
মালদ্বীপ
Featured Image: Wikimedia Commons.

পূর্বসাল
৫০০ এ সময়ই কখনো বর্তমান মালদ্বীপে মানববসতি স্থাপিত হয়েছিল।
সাল
১১০১-১২০০ মালদ্বীপে ইসলাম প্রবর্তন।
১১২০-৪২ শ্রী মহাবরণের রাজত্বকাল।*
* এসময় মালদ্বীপের সীমানাভুক্ত ভূখণ্ড উত্তরে মিনিকয় থেকে দক্ষিণে আদ্দু অ্যাটল পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।
১১৫৩ ইসলাম গ্রহণ করলেন মালদ্বীপের রাজা শ্রী ত্রিভুবন আদিত্য। নতুন নাম নিলেন মোহামেদ ইবনে আবদুল্লা। সমগ্র দেশ জুড়ে ইসলাম প্রচারের উদ্যোগ নিলেন।
১৫৫৮, মার্চ ১৯-২ জুলাই, ১৫৭৩ পর্তুগিজ উপনিবেশিক শক্তি মালদ্বীপ দখল করে রাখে, শেষ পর্যন্ত মালদ্বীপবাসী তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
১৬০১-১৭০০ দ্বীপপুঞ্জটি প্রথমে সিলনের* ওলন্দাজ শাসকদের এবং পরে ব্রিটিশদের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়। শেষোক্তরা ১৭৯৬ সালে সিলনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
* শ্রীলঙ্কা।
১৭৫২, ডিসেম্বর ২০-৭ এপ্রিল, ১৭৫৩ দক্ষিণ ভারত থেকে আসা মালাবার জাতি মালদ্বীপ দখল করে নিল ও শাসন করতে লাগল।
১৮০১-১৯০০ বোরাহ বণিকরা এসময় মালদ্বীপের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। আথিরিগে ইব্রাহিম দিদি ও কাকাগে মোহামেদ রান্নাবাদেইরি কিলেগেফানুর নেতৃত্বে দুই রাজপরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা চরমে পৌঁছাল। ব্রিটিশরা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পেল।
১৮৮৬ ইব্রাহিম দিদি বা দোশিমেন্যা কিলিগেফানু সুলতানকে উৎখাত করলেন। তৃতীয় মোহামেদ মুইনুদ্দিনকে মসনদে বসান হল। তিনি কুদা বান্দারাইন নামেও পরিচিত ছিলেন।
১৮৮৭ ডিসেম্বর ১৬ অভ্যন্তরীণভাবে স্ব-শাসিত ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল মালদ্বীপ।
১৯০৩ রাজা শামসুদ্দিনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল।
১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia।
১৯৩২ ডিসেম্বর ২২ মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিক সংবিধান ঘোষণা করা হল, সুলতানশাহি একটি নির্বাচনী পদে পরিণত হল।
১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia।
১৯৪১ ব্রিটিশরা আদ্দু অ্যাটলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করল।
১৯৪৮ এপ্রিল ২৪ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশদের সাথে চুক্তি সই করল মালদ্বীপ।
১৯৫৩ ব্রিটিশ কমনওয়েলথে একটি প্রজাতন্ত্র হয়ে উঠল মালদ্বীপ। সুলতানশাহি বিলুপ্ত হল। কয়েক মাসের মধ্যেই স্বপদে ফিরে এলেন সুলতান।
১৯৫৭-৬৭ এসময় মালদ্বীপের আদ্দু অ্যাটলের গান দ্বীপে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ছিল।
১৯৫৭ ডিসেম্বর ১২ মালদ্বীপের প্রধানমন্ত্রী হলেন ইব্রাহিম নাসির।*
* প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম নাসির ক্ষমতায় এসে বোরাহ বণিকদের মালদ্বীপ থেকে উচ্ছেদ করা শুরু করলেন। তাঁর শাসনামলে মালদ্বীপবাসীর ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিসর বৃদ্ধি পায়। অভিজাত শ্রেণির বাইরে সাধারণ পুরুষরাও স্যান্ডেল পরার ও ছাতা ব্যবহার করার অধিকার পান। সাধারণ নারীদের দোকানে যাওয়ার অধিকার দেয়া হয়। জাতিভেদ প্রথার প্রভাব কমে আসতে শুরু করে। অ্যাটলে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারিদের জন্য বেতন ব্যবস্থা চালু করলেন নাসির।
১৯৫৮ জানুয়ারি ১ গ্রেগরীয় পঞ্জিকা গ্রহণ করে নিল মালদ্বীপ।
১৯৫৮-৬৩ সংযুক্ত শুভদ্বীপ প্রজাতন্ত্র।
১৯৫৯ মার্চ মালদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি অ্যাটল আদ্দু, ফুভাহমুলাহ, হুভাধু মালদ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সংযুক্ত শুভদ্বীপ প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করল।
মে ২১ মালদ্বীপের প্রথম প্রেক্ষাগৃহ অলিম্পাস উদ্বোধন করা হল।
১৯৬০ জানুয়ারি আফিফ দিদিকে প্রধান করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হল সংযুক্ত শুভদ্বীপ প্রজাতন্ত্র।
ফেব্রুয়ারি হিথাদুর মামেনদু এলাকা ও গান দ্বীপকে ৩০ বছরের জন্য ব্রিটিশদের কাছে লিজ দিতে তাঁদের সাথে একটি চুক্তি সই করল মালে সরকার। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সুলতানকে স্বীকৃতি দিল ব্রিটিশরা। সংযুক্ত শুভদ্বীপ প্রজাতন্ত্র আদ্দুতে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মালদ্বীপের সুলতানকে মেনে নিতে রাজি হল। মালেতে এলেন ব্রিটিশ প্রতিনিধি হামফ্রে আর্থিংটন-ডেভি।
১৯৬২ ফেব্রুয়ারি থিনাদু দ্বীপে হামলা চালিয়ে জনশূন্য করলেন নাসির।
আগস্ট ১ ১০৫ বছর ব্যবসা করার পর, বোরাহ বণিকদের জন্য মালদ্বীপে ব্যবসা করা নিষিদ্ধ করা হল, ও দ্বীপটি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হল।
১৯৬৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশরা এই বছরের শেষ নাগাদ আদ্দু অ্যাটলকে মালের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দিতে রাজি হল। আফিফ ও তাঁর সমর্থক বিদ্রোহের অবসান ঘটাতে সম্মত হলে ব্রিটিশরা আফিফকে সপরিবারে সেইচিলিস দ্বীপে নিয়ে গেল। আদ্দু অ্যাটলের সুযোগসুবিধার বিনিময়ে স্বাধীনতা চাইলেন নাসির, কলম্বো পরিকল্পনায় যোগ দিল মালদ্বীপ।
১৯৬৫ জুলাই ২৬ ব্রিটিশদের সাথে স্বাধীনতাচুক্তি সই করলেন প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম নাসির। ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের বাইরে একটি সুলতানশাহি হিসেবে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করল মালদ্বীপ।
সেপ্টেম্বর ২১ জাতিসংঘে যোগ দিল মালদ্বীপ।
১৯৬৮ এক গণভোটে মালদ্বীপের সুলতানশাহি উৎখাত হয়ে গেল। প্রজাতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল। এই নয়া প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হলেন ইব্রাহিম নাসির।
১৯৭৮ অবসরে গেলেন নাসির। মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন মামুন আবদুল গাইয়ুম। পরবর্তী তিন দশক ক্ষমতায় থাকবেন তিনি।
১৯৮০-৮৯ মালদ্বীপে পর্যটনশিল্পের বিকাশের ফলে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
১৯৮২ নতুন করে ব্রিটিশ কমনওয়েলথে যোগ দিল মালদ্বীপ।
১৯৮৮ ভারতীয় কমান্ডোদের সহায়তায় একটি ক্যুদেতা৷ প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করে দেয়া হল, যে প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কার ভাড়াটে যোদ্ধারা যুক্ত ছিল।
১৯৯৯ সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, যাতে ৪০টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন ১২০ জন স্বাধীন প্রার্থী।
২০০৩ মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে চার কারাবন্দীর মৃত্যুর জের ধরে নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলন দেখা দিল।
২০০৪ মালদ্বীপে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ও জরুরি অবস্থা জারি। ১০০ জন কারারুদ্ধ। সুনামির কারণে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হল।
২০০৫ মালদ্বীপের বিরোধীদলীয় নেতা মোহাম্মদ নাশিদকে জঙ্গিবাদ সম্পৃক্ততা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত করা হল।
২০০৮ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলেন মামুন আবদুল গাইয়ুম। মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মোহাম্মদ নাশিদ।
২০০৯ প্রেসিডেন্ট নাশিদ জানালেন, মালদ্বীপ পুরোপুরি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করার মাধ্যমে এক দশকের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ হয়ে উঠবে। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিলেন।
২০১২-১৪ মালদ্বীপে সাংবিধানিক সংকটের সময়কাল।
২০১২ এক অভ্যুত্থানে উৎখাত হলেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ।
২০১৩ মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন আবদুল্লাহ ইয়ামিন।
২০১৪ এম্মা ফুলু, ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ইন এশিয়া: গ্লোবালাইজেশন, জেন্ডার অ্যান্ড ইসলাম ইন দ্য মালদিভস।
২০১৫ জঙ্গিবাদ সম্পৃক্ততার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল।
২০১৬ মে ব্রিটেনে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পেলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ।
২০১৭ আমালিয়া এলিজাবেথ জ্ঞানদেশিকান, ধিবেহি: দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ অফ দ্য মালদিভস।
২০১৮ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলেন আবদুল্লাহ ইয়ামিন। মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ।
ফ্রান্সেসকা বোরি, অ্যান মিলানো আপেল কর্তৃক অনূদিত, ডেস্টিনেশন প্যারাডাইস: অ্যামং দ্য জিহাদিস্টস ইন দ্য মালদিভস।
২০২০ ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রে পুনরায় যোগ দিলো মালদ্বীপ।
২০২১ আজিম জহির, ইসলাম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি ইন দ্য মালদিভস।
স্তেফানো মালাতেস্তা, মার্সেলা শ্মিডট দি ফ্রিডবার্গ, শহিদা জুবায়ের, ডেভিড বাওয়েন, ও মিজনা মোহামদ, অ্যাটলস অফ দ্যা মালদিভস: নিসোলজি অ্যান্ড জিওগ্রাফি।
২০২৩ প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহকে পরাজিত করলেন মোহাম্মদ মুইজু।
শান্তনু রয়-চৌধুরী, দ্য চায়না ফ্যাক্টর: বেইজিং’য়ে এক্সপান্ডিং এনগেজমেন্ট ইন শ্রীলঙ্কা, মালদিভস, বাংলাদেশ, অ্যান্ড মিয়ানমার।
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১১৫৩ সালে একটি বৌদ্ধ রাজ্য থেকে মুসলিম সুলতানশাহিতে রূপান্তরিত হওয়ার হিজরি ৯০০ বছর পূর্তি উদযাপন করলো মালদ্বীপ।
তথ্যসূত্র
BBC.
Maldives Independent.
The New Arab.
Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



