
বাংলাদেশ
Featured Image: Wikimedia Commons.

উৎসর্গ
ফাতেমা আক্তার (১৯৬৩-২০১৯)
“মানুষের একটাই মাতৃভূমি থাকে — তার মায়ের কবর।”
পূর্বসাল
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১২০০ সাল প্রাচীন ভারত।
পূর্বসাল ৩০০০-১২০০ সাল প্রাচীন বাংলা।
সাল
১২০৬-১৫২৬ দিল্লি সুলতানশাহি।
১৩৩৮-১৫৭৬ বাংলা সুলতানশাহি।
১৫২৬-১৮৫৮ মুঘল সাম্রাজ্য।
১৫৭৬-১৭৯৩ সুবাহ বাংলা।
১৭৫৭-১৯৪৭ ঔপনিবেশিক ভারত।
পাকিস্তান আমল
১৯৪৭-৭১
১৯৪৭ আগস্ট ১৪, মধ্যরাত ব্রিটিশ ভারতের অবসান।
১৪ ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের একটি স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হল পাকিস্তান অধিরাজ্য (Dominion of Pakistan)।*
* ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত টিকে ছিল। দরবারি প্রধান ছিলেন ব্রিটেনের রাজা, পরবর্তীতে রানী। ১৯৫৬ সালে প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে পাকিস্তানের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ফেডারেল অধিরাজ্য স্ট্যাটাস বিলুপ্ত হয়।
১৭ পার্টিশন বাউন্ডারি ঘোষণা করা হল। বাউন্ডারি কমিশন প্রধান সিরিল র্যাডক্লিফ কর্তৃক ব্রিটিশ ভারত ভাগ হল। জন্ম নিল ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্র। হিন্দু, মুসলমান, ও শিখদের আন্তঃসাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হল। গৃহহীন হলেন ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। ১৯৪৯ সালের মধ্যে অধিকাংশ প্রিন্সলি স্টেট ভারতে এবং অল্প কয়েকটি পাকিস্তানে যোগ দেয়।
তমদ্দুন মজলিসের প্রচার বিভাগ, পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা – না উর্দু?
১৯৪৯ জুন ২৩ গঠিত হল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
১৯৫০ এপ্রিল ২৪ খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাযজ্ঞ।*
* পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে গুলি চালিয়ে ৭ জন বন্দীকে হত্যা করা হয়। এরা হলেন – কম্পরাম সিং, বিজন সেন, দেলোয়ার হোসেন, হানিফ শেখ, সুধীন ধর, সুখেন ভট্টাচার্য, এবং আনোয়ার হোসেন। সকলেই কমিউনিস্ট ছিলেন।
১৯৫২ ফেব্রুয়ারি ২১ পুলিশের গুলিতে শহিদ হলেন সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক প্রমুখ।
২৩ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গনে নির্মিত হল প্রথম শহিদ মিনার।
এপ্রিল ২৬ গঠিত হল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন।
১৯৫৩ ডিসেম্বর ৪ পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে গঠন করল যুক্তফ্রন্ট।*
* আওয়ামি মুসলিম লীগ আর কৃষক প্রজা পার্টির নেতৃত্বে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, আর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। যুক্তফ্রন্টের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল পূর্ববঙ্গের স্বায়ত্তশাসন।
১৯৫৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়। প্রদেশটিতে মুসলিম লীগ শাসনের সমাপ্তি ঘটল।
এপ্রিল ১৯ পাকিস্তান গণপরিষদ উর্দু ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করল।
পাকিস্তান সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে বেআইনী ঘোষণা করল।
১৯৫৫ অক্টোবর ১৪ পূর্ববঙ্গের নাম বদলে পূর্ব পাকিস্তান করা হল।
১৯৫৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহীত হল।
১৯৫৭ মার্চ ১৮ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মতবিরোধের জের ধরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ভাসানী।
জুলাই ২৭ মৌলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।
১৯৫৮ অক্টোবর ৭ ইসকান্দার মির্জা পাকিস্তানের সংবিধান বাতিল করে সামরিক আইন জারি করলেন। মুসলিম লীগকে নিষিদ্ধ করা হল।
২৭ এক সামরিক ক্যুদেতায় পাকিস্তানে ক্ষমতায় আসলেন আইয়ুব খান। ইস্কান্দার মির্জা নির্বাসিত হলেন। মৌলানা ভাসানীকে গ্রেপ্তার করা হল।
১৯৫৮-৬৯ আইয়ুব খান আমল।
১৯৫৯ পার্বত্য চট্টগ্রামে এ সময় পাহাড়িদের জনসংখ্যার হার ৯০ শতাংশেরও বেশি, বাঙালিদের জনসংখ্যার হার ৯.৬১ শতাংশ।
এ. জে. কারদার, জাগো হুয়া সাভেরা।*
* ঢাকায় বানানো প্রথম উর্দু সিনেমা। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝির একটা অ্যাডাপ্টেশন। মস্কোর একটা আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিল।
১৯৬০ জুন ১৫ লাহোরে আইয়ুব খান দাবি করলেন, ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ই প্রকৃত ইসলামি গণতন্ত্র।
১৯৬১ কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।*
* কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয় কাপ্তাই বাঁধ। এতে পানিতে ডুবে যায় ৪০ শতাংশ কৃষিজমি, ভিটেমাটি হারান ১০০,০০০ পাহাড়ি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু পাহাড়ি নাগরিকদের ব্যাপারে উপনিবেশিক “উন্নয়নবাদী” দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি।
১৯৬২ আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন শুরু হল। এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মোহাম্মদ ফরহাদ, পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক। আইয়ুবশাহীর বিরুদ্ধে গঠিত হল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। ঢাকায় ভারতীয় উপহাইকমিশনের পলিটিকাল অফিসার শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জীর মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের জন্য ভারতের সাহায্য চেয়ে অনুরোধ জানালেন শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রলীগের ভেতরে একটি নিউক্লিয়াস গঠন করা হল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার জন্য কাজ করা।
১৯৬৩ সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ, আর আবদুর রাজ্জাক ছাত্রলীগের ভেতরে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে একটি গোপন সেল গঠন করলেন। প্রথমবারের মত বাংলা নববর্ষ উদযাপন করল ছায়ানট।
১৯৬৫ আগস্ট-সেপ্টেম্বর পাক-ভারত যুদ্ধ।
১৯৬৬ ফেব্রুয়ারি ৫ লাহোরে ৬ দফা উত্থাপন করলেন শেখ মুজিব।
রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার “আন্তর্জাতিক মতাদর্শিক মহাবিতর্কের” জের ধরে ভাগ হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (ইপিসিপি)। সুখেন্দু দস্তিদার, মোহাম্মদ তোয়াহা, নজরুল ইসলাম, আবদুল হক, শরদিন্দু দস্তিদার, ও দেলোয়ার হোসেনসহ চীনপন্থীরা আলাদা কমিটি গঠন করেন।
১৯৬৭ রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার “আন্তর্জাতিক মতাদর্শিক মহাবিতর্কের” জের ধরে ভাগ হয়ে গেল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। মস্কোপন্থী ন্যাপের প্রধান হলেন খান আবদুল ওয়ালি খান। এই ন্যাপের পূর্ব পাকিস্তান শাখার প্রধান হলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, যাঁর নামানুসারে শাখাটি ন্যাপ-মোজাফফর নামে পরিচিতি পায়। অন্যদিকে, চীনপন্থী ন্যাপের প্রধান হলেন মৌলানা ভাসানী। তাঁর নামানুসারে শাখাটি ন্যাপ-ভাসানী নামে পরিচিতি পায়। গঠিত হল পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) [ইপিসিপি-এমএল]। ইপিসিপি-এমএল “জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা” কায়েমের সিদ্ধান্ত নেয়।
১৯৬৮ মার্চ ১৭ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামি লীগ প্রথমবারের মত সাংগঠনিকভাবে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করল।*
* আমার মতে, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ঘোষণার পর থেকে শেখ মুজিবের কাল্ট অফ পার্সোনালিটি তৈরি করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এই ঘটনার ভেতর দিয়ে তা পাকাপোক্ত হয়।
জুন ১৯ রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য মামলার শুনানি শুরু।
* দীর্ঘদিন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু, ২০১১ সালে ঢাকার প্রথমা থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ে মামলার অন্যতম আসামী শওকত আলী দাবি করেন, এটি একটি সত্য মামলা ছিল। দেখুন, (আলী ২০১১)।
শামসুজ্জোহা মানিক, আমজাদ হোসেন, নুরুল হাসান, মাহবুব উল্লাহ ও আবুল কাশেম ফজলুল হক মিলে গঠন করলেন পূর্ব বাংলার বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলন। সিরাজ সিকদার গঠন করলেন পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন।* মৌলানা ভাসানীর ডাকে আইয়ুববিরোধী হরতাল পালিত হল।
* নাফ নদীর ওপারের আরাকানের – বর্তমান বার্মার রাখাইন রাজ্য – কমিউনিস্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন মাও সেতুং চিন্তাধারা গবেষণা কেন্দ্র। প্রকাশ করলেন দলের জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের থিসিস।
১৯৬৯ সামরিক আইন জারি করলেন আইয়ুব খান। পাকিস্তানের দুই অংশেই শুরু হল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
জানুয়ারি গঠন করা হল কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ, ঘোষণা করা হল ১১ দফা দাবি।
২০ পুলিশের গুলিতে শহিদ হলেন আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
ফেব্রুয়ারি ১৫ বন্দী দশায় খুন হলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক।
১৮ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় হামলার হাত থেকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে শহিদ হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা।
২২ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার, শেখ মুজিবকে মুক্তিপ্রদান।
২৩ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে – বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান – এক বিশাল জনসমাবেশে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিলেন তোফায়েল আহমেদ।
মার্চ ২৬ তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করলেন আইয়ুব খান। পাকিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান।
নভেম্বর ১-৪ ঢাকার মোহাম্মদপুর-মিরপুরে বাঙালি-বিহারি দাঙ্গা।
২৮ ইয়াহিয়া খান প্রস্তাবিত লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও)। পশ্চিম পাকিস্তানের এক ইউনিট বিলুপ্ত করা হল। ১৯৭০ সালে জাতীয় গণপরিষদ নির্বাচন ঘোষিত হল।
১৯৭০ মার্চ ৩০ লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) জারি করা হল।
জুন ৭ শেখ মুজিবুর রহমান বললেন, “আসন্ন নির্বাচন হবে ৬ দফার প্রশ্নে গণভোট।”
নভেম্বর ১২ ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ব বাংলায় কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু।
২৮ এক সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান বললেন, “ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখ মারা গেছে, স্বাধিকার অর্জনের জন্য বাংলার আরও ১০ লাখ প্রাণ দেবে।”
ডিসেম্বর ৭ পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। ন্যাপ-ভাসানী এই নির্বাচন বয়কট করে। মুজিবের আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি জেতে, অপরদিকে ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৩৮টি আসনের মধ্যে ৮১টি জেতে।
১৭ প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করল আওয়ামী লীগ।
১৯৭১
জানুয়ারি ৩ আগের বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদেরকে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে – বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান – ৬ দফা ও ১১ দফা বাস্তবায়নের শপথ পাঠ করালেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান।
৪ মুজিব বললেন, “ছয়দফার পক্ষে জনগণের রায় ও গণভোটের ফলাফল নির্বাচিত এমএনএদের পরিবর্তনের ক্ষমতা নেই।”
১১ ঢাকায় আসলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান।
১২-১৩ ঢাকায় ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠক।
১৩ ভুট্টো বললেন, “একটা সর্বসম্মত সংবিধান প্রণয়ন এখন হচ্ছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
১৪ ইয়াহিয়া বললেন, “শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, আমি আর থাকব না। এটা শীঘ্র শেখ মুজিবের সরকার হবে।”
১৭ লারকানায় ইয়াহিয়া-ভুট্টো বৈঠক।
১৯ রাওয়ালপিণ্ডিতে ইয়াহিয়া-ভুট্টো বৈঠক।
২৭-৩০ ঢাকায় আসলেন জুলফিকার আলি ভুট্টো। তিনি স্বীকার করলেন, গণপরিষদের অধিবেশনের পূর্বে দীর্ঘ অন্তর্বর্তী অবস্থা কর্তৃত্বের সমস্যার সৃষ্টি করবে। মুজিব-ভুট্টো আলোচনা।
৩০ ভুট্টো বললেন, “শেখ মুজিবের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা হয়নি। আমি পরবর্তীতে আরও আলোচনায় রাজি আছি।” লাহোরে ভারতীয় বিমান হাইজ্যাক করলেন ২ কাশ্মীরি।
ফেব্রুয়ারি ৩ মুজিব বললেন, “লাহোরে হাইজ্যাক করা ভারতীয় বিমান ধ্বংসের ব্যাপারে পূর্ণ তদন্ত হওয়া দরকার। এ-ধরণের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।” ভারতের ওপর দিয়ে পাকিস্তানের বিমান চলাচল বন্ধ।
৯ মুজিব বললেন, “পাকিস্তানের রাজনীতি হচ্ছে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার রাজনীতি। পার্লামেন্ট অধিবেশন আহ্বানে অহেতুক বিলম্ব দুঃখজনক।”
১৩ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কর্তৃক পাকিস্তানের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ সকাল নয় ঘটিকায় ঢাকার পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেষিক পরিষদ ভবনে পাকিস্তান জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান।
১৫ মুজিব বললেন, “ছয়দফার ভিত্তিতে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রণীত হবে। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিদের সংখ্যাধিক্যের রায় মেনে নেয়া বাঞ্চনীয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থার আহ্বান জানাচ্ছি।” ভুট্টো বললেন, “নির্বাচিত সংখ্যাগুরু দল (আওয়ামি লীগ) প্রকাশ্যে বা গোপনে আমাদের কিছুটা ‘কনসেশনের’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া না পর্যন্ত পিপলস পার্টি ঢাকায় ৩ মার্চে আহূত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দেবে না।”
১৬ ভাসানী বললেন, “জুলফিকার আলী ভুট্টো কর্তৃক প্রদত্ত পূর্বশর্ত পাকিস্তানের প্রতি ‘হুমকিস্বরূপ’।” ভুট্টো ঘোষণা দিলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত বাতিলযোগ্য নয়।
১৭ ভুট্টো বললেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগদান অর্থহীন।” মুজিব বললেন, “স্বার্থান্বেষী মহল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা চলছে।”
২১ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া তাঁর বেসামরিক মন্ত্রীসভা ভেঙে দিলেন। ইসলামাবাদে প্রাদেশিক গভর্নর ও সামরিক প্রশাসকদের বৈঠক। বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের এক প্রচারপত্রে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা কায়েম করার ডাক দেয়া হল।*
* বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বাম রাজনীতির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে, দেখুন, (Maniruzzaman 1975)।
২৪ এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিব বললেন, “ছয় দফার কোন রদবদল করা সম্ভব নয়।”
২৬ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ফিরে এসে শেখ মুজিবের সাথে ২ বার সাক্ষাৎ করলেন গভর্নর আহসান।
২৮ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যান্ড শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর ধানমণ্ডির বাসায় সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মুজিব ফারল্যান্ডকে বলেন তিনি পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চান না। তিনি একটা কনফেডারেশন চান যেখানে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যাটুকু পাবে।
মার্চ ১ পিপলস পার্টির উপস্থিতি ছাড়া যথারীতি সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলে “সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তানে ভয়াবহ গণআন্দোলন” গড়ে তোলার এবং “পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত জীবনযাত্রা নীরব ও নিথর করে” দেয়ার হুমকি দিলেন ভুট্টো। “পাকিস্তানে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি” হওয়ার দোহাই দিয়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলেন ইয়াহিয়া খান। গভর্নর আহসানের পরিবর্তে বেসামরিক গভর্নরের দায়িত্ব পেলেন সামরিক প্রশাসক সাহেবজাদা ইয়াকুব খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস মাখন মিলে গঠন করলেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। প্রতিবাদে ঢাকাসহ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভ, ফার্মগেটে নিরস্ত্র জনতার বুকে গুলি চালাল পুলিশ। কারফিউ জারি করা হল।
২ সিরাজ সিকদারের পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক আন্দোলন শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের খোলা চিঠি নামে একটা প্রচারপত্র বিলি করতে শুরু করল, যেখানে মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার আহবান জানান হল। হরতাল ডাকলেন শেখ মুজিব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করলেন ডাকসুর ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব। পতাকাটি পরিকল্পনা করেছিলেন ও এঁকেছিলেন শিবনারায়ণ দাশ। পরবর্তীতে মানচিত্র বাদ দিয়ে এই পতাকাটিই স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ঢাকায় কারফিউ ভঙ্গ করে বিক্ষোভ, বহু হতাহত।
৩ ইয়াহিয়া আলোচনার আহ্বান জানালে শেখ মুজিব জানিয়ে দিলেন, জনতার ওপর গুলিবর্ষণের তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কোন আলোচনা করবেন না। অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। পল্টন ময়দানে নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ছাত্রলীগের আয়োজিত বিশাল জনসভায় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হল ও জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন। প্রচার করা হল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্র। চট্টগ্রামে স্থানীয় বাঙালি আর উর্দুভাষীদের মধ্যে সংঘর্ষ। Sen (1999) দাবি করেছেন, এ সময় বাঙালি ‘mob’য়ের হামলায় ৩০০রও বেশি উর্দুভাষীর মৃত্যু হয়।*
* পরবর্তীকালে যশোর, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুরে ও সৈয়দপুরে উর্দুভাষীরা বাঙালিদের হাতে হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। Aziz (1974) দাবি করেছেন, মার্চ-এপ্রিল জুড়ে পূর্ব পাকিস্তানের ৫৫টা শহরে এ ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। অনেকে এই বিহারি হত্যাযজ্ঞের দোহাই দিয়ে বাঙালি জেনোসাইডের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন, যদিও আন্তর্জাতিক আইনে এভাবে জেনোসাইডকে বৈধতা দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
৪ রেডিও পাকিস্তান ঢাকার নাম বদলে ঢাকা বেতার কেন্দ্র রাখা হল।
৫ শেখ মুজিবের আহবানে টানা পাঁচদিন হরতাল পালন। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ গুলি চালাল। সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া হল।
৬ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এক বেতার বক্তৃতায় ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করলেন।
৬, দিবাগত রাত ৩২ নম্বরে বৈঠক করলেন আওয়ামি লীগ নেতারা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে পালালেন ৩২৫ কয়েদী। এ সময় ৭ জনকে খুন করা হয়।
৭ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যান্ড ৩২ নম্বরে মুজিবের সাথে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বললেন, “পূর্ববাংলায় স্বঘোষিত স্বাধীনতা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা সমর্থন করবে না।” ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে – বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান – শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বললেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদানের ব্যাপারে কয়েকটি শর্ত প্রদান করলেন শেখ মুজিব: সামরিক আইন প্রত্যাহার করা, সেনাদের ব্যারাকে ফেরানো, হত্যা তদন্ত করা, ও জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। ঘোষিত হল অসহযোগ আন্দোলনের ১০ দফা কর্মসূচি। যশোর ও খুলনায় সৈন্যবাহী ট্রেনে আক্রমণ। রাজশাহী, যশোর ও খুলনায় টেলিফোন ভবনে হামলা। লে. জে. সাহেবজাদা ইয়াকুব খানের স্থলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত হয়ে ঢাকায় আসলেন লে. জে. টিক্কা খান।
৯ পল্টন ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ২৫ মার্চের মধ্যে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা না দিলে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাথে নিয়ে মুক্তিসংগ্রাম শুরু করার ঘোষণা দিলেন মৌলানা ভাসানী।
১১ অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখায় জনতাকে ধন্যবাদ দিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
১২ পাকিস্তান দাবি করল, বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করছে এমন কিছু ভারতীয়কে পাকড়াও করা হয়েছে।
১৪ অধ্যাপক আহমদ শরীফের সভাপতিত্বে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হল লেখক সংগ্রাম শিবিরের জরুরি সভা।*
* লেখক সংগ্রাম শিবিরের আহবায়ক হাসান হাফিজুর রহমান। এর সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: আবদুল গনি হাজারি, আবদুল গাফফার চৌধুরী, আহমদ শরীফ, জহির রায়হান, বদরুদ্দীন উমর, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, রণেশ দাশগুপ্ত, রোকনুজ্জামান খান, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, সাইয়ীদ আতিকুল্লাহ্, সিকানদার আবু জাফর, সুফিয়া কামাল প্রমুখ। স্বাধিকার আন্দোলনের উত্তাপে গঠিত হয়েছিল এই কমিটি।
১৫ পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে খেতাব বর্জন শুরু হল। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বর্জন করলেন হেলাল-ই ইমতিয়াজ। অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী বর্জন করলেন সিতারা-ই ইমতিয়াজ। ঢাকায় এলেন ইয়াহিয়া। পাঞ্জাব ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়নের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রেসিডেন্ট হাউজে গমন করলেন।
১৬-২৪ মুজিব-ইয়াহিয়া-ভুট্টোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শুরু।
১৭ ৩২ নম্বরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুজিব বললেন, “আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে এবং লক্ষ্যে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত তা চলবে।” রাত দশটায় জিওসি মেজর জেনারেল খাদেম হোসেন রাজাকে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়ার হুকুম দিলেন গভর্নর টিক্কা খান। ঢাকায় সামরিক জান্তার জেনারেলদের এক বৈঠক প্রণীত হল জেনোসাইডের নীলনকশা।
১৯ জয়দেবপুরে গুলি চালাল সেনাবাহিনী, কারফিউ জারি করা হল। রাজধানী ঢাকায় অসংখ্য প্রতিবাদ সভা ও শোভাযাত্রা। শেখ মুজিব এক বিবৃতিতে বললেন, “তারা যদি মনে করে থাকে যে, বুলেট দিয়ে জনগণের সংগ্রাম বন্ধ করতে সক্ষম হবে, তাহলে তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছে।”
২০ লে. জেনারেল আব্দুল হামিদের ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউসে টিক্কা খানের সাথে বৈঠক এবং অপারেশন সার্চলাইটয়ের অনুমোদন।
২১ মুজিব তাঁর বাসভবনের সামনে এক বিরাট জনসমাবেশে বললেন, “সাড়ে সাত কোটি মানুষের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের গতি কোনভাবেই মন্থর করা যাবে না।”
২২ ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হল। প্রতিটি সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা মুদ্রণ করা হল।
২৩ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পালিত হল প্রতিরোধ দিবস। বেতার ও টিভিতে গাওয়া হল সোনার বাংলা।* ঢাকায় স্রেফ ক্যান্টনমেন্টে আর প্রেসিডেন্ট হাউজে উড়ল পাকিস্তানের পতাকা। অন্য সব জায়গায় উড়ল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। পাকিস্তানের পতাকা কোথাও কোথাও ছিঁড়ে ফেলা হল। জিন্নার ছবিতে অগ্নিসংযোগ। যশোরে ইপিআর সদরদপ্তরে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করলেন জওয়ানরা।
* যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এই গানের প্রথম দশ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। গানটি গগণ হরকরার আমি কোথায় পাব তারে গানের সুর ভেঙে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে লেখা হয়েছিল।
২৪ রংপুর, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ায় এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ।
২৫, দিন ভুট্টো-ইয়াহিয়া বৈঠক, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে বললেন ভুট্টো, “অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ।”
২৫, দিবাগত রাত অপারেশন সার্চলাইট।*
* পাকিস্তান রাষ্ট্র কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র অধিবাসীদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত জেনোসাইডের শুরুয়াত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএম হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, আর জগন্নাথ হলের অসংখ্য আবাসিক ছাত্রকে খুন করে পাকিস্তানিরা। এ রাতে শহিদ হন অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক এম মুনিরুজ্জামান, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক। বস্তিতে যেমন আগুন ধরানো হয়, পত্রিকা অফিসেও। দৈনিক সংবাদ অফিসে ঘুমাচ্ছিলেন মানসিকভাবে অসংলগ্ন হয়ে পড়া কথাসাহিত্যিক শহীদ সাবের, পাকিস্তানিদের দেয়া আগুনে পুড়ে মারা যান। শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেপ্তার, আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট নেতৃত্ব ভারতে আশ্রয় নিলেন। পূর্ব পাকিস্তান কার্যত পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়ে গেল।
২৬ ইয়াহিয়া খান তার বেতার বক্তৃতায় ‘শাসনতান্ত্রিক সংকটের’ জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে দায়ী করলেন। আওয়ামী লীগকে বেআইনী ঘোষণা করা হল, শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের শত্রু ঘোষণা করা হল। এ সময়ই কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র, যদিও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরো পরে শুরু হয়েছিল।
২৭ চট্টগ্রামের কালুরঘাটের স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী। বাংলাদেশি শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয় ভারত।
টঙ্গী হত্যাযজ্ঞ।
২৮ শেখ মুজিবুর রহমানকে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হল।
৩০ “৩০ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাদ থেকে ১৮ বছরের এক ছাত্রীর লাশ তুলেছি। তার গায়ে কোন গুলির চিহ্ন ছিল না। দেখলাম তার মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, লজ্জাস্থান থেকে পেট ফুলে অনেক উপরে উঠে আছে, যোনি পথও রক্তাক্ত।” – সাহেব আলী, সুইপার ইন্সপেক্টর, ঢাকা পৌরসভা*
* দুনিয়ার আর সব যুদ্ধের মত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক নারী বীভৎস ধর্ষণ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গটি জাতীয়তাবাদী জজবা তৈরিতে যতটা ব্যবহৃত হয়েছে, নারীদের নিজেদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা ততটা মূল্য পায়নি। বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Saikia 2011; Mookherjee 2015; Rashid 2019).
৩১ ভারতের সংসদে সর্বদলীয় সম্মতিতে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদানের সংকল্প প্রকাশ করা হল।
এপ্রিল ১ “পূর্ব পাকিস্তানে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক তৎপরতা চলছে।” – দৈনিক সংগ্রাম
২ শেখ মুজিবকে মিয়াওয়ালি কারাগারে বন্দি করা হল, আগস্টে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হয়।
৩ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু হল। জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদী আকাশবাণী, বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরকে “মিথ্যা প্রচারণা” এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে “ইন্দো-ইসরাইলী ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেন।
৪ দিল্লিতে মিসেস গান্ধীর সাথে তাজউদ্দিন আহমেদের বৈঠক। বৈঠকে মিসেস গান্ধীকে তাজউদ্দিন জানালেন, ২৫/২৬ মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপ্রধান করে বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি আরো বললেন, তিনি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে সিলেটের তেলিয়াপাড়ার চা বাগানে মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর কাজী সফিউল্লাহ, ও মেজর কাজী নূর-উজ-জামানের মত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা কর্নেল আতাউল গণি ওসমানিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করলেন। একই দিনে পিডিপি নেতা নুরুল আমিনের নেতৃত্বে ১২ জন দক্ষিণপন্থী নেতা ‘বেলুচিস্তানের কসাই’ খ্যাত টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন গোলাম আযম, মৌলভী ফরিদ আহমদ, খাজা খয়েরুদ্দিন, এ, কিউ, এম, শফিকুল ইসলাম, মাওলানা নুরুজ্জামান প্রমুখ। প্রতিনিধিদল টিক্কা খানকে “অবিলম্বে সমগ্র প্রদেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সামরিক আইন প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস এবং জনগণের মন থেকে ভিত্তিহীন ভয় দূর করার” উদ্দেশ্যে ঢাকায় নাগরিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়।
৫ “উর্দু, বাংলা ও ইংরেজি পাকিস্তানের এ তিনটি ভাষাতেই সাবলীল মুজিব নিজেকে নিয়ে মৌলিক চিন্তাবিদ হিসাবে ভান করতেন না। তিনি প্রকৌশলী নন, রাজনীতির কবি, তবে বাঙালিদের যেভাবেই হোক প্রযুক্তির চেয়ে শিল্পকলার প্রতি প্রবণতা বেশি, আর তাই তাঁর শৈলীই যথার্থ ছিল সেই অঞ্চলের সকল শ্রেণী ও মতাদর্শকে একতাবদ্ধ করার প্রয়োজনে।” – নিউজউইক
“পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলায় নকশালপন্থীরা প্রকাশ্যে শেখ মুজিবকে আমেরিকার দালাল ও সোভিয়েট সংস্কারবাদীদের ক্রীড়নক বলে প্রচার করছে।” – দ্য টাইম
৬ মৌলভী ফরিদ আহমদের সাথে জামায়াতপন্থীদের দ্বন্দ্বের জের ধরে গোলাম আযম একটি স্বতন্ত্র প্রতিনিধিদল নিয়ে টিক্কা খানের সাথে দেখা করেন। এই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী। তিনি দক্ষিণপন্থীদের অন্তর্কলহের মীমাংসায় মুরুব্বিস্থানীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। দৈনিক সংগ্রামের ‘ভারতের ডাইনী মায়া কান্না’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে দাবি করা হল, “স্বাধীন বাংলা সরকার নামে কোথাও কিছু নেই।”
৭ গোলাম আযমসহ জামায়াতে ইসলামীর প্রাদেশিক নেতৃত্ব একটি যুক্ত বিবৃতি প্রকাশ করলেন যাতে বলা হল, “পূর্ব পাকিস্তানের দেশ প্রেমিক জনগণ সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের কোন স্থানে দেখামাত্র খতম করে দেবে।” বিমানে করে দুই ডিভিশন, ৯ম ও ১৬শ, সৈন্য ঢাকায় আনা হল। কুড়িগ্রাম কারারক্ষী হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রাম কারাগার থেকে কারাগারের ইনচার্জ ও দেহরক্ষীদের ধরে এনে গুলি করে মারল পাকবাহিনী।
৮ রাঙামাটিতে শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ। দৈনিক সংগ্রামের ‘নিজেরে হারায়ে খুঁজি’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয়তে লেখা হল, “শিবাজীর স্বপ্নের ‘রামরাজ্য’ গড়তে” পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য “সর্বশক্তি নিয়োগ” করছেন মিসেস গান্ধী।
৯ শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও বন্দুকের মুখে টিক্কা খানকে গভর্নর হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাতে বাধ্য হলেন ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বি. এ. সিদ্দিকী। ১৪০ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা নাগরিক শান্তি কমিটি আত্মপ্রকাশ করল। তবে সংবাদপত্রে এই খবর ছাপা হয় ১০ নয়, ১১ তারিখে।
দৈনিক সংগ্রামের ‘কাশ্মির থেকে পূর্ব পাকিস্তান’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে লেখা হল, “হিন্দুস্তান পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের জন্য মায়াকান্না কেঁদে ও বন্ধু সেজে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক অনুপ্রবেশে কসরত চালিয়ে যাচ্ছে। নেহেরু-তনয়া মিসেস গান্ধী মনে করছেন, তাদের এ প্রচেষ্টা সফল হলে কাশ্মীরের মত পূর্ব পাকিস্তান দখল ও সেখানে মুসলিম নিধনযজ্ঞ শুরু করা সম্ভব হবে।”
১০ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকার – মুজিবনগর সরকার নামেও পরিচিত – গঠন করা হল। ঘোষণাটি প্রচার করল আকাশবানীর শিলিগুড়ি কেন্দ্র। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রচনা, ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর ধরে নিতে হবে।
শান্তি কমিটি গঠিত হওয়ার পরদিনই কমিটির নেতাদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল দেখা দিল। বিরোধীরা মৌলভী ফরিদ আহমদকে সভাপতি করে ৯ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে মূল কমিটি থেকে বেরিয়ে গেলেন। স্টিয়ারিং কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হল, “সংশ্লিষ্ট এলাকার শান্তি রক্ষা, জনগণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, ভারতীয় বেতারের মিথ্যা প্রচারণার স্বরূপ উন্মোচন করা, এবং ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের কার্যকরীভাবে মোকাবিলা করতে জনগণকে প্রস্তুত করতে কাজ করবে এই কাউন্সিল।”
দৈনিক সংগ্রামের ‘দূরবীন’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয়তে লেখা হল, “রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি হিন্দু।”
১১ দৈনিক সংগ্রামের ‘দূরবীন’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয়তে লেখা হল, “কিছু সংখ্যক ব্যক্তি… পাকিস্তানের স্থলে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে তথাকথিত বাংলাদেশ গঠনে অপপ্রয়াস পেয়েছিল।”
১২ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হলেন আতাউল গণি ওসমানি। দৈনিক সংগ্রাম গোলাম আযমের বেতার বক্তৃতা ছাপল। তাঁর ভাষায়, “ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করেছে।”
১৩ চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই বললেন, “বহিরাক্রমণ থেকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য গণচীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
“পাকিস্তানের প্রতি চীনের দৃঢ় সমর্থন।” – দৈনিক সংগ্রাম
১৪ নাগরিক শান্তিকমিটির নাম বদলে পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তিকমিটি রাখা হল। ঢাকায় শান্তি কমিটির উদ্যোগে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতীয় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। এ মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন খান এ সবুর, খাজা খয়েরউদ্দীন, মাহমুদ আলী, গোলাম আযম, শফিকুল ইসলাম, এটি সাদী, আবুল কাসেম, আব্দুল জব্বার খদ্দর, সৈয়দ আজিজুল হক, এ এস এম সোলায়মান, মেজর আফসার উদ্দিন, জুলমত আলী, বেনজির আহমদ, পীর মোহসেনউদ্দীন প্রমুখ।
দৈনিক সংগ্রাময়ের ‘ফ্যাসিবাদী ভারতের স্বরূপ’ শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয়তে লেখা হল, “জয় বাংলা আন্দোলন বানচাল হয়ে যাওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে এখন সুদিন ফিরে এসেছে।”
পানাউল্লাহরচর-আলগড়া হত্যাযজ্ঞ। ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের তীরে পানাউল্লাহরচর-আলগড়ায় ব্রাশফায়ার করে ৫০০রও বেশি নিরস্ত্র নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করল পাকবাহিনী।
ডাক্তারপাড়া হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রাম সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়ায় ৭ জনকে হত্যা করে পাকবাহিনী।
১৫ “পূর্ব পাকিস্তানের জনতা তথাকথিত বাংলাদেশ চায় না, চায় পাকিস্তান।” – দৈনিক সংগ্রাম
১৭ মুজিবনগরে গঠিত হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার। তাজউদ্দীন আহমদ এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সরকারের মন্ত্রীপরিষদ সদস্যরা শপথ নিলেন।
কুমিল্লায় শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল।
টঙ্গী আরিচপুর হত্যাযজ্ঞ। পাক সেনারা ৩০ জন গ্রামবাসীকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
১৮ কলকাতাস্থ পাকিস্তান কমিশনের প্রধান হোসেন আলীসহ ৬৫ জন বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মিশন।
২০ সিলেট, ভৈরব, কসবা ও কালিগঞ্জে পাকবাহিনীর প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ। বিএসএফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. ক. মেঘ সিংসহ কয়েকজন ভারতীয় সৈন্য যশোরের নাভারনে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।* বাংলাদেশের অধিকাংশ মুক্তাঞ্চলে পাকিস্তানি কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
* যুদ্ধকালে বিএসএফের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Majumdar 2023)।
ছাত্রলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, ও শাজাহান সিরাজ বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) গঠন করলেন – যা মুজিব বাহিনী নামে অধিকতর পরিচিত।*
* ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রয়ের (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং) মেজর জেনারেল সুজন সিং উবানের তত্ত্বাবধানে মুজিব বাহিনীকে গড়ে তোলা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এই বাহিনী সম্পর্কে মুজিবনগর সরকারের কর্তাব্যক্তিরা শুরুতে কিছুই জানতেন না, এদের নিয়ন্ত্রণ ছিল সরাসরি ভারত রাষ্ট্রের হাতে। মুজিব বাহিনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (পারভেজ ২০১৫)।
২১ জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে বিশেষ প্রতিনিধি নিযুক্ত হলেন বিচারপতি আবু সাঈদ।
২৫ মুজিবনগর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হল।
৩০ বরিশালের পেয়ারাবাগানে সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে গঠিত হল পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের জাতীয় মুক্তিবাহিনী।
মে ২ পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করল, দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। লাখ লাখ শরণার্থীর ভারতে আশ্রয় নেয়ার কথা অস্বীকার করা হল। লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য সানডে টাইমসয়ের জন্য এক প্রতিবেদনে অ্যান্থনি মাসকারেনহাস লিখলেন, “হাজার হাজার অবাঙালি নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার… ২০,০০০ মৃতদেহ পাওয়া গেছে… তবে বাংলার প্রধান শহরগুলোতে মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।”*
* যুদ্ধকালে উর্দুভাষীরা যে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সে সম্পর্কে জানতে, দেখুন, (Aziz 1974; Sen 1999).
৬ পাকিস্তান অভিযোগ করল, ভারত তার বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করছে, এবং সীমান্তে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গোলাবর্ষণ করছে।
৭ পাকিস্তানে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের সুপারিশ করল যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি।
১৩ তেলাং তাঙ্গা হত্যাযজ্ঞ। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার তেলাং তাঙ্গা এলাকায় বাড়ি থেকে ধরে এনে চিত্ত রঞ্জন চাকমা, গোরাঙ্গ দেওয়ান, ও সব্যসাচী চাকমা নামের ৩ আদিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে পাকবাহিনী।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি, “ভারত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তা করছে।”
২০ চুকনগর হত্যাযজ্ঞ। ভদ্রা নদীর তীরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে ৪-৫ ঘন্টা গুলি চালিয়ে ৬-১০ হাজার মানুষকে খুন করে পাকবাহিনী। এই হত্যাযজ্ঞে হিন্দুদের সুনির্দিষ্টভাবেই লক্ষ্য বানানো হয়েছিল, অর্থাৎ এটি ছিল পরিষ্কারভাবেই সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২৪ ভারতে এ সময় শরনার্থীর সংখ্যা ৩৫ লাখ। ভুট্টো বললেন, “বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিতে হবে। অবৈধ ঘোষণার পর আওয়ামি লীগ জাতীয় জীবনে আর তেমন কোন শক্তি নয়।”
২৫ কলকাতার ৫৭/৮ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার শুরু হল।
জুন ২ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষক এক যুক্ত বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আচরণের প্রশংসা করেন।
৩ বরিশালের পেয়ারাবাগানে পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলনকে বিলুপ্ত করা দিয়ে তৈরি করা হল নতুন দল পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি।
৭ পরদিন (জুন ৮, ১৯৭১) থেকে পাকিস্তানের ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট বাতিল ঘোষণা করা হল।
৯ কাঁঠালবাড়ী হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রাম শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কাঁঠালবাড়ী বাজার ও তার আশেপাশের ৬টি গ্রামে পাকবাহিনী ও তাঁদের দালালরা ৩৫ জনকে হত্যা করে ।
৮-১০ ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ করে নোট জমা নেয়া হয়।
১২ টিক্কা খানকে যুদ্ধরত বাঙালিদের উদ্দেশ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আবেদন জানালেন হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর কন্যা বেগম আখতার সোলায়মান।
১৩ দ্য সানডে টাইমসয়ে প্রকাশিত হল অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের “জেনোসাইড”, এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে চলমান গণহত্যার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।*
* জেনোসাইডের জন্য মাসকারেনহাস সঠিকভাবেই পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন; তবে যুদ্ধকালে এক শ্রেণির বাঙালিদের হাতে উর্দুভাষীরাও যে খুন-ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; প্রতিবেদনে সে প্রসঙ্গও এসেছে।
১৫ ঢাকার অনেকগুলো রাস্তার নতুন নামকরণ করা হল। কয়েকটি উদাহরণ: শাঁখারি বাজার রোড হল টিক্কা খান রোড, মাদারটেক হল মাজারটেক, ইন্দিরা রোড হল আনারকলি রোড, এলিফেন্ট রোড হল আল-আরাবিয়া রোড, বেইলি রোড হল বু’আলী রোড, রায়ের বাজার হল সুলতান গঞ্জ ইত্যাদি। বছিলা গ্রামের নাম পাল্টে রাখা হল ওয়াসিলা।
১৮ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন গভর্নর টিক্কা খান। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শরণার্থীদের দেশে ফেরার আহ্বান জানালেন। সীমান্ত পার করে যে সকল এমএনএ এবং এমপিএ ভারতে চলে গেছিলেন তাঁদের দেশে ফেরার আহ্বান জানালেন হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর কন্যা বেগম আখতার সোলায়মান।
২০ নিউজউইক পত্রিকায় সাংবাদিক টনি ক্লিফটন লিখলেন, “আমার কোন সন্দেহ নাই যে, পূর্ব পাকিস্তানের শত শত জায়গায় মাই লাই ও লিডিসের ঘটনা ঘটেছে — এবং আরো ঘটবে বলেই আমার ধারণা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে পদকপ্রাপ্ত জনৈক অফিসার গ্যালাঘার আমাকে বলেছেন, — ‘আমি ফ্রান্সে যুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা — নরম্যান্ডির হননকেন্দ্র দেখেছি। — কিন্তু এগুলোর কাছে সে কিছুই নয়। কান্না চেপে আত্মসম্বরণ করতে আমাকে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল।’”
২২ নিউ ইয়র্ক বন্দর ছেড়ে গেল আটটি বিমানসহ মার্কিন সমরাস্ত্র ভর্তি পাকিস্তান ফ্রেইটার পদ্মা ।
২৮ যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিল, অন্যান্য দেশ সাহায্য বন্ধ করলেও তাঁরা পাকিস্তানকে সহায়তা করার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। ‘বিশেষজ্ঞ’দের দিয়ে নতুন সংবিধান বানিয়ে বেসামরিক প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাস দিলেন ইয়াহিয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তিবৃদ্ধি ও নতুন করে আক্রমণ শুরু।
জুলাই ১০ বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হল, পূর্ব পাকিস্তান এতটাই জর্জরিত যে অর্থনৈতিক সহায়তা গ্রহণ করার সামর্থ্য তার নেই ।
১১ কলকাতায় ৮ নং থিয়েটার রোডে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের তিনদিনব্যাপী বৈঠক সম্পন্ন হয়। গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। নিয়মিত বাহিনীকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হল।11
১২ ইয়াহিয়া খান নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রস্তাবিত সংবিধানে বাংলা ভাষার জন্য আরবি হরফ ব্যবহার করার সুপারিশ দেয়া হয়। সুপারিশ দেয়া হয় পাঞ্জাবকে সর্ববৃহৎ প্রদেশের মর্যাদাদানের। হিন্দুদের ভোটাধিকার বিলোপ করার সুপারিশও দেয় কমিটি।
২৯ মুক্তাঞ্চল, কলকাতা, লন্ডন ও অন্যান্য জায়গায় বাংলাদেশের ডাকটিকিট ছাড়া হলে প্রথম দিনেই কয়েক লক্ষ টাকার বিক্রি হয়।
৩১ ইয়াহিয়া বললেন, “মুজিব হিন্দুদের ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। মুজিব ৮০%-এর ওপর ভোট পেয়েছিলেন। কোনো মতেই ১০%-এর বেশি ভোটার ছিল না।”
আগস্ট ১ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হল কনসার্ট ফর বাংলাদেশ।*
* নিয়মিত বাহিনীর মধ্যেই কেএম শফিউল্লাহ, খালেদ মোশাররফ, ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে যথাক্রমে এস-ফোর্স, কে-ফোর্স, ও জেড-ফোর্স নামে তিনটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তোলা হয়। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে অনিয়মিত গণ বাহিনী গড়ে তোলা হয়। মূলধারার বাইরে বিশেষত বামপন্থীরা স্বতন্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এঁদের কেউ কেউ পাক বাহিনীর পাশাপাশি মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধেও লড়েছেন।
৫ পূর্ব পাকিস্তান সংকট নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করল পাকিস্তান।
৭ জাতীয় পরিষদ থেকে আওয়ামি লীগের ৭৯ জনের সদস্যপদ বাতিল করা হল।
৯ ভারত আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে বিশ বছর মেয়াদী শান্তি, মৈত্রী, ও সহযোগিতা চুক্তি সই হল।
১৪ বালাবাড়ী হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রাম জেলার বালাবাড়ীতে ১৩ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে পাকবাহিনী।
১৫ অপারেশন জ্যাকপট।
১৬ শেখ মুজিবের পক্ষে হামলা চালানোর জন্য এ কে ব্রোহি এবং তাঁর সহকারী গোলাম আলী মেনন, আকবর মির্জা ও গোলাম হোসেনকে অনুমতি দিল পাকিস্তান সরকার। কুঁড়িঘাট হত্যাযজ্ঞ। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাকবাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় ১৫০ জনকে খুন করে, অধিকাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
১৮ পাকিস্তানিদের হাতে শহিদ হলেন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি থেকে বহিষ্কৃত মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ কবির। আগস্ট মাসেই সাভারে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির উর্দুভাষী মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্লাহ আজমীকে কৌশলে আলোচনার নামে ডেকে নিয়ে হত্যা করল আওয়ামী লীগাররা। সর্বহারারা পাকিস্তান আর ভারত উভয় রাষ্ট্রকেই দখলদার হিসেবে দেখতেন বলে তাঁরা পাক বাহিনী ও ভারত-সমর্থিত মুক্তিবাহিনী উভয়ের সাথে এক অসম লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিলেন।
২১ পাকিস্তানের করাচিতে শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান।
২৯ মগবাজারে শহিদ হলেন বীরবিক্রম আব্দুল হালিম চৌধুরী।
সেপ্টেম্বর ৫ যশোরে শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
৮ আওয়ামি লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, দুই ন্যাপ, ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গঠিত হল জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি।
১১ জাতীয় পরিষদ সদস্য এনায়েত হোসেন খানের সভাপতিত্বে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, শেখ মণি, আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রমুখের সমর্থকদের সভায় তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাধারণ পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য আওয়ামি লীগ হাই কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানাল। খন্দকার বাড়ির হত্যাযজ্ঞ। কুমিল্লার আমড়াতলি ইউনিয়নের ধনঞ্জয় গ্রামের খন্দকার বাড়িতে আশ্রয় নেয়া ২৬ জনকে ঘরের দরজা ভেঙে খুন করল পাকবাহিনী।
১৭ ঢাকায় শপথ নিলেন মালেক মন্ত্রিসভার ৯ সদস্য।
১৮ নয়া দিল্লিতে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সম্মেলন শুরু।
২১ উপনির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হল। ২০-২১ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিল। ভোট গ্রহণ ১২-২৩ ডিসেম্বর।
২৫ চট্টগ্রামের নাপোড়া পাহাড় গ্রামে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী লেনিনবাদী) [ইপিসিপি-এমএল] ১৫ জন কর্মীকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করল বিএলএফ, পরবর্তীতে মুজিববাহিনী।
২৮ ভারতের ডিমাপুরে গঠিত হল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
২৯ ভারত-সোভিয়েত যুক্ত ইশতেহার।
অক্টোবর ৬ সাপ্তাহিক জয়বাংলার প্রতিনিধিকে তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, “বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমি পূর্ণবার দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করতে চাই যে, আমাদের সরকারের চারদফা পূর্বশর্ত — বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি, বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিনাশর্তে মুক্তি, বাংলাদেশ থেকে সমস্ত পাকিস্তানি সৈন্য প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশে ইয়াহিয়াবাহিনীর ধবংসলীলার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত কারো সাথে আলাপের প্রশ্নই ওঠে না।”
১০ প্যারিসে গভীর রাতে অধ্যয়নরত অবস্থায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা গেলেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্।
১২ দিল্লিস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন যে, ভারত যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করা থেকে বিরত না হয়, পাকিস্তান পশ্চিম দিক থেকে ভারত আক্রমণ করবে।
১৩ বড়ইতলা হত্যাযজ্ঞ। কিশোরগঞ্জে ৩৬৫ জন গ্রামবাসীকে খুন করে পাকবাহিনী। গুপ্তঘাতকের গুলিতে প্রাক্তন গভর্নর মোনেম খাঁর মৃত্যু।
১৮ পাক-ভারত সীমান্ত থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেন মস্কোস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
২০ ভারত ও যুগোস্লাভিয়ার এক যুক্ত ইশতেহারে বাংলাদেশ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রস্তাব দেয়া হল। উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করলেন মার্শাল জোসিপ ব্রজ টিটো। সীমান্ত বরাবর জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল নিয়োগের প্রস্তাব দিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট।
২১ সেনা প্রত্যাহার ও জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল নিয়োগের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন ইয়াহিয়া।
২৪ ভারতের শরণার্থী সমস্যা ও বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে পশ্চিম ইওরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ দিনের সফরে বের হলেন ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী।
২৫ শংকর মাধবপুর হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রামের চর রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাঠি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে ৪৩ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে পাকবাহিনী।
২৮ সিলেটে শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
নভেম্বর ১ উপনির্বাচনে ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির ৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন।
৩ সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ স্টেশনের ৪টি জেনারেটরের মধ্যে ৩টি মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা ধ্বংস হওয়ার ফলে ঢাকার ৩০ মাইলের মধ্যে সব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেল। চট্টগ্রামে একটা বড় তেলের ট্যাঙ্কার ডুবিয়ে দেয়া হল।
৫ ভুট্টোর নেতৃত্বে পাকিস্তানের তিন বাহিনী প্রধান সহ ৮ জনের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বেইজিং সফর করল।
৭ ভুট্টো ফিরে এসে জানালেন, তাঁর মিশন সফল হয়েছে, গণচীনের সমর্থন পাবে পাকিস্তান।
৮ প্যারিসে ইন্দিরা বললেন, “পূর্ববাংলার একমাত্র সমাধান স্বাধীনতা, শীঘ্রই হোক আর দেরিতেই হোক এ স্বাধীনতা আসবেই।”
১৩ দাগারকুটি হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের দাগারকুটি এলাকায় ৬৯৭ জনকে খুন করে পাকবাহিনী। তবে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের সংগ্রহ করা তথ্যে বলা হয়েছে, শহিদের সংখ্যা ৭৬৪ জন।
১৬ হাসনাবাদ হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদে পাকবাহিনী ২৯ জনকে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়ে রাখে।
দিল্লিতে কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী দলের বৈঠকে ইন্দিরা বললেন, “দু এক মাস কিংবা তারও আগে বাংলাদেশ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়। তবে আমরা সর্বত্র চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের শরণার্থীরা শিগগির তাদের স্বদেশে ফিরে যাবে।”
তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করলেন ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী।
১৭ ঢাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি হল ।
১৮ নীলুর খামার হত্যাযজ্ঞ। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নীলুর খামার গ্রামে ৭৯ জনকে খুন করে পাকবাহিনী।
ভারতের প্রেসিডেন্ট ভি ভি গিরি বললেন, “ভারত এখন ধৈর্যের শেষ সীমানায়।”
২১ বয়রা-চৌগাছা সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের ট্যাঙ্ক, বিমান ও গোলন্দাজ সংঘর্ষ।
২৩ এক বেতার ভাষণে তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, “মুক্তিবাহিনী এখন যে কোন সময়ে, যে কোন জায়গায় শত্রুকে আঘাত করতে পারে।” ইন্দিরাকে দেয়া এক চিঠিতে মুজিবনগর সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চাইল। একইদিনে পাকিস্তানে জরুরী অবস্থা জারি করা হল।
২৮ নগরীপাড়া হত্যাযজ্ঞ। কুমিল্লার লাকসাম থানার মুদাফফরগঞ্জের নগরীপাড়ায় ৫ পরিবারের ১০ জনকে খুন করে পাকিস্তানি ও রাজাকাররা। অন্যান্য লাশের সাথে ভুবন চন্দ্র কর্মকারকে জ্যান্ত মাটি চাপা দেয়া হয়।
ডিসেম্বর ২ প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছে একটা চিঠি দিলেন ইয়াহিয়া।
৩ ভারতে বাংলাদেশি শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। কাশ্মির নিয়ে তৃতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সার্থক হামলায় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও চট্টগ্রামের ফুয়েল পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত।
৪ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি এবং ভারত পাকিস্তান উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব দিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন এই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে। ফ্রান্স আর ব্রিটেন ভোটদানে বিরত থাকে।
৫ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ইউনিয়নের দেয়া প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে এমন রাজনৈতিক নিষ্পত্তি প্রয়োজন যার অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে বর্তমান সংঘর্ষের অবসান ঘটবে। গণচীন এই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে। অন্যরা ভোটদানে বিরত থাকে।
৬ প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল ভারত। পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান তৎপরতা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।
৭ দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল ভুটান। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়, যার মধ্য দিয়ে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লে. জে. জগজিৎ সিং অরোরার কমান্ডের অধীনস্ত হল, ঠিক হল অরোরা জেনারেল মানেকশর মাধ্যমে উভয় দেশের সরকারের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। যশোর মুক্ত হল।
৮ ভারতের সরকারি মুখপত্র ঘোষণা করলেন, পাকিস্তান যদি বাংলাদেশে তাদের পরাজয় স্বীকার করে নেয়, তবে সকল অঞ্চলেই ভারত যুদ্ধ বন্ধ করবে।
৯ মেঘনার পূর্বদিকে সকল অঞ্চল মুক্ত হল। সপ্তম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রা করার হুকুম দিলেন প্রেসিডেন্ট নিক্সন।
১০ খুলনায় শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন। মালাক্কা প্রণালির পুবদিকে অবস্থান করছিল সপ্তম নৌবহর। সিকিম-ভুটান সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনীর তৎপরতা। হেলিকপ্টার যোগে রায়পুরায় অবতরণ করল ভারতীয় বাহিনী। ঢাকায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর ক্রমাগত ভারতীয় আক্রমণ।
১১ কাদের সিদ্দিকী নিয়ন্ত্রিত মধুপুর এলাকায় অবতরণ করলেন ভারতীয় প্যারাট্রুপারদের ৭০০ সৈন্য। পাকিস্তানিদের সাথে সংঘাত। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও উপকূলীয় অবকাঠামো, জাহাজ, নৌযান ইত্যাদি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমান ও যুদ্ধ জাহাজের তৎপরতা।
১২ নরসিংদী মুক্ত হল। বিকালে চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুয়া নিউ ইয়র্কে আলেকজান্দার হেগকে জানালেন, চীন কেবল আরেকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী, উপমহাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে নয়। বঙ্গোপসাগর থেকে মাত্র ২৪ ঘন্টার দূরত্বে সপ্তম নৌবহরের নিশ্চল অবস্থান।
১৩ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তৃতীয় সোভিয়েত ভেটো।
১৪ পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তা রাও ফরমান আলির পরিকল্পনায় আলবদর বাহিনীর হাতে সংঘটিত হল বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। এদের মধ্যে অন্যতম – আনোয়ার পাশা, মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সেলিনা পারভিন, আলিম চৌধুরী, ফজলে রাব্বী, শহিদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ। মহানন্দার চরে শহিদ হলেন বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
১৫ সন্ধ্যায় দক্ষিণ, পূর্ব, পূর্ব-উত্তর, ও উত্তর দিক থেকে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনী ঢাকার উপকন্ঠে সমবেত হল। নিয়াজির অনুরোধে এই দিন বিকাল ৫.৩০ থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত বিমান হামলা স্থগিত। ভারত মহাসাগরে অবস্থান নিল ২০টি সোভিয়েত রণতরী।
১৬ সকাল ১০.৪০য়ে মিত্রবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করে। বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে প্রবেশ করল সপ্তম নৌবহর। বিকাল ৫টা ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি।*
* বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিছকই বাংলাদেশের ব্যাপার ছিল না। এই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ মুক্তিসংগ্রামের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Sisson & Rose 1991; Raghavan 2013; Khasru 2021; Dasgupta 2021).
১৭ সিলেট মুক্ত হল।
১৮ রায়েরবাজারে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের বধ্যভূমি আবিষ্কৃত হয়। একইদিনে ঢাকায় দালালির দায়ে অভিযুক্ত কয়েকজন উর্দুভাষীকে প্রকাশ্যে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খুন করেন কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও তাঁর অনুসারীরা। কাছাকাছি সময়েই কখনো সিদ্দিকী টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স্কুলের মাঠে প্রকাশ্য দিবালোকে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সদস্য ও বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খুন করেন।
১৯ যৌথবাহিনী প্রধান লে. জে. জগজিৎ সিং বললেন, “ভারতীয় বাহিনী প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় বাংলাদেশে অবস্থান করবে না।”
২০ পাকিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভুট্টো বললেন, “পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অখণ্ড পাকিস্তানের কাঠামোর অধীনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মিলিত হতে রাজি।” প্রদেশ ও কেন্দ্রের তহবিল একীভূত করল বাংলাদেশ সরকার।
২১ ভুট্টো ঘোষণা দিলেন, শেখ মুজিবকে শিগগিরই জেল থেকে মুক্তি দিয়ে অন্য কোথাও গৃহবন্দী করা হবে। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে শেষ মুহূর্তে ১০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ নোট জ্বালিয়ে দিল। নাটোরে পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করে। দেশের ডাকব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ডাকব্যবস্থা চালু হল। সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহবান জানালেন ন্যাপ-মোজাফফর প্রধান।
২২ পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন শেখ মুজিব। তাঁকে অনতিবিলম্বে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। মুজিবনগর থেকে ঢাকায় ফেরার পর অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সহ বাংলাদেশ সরকারের নেতারা সংবর্ধনা পেলেন।
২৩ যুদ্ধ শেষে ১৮ তারিখে লালবাগ থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন যুদ্ধকালে পাকিস্তানের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখা মৌলভী ফরিদ আহমদ। মুজিব বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে ছিনিয়ে নেন এবং ইকবাল হলে টানা ৫ দিন আটক রাখেন ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ২৩ তারিখে সলিমুল্লাহ হলের পেছনে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।
মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়। স্টেট ব্যাংকের নাম বদলে রাখা হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রেস ট্রাস্ট বিলুপ্ত।
যুদ্ধকালে অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষার ফল বাতিল করা হল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ডি পি ধর বললেন, “ভারত বাংলাদেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব ধরণের সহায়তা দেবে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ ঘোষণা করলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক উত্তরোত্তর ঘনিষ্ঠ হবে।”
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
চীন বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করল।
২৪ মালেক মন্ত্রিসভার এম. এ. মালেক সহ অন্যান্য সদস্যকে যুদ্ধকালে পাকিস্তানের দালালির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হল। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দাবি তুললেন ৫২ জন বুদ্ধিজীবী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান বললেন, “যুদ্ধাপরাধীরা বিচারের হাত থেকে বাঁচতে পারবে না।”
২৫ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণা করলেন, “মুক্তিবাহিনীকে নিরস্ত্র করার প্রশ্ন আসে না। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতামতের ওপর ভারত কোন ভূমিকা রাখবে না।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ ঘোষণা দিলেন, “বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ স্বাধীন বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করবে।”
২৬ ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হল। সিদ্ধান্ত নেয়া হল, সরকার একটি জাতীয় মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করবে, তালিকাভুক্ত ও তালিকাবিহীন সকল মুক্তিযোদ্ধা যাতে থাকবেন। সরকার শত্রু সম্পত্তি হিসেবে সকল পাটকল ও শিল্পকারখানা অধিগ্রহণ করবে। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ঘোষিত হল বাংলাদেশ অর্ডার (ট্যাক্স)। পরবর্তী বাংলা নববর্ষ থেকে ২৫ বিঘা পর্যন্ত আবাদি জমির খাজনা মকুব ঘোষণা করা হল।
২৭ পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহায়তা করার দায়ে হাসান জামান সহ আরও ৩৩ জন গ্রেপ্তার। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ফণিভূষণ মজুমদার, জহুর আহমেদ চৌধুরী, ও আব্দুস সামাজ আজাদ।
২৮ কেবিনেট সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন প্রফেসর ইউসূফ আলী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, সোভিয়েত জনগণের বাংলাদেশে আসার জন্য ভিসা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য কমিশন গঠনের আহবান জানালেন কথাসাহিত্যিক ও ফিল্মমেকার জহির রায়হান।
২৯ মন্ত্রীদের দায়িত্ব বন্টন করা হল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন আব্দুস সামাদ আজাদ।
৩১ ১৯৫৯ সালে চালু করা বোনাস ভাইচার প্রথা বিলুপ্ত। খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য একটি খাদ্য কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লুটপাটের বিরোধিতা করে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এম এ জলিল।
মুজিব আমল
১৯৭২-৭৫
১৯৭২ জানুয়ারি ১০ পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন শেখ মুজিব।
১২ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন শেখ মুজিবুর রহমান। মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হলেন।
১৩ মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। ১৯৭২ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া ও সুদসমেত কৃষিজমির সব রকম খাজনা মকুব করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমার সোনার বাংলার প্রথম দশ চরণকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করা হল।
১৬ বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতীয় সাহিত্যিক মুলুকরাজ আনন্দ বললেন, “আপনারা মসী ছেড়ে অসি ধরেছিলেন, এবার অসি ছেড়ে কলম ধরবেন, আপনাদের লেখায় যেন বাংলাদেশের বিপর্যয়ের ছবি আঁকা থাকে। লেখকরা সমাজের প্রতিনিধি। সমাজের হৃদস্পন্দন যেন আপনাদের লেখায় প্রকাশিত হয়। আপনাদের দেশে যে মর্মঘাতী কাহিনী অভিনীত হয়ে গেছে তা যদি প্রকাশ করতে না পারেন; জানবেন — এই দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা আমাদের নেই… এ’ও একটি কবিতা হবে।”
২৪ (স্বাধীনতা যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে মুজিব) “আমি তোমাদের তিন বছর কিছু দিতে পারব না। আরও তিন বছর যুদ্ধ চললে তোমরা যুদ্ধ করতে না? (স্বাধীনতা যোদ্ধাদের জবাব) “করতাম-করতাম।” (মুজিব) “তাহলে মনে করো যুদ্ধ চলছে, তিন বছর যুদ্ধ চলবে। সেই যুদ্ধ দেশ গড়ার যুদ্ধ। অস্ত্র হবে লাঙ্গল আর কোদাল।“
‘রাষ্ট্রপতির ৮ নং আদেশ’ নামে ‘বাংলাদেশ যোগসাজশকারী বা দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ, ১৯৭২’ জারি করা হল, যা দালাল আইন নামে পরিচিত।
৩০ মিরপুরে ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে নিরুদ্দেশ হলেন লেখক ও ফিল্মমেকার জহির রায়হান।
ফেব্রুয়ারি ১ ‘রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২১’ নামে ‘জাতীয় রক্ষীবাহিনী আদেশ, ১৯৭২‘ এই দিন থেকে কার্যকর ধরা হয়েছিল, যদিও গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল একই বছরের ৮ মার্চ।
৬ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফর করলেন শেখ মুজিবুর রহমান, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভাষণ দিলেন।
১৩ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠিত হল।
১৫ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) গঠিত।
১৭ ‘মুজিববাদ’ প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিলেন তোফায়েল আহমদ।
২৮ জিয়াউর রহমানকে মেজর থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি দেয়া হল।
মার্চ ১-৭ সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১ মস্কোতে শেখ মুজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা দেয়া হল।
২ মুজিব-ব্রেজনেভ বৈঠক, দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক চুক্তি সাক্ষরিত।
১৪ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহড়া দিল জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।
১৫ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার শেষ হল।
১৬ শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আজীবন সদস্যপদ দেয়া হল।
১৭ বাংলাদেশ সফর করলেন মিসেস গান্ধী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় ভাষণ দিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজিত হল।
১৮ মিসেস গান্ধীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হল। মুজিব-ইন্দিরা বৈঠক।
১৯ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদী শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি সাক্ষরিত। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মৌলানা ভাসানী নেতৃত্বাধীন অংশ (ন্যাপ-ভাসানী) এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে। আজাদ বাংলা আন্দোলনের ডাক দেন অলি আহাদ।
২৬ বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে বৃহৎ শিল্প, ব্যাংক, ও বীমা জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া হল। মার্চে ‘অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব’ সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহবান জানায় পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। একইমাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়ে শহিদুল্লাহ কায়সার ও জহির রায়হানের বোন নাফিসা কবিরের নেতৃত্বে শহিদ পরিবারের সদস্যরা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
এপ্রিল ৪ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করল যুক্তরাষ্ট্র।
৬ দুর্নীতির অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার থেকে ১৬ জন গণপরিষদ সদস্যকে বহিষ্কার করা হল।
১১ সংবিধান প্রণয়নের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪-সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হল।
১৬ ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করে আইন জারি করা হল।
১৮ কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করল বাংলাদেশ।
২৪ এম এন লারমার নেতৃত্বে পাহাড়িরা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ ৪ দফা দাবি নিয়ে শেখ মুজিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তাঁদের দাবি অগ্রাহ্য করা হয়।
জুন ৬ জিয়াউর রহমানকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হল।
জুলাই ৬/৭ মেজর এম এ জলিলকে মুক্তি দেয়া হল।
১৯ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও পল্টন ময়দানে পাল্টাপাল্টি সম্মেলন ডাকল ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ, শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনে যোগ দিলেন।
২১-২৩ ছাত্রলীগ মুজিববাদী আর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রপন্থী অংশে ভাগ হয়ে গেল, দ্বিতীয় অংশটি পরবর্তীতে জাসদ ছাত্রলীগ নামে পরিচিতি পাবে।
আগস্ট ২৫ আদমজি পাটকলে শ্রমিক অসন্তোষে ২ জন খুন হলেন, আহত হলেন আরো ৫০ জন। মিল বন্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা হল। রক্ষীবাহিনী তলব করা হল।
সেপ্টেম্বর ১০ জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রশ্নে চীন রাষ্ট্র ভেটো প্রদান করার প্রতিবাদে পল্টন ময়দানে জমায়েত।
২৬ বাংলাদেশি নাগরিকদের হজ পালনের সুযোগ দেয়ার জন্য সৌদি আরবের বাদশা ফয়সালের কাছে জরুরি আবেদনবার্তা পাঠালেন শেখ মুজিব।
২৭ মৌলানা ভাসানী কর্তৃক প্রকাশিত এবং সৈয়দ ইরফানুল বারী কর্তৃক সম্পাদিক সাপ্তাহিক হক-কথার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হল।
অক্টোবর ২২ গণপরিষদে সংবিধানের ওপর ৮ দিনের সাধারণ আলোচনা।
৩১ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করা হল। গণপরিষদ থেকে পদত্যাগ করলেন এম এন লারমা।
নভেম্বর ৪ গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত।
১৯ দালাল আইনে তাঁবেদার গভর্নর মালেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
৩০ বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্যপদ দেয়া প্রশ্নে সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিসি) সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত হল।
পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী লেনিনবাদী) [ইপিসিএম-এমএল] নাম বদলে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী লেনিনবাদী) রাখা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জাসদ) যোগ দেন এম এ জলিল। মেজর আবু তাহের বীর উত্তমও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জাসদ) যোগ দেন। ইংরেজি সাপ্তাহিক হলিডেতে মেজর মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন হিডেন প্রাইজ নামে একটি নিবন্ধ লেখেন; বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে যোগ দেন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টিতে।
হুমায়ূন আহমেদ, নন্দিত নরকে।
নির্মলেন্দু গুণ, না প্রেমিক না বিপ্লবী।
আবুল কাসেম ফজলুল হক, মুক্তিসংগ্রাম।
আহমদ ছফা, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস।
আবদুল মান্নান সৈয়দ, শুদ্ধতম কবি।
চাষী নজরুল ইসলাম, ওরা ১১ জন।
সুভাষ দত্ত, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
মমতাজ আলী, রক্তাক্ত বাংলা।
নোগিসা ওসিমা, রহমান: দ্য ফাদার অফ দ্য নেশন।
কাজী জহির, অবুঝ মন।
আক্কো, জিনা ইসি কি নাম।
মুস্তাফিজ, মুন্না অউর বিজলি।
রূপকার, পানছি বাউড়া।
আলাউদ্দিন, দিল ইক শিশা।
১৯৭৩ জানুয়ারি ১ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ, নিহত হন মতিউল ইসলাম ও মির্জা কাদিরুল ইসলাম।
২ ছাত্র হত্যায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। দেশজুড়ে হরতাল।
৭ গঠিত হল পিসিজেএসএসের সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী।
৮ শিল্প বিনিয়োগনীতি ঘোষিত।
ফেব্রুয়ারি ২১ যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের জনপরিসরে প্রথম আলোচিত যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। ঘটনাটি নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিবেদন করেছিল। যা ছাপা হয়েছিল দুইদিন পর ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৯৭৩ তারিখে।
মার্চ ৩/৫ অসুস্থতার কারণে মৌলানা ভাসানী পিজি হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে দেখতে যান শেখ মুজিব।
৭ বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। এই নির্বাচনে শাসক দল আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয়লাভ করে। বিরোধী দলগুলো জালভোট, কারচুপি, ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলে।
এপ্রিল ১১ যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবকে জরুরি বার্তা পাঠালেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৭ ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ঘোষণা। পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীদের বিনিময়ে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের দেশে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত। তবে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত।
মে ১২ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রথম জাতীয় সম্মেলন।
১৩ বন্ধ করে দেয়া হল দৈনিক স্বদেশয়ের প্রকাশনা।
২৩ ঢাকায় এশীয় শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল, জুলিও কুরি পদক পেলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
জুন ৬ কর্নেল শফিউল্লাহ ও কর্নেল জিয়াউর রহমানকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করা হল।
জুলাই ১৫ জাতীয় সংসদে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী গৃহীত হল, এটি ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ক।
১৭ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন পাশ করা হল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফজলুল কাদের চৌধুরীর মৃত্যু।
আগস্ট ১১ চট্টগ্রামের দেশবাংলা অফিসে তালা দেয়া হল এবং ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হল।
২৯ তিন দফা দাবিতে হরতাল ডাকলেন মৌলানা ভাসানী।
সেপ্টেম্বর ৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নির্বাচন ভণ্ডুল।
১৯ জাতিসংঘের বিমানে করে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটক বাঙালিরা দেশে ফিরে আসতে শুরু করলেন।
২০ জাতীয় সংসদে গৃহীত হল সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী।
অক্টোবর ১০ ঢাকায় এক দিনে ১০ জনকে পিটিয়ে হত্যা।
১২ চুয়াডাঙ্গার জেল ভেঙে ১৪ জন কয়েদীর পলায়ন।
১৪ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-মোজাফফর) ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠন করার ঘোষণা দিলেন।
নভেম্বর ১১ বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের চতুর্দশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
৩০ দালাল আইনে অভিযুক্ত ও আটক ব্যক্তিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হল।
ডিসেম্বর ৪ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) দ্বিতীয় কংগ্রেস উদ্বোধন করলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১৫ বাংলাদেশ গেজেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঘোষিত হল। ৭ জন পেলেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বীরশ্রেষ্ঠ। ৬৮ জন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বীর উত্তম, ১৭৫ জন তৃতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বীর বিক্রম, এবং ৪২৬ জন চতুর্থ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বীর প্রতীক লাভ করলেন।
২৪ প্রেসিডেন্টের পদ থেকে আবু সাঈদ চৌধুরী ইস্তফা দিলেন। স্পিকার মুহাম্মদ উল্লাহকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।
২৯ ২৯ দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করল জাসদ।
প্রতিষ্ঠিত হল বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটি।
আহমদ ছফা, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস।
হুমায়ূন আহমেদ, শঙ্খনীল কারাগার।
আল মাহমুদ, সোনালি কাবিন।
আবুল হাসান, রাজা যায় রাজা আসে।
দাউদ হায়দার, জন্মই আমার আজন্ম পাপ।
খান আতাউর রহমান, আবার তোরা মানুষ হ।
ঋত্বিক ঘটক, তিতাস একটি নদীর নাম।
আলমগীর কবির, ধীরে বহে মেঘনা।
জহিরুল হক, রংবাজ।
শেখ লতিফ, দেবর।
১৯৭৪ জানুয়ারি ১০ ভোলা থেকে নির্বাচিত আওয়ামি লীগ এমপি মোতাহার উদ্দিন মাস্টার গুপ্তঘাতকের গুলিতে খুন হলেন।
১৩ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরণের জনসভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এক জনসভায় বললেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ভারতের সাথে বাংলাদেশ কোন গোপন চুক্তি করেনি।
ফেব্রুয়ারি ৩-১৯ বামপন্থী নেতা শান্তি সেনের স্ত্রী অরুণা সেন ও পুত্রবধূ রীণা সেনের ওপর বীভৎস নির্যাতন চালাল জাতীয় রক্ষিবাহিনী।
৯ জারি করা হল বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪।
১৬ জুলফিকার আলি ভুট্টো বললেন, “বাংলাদেশ যদি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারকাজ স্থগিত করে, তাহলে পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।”
২২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল পাকিস্তান, ইরান, ও তুরস্ক।
২৩ লাহোরে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক ইউনিটির (ওআইসি) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
মার্চ ১৭ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করলেন জাসদের নেতাকর্মীরা। পুলিশের গুলিবর্ষণে ২ জন নিহত ও ১৮ জন আহত হলেন। গ্রেপ্তার হলেন জাসদ নেতা এম এ জলিল।
১৯ চিকিৎসার জন্য মস্কো সফর করলেন শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রীর রোগমুক্তি ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে দোয়া করলেন মৌলানা ভাসানী। সাপ্তাহিক বিচিত্রার স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় প্রকাশিত হল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের লেখা নিবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’।
৩১ জাতীয় প্রেস ক্লাবে অধ্যাপক আহমদ শরীফের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় গঠিত হল মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি।
এপ্রিল ৯ মস্কোয় মুজিব-ব্রেজনেভ বৈঠক। চিকিৎসা শেষে দিল্লির উদ্দেশ্যে মস্কো ছাড়লেন মুজিব। দিল্লিতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে এই মর্মে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হল যে, ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর প্রতি দয়া দেখান হবে, এবং তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠান হবে।
১৬ ১৭-সদস্যবিশিষ্ট সোভিয়েত অর্থনীতিবিদদের একটি দল ঢাকায় এল।
মে ১১ আওয়ামি লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন মোমতাজ বেগম এমপি।
১৬ বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে সীমান্তচুক্তি সই। ঠিক হল, বেরুবাড়ির পরিবর্তে চারটি ছিটমহল পাবে বাংলাদেশ। মুজিব দেশে ফিরলেন।
জুন ২৭ ভুট্টোর ঢাকা সফর। একইদিনে জাসদের খসড়া থিসিস প্রকাশ করা হল। রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন রুখতে গনবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত।
জুন বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার হলেন অলি আহাদ।
জুলাই ৯ সামরিক বাহিনীকে সীমান্ত বন্ধ ও চোরাচালান বন্ধের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।
আগস্ট ১০ বাংলাদেশকে জরুরি ত্রাণসাহায্য দেয়ার জন্য ঢাকায় আসলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি। বাংলাদেশের বন্যার্তদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ তহবিল থেকে ২০০০০ ডলার সাহায্য মঞ্জুর করা হল।
সেপ্টেম্বর ১ বেরুবাড়ি-সংক্রান্ত আপিল সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেল।
১৭ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হল বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হলেন সৈয়দ আনোয়ারুল করিম। সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
অক্টোবর ১১ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিতে গঠিত হল মন্বন্তর প্রতিরোধ আন্দোলন।
২৭ শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করলেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ।
২৮ বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিল।
৩০ ঢাকা সফরে আসলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার।
নভেম্বর ১৭ কাজী জাফর আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে আত্মপ্রকাশ করল নতুন রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি)।
ডিসেম্বর ১৫-১৬ পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির আহবানে হরতাল পালিত।
২৮ জরুরি অবস্থা জারি করলেন প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ উল্লাহ। মৌলিক অধিকার স্থগিত। তৈরি হল শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত একনায়কতন্ত্রের রাস্তা।
চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের ১০-১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। কবি রফিক আজাদ লেখেন ভাত দে হারামজাদা, কবিতাটির জন্য রাষ্ট্রীয় হেনস্তার শিকার হন। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় অনেকগুলো বস্তি। রক গায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খান গান রেললাইনের ঐ বস্তিতে।
বাংলাদেশের ক্রম অবনতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় বেরোয় পিটার প্রেসটনের নিবন্ধ ডেথ অফ এ নেশন। এ বছর কয়েকটি নিবর্তনমূলক বিল কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন সংশোধনী বিল, বিশেষ ক্ষমতা আইন বিল, ও জাতীয় রক্ষীবাহিনী (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল। এর মধ্যে শেষোক্তটি পাশের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।
আবুল হাসান, যে তুমি হরণ করো।
শহিদ কাদরী, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
মনসুর মুসা, পূর্ব বাংলার উপন্যাস।
বদরুদ্দীন উমর, যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ।
সরদার ফজলুল করিম, তর্জমা, প্লেটোর রিপাবলিক।
নারায়ণ ঘোষ মিতা, আলোর মিছিল।
সত্যজিৎ রায়, সোনার কেল্লা।
১৯৭৫ জানুয়ারি ২ শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নেতা সিরাজ সিকদার। দৈনিক ইত্তেফাকের ৩ ও ৪ জানুয়ারি এ বিষয়ক সংবাদ গুরুত্ব সহকারে ছাপানো হয়।
৯ সর্বহারা পার্টির অস্থায়ী সর্বোচ্চ সংস্থা (অসস) গঠিত হল।
২৫ জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হল। প্রেসিডেন্টশাসিত পদ্ধতি প্রবর্তিত। বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
২৬ সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও মনসুর আলীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করে একটি ১৬-সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করা হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
ফেব্রুয়ারি ২৪ প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক নতুন ‘জাতীয় দল’ হিসাবে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) ঘোষিত হল। অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হল। বাকশালের চেয়ারপার্সন হলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর ব্যক্তিগত একনায়কতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হল।
এপ্রিল ৫ ১০০ টাকার সব নোট বাতিল ঘোষণা করা হল।
২৫ বাকশালের সদস্যপদ পেলেন জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা আতাউর রহমান খান।
২৮ আবদুল্লাহ সরকার এমপি ও মইনুদ্দিন আহমেদ মানিক এমপি বাকশালে যোগদান না করায় তাঁদের আসন শূণ্য ঘোষণা করা হল।
জুন ৬ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ও গণতন্ত্র – এই চারটি নীতিকে বাকশালের মূলনীতি ঘোষণা করা হল।
১৬ নিউজপেপারস ডিক্লারেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স পাশ করার ভেতর দিয়ে মাত্র ৪টি দৈনিক রেখে বাকি সব দৈনিকের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হল।
জুলাই ২৭ চতুর্থ শ্রেণির ১ লাখ কর্মচারী বাকশাল সদস্যপদের জন্য আবেদন করলেন।
আগস্ট ১৪ প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি।
১৫ আগস্ট অভ্যুত্থান। এক সেনা অভ্যুত্থানে সপরিবারে খুন হলেন মুজিব।
মোশতাক আমল
আগস্ট-নভেম্বর ১৯৭৫
১৯৭৫ আগস্ট ১৫ বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। সামরিক আইন ও সান্ধ্য আইন জারি করলেন। সশস্ত্র বাহিনীগুলি মোশতাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করল। শপথ গ্রহণ করলেন ১০ জন মন্ত্রী ও ৬ জন প্রতিমন্ত্রী। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হল। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিলেন কাদের সিদ্দিকী। কলকাতা চলে গেলেন সিপিবি নেতা খোকা রায়। পরবর্তীকালে কলকাতা যান সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রমুখ। আওয়ামী লীগের মত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি) বাকশালে বিলীন হয়ে গেছিল। ১৫ আগস্টের পরও বাকশালে বিশ্বাস অটুট ছিল তাদের।
১৬ সৌদি আরব ও সুদানের স্বীকৃতি। ভারতের মুখপাত্র বললেন, বাংলাদেশের ঘটনা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। নতুন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করলেন মৌলানা ভাসানী।
১৭ ইয়েমেনের স্বীকৃতি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলীর সাথে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ।
১৮ ব্রিটেন, জর্দান, জাপান ও বার্মার স্বীকৃতি।
১৯ ইরান ও কাতারের স্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্র জানাল, বাংলাদেশে মার্কিন সাহায্য অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত হল ঢাকা বিমানবন্দর।
২০ প্রেসিডেন্ট মোশতাকের সাথে সাক্ষাৎ করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ভারতীয় হাইকমিশনার, ও সোভিয়েত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স । নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আবু ধাবি, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, ও ব্রাজিলের স্বীকৃতি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
২১ পিজি হাসপাতালে অসুস্থ ভাসানীর সাথে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ। প্রেসিডেন্টের সচিবালয় পরিদর্শন। মরক্কো, লিবিয়া, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, বেলজিয়াম, যুগোস্লাভিয়া, আর্জেন্টিনা, ও অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি।
২২ যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি। ইত্তেফাক ও সংবাদ মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল। বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক পদে নিয়োগ পেলেন এনায়েতুল্লাহ খান।
২৩ অবৈধ সম্পত্তি করার অভিযোগ এনে তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী, ও সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হল। সামরিক আইন বিধি জারি করা হল, সামরিক আদালত গঠনের ব্যবস্থা ঘোষণা করা হল। লেবানন ও সিঙ্গাপুরের স্বীকৃতি।
২৪ মেজর জেনারেল কেএম শফিউল্লাহকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সেনাবাহিনী থেকে প্রত্যাহার করা হলে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হলেন মেজর জেনারেল এম খলিলুর রহমান। কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করলেন আটক রাজনৈতিক নেতা মশিউর রহমান ও অলি আহাদ। দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে কঠোর সাজা দেয়ার আহবান জানালেন মৌলানা ভাসানী।
২৭ ভারত, ওমান, ও জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের স্বীকৃতি।
৩১ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করল চীন।
সেপ্টেম্বর ১ প্রেসিডেন্টের এক আদেশ বলে রহিত হল বাকশাল।
২ গ্রেপ্তার হলেন রেডক্রসের সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফা।
৬ গ্রেপ্তার হলেন জিল্লুর রহমান, তোফায়েল আহমেদ, ও আব্দুর রাজ্জাক। এক সপ্তাহের মধ্যে বেআইনি অস্ত্র জমা দেয়ার হুকুম দেয়া হল।
১২ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর শ্বেতপত্র প্রকাশিত হল। জনসাধারণের তহবিল তছরুপের পর সাংসদ এমএ মান্নানের ১০ বছর কারাদণ্ড।
১৫ অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে এক মহিলার ৭ বছরের কারাদণ্ড।
১৯ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন রাবির ভিসি মাযহারুল ইসলাম।
২৩ ঢাবির ভাইস চ্যান্সেলর মতিন চৌধুরীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হল।
২৬ প্রেসিডেন্ট মোশতাক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করলেন। যাতে বলা হল আগস্ট অভ্যুত্থানে জড়িত কারো বিচার করা যাবে না।
অক্টোবর ৩ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হল। সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হল: ফেব্রুয়ারি ২৮, ১৯৭৭।
৪ জাতীয় রক্ষীবাহিনী (সামরিক বাহিনীতে আত্মীকরণ) অধ্যাদেশ-১৯৭৫ বলে রক্ষীবাহিনী বিলুপ্ত হল।
৫ জাতীয় রক্ষীবাহিনীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একীভূত করা হল।
২১ ১৯টি জেলায় সামরিক আদালত গঠন করা হল।
নভেম্বর ৩ সামরিক বাহিনীতে খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের অভ্যুত্থান। সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী করলেন খালেদ মোশাররফ। জেল হত্যা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান, ও মনসুর আলীকে খুন করা হল।
৪ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খুন হওয়া চার নেতার হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য বিচারপতি আহসানউদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩-সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গঠন করা হল। সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জিয়াউর রহমান। নতুন সেনাপ্রধান হলেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ। শেখ মুজিবের খুনীদের বিদেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত হল। মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে চারজন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। গ্রেপ্তার হলেন তাহেরুদ্দিন ঠাকুর ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।
৫ প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
সায়েম আমল
১৯৭৫-৭৭
১৯৭৫ নভেম্বর ৬ নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
৭ সিপাহী জনতা বিপ্লব। জাসদের ইন্ধনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দিল। এ সময় “সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই অফিসারের রক্ত চাই” জাতীয় শ্লোগান ওঠে যা সেনাবাহিনীর সামরিক শৃঙ্খলার – চেইন অফ কমান্ড – পরিপন্থী। খুন হয়ে যান খালেদ মোশাররফ, খন্দকার নাজমুল হুদা, ও এ. টি. এম. হায়দার। বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট হন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। তিনি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, কমোডর এম. এইচ. খান, এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এম. জি. তাওয়াবকে যথাক্রমে সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান পদে নিয়োগ দেন। মুক্তিলাভ করেন তাহেরুদ্দিন ঠাকুর ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।
৮ রাজশাহী কারাগার থেকে আ স ম আবদুর রব আর ময়মনসিংহ কারাগার থেকে মেজর (অব:) জলিল ছাড়া পেলেন।
৯ দেশবাসীর প্রতি মেজর জলিল ও আ স ম রবের আহবান নামে একটি প্রচারপত্র বিলি করল জাসদ।
১৫ রায়েরবাজারে কাঠের আড়তে জাসদ নেতাদের গোপন সভা।
১৭ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা।
২০ বিদেশে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে সামরিক বাহিনীর উপপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেজর জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
২৩ জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দিলেন জিয়াউর রহমান। সায়েম সরকারকে ‘নির্দলীয়’ ও ‘অরাজনৈতিক’ ঘোষণা করলেন। যার লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
২৫ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন আ স ম আবদুর রব, মেজর (অব.) এম এ জলিল, ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু তাহেরসহ জাসদের ১৬ জন নেতা।
২৬ ভারতীয় হাইকমিশনার সমর সেনকে অপকরণ প্রচেষ্টাকালে পুলিশ ও ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা কর্মীদের গুলিতে খুন হলেন চার জাসদ কর্মী।
ডিসেম্বর ১০ বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রদূত হলেন কে. খুরশিদ।
১১ পাকিস্তানে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হলেন জহিরউদ্দিন।
১৪ সর্বহারা পার্টির অস্থায়ী সর্বোচ্চ পরিষদকে (অসস) ভ্রান্ত ও প্রতিবিপ্লবী আখ্যায়িত করে পার্টির একাংশ গঠন করলেন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপকমণ্ডলী (অবম)।
১৫ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ওয়াদা করলেন প্রেসিডেন্ট সায়েম।
আবুল হাসান, পৃথক পালঙ্ক।
আল মাহমুদ, পানকৌড়ির রক্ত।
খান আতাউর রহমান, সুজন সখী।
নারায়ণ ঘোষ মিতা, লাঠিয়াল।
আকবর পিন্টু, বাদশা।
১৯৭৬ জানুয়ারি ১ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ।
২ পাটের রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি ঘোষণা করা হল।
৩ জয়দেবপুর ধান গবেষণা কেন্দ্রে স্বনির্ভর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সম্মেলন।
৪ ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষিত। গঠন করা হল পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।
৬ বঙ্গভবনে সচিবদের সমাবেশে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট সায়েম।
৭ নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত পানি বৈঠক।
১২ নারায়ণগঞ্জের এক পাটের গুদামে আগুন লেগে গেল।
১৫ সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত।
১৬ প্রশাসনিক কাঠামোয় রদবদল। দুজন সচিব বরখাস্ত, তিনজনকে অবসরে পাঠানো হল। কাপ্তাইয়ে নৌবাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হল।
১৭ গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটি জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত।
১৯ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় দুটি থানায় সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারীদের হামলা প্রতিহত।
২০ চোরাচালান-সংক্রান্ত সামরিক বিধির সংশোধন জারি।
২২ প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সাথে বৈঠক করলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গঠনের আদেশ জারি।
২৩ চীনের প্রথম চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মউ পিংয়ের ঢাকা আগমন।
২৯ ময়মনসিংহ সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারত রাষ্ট্রের পরোক্ষ সমর্থনে কাদের সিদ্দিকীর ‘গেরিলা যুদ্ধের’ সংবাদ ঢাকার পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। মেঘনায় লঞ্চ ডুবিতে ১৬ ব্যক্তির মৃত্যু।
ফেব্রুয়ারি ১ রেলওয়ের যাত্রী ও মালভাড়া যথাক্রমে ২০% ও ২৫% বৃদ্ধি। পোস্টকার্ড ও খামের মূল্যবৃদ্ধি।
২ বেতন কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল; সেইসাথে ঠিক হল, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য স্বতন্ত্র কমিশন গঠিত হবে।
৩ ৯ দিনের সফরে ঢাকা এলেন আইডিবির কার্যনির্বাহী পরিচালক ড. হাসান জাকির। জামালপুর ও নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকা ঘুরে এসে ময়মনসিংহে এক সংবাদ সম্মেলনে মজলুম জননেতা মৌলানা ভাসানী ঘোষনা দেন, “বাংলাদেশের মানুষ তাঁদের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
৪ আয়কর বিধি জারি।
৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম সম্পর্কে তদন্ত কমিশন গঠন।
৬ ১০ কোটি টাকা ঋণের আশ্বাস দিল ডেনমার্ক।
৭ রেশনে চাল ও গমের মূল্যবৃদ্ধি।
৮ কক্সবাজারে খনিজ বালু প্রকল্প উদ্বোধন।
১০ ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত আলোচনা।
১১-২০ সর্বহারা পার্টির অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপকমণ্ডলীকে (অবম) বিলুপ্ত করে দিয়ে কামাল হায়দার, আনোয়ার কবীর, আর সগির মাস্টার গঠন করলেন সর্বোচ্চ বিপ্লবী পরিষদ (সবিপ)।
১২ পাট রপ্তানি ব্রোকার লাইসেন্স বিষয়ক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।
১৪ পাকিস্তানের সাথে টেলিসার্ভিস পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত।
১৬ কয়লা আমদানি বিষয়ে ঢাকায় ভারত-বাংলাদেশ বৈঠক। সামরিক বিধির দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ সংশোধনী।
১৮ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
২০ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও কর্ম কমিশন গঠন।
২১ শহিদ দিবস পালনের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হল। এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা গোলাম হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাপ্তাহিক হলিডের সম্পাদক এনায়েতুল্লাহ খান। কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত স্যুভেনিরে শাহরিয়ার কবির লেখেন, “ভারতের হামলাকে রুখতে হলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।”
২৮ পার্টের সর্বনিম্ন মূল্য ৯০ টাকা ধার্য করা হল।
মার্চ সর্বহারা পার্টির অস্থায়ী সর্বোচ্চ সংস্থাকে বিলুপ্ত করে দিয়ে গঠন করা হল অস্থায়ী পরিচালনা কমিটি (অপক)।
২ সংবাদকর্মীদের জন্য অন্তর্বর্তী ভাতা ঘোষণা করা হল।
৩ বাঙালির পরিবর্তে বাংলাদেশী জাতীয়তা নির্ধারণ করে সরকারি নির্দেশ জারি হল।
৪ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি কমিটির সাথে প্রেসিডেন্টের আলোচনা।
৫ ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী অর্ডিন্যান্স জারি হল।
৮ গঠন করা হল ৬ নম্বর বিশেষ সামরিক আদালত। মহিলা পুলিশ ট্রেনিং শুরু।
৯ ব্রডকাস্টিং সিস্টেম গঠন।
১০ হেলিকপ্টার যোগে কূটনীতিকদের ফারাক্কার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ।
১২ গমের মূল্য নির্ধারণ করা হল ৭২ টাকা।
১৭ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হল।
১৮ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ২০ এপ্রিলের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ও সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করার নির্দেশ।
২০ হেলিকপ্টার যোগে পদ্মার চর পর্যবেক্ষণ করল একটি জাপানি প্রতিনিধি দল। গঠন করা হল সংবাদপত্র উপদেষ্টা কমিটি।
২২ নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণের খসড়া প্রণীত হল।
২৪ প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হল।
২৮ ঢাকা-মস্কো বাণিজ্য চুক্তি।
এপ্রিল ১ খুলনায় সর্বস্তরের জনসমাবেশে ভাষণ দিলেন সেনাপ্রধান জিয়া।
৪ জয়পুরহাটে মৌলানা ভাসানীর আহবানে শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
৭ থানা পরিষদ পুনরুজ্জীবিত।
১২ পুঁজি প্রত্যাহার বোর্ড পুনর্গঠন।
১৪ রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন।
১৬ ঢাকায় এলেন আইডিবির প্রেসিডেন্ট আহমদ মোহাম্মদ আলী।
১৮ নির্বাচনী এলাকার প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হল। হেলিকপ্টারে পদ্মার চর পরিদর্শন করলেন আইডিবির প্রেসিডেন্ট।
১৯ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধীর কাছে চিঠি লিখলেন মৌলানা ভাসানী, বাংলাদেশ-ভারত পানিবন্টন সমস্যার সমাধান করতে তাঁকে বাংলাদেশে সফর করার অনুরোধ জানালেন।
২০ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে প্রতিবেশী এলাকা থেকে গোলাবর্ষণ।
২৪ পাউন্ডের সাথে টাকার পুনর্মূল্যায়ন।
২৮ ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক আয়োজিত।
৩০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) শিক্ষক সমাবেশে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট সায়েম। বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম বাণিজ্যচুক্তি। ইস্তফা দিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল এম. জি. তাওয়াব।
মে ১ রাশেদ খান মেনন ও কাজী জাফর আহমেদের পরিকল্পনায় মে দিবস উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে ভাষণ দিলেন সেনাপ্রধান জিয়া।
২ বিমান বাহিনী প্রধান এবং উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হলেন এম. কে. বাশার।
৩ প্রেসিডেন্ট সায়েম এক অধ্যাদেশ (Second Proclamation Order No. III of 1976) জারি করে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের অনুবিধি বাতিল করে দিলেন।
৪ মৌলানা ভাসানীর চিঠির জবাব দিলেন মিসেস গান্ধী, যেখানে তিনি ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মৌলানার অবদান স্বীকার করলেও, যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ভাসানীর ভারতবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানকে ‘তাৎক্ষণিক উত্তেজনার’ ব্যাপার বলে লঘুকরণ করলেন।
৭ ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক আয়োজিত।
৮ ৯ জন সামরিক আইন প্রশাসককে নিয়োগ দেয়া হল। সাংবাদিকতা পুরস্কার ঘোষিত।
১১ ইস্তানবুল সফর করলেন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান।
১২ বাংলাদেশ থেকে ৫৬ হাজার বেল পাট কিনল চীন।
১৪ ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন করলেন রিয়ার এডমিরাল এম. এইচ. খান।
১৬-১৭ ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে মৌলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক মিছিল। রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে মিছিলকারীরা শপথ গ্রহণ করেন। কানসাট সীমান্তে জনসমাবেশের মাধ্যমে মিছিল শেষ হয়।
১৯ শিশু অপহরণে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হল।
২০ নিউজপ্রিন্ট নিয়ন্ত্রণ আদেশ বাতিল।
২৬ জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ঘোষণা করা হল।
২৭ বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার উন্নয়ন সাহায্য মঞ্জুর করতে কনসোর্টিয়াম দেশগুলোকে সুপারিশ করল বিশ্বব্যাংক।
২৮ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের পৃথকীকরণ, এই মর্মে প্রেসিডেন্টের আদেশ জারি। কর্নফুলি বিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়নে ২০ লক্ষ ডলার মার্কিন ঋণ।
৩১ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ২৬ লক্ষ ডলার মার্কিন সহায়তা।
জুন ২ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে ক্ষতিপূরণের আবেদন করার সময়সীমা বৃদ্ধি।
৪ টাঙ্গাইলে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমাবেশে জিয়ার ভাষণ।
১৩ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করলেন জিয়া।
১৭ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরের কর্নেল জিএম ইউসুফ হায়দারকে সভাপতি করে বিশেষ সামরিক আইন ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেন সেনাপ্রধান জিয়া।
২১ বিশেষ সামরিক আইন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র বনাম মেজর জলিল ও অন্যান্য মামলার বিচার শুরু হল।
২৩ ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক কোনো ফলাফলে না পৌঁছেই শেষ হল।
২৮ নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হল।
৩০ সংবাদপত্র ডিক্লারেশন বাতিল আদেশ রহিত ঘোষিত হল।
জুলাই ১ সাম্যবাদয়ের শেষ সংখ্যায় জাসদের ‘রণকৌশল’ পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
১০ ঢাকায় ৬ দিন ব্যাপী ভারত-বাংলাদেশ সীমানা-নির্ধারণ বৈঠক সমাপ্ত।
১৭ বিশেষ সামরিক আইন ট্রাইব্যুনালে ষড়যন্ত্র মামলার রায়। তাহেরের মৃত্যুদণ্ড হল। জলিল-রবসহ অন্যান্য জাসদ নেতার বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড।
২০ তাহেরের পক্ষে পেশ করা ক্ষমা প্রার্থনা – মার্সি পিটিশন – নাকচ করে দিলেন প্রেসিডেন্ট সায়েম।
২১ কর্নেল তাহের বীর উত্তমের ফাঁসির রায় কার্যকর।
২৮ রাজনৈতিক দল প্রবিধান (পিপিআর) জারি করলেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বিচারপতি সায়েম।
৩১ তাহেরের ফাঁসির প্রতিবাদে এইদিন হরতাল আহবান করেছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), কিন্তু জনগণ এই আহবানে সাড়া দেয়নি।
আগস্ট ২১ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জাতীয় কাউন্সিলে ভাষণ দিলেন জিয়া।
২৪ নেজামে ইসলামীর মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ আর জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবদুর রহিম গঠন করলেন ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল)।
সেপ্টেম্বর ৫ বিমান বাহিনীর নতুন প্রধান নিয়োজিত হলেন এয়ার কমোডর এ জি মাহমুদ।
৮ গঙ্গার পানিবন্টন ইস্যুতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক আয়োজিত।
১২ গণভোটের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচনের ব্যাপারে জনমত যাচাইয়ের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানালেন মৌলানা ভাসানী।
১৩ ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে শ্বেতপত্র প্রকাশ করল সরকার।
২০ পিপিআরয়ের আওতায় প্রথম দল হিসাবে নিবন্ধন পেল মৌলানা ভাসানীর বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।
২৩ পিপিআরয়ের আওতায় নিবন্ধন পেল আতাউর রহমান খানের বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ইতোপূর্বে বাকশালে যোগদান করায় বিলুপ্ত হয়ে গেছিল।
অক্টোবর ৬ বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যচুক্তির মেয়াদ তিনবছর বাড়ান হল। পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘ক্রমঅবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে’ বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হল।
১১ এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় জনতা পার্টির আহবায়ক আতাউল গণি ওসমানি দাবি করলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচাতে যা ঠিক মনে হয়েছে তিনি তাই করেছেন।
১২ পিপিআরয়ের আওতায় নিবন্ধন পেল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী লেনিনবাদী), আবদুল আউয়ালের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল), এবং সবুর খানের মুসলিম লীগ।
১৭ এক সংবাদ সম্মেলনে আইডিএলের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ছিদ্দিক আহমদ বললেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফসল।”
২৪ এক সংবাদ সম্মেলন আতাউর রহমান খান বললেন, তাঁর দল বাংলাদেশ জাতীয় লীগ ‘জাতীয় স্বার্থে’ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক জোট গঠন করার পক্ষে থাকবে।
৩০ এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মার্কসবাদী লেনিনবাদী) নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-মোজাফফর) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এই চারটি দলকে নিষিদ্ধ করে ‘দেশপ্রেমিক দলগুলোকে’ রাজনীতি করার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানালেন।
৩১ জাসদের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ভেঙে দেয়া হল।
নভেম্বর ১ যশোরের যদুনাথপুরের বেতনা নদীতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খননকাজ উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান জিয়া।
৪ পিপিআরয়ের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় দলের ঘোষণাপত্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশটি বাদ দিতে রাজি হওয়ার শর্তে নিবন্ধন লাভ করল আওয়ামি লীগ।
১৭ মজলুম জননেতা মৌলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যু। এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হল।
২১ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হল।
২৬ মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার হলেন সিরাজুল আলম খান।
২৯ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিচারপতি সায়েম। নতুন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হলেন জিয়াউর রহমান।
ডিসেম্বর ১ বেতার-টেলিভিশনে দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভাষণ দিলেন নতুন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়া।
৪ চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের মা রাজমাতা বিনীতা রায়কে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হল।
১৭ ব্রহ্মপুত্র নদ পুনর্খননের কাজ শুরু করলেন জিয়া।
২৯ সাবেক প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে দুটি দুর্নীতি মামলা দেয়া হল। এর ধারাবাহিকতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া শুরু হল।
আহমদ ছফা, বাঙলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা।
ফরহাদ মজহার, প্রস্তাব।
হুমায়ুন আজাদ, লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী।
মাহমুদুল হক, জীবন আমার বোন।
আল মাহমুদ, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো।
সৈয়দ শামসুল হক, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
ইবনে মিজান, এক মুঠো ভাত।
হারুনর রশীদ, মেঘের অনেক রং।
আলমগীর কবির, সূর্য্যকন্যা।
১৯৭৭ জানুয়ারি ২-৭ জিয়াউর রহমানের চীন সফর। হুয়া-জিয়া বৈঠক আয়োজিত। চীনের সাথে বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যচুক্তি সই, ঘোষিত হল বাংলাদেশ-চীন ইশতেহার।
২৪ জিয়াউর রহমানের জানার জন্য হাঁটা অনুশীলন শুরু। সিলেটের হাওড় এলাকার শুষ্কাঞ্চলে ২২ মাইল হাঁটলেন। উদ্দেশ্য ছিল জনসংযোগ, গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে জানা।
মার্চ জনতা দলের মোরারজী দেশাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে এবং পাঁচ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি সই হয়।
৭-১০ জিয়াউর রহমানের ইরান সফর।
২২ জোট নিরপেক্ষতা নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করল ঢাকা ও কলম্বো।
২৬ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তন করল বাংলাদেশ সরকার।
এপ্রিল ৪ আওয়ামি লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলটির আহবায়িকা নির্বাচিত হলেন তাজউদ্দিন আহমদের সহধর্মিনী জোহরা তাজউদ্দিন।
২১ অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
জিয়া আমল
১৯৭৭-৮১
১৯৭৭ এপ্রিল ২১ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জিয়াউর রহমান।
২২ প্রেসিডেন্ট জিয়া ঘোষণা করলেন, ৩০ মে গণভোট আয়োজিত হবে। আগস্টে পৌরসভা নির্বাচন। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন।
২৩ ১ নং সামরিক আইন জারি করে সংবিধানে কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হল। মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীনতাযুদ্ধ হিসাবে অভিহিত করা হল। প্রস্তাবনার ওপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সন্নিবেশিত হল। রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার উপর বিশ্বাস এবং আস্থা হবে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের ভিত্তি সন্নিবেশিত হল। সমাজতন্ত্রের ব্যাখ্যা করা হল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার।
২৭ বিশেষ সামরিক আইন ট্রাইব্যুনালে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড। এদের অধিকাংশই মুজিব আমলে নানাপ্রকার অপরাধ করেছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন আবু লাল জনৈক আবদুল আলীকে বাধ্য করেছিলেন নিজের ছেলের মাথা দেহ থেকে ছিন্ন করার জন্য।
৩০ ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করলেন জিয়াউর রহমান।
মে ২ গণভোট আদেশ ১৯৭৭ ঘোষণা করা হল।
৩-৫ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের সাথে গণভবনে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বৈঠক করলেন জিয়াউর রহমান। বৈঠক উপস্থিত নেতাদেরকে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন। জিয়ার সাথে বৈঠকে বসা নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – আতাউর রহমান খান, মোহাম্মদ তোয়াহা, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ প্রমুখ।
১৬ বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামি নীতিমালা সংযোজন করায় প্রেসিডেন্ট জিয়াকে অভিনন্দন জানালেন সৌদি আরবের বাদশা খালেদ বিন আবদুল আজিজ।
১৯ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়াকে দেশপ্রেমিক বললেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (মার্কসবাদী লেনিনবাদী) নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা।
২২ এক বিবৃতিতে ন্যাপ-মোজাফফরের নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ‘সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে’ জনগণকে আসন্ন গণভোটে অংশ নেয়ার আহবান জানালেন।
২৭ জাতির উদ্দেশ্যে রেডিওতে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া, ১৯ দফার পক্ষে জনগণের সমর্থন চাইলেন।
৩০ পূর্বপ্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের আয়োজন করলেন জিয়া।
৩১ জিয়ার পক্ষে ৯৮.৮০ শতাংশ ভোট পড়ল। যে সব দল ও সংগঠন জিয়াকে অভিনন্দন জানায় তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – কৃষক শ্রমিক পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, ন্যাপ-ভাসানী, আইডিএল, তফসিলি ফেডারেশন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ইত্যাদি।
জুন ৩ বাংলাদেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আবদুস সাত্তার।
৬-১৪ কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে জিয়ার যুক্তরাজ্য সফর।
১৩ ন্যাপ-মোজাফফরয়ের নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজ দলীয় কর্মীদের প্রতি আহবান জানালেন।
২৯ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিলেন রাজমাতা বিনীতা রায়, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন অংশু প্রু চৌধুরী।
জুলাই ২ একটি উপজাতীয় কনভেনশন গঠন করেন জিয়াউর রহমান।
৮ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন বিচারপতি এ কে এম নুরুল ইসলাম।
১২ ঢাকায় ওআইসি মহাসচিবের সাথে বৈঠক করলেন জিয়া।
২০ বার্মার রাজধানি রেঙ্গুনে বিপুল সংবর্ধনা পেলেন জিয়া।
২৬ সৌদি আরব সফর করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
আগস্ট ২ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়া বললেন, “পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমরা এখন স্বাধীন।”
৩ ডেমোক্রেটিক লীগ থেকে পদত্যাগ করলেন পীর মোহসিন উদ্দিন দুদু মিয়া।
৭ বিশেষ ক্ষমতা আইন সংশোধন করা হল।
সেপ্টেম্বর ২৪-২৬ মিসর সফর করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
২৫ দীর্ঘ ১৩ বছর পর ঢাকা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।
২৮-৩০ জাপানিজ রেড আর্মি (জেআরএ) ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে ১০৫ ঘন্টার জন্য জিম্মি সংকট তৈরি করল।
৩০ বগুড়া সেনানিবাসে বিদ্রোহ দেখা দিল।
অক্টোবর ১-২ জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকেও ফুকুদা জেআরএর সব দাবি – জাপানের জেলে আটক ছয় জেআরএ সদস্যের মুক্তিলাভ এবং ৬০ লাখ ডলার মুক্তিপণ – মেনে নিলেন।
২ ঢাকা সেনানিবাসে বিদ্রোহ। ঢাকা বিমানবন্দরে কর্তব্যরত অবস্থায় বিমান বাহিনীর ১১ জন অফিসার ও সেনাবাহিনীর ১০ জন সদস্য নিহত। শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের মোকাবেলা করতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানালেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। সেনাবিদ্রোহ দমনে কামিয়াবি হাছিল করায় জিয়াকে অভিনন্দন জানালেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত।
৩ জেআরএর হাতে জিম্মি ৫৯ জন জিম্মির মুক্তিলাভ।
৮ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) থেকে সাবেক জামায়াতে ইসলামীর সব সদস্যকে বহিষ্কার করা হল।
১৪ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ও ডেমোক্রেটিক লীগকে নিষিদ্ধ করা হল।
১৮ বগুড়া আর ঢাকা সেনানিবাসে বিদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত ৪৬০ জনের বিচার সম্পন্ন হল। এর মধ্যে ৩৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হল; বেকসুর খালাস পেলেন ৬৩ জন। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হল।
২২ জরুরি ক্ষমতা বিধিবলে আটক হলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ডিসেম্বর ৯ ১৯৭৭ সালের সামরিক আইন (২৫ নং সংশোধনী) বিধি জারি।
১৪ প্রেসিডেন্ট জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় মৌলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হল।
১৫ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ৯০ মিনিটের ভাষণে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত করা ও আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
১৬ ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণ উদ্বোধন করলেন জিয়া।
২০ ঢাকা-দিল্লি যুক্ত ইশতেহার, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা।
২৩ বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন গঠনের ঘোষণা।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে শান্তিবাহিনীর রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সূচনা।
মাহমুদুল হক, কালো বরফ।
সুভাষ দত্ত, বসুন্ধরা।
আমজাদ হোসেন, নয়নমনি।
আলমগীর কবির, সীমানা পেরিয়ে।
রাজ্জাক, অনন্ত প্রেম।
১৯৭৮ জানুয়ারি ১৪ নেপালের সাথে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চুক্তি।
১৬ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে আলেমদের এক প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকার।
১৭ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা পরিষদের তিন জন সদস্য – শামসুল হুদা চৌধুরী, এনায়েতুল্লাহ খান, এবং এএসএম মোস্তাফিজুর রহমান খুলনা বিভাগের তিনটা জেলা সফর করার মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের কার্যক্রম শুরু করেন।
২১ চীনের সাথে বাণিজ্য আলোচনা।
২৪ ৬০ দিনের মধ্যে জননেতাদের সম্পত্তির হিসাব দাখিলের হুকুম দেয়া হল।
ফেব্রুয়ারি ১২ কমনওয়েলথ সরকারপ্রধান সম্মেলনে যোগ দিতে সিডনি সফর করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
১৪ টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার এক গ্রামে কৃষকদের সাথে আলোচনাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হলেন রাষ্ট্র বনাম মেজর জলিল ও অন্যান্য মামলার সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি করপোরাল আলতাফ হোসেন।
১৮ বাংলাদেশের সাম্মানিক নাগরিকত্ব পেলেন বক্সার মোহাম্মদ আলী।
২০ একুশে পদক প্রবর্তন করল জিয়া সরকার।
২২ নিবন্ধন লাভ করল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)।
মার্চ ১৬ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিবাদ।
১৮-২১ ঢাকা সফর করলেন চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লি-শিয়েন।
২২ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আলোচনা।
২৫ আবদুল মতিন ও শরদিন্দু দস্তিদারের মত বেশ কয়েকজন বামপন্থী নেতা এক বিবৃতিতে দাবি করলেন, মুজিব আমলে ২৫ হাজারেরও বেশি দেশপ্রেমিককে হত্যা করা হয়েছে ও আরো অনেক মানুষ সেই আমলে করা মিথ্যা মামলায় জেলে আছে। তাঁরা সকল গণতান্ত্রিক রাজবন্দীর মুক্তি দাবি করেন। “প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা রাষ্ট্রবিরোধী ব্যক্তিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে” হুঁশিয়ার করে দেন।
৩১ খুলনায় সনাতন ধর্ম সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
এপ্রিল ৫-৯ জাপান সফর করলেন জিয়াউর রহমান।
১৩ ঢাকা সফর করলেন বার্মার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল মউং।
১৮ সর্বজনীন ভোটাধিকারের নীতির ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করা হল। ঢাকায় এলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী টেংকু দাতুক আহমদ।
২১ ৩ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষিত হল।
২৫ বার্মায় বর্ণবাদী জুলুমের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেন ২৫ হাজার রোহিঙ্গা।
২৬ এক সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বাতিল করার দাবি জানালেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক উকিল।
২৮ অস্থায়ী লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পেলেন জিয়াউর রহমান।
২৯ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিলেন জিয়াউর রহমান।
মে ১-২ জিয়াকে সভাপতি করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হল জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য – জাগদল, ন্যাপ-ভাসানী, ইউপিপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, এবং বাংলাদেশ তফসিলি ফেডারেশন। একই দিনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট (গজ)। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য – আওয়ামী লীগ, ন্যাপ-মোজাফফর, জাতীয় জনতা পার্টি, ও গণ আজাদী লীগ। ন্যাপ-মোজাফফরের দলছুট অংশ আর নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গজকে সমর্থন দেয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াকে মনোনয়ন দেয় জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট। গজ থেকে মনোনয়ন পান আতাউল গণি ওসমানি।
৮ আতাউর রহমান খান গঠন করলেন জাতীয় যুক্তফ্রন্ট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক দেয়া হল। জিয়া পেলেন ধানের শীষ, ওসমানি পেলেন নৌকা।
৯ ধর্মঘট ডাকলেন সচিবালয়ের ননগেজেটেড কর্মচারীরা।
১৩ চলচ্চিত্রকার এহতেশামের নেতৃত্বে বিনোদন জগতের বিশিষ্ট সদস্যরা আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের প্রতি তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করলেন।
১৬ ঢাকায় সাংবাদিকদের মিছিলের ওপর পুলিশি হামলায় ২২ জন আহত হলেন।
২৫ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বার্মিজ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ছয় মাস মেয়াদী ত্রাণ কর্মসূচি হাতে নিল জাতিসংঘ।
জুন ৩ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭৬.৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করলেন জিয়া।
৭ নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মোটামুটি ইতিবাচক একটা প্রতিবেদন ছাপা হল।
৮ জিয়াকে অভিনন্দন জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
১০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষিত হলেন জিয়া।
১২ প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন জিয়াউর রহমান।
১৯ বায়তুল মোকাররমে এক জনসভায় ১৯ দফা কর্মসূচির প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ব্যক্ত করলেন ন্যাপ-মোজাফফরের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ।
২৮ তিব্বত থেকে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে আনা হল।
২৯ উপদেষ্টা পরিষদ বাতিল করে দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করলেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
জুলাই ৭ ইন্দোনেশিয়া সফর করলেন জিয়াউর রহমান।
৯ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে বার্মার সাথে চুক্তি।
১৪ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাযুদ্ধের শহিদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হল।
২৩ মুসলিম লীগ থেকে শাহ আজিজুর রহমানকে বহিষ্কার করলেন সবুর খান ও তাঁর অনুসারীরা।
২৭-২৯ ইন্দোনেশিয়া সফর করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
আগস্ট ৩ নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিলেন জিয়া।
৯ ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ১৮টা কমিটি গঠন করা হল।
১২ আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে দুইভাগে ভাগ হয়ে গেল। একদল আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্ব মেনে নিল। অন্য দল মিজানুর রহমান চৌধুরীকে নেতা মানল।
১৪ আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্টকে শোক দিবস হিসাবে পালন করার আহবান জানালে আতাউর রহমান খান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশসহ ১০ জন রাজনীতিক এই আহবানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিলেন, যেখানে ১৫ আগস্টকে ‘নাজাত দিবস’ বলা হল।
২৮ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) বিলুপ্ত করা হল।
সেপ্টেম্বর ১ রমনা বটমূল চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করার ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
২ দ্বিবার্ষিক পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন লাভ করল।
১০ উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ খেতাব ভূষিত হলেন জিয়া।
১৭ অনশন ধর্মঘটে গেলেন পাকিস্তানে ফিরতে চাওয়া বিহারিরা।
২৪ ঢাকা সফর করলেন ইওরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (ইইসি) প্রতিনিধিরা।
২৬ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টকে বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন জিয়াউর রহমান।
অক্টোবর ২-৫ তুরস্ক ও রোমানিয়া সফর করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
৪ বুখারেস্টে চসেস্কু-জিয়া বৈঠক।
৭ বাজেয়াপ্ত হল সুখরঞ্জন দাশগুপ্তের মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্র।
৯-১১ উত্তর কোরিয়া সফর করলেন জিয়াউর রহমান।
১১ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিলুপ্ত করার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাজী জাফর আহমেদ।
১৯ তেল ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন এনায়েতুল্লাহ খান, একইসাথে বিএনপি থেকেও বেরিয়ে আসলেন তিনি।
২৭ ঢাকায় সান্ধ্য আইনের মেয়াদ দুই ঘন্টা শিথিল।
নভেম্বর ১৬ আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে নির্বাচনবিরোধী দলগুলোর বৈঠক।
২০-২২ যুগোস্লাভিয়া সফর করলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
৩০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হল – জানুয়ারি ২৭, ১৯৭৯।
নভেম্বর জাসদের গণবাহিনী সদস্যরা অস্ত্র সমর্পণ করে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসতে শুরু করলেন।
ডিসেম্বর ৪ পরের বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিল ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল)।
৭ আওয়ামি লীগ (মালেক) এক বিবৃতিতে বলল, “৩০ নভেম্বর ১৯৭৮ জিয়ার ঘোষণা জনগণের মৌলিক ও সর্বজনীন অধিকার পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করেছে এবং জনগণের ওপর একটি রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট চাপিয়ে দেয়ার প্রয়াস পেয়েছে।” আওয়ামি লীগের দুই অংশ-সহ মোট ১২টি রাজনৈতিক দল ঘোষণা দিল, সামরিক আইন প্রত্যাহারসহ কিছু দাবিদাওয়া মেনে না নিলে তাঁরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না। এদের মধ্যে ৯টি দল যৌথ বিবৃতি দেয়, বাকিরা আলাদা আলাদা বিবৃতি প্রদান করে।
৯ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিল।
২৪ বিরোধী দলগুলোর কিছু দাবিদাওয়া মেনে নিলেন জিয়া।
২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচিত তারিখ পুনর্নিধারিত হল – ফেব্রুয়ারি ১২, ১৯৭৯। এইদিন জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে জিয়া ওয়াদা করলেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হবে। এইদিন শত্রুমিত্র সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জানাল, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে।
২৯ দুই ভাগ হয়ে গেল জাতীয় জনতা পার্টি।
গোলাম আযম অসুস্থ মাকে দেখতে বাংলাদেশে আসার অনুমতি চাইলে মানবিক বিবেচনায় অনুমতি দেয়া হয়। পাকিস্তানি পাসপোর্ট ও তিন মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন গোলাম আযম।
মোহাম্মদ তোয়াহার বিরুদ্ধে জিয়ার দালালি করার অভিযোগ এবং জিয়া ‘দেশপ্রেমিক’ না ‘বিশ্বাসঘাতক’ সেই বাহাসের জের ভাগ হয়ে যায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী লেনিনবাদী)।
রিজিয়া রহমান, বং থেকে বাংলা।
কায়েস আহমেদ, অন্ধ তীরন্দাজ।
আমজাদ হোসেন, গোলাপী এখন ট্রেনে।
আজিজুর রহমান, অশিক্ষিত।
আবদুল্লাহ আল মামুন, সারেং বৌ।
১৯৭৯ জানুয়ারি ১ জিয়াউর রহমান গঠন করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
২ পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান ও চন্দ্রঘোনায় আয়োজিত এক জনসমাবেশে ভাষণ দিলেন জিয়াউর রহমান। উপস্থিত পাহাড়িদের উদ্দেশ্যে বললেন “জাতিগঠনের সময় এসেছে। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দরকার।”
৫ ৭টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষনা দিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামি লীগ (মিজান)।
৬ আওয়ামি লীগ (মালেক) বলল, যারা নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়েছে, তাঁরা সরকারের তৈরি করা ফাঁদে পা ফেলেছে।
৭ ঢাকা সফর করলেন সৌদি উপমন্ত্রী সালেহ আবদুল্লাহ।
৯ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিল আওয়ামি লীগ (মালেক)।
২৬ চুয়াডাঙ্গার কাছাকাছি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ৭০ ব্যক্তি নিহত।
ফেব্রুয়ারি ১ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করল বিএনপি ও জাসদ।
৪ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করল আওয়ামী লীগ (মালেক)।
১৮ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, তাতে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৬টি জিতে ক্ষমতায় আসল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত নির্বাচনের আগে বিরোধীদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে নির্বাচনী বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পর গঠিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম রেইনবো পার্লামেন্ট, যেখানে বহু দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব ছিল।
২৭ ইরাক সফর করলেন জিয়াউর রহমান।
মার্চ ১২ রাজনীতিক মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মৃত্যু। ৩ দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষিত হল।
৩১ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন শাহ আজিজুর রহমান। জাতীয় সংসদের স্পিকার হলেন মির্জা গোলাম হাফিজ।
এপ্রিল ২ নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জিয়া ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতার আদর্শে’ উদ্বুদ্ধ করায় মৌলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করলেন।
৪ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শোক প্রস্তাব গৃহীত হল।
৬ জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী গৃহীত, একই দিনে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়।
৭ নিরাময়যোগ্য ব্যাধি থেকে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে এক্সপান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনিজেশন (ইপিআই) হাতে নিল বাংলাদেশ।
১৬ বাংলাদেশ সফর করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই।
মে ৮ বিরোধীদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকে বসলেন জিয়াউর রহমান।
১৮ প্রকাশিত হল সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯।
২২ বাংলাদেশ সফর করলেন বার্মার প্রেসিডেন্ট নে উইন।
২৫ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এক কনভেনশনে ঘোষণা করল তারা এখন থেকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করবে, তাদের ভারপ্রাপ্ত আমির নির্বাচিত হলেন আব্বাস আলি খান।
জুন ১-১০ নজিরবিহীন খরায় উত্তরাঞ্চলে ৩৬ জন মানুষের মৃত্যু।
২১-২২ বিরোধীরা খরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে যথাক্রমে মিছিল ও হরতাল করেন। হরতালের সময় পাঁচটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। শুরু হল বাংলাদেশে হরতালে বাসে অগ্নিসংযোগের সংস্কৃতি।
২১-২৬ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ৪০,০০০ মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
জুলাই ১ বাংলাদেশে প্রবেশকারী ভারতীয়দের প্রত্যাবতনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২৪ ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, তাতে জাসদ ছাত্রলীগের জয়লাভ। ডাকসুর জিএস নির্বাচিত হলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। জিএস নির্বাচিত হলেন আখতারুজ্জামান।
২৯ বিএনপির এক সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুললেন।
সেপ্টেম্বর ১৫ প্রেসিডেন্ট জিয়া ঘোষণা করলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে “দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার পুনর্বহাল” করা।
অক্টোবর ২৪ মোনেম খাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করল মুসলিম লীগ।
নভেম্বর ১৮ জাতির উদ্দেশ্যে জিয়া বিপ্লবের রূপরেখা তুলে ধরেন।
২৭ ১৯৭৪ সালে যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল, তা তুলে নিলেন জিয়া ও স্থগিত মৌলিক অধিকার পুনর্বহাল করলেন।
২৯ জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার জন্য দৈনিক ইত্তেফাকয়ের সম্পাদকীয়তে জিয়াউর রহমানকে অভিনন্দন জানানো হল।
ডিসেম্বর ১ মানিকগঞ্জ থেকে জিয়ার খালকাটা কর্মসূচি শুরু হল।
৪ সামরিক আদালতে সাবেক প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে যে সাজা দেয়া হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হল।
২৩ বাংলাদেশ ইসলামী সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি জোট ঢাকায় সম্মেলন আয়োজন করল। বক্তৃতাদানকারীদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আবদুস সাত্তার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের এনামুল হক।
২৪ পুনরুজ্জীবিত জামায়াতে ইসলামীর প্রথম মজলিশে শূরা বৈঠক।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে চীনে একটি সাংস্কৃতিক দল প্রেরণ করা হয়। বাসস অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জাতীয় সংবাদ সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।
মোহন রায়হান, জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ।
মোহাম্মদ নাসির আলী, ভিনদেশী এক বীরবল।
আলমগীর কবির, ফিল্ম ইন বাংলাদেশ।
মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী, সূর্য দীঘল বাড়ি।
আমজাদ হোসেন, সুন্দরী।
কাজী হায়াত, দ্য ফাদার।
১৯৮০ জানুয়ারি ২ মন্ত্রীসভা থেকে অপসারিত হলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
৫ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্যরা একটি ২৪ দফা দাবিনামা তৈরি করে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে এসব দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
১১-১৩ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অফিস আক্রান্ত হল।
৩১ রাজশাহী জেলে পুলিশের গুলিবর্ষণে তিন বন্দী নিহত। প্রতিবাদে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন কারাগারের বন্দীরা অনশন করেন।
ফেব্রুয়ারি ১৬ ১২ জন বিরোধীদলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে চার ঘন্টা বৈঠক করেন।
মার্চ ২১ ৩৬টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়।
২৪ খন্দকার মোশতাক আহমেদ, মেজর (অব:) এম এ জলিল, মেজর (অব:) জিয়াউদ্দীন, গাজী গোলাম মোস্তফা, এবং এম এ মান্নানকে কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করার নির্দেশ প্রদান।
২৫ কাউখালি ম্যাসাকার। প্রায় ৩০০ ব্যক্তি খুন হলেন।
এপ্রিল ১ বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা আইন।
২ জাতীয় সংসদে পাশ হল ন্যায়পাল বিল ১৯৮০।
২৯ সিরাজুল আলম খান ও আ স ম রবকে কারাগার থেকে মুক্তিপ্রদানের নির্দেশ দেয়া হল।
মে গ্রাম পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে স্বনির্ভর গ্রাম সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়া হল।
১ ময়মনসিংহ কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সিরাজুল আলম খান।
১২ বিএনপিতে যোগ দিলেন ফেরদৌস আহমদ কোরেশী।
২৩ বায়তুল মোকাররমে খন্দকার মোশতাক আহমেদের ডেমোক্রেটিক লীগের আয়োজিত জনসভার দিন জনসভা শুরু হওয়ার আগে বোমা বিস্ফোরণে এক সাংবাদিকসহ ৭ জনের মৃত্যু।
জুন ৪ ১৯৭৭ সালে বিশেষ সামরিক আইন ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
১৭ প্রেসিডেন্ট জিয়ার বিরুদ্ধে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান।
জুলাই ১ সুপ্রিম কোর্টের ১১৫ জন আইনজীবী এক বিবৃতিতে অধ্যাপক গোলাম আযমকে ‘বাংলাদেশের নাগরিক’ ও ‘ভাষাসংগ্রামী’ বলে দাবি করলেন।
২১ জাতীয় সংসদের স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজ সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, প্রতিদিন পার্লামেন্টারি কাজ চালাতে (সে সময়কার হিসাবে) ১০ লাখ টাকা খরচ হয়, যদিও উল্লেখযোগ্য কোন কাজ হয় না।
আগস্ট ১ প্রাইভেট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হল।
২৪-২৯ যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স সফর করলেন জিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে হোয়াইট হাউজে জিমি কার্টারের সাথে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক করেন জাতিসংঘের মহাসচিব কুর্ট ওয়াইল্ডহেইমের সাথে।
সেপ্টেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলে (জাসদ) ভাঙন দেখা দিল। জাসদ ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুর নির্বাচিত জিএস মান্না আর ভিপি আখতারুজ্জামানকে বহিষ্কার করা হল। মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, আ ফ ম মাহবুবুল হক, ও খালেকুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন দলটির জাতীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হলেন।
অক্টোবর ৩ ২৬ মার্চ উদযাপিত স্বাধীনতা দিবসের পুনঃনামকরণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস করা হল।
৫ ঢাকা থেকে ট্রেনে করে জিয়ার দিনাজপুর সফর।
২১ খুলনা জেলে পুলিশের গুলিতে ৩৫ বন্দী নিহত।
২৮ খুলনায় জেলহত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে বিরোধীদের হরতাল।
নভেম্বর ৫-৮ পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নাম বদলে রাখা হল বাংলাদেশের সর্বহারা পার্টি।
৭ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) গঠন করলেন জাসদের জাতীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া খালেকুজ্জামান ও অন্য কয়েকজন নেতা।
২২ বিএনপিতে যোগ দিলেন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠকারী অধ্যাপক আবু ইউসূফ।
২৮ ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিএনপিতে যোগ দিলেন।
ডিসেম্বর ৬৫০০০ গ্রাম সরকার তৈরির কাজ শেষ হল।
১২ জাতীয় সংসদে যৌতুকের বিরুদ্ধে বিল পাশ হল।
২৮ সংযুক্ত আরব ইমারাতের সাথে বাংলাদেশের যৌথ ইশতেহার। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করলেন জিয়া।
নতুন করে গণকন্ঠয়ের প্রকাশ শুরু হয়। আলাদা আলাদাভাবে জার্মানি যান আ স ম আবদুর রব, সিরাজুল আলম খান, ও মেজর (অব:) এম এ জলিল। বিএনপির পার্টি অফিস নয়াপল্টনে সরিয়ে আনা হয়।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ।
সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, ঘুড্ডি।
বাদল রহমান, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী।
খান আতাউর রহমান, ডানপিটে ছেলে।
আজিজুর রহমান, ছুটির ঘন্টা।
১৯৮১ জানুয়ারি ১৯-২১ হিজবুল বাহার জাহাজে নৌবিহারের আয়োজন করলেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সারা দেশের ১৬০০ তরুণ তাতে যোগ দিলেন।
ফেব্রুয়ারি ১৬ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হলেন শেখ হাসিনা।
মার্চ ২৫ পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত ঢাকা সফর করলেন।
২৯ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষপর্যায়ের নেতা আব্বাস আলী খান এক সংবাদ সম্মেলনে বললেন, “একাত্তরে আমরা যা করেছি ঠিক করেছি।” মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমাণ্ড কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ও অন্যান্য সহযোগী শক্তির কদর্য ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণ ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিসমূহের প্রতি হবান জানান হল।
এপ্রিল গণবাহিনীর একদল সাবেক সদস্য পিএলওর সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ফিলিস্তিনে যান।
২৭ ৭ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
মে ১৪ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কাজী নূর-উজ-জামান ও নঈম জাহাঙ্গীর এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ও গ্রামে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহবান জানালেন।
১৭ ভারতে প্রায় ৬ বছর নির্বাসিত থাকার পর প্রেসিডেন্ট জিয়ার তৎপরতায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফেরত পেয়ে দেশে ফিরলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ১০ লক্ষেরও বেশি সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানায়। তিনি ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ কাজ করার আহবান জানান।
২০ ঢাকা সফর করলেন বেলজিয়ামের রাজা ও রানী।
৩০ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক ক্যুদেতায় নিহত হলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই হামলার পরিকল্পনাকারী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হল।
নজরুল ইসলাম, জাসদের রাজনীতি: একটি নিকট বিশ্লেষণ।
সাত্তার আমল
১৯৮১-৮২
১৯৮১ মে ৩১ ঢাকা স্টেডিয়ামে জিয়ার গায়েবানা জানাজা সম্পন্ন হল। বিদ্রোহী সেনাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেন সেনাপ্রধান এরশাদ। সাত্তার সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করল সেনাবাহিনী।
জুন ১ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক চট্টগ্রামের সামরিক বিদ্রোহ দমন। বিদ্রোহীদের প্রধান জেনারেল মঞ্জুর গ্রেপ্তার ও নিহত। রাঙ্গুনিয়া পাহাড় থেকে জিয়ার লাশ উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে আসা হল।
৪ অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার ঘোষণা করলেন, ১৮০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১২ শেখ হাসিনার কাছে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত তাঁর পৈত্রিক নিবাস সমস্ত অস্থাবর সম্পদসহ হস্তান্তর করা হল।
২২ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মনোনীত হলেন সাত্তার।
২৯ সাত্তারের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তুমুল সংসদীয় বিতর্ক।
৩০ জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট পাশ হল। এর প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় এমপিরা ওয়াক আউট করলেন।
জুলাই ১ জাতীয় সংসদে সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী বিল উত্থাপিত হল, এর প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় এমপিরা ওয়াক আউট করলেন।
৩ বিরোধীদলীয় এমপিরা ১৩ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেন।
৮ জাতীয় সংসদে সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী বিল পাশ। বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত। চট্টগ্রামে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সামরিক কর্মকর্তাদের কোর্ট মার্শাল শুরু হল।
আগস্ট ৪ চট্টগ্রাম বিদ্রোহ ও জিয়া সম্পর্কে শ্বেতপত্র প্রকাশ।
১১ কোর্ট মার্শালে জিয়া হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১২ জন সামরিক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল।
১৩ দক্ষিণ তালপট্টির কাছাকাছি চলে এল ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ। বাংলাদেশের তরফে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হল।
২৯ টঙ্গিতে শ্রমিক আন্দোলন। সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হলেন। জারি হল ১৪৪ ধারা।
সেপ্টেম্বর ১ ১২ জন সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড মকুবের আহবান – মার্সি পিটিশন – প্রত্যাখ্যান করলেন সাত্তার।
১৯ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শেখ হাসিনা।
২০ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিল ১৬ দলের জোট ন্যাশনাল ফ্রন্ট।
২১ মনোনয়ন দাখিল করলেন ৮৩ জন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী।
অক্টোবর ৫ ঢাকা সফর করল একটি চীনা সামরিক প্রতিনিধিদল।
১০ জার্মানির বনয়ে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্রবিরোধী শান্তি মিছিলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বার্লিন কমিটি।
১৪ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৩৯ জন।
১৮ দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বললেন, দেশ পরিচালনায় সামরিক বাহিনীর সাংবিধানিক ভূমিকা থাকা দরকার।
১৯ ১৭ দফা কর্মসূচী ঘোষণা করল আওয়ামী লীগ।
নভেম্বর ৫ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণ।
১১ ১৯ জন সেনাকর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হল। মীর শওকত আলীকে মিসরের রাষ্ট্রদূত বানানো হল। শুরু হল সেনাপ্রধান এরশাদের ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র।
১৫ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৫.৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেন বিএনপি প্রার্থী বিচারপতি সাত্তার। সাত্তার আর ড. কামাল হোসেন ছাড়া বাকি সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হল।
১৬ বঙ্গভবনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করলেন ড. কামাল হোসেন।
২০ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার।
২৭ শপথ গ্রহণ করল ৪২ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা।
ডিসেম্বর ১০ ঢাকা সফর করলেন উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি জং-ওক।
১৪ জিয়ার মাজারে স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল।
২৫ সৌদি আরব সফর করলেন প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার।
১৯৮০-৮১ সালে উন্নয়ন বাজেটের ৬৫ শতাংশ ছিল বৈদেশিক ঋণ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৭৯ শতাংশ ছিল বিদেশি সাহায্য।
আহমদ ছফা, বাঙালি মুসলমানের মন।
১৯৮২ জানুয়ারি ১ নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারকে চেয়ারম্যান করে সামরিক ও বেসামরিক ৯ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হল।
৩ বিএনপিতে যোগ দিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা হল।
২৮ জাতীয় সংসদের অধিবেশন উদ্বোধন করলেন প্রেসিডেন্ট।
ফেব্রুয়ারি ১১ প্রেসিডেন্ট সাত্তার দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রিসভা বাতিলের ঘোষণা দিলেন।
১২ শপথ গ্রহণ করল ১৮ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা।
২৭ ঢাকার যৌথ নদী কমিশনের ২১তম বৈঠক অনুষ্ঠিত।
মার্চ ২ জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি ঘোষণা করে।
৭ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত এক জনসভায় সাত্তার সরকারকে উৎখাত করার আহবান জানাল আওয়ামি লীগ। ডেমোক্রেটিক লীগ থেকে খন্দকার মোশতাকসহ ৭ জনকে বহিষ্কার করা হল।
১৮ কতিপয় প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ও অবৈধ সুবিধার গ্রহণের অভিযোগে ৪টি মামলা।
২৪ নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সেনাপ্রধান এরশাদের সামরিক ক্যুদেতা।
এরশাদ আমল
১৯৮২-৯০
১৯৮২ মার্চ ২৪ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করে ক্ষমতায় আসলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। সংবিধান স্থগিত করা হল, সংসদ ভেঙে দেয়া হল, রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হল। ঢাকায় জারি করা হল সান্ধ্য আইন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জড়ো হলেন ছাত্রনেতারা। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ঢালী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেন। তাঁকে অনুসরণ করলেন ছাত্রলীগের (মুনির-হাসিব) নেতাকর্মীরা। এটাই এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম আওয়াজ।
২৫ ২৭৭ জন কারাবন্দীকে মুক্তি দেয়া হল। সান্ধ্য আইন ভাঙায় ১৫৫ জন গ্রেপ্তার।
২৭ দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপির ২৩৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হল। জিয়া আমলের যুব কমপ্লেক্স বাতিল করা হল। রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিলেন এ এফ এম আহসানউদ্দীন চৌধুরী।
২৮ সান্ধ্য আইন ভাঙায় ২৩৩ জন গ্রেপ্তার।
২৯ সান্ধ্য আইন ভাঙায় ২৬৫ জন গ্রেপ্তার।
এপ্রিল ৩ বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হল।
১১ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এক ভাষণে বললেন, “আমি এমন এক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।”
২২ বিভাগীয় সদরে হাই কোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের সিদ্ধান্ত।
২৬ প্রেস কমিশন গঠন।
মে ২ সৌদি আরব সফর করলেন এরশাদ।
জুন ৭ জাতীয় অষুধনীতি ঘোষিত।
সেপ্টেম্বর ১ সাপ্তাহিক ইত্তেহাদয়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হল।
১০ বাংলা একাডেমিতে কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর সভাপতিত্বে কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের ষাটতম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিল এরশাদের পুলিশ।
১৬ পোস্টার লাগাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর দুই কর্মী শিবলি কাইয়ুম ও আলী আহমেদ, সামরিক আদালতে দু’জনকেই সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল।
১৭ গঠিত হল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
২৩ এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খান প্রকাশ করলেন জাতীয় শিক্ষানীতি। দেশের সব পৌরসভা বাতিল ঘোষণা করা হল।
অক্টোবর ৫ ঢাকার ইংরেজ বানান বদলাল – Dacca থেকে Dhaka.
৬ এরশাদের ভারত সফর।
নভেম্বর ১১টি শ্রমিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের কাছে তাঁদের দাবিদাওয়া পেশ করে।
৩ জাতীয় চার নেতার জেল হত্যা দিবস পালন করল ছাত্রলীগ (চুন্নু-ফজলু) এবং ছাত্রলীগ (জালাল-জাহাঙ্গীর)। দিবসটি পালন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকসহ ৫ জন গ্রেপ্তার। অবশ্য তাঁদেরকে সেদিনই মুক্তি প্রদান করা হয়।
৬ ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লব উপলক্ষ্যে মিছিল করতে গেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘাত, পুলিশি হামলার শিকার হল ছাত্রলীগ (মুনির-হাসিব)।
১৪ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেয়া হল, মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ২ লক্ষেরও বেশি সাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। ২৯ নভেম্বরকে দাবি দিবস ঘোষণা করা হল।
১৯ মূলত মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে গঠিত হল ১৯ দলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
২৬ চীন সফর করলেন এরশাদ।
২৯ মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিল করার দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৩ ডিসেম্বর সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হল।
ডিসেম্বর ১২ ১৪টি ছাত্রসংগঠন মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে পরের বছরের ১১ জানুয়ারি সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি প্রদান করল।
১৫ বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ২৫৭ জন বন্দীর মুক্তিলাভ।
২৫ যুক্ত ইশতেহার প্রকাশ করল বাংলাদেশ ও তুরস্ক।
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আন্তর্জাতিক সংহতি সম্মেলনে নিমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে অংশ নেন মেজর (অব:) এম এ জলিল।
সৈয়দ শামসুল হক, নূরলদীনের সারাজীবন।
আমজাদ হোসেন, দুই পয়সার আলতা ও জন্ম থেকেই জ্বলছি।
আজিজুর রহমান, সাম্পানওয়ালা।
মহিউদ্দিন, বড় ভালো লোক ছিল।
১৯৮৩ জানুয়ারি ৩ মসজিদ, মন্দিরসহ উপাসনালয়গুলোকে করমুক্ত ঘোষণা করা হল।
১০ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্তি করা হল। ছাত্রদের সাথে বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিলেন এরশাদ। ছাত্র ঐক্য ফোরাম ছাড়া সকলেই বশ মানল।
১১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের হামলা, ডাকসু ভবন তছনছ।
৩১ কুয়েত ও মরোক্কো সফর করলেন এরশাদ।
ফেব্রুয়ারি ২ ৪৪টি প্রগতিশীল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলে গঠন করল একুশে উদযাপন কমিটি ১৯৮৩।
১৪ মজিদ খানের শিক্ষানীতিবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে পাঁচ ছাত্র নিহত হন – জয়নাল, কাঞ্চন, মোজাম্মেল, জাফর, ও দীপালি সাহা। শিশু একাডেমির ভেতরে ১৪ জনেরও বেশি ছাত্রকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে এরশাদ জুলুমশাহির পুলিশ। ছাত্রদের লাশ স্তূপ আকারে ফেলে রাখা হয়।
১৫ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোজাম্মেল পুলিশের গুলিতে নিহত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের আক্রমণের ৫০এরও বেশি নিহত। প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে এরশাদের পুলিশ।
১৮ ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের হামলায় শহিদদের সম্মানে সারা দেশের মসজিদগুলোতে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
২১ শহিদ দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন ১৫ দল।
মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ পেলেন বেগম খালেদা জিয়া।
১ রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অনেকে মুক্তি পেলেন।
৬ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের শহিদদের স্মৃতিতে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শোক দিবস পালন করা হল।
১৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ঘোষিত হল ১০ দফা।
১৭ স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্থনৈতিক মুক্তি এই শিরোনামে ১৮ দফা ঘোষণা করলেন এরশাদ।
২৫ টেলিভিশন ও বেতারে ১ এপ্রিল থেকে ঘরোয়া রাজনৈতিক তৎপরতার অনুমতি ঘোষণা করা হল।
২৬ ১৫ দলের তরফে ঘোষিত হল ১১ দফা।
এপ্রিল ১২ নিষিদ্ধ করা হল সাপ্তাহিক খবর ও সোনার বাংলা।
১৩ আত্মপ্রকাশ করল শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
২৮ এরশাদের সাথে বৈঠক করলেন আতাউর রহমান খান।
মে ১২ বার্মা সফর করলেন এরশাদ।
১৮ দুর্নীতির অভিযোগে ২১৬ জন কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হলেন।
জুন ১৪ ১৯৭৫ সালে রাজধানীতে যে কারফিউ জারি করা হয়েছিল, আট বছর পর এই দিন তা পুরোপুরি তুলে নেয়া হল।
জুলাই ৮ টেলিভিশন ও বেতারে ঘোষিত হল নির্বাচনের সময়সূচি।
২৩ সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার ত্বরান্বিতকরণের নির্দেশ দেয়া হল।
আগস্ট ১০ ঢাকায় আসলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেবজাদা ইয়াকুব খান।
সেপ্টেম্বর ৪-৫ জানুয়ারিতে গঠিত আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন ১৫ দল আর আগস্টে গঠিত বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ৭ দলের নেতাদের আনুষ্ঠানিক সভা। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত যুগপৎ আন্দোলন।
১৩ ইউনিয়ন পরিষদ অধ্যাদেশ জারি করা হল।
৩০ পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করল ১৫ দল আর ৭ দল।
অক্টোবর ৩ শান্তিবাহিনীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন এরশাদ।
২১ যুক্তরাষ্ট্র সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন এরশাদ।
২৫ ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে রিগ্যান-এরশাদ বৈঠক। দুদেশের মধ্যে সাড়ে ৬ কোটি ডলারের খাদ্যসাহায্য চুক্তি সই।
নভেম্বর ১ ঢাকায় ১৫ দল আর ৭ দলের হরতাল। পিকেটিং ছাড়াই সফল হয় এই হরতাল।
৩ চীনের সাথে বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণচুক্তি করল বাংলাদেশ।
১৪ প্রকাশ্য রাজনীতির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হল।
১৮ বাংলাদেশ সফর করলেন জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট কেনেথ কাউন্ডা।
২৮ ঢাকায় ১৫ দল আর ৭ দলের কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে পুলিশ গুলি চালায় ও টিয়ার শেল নিঃক্ষেপ করে। সব ধরণের রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হল। দুই নেত্রীকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে নেয়া হল।
৩০ চট্টগ্রামে সান্ধ্য আইন জারি করা হল। দৈনিক দেশয়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হল।
ডিসেম্বর ২ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কান্ট্রিজের (ওআইসি) ১৪৫ জন কর্মকর্তা ঢাকায় আসলেন।
১১ প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন এ এফ এম আহসানউদ্দীন চৌধুরী, বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলে (বাসদ) বিভক্তি দেখা দেয়। আলাদা হয়ে যান আ ফ ম মাহবুবুল হক। জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) প্রীতি কুমার চাকমা গ্রুপের হাতে খুন হন রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাতা এম এন লারমা।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, বাংলাদেশ: এরা অফ শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলাদেশের সর্বহারা পার্টি, মাও সে তুং চিন্তাধারার পর্যালোচনা।
ফরহাদ মজহার, আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছো বিপ্লবের সামনে।
কামাল আহমেদ, পুরষ্কার।
সি. বি. জামান, লালু ভুলু।
এহতেশাম, দূরদেশ।
১৯৮৪ জানুয়ারি ৮ এরশাদের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
২৭ নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিল ১৫ দল ও ৭ দল।
ফেব্রুয়ারি ৪ ঢাকা সফর করলেন ভুটানের রাজা জিগমে ওয়াংচুক।
৫ বাংলাদেশ আর ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা চুক্তি সই হল।
১২ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন মনোনীত হলেন বেগম খালেদা জিয়া।
১৬ লন্ডনে ইন্তেকাল করলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানি।
২৮ ঢাকায় ছাত্র মিছিলের ওপর ট্রাক চালিয়ে দেয়ায় খুন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন ও ইব্রাহিম সেলিম।
২৯ প্রেসিডেন্ট এরশাদ ঘোষণা করলেন পরের বছরের ২৬ মার্চ রাজনীতির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে এবং ২৭ মে একইদিনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মার্চ ১ ১৫ দল ও ৭ দলের আহবানে সারা দেশ জুড়ে হরতাল পালিত হল, এই হরতাল চলাকালে খুন হন শ্রমিক নেতা তাজুল ইসলাম।
২৯ এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন আতাউর রহমান খান।
এপ্রিল ১ শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করা হল।
৯-১১ ৭ দল ও ১৫ দলের নেতাদের সাথে এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করলেন এরশাদ। ৩৩ দফা দাবি পেশ করল ৭ দল। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৭ দলের নেতাদের সংলাপকক্ষ ত্যাগ।
১০ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ও গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাল জামায়াতে ইসলামী।
১২ বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করলেন এরশাদ।
১৪ এরশাদের সাথে ১৫ দলের দ্বিতীয় দফা বৈঠক।
মে বাংলাদেশ সফর করলেন সংযুক্ত আরব ইমারাতের (ইউএই) শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান।
৯ ঢাকা সফর করলেন পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত।
১০ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন হলেন খালেদা জিয়া।
২০ বাখরাবাদ গ্যাসলাইন উন্মুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ।
জুলাই ১২ বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদপত্রশিল্পে ধর্মঘট।
আগস্ট ১ বিশেষ সামরিক আইন ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্ত করা হল।
৪ শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করলেন এরশাদ।
১৫ বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলা।
সেপ্টেম্বর ১৪ শেখ হাসিনা এক ভাষণে ১৯৭৫ সালের পরের সব সরকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করলেন।
১৫ ইরাক সফর করলেন এরশাদ।
২৩ বগুড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় বোমা হামলা।
২৬ নেত্রকোনায় পুলিশি হামলায় খুন হলেন ছাত্রলীগ কর্মী তিতাস।
২৭ ১৫ দল আর ৭ দলের আহবানে পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হল। হরতাল চলাকালে এরশাদের গুণ্ডাদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে খুন হন আওয়ামী লীগ নেতা ময়েজউদ্দিন। পুলিশের গুলিতে খুন হন মিরপুরের ফলবিক্রেতা রমিজ, খুন হন স্বপন নামের এক রিকশাওয়ালা।
অক্টোবর ১১ এক জনসভায় ৭ ডিসেম্বরকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেন এরশাদ।
১৪ ১৫ দল ও ৭ দলের বিশাল গণসমাবেশ।
২৭ বিরোধিতার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত হল।
নভেম্বর ৩ ইন্দিরার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে এরশাদের দিল্লি গমন।
নভেম্বর এরশাদ গঠন করলেন জনদল।
ডিসেম্বর ২০ দুদিনের জন্য – ২২ ও ২৭ ডিসেম্বর – হরতালসহ সব ধরণের রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হল।
২২ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল চলাকালে খুন হন একটি হলের বাবুর্চি আশরাফ, হকার আব্দুল আজিজ, ও ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ।
জাসদ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মেজর (অব) এম এ জলিল, গঠন করেন নতুন দল জাতীয় মুক্তি আন্দোলন।
আনোয়ার কবীর, মাও সেতুং চিন্তাধারার স্বপক্ষে।
আমজাদ হোসেন, ভাত দে।
মোরশেদুল ইসলাম, আগামী।
১৯৮৫ ফেব্রুয়ারি ১৩ শহিদ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাউফুন বসুনিয়া।
মার্চ ১ সামরিক আইনের কঠোরতা আরোপ। রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হল।
২ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মসূচি বাতিল করা হল।
২১ গণভোট আয়োজন করা হল, গণভোটে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পক্ষে ৯৪.১৪ শতাংশ ভোট পড়ল। নির্বাচনের নামে এটা একটা প্রহসন ছিল মাত্র। বিবিসি ও ভয়েস অফ আমেরিকা (ভোওআ) থেকে প্রচারিত সংবাদে বলা হল, শতকরা মাত্র ৫-১৫ শতাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিল।
২৩ গণভোট সম্পর্কে লন্ডন টাইমসয়ের মাইকেল হেমলিন লিখলেন, “একটি মিথ্যাকে অবলম্বন করে টিকে থাকার কাজটি কীভাবে সম্পন্ন হয়, তা রপ্ত করার জন্য বাংলাদেশের একটি দিন গতকাল ব্যয় হয়েছে।”
২৪ দৈনিক ইত্তেফাকয়ের সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের মন্ত্রীপরিষদে যোগদান।
এপ্রিল ২১ দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসলেন ইয়াসির আরাফাত।
২৯ রাঙামাটিতে শান্তিবাহিনীর ২৩ সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন।
মে ১০ বিএনপির চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হলেন বেগম খালেদা।
২৪ নোয়াখালীর দক্ষিণ চর অঞ্চল ও সন্দ্বীপের উড়িরচরে ভয়াবহ এক জলোচ্ছ্বাসে ১১,০০০ মানুষের প্রাণহানি।
জুন ২ ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জয়াবর্ধনে প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাথে পরিদর্শন করলেন দুর্গত উড়িরচর।
৫ উড়িরচর পরিদর্শন করলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক।
৬ দুর্গত উড়িরচর পরিদর্শন করলেন ভুটানের রাজকুমারি।
১৫ শাহ আজিজুর রহমান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ কে এম মাঈদুল ইসলাম, আবদুল আলীম, ও ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হল।
জুলাই ৪ চীন সফর করলেন এরশাদ।
আগস্ট ৫ এরশাদের মন্ত্রীসভায় যোগ দিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
১৬ এরশাদ গঠন করলেন জাতীয় ফ্রন্ট।
অক্টোবর ১ তুরস্ক সফর করলেন এরশাদ।
৭ ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানা থেকে ব্যক্তিমালিকানায় দেয়া হল।
১৮ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ।
৩১ বিডিআরের গুলিতে ছাত্র স্বপন ও রমিজ নিহত।
নভেম্বর ৪ মালয়েশিয়া সফর করলেন এরশাদ।
৭ আদমজি পাটকলে ধর্মঘট চলাকালে পুলিশের গুলিতে ১৭ জন শ্রমিক নিহত হন, বিডিআরের গুলিতে নিহত হন ৩ জন।
ডিসেম্বর ২ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবানে ধর্মঘট পালিত হল।
৫ ঢাকায় সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
৭ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হল সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন, প্রেসিডেন্ট এরশাদ সংস্থাটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কনফারেন্স অন রিলিজিয়ন অ্যান্ড পীসের প্রতিবেদনে আদিবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে আইএলওর কনভেনশন নং ১০৭ মেনে না চলার দায়ে বাংলাদেশকে অভিযুক্ত করা হয়। বছরের শেষদিকে আবুল বাশারের নেতৃত্বে মজদুর পার্টির একটি অংশ রাশেদ খান মেনন ও হায়দার আকবর খান রনোর সাথে মিলে গঠন করেন ওয়ার্কার্স পার্টি।
শাহরিয়ার কবির, ওদের জানিয়ে দাও।
ইমদাদুল হক মিলন, পরাধীনতা।
গোলাম মুরশিদ, সংকোচের বিহ্বলতা: আধুনিকতার অভিঘাতে বঙ্গরমণীর প্রতিক্রিয়া।
১৯৮৬ জানুয়ারি ১ জনদল আর জাতীয় ফ্রন্ট বিলুপ্ত করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদ গঠন করলেন জাতীয় পার্টি।
১২ বায়তুল মোকাররমে জাতীয় পার্টির জনসভায় এরশাদের ভাষণ।
মার্চ ২ টেলিভিশন ও বেতার বক্তৃতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেন এরশাদ – ২৭ এপ্রিল।
৮ ঢাকা সফর করলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
১৭ শেখ হাসিনা বললেন, “যারা নির্বাচনে অংশ নেবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসাবে চিহ্নিত হবে।”
২২ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের ৫টি দল নির্বাচন প্রশ্নে এই আপোস মেনে নেয় নি, তাঁরা ৭ দলের সাথে যুগপৎ আন্দোলন অব্যাহত রাখে। নির্বাচনের তারিখ পুনঃনির্ধারিত হল – ৭ মে।
৩১ কলম্বোর মোরাতুয়ার তাইরোনে ফার্নান্দো ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ – এশিয়া কাপে – প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান।
এপ্রিল ২৯ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিবাহিনীর হামলায় ৩৮ জন নিহত।
মে ৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা, ছাত্রদের হলত্যাগের নির্দেশ।
৭ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণিত আর নিকৃষ্ট এই নির্বাচনী সহিংসতায় ১৯ জন মানুষের মৃত্যু। ৭ দল ও ৫ দলের যুগপৎ হরতাল পালিত।
১৯ প্রকৃত বিরোধীহীন প্রহসনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জিতল।
জুন ৩ ভুটান সফর করলেন এরশাদ।
২৮ ইন্তেকাল করলেন কৃষক নেতা হাজি মোহাম্মদ দানেশ।
জুলাই ৮ তিনবিঘা করিডোর পরিদর্শন করলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ।
১৪ ভারত সফর করলেন এরশাদ।
২৬ সাভারে দেশের প্রথম আণবিক চুল্লি স্থাপিত হল।
আগস্ট ২০ ইন্তেকাল করলেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।
৩১ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিলেন এরশাদ।
সেপ্টেম্বর ২ জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলেন ও দলটির চেয়ারম্যান মনোনীত হলেন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ঘোষণা দিলেন ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ১৫ দল, ৭ দল ও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের দিন হরতাল পালনের ঘোষণা দিল।
অক্টোবর ৭ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ মকুব ঘোষণা।
১৩ শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে তাঁদের নিজ নিজ বাসায় অন্তরীণ করা হল।
১৫ প্রহসনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতলেন এরশাদ।
২৮ মহাখালীতে ১৫ দল আর ৭ দলের এক সভায় শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ, দুই নেত্রী আন্দোলনের যৌথ ইশতেহার তৈরি করেন।
নভেম্বর ১০ জাতীয় সংসদে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী গৃহীত হল।* এই দিন সব দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আহবানে একটি সফল হরতাল পালিত হল। কাঁটাবনে পুলিশের গুলিতে খুন হল কিশোর শাহাদাত।
১৩ কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করলেন ৪০ বছরের জন্য দণ্ডিত বাকশাল নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
গৃহবন্দিত্ব অমান্য করে এরশাদের সাজানো নির্বাচনের বিরুদ্ধে ঢাকা প্রেস ক্লাবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
শান্তিবাহিনীর সাথে সেটেলার বাঙালিদের সংঘাত দেখা দেয়। বহু আদিবাসী বাংলাদেশি পালিয়ে গিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আশ্রয় নেন।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, চিলেকোঠার সেপাই।
কায়েস আহমেদ, দিনযাপন ও নির্বাসিত একজন।
হেলাল হাফিজ, যে জলে আগুন জ্বলে।
জাহানারা ইমাম, একাত্তরের দিনগুলি।
সত্যেন সেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা।
শহীদুল ইসলাম খোকন, লড়াকু।
রাজ্জাক, চাপা ডাঙ্গার বউ।
১৯৮৭ জানুয়ারি ৬ ইসমাইলি শিয়াদের নেতা আগা খানের ঢাকা সফর।
৭ চীনের গণফৌজের জেনারেল ইয়াং দেঝির ঢাকা সফর।
ফেব্রুয়ারি ১২ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস রুখতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হল।
২৬ সংসদে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন বিল পাশ।
মার্চ ২৩ সংসদ বিশেষ ক্ষমতা (সংশোধন) বিল পাশ।
এপ্রিল ১৭ মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ।
২৬ আদিবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবসন প্রশ্নে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক।
জুন ১০ নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ পুরস্কার গ্রহণ করলেন এরশাদ।
জুলাই ২ এরশাদের চীন সফর।
১০ পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাতের ঢাকা সফর।
১৪-১৫ শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ধর্মঘট পালিত হল।
আগস্ট ২৮ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ৭ অক্টোবর বৈঠকে বসার ঘোষণা দিলেন এরশাদ, শেখ হাসিনা এই বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
সেপ্টেম্বর ১২ তিস্তার পানিবন্টন প্রশ্নে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক।
অক্টোবর ২৪ খুন হন শ্রমিক নেতা শামসুল আলম।
২৬ সিরাজগঞ্জের লক্ষ্মীপুরে খুন হলেন কৃষক জয়নাল।
২৮ দুই নেত্রীর বৈঠক।
নভেম্বর ১ খুন হলেন কৃষক নেতা হাফিজুর রহমান মোল্লা।
৭ প্রেসক্লাবের সামনে ফ্রিডম পার্টির সভায় বোমাবাজিতে ১ জন নিহত।
৮ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ৫ বা ততোধিকের লোকের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হল।
৯ ঢাকামুখী কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে ৪৮ ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখা হল।
১০ গণআন্দোলন চলাকালে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় – বর্তমানে শহিদ নূর হোসেন স্কয়ার – পুলিশের গুলিতে শহিদ হন যুবলীগ নেতা নূর হোসেন। যুবলীগের আরেক নেতা নূরুল হুদা বাবুল ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা টিটো সেদিন শহিদ হন।
১১-১৪ দুই নেত্রী অন্তরীণ। দেশজুড়ে হরতাল চলছে। পুলিশের গুলিতে খুন হলেন আবুল ফাত্তাহ, বাবলু, উমেছা খাতুন, গোলাম মোহাম্মদ আসলাম, খোকন ও দেশজুড়ে আরো তিনজন।
২২ বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় রণতরী নীলগিরি’র অবস্থানের প্রতিবাদ।
২৭ জরুরি অবস্থা ঘোষিত। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, ও রাজশাহীতে সান্ধ্য আইন। হরতাল, ধর্মঘট, ও লকআউট নিষিদ্ধ করা হল।
২৮ টেলিভিশন ও বেতারে প্রেসিডেন্টের বক্তৃতা, আলোচনার প্রস্তাব।
ডিসেম্বর ৩ সাপ্তাহিক রোববারয়ের প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল।
৫ কক্সবাজারের চকোরিয়ায় ছাত্রনেতা দৌলত খান খুন হলেন।
৬ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে দিলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ।
১১ ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দেয়া হল।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, চিলেকোঠার সেপাই।
কায়েস আহমেদ, লাশ কাটা ঘর।
অনুপম হায়াৎ, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস।
হুমায়ুন আজাদ, কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী।
১৯৮৬-৮৭ এ অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের ৯৮ শতাংশই বৈদেশিক ঋণ।
১৯৮৮ জানুয়ারি ৬ নরসিংদীতে সর্বহারা পার্টির ১০৭ জন সদস্যের আত্মসমর্পণ।
৮ বিরোধীদের ডাকে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত হল।
১২ সাপ্তাহিক রোববারয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হল।
২০ বিরোধীদের ডাকে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত হল।
২২ এরশাদের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করলেন তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ।
২৪ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানের সমাবেশে যোগ দিতে আসা শেখ হাসিনার গাড়িবহরে সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে খুন করে পুলিশ। বত্রিশ বছর পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আদালত ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু ততোদিনে প্রধান আসামি প্রাকৃতিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
২৫ ‘নির্বাচন বিরোধী তৎপরতা’ নিষিদ্ধ করা হল।
মার্চ ৩ এরশাদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করলেন। বিরোধী দলগুলো একযোগে নির্বাচন বর্জন করল। বিরোধীদের ডাকে সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালিত হল। ৬৮.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির জয়লাভ। এপ্রিলের মধ্যে গোলাম আযমকে বাংলাদেশ ছাড়া নির্দেশ দেয়া হল। নির্দেশ উপেক্ষা করে বাংলাদেশে রয়ে গেলেন গোলাম।
এপ্রিল ১২ ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হল।
১৩ সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার পুনর্বহাল করা হল।
২১ এরশাদের জুলুমশাহির অবৈধ সংসদের পোষা বিরোধী দলীয় নেতা হলেন আ স ম আবদুর রব।
২৬ মাটিরাঙায় শান্তিবাহিনীর আক্রমণে ১৪ জন নিহত হলেন।
মে ১ মানিকছড়িতে শান্তিবাহিনীর আক্রমণে ১৩ জন নিহত হলেন। ৩ মে বাংলাদেশে বিবিসির কার্যক্রমের ওপর এরশাদ সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তা তুলে নেয়া হল।
জুন ৭ জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী গৃহীত হল, এর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হল। ১৩ জুন অষ্টম সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে অর্ধদিবস হরতাল পালিত।
জুলাই ৭ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে গৃহীত হল নারী নির্যাতন ও মাদক দ্রব্য বিল।
আগস্ট ১১ এরশাদ কাজী জাফর আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে উপরাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দিলেন।
সেপ্টেম্বর ১ মৃত্যুবরণ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান।
১২ বাংলাদেশ সফর করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্টপত্নী মাদাম মিতেরা।
ডিসেম্বর ২ দুইদশকের মধ্যে সবচে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। দেখা দেয় বন্যা। আটাশির বন্যায় দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ৫০ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে, ১০০০এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
বগুড়ার গাবতলীতে একজন তৃণমূল সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন তারেক রহমান।
শহীদুল জহির, জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
মহিউদ্দিন ফারুক, বিরাজ বৌ।
শিবলি সাদিক, ভেজা চোখ।
১৯৮৯ জানুয়ারি ১ জাতীয় ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করা হল।
১১-১২ এরশাদ ও দুই নেত্রীর সাথে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর স্টিফেন সোলার্জ, জানালেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেখতে আগ্রহী।”
৩১ উপজেলা পর্যায়ে ঋণ সালিশি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত।
ফেব্রুয়ারি ৮ ডাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে জিএস হলেন জাসদ ছাত্রলীগের ডা. মুশতাক হোসেন, আর ভিপি হলেন আওয়ামী-সমর্থিত ছাত্রলীগের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ। ছাত্রী মিছিলে হামলা, নিহত ১, আহত ২৩।
১৩ এরশাদের যুক্তরাজ্য সফর।
১৬ লন্ডনে মার্গারেট থ্যাচারের সাথে বৈঠকে বসলেন এরশাদ।
২৬ যমুনা সেতু প্রকল্পে সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি জাপানের।
মার্চ ১০ পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাতের ঢাকা সফর।
২১ সালমান রুশদীর ফাঁসির দাবিতে ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল।
২২ এরশাদের প্যারিস সফর।
এপ্রিল ৯ আফগান পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় হেকমতিয়ার-এরশাদ বৈঠক।
মে ৩০ জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার বিল পাশ হল।
জুন ৩ ইওরোপের কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করলেন শেখ হাসিনা।
১১ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আনোয়ার জাহিদ গঠন করলেন নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
১২ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাশ হয়ে গেল পৌরসভা (সংশোধনী) বিল ১৯৮৯ এবং আদালত অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা (আদেশ) বিল ১৯৮৯।
১৫ ৫,৪০৩ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গৃহীত।
জুলাই ১০ জাতীয় সংসদে পাশ হল সংবিধানের নবম সংশোধনী।
আগস্ট ১০ শেখ হাসিনার বাড়িতে হামলা।
১২ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে উপরাষ্ট্রপতি ও কাজী জাফর আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করলেন এরশাদ।
১৪ ইরাক সফরকালে বাগদাদে অবস্থান করছেন এরশাদ।
২১ ঢাকা পৌর প্রশাসন পুনর্গঠনের নির্দেশ দিলেন এরশাদ।
২৩ শান্তিবাহিনীর সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা।
সেপ্টেম্বর ১ রাজধানীর বাইরে স্থায়ী হাই কোর্ট বেঞ্চকে অবৈধ ঘোষণা করে দায় দিলেন সুপ্রিম কোর্ট। এ সময় জোটনিরপেক্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে বেলগ্রেডে অবস্থান করছেন এরশাদ।
২১ এরশাদের নেতৃত্বে গঠিত হল বস্তি উন্নয়ন কাউন্সিল।
৩০ শান্তিবাহিনীর আক্রমণে রাঙামাটিতে ৭২ জন নিহত হলেন।
অক্টোবর ৯ ফিলিপাইন সফর করলেন এরশাদ।
১০ এরশাদ-কোরাজন আলোচনা, চারটি চুক্তি সই করা হল।
নভেম্বর ১ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে খালেদা জিয়ার প্রতীকী অনশন।
১৮ চীনা প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর, চারটি চুক্তি সই।
পার্বত্য চট্টগ্রামে গঠিত হয় পার্বত্য জেলা পরিষদ। সর্বহারা পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলনের দলিল সংকলন।
জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মাও সে তুং চিন্তাধারার বিপক্ষে।
মমতাজউদ্দীন আহমদ, সাত ঘাটের কানাকড়ি।
তোজাম্মেল হক বকুল, বেদের মেয়ে জোসনা।
তারেক মাসুদ, আদম সুরত।
১৯৮৮-৮৯ এ সময় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১২৬.৩ শতাংশ ছিল বিদেশি সাহায্য! এ অর্থবছরে জন্ম নেয়া একটি বাংলাদেশি শিশু ৩২০০ টাকা ঋণ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে! অর্থাৎ এরশাদ শুধু বর্তমান নয়, আক্ষরিক অর্থে দেশের ভবিষ্যৎকে বন্ধক দিয়ে ঋণ আনছিলেন!!!
১৯৯০ জানুয়ারি ২৮ আওয়ামী লীগের আহবানে দেশব্যাপী সর্বাত্মক হরতাল পালিত।
এপ্রিল ২৪ জাকাতের টাকা আর কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে চট্টগ্রামে ৩৬ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু।
অক্টোবর ১০-১৩ পুলিশের গুলিতে খুন হন ছাত্র জেহাদ, মনোয়ার, মনিরুজ্জামান ও সাধন চন্দ্র শীল, হকার জাকির, এবং ভিক্ষুক দুলাল।
২৭ হরতাল চলাকালে ঢাকার বাইরে দুজন খুন হন।
নভেম্বর ৫ চিকিৎসকরা ২৪ ঘন্টার জন্য কর্মবিরতিতে গেলেন।
৬ এরশাদের পদত্যাগ দাবি করলেন শেখ হাসিনা।
১৪ আদমজী পাটকলে পুলিশের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত।
১৯ তিন জোট – আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন ৮ দল, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ৭ দল, এবং বামপন্থীদের ৫ দল – আলাদা আলাদাভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করল।
২০ খালেদা জিয়ার বাসভবনে হামলা।
২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণাঙ্গনে পরিণত হল। খুন হলেন ক্যাম্পাসের চা দোকানদার নিমাই।
২৭ সব সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশীপ জারি করা হল, খুন হলেন ডাক্তার শামসুল আলম খান মিলন।
২৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
নভেম্বর ২৭-৩ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দুজন, রাজশাহীতে দুজন, ধানমণ্ডিতে একজন ও জিগাতলায় একজন খুন হন।
ডিসেম্বর ১ মিরপুরে ছাত্র জাফর, ইটভাঙা শ্রমিক আব্দুল খালেক, মহিলা গার্মেন্টস কর্মী, নুরুল হুদাসহ সাতজন, আট মাসের শিশু ইমন, নীলক্ষেতে একজন, কাজীপাড়ায় দুজন এবং ডেমরা যাত্রাবাড়ীতে দুজন, চট্টগ্রামের কালুরঘাটে একজন, নারায়ণগঞ্জের মণ্ডলপাড়ায় একজন রিকশাচালক খুন হন। খুলনায় এরশাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
৩ চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে দুজন খুন।
৪ বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতন।
এ বছর ৯০,০০০ পাহাড়ি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। ডাকসু নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জেতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন আমান উল্লাহ আমান, জিএস নির্বাচিত হন খায়রুল কবির খোকন।
আহমদ ছফা, অলাতচক্র।
আজহারুল ইসলাম খান, মরণের পরে।
১৯৯১-৯২ বার্মায় বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী জুলুমের শিকার হয়ে প্রায় ২৫০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী।
খালেদা আমল ১
১৯৯১-৯৬
১৯৯১ ফেব্রুয়ারি ২৫ নির্বাচনী প্রচারণার শেষদিন। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সমাবেশে খালেদা জিয়া বললেন, “বিএনপির হাতেই রয়েছে স্বাধীনতার পতাকা, অন্যদের হাতে রয়েছে গোলামির জিঞ্জির।” পান্থপথের সমাবেশে শেখ হাসিনা বললেন, “নৌকায় ভোট দিলে মানুষ গণতন্ত্র পাবে, অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে।”
২৭ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪০টি জিতে ক্ষমতায় আসল বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হলেন বেগম খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৮৪টি আসন পায়। বিরোধী দলের নেত্রী হলেন শেখ হাসিনা। জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনে ৩৫টি আসন জেতে। এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জেতে ১৮টি আসন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৫টি আসন লাভ করে।
এপ্রিল ২৯ ঘূর্ণিঝড়ে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষের মৃত্যু।
মে ১০ অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল।*
* যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র দেশটির সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশকে মানবিক সহায়তা দেয়ার হুকুম দিলেন। এই উদ্দেশ্যে লে. জেনারেল হ্যারি সি. স্ট্যাকপোলের নেতৃত্বে ৪০০ মেরিন ও ৩০০০ নাবিকের এক কন্টিঞ্জেসি জয়েন্ট টাস্ক ফোর্সকে খাবার, পানীয়, ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সমেত বাংলাদেশে পাঠানো হল। উপদ্রুত অঞ্চলের ২০ লক্ষ মানুষকে সেবা দিতে।
আগস্ট ৬ জাতীয় সংসদে সংবিধানের একাদশ ও দ্বাদশ সংশোধনী গৃহীত হল, সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরল বাংলাদেশ। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান প্রেসিডেন্টই থাকেন। কিন্তু নির্বাহী বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান প্রধানমন্ত্রী।
সেপ্টেম্বর ১৫ গণভোটের রায় দ্বাদশ সংশোধনী বিলের পক্ষে পড়ল।
অক্টোবর ৪ আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আর আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী দুজনেই গোলাম আযমের সাথে দেখা করে দোয়া চাইলেন।
৮ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
ডিসেম্বর ২৯ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হলেন গোলাম আযম।
১৯৯২ জানুয়ারি ১১ যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে তাঁকে আহবায়ক করে গঠিত হল ১০১-সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
মার্চ ৬ ৫২ জন আলেম একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বললেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইসলামি শরিয়তসম্মত।
৭ গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলেন শেখ হাসিনাসহ ১০০ জন সাংসদ।
২২ বিদেশে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বললেন, “গোলাম আযম আইনের উর্দ্ধে নন, তবে গণআদালতে বিচারের কোন যুক্তি নেই।”
২৪ বিদেশী নাগরিক আইনের আওতায় গোলাম আযমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান হল।
২৫ খুলনার শান্তিধাম মোড়ে খুন হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আমিনুল ইসলাম বিমান।
২৬ ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ গণআদালত ১-এর চেয়ারপার্সন হিসাবে জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ফাঁসির রায় পড়ে শোনালেন।
২৮ জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হল।
এপ্রিল ১০ লোগাং ম্যাসাকার।*
* সরকারি হিসেবে লোগাং ম্যাসাকারে মৃতের সংখ্যা ১২ হলেও বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা ৪০০রও বেশি।
মে ১৩ ডা. মিলন হত্যা মামলার রায়ে ১৪ জন আসামির সবাইকে খালাস দেয়া হল।
জুন ২৬ বাংলাদেশের কাছে তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তর করল ভারত।
জুলাই ৩১ খুলনা ডিসি অফিসের সামনে খুন হলেন সিপিবি নেতা রতন সেন।
ডিসেম্বর ৬ ভারতে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি কর্তৃক বাবরি মসজিদ ধবংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করল বাংলাদেশ।
৭ বাবরি মসজিদ ভাঙনের ঘটনায় মন্ত্রিসভায় তীব্র নিন্দা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হামলা। ভোলানাথ গিরি আশ্রমে হামলা ও লুঠতরাজ। পুরান ঢাকায় হিন্দুদের স্বর্ণের দোকান লুঠ হল। রায়েরবাজারে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। চট্টগ্রামে বিভিন্ন মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ। ঢাকায় সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ।
৯ ঢাকায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ও ১৫টি ছাত্রসংগঠন আলাদা আলাদাভাবে শান্তি মিছিল বের করে। বাবরি মসজিদ ধবংসের প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল। চট্টগ্রাম আর হবিগঞ্জে ৩ জন খুন হলেন।
১৯৯৩ জানুয়ারি ২৪ চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার সভায় গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় ৫০ জন আহত হন।
মার্চ ২৮ পুলিশের লাঠিচার্জে জাহানারা ইমামসহ শতাধিক আহত।
এপ্রিল ২২ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ অবৈধ ও আইনবহির্ভূত বলে ঘোষণা করলেন।
মে ২ ভারতের ত্রিপুরায় পাহাড়ি শরণার্থীদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার জন্য মন্ত্রী কর্নেল (অব:) অলি আহমেদের নেতৃত্বে ত্রিপুরা সফর করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিরসন কমিটির সদস্যরা।
১২ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সাথে মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) সই করল বাংলাদেশ ও বার্মা।
২২ ৫০ হাজার পাহাড়ি শরণার্থীর প্রত্যাবাসনের জন্য একটি চুক্তি সই করল ভারত ও বাংলাদেশ।
জুলাই ১৬ রাজধানীতে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কর্মীদের সাথে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের প্রচণ্ড সংঘর্ষ।
সেপ্টেম্বর ২০ জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের কিছু সদস্য যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুললেন। খুলনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্মীদের সাথে এক বন্দুকযুদ্ধে খুন হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪ কর্মী।
অক্টোবর ৯ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে ফারাক্কা সমস্যা তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারত।
বিএনপির বগুড়া ইউনিটে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রচলন করেন তারেক রহমান।
১৯৯৪ মার্চ ২০ বিতর্কিত মাগুরা উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভ।
জুন ২২ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বহাল।
২৬ যুক্তরাষ্ট্রে জাহানারা ইমামের মৃত্যু।
২৭ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ও জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের রূপরেখা ঘোষণা করল।
আগস্ট ৯ তসলিমা নাসরিন নির্বাসিত।
সেপ্টেম্বর ৬ রাজনৈতিক সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করল বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। শেখ মুজিবের বাড়ি ধানমন্ডি ৩২কে একটি যাদুঘরে রূপ দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে তুলে দেয়া হল।
অক্টোবর ২৩ খুলনা সিটি কলেজের সামনের রাস্তায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আবুল কাশেম পাঠানকে গুলি করে হত্যা করা হল।
ডিসেম্বর ২৬ রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পূর্ণ মেয়াদ শেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে সম্মতি জানালেন বেগম খালেদা জিয়া।
২৮ জাতীয় সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ও জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা একযোগে পদত্যাগ করলেন।
১৯৯৫ জানুয়ারি ১ বিরোধী দলকে সাংবিধানিক রাজনীতিতে ফিরে আসার অনুরোধ জানালেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
১৩ জাতীয় সরকার গঠনের আহবান জানালেন ড. কামাল হোসেন।
২৬ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করার দাবি জানালেন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।
ফেব্রুয়ারি ২ খুন হলেন আওয়ামি লীগ নেতা মোসলেমুদ্দিন খান।
১৬ প্রণীত হল বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন।
২৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের খুলনা নগর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে গুলি করে হত্যা করা হল।
এপ্রিল ২ যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনের ঢাকা সফর।
২৩ বিরোধী দল ছাড়াই জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু।
২৫ খুলনা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আর তাঁর গাড়ির ড্রাইভারকে গুলি করে হত্যা করা হল।
জুন ২৬ অস্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেলেন এরশাদ।
আগস্ট ২৪ দিনাজপুরের এক দরিদ্র কিশোরী ইয়াসমিন আক্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকজন সদস্য সম্মিলিতভাবে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
২৭ ইয়াসমিন ধর্ষণ-হত্যার বিরুদ্ধে দিনাজপুরে গণআন্দোলন দেখা দেয়। কারফিউ জারি করে বিডিআর মোতায়েন করা হয়। ধর্ষণবিরোধী এই গণআন্দোলনে ৭ ব্যক্তি শহিদ হন।
সেপ্টেম্বর ২ আওয়ামী লীগের ৩২ ঘন্টা ব্যাপী হরতালের সূচনা।
৪ ঢাকায় আসলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অফ স্টেটস রবিন র্যাফেল।
৫ বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে রবিন র্যাফেলের বৈঠক।
৬ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে রবিন র্যাফেলের বৈঠক। বৈঠকে রবিন বললেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা আমেরিকার কাজ নয়।”
১৬ আওয়ামী লীগের ৭২ ঘন্টা ব্যাপী হরতালের সূচনা।
২৩ বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহবান জানালেন। তাঁরা যেন বিএনপি সরকারকে সহায়তা না করে।
অক্টোবর ৭ আওয়ামি লীগের ৭২ ঘন্টার ধর্মঘট শুরু হল।
১৬ আওয়ামি লীগের ৯৬ ঘন্টার হরতাল শুরু হল।
নভেম্বর ১০ পুরান পল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ।
১৬ আওয়ামী লীগের টানা ছয় দিনের হরতাল সমাপ্ত।
১৯ হুমায়ুন আজাদের নারী নিষিদ্ধ করল বিএনপি সরকার।
ডিসেম্বর ৯ আওয়ামী লীগের ৭২ ঘন্টা ব্যাপী হরতাল শুরু।
১১ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হল।
১৯৯৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করল বিএনপি। অধিকাংশ বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসায় এই নির্বাচন বয়কট করে। তাই নির্বাচনটি দেশ বিদেশ কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
মার্চ ২৭ জাতীয় সংসদে গৃহীত হল সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী।*
* এই সংশোধনী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। সেই সময় এটা আওয়ামি লীগের দাবি ছিল, এই দাবিতে আন্দোলন করে দেশ অচল করে দিয়েছিল তারা। ২০১১ সালে আওয়ামি লীগ সরকারের শাসনামলে সুপ্রিম কোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে ও বাতিল করে দেয়।
৩০ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
মে ১২ বিএনপিতে যোগদানের পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বললেন, “যারা মনে করছেন, মায়ের বোনকে মাসি এবং পিতার বোনকে পিসি সম্বোধন করতে হবে, তাদের স্বপ্নকে চুরমার করে দিতে হবে। আমরা পানি খেতে চাই, জল খেতে চাই না। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদীরা গোসল করে, স্নান করে না।”
১৯ লে. জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম বীর বিক্রম একটি সামরিক ক্যুদেতা সংঘটিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ক্যুদেতা সংঘটন প্রচেষ্টার দায়ে গ্রেপ্তার হন নাসিম।
২০ জেনারেল নাসিমকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসর প্রদান করলেন প্রেসিডেন্ট।
জুন ১১ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহৃত হলেন।
হাসিনা আমল ১
১৯৯৬-২০০১
১৯৯৬ জুন ১২ সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভ। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরল দলটি। প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।
জুলাই ২ ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটির দিন বলে ঘোষণা করা হল।
১৯৯৭ জানুয়ারি ১ বীর উত্তম খেতাব প্রত্যাখ্যান করলেন কাদের সিদ্দিকী।
মার্চ ৮ আগের বছর দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার প্রণয়ন করল জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ১৯৯৭।
১৭ বাংলাদেশ ভারত ২৫ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ, কোন পক্ষই মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে কোন ধরণের আগ্রহ দেখায়নি।
২৬ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হল। এ সময় তিনজন বিদেশি বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত, তুরস্কের সুলতান দেমিরেল, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা।
নভেম্বর ২১ ভূমিকম্পে এক ৫-তালা ভবন ধ্বসে ২৩ ব্যক্তির মৃত্যু।
ডিসেম্বর ২ বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দশকের রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটল।
২১ পার্বত্য শান্তিচুক্তির প্রতিবাদে কালো ব্যাজ ধারণ করলেন, কালো পতাকা মিছিল করলেন, এবং প্রেসিডেন্টের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা।
১৯৯৮ জানুয়ারি ২ ঢাকায় গ্রেপ্তার হলেন উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া।
১৯৯৮ আগস্ট ১৯-৫ আগস্ট, ১৯৯৯ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রেপিস্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে ধর্ষণবিরোধী ছাত্রী আন্দোলন সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখে।*
* এই আন্দোলন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (? ১৯৯৯)।
১৯৯৮ ডিসেম্বর ২৬ শান্তিচুক্তির বিপরীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে প্রসিত বিকাশ খীসা প্রতিষ্ঠা করলেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
নীলিমা ইব্রাহিম, আমি বীরাঙ্গনা বলছি।
১৯৯৯ জানুয়ারি ৬ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ও ইসলামী ঐক্যজোট মিলে চারদলীয় জোট গঠন করে।
২৭ কলকাতা বইমেলার প্রধান অতিথি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুলক্রমে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ সম্বোধন করা হল।
ফেব্রুয়ারি ১ শেখ হাসিনার একটি অসতর্ক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠল।
মার্চ ৬ যশোরে উদীচীর এক অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসবাদী বোমা হামলায় ১০ ব্যক্তি নিহত।
মে ২৬ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, “যখন হিসাব করে বুঝব বিজয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় আসতে পারব, তখনই নির্বাচন দেব। ক্ষমতায় থাকলে সব সরকারই এ হিসাবটা করে। অন্যরা তা প্রকাশ করে না, আমি খোলামেলাই বললাম।”
জুন ১ আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তীতে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে শেখ হাসিনা বললেন, “বাংলাদেশের ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস।”
ডিসেম্বর ৩১ দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শেষ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে থার্টি ফাস্ট নাইটের প্রোগ্রামে এসে লাঞ্চিত হন শাওন আখতার বাঁধন।*
* ১১ বছর পরে ২০১০ সালে ঢাকার একটি আদালত বাঁধনের করা শ্লীলতাহানির মামলায় তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়।
২০০০ এপ্রিল ১৪ বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি টেরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক হিসেবে একুশে টিভির সম্প্রচার শুরু।
আগস্ট ১৬, ২১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে দুটি আলাদা মামলা দায়ের করা হয়।
সেপ্টেম্বর ২০ করাচির দ্য নেশন পত্রিকায় বেনজির ভুট্টো লিখলেন, “১৯৭১ সালের দায় এড়িয়ে যাওয়া এবং গণহত্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ না করা হবে একটি কাপুরুষোচিত কাজ।”
অক্টোবর ২৪ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি আদালত অবমাননার মামলার নিষ্পত্তি হল হাই কোর্টে। আদালত ও বিচারক সম্পর্কে মন্তব্য করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে আরো সতর্ক আর শ্রদ্ধাশীল থাকার আহবান জানান হল। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম বললেন, “যেহেতু রুল জারি করা হয় নাই, সেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আদালত অবমাননা হয়নি বলা যেতে পারে।”
নভেম্বর ২০ আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুখ্যমন্ত্রী সম্বোধন করা হল।
২১ শেখ হাসিনাকে মুখ্যমন্ত্রী সম্বোধন করায় আনন্দবাজারের দুঃখপ্রকাশ।
ডিসেম্বর ১৪ শেখ মুজিব হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাই কোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিভক্ত রায় প্রদান করে।*
* বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন, বিচারপতি এম রুহুল আমিন ৫ আসামিকে খালাস দিলেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হল, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও সাংসদরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলেন। বিচারপতি এম রুহুল আমিনের ভাইয়ের বাসায় হামলা।
২০০১ জানুয়ারি ১ বিচারপতি গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ সব ধরণের ফতোয়াকে বেআইনী ঘোষণা করলেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মুফতি ফজলুল হক আমিনী বললেন, “হাইকোর্ট বিভাগের যে দুজন বিচারপতি ফতোয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন তাঁরা মুরতাদ হয়ে গেছেন।”
২০ ঢাকার পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সমাবেশে (সিপিবি) বোমা বিস্ফোরণে ৫ জন নিহত হলেন।
এপ্রিল ১৪ রাজধানীর রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামীর চালানো এক গ্রেনেড হামলায় ১০ জন নিহত।
১৮ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত যুদ্ধ। ১৬ ভারতীয় ও ৩ বাংলাদেশি সৈনিক নিহত। বাংলাদেশি পক্ষের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ.এল.এম ফজলুর রহমান।
জুন ২৭ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পেল বাংলাদেশ। তালিকায় পাকিস্তানের স্থান সপ্তম। আর ভারতের দশম।
সেপ্টেম্বর ৪ টাঙ্গাইলে এক নির্বাচনী সভায় কাদের সিদ্দিকী বললেন, “শূকর খাওয়া যেমন হারাম, নারী নেতৃত্বও তেমন হারাম।”
অক্টোবর ১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লুৎফর রহমানের তদারকিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।
খালেদা আমল ২
২০০১-০৬
২০০১ অক্টোবর ২ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।*
* নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা সহিংসতার শিকার হন। বিশেষত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কিশোরী পূর্ণিমা রানী শীলের সম্মিলিত ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার দায়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। চারদলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসে জাতীয় পার্টি।
নভেম্বর ৭ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হল।
ডিসেম্বর ১৭ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক বললেন, “পহেলা বৈশাখের উৎসব মুসলমানদের জন্য নয়।”
২০০১–২০০৬ এ সময় বনানীর হাওয়া ভবন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন তারেক রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা প্রয়োগের অভিযোগ আছে।
২০০২ জানুয়ারি ১ ঢাকায় পলিথিন ব্যাগ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হল।
ফেব্রুয়ারি ৫ এসিড হামলাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হল।
মার্চ ৫ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নিয়ে মন্তব্য করা হল, “২০০১ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬৫৫ জনের বেশি নিহত এবং ২৫ হাজার ৭৭০ জন আহত। পুলিশের হামলায় ৪৪ জন মারা যায়। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ৫৪ ধারা ব্যবহার করে সরকার ঢালাওভাবে জনসাধারণকে গ্রেপ্তার করেছে।”
এপ্রিল ২৫ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হলেন সাদেক হোসেন খোকা।
মে ৩ মেঘনায় ফেরী ডুবে ৪৫০য়েরও বেশি ব্যক্তির মৃত্যু।
জুন ৮ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উপদলীয় কোন্দলের মাঝখানে পড়ে খুন হলেন বুয়েট ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি।
২২ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব হলেন তারেক রহমান।
৩০ বন্ধ করে দেয়া হল আদমজি চটকল।
জুলাই ২৪-৩১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কতিপয় নেত্রীর দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে পুলিশি হামলা ও ১৮ ছাত্রী গ্রেপ্তার। তীব্র ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করলেন উপাচার্য আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী ও প্রক্টর ড. নজরুল ইসলাম।
আগস্ট ২৯ গণসংহতি আন্দোলন নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের জন্ম।
২০০২, অক্টোবর ১৬-জানুয়ারি ৯, ২০০৩ অপারেশন ক্লিনহার্ট।*
* ১৩৬৫ জন গ্রেপ্তার হলেন, অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মী। এ সময় সেনা হেফাজতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটে। এসব কাস্টোডিয়াল ডেথকে ‘হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে’ বলে চালিয়ে দেয়া হয়।
নভেম্বর ২ পিরোজপুরে এক ছাত্র সম্মেলনে চরমোনাইয়ের পীর দাবি করলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের ‘প্রকাশ্য শত্রু’ আর বিএনপি ‘গোপন শত্রু’। তিনি আরো দাবি করেন সাবেক সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিলেও তিনি কখনোই এরশাদের নেতৃত্ব মেনে নেন নি। জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতৃত্ব বিরোধিতাকে কটাক্ষ করে বললেন, “জামায়াতের সেক্রেটারি পূজামণ্ডপে গিয়ে মেয়েদের হাতের মালা গলায় পরেন।”
১০ খুন হলেন মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি।
২১ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইওরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাশ হল এবং সেনা হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের বিচার দাবি করা হল।
ডিসেম্বর ৬ ময়মনসিংহের ৪টি সিনেমা হলে সমন্বিত বোমা হামলায় ২৭ ব্যক্তির মৃত্যু।
১৪ শহিদ বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) এজেন্টদের দায়ী করল জামায়াতে ইসলামী।
২২ ব্রিটেনের চ্যানেল ফোরের দুই সাংবাদিকের দোভাষীর কাজ করা ও সেডিশনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রিসিলা রাজ জামিনে মুক্তি পেয়ে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বললেন, তাঁকে পুলিশি হেফাজতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং আইনজীবীর সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি।
২০০৩ ফেব্রুয়ারি ২০ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল বললেন, “যে দল ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলে, বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, তারাই যখন বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা পুরস্কারে পুরস্কৃত করতে চায়, তা জাতির সঙ্গে এক নির্মম পরিহাস।”
মার্চ ১০ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক হিন্দু পরিবারের ৭ সদস্যকে জ্যান্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হল।
২৫ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বললেন, “শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান সমগ্র জাতির সম্পদ।” স্বাধীনতা পুরস্কার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বললেন, “জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর সমান্তরাল করার চেষ্টা হচ্ছে।”
মে ১৮ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সাইফুর রহমান বললেন, “এনজিওরা গরিব মানুষকে ছাগলটাগল দিয়ে সাহায্য করবে। কিন্তু ক্ষমতায় কে আসবে-যাবে তা নিয়ে মাথা ঘামালে আমরা সহ্য করব না।”
জুন ২৬ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জাতীয় সংসদে বললেন, “আওয়ামী লীগ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের কারখানা।… আমি নিজেও কিছুদিন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যখন শেখ হাসিনার পাশে ছিলাম তখন আমি ছিলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা।”
আগস্ট ১৭ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাস বললেন, তাঁর দেশ চায় বাংলাদেশ গ্যাস রপ্তানি করে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ টমাসের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বললেন, বাংলাদেশের জন্য গ্যাস রপ্তানি করা কল্যাণকর হবে না। স্টিগলিৎজের বক্তব্যের বিরোধিতা করলেন হ্যারি কে টমাস।
নভেম্বর ১১ “নূর হোসেনকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়। একজন অশিক্ষিত লোক কীভাবে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হয়! “উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ” কবিতার কবি শামসুর রাহমানরা এখন চুপ কেন?”, জাতীয় পার্টিতে একদল সাংবাদিকের যোগদান অনুষ্ঠানে এরশাদ।
ডিসেম্বর ১৫ বিজয় দিবসের আলোচনাসভায় আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বললেন, “আওয়ামী লীগের সাথে কারো বিরোধ বাঁধলেই তাকে অমুক্তিযোদ্ধা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাথে নানা বিষয়ে বিরোধের কারণে তাজউদ্দীন আহমদ, এম এ জি ওসমানীর মতো নেতৃবৃন্দ অমুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন। সর্বশেষে হলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।” একই সভায় শাজাহান সিরাজ বললেন, “ইয়াহিয়া খানের সাথে বৈঠকে শেখ মুজিব দেশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেননি। তিনি ক্ষমতার ভাগাভাগির আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। একাত্তরের মার্চ মাসে রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণে মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।”
২০০৪ ফেব্রুয়ারি ২৭ অমর একুশে বইমেলায় হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা।
মার্চ ৬ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দুনিয়াজোড়া কথিত ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ প্রেক্ষিতে ‘সন্ত্রাস দমনের’ দোহাই দিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) নামের একটি ডেথ স্কোয়াড গঠন করা হল।
এপ্রিল ১ আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র ও গোলাবারুদ ঘটনা।
মে ২০ সিলেটে হযরত শাহ জালালের মাজারে বোমা হামলা। ৩ ব্যক্তি নিহত। আহতদের একজন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।
আগস্ট ২১ বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা। আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী নিহত। ৩০০রও বেশি আহত।
সেপ্টেম্বর ২ ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন আক্তারকে ধর্ষণ করার দায়ে ২ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
২৫ নভো থিয়েটারের উদ্বোধন।
* প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ভাসানী নভো থিয়েটার। ২০১০ সালে আওয়ামি লীগ সরকার নাম পাল্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটার রাখে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার আবার নাম পাল্টে শুধু নভো থিয়েটার করে।
২৯ ইয়াসমিন ধর্ষণের দায়ে আরেক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড।
নভেম্বর ২৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) শহিদ ডা. মিলন দিবসের আলোচনায় ডা. মিলনের মা সেলিনা আকতার বললেন, “সাক্ষ্য দিতে মিলনের কোন সহকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, সবাই বেঈমানি করেছে।”
২০০৫ জানুয়ারি ২৭ সিলেটের হবিগঞ্জে গ্রেনেড হামলায় নিহত হলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী (১৯৯৬-২০০১ সাল) শাহ এ এম এস কিবরিয়া।
মার্চ ১৬ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইস বললেন, “বাংলাদেশ বেশ সমস্যাসংকুল হয়ে উঠেছে এবং এ ব্যাপারে আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত) আরও কিছু করতে হবে।”
এপ্রিল ৭ ঢাকায় লাল গালিচা সংবর্ধনা পেলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও। দুদেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি ও স্মারক সই হল।
জুন ৩০ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) জানাল, তারা আওয়ামী লীগের সাথে জোট গঠন করবে না।
আগস্ট ১৭ বাংলাদেশে ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালাল জিহাদি সংগঠন জামাআতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত। সংগঠনটির প্রচারপত্রে দেশের সরকার ও বিরোধীদলের প্রতি সংবিধান বাদ দিয়ে ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করার আহবান জানান হল।
২৯ রাজধানীর মুন সিনেমা হলের মালিক মাকসুদুল হকের একটি রিট আবেদনের রায়ে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করলেন। মোশতাক, সায়েম, ও জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে ঘোষণা করলেন। তবে তাঁদের জনকল্যানমূলক কাজগুলোকে সমুন্নত রাখা হল।
ডিসেম্বর ৮ এক সংবাদ সম্মেলনে সিরাজ সিকদারের মেয়ে শিখা সিকদার ও ছেলে শুভ্র শিকদার বললেন, “সিরাজ সিকদারকে কোন ব্যক্তি হত্যা করেনি। শোষক-লুটেরা ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁকে হত্যা করেছে। […] সরকারের একটি অংশ তাঁকে হত্যা করেছে এবং অন্য অংশটি তাঁর রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছে।”
২০০৬ জানুয়ারি ২৩ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ। ৮ ব্যক্তির মৃত্যু। প্রতিবাদে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এমপিসহ ২০০ আহত।
ফেব্রুয়ারি ২৩ চট্টগ্রামের কেটিএস গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ৫৪ ব্যক্তির মৃত্যু।
মার্চ ১৬ শেখ হাসিনা বললেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে র্যাব বন্ধ হবে না, স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে।”
এপ্রিল ৬ কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংঘাতে ৪ জনের মৃত্যু, আহত শতাধিক।
১৬ কানসাটের আন্দোলনকারীদের কাছে নতিস্বীকার করল বিএনপি সরকার। সব দাবি মেনে নিয়ে চুক্তি সই করল। হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ।
আগস্ট ২৬ ঐতিহাসিক ফুলবাড়ি আন্দোলন, এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত কয়লাখানি প্রকল্পের বিরুদ্ধে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে দেখা দিল গণআন্দোলন। পুলিশ আর বিডিআরের গুলিতে শহিদ হলেন স্থানীয় তিন তরুণ আমিন, তরিকুল, ও সালেকীন। ১৪৪ ধারা জারি।
৩০ এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করাসহ ফুলবাড়ির জনগণের ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার ঘোষনা দিল বিএনপি সরকার।
অক্টোবর ১৩ শান্তিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীন ব্যাংক।
১৭ ড. ইউনূস বললেন, সরকার আর বিরোধীদল উভয়পক্ষও যদি চায়, তাহলেও তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হবেন না। তিনি তাঁর যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজন হলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন।
২৮ আওয়ামি লীগের সহিংস লগি বৈঠা আন্দোলনে মতিঝিল রণক্ষেত্রে পরিণত হল – কয়েক হাজার আহত হলেন – নিহতের সংখ্যা ১২। সারা দেশ অচল। বিচারপতি কে এম হাসান দেশ ও জাতির স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
ডিসেম্বর ৫ সুপ্রিম কোর্টে ভাঙচুরের অভিযোগে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর এবং ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সেডিশনের মামলা।
১/১১
২০০৭-০৮
২০০৭ জানুয়ারি ১১ জরুরি অবস্থা জারি। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সাথে কূটনীতিকদের বৈঠক। পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি।
১২ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ। জরুরি অবস্থার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করল চীন। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করল।
২১ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। স্বাগত জানাল আওয়ামী লীগ, প্রতিক্রিয়াহীন থাকল বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজের পদত্যাগ।
২৬ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া হল, সরকারকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়া হল।
৩১ নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ‘জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য সরকার’ বললেন।
ফেব্রুয়ারি ৪ ১৫ জন প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাংসদ আটক।
৫ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন এটিএম শামসুল হুদা।
১২ খেলাফত মজলিসের সাথে আওয়ামী লীগ যে ফতোয়া চুক্তি করেছিল, তা বাতিল করা হল।
১৭-১৮ ড. মুহাম্মদ ইউনূস নাগরিক শক্তি নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করলেন, বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরপর দুটি খোলা চিঠি লিখে তাঁদের এই দলে যোগদান করার আহবান জানালেন।
১৯ দুর্নীতি দমন কমিশন ৫০ জন শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ করল; যাদের মধ্যে ছিল রাজনীতিবিদ, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, ব্যবসায়ী, ও আমলাদের নাম।
মার্চ ৭ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেন তারেক রহমান। তাঁকে একটি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আরো ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়।
এপ্রিল ৯ তেজগাঁও থানায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করলেন ওয়েস্টমন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানির চেয়ারম্যান কাজী তাজুল ইসলাম ফারুক।
১৩ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে গ্রেপ্তার করা হল।
২৫ যুক্তরাষ্ট্র সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার আহবান জানাল।
মে ৫ বাংলাদেশের জনগণের কাছে একটা তৃতীয় চিঠি লিখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানালেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ফখরুদ্দীন আহমদের সাথে এক বৈঠক শেষে তিনি নাগরিক শক্তিকে বিলুপ্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২২ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দেয়া হল।
জুন ৯ বিবিসি সংলাপে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও মাহবুবুর রহমান বললেন, “প্রয়োজন হলে দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে সংস্কার করতে হবে।”
১০ দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখলেন, “দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে।”
২৫ আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার ১৫ দফা সংস্কার।
২৭ ড. কামাল হোসেন বললেন, “দেশটাকে কেউ দুই দলের কাছে ইজারা দেয়নি।”
জুলাই ১৬ শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান হল।
২২ আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার মত সংস্কারপন্থীদের পার্টি থেকে বের করে দেয়ার জন্য তাঁদের তালিকা তৈরি করলেন খালেদা জিয়া।
আগস্ট ১০ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা মইনুল হোসেন বললেন, তাঁদের একটা সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য আছে, আর সেটা হল ‘দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি’ ও ‘সৎ লোকের’ মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করাকে কেন্দ্র করে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে ছাত্রশিক্ষকদের দ্বন্দ্ব তৈরি হল। আগস্ট ছাত্র আন্দোলন, প্রতিবাদী ছাত্রনেতারা জেলজুলুমের শিকার। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ বন্ধ ঘোষিত।
৩১ বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, এবং পরিবারের ১১ সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হল।
সেপ্টেম্বর ২ দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আটক করা হল।
৩ খালেদা জিয়াকে বিশেষ কারাগারে প্রেরণ করা হল। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। দলের নতুন মহাসচিব হলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন।
১১ বাম দলগুলো গঠন করল গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।
নভেম্বর ১ বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন।
ডিসেম্বর ১২ প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে এম এ আজিজের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করল হাই কোর্ট।
শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনী মেজর (অব.) শরিফুল হক ডালিমের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করল ইন্টারপোল।
এনামুল করিম নির্ঝর, আহা!
২০০৭-০৮ কারা হেফাজতে থাকাকালে নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান; তাঁকে স্ট্রেচারে করে আদালতে হাজির করা হয়।
২০০৮ জানুয়ারি ৮ পদত্যাগ করলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চার উপদেষ্টা। এরা হলেন – মইনুল হোসেন, ড. মতিউর রহমান, তপন চৌধুরী, এবং গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জাতিসংঘের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিলেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আইরিন জোবায়দা খান।
৯ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নিয়োগ পেলেন পাঁচ নতুন উপদেষ্টা। এরা হলেন – এ এম এম শওকত আলী, এ এফ হাসান আরিফ, মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের, রাশেদা কে চৌধুরী, এবং হোসেন জিল্লুর রহমান।
১৬ চ্যানেল আইকে সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন উ আহমেদ বললেন, “আমি মনে করি, এরকম কোন পরিস্থিতি ঘটেনি যে, সেনাবাহিনী এসে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।”
২৬ জামায়াতে ইসলামী জানাল, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজনে দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তনে তাদের তেমন কোন আপত্তি নাই।
২৮ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় হাই কোর্টের তরফ থেকে ৭ জন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়া হল।
৩১ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ আনল মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
ফেব্রুয়ারি ৫ সমুদ্র অঞ্চলকে – ৮টি অগভীর ও ২০টি গভীর সমুদ্রে – ২৮টি ব্লকে ভাগ করা হল।
৬ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জরুরি আইনে দায়ের করা মামলাকে অবৈধ ঘোষণা করলেন হাই কোর্ট।
১৭ বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদারের – যিনি মান্না নামেই বেশি পরিচিত – মৃত্যু।
২২ সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদ ভারত সফর করলে ভারতের তরফ থেকে তাঁকে ছয়টি ঘোড়া উপহার দেয়া হয়।
২৬ খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা।
মার্চ ৩ শতাধিক ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক বিদেশে পালিয়ে গেলেন।
৮ ঘোষিত হল জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮।
১১ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভিআইপি মর্যাদা প্রদান করা হল।
১৪ জরুরি অবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইসলামপন্থীরা ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে আর চট্টগ্রামে আন্দরকিল্লায় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮-এর বিরুদ্ধে মিছিল করলেন।
২৭ নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮ পর্যালোচনা করার জন্য বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতিব মুফতি মুহাম্মদ নুরুদ্দীনকে সভাপতি করে সরকার একটি ২০-সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করল।
এপ্রিল ২ আদালতে সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী দাবি করলেন, রাজাকার হওয়ার কারণে তিনি গর্ব বোধ করেন।
১৫ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে গেলে জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দিল।
১৭ জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করলেন।
২৪ শেখ হাসিনার মামলার পরামর্শক আইনবিদ চেরি ব্লেয়ার বললেন, তিনি আশা করেন, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বার্মার সামরিক জান্তার পথে হাঁটবে না।
মে ২১ বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ. মরিয়ার্টি জানালেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশে পাকিস্তানের পরিস্থিতি দেখতে চায় না।
জুন ১১ চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি পেলেন শেখ হাসিনা।
জুলাই ৩ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ মামলা।
১৩ একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার শুরু হল।
আগস্ট ১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিল, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালিত হবে এবং এই উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকবে।
সেপ্টেম্বর ৩ স্বাস্থ্যগত কারণে জামিনে মুক্তি পেলেন তারেক রহমান।
১১ জামিনে মুক্তি পেলেন বেগম খালেদা জিয়া। সাংবাদিকদের বললেন, “আমার দুই ছেলে শেষ হয়ে যাচ্ছে।” চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা করলেন তারেক রহমান, শুরু হলো তাঁর নির্বাসন জীবন।
অক্টোবর ১০ লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল লিখলেন, “যে রাজনৈতিক দল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার অঙ্গীকার করবে না, সেই রাজনৈতিক দলের আর যা-ই থাকুক, এ দেশের মাটিতে থাকার, এ দেশের বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকার নেই।”
১১ পরিবর্তিত গঠনতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামী নামের আগে বাংলাদেশ শব্দটি যুক্ত করল, দলের নতুন নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
২০ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনল। নারীরা এখন থেকে দলের সদস্য হতে পারবেন। অমুসলিমরা দলের সহযোগী সদস্য হিসাবে থাকতে পারবেন।
নভেম্বর ১ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ঢাকা সফরকালে বললেন, “টেকসই গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনই এখন বাংলাদেশের সামনে সবচে বড় চ্যালেঞ্জ।”
৪ গঠনতন্ত্র বদলানোয় নিবন্ধন পেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮ নেতাসহ ৫০ জন যুদ্ধাপরাধীর নাম প্রকাশ করল সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম।
৬ যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন শেখ হাসিনা।
৭ দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বললেন, “বিগত দিনে দলে অনেকে অনেক কিছু করেছেন, ক্ষমা করলেও ভুলব না।”
১৮ বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর ড. কামাল হোসেন গঠন করলেন জাতীয় যুক্তফ্রন্ট।
২১ সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে হাত মেলালেন ও কথা বললেন বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।
৩০ আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সমঝোতা।
ডিসেম্বর ১৩ ৩৬ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করল বিএনপি।
১৭ আওয়ামী লীগ প্রকাশ করল দিন বদলের সনদ।
২৬ পল্টনের মহাসমাবেশে দ্রব্যমূল্য হ্রাস করা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন শেখ হাসিনা।
২৯ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।
৩০ তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জিতল আওয়ামী লীগ, পেল ২৬২টি আসন, দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।
হাসিনার ৫৬৯৮ দিন
২০০৮-২৪
২০০৮ ৩০ ডিসেম্বর তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জিতল আওয়ামী লীগ, পেল ২৬২টি আসন, দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা।
২০০৯ ফেব্রুয়ারি ৯ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফর করলেন। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যচুক্তি নবায়ন। বিনিয়োগ বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরিত হল।
১২ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক বললেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য দলটি ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবছে।
২৫-২৭ পিলখানা ম্যাসাকার।*
* ৩৩ ঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ পিলখানা। এই সময় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা খুন হন। বিদ্রোহীদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী বলেন এটা কৌশলগত ভুল।
মার্চ ৭ যুবলীগের এক সমাবেশে আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফফার চৌধুরী বললেন, “খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে দিতে হবে, তা না হলে ১৫ আগস্টের মতো ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
জুন ১৬ জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বললেন, “বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশকে একটা দীর্ঘমেয়াদী সামরিক শাসনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।”
জুলাই ১২ জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন না করার কারণে চিহ্নিত মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ জানাল সরকারের স্থায়ী কমিটি।
আগস্ট ৪ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবের ‘শাহাদতবার্ষিকী’ পালনের নির্দেশ। পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ চাইলেন সন্তু লারমা। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার স্টিফেন ইভান্স দাবি করলেন, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতারোহণে কূটনীতিকদের কোন ভূমিকা ছিল না।
সেপ্টেম্বর ২ বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ. মরিয়ার্টি বললেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের যে বিরোধিতা তাঁর দেশ করেছিল, সেটা দুঃখজনক।
নভেম্বর ৪ জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা বললেন, “বায়াত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।”
ডিসেম্বর ৩১ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা পিছিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টাইম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল। এতে গ্রিনিচ মিন টাইমের (জিএমটি) সাথে বাংলাদেশ সময়ের ফারাক রইল ৬ ঘন্টার।
in absentia বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তারেক রহমান।
২০১০ জানুয়ারি ১ মানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানাল, ২০০৯ সালে ১৫৪ জন মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে।
১১ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক, দুই দেশের মধ্যে তিন চুক্তি ও দুই সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হল।
১৭ এক সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভারতের কাছে ‘দেশ বিক্রি’ করার অভিযোগ তুললেন।
১৯ চট্টগ্রামের হাটহাজারি বড় মাদ্রাসার – আনুষ্ঠানিক নাম আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম – পরিচালক শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করল কওমি মাদ্রাসাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।
ফেব্রুয়ারি ২ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন খারিজ করে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আবু বকর ছিদ্দিকের মৃত্যু। ২০১৭ সালে আবু বকর ছিদ্দিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের ১০ সাবেক নেতাকর্মীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
১৫ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পাল্টে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হল।
২৪ বিডিআর হেফাজতে এখন পর্যন্ত ৬৯ জওয়ানের মৃত্যু।
মার্চ ২৫ যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু। গঠন করা হল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১), আইনজীবী প্যানেল, ও অপরাধ তদন্ত সংস্থা। আইসিটি-১য়ের সভাপতি হলেন বিচারপতি মো: নিজামুল হক।
মে ১৮ ২০০৬ সালে শেভরন একটি আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে মামলা করে, তাতে আন্তর্জাতিক আদালত বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিল।
জুলাই ২৮ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে হাই কোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আগস্ট ২৬ সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করলেন হাই কোর্ট।
সেপ্টেম্বর ৬ যুবদল নেতা সাব্বির আহমেদ গামা হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জন আসামিকে ক্ষমা করে দিলেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।
অক্টোবর ১৩ বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক মাসের মধ্যে তাঁর সেনানিবাসের বাড়ি ছেড়ে দেয়ার হুকুম দিলেন হাই কোর্ট।
নভেম্বর ১৩ সেনানিবাসের বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়ার স্থানান্তর নিয়ে পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ দেখা দিল। ২১ জনকে আটক করা হল। এর প্রতিবাদে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডাকল বিএনপি।
১৬ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রেপ্তার।
ডিসেম্বর ১৩ ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসান বললেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে যে ধরণের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা এখনো অনেকটাই অনুপস্থিত।”
২০১১ জানুয়ারি ৭ ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে ফেলানি খাতুন নামে এক বাংলাদেশি কিশোরীর মৃত্যু। তাঁর লাশ ৫ ঘন্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে।
২০ শেয়ারবাজারে ধবস নামল।
২১ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শেয়ারবাজারে ধবস নামার জন্য তাঁর দায় স্বীকার করলেন।
মার্চ ২ গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরিয়ে দেয়া হল।
এপ্রিল ২৮ বিডিআরের নাম বদলে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হল।
মে ১০ ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে অবৈধ বলে বাতিল করে দিয়ে রায় দিলেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাঁদের প্রতিবেদনে দাবি করল ২০০৪ সালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব) গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬২২ জনকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের ২০০ জন খুন হয়েছে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে। এইচআরডব্লিউর এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বললেন, “প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যা সত্য নয়।”
জুন ২৭ পিলখানা ম্যাসাকারের দায়ে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড।
৩০ জাতীয় সংসদে গৃহীত হল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী।*
* এই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়। বায়াত্তরের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি – ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ও সমাজতন্ত্র – পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু ২০১০ সালে আদালত পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করলেও বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্মকে বহাল রাখা হয়।
জুলাই ১১ মীরসরাইয়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ ব্যক্তির মৃত্যু, যাঁদের মধ্যে ৩৮ জন ছাত্র।
১৯ লক্ষীপুরের বিএনপি নেতা ও আইনজীবী নুরুল ইসলামকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামি এইচ এম বিপ্লবকে ক্ষমা করে দিলেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।
২০ নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা ইসলাম রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে বললেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আইভি রহমানের ঘাতকদের কি ক্ষমা করা যায়?”
অক্টোবর ১৬ শেয়ার বাজারের ক্ষুদে বিনিয়োগকারীরা আমরণ অনশনে গেলে বিরোধী দলীয় রাজনীতিকরা তাঁদের সাথে সংহতি জানান।
নভেম্বর ২০ আইসিটি-১ কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু হল।
ডিসেম্বর ৩ যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুর ঋণ প্রদান করা বন্ধ করে দিল বিশ্বব্যাংক।
২০১২-১৬ এই সময়কালে বার্মার জেনোসাইড থেকে বাঁচতে ৮৭,০০০ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন।
২০১২ জানুয়ারি ১৮ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মাসুদ রাজ্জাক এক সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, কয়েকজন সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তার শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটা সামরিক ক্যুদেতা পরিকল্পনা নস্যাৎ করা দেয়া হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ১১ অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা অজানা কারণে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনীকে তাঁদের ঢাকাস্থ ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে হত্যা করল।
মার্চ ২২ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (আইসিটি-২) গঠন করা হল।
এপ্রিল ৫ ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলামের মৃতদেহ পাওয়া গেল। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। তাঁর মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মে ১৫ পুলিশের লাঠিপেটায় নিহত হলেন চর ভাটিয়ানি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান। তিনি চাকরি সরকারিকরণ আন্দোলনের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হল।
জুন ৬ বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।
সেপ্টেম্বর ২৯ কুরআন অবমাননার গুজব ছড়িয়ে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা, ১২টি বৌদ্ধমন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
নভেম্বর ২৪ আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডে ১১৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু। একই দিনে চট্টগ্রামের বহদ্দরহাটে ফ্লাইওভার ধ্বসে ১৭ ব্যক্তি নিহত হন।
ডিসেম্বর ৯ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল।
১১ স্কাইপ সংলাপের ঘটনায় সমালোচনার মুখে আইসিটি-১ থেকে পদত্যাগ করলেন বিচারপতি মো নিজামুল হক।
২০১৩ জানুয়ারি ২ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা আবদুল্লাহ তাহের গ্রেপ্তার।
১৪ শেখ হাসিনার মস্কো সফর, রাশিয়ার কাছ থেকে ৮০০০ কোটি টাকার অস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ।
২৯ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বললেন, “জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় ঐক্যমত প্রয়োজন।”
ফেব্রুয়ারির শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, “ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দেয়া ও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আমাদের আদর্শিক মিল নেই।”
৫ আইসিটি কর্তৃক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে ও ফাঁসির দাবিতে শাহবাগ আন্দোলনের সূচনা।
৮ শাহবাগে পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগ সমর্থক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা মিলে মঞ্চের দখল নিয়ে নিলেন।
৯ দৈনিক আমার দেশয়ের সংবাদ শিরোনামে বলা হল, শাহবাগ থেকে ফ্যাসিবাদের পদধবনি শোনা যাচ্ছে।
মার্চ ৩-৫ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফর করেন।
৬ নারায়ণগঞ্জে খুন হন কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী।*
* ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী অ্যাকটিভিস্ট। ত্বকী হত্যা মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ এমপি শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান তাৎক্ষণিকভাবে আত্মগোপনে যান। পরবর্তীতে প্রকাশ্যেই দাপটের সাথে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
এপ্রিল ৬ হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ। ১৩ দফা দাবি উত্থাপন। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নিলে ৫ মে ঢাকা ঘেরাও করার ঘোষণা।
১২ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলে (বাসদ) ভাঙন ঘটে। খালেকুজ্জামানের বাসদ আর মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর বাসদ আলাদা হয়ে যায়।
২৪ রানা প্লাজা ম্যাসাকার, সাভারের রানা প্লাজা ভেঙে পড়ায় ২৫০০য়েরও বেশি মানুষ আহত হলেন, কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন ১১৭৫ জন শ্রমিক।
মে ৫, দিবাগত রাত শাপলা চত্বর ম্যাসাকার।
১৫ বাংলাদেশের পোষাকশিল্প খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সাক্ষরিত হল অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (সংক্ষেপে দ্য অ্যাকর্ড)।
আগস্ট ১ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিলেন হাই কোর্ট।
সেপ্টেম্বর ২৪ সুন্দরবনের রামপালে ভারতীয় স্বার্থে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে তেল, গ্যাস, ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঢাকা-সুন্দরবন লংমার্চ।
অক্টোবর আইসিটি আইনে ৫৭ ধারা যুক্ত করা হল।
নভেম্বর ২৫ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হল: জানুয়ারি ৫, ২০১৪।
ডিসেম্বর ২৯ বেগম খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুবোঝাই ট্রাক রেখে পুলিশ তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখলো।
অর্থ পাচার মামলায় খালাস পেলেন তারেক রহমান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক।
২০১৪ জানুয়ারি ৫ বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পূর্বঘোষিত তারিখে অনুষ্ঠিত হল। বিএনপি ভোট বর্জন করে। ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নানান মহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। নির্বাচনের পরে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। একদিকে এরশাদ শেখ হাসিনার বিশেষ দূত নিযুক্ত হন। অন্যদিকে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদে গ্রহণ করে ‘বিরোধী দলের’ ভূমিকা।
৩০ দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ও উলফার মিলিটারি কমাণ্ডার পরেশ বড়ুয়াসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত।
এপ্রিলের শেষদিকে নারায়ণগঞ্জে র্যাবের চাঞ্চল্যকর ৭ খুন, শিকারদের একজন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। খুন করে ইট বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। তিন দিন পরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভেসে ওঠে।
জুন ১৪ মিরপুরের পল্লবীর কালশীর কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পে আগুন। ১০ বিহারি নিহত। এঁদের মধ্যে ৭ জন একই পরিবারের সদস্য।
জুলাই ৮ জাতিসংঘের পার্মানেন্ট কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন (পিসিএ) বঙ্গোপসাগরে ভারতের সাথে থাকা বাংলাদেশের এক দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিল।
আগস্ট ২৭ গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও মেঘনা ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকী।
সেপ্টেম্বর ১৭ মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। জাতীয় সংসদে গৃহীত হল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী।*
* এই সংশোধনী বায়াত্তরের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৬ পুনঃস্থাপন করার মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়।
ডিসেম্বর ৯ মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার জ্বালানি তেলসহ একটি ট্যাংকার ডুবে গেল সুন্দরবনের শেলা নদীতে। প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটা ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচে বড় প্রতিবেশ বিপর্যয়।
২৭ ঢাকার শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন পানির পাম্পের পাইপে পড়ে গেল শিশু জিহাদ। ২৩ ঘন্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার।
২০১৫ জানুয়ারি ২৪ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।
ফেব্রুয়ারি ২৬ অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার সময় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানলেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হল, আনসারুল্লা বাংলা টিম (এবিটি) এই হত্যার দায় স্বীকার করে।
মার্চ ৬ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টম কর্মকর্তারা সন ইয়াং নাম নামক এক উত্তর কোরীয় কূটনীতিককে হাতে নাতে ধরে ফেলে। তিনি ১৪ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের সোনা চোরাচালানের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পরে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছেড়ে দেয়।
এপ্রিল ১১ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাংবাদিক মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
জুন ৬-৭ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম বাংলাদেশ সফর। ১৯টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হল। ২০০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি সই হল।
২২ এ সময় বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফির ওপর আরোপিত ভ্যাট বাতিলের দাবিতে No VAT on Education আন্দোলন চলছে, আন্দোলনে শ্লোগান ওঠে – ভ্যাট দিব না, গুলি কর।
জুলাই ৮ সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যাণ্ডের ১৩-বছর-বয়সী সবজিবিক্রেতা শিশু সামিউল আলম ওরফে রাজনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হল। ‘রিকশা ভ্যান চুরি করার’ অভিযোগ এনে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিল এলাকাবাসী।
আগস্ট ২৫-২৬ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির সীমান্ত সংঘাত।
সেপ্টেম্বর ১৪ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আরোপিত ১০% ভ্যাট প্রত্যাহার।
অক্টোবর ২৪ আশুরা উপলক্ষ্যে শিয়া মুসলমানরা ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলা, ১ কিশোর নিহত ও শতাধিক আহত।
নভেম্বর ২২ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হল।
ডিসেম্বর ৪ দিনাজপুরের কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে শতবর্ষ পুরনো এক মেলায় বোমা হামলা।
২০১৬ জানুয়ারি ২৯ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল গণসংহতি আন্দোলন।
ফেব্রুয়ারি ৪ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হল।
মার্চ ২০ কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগি জাহান তনু ধর্ষণ-হত্যার শিকার। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ।
এপ্রিল ২-৪ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাংলাদেশের পিডিবি ও এস আলম আর চীনের শানতুংয়ের কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন। পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করলে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদীরা ৪ এপ্রিল এক জনসমাবেশের ডাক দেয়। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি, প্রতিবাদীরা তা ভঙ্গ করলে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে অন্তত ৫ ব্যক্তিকে খুন করে।
মে ৫ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করল হাই কোর্ট, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করল রাষ্ট্রপক্ষ।
জুলাই ১-২ হোলি আর্টিজান হামলা। হামলায় নিহত ২২ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে তিনজন ইতালীয়, দুই জন জাপানি, ও এক জন ভারতীয়। নিহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন। হামলা চলাকালে ৫ হামলাকারীও নিহত হন। এ সময় হামলায় নিহত রেস্তোরাঁর বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের সহকারী জাকির হোসেন শাওন পুলিশের হাতে আটক হন ও পুলিশী হেফাজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শাওনের মা মাসুদা বেগম দাবি করেছেন, তাঁর ছেলের মৃত্যুর জন্য পুলিশী নির্যাতন দায়ী।*
* আইএস এই হামলার দায় স্বীকার করে, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জেএমবিকে দায়ী করেন।
২১ অর্থ পাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলো হাইকোর্ট।
অক্টোবর ৩০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শতাধিক হিন্দু বাড়ি ও অন্ততপক্ষে ১০টি মন্দিরে হামলা, লুটপাট, ও ভাংচুর। এই ঘটনায় ৮ মামলায় ১০৬ জন গ্রেপ্তার। ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে রসরাজ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নভেম্বর ৬ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জের সান্তাল পল্লীতে চিনিকল মালিকদের স্বার্থে পুলিশ অগ্নিসংযোগ করে। উদ্দেশ্য সান্তালদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা। পুলিশের গুলিতে খুন হন শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু।
ডিসেম্বর ১৮ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপ শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
২০১৭ জানুয়ারি-নভেম্বর মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) হিসেব অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে নভেম্বরে ১০টি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩৫ জন নিহত হন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের দাবি অনুযায়ী নভেম্বর পর্যন্ত ৮০ জন গুম হন।
ফেব্রুয়ারি ২৩ দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার এক নিবন্ধে হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া জানালেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে এই বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি হিসেবেই ১৩৯১ জন বাংলাদেশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময়কালে আহত হয়েছেন ১২০৬ জন বাংলাদেশি। ১৯৭৩ সাল একমাত্র বছর যে বছরে কোন বাংলাদেশি সীমান্তে বিএসএফের হাতে খুন হন নি।
এপ্রিল ৯ শেখ হাসিনার ভারত সফর। ২২টি নয়া চুক্তি ও মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) সই। এর একটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক।
জুলাই ৩ আগের বছর ষোড়শ সংবিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে হাই কোর্টের রায় সমুন্নত রাখলো সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ।
২০১৭ আগস্ট-জানুয়ারি ২০১৮ জেনোসাইডের হাত থেকে বাঁচতে ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা বার্মা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
অক্টোবর ১৩ অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা।
নভেম্বর ১০ অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুর গিয়ে বাংলাদেশের হাইকমিশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮১ দিন আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এসকে সিনহা।
১৯ বার্মার রাজধানী নেপিদো সফর করলেন চীনা প্রতিনিধিরা। আরাকান রাজ্যের সংকট নিরসনে ৩ ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব পেশ করলেন, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই যাতে সম্মতি ছিল। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আরাকান রাজ্যে প্রত্যাবাসন যার অন্তর্ভুক্ত।
৩০ পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু।
ডিসেম্বর ২ ঢাকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে সাক্ষাৎ করে বার্মা ও বাংলাদেশে তাঁর ৬ দিনের সফর শেষ করলেন পোপ ফ্রান্সিস।
লন্ডন থেকে ভিডিওর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিএনপির সমাবেশে ভাষণ দিলেন তারেক রহমান।
২০১৮ ফেব্রুয়ারি ৮ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিল আদালত। তাঁকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডস্থ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী করা হয়।
এপ্রিল ১১ কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিলেন শেখ হাসিনা।
২০১৮ মে-ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশের মাদক যুদ্ধ। এ সময়কালে আত্মসমর্পণ করেন ১০০ মাদক কারবারী। এই যুদ্ধে ৮০০ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।
মে ৫ অচিহ্নিত বন্দুকধারীর আততায়ী হামলায় রাঙামাটি জেলায় ৫ জন খুন হন, এঁদের একজন ইউপিডিএফ নেতা তপন জ্যোতি চাকমা।
মে ২৭ টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন, বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রকাশ করা এক অডিও ক্লিপ থেকে জানা যায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল।
জুলাই ২৯ জাবালে নূর পরিবহনের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭) চাপা পড়ে নিহত হলেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব। দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরু। ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও সরকার-সমর্থকদের হামলা, সাংবাদিকদের হেনস্তা, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম গ্রেপ্তার।
সেপ্টেম্বর ২২ নবগঠিত জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার আল্টিমেটাম দিল। দাবিগুলো হল: ১) নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, ২) নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া, এবং ৩) নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া। বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই দাবিতে সম্মতি জানান এবং জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের কামাল হোসেনের সাথে মঞ্চে শেয়ার করেন।
অক্টোবর ১০ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার দায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক উপ-শিক্ষামন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দিলো ঢাকার একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত। একই দায়ে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলো। বিএনপি এই রায় প্রত্যাখ্যান করে।
২৯ খালেদা জিয়াকে পুনরায় দোষী সাব্যস্ত করা হলো। তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করলো বিএনপি।
ডিসেম্বর ৭ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
৩০ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাতের বেলা ব্যালটবক্স ভর্তি করা নজিরবিহীন অনিয়ম, প্রহসন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক নিন্দাবাদ। ধানের শীষে ভোট দেয়ায় ভোটের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের এক নারী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার।
২০১৮-২৩ একাধিক দণ্ডাদেশ ও বাকস্বাধীনতার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নির্বাসন থেকে দল চালাচ্ছেন তারেক রহমান।
২০১৯ জানুয়ারি ৩ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এল আওয়ামি লীগ সরকার।
ফেব্রুয়ারি ১৬ বাংলাদেশের মাদক যুদ্ধ সমাপ্ত। এ সময়কালে আত্মসমর্পণ করেন ১০০ মাদক কারবারী। এই যুদ্ধে ৮০০ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।
২০ পুরান ঢাকার চকবাজারে গ্যাস সিলিণ্ডার বিস্ফোরণের কারণে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ৬৭ জনের মৃত্যু।
২৮ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র হলেন আতিকুল ইসলাম। ভাসানটেক বস্তিতে আগুন লেগে দুই শিশুর মৃত্যু।
মার্চ ১১ ২৮ বছর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু) অনুষ্ঠিত। ভিপি হলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর। তবে জিএস-সহ অন্যান্য পদে ছাত্রলীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হন।
১৯ রাঙামাটি জেলা স্থানীয় নির্বাচন চলাকালে ৭ ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হল। যাঁদের মধ্যে ৪ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কর্মকর্তা। সেনা মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
২৮ বনানীর এফ আর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু।
এপ্রিল ১ অসুস্থতার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া শুরু হল।
৯ ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যা করা হল।
২৪ রানা প্লাজা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পূর্তির দিনে আত্মহত্যা করলেন রানা প্লাজার উদ্ধারকর্মী ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাদ হাসান হিমু।
জুলাই-আগস্ট ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব।
জুলাই ১ স্বীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ১৫ বছর বিনা বেতনে শিক্ষকতা শেষে অবসরে গেলেন ঝিনাইদহের পিডি আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক সুকুমার সাহা।
সেপ্টেম্বর ২৪ ক্যাসিনো অভিযান।
২৯ বাংলাদেশ থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিল ভারত।
অক্টোবর ৭ ফেসবুকে ভারতের সমালোচনা করে পোস্ট দেয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বৈদ্যুতিক ও বৈদ্যুতিন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পিটিয়ে মেরে ফেলল।
২০-২২ ভোলা দাঙ্গা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীরা রাস্তায় নামলে পুলিশ গুলি করে ৪ ব্যক্তিকে হত্যা করে।
২৪ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ এস. এম সিরাজ উদ দৌলা-সহ নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত।
নভেম্বর ১০ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ১৭ ব্যক্তির মৃত্যু।
২৫ নারী শ্রমিক কণ্ঠ নামে একটি সংগঠন জানাল, বিদেশ থেকে এর আগের এক দশকে ২৬৭৫২ জন নারী প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে ফিরেছে।
ডিসেম্বর ১২-১৩ কেরানিগঞ্জে কারখানায় আগুন লেগে ১২ ব্যক্তির মৃত্যু।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ হিউম্যান রাইটসের (এফআইডিএইচ) এক প্রতিবেদন অনুসারে, এক দশকে ৫০৯ জন বাংলাদেশি জোরপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫৯ জনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
২০২০-২১ মহামারী।
২০২০ জানুয়ারি ৩০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যগত জরুরী অবস্থা বলে ঘোষণা করে। সারা দুনিয়ার মত বাংলাদেশেও লকডাউন দেয়া হয়। মেহনতিদের জন্য সমন্বিত বিশেষ ব্যবস্থার না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ে, এই কারণে সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ফেব্রুয়ারি ১১ সেইন্ট মার্টিন্স দ্বীপের কাছে মালয়েশিয়াগামী এক ট্রলার ডুবিতে ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু।
মার্চ ৩ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা পৌরসভার গাজীনগর এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু। এদের মধ্যে দুইজন পিতা-পুত্র (মো. সাহাব মিয়া ও আহম্মদ আলী)। স্বামীসন্তানের মৃত্যুসংবাদ শুনে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলেন রঞ্জু বেগম।
৯ বাংলাদেশে মুজিববর্ষ (২০২০-২১) উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসার কথা থাকলেও করোনা সংকটের কারণে সফর স্থগিত করা হল।
১০ ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি বশির আহমেদের করা এক রিটের প্রেক্ষিতে জয় বাংলাকে জাতীয় শ্লোগান হিসাবে গ্রহণ করার জন্য রায় দিলেন হাই কোর্ট।
মে ৫ করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকারি গাফেলতির সমালোচনা করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দেয়ার দায়ে লেখক মুশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর সহ ১১ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হল।
১৬-২১ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের হানায় প্রায় ১১৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি ও ১৬ জনের প্রাণহানি।
২৭ ঢাকার এক হাসপাতালে আগুন লেগে করোনাভাইরাসের জন্য চিকিৎসাহীন থাকা ৫ রোগীর মৃত্যু।
জুন ২৫ অব্যাহত লোকসানের অজুহাতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে ২৫০০০ শ্রমিককে অবসরে পাঠাল সরকার।
জুলাই ৩১ রাত ৯টার দিকে টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে খুন হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজে কক্সবাজারে ছিলেন সিনহা। মাটিতে লুটিয়ে পড়া সিনহার দেহে লাথি মারতে মারতে কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দিয়ে আরো দুইটা গুলি করেন টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার।
আগস্ট ৪ লেবাননের বৈরুত বিস্ফোরণে নিহত হলেন ৩ বাংলাদেশি।
সেপ্টেম্বর ৪ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বাইতুস সালাম জামে মসজিদে এশার নামাজ চলাকালীন সময়ে মসজিদের পাশের তিতাস গ্যাসের পাইপলাইন থেকে নিঃসরিত হওয়া গ্যাসের ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ২৫ ব্যক্তির মৃত্যু।
অক্টোবর ৪ মাসখানেক আগে নোয়াখালীতে এক গৃহবধূর ওপর চালানো নৃশংস নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
৩১ লালমনিরহাটে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে শহীদুন নবী জুয়েল নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ আগুন দিয়ে পোড়ানো হল।
ডিসেম্বর ৪ তুমুল আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসান চরে স্থানান্তরিত করা হল।
২০২১ ফেব্রুয়ারি ১ আলজাজিরায় প্রচারিত হল বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের পরিবারের দুর্নীতির সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন।*
* প্রামাণ্যচিত্রের নামটি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধীর জরুরি অবস্থার সময়কার স্মৃতি নিয়ে জনার্দন ঠাকুরের লেখা ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত বই অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন থেকে নেয়া।
২৫ আগের বছর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমিরচাষী ও লেখক মুশতাক আহমেদের কারাহেফাজতে মৃত্যু। ১৩ জন রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। দেশে-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠল।
মার্চ ৩ ছয় মাসের জন্য জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর।
৪ সাংবাদিকদের কাছে কারাহেফাজতে তাঁর ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন কিশোর, জানালেন সহবন্দী মুশতাকও কারাগারে নির্যাতিত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। দেশজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি ওঠে।
১৬-২৯ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমন। দেশ জুড়ে দেখা দিল ব্যাপক প্রতিবাদ। মোদিবিরোধী আন্দোলনে অন্তত ১৭ জন খুন হন।
এপ্রিল ১৭ চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের বাঁশখালী বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতাকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে ৫ জন প্রতিবাদীকে খুন করে পুলিশ।
জুন ২৭ মগবাজারে এক গ্যাস বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত।
জুলাই ৮ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি মোহাম্মদ আবুল হাসেমের মালিকানাধীন হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় আগুন লাগায় তাতে ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যু।
১০ হাসেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় অগ্নিকাণ্ড-মৃত্যুর ঘটনায় কারখানার মালিক আবুল হাসেম ও তাঁর ছেলেসহ ৮ জন গ্রেপ্তার।
সেপ্টেম্বর ৩১ রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মী মহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ড।
অক্টোবর ১৩-১৭ দুর্গা পূজার সময় বাংলাদেশি হিন্দুদের ওপর হামলা।*
* আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক হিসেবে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি হিন্দুদের উপর ৩,৬৭৯টি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে৷ এসব হামলায় ১১ জন হিন্দু খুন হয়েছেন। এ সময়কালে ১,৫৫৯টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, আক্রান্ত হয়েছে ৪৪২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এবং প্রতিমা-মণ্ডপ-মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১,৬৭৮টি।
নভেম্বর ২৪ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা গেলেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান।
২৯ রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মাঈনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়কে খুন করা হল। বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা করলেন দুর্জয়ের মা রাশিদা বেগম। প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ জনতা ৯টি বাসে অগ্নিসংযোগ করে।
ডিসেম্বর ১০ মানবাধিকার লঙ্ঘণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ ও বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হুমকির মুখে ফেলার দায়ে র্যাবের সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র।*
* এরা হচ্ছেন র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, র্যাব-৭’এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদ, র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. জাহাঙ্গীর আলম, ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার লতিফ খান। র্যাবের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০০টির বেশি গুম, ২০১৮ সাল থেকে ৬০০ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের কারও নামে কিংবা কোন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের জিম্মায় কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ হবে।
১৬ বিজয় দিবসে দেশবাসীকে ‘বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলার’ শপথ পাঠ করালেন টানা দুইবার – ২০১৪ সাল আর ২০১৮ সাল – বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া শেখ হাসিনা।
২০২২ জানুয়ারি ১৪ বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষর দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণের প্রতিবাদে তার অপসারণ চেয়ে আন্দোলন শুরু করলেন শাবিপ্রবির ছাত্রীরা।
১৫ শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের একাংশ আন্দোলনে হামলা করে।
১৬ বিকাল সাড়ে ৫টা পুলিশ ব্যাপকভাবে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করে। হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। অনেককে হাসপাতালে নেয়া লাগে।
১৭ উপাচার্য ফরিদ উদ্দীনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন আরো জোরালোভাবে চলতে থাকে।
১৯ ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন যা সারাদেশে আলোড়ন তৈরী করে।
২৪ আরো ৫ জন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন। এদিকে দুই থেকে তিনশত জন অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। অর্থ সহায়তার অভিযোগে একাধিক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
২৬ অনশনের অষ্টম দিনের মাথায় অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশনকারীরা অনশন ভঙ্গ করেন।
ফেব্রুয়ারি ১১ শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জুন ৪-৭ সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোর বিস্ফোরণে ৪৭ জনের মৃত্যু।
আগস্ট ৯ চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে এই দিন থেকে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতিতে গেলেন শ্রমিকরা।
১৩ অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গেলেন শ্রমিকরা।
২৭ ১৭০ টাকা পর্যন্ত মজুরি বাড়ানো হলে কাজে যোগদান করেন তারা।
সেপ্টেম্বর ২২-৩০ ইডেন কলেজ কেলেঙ্কারি।
২০২৩ জানুয়ারি ১৪ যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স ডোনাল্ড লু তাঁর দক্ষিণ এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সফর করলেন। ২০২১ সালে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির পর প্রথমবারের মত এত উচ্চপদস্থ কোন মার্কিন কর্মকর্তার বাংলাদেশে আগমন। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে গণতন্ত্র, নির্বাচন, শ্রম অধিকার লঙ্ঘণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘণ ইস্যু নিয়ে আলাপ হল।
ফেব্রুয়ারি ১৩ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
এপ্রিল ৪ বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ড, ২৭.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি।
জুলাই ১৬ চাকরির স্থায়িত্বের দাবিতে ৪ ঘন্টার জন্য অবরোধে গেলেন রাজধানী ঢাকার রেল শ্রমিকরা।
আগস্ট সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩য়ের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা।
সেপ্টেম্বর ২৯ ৯ দফার ভিত্তিতে ১৫টি ছাত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত হল ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য।*
* ছাত্র সংগঠনগুলো হল: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জেএসডি), গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি), নাগরিক ছাত্র ঐক্য, জাগপা ছাত্রলীগ, ছাত্র ফোরাম (গণফোরাম মন্টু), ভাসানী ছাত্র পরিষদ, জাতীয় ছাত্রসমাজ (কাজী জাফর), জাতীয় ছাত্রসমাজ (পার্থ), জাগপা ছাত্রলীগ (লুৎফর), ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি এবং রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলন।
অক্টোবর একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে বাংলাদেশের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রধারীদের (এনআইডি) ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গেল। বাংলাদেশের এনআইডি সার্ভারে ১২ কোটি ভোটারের তথ্য আছে, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ স্মার্ট কার্ডধারী। এটি দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম তথ্য ফাঁসের ঘটনা।
৪ আত্মপ্রকাশ করল নতুন ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি।
নভেম্বর ৭ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি করে মাসে ১২,৫০০ টাকা করা হল। উল্লেখ্য, তারা মাসে ২৩,০০০ টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।
২০২৪ জানুয়ারি ১ নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শ্রম আইন ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হল।*
* এক আপীলের ধারাবাহিকতায় ৭ আগস্ট রায় বাতিল করে দিয়ে তাঁকে খালাস দেয়া হয়।
৫ ঢাকার গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে এক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫ ব্যক্তির মৃত্যু।
৭ বিরোধী দলগুলো-কর্তৃক বয়কটকৃত নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় এল আওয়ামি লীগ সরকার। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আগুন লেগে বিপুল ক্ষতিসাধন, বিস্থাপিত হলেন ৪ হাজার রোহিঙ্গা।
ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডে এক বহুতল ভবনে আগুন লেগে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু।
৫ বার্মার গৃহযুদ্ধের স্পিলওভার ইফেক্টে আন্তঃসীমান্ত শেলিংয়ের দরুণ বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নে খুন হলেন বাংলাদেশি গৃহবধূ হোসনেআরা খাতুন ও জনৈক অচিহ্নিত রোহিঙ্গা শ্রমিক।
মার্চ ১৫ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহয়ের ক্রুদের বন্দী করে জিম্মি করে রাখল সোমালি জলদস্যুরা।
এপ্রিল ১২ ৩২ দিন আটক থাকার পর সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেলেন এমভি আবদুল্লাহয়ের ক্রুরা।
মে ১৩-২২ ১৩ তারিখে উধাও হয়ে যান আওয়ামি লীগ দলীয় এমপি মো. আনোয়ারুল আজীম আনার। ২২ তারিখে কলকাতায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ততার দায়ে ৩ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার।
২৬ ঘূর্ণিঝড় রেমালে সারা দেশে ৭ জন নিহত।
জুন ৬ আগের দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৩০% কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া এক রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু।
জুলাই ২-৬ দেশ জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতে ৮ ব্যক্তির মৃত্যু।
৫ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত।
৯ মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের তৈরির ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করল পরিবেশ অধিদপ্তর।
১৬-৩৬ ২১ দিনের গণঅভ্যুত্থান।* ছাত্র-শ্রমিক-জনতা ও বিভিন্ন বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে। অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েন। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সারা দুনিয়া থেকে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগতভাবে অদৃশ্য করে দেয়া হল। নৃশংস রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ। বিপুল সংখ্যক মানুষ জখম হলেন, অসংখ্য শহিদ। শহিদদের চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।**
* সংবাদপত্রের চোখে এই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জানতে, দেখুন, ওয়াসিফ (২০২৫)।
** ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি গেজেট প্রকাশ করে, যাতে ৮৩৪ জন শহিদের তথ্য দেয়া হয়।
জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থানকারীদের হাতে গণভবনের পতন ও শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের ভেতর দিয়ে ৫৬৯৮ দিনের দীর্ঘ জুলুমশাহির আনুষ্ঠানিক অবসান। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীগুলোর তরফে জানানো হল, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার হুকুম জারি করলেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
আগস্ট ৬ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট চুপ্পু। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ।
অন্তর্বর্তী আমল
২০২৪-২৬
আগস্ট ৮ অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন ইউনূস। ১৬ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেয়া হল: সালেহ উদ্দিন আহমেদ, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, এ এফ হাসান আরিফ, মোঃ তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শারমীন এস মুর্শিদ, ফারুক ই আজম, ড. ম সাখাওয়াত হোসেন, সুপ্রদীপ চাকমা, ডাঃ বিধান রঞ্জয় রায়, এ এফ এম খালিদ হোসেন, ফরিদা আখতার, নূরজাহান বেগম, নাহিদ ইসলাম, ও আসিফ মাহমুদ। উপদেষ্টাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আওয়ামি লীগ বাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব, তিন বাহিনী প্রধান, ও বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা হাজির ছিলেন।
১০ প্রতিবাদীদের দেয়া আল্টিমেটামের মুখে ইস্তফা দিলেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
১৩ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরোর এককালীন প্রধান ও জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক শফিকুল আলম।
১৪ শেখ হাসিনা সহ ৯ জন সাবেক সরকারি কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেনোসাইডের অভিযোগ দায়ের করা হল। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজিএস) বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ পেলেন গ্রামীন হেলথকেয়ার ট্রাস্ট ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ।
১৬ ৪ জন অতিরিক্ত উপদেষ্টা নিয়োগ পেলেন: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, মোহাম্মদ ফজলুল কবীর খান, লে. জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন আলী ইমাম মজুমদার।
২২ প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন আবদুল হাফিজ।
২৫ বাংলাদেশের সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘটনায় ছাত্র ও আনসার সদস্যদের সংঘর্ষ চলাকালে ৪০ জন আহত।
২৮ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক মাহফুজ আলম।
সেপ্টেম্বর ১ অন্তবর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূসের অনুরোধে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস ঘোষণা দিল, জুলাই ম্যাসাকার চলাকালে বাংলাদেশের সরকারি বাহিনীগুলো কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘণের অভিযোগ যাচাই করে দেখতে একটা তথ্যানুসন্ধান দল গঠন করবে।
৩ দেশজুড়ে বন্যায় অন্তত ৭১ জন মানুষের মৃত্যু।
৪ প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পেলেন লুৎফে সিদ্দিকী।
১৭ শাপলা চত্বর ম্যাসাকার ও জুলাই ম্যাসাকারে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির গ্রেপ্তার।
১৮ মোবাইল চুরির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ও খুন হলেন তোফাজ্জল হোসেন নামের জনৈক মানসিক প্রতিবন্ধী। ৬ জন গ্রেপ্তার। আসামীদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের সাবেক বা সক্রিয় সদস্য।
অক্টোবর ১০ সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে বাংলাদেশের মাছবাহী ট্রলারগুলো লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করল বার্মার নৌবাহিনী। খুন হলেন ১ বাংলাদেশি জেলে।
১৭ জুলাই ম্যাসাকার চলাকালে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২৩ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামক ছাত্র সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
৩১ বিজয় নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় অফিসে অগ্নিসংযোগ।
নভেম্বর ১০ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন মাহফুজ আলম, শেখ বশিরউদ্দীন, ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন খোদা বকশ চৌধুরী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন সায়েদুর রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন এম আমিনুল ইসলাম।
১৯ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. খলিলুর রহমান।
২১ হাই কোর্টের এক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ব্যাটারিচালিত রিকশাওয়ালা ও অন্যদের প্রতিবাদ। প্রতিবাদীরা এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ান ও রাজধানীর বহু জায়গায় (মহাখালী, খিলগাঁও, আগারগাঁও, গাবতলি, মিরপুর, ডেমরা প্রভৃতি) সড়ক অবরোধ করেন। সেইসাথে সেনাসম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন এ, এম, এম নাসির উদ্দীন।
২৪ বান্দরবানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) তিন সদস্য নিহত।
২৬ চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার কেন্দ্র করে দেখা দেয়া সহিংসতায় খুন হলেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।
ডিসেম্বর ১ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা থেকে তারেক রহমানকে খালাস দিলো হাইকোর্ট।
১০ অর্থ পাচার মামলায় তারেক রহমানকে দেয়া দণ্ডাদেশে স্থগিতাদেশ দিলো সুপ্রীম কোর্ট।
২০ ইন্তেকাল করলেন উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ। তাঁর মন্ত্রণালয় দুটি প্রধান উপদেষ্টাকে দেয়া হল। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
২৬ সচিবালয় ভবনে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হলেন অগ্নিনির্বাপক কর্মী নয়ন।
২০২৫ জানুয়ারি ১৫ অর্ফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে খালাস দিলো সুপ্রীম কোর্ট।
১৬ ২০০৪ সালের এক মামলায় ১৭ বছরেরও বেশি সময় জেল খাটার পর মুক্তি পেলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
২০ আলী ইমাম মজুমদারকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হল।
ফেব্রুয়ারি ৫ ধানমণ্ডি ৩২ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হল।
৬ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন মনির হায়দার।
৮-৯ অপারেশন ডেভিল হান্ট, সারা দেশে ১৩০০+ গ্রেপ্তার।
১২ জুলাই ম্যাসাকার নিয়ে ওএনএইচসিআরের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হল, যাতে দাবি করা হল শেখ হাসিনা প্রশাসনের দ্বারা মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ মিলেছে। জুলাই ম্যাসাকার চলাকালে ১৪০০ মানুষ খুন হয়েছেন। ১১ হাজারেরও বেশি হয়েছেন আটক ও গ্রেপ্তার।1
১৭ প্রেসিডেন্ট চুপ্পু রুলস অফ বিজনেস পরিবর্তন করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক ঘটনাবলিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনলেন।
১৮ সিনিয়র সচিবের সমান পদমর্যাদা পেলেন শফিকুল আলম।
২৫ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ইস্তফা দিলেন নাহিদ ইসলাম।
২৬ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন মাহফুজ আলম। গঠিত হল বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)।
২৮ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের একাংশের উদ্যোগে গঠিত হল নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মার্চ ৫ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন চৌধুরী রফিকুল আবরার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন শেখ মইনউদ্দিন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
১০ ইস্তফা দিলেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী এম আমিনুল ইসলাম। প্রধান উপদেষ্টার অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
১৮ নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার হলেন দি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা আতাউল্লা আবু আম্মার জুনুনি।
এপ্রিল ৭ গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন বেজা ও বিডার নির্বাহী সভাপতি আশিক চৌধুরী।
১২ মার্চ ফর গাজা। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচে বড় ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদের ঘটনা।
১৩ দুর্নীতিতে সম্পৃক্ততার দায়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল বাংলাদেশ।
১৫ বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন শেখ বশিরউদ্দীন।
১৭ দেড় দশক পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান কূটনৈতিক সংলাপ। ১৯৭১ সালের জেনোসাইডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মাফ চাওয়া এবং অবিভক্ত পাকিস্তানের (১৯৪৭-৭১) একাত্তর-পূর্ব সম্পদে বাংলাদেশের হিস্যা ৪.৫২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা নিয়ে আলোচনা হল। নানান খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ দুই রাষ্ট্রের।
২০ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোহাম্মদ সূফিউর রহমান। ছুরিকাঘাতে নিহত হলেন প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্মী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ। ৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের যাঁদের ২ জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, প্রধান অভিযুক্তসহ ৬ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার।
২৩ বিশ্বব্যাংকের সাথে বাংলাদেশ সরকার মোট ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের দুটি চুক্তি সই করল। এই চুক্তির আওতায়, চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল মেরিন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। বাকি ২০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিপন্ন জনগোষ্ঠীগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদার প্রকল্প বাস্তবায়নে।
২৬ ভারতের গুজরাটে ৫০০রও বেশি বাংলাদেশিকে “অবৈধ অভিবাসী” হওয়ার দায়ে আটক করা হল।
২৮ তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মে ৬ চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে ফিরলেন খালেদা জিয়া। একইসাথে দেশে ফিরলেন ডা. জোবাইদা রহমান।
৮ থাইল্যান্ডে পালালেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।
১০ আইসিটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল অন্তর্বর্তী সরকার। একইসাথে আইসিটি আইনের সংশোধনী প্রস্তাবও অনুমোদন দিল; যাতে ট্রাইব্যুনাল কোন রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে সাজা দিতে পারে। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্র পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
২৭ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে জামায়াতে ইসলামী নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো, তা বাতিল করলো সুপ্রীম কোর্ট।
২৮ অবৈধ সম্পদ মামলায় তারেক রহমানকে দায়মুক্তি দিলো হাইকোর্ট।
জুন ১ আইসিটিতে শেখ হাসিনার in absentia বিচার শুরু।
১৫ সংস্কার নিয়ে বুকলেট প্রকাশ করল অন্তর্বর্তী সরকার।
২৪ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পেল জামায়াতে ইসলামী।
জুলাই ২ আদালত অবমাননার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে in absentia ৬ মাসের কারাদণ্ড দিল আইসিটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে প্রতি বছর ৩৬ জুলাইয়ে (৫ আগস্ট) ১ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি ঘোষণা করা হল।
১৪ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শেখ মঈন উদ্দিনকে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হল।
১৬ গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার অনুসারীদের সাথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সংঘর্ষকালে ৪ নিহত, সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে গোপালগঞ্জ ছাড়েন এনসিপি নেতারা।
২১ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি, পাইলট সহ ৩২ জনের মৃত্যু।
২৪ ধানমন্ডিতে গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক।
৩১ সিলেটে ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটে ১ শ্রমিকের মৃত্যু।
আগস্ট ৫ ড. ইউনূস কর্তৃক ঘোষিত হল জুলাই ঘোষণাপত্র।
৭ গাজীপুরে খুন হলেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজয়ের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন।
১২ ৫ বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করল আরাকান আর্মি।
১৫ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শান্তিনগরে এক সেনা অভিযানে খুন হলেন মগ লিবারেশন পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় সশস্ত্র শাখার প্রধান কংচাইন্য মারমা।
১৭ ধানমন্ডিতে গ্রেপ্তার হলেন সাবেক আওয়ামি লীগ দলীয় এমপি শফিকুল ইসলাম অপু। গুলশানে গ্রেপ্তার হলেন মাই টিভির মোঃ নাছির উদ্দিন।
২৪ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে ২ দিন ব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল।
৩০ গণঅধিকার অধিকারের নেতা নুরুল হক নূরের ওপর সেনাপুলিশি হামলার জের ধরে জাতীয় পার্টির সদরদপ্তরে আগুন ধরিয়ে দিলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
সেপ্টেম্বর ৫ রাজবাড়ীতে নুরান পাগলা নামে পরিচিত নুরুল হক মোল্লার কবর অবমাননা ও মৃতদেহ কবর থেকে তুলে এনে পোড়ানোর সাথে জড়িতদের হামলায় ১ ব্যক্তি নিহত। গ্রেনেড মামলায় তারেক রহমানকে খালাস দেয়া সুপ্রীম কোর্টের রায় বহাল রাখা হলো।
৯ ডাকসুতে শিবির-সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের বিজয়। ভিপি হলেন সাদিক কায়েম, জিএস হলেন এস এম ফরহাদ, এবং এজিএস হলেন মহিউদ্দিন খান।
১৮ জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন-সহ একাধিক দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ ৭টি রাজনৈতিক দলের র্যালী।
অক্টোবর ৬ ৭ অক্টোবর ও ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করল অন্তর্বর্তী সরকার।
১৪ ঢাকার মিরপুরে একটি গার্মেন্টস কারখানা ও একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লেগে অন্তত ১৬ ব্যক্তির মৃত্যু।
১৬ রাকসুতে শিবির-সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট ২৩টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ২০টিতে জিতল। ভিপি হলেন মুস্তাকুর রহমান জাহিদ ও এজিএস এসএম সালমান সাব্বির। তবে জিএস হন আধিপত্য বিরোধী ঐক্য প্যানেল সালাহউদ্দিন আম্মার।
১৭ জুলাই সনদ সই।
১৮ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চট্টগ্রাম বন্দরে একটি লাইটারিং জাহাজডুবি।
২৩ বাগছাসকে জাতীয় ছাত্রশক্তি হিসেবে পুনর্গঠন করা হল।
২৭ ফার্মগেটে ঢাকা মেট্রো রেলের দুটি বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হলে ১ ব্যক্তির মৃত্যু।
নভেম্বর ৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঢাকায় ইউনূসের বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ করল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
১৩ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন উপলক্ষ্যে আওয়ামি লীগ লকডাউন কর্মসূচি দিল। সারা দেশে দলটির নেতাকর্মীরা জ্বালাও পোড়াও করলেও তাঁদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন দেখা যায়নি। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করে গেজেট প্রকাশিত হল।
১৭ ২০২৪ সালের জুলাই ম্যাসাকার চলাকালে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করল। রায়ে হাসিনা এবং খানকে in absentia মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, রাজসাক্ষী হওয়ায় আল-মামুন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড লাভ করেন। জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বিচারকে স্বাগত জানালেও বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মান ও ন্যায্যতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সমালোচনা করে।
১৯ ২২ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এএফসি এশীয় কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়লাভ করে।
২১ ঢাকায় একটি ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি নিহত ও ৬০০রও বেশি আহত।
২৫ কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ১৫০০ বাড়ি ধ্বংস হল।
২৭ পূর্বাচলে অবৈধভাবে নিজের ও নিজ পরিবারের জন্য জমি দখলের অভিযোগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে in absentia দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং ২১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
ডিসেম্বর ১ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা ও ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে সরকারি জমি প্রকল্পে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগে in absentia দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
৮ অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ জুনিয়র পুরুষদের হকি বিশ্বকাপ জিতল ।
১২ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ওসমান হাদীর মাথায় গুলি করল মোটরসাইকেলে আসা গুপ্তঘাতকেরা।
১৮ সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন হাদী।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হল। হত্যা করার পর, তাঁর দেহ একটি গাছের সাথে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দিপু পোশাক শ্রমিক ছিলেন এবং তাঁর বোন চম্পা দাসের ভাষ্য মতে, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের জের ধরে কোম্পানির লোক মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দিপুকে হত্যা করেছে।
১৯ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিস, এবং পরে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন ও উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। একই দিনে সিলেট সীমান্তের কোম্পানিগঞ্জে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে আশিকুর ও মোশাইদ নামের ২ বাংলাদেশি নাগরিক খুন হন। লক্ষীপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের ঘরে বাইরে থেকে তালা আটকে আগুন ধরিয়ে দিলে তাঁর ৭ বছর বয়সী শিশুকন্যা আয়েশা আক্তার বিনতি ঘুমের মধ্যে পুড়ে মারা যায়।
২৪ মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা গলির সামনে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিঃক্ষিপ্ত বোমার আঘাতে সিয়াম নামের এক দোকান কর্মচারী যুবকের মৃত্যু।
ছয় দিন রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর লক্ষীপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বড় মেয়ে সালমা আক্তারের মৃত্যু।
২৫ ৬,৩১৪ দিন পর দেশে ফিরলেন তারেক রহমান।
৩০ মৃত্যুবরণ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
২০২৬ জানুয়ারি ৪ ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেয়। প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
১২ বার্মার রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির (এএ) সাথে সংঘর্ষ চলাকালে কিছু আরসা সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫৩ জন আরসা সদস্যকে আটক করে।
২০ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প–১৬তে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র পুড়ে যায়। ২,০০০য়ের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী গৃহহীন হয়ে পড়েন।
ফেব্রুয়ারি ২ পূর্বাচলে অবৈধভাবে সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে একটি মামলার রায়ে গণঅভ্যুত্থানে উৎখাতকৃত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিক এবং তাঁদের আরও দুই আত্মীয়কে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল।
৬ রাজশাহী বিভাগে নিপা ভাইরাসের একটি মারাত্মক ঘটনা নিশ্চিত করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিস কর্তৃক প্রকাশিত হল Reforms of the Interim Governmentয়ের সংশোধিত ই-বুক সংস্করণ।
৯ সই হল যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি।
১২-১৬ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৬ সালের বাংলাদেশি সাংবিধানিক গণভোটে জুলাই সনদ অনুমোদনের পক্ষে ৬০.২৬% হ্যাঁ ভোট পড়ল।
১৩ পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচরের একটি শুকনো মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্যাম্প থেকে ৬ জেলেকে অপহরণ করলো জলদস্যুরা।
১৬ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ শেষ হলো।
তারেক আমল
২০২৬-চলমান
ফেব্রুয়ারি ১৭ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তারেক রহমান।
২৩ চট্টগ্রাম জেলার হালিশহর থানার এক বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণে ৭ ব্যক্তি নিহত ও দুইজন আহত। বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) গোলাগুলির ঘটনায় হ্লামংনু মার্মা নামের এক ব্যক্তি নিহত।
২৬ টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশের জন্য সরকারকে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করার নির্দেশ দিলো ঢাকার একটি আদালত।
ফেব্রুয়ারির শেষদিক-চলমান 2026 Bangladesh measles outbreak – Wikipedia।
মার্চ ১ জয়পুরহাটে এক ধর্ষণ প্রচেষ্টার সময় যৌন নির্যাতনকারীর পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে ফেললেন জনৈক মহিলা।
২ ২০২৪ সালে মুন্সিগঞ্জের রেখা রাণী রায় হত্যা মামলার পলাতক আসামি মীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করলেন পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা।
৪ নওগাঁর মহাদেবপুরে আব্দুল হামিদ ওরফে ধলা (৬৪) নামের এক বৃদ্ধ আসামী না হওয়া সত্ত্বেও হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের টানাহেঁচড়া ও লাথি মারার পর ওই বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে অভিযোগ উঠলো।
৭ কুমিল্লার একটি মন্দিরে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া হাতবোমা বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ ৩ জন আহত।
৯ ২০২৬ সালে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি ঘাটতির মুখে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিলো বাংলাদেশ সরকার। চালু করলো জ্বালানি রেশনিং।
১২ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও বিবাহের অতিথিবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ। বরসহ একই পরিবারের ১১ জনসহ ১৪ জন নিহত ও অনেকে আহত হলেন।
১৮ ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী তোলার সময় একটি লঞ্চের পেছন থেকে আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দিলে এতে ২ ব্যক্তি নিহত হন। এক গর্ভবতী নারী আহত। ৩ জন নিখোঁজ।
২২ কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পাদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষ। ১২ জন নিহত। কমপক্ষে ১৫ জন আহত।
২৫ ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মানদীতে পড়ে গেলো। কমপক্ষে ২৬ জন নিহত। ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
২৬ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়ায় একটি বাসের ধাক্কায় গাড়িতে থাকা একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ ব্যক্তি নিহত ও একজন আহত।
২৭ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার ধোলাটেঙরে ট্রেনের ধাক্কায় এক শিশুসহ ৫ জন নিহত।
এপ্রিল ৪ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫ জন নিহত।
৫ স্বাস্থ্য বিষয়ক নতুন তথ্যউপাত্ত থেকে দেখা গেলো, বিগত ছয় সপ্তাহে হামে কমপক্ষে ১৩০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি এমএমআর টিকা কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ।
৯ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়াগামী অভিবাসীবাহী একটি ট্রলার আন্দামান সাগরে ডুবে গেলো। ২৫০ জন যাত্রী নিখোঁজ। ৯ জনকে উদ্ধার করলো বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম.টি. মেঘনা প্রাইড।
১০ সন্ধ্যা ৬টা বাগেরহাটের মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকার মৎস্যজীবী মিরাজ শেখ (৩০) আল আমিনের চায়ের দোকানে চা খাওয়ার সময় কোস্টগার্ডের হারবাড়িয়া স্টেশন থেকে আসা নৌকায় দুজন সাদাপোশাকধারী ব্যক্তি তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে জোর করে ধরে নিয়ে যান। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়, মারধরের পর তাঁকে জেটিতে নিয়ে একটি নৌকায় তোলা হয়, কালো কাপড়/কম্বল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, পরে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে হাতকড়া পরিয়ে মোংলার দিকে নেওয়া হয়। স্ত্রী মুক্তা খাতুন ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই দৃশ্য দেখেন।
১১ মিরাজ শেখের মোংলার দিগরাজ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে যায়। প্রথমে অস্বীকার করা হয়। স্ত্রী মুক্তা খাতুনের ভাষ্য, “পরে আমি পা ধরে কান্নাকাটি করার পর উপাশীন বা উশাশীন নামে একজন যিনি বেইজের গেইটে ছিলেন তিনি তখন কাউকে ফোন দেন। মোবাইলে কথা শেষে তিনি আমাকে বলেন, আপনার স্বামীকে নিয়ে অপারেশনে যাওয়া হয়েছে। আপনি বিকালে আসেন, তখন দেখতে পারবেন। আমি ঐ সময় গেইটে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি তখন তাদের বলতে শুনেছি, তারা বলাবলি করছিলো, মিরাজকে খাবার খেতে দাও, ওরে নিয়ে অপারেশনে যাওয়া হবে।” সেদিন বিকেলে পরিবার আবার গেলে মিরাজকে ধরে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।
১২ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানের সময় আকুব্বর মোল্লা (৩৭) নামে মাদক মামলার এক আসামির মৃত্যু। নিহতের স্ত্রীর দাবি, “ঘরে কিছু না পেয়ে তারা প্লাস্টিকের পাইপ, লাঠি দিয়ে আমার স্বামীকে বাড়য়ে (আঘাত) মেরে ফেলে দিয়ে গেছে।” তবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে অধিদপ্তর।
২১-২২ মিরাজ শেখের মোটরসাইকেল যে দোকানে রাখা ছিলো, সেখান থেকে কোস্টগার্ড পরিচয়ে একজন এসে এটি নিয়ে যান; পরদিন ফেরত দেওয়া হয়।
২৩ চার দফা থানায় যাওয়ার পর অবশেষে জিডি নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ কোস্টগার্ডের নাম বাদ দিয়ে জিডিতে লিখে দেয় যে মিরাজ “নিজ বসতবাড়ির নিচে নিজের অজান্তে হারিয়ে গেছেন”, মূল অভিযোগের সঙ্গে যার কোনো মিল নেই। মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অবশ্য দ্য ডিসেন্টকে বলেন, জিডিতে “অপহরণ” বা “গুম” শব্দ লেখা যায় না বলেই ভাষা এমন হয়েছে, জোর করে লেখানো হয়নি।
মে ৮ মিরাজ শেখের সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
১৪ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠান মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা খাতুন।
১৬-১৭ মিরাজ শেখের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান চালায়। পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেয়। দাবি জানায় নিরপেক্ষ তদন্তের।
১৮ সাতক্ষীরার সুন্দরবনে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নামে এক জেলে নিহত। নিহত ব্যক্তির সাথে থাকা অন্য জেলেদের দাবি, বন বিভাগের স্মার্ট প্যাট্রল টিমের সদস্যদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন গাজী। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কয়েক শ জেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিস ও পরে সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসে হামলা চালান। এ সময় চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করা হয়। আধা ঘন্টা পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় বন বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ অজ্ঞাতনামা ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে নিহত জেলের পরিবার। অন্যদিকে বনরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও একটি মামলা করা হয়।
১৯ ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হলে সারা দেশে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লো।
২৫ টাঙ্গাইল জেলায় ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত।
জুন ২ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
৯ মিরাজ শেখের সন্ধান দাবিতে পরিবার ও গ্রামবাসীর মানববন্ধন। অভিযোগ, কোস্টগার্ড মিরাজের স্ত্রী ও বোনকে মারধর করে।
১১ উত্তেজনার জেরে স্থানীয়দের একাংশ কোস্টগার্ডের হারবাড়িয়া স্টেশনে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কোস্টগার্ডের দাবি, হামলার পেছনে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের হাত ছিল।
১২ আগের দিনের হামলার ঘটনায় কোস্টগার্ডের করা মামলায় ৪৪ জনের নামসহ প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয় — যার মধ্যে ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামি যথাক্রমে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুন, বোন লিজা ইসলাম ও মা তাসলিমা বেগম। মামলায় প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়। এই তিনজনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুন ১২-৯ জুলাই ২৭ দিন কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেলেন মিরাজ শেখের মা, স্ত্রী ও বোন।
জুন ২১ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ডিবি পুলিশের সদস্যদের পিটুনিতে অসুস্থ হয়ে জনৈক ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছে তাঁর পরিবার। ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রান্ত, আগেরদিন শনিবার তাঁকে আটক করেছিলো ডিবি। এ সময় তাঁকে তাঁর মায়ের সামনেই পেটানো হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ।
২২ মিরাজ শেখকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয় নি, তা নিশ্চিত করতে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদনকারী হয়ে রিট করেন তাঁর বাবা মো. মোস্তফা শেখ।
২৩ ছাত্রলীগ কর্মী প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুন ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনে মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
২৫ লক্ষ্মীপুর জেলায় নিজ বাড়িতে এক মা ও তাঁর তিন মেয়ে খুন হলেন। সন্দেহভাজন খুনী ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার। মজুমদারকে একই দিনে এক উত্তেজিত মব হত্যা করে।
সুন্দরবনের কথিত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের অভিযানে শওকত সরদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত।
চীন সফর করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনা প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও অন্যান্য এলাকায় সহযোগিতা বিষয়ক ১৩টি এমওইউ সাক্ষরিত হলো।
২৬ তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্টের (টিআরসিএমআরপি) প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলো চীন। বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বললেন, “আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার নিশানা কোন তৃতীয় পক্ষ নয় এবং এই সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।”
জুলাই ১২ স্বরাষ্ট্রসচিব, কোস্টগার্ড ডিজি, আইজিপি, র্যাব ডিজি, বাগেরহাট ডিসি ও এসপিসহ ৯ বিবাদীকে আদেশ পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করতে রুলসহ আদেশ জারি করলেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
১৩ দেশব্যাপী ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট কয়েক দিনের বন্যায় অন্তত ৫১ জন নিহত।
১৫ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উৎখাতকৃত সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। বুধবার (জুলাই ১৫,২০২৬) বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জানায়, দেশের ভেতর থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশ থেকে আরও ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করার সময় সংস্থাটির প্রধান ইখতিয়ার মোহাম্মদ মামুন জানান, হাসিনা ও তাঁর সরকারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৯ প্রতিবেদন প্রকাশ করে মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাটিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রথম গুমের ঘটনা বলে অভিহিত করে এবং সরকারের গুম-প্রতিরোধী অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
২৪ প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের কার্যালয় খালি হলে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।
সরবরাহ শৃঙ্খলে কথিত জবরদস্তিমূলক শ্রমের উপস্থিতির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। আরও ৫৯টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে মার্কিন সরকার।
২৯ মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করলো আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বাব এল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি সামুদ্রিক সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিলো সৌদি আরব। ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে গঠিত এই জোটের অন্য ১৩টি সাক্ষরকারী দেশ হলো: পাকিস্তান, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্দান, মিসর, তুরস্ক, ইয়েমেন, জিবুতি, সোমালিয়া, সুদান ও কমোরোস। উল্লেখ্য যে, একই ধরনের নিরাপত্তা লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আর ওমান এতে যোগ দেয় নি।
৩০ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৭-বছর-বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কড়ইতলী পাটওয়ারী বাড়ির বাইতুল হামদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মিজানুর রহমানকে (৫৫) ২৬ জুলাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ জুলাই ভোরে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুসারে, গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের পরিসংখ্যানে ঘটনাটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করেছে এবং Death by Physical Torture (after arrest) ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভূক্ত করেছে।
আগস্ট ২ সকাল ৮টা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু। যার ফলে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে হাম-সংক্রান্ত মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৪৪য়ে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেসের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ৭৪৮। আর পরীক্ষাগারে নিশ্চিতকৃত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬। স্ট্রেইটস টাইমসের মতে, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৯টি পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। জরিপকৃত পরিবারগুলোর ৩৫ শতাংশকে অষুধের জন্য আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছে। আর ২২ শতাংশের প্রয়োজন হয়েছে খাদ্য সহায়তা।
৪ মিরাজের নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “একজন ব্যক্তি যে কারণেই নিখোঁজ হন না কেন, তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার নিশ্চয়ই সে দায়িত্ব পালন করবে।” এর আগে এ প্রসঙ্গে তিনি তদন্তের আগে ঘটনাটিকে সরাসরি ‘গুম’ হিসেবে অভিহিত না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
৫ July Mass Uprising Memorial Museum উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৭ প্রথম বাংলাদেশী ও মুসলিম নারী হিসেবে ১৮৫টি দেশ ভ্রমণ করে রেকর্ড সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশী অভিযাত্রী নাজমুন নাহার। গত আগস্ট ৭, ২০২৬ তারিখে ভুটান সফরকালে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। ২০০০ সালে শুরু হওয়া তাঁর ২৬ বছরের এই যাত্রায় তিনি বিশ্বজুড়ে ১,২৯৪টিরও বেশি স্থানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেছেন।
১০ রবিবার (আগস্ট ৯, ২০২৬) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক নিহত হন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস বিভাগকে অবহিত করে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় নওগাঁ জেলার এবং বাকিরা উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় নাটোর ও রাজশাহী জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
১৭ বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করলো, ৪২ জন অভিবাসী বহনকারী গ্রিসগামী একটি নৌকা পর্যাপ্ত খাবার ও পানি ছাড়া ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১১ দিন ধরে ভেসে থাকার পর ৯ বাংলাদেশি ও সুদানের এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
“জনগণের সরকারের ১৮০ দিন” শীর্ষক ই বুক প্রকাশ | নোটিশ | প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করলো বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
১৮ কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ ব্যক্তির মৃত্যু। এঁদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশের নাগরিক। এঁরা হলেন: কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত (৩), দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০), সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ী এলাকার আহমেদ বাবু (৩০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান।
২০ ২০২৬ সালের বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংসদীয় ভোটে দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এলডিপি প্রার্থী অলি আহমদকে ২৫৫-৮৮ ভোটে পরাজিত করেন।
২২ রাত ৮টা ৩০ রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া গ্রামের একটি তিনতলা ভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের ৩ সদস্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৮)।
২৩ বেলা ১১টা সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের গুদাম ভেঙে ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে গেলেন একদল কৃষক। এর আগে কয়েকবার ঘুরেও গুদামে গিয়ে সার না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটিকে “মব তৈরি করা” বলে অভিহিত করেন।
রাত ৮টা এই সময়ের মধ্যে উক্ত কৃষকদের কাছ থেকে ১০০ বস্তা সার “উদ্ধার” করা হয়। ইউএনও অমৃত দেবনাথ প্রথম আলোকে জানান, “পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সহায়তায়” এই উদ্ধারকর্ম চলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি বস্তাগুলো “উদ্ধারের” চেষ্টা চলছে।
২৪ সোমবার (আগস্ট ২৪, ২০২৬) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নীতি ও গবেষণা উপকমিটি ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ও ই-বুক প্রকাশ করে।
বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে গ্যাস সংকটে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, কাচ, সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। অর্থনীতির ৩১টি সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টিতে উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মাথাপিছু ঋণসহ ১৯টি সূচকে অবনতি বা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার (আগস্ট ২৪, ২০২৬) রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস : একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
ঢাকার সাভারে সুরেশ্বর পীরের অনুসারী কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আগামী ২৬-২৭ আগস্ট আয়োজিতব্য ওরস শরীফ বন্ধের দাবিতে আগেরদিন রবিবার (আগস্ট ২৩, ২০২৬) সাভারের ইউএনও ও সাভার মডেল থানায় একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপিতে তৌহিদি জনতার পক্ষে ১০ ব্যক্তি ওরস বন্ধের দাবি জানিয়ে সই করেন। সাক্ষরকারীদের মধ্যে ৩ জন হেফাজতে ইসলামের নেতা, দুজন বিএনপির নেতা, একজন যুবদলের নেতা, একজন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতা, একজন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা, একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং একজন পীর।
২৫ বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী আমলের কারখানা বন্ধ ও শ্রমিকদের কাজ হারানো বিষয়ক তথ্য ভুলভাবে ব্যবহার করায় দুঃখ প্রকাশ করলো সিপিডি। এক বিবৃতিতে গবেষণা সংস্থাটি জানালো, ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদের মূল উৎস যাচাই না করেই ব্যবহার করায় এই ভুল ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, তাদের গবেষণা দল ভবিষ্যতে এহেন তথ্যগত বিভ্রান্তি এড়াতে তথ্যের মূল উৎস যাচাইসহ গবেষণা প্রক্রিয়ায় অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করবে।
সেপ্টেম্বর ৯-১০ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ফরহাদ হোসেন নামের এক যুবককে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ। পরিবারের দাবি ফরহাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বেকার মুক্তি আন্দোলন, মাদকবিরোধী আন্দোলন, বাল্যবিবাহবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন।
১৪ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত ও ৬ ব্যক্তি নিহত।
সেপ্টেম্বর ১৫ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে মঙ্গলবার (সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬) আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ট্রাইব্যুনাল-২। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। উল্লেখ্য, এই ৭ জনই বর্তমানে পলাতক আছেন।
১৯ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার (ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে) জঙ্গলে পাওয়া গেলো কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) মৃতদেহ। আগের দিন শুক্রবার (সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬) থেকে নিখোঁজ ছিলেন অপ্রতীম।
২০ আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সীমানার ভেতরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী একটি লরিতে এক বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত।
অক্টোবর ২ ময়মনসিংহে একটি বাস একটি অটোরিকশাকে পিষে ফেললে এতে অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত হন।
তথ্যসূত্র
ক. বিশ্বকোষ
বাংলাপিডিয়া
বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ
https://bn.banglapedia.org
Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org
খ. বইপত্র
?। ১৯৯৯। ধর্ষণবিরোধী ছাত্রী আন্দোলন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘৯৮তে সংঘটিত আন্দোলন নিয়ে প্রকাশনার সংকলন। অশুচি।
আহমদ, মহিউদ্দিন। ২০১৯। এক এগারো বাংলাদেশ ২০০৭-০৮। প্রথম সংস্করণ। প্রথমা।
— ২০২০। বেলা-অবেলা: বাংলাদেশ ১৯৭২-১৯৭৫। দ্বিতীয় মুদ্রণ। বাতিঘর।
— ২০২১। বিএনপি: সময়-অসময়। পঞ্চম সংস্করণ অষ্টম মুদ্রণ। প্রথমা।
— ২০২১খ। জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি। দশম সংস্করণ ষোড়শ মুদ্রণ। প্রথমা।
— ২০২১গ। লাল সন্ত্রাস: সিরাজ সিকদার ও সর্বহারা রাজনীতি। প্রথম সংস্করণ। বাতিঘর।
আহাদ, অলি। ২০১২। জাতীয় রাজনীতি: ১৯৪৫ থেকে ৭৫। পঞ্চম সংস্করণ। বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ।
আহমেদ, নেসার (সম্পাদিত)। ২০০৯। ক্রসফায়ার: রাষ্ট্রের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। ভূমিকা ফরহাদ মজহার কর্তৃক লিখিত। ঐতিহ্য চিন্তা যৌথ প্রকাশনা।
উল্লাহ, মাহফুজ। ২০১৬। প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন।
ওয়াসিফ, ফারুক। ২০০৯। জরুরি অবস্থার আমলনামা: বাংলাদেশের সিভিকো-মিলিটারি-কর্পোরেট গণতন্ত্র। শুদ্ধস্বর।
ওয়াসিফ, ফারুক (সম্পাদিত)। ২০২৫। তারিখে জুলাই: সংবাদপত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। পিআইবি।
কাদের, মির্জা তারেকুল। ১৯৯৩। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প। বাংলা একাডেমি।
খান, আব্বাস আলী। ২০১১। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস (সংক্ষিপ্ত)। পঞ্চম মুদ্রণ। শতাব্দী প্রকাশন।
টাবী, আলী আকবর। ২০১৮। দৈনিক সংগ্রাম: মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা। তৃতীয় সংস্করণ। এবং মানুষ।
ত্রিপুরা, প্রশান্ত। ২০১৫। বহুজাতির বাংলাদেশ: স্বরূপ অন্বেষণ ও অস্বীকৃতির ইতিহাস। সংবেদ।
পুচকভ, ভি। ১৯৮৩। সংগ্রামের পঁয়ত্রিশ বছর: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রাচ্য প্রকাশনী।
পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন। ২০০১। ‘জীবন আমাদের নয়’ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি ও মানবাধিকার। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন।
পারভেজ, আলতাফ। ২০১৫। মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনর্পাঠ। ঐতিহ্য।
প্লেটো, মুজতবা হাকিম। সাল দেয়া নেই। বধ্যভূমির গদ্য। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভার্চুয়াল আয়োজন।
মহিউদ্দীন, হেলাল। ২০০৭। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব। সেন্টার ফর এপ্ল্যায়েড সোস্যাল স্টাডিজ।
মুসা, আহমেদ। ১৯৮৮। বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সূচনাপর্ব: ইতিহাসের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ। লেখক কর্তৃক প্রকাশিত।
রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর। ২০০৮। বাংলাদেশের তারিখ। তৃতীয় সংস্করণ। মাওলা ব্রাদার্স।
— ২০১৩। বাংলাদেশের তারিখ [দ্বিতীয় খণ্ড]। দ্বিতীয় মুদ্রণ। মাওলা ব্রাদার্স।
— ২০১৯। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপঞ্জি ১৯৭১-২০১১। পঞ্চম মুদ্রণ। প্রথমা।
রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।
রায়, সুপ্রকাশ। ২০১৮। ভারতের কৃষক-বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। দ্বিতীয় র্যাডিকাল প্রকাশ। র্যাডিকাল ইম্প্রেশন।
রীয়াজ, আলী। ২০২১। নিখোঁজ গণতন্ত্র: কর্তৃত্ববাদের পথরেখা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তৃতীয় মুদ্রণ। প্রথমা।
শরীফ, ড: আহমদ, নূর-উজ্জামান, কাজী, ও কবির, শাহরিয়ার (সম্পাদিত)। ১৯৯২। একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়। চতুর্থ সংস্করণ পঞ্চম মুদ্রণ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র।
হক, আবুল কাসেম ফজলুল। ২০১২। মুক্তিসংগ্রাম। চতুর্থ সংস্করণ। আগামী।
হাসান, ইমরুল। ২০২২। আ ক্রিটিকাল হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা। প্রথম সংস্করণ। বাছবিচার।
হাসান, জিয়া। ২০১৪। শাহবাগ থেকে হেফাজত: রাজসাক্ষীর জবানবন্দী। প্রথম সংস্করণ। আদর্শ।
Aziz, Qutubuddin. 1974. Blood and Tears: 170 Eye-witness Accounts of the Atrocities Committed on West Pakistanis, Biharis and Other Non-Bengalis and pro-Pakistan Bengalis in 55 towns of East Pakistan by Awami League militants and other rebels in March-April, 1971. Publications Division, United Press of Pakistan.
Bass, G. J. 2013. The Blood Telegram: Nixon, Kissinger, and a Forgotten Genocide. Alfred A. Knopf.
Dasgupta, Chandrashekhar. 2021. India and the Bangladesh Liberation War. Juggernaut Books
Haq, Fahmidul. 2020. Cinema of Bangladesh: A Brief History. Nokta.
Khalil, Tasneem. 2016. Jallad: Death Squads and State Terror in South Asia. Pluto Press.
Khasru, B. Z. 2021. Myths and Facts: Bangladesh Liberation War: How India, U.S., China, and the U.S.S.R Shaped the Outcome. Second impression. Rupa.
Majumdar, Ushinor. 2023. India’s Secret War: BSF and Nine Months to the Birth of Bangladesh. Penguin Random House India.
Maniruzzaman, Talukder. 1975. Radical Politics and the Emergence of Bangladesh. Bangladesh Books International.
Mohaiemen, Naeem (ed.). 2010. Between Ashes and Hope: Chittagong Hill Tracts in the Blind Spot of Bangladesh Nationalism. Drishtipat Writers Collective.
Mohsin, Amena. 1997. The Politics of Nationalism: The Case of the Chittagong Hill Tracts Bangladesh. UPL.
Mookherjee, Nayanika. 2015. The Spectral Wound: Sexual Violence, Public Memories and the Bangladesh War of 1971. Duke University Press.
Phillips, Douglas A., and Gritzner, Charles F.. 2007. Bangladesh. Chelsea House.
Raghavan, Srinath. 2013. 1971: A Global History of the Creation of Bangladesh. Harvard University Press.
Rashid, Azra. 2019. Gender, Nationalism, and Genocide in Bangladesh: Naristhan/Ladyland. Routledge.
Riaz, Ali. 2016. Bangladesh: A Political History since Independence. I.B. Tauris.
Saikia, Yasmin. 2011. Women, War, and the Making of Bangladesh: Remembering 1971. Duke University Press.
Schendel, Williem Van. 2020. A History of Bangladesh. 2nd ed. Cambridge University Press.
Sisson, Richard, and Rose, Leo E. 1991. War and Secession: Pakistan, India, and the Creation of Bangladesh. University of California Press.
Zakaria, Anam. 2019. 1971: A People’s History from Bangladesh, Pakistan, and India. Penguin Random House.
গ. সংবাদপত্র/সাময়িকপত্র
বাংলা: অনলাইন বাংলা নিউজ। আজকের পত্রিকা। আমাদের সময়। আজাদী। ইত্তেফাক। ইনকিলাব। এনটিভি অনলাইন। কালের কন্ঠ। কালবেলা। খেলা ৭১। চ্যানেল আই অনলাইন। জাগোনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম। ডয়েচে ভেলে। ঢাকা টাইমস। ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা। দেশ রূপান্তর। দৈনিক কক্সবাজার। দৈনিক বাংলা। দৃষ্টিপাত। নেত্র নিউজ। নিউজবাংলাটোয়েন্টিফোরডটকম। প্রথম আলো। বাংলাদেশ প্রতিদিন। বাংলা ট্রিবিউন। বাছবিচার। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম। বিবিসি বাংলা। মানবজমিন। যুগান্তর। সমকাল। সময়ের আলো। সাপ্তাহিক বিচিত্রা। সারাবাংলা। স্বাধীনদেশ।
English: Al Jazeera. Alternet. Anadolu Agency. bdnews24dotcom. Daily Star. Dhaka Tribune. Financial Express. Firstpost. Guardian. Huffington Post. Netra News. New York Times. The Business Standard. The Dissent. The Headlines. The Hindu. The Independent. The Sunday Times. The Straits Times. Washington Post.
ঘ. জার্নাল/রিপোর্ট
Maniruzzaman, Talukder. “Bangladesh in 1976: Struggle for Survival as an Independent State.” Asian Survey 17, no. 2 (1977): 191–200. https://doi.org/10.2307/2643476.
OHCHR. 2025. “Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh.” February 12.
https://www.ohchr.org/en/documents/country-reports/ohchr-fact-finding-report-human-rights-violations-and-abuses-related
Sen, Sumit. 1999. “Stateless Refugees and the Right to Return: The Bihari Refugees of South Asia Part 1.” International Journal of Refugee Law Volume 11, Issue 4, Pages 630–631. https://doi.org/10.1093/ijrl/11.4.625
ঙ. অন্যান্য
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)
Ain o Salish Kendra(ASK) – A Legal Aid & Human Rights Organisation
গ্রন্থ নেটওয়ার্ক
https://grontho.net/
জিয়া আর্কাইভ
https://ziaarchive.net
ডিজিটাল সাউথ এশিয়া লাইব্রেরি
https://dsal.uchicago.edu/index.html
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
https://www.shibir.org.bd/
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
https://bsu1952.com/
বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
https://bangladesh.gov.bd/
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)
https://www.bssnews.net/bangla/
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
https://legislativediv.portal.gov.bd
Bangladesh Nationalist Party – BNP
https://www.bnpbd.org
Center for Systems Science and Engineering – CSSE
John Hopkins University
https://systems.jhu.edu
Crisis Documentation Center – crido
https://cridobd.com
High Commission of India
Dhaka, Bangladesh
https://hcidhaka.gov.in
International Federation of Human Rights – FIDH
https://www.fidh.org/en
Office of the United States Trades Representative
https://ustr.gov
The Parbatya Chattagram Jana Samhati Samiti (PCJSS)
https://www.pcjss.org
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি




One Reply to “বাংলাদেশ”