
তাইওয়ান
Featured Image: Wikimedia Commons.

পূর্বসাল
১৫ হাজার বছর আগে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অস্ট্রেনেশীয় বা মালয়-পলিনেশীয় মানুষেরা তাইওয়ানে অভিবাসিত হতে শুরু করলেন।*
* দেশটির বর্তমান আদিবাসীরা সম্ভবত এই মানুষদেরই বংশধর। আদিবাসী তাইওয়ানিরা কাও-শান জু বা পাহাড়ি বলে পরিচিত।
সাল
১৫৯০ পর্তুগিজরা তাইওয়ান আবিষ্কার করে এর নাম দিল ইলহা ফরমোজা।*
* অর্থ: “সুন্দর দ্বীপ।”
১৬২২ ওলন্দাজরা তাইওয়ানিদেরকে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টধর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
১৬২৪ ওলন্দাজরা দক্ষিণপশ্চিম তাইওয়ানে জিল্যান্ডিয়া নামে একটি দুর্গ নির্মাণ করল। যা বর্তমান আনপিং শহরে অবস্থিত। স্পেনীয়রা তাইওয়ানিদের ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
১৬২৬ স্পেনীয়রা উত্তরপশ্চিম তাইওয়ানের সেখানে বসতি স্থাপন করল, যে জায়গাটা বর্তমানে কিলুং নামে পরিচিত।
১৬৫০-৫৯ ওলন্দাজরা এ সময় তাইওয়ানে চীনা অভিবাসনে উৎসাহ যোগাচ্ছে, চীনা চাষীদের শস্তায় কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে।
১৬৫৩ ওলন্দাজরা দক্ষিণপশ্চিম তাইওয়ানে প্রভিন্সিয়া নামে একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করল, যা বর্তমান তাইনান শহরে অবস্থিত।
১৬৬৪ তাইওয়ানে ওলন্দাজ উপনিবেশিক শাসনের অবসান হল, এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন চীনা সমরনায়ক ছেং চেং-কুং।
১৬৮০ এই দশক নাগাদ ১ থেকে দেড় লক্ষ হান চীনা বসতিস্থাপনকারী তাইওয়ানে বসতিস্থাপন করলেন।
১৬৮৩ চীনের কিং রাজবংশ তাইওয়ান দখল করে নিল।
১৮৮৫ চীন প্রথমবারের মত তাইওয়ানকে পূর্ণ প্রাদেশিক মর্যাদা দিল।
১৮৯৫ আগের বছর শুরু হওয়া চীন-জাপান যুদ্ধের পরিণতিতে শিমোনোসেকি চুক্তির মধ্য দিয়ে তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দিল চীন। পরের পাঁচ দশক তাইওয়ান ছিল একটি জাপানি উপনিবেশ। এ বছরই তাইপেইকে তাইওয়ানের রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia।
১৯৩০ জাপানি উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে তাইওয়ানিদের উশে বিদ্রোহ দমন করা হল।
১৯৩৫ এ বছর নাগাদ তাইওয়ানে ২৭০,০০০ জাপানি বাস করছেন।
১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia।
১৯৪৩ তাইওয়ানে এ সময় দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা ১৪৭,০০০। খনি, পরিবহন, যোগাযোগ ও অন্যান্য অকৃষি খাতে কাজ করা শ্রমিকের সংখ্যা ২০০,০০০য়েরও বেশি। এর আগে তাইওয়ানের অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর, জাপানি ফ্যাসিস্টদের হাতে দেশটির শিল্পায়নের শুরুয়াত হয়।
কায়রো চুক্তি তাইওয়ানকে চীনা জাতীয়তাবাদীদের হাতে তুলে দিল।
১৯৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষের হাতে সাম্রাজ্যিক জাপানের শোচনীয় পরাজয় ঘটলে তাইওয়ানের সকল জাপানি দ্বীপটি ছেড়ে জাপানে চলে যান। মিত্রপক্ষ তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে অর্পণ করে।
১৯৪৭ চীনা জাতীয়তাবাদী কুয়োমিনটাং শাসনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানিদের বিদ্রোহ। তাইওয়ানে সামরিক আইন জারি করল চীনা জাতীয়তাবাদীরা। মুক্ত নির্বাচনের দাবি তোলা বহু প্রতিবাদী খুন।
১৯৪৯-৫০ চীনের গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্টদের হাতে জাতীয়তাবাদীদের পরাজয় ঘটে। এর ফলে চিয়াং কাইশেকের কুয়োমিনটাং’য়ের সাথে যুক্ত প্রায় দুই লক্ষ চীনা জাতীয়তাবাদী পালিয়ে গিয়ে তাইওয়ানে আশ্রয় নেন। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তাইওয়ান, যার আনুষ্ঠানিক নাম চীন প্রজাতন্ত্র, কার্যত একটি কুয়োমিনটাং-নিয়ন্ত্রিত একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল।*
*১৯৭০য়ের দশক পর্যন্ত জাতিসংঘ ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এই তাইওয়ানভিত্তিক চীন প্রজাতন্ত্রকেই চীনের বৈধ সরকার বলে গণ্য করেছে।
১৯৪৯-৫৩ তাইওয়ানে চীনা জাতীয়তাবাদী সরকারের ‘চাষীর জন্য জমি’ কর্মসূচি।
১৯৫০ কোরিয়া যুদ্ধের সময় চীনের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব তৈরি হলে মার্কিন মিত্র হয়ে উঠল তাইওয়ান।
১৯৫৪ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করল তাইওয়ান।
১৯৭১ চিয়াং কাইশেক দ্বৈত প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। জাতিসংঘ গণ চীন সরকারকে চীন রাষ্ট্রের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি বলে স্বীকার করে নিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আসন লাভ করল চীন।
১৯৭৫ চিয়াং কাইশেকের মৃত্যু। তাইওয়ানের কার্যকর নেতা হলেন কাইশেকপুত্র চিয়াং চিং-কুয়ো। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত আমৃত্যু শাসন করেন চিং-কুয়ো।
১৯৭৯ কাওসিয়ুং ঘটনা, গণতন্ত্রপন্থী প্রতিবাদীদের খুন করল তাইওয়ানি পুলিশ, সব বিরোধী নেতাকে গ্রেপ্তার করল। “এক চীন নীতি” গ্রহণ করল যুক্তরাষ্ট্র, তাইপেইয়ের বদলে বেইজিংকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিল। এ বছরই দেশটিতে তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট প্রণীত হয়, যা পরিষ্কারভাবে বলল চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের পেছনে ভবিষ্যতে তাইওয়ান সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সুরাহা করা হবে এই প্রত্যাশা আছে।
১৯৮৬ তাইওয়ানি রাজনীতির গণতন্ত্রায়ন। কুয়োমিনটাং-ভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করার সুযোগ পেল। প্রকাশিত হল টমাস গোল্ডের স্টেট অ্যান্ড সোসাইটি ইন দ্য তাইওয়ান মিরাকল।
১৯৮৭ তাইওয়ানে জারি থাকা সামরিক আইন বিলুপ্ত হল।
১৯৮৮ কাও-শান জু বা পাহাড়ি বলে পরিচিত আদিবাসী তাইওয়ানিরা তাঁদের ভূমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করলেন। এ বছরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হন লি তুং-হুই। শুরু করেন তাইওয়ানিকরণ।
১৯৯০ গণ চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান ৪০ বছর ধরে যে-যুদ্ধাবস্থায় ছিল, এ বছর তার অবসানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল তাইওয়ান।
১৯৯১ আদিবাসী তাইওয়ানিদের “আমাদের ভূমি ফিরিয়ে দাও” আন্দোলন “আদিবাসী সাংবিধানিক আন্দোলনে” রূপান্তরিত হল।
১৯৯৬ তাইওয়ানে প্রথমবারের মত মুক্ত নির্বাচন আয়োজিত হল। দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হলেন লি তুং-হুই। চীন এই নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টায় চালায়, কিন্তু মার্কিনীদের বাধার মুখে পিছু হঠে।
১৯৯৭ হংকংকে চীনের হাতে তুলে দেয়ার প্রতিবাদে এ-বছরের জুলাইয়ে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই’য়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন ৭০,০০০ মানুষ।
১৯৯৯ মুরে রুবেনস্টেইন (সম্পা.), তাইওয়ান: আ নিউ হিস্টোরি।
২০০০ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন স্বাধীনতাপন্থী ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির ছেন শুই-বিয়ান। তিনিই দেশটির ইতিহাসের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান যার ক্ষমতারোহণে কুয়োমিনটাংয়ের কোন ভূমিকা ছিল না। তাইওয়ানের কুয়োমিনটাংয়ের পাঁচদশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হল।
২০০১ নির্বাসিত তিব্বতী আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা তাইওয়ানি প্রেসিডেন্ট ছেনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন, চীন এর কড়া প্রতিবাদ জানাল।
২০০২ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দিল তাইওয়ান।
২০০৪ দ্বিতীয় মেয়াদে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ছেন শুই-বিয়ান।
২০০৫ বেইজিং একটি বিচ্ছিন্নতাবিরোধী বিল প্রণয়ন করল, যাতে চীন থেকে তাইওয়ানের বিচ্ছিন্ন হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অবৈধ ঘোষিত হল।
২০০৭ তাইওয়ান প্রথমবারের মত জাতিসংঘে যোগদানের প্রয়াস চালাল। তবে আনুষ্ঠানিক নাম চীন প্রজাতন্ত্র নামে নয়, তাইওয়ান নামে। তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে গেল।
২০০৮ কুয়োমিনটাং’য়ের মা ইং-জিউ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। একদলীয় একনায়কতন্ত্রের আমলে হাজার হাজার বিরোধীকে কারাগারে পাঠানো ও হত্যা করার জন্য দলের পক্ষে ক্ষমা চাইলেন ইং-জিউ। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য উচ্চপদস্থ চীনা কর্মকর্তা ছেন শুই-বিয়ান তাইওয়ান সফর করলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থীদের তীব্র প্রতিবাদ।
২০০৯ তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই হল।
২০১২ দ্বিতীয় মেয়াদে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মা ইং-জিউ।
২০১৪ চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সরকার পর্যায়ের বৈঠক, ১৯৪৯ সালের পর এই প্রথমবারের মত।
২০১৫ সিঙ্গাপুরে তাইওয়ানি প্রেসিডেন্ট মা ইং-জিউ আর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-য়ের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হল।
২০১৬ স্বাধীনতাপন্থী ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির নেত্রী সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। চীন তাইওয়ানের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থগিত করল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেলিফোনে নবনির্বাচিত তাইওয়ানি প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সাথে কথা বললেন।
২০১৭ তাইওয়ানের সংসদে দ্বীপটির কর্তৃত্ববাদী অতীতের সব প্রতীক সরিয়ে নেয়ার পক্ষে আইন পাশ হল। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে ১৪০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রয়ের অনুমোদন দিল। এতে বেইজিংয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হল।
তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ১৬টি আদিবাসী জাতির ভাষা সংস্করণ করার লক্ষ্যে দ্য ইন্ডিজেনাস ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভলাপমেন্ট অ্যাক্ট প্রণীত হল।
২০১৮ মে ৩১ তাইওয়ানের ট্রান্সন্যাশনাল জাস্টিস কমিশন উদ্বোধন করা হল। দেশটির ইতিহাসের শ্বেত সন্ত্রাস পর্বে (১৯৪৯-৯১) রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়া নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন।
২০১৯ প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে সমকামী বিবাহকে বৈধতাপ্রদান করে বিশেষ আইন পাশ করল তাইওয়ান।
২০২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই ঘন্টা ধরে মোবাইলে কথা বললেন। বাইডেন শিকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন যে তাইওয়ানের ব্যাপারে মার্কিন নীতি অপরিবর্তিত আছে।
আগস্ট মার্কিন হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির অপ্রত্যাশিত তাইওয়ান সফর চীন-তাইওয়ান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাল।
২০২৩ জানুয়ারি ৮ তাইপে আইনসভা উপনির্বাচন।
মার্চ ৪ নান্টু আইনসভা উপনির্বাচন।
২৬ প্রজাতন্ত্রী চীনের (আরওসি) সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো হন্ডুরাস।
২৭ ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর প্রথম তাইওয়ানি নেতা হিসেবে চীনের মূল ভূখণ্ডে সফর করলেন তাইওয়ানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ। সাংহাইতে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের উপ-চেয়ারম্যান চেন ইউয়ানফেংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি এটিকে তাইওয়ান বিষয়ে চীনের অবস্থানকে “সমর্থন করা” বলে আখ্যা দিয়ে এই সফরের সমালোচনা করে।
জুন ২০ নিউ তাইপে শহরের কিন্ডারগার্টেন কেলেঙ্কারি। নিউ তাইপে শহরের একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বেনজোডিয়াজেপিন এবং ফেনোবারবিটালের মতো ওষুধযুক্ত কাশির সিরাপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের অচেতন করার অভিযোগ উঠলো। এই কেলেঙ্কারির জের ধরে সরকারি ভবনগুলোর বাইরে বিক্ষোভ শুরু হলো। অভিভাবকরা এর জবাব দাবি করেন। মে মাসে এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের অভিভাবকরা স্কুলটির কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁদের সন্তানদের ‘অজানা মাদক’ খাওয়ানোর অভিযোগ এনেছিলেন। সন্তানদের মধ্যে মাদক ছাড়ার উপসর্গের মতো আলামত লক্ষ্য করার পর তারা এই অভিযোগ তোলেন।
সেপ্টেম্বর ১০ শ্বেত সন্ত্রাসের নিপীড়নের শিকারদের সম্মান পুনর্বহাল করলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। এই নিপীড়ন ১৯৪০য়ের দশক থেকে ১৯৮০র দশক পর্যন্ত প্রজাতন্ত্রী চীন সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিল। তাইপেতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল শ্বেত সন্ত্রাসের সময় সংঘটিত অপরাধগুলো নিয়ে প্রথম দেশব্যাপী আয়োজন।
২২ পিংটুং কাউন্টির একটি গলফ বল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও পরবর্তী বিস্ফোরণে ৬ জন নিহত, ১০০ জনেরও বেশি আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হন।
২০২৪ জানুয়ারি ১৩ ২০২৪ সালের তাইওয়ানের আইনসভা নির্বাচনে সর্বাধিক আসন লাভ করলো বিরোধী দল কুয়োমিনটাং। তবে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে, যিনি ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।
২৫ চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করলো তাইওয়ান।
ফেব্রুয়ারি ১৪ ২০২৪ সালের কিনমেন চীনা মোটরবোটডুবির ঘটনা। তাইওয়ান কোস্ট গার্ডের ধাওয়া খাওয়ার সময় কিনমেনের কাছে একটি নৌকা উল্টে গেলে এতে ৪ চীনা জেলে পানিতে পড়ে যান এবং এঁদের মধ্যে ২ জনের মৃত্যু ঘটে। কোস্ট গার্ডের দাবি, এঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ছিলেন।
মার্চ ২৭ পো লিন টি-হাউস বিষক্রিয়ার ঘটনা। তাইপের শিনয়ি জেলার পো লিন টি-হাউস থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে, যা বংক্রেক অ্যাসিডের কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়। এতে ২ ব্যক্তির মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে।
এপ্রিল ৩ ২০২৪ সালের হুয়ালিয়েন ভূমিকম্প। তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে ৭.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হলো। এতে ১৮ জন নিহত এবং ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
চীনের পিএলএ বিমান বাহিনীর ৩০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমার কাছে দিয়ে উড়ে গেছে এবং তাইওয়ানের আশেপাশে পিএলএ নৌবাহিনীর অন্তত নয়টি যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানালো তাইওয়ানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিক্রিয়ায় আরওসি সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়।.
১৩ মিয়াওলি শহরের মেয়র পদ এবং অন্যান্য স্থানীয় পদের জন্য অনুষ্ঠিত ৬টি উপনির্বাচনের মধ্যে ৫টিতে জয়লাভ করলো কুয়োমিনটাং। ষষ্ঠটিতে জয়লাভ করেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
২০২৫
২০২৬ জানুয়ারি ৬ হুয়ালিয়েন কাউন্টির উপকূলে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে থাকা একটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের পাইলটের সাথে রিপাবলিক অফ চায়না এয়ার ফোর্সের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো।
১৬ একটি বাণিজ্য চুক্তি সই করলো তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্র। যার আওতায় তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলো মার্কিন অর্থনীতিতে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের রপ্তানির ওপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করবে।
১৭ চীনের মূল ভূখণ্ডের ব্যক্তিদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করার জন্য সামরিক কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার সন্দেহে জনৈক সাংবাদিককে আটক করলো চিয়াওতোউ জেলার এক আদালত।
২৫ স্কাইস্ক্র্যাপার লাইভ (২০২৬)। দড়ি বা অন্য কোন সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার না করে তাইপেই ১০১য়ে আরোহণ করা প্রথম ব্যক্তি হলেন মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড।
২৮ পদত্যাগ করলেন কন্ট্রোল ইউয়ানের প্রেসিডেন্ট ছেন ছু। ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ছুটিতে আছেন তিনি।
ফেব্রুয়ারি ১০ আইনপ্রণেতা কাও ছিন সু-মেইয়ের কার্যালয়ে অভিযান চালান প্রজিকিউটররা। তাঁর সহযোগীদের বেতন আত্মসাৎয়ের সন্দেহে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেন।
১২ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে তার ৯৯% শুল্ক অপসারণ বা হ্রাস করতে সম্মত হলো তাইওয়ান।
৪ মার্চ – তাইওয়ানের প্রসিকিউটররা চেন ঝি সহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তাদের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ায় প্রতারণার কেন্দ্র পরিচালনাকারী একটি বহুজাতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক ‘প্রিন্স গ্রুপ’-এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। তারা অপরাধী সংগঠন এবং অর্থ পাচার সম্পর্কিত অপরাধে ১৩টি কোম্পানির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনেন।
২৬ মার্চ – তাইপে জেলা আদালত তাইপের প্রাক্তন মেয়র এবং রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কো ওয়েন-জে-কে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
২৩ এপ্রিল – সমুদ্র বিষয়ক মন্ত্রী কুয়ান বি-লিং বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের তাইপিং দ্বীপে কোস্ট গার্ড প্রশাসনের মহড়া তদারকি করতে যান।
২৭ এপ্রিল – মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক আদালত, টিএসএমসি থেকে টোকিও ইলেকট্রনে বাণিজ্যিক গোপনীয় তথ্য হস্তান্তরের জন্য, টোকিও ইলেকট্রন এবং টিএসএমসি-র একজন প্রাক্তন কর্মচারীসহ পাঁচজনকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং টোকিও ইলেকট্রনকে ১৫ কোটি তাইওয়ান ডলার (৪৮ লক্ষ মার্কিন ডলার) জরিমানা করে।
২ মে – রাষ্ট্রপতি লাই চিং-তে এসওয়াতিনিতে পৌঁছান। তাঁর দীর্ঘ-বিলম্বিত সফরটি বিঘ্নিত হয় কারণ একাধিক আফ্রিকান রাষ্ট্র ট্রানজিটের জন্য এসওয়াতিনির আকাশসীমায় প্রবেশে অস্বীকৃতি জানায়।
১৯ মে – তাইওয়ানি লেখক ইয়াং শুয়াং-জি রচিত এবং তাইওয়ানি-আমেরিকান লিন কিং দ্বারা অনূদিত উপন্যাস ‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলগ’ ম্যান্ডারিন চীনা ভাষা থেকে অনূদিত প্রথম রচনা হিসেবে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার লাভ করে।
২ জুন – গণপ্রজাতন্ত্রী চীন বিমান বাহিনীর একটি টি-৩৪ মেন্টর প্রশিক্ষণ বিমান গাংশান জেলার গাংশান বিমান ঘাঁটিতে বিধ্বস্ত হয় এবং এর দুই পাইলট নিহত হন।
৯ জুন – সিনচুর একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হন।
২৮ জুন – টাইফুন মেখালার কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
১ জুলাই — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতে চীনের আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লুজন প্রণালী এবং দক্ষিণ জাপানি দ্বীপপুঞ্জে নেভি-মেরিন এক্সপেডিশনারি শিপ ইন্টারডিকশন সিস্টেম এবং মেরিন এয়ার ডিফেন্স ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম মোতায়েন করেন।
১ জুলাই — সেন্ট্রাল ইউনিয়ন অয়েল কর্পোরেশন দ্বারা উৎপাদিত ভোজ্য তেল পণ্য ব্যাপকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পণ্যগুলিতে অতিরিক্ত মাত্রার বেনজোপাইরিন পাওয়া যায়।
৯ জুলাই — তাওয়ুয়ানের ঝংলি জেলার একটি ধাতব কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
জুলাই ২৪ সরবরাহ শৃঙ্খলে কথিত জবরদস্তিমূলক শ্রমের উপস্থিতির কারণ দেখিয়ে তাইওয়ানের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। আরও ৫৯টি দেশের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে মার্কিন সরকার।
১১ আগস্ট – তাইওয়ানের রাজনৈতিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের জন্য বেইজিংয়ের সাথে আঁতাতের অভিযোগে চীনের মূল ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী স্বামীদের পক্ষে কথা বলা এক মহিলাকে নিউ তাইপেই শহরের একটি আদালত সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
তথ্যসূত্র
ASEAN. n.d. “ASEAN member states.” Accessed March 6, 2025.
https://asean.org/member-states/.
BBC.
Ministry of Foreign Affairs. 2019. “History.” Government Portal of Republic of China, Taiwan, March. https://doi.org/A03000000B.
Reuters.
Salter, Christopher L. 2004. Taiwan. Chelsea House.
Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



