আধুনিক জাপান

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Image: The Nations Online Project.

পূর্বসাল

১৬ হাজার বছর আগে থেকে ১১৮৫ সাল প্রাচীন জাপান

সাল

১১৮৫-১৬০৩ মধ্যযুগীয় জাপান

১৬০৩-১৮৬৮ আদি আধুনিক জাপান

১৬০৩-১৮৬৮ এডো পর্ব

১৬০৩-০৫ শোগুন তোকুগাওয়া ইয়েসুর শাসনকাল।

১৬১৪ ওসাকা প্রাসাদের সমর, তোয়োতোমি হিদেয়োরির মৃত্যু।

১৬৩৭-৩৮ শিমবারা বিদ্রোহ।

১৮৩৩-৩৭ টেম্পো দুর্ভিক্ষ।

১৮৩৭ ওসাকায় একটি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিলেন ওশিও হেইহাচিরো।

১৮৫৩ জাপানে আগমন ঘটল মার্কিন রণতরীর কমোডোর পেরির।

১৮৫৪ কানাগাওয়া চুক্তি সই।

১৮৫৬-৫৮ অসম চুক্তিসমূহের সূচনা।

১৮৬৭-৬৮ মেইজি পুনর্বহাল।*
* জাপানে শোগুনশাহির অবসান। এডো শহরের নাম পাল্টে টোকিও রাখা হল, এডো প্রাসাদ পরিণত হল সাম্রাজ্যিক প্রাসাদে। আমূল শিল্পায়নের মাধ্যমে আধুনিকীকরণের সূচনা ঘটান মেইজি’রা।

১৮৬৮-বর্তমান আধুনিক জাপান

১৮৭১-৭৩ জাপানে ভূমি সংস্কার। দেশটির সেনাবাহিনীতে পুরুষদের সর্বজনীন ও বাধ্যতামূলক নিয়োগ। ইওয়াকুরা মিশন।

১৮৭৪ জাপানের তাইওয়ান অভিযাত্রা। সাগা বিদ্রোহ। আত্মহত্যা করলেন এতো শিম্পেই।

১৮৭৬ বাণিজ্যের জন্য কোরিয়াকে বন্দর উন্মুক্ত করে দিতে বাধ্য করল সাম্রাজ্যিক জাপান।

১৮৭৭ সাতসুমা বিদ্রোহ, আত্মহত্যা করলেন সাইগো তাকামোরি।

১৮৭৮ আততায়ীদের হাতে খুন হয়ে গেলেন ওকুবো তোশিমিচি।

১৮৮১ ক্ষমতাচ্যুত হলেন ওকুমা, সংবিধানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হল।

১৮৮৯ মেইজি সংবিধান।

১৮৯০ অনুষ্ঠিত হল জাপানের প্রথম ডায়েট নির্বাচন।*
* জাপানে সংসদ ডায়েট নামে পরিচিত।

১৮৯৪ অসম চুক্তিসমূহ সংশোধন করলেন মুৎসু মুনেমিৎসু।

১৮৯৪-৯৫ প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ। শিমোনোসেকি চুক্তি। এই যুদ্ধে মাত্র ৯ মাসে হেরে যায় চীন এবং তাইওয়ান চীনের হাতছাড়া হয়।

১৮৯৮ জাপানে প্রণীত হল নাগরিক বিধি।

১৮৯৯ অসম চুক্তিসমূহের অবসান।

১৯০০ বক্সার বিদ্রোহ।

১৯০২ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে সাম্রাজ্যিক জাপানের ঐক্যজোট।

১৯০৪-৫ রুশ-জাপান যুদ্ধ ও পোর্টসমাউথের চুক্তি।*
* আধুনিক কালে জাপান প্রথম এশীয় শক্তি যে একটি ইওরোপীয় শক্তি রাশিয়াকে যুদ্ধে হারায়। মাঞ্চুরিয়ায় অর্জিত এই যুদ্ধের প্রভাব ছিল ব্যাপক। ভারত থেকে তুরস্ক পর্যন্ত বহু এশীয় দেশের জাতীয়তাবাদীরা জাপানের বিজয় দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।

১৯০৬ সান ফ্রান্সিসকোতে জাপবিরোধী বিদ্যালয় আইন পাশ হল।

১৯০৭ কোরিয়ায় আগ্রাসন চালাল সাম্র্যাজিক জাপান।

১৯০৯ কোরীয় দেশপ্রেমিকদের হাতে আততায়িত হলেন ইতো হিরোবুমি।

১৯১০ সাম্রাজ্যিক জাপান কোরিয়া দখল করে নিল। দেশটিতে ইয়ি রাজবংশের শাসনের অবসান হল। কোরিয়া জাপানের উপনিবেশে পরিণত হল।

১৯১২ মেইজি সম্রাটের মৃত্যু, আত্মহত্যা করলেন নোগি ও তাঁর স্ত্রী।

১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। এই যুদ্ধে জাপান ব্রিটেনের পক্ষে যোগ দেয়। যুদ্ধ শেষে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জার্মানির কাছ থেকে কিছু দ্বীপের দখল লাভ করে।

১৯১৫ চীনের ব্যাপারে ২৫ দফা দাবি উত্থাপিত হল।

১৯১৭ রুশ বিপ্লব

১৯১৮ ভাত দাঙ্গা, হারা তাকাশির নেতৃত্বে প্রথম পার্টি কেবিনেট।

১৯১৮-২২ রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রদেশগুলোকে বলশেভিক সরকারের বিরুদ্ধে বাফার জোন বানানোর চেষ্টা চালাল জাপান। কিন্তু ব্যর্থ হল। এই ব্যর্থতার কারণ অংশত দেশের জনমতের চাপ আর অংশত ছিল ইঙ্গ-মার্কিন কূটনৈতিক চাপ।

১৯২০-২৯ মহামন্দার জের ধরে জাপানে উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থান।

১৯২১ আততায়ীদের হাতে খুন হলেন হারা তাকাশি, সাম্রাজ্যিক জাপানের নতুন রাজপ্রতিনিধি হলেন হিরোহিতো।

১৯২৩ জাপানের কান্টো অঞ্চলে এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প দেখা দেয়, এতে প্রাণ হারান কয়েক হাজার কোরীয়। টোকিওতে ভূমিকম্পে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু। সাম্রাজ্যিক জাপানের সাথে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ঐক্যজোটের অবসান।

১৯২৫ জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদেরকে সর্বজনীন ভোটাধিকার দেয়া হল।

১৯২৬ তাইশো সম্রাটের মৃত্যু, ক্ষমতায় আসলেন শোওয়া সম্রাট।

১৯২৮ কোয়ানটুং সেনাবাহিনীর হাতে আততায়িত হলেন ঝাং জউলিন।

১৯৩১ চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ দখল করে নিল সাম্রাজ্যিক জাপান, একটি পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসাল।

১৯৩২ মানচুকোও প্রতিষ্ঠিত হল। জাতীয়তাবাদী সেনা কর্মকর্তাদের এক ব্যর্থ সামরিক ক্যুদেতায় খুন হলেন প্রধানমন্ত্রী ইনুকাই ৎসুইয়োশি। জাপানে সামরিক বাহিনীর প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেল।

১৯৩৩ লীগ অফ নেশনস থেকে বেরিয়ে এল জাপান।

১৯৩৬ কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের (কমিনটার্ন) বিরুদ্ধে নাৎসি জার্মানি আর সাম্রাজ্যিক জাপানের মধ্যে গঠিত হল এন্টাই-কমিনটার্ন প্যাক্ট।*
* পরের বছর ইতালি এই প্যাক্টে যোগদান করে।

১৯৩৭ চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল সাম্রাজ্যিক জাপান। সাংহাই, বেইজিং, ও নানজিং দখল করে নিল। রেপ অফ নানজিং।*
* এতে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিবাদ আছে, ধারণা করা হয় সংখ্যাটা প্রায় আড়াই লক্ষ থেকে ৯ লক্ষের মাঝামাঝি।

১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

ফরাসিদের কাছ থেকে ইন্দোচীন দখল করে জাপান।

১৯৪০ সাম্রাজ্যিক জাপান, নাৎসি জার্মানি, আর ফ্যাশিস্ত ইতালি গঠন করল ত্রিদলীয় ঐক্যজোট।

১৯৪১ সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে নিরপেক্ষতা চুক্তিতে সই করল সাম্রাজ্যিক জাপান। হাওয়াইয়ের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌবহরে হামলা চালাল সাম্রাজ্যিক জাপান, এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে মিত্রপক্ষে যোগদান করে।

১৯৪২ ফিলিপাইন্স, পূর্ব ইস্ট ইন্ডিয়া, বার্মা, ও মালয় সাম্রাজ্যিক জাপানের হস্তগত হল। মিডওয়ে যুদ্ধতে মার্কিনীদের হাতে পরাস্ত হল জাপানিরা। জাপানি সেনাবাহিনীকে তার সাপ্লাই লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার রণকৌশল হাতে নিল যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৪২-৪৫ জাপানে বিরতিহীন বোমাবর্ষণ শুরু করল মিত্রপক্ষ।

১৯৪৫ মার্চ টোকিওতে অগ্নিবোমাবর্ষণ শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র।

আগস্ট ৬ হিরোশিমাতে পারমাণবিক বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র।
জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল সোভিয়েত ইউনিয়ন।
নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলল যুক্তরাষ্ট্র।
১৫ মিত্রপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করল জাপান।*
* জাপানের শিন্টো ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দেশটির রাজপরিবার সূর্য দেবী আমাতেরাসুর বংশধর, এবং তাদের সম্রাট অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। হিরোশিমা-নাগাসাকিতে এই বিশ্বাস বিরাট একটা ধাক্কা খায়। মিত্রপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণকারী সম্রাট হিরোহিতো স্বীকার করে নেন, তাঁর কোন অলৌকিক ক্ষমতা নেই।

সেপ্টেম্বর ১ জাপানে মিত্রপক্ষের দখলদারিত্বের পর্ব শুরু হল।* কোরিয়ায় জাপানি উপনিবেশিক শাসনের যুগ শেষ হল।
* জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরকারের অধীনস্ত করা হল, সাম্রাজ্যিক সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী বিলুপ্ত করা হল।

১৯৪৬ জাপানে “ম্যাকআর্থার শান্তি” সংবিধান প্রণয়ন করা হল, তবে পরের বছর থেকে কার্যকর হয়।

১৯৪৭ নতুন সংবিধান জাপানে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করল। জাপান প্রতিজ্ঞা করল, সে আর নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠন করবে না, যুদ্ধ করবে না। যুদ্ধোত্তর জাপানের প্রথম নির্বাচন আয়োজিত হল।*
* ১৯৪৭ পরবর্তী জাপানে সম্রাট স্রেফ একটা আলঙ্করিক পদ, রাজপরিবার নিতান্তই ঐতিহ্যের স্বার্থে টিকে আছে।

১৯৫১ যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য সাবেক প্রতিপক্ষের সাথে সান ফ্রান্সিসকো শান্তি চুক্তি সাক্ষর করল জাপান। যুক্তরাষ্ট্র-জাপান পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি সই হল। তবে রাশিয়ার সাথে আজ পর্যন্ত কোন শান্তি চুক্তিতে সই করেনি জাপান।

১৯৫২ জাপানে মিত্রপক্ষের দখলদারিত্বের পর্ব শেষ হল। তবে ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়ে গেল। জাপানের গণতান্ত্রিক যুগের সূচনা।

১৯৫৪ জুলাই ১ গঠন করা হল জাপান সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (জেএসডিএফ)।

১৯৫৫ জাপানে প্রতিষ্ঠিত হল রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী রাজনৈতিক দল লিবারেল-ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

১৯৫৬ জাতিসংঘে যোগ দিল জাপান।

১৯৬৪ জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত হল অলিম্পিক গেমস।

১৯৭০ পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি সংশোধন করা হল।

১৯৭২ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওকিনাওয়া ফিরে পেল জাপান।* জাপানের প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন, দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হল। এর ধারাবাহিকতায় তাইওয়ানে নিজ দূতাবাস বন্ধ করে দিল জাপান।
* তবে ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েই গেল।

১৯৮২ যুক্তরাষ্ট্রে নিজের প্রথম কারখানা খুলল জাপানের গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হোন্ডা।

১৯৮৯ সম্রাট হিরোহিতোর মৃত্যু, নতুন সম্রাট হলেন আকিহিতো।

১৯৯৩ আগস্ট ঐতিহাসিক কোনো বিবৃতি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনা ও কোরীয় নারীসহ প্রতিপক্ষের নারীদের ওপর সাম্রাজ্যিক জাপানি সেনাবাহিনীর চালানো পদ্ধতিগত ধর্ষণ-নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইল জাপান।

১৯৯৫ জাপানের কোবে অঞ্চলে দেখা দিল প্রলয়ঙ্করী হানশিন ভূমিকম্প। অম শিনরিকিয়ো কর্তৃক টোকিও সাবওয়েতে বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস সারিন আক্রমণ, ১২ জনের মৃত্যু। ওকিনাওয়ায় এক মার্কিনী কর্তৃক এক জাপানি স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ায় দ্বীপ থেকে মার্কিনী বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি উঠল।

১৯৯৭ জাপানি অর্থনীতি তীব্র মন্দা পরিস্থিতিতে প্রবেশ করল।

১৯৯৮ নাগানোতে আয়োজিত হল শীতকালীন অলিম্পিক গেমস। জাপানে প্রতিষ্ঠিত হল মধ্য-বামপন্থী রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ জাপান (ডিপিজে)।

১৯৯৯ ইবারাকি প্রিফেকচারের তোকাইমুরায় পারমাণবিক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু।

২০০০ হিরোহিতোর বিধবা সম্রাজ্ঞী দোওয়াগের নাগাকোর মৃত্যু।

২০০১ ৯/১১র জের ধরে আফগানিস্তানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।

এপ্রিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী হলেন এলডিপি’র জুনিচিরো কোইজুমি।

আগস্ট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বিতর্কিত ইয়াসুকিনি শ্রাইনে শ্রদ্ধানিবেদন করলেন জুনিচিরো কোইজুমি। এই শ্রাইনে জাপানের যুদ্ধ মৃতরা শায়িত আছেন। কিন্তু মৃতদের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধীরাও আছে।

অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল সফর করলেন জুনিচিরো কোইজুমি, উপনিবেশিক আমলে তার দেশের করা অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাইলেন। মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিন ইউ.এস.এস. গ্রিনভিলয়ের সাথে জাপানের এহিমে মারুর সংঘর্ষে ৯ জনের মৃত্যু। জাপানকে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের শিকোতান ও হাকোমেই ফিরিয়ে দিতে সম্মত হল রাশিয়া।

আফগানিস্তান আগ্রাসনে জাতিসংঘের বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সেসের জাহাজ পাঠাল জাপান।

২০০২ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া সফর করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমি। এ সময় উত্তর কোরিয়া স্বীকার করে, ১৯৭০য়ের দশক ও ১৯৮০য়ের দশকে তারা ১৩ জন জাপানি নাগরিককে অপহরণ করেছিল যাদের মধ্যে অন্তত ৪ জন বেঁচে আছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ হল জাপান।

২০০৪ ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার জন্য সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সেসের সেনা পাঠাল জাপান।

২০০৬ আফগানিস্তান আর ইরাক থেকে জাপানের সেল্ফ-ডিফেন্স ফোর্সেসের সব সেনা প্রত্যাহার করা হল।

সেপ্টেম্বর জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন শিনজো আবে।

ডিসেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মত একটি পূর্নাঙ্গ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাবকে অনুমোদন দিল ডায়েট।

২০০৭ এপ্রিল প্রথম চীনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে জাপানের সংসদে ভাষণ দিলেন ওয়েন জিয়াবাও, বললেন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শিনজো আবে। জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন ইয়াসুও ফুকুদা।

২০০৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ইয়াসুও ফুকুদা। নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো আসো।

নভেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাম্রাজ্যিক জাপানের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে নিবন্ধ লেখার দায়ে চাকরি হারালেন জাপানের বিমান বাহিনী প্রধান জেনারেল তোশিও তামোগামি।

আইনুদেরকে একটি স্বতন্ত্র জাতি ও সংস্কৃতি হিসাবে স্বীকৃতি দিল জাপান।

২০০৯ জাপানের সাধারণ নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থী ডিপিজের ভূমিধবস বিজয়। দেশটিতে রক্ষণশীল-জাতীয়তাবাদী এলডিপির পাঁচদশকের একচ্ছত্র শাসনের অবসান। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন ডিপিজে’র ইউকিও হাতোয়ামা।

২০১০ ওকিনাওয়া মার্কিন বিমানঘাঁটি বন্ধ করে দিতে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন হাতোয়ামা, নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন নাওতো কান।

জন ব্রিন আর মার্ক তিউয়েন, আ নিউ হিস্ট্রি অফ শিন্টো

২০১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে জাপানকে প্রতিস্থাপিত করল চীন।

মার্চ ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়। ফুকুশিমা বিপর্যয়ের দায় মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নাওতো কান, নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন ইয়োশিহিকো নোদা।

২০১২ জুলাই জাপান ওহি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালু করল।

আগস্ট লিয়ানকোর্ট রকসের ওপর জাপানেরও দাবি থাকায় প্রতিবাদ হিসাবে টোকিও সিউল থেকে নিজ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিল।

সেপ্টেম্বর পূর্ব চীন সাগরের একগুচ্ছ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে জাপানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ৪০ বছর পূর্তির উৎসব বাতিল করল চীন।*
* জাপান এই দ্বীপগুলোকে বলে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ। চীনের ভাষায় এগুলো হল দাইয়ু দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপগুলোর ওপর তাইওয়ানেরও দাবি আছে।

ডিসেম্বর দ্বিতীয় মেয়াদে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হলেন শিনজো আবে।

২০১৩ ডিসেম্বর জাপান তার দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ ওকিনাওয়াতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটি স্থানান্তরিত করাকে অনুমোদন দিল। জাপানি সংসদ একটি নতুন নিরাপত্তা বিধি প্রণয়ন করল ও সামরিক খাতে ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করল। বিশ্লেষকদের মতে, এটা চীনকে দেয়া একটি বার্তা।

২০১৪ জুলাই জাপানি সরকার তার নিরাপত্তা নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনল, যা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে, জাপানি সেনাবাহিনী তার সীমানার বাইরেও যুদ্ধ করতে পারবে।

২০১৫ আগস্ট নতুন নিরাপত্তা বিধির আলোকে সেন্দাই প্ল্যান্টে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর পুনরায় চালু করল জাপান।

২০১৬ এপ্রিল জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিয়ুশু দ্বীপে দুটি ভূমিকম্পে ৪৪ জনের মৃত্যু, আহতের সংখ্যা ১০০০এরও বেশি, অন্তত ১ লক্ষ মানুষ গৃহহারা।

২০১৭ নভেম্বর জিবুতিতে নিজের সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারিত করল জাপান, পর্যবেক্ষকদের মতে এটা আফ্রিকায় চীনের একক প্রভাব হ্রাস করার প্রচেষ্টা।

২০১৯ এপ্রিল যুবরাজ নারুহিতোর জন্য সিংহাসন ছাড়লেন সম্রাট আকিহিতো।

২০২০ স্বাস্থ্যগত কারণ দর্শিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শিনজো আবে, দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা।

২০২২ জুলাই ৮ গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

তথ্যসূত্র

BBC.

Perez, Louis G. 2009. The History of Japan. 2nd ed. Greenwood.

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *