ইয়েমেন

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Image: The Nations Online Project.

সাল

৫৭০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) জন্ম।*
* মারিভ বাঁধ ইঁদুরে খেয়ে ফেলায় ইয়েমেন থেকে একদল মানুষ উত্তর দিকে রওনা করেছিলেন। রওনা করার আগে এক জায়গায় জড়ো হন। আরবিতে কুরাইশ শব্দের মানে “যারা জড়ো হয়েছিল।” এই কুরাইশরা শেষ পর্যন্ত মক্কায় বসতি গাড়েন। লোহিত সাগরের তীরের মক্কা নগরীতে এই কুরাইশদের একটি গোত্রে জন্ম নেন ইসলামের নবি। ইয়েমেনের সাথে তাই ইসলামের ইতিহাসের সম্পর্ক আছে। খোদ ইসলামের সাথেই যেমন আছে অভিবাসনের সম্পর্ক।

১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি

১৫০১-১৬০০ ইয়েমেন ওসমানি সুলতানশাহির অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল।

১৬০১-১৭০০ ইয়েমেন থেকে ওসমানিদের তাড়িয়ে দেয়া হল।

১৮৩৯ অ্যাডেন বন্দর ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে এল।

১৮৪৯ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ওসমানিদের প্রত্যাবর্তন।

১৮৬৯ সুয়েজ খাল চালু হবার পর অ্যাডেন বন্দর একটা প্রধান রিফুয়েলিং পোর্ট হয়ে উঠল।

১৮৭২ সানায় ওসমানি দখলদারিত্ব।*
* অতীতে নানান সময় অঞ্চলটি শাসন করেছেন ওসমানিরা।

১৯০৫ ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য আর ওসমানি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলার মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণ করা হল।

১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

১৯১৮ ওসমানিদের কাছ থেকে স্বাধীনতালাভ করল উত্তর ইয়েমেন। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল মুত্তাওয়াকিলাত জায়েদি ইমামত।

১৯১৮-৪৮ উত্তর ইয়েমেনে ইমাম ইয়াহিয়ার শাসনকাল।

১৯৩৪ সীমান্ত প্রশ্নে ব্রিটেন আর ইমামত একমত হল। সৌদি আরবের সাথে যুদ্ধে হেরে গেল ইমামত। ইয়েমেনের কাছ থেকে সীমান্তবর্তী আসির, নাজরান, আর জিজান প্রদেশ দখল করে নিল সৌদিরা, প্রাথমিকভাবে এক ২০ বছর মেয়াদী চুক্তিতে।

১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

১৯৪৮ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন ইমাম ইয়াহিয়া। সংক্ষিপ্ত এক ‘উদারপন্থী’ পর্বের পর ক্ষমতা দখল করেন ইমাম আহমাদ, তাঁর সেনাদল সানায় একটা ধবংসযজ্ঞ চালায়। ইমামতের অধিকাংশ সময় তিনি তায়েজে অতিবাহিত করেন।

১৯৪৮-৬২ উত্তর ইয়েমেনে ইমাম আহমাদের শাসনকাল।

১৯৫৮ সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র (ইউএআর) গঠনে মিসর ও সিরিয়ার সাথে হাত মেলাল ইয়েমেনের ইমামত।

১৯৫৯ দক্ষিণ ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠিত হল আরব আমিরশাহিদের ফেডারেশন। যা ব্রিটিশ আধিপত্যের অধীনে অ্যাডেনের পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ ও পূর্বাঞ্চলের একটি আশ্রিত রাজ্যকে একীভূত করে।

১৯৬২ সেপ্টেম্বর ২৬ দক্ষিণ আরব ফেডারেশনে অ্যাডেনের যোগদানের পক্ষে ভোট দিল অ্যাডেন বিধানসভা পরিষদ। ইমাম আহমাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০ দিনের মাথায় সানায় উৎখাত হলেন ইমাম বদর। ঘোষিত হল ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র, কিছুদিনের মধ্যেই নাসেরের মিসরের সমর্থন লাভ করে।

১৯৬২-৯০ ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র (ওয়াইএআর)।

১৯৬২-৭০ ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্রে (ওয়াইএআর) গৃহযুদ্ধ। মিসরের মদতপুষ্ট প্রজাতন্ত্রীরা ইমামি রাজতন্ত্রীদের পরাস্ত করেন। কিন্তু যুদ্ধের পরে যে সরকার গঠিত হয়, তাতে বহু রাজতন্ত্রীকে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৬৩ দক্ষিণে গঠিত হল ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (এনএলএফ)।

অক্টোবর ১৪ ব্রিটেনের বিরুদ্ধে এনএলএফের সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা।

১৯৬৭ জুন জুন যুদ্ধের সময় অ্যাডেনের ক্রেটার এলাকা ১০ দিনের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখে এনএলএফ।

নভেম্বর দক্ষিণ আরব ফেডারেশন ছেড়ে চলে গেল ব্রিটেন। এনএলএফের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করল। এনএলএফ কর্তৃক গঠিত হল দক্ষিণ ইয়েমেন গণপ্রজাতন্ত্র (পিআরএসওয়াই)।

১৯৬৭-৬৮ সানা অবরোধ, প্রজাতন্ত্রীদের উৎখাত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল।

১৯৭০-৭৯ সৌদি আরবসহ অন্যান্য তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে কাজ করতে ইয়েমেন থেকে বিপুল সংখ্যায় অভিবাসন।

১৯৭০ দক্ষিণ ইয়েমেন গণপ্রজাতন্ত্র (পিআরএসওয়াই) ইয়েমেন জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (পিডিআরওয়াই) পরিণত হল।

১৯৭০-৯০ ইয়েমেন জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (পিডিআরওয়াই)।*
* আরব বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র ইয়েমেনেই কমিউনিস্টরা দুই দশক ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, স্নায়যুদ্ধের দ্বিমেরুকৃত দুনিয়ায় যাঁদের অবস্থান ছিল সমাজতান্ত্রিক ব্লকে।

১৯৭২ ওয়াইএআর আর পিডিআরওয়াইয়ের মধ্যে প্রথম সীমান্ত যুদ্ধ। আরব লীগের মধ্যস্ততায় যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হল। সই হল ঐক্য চুক্তি।

১৯৭৪ উৎখাত হলেন ইউএআরের প্রেসিডেন্ট আবদুল রহমান আল-ইরইয়ানি। এক রক্তপাতহীন ক্যুদেতায় তাঁকে প্রতিস্থাপিত করলেন ইব্রাহিম আল-হামদি।

১৯৭৭ সানায় গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন আল-হামদি।

১৯৭৮ জুন-জুলাই পিডিআরওয়াই: সালমিনকে উৎখাত করা হয় ও জুনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ওয়াইএআর: গুপ্তহত্যার শিকার হলেন প্রেসিডেন্ট আল-ঘাশমি। জুলাইয়ে নয়া প্রেসিডেন্ট হলেন আলী আবদুল্লা সালেহ।

অক্টোবর গঠন করা হল ইয়েমেনি সোশালিস্ট পার্টি (ওয়াইএসপি)। একইসাথে পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেন আবদুল ফাত্তা ইসমাইল।

ডিসেম্বর পিডিআরওয়াইয়ের ১৯৭০ সালের সংবিধান সংশোধন করা হল। সংশোধিত সংবিধান একদিকে রাজনৈতিক বহুত্ববাদের স্বীকৃতি দিল। অন্যদিকে ওয়াইএসপির ‘কেন্দ্রীয় ভূমিকা’ পালনের কথা বলল।

১৯৭৯ ওয়াইএআর আর পিডিআরওয়াইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সীমান্ত যুদ্ধ।

১৯৮০ একইসাথে ওয়াইএসপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হলেন আলী নাসের মোহাম্মেদ। আবদুল ফাত্তা ইসমাইলকে নির্বাসনে পাঠানো হল।

১৯৮২ ওয়াইএআরে প্রতিষ্ঠিত হল জেনারেল পিপল’স কংগ্রেস (জিপিসি)।

১৯৮৪ ওয়াইএআরের মারিভে বাণিজ্যিক পরিমাণের তেল আবিষ্কৃত হল।

১৯৮৫ নির্বাসন থেকে ফিরে এলেন আবদুল ফাত্তা ইসমাইল। পিডিআরওয়াইয়ে ক্ষমতার লড়াই। নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন হায়দার আবু বকর আল-আত্তাস।

১৯৮৬ জানুয়ারি ১৩ ঘটনাবলি। পিডিআরওয়াইয়ে সংক্ষিপ্ত গৃহযুদ্ধ। আলী নাসের মোহাম্মেদ ও তাঁর সমর্থকদের ওয়াইএআরে নির্বাসিত করা হল। ওয়াইএসপির সাধারণ সম্পাদক হলেন আলী সালেম আল-বিধ।

১৯৯০ মে ২২ ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র (ওয়াইএআর) ও ইয়েমেন জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের (পিডিআরওয়াই) পুনরেকত্রীকরণ। প্রতিষ্ঠা করা হল ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র (আরওওয়াই)। আরওওয়াইয়ের প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন আলী আবদুল্লা সালেহ।

ইরাকের কুয়েত আগ্রাসন। বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ভোট দিল আরওওয়াই। সৌদি আরব-সহ জিসিসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলো থেকে ৮০ হাজার ইয়েমেনিকে বিতাড়িত করা হল।

১৯৯০-৯৯ সা’দা গভর্নরেটে জায়েদি পুনরুত্থানবাদী আন্দোলনের বিস্তার লাভ।

১৯৯১ সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত। ইথিওপিয়ায় মেঙ্গিস্তু হাইলে মারইয়ামকে উৎখাত করা হল। সোমালিয়ায় সিয়াদ বারে উৎখাত ও গৃহযুদ্ধের সূচনা।

হাদরামাউতে বাণিজ্যিক পরিমাণে তেল আবিষ্কৃত হল। গঠিত হল ইসলাহ।

১৯৯৩ সংসদীয় নির্বাচন।

১৯৯৪ মে-জুলাই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট সালেহ। ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলী সালেম আল-বেইদসহ দক্ষিণাঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হল। জাতীয় সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হওয়ার আগে যারা দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করেছিলেন।

প্রেসিডেন্টকে আরও ক্ষমতা প্রদানের জন্য সংবিধান পরিবর্তন।

১৯৯৫ ইয়েমেন সরকার আইএমএফের পরামর্শ মেনে নিল এবং কাঠামোগত সমন্বয় নীতি গ্রহণ করল।

লোহিত সাগরের বিতর্কিত হানিশ দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইয়েমেন আর ইরিত্রিয়ার মধ্যে সংঘাত দেখা দিল।

১৯৯৬ প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

১৯৯৭ সংসদীয় নির্বাচন।

১৯৯৮ আন্তর্জাতিক সালিশি হানিশ দ্বীপপুঞ্জের বড় অংশটাই ইয়েমেনের হাতে তুলে দিল।

১৯৯৯ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন: নির্বাচিত হলেন আলী আবদুল্লাহ সালেহ।

২০০০ জেদ্দা চুক্তি। সৌদি আরব ও ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের (আরওওয়াই) মধ্যে। স্থায়ী সীমান্ত নির্ধারণের জন্য।

আদেন বন্দরে ইউএসএস কোলয়ের ওপর হামলা চালাল আল-কায়েদা।

২০০১ স্থানীয় পরিষদের প্রথম নির্বাচন।

দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

৯/১১র পর প্রেসিডেন্ট বুশের কথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে সমর্থন করার জন্য ছুটে গেলেন আলী আবদুল্লাহ সালেহ।

২০০২ ইয়েমেনি জলসীমায় ফরাসি সুপার-ট্যাঙ্কার লিমবার্গের ওপর হামলা চালাল আল-কায়েদা।

প্রকাশিত হল দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল পত্র (পিআরএসপি) ২০০৩-৫।

২০০৩ ইসলাহ, ইয়েমেনি সোশালিস্ট পার্টি, বাথ, নাসেরাইটস, পপুলার ফোর্সেস এবং আল হকের সদস্যরা মিলে গঠন করলেন জয়েন্ট মিটিং পার্টিজ (জেএমপি)।

সংসদীয় নির্বাচন।

ইরাকে মার্কিন আক্রমণ, সাদ্দাম হোসেনের বাথপন্থী হুকুমত উৎখাত।

২০০৪ প্রথম হুথী যুদ্ধ: নিহত হলেন হুসাইন বদর আল-দিন আল-হুথি।

২০০৫ দ্বিতীয় হুথি যুদ্ধ

২০০৬ দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। গঠন করা হল সাউদার্ন মিলিটারি রিটায়ারিজ অর্গানাইজেশন।

২০০৭ তৃতীয় হুথী যুদ্ধ। দক্ষিণ বিচ্ছিন্নতার জন্য বিক্ষোভ শুরু।

২০০৮ চতুর্থ হুথী যুদ্ধ

২০০৯ পঞ্চম ও ষষ্ঠ হুথী যুদ্ধ। যার শেষোক্তকে ‘পোড়া মাটি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সালেহ শাসনের সমর্থনে এগিয়ে এল সৌদি বিমান ও স্থল বাহিনী। সৌদির ক্ষতি হল। আল-কায়েদার সৌদি ও ইয়েমেনী শাখা এক করে গঠন করা হল আল-কায়েদা ইন দি অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি)।

২০১০ হুথী যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি। ধীরে ধীরে সা’দা গভর্নরেটের নিয়ন্ত্রণ নিল হুথীরা।

২০০৪-৭ হুথী বিদ্রোহীদের উত্থান।

২০০৮ সেপ্টেম্বর সানাস্থ মার্কিন দূতাবাসে আল-কায়েদার হামলায় ১২ জনের মৃত্যু।

২০১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন বাহিনীগুলোর হাতে খুন হলেন ইয়েমেনে আল-কায়েদা নেতা আনোয়ার আল-আওলাকি, যিনি জন্মসূত্রে মার্কিনী।

নোয়েল ব্রেহোনি, ইয়েমেন ডিভাইডেড: দ্য স্টোরি অফ আ ফেইল্ড স্টেট ইন সাউথ অ্যারাবিয়া

২০১১-১৪ আবদুল্লা মনসুর হাদির নেতৃত্বে ঐক্যের সরকারের শাসনকাল।

২০১১ দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান শুরু হল। চাকরি, মর্যাদা ও দুর্নীতির অবসানের দাবিতে। সালেহ হুকুমতের পতন।

মার্চ ১৮ ‘মর্যাদার শুক্রবার’ হত্যাযজ্ঞ। স্নাইপারদের গুলিতে ৫০য়ের বেশি বিক্ষোভকারী খুন হলেন।

জুন ৩ মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার সময় গুরুতরভাবে জখম হলেন সালেহ। অনেকে নিহত। সালেহকে চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব নেয়া হল।

অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর বিষয়ে জিসিসির উদ্যোগকে সমর্থন জানাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নং ২০১৪।

নভেম্বর ২৩ রিয়াদে সই হল জিসিসি চুক্তি।

ডিসেম্বর গঠিত হল জাতীয় ঐক্যের সরকার।

২০১২ ফেব্রুয়ারি দুই বছর মেয়াদে রূপান্তরকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আবদু রাব্বু মনসুর হাদি, আনুষ্ঠানিকভাবে সালেহের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন।

মে ২১ সানা’র কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলায় ১২০ জনেরও বেশি সামরিক স্নাতক নিহত হলেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নং ২০৫১ স্যাংশন কমিটি গঠন করল।

সেপ্টেম্বর উন্নয়নের জন্য ৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের ওয়াদা করল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য রূপান্তরকালীন কর্মসূচি (টিপিএসডি) জারি করল সরকার।

২০১৩ মার্চ ১৮ শুরু হল ন্যাশনাল ডায়ালগ কনফারেন্স (এনডিসি)।

এপ্রিল নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ এবং সামরিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পুনর্গঠন।

ডিসেম্বর সানা’র সামরিক হাসপাতালে হামলায় ৬৫ জন নিহত।

২০১৪-চলমান ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ

২০১৪ জানুয়ারি এনডিসির সমাপ্তি।

ফেব্রুয়ারি হাদির নিয়োগ দেয়া কমিটি ইয়েমেনকে একটি ৬ অঞ্চলে বিভক্ত ফেডারেশনে পরিণত করার সুপারিশ করল। সানা এবং মা’আবার (ধামার গভর্নরেট) ও ফিয়ুশ (লাহেজ গভর্নরেট) সহ অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ল দাম্মাজ থেকে বহিষ্কৃত সালাফি সম্প্রদায়।

মার্চ সংবিধান মুসাবিদা কমিটি কাজ শুরু করল।

জুন আমরান দখল করল হুথী-সালেহ জোট।

জুলাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করল বাসেন্দওয়া সরকার। হুথী দুর্নীতিবিরোধী দাবির সমর্থনে বিক্ষোভের দিকে পরিচালিত করে।

সেপ্টেম্বর সানা দখল করল হুথী-সালেহ জোট।
২১ রূপান্তরকালীন সরকার আর হুথিদের মধ্যে সানা’য় শান্তি ও জাতীয় অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত। ইস্তফা দিল জাতীয় ঐক্যের সরকার।

নভেম্বর ৯ প্রধানমন্ত্রী খালেদ বাহার নেতৃত্বে নতুন সরকার কাজ শুরু করল।

২০১৫ জানুয়ারি খসড়া সংবিধান প্রকাশিত, আলোচনার জন্য জমা দেওয়া হবে। হুথী-সালেহদের দাবিতে সাড়া দিয়ে ইস্তফা দিল হাদি, বাহা এবং সরকার। তাঁদের গৃহবন্দী করা হল।

ফেব্রুয়ারি আদেনে পালিয়ে গেলেন হাদি। আদেনকে অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হল। হুথী-সালেহ আকাশপথে আদেনে আক্রমণ করলেন এবং একইসাথে ময়দানেও ভীষণ যুদ্ধ হল।
২ বছর মেয়াদী রূপান্তরের জন্য সাংবিধানিক ঘোষণাপত্র জারি করল হুথীরা।

মার্চ ওমান ও মিসরে আরব লীগ শীর্ষ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে গেলেন হাদি। হাদিকে পুনর্বহাল করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে শুরু হল অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম। বিশ্ব ব্যাংক সহ বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইয়েমেনে কার্যক্রম স্থগিত করল। সানায় শিয়া মসজিদগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো আইএসের দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৩৭ জনের মৃত্যু।

জুন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় জেনেভা শান্তি আলোচনা পাঁচ দিন ধরে চলল; দুই পক্ষ একই ঘরে বসতে আপত্তি জানাল। ইয়েমেনে এক মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হলেন আল-কায়েদা ইন দি অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার (একিউএপি) নেতা নাসের আল-উহায়শি।

জুলাই আদেনে সেনা মোতায়েন করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মাসের শেষের দিকে শহর থেকে হুথী-সালেহ বাহিনীকে বহিষ্কার করল।

ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডের বিয়েলে হুথী-সালেহ বাহিনী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় জেনেভা আলোচনা কোন মীমাংসা ছাড়াই শেষ হল।

২০১৬ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বাহাকে বরখাস্ত করলেন হাদি। আলী মোহসেনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আহমেদ ওবাইদ বিন দাঘরকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।

এপ্রিল কুয়েত আপোসরফা শুরু হল, আগস্টে ভেস্তে যায়।

এপ্রিল-মে মু্কাল্লা থেকে আল-কায়েদা ইন দি অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার (একিউএপি) প্রস্থানের ব্যবস্থা করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও যুক্তরাষ্ট্র। সংগঠনটি অভ্যন্তরীণভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

জুলাই সানায় বিপ্লবী কমিটিকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য একটি সুপ্রীম পলিটিকাল কাউন্সিল (এসপিসি) প্রতিষ্ঠা করল হুথী-সালেহ জোট।

সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (সিবিওয়াই) সদরদপ্তর আদেনে স্থানান্তরিত করার ডিক্রি জারি করল দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

নভেম্বর সানায় জাতীয় মুক্তি সরকার ঘোষণা করল এসপিসি। ইয়েমেনে এ সময় ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

২০১৭ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অন্যান্য জোট বাহিনী বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগর উপকূলে আক্রমণ শুরু করে মার্চের মধ্যে মোখার বেশিরভাগ অংশ দখল করল। আল-বাইদা গভর্নরেটের ইয়াকলা গ্রামে বিমান হামলা শুরু করল ট্রাম্প প্রশাসন। পরের মাসগুলোতে ড্রোন ও বিমান হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা ঘোষণা করল জাতিসংঘ।

আদেনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। হাদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সমর্থিত সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে। দ্বন্দ্বের কারণ গভর্নরের পদ।

২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের মানবিক সহায়তার জন্য আবেদন জানাল জাতিসংঘ।

এপ্রিল ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওয়াদা করা হল।

মে আদেনের গভর্নরকে বরখাস্ত করলেন হাদি। বিভিন্ন গভর্নরেটের দক্ষিণী নেতাদের সাথে মিলে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) গঠন করলেন আদেনের প্রাক্তন গভর্নর আইদারুস আল-জুবাইদি এবং প্রাক্তন পোর্টফোলিওবিহীন মন্ত্রী হানি বিন ব্রেইক।

জুন জাতিসংঘের চাওয়া মানবিক সহায়তার ৪০ শতাংশ অর্থায়ন করা হল।

জুলাই যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নিল, সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাজ্যের অস্ত্র বিক্রি বৈধ।

হেলেন ল্যাকনার, ইয়েমেন ইন ক্রাইসিস: অটোক্রেসি, নিও-লিবারেলিজম অ্যান্ড দ্য ডিজইনটেগ্রেশন অফ আ স্টেট

আশের ওরকাবি, বিয়োন্ড দি আরব কোল্ড ওয়ার: দি ইন্টারন্যাশনাল হিস্ট্রি অফ দি ইয়েমেন সিভিল ওয়ার, ১৯৬২-৬৮

২০১৮ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মদতপুষ্ট দক্ষিণ ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দক্ষিণের মূল শহর অ্যাডেনের নিয়ন্ত্রণ নিল।

ঈসা ব্লুমি, ডেস্ট্রয়িং ইয়েমেন: হোয়াট ক্যাওস ইন অ্যারাবিয়া টেলস আস অ্যাবাউট দ্য ওয়ার্ল্ড

২০১৯ নভেম্বর ইয়েমেন সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ক্ষমতা ভাগবাটোয়ারা করার চুক্তি সই করল, এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতের অবসান হল।

২০২৪ এলহাম মানিয়া, দি ইয়েমেনি সিভিল ওয়ার: দি আরব স্প্রিং, স্টেট ফর্মেশন অ্যান্ড ইন্টারনাল ইনস্টেবিলিটি

২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাতে শুরু করল রাজকীয় সৌদি বিমান বাহিনী।

২০২৬ জানুয়ারি ২ সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে হাদরামাউত গভর্নরেটের কিছু অংশ পুনরুদ্ধারকল্পে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলো।
হাদরামাউত গভর্নরেটের আল-খাসা এলাকায় এসটিসির একটি ক্যাম্পে একাধিক বিমান হামলা চালালো রাজকীয় সৌদি বিমান বাহিনী (আরএসএএফ), এতে ৭ জন নিহত হন।
সৌদি আরবে শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসটিসির চেয়ারম্যান আইদারুস আল-জৌবাইদিকে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) থেকে বহিষ্কার করা হল।
সৌদি আরবে আলোচনার পর এসটিসিকে বিলুপ্তি ঘোষণা করলেন সংস্থাটির মহাসচিব আবদুলরহমান জালাল আল-সুবাইহি। তবে, এসটিসির সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-ভিত্তিক মুখপাত্র আনওয়ার আল-তামিমি এই বিলুপ্তির কথা অস্বীকার করেন।
১০ পিএলসি ঘোষণা করল, তারা অতীতে এসটিসির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
১৫ পররাষ্ট্রমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিল পিএলসি।
২১ আদেনের উত্তরে জা’আওলায় একটি গাড়ি বোমা হামলায় ৫ জন নিহত। সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডের জনৈক কমাণ্ডার হামদি শুকরির বহর এই হামলার লক্ষ্য ছিল।
২৯ হুথিদের হয়রানির মুখে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিল। সানায় ছয়টি জাতিসংঘ অফিসের সরঞ্জাম ও যানবাহন জব্দ করল হুথিরা।

ফেব্রুয়ারি ৬ পিএলসি প্রধানমন্ত্রী জিন্দানির অধীনে একটি নতুন মন্ত্রিসভা নিয়োগ দিল পিএলসি।
১১ আতাক শহরের একটি সরকারি ভবনে হামলা চালালো এসটিসি-সম্পর্কিত বিক্ষোভকারীরা। এতে ৫ ব্যক্তি নিহত হন।
১৯ এসটিসি-সম্পর্কিত বিক্ষোভকারীরা আদেনের আল-মা’শিক প্রাসাদের গেটে অভিযান চালানোর চেষ্টা চালালে ১ ব্যক্তি নিহত ও ১১ জন আহত হন।
২৮ ২০২৬ সালে ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন হামলা। 

মার্চ ৬ সংঘাতের মধ্যে ইরান ও লেবাননের প্রতি সংহতি জানিয়ে সানায় সমাবেশ করল বিক্ষোভকারীরা।
২৮ ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধে যোগ দিল হুথীরা। ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো। বীরশেবায় এয়ার রেইড সাইরেন।

তথ্যসূত্র

রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।

AFP.

Al Jazeera.

AP News.

BBC.

Channel A.

Lackner, Helen. 2023. Yemen in Crisis: Devastating Conflict, Fragile Hope. new updated ed. Saqi Books.

Middle East Eye.

Reuters.

Yonhap News Agency.

YTN.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *