে আধিপত্য করছে আজুরান সুলতানশাহি।

১২০৪ কন্সটান্টিপোলে নুবীয় খ্রিস্টানদের সাথে ক্রুসেডারদের সাক্ষাৎ।

১২৩০-৫৫ মালির সানদিয়াতা কেইতার রাজত্বকাল।

১২৩৫ কিরিনা যুদ্ধ। মালি সাম্রাজ্যের হাতে পরাজিত হলেন সোসো সম্রাট সউমানগউরু কান্টে। আলেকজান্দ্রিয়ার শেষ যাজককে নুবিয়ায় পাঠানো হল।

১২৪০ ঘানা সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ড দখল করে নিলেন সানদিয়াতা কেইতা।

১২৪০-১৬৪৫ পুরো পশ্চিম আফ্রিকা শাসন করছে মালি সাম্রাজ্য।

১২৫৫-৭০ মানসা উলির রাজত্বকাল।

১২৬০-৭৭ নুবিয়ায় হামলা করলেন মামলুক সুলতান আল-জহির বাইবার্স।

১২৬৪ মামলুকদের বাক্ত খাজনা দিচ্ছে নুবীয়রা।

১২৬৮ বাক্ত খাজনা দিচ্ছেন ডঙ্গোলার রাজা দাউদ।

১২৭২ খ্রিস্টান নুবিয়ার মসনদে বসলেন রাজা দাউদ।

১২৭৫-১৩৬৫ মিসরীয় মামলুকদের সাথে নুবীয় খ্রিস্টানদের নিরন্তর যুদ্ধ।

১২৭৬ রাজা দাউদের বিরুদ্ধে শেকান্দা অভিযান। মামলুকরা ডঙ্গোলায় ধবংসযজ্ঞ চালায়। রাজা দাউদকে পাকড়াও করা হল।

১২৮৫-১৪১৫ ইফাত সুলতানশাহি

১২৮৯ ডঙ্গোলার বিরুদ্ধে মামলুকদের শেষ অভিযান।

১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি

১৩০০-৯৯ উত্তরে সংহত হল কঙ্গো রাজ্য।

১৩০১-১৪০০ তুতসিরা রুয়ান্ডায় অভিবাসিত হল, যেখানে ইতোমধ্যেই তোয়া আর হুতুরা বাস করে আসছিল। এ সময়ের আগে কখনো হুতুরা বুরুন্ডিতে আসে।

সোমালিয়ার মুসলিম সুলতানশাহিগুলোর ওপর ইথিওপিয়ার খ্রিস্টীয় সাম্রাজ্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হল।

১৩১২-৩৭ মানসা মূসার রাজত্বকাল।

১৩১৭ নুবিয়ার শেষ খ্রিস্টান রাজার পরাজয়। ডঙ্গোলার মসনদে বসলেন মুসলিম রাজা আবদুল্লা বারশাম্বু। নির্মিত হল নুবিয়ার প্রথম মসজিদ।

১৩২৪ মালি সাম্রাজ্যের শাসক মানসা মূসার বিখ্যাত কায়রো সফর। যেখানে তিনি প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ ব্যয় করেন।

১৩৩৭-৪১ মানসা মাঘানের রাজত্বকাল।

১৩৪১-৬০ মানসা সোলেমানের রাজত্বকাল।

১৩৫২ মালি সাম্রাজ্য সফর করলেন মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতা।

১৩৬৬ ডঙ্গোলার পতন। দাউ দখল করে নিলেন একজন শরণার্থী রাজা। কাসর ইব্রিমে ফিরে এলেন রাজার খ্রিস্টান নাতি।

১৩৭৪-৮৭ দ্বিতীয় মানসা মূসার রাজত্বকাল।

১৪০০-৯৯ প্রথম ইওরোপীয় হিসেবে সেনেগালে পর্তুগিজদের আগমন ঘটল। কাপ-ভার্দ উপদ্বীপের প্রথম বাণিজ্যকুঠিগুলো স্থাপন করা হল: গোরি, রুফিস্ক, জোয়ালে। আজকের কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে বাকঙ্গো, বাতেকে, ও সাঙ্গা জাতির মানুষদের আগমন।

১৪০০-৫০ প্রতিষ্ঠিত হল কঙ্গো রাজ্য।

১৪০১-১৫০০ মালি সাম্রাজ্যের সামন্ত রাজ্যগুলো সাম্রাজ্যটি দখল করে নিল। বুরুন্ডিতে তুতসিদের আগমন।

১৪১৫-১৫৭৭ আদাল সুলতানশাহি

১৪১৫ আগস্ট পর্তুগালের রাজা প্রথম জন আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে সেউতা দখল করলেন, যা রিকঙ্কুইস্তার অংশ না হলেও সম্পৃক্ত ঘটনা।

১৪৪৬-৪৭ গিনি-বিসাউয়ে প্রথমবারের মত পর্তুগিজদের আগমন ঘটল। পর্তুগিজরা গিনি-বিসাউকে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের অধীনে তদারকি করতে শুরু করল। দাস বানিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠল গিনি।

১৪৫৫ গাম্বিয়া নদীর তীরে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করল পর্তুগিজরা।

১৪৫৬ কেপ ভার্দেতে প্রথমবারের মত ইওরোপীয়দের আগমন ঘটল।

১৪৬০-৬৯ ভূখণ্ড আর সম্পদ উভয় বিচারে মালি সাম্রাজ্যকে ছাড়িয়ে গেল সংহাই সাম্রাজ্য।

১৪৬২ পর্তুগিজ বসতিস্থাপনকারীরা সান্তিয়াগোতে অবতরণ করল।

১৪৬৮ মালি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ডের প্রায় পুরোটাই দখল করে নিলেন সংঘাই সাম্রাজ্যের শাসক সুন্নী আলী।

১৪৭০ গ্যাবনে পর্তুগীজদের আগমন।

১৪৭১ ঘানা উপকূলে পর্তুগিজদের আগমন। পর্তুগিজ নাবিক ফার্নাও দো পো ফার্নান্দো পো দ্বীপটি দেখতে পেলেন। যাকে বর্তমানে বিয়োকো বলা হয়।

১৪৭২ পর্তুগিজ নাবিকরা নাইজেরিয়ার উপকূলে এসে পৌঁছালেন।

১৪৮০ বান্টুভাষীদের মারাভি কনফেডারেসি।*
* বর্তমান মালাওয়ি, মোজাম্বিক, ও জাম্বিয়া এর অন্তর্গত ছিল।

১৪৮০-৮৯ বেনিন রাজ্যের সাথে পর্তুগিজদের ব্যবসা শুরু হল।

১৪৮২ উপকূলীয় অঞ্চল পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক দিয়োগো কাও। পর্তুগিজরা ঘানায় সাও হোর্হে দা মিনা দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করল।

১৪৮৩ অ্যাঙ্গোলায় পর্তুগিজদের আগমন।

১৪৮৮ উত্তমাশা অন্তরীপ প্রদক্ষিণ ও নামিবিয়া পরিদর্শন করলেন করলেন পর্তুগিজ অভিযাত্রিক বার্থলোমিও দিয়াজ।

১৪৯৩ সাঁউ তুমিতে বসতিস্থাপনের প্রথম সফল প্রচেষ্টা। আলভারো কামিনহার নেতৃত্বে ১০ জন পর্তুগিজ বসতিস্থাপন করেন। এর আগে দ্বীপটিতে মানুষের বসবাস ছিল না।

১৪৯৫ একটি পর্তুগিজ মুকুট উপনিবেশে পরিণত হল কেপ ভার্দে।

১৪৯৭ নাটাল উপকূলে পৌঁছালেন পর্তুগিজ অভিযাত্রিক ভাস্কো দা গামা।

১৪৯৮ ভাস্কো দা গামার নেতৃত্বাধীন পর্তুগিজ অভিযাত্রা মোজাম্বিক উপকূলে নোঙর ফেলল। তানজানিয়ার উপকূল পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা।

১৫০০-৯৯ পর্তুগিজরা সেনেগালে তাঁদের দাস বাণিজ্য শুরু করল। মৌরিতানিয়ায় বসতিস্থাপন করলেন ইওরোপীয় নাবিক ও বণিকরা। তুরস্কের ওসমানি সুলতানশাহি লোহিত সাগরের উপকূলে মাসাওয়ায় একটা সেনা গ্যারিসন স্থাপন করলেন। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করল কঙ্গো রাজ্য।

১৫০০ প্রিন্সিপিতে বসতিস্থাপন সম্পন্ন। দ্বীপটিতে বসতিস্থাপনকারীদের আকর্ষণ করা কঠিন প্রমাণিত হল। তাই এই দ্বীপের আদি বাসিন্দাদের অধিকাংশই ‘অবাঞ্চিত’ ছিলেন, যাদের পাঠানো হয়েছিল পর্তুগাল থেকে। এরা ছিলেন মূলত সেফারদিক ইহুদি। যাদের মধ্যে ২ হাজার শিশু। এই ‘অবাঞ্চিত’দের চিনি প্ল্যান্টেশনে কাজে লাগানো হল।

আজকের দিনের সুদানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চল থেকে আসা নাইলোটিকভাষী অভিবাসীরা বুগান্ডা, বুনইয়ারো ও আঙ্কোলের বিতো রাজবংশগুলো প্রতিষ্ঠা করলেন।

১৫০১-১৬০০ সাঁউ তুমি আর প্রিন্সিপে দ্বীপ দুটি দাস বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। বর্তমান লিবিয়া ওসমানি সুলতানশাহি অংশ হয়ে গেল। বর্তমান সুদানের অধিকাংশ অঞ্চল জয় করল ফুঞ্জরা। দিনকা, শিল্লুক, নুয়ের, এবং আজান্দের মত কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান গোষ্ঠীগুলো দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বসতিস্থাপন করল। বুরুন্ডীয় রাজ্যের উত্থান, পরবর্তীতে উরুন্ডি নামে পরিচিত।

১৫০১-১৭০০ মোজাম্বিকে পর্তুগিজদের উপনিবেশায়ন।

১৫০১-১৮০০ এ সময় বিপুল সংখ্যক নাইজেরীয় দাস বাণিজ্যের শিকার হন, তাঁদের জোরপূর্বক আমেরিকায় পাঠানো হয়।

১৫০২ সেশেলস পরিদর্শন করলেন পর্তুগালের ভাস্কো দা গামা।

১৫০৪-১৮২১ ফুঞ্জ সুলতানশাহি

১৫০৪ খ্রিস্টান আলওয়ার পতন।

১৫০৬ পূর্ব আফ্রিকার উপকূলের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হল।

১৫০৭ পর্তুগিজ নাবিকরা প্রথম দেখতে পেলেন ডোডো পাখি, যা কেবল মরিশাস দ্বীপেই বাস করত।

১৫১০ মরিশাস পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক পেদ্রো মাসকারেনহাস।

১৫১৫-২৬ পর্তুগিজরা সাও আন্তোনিও ও সাও সেবাস্তিয়ান দুর্গ নির্মাণ করল।

১৫২০ পর্তুগিজরা ক্যামেরুনে চিনি প্ল্যান্টেশন বসালো ও দাস বাণিজ্য শুরু করল।

১৫২৫-১৮৬৬ এ সময় ১ কোটি ২৫ লক্ষ আফ্রিকানকে জাহাজে করে নতুন দুনিয়ায় আনা হয়। জাহাজের চরম অমানবিক পরিস্থিতির কারণে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ১৮ লক্ষ আফ্রিকানের মৃত্যু হয়। ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়গুলোর একটি আন্তঃঅতলান্তিক দাস বাণিজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Eltis & Richardson (2010) ও Araujo (2024).

১৫২৭ পর্তুগিজ মানচিত্রনির্মাতা দিয়েগো রিবেরা প্রথমবারের মত কোন ইওরোপীয় মানচিত্রে কমোরোস দ্বীপপুঞ্জ প্রদর্শন করলেন। ইথিওপীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল আদাল সুলতানশাহি। ইথিওপিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলই জয় করে নিল।

১৫৩০-৩১ আহমেদ গ্রান নামক জনৈক মুসলমানের ইথিওপিয়া বিজয়।

১৫৪৩ পর্তুগিজদের সহায়তায় আদাল সুলতানশাহিকে পরাজিত করল ইথিওপিয়া।

১৫৭৫ পর্তুগিজরা প্রতিষ্ঠা করল লুয়ান্ডা।

১৫৭৭ ওসমানি সুলতানশাহির অংশে পরিণত হল আজকের জিবুতি।

১৫৮০ স্পেনের সাথে ইউনিয়ন গড়লো পর্তুগাল, যে সময় থেকে সেউতায় স্পেনীয়রা প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন।

১৫৮০-৮৯ গৃহযুদ্ধের দরুণ সংহাই সাম্রাজ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। মরক্কো থেকে আসা দখলদাররা অঞ্চলটিকে দখল করে নিয়ে আরো ছোট ছোট রাজ্যে ভাগ করে ফেলল। পশ্চিম আফ্রিকার সাম্রাজ্যগুলোর কয়েকটির পতনের পর, বর্তমান গিনিতে বেশ কয়েকটি রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল।

১৫৯৫ সাঁউ তুমি ও প্রিন্সিপিতে সহিংস দাস বিদ্রোহ। ৫ হাজার দাস অভিযান চালিয়ে প্ল্যান্টেশন, চিনিকল, আর বসতিস্থাপনকারীদের ঘরবাড়ি ধবংস করে দিল। তিন সপ্তাহের লড়াইয়ে ২০০ দাসের মৃত্যু হল, বিদ্রোহী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

১৫৯৮ ওলন্দাজরা মানব বসতিহীন দ্বীপটিকে নিজেদের জন্য দাবি করলেন, এবং এর নাম রাখলেন মরিশাস।*
* তাঁদের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান মরিসের নামে, যিনি ছিলেন অরেঞ্জের রাজকুমার ও নাসাউয়ের কাউন্ট।

১৬০০-৯৯ ওলন্দাজরা পর্তুগিজদের কাছ থেকে দাস বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিল।

১৬০১-১৭০০ গিনিতে ইওরোপীয় বণিকদের আগমন।

ওসমানি সুলতানশাহির অংশ হয়ে গেল তিউনিসিয়া। তবে অঞ্চলটিতে উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন বজায় ছিল।

১৬০০-১৮০০ সাঁউ তুমি ও প্রিন্সিপিতে ছোট আকারের কিছু দাস বিদ্রোহ সংঘটিত হল।

১৬০১-১৭০০ মধ্য রুয়ান্ডা ও তার চারপাশের হুতু এলাকাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনলেন তুতসি রাজা রুগানজো দোরি।

১৬১৭ ওলন্দাজরা গোরিতে বসতিস্থাপন করল।

১৬২৬-৫৯ ফরাসিরা ভবিষ্যৎ সাঁ-লুই উপনিবেশায়িত করল।

১৬৩০ ফুর সুলতানশাহি

১৬৩৭ পর্তুগিজদের কাছ থেকে ঘানার সাও হোর্হে দা মিনা দুর্গ ছিনিয়ে নিল ওলন্দাজরা।

১৬৪৪-৭৪ মৌরিতানিয়ার বার্বার আর আরবদের মধ্যে ৩০ বছরের যুদ্ধ।

১৬৫২ টেবিল বেতে কেপ উপনিবেশ স্থাপন করলেন ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ইয়ান ভ্যান রিয়েবেক।

১৬৬১ ঘানায় ক্রিশ্চান্সবর্গ দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করল দিনেমাররা।

১৬৬৫ ইংরেজরা সুইডদের কাছ থেকে কেপ উপকূল দুর্গ কেড়ে নিল। এটি রাজকীয় আফ্রিকান কোম্পানির সদরদপ্তরে পরিণত হল।

১৬৬৭ আকওয়ামুর আকান রাজ্য হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিল বৃহৎ আক্রা।

১৬৭০-৭৯ আশান্তে রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন আশান্তেহেনে ওসেই তুতু।

১৬৮১ নির্বিচারে বন নিধন এবং ওলন্দাজ উপনিবেশিক বসতিস্থাপনকারী ও তাঁদের সাথে করে নিয়ে আসা পশুদের শিকারে পরিণত হওয়ায় মরিশাস দ্বীপ থেকে ডোডো পাখি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেল।

১৬৮৮ জানুয়ারি পর্তুগালের সাথে লিসবন চুক্তির অধীনে সেউতার ওপর নিয়ন্ত্রণ বুঝে পেলেন স্পেনের রাজা দ্বিতীয় কার্লোস।

১৬৯৪-১৭২৭ মওলা ইসমাঈলের মরক্কো বাহিনী সেউতাকে ঘেরাও করে রাখলো।

১৬৯৯ ওমানি আরবরা জাঞ্জিবার থেকে পর্তুগিজদের তাড়িয়ে দিল।

১৭০০ বুনইয়োরোর অবক্ষয় ও বুগান্ডার উত্থান ঘটতে লাগল।

১৭০০-৯৯ সেনেগালে কাদিরিয়া তরিকা প্রবর্তন করা হল।

১৭০১-১৯০০ মোজাম্বিক একটি প্রধান দাস বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হল।

১৭১৫ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মরিশাস দ্বীপটিকে ফ্রান্সের জন্য দাবি করল।

১৭২০-৫০ আকান ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাজ্য দখল করে নিলেন আশান্তেহেনে ওপোকু ওয়ারে।

১৭৩০-৮০ আশান্তেরা গোনজা ও দাগোমবা জয় করলেন।

১৭৫০ ঘানা উপকূলের উপনিবেশিক ব্যবসার ওপর একচেটিয়া অধিকার হারিয়ে ফেলল রাজকীয় আফ্রিকান কোম্পানি।

১৭৫৮-১৮১৪ সাঁ-লুই আর গোরি নিয়ে ইঙ্গ-ফরাসি সমর।

১৭৬৪-৭৭ আশান্তে রাজ্যে একটি শক্তিশালী আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন আশান্তেহেনে ওসেই কোয়াদো। রাজকার্যে নিয়োগ পেতে বংশপরিচয়ের চেয়ে প্রশাসনিক যোগ্যতাই প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠল।

১৭৬৮ ফরাসি প্ল্যান্টেশন মালিকরা তাঁদের দাসদের নিয়ে সেশেলসে বসতিস্থাপন করলেন।

১৭৮৭ দার ফুরের কর্দোফান জয়।

১৭৯৪ সেশেলসকে স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করে নিল ব্রিটেন, মরিশাস থেকে তদারকি করতে লাগল।

১৭৯৫ নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে কেপ উপনিবেশ দখল করল ব্রিটিশ বাহিনী।

১৭৯৬ ফরাসি সরকার দাসপ্রথা বিলোপসাধনের চেষ্টা চালালে মরিশাস দ্বীপের ফরাসি উপনিবেশিক বসতিস্থাপনকারীরা ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বেরিয়ে এল।

১৭৯৮ ফ্রান্সের নেপোলিয়ান বোনাপার্তে মিসর আক্রমণ করলেন।

তথ্যসূত্র

Flint, Julie, and Alex de Waal. 2008. Darfur: A Short History of a Long War. revised and updated edition. Zed Books.

Kramer, Robert S., Richard A. Lobban Jr., and Carolyn Fluehr-Lobban. 2013. Historical Dictionary of the Sudan. 4th ed. Scarecrow Press.

Lobban, Richard A., Jr. 2004. Historical Dictionary of Ancient and Medieval Nubia. Scarecrow Press.
— 2021. Historical Dictionary of Medieval Christian Nubia. Rowman & Littlefield.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *