
ঔপনিবেশিক আফ্রিকা
Featured Image: “A cartoon in the French magazine “L’illustration” (January 3, 1885) presenting a critical view of the Berlin Conference 1884-5. It depicts Otto von Bismarck (1815-98), Chancellor of Germany, cutting a cake labeled ‘Africa’ with a knife, symbolizing the partition of the continent between European powers.” World History Encyclopedia.

“Colonialism was not merely a system of exploitation, but one whose essential purpose was to repatriate the profits to the so-called mother country. From an African viewpoint, that amounted to consistent expatriation of surplus produced by African labor out of African resources. It meant the development of Europe as part of the same dialectical process in which Africa was underdeveloped.”
Walter Rodney (1942-80), Guyanese Historian
“To those who say derogatory things about colonialism, I would say colonialism is a wonderful thing. It spread civilization to Africa. Before it they had no written language, no wheel as we know it, no schools, no hospitals, not even normal clothing.”
Ian Smith (1919-2007), Former Prime Minister of Rhodesia
“Europe is indefensible.“
Aimé Césaire (1913-2008), Poet and former President of the Regional Council of Martinique
সাল
১৪০০-৯৯ প্রথম ইওরোপীয় হিসেবে সেনেগালে পর্তুগিজদের আগমন ঘটল। কাপ-ভার্দ উপদ্বীপের প্রথম বাণিজ্যকুঠিগুলো স্থাপন করা হল। গোরি, রুফিস্ক, জোয়ালে।
১৪৪৬-৪৭ গিনি-বিসাউয়ে প্রথমবারের মত পর্তুগিজদের আগমন ঘটল। পর্তুগিজরা গিনি-বিসাউকে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের অধীনে তদারকি করতে শুরু করল। দাস বানিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠল গিনি।
১৪৫৫ গাম্বিয়া নদীর তীরে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করল পর্তুগিজরা।
১৪৫৬ কেপ ভার্দেতে প্রথমবারের মত ইওরোপীয়দের আগমন ঘটল।
১৪৬২ পর্তুগিজ বসতিস্থাপনকারীরা সান্তিয়াগোতে অবতরণ করল।
১৪৭০ গ্যাবনে পর্তুগীজদের আগমন।
১৪৭১ ঘানা উপকূলে পর্তুগিজদের আগমন। পর্তুগিজ নাবিক ফার্নাও দো পো ফার্নান্দো পো দ্বীপটি দেখতে পেলেন। যাকে বর্তমানে বিয়োকো বলা হয়।
১৪৭২ পর্তুগিজ নাবিকরা নাইজেরিয়ার উপকূলে এসে পৌঁছালেন।
১৪৮০-৮৯ বেনিন রাজ্যের সাথে পর্তুগিজদের ব্যবসা শুরু হল।
১৪৮২ উপকূলীয় অঞ্চল পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক দিয়োগো কাও। পর্তুগিজরা ঘানায় সাও হোর্হে দা মিনা দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করল।
১৪৮৩ অ্যাঙ্গোলায় পর্তুগিজদের আগমন।
১৪৮৮ নামিবিয়া পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক বার্তোলোমিউ দিয়াজ। উত্তমাশা অন্তরীপ প্রদক্ষিণ করলেন পর্তুগিজ অভিযাত্রিক বার্থলোমিও দিয়াজ।
১৪৯৩ সাঁউ তুমিতে বসতিস্থাপনের প্রথম সফল প্রচেষ্টা। আলভারো কামিনহার নেতৃত্বে ১০ জন পর্তুগিজ বসতিস্থাপন করেন। এর আগে দ্বীপটিতে মানুষের বসবাস ছিল না।
১৪৯৫ একটি পর্তুগিজ মুকুট উপনিবেশে পরিণত হল কেপ ভার্দে।
১৪৯৭ নাটাল উপকূলে পৌঁছালেন পর্তুগিজ অভিযাত্রিক ভাস্কো দা গামা।
১৪৯৮ ভাস্কো দা গামার নেতৃত্বাধীন পর্তুগিজ অভিযাত্রা মোজাম্বিক উপকূলে নোঙর ফেলল। তানজানিয়ার উপকূল পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা।
১৫০১-১৮০০ এ সময় বিপুল সংখ্যক নাইজেরীয় দাস বাণিজ্যের শিকার হন, তাঁদের জোরপূর্বক আমেরিকায় পাঠানো হয়।
১৫০১-১৭০০ মোজাম্বিকে পর্তুগিজদের উপনিবেশায়ন।
১৫০১-১৬০০ সাঁউ তুমি আর প্রিন্সিপে দ্বীপ দুটি দাস বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।
১৫০০-৯৯ পর্তুগিজরা সেনেগালে তাঁদের দাস বাণিজ্য শুরু করল। মৌরিতানিয়ায় বসতিস্থাপন করলেন ইওরোপীয় নাবিক ও বণিকরা।
১৫০০ প্রিন্সিপিতে বসতিস্থাপন সম্পন্ন। দ্বীপটিতে বসতিস্থাপনকারীদের আকর্ষণ করা কঠিন প্রমাণিত হল। তাই এই দ্বীপের আদি বাসিন্দাদের অধিকাংশই ‘অবাঞ্চিত’ ছিলেন, যাদের পাঠানো হয়েছিল পর্তুগাল থেকে। এরা ছিলেন মূলত সেফারদিক ইহুদি। যাদের মধ্যে ২ হাজার শিশু। এই ‘অবাঞ্চিত’দের চিনি প্ল্যান্টেশনে কাজে লাগানো হল।
১৫০২ সেশেলস পরিদর্শন করলেন পর্তুগালের ভাস্কো দা গামা।
১৫০৬ পূর্ব আফ্রিকার উপকূলের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণ স্থাপিত হল।
১৫০৭ পর্তুগিজ নাবিকরা প্রথম দেখতে পেলেন ডোডো পাখি, যা কেবল মরিশাস দ্বীপেই বাস করত।
১৫১০ মরিশাস পরিদর্শন করলেন পর্তুগিজ নাবিক পেদ্রো মাসকারেনহাস।
১৫১৫-২৬ পর্তুগিজরা সাও আন্তোনিও ও সাও সেবাস্তিয়ান দুর্গ নির্মাণ করল।
১৫২০ পর্তুগিজরা ক্যামেরুনে চিনি প্ল্যান্টেশন বসালো ও দাস বাণিজ্য শুরু করল।
১৫২৫-১৮৬৬ এ সময় ১ কোটি ২৫ লক্ষ আফ্রিকানকে জাহাজে করে নতুন দুনিয়ায় আনা হয়। জাহাজের চরম অমানবিক পরিস্থিতির কারণে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ১৮ লক্ষ আফ্রিকানের মৃত্যু হয়। ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়গুলোর একটি আন্তঃঅতলান্তিক দাস বাণিজ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Eltis & Richardson (2010) ও Araujo (2024).
১৫২৭ পর্তুগিজ মানচিত্রনির্মাতা দিয়েগো রিবেরা প্রথমবারের মত কোন ইওরোপীয় মানচিত্রে কমোরোস দ্বীপপুঞ্জ প্রদর্শন করলেন।
১৫৪৩ পর্তুগিজদের সহায়তায় আদাল সুলতানশাহিকে পরাজিত করল ইথিওপিয়া।
১৫৭৫ পর্তুগিজরা প্রতিষ্ঠা করল লুয়ান্ডা।
১৫৯৫ সাঁউ তুমি ও প্রিন্সিপিতে সহিংস দাস বিদ্রোহ। ৫ হাজার দাস অভিযান চালিয়ে প্ল্যান্টেশন, চিনিকল, আর বসতিস্থাপনকারীদের ঘরবাড়ি ধবংস করে দিল। তিন সপ্তাহের লড়াইয়ে ২০০ দাসের মৃত্যু হল, বিদ্রোহী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
১৫৯৮ ওলন্দাজরা মানব বসতিহীন দ্বীপটিকে নিজেদের জন্য দাবি করলেন, এবং এর নাম রাখলেন মরিশাস।*
* তাঁদের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান মরিসের নামে, যিনি ছিলেন অরেঞ্জের রাজকুমার ও নাসাউয়ের কাউন্ট।
১৬০০-৯৯ ওলন্দাজরা পর্তুগিজদের কাছ থেকে দাস বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিল।
১৬০১-১৭০০ গিনিতে ইওরোপীয় বণিকদের আগমন।
১৬১৭ ওলন্দাজরা গোরিতে বসতিস্থাপন করল।
১৬২৬-৫৯ ফরাসিরা ভবিষ্যৎ সাঁ-লুই উপনিবেশায়িত করল।
১৬৩৭ পর্তুগিজদের কাছ থেকে ঘানার সাও হোর্হে দা মিনা দুর্গ ছিনিয়ে নিল ওলন্দাজরা।
১৬৫২ টেবিল বেতে কেপ উপনিবেশ স্থাপন করলেন ওলন্দাজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ইয়ান ভ্যান রিয়েবেক।
১৬৬১ ঘানায় ক্রিশ্চান্সবর্গ দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করল দিনেমাররা।
১৬৬৫ ইংরেজরা সুইডদের কাছ থেকে কেপ উপকূল দুর্গ কেড়ে নিল। এটি রাজকীয় আফ্রিকান কোম্পানির সদরদপ্তরে পরিণত হল।
১৬৬৭ আকওয়ামুর আকান রাজ্য হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিল বৃহৎ আক্রা।
১৬৭০-৭৯ আশান্তে রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন আশান্তেহেনে ওসেই তুতু।
১৬৮১ নির্বিচারে বন নিধন এবং ওলন্দাজ উপনিবেশিক বসতিস্থাপনকারী ও তাঁদের সাথে করে নিয়ে আসা পশুদের শিকারে পরিণত হওয়ায় মরিশাস দ্বীপ থেকে ডোডো পাখি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেল।
১৬৯৯ ওমানি আরবরা জাঞ্জিবার থেকে পর্তুগিজদের তাড়িয়ে দিল।
১৭০১-১৯০০ মোজাম্বিক একটি প্রধান দাস বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হল।
১৭১৫ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মরিশাস দ্বীপটিকে ফ্রান্সের জন্য দাবি করল।
১৭২০-৫০ আকান ও অন্যান্য প্রতিবেশী রাজ্যআশা দখল করে নিলেন আশান্তেহেনে ওপোকু ওয়ারে।
১৭৩০-৮০ আশান্তেরা গোনজা ও দাগোমবা জয় করলেন।
১৭৫০ ঘানা উপকূলের উপনিবেশিক ব্যবসার ওপর একচেটিয়া অধিকার হারিয়ে ফেলল রাজকীয় আফ্রিকান কোম্পানি।
১৭৫৮-১৮১৪ সাঁ-লুই আর গোরি নিয়ে ইঙ্গ-ফরাসি সমর।
১৭৬৪-৭৭ আশান্তে রাজ্যে একটি শক্তিশালী আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন আশান্তেহেনে ওসেই কোয়াদো। রাজকার্যে নিয়োগ পেতে বংশপরিচয়ের চেয়ে প্রশাসনিক যোগ্যতাই প্রধান বিবেচ্য হয়ে উঠল।
১৭৬৮ ফরাসি প্ল্যান্টেশন মালিকরা তাঁদের দাসদের নিয়ে সেশেলসে বসতিস্থাপন করলেন।
১৭৯৪ সেশেলসে স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করে নিল ব্রিটেন, মরিশাস থেকে তদারকি করতে লাগল।
১৭৯৫ নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে কেপ উপনিবেশ দখল করল ব্রিটিশ বাহিনী।
১৭৯৬ ফরাসি সরকার দাসপ্রথা বিলোপসাধনের চেষ্টা চালালে মরিশাস দ্বীপের ফরাসি উপনিবেশিক বসতিস্থাপনকারীরা ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বেরিয়ে এল।
১৭৯৮ ফ্রান্সের নেপোলিয়ান বোনাপার্তে মিসর আক্রমণ করলেন।
১৮০১-১৯০০ তিউনিসিয়া দখলের মতলব আঁটছে ফরাসি উপনিবেশিক শক্তি।
১৮০৩ ব্রিটিশদের কাছে কেপ উপনিবেশ ফিরিয়ে দেয়া হল।
১৮০৬ কেপ উপনিবেশের ওপর দাবি ছেড়ে দিল ওলন্দাজরা। উপনিবেশটি ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেল।
১৮০৭-১৪ ঘানা উপকূলে অসংখ্যবার আক্রমণ চালাল আশান্তেরা।
১৮০৭ মে ১ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাস বাণিজ্য বেআইনি ঘোষিত হল।
১৮০৮ ফ্রিটাউন বসতি একটি মুকুট উপনিবেশে পরিণত হল।
১৮১০ মরিশাস দ্বীপে ব্রিটিশ সেনাদলের আগমন।
১৮১৪ প্যারিস চুক্তি। মরিশাস, সেশেলস, ও রদ্রিগেজ ব্রিটেনের অধিকারে এল। প্যারিস চুক্তি সেনেগালকে ফ্রান্সের হাতে তুলে দেয়া হল।
১৮১৫ দাস বাণিজ্যের বিলোপসাধন করা হল।
১৮২১ মিসরীয় ও ওসমানি তুর্কিদের একটি যৌথ বাহিনী বর্তমানে সুদান বলে পরিচিত দেশটি জয় করে সুদানকে ঐক্যবদ্ধ করল। দেশটিতে তুর্কি ও মিসরীয়দের যৌথ রাজত্বের সূচনা। সুদানে তুর্কি-মুসরীয়রা যে সরকার বসাল তা তুর্কিয়ে নামে পরিচিত ছিল।
এ বছরই বর্তমান সুদানের রাজধানী খার্তুম প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৩০ ফরাসি উপনিবেশিক শক্তি দখল করে নিল আলজেরিয়া।
১৮৩৪ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাসপ্রথার বিলোপসাধন।
১৮৩৫-৪০ বুয়োররা কেপ উপনিবেশ ছেড়ে ‘গ্রেট ট্রেক’য়ে চলে গেলেন এবং অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট ও ট্রান্সভাল প্রতিষ্ঠা করলেন।
১৮৩৬ পর্তুগিজ সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে দাসপ্রথার বিলোপসাধন।
১৮৪২ পর্তুগিজরা মোজাম্বিকে দাস বাণিজ্য বেআইনী ঘোষণা করল। আইভরি কোস্টের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রটেক্টরেট বানাল ফ্রান্স।
১৮৪৪ রিও মুনি প্রদেশে বসতিস্থাপন করল স্পেনীয়রা।
১৮৪৭ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আদলে লাইবেরিয়ার সংবিধান প্রণীত হল।
জুলাই স্বাধীন হল লাইবেরিয়া।
১৮৪৮ ফ্রান্স তার সব উপনিবেশে দাসদের মুক্তি দিল।
১৮৫০-৫৯ গিনি সহ অঞ্চলটিতে ফরাসি সামরিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেল।
১৮৫০ এই অঞ্চলে স্কটিশ ধর্মপ্রচারক ড. লিভিংস্টোনের অভিযাত্রা ইওরোপের অন্যান্য ধর্মপ্রচারক, অভিযাত্রিক, ও বণিকের আগমনের পথ করে দিল।
লাগোস ঘিরে ব্রিটিশরা তাঁদের উপস্থিতি তৈরি করল।
১৮৫১ জাম্বিয়া সফর করলেন ব্রিটিশ ধর্মপ্রচারক ডেভিড লিভিংস্টোন।
১৮৫২ ব্রিটিশরা ট্রান্সভালকে সীমিত আকারে স্বশাসন প্রদান করল।
১৮৫৫-৬০ বুয়োররা ট্রান্সভালকে একটা প্রজাতন্ত্র বলে দাবি করল।
১৮৫৬ কেপ উপনিবেশকে নাটাল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হল।
১৮৫৮ প্রথম ইওরোপীয় হিসেবে রুয়ান্ডা ও তার আশেপাশের অঞ্চল পরিদর্শন করলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রিক জন হ্যানিং স্পেক।
১৮৬০-৬৯ বাসুতোল্যান্ড একটি ব্রিটিশ প্রটেক্টরেটে পরিণত হল।
১৮৬০-৬৯ সোমালি উপকূলের একাংশ ফ্রান্সের হাতে চলে এল। যা পরবর্তীতে জিবুতি নামে পরিচিতি পাবে।
১৮৬০ সেউতা ছিটমহল নিয়ে স্পেনের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে মরক্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল স্পেন।
১৮৬১ ব্রিটিশরা লাগোসকে তাঁদের সাম্রাজ্যের সীমানাভুক্ত করে নিল।
১৮৬১-১৯১৪ ব্রিটিশরা নাইজেরিয়া উপনিবেশ ও আশ্রিত রাজ্যে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করল, যদিও শাসনকার্য স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমেই চালান হচ্ছিল।
১৮৬২ প্রথম ইওরোপীয় হিসেবে বুগান্ডা পরিদর্শন করলেন ইওরোপীয় অভিযাত্রিক জন হ্যানিং স্পেক।
ফরাসিরা লাভ করল ওবোক বন্দর।
১৮৬৭ স্বর্ণলালসা ইওরোপীয়দের বতসোয়ানায় টেনে আনল, খনিশ্রমের কাজ শুরু।
১৮৭১ কঙ্গো নদী ও আটলান্টিক সাগরে অভিযাত্রা পরিচালনা করলেন হেনরি এম. স্ট্যানলি। বাসুতোল্যান্ডকে কেপ উপনিবেশের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল।
১৮৭৫ নিজের ব্যক্তিগত এস্টেট হিসেবে কঙ্গো ফ্রি স্টেট প্রতিষ্ঠা করলেন বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড।
বুগান্ডার রাজা প্রথম মুতেসা খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের তাঁর রাজ্যে প্রবেশাধিকার দিলেন।
১৮৭৭ ব্রিটিশ মিশনারি সোসাইটির সদস্যদের উগান্ডায় আগমন। ট্রান্সভালকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানাভুক্ত করে নেয়া হল।
১৮৭৮ পর্তুগিজরা মোজাম্বিকের বিপুল পরিমাণ ভূখণ্ড বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে লিজ দিল, যারা নিজেদের স্বার্থে ও অবকাঠামো নির্মাণ করতে আফ্রিকানদের দাস শ্রম শোষণ করল।
১৮৭৯-১৯১৫ পর্তুগিজরা সহিংস উপায়ে গিনি-বিসাউয়ে নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশ করল।
১৮৭৯ ফরাসি রোমান ক্যাথলিক হোয়াইট ফাদার্সের* সদস্যদের উগান্ডায় আগমন।
* মিশনারিজ অফ আফ্রিকা নামেও পরিচিত।
ফরাসিদের কাছে সার্বভৌমত্ব বেচলেন গ্যাবনের স্থানীয় পংওয়ে শাসক।
গিনি-বিসাউ পর্তুগালের একটি স্বতন্ত্র উপনিবেশে পরিণত হল।
১৮৮০-৮৯ ফ্রান্স উবাঙ্গি-চারি অঞ্চলটি দখল করে নিল।
১৮৮০-১৯০৫ স্থানীয়দের প্রতিরোধ মুখে মাদাগাস্কারের ওপর উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করল ফ্রান্স।
১৮৮০-১৯০১ পশ্চিম ও ইকুয়েটোরিয়াল আফ্রিকায় ফরাসি সম্প্রসারণ।
১৮৮০-৮১ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসলেন বুয়োররা। প্রথম ইঙ্গ-বুয়োর যুদ্ধ। আপোসরফার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হল।
ট্রান্সভালকে একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে পুনর্বহাল করা হল।
১৮৮১ দক্ষিণ সুদানের মুহাম্মদ আহমাদ বিন আবদুল্লা বিন ফাহাল নিজেকে মাহদী ঘোষণা করলেন। মাহদীর নেতৃত্বে তুর্কিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান শুরু হল। অভ্যুত্থান ঠেকাতে সরকার ব্রিটিশদের মদত চাইল।
ফরাসি সেনারা দখল করে নিল তিউনিস। দেশটির অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নিয়ন্ত্রণ ফ্রান্সের হাতে চলে এল।
১৮৮২ মিসরীয় সেনাবাহিনীকে হারিয়ে ব্রিটিশ সেনারা দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিল।
ডাকার আর সাঁ-লুইসের মধ্যে রেলরাস্তা নির্মাণ করা হল।
১৮৮৩-৯৩ ওউদাই, বাগুইরমি, ও কানেম-বোর্নু রাজ্য জয় করলেন সুদানি অভিযাত্রিক রাবিহ আল-জুবায়ের, রাজ্যগুলো বর্তমান চাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ছিল।
১৮৮৪-৮৫ বার্লিন সম্মেলন।*
* ইওরোপীয় শক্তিগুলো আফ্রিকাকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল। কঙ্গো নদী অববাহিকা রাজা লিওপোল্ডকে দেয়া হল।
১৮৮৪ বাসুতোল্যান্ড একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হল। তানজানিয়ায় জমি কিনতে শুরু করল জার্মান উপনিবেশায়ন সমিতি। জার্মানরা টোগোতে তাদের টোগোল্যান্ড প্রটেক্টরেট প্রতিষ্ঠা করল।
মরক্কোর উপকূলীয় অঞ্চলে স্পেন একটি প্রটেক্টরেট প্রতিষ্ঠা করল। পশ্চিম সাহারা একটি স্পেনীয় উপনিবেশে পরিণত হল। তিউনিসিয়া একটি ফরাসি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল।
দার ফুরের নিয়ন্ত্রণ নিলেন মাহদীবাদীরা।
১৮৮৫-১৯০৮ কঙ্গো ফ্রি স্টেট।*
* (Hochschild 1998) এর হিসেবে, রাজা লিওপিল্ডের এই ব্যক্তিগত এস্টেটে ১ কোটি কঙ্গোবাসীর মৃত্যু হয়।
১৮৮৫ খার্তুমে প্রবেশ করলেন মাহদী অনুসারী বিদ্রোহীরা। ব্রিটিশ সেনাপতি চার্লস গর্ডনকে হত্যা করলেন। সুদান নিজেকে একটি স্বাধীন দেশ বলে ঘোষণা করল।
বতসোয়ানায় ব্রিটিশরা বেছুয়ানাল্যান্ড নামে একটি প্রটেক্টরেট ঘোষণা করল।
১৮৮৬ কমোরোস একটি ফরাসি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল।
১৮৮৬-৯০ পর্তুগাল আর ব্রিটেনের সাথে জার্মানি এ সময় যে চুক্তিগুলো করে, তাই আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো নির্ধারণ করে দিয়েছে। জার্মানি এ সময় বর্তমান নামিবিয়া দখল করে নেয়। এর নাম দেয়া হয় দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা।
১৮৮৮ এনদেবেলে সর্দার লোবেনগুলা সেসিল রোডসকে বর্তমান জিম্বাবুয়ে খনি কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিলেন। অত্র অঞ্চলে ফরাসি উপনিবেশ সোমালিল্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হল। ব্রিটিশরা স্থানীয় সুলতানশাহিগুলোর সাথে নানান চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সোমালিল্যান্ড আশ্রিত রাজ্য গঠন করল। ইঙ্গ-ফরাসি চুক্তি সম্পাদিত। ইওরোপীয়রা সোমালিয়াকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল। জার্মান উপনিবেশ কামেরুনে পরিণত হল ক্যামেরুন।
১৮৮৯ মধ্য সোমালিয়ায় একটি আশ্রিত রাজ্য স্থাপন করল ইতালি। যা পরবর্তী দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সেই ভূখণ্ডের সাথে মিলেমিশে গেল যার ওপর দাবি ছেড়ে দিয়েছিলেন জাঞ্জিবারের সুলতান।
উইচালেতে ইতালির সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী চুক্তি সই করলেন ইথিওপিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় মেনলিক। ইথিওপিয়া কার্যত ইতালির একটি প্রটেক্টরেটে পরিণত হল। আদ্দিস আবাবাকে ইথিওপিয়ার রাজধানী ঘোষণা করা হল।
ব্রিটিশ ও ফরাসিদের মধ্যে একটি চুক্তি গাম্বিয়ার বর্তমান সীমান্ত নির্ধারণ করল।
১৮৯০ সেসিল রোডসের নেতৃত্বে বর্তমান জিম্বাবুয়ের উপনিবেশায়নের শুরুয়াত। ব্রিটিশ ও জার্মানদের মধ্যে শান্তি চুক্তি সই, ব্রিটিশরা বর্তমান উগান্ডার অধিকার লাভ করল। উরুন্ডি আর রুয়ান্ডাকে জার্মান পূর্ব আফ্রিকার অন্তর্ভুক্ত করা হল। বতসোয়ানায় ব্রিটিশ প্রটেক্টরেট চোবে নদী পর্যন্ত প্রসারিত হল। ইতালিরা ইরিত্রিয়া উপনিবেশের ওপর অধিকার দাবি করল। ফরাসি উপনিবেশিক শক্তি নাইজার দখল করে নিল।
১৮৯১ গিনিকে সেনেগাল থেকে পৃথক করা হল। একটি ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হল গিনি।
ব্রিটিশরা ন্যায়াসাল্যান্ড ও জেলা আশ্রিত রাজ্য গঠন করল।
১৮৯২-১৯০৫ নামিবিয়ার আদিবাসী নামা ও হারেরো জাতির মানুষেরা জার্মান উপনিবেশিক দখলদারিত্ব রুখে দাঁড়ালেন।*
* এ সময় হারেরো জাতির ৮০% নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রায় ৬০ হাজার মানুষ খুন হন, শরণার্থীতে পরিণত হন আরো ১৫ হাজার। আধুনিক জামানার প্রথম দিককার গণহত্যা বিবেচিত হয়। ২০০৪ সালের আগস্টে এই গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলো জার্মানি, কিন্তু জানিয়ে দিল কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না।
১৮৯২ ফরাসি সোমালিল্যান্ডের রাজধানী হয়ে উঠল জিবুতি।
১৮৯৩ একটি ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হল আইভরি কোস্ট।
বর্তমান জিম্বাবুয়ে থেকে লোবেনগুলাকে বিতাড়িত করা হল।
১৮৯৪ একটি ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল উগান্ডা।
গাম্বিয়া একটি ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল।
ব্রিটেন ও ট্রান্সভালের বুয়োর প্রজাতন্ত্র এসময় সম্মিলিতভাবে শাসন করছে সোয়াজিল্যান্ড।*
* ইসোয়াতিনির আগের নাম।
উবাঙ্গি-চারি অঞ্চলে ফ্রান্স একটি ডিপেন্ডেন্সি গঠন করে বাণিজ্যিক সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে বন্টন করে দিল।
১৮৯৫ জাম্বেজি নদীর দক্ষিণ দিকের ভূখণ্ডের নাম রোডেশিয়া রাখা হল, সেসিল রোডসের নামে। গঠন করা হল ব্রিটিশ পূর্ব আফ্রিকা প্রটেক্টরেট। ইথিওপিয়ায় হামলা চালাল ইতালি।
১৮৯৫-৯৯ এডমুন্ড মোরেল নামের ব্রিটিশ খালাসি কঙ্গোয় বেলজীয়দের অন্যায় নিয়ে তদন্ত করা শুরু করলেন।
১৮৯৬ আদওয়াতে ইথিওপীয়দের কাছে পরাজিত হল ইতালি। উইচালে চুক্তি রদ। ইতালি ইথিওপিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতিপ্রদান করল, তবে ইরিত্রিয়ার ওপর স্বীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখল।
ফ্রিটাউনের পশ্চাৎভূমিতে ব্রিটিশরা একটা প্রটেক্টরেট স্থাপন করল। যে রাজ্যগুলো পরবর্তীতে বুরকিনা ফাসো গঠন করবে তাঁরা একটা ফরাসি প্রটেক্টরেটে পরিণত হল।
১৮৯৭ ফ্রান্সের সাথে একটি চুক্তি সই করে জিবুতির অংশবিশেষ লাভ করল ইথিওপিয়া।
১৮৯৮ ফরাসি বাহিনীর হাতে পরাজিত হল অউয়াসউলু রাজ্যের মানসা সামোরি তুরের বাহিনী। বর্তমান গিনি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ পোক্ত হল।
ফরাসি উপনিবেশিক শক্তি দখল করে নিল মালি।*
* তখন এই দেশটাকে ফরাসি সুদান বলা হত।
মৌরিতানিয়ার মুসলমানদের আনুগত্য নিশ্চিত করল উপনিবেশিক ফ্রান্স।
ওমদুরমানের সমর। কামান ও মেশিন গানের মত আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ ও মিসরীয়দের অপেক্ষাকৃত ছোট যৌথ বাহিনীর কাছে হেরে গেল সনাতনী অস্ত্রে বলীয়ান সুদানিদের বিশাল বাহিনী। এই সমরে ১০,০০০ সুদানি সৈনিকের মৃত্যু হয়; ব্রিটিশ-মিসরীয় মৃতের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৮।
১৮৯৯ ব্রিটিশ ও মিসরীয়রা সুদানের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল। সুদানে একটি নতুন সরকারের পত্তন। পরিচিত হবে ইঙ্গ-মিসরীয় সুদান হিসেবে।*
* বর্তমান দক্ষিণ সুদান এই ইঙ্গ-মিসরীয় সুদানের অংশ ছিল।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন সূফী কবি ও যোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। প্রতিষ্ঠা করলেন দরবেশ রাষ্ট্র। দুইদশক পরে ব্রিটিশরা রাজ্যটি ধবংস করে দেবে।
ট্রান্সভাল সীমান্তে ব্রিটিশরা সেনা সমাবেশ ঘটাল। দ্বিতীয় ইঙ্গ-বুয়োর যুদ্ধের সূচনা।
১৮৯৯-১৯০২ দক্ষিণ আফ্রিকার বুয়র যুদ্ধ।*
* বুয়র বলতে সেখানকার শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনকারীদেরকে বোঝায়।
১৯০০ ফরাসিরা আল-জুবায়েরের বাহিনীকে পরাজিত করল, পরবর্তী এক দশক ধরে চলল দেশটির উপনিবেশায়ন।
১৯০২ ভেরেনিগিংয়ের চুক্তি, দ্বিতীয় ইঙ্গ-বুয়োর যুদ্ধের অবসান। ট্রান্সভাল ও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বশাসিত উপনিবেশের মর্যাদা দেয়া হল। উগান্ডার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশকে কেনিয়ার হাতে তুলে দেয়া হল।
ব্রিটিশরা দখল করে নিল কানো।
ব্রিটিশরা খার্তুমে গর্ডন মেমোরিয়াল কলেজ চালু করল। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল দেশটিতে ‘শিক্ষা’ বিস্তার। কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ছিলেন উত্তরাঞ্চলের আরবিভাষী মুসলমান।
১৯০৩ একটি স্বতন্ত্র ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হল সেশেলস।
১৯০৪ মোরেল প্রতিবেদন।
আইভরি কোস্ট পশ্চিম আফ্রিকার ফরাসি ফেডারেশনের অংশ হয়ে গেল। ফরাসি পশ্চিম আফ্রিকার রাজধানীতে পরিণত হল ডাকার। মৌরিতানিয়া একটি ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হল।
ফার্নান্দো পো ও রিও মুনি পশ্চিম আফ্রিকীয় ভূখণ্ডে পরিণত হল, পরবর্তীতে যার নাম বদলে স্পেনীয় গিনি রাখা হয়। উগান্ডায় বাণিজ্যিকভাবে তুলা চাষ শুরু হল। ফরাসি ও স্পেনীয়রা মরক্কোয় পাল্টাপাল্টি প্রভাব বলয় গড়ে তুলল।
১৯০৫-০৬ আদিবাসী মাজি মাজি বিদ্রোহ দমন করল জার্মান সেনাদল।
১৯০৬ স্পেনে আলজেকিরাস সম্মেলন।
১৯০৭ সোয়াজিল্যান্ড একটি ব্রিটিশ হাই কমিশন ভূখণ্ডে পরিণত হল।
১৯০৮ রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড কঙ্গো ফ্রি স্টেটের মালিকানা বেলজীয় সরকারের হাতে তুলে দিলেন।
১৯০৯ রোডেশিয়ার উত্তরাঞ্চল ও বেলজীয় কঙ্গোর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আবিষ্কৃত হল খনিজ সম্পদ।
রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের মৃত্যু।
১৯১০-২০ ফরাসি শাসনের ব্যাপারে অসন্তোষের দরুণ মাদাগাস্কারে জাতীয়তাবাদের বিকাশ।
১৯১০ ফরাসি ইকুয়াটোরিয়াল আফ্রিকার অংশ হয়ে গেল গ্যাবন। ফরাসি ইকুয়েটোরাল আফ্রিকা ফেডারেশনের অংশ হয়ে গেল উবাঙ্গি-চারি। ফরাসি বিষুবীয় আফ্রিকার একটি উপনিবেশে পরিণত হল মধ্য কঙ্গো।
১৯১১ ফেজ চুক্তি।
১৯১১-১২ ওসমানিদের কাছ থেকে লিবিয়া ছিনিয়ে নিল ইতালি। ইতালীয় উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লিবীয়দের লড়াই শুরু। ওমর আল-মুখতারের নেতৃত্বে এই লড়াই দুই দশক ধরে চলবে।
১৯১২ জাতীয় কংগ্রেস গঠন করা হল। ভবিষ্যতে যার নাম হবে আফ্রিকার জাতীয় কংগ্রেস (এএনসি)। কমোরোস আনুষ্ঠানিকভাবে একটা ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হল, যা মাদাগাস্কার থেকে তদারকি করা হত।
ফেজ চুক্তি, মরক্কো একটি ফরাসি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল। উপকূলীয় অঞ্চলে স্পেনের আশ্রিত রাজ্যে অব্যাহত থাকল। সুলতান নামেমাত্র শাসক হিসেবে রইলেন।
স্থাপিত হল ওমদুরমান সায়েন্টিফিক ইন্সটিটিউট।
১৯১৩ চাদ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হল।
১৯১৪ নাইজেরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হল।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
১৯১৪ মিসর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল।
ইঙ্গ-ফরাসি বাহিনী গঠন করল জার্মান টোগোল্যান্ড।
১৯১৫ যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রাপ্ত বাপ্তাইজক জন চিলিম্বুয়ের নেতৃত্বে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নায়াসাল্যান্ডে বিদ্রোহ দেখা দিল। এই বিদ্রোহের মূলে ছিল জবরদস্তিমূলক শ্রম ও বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ। ব্রিটিশরা রক্তে ডুবিয়ে দিয়ে বিদ্রোহ দমন করে, চিলিম্বুয়ে-সমেত বহু বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়।
১৯১৬ জার্মান পূর্ব আফ্রিকার অধিকাংশ অঞ্চলই ব্রিটিশ, বেলজীয়, ও দক্ষিণ আফ্রিকীয় সেনাদলের দখলদারিত্বে আছে। বেলজীয় বাহিনীগুলো রুয়ান্ডা দখল করে নিল।
টোগোল্যান্ডকে ব্রিটিশ ও ফরাসি অঞ্চলে ভাগ করা হল। যার ফলে জন্ম নিল ব্রিটিশ টোগোল্যান্ড ও ফরাসি টোগোল্যান্ড।
ইঙ্গ-ফরাসি সেনাদল জার্মানিকে ক্যামেরুন ছাড়তে বাধ্য করল।
১৯১৯ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনে এল দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা।* ভোল্টা উচ্চভূমি ফরাসি পশ্চিম আফ্রিকার একটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ডে পরিণত হল।
* বর্তমানে নামিবিয়া।
লীগ অফ নেশনসের ইচ্ছায় তানজানিকা* একটি ব্রিটিশ ম্যান্ডেটে পরিণত হল।
* আজকের তানজানিয়ার মূলভূমি।
লন্ডন ঘোষণা। ক্যামেরুনকে ৮০% ফরাসি ও ২০% ব্রিটিশ প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হল। ব্রিটিশ প্রশাসনিক অঞ্চলটিকে আবার উত্তরাঞ্চল আর দক্ষিণাঞ্চলে ভাগ করা হল।
১৯২০-২৯ ওমর আল-মুখতারের সাথে হাত মেলাল সানুসী রাজবংশ।
১৯২০-৩০ বাণিজ্যিক সুবিধাপ্রাপ্তদের জুলুমনিপীড়নের বিরুদ্ধে আদিবাসী আফ্রিকানদের সহিংস প্রতিবাদ।
১৯২০ লীগ অফ নেশনসের কাছ থেকে দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা শাসন করার ম্যান্ডেট লাভ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। পূর্ব আফ্রিকা প্রটেক্টরেট একজন ব্রিটিশ প্রশাসকের তদারকির অধীনস্ত কেনিয়া মুকুট উপনিবেশে পরিণত হল। ফরাসি পশ্চিম আফ্রিকার অংশ হয়ে গেল মৌরিতানিয়া, দেশটি সেনেগাল থেকে শাসিত হতে লাগল।
১৯২১ উগান্ডায় একটা আইন পরিষদ গঠন করা হল। কিন্তু ১৯৪৫ সালের আগ পর্যন্ত তাতে কোন আফ্রিকান সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
১৯২১-২৬ রিফ পর্বতমালায় দেখা দিল আদিবাসী বিদ্রোহ, ফরাসি ও স্পেনীয়রা এই বিদ্রোহ দমন করে।
১৯২২ লীগ অফ নেশনস টোগোল্যান্ডের পার্টিশনকে স্বীকৃতি দিল। ব্রিটিশদের ব্রিটিশ টোগোল্যান্ডের ম্যান্ডেট প্রদান করা হল। ফরাসিদের প্রদান করা হল ফরাসি টোগোল্যান্ডের ম্যান্ডেট।
সাবেক জার্মান উপনিবেশ কামেরুনের অংশবিশেষকে লীগ অফ নেশনসের ম্যান্ডেটের আওতায় নাইজেরিয়ার সাথে জুড়ে দেয়া হল।
মিসরের রাজা হলেন প্রথম ফুয়াদ। ব্রিটিশদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করল মিসর। তবে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত দেশটির ওপর ব্রিটিশদের প্রভাব রয়ে যায়।
দার মাসালিতকে সুদানের অংশ করে নেয়া হল।
১৯২৩ রোডেশিয়া একটি স্বশাসিত উপনিবেশে পরিণত হল, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ইওরোপীয় বসতিস্থাপনকারীদের করায়ত্ত ছিল।
লীগ অফ নেশনস বেলজিয়ামকে রুয়ান্ডা-উরুন্ডি শাসনের ম্যান্ডেট দিল। বেলজীয়রা পরোক্ষভাবে তুতসি রাজাদের মাধ্যমে ভূখণ্ডটি শাসন করতে লাগল।
১৯২৪-৭৩ আমিলকার কাবরাল।
১৯২৫ জুব্বা নদীর পুবদিকের ভূখণ্ড কেনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে সোমালিয়ায় ইতালীয় প্রটেক্টরেটের অংশ হয়ে গেল।
উগান্ডার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের কোবোকোয় ইদি আমিন দাদার জন্ম হয়।
১৯২৮ কঙ্গো-ওশেন রেলরাস্তা নির্মাণকালে ১৭ হাজার আফ্রিকানের মৃত্যু।
হাসান আল-বান্না কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল মুসলিম ব্রাদারহুড। বান্না স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মিসরকে পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত করা।
১৯২৯ প্রতিষ্ঠিত হল তানজানিকা আফ্রিকান অ্যাসোসিয়েশন।
১৯৩১ লিবিয়া জুড়ে ইতালি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প স্থাপন করে। চালায় ভয়াবহ গণহত্যা। ফ্যাসিস্টদের হাতে ওমর আল-মুখতার গ্রেপ্তার ও খুন।
১৯৩২ পর্তুগাল বাণিজ্য কোম্পানিগুলোকে ভেঙে ফেলল এবং উপনিবেশের ওপর প্রত্যক্ষ শাসন আরোপ করল।
১৯৩৪ পশ্চিম সাহারা স্পেনের একটি প্রদেশে পরিণত হল, তাঁর নতুন নাম হল স্পেনীয় সাহারা।
লিবিয়াকে “বৃহত্তর” ইতালির অংশ করে নেয়ার জন্য এসময় নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে ফ্যাসিস্ট ইতালি।
হাবিব বুরগিবা প্রতিষ্ঠা করলেন নব দস্তুর পার্টি।
১৯৩৫ ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল ফ্যাসিস্ট ইতালি।
ইতালি ইথিওপিয়া আক্রমণ করে নৃশংস হত্যালীলা চালায়। আদ্দিস আবাবায় মাত্র ৩ দিনে ২০,০০০ মানুষকে খুন করে রুডলফো গ্রাজিয়ানির নেতৃত্বাধীন ইতালীয়রা। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত চলা এই যুদ্ধে প্রায় আড়াই লক্ষ ইথিওপীয় খুন হয়ে যান।*
* ইতালীয়রা শিশুদের মাটিতে আছাড় দিয়ে হত্যা করত। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের পেট চিরে ভ্রূন হত্যা করত। এসব নৃশংসতা সাধারণ ইতালীয়দের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় এবং যুদ্ধটাকে “সামন্তবাদের দ্বারা নিপীড়িত” ইথিওপীয়দের “স্বাধীনতা ও সভ্যতার” স্বাদ দেয়া বলে চালানো হয়।
১৯৩৬ ইতালীয়দের হাতে রাজধানী আদ্দিস আবাবার পতন ঘটলে ইথিওপিয়া ছেড়ে পালিয়ে গেলেন হাইলে সেলাসি। ইতালির রাজাকে ইথিওপিয়ার সম্রাট ঘোষণা করা হল। ইরিত্রিয়া, ইতালীয় সোমালিল্যান্ড, ও ইথিওপিয়াকে জোড়া লাগিয়ে ইতালীয় পূর্ব আফ্রিকা গঠন করা হল।
মিসর ছেড়ে যেতে শুরু করল ব্রিটিশরা।
লাইবেরিয়ায় জবরদস্তিমূলক শ্রম প্রথার বিলোপসাধন ঘটানো হল।
১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
১৯৪০ ইতালীয়রা ব্রিটিশ সোমালিল্যান্ড দখল করল।
১৯৪১ ব্রিটিশরা ইতালীয় সোমালিল্যান্ড দখল করল।
ইথিওপীয় প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং ব্রিটিশ ও সাধারণতন্ত্রী সৈনিকদের যৌথ বাহিনী ইতালীয়দের পরাস্ত করলেন। মসনদ পুনরুদ্ধার করলেন হাইলে সেলাসি। ইরিত্রিয়া দখল করে নিল ব্রিটিশ সেনাদল।
১৯৪৩ মরক্কোয় স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে গঠিত হল ইস্তিকলাল দল।
১৯৪৪ গঠন করা হল কেনীয় আফ্রিকান ইউনিয়ন (কেএইউ)।
১৯৪৫ সেতিফে স্বাধীনতাপন্থীদের আন্দোলন। ফরাসিরা রক্তাক্ত উপায়ে এই বিদ্রোহ দমন করে। তাতে হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী আলজেরীয়ের মৃত্যু হয়।
১৯৪৬ ফ্রান্সের একটি ওভারসিজ টেরিটোরিতে পরিণত হল মৌরিতানিয়া, মাদাগাস্কার ও দাহোমে। জিবুতিকে ফরাসি ইউনিয়নের মধ্যে একটি ওভারসিজ টেরিটোরির মর্যাদা দেয়া হল, যার নিজস্ব আইনসভা ও ফরাসি সংসদে প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কঙ্গোকে একটি আঞ্চলিক সংসদ এবং ফরাসি সংসদে প্রতিনিধিত্ব দেয়া হল। তানজানিকার ওপর থাকা ব্রিটিশ ম্যান্ডেটকে জাতিসংঘ একটা ট্রাস্টিশিপে পরিণত করল।
উবাঙ্গি-চারি অঞ্চলটিকে নিজস্ব সংসদ এবং ফরাসি সংসদে প্রতিনিধিত্ব প্রদান করা হল। স্বাধীনতাপন্থী কালো আফ্রিকানদের সামাজিক বিবর্তন আন্দোলনের (মেসান) প্রতিষ্ঠাতা বার্থেলেমি বোগান্ডা প্রথম মধ্য আফ্রিকান হিসেবে ফরাসি সংসদে নির্বাচিত হলেন।
ব্রিটিশ উপনিবেশিক সেনাবাহিনীর একটি সৈন্যদল কিংস আফ্রিকান রাইফেলসে (কেএআর) যোগ দিলেন ইদি আমিন দাদা।
রুয়ান্ডা-উরুন্ডি বেলজিয়াম কর্তৃক শাসিত ইউএন ট্রাস্ট টেরিটোরিতে পরিণত হল।
১৯৪৭ মাদাগাস্কারের পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহ রক্তাক্ত উপায়ে দমন করল ফরাসিরা; ফলে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু।
কমোরোস একটি ফরাসি ওভারসিজ টেরিটোরিতে পরিণত হল।
কেএইউ প্রধান হলেন জোমো কেনিয়াত্তা।
১৯৪৮-৯৪ অ্যাপার্টহেইড জমানা।
১৯৪৮ ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বুকে প্রতিষ্ঠিত হল ইসরায়েল রাষ্ট্র। প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। যুদ্ধে গাজা উপত্যকা দখল করে নেয় মিসর।
১৯৪৯ আগের বছরের যুদ্ধে হেরে গিয়েছিল আরব রাষ্ট্রগুলো। তরুণ সেনাকর্মকর্তারা রাষ্ট্রগুলোর অযোগ্য ও পশ্চাৎপদ রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন। এবছর মিসরে রাজতন্ত্র উৎখাত করতে গঠিত হল কমিটি অফ দ্য ফ্রি অফিসার্স মুভমেন্ট।
জাতিসংঘের ট্রাস্ট ভূখণ্ড হিসেবে ইরিত্রিয়ার তদারকি শুরু করল ব্রিটেন।
ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়ে সোমালিয়ার শিফতা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়লেন ইদি আমিন দাদা।
১৯৫০ দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দল অ্যাপার্টহেইডের পক্ষে একগুচ্ছ আইন বানানো, যা ‘রেস’গুলোকে পৃথক ও অসম রাখবে।*
* ‘রেসয়ের ধারণা সামাজিকভাবে ক্ষতিকর ও বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। নানান জাতি ও অঞ্চলের মানুষের গায়ের রঙ কিংবা দৈহিক গঠনে সামান্য ফারাক থাকলেও প্রজাতিগত সাদৃশ্য অনেক বেশি। আজকে প্রকৃতি বিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই ব্যাপারে প্রায় সর্বজনীন ঐকমত্য রয়েছে যে, বর্ণবাদী রাজনীতি বিজ্ঞানবিরোধী।
ইতালীয় সোমালিল্যান্ড ইতালির নিয়ন্ত্রণে থাকা জাতিসংঘের একটি ট্রাস্ট টেরিটোরিতে পরিণত হল।
ব্রিটিশরা নগোয়াতে গোত্রের সর্দার সেরেতসে খামাকে উৎখাত ও নির্বাসিত করল।
১৯৫০-৬৯ মোজাম্বিকে উপনিবেশিক অর্থনীতির স্বর্ণযুগ, দেশটিতে এ সময় নতুন করে বহু পর্তুগিজ বসতিস্থাপনকারীর আগমন ঘটে।
১৯৫০-৬১ অ্যাঙ্গোলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিকাশলাভ করল, গেরিলাযুদ্ধের শুরুয়াত।
১৯৫০-৫৯ কঙ্গোয় সমান্তরালে দুটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের উত্থান ঘটল। প্যাট্রিক লুমুম্বার নেতৃত্বে কঙ্গো জাতীয় আন্দোলন (এমএনসি)। আর জোসেফ কাসাভুবুর নেতৃত্বে বাকঙ্গো অ্যাসোসিয়েশন (আবাকো)।
বাসুতোল্যান্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটল, যারা স্বাধীনতার জন্য চাপ দিতে শুরু করল।
১৯৫১-৬০ এ সময় উগান্ডার লাইট হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়নের খেতাবটা ইদি আমিন দাদার ছিল।
১৯৫১ গিনি-বিসাউকে পর্তুগালের একটা প্রদেশ ঘোষণা করা হল। অ্যাঙ্গোলার স্ট্যাটাস বদলে উপনিবেশ থেকে ওভারসিজ টেরিটোরি করা হল।
১৯৫২ কায়রোতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ২০ জন খুন হলেন। ফ্রি অফিসার্স ক্যুদেতা। মিসরে কয়েক হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান।
সেরেতসে খামাকে নির্বাসিত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা দিল।
জাতিসংঘ ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া ফেডারেশন গঠন করল।
১৯৫২-৫৩ মাউ মাউ নামের গোপন কিকুয়ু গেরিলা দল শ্বেতাঙ্গ বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করল।* জরুরি অবস্থা জারি। কেনিয়াত্তাকে কারাগারে ঢোকানো হল, কেএইউ নিষিদ্ধ হল।
* কেনিয়ার মাউ মাউ গেরিলাদের বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়ে লড়লেন ইদি আমিন দাদা।
১৯৫৩ ব্রিটিশরা ন্যায়াসাল্যান্ড আফ্রিকীয় কংগ্রেস ও শ্বেতাঙ্গ উদারনীতিকদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে ন্যায়াসাল্যান্ডকে উত্তর ও দক্ষিণ রোডেশিয়ার সাথে জুড়ে দিল।*
* যথাক্রমে আজকের মালাওয়ি, জাম্বিয়া, ও জিম্বাবুয়ে।
গঠন করা হল রোডেশিয়া ও নিয়াসাল্যান্ড ফেডারেশন।
১৯৫৪-৬২ আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধ।
১৯৫৪ নভেম্বর ফরাসি উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু।
জুলিয়াস নায়ারে আর অস্কার কাম্বোনা তানজানিকা আফ্রিকান অ্যাসোসিয়েশনকে তানজানিকা আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করলেন।
১৯৫৫ অ্যাপার্টহেইডকে প্রত্যাখ্যান করে “স্বাধীনতার সনদ” ঘোষণা করল এএনসি।
১৯৫৬ জানুয়ারি ১ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল সুদান।
মার্চ ২০ ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল তিউনিসিয়া, দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন হাবিব বুরগিবা। স্বাধীন তিউনিসিয়ার প্রথম সংবিধান প্রণয়ন করা হল। তাতে নারীদের পুরুষদের সমান অধিকার দেয়া হল।
গিনি-বিসাউয়ে কেপ ভার্দের স্থানীয় বাসিন্দা আমিলকার কাবরাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল গিনি ও কেপ ভার্দের স্বাধীনতার আফ্রিকান দল (পিএআইজিসি)।
উত্তর কঙ্গো-ভিত্তিক অ্যাঙ্গোলার মুক্তির জন্য গণআন্দোলন (এমপিএলএ) নামে একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী গেরিলা আন্দোলনের সূচনা।
ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতালাভ করল মরোক্কো আর তিউনিসিয়া। ফরাসি আশ্রিত রাজ্যের অবসান।
ফ্রান্স-নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম আফ্রিকা ফেডারেশন বিলুপ্ত করা হল।
ইতালীয় সোমালিল্যান্ডের নাম বদলে সোমালিয়া ও অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হল।
মাউ মাউ বিদ্রোহ রক্তাক্ত উপায়ে দমন করা হল।
১৯৫৭ ঘানার অংশ হিসেবে স্বর্ণ উপকূলে যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দিল ব্রিটিশ টোগোল্যান্ড। ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল ঘানা। সদ্যস্বাধীন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হলেন কোয়ামে নক্রুমাহ।
ফরাসি ইকুয়েটোরিয়াল আফ্রিকার মহাপরিষদের প্রেসিডেন্ট হলেন বোগান্ডা।
রুয়ান্ডায় হুতুদের তরফে একটি ইশতেহার প্রকাশ করা হল। হুতুরা দাবি তুললেন, ক্ষমতা কাঠামোয় তাদের হিস্যা পর্যাপ্ত নয়, হুতুদের সংখ্যাগুরুত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হিস্যা বাড়াতে হবে। কয়েকটি হুতু রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করা হল।
জাতিসংঘে স্পেনীয় সাহারার ওপর মালিকানা দাবি করল মরক্কো।
১৯৫৮ ফরাসি সম্প্রদায়ে যোগদানের পক্ষে ভোট দিল জিবুতি। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল গিনি। সদ্যস্বাধীন রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট হলেন আহমেদ সেকো তোরে। গ্যাবন ও দাহোমেকে স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা প্রদান করল ফ্রান্স।ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ভোট দিল মাদাগাস্কার। ফরাসি সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ভোট দিল কঙ্গো।ভোল্টা উচ্চভূমি ফ্রান্সের একটা স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হল। ফরাসি সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হল আইভরি কোস্ট। ফরাসি ইকুয়েটোরিয়াল আফ্রিকার কাঠামোর মধ্যে অঞ্চলটি স্বশাসন লাভ করল, প্রধানমন্ত্রী হলেন বার্থেলেমি বোগান্ডা। নাইজারকে স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের মর্যাদা প্রদান করল ফ্রান্স। মৌরিতানিয়া স্বশাসিত হয়ে উঠল।
গঠিত হল ইরিত্রিয়া মুক্তি ফ্রন্ট (ইএলএফ)।
উগান্ডাকে অভ্যন্তরীণ স্বশাসন প্রদান করা হল।
১৯৫৯ আবাকোর সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল বেলজীয় কর্তৃপক্ষ। কাসাভুবুকে গ্রেপ্তার করল। এর প্রতিক্রিয়ায় লিওপোল্ডভিলজুড়ে* ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ল।
* বর্তমানে কিনশাসা।
বেছুয়ানাল্যান্ডে তামার খনি প্রতিষ্ঠা করা হল।
ফরাসি ইউনিয়নের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রে পরিণত হল ফরাসি টোগোল্যান্ড।
মালি ও সেনেগাল মিলে গঠন করল মালি ফেডারেশন। পরের বছর এই ফেডারেশন ভেঙে যায়।
এফেন্দি* র্যাংক অর্জন করলেন ইদি আমিন দাদা।
* কেএআর’য়ে কালো আফ্রিকান সৈনিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সর্বোচ্চ অবস্থান।
রুয়ান্ডায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ধারাবাহিকতায় তুতসি রাজা দাহিনদুরওয়া পঞ্চম কিগেলি ও হাজার হাজার তুতসি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র উগান্ডায় নির্বাসিত হতে বাধ্য হলেন।
বার্থেলেমি বোগান্ডার মৃত্যু।
১৯৬০ আফ্রিকার ১৪টি ফরাসি উপনিবেশকে স্বাধীনতা দেয়া হল।
এপ্রিল ৪ মালি ফেডারেশনের মধ্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতিলাভ করল সেনেগাল।
জুন ২৬ ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল মাদাগাস্কার, প্রেসিডেন্ট হলেন ফিলিবার্ট সিরানানা।
৩০ বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল বেলজিয়ান কঙ্গো। গঠিত হল কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। প্রেসিডেন্ট হলেন জোসেফ কাসাভুবু, প্রধানমন্ত্রী হলেন প্যাট্রিক লুমুম্বা।
ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল মালি। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন মোদিবো কেইতা। মালি একটি একদলীয় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হল। নিজেকে ফ্রাঙ্ক জোন থেকে প্রত্যাহার করে নিল। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল ভোল্টা উচ্চভূমি। প্রেসিডেন্ট হলেন মরিস ইয়ামেওগো। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল কঙ্গো। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন ফুলবার্ট ইউলু। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল টোগো। দেশটিতে একটি প্রজাতন্ত্র গঠন করা হল। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, প্রেসিডেন্ট হলেন ডেভিড ডাকো। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল আইভরি কোস্ট। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল দাহোমে। জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করল। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এল দাহোমে দে লি’উনিট পার্টি। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন হুবার্ট মাগা। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল চাদ। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল নাইজার। সংসদ হামানি দিওরিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করল। স্বাধীনতালাভ করল ফরাসি ক্যামেরুন। ক্যামেরুন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হল। প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন আহিদজো।
আগস্ট ১৭ ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল গ্যাবন।
নভেম্বর ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল মৌরিতানিয়া।
যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল নাইজেরিয়া। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন স্যার আবুবকর তাওয়াফা বালেওয়া। একটি জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
পর্তুগিজ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে পিএআইজিসির নেতৃত্বে গিনি-বিসাউবাসীর স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা।
বতসোয়ানায় গঠন করা হল বেছুয়ানাল্যান্ড জনদল (বিপিপি)।
ডিসেম্বর ব্রিটিশরা বেছুয়ানাল্যান্ডের জন্য একটি নয়া সংবিধান অনুমোদন দিল। এই সংবিধানের আলোকে নির্বাহী পরিষদ, আইন পরিষদ, ও আফ্রিকান পরিষদ প্রতিষ্ঠা করা হল।
জোহানেসবার্গের বাইরে শার্পভিলে অ্যাপার্টহেইড-বিরোধী প্রতিবাদীদের ওপর পুলিশ প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করলে ৬৯ জনের মৃত্যু হল।
কেনিয়ায় জরুরি অবস্থার অবসান। কেনিয়াকে সংখ্যাগুরু আফ্রিকানদের শাসনের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করল ব্রিটেন। টম মবোয়া আর ওজিঙ্গা ওদিঙ্গা কর্তৃক গঠিত হল কেনিয়া আফ্রিকান জাতীয় ইউনিয়ন (কানু)।
কেনেথ কাউন্ডা কর্তৃক গঠিত হল সংযুক্ত জাতীয় স্বাধীনতা দল (ইউনিপ)।
সোমালিয়ার ব্রিটিশ ও ইতালীয় অংশগুলো স্বাধীন হল, একীভূত হল, এবং সংযুক্ত সোমালি প্রজাতন্ত্র গঠন করল। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আদেন আবদুল্লাহ ওসমান দার।
১৯৬১ বতসোয়ানায় সেরেতসে খামাকে নির্বাহী পরিষদে নিয়োগ দেয়া হল।
অ্যাঙ্গোলার কফি প্ল্যান্টেশনগুলোয় বিদ্রোহে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু। জবরদস্তিমূলক শ্রম বিলুপ্ত। পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন আরো বেগবান হয়ে উঠল।
একটি শাদা সংখ্যালঘু সরকার দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা দিল। ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্র থেকে বেরিয়ে গেল। রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিদাওয়া উপেক্ষা করল।
কমোরোসকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হল। স্বাধীনতা অর্জন করল সিয়েরা লিওন। তানজানিকার স্বাধীনতা অর্জন, প্রধানমন্ত্রী হলেন জুলিয়াস নায়ারে।
জোশুয়া এনকমো কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান গণইউনিয়ন (জাপু)।
রুয়ান্ডাকে একটা প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হল।
১৯৬২ এএনসির অন্যতম নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হল।
রোডেশিয়ার নির্বাচনে জিতল ইয়ান স্মিথের শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী দল দ্য রোডেশীয় ফ্রন্ট।
সেরেতসা খামা কর্তৃক গঠিত হল বেছুয়ানাল্যান্ড গণতান্ত্রিক দল (বিডিপি), যা পরবর্তীতে বতসোয়ানা গণতান্ত্রিক দলে পরিণত হবে।
সোয়াজিল্যান্ডের নগোয়ে জাতীয় মুক্তিকামী কংগ্রেস (এনএনএলসি) গঠন করা হল।
নির্বাসিত সক্রিয়তাবাদীদের দ্বারা গঠিত হল মোজাম্বিক মুক্তি ফ্রন্ট (ফ্রেলিমো)। যার নেতা ছিলেন এদুয়ার্দো মন্দলানে।
ইরিত্রিয়াকে ইথিওপিয়ার সীমানাভুক্ত করে নিলেন হাইলে সেলাসি, এবং ইথিওপিয়ার ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করলেন।
অক্টোবর ৯ ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল উগান্ডা। দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন মিল্টন ওবোতে।
বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতালাভ করল রুয়ান্ডা-উরুন্ডি।* রুয়ান্ডা-উরুন্ডি থেকে বেরিয়ে আসল উরুন্ডি। বুরুন্ডি নামের একটি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হল। বুরুন্ডির শাসনকর্তা হলেন রাজা চতুর্থ মোয়ামবুতসা। রুয়ান্ডা স্বাধীনতালাভ করল। স্বাধীন রুয়ান্ডার প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন গ্রেগরি কায়িবান্দা। তিনি হুতু হওয়ায় বহু তুতসি দেশত্যাগ করল।
* বর্তমানে রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডি।
১৯৬৩ ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল কেনিয়া। দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন জোমো কেনিয়াত্তা।
জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান গণইউনিয়ন (জাপু) থেকে বেরিয়ে এসে জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান জাতীয় ইউনিয়ন (জানু) গঠন করলেন রবার্ট মুগাবে ও এনদাবানিনগি সিতহোলে। রোডেশিয়া ও ন্যায়াসল্যান্ড ফেডারেশন বিলুপ্ত করে দেয়া হল। রোডেশিয়া ও নিয়াসাল্যান্ড ফেডারেশনের বিলোপসাধন করা হল।
ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল আলজেরিয়া।
১৯৬৪ সেশেলসের প্রথম রাজনৈতিক দলগুলো গঠন করা হল। ফ্রান্স আলবার্ট রেনে কর্তৃক গঠিত হল সমাজতন্ত্রী ধাঁচের সেশেলস জনগণের ঐক্য দল। জেমস মেনশাম গঠন করলেন ব্যবসাবান্ধব সেশেলস গণতান্ত্রিক দল।
পর্তুগালের বিরুদ্ধে ফ্রেলিমো বাহিনীর স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু। ফ্রেলিমোর গেরিলারা পর্তুগিজদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়লেন। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশের দখল নিলেন।
মালাওয়ি নামে স্বাধীনতা ঘোষণা করল ন্যায়াসাল্যান্ড। প্রেসিডেন্ট হলেন ড. হেস্টিংস কামুজু বান্দা, যিনি কালো মসীহা নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠা করা হল একটি একদলীয় রাষ্ট্র।
নেতৃস্থানীয় কালো রাজনীতিক জোশুয়া এনকমো ও রবার্ট মুগাবেকে গ্রেপ্তার করলেন ইয়ান স্মিথ।
১৯৬৫ একতরফাভাবে রোডেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন ইয়ান স্মিথ। স্বাধীনতালাভ করল গাম্বিয়া। প্রধানমন্ত্রী হলেন দাওদা জাওয়ারা।
গাবোরোনে বতসোয়ানার প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হল।
স্পেনীয় সাহারাকে বিউপনিবেশিত করার ডাক দিল জাতিসংঘ।
১৯৬৬ লেসোথো রাজ্য হিসেবে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল বাসুতোল্যান্ড। প্রথম রাজা হলেন দ্বিতীয় মোশোয়েশো। প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন সর্দার লিবুয়া জোনাথন।
সেপ্টেম্বর ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল বেছুয়ানাল্যান্ড। বতসোয়ানা প্রজাতন্ত্রে পরিণত হল। প্রেসিডেন্ট হলেন সেরেতসে খামা।
চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ২ হাজার বাসিন্দাকে উৎখাত করে দ্বীপপুঞ্জটিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫০ বছরের জন্য লিজ দিল ব্রিটেন। দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় মার্কিনীরা একটি সেনাঘাঁটি নির্মাণ করেন। বিস্থাপনের শিকারদের অনেকেই মরিশাস দ্বীপে আশ্রয় নেন।
১৯৬৭ এক গণভোটে আফার জাতির মানুষেরা ও ইওরোপীয়রা ফরাসি সম্প্রদায়ের অংশ রয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিলেন। ফরাসি সোমালিল্যান্ডের নাম বদলানো হল। নতুন নাম আফার ও ইসসা জাতির ফরাসি অঞ্চল।
ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করার লক্ষ্যে পূর্ণ মাত্রায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করল ইরিত্রিয়া।
১৯৬৮ স্পেনের পশ্চিম আফ্রিকীয় উপনিবেশ স্পেনীয় গিনি স্বাধীনতা অর্জন করল। বিষুবীয় গিনি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হল। নবগঠিত প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হলেন ফ্রান্সিকসো মাসিয়াস নগুয়েমা।
ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের মধ্যে স্বাধীনতা লাভ করল সোয়াজিল্যান্ড।
মার্চ ১২ ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল মরিশাস।
রোডেশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করল জাতিসংঘ।
১৯৭০ ইএলএফে ভাঙন, গঠিত হল ইরিত্রিয়া গণমুক্তি ফ্রন্ট (ইপিএলএফ)।
১৯৭২ জাম্বিয়া একটি একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হল। যেখানে ইউনিপ একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল।
১৯৭৩ গঠিত হল পোলিসারিও ফ্রন্ট। উদ্দেশ্য স্পেনীয় সাহারায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এদের পেছনে আলজেরিয়ার মদত ছিল।
আততায়ীদের হাতে খুন হয়ে গেলেন আমিলকার কাবরাল।
১৯৭৪ পর্তুগাল বিপ্লব, দেশটির উপনিবেশিক সাম্রাজ্য ধবসে পড়ল। নতুন সরকার ফ্রেলিমোর স্বাধীনতার দাবিতে সম্মত হলেন। মোজাম্বিক ছাড়লেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার পর্তুগিজ।
পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল গিনি-বিসাউ। প্রেসিডেন্ট হলেন আমিলকারের ভাই লুই কাবরাল।
কমোরোস দ্বীপপুঞ্জ গঠন করা চারটি মূল দ্বীপের তিনটি স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিল। শুধু মায়োতে ফ্রান্সের সাথে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
এক সামরিক ক্যুদেতায় উৎখাত হলেন ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলে সেলাসি, ক্ষমতা গ্রহণ করলেন মেনজিসতু হাইলে মারইয়াম।
১৯৭৫ জুলাই ফ্রান্সের কাছ থেকে একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করল কমোরোস। দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট হলেন আহমেদ আবদাল্লাহ।
ডিসেম্বর স্পেনীয় সাহারা ছেড়ে যেতে রাজি হল স্পেন। ভূখণ্ডটির নাম বদলে রাখা হল পশ্চিম সাহারা। মরক্কো ও মৌরিতানিয়ার যৌথ নিয়ন্ত্রণে স্থানান্তরিত হল। আপত্তি জানাল আলজেরিয়া। সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিল। মরক্কো সেনাবাহিনী দখল করে নিল পশ্চিম সাহারা।
কেপ ভার্দে স্বাধীনতা অর্জন করল।
পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল মোজাম্বিক। প্রেসিডেন্ট হলেন সামোরা মাচেল। ফ্রেলিমোর অধীনে কায়েম হল একদলীয় শাসন।
১৯৭৬ ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল সেশেলস।
রোডেশিয়ায় এনকমো ও মুগাবে গঠন করলেন দেশপ্রেমিক ফ্রন্ট।
পশ্চিম সাহারায় মরক্কীয় ও আলজেরীয় সেনাদের সংঘাত। পশ্চিম সাহারাকে ভাগ করে নিল মরক্কো ও মৌরিতানিয়া।
ফেব্রুয়ারি ২৭ আলজেরিয়া একটি প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে সাহারাবি আরব গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (এসএডিআর) গঠন করার ঘোষণা দিল।*
* জাতিসংঘের সদস্য-রাষ্ট্র নয়। বর্তমানে জাতিসংঘের মাত্র ৪৬টা সদস্য-রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। মরক্কো বিসংবাদিত অঞ্চলটির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, স্বাধীনতাকামীরা দেখে “আফ্রিকার শেষ উপনিবেশ” হিসেবে।
১৯৭৭-৭৮ সোভিয়েত মদতে ইথিওপীয় সেনাবাহিনী ইরিত্রীয় গেরিলাদের পিছু হঠাতে সাময়িকভাবে সফল হল।
১৯৭৭ ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করল জিবুতি। প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন হাসান গুলেদ আপ্তিদন। স্বাধীনতার পরেও ফ্রান্স জিবুতিতে একটি সেনাঘাঁটি বহাল রেখেছে।
কারাহেফাজতে পুলিশের হাতে খুন হলেন স্টিভ বিকো।*
* বিকো ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় অ্যাপার্টহেইড-বিরোধী সক্রিয়তাবাদী।
১৯৮০ রোডেশিয়ার স্বাধীনতালাভ। নতুন নাম জিম্বাবুয়ে। প্রথম প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মুগাবে।
১৯৮২ লাল তারা প্রচারাভিযান, ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করল ইথিওপিয়া। উদ্দেশ্য বিদ্রোহ দমন। এই অভিযানে ইথিওপিয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়।
১৯৯০ ফেব্রুয়ারি ১০ রাজবন্দী হিসেবে কয়েদ খাটার ২৭ বছর পর নেলসন ম্যান্ডেলাকে কারাগার থেকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দেয়া হল।
১৯৯১-৯৩ অ্যাপার্টহেইড জমানার অধিকাংশ আইন রদ করা হল।
১৯৯১ ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারা দখল করে একটি প্রাদেশিক সরকার গঠন করল ইপিএলএফ। মেনজিসতু হাইলে মারইয়ামের পতন ঘটাতে ইথিওপিয়ার বিদ্রোহী আন্দোলনে নিজ মিত্রদের সহায়তা দিল।
১৯৯৩ ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল ইরিত্রিয়া।
তথ্যসূত্র
রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।
Adejumobi, Saheed A. 2007. The History of Ethiopia. Greenwood Press.
Araujo, Ana Lucia. 2024. Humans in Shackles: An Atlantic History of Slavery. The University of Chicago Press.
BBC.
Connolly, Sean. 2008. Sudan. Rourke Publishing LLC.
Domingo, Vernon. 2003. South Africa. Chelsea House.
Dikötter, Frank. 2020. Dictators: The Cult of Personality in the Twentieth Century. Bloomsbury.
Eltis, David, and Richardson, David. 2010. Atlas of the Transatlantic Slave Trade. Yale University Press.
Encyclopedia Britannica.
Gritzner, Janet H.. 2005. Senegal. Chelsea House.
Gocking, Roger S. 2005. The History of Ghana. Greenwood Press.
History Channel
https://www.history.com/
Hochschild, Adam. 1998. King Leopold’s Ghost: A Story of Greed, Terror, and Heroism in Colonial Africa. Pan Macmillan.
Kramer, Robert S., Richard A. Lobban Jr., and Carolyn Fluehr-Lobban. 2013. Historical Dictionary of the Sudan. 4th ed. Scarecrow Press
Oppong, Joseph R., and Woodruff, Tania. 2007. Democratic Republic of the Congo. Chelsea House.
Oppong, Joseph R.. 2008. Rwanda. Chelsea House.
— 2010. Sudan. Chelsea House.
Oxford Reference.
Phillips, Douglas A. 2003. Nigeria. Chelsea House.
World History Encyclopedia.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



