
কুয়েত
Featured Image: Wikimedia Commons.

Courtesy: The Perry-Castañeda Library Map Collection (PCLMC), The University of Texas at Austin.
পূর্বসাল
৩০০০-২০০০ বিভিন্ন মেসোপটেমীয় সাম্রাজ্যের সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতার সাথে নানানভাবে জড়িয়ে পড়ছে কুয়েত।
২৩০০ কুয়েত এ সময় দিলমুন সভ্যতার অংশ ছিল।
২২০০-১৮০০ দিলমুন সভ্যতার মানুষেরা ফাইলাকা দ্বীপে বসতিস্থাপন করলেন।
৬০০-৩০০ কুয়েতের ফাইলাকা* দ্বীপে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করল গ্রিকরা।
* গ্রিকদের কাছে দ্বীপটা ইকারোস নামে পরিচিত ছিল।
২৫০ পারস্য উপসাগর এ সময় পার্থীয়দের দ্বারা শাসিত হচ্ছে।
সাল
৬০১-৭০০ আরবদের ইরান জয়।
১৬১৩ কুয়েতে অভিবাসীদের মাছ চাষকেন্দ্রিক গ্রাম প্রতিষ্ঠিত হল।
১৬৫০ মধ্য আরবের নজদে বসবাসকারী বেদুঈন পরিবারগুলো অনাবৃষ্টির কারণে অভিবাসীতে পরিণত হল। এরা পরবর্তীকালে বনি উতুব নামে পরিচিত হবে। এই অভিবাসীদের অন্যতম আল সাবাহ পরিবার।
১৬৭২ কুয়েত শহর প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৬৭২-৮০ বনি খালিদ গোত্রের শেখ বারাক বিন ঘুরাইফ কুয়েতে একটা ছোট্ট কেল্লা তৈরি করলেন।
১৭১০ কুয়েতে বসতিস্থাপন করল বনি উতুব, যার অংশ আল সাবাহ পরিবার।
১৭১৬ কুয়েত শহরে প্রভাবশালী আল সাবাহ পরিবারের আগমন ঘটল।
১৭৫২/৫৬ কুয়েতের প্রথম শেখ হলেন আল সাবাহ পরিবারের সাবাহ বিন জাবের।* প্রতিষ্ঠান করলেন আল সাবাহ রাজপরিবার।** কুয়েত ওসমানি সুলতানদের করদ রাজ্যে পরিণত হল।
* প্রথম সাবাহ নামে পরিচিত।
* আড়াইশো বছর ধরে আল সাবাহই কুয়েতের শাসক পরিবার।
১৭৫২/৫৬-৬২ শেখ প্রথম সাবাহয়ের রাজত্বকাল।
১৭৬২-১৮১৪ শেখ প্রথম আবদুল্লার রাজত্বকাল।
১৭৬৬ আল খলিফা আর আল জালাহিমারা কুয়েত ছেড়ে যেতে শুরু করায় দেশটির ওপর আল সাবাহের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হল।
১৭৭৩-৭৫ কুয়েতে মহামারী দেখা দিল।
১৭৭৫ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুবাদে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে কুয়েতের প্রথম পরিচয় ঘটল।
১৭৮৩ একটি নৌ সমরে বনি কাব গোত্রকে পরাস্ত করল কুয়েতের নৌবহর।
১৭৯৩-৯৭ ওহাবিরা কুয়েতে অনুপ্রবেশের কয়েকটি অসফল চেষ্টা চালাল।
১৮১৪-৫৯ শেখ প্রথম জাবেরের রাজত্বকাল।
১৮৫৯-৬৬ শেখ দ্বিতীয় সাবাহয়ের রাজত্বকাল।
১৮৬৬-৯২ শেখ দ্বিতীয় আবদুল্লার রাজত্বকাল।
১৮৯২-৯৬ শেখ মোহামেদের রাজত্বকাল।*
* স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, আততায়ীদের হাতে খুন হন।
১৮৯৬-১৯১৫ শেখ মোবারকের রাজত্বকাল।*
* ‘মহান মোবারক’ নামে পরিচিত, আততায়ী পাঠিয়ে নিজের ভাইকে খুন করে ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি।
১৮৯৭ কুয়েতের প্রাদেশিক উপপ্রশাসক হিসেবে মহান মোবারককে স্বীকৃতিপ্রদান করল ওসমানি সুলতানশাহি।
১৮৯৯ জানুয়ারি ২৩ মহান মোবারক ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম সই হল, যাতে কুয়েতের সার্বভৌমত্বের কাগুজে স্বীকৃতি দেয়া হল। কার্যত, কুয়েত ব্রিটেনের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল। ওসমানি সুলতানশাহির সম্প্রসারণের ভয়ে দেশটি নিজ বৈদেশিক ও পররাষ্ট্র নীতির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিল।
১৯১৩ ইঙ্গ-ওসমানি চুক্তি, কুয়েত আর ইরাকের মধ্যকার সীমান্ত আঁকা হল।
১৯১৪ ছোট পানি বিশুদ্ধকরণ চুল্লি স্থাপন করা হল।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।*
* ওসমানি সুলতানশাহির কাছ থেকে কুয়েতের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিল গ্রেট ব্রিটেন।
১৯১৫-১৭ শেখ জাবেরের রাজত্বকাল।
১৯১৬ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে আরবদের মহাবিদ্রোহ।
১৯১৭-২১ শেখ সেলিমের রাজত্বকাল।
১৯২০ কুয়েতে ইখওয়ানের অনুপ্রবেশ এবং জাহরার সময়।
১৯২১-৫০ শেখ আহমাদ আল জাবের আল সাবাহয়ের রাজত্বকাল।
১৯২২ উকাইর প্রোটোকল, সৌদি আরবের সাথে নিরপেক্ষ জোন প্রতিষ্ঠা করল কুয়েত।
১৯৩০-৩৯ এই দশকে ব্যাপক তেল রিজার্ভ আবিষ্কৃত হওয়াটা দেশটির অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনল।
১৯৩৪ তেল ছাড় লাভ করল কুয়েত তেল কোম্পানি। খননকার্য শুরু করল। বৃষ্টিতে কুয়েতের বহু মাটির ঘর ধ্বসে গেল।
১৯৩৬ কুয়েতে তেল খননকার্য শুরু করল অ্যাংলো-পার্সিয়ান অয়েল কোম্পানি (আপোক)।
১৯৩৮ সরকারে রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিত্বের দাবিতে মজলিস আন্দোলন শুরু।
১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
১৯৪৬ প্রথমবারের মত বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল জাহাজে করে রফতানি করল কুয়েত।
১৯৫০-৬৫ শেখ তৃতীয় আবদুল্লাহ আল-সেলিম আল-সাবাহয়ের রাজত্বকাল।
১৯৬০ কুয়েত ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (কেএনপিসি) প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৯৬১ কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভলাপমেন্ট (কেএফএইড) প্রতিষ্ঠা করা হল।
জুন ১৯ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল কুয়েত।
জুলাই ২০ ইরাকিদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে আরব লীগে যোগ দিল কুয়েত।
১৯৬২ নভেম্বর ১১ কুয়েতের প্রথম সংবিধান অনুসমর্থন করা হল।
১৯৬৩ ব্রিটেনের সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে ইরাক কুয়েতের ওপর থেকে দাবি ছেড়ে দিল। কুয়েতের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিল। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে একটি নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠা করল কুয়েত।
মে ১৪ জাতিসংঘে যোগ দিল কুয়েত।
১৯৬৬ প্রতিষ্ঠা করা হল কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭৬ কুয়েতে তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করা হল।
১৯৭৭-২০০৬ শেখ তৃতীয় জাবেরের রাজত্বকাল।
১৯৮০ কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (কেপিসি) প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৯৮০-৮৮ ইরান ইরাক যুদ্ধ।*
* এই যুদ্ধে ইরাকের পক্ষে যোগ দিল কুয়েত।
১৯৮১ মে ২৫ পারস্য উপসাগরীয় ৬টি রাষ্ট্র (বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ও সৌদি আরব) নিয়ে গঠিত হল গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)।
১৯৮২ সৌক আল মানাখ স্টক মার্কেট ক্রাশ করল।
১৯৯০ আগস্ট ২ সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইরাক কুয়েতে হামলা চালাল। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ। সৌদি আরবে নির্বাসিত হলেন আমির তৃতীয় জাবের। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজল্যুশন নং ৬৬০ কুয়েত থেকে অনতিবিলম্বে ইরাকি সেনা প্রত্যাহারের ডাক দিল। ইরাকি হামলা প্রতিহত করার জন্য, বা এই উছিলায়, সৌদি আরবে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হল। অপারেশন ডেজার্ট শিল্ডের সূচনা।
আগস্ট ৮ কুয়েতকে, ইরাকিরা যাকে কাজিমা বলত, আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকের ১৯তম প্রদেশ করে নেয়া হল।
জিল ক্রিস্টাল, অয়েল অ্যান্ড পলিটিকস ইন দ্য গালফ: রুলার্স অ্যান্ড মার্চেন্টস ইন কুয়েত অ্যান্ড কাতার।
১৯৯১ জানুয়ারি ১৭ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম শুরু।
ফেব্রুয়ারি ২৭ কুয়েত ছাড়ল ইরাক।
মার্চ ১৪ কুয়েতে অভ্যন্তরীণ সামরিক আইন জারি করা হল। নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আসলেন দ্বিতীয় জাবের।
অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১০ বছর মেয়াদী নিরাপত্তা চুক্তি সই করল কুয়েত।
১৯৯২ জিল ক্রিস্টাল, কুয়েত: দ্য ট্রান্সফরমেশন অফ অ্যান অয়েল স্টেট।
২০০৩ রাজনৈতিক সংস্কার। কুয়েতের আমির এক ঐতিহাসিক ডিক্রি জারি করলেন। প্রধানমন্ত্রীর পদকে যুবরাজের পদ থেকে আলাদা করা হল।
২০০৫ কুয়েতি নারীদের ভোটাধিকার ও সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার অধিকার দেয়া হল।
২০০৬ জানুয়ারি ১৫-২৪ শেখ চতুর্থ সাদ আল আবদুল্লাহ আল সেলিমের রাজত্বকাল।*
* তিনি মাত্র ৯ দিনের জন্য আমির ছিলেন।
এপ্রিল ৪ কুয়েতি নারীরা প্রথমবারের মত পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পেল।
লরি প্লতকিন বোঘার্ত, কুয়েত অ্যামিড ওয়ার, পীস, অ্যান্ড রেভল্যুশন: ১৯৭৯-১৯৯১ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস।
২০০৬-২০ শেখ সাবাহ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহয়ের রাজত্বকাল।
২০১২ রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখা দিল।
২০১৩ ক্রিস্টোফার এম. ডেভিডসন, আফটার দ্য শেখস: দ্য কামিং কলাপস অফ দ্য গালফ মোনার্কিজ।
২০১৫ মার্চ ইয়েমেন হুথি বিদ্রোহিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে বিমান হামলায় জিসিসিভুক্ত আরো চারটি রাষ্ট্রের সাথে অংশ নিল কুয়েত।
কুয়েতের এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৭ জনের মৃত্যু, ২২৭ জন আহত। এটি দেশটির ইতিহাসের সবচে বড় সন্ত্রাসী হামলা। ইসলামিক স্টেট গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করে।
লিসা উরকেভিচ, মিউজিক অ্যান্ড ট্র্যাডিশনস অফ দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা: সৌদি অ্যারাবিয়া, কুয়েত, বাহরাইন, অ্যান্ড কাতার।
২০২০ কোভিড মহামারী কুয়েতের অর্থনৈতিক সংকটকে গভীরতর করল। দেশটির বাজেট ঘাটতি এই সময় রেকর্ড পরিমাণ। ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রিভকা আজুলে, কুয়েত অ্যান্ড আল সাবাহ: ট্রাইবাল পলিটিকস অ্যান্ড পাওয়ার ইন অ্যান অয়েল স্টেট।
২০২০-২৩ শেখ নাওয়াফ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহয়ের রাজত্বকাল।
২০২১ নভেম্বর ৮ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার পদত্যাগপত্র জমা দিল।
১৪ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন কুয়েতের আমির।
২০২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ কুয়েতের প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যাঁদের উভয়ই ক্ষমতাসীন আল-সাবাহ পরিবারের সদস্য, ইস্তফা দিলেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন আমির। আল-সাবাহ পরিবারের অপর একজন সদস্য এবং বর্তমান তেলমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-ফারেসকে তাদের স্ব স্ব পদে নিয়োগ করলেন।
মার্চ ২৬ আরাশ গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য ৫০-বছর মেয়াদী একটি কর্মসূচিতে সই করল সৌদি আরব ও কুয়েত। যা দুই দেশের মধ্যকার সামুদ্রিক সীমান্তে অবস্থিত এবং ইরানের জলসীমাতেও বিস্তৃত। ইরান দাবি করল, চুক্তিটি অবৈধ।
মে ১০ কুয়েত সরকারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন যুবরাজ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ। এক মাসেরও বেশি সময় আগে অনুরোধ জমা দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী নির্বাচন কখন তার কোনও সময়সীমা দেয়া হয়নি।
সেপ্টেম্বর ২৯ যুবরাজ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর কুয়েতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।
নভেম্বর ১৬ কুয়েত জানাল, দেশটি ৩ বিদেশী নাগরিক সহ ৭ জন দোষী সাব্যস্ত হওয়া খুনীর গণমৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
২০২৩ মার্চ ১৯ পূর্ববর্তী সংসদ ভঙ্গের আদেশে অসংগতি থাকার কথা উল্লেখ করে ২০২০ সালে নির্বাচিত পূর্ববর্তী সংসদ পুনর্বহালের পক্ষে রায় দিল সাংবিধানিক আদালত।
জুন ৬ কুয়েত সাধারণ নির্বাচন ২০২৩। কুয়েতের নাগরিকরা তিন বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো আবার ভোট দিতে গেলেন। যুবরাজ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ দ্বারা ষোড়শ অধিবেশন দ্বিতীয়বার বিলুপ্ত হওয়ার পর।
১৮ নিজের পুনঃনিয়োগের পর কুয়েতি প্রধানমন্ত্রী আহমাদ নওয়াফ আল-আহমদ আল-সাবাহ ৪৪তম মন্ত্রিসভা গঠন করলেন। যেখানে আহমেদ আল-ফাহাদ আল-আহমেদ আল-সাবাহকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সাদ আল বারাককে তেলমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
জুলাই ২৭ ৫ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল কুয়েত। যাঁদের একজন ২০১৫ সালের মসজিদে বোমা হামলায় ২৬ জন খুন হওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপ এই হামলার দায় স্বীকার করে।
অক্টোবর ৩০ ইসরায়েলপন্থী অবস্থান নেয়া এবং ফিলিস্তিনিদের “সন্ত্রাসী” বলার কারণে আল সাবাহ হাসপাতালের একজন ভারতীয় নার্সকে দেশ থেকে বহিষ্কার করল কুয়েত সরকার।
নভেম্বর ২৬ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খালেদ আল জাররাহ আল সাবাহকে সামরিক তহবিল অপব্যবহারের জন্য ৭ বছরের কারাদণ্ড দিল কুয়েতের সর্বোচ্চ আদালত। একই অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহকে শুধুমাত্র অপব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেয়ার হুকুম দেয়া হয়।
ডিসেম্বর ১৬ ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলেন কুয়েতের আমির নাওয়াফ আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ। নতুন আমির হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তাঁর সৎ-ভাই যুবরাজ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ। সরকার ৩ দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে, দেশের সর্বত্র পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ১৬ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপরিহার্য সেবা ব্যতীত মল ও কমপ্লেক্স বন্ধ থাকে। ১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সকল মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং প্রধান সড়কগুলোতে ৪০ দিনের জন্য পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
২০ জাতীয় পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করে কুয়েত রাষ্ট্রের ১৭তম আমির হলেন শেখ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহ।
২০২৩-চলমান শেখ মিশাল আল-আহমদ আল-জাবের আল-সাবাহের রাজত্বকাল।
২০২৪ জানুয়ারি ৪ কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ড. মোহাম্মদ সাবাহ আল-সালেম আল-সাবাহকে নিয়োগ দিলেন আমির মিশাল।
ফেব্রুয়ারি ১৫ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিলেন আমির মিশাল।
এপ্রিল ৪ ২০২৪ কুয়েত সাধারণ নির্বাচন। জাতীয় সংসদে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখল।
৬ সংবিধানের ৫৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজ মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র আমির মিশালের কাছে জমা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ সাবাহ আল-সালেম আল-সাবাহ।
৭ আমির মিশাল সরকারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
১৫ শেখ আহমদ আল আবদুল্লাহ আল সাবাহকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলেন আমির মিশাল।
২২ ষষ্ঠ ও নবম নির্বাচনী এলাকা অন্তর্ভুক্ত দুটি আসন খালি ঘোষিত হল, যার ফলে ১৮ মে উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মে ৪ কুয়েতের শেখ আহমদ আল-ফাহাদ আল-সাবাহকে নৈতিকতা লঙ্ঘণের কারণে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সব পদ থেকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হল। তাঁকে ইতোপূর্বে ২০২৩ সালে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং সুইজারল্যান্ডে জালিয়াতি সংক্রান্ত এক মামলার কারণে ৩ বছরের জন্যও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
১০ আমির মিশাল আবারও জাতীয় সংসদ ভেঙে দিলেন এবং সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ স্থগিত করলেন।
১২ কুয়েতের ৪৬তম মন্ত্রিসভা গঠনের ডিক্রি জারি করলেন আমির মিশাল।
মে ১৫ প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আল আবদুল্লাহ আল সাবাহকে “হিজ হাইনেস” উপাধি প্রদানের ডিক্রি সই করলেন আমির মিশাল। যা আগে কেবল আমির ও যুবরাজের জন্য সংরক্ষিত ছিল। কুয়েতের ৪৬তম মন্ত্রিসভা আমির মিশালের সামনে সাংবিধানিক শপথ নেয়।
১৮ ষষ্ঠ ও নবম নির্বাচনী এলাকার পৌর কাউন্সিল উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিজয়ী হন ওয়ালিদ আল-দাঘের ও ফাহাদ আল-আজমি।
২৮ রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা ব্যুরোর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইস্যাম সালেম আল-রুমি। কেন্দ্রীয় ক্রয় সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের একটা খসড়া ডিক্রি মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাভ করল।
জুন ১ যুবরাজ হিসেবে মনোনীত হলেন শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ।
১২ ২০২৪ মাঙ্গাফ ভবন অগ্নিকাণ্ড। মাঙ্গাফে বিদেশি শ্রমিকদের আবাসিক এক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৪৯ জন নিহত এবং ৪৩ জন আহত।
২০ গ্রীষ্মের তীব্র উত্তাপের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির কিছু অঞ্চলে সর্বোচ্চ ব্যবহারের কর্মঘন্টাগুলোয় অস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরোপ করা হয়।
জুলাই ১৪ ফাইলাকা দ্বীপের পুবদিকে আল-নোখাথা ক্ষেত্রে একটি নতুন তেলের মজুদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিল কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। যার এলাকা প্রায় ৯৬ বর্গকিলোমিটার। আনুমানিক সঞ্চিত তেল প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ব্যারেল।
আগস্ট ১৮ “জ্বালানি সরবরাহ ব্যাঘাত”য়ের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে রোলিং ব্ল্যাকআউট আরোপ করা হয়।
২৫ মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ডিক্রি সই করলেন আমির মিশাল। যেখানে ৪ জন নতুন মন্ত্রী যুক্ত করা হয়। কিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়।
সেপ্টেম্বর ৮ অর্থমন্ত্রী নোরা আল-ফাসসামকে অস্থায়ী তেলমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল।
২০২৫ জানুয়ারি ২০ কুয়েতের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত আল-জুলাই’আ উপকূলীয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক পরিমাণের হাইড্রোকার্বন সম্পদ আবিষ্কারের ঘোষণা দিল কুয়েত অয়েল কোম্পানি। কুয়েতের অফশোর এলাকায় এটি এ ধরনের দ্বিতীয় আবিষ্কার।
ফেব্রুয়ারি ৪ শেখ আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল।
মার্চ ৮ অজানা কারণে কুয়েতগামী ও কুয়েত থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
১২ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত অ্যাডাম বোয়েলারের সফরের পর মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে কুয়েতে আটক ৬ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
১৬ পেনাল কোডের ১৫৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করল কুয়েত। যার “অনার কিলিংয়ের” সাজা হ্রাস রদ করে। পাশাপাশি উভয় লিঙ্গের জন্য বৈধ বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮তে উন্নীত করা হয়।
২৪ এক বড় লটারি কেলেঙ্কারিতে জাল ড্র। আগেই বাছাইকৃত বিজয়ী এবং স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ পেল। প্রধান অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক র্যাফেল পরিচালক, ভুয়া বিজয়ী ও তাঁর স্বামী যার অন্তর্ভুক্ত।
এপ্রিল ১৬ তৃতীয় মধ্য এশিয়া–জিসিসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করল কুয়েত।
২২ কুয়েতে নতুন ট্রাফিক আইন কার্যকর করা হল।
৩০ বিভিন্ন অভিযোগে কুয়েতে আটক ১০ মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।
জুন ১ রিগাই এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুনে ৫ ব্যক্তি নিহত হন।
আগস্ট ১৪ নকল অ্যালকোহল সেবনের কারণে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর ফলে ১৪৭ জন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেপ্টেম্বর ১৪ আল মুতলা’আ, ইস্ট সাদ আল আবদুল্লাহ এবং ওয়েস্ট সাদ আল আবদুল্লাহ। এই ৩টি নতুন শহর উন্নয়নের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। ২০২৩ সালের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আইনের অধীনে কুয়েতের আবাসন সংকট কমানোর লক্ষ্যে।
তথ্যসূত্র
BBC. 2023. “Kutait country profile.” BBC, December 18.
https://www.bbc.com/news/world-middle-east-14644252
Casey, Michael S.. 2007. The History of Kuwait. Greenwood Press.
Isiorho, Solomon A. 2002. Kuwait. Chelsea House.
Wikipedia.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



