Spread the love

Featured Image: Wikipedia Commons.

Image: The Nations Online Project.

পূর্বসাল

৭০০-৬০১ আলবেনিয়ার উপকূল জুড়ে গ্রিকরা উপনিবেশ স্থাপন করল।

১৬৭ রুমিরা আলবেনিয়া দখল করে নিল, কালক্রমে দেশটি রোমক সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে যাবে।

সাল

৩৯৫ রোমক সাম্রাজ্য পূর্ব পশ্চিমে ভাগ হয়ে গেল, কালক্রমে আলবেনিয়া বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের* অন্তর্ভুক্ত হল।

* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙন পরবর্তী পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত। এখানে বাইজেন্টাইন বলতে সাম্রাজ্যটির শাসকদেরকে বোঝাবে। বাইজেন্টাইনের কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল, বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

১১৯০-১২৫৭ আরবানন প্রিন্সিপালিটি, ইতিহাসের প্রথম নথিবদ্ধ আলবেনীয় রাষ্ট্র।

১৩৮৫ ‘সাভরার যুদ্ধ’: ওসমানিদের হাতে স্থানীয় শাসকদের পরাজয়। অধিকাংশ স্থানীয় শাসক ওসমানিদের সামন্তে পরিণত হল।

১৪১৫-৩১ আলবেনিয়াকে ধীরে ধীরে ওসমানি সুলতানশাহির অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল।

১৪৪৪-৬৮ ‘নিসের যুদ্ধ’: ভার্না ক্রুসেডের অংশ এই যুদ্ধে ওসমানিরা হারে। জনৈক আলবেনীয় সামন্তপ্রভু ও সামরিক অধিনায়ক জের্জ কাস্ত্রিওতি স্ক্যান্দারবেগ লীগ অফ লেঝের অধীনে আলবেনীয় শাসকদের একতাবদ্ধ করেন। ওসমানি শাসনের বিরুদ্ধে আড়াই দশকের সংগ্রামের শুরুয়াত।

১৭০১-১৯০০ আলবেনীয় রেনেসাঁ। এসময় সমাজ ও সংস্কৃতি ব্যাপক সমৃদ্ধিলাভ করে। সেইসাথে দেশটিতে জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্থান ঘটতে থাকে।

১৯১২ ওসমানি সুলতানশাহির কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল আলবেনিয়া।

১৯১৪-১৮ ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধ’।

১৯২৫-২৮ আলবেনীয় প্রজাতন্ত্র।

১৯২৮ প্রথম জগ আলবেনিয়াকে একটি রাজতন্ত্রে রূপদান করেন।

১৯৩৯-১৯৪৫ ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ’।*

* যুদ্ধ শুরু হওয়ার অব্যবহিত আগে আলবেনিয়ায় হামলা চালায় ফ্যাসিস্ট ইতালি, রাজা জগ গ্রিসে পালিয়ে যান

১৯৪০ ইতালীয় সেনাবাহিনী আলবেনিয়া হয়ে গ্রিস আক্রমণ করে।

১৯৪১ নবগঠিত আলবেনীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হলেন আনোয়ার হোজ্জা।

১৯৪৩ ফ্যাসিস্ট ইতালির আত্মসমর্পণের প্রেক্ষিতে নাৎসি জার্মানির সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে আলবেনিয়া দখল করে নিল।

১৯৪৪ কমিউনিস্টদের প্রতিরোধের মুখে জার্মান নাৎসিরা পিছু হঠল, আলবানিয়ার নতুন রাষ্ট্রনায়ক হলেন আনোয়ার হোজ্জা।

১৯৪৫ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু।

১৯৪৬ সরকারি চাকরি থেকে অকমিউনিস্টদের পার্জ করা হল।

১৯৪৮ যুগোস্লাভিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল আলবেনিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন দেশটিকে আর্থিক সহায়তা দিতে আরম্ভ করল।

১৯৫০-৫২ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার আলবেনীয় কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ডানপন্থী গেরিলাদের মদত দিতে শুরু করল। কিন্তু কাগজে কলমে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে কাজ করা সোভিয়েত ডবল এজেন্ট কিম ফিলবি মস্কোর কাছে ইঙ্গ-মার্কিন পরিকল্পনা ফাঁস করে দেন। এর ফলে কমিউনিস্টবিরোধী পরিকল্পনাটি নস্যাৎ হয়ে যায় এবং ৩০০ জন অনুপ্রবেশকারীর প্রাণহানি ঘটে।

১৯৫৫ ওয়ারশ প্যাক্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি হল আলবেনিয়া।

১৯৬১ সোভিয়েত ইউনিয়ন আলবেনিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে আলবেনিয়া চীনের সাথে মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ হল। ফ্রান্সে মারা গেলেন রাজা জগ।

১৯৬৪

প্রকাশিত বই

ক্রিস্তো ফ্রাশেরি, দ্য হিস্ট্রি অফ আলবেনিয়া (আ ব্রিফ সার্ভে)

১৯৬৭ শ্রমিক দল আলবেনিয়াকে দুনিয়ার প্রথম নাস্তিক রাষ্ট্র ঘোষণা করল।

১৯৬৮ চেকোস্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত হামলার সূত্র ধরে ওয়ারশ চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিল আলবেনিয়া।

১৯৭৮ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের পুনর্মিলনের জের ধরে আলবেনিয়ায় অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দিল চীন।

১৯৮২

প্রকাশিত বই

হিস্ট্রি অফ দ্য পার্টি অফ লেবার অফ আলবেনিয়া, দ্বিতীয় সংস্করণ।

১৯৮৫ আনোয়ার হোজ্জার মৃত্যু, ক্ষমতায় এলেন রমিজ আলিয়া।

১৯৮৯ পূর্ব ইওরোপের দেশে দেশে কমিউনিস্ট শাসনের পতন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন আলিয়া।

১৯৯০ আলবেনিয়ায় কয়েকটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল গঠিত হল। আলবেনীয়রা বিদেশ ভ্রমণের অধিকার পেলে হাজার হাজার মানুষ পশ্চিমা দূতাবাসগুলো মারফত দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করলেন। আরো কয়েক হাজার নৌপথে অবৈধভাবে ইতালি গেলেন।

১৯৯১ বহুদলীয় নির্বাচনে মোট ২৫০টি আসনের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি ও তার মিত্ররা ১৬৯টি আসন জিতল, আর নবগঠিত গণতন্ত্রী দল ৭৫টি আসন পেল।

১৯৯২ নির্বাচনে গণতন্ত্রী দলের জয়লাভ। দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হলেন সাবেক কার্ডিওলজিস্ট স্যালি বেরিশা। প্রধানমন্ত্রী হলেন আলেকজান্দার মেকসি।

১৯৯৩ সাবেক কমিউনিস্ট নেতা ফাতোজ ন্যানো ও রমিজ আলিয়াকে দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে প্রেরণ করা হল।

১৯৯৫ আলিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হল।

১৯৯৭ জগের ছেলে লেকা আলবেনিয়ায় ফিরে আসলেন এবং পিতার মসনদ পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা চালালেন। গণভোটে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের বিপক্ষে বেশি ভোট পড়ল। লেকার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে উসকানি দেয়ার অভিযোগ আনা হল, তিনি আবারও নির্বাসনে গেলেন।

১৯৯৯ কসোভার আলবানীয়দের একটি সম্ভাব্য গণহত্যার হাত থেকে বাঁচাতে যুগোস্লাভিয়ায় বোমাবর্ষণ শুরু করল ন্যাটো। সার্ব পরিচয়বাদীদের হাতে পাইকারি হত্যাকাণ্ড ও বিতাড়নের শিকার কসোভার আলবানীয়রা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোয় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে লাগলেন। যুগোস্লাভিয়ার সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলবেনিয়া।

২০০১ জানুয়ারি: যুগোস্লাভিয়ার সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল আলবেনিয়া।

২০০২ নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এল আলবেনিয়ার রাজপরিবার।

২০০৬ জুন: ইইউয়ের সাথে স্টেবিলাইজেশন ও অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি সই করল আলবেনিয়া। প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলবেনিয়া সফর করলেন জর্জ বুশ জুনিয়র।

জুলাই: সংসদ শাসকদলের প্রধান বামির তোপিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করল।

২০০৯ এপ্রিল: আলবেনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোতে যোগদান করল এবং ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদের জন্য আবেদন জানাল।

জুলাই: সংসদীয় নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে জিতল স্যালি বেরিশার মধ্য-ডানপন্থী গণতন্ত্রী দল।

নভেম্বর: সংসদীয় নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে রাজধানী তিরানায় প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করতে শুরু করল বিরোধী সমাজতান্ত্রিক দল।

২০১০ মে: আগের বছরের সংসদীয় নির্বাচনের ভোট আংশিক পুনর্গণনার দাবিতে নাগরিক অবাধ্যতা প্রচারাভিযানের ডাক দিলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা এদি রামা।

নভেম্বর: ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) সদস্যপদের জন্য আলবেনিয়ার আবেদন বাতিল করে দিল সংগঠনটি। তবে আলবেনীয়দের জন্য ইইউভুক্ত দেশগুলোর ভিসাপ্রাপ্তি সহজ করা হল।

২০১১ জানুয়ারি: রক্তাক্ত সংঘর্ষে ৪ সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুন হলেন। আলবেনিয়ার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইলির কুম্বারো, নির্যাতনের অভিযোগে বিচার করতে দেশটি যাকে খুঁজছে, লন্ডনে জামিন এড়িয়ে স্রেফ নিখোঁজ হয়ে গেলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে আত্মগোপন করে আছেন।

২০১২ সাবেক রাজা জগের দেহাবশেষ ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়ায় ফিরিয়ে আনা হল।

২০১৩ জুন: সাধারণ নির্বাচন। বিরোধী সমাজতান্ত্রিক দল ভূমিধবস বিজয় লাভ করল।

সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী হলেন সমাজতন্ত্রী নেতা এদি রামা।

২০১৪ জুন: ইওরোপীয় কমিশন ইওরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের উপযুক্ত প্রার্থী বলে আলবেনিয়ার নাম সুপারিশ করল।

২০১৫ মার্চ: আলবেনিয়ার ‘সমাজতান্ত্রিক’ সরকার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আলবপেট্রোলকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করল।

প্রকাশিত বই

রবার্ট এলসি, দ্য ট্রাইবস অফ আলবানিয়া: হিস্ট্রি, সোসাইটি অ্যান্ড কালচার

২০১৯ নভেম্বর: ৪০ বছরের মধ্যে ভয়ংকরতম ভূমিকম্পটি আলবেনিয়ায় আঘাত হানল। ৫১ জনের মৃত্যু। ৩০০০ আহত।

তথ্যসূত্র

বইপত্র

সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্র

Balkan Insight
BBC

অন্যান্য

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

By irrafinofficial

ইরফানুর রহমান রাফিনের জন্ম ঢাকায়, ১৯৯২ সালে। বর্তমানে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে লিখে অন্নসংস্থান করেন। নিজেকে স্মৃতি সংরক্ষণকারীদের পরম্পরার একজন হিসাবে দেখেন। যোগাযোগ: irrafin2022@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Creative Commons License
Except where otherwise noted, the content on this site is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License.