Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Image: Perry-Castañeda Library Map Collection, The University of Texas at Austin.

পূর্বসাল

চতুর্থ শতাব্দী মধ্য এশিয়া* জয় করলেন ম্যাকিদোনিয়ার সিকান্দার শা।

* পাঁচটি দেশ নিয়ে মধ্য এশিয়া অঞ্চলটি গঠিত। এগুলো হল উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, ও তুর্কমেনিস্তান। ভারতবর্ষের সাথে মধ্য এশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে, কারণে প্রাচীন ভারতের আর্যভাষী গোষ্ঠী আর মধ্যকালীন ভারতের মুঘল শাসকবৃন্দ উভয়েই এই উপমহাদেশে অত্র অঞ্চল থেকে এসেছে।

প্রথম শতাব্দী যে-সিল্ক রোড চীনকে রুমি সাম্রাজ্য ও ইওরোপের সাথে যুক্ত করেছিল, এই শতাব্দীতে বর্তমান তাজিকিস্তান সমেত পুরো মধ্য এশিয়া তার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।

সাল

চতুর্থ শতাব্দী কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম এশিয়া জয় করল হুনরা।

সপ্তম শতাব্দী আরবদের মধ্য এশিয়া জয় ও অঞ্চলটির ইসলামিকরণ।

১২১৮ চেঙ্গিজ খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলদের মধ্য এশিয়া আক্রমণ।

চতুর্দশ শতাব্দী বর্তমান তাজিকিস্তান এসময় আমির তৈমুরের সাম্রাজ্যের অংশ।

১৮৬০য়ের দশক মধ্য এশিয়ার অধিকাংশ রুশ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে এল।

১৮৬০-১৯০০ বর্তমান তাজিকিস্তানকে এ-সময় দু’ভাগে ভাগ করা হয়। উত্তরাঞ্চল রুশ সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হয়। দক্ষিণাঞ্চল থাকে বোখারার ইমারাতের হাতে।

১৯২১ তুর্কিস্তান স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অংশ হল উত্তর তাজিকিস্তান।

১৯২৪ তাজিক স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র গঠন করল সোভিয়েতরা, যা উজবেক স্বায়ত্তশাসিত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের অংশ হয়ে গেল।

১৯২৯ প্রতিষ্ঠা করা হল তাজিকিস্তান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।

১৯৩০য়ের দশক তাজিক কৃষিসমাজের ব্যাপক প্রতিরোধ উপেক্ষা করে কৃষির সমবায়ীকরণ সম্পন্ন করা হল।

১৯৬০য়ের দশক তাজিকিস্তান এ-সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের তৃতীয় প্রধান তুলা উৎপাদনকারী প্রজাতন্ত্র।

১৯৭০য়ের দশক তাজিকিস্তানে ইসলামপন্থী রাজনীতির উত্থানের দশক।

১৯৭৮ তাজিকিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী বিক্ষোভে ১৩,০০০ মানুষ অংশ নিলেন।

১৯৮৯ প্রতিষ্ঠা করা হল রাস্তোখেনজ পিপল’স ফ্রন্ট।

১৯৯০ তাজিকিস্তানে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন। পরিস্থিতি সামলাতে জরুরি অবস্থা জারি করা হল। রাজধানী দুশানবে-তে ৫০০০ সোভিয়েত সেনা পাঠান হল।

১৯৯১ সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল তাজিকিস্তান। দেশটির প্রথম প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হলেন রাহমন নবিয়েভ। কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটসে (সিআইএস) যোগ দিল তাজিকিস্তান।

১৯৯২ তাজিকিস্তানে গৃহযুদ্ধ: সরকারপন্থী, ইসলামপন্থী, আর গণতন্ত্রপন্থীদের লড়াইয়ে ২০,০০০ মানুষের মৃত্যু; গৃহহারা হলেন ৬ লক্ষ মানুষ।

রাহমন নবিয়েভের পদত্যাগ, নয়া রাষ্ট্রপ্রধান এমোমালি রাহমনভ।

১৯৯৩ তাজিকিস্তানের ওপর রাহমনভ সরকার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সব বিরোধী দলকে নিষিদ্ধ করে দিল। ফলে তাজিকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি তাজিকিস্তানের একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হয়ে উঠল।

১৯৯৭ তাজিকিস্তান সরকারের সাথে শান্তিচুক্তি সই করল বিদ্রোহীদের ইউনাইটেড তাজিক অপোজিশন (ইউটিও)।

১৯৯৯ দ্বিতীয় মেয়াদে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হলেন এমোমালি রাহমনভ। ইউটিও’র সশস্ত্র শাখাকে সেনাবাহিনীর অঙ্গীভূত করা হল। “অর্ডার অফ হিরো অফ তাজিকিস্তান” খেতাবে ভূষিত হলেন রাহমনভ।

২০০১ চীন, রাশিয়া, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, ও কাজাখস্তানের সাথে মিলে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) গঠন করল তাজিকিস্তান। তাজিকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে খুন হলেন সমরপ্রভু রাহমন সানগিনভ। ৯/১১-র প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তাজিকিস্তান তাতে সহায়তা করা প্রস্তাব দিল।

২০০৩ তাজিকিস্তান সফর করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

২০০৪ মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশের অনুমোদন দিল তাজিকিস্তান। তাজিকিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক ঘাঁটি বসাল রাশিয়া। সোভিয়েত আমলের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিল।

২০০৫ তাজিকিস্তানের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা মাহমাদরুজি ইস্কান্দারভকে সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত করে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল।

২০০৬ তৃতীয় মেয়াদে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হলেন এমোমালি রাহমনভ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানালেন, নির্বাচনটি মুক্ত বা ন্যায্য কোনোটাই ছিল না।

২০০৭ এমোমালি রাহমনভ হুকুম দিলেন, তাজিক বাচ্চাদের নাম আর রুশ রীতিতে রাখা যাবে না। নামের শেষের ‘অভ’ অংশটুকু ফেলে দিতে হবে। নিজেকে দিয়ে শুরু করলেন, হলেন: এমোমালি রাহমন।

প্রকাশিত হল পল বার্গনের বার্থ অফ তাজিকিস্তান: ন্যাশনাল আইডেনটিটি অ্যান্ড দ্য অরিজিনস অফ দ্য রিপাবলিক

২০১১ চীনের সাথে তাজিকিস্তানের ঐতিহাসিক সীমান্ত বিরোধিতার মীমাংসা।

২০১৩ চতুর্থ মেয়াদে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হলেন এমামোলি রাহমান।

২০১৫ একটি সদ্য রিলিজকৃত ভিডিওতে তাজিকিস্তানের স্পেশাল ফোর্সেসের প্রধান গুলমুরদ খালিমভ দাবি করলেন, সরকারের ইসলামবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তিনি ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়েছেন।

২০১৬ বকশ নদীর ওপরে বিতর্কিত রোগুন জলবিদ্যুৎ বাঁধ প্রকল্পের কাজ চালু করল তাজিকিস্তান। উজবেকিস্তান এই বাঁধ নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করে। তাঁদের আশঙ্কা, বাঁধের ফলে উজবেকিস্তানের কৃষি বিপন্ন হবে।

২০১৭ এবছরের এপ্রিল থেকে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী তাজিকিস্তানের আনুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম প্রেসিডেন্ট রাহমনকে তাঁর পূর্ণ খেতাবে ডাকতে বাধ্য, আর সেটি হল “ফাউন্ডার অফ পীস অ্যান্ড ন্যাশনাল ইউনিটি, লিডার অফ দ্য নেশন, প্রেসিডেন্ট অফ দ্য রিপাবলিক অফ তাজিকিস্তান, হিজ এক্সিলেন্সি এমোমালি রাহমন।”

২০২০ প্রকাশিত হল ইরাজ বাশিরির দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য সিভিল ওয়ার ইন তাজিকিস্তান। প্রকাশিত হল এরিকা ফ্যাটল্যান্ডের সোভিয়েতিস্তান: ট্রাভেলস ইন তুর্কমানিস্তান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, অ্যান্ড উজবেকিস্তান

তথ্যসূত্র

BBC. 2018. “Tajikistan profile – Timeline.” BBC, July 31, 2018.
https://www.bbc.co.uk/news/world-asia-16201087

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

By irrafinofficial

ইরফানুর রহমান রাফিনের জন্ম ঢাকায়, ১৯৯২ সালে। বর্তমানে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে লিখে অন্নসংস্থান করেন। নিজেকে স্মৃতি সংরক্ষণকারীদের পরম্পরার একজন হিসাবে দেখেন। যোগাযোগ: irrafin2022@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Creative Commons License
Except where otherwise noted, the content on this site is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License.