আধুনিক চীন

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ

পূর্বসাল

২০০০-২২১ প্রাচীন চীন

পূর্বসাল ২২১-১৯১২ সাল সাম্রাজ্যিক চীন

সাল

১৯১১ চীনে কয়েক হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে চীনে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। চীন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষিত হলেন সান ইয়াত-সেন।

১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

১৯২১ সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)।

১৯২৬ সান ইয়াত-সেনের মৃত্যুতে চীনের জাতীয়তাবাদী নেতায় পরিণত হলেন চিয়াং কাই-শেক।

১৯২৭ চীনা কমিউনিস্টদের ওপর ভয়াবহ দমননিপীড়ন চালাল জাতীয়তাবাদীরা।

১৯৩১ চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ দখল করে নিল সাম্রাজ্যিক জাপান, একটি পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসাল।

১৯৩৪-৩৫ মাও জেদং’য়ের নেতৃত্বে চীনা কমিউনিস্টদের ঐতিহাসিক লংমার্চ।

১৯৩৭ চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল সাম্রাজ্যিক জাপান। সাংহাই, বেইজিং, ও নানজিং দখল করে নিল। রেপ অফ নানজিং।*
* নানজিংয়ে সাম্রাজ্যিক জাপানের হাতে ৩ লক্ষ চীনা বেসামরিক নাগরিক খুন হন, চীনা নারীরা পদ্ধতিগত ধর্ষণের শিকার হন।

সাম্রাজ্যিক জাপানের সামরিক আগ্রাসনের মুখে হাজার হাজার চীনা শরণার্থী তাঁদের মূল ভূখণ্ড থেকে পালিয়ে হংকংয়ে আশ্রয় নিলেন। চীনের কমিউনিস্ট আর জাতীয়তাবাদীরা গঠন করল যুক্তফ্রন্ট।

১৯৩৭-৪৫ সাম্রাজ্যিক জাপানের বিরুদ্ধে চীনের যুদ্ধ।

১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।*
* জাপানের উপনিবেশিক দখলদারিত্বের বাইরে থাকার কারণে চীনা ও ইওরোপীয়দের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয় মাকাও।

১৯৪১ সাম্রাজ্যিক জাপান দখল করে নিল হংকং। খাদ্য সংকটের দরুণ অনেকেই চীনে পালিয়ে গেলেন।

১৯৪১-৪৫ জাপানি দখলদারিত্বে হংকংয়ের জনসংখ্যা ১৯৪১ সালের ১৬ লক্ষ থেকে কমে ১৯৪৫ সালে ৬ লক্ষ ৫০ হাজারে নেমে এল।

১৯৪৩ কায়রো চুক্তি তাইওয়ানকে চীনা জাতীয়তাবাদীদের হাতে তুলে দিল।

১৯৪৫ মিত্রপক্ষ তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে অর্পণ করল। প্রতিষ্ঠিত হল ভিয়েতনাম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সাম্রাজ্যিক জাপানের আত্মসমর্পণ।

১৯৪৬ হংকংয়ে বেসামরিক সরকার পুনর্বহাল করল ব্রিটেন।

১৯৪৬-৪৯ চীনের গৃহযুদ্ধের বছরসমূহ।

১৯৪৭ চীনা জাতীয়তাবাদী কুয়োমিনটাং শাসনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানিদের বিদ্রোহ। তাইওয়ানে সামরিক আইন জারি করল চীনা জাতীয়তাবাদীরা। মুক্ত নির্বাচনের দাবি তোলা বহু প্রতিবাদী খুন।

১৯৪৯ জাতীয়তাবাদীদের বাহিনীর বিরুদ্ধে কমিউনিস্টদের পিপল’স লিবারেশন আর্মির জয়লাভের মধ্য দিয়ে চীনের গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি। চীনকে একটি গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করলেন মাও জেদং। গণ চীনে কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হল।

১৯৪৯-৫০ চীনের গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্টদের হাতে জাতীয়তাবাদীদের পরাজয় ঘটে। এর ফলে চিয়াং কাইশেকের কুয়োমিনটাংয়ের সাথে যুক্ত প্রায় দুই লক্ষ চীনা জাতীয়তাবাদী পালিয়ে গিয়ে তাইওয়ানে আশ্রয় নেন। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তাইওয়ান, যার আনুষ্ঠানিক নাম চীন প্রজাতন্ত্র, কার্যত একটি কুয়োমিনটাং-নিয়ন্ত্রিত একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল।*
*১৯৭০য়ের দশক পর্যন্ত জাতিসংঘ ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এই তাইওয়ানভিত্তিক চীন প্রজাতন্ত্রকেই চীনের বৈধ সরকার বলে গণ্য করেছে।

১৯৪৯-৫৩ তাইওয়ানে চীনা জাতীয়তাবাদী সরকারের ‘চাষীর জন্য জমি’ কর্মসূচি।

১৯৫০ জানুয়ারি ভিয়েতনাম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি প্রদান করল ও হো চি মিন সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন। চীনাদের আর্থিক ও সামরিক সাহায্য পেল ভিয়েতনাম।

কোরীয় যুদ্ধের সূচনা।*
* কোরিয়া যুদ্ধের সময় চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব তৈরি হলে মার্কিন মিত্র হয়ে ওঠে তাইওয়ান। উত্তর কোরীয় আর চীনা সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী।

১৯৫০-৫৯ টেক্সটাইলের মত হালকা শিল্পের ভিত্তিতে হংকংয়ের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ।

১৯৫১ মাকাও আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালের ওভারসিজ প্রদেশে পরিণত হল।

১৯৫৩ জুলাই ২৭ জাতিসংঘের বাহিনী, চীনা বাহিনী, আর উত্তর কোরিয়ার বাহিনী কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই করল।

১৯৫৬-৫৭ শত ফুল ফুটতে দাও প্রচারাভিযান।

১৯৫৮ গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড

১৯৬০-৬৯ হংকংয়ে সামাজিক অসন্তোষ ও শ্রমিক আন্দোলনের দশক।*
* দশকের শেষদিকে দেশটিতে জীবনমানের উন্নতি ঘটায় সামাজিক অসন্তোষ আস্তে আস্তে থিতিয়ে আসে।

১৯৬২ চীন-ভারত সীমান্ত যুদ্ধ।

১৯৬৪ চীন তার প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটাল।

১৯৬৬-৭৬ ‘মহান সর্বহারা সাংস্কৃতিক বিপ্লব’।

১৯৬৬ ১২-৩ ঘটনা, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অনুপ্রেরণায় মাকাওয়ে পর্তুগিজ শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন দেখা দিল। ৮ জন খুন হলেন, ২০০র বেশি আহত। এই ঘটনার ফলে মাকাওয়ের ওপর পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণ ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং ভূখণ্ডটি কার্যত চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

১৯৬৭ চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের অনুসারীদের তৎপরতার কারণে হংকং জুড়ে একাধিক আন্দোলন দেখা দিল।

১৯৬৯ মাও সেতুং ও চৌ এন লাই সিহানুককে চীনে আশ্রয় দিলেন। চীনের মধ্যস্ততায় সিহানুক ও পল পটের নেতৃত্বাধীন কম্বোডীয় কমিউনিস্টদের মধ্যে ঐক্যজোট গঠিত হল।

১৯৭০ এসময় সিহানুক গণ চীনে নির্বাসিত ছিলেন। তিনি একটি গেরিলা আন্দোলন গঠন করলেন। উত্তর ভিয়েতনামী বাহিনী আর কম্বোডিয়ার কমিউনিস্ট গেরিলা খেমার রুজ বাহিনীর হাতে ভূখণ্ড হারাতে শুরু করল কম্বোডীয় সেনাবাহিনী।

১৯৭০-৭৯ একটি “এশীয় বাঘ” হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হল হংকং। হয়ে উঠল অঞ্চলটির অন্যতম অর্থনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্র। অর্থনীতির ভিত্তি হাই-টেক শিল্প।

১৯৭১ চিয়াং কাইশেক দ্বৈত প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। জাতিসংঘ গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারকে চীন রাষ্ট্রের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি বলে স্বীকার করে নিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আসন লাভ করল চীন।

১৯৭২ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফর, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের সূচনা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন, দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হল। এর ধারাবাহিকতায় তাইওয়ানে নিজ দূতাবাস বন্ধ করে দিল জাপান

১৯৭৪ প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে চীনের সাথে দক্ষিণ ভিয়েতনামের সংঘাত। পর্তুগালে সামরিক ক্যুদেতার ধারাবাহিকতায় মাকাওকে অধিকতর প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেয়া হল।

১৯৭৫ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) খেমার রুজদের ১ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করে। সিহানুক কম্বোডিয়ায় ফেরেন, তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। ভিয়েতনামের একটি প্রতিনিধিদল কম্বোডিয়া সফর করতে এলে পল পট তাঁদেরকে একটি কুমিরের বাচ্চা উপহার দেন।

অক্টোবর ৪ বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করল গণচীন।

চিয়াং কাইশেকের মৃত্যু।

১৯৭৬ মাও জেদংয়ের মৃত্যু।

১৯৭৭ জানুয়ারি ২-৭ জিয়াউর রহমানের চীন সফর। হুয়া-জিয়া বৈঠক আয়োজিত। চীনের সাথে বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যচুক্তি সই, ঘোষিত হল বাংলাদেশ-চীন ইশতেহার।

দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হল।

১৯৭৮ মার্চ বাংলাদেশের নিমন্ত্রণে দেশটি সফর করলেন চীনের ভাইস প্রিমিয়ার লি জিয়াননিয়ান। এসময় দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তি সই হয়।

১৯৭৯ “এক চীন নীতি” গ্রহণ করল যুক্তরাষ্ট্র, তাইপেইয়ের বদলে বেইজিংকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিল। এবছরই দেশটিতে তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট প্রণীত হয়। যা পরিষ্কারভাবে বলল, চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের পেছনে ভবিষ্যতে তাইওয়ান সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সুরাহা করা হবে এই প্রত্যাশা আছে।

ভিয়েতনামীদের হাতে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের পতন ঘটল। পল পটসহ অপরাপর খেমার রুজ নেতারা কম্বোডিয়া ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। আশ্রয় নিলেন দেশটির থাইল্যান্ড সীমান্তে। ভিয়েতনামের উদ্যোগে কম্বোডিয়ায় গঠিত হল গণপ্রজাতন্ত্রী কম্পুচিয়া। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটিতে “ভিয়েতনামী আগ্রাসনের” নিন্দা জানাল। খেমার রুজদের ব্যাকার চীন ভিয়েতনাম আক্রমণ করল, দুদেশের মধ্যে ১৬ দিনের সীমান্তযুদ্ধ। ভিয়েতনামীরা এই যুদ্ধে চীনাদেরকে পিছু হঠিয়ে দেয়।

১৯৮০ আগস্ট চীন সফর করলেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

১৯৮২ হংকংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রিটেনের সাথে চীনের সংলাপ শুরু।

১৯৮২, ১৯৮৫, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯০ টানা পাঁচবার চীন সফর করেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দুদেশের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তি সই হয়। এছাড়াও দেশ দুটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা বিষয়ক চুক্তিও সাক্ষরিত হয়।

১৯৮৪ ব্রিটেন ও চীনের মধ্যকার হংকং যৌথ ঘোষণা। এই ঘোষণায় বলা হল, ১৯৯৭ সালে হংকংকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের হাতে তুলে দেয়া হবে। “এক দেশ, দুই ব্যবস্থা” ফর্মুলা মেনে, চীনা কমিউনিস্টদের দ্বারা শাসিত হবে হংকং, তবে হস্তান্তরের পর থেকে ৫০ বছর ধরে নিজস্ব পুঁজিবাদী ও আংশিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখবে।

১৯৮৬ মার্চ বাংলাদেশ সফর করলেন চীনা প্রেসিডেন্ট লি জিয়াননিয়ান।

১৯৮৭ ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে সম্পাদিত হংকং যৌথ ঘোষণার আদলে মাকাওকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দিতে রাজি হল পর্তুগাল।

১৯৮৯ তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ঘটনা। হংকংয়ে অধিকতর গণতান্ত্রিক সুরক্ষাকবচ প্রবর্তনের দাবি উঠল।

নভেম্বর বাংলাদেশে সাবেক প্রিমিয়ার লি পেংয়ের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা সফর।

১৯৯০ গণ চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান ৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধাবস্থায় ছিল, এবছর তার অবসানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল তাইওয়ান।

হংকংয়ের “বেসিক ল” আনুষ্ঠানিকভাবে অণুসমর্থন করল ব্রিটেন।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হল এশিয়ান গেমস।

১৯৯১ জুন চীনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা সফর।

১৯৯২ ভিয়েতনামের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত করল চীন।

এপ্রিল হংকংয়ের শেষ ব্রিটিশ গভর্নর হলেন ক্রিস প্যাটেন।

ডিসেম্বর হংকংয়ের স্টক মার্কেটে ধ্বস নামল।

১৯৯৩ আগস্ট ঐতিহাসিক কোনো বিবৃতি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনা ও কোরীয় নারীসহ প্রতিপক্ষের নারীদের ওপর সাম্রাজ্যিক জাপানি সেনাবাহিনীর চালানো পদ্ধতিগত ধর্ষণ-নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইল জাপান।

১৯৯৪ কাশগড়ে বান ছাও মেমোরিয়াল পার্ক গঠন করল শিনচিয়াং সরকার। হাজার বছর আগে হানদের শিনচিয়াং বিজয় উদযাপন করতে। ২০১০ সালে পার্কটিকে পান্টু সিটি সিনিক এরিয়ায় সম্প্রসারিত করা হয়।

১৯৯৫ হংকংয়ের নয়া আইনসভা পরিষদের নির্বাচন আয়োজিত হল।

১৯৯৬ সেপ্টেম্বর চীনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা সফর।

১৯৯৭ “ইসলামি মৌলবাদ ও উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদ”য়ের জুজু দেখিয়ে শিনচিয়াংয়ের বৃহত্তম আধ্যাত্মিক উৎসব ওরদাম পাদিশাহ মাজারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি।*
* এবছর থেকেই অন্য মাজারকেন্দ্রিক উৎসবগুলোও ক্রমবর্ধমান সরকারি বিধিনিষেধের আওতায় আসে।

দেং জিয়াওপিংয়ের মৃত্যু।

জুলাই হংকংয়ে দেড়শো বছরের ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের অবসান। অঞ্চলটি শাসন করতে বেইজিং কর্তৃক মনোনীত হলেন সাংহাইয়ে জন্ম নেয়া সাবেক জাহাজশিল্প টাইকুন তুং ছি-হুয়া, যাঁর কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল না। হংকংকে চীনের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিবাদে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন ৭০,০০০ মানুষ।

১৯৯৮ মে হস্তান্তরের পর হংকংয়ের প্রথম নির্বাচন আয়োজিত হল।

১৯৯৯ চীনা সার্বভৌমত্বের অধীনে মাকাও একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে (এসএআর) পরিণত হল।

চীনের মূল ভূখণ্ডে ফালুন গ্যাংকে নিষিদ্ধ করা হল, যদিও হংকংয়ে সংগঠনটি সক্রিয় থাকল।

২০০০ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন আয়োজিত ব্রেকফাস্ট সভায় অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০১ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দিল চীন।

ফেব্রুয়ারি বেইজিংয়ের চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন হংকংয়ের ডেপুটি নির্বাহী প্রধান আনসন চ্যান। হংকংয়ের যেসব প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি দেশটিতে চীনা হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিলেন তিনি তাঁদের একজন। আনসন চ্যানের স্থলাভিষিক্ত হলেন ডোনাল্ড স্যাং।

নির্বাসিত তিব্বতী আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা তাইওয়ানি প্রেসিডেন্ট ছেনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন, চীন এর কড়া প্রতিবাদ জানাল।

২০০২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সফর করলেন চীনের প্রিমিয়ার ঝু রংজি।

জুন হংকংয়ে বেইজিংয়ের লিয়াজোঁ অফিসের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ফালুন গ্যাংয়ের ১৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হল।

সেপ্টেম্বর তুং ছি-হুয়া প্রশাসন একটি নতুন অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা-বিরোধী আইনের প্রস্তাব পেশ করল, যা “আর্টিকেল ২৩” নামে পরিচিতি পাবে।

ডিসেম্বর চীন সফর করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

বাংলাদেশের সাথে অনেকগুলো চুক্তি সই করল চীন।

২০০৩ মার্চ-এপ্রিল চীন আর হংকং উভয়েই সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হল।

অসুখটির বিস্তার ঠেকাতে কড়া কোয়ারেন্টাইন উদ্যোগ গৃহীত।

জুন হংকংকে সার্স ভাইরাস মুক্ত ঘোষণা করা হল।

জুলাই হংকং সফর করলেন চীনা প্রিমিয়ার ওয়েন জিয়াবাও। পরদিন ৫ লক্ষ মানুষ ‘আর্টিকেল ২৩’য়ের বিরুদ্ধে মিছিল করলেন, পদত্যাগ করলেন হংকং সরকারের দুইজন মন্ত্রী। বিলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হল।

২০০৪ এপ্রিল চীন এই মর্মে হুকুম জারি করল যে, হংকংয়ের নির্বাচনী আইনে কোন পরিবর্তন আনতে হলে বেইজিংয়ের অনুমোদন লাগবে।

জুলাই হংকংকে চীনের হাতে তুলে দেয়ার ৭ বছর পূর্তিতে ২ লক্ষ মানুষ দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় চীনা হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এলেন।

সেপ্টেম্বর হংকংয়ের আইনসভা পরিষদের নির্বাচনে বেইজিংপন্থী দলগুলো নিজেদের সংখ্যাগুরু অবস্থান ধরে রাখলেন। এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল অধিকতর গণতন্ত্রের জন্য হংকংবাসীর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক একটি গণভোট হিসাবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে আইনসভা পরিষদ নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে “আতঙ্কের পরিবেশ” তৈরি করার অভিযোগ আনল।

ডিসেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও প্রকাশ্যে তুং ছি-হুয়ার নিন্দা করলেন, এবং শেষোক্তের প্রশাসনিক কর্মক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পরামর্শ দিলেন।

২০০৫ বেইজিং একটি বিচ্ছিন্নতাবিরোধী বিল প্রণয়ন করল, যাতে চীন থেকে তাইওয়ানের বিচ্ছিন্ন হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অবৈধ ঘোষিত হল।

মার্চ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করলেন হংকংয়ের তুং ছি-হুয়া।

২০০৭ এপ্রিল প্রথম চীনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে জাপানের সংসদে ভাষণ দিলেন ওয়েন জিয়াবাও, বললেন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে।

২০০৭-১৫ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি শিনচিয়াং জুড়ে একের পর এক মাজারকেন্দ্রিক উৎসব বন্ধ করে দেয়া হতে লাগল, যার অন্তর্গত: নিয়ার নিকটবর্তী ইমাম জে’ফিরি সাদিক মাজার, ইয়েংগিসারের চুজে পাদিশাহিম মাজার, খোটানের নিকটবর্তী উজমে আর ইমাম অসিম মাজার।

২০০৮ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য উচ্চপদস্থ চীনা কর্মকর্তা ছেন শুই-বিয়ান তাইওয়ান সফর করলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থীদের তীব্র প্রতিবাদ।

২০০৯ তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হল।

২০১১ হু আনগাং ও হু লিয়ানগে কর্তৃক একটি “দ্বিতীয় প্রজন্মের” জাতিগত নীতিমালা ঘোষিত হল। যার উদ্দেশ্য হবে জাতিগত ভিন্নতার আইনী স্বীকৃতিপ্রদানকে নিরুৎসাহিত করে “অন্তর্ভুক্তীকরণ নিশ্চিত করা, জাতীয়তাবাদ প্রচার করা, এবং একটি সমসত্ত্ব সমাজ গঠন করা।” ২০১৩ সাল থেকে এই প্রস্তাবের ভাষা ব্যবহার ও আইনী পরিস্থিতি বিষয়ক অংশগুলো নিয়মিতভাবে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

ফেব্রুয়ারি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসাবে জাপানকে প্রতিস্থাপিত করল চীন। 

২০১২ সেপ্টেম্বর পূর্ব চীন সাগরের একগুচ্ছ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে জাপানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ৪০ বছর পূর্তির উৎসব বাতিল করল চীন।*
* জাপান এই দ্বীপগুলোকে বলে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ। চীনের ভাষায় এগুলো হল দাইয়ু দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপগুলোর ওপর তাইওয়ানেরও দাবি আছে।

২০১৩-২২ একদশকে চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানির অর্থমূল্য ৬.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২০১৩) থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (২০২২) উন্নীত হয়েছে। অথচ, এই একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে চীনে রফতানির অর্থমূল্য প্রতি বছরই ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কম ছিল। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি বিপুল।

২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চীন থেকে বাংলাদেশে নেট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পরিমাণ ফি বছর ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কম ছিল। ২০১৮ সালে তা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৬.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়, পরের বছর এর দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১১৫৯.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়। ২০২০ সালে তা ব্যাপকভাবে কমে ৮০.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এলেও ২০২২ সাল নাগাদ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬৫.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।

২০১৩ ডিসেম্বর জাপানি সংসদ একটি নতুন নিরাপত্তা বিধি প্রণয়ন করল ও সামরিক খাতে ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করল। বিশ্লেষকদের মতে, এটা চীনকে দেয়া একটি বার্তা।

২০১৪ চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সরকার পর্যায়ের বৈঠক, ১৯৪৯ সালের পর এই প্রথমবারের মত। ভারত সফর করলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

২০১৪-২০ “উন্নয়ন” ও “পরিবেশ রক্ষার” নামে উইঘুরদের সমাধিগুলো ধবংস করতে শুরু করল চীন রাষ্ট্র।

২০১৫ সিঙ্গাপুরে তাইওয়ানি প্রেসিডেন্ট মা ইং-জিউ আর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হল। চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো চুক্তি সই।

ইয়াং ওয়েইওয়েইয়ের নিবন্ধ অপারেশনাল রিসার্চ অন রিস্ট্রেইনিং দ্য ইনফিল্ট্রেশন অফ রিলিজিয়াস এক্সট্রিমিস্ট থট প্রকাশিত হল। নিবন্ধটিতে বলা হল, “ধর্মীয় উগ্রপন্থী চিন্তাধারা” মোকাবেলায় ইসলামের একটি “ঐক্যবদ্ধ”, “নিয়ন্ত্রিত”, ও “রাষ্ট্র-অনুমোদিত” সংস্করণ জরুরি হয়ে পড়েছে। শিনচিয়াংয়ের “বাড়তি” মসজিদগুলো ধবংস করে ফেলতে হবে।

২০১৫-২০২০ রাষ্ট্রীয় “চীনাকরণ” নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে, মসজিদগুলো চীনের জাতীয় পতাকা ওড়াতে শুরু করল। প্রদর্শন করতে শুরু করল বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ব্যানার। যা “জাতীয় সংহতি” ও “চৈনিক স্বপ্ন” জাতীয় কমিউনিস্ট পার্টির মূল্যবোধগুলো উর্ধ্বে তুলে ধরবে।

২০১৬ স্বাধীনতাপন্থী ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। চীন তাইওয়ানের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থগিত করল।

“মসজিদ সংস্কার” প্রচারাভিযানের শুরুয়াত। পুরনো ভবনগুলো মুসল্লিদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এই অজুহাত দিয়ে পুরো শিনচিয়াং প্রদেশ জুড়ে হাজারও মসজিদ ধবংস করা হল। কাশগড়ের ৭০% মসজিদ এভাবে ধবংস হয়ে গেল।

২০১৭ জুন বিতর্কিত ভূখণ্ডে চীন কর্তৃক সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদ জানাল ভুটান।

জুন-আগস্ট ভুটানের দোকলাম ভূখণ্ড নিয়ে সাময়িক চীন-ভারত উত্তেজনা। চীনের সাথে নেপালের প্রথম যৌথ সামরিক অনুশীলন।

জুলাই দোরবুলিন মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া হল।

নভেম্বর জিবুতিতে নিজের সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারিত করল জাপান, পর্যবেক্ষকদের মতে এটা আফ্রিকায় চীনের একক প্রভাব হ্রাস করার প্রচেষ্টা।

সিসিপি কর্মকর্তারা দোরে দোরে ঘুরে উইঘুর পরিবারগুলোকে বুঝাতে লাগলেন, “তাঁদের জীবনশৈলী সেকেলে হয়ে গেছে।” উইঘুর শৈলীতে বানানো ঘরবাড়িগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেগুলো মূল ভূখণ্ডের শৈলীতে নবরূপে নির্মাণ করতে উদ্যোগী হয়ে উঠল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় মুসলমানদের পুরো পরিবার একসাথে বসে খাওয়াদাওয়া করার ঐতিহ্যিক চর্চা তীব্রভাবে সমালোচিত হল।

শিনচিয়াংয়ের ইসলামি স্থাপত্যকলা সাধারণভাবে আক্রমণের মুখে পড়ল। হোটানের বাহার ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ওপরকার গম্বুজকে একটা অষ্টভুজাকার কাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হল।

২০১৮ কারগিলিক জামে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া হল। আগের বছর এই মসজিদের ইমাম ক্বারি হাজিমকে আটক করা হয়েছিল। পরে কারা হেফাজতে মারা যান।

মাতইয়াগ জামে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া হল। দুই দশক আগে মুসলমান সম্প্রদায়ের অর্থায়নে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। কারামাঈ জেলায় সামষ্টিকভাবে নামাজ পড়ার আর একটি স্থানও অবশিষ্ট রইল না।

মার্চ খোটানের প্রায় ৮০০ বছর পুরনো ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় মুসলমানদের সম্প্রদায়গত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ইউতিয়ান আইতিকা মসজিদ ধবংস করা হল। অঞ্চলটিকে পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তরিত করার বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ হিসাবে শিনচিয়াংয়ের বৃহত্তম মসজিদ কেরিয়া ঈদ কাহ মসজিদের গেটহাউজ ধবংস করা হল।

২০১৯ এপ্রিল পার্কিং লট বানানোর অজুহাত দিয়ে খোটানের সুলতানিম কবরস্থান গুঁড়িয়ে দেয়া হল। এই সমাধিস্থলে ৪ জন সুলতানের সমাধি আছে। যা মুসলমান তীর্থযাত্রীদের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য ছিল।

২০২০ মার্চ লাদাখের গালওয়ানে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে (এলএএস) ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ল। অন্তত ২০ জন জওয়ান এতে নিহত হন। দেশদুটির মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেয়।

সেপ্টেম্বর দ্য অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র‍্যাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হল, শিনচিয়াংয়ের ৬৫ শতাংশ মসজিদ (সংখ্যায় প্রায় ১৬,০০০) “সরকারি নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধবংস হয়ে গেছে।”

২০২১ আগস্ট ১৫ তালেবানদের হাতে কাবুলের পতন ঘটল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের বৈদেশিক রিজার্ভ ফ্রিজ করল। ইওরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়ে দিল, তালেবান সরকারের সাথে তাঁরা কোন ধরণের আলাপ-আলোচনায় অংশ নেবে না। পাকিস্তান, চীন, ও রাশিয়া কিছু শর্তসাপেক্ষে তালেবান সরকারের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহ দেখাল।

২০২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই ঘন্টা ধরে মোবাইলে কথা বললেন। বাইডেন শিকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন যে তাইওয়ানের ব্যাপারে মার্কিন নীতি অপরিবর্তিত আছে।
১৯ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেল, দোকলাম মালভূমির ভুটানি অংশের পুব দিকে চীনারা বসতিস্থাপন করছে। উল্লেখ্য যে, দোকলাম নিয়ে ভারত-চীন দ্বন্দ্ব আছে।

আগস্ট মার্কিন হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির অপ্রত্যাশিত তাইওয়ান সফর চীন-তাইওয়ান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটাল, যুদ্ধের আশঙ্কা।

২০২৩ মার্চ চীনের মধ্যস্ততায় সৌদি-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতি। প্রক্রিয়াটি চলমান আছে। সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিবর্তন আসবে।

২০২৬ জানুয়ারি ২ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হল, বৈদ্যুতিক যানবাহন বিক্রিতে মার্কিন কোম্পানি টেসলাকে ছাড়িয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম বিক্রেতা হয়েছে চীনা গাড়ি কোম্পানি বিওয়াইডি অটো।
চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা নিয়ে জাপান সরকারের বিতর্কিত বক্তব্যের জের ধরে সামরিক ব্যবহারোপযোগী দ্বৈত-ব্যবহার-থাকা পণ্য জাপানে রপ্তানি করা নিষিদ্ধ করল চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ক্রস-স্ট্রেইটস রিলেশনস। তাইওয়ান স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে তাইওয়ানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিউ শাই-ফাং এবং শিক্ষামন্ত্রী চেং ইং-ইয়াও ও তাঁদের পরিবারের চীনে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল চীন সরকার।
কম্বোডিয়ার কনগ্লোমারেট প্রিন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ছেন ঝিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি ও মানব পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে চীনে প্রত্যর্পণ করা হল।
১৮ বাওতু শহরের বাওগাং ইউনাইটেড স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণে ৪ ব্যক্তি নিহত ও ৮৪ জন আহত; ৬ জন নিখোঁজ।
২২ গুয়াংডং যাওয়ার পথে দক্ষিণ চীন সাগরের প্রবাল দ্বীপ স্কারবোরো শোয়ালের কাছে ডুবে গেল সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ডেভন বে। এতে ২ নাবিক নিহত হন। ৪ জন নিখোঁজ।
২৪ “গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের” সন্দেহে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সহ-সভাপতি ঝাং ইউজিয়া এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের যৌথ স্টাফ বিভাগের প্রধান লিউ ঝেনলিকে তদন্তের আওতায় আনা হল।
২৯ বার্মায় প্রতারণা কেন্দ্র চালানো মিং অপরাধ পরিবারভুক্ত ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে খেলোয়াড় লি তাই ও সাবেক সভাপতি ছেন জুইউয়ানসহ ৭৩ জনকে আজীবন নিষিদ্ধ করল চাইনিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

ফেব্রুয়ারি ২ বার্মায় প্রতারণা কেন্দ্র চালানো বাই অপরাধ পরিবারভুক্ত ৪ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন।
মাদক পাচারের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কানাডীয় নাগরিক রবার্ট লয়েড শেলেনবার্গের দণ্ডাদেশ ওভারটার্ন করল চীনের সুপ্রীম কোর্ট।
শানসি প্রদেশের শুয়োইয়াংয়ে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত।
১৫ জিয়াংসুর দোংহাই কাউন্টিতে একটি আতশবাজির দোকানে বিস্ফোরণে ৮ জন নিহত।
১৭ কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিল চীন।
১৮ হুবেই প্রদেশের শিয়াংইয়াংয়ে একটি আতশবাজির দোকানে বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত।
২৪ জাপানের পুনর্সামরিকায়ন প্রচেষ্টায় অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি বিধিনিষেধ আরোপ করল চীন।
২৬ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ১৯ জন সদস্যকে অজ্ঞাত কারণে অপসারণ করা হল।

তথ্যসূত্র

BBC

Foreign Affairs

The Business Standard

Wangu, Madhu Bazaz. 2009. Buddhism. 4th ed. Chelsea House.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

Whiteford, Gary T., and Salter, Christopher L.. 2010. China. 2nd ed. Chelsea House.

World History Encyclopedia

Xinjiang Documentation Project
https://xinjiang.sppga.ubc.ca/

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *