শ্রীলঙ্কা

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ

পূর্বসাল

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১২০০ সাল প্রাচীন ভারত – সময়রেখা

৬০০-৪০১ উত্তর ভারত থেকে ৭০০ জন লোক রাজকুমার বিজয় সিংহের নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কায় এসে বাস করতে শুরু করেন। সিংহ ও তার অনুসারীদের নামেই দেশটির নাম সিংহলদ্বীপ ও তার সংখ্যাগুরু জাতি সিংহলীদের নামকরণ হয়েছে। বর্তমানে সিংহলীরা শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ।*
* শ্রীলঙ্কায় তামিলরা দক্ষিণ ভারত থেকে আসলেও ঠিক কবে এসেছেন সেটা জানা যায় না। সিংহলী তামিল কেউই দেশটির আদিম অধিবাসী নন। দেশটির আদিম অধিবাসী ভেড্ডা/বৈদ্য নামের এক জাতি, আজকে যাদের অল্প কয়েকজনই বেঁচে আছেন।

৫৬৩-৪৮৩ নেপালের কপিলাবস্তুতে জন্ম নেয়া ও পরবর্তীতে বুদ্ধ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৌতমের জীবনকাল।*
* বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে দেখুন, (Wangu 2009).

৫৪৩ শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বুদ্ধের পরিনির্বাণের বছর।

৪৮৬ অধিকাংশ আধুনিক ঐতিহাসিকের মতে, বুদ্ধের পরিনির্বাণের বছর।

২৫০ শ্রীলঙ্কায় প্রবর্তিত হল বৌদ্ধধর্ম।

২৫০-২১০ দেবনামপিয় তিস্যার রাজত্বকাল।

২০০-১০১ এক তামিল রাজা শ্রীলঙ্কার উত্তরাংশের অনুরাধাপুর জয় করেন।

২০০-১ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাংশের দুগগথমণি নামের এক রাজা অনুরাধাপুর জয় করেন এবং ক্রমে পুরো দ্বীপটিতে সিংহলীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

৮৯ ভট্টগামিনী অভয় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল অভয়গিরি বিহার।

সাল

৬৭ সিংহলদ্বীপে বাসব প্রতিষ্ঠা করলেন লম্বকান্না রাজবংশ।

৪০১-৫০০ যে গ্রন্থটি থেকে আমরা প্রাচীন সিংহলদ্বীপ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি, এ সময়ই কখনো লেখা হয় সেই মহাবংশ

৪১১-১৩ সিংহলদ্বীপে এলেন চীনা পরিব্রাজক ফা হিয়েন।

৪২৯-৪৫৫ এ সময় সাত দ্রাবিড় রাজা শাসন করছেন অনুরাধাপুর।

৪৫৫ সিংহলদ্বীপে ধাতুসেনা প্রতিষ্ঠা করলেন মোরিয়া রাজবংশ।

৯৪৭ দক্ষিণ ভারতের চোলারা সিংহলদ্বীপে হামলা চালাল।

৯৯৩ দক্ষিণ ভারতের চোলারা দ্বিতীয় বারের মত সিংহলদ্বীপে হামলা চালাল।

১০৫৫ রোহানা জয় করলেন প্রথম বিজয়বাহু।

১০৭০ সিংহলদ্বীপ থেকে চোলাদের তাড়িয়ে দিলেন প্রথম বিজয়বাহু।

১২৮৪ পান্ড্যদের পক্ষে জাফনা রাজ্য শাসন করছেন আর্যচক্রবর্তী।

১৩৪৪ সিংহলদ্বীপে এলেন মরোক্কান পরিব্রাজক ইবনে বতুতা।

১৩৯৬ ভুবনেকবাহু কোট্টেকে তার রাজধানী বানালেন।

১৪০৮-৩৮ চীনা নৌ অভিযানগুলো সিংহলদ্বীপের কাছ থেকে খাজনা দাবি করল, বীর অলকেশ্বরকে অপহরণ করে চীনে নিয়ে গেল।

১৫০৫ নভেম্বর ১৫ কলম্বোয় পর্তুগিজদের আগমন, দিনটি ছিল নভেম্বর

১৫১৯ জাফনা রাজ্য শাসন করছেন প্রথম চানকিলি।

১৫২১ আততায়ীদের হাতে খুন হয়ে গেলেন ষষ্ঠ বিজয়বাহু।

১৫৪৩ মান্নারে ৬০০ জন খ্রিস্টানকে খুন করার হুকুম দিলেন চানকিলি।

১৫৬০ পর্তুগিজরা মান্নার দ্বীপের ওপর একটি দুর্গ বানাল।

১৫৬৫ পর্তুগিজরা কোট্টের পরিবর্তে কলম্বোকে তাদের রাজধানী বানাল।

১৫৮০ ধর্মপাল পুরো সিংহলদ্বীপটাকেই পর্তুগিজদেরকে উইল করে দিলেন।

১৫৮২ ক্যান্ডি রাজ্য দখল করে নিলেন প্রথম রাজসিংহে।

১৫৯৭ ধর্মপালের মৃত্যু, সিংহলদ্বীপের হর্তাকর্তা হয়ে বসল পর্তুগিজরা।

১৬০২ বাত্তিকোলায় প্রথম ওলন্দাজ অভিযাত্রিকদের আগমন ঘটল।

১৬১৪ পর্তুগিজরা সিংহলদ্বীপের দারুচিনি বাণিজ্যকে পর্তুগালের রাজপরিবারের একচেটিয়া ব্যবসা বলে ঘোষণা করল।

১৬৫৮ ওলন্দাজরা শুধুমাত্র ক্যান্ডি রাজ্য ছাড়া সিলোনের বাকি সব জায়গা থেকে পর্তুগিজদেরকে তাড়িয়ে দিল এবং দ্বীপটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল।

১৭৩৯ নায়েক্কের রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করলেন শ্রীবিজয়রাজসিংহে।

১৭৪৭-৮২ সিংহলদ্বীপে কীর্তিশ্রীরাজসিংহের রাজত্ব।

১৭৫৭-১৯৪৭ ঔপনিবেশিক ভারত – সময়রেখা

১৭৯৬ ব্রিটিশদের কাছে আত্মসমর্পণ করল কলম্বো।

১৮০২ আমিয়েন্সের চুক্তির মধ্য দিয়ে ব্রিটেন লাভ করল সিংহলদ্বীপ। দেশটির নাম বদলে ক্রাউন কলোনি অফ সিলোন রাখা হল।

১৮১৩ বাত্তিকোলায় একটা সেমিনারি খুললেন মার্কিন মিশনারিরা।

১৮১৫ ক্যান্ডি রাজ্য বিজিত। চা, কফি ও নারকেল বাগানে কাজ করার জন্য ভারতের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তামিল শ্রমিক আনতে শুরু করলো ব্রিটেন।

১৮২৩ সিংহপিত্তে প্রথম কফি প্ল্যান্টেশন প্রতিষ্ঠা করা হল।

১৮৩৩ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকরা একটি একক প্রশাসনের অধীনে সিলোনের সবগুলো রাজ্যকে কেন্দ্রীভূত করে আধুনিক রাষ্ট্রটির ভিত্তি তৈরি করল।

১৮৪৪ সিলোনে দাস প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল।

১৮৬৭ কলম্বো-ক্যান্ডি রেলপথ উদ্বোধন করা হল।

১৯১২ সিলোনে আইনসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।

১৯১৪ ভারত আর সিলোনের মধ্যে রেল যোগাযোগ ও ফেরি সেবা চালু করা হল।

১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia

১৯১৫ সিংহলী আর মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা, সামরিক আইন জারি।

১৯২৪ কলম্বো বেতারকেন্দ্র চালু।

১৯৩১ ব্রিটিশরা সিলোনের অধিবাসীদেরকে ভোটাধিকার প্রদান করল।

১৯৩৮ রত্নমালা বিমানবন্দর চালু করা হল, রেডিও সিলোন সিংহলী ভাষায় সম্প্রচার শুরু করল।

১৯৩৯ ব্যাংক অফ সিলোন প্রতিষ্ঠা করা হল।

১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia

১৯৪৬ স্বাধীনতার আগেই একটি নতুন সংবিধান পেল সিলোন।

১৯৪৮ ব্রিটিশ কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতালাভ করল সিলোন। নাগরিকত্ব আইন তৈরি। তাতে দেশটির ভারতীয় তামিলরা ভোটাধিকার বঞ্চিত হল।

১৯৪৯ ভারতীয় তামিল চা বাগানের শ্রমিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হলো। যা সিংহলী জাতীয়তাবাদের ঢেউয়ের সূচনা করে। তামিল সংখ্যালঘুদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ সিলোন প্রতিষ্ঠা করা হল।

১৯৫০ শ্রী লঙ্কা বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সদস্যপদ লাভ করল।

১৯৫১ সলোমোন বন্দরনায়েকে প্রতিষ্ঠা করলেন শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি)।

১৯৫২ প্রধানমন্ত্রী ডন স্টিফেন সেনানায়েকের মৃত্যু।

১৯৫৪ ভারত-সিলোন চুক্তি সই।

১৯৫৬ সিংহলী জাতীয়তাবাদের জোয়ারে প্রধানমন্ত্রী হলেন সলোমন বন্দরনায়েক। সংসদে সিংহলী ভাষা বিল পাশ করা হল। কিন্তু তামিল ভাষার ক্ষেত্রে সমরূপ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না আসায় ক্ষুব্ধ হলেন তামিলরা।

মে ২৩ বুদ্ধ জয়ন্তী বুদ্ধের পরিনির্বাণের ২৫০০ বছরপূর্তি উদযাপন করলেন শ্রীলঙ্কা ও দুনিয়ার অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

সিংহলী ও বৌদ্ধদের অনুভূতিকে জোরদার করার জন্য অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়া হলো।

১৯৫৭ বন্দরনায়েকে-চেলভানায়কাম চুক্তি।

১৯৫৮ তামিলবিরোধী দাঙ্গায় ২০০ জন তামিল মৃত্যুবরণ করলেন। বন্দরনায়েক-চেলভানায়েকাম চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসলেন বন্দরনায়েক। তামিল ভাষা (স্পেশাল প্রভিশনস) আইন পাশ করা হল।

১৯৫৯ এক আততায়ীর হাতে খুন হলেন সলোমন বন্দরনায়েক।

১৯৬০ বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন শ্রীমাভো বন্দরনায়েক। সিংহলী ভাষাকে সিলোনের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হল।

১৯৬৪ শ্রীমাভো-শাস্ত্রী চুক্তি। ৫ লক্ষ ভারতীয় তামিলকে ভারতে ফেরত পাঠান হল। ১৪ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলেন।

১৯৬৬ সিলোনের তামিল অধ্যুষিত উত্তর ও পূর্ব প্রদেশে তামিল ভাষা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে আইন পাশ করা হল। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হল বিশ্ব বৌদ্ধ কংগ্রেস।

এইচ. আর. পেরেরা, বুদ্ধিজম ইন সিলন: ইটস পাস্ট অ্যান্ড প্রেজেন্ট

১৯৭১ শ্রীলঙ্কা বামপন্থী জনতা বিমুক্তি পেরামুনার (জেভিপি) অভ্যুত্থান। জরুরি অবস্থা জারি। রক্তাক্ত উপায়ে জেভিপির বিদ্রোহ দমন করা হল।

১৯৭২ একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হলো সিলোন। এর নাম বদলে শ্রীলঙ্কা রাখা হলো। দেশের ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধধর্মকে প্রধান স্থান দেয়া হলো, যা তামিল সংখ্যালঘুদের আরও ক্ষুব্ধ করে তুললো।

১৯৭৬ তামিল ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট (টিইউএলএফ) কর্তৃক গৃহীত হল ভাড্ডুকোট্টাই সংবিধি। গঠিত হল লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (এলটিটিই)।* কলম্বোয় জোটনিরপেক্ষ দেশগুলোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হল।
* ইলম শব্দটি দিয়ে তামিলরা তাদের আকাঙ্ক্ষার রাষ্ট্রকে নির্দেশ করেন, যা আজও আকাঙ্ক্ষিতই রয়ে গেছে।

১৯৭৬ তামিল অধিকারের জন্য লড়াই করতে গঠন করা হলো লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (এলটিটিই

১৯৭৭ নির্বাচনে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) কাছে পরাস্ত হল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) আর তামিল ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট (টিইউএলএফ) দেশটির তামিল অঞ্চলগুলোয় সবকটি আসন জিতল। তামিলবিরোধী দাঙ্গায় ১০০ জন মানুষ নিহত হলেন। জরুরি অবস্থা জারি।

১৯৭৯ শ্রীলঙ্কায় প্রিভেনশন অফ টেরোরিজম অ্যাক্ট (পোটা) পাশ করা হল।

১৯৮১ কিংসলে মুথুমুনি ডি সিলভা, আ হিস্ট্রি অফ শ্রীলঙ্কা

১৯৮৩ এলটিটিইর আক্রমণে ১৩ জন সৈন্যের মৃত্যু। দেশটির রাজধানী কলোম্বোয় তামিলবিরোধী দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তাতে কয়েক শত তামিলের মৃত্যু হয়। প্রথম ইলম যুদ্ধের সূচনা।

১৯৮৫ সরকার ও এলটিটিইর মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ।

১৯৮৭ এলটিটিইকে উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাফনা পর্যন্ত পিছু হটিয়ে দিলো সরকারি বাহিনী। উত্তর ও পূর্বের তামিল এলাকাগুলোর জন্য নতুন পরিষদ গঠনের চুক্তি সই করলো শ্রীলঙ্কা সরকার। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তি রক্ষী মোতায়েন করার ব্যাপারে ভারত সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হল শ্রীলঙ্কা সরকার। অতীতে এলটিটিইর পেছনে ভারত রাষ্ট্রের বিনিয়োগ ছিল। এলটিটিই ভারতীয় শান্তি রক্ষীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলো। পরবর্তী তিন বছরে ১,০০০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়।

১৯৯০ উত্তরে লড়াইয়ে আটকে পড়ার পর ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি। উত্তরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মুসলমানকে বিতাড়িত করলো এলটিটিই।জাফনা এলটিটিইর নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয় ইলম যুদ্ধ শুরু।

১৯৯১ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে এলটিটিই জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলো।

১৯৯৩ এলটিটিইর বোমা হামলায় খুন হলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট প্রেমাদাসা।

১৯৯৪ যুদ্ধাবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট হলেন চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা।

১৯৯৫ মাইকেল রবার্টস (সম্পা.), এক্সপ্লোরিং কনফ্রন্টেশন শ্রীলঙ্কা: পলিটিকস, কালচার, অ্যান্ড হিস্ট্রি

১৯৯৫-২০০১ তৃতীয় ইলম যুদ্ধ শুরু। জাফনা তামিলদের হাতছাড়া হল। শ্রীলঙ্কার তামিল অধ্যুষিত উত্তর ও পূর্ব প্রদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল। শ্রীলঙ্কার পবিত্রতম বৌদ্ধ তীর্থস্থানে বোমা হামলা চালায় এলটিটিই। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের অর্ধেক বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। এলটিটিইর সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন প্রেসিডেন্ট কুমারাতুঙ্গা। কলম্বোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আত্মঘাতী হামলায় ১০০ নিহত। এক হামলায় আহত হলেন প্রেসিডেন্ট কুমারাতুঙ্গা।

২০০২ নরওয়ের মধ্যস্ততায় শ্রীলঙ্কা সরকার আর তামিল টাইগারদের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তি সই হল। সরকার এলটিটিইর ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল। এলটিটিই স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি ছেড়ে দিল।

২০০৩ এলটিটি একতরফাভাবে শান্তি আলোচনা থেকে বেরিয়ে এল।

২০০৪ সমুদ্রের তলদেশে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিশাল ঢেউ, যা ৎসুনামি নামে পরিচিত, উপকূলীয় জনপদগুলোকে বিধ্বস্ত করলে এতে ৩০,০০০য়েরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

২০০৫ শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে।

২০০৬ চতুর্থ ইলম যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলো। জেনেভায় শ্রীলঙ্কা সরকার আর তামিল বিদ্রোহীদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়ে গেলো। ২০০২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ। উত্তর-পূর্বে এলটিটিই বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনী পুনরায় লড়াই শুরু করলো। পরবর্তী বছরখানেক ধরে সরকার ধীরে ধীরে পূর্বাঞ্চলের শক্ত ঘাঁটিগুলো থেকে তামিল টাইগারদের হটিয়ে দেয়।

২০০৭ পূর্ব প্রদেশে এলটিটির ঘাঁটিগুলো সরকারের কবজায় এল।

২০০৮ শ্রীলঙ্কা সরকার অস্ত্রবিরতি থেকে বেরিয়ে এল এবং এলটিটিই-র বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করল।

২০০৯ উত্তর-পূর্বে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শেষ ভূখণ্ডটিও সেনাবাহিনী দখল করে নিলো। তামিল টাইগারদের পরাজিত বলে ঘোষণা করলো সরকার। এই যুদ্ধে আনুমানিক ৭০-৮০,০০০ মানুষ খুন হয়। এলটিটিইর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ কয়েক দশকের যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে। ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ আর তাঁর পরিবার হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের শেষ দিকে তামিল বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ উঠলো।*
* তামিল জাতিনিধন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন, (Boyle 2016)।

২০১০ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাহিন্দা রাজাপাক্ষে পুনর্নির্বাচিত।

২০১১ জন ক্লিফোর্ড হোল্ট (সম্পা.) দ্য শ্রীলঙ্কা রিডার: হিস্ট্রি, কালচার, পলিটিকস

২০১২ শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষদিকে শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ।

২০১৪ নিরা বিক্রমাসিংহ, শ্রীলঙ্কা ইন দ্য মডার্ন এজ: আ হিস্ট্রি

২০১৫ মহিন্দ রাজাপক্ষকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন মৈত্রীপাল সিরিসেনা।

২০১৬ শ্রীলঙ্কা সরকার প্রথমবারের মত স্বীকার করল, ১৯৭১ সালে জেভিপির অভ্যুত্থান আর তামিল বিদ্রোহীদের সাথে আড়াই দশকের যুদ্ধে ৬৫,০০০ মানুষ গুম হয়ে গেছেন।

ছান্না বিক্রমেসেকেরা, দ্য তামিল সেপারেটিস্ট ওয়ার ইন শ্রীলঙ্কা

২০১৯ ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার চার্চ ও হোটেলগুলোতে জিহাদি হামলায় ৩৫০ জন মানুষের মৃত্যু। সংখ্যালঘু মুসলমানরা ব্যাপক প্রতিহিংসামূলক হামলার শিকার হলেন। শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মহিন্দ রাজাপক্ষের ভাই গোঠাভয় রাজাপক্ষ।

২০২০ সংসদীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেল প্রেসিডেন্ট রাজাপাক্ষের দল এসএলপিপি।

২০২২ এপ্রিল ১ জরুরি অবস্থা জারি করলেন প্রেসিডেন্ট নন্দসেন গোঠাভয় রাজাপক্ষ। দুদিন পর তাঁর মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেন।
১০ শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় অষুধসামগ্রীর অভাবের কথা জানালেন।

মে ৯ সরকার সমর্থকদের হামলায় ৯ জন আন্দোলনকারী খুন, শতাধিক আহত, পরদিন দেখামাত্র গুলি করার হুকুম দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

জুন ১০ জাতিসংঘ এই বলে সতর্ক করে দিল যে, শ্রীলঙ্কায় চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

জুলাই ১ মুদ্রাস্ফীতি নতুন রেকর্ড স্পর্শ করল।
শ্রীলঙ্কার প্রতিবাদী জনতা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়লেন, প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হল।
১৩ দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে পালিয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষ।

শেহান করুণাতিলক, দ্য সেভেন মুনস অফ মালি আলমেইদা

২০২৩ এ. আর. শ্রীষকন্দ রাজা, তামিল ন্যাশনালিজম ইন শ্রীলঙ্কা: কাউন্টার-হিস্ট্রি অ্যাজ ওয়ার আফটার দ্য তামিল টাইগারস

২০২৪ এক ঐতিহাসিক দ্বিতীয় দফার গণনার পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলেন বামপন্থী অনুরা কুমারা দিশানায়েকে।

তথ্যসূত্র

করোভকিন, ফিওদর। ১৯৮৬। পৃথিবীর ইতিহাস: প্রাচীন যুগ। দ্বিতীয় সংস্করণ। মূল রুশ থেকে হায়াৎ মামুদ কর্তৃক অনূদিত। প্রগতি প্রকাশন।

Al Jazeera. 2022. “Timeline: Sri Lanka’s Worst Economic, Political Crisis in Decades.” Al Jazeera, July 13.
https://www.aljazeera.com/news/2022/7/13/timeline-sri-lankas-worst-economic-political-crisis-in-decades.

Boyle, Francis A. 2016. The Tamil Genocide by Sri Lanka: The Global Failure to Protect Tamil Rights Under International Law. 2nd ed. Clarity Press.

BBC.

Peebles, Patrick. 2006. The History of Sri Lanka. Greenwood.

Perera H. R.. 1988. Buddhism in Sri Lanka: A Short Story. 2nd impression. Buddhist Publication Society.

Reuters.

Wangu, Madhu Bazaz. 2009. Buddhism. 4th ed. Chelsea House.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *