উত্তর কোরিয়া

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Encyclopedia Britannica.

পূর্বসাল

পূর্বসাল ২৩৩৩-৯৩৫ সাল প্রাচীন কোরিয়া – সময়রেখা

সাল

৯১৮-১৯১০ মধ্যযুগীয় কোরিয়া – সময়রেখা

বিভাগপূর্ব কোরিয়ায় জাপানি দখলদারিত্বের বছরগুলো
১৯১০-৪৫

১৯১০ আগস্ট ২২ কোরিয়াকে নিজ সীমানাভুক্ত করে নিল সাম্রাজ্যিক জাপান। দেশটি ইয়ি রাজবংশের শাসনের অবসান। জাপানি উপনিবেশে পরিণত হল কোরিয়া।

১৯১২ এপ্রিল ১৫ পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কোথাও জন্মগ্রহণ করেন কিম ইল-সুং।

১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia

১৯১৯ জানুয়ারি ২২ প্রাক্তন কোরীয় সম্রাট কোজংয়ের মৃত্যু।

মার্চ ১ ঘোষিত হল কোরিয়ার স্বাধীনতা, দেশজুড়ে জাপবিরোধী বিক্ষোভ।

এপ্রিল ৯ সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হল অস্থায়ী কোরিয়া সরকার।

১৯২৬ জুন ১০ সম্রাট সুনজংয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।

সেপ্টেম্বর ১৭ সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন কিম ইল-সুং।*
* ১৯৭০য়ের দশকে প্রথম এই দাবি তোলা হয়।

১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia

১৯৪০ সেপ্টেম্বর কিম ইল-সুং ও তাঁর কাপসিন গেরিলা যোদ্ধারা পিছু হটেন। সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে যান। অবশেষে লাল ফৌজে যোগ দেন।

১৯৪২ ফেব্রুয়ারি ১৬ পায়েকতু পর্বতে জন্মগ্রহণ করেন কিম জং-ইল।*
* ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়ার (ডিপিআরকে) বর্ণনা মোতাবেক।

১৯৪৫ ৩৮ ডিগ্রি অক্ষরেখায় কোরিয়াকে পার্টিশনড করা হল। উত্তর কোরিয়ায় কার্যত সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল। আর দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হল মার্কিন নিয়ন্ত্রণ।*
* কোরিয়ায় জাপানি উপনিবেশিক শাসনের যুগ শেষ হল।

কিম ইল-সুং আমল
১৯৪৮-৯৪

১৯৪৬ কোরিয়ার দুই অংশেই গঠিত হল ওয়ার্কার্স পার্টি।

১৯৪৮ কোরীয় উপদ্বীপের উত্তরে কোরিয়া গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্র (ডিপিআরকে) প্রতিষ্ঠিত হল। উত্তর কোরিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান কিম ইল-সুং। উত্তর কোরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করল সোভিয়েত ইউনিয়ন।

উপদ্বীপটির দক্ষিণে প্রতিষ্ঠিত হল কোরিয়া প্রজাতন্ত্র (আরওকে)। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন সিংম্যান রি। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রইল।

১৯৪৯ দুই কোরিয়ার দুই ওয়ার্কার্স পার্টি মার্জড হয়ে গঠন করল ওয়ার্কার্স পার্টি অফ কোরিয়া (ডব্লিউপিকে)।

১৯৫০ কোরীয় যুদ্ধের সূচনা।

১৯৫৩ জুলাই ২৭ জাতিসংঘের বাহিনী, চীনা বাহিনী, আর উত্তর কোরিয়ার বাহিনী কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করলো। এর মধ্য দিয়ে রণাঙ্গনের লড়াইয়ের অবসান ঘটলো।* দক্ষিণ কোরিয়া কোনদিনই এই চুক্তিতে সই করেনি, ফলে টেকনিকালি কোরীয় যুদ্ধ এখনো চলছে।
* কোরীয় যুদ্ধে ২০-৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।

১৯৬০-৬৯ দ্রুত শিল্প প্রবৃদ্ধি অর্জন করল উত্তর কোরিয়া।

১৯৬৮ জানুয়ারি উত্তর কোরিয়া তার পশ্চিম উপকূলে মার্কিন গোয়েন্দা জাহাজ ইউএসএস পুয়েবলোকে পাকড়াও করল, ১১ মাস ধরে জাহাজটির ৮২ জন ক্রুসদস্যকে আটক করে রাখা হল।

১৯৭১ দুই কোরিয়ার রেড ক্রস সোসাইটিগুলোর মধ্যে কোরীয় পুনরেকত্রীকরণের জন্য আলোচনা শুরু হল।

১৯৭২ শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণের আশাবাদ ব্যক্ত করে যৌথ বিবৃতি প্রদান করল উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া।

১৯৭৪ ফেব্রুয়ারি পুত্র কিম জং-ইলকে স্বীয় উত্তরাধিকারী হিসাবে মনোনীত করলেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম ইল-সুং।*
* বামপন্থী রাজনীতিতে সাধারণত বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারের রেয়াজ নেই। প্রধান নেতার উত্তরাধিকারী পার্টি থেকে নির্বাচিত হন। উত্তর কোরিয়া এই নিয়মের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম।

১৯৮৫ ইন্টারন্যাশনাল নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটিতে যোগদান করল উত্তর কোরিয়া।

১৯৮৬ উত্তর কোরিয়ায় ইয়ংবিয়ন গবেষণামূলক পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর চাল হল।

১৯৯০-৯৯ উত্তর কোরিয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। সরকারি হিসাবে, এই দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ ২৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৩৫ হাজারের মাঝামাঝি। (Natsios 2001) এর দাবি সংখ্যাটা অনেক বেশি, ২৫ লক্ষ থেকে ৩৫ লক্ষের মাঝামাঝি।

১৯৯১ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া জাতিসংঘে যোগ দিল। দুই কোরিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরেকত্রীকরণের জন্য আলোচনা শুরু হল। ইউনিফিকেশন ফ্ল্যাগের নকশা আঁকা হল।

১৯৯২ কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখতে দুই কোরিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হল।

১৯৯৩ উত্তর কোরিয়াকে ইন্টারন্যাশনাল নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করলো আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার হুমকি দিলো উত্তর কোরিয়া। দেশটি জাপান সাগরে মধ্যপরিসীমার রদং ব্যালাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে নিঃক্ষেপ করে।

১৯৯৪ জুলাই কিম ইল-সুংয়ের মৃত্যু। উত্তর কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হলেন কিম জং-ইল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করল উত্তর কোরিয়া।

কিম জং-ইল আমল
১৯৯৪-২০১১

১৯৯৬ এপ্রিল উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করল, সে আর ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সেনাকে ডিমিলিটারাইজড জোনে প্রেরণ করা হল।

১৯৯৭ ডন ওবারডর্ফার, দ্য টু কোরিয়াজ: আ কনটেম্পোরারি হিস্ট্রি

১৯৯৮ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন কিম দাই-জুং। গ্রহণ করলেন উত্তর কোরিয়াকে নিঃস্বার্থ অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা দেয়ার “সানশাইন পলিসি।” কিম ইল-সুংকে উত্তর কোরিয়ার “এটারনাল প্রেসিডেন্ট” ঘোষণা করা হল।

২০০০ জুন উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং ইলের সাথে সাক্ষাৎ করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম দাই-জুং। ৩,৫০০য়েরও বেশি রাজবন্দীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করল দক্ষিণ কোরিয়া। ১০০ উত্তর কোরীয়কে তাঁদের দক্ষিণ কোরীয় আত্মীয়দের সাথে দেখা করার সুযোগ দেয়া হল।

কংদান ওহ ও র‍্যালফ সি. হাসিগ, নর্থ কোরিয়া: থ্রু দ্য লুকিং গ্লাস

২০০২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়র ইরাক ও ইরানের সাথে উত্তর কোরিয়াকেও শয়তানের অক্ষ বলে চিহ্নিত করলেন।

জুন দুই কোরিয়ার মধ্যে সাময়িক নৌ সংঘাতের ফলে ৪ জন দক্ষিণ কোরীয় ও ৩০ জন উত্তর কোরীয়র মৃত্যু।

সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া সফর করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমি। এসময় উত্তর কোরিয়া স্বীকার করে যে ১৯৭০য়ের দশক ও ১৯৮০য়ের দশকে তারা ১৩ জন জাপানি নাগরিককে অপহরণ করেছিল যাদের মধ্যে অন্তত ৪ জন বেঁচে আছেন।

ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়া স্বীকার করে নিল তারা গোপনে পারমাণবিক সামর্থ্য বৃদ্ধি করে চলেছে। ইয়ংবিয়নে নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিজ চালু করল উত্তর কোরিয়া, জাতিসংঘের পরিদর্শকদের দেশটি থেকে তাড়িয়ে দিল।

এরিক কর্নেল, নর্থ কোরিয়া আন্ডার কমিউনিজম: রিপোর্ট অফ অ্যান এনভয় টু প্যারাডাইস
সুনেও আকাহা (সম্পা.), দ্য ফিউচার অফ নর্থ কোরিয়া

২০০৩ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি থেকে বেরিয়ে আসল উত্তর কোরিয়া। নিউক্লিয়ার ইস্যুর সমাধানকল্পে ছয় জাতির ধারাবাহিক সংলাপ শুরু হল। এরা হচ্ছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, রাশিয়া, ও যুক্তরাষ্ট্র।

মে কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ১৯৯২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসল উত্তর কোরিয়া।

অক্টোবর কোরীয় যুদ্ধের পরে সর্বাধিক সংখ্যক কোরীয়র ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) অতিক্রমণ। দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই কনগ্লোমারেটের অর্থায়নে তৈরি এক জিমনেশিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে শত শত দক্ষিণ কোরীয় পিয়ংইয়ং সফর করলেন।

ই. কোয়ান চোই, ই. হান কিম ও ইয়েসুক মেরিল (সম্পা.), নর্থ কোরিয়া ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি

২০০৪ আন্দ্রেই লানকভ, ক্রাইসিস ইন নর্থ কোরিয়া: দ্য ফেইলিয়ার অফ ডি-স্ট্যালিনাইজেশন, ১৯৫৬
মাইকেল হ্যারল্ড, কমরেডস অ্যান্ড স্ট্রেঞ্জার্স: বিহাইন্ড দ্য ক্লোজড ডোরস অফ নর্থ কোরিয়া
ব্র্যাডলি কে. মার্টিন, আন্ডার দ্য লাভিং কেয়ার অফ দ্য ফাদারলি লিডার: নর্থ কোরিয়া অ্যান্ড দ্য কিম ডাইনাস্টি
ব্রুস কামিংস, নর্থ কোরিয়া: অ্যানাদার কান্ট্রি

২০০৫ ফেব্রুয়ারি উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মত প্রকাশ্যে স্বীকার করল, দেশটি ‘আত্মরক্ষার’ স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে।

টিম বেয়াল, নর্থ কোরিয়া: দ্য স্ট্রাগল অ্যাগেইন্সট আমেরিকান পাওয়ার

২০০৬ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি ভূগর্ভস্থ ফ্যাসিলিটিতে প্রথমবারের মত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করল। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করল।

ইয়ান জেফরিজ, নর্থ কোরিয়া: আ গাইড টু ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল ডেভলাপমেন্টস
বালাস জালনতাই, কিম ইল সুং ইন দ্য ক্রুশ্চেভ এরা: সোভিয়েত-ডিপিআরকে রিলেশনস অ্যান্ড দ্য রুটস অফ নর্থ কোরিয়ান ডেসপটিজম, ১৯৫৩-৬৪

২০০৭ ফেব্রুয়ারি দুই কোরিয়া শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপে বসতে সম্মত হল। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিতে রাজি হল।

মে ৫৬ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত কোরিয়ার উত্তর-দক্ষিণ সীমান্ত অতিক্রম করল যাত্রীবাহী ট্রেন।

আগস্ট সিউলের কাছে খাদ্য সহায়তা চাইল পিয়ংইয়ং, দক্ষিণ কোরিয়া জানাল তারা উত্তরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য পাঠাবে।

অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম প্রেসিডন্ট হিসাবে ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) অতিক্রম করলেন রোহ মু-ইউন।

সুং ছুল কিম, নর্থ কোরিয়া আন্ডার কিম জং ইল: ফ্রম কনসলিডেশন টু সিস্টেমিক ডিজোন্যান্স
মার্ক এডওয়ার্ড হ্যারিস, ইনসাইড নর্থ কোরিয়া

২০০৮ মার্চ দুই কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি।

গ্লিন ফোর্ড ও সইয়িং কিওন, নর্থ কোরিয়া অন দ্য ব্রিংক: স্ট্রাগল ফর সার্ভাইভাল
চার্লস রবার্ট জেনকিনস (জিম ফ্রেডেরিকের সাথে), দ্য রিলাকটেন্ট কমিউনিস্ট: মাই ডেজারশন, কোর্ট-মার্শাল, অ্যান্ড ফোর্টি-ইয়ার ইমপ্রিজনমেন্ট ইন নর্থ কোরিয়া

২০০৯ জানুয়ারি উত্তর কোরিয়া জানাল দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে হওয়া সব আর্থসামরিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবে।

মার্চ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার অভিযোগে দুই মার্কিন সাংবাদিক লরা লিং ও ইউনা লিকে গ্রেপ্তার করল উত্তর কোরিয়া।

মে দ্বিতীয়বারের মত পারমাণবিক পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া।

জুন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার নিন্দা জানাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম দাই-জুংয়ের মৃত্যু, মৃতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সিউলে প্রতিনিধি পাঠাল উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিশেষ তৎপরতায় মুক্তি পেলেন গ্রেপ্তারকৃত মার্কিন সাংবাদিকদ্বয় লরা ও ইউনা, যাদের ১২ বছর কঠোর শ্রমের দণ্ড দেয়া হয়েছিল।

নভেম্বর বিতর্কিত নৌসীমা কেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরে দুই কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে গুলি বিনিময়।

জ্যা-ছেওন লিম, কিম জং ইল’স লিডারশিপ অফ নর্থ কোরিয়া
ক্রিস স্প্রিংগার, নর্থ কোরিয়া কট ইন টাইম: ইমেজেস অফ ওয়ার অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন
সুং ছুল কিম ও ডেভিড সি. কাং (সম্পা.), এনগেইজমেন্ট উইদ নর্থ কোরিয়া: আ ভায়াবল অল্টারনেটিভ

২০১০ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করল উত্তর কোরিয়া।

মে একটি উত্তর কোরীয় টর্পেডো দক্ষিণ কোরীয় নৌজাহাজ চেওনানকে ডুবিয়ে দিলে উত্তরের সাথে সর্বপ্রকার বাণিজ্য থেকে বেরিয়ে এল দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল উত্তর কোরিয়া।

নভেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যে সীমিত আকারে গুলি বিনিময়।

ব্রায়ান রেইনল্ডস মায়ার্স, দ্য ক্লিনেস্ট রেস: হাউ নর্থ কোরিয়ানস সী দেমসেলভস অ্যান্ড হোয়াই ইট ম্যাটার্স
নারুশিগে মিচিশিতা, নর্থ কোরিয়াজ মিলিটারি-ডিপ্লোমেটিক ক্যাম্পেইনস, ১৯৬৬-২০০৮
সুক-ইয়ুং কিম, ইল্যুসিভ ইউটোপিয়া: থিয়েটার, ফিল্ম, অ্যান্ড এভরিডে পারফরমেন্স ইন নর্থ কোরিয়া

২০১১ ডিসেম্বর কিম জং-ইলের মৃত্যু। উত্তর কোরিয়ার নতুন রাষ্ট্রনায়ক হলেন কিম জং-উন। দেশটিতে ক্ষমতায় আসল কিম পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম।

কেন ই. গাউস, নর্থ কোরিয়া আন্ডার কিম জং-ইল: পাওয়ার, পলিটিকস, অ্যান্ড প্রসপেক্টস ফর চেইঞ্জ
সুক হি কিম, তেরেন্স রোয়েহরিগ, ও বার্নহার্ড স্যালিজার (সম্পা.), দ্য সার্ভাইভাল অফ নর্থ কোরিয়া: এসেজ অন স্ট্র্যাটেজি, ইকোনমিকস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস

কিম জং-উন আমল
২০১১-বর্তমান

২০১২ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া দাবি করল তার কাছে এমন ক্ষেপনাস্ত্র আছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে।

২০১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া, প্রতিক্রিয়ায় দেশটির ওপর নতুন করে অবরোধ দিল যুক্তরাষ্ট্র।

মার্চ উত্তর কোরিয়াকে সাইবার আক্রমণের দায়ে অভিযুক্ত করল দক্ষিণ কোরিয়া।

সেপ্টেম্বর চীন মিত্রতা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ায় এমন সব জিনিশপাতির রফতানি নিষিদ্ধ করল যা পারমাণবিক, রাসায়নিক, বা জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।

ডিসেম্বর কিম জং-উনের চাচা শাং সং-থায়েককে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে অপরাধী সাব্যস্ত করা এবং দ্রুত তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।

আন্দ্রেই লানকভ, দ্য রিয়েল নর্থ কোরিয়া: লাইফ অ্যান্ড পলিটিকস ইন দ্য ফেইল্ড স্ট্যালিনিস্ট ইউটোপিয়া

২০১৪ মার্চ বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে গুলিবিনিময়।

ডিসেম্বর ‘উত্তর কোরিয়াপন্থী’ হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে দক্ষিণ কোরিয়ার বামপন্থী রাজনৈতিক দল ইউনিফাইড প্রগ্রেসিভ পার্টিকে নিষিদ্ধ করল দেশটির সাংবিধানিক আদালত।

২০১৬ জানুয়ারি উত্তর কোরিয়া সরকার প্রথমবারের মত হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার ঘোষণা দিল, যদিও বিশেষজ্ঞরা ঘোষণার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।

মে ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হল। কিম জং-উন পার্টিপ্রধান হিসাবে নির্বাচিত হলেন।

২০১৭ মে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন মুন জে-ইন, উত্তর কোরিয়ার সাথে সংকট কূটনৈতিক উপায়ে নিরসনের প্রতিজ্ঞা করলেন এই মধ্য-বামপন্থী।

২০১৮ এপ্রিল উত্তর কোরিয়ার প্রথম নেতা হিসাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন কিম জং-উন।

জুন সিঙ্গাপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারে মিলিত হলেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং-উন।

চৌ সু নাম ও পাক কুম ইল, ডিপিআরকে: সেভেন ডিকেডস অফ ক্রিয়েশন অ্যান্ড চেইঞ্জেস

২০১৯ প্রথমবারের মত রাশিয়া সফর করলেন কিম জং-উন।

লেনকা কাইসোভা, নর্থ কোরিয়াজ ফরেন পলিসি: দ্য ডিপিআরকে’জ পার্ট অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল সীন অ্যান্ড ইটস অডিয়েন্সেস

২০২২ এরিক ইয়ং জুন লি ও রিদওয়ান করিম, দ্য ইউএস-ডিপিআরকে পীস ট্রিটি: আ কমেন্টারি

২০২৬ জানুয়ারি ৪ জাপান সাগরের ওপর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া।
২০ প্রকাশ্যে অযোগ্যতার অভিযোগ তুলে ইয়াং সুং-হোকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করলেন কিম জং-উন।
২৬ উত্তর কোরিয়াকে চারজন জাইনিচি কোরিয়ানকে ৮৮ মিলিয়ন ইয়েন (৫৭০,০০০ মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিলো জাপানের টোকিও জেলা আদালত। এই চারজনকে প্রচারণার মাধ্যমে দেশটিতে যেতে প্রলুব্ধ করা হয়েছিলো। কিন্তু পালিয়ে আসার আগে তারা অনুপযুক্ত পরিস্থিতির শিকার হন।
২৭ জাপান সাগরের ওপর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া।

ফেব্রুয়ারি ১৯-২৫ কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির ৯ম কংগ্রেস।
২২ কিম জং-উনকে কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনিয়োগ দেয়া হলো।
২৩ কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো জংকে পার্টির একজন পূর্ণ বিভাগীয় পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হলো।

মার্চ ৯ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিংকে লেখা এক চিঠিতে চীনের সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেন কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কিম জং-উন।
১২ কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ সাল থেকে স্থগিত থাকার পর বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু হলো।
১৪ সুনানের একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে জাপান সাগরে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলো উত্তর কোরিয়া।
১৫ ২০২৬ সালের উত্তর কোরিয়ার সংসদীয় নির্বাচন।
২২ ২০২৬ সালের উত্তর কোরিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় কিম জং-উন স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের চেয়ারম্যান (রাষ্ট্রপ্রধান) হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হন এবং পাক থায়ে-সং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনিযুক্ত হন।
২৫ পিয়ংইয়ংয়ে কিম জং-উনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন বেলারুশের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো।

এপ্রিল ৮ কেসিএনএ জানালো, সপ্তাহজুড়ে হোয়াসংফো-১১ কা নামক একটি সারফেস-টু-সারফেস কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
১৯ ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে জাপান সাগরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া।
২৭ রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধে (২০২২–বর্তমান) উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততার স্মরণে পিয়ংইয়ংয়ে একটি জাদুঘর ও স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হলো।

মে ২৫ পীত সাগরের দিকে বেশ কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলো উত্তর কোরিয়া।

জুন ৮ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফর করলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

তথ্যসূত্র

BBC.

Hoare, James E. 2012. Historical Dictionary of Democratic People’s Republic of Korea. The Scarecrow Press.

Natsios, Andrew S. 2001. The Great North Korean Famine. United States Institute of Peace Press.

Salter, Christopher L. 2007. North Korea. 2nd ed. Chelsea House.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *