
ওসমানি সুলতানশাহি
Featured Artwork: World History Encyclopedia.

“From the beginning, the Ottoman dynasty relied on Muslims to give it their spiritual blessing, while using Islam to cultivate loyalty to the leaders and dynasty.”
Marc David Baer (1970), Jewish-American Historian
“Sovereignty and kingship are never decided by academic debate. They are seized by force. The Ottoman dynasty appropriated by force the government of the Turks, and reigned over them for six centuries. Now the Turkish nation has effectively gained possession of its sovereignty… This is an accomplished fact… If those assembled here … see the matter in its natural light, we shall all agree. Otherwise, facts will still prevail, but some heads may roll.”
Mustafa Kemal Atatürk (1881-1938), Founder of the Republic
“The Republic of Turkey, just like our previous states that are a continuation of one another, is also a continuation of the Ottomans. Of course, the borders have changed. Forms of government have changed… But the essence is the same, soul is the same, even many institutions are the same. Some people insistently try to start this country’s history from 1923. Some unrelentingly try to break us from our roots and ancient values.We take pride in our history without making discrimination.”
Recep Tayyip Erdoğan (1954-), Turkish Politician & President
সাল
১২৬১-১৩১০ গাজী প্রিন্সিপালিটিগুলোর প্রতিষ্ঠা, ওসমানিদেরটাও যার অন্তর্গত ছিল।
১২৮৪-১৩২৪ ওসমানি সুলতানশাহির প্রতিষ্ঠাতা ওসমান গাজির জীবনকাল।
১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি।
?-১৩২৪ ওসমান গাজির রাজত্বকাল।
১৩২৪-৬২ প্রথম ওরহানের রাজত্বকাল।
১৩২৬ ওসমানিদের বুরসা জয়।
১৩২৭ বুরসায় তৈরি হল প্রথম ওসমানি স্বর্ণমুদ্রা আকজে।
১৩৬১ আদ্রিয়ানোপোল, বর্তমানে এদির্নে, জয় করলেন প্রথম মুরাদ।
১৩৬২-৮৯ প্রথম মুরাদের রাজত্বকাল।
১৩৭১ মারিচা নদীর সমর। ওসমানি তুর্কিদের হাতে সার্ব অভিজাতদের পরাজয়।
১৩৮৫ ওসমানিদের সোফিয়া জয়।
সেপ্টেম্বর সাভরার সমর। ওসমানি সুলতানশাহির হাতে স্থানীয় শাসকদের পরাজয়। অধিকাংশ স্থানীয় শাসক ওসমানিদের সামন্তে পরিণত হল।
১৩৮৯ জুন ১৫ (পুরনো পঞ্জিকায় জুন ২৮) কসোভো মাঠের যুদ্ধে ওসমানিরা সার্ব অভিজাতদের হারান। বলকানে ওসমানি সুলতানশাহির পাঁচ শতাব্দীর শাসনের শুরুয়াত। কালক্রমে কসোভার আলবানীয়রা দেশটির সংখ্যাগুরু হয়ে উঠবে।
১৩৮৯-১৪০২ প্রথম বায়েজিদের রাজত্বকাল।*
* দ্য থান্ডারবোল্ট নামে পরিচিত।
১৩৯৩ ওসমানিদের স্খোদরা বিজয়।
১৩৯৬ স্খোদরা পুনরায় জয় করল ভেনেশীয়রা।
১৩৯৬ কসোভার কিছু অংশে তুর্কি গ্যারিসন ও ওসমানি প্রশাসন নানান মাত্রায় দেখা যেতে লাগল।
১৩৯৪-১৪০২ কন্সটান্টিনোপলে, বর্তমানে ইস্তানবুল, অবরোধ দিল ওসমানিরা।
১৩৯৬ বর্তমান বুলগারিয়ার নিকোপলিসে ওসমানি তুর্কদের কাছে হেরে যায় ক্রুসেডাররা। নিকোপলিসের যুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য অপরিসীম, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই ওসমানি সুলতানশাহির পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণের শুরু। পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে ইওরোপে সম্প্রসারিত হওয়া জারি রাখে ওসমানিরা।
১৪০১-১৬০০ এশিয়া ও আফ্রিকায় সম্প্রসারিত হল ওসমানি সুলতানশাহি।
১৪০২-১৩ অন্তর্বর্তীকাল।
১৪০২ আনাতোলিয়ায় আক্রমণ চালালেন আমীর তৈমুর। আঙ্কারার সমর। তৈমুরের হাতে ধরা পড়লেন প্রথম বায়েজিদ।
১৪০৫ আলবেনিয়ার জাতীয় বীর বিবেচিত সেকান্দার বেগের জন্ম।
১৪০৯ কসোভার সমর। স্তেফান লাজারেভিচ ও তাঁর ভাইয়ের মধ্যে। এই যুদ্ধে লাজারেভিচের ভাই ওসমানি সুলতান সোলেমানের মদত পেয়েছিলেন।
১৪১৩-২১ প্রথম মেহমেতের রাজত্বকাল।
১৪১৩ ওসমানি ভূখণ্ডগুলো এক করলেন প্রথম মেহমেত।
১৪১৫ ওসমানিদের হাতে ক্রুজা দুর্গের পতন ঘটে।
১৪১৫-৩১ আলবেনিয়াকে ধীরে ধীরে ওসমানি সুলতানশাহির অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল।
১৪১৭ ওসমানিদের ভ্লোরা, কানিনা ও বেরাত জয়।
১৪১৯ ওসমানিদের জিরোকাস্ত্রা জয়।
১৪২১-৪৪ দ্বিতীয় মুরাদের রাজত্বকাল।
১৪২৩ প্রিস্টিনায় এ সময় একটি ওসমানি আদালত ছিল।
১৪২৪ ওসমানি আর বাইজেন্টাইনদের মধ্যে শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হল।
১৪২৭ স্তেফান লাজারেভিচের স্থলাভিষিক্ত হলেন জুরাজ ব্রাঙ্কোভিচ। বৃহত্তর সার্ব ভূখণ্ডের অংশ কসোভার শাসক হিসেবে। সার্ব শাসকরা নিজেরাই এ সময় ওসমানিদের সামন্ত ছিলেন।
১৪৩১ সানজাক-ই আরনাভিদ। প্রতিষ্ঠিত হল আলবেনিয়ার ওসমানি সানজাক।
১৪৩২ ওসমানিদের বিরুদ্ধে জর্জ আরিয়ানিতির অভ্যুত্থান শুরু।
১৪৩৮ ক্রুজা দুর্গের সামরিক অধিনায়ক নিযুক্ত হলেন সেকান্দার বেগ।
১৪৪৩-৬৮ আলবেনিয়ায় সেকান্দার বেগের অভ্যুত্থান।
১৪৪৩-৬৮ সেকান্দার বেগের অভ্যুত্থান।
১৪৪৪ স্বেচ্ছায় সিংহাসন ছাড়লেন দ্বিতীয় মুরাদ।
১৪৪৪-৪৬ দ্বিতীয় মেহমেতের রাজত্বকাল।
১৪৪৪-৬৮ নিসের যুদ্ধ। ভার্না ক্রুসেডের অংশ এই যুদ্ধে ওসমানিরা হারে। জনৈক আলবেনীয় সামন্তপ্রভু ও সামরিক অধিনায়ক জের্জ কাস্ত্রিওতি সেকান্দার বেগ লীগ অফ লেঝের অধীনে আলবেনীয় শাসকদের একতাবদ্ধ করেন। ওসমানিদের বিরুদ্ধে আড়াই দশকের সংগ্রামের শুরুয়াত।
১৪৪৬-৫১ দ্বিতীয় মুরাদের রাজত্বকাল।
১৪৪৮ অক্টোবর ১৭-১৯ কসোভার দ্বিতীয় সমর। হাঙ্গেরীয় অধিনায়ক ইয়ানোস হুয়ানদির নেতৃত্বে একটি বাহিনী অপেক্ষাকৃত বিশাল আকারের ওসমানি বাহিনীর সম্মুখীন হল। ৩ দিনের লড়াই শেষে হুয়ানদি আর তাঁর হাঙ্গেরীয় বাহিনী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
১৪৫১-৮১ দ্বিতীয় মেহমেতের রাজত্বকাল।*
* ফাতিহ সুলতান নামে পরিচিত।
১৪৫৩ ফাতিহ সুলতান মেহমেতের হাতে কন্সটান্টিনোপলের পতন ঘটে, এতে এশিয়া মাইনর ও বলকানে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ওসমানি সুলতানশাহি। এসময় ওসমানি তুর্কিরা গ্রিস দখল করে নেয়।
১৪৫৫ কসোভার পুরোটাই ওসমানি নিয়ন্ত্রণে চলে এল।
জুন ১ ৪০ দিন ঘেরাও হয়ে থাকার পর সুলতান দ্বিতীয় মেহমেতের নেতৃত্বাধীন ওসমানি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নগরী নভোবেরদা। শহরটির ৩২০ জন তরুণকে জেনিসারির অন্তর্ভুক্ত করতে ধরে নিয়ে যাওয়া হল। নারীদের বিজয়ী শক্তির “পৌত্তলিকদের মধ্যে বিলিবন্টন”* করা হল।
* ইসলাম সম্পর্কে মধ্যযুগীয় ইওরোপীয় খ্রিস্টানরা যেসব ভুল ধারণা পোষণ করতেন, তার একটি হল: মুসলমানরা প্রাকখ্রিস্টীয় ইওরোপের গ্রিক বা রুমিদের মতই “পৌত্তলিক”।
১৪৫৬ হাঙ্গেরীয় অভিজাত ইয়ানোস হুনিয়াদির বাহিনী বেলগ্রেড ঘেরাও করে রাখা ওসমানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করল।
১৪৬০ ওসমানিদের মোরিয়া বিজয়।
১৪৬১ প্রিস্টিনায় নির্মিত হল ফাতিহ মসজিদ।
১৪৬৫-৮১ বর্তমানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নামে পরিচিত অঞ্চলটি এ বছর দখল করে নেন ওসমানিরা। শুরু হয় ওসমানি সুলতানদের ৪০০ বছরের শাসন। যে বসনীয় মুসলমানরা বসনিয়াক নামে পরিচিত, এরা মূলত এই সময়ই ইসলাম গ্রহণ করেন।*
* সার্ব পরিচয়বাদীরা এটাকে একটা বেঈমানি হিসেবে দেখেন। তাঁরা মনে করেন, ইসলাম ওসমানি তুর্কিদের বয়ে আনা “বিজাতীয়” ধর্ম, যাঁরা “বহিরাগতদের” ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাঁরাও “বহিরাগত”। বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে, যখন বসনিয়াকদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত করা হয়, তখন এই যুক্তিই ছিল তার মূল চালিকাশক্তি।
কিন্তু এই পরিচয়বাদী যুক্তি ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন। সার্বরা নিজেরাই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আগে বহুঈশ্বরবাদী ছিলেন। ধর্ম পাল্টালেই কারো জাতিগত পরিচয় বদলায় না।
দুর্ভাগ্যবশত, শুধু বলকানেই নয়, দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশসহ দুনিয়ার বহু অঞ্চলে পরিচয়বাদ নিরর্থক সংঘাত ও রক্তপাতের কারণ হয়েছে।
১৪৬৬ এলবাসান দুর্গ পুনর্নির্মাণ করলেন সুলতান মেহমেত।
১৪৬৮ জানুয়ারি ১৭ সেকান্দার বেগের মৃত্যু।
১৪৭৫ ওসমানিদের অধিরাজ্যে পরিণত হল ক্রিমিয়া খানাত।
১৪৭৮ ওসমানিদের হাতে ক্রুজার পতন।
১৪৭৯ জানুয়ারি দীর্ঘ অবরোধ শেষে ওসমানিদের হাতে স্খোদরার পতন।
১৪৮১-১৫১২ দ্বিতীয় বায়েজিদের রাজত্বকাল।
১৪৯২ নির্মিত হল বেরাতের সুলতান মসজিদ।
১৪৯৫ নির্মিত হল কোর্চের মিরাহর মসজিদ।
১৫০১ ওসমানির হাতে ডুরেসের পতন।
১৫১২ দ্বিতীয় বায়েজিদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল।
১৫১২-২০ প্রথম সেলিমের রাজত্বকাল।
১৫১৪ আগস্ট ২৩ চালদিরানের যুদ্ধ। শাহ ইসমাইলকে হারালেন প্রথম সেলিম। কুর্দিস্তানে ওসমানি সুলতানশাহি ও সাফাভি সাম্রাজ্যের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারিত হল।
১৫১৪-১৬ ওসমানিদের কুর্দিস্তান বিজয়।
১৫১৬-১৭ ওসমানিদের সিরিয়া ও মিসর বিজয়।
১৫১৬-১৯১৭ এ সময় ফিলিস্তিন শাসন করছে ওসমানি সুলতানশাহি।
১৫১৬-১৬৬০ কুর্দিস্তানের উত্তরাঞ্চলে ধ্রুপদী কাব্য সাহিত্যের উৎকর্ষের কাল।
১৫১৭ হিজাজের ওপর ওসমানি সুলতানশাহির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
১৫২০-৬৬ সুলতান সোলেমানের রাজত্বকাল।*
* ওসমানি সুলতানশাহির সীমা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেন, সাম্রাজ্যকে সংহত করার ক্ষেত্রেও অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। তাঁকে শেষ মহৎ সুলতান বিবেচনা করা হয়। পরবর্তী ওসমানি সুলতানরা স্রেফ নামকাওয়াস্তে সুলতান ছিলেন।
১৫২১ ওসমানিদের হাতে বেলগ্রেডের পতন।
১৫২৬ মোহাকসের যুদ্ধ। ওসমানি সুলতানশাহির হাতে পরাজিত হলেন হাঙ্গেরির রাজা।
১৫২৯ প্রথম সিয়েজ অফ ভিয়েনা। ওসমানি সুলতানশাহি সেপ্টেম্বর ২৭ থেকে অক্টোবর ১৫ পর্যন্ত ভিয়েনা অবরুদ্ধ করে রাখে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দখল করতে ব্যর্থ হয়।
১৫৩১ ভ্লোরায় একটি দুর্গ নির্মাণ করলেন সুলতান সোলেমান।
১৫৩২-৩৩ ওসমানি দখলদারিত্বের পর মোরিয়া (পেলোপোনিজ) থেকে আলবেনীয়রা ইতালিতে পালিয়ে যান।
১৫৩৭-৪২ ভ্লোরার মুরাদ মসজিদ নির্মাণ।
১৫৩৫ সিরিয়ার ফরাসি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সুরক্ষা দিল ওসমানিরা।
১৫৪৩-১৬০৩ শরাফ খান বিতলিসির জীবনকাল।
১৫৪৩-১৬০৩ শরাফনামা নামে কুর্দিদের একটি ইতিহাস লিখলেন শরাফ খান বিতলিসি।
১৫৫০ আল-আহসার ওপর ওসমানি সুলতানশাহির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
১৫৫১ কাবা ঘরের ছাদ পুনর্নিমাণ করালেন সুলতান সোলেমান।
১৫৫৭-১৭৬৬ সার্বীয় অর্থোডক্স চার্চ সীমিত স্বায়ত্তশাসন ফিরে পেল। এর পেছনে মেহমেদ পাশা সকোলোভিচের ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন এক ওসমানি উজির, যিনি মুসলমান হলেও নিজের পরিবারের সার্ব শেকড় ভোলেননি।
১৫৫৭ পেজায় ওসমানি উজির মেহমেদ পাশা সকোলোভিচ কর্তৃক সার্বীয় অর্থোডক্স গির্জা পুনর্বহাল করা হল।
১৫৬৬-৭৪ দ্বিতীয় সেলিমের রাজত্বকাল।
১৫৭৪-৯৫ তৃতীয় মুরাদের রাজত্বকাল।
১৫৭৮ বিতলিস প্রিন্সিপালিটির প্রধান হলেন শরাফ খান বিতলিসি।
১৫৮০ সিরিয়ার ব্রিটিশ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সুরক্ষা দিল ওসমানিরা।
১৫৯৩-১৬০৬ হাপসবুর্গ সাম্রাজ্য ও ওসমানি সুলতানশাহির মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ।
১৫৯৫-১৬০৩ তৃতীয় মেহমেতের রাজত্বকাল।
১৫৯৫-১৬১০ জেলালি বিদ্রোহ।
১৫৯৭ শরাফ খান বিতলিসি, শরাফনামা।*
* কুর্দিস্তানের ইতিহাস রচনার প্রথম পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা।
১৬০৩-১৭ প্রথম আহমেতের রাজত্বকাল।
১৬০৬-০৭ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে কুর্দি কানপোলাদ রাজবংশের বিদ্রোহ। বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়। কানপোলাদরা লেবানন পর্বতমালায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
১৬০৯-১৬ ইস্তানবুলে নির্মিত হল সুলতানাহমেত মসজিদ, যা নীল মসজিদ নামেও পরিচিত।
১৬১৪ ইতালীয় কূটনীতিক মারিয়ানো বলিজ্জার লেখায় কেলমেন্দি অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে স্খোদরার সানজাকের বর্ণনা।
১৬১৭-১৮ প্রথম মোস্তফার রাজত্বকাল।
১৬১৮ প্রথম মোস্তফাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
১৬১৮-২২ দ্বিতীয় ওসমানের রাজত্বকাল।
১৬২১ আলবেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের সাপা ও সার্ডার ক্যাথলিক বিশপ জেতের বুদি ওসমানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিলেন।
১৬২২ খুন হলেন দ্বিতীয় ওসমান।
১৬২২-২৩ প্রথম মোস্তফার রাজত্বকাল।
১৬২৩ প্রথম মোস্তফাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
১৬২৩-৪০ চতুর্থ মুরাদের রাজত্বকাল।
১৬২৯ বন্যার কারণে কাবা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনর্নিমাণ করালেন সুলতান চতুর্থ মুরাদ।
১৬৩৯ জুহাবের চুক্তি। কুর্দিস্তানে ওসমানি সুলতানশাহি ও সাফাভি সাম্রাজ্যের মধ্যকার সীমান্ত পুনঃনির্ধারিত হল। কিরকুক অঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিল ওসমানি সুলতানশাহি।
১৬৪০-৪৮ প্রথম ইব্রাহিমের রাজত্বকাল।*
* দ্য ক্রেজি নামে পরিচিত।
১৬৪৮ প্রথম ইব্রাহিমকে হত্যা করা হল।
১৬৪৮-৮৭ চতুর্থ মেহমেতের রাজত্বকাল।*
* দ্য হান্টার নামে পরিচিত।
১৬৫৫ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন বিতলিসের কুর্দি প্রশাসক আবদুল খান।
১৬৬০ কসোভা সফর করছেন ওসমানি পর্যটক এভলিয়া চেলেবি।
১৬৬৯ ওসমানিদের হাতে ক্রিটের পতন।
১৬৭০ দক্ষিণ আলবেনিয়া সফর করেন ওসমানি পর্যটক এভলিয়া চেলেবি। হাসায় ওসমানিদের বিরুদ্ধে বনু খালিদ গোত্রের বিদ্রোহ।
১৬৭১ হজ পালন করলেন ওসমানি পরিব্রাজক এভলিয়া চেলেবি।
১৬৭৬-৮১ মস্কোভিয়া-ওসমানি যুদ্ধ।
১৬৭৮ বাবান গোত্রের সর্দার সুলেইমান বের ইস্তানবুল সফর। পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ এই কুর্দি গোত্রপিতাকে পাশা উপাধি দেয়া হয়।
১৬৮৩-৯৯ হাপসবুর্গ সাম্রাজ্য ও ওসমানি সুলতানশাহির মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ।
১৬৮৩ দ্বিতীয় সিয়েজ অফ ভিয়েনা।*
* হাবসবুর্গদের রাজধানী ভিয়েনা দ্বিতীয়বারের মত অবরুদ্ধ করে ওসমানি তুর্কিরা। জুলাই ১৪ থেকে সেপ্টেম্বর ১২ পর্যন্ত চলা যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় তারা। এই যুদ্ধে ওসমানি সুলতানশাহি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, যা আখেরে মেয়াদে তাঁদের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
১৬৮৭-৯১ দ্বিতীয় সোলেমানের রাজত্বকাল।
১৬৯০ জানুয়ারি ২ কাসানিকে তুর্কিদের কাছে পরাস্ত হল অস্ট্রীয় বাহিনী। ধীরে ধীরে কসোভা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হল। পরের মাসগুলোতে, মধ্য সার্বিয়া ও কসোভোর সার্ব জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ সুরক্ষা পেতে উত্তরাভিমুখে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যে হিজরত করে, যা ভেলিকা সেওবা নামে পরিচিত।
১৬৯১-৯৫ দ্বিতীয় আহমেতের রাজত্বকাল।
১৬৯২ আহমাদ-ই খানি, মেম উ জিন।
১৬৯৫-১৭০৩ দ্বিতীয় মোস্তফার রাজত্বকাল।
১৬৯৬ ওসমানি সুলতানশাহির কাছ থেকে আজভ ছিনিয়ে নিল রাশিয়া।
১৬৯৯ প্রথম লিওপোল্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রীয় হাপসবুর্গরা হাঙ্গেরি থেকে ওসমানি তুর্কিদের তাড়িয়ে দিল।
জানুয়ারি ২৬ কার্লোভিৎজ চুক্তি সাক্ষরিত।
১৭০০ ওসমানি সুলতানশাহির সাথে শান্তিচুক্তি পাকা করল রাশিয়া।
১৭০৩ দ্বিতীয় মোস্তফাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল।
১৭০৩-৩০ তৃতীয় আহমেতের রাজত্বকাল।
১৭০৩-০৭ জেরুসালেমে ওসমানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নকিব আল-আশরাফ* বিদ্রোহ।
* এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন মোহাম্মদ বিন মোস্তফা আল-ওয়াফা’ই আল-হোসেইনি। তিনি ছিলেন তাঁদের নকিব (প্রধান), যাঁদের ইসলামের নবির সরাসরি বংশধর (আশরাফ) ভাবা হয়। তাই এই নামকরণ।
১৭১১ ওসমানিদের হাতে পরাজিত হলেন পিটার দ্য গ্রেট।
১৭১৫ ওসমানিদের মোরিয়া পুনর্বিজয়।
১৭১৮-৩০ টিউলিপ পর্ব।
১৭২৭/১৭৪৪-১৮১৮ প্রথম সৌদি রাষ্ট্র।
১৭৩০ তৃতীয় আহমেতকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল।
১৭৩০-৫৪ প্রথম মাহমুদের রাজত্বকাল।
১৭৩৬-৩৯ ওসমানিদের বেলগ্রেড পুনর্বিজয়।
১৭৪৬-৭৫ স্বাধীনভাবে আক্রে শাসন করছেন জহির আল-ওমর আল-জায়দানি।*
* গালিলির জায়দানি বংশ প্রত্যক্ষ ওসমানি শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে বসে। তুলা, শস্য, জলপাইয়ের তেল, আর তামাক রফতানির ওপর নিজ একচেটিয়া কাজে লাগিয়ে গালিলি ও তার পশ্চাৎভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করলেন জহির আল-ওমর আল-জায়দানি, নাজারেথ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। আক্রেকে নিজের রাজধানী বানালেন জহির।
১৭৫৪-৫৭ তৃতীয় ওসমানের রাজত্বকাল।
১৭৫৭-৭৪ তৃতীয় মোস্তফার রাজত্বকাল।
১৭৫৭-৭৫ স্খোদরার পাশা মেহমেদ বুশাতলিউয়ের রাজবংশ।
১৭৬৮-১৭৭৪ রুশ-তুর্কি যুদ্ধ।*
* এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয় কুচুক কাইনারজি চুক্তিতে, যা সাম্রাজ্যিক রাশিয়াকে কৃষ্ণসাগরের উত্তরে বিপুল ভূখণ্ডগত সহায়তা প্রদান করে।
১৭৭৩-৭৪ নির্মিত হল স্খোদরার সীসা মসজিদ।
১৭৭৪ কুচুক কায়নারকা চুক্তি সাক্ষরিত।
১৭৭৪-৮৯ প্রথম আবদুলহামিদের রাজত্বকাল।
১৭৭৫-১৮০৪ ওসমানি সুলতানশাহি জায়দানি স্বায়ত্তশাসনের অবসান ঘটাল। ওসমানি সুলতান আহমাদ পাশা আল-জাজ্জারকে সিদন উলাইয়াতের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেন। আল-জাজ্জার আক্রেতে তার সরকার স্থাপন করলেন এবং আক্রে-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক একচেটিয়া টিকিয়ে রাখলেন; তবে প্রকাশ্যে ইস্তানবুলের ওসমানি কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করা থেকে বিরত থাকলেন।
১৭৭৮-৯৬ আলবেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের স্খোদরার পাশা কারা মাহমুদের রাজত্বকাল।
১৭৮১ সুলেইমানিয়া শহর প্রতিষ্ঠা করলেন মাহমুদ পাশা বাবান।
১৭৮৭-৯১ তুরস্কের সাথে যুদ্ধ, রুশ ভূখণ্ডের পরিমাণ বাড়ল।
১৭৮৭ কুর্দি গোত্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করলেন রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন।
১৭৮৭-১৮২২ আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ও এপিরুসে ‘জানিনার সিংহ’ বলে খ্যাত আলী পাশা তেপেলেনার রাজত্বকাল।
১৭৯৩-৯৪ তিরানায় নির্মিত হল এথ’হেম বে মসজিদ।
১৭৮৯-১৮০৭ তৃতীয় সেলিমের রাজত্বকাল।*
* সংস্কার যুগের সূচনা করেন।
১৭৮৯/১৮০৩-১৮১৩ আবদুররহমান পাশা বাবানের রাজত্বকাল।
১৭৯৭/১৮০০-১৮৫৫/৫৬ নালির জীবনকাল।
১৮০৪-৫ দুর্নীতিগ্রস্ত ওসমানি সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কারাজর্জের নেতৃত্বে প্রথম সার্ব বিদ্রোহ।
১৮০৫-৪৮ মাহ শরাফ খানমের, তখল্লুস মাস্তুরে আরদালান, জীবনকাল।
১৮০৬ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে আবদুররহমান পাশা বাবানের বিদ্রোহ।
১৮০৬-০৯ রুশ-তুর্কি যুদ্ধ।
১৮০৭ তৃতীয় সেলিমকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
১৮০৭-০৮ চতুর্থ মোস্তফার রাজত্বকাল।
১৮০৮ চতুর্থ মোস্তফাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
১৮০৮-৩৯ দ্বিতীয় মাহমুদের রাজত্বকাল।
১৮১১ বাসুর বা ইরাকি কুর্দিস্তানে নকশবন্দি সূফি তরিকা প্রতিষ্ঠা করলেন মৌলানা খালিদ।
১৮১১-৩২ স্খোদরার মুস্তফা পাশা বুশাতলিউয়ের রাজত্বকাল।
১৮১৪ সৌদিদের কাছ থেকে আল হিজাজ ছিনিয়ে নিলেন মিসরের ওসমানি প্রশাসক মোহাম্মদ আলি। সোরান আমিরশাহির প্রধান হলেন রাওয়ানদুজের মীর মোহাম্মদ।
১৮১৫ মিসরের মোহাম্মদ আলির বাহিনী ওহাবিদের পরাজিত করল।
১৮১৭-৯৭ কুর্দি কবি হাজী কাদির কোয়ির জীবনকাল।
১৮১৮ দিরিয়ার সৌদি রাষ্ট্র ধবংস করে দিলেন মোহাম্মদ আলির পুত্র ইব্রাহিম পাশা। আবদুল্লা বিন সৌদকে ইস্তানবুলে নিয়ে যাওয়া গেল। সেখানে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়।
১৮২০ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট ক্লডিয়াস রিচের সুলেইমানিয়া সফর। রিচের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ সময় শহরটির জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। ছিল ৫টি বাজার, ২টি মসজিদ, ও ১টি হাম্মামখানা।
১৮২১-২৯ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গ্রিকদের স্বাধীনতালাভ।
১৮২১-৪৭ বোহতানের শেষ আমির বদর খান বেগের রাজত্বকাল।
১৮২২ ফেব্রুয়ারি ৫ জানিনায় আলী পাশা তেপেলেনার মৃত্যু।
১৮২৫-২৬ ওসমানিদের জোরপূর্বক কর সংগ্রহের বিরুদ্ধে জেরুসালেম বিদ্রোহ। ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেমের নিয়ন্ত্রণ নিলেন এবং শহরটি থেকে ওসমানি সেনাদের তাড়িয়ে দিলেন। বিদ্রোহের জন্য নেতাদের কোন সাজা দেয়া হবে না, ওসমানিরা এই ওয়াদা করার পর, বিদ্রোহীদের শান্তিপূর্ণ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
১৮২৬ ওসমানি সুলতানশাহি থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল গ্রিস।
১৮২৬-৩০ ওসমানি সুলতানশাহির ভেতরে কিছুটা স্বায়ত্তশাসন পেল সার্বিয়া।
১৮২৭-২৯ রুশ-তুর্কি যুদ্ধ। রাশিয়ার বিজয় ও আদ্রিয়ানোপোল চুক্তির মধ্য দিয়ে শেষ হল।
১৮৩২ ওসমানি সুলতান সার্বীয় অর্থোডক্স চার্চকে স্বাধীন ঘোষণা করলেন। রাওয়ানদুজ থেকে সিনজারে হামলা করলেন মোহাম্মদ পাশা।
১৮৩১-৩৪ মিসরের শাসক মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম পাশার নেতৃত্বে মিসরীয় সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনে হামলা চালাল। ওসমানিদের কাছ থেকে অঞ্চলটির অধিকাংশের নিয়ন্ত্রণ নিল। যা পুরো লেভান্তয়ে দখলদারির পথ খুলে দিল।
১৮৩৬ দিয়ারবাকিরে ওসমানিদের গ্রিক প্রশাসক রশিদ মেহমেত পাশার হাতে পরাস্ত হলেন রাওয়ানদুজের মীর মোহাম্মদ। তাঁকে তদনগদ ইস্তানবুলে পাঠানো হল, যেখানে তাঁকে “কুর্দিস্তানের প্রকাশক” হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। ফেরার পথে ওসমানি এজেন্টরা তাঁকে খুন করে।
১৮৩৭ সিনজারে হামলা চালালেন দিয়ারবাকিরের ওসমানি প্রশাসক হাফিজ পাশা।
১৮৩৯-৬১ প্রথম আবদুলমজিদের রাজত্বকাল।
১৮৩৯ নভেম্বর ৩ ওসমানি সুলতানশাহিতে তানজিমাত সংস্কারের সূচনা। বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরুদ্ধে আলবেনীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তুললেন।
গুলহানে হাত্তি-ই শেরিফি একটি ফরমান জারি করলেন সুলতান প্রথম আবদুলমজিদ।
১৮৩৯-৭৬ তানজিমাত, ওসমানি সুলতানশাহি জুড়ে উদারপন্থী সংস্কার কর্মসূচি।
১৮৩৯-৪১ ওসমানি সুলতানশাহির সমর্থনে এগিয়ে এল ইওরোপীয় শক্তিবর্গ। লেভান্ত ও আনাতোলিয়া থেকে মিসরীয় সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করতে হস্তক্ষেপ চালাল গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া, ও অস্ট্রিয়া। মোহাম্মদ আলী লেভান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন।
১৮৩৯-৬২ ইওরোপীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল। পবিত্র ভূমিতে বসবাসরত খ্রিস্টানদের রক্ষা করার দোহাই দিয়ে নেয়া হয়েছিল এই পদক্ষেপ। আসল উদ্দেশ্য ছিল ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসা ওসমানি সুলতানশাহিতে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
১৮৪০-৪৯ কুর্দিস্তানের বারজানে বারজানি বংশ প্রতিষ্ঠা লাভ করল।
১৮৪০ এক দল কুর্দি আমিরের সাথে এক গুচ্ছ জোট গঠন করলেন বদর খান বেগ। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুকুসের খান মাহমুদ এবং হাক্কারির নুরুল্লা বে। বিচার ব্যবস্থা ও সেনা সংস্কার করেন বেগ।
আল হিজাজে প্রত্যক্ষ ওসমানি শাসন পুনর্বহাল করা হল।
১৮৪২ সিজরের প্রশাসনিক এখতিয়ার দিয়ারবাকির থেকে মসুলে স্থানান্তরিত করে বদর খান বেগের আমিরশাহি ভাঙার চেষ্টা চালাল ওসমানি সরকার। এঁর প্রতিক্রিয়ায় বদর খান প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন। নিজের নামে মুদ্রা বানাতে শুরু করেন তিনি। তবে সবচে বড় কথা, জুমার খুতবায় সুলতানের নাম নিজের নাম দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেন। ইসলামি ঐতিহ্যে জুমার খুতবা কার নামে পড়ানো হবে, এর বিশাল রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল। ছিল সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই, বেগ মূলত নিজের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করছিলেন।
১৮৪৩, ১৮৪৬ হাক্কারির নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালান বদর খান বেগ, যা ইওরোপের বৃহৎ শক্তিদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করে।
১৮৪৫ ওসমানিদের হাতে পরাজিত হলেন আহমেদ পাশা বাবান।
১৮৪৬ বদর খান বেগের ভাতিজা ও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সেনা কমান্ডার ইয়েজদান শার ওসমানিদের পক্ষে যোগ দিলে তিনি পিছু হঠতে বাধ্য হয়। ওসমানিরা ইয়েজদানকে লোভ দেখিয়েছিল, তাঁদের পক্ষে চলে এলে বোহতানের নয়া আমির বানিয়ে দিবে। ইয়েজদান, বলাই বাহুল্য, এই প্রস্তাব লুফে নেন।
১৮৪৬-৬৭ এয়ালেত-ই কুর্দিস্তান।*
* ওসমানি সুলতানশাহি এই প্রথম কুর্দিস্তান শব্দটা ভৌগোলিক অঞ্চলের বদলে প্রকাশনিক ইউনিট অর্থে ব্যবহার করল।
১৮৪৭ ওসমানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেনশেষ আধা-স্বাধীন কুর্দি আমিরশাহির আমির বদর খান বেগ।
১৮৪৯ সিনজারে ওসমানি সুলতানশাহির প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি।
১৮৫০ বাবান গোত্রের পতন।
১৮৫০-৭৬ কুর্দি অভিজাত পরিবারগুলোর পতনে কুর্দিস্তান জুড়ে ক্ষমতার জায়গাটায় একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অচিরেই এই শূন্যতাটা পূরণ করেন কুর্দি শেখরা। তাঁরা ছিলেন অঞ্চলটির বিভিন্ন সূফি তরিকার প্রধান।
ওসমানিরা যে তানজিমাত বা উদারপন্থী সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, এটা কুর্দি জনগণ ভালোভাবে নেননি। ওসমানি প্রশাসনের ওপর ইওরোপীয় সরকারগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তাঁরা মুসলমানদের ওপর খ্রিস্টানদের আধিপত্য লাভের বাসনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছিলেন। এ সময় অঞ্চলটিতে ইওরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমন পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।
কুর্দিরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, ইসলামের পরম্পরাগত কর্তৃত্ব হুমকির মুখে; আর এই বিশ্বাস শেখদের শক্তিশালী করে তোলে।
১৮৫৩-১৮৫৬ ক্রিমিয়া যুদ্ধ। একপক্ষে ছিল সাম্রাজ্যিক রাশিয়া, আর অপরপক্ষে ছিল ওসমানি সুলতানশাহি, গ্রেট ব্রিটেন, ও ফ্রান্স। প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে।*
* ক্রিমিয়া যুদ্ধের সাথে উপমহাদেশের বিচিত্র সম্পর্ক আছে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের অন্যতম নেতা আজিমুল্লাহ খান ক্রিমিয়া যুদ্ধে রুশদের হাতে ইংরেজদের মার খাওয়ার ঘটনায় উদ্দীপিত হয়েছিলেন। তিনি রুশ গোয়েন্দাদের সাথে যোগাযোগ করেন, যারা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেয়, ভারতবাসী ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে রাশিয়া তাতে মদত যোগাবে। (সেন ২০১৮)
১৮৫৪-৫৬ ওসমানিরা তাদের সুলতানশাহিতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করল। এর প্রতিক্রিয়ায় মক্কায় দাঙ্গাহাঙ্গামা দেখা দিল।
১৮৫৫ স্খোদরায় প্রতিষ্ঠিত হল ফ্রান্সিস্কান স্কুল।*
* এই স্কুলেই প্রথম আলবেনীয় ভাষায় পাঠদান করা হয়।
১৮৫৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ইসলাহাত হাত্তি-ই হুমায়ূন নামে একটি ফরমান জারি করলেন সুলতান প্রথম আবদুল মজিদ। যা তানজিমাতয়ের অংশ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ওসমানি সুলতানশাহির সংস্কার ও আধুনিকীকরণ।
১৮৫৮ এপ্রিল ২১ হিজরি ১২৭৪ সনের ৭ রমজান ওসমানি সুলতানশাহির সর্বত্র জারি করা হল ওসমানি ভূমি বিধি।
১৮৫৯ ওসমানি রাষ্ট্রদূতকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হল।
১৮৬১-৭৬ প্রথম আবদুলআজিজের রাজত্বকাল।
১৮৬৪ নভেম্বর ৭ ওসমানিরা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন প্রশাসনিকভাবে পুনর্গঠন করলেন; ফলে জেরুসালেম, নাবলুস, আর আক্রে সিরিয়া প্রদেশের অংশ হয়ে গেল।
১৮৬৭ জুন ১০ হিজরি ১২৮৪ সনের ৭ সফর ওসমানি সুলতানশাহিতে বিদেশিদের বৈধভাবে জমি কেনার অধিকার দেয়া আইন পাশ হল। এর আগ পর্যন্ত এই অধিকার স্রেফ মুসলমান ও ওসমানি প্রজাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর ফলে ওসমানি ফিলিস্তিনের ভূমি বাজার ইহুদি-অইহুদি নির্বিশেষে ইওরোপীয়দের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেল।
কুর্দিদের আরদালান প্রিন্সিপালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে দিলেন পারস্যের রাজা নাসের আল-দ্বীন শাহ কাজার।
প্রথম ওসমানি সুলতান হিসেবে ইওরোপ সফর করলেন আবদুল আজিজ।
১৮৬৮ বাগদাদের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে মিদহাত পাশার নিয়োগের ভেতর দিয়ে আরব উপদ্বীপে ওসমানিদের সম্প্রসারণবাদী পর্যায় শুরু হল। ওসমানিরা পূর্ব আরবের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করল। স্থানীয় আইয়িদ রাজবংশের কাছ থেকে দখল করল আসির।
১৮৬৯ সেপ্টেম্বর ২০ ওসমানি শিক্ষা আইন পাশ করা হল। সাম্রাজ্য জুড়ে ঘটল আধুনিক শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার। বিশেষত, লেভান্তের প্রধান শহরগুলোতে।
১৮৭২ জেরুসালেম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাকে একটি স্বাধীন সানজাকয়ের (জেলা) মর্যাদা দেয়া হল, যারা সরাসরি ইস্তানবুলের সাথে ডিল করবে।
১৮৭৬-৭৮ প্রথম সাংবিধানিক যুগ।
১৮৭৬ মে ৩০-৩১ আগস্ট পঞ্চম মুরাদের রাজত্বকাল।
জুলাই ২ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রো।
আগস্ট ৩১ পঞ্চম মুরাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো। সুলতান হলেন তাঁর আধ-ভাই দ্বিতীয় আবদুল হামিদ।
ডিসেম্বর ১৯ মৌলিক আইন (Kānûn-ı Esâsî) নামে ওসমানি সুলতানশাহির সংবিধান প্রবর্তন করলেন আবদুল হামিদ।*
* এই সংবিধান প্রথমবারের মত সাম্রাজ্যের সকল প্রজার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এমন একটি ওসমানি রাজনৈতিক পরিচয় গঠন করার চেষ্টা চালায়। সেইসাথে একটি দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব দেয়। এর একটি হবে সিনেট, যার সদস্যরা সুলতান কর্তৃক মনোনীত হবেন; অন্যটি হবে চেম্বার অফ ডেপুটিজ, যার সদস্যরা বিভিন্ন প্রদেশে নির্বাচিত হবেন।
১৮৭৬-১৯০৯ দ্বিতীয় আবদুলহামিদের রাজত্বকাল।
১৮৭৭ মার্চ ১৯ জেরুসালেমের প্রতিনিধি হিসেবে ওসমানি চেম্বার অফ ডেপুটিজে নির্বাচিত হলেন ইউসূফ দিয়া-উদ্দিন পাশা আল-খালিদি।*
* ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ঐতিহাসিক ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক আরব অধ্যয়নের এডওয়ার্ড সাঈদ অধ্যাপক রশিদ খালিদির পূর্বপুরুষ।
১৮৭৮ অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদ মুলতুবি করলেন দ্বিতীয় আবদুল হামিদ।
ওসমানি ফিলিস্তিনের দলিলপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, এসময় জেরুসালেম, নাবলুস আর আক্রে শহরে বসবাসরত চার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে মাত্র ১৫,০০০ ইহুদি। বিদেশি নাগরিক হিসেবে আরো ১০,০০০ ইহুদি আছেন। এসময় স্পষ্টত আরবরাই ফিলিস্তিনের জনমিতিক সংখ্যাগুরু।
বার্লিন কংগ্রেস, ওসমানি তুর্করা তাঁদের অধিকাংশ ইওরোপীয় ভূখণ্ড হারায়, এ সময় থেকেই জার্মানি তুরস্কের বন্ধুরাষ্ট্র হয়ে উঠতে থাকে।
১৮৮০ কুর্দিদের জন্য আজাদির দাবি তোলেন শেখ ওবায়দুল্লা। তাঁর বিদ্রোহ এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এই বিদ্রোহ কুর্দি জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিল।
১৮৮১ নভেম্বর ২৪ ওসমানি সুলতানশাহিতে ইহুদি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের তরফে কিছু শর্ত দেয়া হল। এগুলো ছিল:
১) ইওরোপীয় ইহুদিরা ওসমানি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বসতিস্থাপন করতে পারবেন, কিন্তু ফিলিস্তিনে না,
২) তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বসতিস্থাপন করতে হবে,
৩) তাদের নিজেদের বিদেশি নাগরিকত্ব বিসর্জন দিতে হবে এবং ওসমানি প্রজা হয়ে যেতে হবে, এবং
৪) তারা কোন বিশেষাধিকার দাবি করতে পারবেন না, এবং সাম্রাজ্যের আইন মেনে চলবেন।
১৯১৭-১৮ সালে ফিলিস্তিন ব্রিটিশ দখলদারিত্বে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কাগজেকলমে এসব নীতি বহাল ছিল। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানান খামতি রয়ে গেছিল। যার কারণ ছিল আইনী ফাঁকফোকর, বাস্তব বাধাবিপত্তি, এবং ওসমানি রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের দুর্নীতি।
ওসমানি বাহিনী প্রিজরেন দখল করে নিয়ে লীগ অফ প্রিজরেনকে ছত্রভঙ্গ করে দিল।
১৮৮৪ আগস্ট ইস্তানবুলে প্রকাশিত হল আলবেনীয় ভাষার পিরিয়ডিকাল Drita (আলো)।
১৮৮৮ মার্চ ওসমানিরা সিরিয়া প্রদেশকে সিরিয়া আর বৈরুত প্রদেশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ফিলিস্তিনে, নাবলুস আর আক্রে জেলাকে বৈরুতের সাথে জুড়ে দেয়া হল। জেরুসালেম জেলা ইস্তানবুলের সাথে সম্পর্কিত থেকে গেল।
মার্চ ২-৪ অক্টোবর ওসমানিরা ইওরোপীয় শক্তিগুলোকে অবহিত করল, ফিলিস্তিনে পা রাখার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা তিন মাসের আবাসন অনুমতিপত্র পেতে হলে ইহুদিদের পাসপোর্টে “পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করতে হবে, তাঁরা শুধু তীর্থস্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে জেরুসালেমে যাচ্ছেন, ব্যবসাবাণিজ্য করতে বা বসবাস করার উদ্দেশ্যে নয়।” ব্রিটেন, ফ্রান্স, ও যুক্তরাষ্ট্র শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করে। অক্টোবরে, ওসমানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, এইসব বিধিনিষেধ শুধু ফিলিস্তিনে বড় আকারে অভিবাসিত হওয়া ইহুদিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইহুদিদের কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।
তুরস্কের মুস শহরে বাসরত হাজি মুসা নামের জনৈক কুর্দি শেখ আরমেনুহি নামের এক আরমানি তরুণীকে অপহরণ করেন। মেয়েটিকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করে তারপর বিয়ে করেন। নাম রাখেন গুলিজার।
এই ঘটনা ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দাবাদের জন্ম দেয়। মেয়েটিকে পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। যদিও পরের বছর হাজি মুসাকে কাঠগড়ায় তোলে ওসমানি সরকার, তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
এই রায় সুলতানের আরমানি প্রজা ও বৃহত্তর ইওরোপীয় জনগণ উভয়কেই ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৮৮৯ ইস্তানবুলে উদারপন্থী সংস্কার আন্দোলনে ‘তরুণ তুর্কি’-দের সাথে যোগ দিলেন কুর্দি বুদ্ধিজীবীরা।
১৮৯১ হামিদিয়ে নামে একটি কুর্দি ঘোড়সওয়ার বাহিনী গঠন করলেন ওসমানি সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ।
জুন জেরুসালেমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ফিলিস্তিনে রুশ ইহুদিদের বসতিস্থাপন ও জমি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইস্তানবুলে একটা পিটিশন করলেন।
১৮৯২ ইস্তানবুলে একটা সাম্রাজ্যিক ট্রাইবাল স্কুল (Mekteb-i Aşiret-i Humayun) খোলা হল, যার পাঠ্যসূচিতে তুর্কি ভাষা ও ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ও রাখা হয়েছিল। যদিও প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল আরব গোত্রনেতাদের ছেলেদের ‘উপজাতি’ থেকে ‘সভ্য’ বানানো, কুর্দিদের জন্যও স্কুলের দরজা খোলা ছিল। ১৯০৭ সালে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
মসুল থেকে সিনজারে হামলা করলেন ওমর ওয়াহবি পাশা।
১৮৯২-৯৩ নভেম্বর ২৬-৩ এপ্রিল ওসমানি প্রজা হোক আর বিদেশি হোক, সকল ইহুদির কাছে মিরি (private usufruct State land) বেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল ওসমানি সরকার। ইওরোপীয় শক্তিবর্গ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল। ওসমানিরা ঘোষণা করলেন, যেসব বিদেশি ইহুদি ফিলিস্তিনে বৈধভাবে বাস করেন, তাঁরা চাইলে ওসমানি ফিলিস্তিনে জমি কিনতে পারবেন।
১৮৯৪-৯৬ হামিদিয়ে হত্যাযজ্ঞ। সুলতানের কুর্দি অশ্বারোহী বাহিনী ওসমানি অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন হিসাবে ৮০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ আরমানিকে খুন করে। ঘটনাটা জানাজানি হলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়; সুলতান দ্বিতীয় আবদুলহামিদকে এই হত্যাযজ্ঞের জন্য রাজনৈতিকভাবে দায়ী করা হয় এবং তাঁকে বিরোধীদের তরফে ‘লাল সুলতান’ আখ্যা দেয়া হয়।
১৮৯৪-১৯২৪ ৩০ বছর ধরে প্রথমে ওসমানি সুলতানশাহি, তারপর তরুণ তুর্কি, ও সেক্যুলার প্রজাতন্ত্রীরা তুরস্কের সংখ্যালঘু অ্যাসিরীয়, আরমানি, ও গ্রিক খ্রিস্টানদের ওপর এক ভয়াবহ ও পদ্ধতিগত গণহত্যা চালায়। আরমানি গণহত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটা ছিল এই বৃহত্তর গণহত্যার একটি অংশ। (Morris & Ze’evi 2019)
১৮৯৪-৯৬ হামিদিয়ে হত্যাযজ্ঞ। সুলতানের কুর্দি অশ্বারোহী বাহিনী ওসমানি অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন হিসাবে ৮০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ আরমানিকে খুন করে। ঘটনাটা জানাজানি হলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়; সুলতান দ্বিতীয় আবদুলহামিদকে এই হত্যাযজ্ঞের জন্য রাজনৈতিকভাবে দায়ী করা হয় এবং তাঁকে বিরোধীদের তরফে ‘লাল সুলতান’ আখ্যা দেয়া হয়।
১৮৯৮ মিসরে নির্বাসিত থাকা অবস্থায় মিদহাত বদর খান কর্তৃক প্রকাশিত হল কুর্দি পত্রিকা কুর্দিস্তান।
১৯০২ প্যারিসে ‘তরুণ তুর্কি’ আন্দোলনের কংগ্রেস অফ অটোমান অপোজিশনে শামিল হলেন কুর্দি অভিজাত আবদুররহমান বদর খান ও হিকমেত বাবান।
১৯০৫ আল-কাশিমে একটি ছোট ওসমানি গ্যারিসন মোতায়েন করা হল।
১৯০৬ বোহতান প্রিন্সিপালিটির শেষ আমিরের নাতি আবদুররেজাক বদর খান ও তাঁর পরিবারকে নির্বাসিত করল ওসমানিরা।
১৯০৭-০৮ ওসমানিদের বিরুদ্ধে শেখ আবদুস সালাম বারজানির বিদ্রোহ।
১৯০৮ জুলাই ৩-২৪ তরুণ তুর্কি বিপ্লব।
সেপ্টেম্বর ইস্তানবুলে প্রতিষ্ঠা করা হল কুর্দিশ সোসাইটি ফর মিউচুয়াল এইড অ্যান্ড প্রগ্রেস (Kürt Teavün ve Terakki Cemiyeti: KTTC)।
আগস্ট ইস্তানবুলে অধ্যয়নরত একদল ছাত্র মিলে গঠন করলেন কুর্দিশ স্টুডেন্ট হোপ সোসাইটি।
তুরস্কের তরুণ তুর্কি বিপ্লবের ধারাবাহিকতায়, কাগজেকলমে ওসমানি সুলতানশাহির অংশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করে নিল অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি।
১৯০৮-২০ দ্বিতীয় সাংবিধানিক পর্ব।
১৯০৯ এপ্রিল ২৬ দ্বিতীয় আবদুলহামিদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
১৯০৯-১৮ মেহমেত পঞ্চম রেসাদের রাজত্বকাল।
১৯১০ কুর্দিস্তানে ফিরে এলেন আবদুররেজাক বদর খান।
১৯১১ নভেম্বর ২১ গঠন করা হল ফ্রিডম অ্যান্ড অ্যাকর্ড পার্টি।
১৯১২ ইরশাদ নামে একটি বিপ্লবী দল গঠন করলেন আবদুররেজাক বদর খান। টিকলো না। পরের বছর তাঁর অন্যতম সাথী হায়রেদ্দিন বেরাজি খুন হলে দলটি ধবংস হয়ে যায়।
আগস্ট ইস্তানবুলে অধ্যয়নরত একদল ছাত্র মিলে গঠন করলেন কুর্দিশ স্টুডেন্ট হোপ সোসাইটি।
ওসমানি তুর্কিদের থেকে কসোভো ছিনিয়ে নিল সার্বরা।*
* সার্ব নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদীরা এই ঘটনাকে “বিজাতীয় ও বহিরাগত মুসলমানদের হাত থেকে কসোভোর মুক্তি” হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে কসোভার আলবানীয় নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদীরা দেখেন আধুনিক জামানায় সার্ব দখলদারিত্বের সূচনা হিসেবে।
অক্টোবর ৮ প্রথম বলকান যুদ্ধের সূচনা।
ওসমানি সুলতানশাহির কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল আলবেনিয়া।
১৯১৩ জুলাই ২৯ ইঙ্গ-ওসমানি কনভেনশন “ব্লু লাইন”কে ওসমানি ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে পূর্ব আরবের সীমানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯১৪ মে ওসমানিদের সাথে একটি চুক্তি সই করলেন আবদুল আজিজ।
মসুলে শেখ আবদুস সালাম বারজানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।*
* এই যুদ্ধে কুর্দিরা ওসমানি সুলতানশাহির পক্ষে লড়েছিল।
১৯১২-১৩ প্রথম বলকান যুদ্ধ। ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামল বলকান লীগ (গ্রিস, বুলগারিয়া, সার্বিয়া, মন্টেনেগ্রো)। যুদ্ধে বলকান লীগ জেতে। এই যুদ্ধে ওসমানিদের কাছ থেকে গ্রিকরা লাভ করে ক্রিট, এপিরুস, ম্যাকিদোনিয়া, ও উত্তর ইজিয়ান সাগর।
১৯১৩ দ্বিতীয় বলকান যুদ্ধ। বুলগারিয়ার বিরুদ্ধে গ্রিস আর সার্বিয়া যুদ্ধে নামে, ওসমানি সুলতানশাহি স্বতন্ত্রভাবে বুলগারিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যুদ্ধে বুলগারিয়া হারে। এই যুদ্ধে বুলগারদের কাছ থেকে গ্রিকরা লাভ করে পশ্চিম থ্রেস।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।*
* এই যুদ্ধে ওসমানি সুলতানশাহি জার্মানি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির অক্ষশক্তির পক্ষ হয়ে লড়ে। যুদ্ধে অক্ষশক্তি হেরে গেলে এবং জার্মানির কাইজারশাহি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলে ওসমানি সুলতানশাহির পতন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় মাত্র। এই যুদ্ধে কুর্দিরা ওসমানি সুলতানশাহির পক্ষে লড়েছিল।
১৯১৫-১৬ তুরস্কের বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী কমিটি ফর ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস (সিইউপি) কর্তৃক আরমানি গণহত্যা সংঘটিত।*
* এই গণহত্যার শিকারের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তুর্কি ঐতিহাসিকরা দাবি করেন সংখ্যাটা ২ লক্ষ, অন্যদিকে আরমানি ঐতিহাসিকরা দাবি করেন সংখ্যাটা ২০ লক্ষ বা তারচেও বেশি। লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টার্কিশ স্টাডিজের অধ্যাপক এরিক জে. জুর্খারের মতে, সংখ্যাটা ৬-৮ লক্ষের মত। (Zürcher 2017)
১৯১৫ ‘তরুণ তুর্কি’দের চালানো জেনোসাইডের হাত থেকে বাঁচতে খ্রিস্টান ও ইয়েজিদিরা ওসমানি সুলতানশাহির বিভিন্ন এলাকা থেকে সিনজারে পালিয়ে এলে ইয়েজিদি গোত্র সর্দার হেমোয়ে শেরো তাঁদের আশ্রয় দেন।
১৯১৬ সাইকস-পিকো গোপন চুক্তি।
১৯১৬-১৭ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের ওসমানি সুলতানশাহি ব্রিটিশ ও ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জার্মানির মিত্র ছিল। এসময় মিসরে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমোহন মক্কার শরিফ হোসেনের কাছে একটা গোপন চিঠি পাঠান। সেখানে ম্যাকমোহন বলেন, আরবরা যদি ওসমানিদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের সহায়তা করে, তাহলে ব্রিটিশরা ওসমানি সুলতানশাহির আরব প্রদেশগুলোতে একটি স্বাধীন আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে, যার অংশ হবে ফিলিস্তিন। হোসেন এই টোপ গিললেন এবং তাঁর পুত্র ফয়সাল ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে একটি সফল আরব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিলেন। ‘লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া’ নামে খ্যাত টি. ই. লরেন্স এই আরব বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। জাতীয়তাবাদী আরবদের বোকা বানিয়ে এভাবেই ব্রিটিশরা ওসমানি সুলতানশাহির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল ফিলিস্তিন। ঘোষিত হল ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার বেলফোরের কুখ্যাত বেলফোর ঘোষণা; যাতে বলা হল, ফিলিস্তিনে ‘ইহুদিদের একটি জাতীয় নিবাসভূমি’ স্থাপনে সহায়তা দেবে গ্রেট ব্রিটেন।
১৯১৮ সিনজারে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব। বাসুর বা ইরাকি কুর্দিস্তানে শেখ মাহমুদ বারজিনজির দশকব্যাপী অসফল বিদ্রোহের সূচনা।
অক্টোবর ৩০ মুদরোস অস্ত্রবিরতি সাক্ষরিত।
ইস্তানবুলে প্রতিষ্ঠা করা হল সোসাইটি ফর দ্য বেটারমেন্ট অফ কুর্দিস্তান (Komela Tealîya Kurdistanê)।
১৯১৮-২২ মেহমেত ষষ্ঠ ওয়াহেদেদ্দিনের রাজত্বকাল।
১৯১৯-২৩ মে ১৫-২৪ জুলাই তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধ।*
* গ্রিকরা পরাজিত হয়। তাদের ইওরোপীয় মিত্ররা আনাতোলিয়া ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই যুদ্ধে কুর্দিরা তুর্কিদের সমর্থন প্রদান করে।
১৯১৯ ভার্সাই চুক্তির পরে ওসমানি সুলতানশাহির সীমান্তগুলো আজকের তুরস্ক রাষ্ট্রের সীমান্তগুলোর চেহারা লাভ করে।
১৯২০ আগস্ট সেভরেসের চুক্তি। কুর্দিদের স্বাধীনতা দেয়ার ওয়াদা করা হল। যা স্রেফ কাগুজে ব্যাপার ছিল।
১৯২২ নভেম্বর ১ ওসমানি সুলতানশাহি বিলুপ্ত করে দিল তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, ছয় শতাব্দীর সাম্রাজ্যের অবসান।
১৯২২ সিংহাসন ছাড়লেন মেহমেত ষষ্ঠ ওয়াহেদেদ্দিন।
১৯২২-২৪ দ্বিতীয় আবদুলমজিদের রাজত্বকাল।*
* উনি স্রেফ খলিফা ছিলেন, সুলতান ছিলেন না।
১৯২৩ অক্টোবর ২৯ তুরস্ককে একটি প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হল।*
* প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন মোস্তফা কামাল পাশা, আতাতুর্ক।* আতাতুর্ক একটা উপাধি, এর অর্থ: “তুর্কিদের বাবা”। বাবাও উৎসগতভাবে তুর্কি, তুর্কি থেকে বাংলায় এসেছে। আতাতুর্কের তুরস্কে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজিত হয় এবং তুর্কি নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়। তুর্কি সমাজের সেক্যুলারাইজেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ইসলামপন্থীরা এই পরিবর্তনগুলো ভালো চোখে দেখেননি। সেক্যুলার জাতীয়তাবাদীরা আতাতুর্ককে আধুনিক তুরস্কের রূপকার হিসেবে দেখেন, আর ইসলামপন্থীরা দেখেন ওসমানি সুলতানশাহি বিলুপ্ত করা খলনায়ক হিসেবে।
১৯২৪ মার্চ ৩ ডিক্রি জারি করে খেলাফত বিলুপ্ত করে দিল তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি।
তথ্যসূত্র
রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।
সেন, সত্যেন। ২০১৮। মহাবিদ্রোহের কাহিনী। দশম প্রকাশ। মুক্তধারা।
Asbridge, Thomas. 2010. The Crusades: The Authoritative History of the War for the Holy Land. Ecco.
Elsie, Robert. 2004. Historical Dictionary of Kosova. Scarecrow Press.
— 2010. Historical Dictionary of Albania. Scarecrow Press.
Finkel, Caroline. 2005. Osman’s Dream: The History of the Ottoman Empire. Basic Books.
Gunter, Michael M. 2009. The A to Z the Kurds. Scarecrow Press.
— 2018. Historical Dictionary of the Kurds. 3rd ed. Rowman & Littlefield.
Heper, Metin, Öztürk-Tunçel, Duygu, and Criss, Nur Bilge. Historical Dictionary of Turkey. 4th ed. Rowman & Littlefield.
Kurdish Memory Programme. n.d. “History of the Kurds.” Accessed August 3, 2025.
https://kurdistanmemoryprogramme.com/history-of-the-kurds/
Morris, Benny, and Ze’evi, Dror. 2019. The Thirty-Year Genocide: Turkey’s Destruction of Its Christian Minorities, 1894-1924. Harvard University Press.
Schmidinger, Thomas. 2022. The World Has Forgotten Us: Sinjar and the Islamic State’s Genocide of the Yezidis. Translated by Michael Schiffmann. Pluto Press.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি




8 thoughts on “ওসমানি সুলতানশাহি”