
লেবানন
Featured Image: Wikimedia Commons.

পূর্বসাল
৩০০০ ফিনিশীয়রা লেবাননে বসতিস্থাপন করল।*
* সেকালে দেশটি ফিনিশিয়া নামে পরিচিত ছিল।
৮৬৮ অ্যাসিরীয়দের ফিনিশিয়া বিজয়।
৮১৪ টায়ারের বসতিস্থাপনকারীরা তিউনিসিয়ায় কার্থেজ নগরী প্রতিষ্ঠা করল।
৬০০ বাবেলীয়দের ফিনিশিয়া বিজয়।
৫৩৮ পারসিকদের ফিনিশিয়া বিজয়।
৩৩২ ফিনিশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ওপর গ্রিকদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
৬৪ ফিনিশিয়া রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
সাল
৬০০ ম্যারোনাইটরা বর্তমান লেবাননে বসতিস্থাপন করল।
৬৩০-৩৯ আরবদের লেবানন বিজয় ও দেশটিতে ইসলামের প্রসার।
৬৩৪-৪১ রাশিদুন খেলাফতের সিরিয়া বিজয়।*
*লেবানন পর্বতমালা এবং ত্রিপলি থেকে সাঈদা পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চল জুন্দ দামিশকয়ের অংশ হয়ে গেল।
৬৬৩ বাইজেন্টীয়দের হামলার হাত থেকে লেবাননের উপকূলকে রক্ষা করতে লেবানন পর্বতমালার পশ্চিমাঞ্চলে তানুখ ও আরসালানদের মত ইয়েমেনি গোষ্ঠী আর জাবাল, কিসরাওয়ান, ও ত্রিপলিতে পারসিকদের বসতিস্থাপন করাল উমাইয়ারা। দক্ষিণ লেবাননের গোষ্ঠীগুলো এ সময় মুসলমান হন। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের গোষ্ঠীগুলো মেলকাইট খ্রিস্টান থেকে যান। ম্যারোনাইটরা যাঁদের অন্তর্গত। এঁরা হুমস অঞ্চলের সাধু মার ম্যারনের অনুসারী। যিনি ম্যারোনাইট চার্চের রুহানি পিতা বিবেচিত হন।
৬৮০-৮১ বাইজেন্টীয় চার্চ থেকে জুদা হয়ে গেলেন ম্যারোনাইটরা। ইউহান্না ম্যারোনকে নিজেদের গোত্রপিতা (Patriarch) ঘোষণা করলেন। চার্চের আসন নির্ধারিত হল ওরোন্তেস উপত্যকা, যেখানে ম্যারোনাইটরা তিন শতাব্দী ধরে বাস করে আসছিলেন।
৭৫৯-৭৬০ জুব্বাত আল-মুনাইতিরায় খ্রিস্টান রাজা বান্দারের বিদ্রোহ।
৭৬৫ ইমাম জাফর আস-সাদিকের মৃত্যুতে শিয়া মুসলিমরা দ্বাদশবাদী আর ইসমাইলি ধারায় বিভক্ত হয়ে গেলেন।
৮৭৪ দ্বাদশবাদী শিয়া মুসলিমদের দ্বাদশ ইমাম মুহাম্মদ বিন আল-হুসেইন গায়েব হয়ে গেলেন। লেবাননে শিয়া ইসলামের প্রসার ঘটে।
৯০১-২২ সিরিয়ার কারমাতিরা দামিশকে অবরোধ দিল, হুমসকে ধবংস করল, এবং বিকা ও লেবানন পর্বতমালার অংশবিশেষে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল।
৯০৮ ওরোন্তেস উপত্যকায় ফাতেমিদের হাতে পরাস্ত হল কারমাতিরা।
৯৬৯ বাইজেন্টীয়রা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল দখল করে নিল। বাইজেন্টীয়দের হাত থেকে বাঁচতে ওরোন্তেস উপত্যকা থেকে পালিয়ে লেবানন পর্বতমালায় আশ্রয় নিলেন ম্যারোনাইটরা। মিসরে আখশিদি শাসন উৎখাত করল ফাতেমিরা।
৯৭৭ সিরিয়ায় ফাতেমিদের হাতে কারমাতিরা পরাস্ত হল। টায়ারে আমির উল্লাকার নেতৃত্বে ফাতেমিদের বিদ্রোহ।
১০০০ ম্যারোনাইটরা লেবানন পর্বতমালার উত্তরাঞ্চলে সরে এল।
১০১৭ কায়রোতে দ্রুজদের দা’ওয়ার শুরু। ষষ্ঠ ফাতেমি খলিফা ও ইসমাইলি শিয়াদের ষোলতম ইমাম আল-হাকিম বি আমরুল্লার দৈবীকরণের ডাক দিলেন আনশিকতিন দারাজি। ফাতেমিরা তাঁকে খুন করল। একটি একেশ্বরবাদী (‘মুওয়াহিদ্দিন’) সম্প্রদায় হিসেবে দ্রুজদের সংগঠিত করলেন হামজা বিন আলি। সিরিয়ায় দ্রুজ ধর্ম প্রসার লাভ করে।
১০১৯ এ সময় সিরীয় উপকূল আর ইতালির নগর-রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে সিরিয়ার ফাতেমিরা। স্বশাসন লাভের মত সমৃদ্ধ হয়ে উঠল টায়ার ও বনি আম্মার নেতৃত্বাধীন ত্রিপলি।
১০৫৮ সিরিয়ায় সেলজুক শাসন, যুদ্ধবিগ্রহের কারণে বাইজেন্টীয় সাম্রাজ্য ও আব্বাসি খেলাফত দুর্বল হয়ে পড়ল।
১০৮৬ সিরিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ পেল সেলজুকরা। ফাতেমিরা সিরিয়ায় অভিযান চালিয়ে উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখল করল। বৈরুত বাদে।
১০৯৫ নভেম্বর ২৭ প্রথম ক্রুসেডের* ডাক দিলেন পোপ দ্বিতীয় আরবান। ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল, সেলজুক তুর্কিদের হাত থেকে পবিত্র ভূমি পুনরুদ্ধার করা।
* ক্রুসেড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, (Asbridge 2010).
১১১০-২৪ সিরীয় উপকূলের শহরগুলো ক্রুসেডারদের হাতে পড়ল। মুসলিমদের প্রভাব আলেপ্পো আর দামিশকে সীমিত হয়ে গেল।
১১১০-১২৮২ ক্রুসেডারদের সাথে ঐক্য প্রশ্নে ম্যারোনাইটদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি। উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যারোনাইটরা ক্রুসেডারদের প্রতি অনুগত থাকল। গোত্রপিতা জর্জিয়াস আল-হালাতির নেতৃত্বাধীন ম্যারোনাইটরা রোমের প্রতি অনুগত থাকার শপথ নিলেন। কিন্তু বাত্রুন আর জুব্বাত বিশাররি জাবেইলের পাহাড়িরা আনুগত্য প্রকাশে অসম্মতি জানালেন।
১১১০-১২৩০ ম্যারোনাইট উপদলগুলোর গৃহযুদ্ধ।
১১১৫ ক্রুসেডাররা জাবাইলে নির্মাণ করল সেইন্ট জন মার্ক ক্যাথেড্রাল।
১২৮২ ম্যারোনাইট সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমাণ দ্বিধাবিভক্তির কারণে দুজন আলাদা গোত্রপিতা নির্বাচিত হলেন। ক্রুসেডাররা বিদায় নেয়ার আগ পর্যন্ত এই বিভাজন টিকে থাকবে। চার্চের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুকাদ্দামদের উত্থান ঘটল।
১২৮০-৮৯ বর্তমান লেবানন মামলুক সুলতানশাহির অংশ হয়ে গেল।
১৫১৬ বর্তমান লেবানন ওসমানি সুলতানশাহির অংশ হয়ে গেল।
১৫২৩-১৬৯৭ লেবানন পর্বতমালায় মা’ন রাজবংশ।
১৫৯০-১৬৩৫ দ্বিতীয় ফখরুদ্দিন মা’নের রাজত্বকাল।
১৬৯৭-১৮৪১ শিহাব রাজবংশ।
১৬৯৭-১৭০৭ প্রথম বশিরের রাজত্বকাল।
১৭০৭-৩২ হায়দার শিহাবের রাজত্বকাল।
১৭১১ আইন দারার সমর। ইয়েমেনিদের ওপর কায়সিসদের চূড়ান্ত বিজয় লাভ। উত্তরাধিকারের জন্য দ্রুজদের অভ্যন্তরীণ বিবাদ।
১৭৫০-৭৫ আক্রেতে দাহির আল-উমরের শাসন।
১৭৭৫-১৮০৪ আক্রেতে আহমাদ পাশা আল-জাজ্জারের শাসন।
১৭৮৮-১৮৪০ দ্বিতীয় বশির শিহাবের রাজত্বকাল।
১৮২০-২১ আন্তিলিয়াস ও লিহফিদ কমিউনের বিদ্রোহ দমন করল দ্বিতীয় বশির আর বশির জুমব্লাতের যৌথ বাহিনী।
১৮২৫ গুপ্তহত্যার শিকার হলেন বশির জুমব্লাত।
১৮৩১-৪০ সিরিয়ায় ইব্রাহিম পাশার শাসন।
১৮৩৮ দ্বিতীয় বশির ও ইব্রাহিম পাশার বিরুদ্ধে দ্রুজ বিদ্রোহ।
১৮৪০ দ্বিতীয় বশির ও মিসরীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। লেবানন পর্বতমালায় বিদেশি শক্তিদের সামরিক হস্তক্ষেপে মিসরীয় শাসনের অবসান। দ্বিতীয় বশিরকে মাল্টায় নির্বাসিত করা হল।
১৮৪১ লেবানন পর্বতমালায় গৃহবিবাদ।
১৮৪২ জানুয়ারি ১৩ লেবানন পর্বতমালার আমিরশাহির অবসান ঘোষণা করল ওসমানিরা।
১৮৪৩ দ্বৈত কা’য়িম মাকামিয়া, লেবানন পর্বতমালাকে একটি খ্রিস্টান এলাকা ও একটি দ্রুজ এলাকায় বিভক্ত করা হল।
১৮৪৫ লেবানন পর্বতমালায় নতুন করে গৃহবিবাদ শুরু।
১৮৫৮-৬১ কিসরাওয়ানে কৃষক বিদ্রোহ।
১৮৬০ লেবাননের দ্রুজ আর ম্যারোনাইট খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘাত। ১২,০০০ খ্রিস্টানের মৃত্যু। ম্যারোনাইটদের রক্ষা করতে সেনা মোতায়েন করল ফরাসিরা।
১৮৬১-১৯১৫ লেবানন পর্বতমালায় আল-মুতাসাররিফিয়া।
১৮৬৬ প্রতিষ্ঠিত হল আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুত।
১৮৮১ ফরাসি জেসুইটরা বৈরুতে খুলল দ্য রোমান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি সাঁ-জোসেফ।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।*
* সিরিয়ায় ওসমানি শাসনের পতন, লেবাননে ব্যাপক অনাহার।
১৯১৫ মুতাসাররিফিয়ার অবসান, ওসমানি প্রশাসক নিয়োগ দিল ওসমানিরা।
১৯১৬ বৈরুত ও লেবানন পর্বতমালায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল।
১৯১৮ লেবাননকে ফরাসি সামরিক দখলদারিত্বের আওতায় আনা হল।
১৯২০ সান রেমো সম্মেলন। সিরিয়া ও লেবাননের ম্যান্ডেট প্রদান পেল ফ্রান্স।
জুলাই ২৪ মাইসালুনের সমর। দামিশকে আরব শাসন উৎখাত করল ফরাসি সেনাদল।
আগস্ট ৩১-১ সেপ্টেম্বর লেবানন পর্বতমালা, উত্তর লেবানন, দক্ষিণ লেবানন ও বেকা অঞ্চল নিয়ে বৃহত্তর লেবানন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করল ফ্রান্স।
১৯২৩ লেবানন ও সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল ফ্রান্স।
১৯২৬ লেবাননে একটি সংবিধান গৃহীত হল এবং দেশটিকে ফরাসি ম্যান্ডেটের অধীনে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হল।
১৯৩৬ নাৎসি জার্মানি ঘুরে এসে ফ্যালাঞ্জে পার্টি প্রতিষ্ঠা করলেন পিয়েরে জেমায়েল। ফ্রান্স ও লেবাননের মধ্যে স্বাধীনতা চুক্তি।
১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
১৯৪১ লেবানন দখল করল ব্রিটিশ ও ফ্রি ফ্রেঞ্চ আর্মি। ভিকিদের হাত থেকে বৈরুত ছিনিয়ে নিল। লেবাননকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়ার ওয়াদা করল ফ্রান্স।
১৯৪৩ নভেম্বর লেবাননের সংসদ ফরাসি ম্যান্ডেট বাতিল করে দিল। লেবাননের সংসদ ভেঙে দিলেন ফরাসি প্রতিনিধি হেলু। প্রেসিডেন্ট বিশারা আল-খুরি, প্রধানমন্ত্রী সুল, আর মন্ত্রী উসাইরান আর টাকলাকে গ্রেপ্তার করা হল।
২২ মুক্তি পেলেন প্রেসিডেন্ট আল-খুরি আর তাঁর সাথীরা। লেবাননের স্বাধীনতা লাভ। ঠিক হল, দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন সুন্নী সম্প্রদায় থেকে, আর চেম্বার অফ ডেপুটিজের স্পীকার হবেন একজন শিয়া।*
* স্বাধীনতার সূচনালগ্নেই সাম্প্রদায়িকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে প্রতিনিধিত্বের একটা বিভ্রম তৈরি হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বৃদ্ধি পায়, যা নাগরিকত্বের বোধকে দুর্বল করে তোলে।
১৯৪৬ ফরাসিরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের লেবানন ছেড়ে গেল ফরাসি সেনাদল।
১৯৪৭ মে ২৫ ব্ল্যাক মে, সংসদীয় নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি।
১৯৪৮ ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার কারণে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংকট তৈরি হলে ১০০,০০০ ফিলিস্তিনি শরণার্থী লেবাননে আশ্রয় নেন।
১৯৪৯ মার্চ সিরিয়ায় হুসনি জাইমের ক্যুদেতা।
জুন আল-খুরির ম্যান্ডেটের নবায়ন।
৯ সিরিয়ান সোশাল ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএসএনপি) সশস্ত্র বিদ্রোহ। দামিশকে পালিয়ে গেলেন এসএসএনপি নেতা আন্তুন সা’আদেহ।
জুলাই ৬-৭ সা’আদেহকে সিরীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হল।
৮ সা’আদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই।
১৯৫০ সিরীয়-লুবনানি কাস্টমস ইউনিয়নের ভাঙন।
১৯৫১ এপ্রিল সাধারণ নির্বাচন। আল-খুরির বিরোধীরা উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব পেলেন।
জুলাই ১৬ আম্মান বিমানবন্দরে এসএসএনপির কমান্ডোদের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন রিয়াদ আল-সুল।
অক্টোবর ২১ লেবাননকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিডল ইস্ট (এমই) মিলিটারি ইউনাইটেড কমান্ডে যোগদানের অনুরোধ করা হল; আল-খুরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন।
১৯৫২ জুলাই ২৩ মিসরে ফ্রি অফিসারদের ক্যুদেতা।
সেপ্টেম্বর ১৭ এক সাধারণ রাজনৈতিক ধর্মঘটের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন আল-খুরি।
২৩ লুবনানি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কামিল শাম’উন।
১৯৫৩ সাধারণ নির্বাচনে লুবনানি নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হল।
১৯৫৬ নভেম্বর বৈরুতে আরব সম্মেলন।
১৯৫৭ মার্চ আইজেনহাওয়ার ডকট্রিনে যোগ দিল লেবানন।
মে-জুন সংসদীয় নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলেন লেবাননের প্রধান মুসলিম নেতারা।
১৯৫৮ মার্চ ৯ নাসেরের দামিশক সফর। লুবনানি প্রতিনিধিরা বিপুল সংখ্যায় তাঁকে স্বাগত জানান।
মে প্রেসিডেন্ট কামিল শাম’উনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ।
জুন ৬ লেবাননে প্রতিনিধি পাঠাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
জুলাই ১৪ বাগদাদে প্রজাতন্ত্রীদের ক্যুদেতা।
১৫ প্রেসিডেন্ট কামিল শামুনের অনুরোধে ও ‘আন্তর্জাতিক কমিউনিজম’ ঠেকানোর আইজেনহাওয়ার ডক্ট্রিনের আলোকে মার্কিন মেরিনরা দেশটিতে পা রাখলেন।
৩১ লেবাননের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ফুয়াদ শিহাব।
সেপ্টেম্বর ২৩ রশিদ কারামিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন শিহাব। ‘প্রতিবিপ্লব’ ঘোষণা করল ফালাঞ্জে পার্টি।
অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষ লেবানন ছেড়ে গেলেন মার্কিন মেরিনেরা।
মিসরের প্রেসিডেন্ট নাসেরের আরব জাতীয়তাবাদের ডাকে মুসলিমরা সাড়া দিলে লেবাননে গৃহযুদ্ধ শুরু হল।
১৯৬১-৬২ এসএসএনপির ব্যর্থ ক্যুদেতা।
১৯৬৪ লেবাননের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন শার্ল হেলু।
১৯৬৫ ক্রাশ করল ইন্ট্রা ব্যাংক।
১৯৬৬ ফাদার টমাস বোয়েস, ইংরেজি অনুবাদ, দ্য কুর্দস।*
* লেবাননের বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়।
১৯৬৭ জুন যুদ্ধের কারণে আবারও ফিলিস্তিন থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার শরণার্থী লেবাননে আশ্রয় নিলেন। “আরববাদ, জায়নবাদ, ও কমিউনিজমের” বিরুদ্ধে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট। ফ্যালাঞ্জে পার্টির পিয়েরে জেমায়েল, ন্যাশনাল লিবারেল পার্টির কামিল শাম’উন, এবং ন্যাশনাল ব্লকের রেমন্ড এড্ডে মিলে গঠন করেন।
১৯৬৮ প্রথমবারের মত লুবনানি ভূখণ্ডে ঢুকলেন ফিলিস্তিনি কমান্ডোরা।
ডিসেম্বর ২৮ বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালাল ইসরায়েল।
১৯৬৯ এপ্রিল ২৩ পিএলওর পক্ষে লেবানন জুড়ে বিশাল জনসমাবেশ। নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। অগণিত জখম, শহিদ।
নভেম্বর ৩ পিএলও ও লেবানন সরকারের মধ্যে কায়রো চুক্তি।
২৬ জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করলেন কারামি।
১৯৭০ সেপ্টেম্বর জর্দানে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর। পিএলও গেরিলাদের জর্দান থেকে বহিষ্কার করা হল। তাঁরা বৈরুতে ঘাঁটি গাড়লেন। দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলে পিএলওর সশস্ত্র আক্রমণ তীব্রতর হল। প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সুলাইমান ফ্রানজিয়েহ।
নভেম্বর সিরিয়ায় ক্ষমতায় এলেন হাফেজ আল-আসাদ।
১৯৭৩ মে ফিদাইনদের সাথে লুবনানি সেনাবাহিনীর সংঘাত দেখা দিল। সিরিয়া তার লেবানন সীমান্ত বন্ধ করে দিল। ফ্যালাঞ্জে পার্টির প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে দামিশক সফর করলেন পিয়েরে জেমায়েল।
১৯৭৫-৯০ লেবাননের গৃহযুদ্ধ।
১৯৭৫ জানুয়ারি ১ লেবানন সফর করলেন প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদ। তিনি ঘোষণা করলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ক্ষেত্রে লেবাননকে সামরিক সহায়তা দিতে তাঁর দেশ প্রস্তুত।
মার্চ সাইদায় গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন মারুফ সা’দ।
এপ্রিল ১৩ আইন আল-রুম্মানের ঘটনা। বৈরুতে পিএলও গেরিলাদের ওপর হামলা করল ফ্যালাঞ্জিস্টরা। ম্যারোনাইট খ্রিস্টান ও মুসলিমদের গৃহযুদ্ধ শুরু।
মে ২৩ সামরিক মন্ত্রীসভা নিয়োগ দিলেন ফ্রানজিয়েহ, ৩ দিন টিকল।
জুলাই ৬ জুমব্লাত আর ফ্যালাঞ্জে পার্টিকে বাদ দিয়ে ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করলেন কারামি।
আগস্ট ‘লুবনানি ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য রূপান্তরকালীন কর্মসূচি’ হাতে নিল লেবানিজ ন্যাশনাল মুভমেন্ট (এলএনএম)। গঠিত হল কমিটি ফর ন্যাশনাল ডায়লগ।
ডিসেম্বর ৬ জেমায়েলের দামিশক সফর। পূর্ব বৈরুতে ব্ল্যাক স্যাটারডে। অন্তত ২০০ জন মুসলিমকে খুন করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এলএনএম শুরু করে ‘হোটেলের সমর’।
১৯৭৬ গৃহযুদ্ধ তীব্রতা পেল। কারানতিনা আর তেল এল-জাতারে ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাল খ্রিস্টানরা। অন্যদিকে, দামুরে খ্রিস্টানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাল ফিলিস্তিনিরা। প্রেসিডেন্ট ফ্রানজিয়ের দরখাস্তে সিরীয় সেনারা লেবাননে ঢুকল। দক্ষিণ লেবানন ছাড়া দেশটির বাকি অংশ দখল করে নিল সিরিয়া।
১৯৭৭ লেবাননের সিরিয়া সীমান্তে আততায়ীদের হাতে খুন হয়ে গেলেন দ্রুজ সম্প্রদায়ের নেতা কামাল জুমব্লাত।
১৯৭৮ পিএলওর গেরিলা অভিযানে ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকরা নিহত হলে ইসরায়েল সেনাবাহিনী লেবাননে হামলা চালাল। দক্ষিণ লেবাননে পাঠানো হল জাতিসংঘের বাহিনী ইউনাইটেড নেশনস ইন্টেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউনিফিল)। দক্ষিণের অধিকৃত ভূখণ্ডে প্রক্সি মিলিশিয়া গঠন করল ইসরায়েল। পূর্ব বৈরুতে খ্রিস্টানদের ওপর গোলাবর্ষণ করল সিরিয়া।
কাহলিল জিবরান, দ্য প্রফেট।
১৯৮০-৮১ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল, ইসরায়েলের প্রক্সি, আর পিএলওর মধ্যে দ্বন্দ্বসংঘাত বৃদ্ধি পেল।
১৯৮২ লন্ডনে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে হত্যা প্রচেষ্টা। লেবাননে দ্বিতীয়বারের মত হামলা চালাল ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারনের পরিকল্পনায় বেকা উপত্যকায় সিরীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালাল ইসরায়েলি সেনারা। পশ্চিম বৈরুতকে ঘেরাও করে ফেলল। লেবাননের রাজধানী থেকে সিরীয় ও পিএলও গেরিলাদের অপসারণ দাবি করল। পিএলওর ১১,০০০ যোদ্ধার অপসারণ তত্ত্বাবধান করল মার্কিন, ফরাসি, ও ইতালীয় বাহিনী। ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা পেছনে রয়ে গেলেন। আন্তর্জাতিক বাহিনী চলে যাওয়ার পর গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন লেবাননের ইসরায়েলপন্থী প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বাশির গেমায়েল। পশ্চিম বৈরুত দখল করে নিল ইসরায়েলি বাহিনী। সাবরা ও শাতিলার ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোয় খ্রিস্টান ফ্যালাঞ্জিস্ট মিলিশিয়া পাঠাল। ফ্যালাঞ্জিস্টরা সাবরা ও শাতিলার শরণার্থী শিবিরে ঢুকে শত শত বেসামরিক নাগরিকের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দাবাদ। ইসরায়েলিরা পশ্চিম বৈরুত থেকে সেনা প্রত্যাহার করল। মার্কিন, ফরাসি, ও ইতালীয়দের বহুজাতিক বাহিনী লেবাননে ফিরে এল। টায়ারে এক বিরাট বিস্ফোরণে ইসরায়েলের সামরিক সদরদপ্তর ধবংস হয়ে যায়। দক্ষিণ লেবাননে গঠিত হল হিজবুল্লা।
১৯৮৩ বৈরুতে মার্কিন দূতাবাস ধবংস করলেন ‘ইসলামিক জিহাদের’ আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা। লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এক শর্তে রাজি হল ইসরায়েল: সিরিয়াকেও সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। সিরিয়া সেনা প্রত্যাহারে অসম্মতি জানাল। প্রেসিডেন্ট আমিন গেমায়েলের নেতৃত্বাধীন লেবাননের সরকারি সেনাদের সাথে মুসলিম বাহিনীগুলোর লড়াই। বৈরুতের পশ্চিমের শউফ পর্বতমালা থেকে একতরফাভাবে সেনা প্রত্যাহার করল ইসরায়েল। সিদনের উত্তরে একটা নয়া ফ্রন্ট খুলল। প্রেসিডেন্ট গেমায়েলের সমর্থনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো লেবাননের মুসলিম এলাকাগুলোয় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে। এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ‘ইসলামিক জিহাদ’য়ের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদরদপ্তর মাটিতে মিশিয়ে দেন। এ সময় ৩০০ ব্যক্তি নিহত হন। সুইজারল্যান্ডে প্রথম ‘রিকনসিলিয়েশন’ সম্মেলন আয়োজন করল লেবানন। আত্মঘাতী বোমা হামলায় ধবংস হয়ে গেল টায়ারের ইসরায়েলি সামরিক সদরদপ্তর।
১৯৮৪ লেবাননে সরকারি বাহিনীর পতন। বহুজাতিক বাহিনীগুলো বৈরুত ছেড়ে চলে গেল। দামিশকে প্রেসিডেন্ট গেমায়েলকে স্বাগত জানালেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল-আসাদ। সুইজারল্যান্ডে লেবাননের দ্বিতীয় ‘রিকনসিলিয়েশন’ সম্মেলন অসফলভাবে সমাপ্ত। বৈরুতে পশ্চিমাদের অপহরণ করা অব্যাহত। এঁদের একজন ছিলেন সিআইএর স্টেশন চিফ উইলিয়াম বাকলি। যাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লেবাননের মূলত শিয়া মুসলিমরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুললেন।
১৯৮৫ সিদন থেকে সেনা প্রত্যাহার করল ইসরায়েল সেনাবাহিনী। দক্ষিণ লেবাননের গেরিলা গ্রামগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক দমনপীড়নের ‘লৌহ মুষ্টি’ নীতি হাতে নিল। বৈরুতের শিয়া এলাকায় গাড়ি বোমা হামলায় ৮০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু। পরবর্তীকালে এতে সিআইএর সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। এপির সাংবাদিক টেরি অ্যান্ডারসন সহ বহু পশ্চিমা এ সময় অপহরণের শিকার হন। টায়ার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল ইসরায়েল। বৈরুতে ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী শিবিরগুলোয় হামলা চালায় শিয়া মিলিশিয়া আমাল। ইসরায়েলি ও দক্ষিণ লেবাননে তাঁদের মিত্রদের ওপর আত্মঘাতী বোমা হামলা।
১৯৮৬ ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী শিবিরগুলোয় শিয়া আমাল মিলিশিয়াদের হামলা। আরও পশ্চিমাদের অপহরণ। শরণার্থী শিবির ঘেরাওয়ে শত শত ফিলিস্তিনির মৃত্যু।
১৯৮৭ মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি চাওয়াকালেই পশ্চিম বৈরুতে গুম হয়ে গেলেন ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ টেরি হোয়াইট। বৈরুতে শিয়া ও দ্রুজ মিলিশিয়ার যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার সিরীয় সেনা লেবাননে ফিরে এল। ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী শিবিরগুলোয় নতুন করে অবরোধ।
১৯৮৮ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হল লেবাননের সংসদ। পশ্চিম ও পূর্ব বৈরুতে দুজন ভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেন।
১৯৮৯ লেবাননের খ্রিস্টান “প্রধানমন্ত্রী” জেনারেল মাইকেল আউন দেশটিতে অবস্থানরত সিরীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। সিরিয়া ও তার প্রক্সি মিলিশিয়া মিত্রদের দ্বারা ঘেরাও হয়ে রইল পূর্ব বৈরুত। রণে ভঙ্গ দিলেন আউন।
১৯৯০ তায়েফ চুক্তির মধ্য দিয়ে লেবাননের গৃহযুদ্ধের অবসান। এই যুদ্ধে দেশটি টুকরো টুকরো হয়ে যায় এবং ১ লক্ষ লেবানীয় আর ২০,০০০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়। লেবাননে স্বাভাবিকতা ফেরাতে সাহায্যের হাত বাড়াল সিরিয়া।
১৯৯১ লেবাননের জাতীয় সংসদ নির্দেশ দিল হিজবুল্লাহ ছাড়া বাকি সব মিলিশিয়াকে অস্ত্রসমর্পণ করতে হবে। ইসরায়েলপন্থী সাউথ লেবানন আর্মি (এসএলএ) অস্ত্রসমর্পণে অস্বীকৃতি জানাল। লেবানীয় সেনাবাহিনী পিএলওকে পরাস্ত করে দেশটির দক্ষিণের সিদন বন্দর দখল করে নিল।
১৯৯২ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হলেন বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী রফিক হারিরি।
১৯৯৩ বৈরুত পুনর্নির্মাণের মাঝেই দক্ষিণ লেবাননে বোমাবর্ষণ করল ইসরায়েল।
১৯৯৪ রোজমেরি সায়িগ, টু মেনি এনিমিজ: দ্য প্যালেস্টাইনিয়ান এক্সপেরিয়েন্স ইন লেবানন।
১৯৯৬ অপারেশন গ্রেপস অফ র্যাথ। দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ বৈরুত, আর বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লার ঘাঁটিগুলোয় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ২০০রও বেশি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু। কানার জাতিসংঘের ঘাঁটিতে বোমার আঘাত ১০৬ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু, যাঁরা জান বাঁচাতে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
২০০০ ইসরায়েলপন্থী সাউথ লেবানন আর্মিকে (এসএলএ) বিলুপ্ত করা হল। হিজবুল্লার অগ্রাভিযান। ইসরায়েল লেবানন থেকে সকল সেনা প্রত্যাহার করল।
২০০৪ সিরিয়াকে লক্ষ্য করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বলা হল, লেবানন থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। সিরিয়া জাতিসংঘের এই আহবান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাল।
২০০৫ বৈরুতে এক গাড়ি বোমা হামলায় খুন হলেন লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি। এতে দেশটিতে সিরিয়াবিরোধী রাজনীতি ব্যাপক গতিলাভ করে। প্রধানমন্ত্রী ওমর কারামি পুরো মন্ত্রীসভাসমেত পদত্যাগ করেন। সিরিয়া অবশেষে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। সাদ হারিরির সিরিয়াবিরোধী জোট পরবর্তী নির্বাচনে জেতে। লেবাননের নতুন প্রেসিডেন্ট হন হারিরি-মিত্র ফুয়াদ সিনিওরা।
২০০৬ দ্বিতীয় লেবানন যুদ্ধ। ৩৪ দিনের যুদ্ধে ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়। যুদ্ধের কারণে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ শরণার্থী হন।
২০০৭ সিরিয়াবিরোধী একাধিক লেবানীয় রাজনীতিক আততায়ীদের হাতে খুন হলেন। ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ফাতাহ আল-ইসলামের সাথে লেবানীয় সেনাবাহিনীর সংঘাতের ফলে মে থেকে সেপ্টেম্বর ঘেরাও হয়ে থাকে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির নাহর আল-বারেদ। এই সংঘাতে ৩০০রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পক্ষে ভোট দিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
২০০৮ লেবাননের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন সেনাপ্রধান মিশেল সুলেইমান।
২০০৯ দ্য নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক আদালত রফিক হারারি হত্যার বিচার শুরু করল। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হলেন মোহাম্মদ জুহাইর আল-সিদ্দিক। তিনি সিরিয়ার একজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
২০১০ হিজবুল্লা নেতা হাসান নাসরুল্লাহ লেবাননের প্রতি আহবান জানালেন জাতিসংঘের হারিরি ট্রাইব্যুনাল বর্জন করতে, দাবি করলেন এই ট্রাইব্যুনাল ‘ইসরায়েলের সাথে যোগসাজশে লিপ্ত’।
ডেনিস ভিলেনুয়েভে, ইনসেনডিজ।
২০১১ লেবাননের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল। অভিযুক্তরা হিজবুল্লার সদস্য। হিজবুল্লাহ জানাল সদস্যদের গ্রেপ্তার মেনে নেবে না।
২০১২ আগের বছরের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়া যুদ্ধের ঢেউ লেবাননে এসেও লাগল। ত্রিপোলি আর বৈরুতে সুন্নিদের সাথে আলাওয়িদের রক্তাক্ত সংঘাত দেখা দিল। এক গাড়ি বোমা হামলায় লেবাননের নিরাপত্তা প্রধান উইসাম আল-হাসানের মৃত্যু। বিরোধীরা সিরিয়াকে দুষল। ত্রিপোলিতে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থক আর বিরোধীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। সিরিয়া যুদ্ধের ফলে দেড় লক্ষাধিক শরণার্থী লেবাননে আশ্রয় নিলেন।
২০১৩ ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হিজবুল্লার সামরিক শাখাকে সন্ত্রাসবাদী তালিকার অন্তর্ভুক্ত করল। বৈরুতের ইরানি দূতাবাসের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২২ জনের মৃত্যু, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ দাবি করলেন এর পেছনে সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার হাত আছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানাল, এসময় লেবাননে ৭ লক্ষ সিরীয় শরণার্থী অবস্থান করছেন।
২০১৫ ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত সংঘাত।
২০২০ লেবাননে গণ আন্দোলনে সাদ হারিরি সরকারের পতন। ক্ষমতায় এল লেবানীয় অ্যাকাডেমিক হাসান দিয়াবের সরকার। কিন্তু মুদ্রার দরপতন, কোভিড-১৯ লকডাউনের প্রভাব, এবং সর্বোপরি বৈরুতে এক রাসায়নিক বিস্ফোরণের ফলে দেখা দেয়া জনরোষের কারণে দিয়াব সরকার ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ায়।
২০২৪ সেপ্টেম্বর ২৭ ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লার মৃত্যু।
২০২৫ জানুয়ারি ৯ লেবাননের সংসদ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জোসেফ আউনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করল, যার ফলে দুই বছর ধরে খালি থাকা পদ পূরণ হল।
১৩ ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসের প্রধান নওয়াফ সালামকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন প্রেসিডেন্ট আউন। পরবর্তীতে সালামের মনোনয়ন সংসদে নিশ্চিত করা হয়।
২৬ ২০২৪ সালের ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন ত্যাগের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হল।
ফেব্রুয়ারি ৮ নওয়াফ সালামের মন্ত্রিসভা উদ্বোধন করা হল।
১৪ বৈরুত-রাফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি কনভয়ের উপর হামলায় আহত হলেন ইউনিফিলের ডেপুটি কমান্ডার নেপালি মেজর জেনারেল চক বাহাদুর ধাকাল। হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৮ ২০২৪ সালের ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দক্ষিণ লেবাননের ৫টি ব্যতীত বাকি সব অবস্থান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় আইডিএফ।
২৩ হিজবুল্লা নেতা হাসান নাসরুল্লার শেষকৃত্য বৈরুতে অনুষ্ঠিত হল।
২৬ ১২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৯৫ জনের সমর্থনে সংসদে আস্থা প্রস্তাবে জিতল সালাম মন্ত্রিসভা।
মার্চ ১১ হিজবুল্লার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের হাতে জিম্মি হওয়া ৪ জন বন্দীকে মুক্তি প্রদান এবং তাঁদের লেবাননে প্রত্যাবর্তন।
১৩ হিজবুল্লার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের হাতে জিম্মি হওয়া পঞ্চম লুবনানী বন্দীকে মুক্তি প্রদান এবং তাঁর লেবাননে প্রত্যাবর্তন। রডলফ হাইকালকে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।
১৬ হিজবুল্লাকে ৩ সিরীয় সেনা হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করল সিরিয়া। হিজবুল্লাহ অস্বীকার করল। অন্যদিকে, লেবাননের সূত্র জানাল, সৈন্যরা প্রথমে লেবাননে ঢুকেছিল এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের হত্যা করেছিল।
১৭ সীমান্ত সংঘর্ষে ১০ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হল সিরিয়া ও লেবানন।
২২ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর লেবানন থেকে প্রথম রকেট হামলায় মেটুলায় কমপক্ষে ৫টি রকেট নিক্ষেপ করা হল। কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিক্রিয়ায়, আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালায়, যার ফলে ১ জন নিহত হয়।
২৭ লেবাননের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংক দু লিবানের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেলেন করিম এ. সুয়াইদ।
২৮ হিজবুল্লার সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মত বৈরুতে বিমান হামলা চালাল আইডিএফ।
এপ্রিল ২০ ব্রাইকায় একটি সামরিক যানের ভেতর গোলাবারুদ পরিবহনের সময় বিস্ফোরণে ৩ সেনা নিহত হন।
২৪ চলমান জ্বালানি সংকট সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে লেবাননকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাল বিশ্বব্যাংক।
মে ৪ ২০২৫ সালে লেবাননের পৌরসভা নির্বাচন।
জুন ৫ দক্ষিণ বৈরুতে সন্দেহভাজন হিজবুল্লা ড্রোন কারখানাগুলোতে বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল।
১০ লেবাননকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিচারব্যবস্থার তালিকায় যুক্ত করল ইওরোপীয় ইউনিয়ন।
১১ জালিয়াতি, রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ ও বীমা কোম্পানিগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তদন্ত চলাকালে গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আমিন সালাম।
জুলাই ১৫ বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ জন খুন হলেন; যাঁদের মধ্যে ৭ জন সিরীয় নাগরিক ও ৫ জন হিজবুল্লা যোদ্ধা।
১৭ লেবাননের বামপন্থী যোদ্ধা জর্জেস ইব্রাহিম আবদুল্লাকে মুক্তি দিল প্যারিসের আপিল আদালত। তাঁকে ফ্রান্স থেকে তদনগদ বহিষ্কারের হুকুম দিল। জর্জেস ইব্রাহিম আবদুল্লা ১৯৮২ সালে মার্কিন কূটনীতিক চার্লস আর. রে ও ইসরায়েলি কূটনীতিক ইয়াকভ বার-সিমানতভকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং ১৯৮৪ সাল থেকে আটক ছিলেন।
২৯ ২০২২ সালে আল-আকবিয়ায় জনৈক আইরিশ ইউনিফিল শান্তিরক্ষীকে হত্যার অভিযোগে এক সামরিক আদালত ৬ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রধান সন্দেহভাজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল।
আগস্ট ৬ বালবেকে সৈনিকদের সাথে এক বন্দুকযুদ্ধে দেশটির ৩ জন মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক ব্যবসায়ী নিহত।
৯ জিবকিনে একটি সন্দেহভাজন হিজবুল্লা অস্ত্র ডিপোতে বিস্ফোরণে ৬ সৈনিক নিহত।
১৮ ইরাকি ও লুবনানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ইয়াম্মুনে লেবাননের বৃহত্তম ক্যাপ্টাগন উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করার ঘোষণা দিল ইরাক সরকার।
২১ ফিলিস্তিনি ফ্যাকশনগুলোর নিরস্ত্রীকরণ শুরু করল লেবানন। বৈরুতের বুর্জ এল-বারাজনেহ শরণার্থী শিবির থেকে লুবনানি সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে যার শুরু। ২০২৪ সালে অবৈধভাবে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত পার করার পর লুবনানি বাহিনী কর্তৃক আটককৃত একজন ইসরায়েলি নাগরিককে ইসরায়েলে ফিরিয়ে দেয়া হল।
২৮ তুরস্কে সফররত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বাবদা প্রাসাদে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একটি দলকে “পশুসুলভ” আখ্যায়িত করা ও “সভ্য আচরণ করার” পরামর্শ দেন। পরে সমালোচনার মুখে বক্তব্যের জন্য মাফ চাইলেন। ২০২৬ সালের শেষের দিকে ইউনিফিলের ম্যান্ডেট বাতিল করার পক্ষে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
সেপ্টেম্বর ৫ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে লেবাননের মন্ত্রিসভার এক বৈঠক থেকে হিজবুল্লাহ এবং আমাল আন্দোলনের মন্ত্রীরা ওয়াকআউট করলেন।
১১ সরকার স্টারলিংককে দেশটিতে কার্যক্রম চালানোর লাইসেন্স প্রদান করল।
১৫ বুলগেরিয়ায় ইগর গ্রেচুস্কিকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিল কর্তৃপক্ষ।*
* ২০২০ সালের বৈরুত বিস্ফোরণের জন্য দায়ী অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের চালান সরবরাহকারী কার্গো জাহাজের রুশ মালিক।
অক্টোবর ৪ ২০১৩ সালের সিডন সংঘর্ষে তাঁর ভূমিকার জন্য ওয়ান্টেড গায়ক ফাদেল চাকার ১২ বছর আত্মগোপনে থাকার পর আইন আল-হিলওয়েতে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন।
১০ দেশ জুড়ে হত্যা ও বোমা হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলের একটি ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার ঘোষণা দিল জেনারেল ডিরেক্টরেট অফ জেনারেল সিকিউরিটি, যার ফলে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৭ লেবাননের এক আদালত লিবিয়ার প্রাক্তন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র হ্যানিবাল গাদ্দাফিকে জামিনে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিল।*
* ১৯৭৮ সালে শিয়া ধর্মগুরু মুসা আল-সদরের অন্তর্ধানের সাথে সম্পর্কিত অভিযোগে ২০১৫ সাল থেকে লেবাননে আটক ছিলেন।
নভেম্বর ৬ স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যেতে সতর্ক করার পর তাইবেহ, তাইর দেব্বা, আইতা আল-জাবাল, জাওতার আল-শারকিয়াহ এবং কফার দৌনিনের উপর একাধিক বিমান হামলা চালাল ইসরায়েল।
১০ লিবিয়ার প্রাক্তন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র হ্যানিবাল গাদ্দাফিকে ৯০০,০০০ মার্কিন ডলার জামিন দেওয়া হল। ১০ বছরের বিনা বিচারে বন্দিদশার অবসান ঘটল। হ্যানিবালের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
১৮ আইন আল-হিলওয়ের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত।
২০ লেবাননের মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক পাচারকারী বিবেচিত নোয়া জেইতারকে বালবেক অভিযানের পর গ্রেপ্তার করল সেনাবাহিনী।
২৩ হারেত হ্রেইকে হিজবুল্লাহর চিফ অফ স্টাফ হাইথাম আলী তাবাতাবাইকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের চালানো একটি বিমান হামলায় আরও ৪ জন সহ খুন হলেন হাইথাম।
২৬ নিজেদের অভিন্ন সমুদ্রসীমা চিহ্নিত করার একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করল লেবানন আর সাইপ্রাস।
৩০ তিন দিনের জন্য লেবানন সফরে এলেন পোপ চতুর্দশ লিও।
ডিসেম্বর ৩ ইউনিফিলের সদরদপ্তর নাকুরায় অনুষ্ঠিত হল ১৯৮৩ সালের পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা।
৪ দক্ষিণ লেবাননে ইউনিফিলের একটি টহলযানে বন্দুকধারীরা হামলা চালালে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৩ দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিত বিমান হামলার প্রস্তুতি হিসেবে একটি ইভ্যাকুয়েশন অর্ডার জারি করল ইসরায়েল। পরে লেবাননের সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশের দরখাস্ত দিলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হামলা স্থগিত করে।
১৬ জালিয়াতি, সরকারি অর্থ তছরুপ ও বীমা কোম্পানিগুলোকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তদন্তাধীন অবস্থায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আমিন সালাম।
২০২৬ জানুয়ারি ৯ দক্ষিণ লেবাননের উপকূলের বাইরে ব্লক ৮ গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য টোটালএনার্জিস, এনি, ও কাতারএনার্জিকে নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাথে একটা চুক্তি সই করল সরকার।
১২ ১৯৪৩ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা লে কমোডোর হোটেল বৈরুত বন্ধ হয়ে যায়।
১৩ হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগ এনে মুসলিম ব্রাদারহুডের লুবনানি শাখাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র।
১৫ বিবলোসে এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিল কর্তৃপক্ষ, যিনি আসাদ সরকারের নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পক্ষে সিরিয়ায় আসাদপন্থী যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার অপরাধে সন্দেহভাজন।
২৬ লেবাননের জন্য মূলত জ্বালানি খাতকে মদত দেয়া ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করল কাতার ফান্ড ফর ডেভলাপমেন্ট।
৩০ লেবাননে কারাদণ্ড ভোগরত সিরীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর একটি চুক্তিতে অনুমোদন দিল লুবনানি সরকার।
ফেব্রুয়ারি ৮ ত্রিপোলিতে পাশাপাশি থাকা দুটি আবাসিক ভবন ধ্বসে ১৫ জন নিহত।
৯ এক আন্তঃসীমান্ত অভিযানে লেবাননের সুন্নী ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ইসলামিক গ্রুপের কর্মকর্তা ও আল-হেব্বারিয়ার সাবেক মেয়র আতউই আতউইকে অপহরণ করল ইসরায়েলি বাহিনী।
১০ হিজবুল্লার জন্য অর্থ সংগ্রহে ভূমিকা রাখার অভিযোগ এনে লুবনান স্বর্ণবণিকদের প্রতিষ্ঠান জুউদ এসএআরএলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র।
১৬ জনৈক লুবনানি নাগরিক লীনা আল আশকারের স্বামী হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে লেবাননের পাসপোর্ট লাভ করলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো।
মার্চ ২ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনী হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আকাশপথে ইসরায়েলে একটি হামলা চালাল হিজবুল্লা। জবাবে ইসরায়েল লেবাননে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে। হিজবুল্লার সামরিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করল লুবনান সরকার।
৪ বৈরুতের দক্ষিণে আরামুন ও সাদিয়াত শহরের একটি হোটেল এবং আবাসিক এলাকায় ইসরাইলের হামলায় ১১ ব্যক্তি নিহত এবং ৪ জন আহত।
৫ লেবাননের মধ্যে আইআরজিসি সদস্যদের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করল দেশটির সরকার। কর্তৃপক্ষকে সংগঠনটির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আটক ও দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিল। ইরানি নাগরিকদের জন্য দেশটিতে প্রবেশে ভিসা বাধ্যতামূলক করল লেবাননের মন্ত্রিসভা।
৬ বেকা উপত্যকার আল-নবী শাইথ শহর ও তার আশপাশে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় ৩ সেনা সহ কমপক্ষে ৪১ জন নিহত। আরও ৪০ জন আহত। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাতিসংঘের ৩ ঘানাইয়ান শান্তিরক্ষী আহত।
৮ মধ্য বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪ ব্যক্তি নিহত ও আরও ১০ জন আহত। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার সাথে রাতভর সংঘর্ষে ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত।
৯ খ্রিস্টান-প্রধান আল-ক্বালায়া শহরের একটি বাড়িতে ইসরায়েলের দ্বৈত হামলায় খুন হলেন ম্যারোনাইট ক্যাথলিক ধর্মগুরু ফাদার পিয়ের আল-রাহি।
১১ বালবেক-হেরমেল গভর্নরেটের তেমনিন এত তাহতা শহরে ইসরায়েলের হামলায় ৭ ব্যক্তি নিহত। আরও ১৮ জন আহত। পাশের আআলি এন নাহরি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৫ জন আহত। ইসরায়েলের দিকে ১০০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করল হিজবুল্লা। এতে উচ্চ গালিলিতে ৫ ব্যক্তি আহত হন।
১২ মধ্য বৈরুতের রামলেত আল-বাইদা সৈকতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৮ ব্যক্তি নিহত। আরও ৩১ জন আহত। দেশের অন্যান্য জায়গায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭ জন নিহত। উত্তর ইসরায়েলকে নিশানা করে ২০০টিরও বেশি রকেট ও ২০টি ড্রোন নিক্ষেপ করল হিজবুল্লা। এতে ২ জন আহত হন।
১৬ দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করল আইডিএফের ৯১তম ডিভিশন। সীমান্ত বরাবর একটি বাফার জোন সম্প্রসারিত করা হল। হিজবুল্লার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৪ কুয়েতি ও ২ লুবনান নাগরিকসহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করল কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৭ নাবাতিয়ে গভর্নরেটের ক্বাক্বায়িত আল-জিসরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় এক লুববান সেনা নিহত এবং আরও ৪ জন আহত।
১৮ বৈরুতের একটি ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৬ ব্যক্তি নিহত এবং বহু মানুষ আহত।
তথ্যসূত্র
Ahram Online.
Al Jazeera.
Asbridge, Thomas. 2010. The Crusades: The Authoritative History of the War for the Holy Land. Ecco.
BBC.
France 24.
Fisk, Robert. 2001. Pity the Nation: Lebanon at War. 3rd ed. Oxford University Press.
ICN.
Israel Hayom.
Malaspina, Ann. 2009. Lebanon. Chelsea House.
The Jerusalem Post.
Times of Israel.
Traboulsi, Fawwaz. 2012. A History of Modern Lebanon. 2nd ed. Pluto Press.
Stewart, James. 2008. Lebanon. Rourke Publishing LLC.
Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org
World History Encyclopedia.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



