সাইপ্রাস

Spread the love

Featured Image: Wikipedia Commons.

Image: The Nations Online Project.

পূর্বসাল

পূর্বসাল ৬৫০০-৬০১ সাল প্রাচীন নিকট প্রাচ্য – সময়রেখা।

১১০০-১৪৬ প্রাচীন গ্রিস – সময়রেখা।

সাল

২২৪-৬৫১ সাসানীয় সাম্রাজ্য।

৩৩০-১৪৫৩ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৩২-১২৫৮ আরব-ইসলামী সাম্রাজ্য – সময়রেখা।

১১৯১ ইংল্যান্ডের ফরাসি রাজা রিচার্ড কয়ের দ্য লায়ন সাইপ্রাস দখল করলেন, তারপর নাইট টেম্পলারদের কাছে বিক্রি করে দিলেন।

১১৯২ গাই দ্য লুসিনানের কবজায় এল সাইপ্রাস।

১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি – সময়রেখা।

১৪৭৩ সাইপ্রাস ভেনিসের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হলো।

১৪৮৯ ভেনিস সাইপ্রাসে প্রত্যক্ষ শাসন প্রবর্তন করলো।

১৫৭১ ওসমানি সুলতানশাহি সাইপ্রাস দখল করে নিলো।

১৮৭৮ ওসমানি সুলতানশাহি ব্রিটিশদের কাছে সাইপ্রাসকে লিজ দিলো, তবে কাগজেকলমে তা তুর্কিদের সাম্রাজ্যভুক্তই ছিলো।

১৯১৪-১৮  World War I – Wikipedia।

১৯১৪ ব্রিটিশরা সাইপ্রাসকে নিজেদের সাম্রাজ্যভুক্ত করে নিলো।

১৯২৫ সাইপ্রাস একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হলো।

১৯৩১ সিপ্রিয়টরা দ্বীপটির গভর্নমেন্ট হাউজে আগুণ ধরিয়ে দিলেন।

১৯৩৯-৪৫  World War II – Wikipedia।

১৯৫০ আর্চবিশপ হিসেবে নির্বাচিত হলেন তৃতীয় ম্যাকারিওস।

১৯৫৫ সাইপ্রাসকে মুক্ত করে গ্রিসের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে গ্রিক সিপ্রিয়টরা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে নামলেন। ব্রিটিশ, গ্রিক, ও তুর্কিদের সম্মেলনে বোমা হামলা। তুরস্কে গ্রিকবিরোধী দাঙ্গা।

১৯৫৬ আর্চবিশপ ম্যাকারিওসকে সেশেলেসে নির্বাসিত করা হলো।

১৯৫৯ আর্চবিশপ ম্যাকারিওস সাইপ্রাসে ফিরে এলেন ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।

১৯৬০ সাইপ্রাস নিজের অধিকাংশ ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব পেলো, তবে দ্বীপটির দুটি সামরিক ঘাঁটির ওপর ব্রিটিশদের সার্বভৌমত্ব রয়ে গেলো। গ্রিক ও তুর্কি সিপ্রিয়টরা একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে রাজি হলেন। ট্রিটি অফ গ্যারান্টি, ব্রিটেন, গ্রিস, ও তুরস্ককে প্রয়োজনবোধে সাইপ্রাসে হস্তক্ষেপ করার অধিকার দিলো।

১৯৬৩ ব্রিটিশদের মদতে আর্চবিশপ ম্যাকারিওস তাঁর ১৩ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন। সংবিধান সংশোধন এই পরিকল্পনার অংশ ছিলো, যা তুর্কি সিপ্রিয়টদের মধ্যে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আতঙ্ক তৈরি করলো। দেশটিতে সাম্প্রদায়িক গোলযোগের সূচনা হলো।

১৯৬৪ সাইপ্রাস নিয়ে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার উপক্রম হলেও সোভিয়েত ও মার্কিন চাপে তা এড়ানো গেলো। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হলো। তুর্কি সিপ্রিয়টরা দ্বীপটির সুরক্ষিত ছিটমহলগুলোয় আশ্রয় নিলো।

১৯৬৭ গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে আবার যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে গ্রিস সাইপ্রাস থেকে সেনাপতি গ্রিভাস ও তাঁর ১২০০০ সৈনিককে প্রত্যাহার করলো।

১৯৭৩ নভেম্বর ১৭ এথেন্সে বিক্ষোভ। পর্দার অন্তরালে ক্ষমতা দখল করলেন সেনাপতি আয়োনিডাস। সামরিক জান্তার শাসনের শুরুয়াত।

১৯৭৪ গ্রিসের সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট ম্যাকারিওসের বিরুদ্ধে একটি ক্যুদেতায় মদত যোগালে তিনি পালিয়ে গেলেন। কিছুদিনের মধ্যে দ্বীপটির উত্তরে তুর্কিদের আগমন ঘটলো। তুর্কি বাহিনী দ্বীপটির এক-তৃতীয়াংশ দখল করে নিলো। ১৯৬৩ সালে জাতিসংঘের বাহিনীগুলোর টানা “গ্রিন লাইন” মোটামুটিভাবে অনুসরণ করে সাইপ্রাসকে উত্তর দক্ষিণে পার্টিশনড করা হলো। ১ লক্ষ ৬৫ হাজার গ্রিক সিপ্রিয়ট তুরস্কের দখলীকৃত উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে গেলো, অন্যদিকে ৪৫ হাজার তুর্কি সিপ্রিয়ট দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে এলো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাশ করলো, যেখানে তুরস্ককে সাইপ্রাস থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলা হলো। তুরস্ক বরাবরই তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে।

১৯৭৫ তুর্কি সিপ্রিয়টরা একটি স্বাধীন প্রশাসন গঠন করলো। রউফ দেঙ্কতাশ এই প্রশাসনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। ঠিক হলো দ্বীপের দুই অংশে জনবিনিময় চলবে।

১৯৭৭ আর্চবিশপ ম্যাকারিওসের মৃত্যু। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন স্পাইরোস কিপ্রিয়ানু।

১৯৮৩ তুর্কি সিপ্রিয়টরা তুর্কি প্রজাতন্ত্র উত্তর সাইপ্রাস (টিআরএনসি) ঘোষণা করলেন।*
* জাতিসংঘের সদস্য-রাষ্ট্র নয়। তুরস্ক ছাড়া আর কেউ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। সাইপ্রাস টিআরএনসির ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে থাকে।

১৯৮৩-বর্তমান Northern Cyprus – Wikipedia।

১৯৯০ সাইপ্রাস ইওরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের জন্য আবেদন জানালো।

১৯৯৬ ইমিয়া ঘটনা, গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হল।

২০০২ সাইপ্রাস নিয়ে ‘আনান পরিকল্পনা’ ও ‘কোপেনহেগেন সম্মেলন’।

২০০৩ এপ্রিল তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মত “গ্রিন লাইন” পারাপার করলেন তুর্কি ও গ্রিক সিপ্রিয়টরা।

২০০৪ মে ১ ইওরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দিলো সাইপ্রাস।

২০০৮ এপ্রিল নিকোশিয়ার গ্রিক ও তুর্কি অংশের মধ্যে প্রতীকী লেড্রা পথ পারাপার কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হল।

মুদ্রা হিসেবে ইওরো গ্রহণ করে নিলো সাইপ্রাস।

২০১০ এপ্রিল টিআরএনসির নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় জিতলেন স্বতন্ত্রতাপন্থী দারবিশ এরোগলু।

২০১২ এপ্রিল সাইপ্রাস সরকারের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে টিআরএনসির উপকূলে তেল গ্যাস উত্তোলনের জন্য খননকার্য শুরু করলো তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

২০১৬ জানুয়ারি নববর্ষ উপলক্ষ্যে এক নজিরবিহীন যৌথ টেলিভিশন বক্তৃতা প্রদান করলেন সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াডিস ও টিআরএনসি নেতা মুস্তফা আকিনসি।

২০২০ অক্টোবর টিআরএনসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন পুনরেকত্রীকরণ-বিরোধী জাতীয়তাবাদী এরসিন তাতার।

২০২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াডিসের সাথে বৈঠকের পর টিআরএনসির প্রেসিডেন্ট এরসিন তাতার বললেন, টিআরএনসির সার্বভৌম সমতা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে আমলে নেয়ার আগ পর্যন্ত সাইপ্রাসের ভবিষ্যৎ বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে না।

২০২৬ জানুয়ারি ১ কাউন্সিল অফ দি ইওরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করলো সাইপ্রাস।
১২ প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোডোউলিডেসের কার্যালয়ের পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চ্যারালাম্বোস চ্যারালাম্বুস। চ্যারালাম্বুসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নগদ অর্থের বিনিময়ে সুবিধা পাইয়ে দিতে নিজ পদ ব্যবহার করার অভিযোগ আছে।

মার্চ ১ ২০২৬ সালে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার জবাবে সাইপ্রাসের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলো ইরান। লক্ষ্যবস্তুটি আক্রোতিরি ও ধেকেলিয়ার ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি ছিলো। দ্বীপে পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইন্টারসেপ্ট করা হয়।
২ “ড্রোন হুমকির” কারণে পাফোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খালি করে ফেলা হলো। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সাইপ্রাসে দুটি ফ্রিগেট ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করলো গ্রিস।
৩ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার জানালেন, ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে আক্রোতিরি ও ধেকেলিয়াকে রক্ষা করতে সাইপ্রাসে রাজকীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
৫ ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানালো, দেশটি সাইপ্রাসে নৌসম্পদ পাঠাচ্ছে। ওলন্দাজ রাজকীয় নৌবাহিনীও ইওরোপীয় নৌ টাস্ক ফোর্সে যোগ দিচ্ছে। স্পেন ঘোষণা করল, ফরাসি বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল ও গ্রিক নৌবাহিনীর জাহাজের সাথে সাইপ্রাস রক্ষায় যোগ দেবে ফ্রিগেট ক্রিস্তোবাল কোলন ।
১০ আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার জবাবে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগন পোর্টসমাউথ ত্যাগ করে সাইপ্রাসের দিকে রওনা দিলো।

মে ২৪ ২০২৬ সালে সাইপ্রাসের আইনসভা নির্বাচন। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ১৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলো ডেমোক্রেটিক র‍্যালি।

জুন ৪ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হলেন আনিতা দেমেত্রিউ।

আগস্ট ৩০ কাইরেনিয়া থেকে তুরস্কের তাশুচু বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি ফেরি উত্তর সাইপ্রাসের অদূরে উল্টে গেলে এতে ৮ ব্যক্তি নিহত হন।

সেপ্টেম্বর ২২ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিসি) ৮১তম সেশনে প্রদত্ত এক ভাষণে তুর্কি প্রজাতন্ত্র উত্তর সাইপ্রাসকে (টিআরএনসি) স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসিপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
২৩ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিসি) ৮১তম সেশনে প্রদত্ত নিজ ভাষণে এরদোয়ানের আগের দিন দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে সাইপ্রাসের প্রধানমন্ত্রী নিকোস ক্রিস্টোডোউলিডেস বললেন, “গতকাল আমি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ভাষণ অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছি: (যেখানে) আন্তর্জাতিক আইন, সকল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং শরণার্থীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অথচ সাইপ্রাসের ক্ষেত্রে তুরস্ক ঠিক এর উল্টো আচরণই করে। চরম ভণ্ডামি।”

তথ্যসূত্র

BBC.

European Union.

Mallinson, William. 2005. Cyprus, a Modern History. I. B. Tauris.

Kathimerini English Edition.

World History Encyclopedia.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *