
পশ্চিমবঙ্গ
Featured Image: Wikimedia Commons.

বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ
“What Bengal thinks today, India thinks tomorrow.”
Gopal Krishna Gokhale (1866-1915), Indian Politician
সাল
১৬৯০ সুতানুটি, ডিহি কলকাতা, ও গোবিন্দপুর এই তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা শহরের পত্তন করা হল।
১৬৯৮ আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে কলিকাতা, সুতানুটি, আর গোবিন্দপুর – এই তিনটি গ্রাম খরিদ করার অনুমতি পেল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬৯৯-১৯৩৫ ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সি।
১৭২৫-৭৪ রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৩৩-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
১৭৫৬-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলার আমল।
১৭৫৬ আলিবর্দি খানের মৃত্যু। সিরাজুদ্দৌলার হাতে প্রথমে কাশিমবাজার কুঠি, তারপর ফোর্ট উইলিয়ামের পতন। কলকাতা জয় করে নগরীর নতুন নাম দিলেন আলিনগর।
১৭৫৭ জানুয়ারি ২ ব্রিটিশ বণিকরা পুনর্দখল করল কলকাতা, পুনরুদ্ধার করল ফোর্ট উইলিয়াম। মণিহারির প্রান্তরে – বর্তমান নবাবগঞ্জ, বিহার – শওকত জংকে পরাস্ত করলেন সিরাজুদ্দৌলা।
ফেব্রুয়ারি আলিনগরে সিরাজুদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে সন্ধি করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন।
মার্চ ইংরেজি নৌবহর ফরাসি ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ করল।
জুন কোম্পানির গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের মুর্শিদাবাদ যাত্রা।
২৩ পলাশীর যুদ্ধ, নিজের আত্মীয়, দেশি অমাত্য, আর বিদেশি বণিকদের ত্রিমুখী আক্রমণের শিকার হয়ে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত হলেন নবাব সিরাজুদ্দৌলা। মুর্শিদাবাদের নবাবি আরো কিছুদিন নামকাওয়াস্তে টিকে থাকলেও সিরাজই শেষ স্বাধীন নবাব বিবেচিত হন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উপনিবেশিক শাসনের শুরুয়াত।
২৮ ব্রিটিশ পুতুল হিসেবে নামকাওয়াস্তে নবাব হলেন মির জাফর আলি খান। বাংলার গভর্নর হলেন রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৫৭-১৮৫৮ কোম্পানি আমল।
১৭৫৮ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হল চব্বিশ পরগনা।
১৭৬০ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রবার্ট ক্লাইভকে ইংল্যান্ডে ফেরত পাঠাল। কোম্পানির নতুন প্রশাসক হলেন হেনরি ভ্যানসিটারট। প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ক্লাইভ। তৃতীয় জর্জের রাজ্যাভিষেক। তিনি রবার্ট ক্লাইভকে ব্যারন অফ পলাশি খেতাব দিলেন। ভ্যানসিটারট মুর্শিদাবাদ গিয়ে মির জাফরকে অপসারণ করলেন। বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার নতুন নবাব হিসেবে মির জাফরের মেয়ের জামাই মির কাসিমকে স্বীকৃতি দেয়া হল।
নবাবকে রাজ্য পরিচালনার কাজে ‘সহযোগিতা’ করার দায়িত্ব দেয়া হল কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
সেপ্টেম্বর ২৭ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে বর্ধমান, মেদিনীপুর, ও চট্টগ্রাম জেলা তুলে দিলেন মির কাশেম।
১৭৬৩ মির কাসিমের স্থলে আবার মির জাফর আলী খানকে বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার নবাবের পদে বসান হল। পলাশীর কাছাকাছি মির কাসিমের বাহিনী হেরে গেল ইংরেজ বাহিনীর কাছে। মুর্শিদাবাদের পতন ঘটল।
১৭৬৪ অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও কাশীর রাজা বলবন্ত সিংয়ের সাথে জোট বাঁধলেন মির কাসিম।
অক্টোবর ২২ বক্সারের যুদ্ধ। গঙ্গার তীরে বক্সার শহরে তিন বাহিনী ইংরেজদের মুখোমুখি হল। মেজর হেক্টর মুনরোর কাছে হেরে গেল মিলিত বাহিনী।
১৭৬৫ কুষ্ঠরোগে মির জাফর আলী খানের মৃত্যু।
মার্চ তৃতীয়বারের মত ভারতে এলেন রবার্ট ক্লাইভ। ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ ফেরার অনুমতি পেলেন সিরাজুদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নিসা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁর জন্য মাসিক ১০০ টাকা ভাতা বরাদ্দ করল।
আগস্ট ১২ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাৎসরিক ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ করার অধিকার, দেওয়ানি, লাভ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৭৭০ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিষ্কাশনমূলক রাজস্ব নীতির ফলে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। বাংলার ১ কোটি মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেলেন।
১৭৭২-৮৫ বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংসের আমল।
১৭৭২-১৮৯০ লালন শাহ।
১৭৭২-১৮৩৩ রামমোহন রায়।
১৭৭৫ আগস্ট ৬ মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসি।
১৭৭৭ ফকিরের বেশে রোহিলাখন্ড ও এলাহাবাদ হয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেয়া মির কাসিম কপর্দকশূন্য অবস্থায় রাস্তার পাশে মারা যান।*
* তাঁর শেষ সম্পদ ছিল দুটো দামি শাল। এগুলো বেচে মির কাসিমকে কবর দিতে হয়। শেষ হয়ে যায় মুর্শিদাবাদে নবাবি আমল।
১৭৭৮ সেপ্টেম্বর ৬ হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা স্থাপন করা হল।
১৭৭৯-১৮০২ ফরস্টার, ইংরেজি-বাঙ্গালা ও বাঙ্গালা-ইংরেজি অভিধান।
১৭৮০ জানুয়ারি ২৯ প্রকাশিত হতে শুরু করল হিকির বেঙ্গল গেজেট।
১৭৮১ বাংলার একটি মানচিত্র প্রকাশ করলেন মেজর জেমস রেনেল।
১৭৮৪ জানুয়ারি ১৫ আইনজীবী ও ভাষাবিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম জোনস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি।
১৭৮৫-৮৬ বীরভূমের গণবিদ্রোহ।
১৭৮৬ উইলিয়াম জোনস কর্তৃক ঘোষিত হল ইন্দো-ইওরোপীয় ভাষাপরিবার।
১৭৮৮ ন্যাথানিয়াল ব্র্যাসি হ্যালহেড, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৭৮৯-৯১ বীরভূম ও বাঁকুড়ার পাহাড়িয়া বিদ্রোহ।
১৭৯০ নবাব সিরাজুদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নিসার মৃত্যু।
১৭৯৩ আপজন, ইঙ্গরাজি ও বাঙালা বোকবিলারি।
১৭৯৩-৯৪ লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, স্থানীয় অনুগত জমিদারদের হাতে পাকাপাকিভাবে ভূমি মালিকানা তুলে দিল, সর্বনাশ করল বাংলার কৃষকদের।*
* এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, উমর (২০২৫)।
১৮০১ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করা হল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।*
আজকে আমরা “প্রমিত” বাংলা বলতে যা বুঝি, তা এই কলেজের তৈয়ার; বাংলা ভাষা থেকে বিপুল পরিমাণে আরবিফারসি গোড়ার শব্দ খেদিয়ে ও অপ্রচলিত সংস্কৃত গোড়ার শব্দ আমদানি করে তৈরি করা হয় এই উপনিবেশিক বাংলা।
উইলিয়াম কেরি, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৮০৩ শ্রীরামপুরের মিশনারিদের দ্বারা মুদ্রিত হল কৃত্তিবাসের রামায়ণ।
১৮১২-৯৫ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
১৮১৩ এপ্রিল ২০ সতীদাহ নিষিদ্ধ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।*
* “একই সাথে সহমরণকে আইনীভাবে রিকগনাইজ করে। নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, ১৬ বছরের নিচে বিধবা হলে, গর্ভবতী অবস্থায় হলে বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মা বিধবা–এনারা সহমরণে যেতে পারবে না; এবং নেশাদ্রব্য সেবন বা জোরারোপের মাধ্যমে স্বামীর চিতায় বিধবাকে পোড়ানো যাবে না; সহমরণের একমাত্র বৈধ উপায় বিধবার উইল; বিধবার ইচ্ছা ভিন্ন কোন উপায় নাই আর। বিধবার ‘উইল’ জিনিসটা এইখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ; ইংরেজ তথা ইউরোপীয় অনুমান ছিলো সহমরণ হয় না আসলে, ওইটা সতীদাহ।” (মনু ২০১৩)
১৮১৫ প্রতিষ্ঠিত হল আর্যসভা।
১৮১৭ জানুয়ারি ২০ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করা হল হিন্দু কলেজ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ, বঙ্গভাষাভিধান।
১৮১৮ শ্রীরামপুরের মিশনারিরা প্রকাশ করলেন বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা দিকদর্শন। এ বছরই শ্রীরামপুর মিশন থেকে জে সি মার্শম্যানের সম্পাদনায় বেরোল একটি সাপ্তাহিকপত্র সমাচার দর্পন। প্রকাশিত হল গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য ও হরচন্দ্র রায়ের বাঙ্গালা গেজেট। রাজা রাধাকান্ত দেবের সংস্কৃত অভিধান শব্দকল্পদ্রুময়ের মুদ্রণ শুরু হল।
১৮২০-৯১ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
রাধাকান্ত দেব, বাঙ্গালা শিক্ষক।
১৮২৩-২৮ কলকাতায় স্থাপিত হল রক্ষণশীল গৌড়ীয় সমাজ।
১৮২৪-৭৩ মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
১৮২৪-৬১ হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
১৮২৫ উইলিয়াম কেরি, বাঙ্গালা অভিধান।
১৮২৬ রামমোহন রায়, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৮২৮ রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ব্রাহ্মসভা। পরবর্তীতে ব্রাহ্ম সমাজে পরিণত হয়।
১৮২৯ কলকাতা মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে ঐচ্ছিক ও অতিরিক্ত বিষয় হিসাবে ইংরেজি ভাষা চালু করা হল।
১৮৩১ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন বারাসাতের মীর নিসার আলি। ইতিহাসে যিনি তিতুমীর নামেই অমর হয়ে আছেন। ব্রিটিশরা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা কামান দেগে উড়িয়ে দেয়।
নভেম্বর ১৪ শহিদ হন তিতুমীর। তাঁর অনুসারীদের ১৪০ জনকে প্রহসনের বিচারের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিতুমীরের ভাগ্নে ও সেনাপতি গোলাম মাসুমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মাসুমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ধবংসপ্রাপ্ত বাঁশের কেল্লার সামনে তাঁকে ফাঁসি দেয়ার মাধ্যমে।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় বেরোতে শুরু করল সম্বাদপ্রভাকর।
১৮৩৩ রামমোহন রায়, গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
হটন, বাঙ্গালা-ইংরেজি অভিধান।
১৮৩৪ রামকমল সেন, আ ডিকশনারি ইন ইংলিশ অ্যান্ড বেঙ্গলি।
১৮৩৪/৬-১৮৮৬ রামকৃষ্ণ পরমহংস।
১৮৩৮-৯৪ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১৮৪০-৭০ কালীপ্রসন্ন সিংহ।
১৮৪৩ ব্রাহ্ম সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করে তুললেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৮৪৭ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বেতালপঞ্চবিংশতি।
১৮৪৮-১৯২৫ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী।
১৮৪৯-১৮৫৬ বাংলা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, আর আওধের প্রিন্সলি স্টেটগুলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন গভর্নর-জেনারেল লর্ড ডালহৌসি।
১৮৫০-৫৯ বাংলায় রেলপথের বিস্তার।
১৮৫০ শ্যামাচরণ সরকার, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৮৫৪ শকুন্তলা বাংলায় অনুবাদ করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
১৮৫৫ হিন্দু বিধবা আইন প্রবর্তন করা হল। কলকাতা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হল। হিন্দু কলেজের নাম বদলে প্রেসিডেন্সি কলেজ রাখা হল।
১৮৫৭ মহাবিদ্রোহ।
জানুয়ারি ১ প্রতিষ্ঠা করা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫৮ প্যারীচাঁদ মিত্র, তখল্লুস টেকচাঁদ ঠাকুর, আলালের ঘরের দুলাল।*
* এই উপন্যাসটি সাধু ভাষায় লেখা হয় নি। আজকের দিনে ‘প্রমিত চলিত বাংলা’ বলতে যা বোঝায় এমনকি তাতেও নয়। প্যারীচাঁদ মিত্র আলালের ঘরের দুলাল লিখেছিলেন সমকালীন চলতি ভাষায়।
১৮৫৮-১৯৪৭ ব্রিটিশ রাজ।
১৮৫৯ বাংলার ভূমিরাজস্ব আইন: ভারতের প্রথম প্রজাস্বত্ব আইন।
১৮৫৯-৬১ নীল বিদ্রোহ।*
* বাংলার ইতিহাসে প্রচারণার মাধ্যমে যাঁদের ‘উনিশ শতকের মহাপুরুষ’ বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তাঁরাসহ বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সবাই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের মত নীল বিদ্রোহের ব্যাপারেও নির্লিপ্ত ছিলেন। হরিশ মুখার্জি এই ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার এই সম্পাদক শুধু যে নীল বিদ্রোহে বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থন দিয়েছেন তাই নয়, বিদ্রোহী চাষীদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছেন।
১৮৬০ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সীতার বনবাস।
দীনবন্ধু মিত্র, নীলদর্পণ।
১৮৬১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মেঘনাদবধ কাব্য।
১৮৬১-১৯৪১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৮৬২-৬৩ এ সময়ই কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা হাইকোর্ট।
১৮৬২-১৯০২ স্বামী বিবেকানন্দ।
১৮৬৩ কালীপ্রসন্ন সিংহ, হুতোম প্যাঁচার নকশা।
১৮৬৩-১৯১৩ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
১৮৬৫ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দুর্গেশনন্দিনী।
১৮৬৯ উইলিয়াম শেকসপিয়ারের কমেডি অফ এররস বাংলায় রূপান্তরিত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বেরোলো ভ্রান্তিবিলাস নামে।
১৮৭২ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত হল বঙ্গদর্শন পত্রিকা।
১৮৭২-১৯৪৮ অরবিন্দ ঘোষ।
১৮৭৪ বাংলা ও বিহারে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সির বাংলাভাষী অঞ্চল গোয়ালপাড়া ও কাছারকে আসামের সাথে যুক্ত করা হল।
১৮৭৫ স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল আর্য সমাজ।
১৮৭৭ জানুয়ারি ১ মহারানী ভিক্টোরিয়াকে ভারতবর্ষের সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করা হল।
কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হল জাতীয় মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন।
১৮৮৫ ইম্পেরিয়াল সিভিল সার্ভিসের, পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা, অ্যালান অক্টাভিয়াম হিউম প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি)।
১৮৮৭-১৯২৩ সুকুমার রায়।
১৮৯১ এইজ অফ কনসেন্ট বিল।*
*বাংলা আর মহারাষ্ট্রের হিন্দুদের বিরোধিতার মুখে স্ট্যাচুয়েটরি রেপের বয়সসীমা ১০ থেকে ১২ করল ব্রিটিশ ভারতের উপনিবেশিক সরকার।
১৮৯২ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট। ব্রিটিশ ভারতের বাংলা, বোম্বে, আর মাদ্রাজের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলোর প্রতিনিধিদের অপ্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত করার আইন পাশ হল। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পরীক্ষায় বসার বয়স বাড়িয়ে ২৩ করা হল।
১৮৯৭ মার্চ ১ স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করলেন রামকৃষ্ণ মিশন।
রিখটার স্কেলে ৮.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প বাংলা ও আসামে আঘাত হানল।
১৯০১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল শান্তিনিকেতন।
১৯০৫ অক্টোবর ১৬ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকরা বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করলেন, উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করা। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে শুরু হল স্বদেশী আন্দোলন।
১৯০৬ কলকাতায় বালগঙ্গাধর তিলক উদ্বোধন করলেন শিবাজি উৎসব।
ডিসেম্বর ৩০ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (এআইএমএল)।
১৯০৮ আগস্ট ১১ ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি।
বি.এ. পরীক্ষা পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য আবশ্যিক পাঠ্য হিসাবে নির্ধারিত হল।
১৯১১ ডিসেম্বর ১২ পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে শেষবারের মত বসল দিল্লি দরবার, তাতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হল।
১৯১২ ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হল।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
১৯১৫ হরিদ্বারে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।*
* অংশত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়ায় গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মাতৃসংগঠন বলা যেতে পারে। এই সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, বসু (২০২৩)।
১৯১৬ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ,শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।*
* রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৩৮৫ সালের আগের কোনো সময়ে রচিত হয়। এখন মনে করা হয়, এটি ১৩৫০ থেকে ১৪০০ সালের মাঝামাঝি কখনো রচিত হয়েছিল। কাব্যের নামটি অবশ্য কবি বড়ু চণ্ডীদাস দেননি, দিয়েছেন সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ, যিনি ১৯০৯ সালেবাঁকুড়ার এক গেরস্তের গোয়ালঘর থেকে কাব্যটি উদ্ধার করেন।
১৯১৭ রুশ বিপ্লব।
১৯২১ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৯২৪ কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হলেন চিত্তরঞ্জন দাশ আর ডেপুটি মেয়র হলেন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী।
১৯২৮ ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় স্থাপিত হল ম্যাডান থিয়েটার্স লিমিটেড।
১৯২৯ ডিসেম্বর ১৫ কলকাতার আলবার্ট হলে কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেয়া হল।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পথের পাঁচালী।
১৯৩১ প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, দেনাপাওনা।*
* কলকাতায় বানানো প্রথম সবাক সিনেমা।
১৯৩৩ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চার পর্বে সমাপ্ত শ্রীকান্ত উপন্যাসের শেষ পর্ব প্রকাশিত, ১৯১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছিল।
১৯৩৫ দীনেশচন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ।
১৯৩৬ অক্টোবর ৩১ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করল দৈনিক আজাদ।
১৯৩৭-১৯৪৭ বাংলা প্রদেশ।
১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
১৯৪০ মার্চ ২৩ লাহোর প্রস্তাব।
ডিসেম্বর ২০ কলকাতার ওপর প্রথমবারের মত বোমাবর্ষণ করল সাম্রাজ্যিক জাপান।
সুকুমার রায়, পাগলা দাশু।
১৯৪১ জানুয়ারি ১৫ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান।
ডিসেম্বর ১০ মুসলিম লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন শেরে বাংলা।
১২ গঠিত হল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা।
১৯৪২ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তির সাথে হাত মেলালেন।
১৯৪৩ পঞ্চাশের মন্বন্তর।*
* চার্চিলের উপনিবেশিক বর্ণবাদী নীতির ফলে বাংলায় দুর্ভিক্ষ। চলল ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত। এ সময় মারা যান ৩৫ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের পরাস্ত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ইওরোপে যুদ্ধনায়ক বিবেচিত হন চার্চিল, আর সেটা ন্যায্যও বটে। কিন্তু ফসলে উদ্বৃত্ত বাংলায় ভাতের জন্য হাহাকার করতে করতে মৃত্যুবরণ করা ৩৫ লক্ষ বাঙালির চোখে উইনস্টন চার্চিল কোন নায়ক ছিলেন না। ইতিহাসে নায়ক আর খলনায়কের বিচারটা অত্যন্ত আপেক্ষিক। বিস্তারিত জানতে, দেখুন Mukherjee (2010) ও Mukherjee (2015)।
১৯৪৫ এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু।
১৯৪৬ আগস্ট ১৬ মুহাম্মদ আলি জিন্না পাকিস্তানের প্রতি মুসলমানদের অঙ্গীকারবদ্ধতা প্রদর্শন করতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের ডাক দিলেন। কলকাতা, নোয়াখালি, ও বিহারে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা। অমৃতসর ও লাহোরে শিখ মুসলিম দাঙ্গা।
১৯৪৭ এপ্রিল ২৭ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা গঠনের আহবান জানালেন সোহরাওয়ার্দী।
মে ২০ শরৎচন্দ্র বসু আর আবুল হাশিমের দস্তখতে প্রকাশিত হল স্বাধীন বাংলার কাঠামো।
জুন ৩ ভারত ও পাকিস্তানের ভিত্তিতে স্বাধীনতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল, যার অর্থ ছিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের দুই ভাগ হয়ে যাওয়া।
২০ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাসমূহের কংগ্রেস সদস্য, হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও কমিউনিস্ট পার্টির জ্যোতি বসু সমেত ৫৮ জন বিধায়ক বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ১১৬ জন মুসলিম লীগ সদস্য বাংলা ভাগের বিপক্ষে ও ৩৪ জন কংগ্রেস সদস্য বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। অমুসলিমদের মধ্যে দলিতদের তফশিলি ফেডারেশনের ৫ জন বিধায়কও বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দেন।
আগস্ট ১৩ র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ।
১৪, মধ্যরাত ব্রিটিশ ভারতের অবসান।
১৪ ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের একটি স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হল পাকিস্তান অধিরাজ্য (Dominion of Pakistan)।*
* ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত টিকে ছিল। দরবারি প্রধান ছিলেন ব্রিটেনের রাজা, পরবর্তীতে রানী। ১৯৫৬ সালে প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে পাকিস্তানের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ফেডারেল অধিরাজ্য স্ট্যাটাস বিলুপ্ত হয়।
১৫ ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের একটি স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্র ঘোষিত হল ভারত অধিরাজ্য (Dominion of India)।*
* ১৯৫০ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকে ছিল। দরবারি প্রধান ছিলেন ব্রিটেনের রাজা। ১৯৫০ সালে প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ফেডারেল অধিরাজ্য স্ট্যাটাস বিলুপ্ত হয়।ভ
১৯৫২ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে আইএনসি’র ভূমিধবস বিজয়, প্রধান বিরোধী দল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। এই নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া ভারতীয় জনসংঘ (বিজেএস) আর অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা (এবিএইচএম) মাত্র ১৩টি আসনে জেতে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হলেন ডা: বিধানচন্দ্র রায়।
১৯৬৪ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ভেঙে বেরিয়ে আসল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) [সিপিআইএম]।
১৯৬৫-৬৬ সিপিআই(এম)য়ের তরুণ নেতা চারু মজুমদার মার্কসবাদ, লেনিনবাদ, ও মাও সেতুং চিন্তাধারার আলোকে লিখলেন তাঁর ঐতিহাসিক আট দলিল।
১৯৬৬ পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হল পিপলস ইউনাইটেড লেফট ফ্রন্ট (পিইএলএফ)। রাজ্যের রাজনীতিতে যা সংক্ষেপে ইউনাইটেড ফ্রন্ট নামে পরিচিতি পাবে।
১৯৬৭ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ইউনাইটেড ফ্রন্টের জয়লাভ, বাংলা কংগ্রেসের সাথে জোট বেঁধে রাজ্যে সরকার গঠন করল সি পি আই(এম)। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হলেন অজয় মুখার্জি। চারু মজুমদার এটাকে “বেঈমানি” বলে চিহ্নিত করলেন।
নকশালবাড়ি আন্দোলন শুরু।*
* ১৯৬৭ সালের ২৫ মে নেপাল সীমান্তের নিকট উত্তরবাংলার নকশালবাড়ি জেলায় এসআই সোনম ওয়াংদির নেতৃত্বাধীন পুলিশের গুলিতে ১১ জন গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলনের সূত্রপাত। নিহতদের নয়জন নারী: ধনেশ্বরী দেবী, সরুবালা বর্মণ, সোনামতি সিং, সীমাশ্বরী মল্লিক, নয়েনশ্বরী মল্লিক, সমশ্বরী সাইবানি , গয়দ্রু সাইবানি , ফুলমতি সিং, ও খর সিং মল্লিক। কৃষক আন্দোলনের আগুন দ্রুত নকশালবাড়ি থেকে বিহার, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে; যে সব জায়গায় সিপিআই(এম)-এর নেতাকর্মীদের একাংশ আন্দোলনে যোগদান করেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা পিপলস ডেইলি তার ৫ জুলাইয়ের সম্পাদকীয়তে নকশাল আন্দোলনকে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ বলে আখ্যায়িত করে। দেশব্রতী আর লিবারেশন প্রকাশিত হতে শুরু করে। ১৩ নভেম্বর তামিলনাড়ু, কেরালা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক, ওড়িশা আর পশ্চিমবঙ্গের সিপিআই(এম) সদস্যদের একাংশ পার্টিকে চ্যালে ঞ্জ করে গঠন করেন অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ রেভল্যুশনারিজ (এআইসিসিআর)। ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নকশালদের ‘জনযুদ্ধের’ সূচনা, চীন সফর করলেন নকশাল নেতা কানু সান্যাল।
১৯৬৮ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রেসিডেন্টের শাসন জারি করা হল। অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ রেভল্যুশনারিজের (এআইসিসিআর) নামে কমিউনিস্ট শব্দটি যুক্ত করে গঠন করা হল অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ কমিউনিস্ট রেভল্যুশনারিজ (এআইসিসিসিআর)।
১৯৬৯ লেনিনের জন্মদিনে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) [সি পি আই(এম)] নকশালপন্থী সদস্যরা পার্টি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) [সিপিআই(এম-এল)]। কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হলেন চারু মজুমদার। সি পি আই(এম-এল) গঠিত হওয়ায় এআইসিসিসিআরকে বিলুপ্ত করা হল। সিপিআই(এম) আর সিপিআই(এম-এল) ক্যাডারদের মধ্যে সংঘর্ষ। ২০০ জন আহত। কানাই চ্যাটার্জি প্রতিষ্ঠা করলেন মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার (এমসিসি )।
১৯৭০ কলকাতায় কঠোর গোপনীয়তায় অনুষ্ঠিত হল সিপিআই(এম-এল)-এর প্রথম পার্টি কংগ্রেস, চারু মজুমদার পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হলেন।
১৯৭১ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
পুলিশের হাতে কথিত এনকাউন্টারে খুন হলেন সিপিআই(এম-এল)-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও সুসাহিত্যিক সরোজ দত্ত। নকশালদের ওপর ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নির্যাতন শুরু হল।
১৯৭২ ভারতে নকশাল নেতা চারু মজুমদার গ্রেপ্তার হলেন। লালবাজার থানায় আটক অবস্থায় তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যু বরণ করেন। এই ঘটনাটি নকশাল আন্দোলনের গতি স্তিমিত করল।
১৯৭৪ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে সিপিআই(এম-এল)য়ের সভা অনুষ্ঠিত হল। পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সুব্রত দত্ত। পার্টির নাম বদলে রাখা হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন [সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন]।
১৯৭৬ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের (ইন্দিরা) সাধারণ সম্পাদক হলেন মমতা ব্যানার্জি।
১৯৭৭ জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গঠন করা হল বামফ্রন্ট।* রাজ্যের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের বিজয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) [সিপিআই(এম)] নেতা জ্যোতি বসু।
* বামফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য দলগুলো হচ্ছে: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) [সিপিআই(এম)],
নিখিল ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক (এআইএফবি), মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক (এমএফবি), বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি), ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (আরসিপিআই), এবং বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস (বিবিসি)। এদের মধ্যে সিপিআই(এম)-ই সবসময় নেতৃত্বমূলক অবস্থানে থেকেছে। পরবর্তী আরো কয়েকটি দল বামফ্রন্টে যোগ দেয়, যাদের মধ্যে সবচে উল্লেখযোগ্য দলটি হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)।
পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার বিল, এই বিল পাশ করার মধ্য দিয়ে রাজ্যে আইনী ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হল।
১৯৭৭-২০১০ সুজাত ভদ্র আর পূর্নেন্দু মণ্ডলের হিসাবে এই সময়কালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের প্রধান শরিক সিপিআই(এম)’য়ের হাতে ৫০০+ বিরোধী রাজনীতিক খুন হয়েছেন, একইসময়ে খোদ সিপিআই(এম)য়ের ২০০০+ সদস্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন। (Bagchi 2021)
১৯৮০ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি বাতিল করল। তাদেরকে ট্রেড ইউনিয়ন করার পূর্ণ অধিকার দিল। ধর্মঘট আহবান করার ও পালন করার অধিকার দিল।
১৯৮১ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক দল (ডিএসপি), আর পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক দল (ডব্লিউবিএসপি) পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্টে যোগ দিল।
১৯৮২ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের ভূমিধবস বিজয়, রাজ্যে দ্বিতীয়বারের মত বামফ্রন্ট সরকার গঠিত।
১৯৮৪ লোকসভা নির্বাচনে সিপিআইয়ের (এম) লোকনাথ চ্যাটার্জিকে হারিয়ে ভারতীয় সংসদের সদস্য হলেন মমতা ব্যানার্জি। চালু হল ভারতের প্রথম মেট্রোরেল – কলকাতা মেট্রো।
১৯৮৭ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের বিজয়। রাজ্যে টানা তৃতীয়বারের মত গঠিত হল বামফ্রন্ট সরকার।
১৯৯৫ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হল।
১৯৯৭ মমতা ব্যানার্জিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) থেকে বের করে দেয়া হল।
১৯৯৮ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) গঠন করলেন মমতা ব্যানার্জি ও মুকুল রায়। দলটি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএতে যোগ দিল। এ বছরের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭টা আসন জেতে তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি)।
১৯৯৯ ভারতে জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএর জয়লাভ। বিজেপির জোটসঙ্গী হিসেবে ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আটটি আসনে জিতল তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি)। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় এনডিএ সরকারের রেলমন্ত্রী হলেন মমতা ব্যানার্জি।
২০০০ বিজেপির জোটসঙ্গী হিসেবে, এবং আইএনসির সমর্থনে, কলকাতা পৌরসংস্থা নির্বাচনে জিতল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মত সংস্থাটির কর্তৃত্ব বামফ্রন্টের হাতছাড়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জ্যোতি বসু, নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
২০০১ অপারেশন ওয়েস্ট এন্ড, তেহেলকা ম্যাগাজিনের স্টিং অপারেশন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সামরিক চুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতি ফাঁস করে দিল। এর প্রতিবাদে রেলওয়ে মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মমতা ব্যানার্জি। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (আইএনসি) সাথে জোটবদ্ধ হল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি)। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০টি আসন জিতল।* ক্যালকাটার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে কলকাতা রাখা হল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের জয়। রাজ্যে টানা ষষ্ঠবারের মত বামফ্রন্ট সরকার গঠিত।
* ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মত কোন পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় এবং ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম সিপিআই(এম) তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।
২০০৪ ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএর ব্যানারে তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) খারাপ ফল করে। পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩১টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি আসনে জেতে। ২০০৩ সালে এনডিএতে ফিরে আসার পর মমতা বানার্জি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হয়; মমতা ব্যানার্জি পান কয়লা ও খনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
২০০৫ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা নির্বাচনে এটিএমসি পরাজিত হল। নির্বাচনের আগেই তৎকালীন মেয়র এবং এটিএমসির বিশ্বস্ত মুখ সুব্রত মুখার্জি এনসিপিতে যোগ দেন। হাওড়ার কৃষিজমি সালিম গ্রুপকে হস্তান্তর করা সহ সিপিআই(এম)য়ের শিল্প প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে এটিএমসির প্রতিবাদ আরও জোরদার হল।
২০০৬ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের জয়, রাজ্যে টানা সপ্তমবারের মত বামফ্রন্ট সরকার গঠিত। এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩০টি আসন জেতে। এটিএমসির জন্য এনডিএ পরিকল্পনা হিতে বিপরীত হল। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেতা প্রায় অর্ধেক আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় দলটি। ডেপুটি স্পিকার চরণজিৎ সিং আটওয়ালের দিকে পদত্যাগপত্র ছুঁড়ে মেরে এনডিএ ছাড়লেন মমতা ব্যানার্জি। বামফ্রন্ট সরকার টাটা প্রকল্পের জন্য জমি ঘোষণা করলে সিঙ্গুর প্রতিবাদ গতি পায়। বাস্তুচ্যুতির মুখে থাকা কৃষকদের নিয়ে অনশন করলেন মমতা।
২০০৭ পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম আন্দোলন।*
* জানুয়ারি হলদিয়া উন্নয়ন বোর্ডের কেমিকাল হাব বানানোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে সহিংসতা।
৪ নন্দীগ্রাম একটা না মানুষী জমিনে পরিণত হল যখন চাষীরা জানালেন তাঁরা জান দেবেন, কিন্তু জমি দেবেন না।
৫ গঠিত হল ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি (বিইউপিসি)।
মার্চ ১৪ পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হল।
নভেম্বর ১১ বিরোধী পক্ষের কয়েকজন সক্রিয়তাবাদীকে খুন করার মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল সিপিআই(এম)।
১৪ চলচ্চিত্রনির্মাতা ও শিল্পীরা নন্দীগ্রামে সিপিআই(এম) ক্যাডারদের সহিংসতার নিন্দা জানালেন, বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই প্রতিবাদস্বরূপ কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব বয়কট করলেন।
এই সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় এটিএমসি। এ সময় তাঁদের শ্লোগান ‘মা, মাটি, মানুষ’ সারা দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তী নির্বাচনে এটি দলীয় শ্লোগানে পরিণত হয়।
২০০৮ পশ্চিমবঙ্গে সিঙ্গুর আন্দোলন।* অরুন্ধতী রায়, মহাশ্বেতা দেবী, ও মেধা পাটেকরসহ বিভিন্ন লেখক, সক্রিয়তাবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন এই আন্দোলনে সংহতি জানান।
* আগস্ট ২৪ রাজ্যের হুগলি জেলার সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো কার প্রকল্পের জন্য সরকার জোরপূর্বক ১০০০ একর জমি অধিগ্রহণ করলে মমতা ব্যানার্জি এর বিরুদ্ধে ও ৪০০ একর জমি চাষীদেরকে ফেরত দেয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলেন।
অক্টোবর ৩ টাটা মোটরস পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ছেড়ে চলে গেল।
২০০৯ ভারতে সাধারণ নির্বাচনে জিতে জোট সরকার গঠন করল আইএনসি-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ)। নির্বাচনের আগে ইউপিএতে যোগ দেয় এটিএমসি। লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বামফ্রন্টের চেয়ে বেশি আসন পায় ইউপিএ। এটিএমসি ২৬টি আসন জেতে। ইউপিএ সরকারে দ্বিতীয়বারের মত রেলমন্ত্রী হন মমতা। বামফ্রন্টের পতনের সূচনা।
২০১০ কলকাতা পৌরসংস্থা নির্বাচনে ১৪১টির মধ্যে ৯৭টি আসনে জেতে এটিএমসি। সেইসাথে অন্যান্য জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পুরভোটেও জেতে। যা ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সূচনা করে।
২০১১ পরিবর্তন, আইএনসি ও এসইউসিআইয়ের সাথে জোট বেঁধে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটাল এটিএমসি।* জোটটি ২২৭টি আসনে জিতে রাজ্য ক্ষমতায় আসে। যার মধ্যে টিএমসি একাই ১৮৭টি আসন পায়। যা তাদের এককভাবে রাজ্য চালানোর সুযোগ করে দেয়। রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে সিঙ্গুরের কৃষকদের ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। রেলমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা প্রদান করেন।
* পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের উত্থানপতন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Bhowmick 2021).
২০১২ অপূর্ণ দাবিদাওয়ার জের ধরে ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা ব্যানার্জি।
২০১৪ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টি জিতল এটিএমসি। পশ্চিমবঙ্গ, মণিপুর, ত্রিপুরা, আসাম ও ঝাড়খণ্ড: এই ৫ রাজ্যে ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জাতীয় দলের মর্যাদা লাভ করলো। ফাঁস হয়ে গেল শারদা গ্রুপের আর্থিক কেলেঙ্কারি। সিবিআই তদন্তে বহু কোটি টাকার অর্থ পাচার ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, শ্রীজয় বোস সহ অনেক তৃণমূল নেতা। এ সময় দলটি একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল।
২০১৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টির মধ্যে ২১১টি আসনে অভূতপূর্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এটিএমসি। ১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোন শাসক দল এককভাবে রাজ্যটিতে জয় পেল। এটিএমসিকে জাতীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এক সিনিয়র অনুসন্ধানী সাংবাদিকের স্টিং অপারেশনে ‘নারদা’ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। মুকুল রায়, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম সহ সাংসদরা টিভি ক্যামেরার সামনে ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা খান।
২০১৭ ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করলেন মমতা ব্যানার্জি। এটি গরিব পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ, যাতে তারা দারিদ্র্যের কারণে কন্যাদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিতে বাধ্য না হয়। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ও ইউনিসেফ থেকে স্বীকৃতিলাভ করে।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ২২টি আসন জেতে এটিএমসি। রাজ্যে প্রথমবারের মত উল্লেখযোগ্য ফললাভ করে বিজেপি। পায় ১৮টি আসন।
২০২১ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মত জিতল এটিএমসি।* নির্বাচনের ঠিক আগে দলের জনপ্রিয় মুখ শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরে যাওয়ার পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মমতা ব্যানার্জি আবার মুখ্যমন্ত্রী হন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ছাত্র ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের মতো জনপ্রিয় যোজনা চালু করেন।
* মমতা আমলের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নের জন্য, দেখুন, (Bhattacharya 2021).
২০২২ ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার। স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মমতা বানার্জির ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ সহ অন্যান্য নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়েন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
২০২৪ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-বিরোধী কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের সক্রিয় মুখ হলেন মমতা।
ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালি গ্রামের মহিলারা স্থানীয় এটিএমসি নেতা শেখ শাহজাহান, উত্তম সরকার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে লাঞ্ছনা ও ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করে ইডি। দলের মধ্যেই এ ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মমতা বানার্জি।
তথ্যসূত্র
আজাদ, হুমায়ুন। ২০১৯। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ সপ্তদশ মুদ্রণ। আগামী।— ২০২১। কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ একাদশ মুদ্রণ। আগামী।
উমর, বদরুদ্দীন। ২০২৫। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক। বাতিঘর।
বসু, সৌম্য। ২০২৩। অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মহাসভা: সমাজনীতি ও রাজনীতি ১৯১৫-৪৭। বুকপোস্ট।
মনু, রক। ২০১৩। “সহমরণ হতে সতীদাহ।” বাছবিচার।
https://bacbichar.net/2013/07/art.1154.bb/
রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর। ২০০৮। বাংলাদেশের তারিখ। তৃতীয় সংস্করণ। মাওলা ব্রাদার্স।
রায়, সুপ্রকাশ। ২০১৮। ভারতের কৃষক-বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। দ্বিতীয় র্যাডিকাল প্রকাশ। র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন।
Bagchi, Suvojit. 2021. “Bengal through the Decades: The More Things Change, Have they Stayed the Same?” Occasional Paper No. 310, Observer Research Foundation, April 2021.
Bhattacharya, Debraj. 2021. “The Many Faces of ‘Parivartan’: West Bengal under Mamata Banerjee 2011-2021”. Economic & Political Weekly 56 (17). https://ojs.epw.in/index.php/epw/article/view/30067.
Bhowmick, Sourjya. 2021. Gangster State: The Rise and Fall of the CPI(M) in West Bengal. Pan Macmillan, 2021.
Mukherjee, Janam. 2015. Hungry Bengal: War, Famine and the End of Empire. Oxford University Press.
Mukerjee, Madhusree. 2010. Churchill’s Secret War: The British Empire and the Ravaging of India During World War II. Basic Books.
Outlook News Desk. 2024. “Trinamool Congress: A Timeline Tracing The Journey Of The Party.” Outlook India, March 26, 2024. https://www.outlookindia.com/elections/trinamool-congress-a-timeline-tracing-the-journey-of-the-party.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



