উত্তর ম্যাকিদোনিয়া

Spread the love

Featured Image: Wikipedia Commons.

Image: The Nations Online Project.

সাল

১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি – সময়রেখা।

১৯১২-১৩ প্রথম ও দ্বিতীয় বলকান যুদ্ধ। কসোভো ও ম্যাকিদোনিয়ার বিপুল অঞ্চল সার্বদের হাতে এলো, মন্টেনিগ্রোর ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটলো। ইওরোপে ওসমানি সুলতানশাহির সময় ফুরিয়ে আসছিলো।

১৯১৩ বলকানে ওসমানি সুলতানশাহির পাঁচ দশকের শাসনের অবসান। ম্যাকিদোনিয়াকে সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, আর গ্রিসের মধ্যে পার্টিশনড করা হলো। বর্তমান উত্তর ম্যাকিদোনিয়াকে সার্বিয়ার অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হলো।

১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia।*
* ম্যাকিদোনিয়ায় বুলগেরীয় দখলদারিত্ব।

১৯১৮-১৯ যুদ্ধ শেষে ম্যাকিদোনিয়া আবার সার্বিয়ার অংশ হয়ে গেলো। গঠন করা হলো সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্য।

১৯১৮-৯২ যুগোস্লাভিয়া – সময়রেখা।

১৯২১ সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের প্রথম সংবিধান প্রণীত হলো।

১৯২৯ সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের নাম বদলেযুগোস্লাভিয়া রাখা হলো।*
* যুগোস্লাভিয়া শব্দের মানে হলো দক্ষিণ স্লাভদের ভূমি।

১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia।

১৯৪৫ যুদ্ধ শেষে যুগোস্লাভিয়ায় ক্ষমতায় আসলো টিটোর পার্টিজানরা। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত। জোসিপ ব্রজ টিটোর নেতৃত্বে যুগোস্লাভিয়া সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্র কায়েম করা হলো যেখানে, কাগজেকলমে, সব জাতির সমঅধিকার ছিলো।*
* ছয়টি প্রজাতন্ত্রের সমষ্টি ছিলো এই ফেডারেল প্রজাতন্ত্র। সার্বিয়া (রাজধানী বেলগ্রেড), মন্টেনিগ্রো (রাজধানী টিটোগ্রাদ), স্লোভেনিয়া (রাজধানী জুবজানা), ক্রোয়েশিয়া (রাজধানী জাগরেব), বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (রাজধানী সারায়েভো), এবং ম্যাকিদোনিয়া (রাজধানী স্কোপজে)। এদের মধ্যে সার্বিয়ায় দুটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ছিলো: কসোভো (রাজধানী প্রিস্টিনা) ও ভোজভোদিনা (রাজধানী নোভি সাদ)।

১৯৪৫-৯১ Socialist Federal Republic of Yugoslavia – Wikipedia।

১৯৮০-৮৯ যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত প্রজাতন্ত্রগুলোয় জাতীয়তাবাদের উত্থান ঘটছে।

১৯৯০ জুন ১৭ গঠিত হলো VMRO-DPMNE – Wikipedia।

১৯৯১ গণভোটে অধিকাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলেন। ম্যাকিদোনিয়া নামটা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র গ্রিসের আপত্তি থাকায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের গতি শ্লথ হয়ে এলো। আপত্তির কারণ গ্রিসের একটি প্রদেশের নামও ম্যাকিদোনিয়া।

১৯৯৩ সাবেক যুগোশ্লাভ প্রজাতন্ত্র নামে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করলো ম্যাকিদোনিয়া।

১৯৯৫ ম্যাকিদোনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিলো গ্রিস। দেশটির ওপর পূর্বে আরোপিত বাণিজ্য অবরোধ তুলে নিলো।

১৯৯৭ সাংবিধানিক আদালত ও সংসদ আলবানীয় পতাকার ব্যবহার।

১৯৯৯ কসোভার আলবানীয়দের একটি সম্ভাব্য গণহত্যার হাত থেকে বাঁচাতে যুগোস্লাভিয়ায় বোমাবর্ষণ শুরু করলো ন্যাটো। সার্ব পরিচয়বাদীদের হাতে পাইকারি হত্যাকাণ্ড ও বিতাড়নের শিকার কসোভার আলবানীয়রা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোয় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে লাগলেন।

২০০১ ফেব্রুয়ারি/মার্চ জাতিগত আলবানীয়দের অভ্যুত্থান। ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি জাতিগত আলবানীয়দের জন্য সমঅধিকার দাবি করলো।

মে প্রধানমন্ত্রী জুবকো জর্জিয়েভস্কির নেতৃত্বে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো একটি জাতীয় ঐক্য সরকার প্রতিষ্ঠা করলো। যা সংখ্যালঘুদের বঞ্চনাবোধ আমলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিল।*
* এই ঘটনাটিকে “সংখ্যালঘু তোষণ” হিসেবে দেখা সশস্ত্র সংখ্যাগুরু “প্রতিবাদীরা” ম্যাকিদোনিয়ার রাজধানীতে স্কোপজেতে সংসদ ভবন ঘেরাও করে রাখেন।

আগস্ট পশ্চিমা দেশগুলোর মদতে সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে ‘ওহরিদ শান্তি চুক্তি’ সই হলো। ন্যাটোর শান্তিরক্ষীদের কাছে অস্ত্র জমা দেয়ার শর্তে ম্যাকিদোনিয়ায় সংখ্যালঘু জাতিগত আলবানীয়দের অধিকারের বৃহত্তর স্বীকৃতির নিশ্চয়তা দেয়া হলো।

নভেম্বর ম্যাকিদোনিয়ার সংসদ একটি নতুন সংবিধানের অনুমোদন দিলো। যাতে আলবানীয় ভাষাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতে আলবানীয়দের প্রবেশাধিকার বাড়ানো হয়।

২০০৩ ন্যাটোর কাছ থেকে শান্তিরক্ষার দায়িত্বভার নিলো ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

২০০৪ ফেব্রুয়ারি বসনিয়ায় এক সম্মেলনে যোগদান করার পথে এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বরিস ত্রাজকভস্কির মৃত্যু।

মার্চ ইওরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আবেদনপত্র জমা দিলো ম্যাকিদোনিয়া।

এপ্রিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রাংকো ক্রভেনকোভস্কি।

২০০৮ এপ্রিল ম্যাকিদোনিয়ার নাম নিয়ে আপত্তির জের ধরে দেশটির ন্যাটোতে যোগ দেয়ার একটা নিমন্ত্রণ আটকে দিলো গ্রিস।

অক্টোবর সার্বিয়ার আপত্তি সত্ত্বেও কসোভোকে স্বীকৃতি দিলো ম্যাকিদোনিয়া।

২০০৯ ডিসেম্বর ম্যাকিদোনীয় নাগরিকদের ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শেনজেন জোনে ভিসামুক্ত ভ্রমণের অধিকার দেয়া হলো।

২০১১ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগয়ে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা আদালত (আইসিজে) রায় দিলো, নাম নিয়ে আপত্তির জের ধরে ২০০৮ সালে ম্যাকিদোনিয়ার ন্যাটোয় যোগদানের পথে বাধা সৃষ্টি করা গ্রিসের ভুল ছিলো।

২০১৫ মে ম্যাকিদোনিয়ার উত্তরাঞ্চলের কুমানোভো রাজ্যে সংঘাতে ৮ জন পুলিশ ও ১৪ জন বন্দুকধারী নিহত। দেশটির সরকার প্রতিবেশী রাষ্ট্র কসোভো থেকে আসা “সন্ত্রাসবাদী”-দের দায়ী করলো।

২০১৬-১৭ মধ্যপ্রাচ্য থেকে উত্তর ইওরোপে ঢুকতে চাওয়া বিপুল সংখ্যক অধিবাসীকে ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে উত্তর ম্যাকিদোনিয়া।

২০১৭ মে জাতিগত আলবানীয়দের সাথে জোট গঠন করলেন সমাজ গণতন্ত্রী নেতা জোরান জায়েভ।

২০১৮ জুন ম্যাকিদোনিয়ার আনুষ্ঠানিক নাম নিয়ে গ্রিস আর ম্যাকিদোনিয়ার মধ্যে ২৭ বছর ধরে যে বিবাদ চলে আসছিলো, দেশ দুটি এক ঐতিহাসিক চুক্তি সই করার মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটালো।

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ম্যাকিদোনিয়ার নাম বদলে উত্তর ম্যাকিদোনিয়া রাখার সিদ্ধান্ত গ্রিক ও ম্যাকিদোনীয় সংসদ কর্তৃক অণুসমর্থিত হলো। ন্যাটোর সাথে অ্যাসেশন চুক্তি সই করলো উত্তর ম্যাকিদোনিয়া।

২০২১ উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জোরান জায়েভ।

২০২২ জানুয়ারি উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিমিতার কোভাশেভস্কি।

২০২৪ এপ্রিল ১৫ ২০২৩ সালে এক দোষী সাব্যস্ত হওয়া খুনীসহ ২ বন্দীর পলায়নে সহায়তা করার সন্দেহে ইদ্রিজোভো কারাগারে কর্মরত ১৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
২৪ ২০২৪ সালের উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন (প্রথম ধাপ)। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্টেভো পেনদারোভস্কি এবং গোরদানা সিলিয়ানোভস্কা-দাভকোভা উভয়েই রান-অফ নির্বাচনের জন্য উত্তীর্ণ হন।

মে ৮ ২০২৪ সালের উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন (দ্বিতীয় ধাপ)। গোরদানা সিলিয়ানোভস্কা-দাভকোভা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি স্টেভো পেনদারোভস্কিকে পরাজিত করে দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।
২০২৪ সালের উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার সংসদীয় নির্বাচন। ভিএমআরও-ডিপিএমএনই এবং তাদের ‘ইওর ম্যাকিদোনিয়া’ জোট উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার সংসদে ৫৮টি আসন লাভ করলো। যা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে মাত্র ৩টি কম।
১২ উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন গোরদানা সিলিয়ানোভস্কা-দাভকোভা।

জুন ২৩ ৭৭-২২ ভোটে প্রধানমন্ত্রী-মনোনীত হ্রিস্টিজান মিককোস্কি (ভিএমআরও-ডিপিএমএনইর নেতা) ও তাঁর জোট সরকারের কার্যভার গ্রহণের অনুমোদন দিলো উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার সংসদ।
সংঘাত বৃদ্ধির ফলে অত্র অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় লেবাননে অবস্থানরত নিজ রাষ্ট্রের সকল নাগরিককে যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগ করার আহবান জানালো উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জুলাই ২৮ কোকোসিনজে এলাকায় দাবানলে এক ব্যক্তি নিহত।

অক্টোবর ১৯ স্কোপজে চিড়িয়াখানায় একটি মৃত রাজহাঁসের দেহে বার্ড ফ্লুর এইচফাইভএনওয়ান ধরণ শনাক্ত করা হলো। এর ফলে চিড়িয়াখানাটি তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এবং বেশ কিছু পাখিকে মেরে ফেলা হয়।

নভেম্বর ২৯ রাশিয়া থেকে ফেরার পথে স্কোপজে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হলেন এক ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আছে।

ডিসেম্বর ১৫ স্ট্রুগা ও গোস্তিভারে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ৪ ব্যক্তি গ্রেপ্তার।

২০২৫ জানুয়ারি ২৩ ভিএমআরও-ডিপিএমএনইর ৪ কর্মকর্তাকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ দিলো স্কোপজের এক আদালত। এঁরা হলেন উত্তর ম্যাকিদোনিয়া বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার ট্রাইকো ভেলিয়ানভস্কি, প্রাক্তন মন্ত্রী স্পিরো রিস্তোভস্কি ও মাইলে ইয়ানাকিয়েস্কি এবং নিরাপত্তা ও প্রতি-গোয়েন্দা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ভ্লাদিমির আতানাসোভস্কি। ২০১৭ সালে ম্যাকিদোনীয় সংসদে এক হামলার ঘটনা সংগঠিত করার দায়ে ২০২১ সালে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত ও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।
১৬ কোচানির একটি নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ৬২ জন নিহত ও ১৯৬ জন আহত।

অক্টোবর ১৯ ২০২৫ সালের উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার স্থানীয় নির্বাচন (প্রথম ধাপ)।

নভেম্বর ২ ২০২৫ সালের উত্তর ম্যাকিদোনিয়ার স্থানীয় নির্বাচন (দ্বিতীয় ধাপ)। স্কোপজেসহ দেশটির ৮১টি পৌরসভার মধ্যে ৫৫টিতে মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করলো ভিএমআরও-ডিপিএমএনই।

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃক এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে একটি সমন্বিত অবরোধ পালন করলেন ট্রাক চালকরা।

তথ্যসূত্র

BBC.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *