ভারতীয় বাংলা

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ
বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ

“What Bengal thinks today, India thinks tomorrow.”

Gopal Krishna Gokhale (1866-1915), Indian Politician

নোট: এই রচনায় ভারতীয় বাংলা বলতে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ও আসামের বরাক উপত্যকাকে বুঝানো হয়েছে।

সাল

১৫২৬-১৮৫৮ মুঘল সাম্রাজ্য

১৬০০-১৯৪৭ কলোনিয়াল ইন্ডিয়া

১৯৪৮-২০১৪ নবারুণ ভট্টাচার্য

১৯৫০-৬২ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানচন্দ্র রায়ের শাসনকাল।

১৯৫১ অক্টোবর ২১ দিল্লিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কর্তৃক গঠিত হল অখিল ভারতীয় জনসংঘ।*
* আরএসএসের রাজনৈতিক শাখা ও বিজেপির পূর্বসূরী বিবেচিত হয়।

সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন মুজফ্ফর আহমদ।

নিমাই ঘোষ, ছিন্নমূল

১৯৫১- আবুল বাশার

১৯৫২ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে আইএনসির ভূমিধবস বিজয়, প্রধান বিরোধী দল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিধানচন্দ্র রায়। এই নির্বাচনে অল ইন্ডিয়া ভারতীয় জনসংঘ (বিজেএস) আর অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা (এবিএইচএম) মাত্র ১৩টি আসনে জেতে।

১৯৫৩ জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সীমান্ত অতিক্রম করার প্রচেষ্টাকালে রাজ্য পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।

সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন জ্যোতি বসু।

১৯৫৫ সত্যজিৎ রায়, পথের পাঁচালী

১৯৫৬ দ্বিতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

সত্যজিৎ রায়, অপরাজিত

১৯৫৭ অমিয়ভূষণ মজুমদার, গড় শ্রীখণ্ড

অজয় কর,হারানো সুর
তপন সিনহা, কাবুলিওয়ালা

১৯৫৮ সত্যজিৎ রায়, জলসাঘর
ঋত্বিক ঘটক, অযান্ত্রিক

১৯৫৯ তৃতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

সত্যজিৎ রায়, অপুর সংসার

১৯৬০ ঋত্বিক ঘটক, মেঘে ঢাকা তারা

সত্যজিৎ রায়, দেবী

১৯৬১ সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

অজয় কর, সপ্তপদী

১৯৬২-৬৭ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রফুল্লচন্দ্র সেনের শাসনকাল।

১৯৬২ সত্যজিৎ রায়, কাঞ্চনজঙ্ঘা

১৯৬৩ সত্যজিৎ রায়, মহানগর

১৯৬৪ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ভেঙে বেরিয়ে আসল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) [সিপিআইএম]।

দ্বিতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

সত্যজিৎ রায়, চারুলতা

১৯৬৫ ঋত্বিক ঘটক, সুবর্ণরেখা

১৯৬৫-৬৬ সিপিআই(এম)য়ের তরুণ নেতা চারু মজুমদার মার্কসবাদ, লেনিনবাদ, ও মাও সেতুং চিন্তাধারার আলোকে লিখলেন তাঁর ঐতিহাসিক আট দলিল

১৯৬৬ পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হল পিপলস ইউনাইটেড লেফট ফ্রন্ট (পিইএলএফ)। রাজ্যের রাজনীতিতে যা সংক্ষেপে ইউনাইটেড ফ্রন্ট নামে পরিচিতি পাবে।

১৯৬৭ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ইউনাইটেড ফ্রন্টের জয়লাভ, বাংলা কংগ্রেসের সাথে জোট বেঁধে রাজ্যে সরকার গঠন করল সি পি আই(এম)। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হলেন অজয় মুখার্জি। চারু মজুমদার এটাকে “বেঈমানি” বলে চিহ্নিত করলেন।

মার্চ ১-২১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অজয় মুখার্জির শাসনকাল।

নকশালবাড়ি আন্দোলন শুরু।*
* ১৯৬৭ সালের ২৫ মে নেপাল সীমান্তের নিকট উত্তরবাংলার নকশালবাড়ি জেলায় এসআই সোনম ওয়াংদির নেতৃত্বাধীন পুলিশের গুলিতে ১১ জন গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলনের সূত্রপাত। নিহতদের নয়জন নারী: ধনেশ্বরী দেবী, সরুবালা বর্মণ, সোনামতি সিং, সীমাশ্বরী মল্লিক, নয়েনশ্বরী মল্লিক, সমশ্বরী সাইবানি , গয়দ্রু সাইবানি , ফুলমতি সিং, ও খর সিং মল্লিক। কৃষক আন্দোলনের আগুন দ্রুত নকশালবাড়ি থেকে বিহার, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে; যে সব জায়গায় সিপিআই(এম)-এর নেতাকর্মীদের একাংশ আন্দোলনে যোগদান করেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা পিপলস ডেইলি তার ৫ জুলাইয়ের সম্পাদকীয়তে নকশাল আন্দোলনকে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ বলে আখ্যায়িত করে। দেশব্রতী আর লিবারেশন প্রকাশিত হতে শুরু করে। ১৩ নভেম্বর তামিলনাড়ু, কেরালা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, কর্নাটক, ওড়িশা আর পশ্চিমবঙ্গের সিপিআই(এম) সদস্যদের একাংশ পার্টিকে চ্যালে ঞ্জ করে গঠন করেন অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ রেভল্যুশনারিজ (এআইসিসিআর)। ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নকশালদের ‘জনযুদ্ধের’ সূচনা, চীন সফর করলেন নকশাল নেতা কানু সান্যাল।

সত্যজিৎ রায়, চিড়িয়াখানা

১৯৬৭, নভেম্বর ২১-২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের শাসনকাল।

১৯৬৮ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রেসিডেন্টের শাসন জারি করা হল। অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ রেভল্যুশনারিজের (এআইসিসিআর) নামে কমিউনিস্ট শব্দটি যুক্ত করে গঠন করা হল অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটি অফ কমিউনিস্ট রেভল্যুশনারিজ (এআইসিসিসিআর)।

তৃতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

১৯৬৮, ফেব্রুয়ারি ২০-২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্টের শাসন।

১৯৬৯ এপ্রিল ২২ লেনিনের জন্মদিনে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) [সি পি আই(এম)] নকশালপন্থী সদস্যরা পার্টি থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) [সিপিআই(এম-এল)]।

কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হলেন চারু মজুমদার। সি পি আই(এম-এল) গঠিত হওয়ায় এআইসিসিসিআরকে বিলুপ্ত করা হল। সিপিআই(এম) আর সিপিআই(এম-এল) ক্যাডারদের মধ্যে সংঘর্ষ। ২০০ জন আহত। কানাই চ্যাটার্জি প্রতিষ্ঠা করলেন মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার (এমসিসি)।

সত্যজিৎ রায়, গুপী গাইন বাঘা বাইন

১৯৬৯, ফেব্রুয়ারি ২৫-১৯ মার্চ, ১৯৭০ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অজয় মুখার্জির শাসনকাল।

১৯৭০ কলকাতায় কঠোর গোপনীয়তায় অনুষ্ঠিত হল সিপিআই(এম-এল)-এর প্রথম পার্টি কংগ্রেস, চারু মজুমদার পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হলেন।

সত্যজিৎ রায়, অরণ্যের দিনরাত্রিপ্রতিদ্বন্দ্বী
মৃণাল সেন, ইন্টারভিউ

১৯৭০, মার্চ ১৯-২ এপ্রিল, ১৯৭১ পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্টের শাসন।

১৯৭১ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

এপ্রিল ২-২৯ জুন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অজয় মুখার্জির শাসনকাল।

পুলিশের হাতে কথিত এনকাউন্টারে খুন হলেন সিপিআই(এম-এল)-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও সুসাহিত্যিক সরোজ দত্ত। নকশালদের ওপর ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নির্যাতন শুরু হল।

১৯৭১, জুন ২৯-২০ মার্চ, ১৯৭২ পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্টের শাসন।

১৯৭২-৭৫ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের শাসনকাল।

১৯৭২ ভারতে নকশাল নেতা চারু মজুমদার গ্রেপ্তার হলেন। লালবাজার থানায় আটক অবস্থায় তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যু বরণ করেন। এই ঘটনাটি নকশাল আন্দোলনের গতি স্তিমিত করল।

চতুর্থবারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

মৃণাল সেন, কলকাতা ৭১

১৯৭৩ সত্যজিৎ রায়, অশনি সংকেত
ঋত্বিক ঘটক, তিতাস একটি নদীর নাম
মৃণাল সেন, পদাতিক

১৯৭৪ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে সিপিআই(এম-এল)য়ের সভা অনুষ্ঠিত হল। পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সুব্রত দত্ত। পার্টির নাম বদলে রাখা হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন [সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন]।

সত্যজিৎ রায়, সোনার কেল্লা

১৯৭৫-৭৭ ইমার্জেন্সি, জরুরি অবস্থা।

১৯৭৬ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের (ইন্দিরা) সাধারণ সম্পাদক হলেন মমতা ব্যানার্জি।

১৯৭৭ জানুয়ারি ২৩ মিসেস গান্ধীর ইমার্জেন্সি-বিরোধী বিভিন্ন বাম, ডান, ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল অখিল ভারতীয় জনসংঘের সাথে একীভূত হয়ে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে গঠন করলো জনতা পার্টি

এপ্রিল ৩০-২১ জুন পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্টের শাসন।

জুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গঠন করা হল বামফ্রন্ট।* রাজ্যের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের বিজয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) [সিপিআই(এম)] নেতা জ্যোতি বসু।
* বামফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য দলগুলো হচ্ছে: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) [সিপিআই(এম)],
নিখিল ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক (এআইএফবি), মার্কসবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক (এমএফবি), বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল (আরএসপি), ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (আরসিপিআই), এবং বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস (বিবিসি)। এদের মধ্যে সিপিআই(এম)-ই সবসময় নেতৃত্বমূলক অবস্থানে থেকেছে। পরবর্তী আরো কয়েকটি দল বামফ্রন্টে যোগ দেয়, যাদের মধ্যে সবচে উল্লেখযোগ্য দলটি হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)।

পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার বিল, এই বিল পাশ করার মধ্য দিয়ে রাজ্যে আইনী ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হল।

১৯৭৭-২০১০ সুজাত ভদ্র আর পূর্নেন্দু মণ্ডলের হিসাবে এই সময়কালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের প্রধান শরিক সিপিআই(এম)’য়ের হাতে ৫০০+ বিরোধী রাজনীতিক খুন হয়েছেন, একইসময়ে খোদ সিপিআই(এম)য়ের ২০০০+ সদস্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন। (Bagchi 2021)

১৯৭৭-২০০০ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসুর শাসনকাল।

১৯৭৮ পঞ্চমবারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

১৯৭৯ সমরেশ মজুমদার, উত্তরাধিকার

সত্যজিৎ রায়, জয় বাবা ফেলুনাথ
মৃণাল সেন, এক দিন প্রতিদিন

১৯৮০ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি বাতিল করল। তাদেরকে ট্রেড ইউনিয়ন করার পূর্ণ অধিকার দিল। ধর্মঘট আহবান করার ও পালন করার অধিকার দিল।

এপ্রিল ৬ গঠিত হল আরএসএসের রাজনৈতিক শাখা বিজেপি

সত্যজিৎ রায়, হীরক রাজার দেশে

১৯৮১ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক দল (ডিএসপি), আর পশ্চিমবঙ্গ সমাজতান্ত্রিক দল (ডব্লিউবিএসপি) পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্টে যোগ দিল।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সেই সময় (দুই খণ্ড)

১৯৮১-৮২ ষষ্ঠবারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন প্রমোদ দাসগুপ্ত।

১৯৮২ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের ভূমিধবস বিজয়, রাজ্যে দ্বিতীয়বারের মত বামফ্রন্ট সরকার গঠিত।

১৯৮৩ অমিয়ভূষণ মজুমদার, রাজনগর
সমরেশ মজুমদার, কালবেলা
নবারুণ ভট্টাচার্য, এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না

১৯৮৪ লোকসভা নির্বাচনে সিপিআইয়ের (এম) লোকনাথ চ্যাটার্জিকে হারিয়ে ভারতীয় সংসদের সদস্য হলেন মমতা ব্যানার্জি। চালু হল ভারতের প্রথম মেট্রোরেল – কলকাতা মেট্রো।

১৯৮৫ সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সরোজ মুখার্জি।

সমরেশ মজুমদার, কালপুরুষ

অপর্ণা সেন, পরমা

১৯৮৬ সমরেশ মজুমদার, গর্ভধারিণী
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, দূরবীন

১৯৮৭ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের বিজয়। রাজ্যে টানা তৃতীয়বারের মত গঠিত হল বামফ্রন্ট সরকার।

গৌতম ঘোষ, অন্তর্জলী যাত্রা

১৯৮৮ দ্বিতীয়বারের মত সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সরোজ মুখার্জি।

দেবেশ রায়, তিস্তাপারের বৃত্তান্ত
আবুল বাশার, ফুলবউ
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, মানবজমিন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পূর্ব-পশ্চিম (প্রথম খণ্ড)

১৯৮৯ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পূর্ব-পশ্চিম (দ্বিতীয় খণ্ড)

সত্যজিৎ রায়,গণশত্রু

১৯৯০ সমরেশ মজুমদার, সাতকাহন

১৯৯১ সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন শৈলেন দাসগুপ্ত।

আবুল বাশার, মরুস্বর্গ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ছবির দেশে, কবিতার দেশে

সত্যজিৎ রায়, আগন্তুক

১৯৯৩ নবারুণ ভট্টাচার্য, হারবার্ট

গৌতম ঘোষ, পদ্মা নদীর মাঝি

১৯৯৪ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, পার্থিব

১৯৯৫ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হল।

দ্বিতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন শৈলেন দাসগুপ্ত।

১৯৯৬ নবারুণ ভট্টাচার্য, যুদ্ধ পরিস্থিতি

১৯৯৭ মমতা ব্যানার্জিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) থেকে বের করে দেয়া হল। 

১৯৯৮ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) গঠন করলেন মমতা ব্যানার্জি ও মুকুল রায়। দলটি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএতে যোগ দিল। এ বছরের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ৪২টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭টা আসন জেতে তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি)।

তৃতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন শৈলেন দাসগুপ্ত।

বাসু চ্যাটার্জী, হঠাৎ বৃষ্টি

১৯৯৯ ভারতে জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএর জয়লাভ। বিজেপির জোটসঙ্গী হিসেবে ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আটটি আসনে জিতল তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি)। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় এনডিএ সরকারের রেলমন্ত্রী হলেন মমতা ব্যানার্জি।

২০০০ বিজেপির জোটসঙ্গী হিসেবে, এবং আইএনসির সমর্থনে, কলকাতা পৌরসংস্থা নির্বাচনে জিতল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মত সংস্থাটির কর্তৃত্ব বামফ্রন্টের হাতছাড়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন জ্যোতি বসু, নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, প্রথম আলো

২০০০-১১ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শাসনকাল।

২০০১ অপারেশন ওয়েস্ট এন্ড, তেহেলকা ম্যাগাজিনের স্টিং অপারেশন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সামরিক চুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতি ফাঁস করে দিল। এর প্রতিবাদে রেলওয়ে মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মমতা ব্যানার্জি। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (আইএনসি) সাথে জোটবদ্ধ হল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি)। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০টি আসন জিতল।* ক্যালকাটার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে কলকাতা রাখা হল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের জয়। রাজ্যে টানা ষষ্ঠবারের মত বামফ্রন্ট সরকার গঠিত।
* ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মত কোন পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় এবং ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম সিপিআই(এম) তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।

২০০২ সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন অনিল বিশ্বাস।

২০০৩ ঋতুপর্ণ ঘোষ, চোখের বালি

২০০৪ ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএর ব্যানারে তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) খারাপ ফল করে। পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩১টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি আসনে জেতে। ২০০৩ সালে এনডিএতে ফিরে আসার পর মমতা বানার্জি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হয়; মমতা ব্যানার্জি পান কয়লা ও খনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

২০০৫ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা নির্বাচনে এটিএমসি পরাজিত হল। নির্বাচনের আগেই তৎকালীন মেয়র এবং এটিএমসির বিশ্বস্ত মুখ সুব্রত মুখার্জি এনসিপিতে যোগ দেন। হাওড়ার কৃষিজমি সালিম গ্রুপকে হস্তান্তর করা সহ সিপিআই(এম)য়ের শিল্প প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে এটিএমসির প্রতিবাদ আরও জোরদার হল।

দ্বিতীয়বারের মত সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন অনিল বিশ্বাস।

২০০৬ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের জয়, রাজ্যে টানা সপ্তমবারের মত বামফ্রন্ট সরকার গঠিত। এই নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩০টি আসন জেতে। এটিএমসির জন্য এনডিএ পরিকল্পনা হিতে বিপরীত হল। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেতা প্রায় অর্ধেক আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় দলটি। ডেপুটি স্পিকার চরণজিৎ সিং আটওয়ালের দিকে পদত্যাগপত্র ছুঁড়ে মেরে এনডিএ ছাড়লেন মমতা ব্যানার্জি। বামফ্রন্ট সরকার টাটা প্রকল্পের জন্য জমি ঘোষণা করলে সিঙ্গুর প্রতিবাদ গতি পায়। বাস্তুচ্যুতির মুখে থাকা কৃষকদের নিয়ে অনশন করলেন মমতা।

২০০৭ পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম আন্দোলন।*

জানুয়ারি হলদিয়া উন্নয়ন বোর্ডের কেমিকাল হাব বানানোর জন্য ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে সহিংসতা।
 নন্দীগ্রাম একটা না মানুষী জমিনে পরিণত হল যখন চাষীরা জানালেন তাঁরা জান দেবেন, কিন্তু জমি দেবেন না।
 গঠিত হল ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি (বিইউপিসি)।

মার্চ ১৪ পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হল।

নভেম্বর ১১ বিরোধী পক্ষের কয়েকজন সক্রিয়তাবাদীকে খুন করার মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল সিপিআই(এম)।
১৪ চলচ্চিত্রনির্মাতা ও শিল্পীরা নন্দীগ্রামে সিপিআই(এম) ক্যাডারদের সহিংসতার নিন্দা জানালেন, বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই প্রতিবাদস্বরূপ কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব বয়কট করলেন।

এই সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় এটিএমসি। এ সময় তাঁদের শ্লোগান ‘মা, মাটি, মানুষ’ সারা দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়। পরবর্তী নির্বাচনে এটি দলীয় শ্লোগানে পরিণত হয়।

২০০৮ পশ্চিমবঙ্গে সিঙ্গুর আন্দোলন।* অরুন্ধতী রায়, মহাশ্বেতা দেবী, ও মেধা পাটেকরসহ বিভিন্ন লেখক, সক্রিয়তাবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন এই আন্দোলনে সংহতি জানান।
আগস্ট ২৪ রাজ্যের হুগলি জেলার সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো কার প্রকল্পের জন্য সরকার জোরপূর্বক ১০০০ একর জমি অধিগ্রহণ করলে মমতা ব্যানার্জি এর বিরুদ্ধে ও ৪০০ একর জমি চাষীদেরকে ফেরত দেয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলেন।

অক্টোবর ৩ টাটা মোটরস পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ছেড়ে চলে গেল।

সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন বিমান বসু।

২০০৯ ভারতে সাধারণ নির্বাচনে জিতে জোট সরকার গঠন করল আইএনসি-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ)। নির্বাচনের আগে ইউপিএতে যোগ দেয় এটিএমসি। লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বামফ্রন্টের চেয়ে বেশি আসন পায় ইউপিএ। এটিএমসি ২৬টি আসন জেতে। ইউপিএ সরকারে দ্বিতীয়বারের মত রেলমন্ত্রী হন মমতা। বামফ্রন্টের পতনের সূচনা।

২০১০ কলকাতা পৌরসংস্থা নির্বাচনে ১৪১টির মধ্যে ৯৭টি আসনে জেতে এটিএমসি। সেইসাথে অন্যান্য জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পুরভোটেও জেতে। যা ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সূচনা করে।

দেবেশ রায়, বরিশালের যোগেন মণ্ডল

২০১১ পরিবর্তন, আইএনসি ও এসইউসিআইয়ের সাথে জোট বেঁধে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটাল এটিএমসি।* জোটটি ২২৭টি আসনে জিতে রাজ্য ক্ষমতায় আসে। যার মধ্যে টিএমসি একাই ১৮৭টি আসন পায়। যা তাদের এককভাবে রাজ্য চালানোর সুযোগ করে দেয়। রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে সিঙ্গুরের কৃষকদের ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। রেলমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা প্রদান করেন।
* পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের উত্থানপতন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, (Bhowmick 2021).

২০১১-বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জির শাসনকাল।

২০১২ অপূর্ণ দাবিদাওয়ার জের ধরে ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেন মমতা ব্যানার্জি।

দ্বিতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন বিমান বসু।

২০১৩ রণবীর সমাদ্দার, প্যাসিভ রেভল্যুশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল: ১৯৭৭-২০১১

২০১৪ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টি জিতল এটিএমসি। পশ্চিমবঙ্গ, মণিপুর, ত্রিপুরা, আসাম ও ঝাড়খণ্ড: এই ৫ রাজ্যে ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জাতীয় দলের মর্যাদা লাভ করলো। ফাঁস হয়ে গেল শারদা গ্রুপের আর্থিক কেলেঙ্কারি। সিবিআই তদন্তে বহু কোটি টাকার অর্থ পাচার ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, শ্রীজয় বোস সহ অনেক তৃণমূল নেতা। এ সময় দলটি একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল।

সমরেশ মজুমদার, মৌষলকাল

২০১৫ সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সূর্যকান্ত মিশ্র।

২০১৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টির মধ্যে ২১১টি আসনে অভূতপূর্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এটিএমসি। ১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোন শাসক দল এককভাবে রাজ্যটিতে জয় পেল। এটিএমসিকে জাতীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এক সিনিয়র অনুসন্ধানী সাংবাদিকের স্টিং অপারেশনে ‘নারদা’ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। মুকুল রায়, সৌগত রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম সহ সাংসদরা টিভি ক্যামেরার সামনে ঘুষ নিতে গিয়ে ধরা খান।

২০১৭ ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করলেন মমতা ব্যানার্জি। এটি গরিব পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ, যাতে তারা দারিদ্র্যের কারণে কন্যাদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিতে বাধ্য না হয়। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ও ইউনিসেফ থেকে স্বীকৃতিলাভ করে।

২০১৮ দ্বিতীয়বারের মতো সিপিআই(এম)য়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সূর্যকান্ত মিশ্র।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ ৪২টি আসনের মধ্যে ২২টি জিতল এটিএমসি। রাজ্যে প্রথমবারের মত উল্লেখযোগ্য ফললাভ করে বিজেপি, পায় ১৮টি আসন। সিপিআই(এম) ৩টি আসন জেতে।

২০২১ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মত জিতল এটিএমসি।* নির্বাচনের ঠিক আগে দলের জনপ্রিয় মুখ শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরে যাওয়ার পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে মমতা ব্যানার্জি আবার মুখ্যমন্ত্রী হন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ছাত্র ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের মতো জনপ্রিয় যোজনা চালু করেন।
* মমতা আমলের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নের জন্য, দেখুন, (Bhattacharya 2021).

২০২২ ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার। স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মমতা ব্যানার্জির ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ সহ অন্যান্য নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়েন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।

২০২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫-২০ বিহারের পাটনায় অনুষ্ঠিত হল কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট) লিবারেশনের [সিপিআই(এমএল)] ১১তম নিখিল ভারত পার্টি কংগ্রেস। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হলেন দীপংকর ভট্টাচার্য।

২০২৪ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-বিরোধী কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের সক্রিয় মুখ হলেন মমতা।

ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সন্দেশখালি গ্রামের মহিলারা স্থানীয় এটিএমসি নেতা শেখ শাহজাহান, উত্তম সরকার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে লাঞ্ছনা ও ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করে ইডি। দলের মধ্যেই এ ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মমতা ব্যানার্জি।

তথ্যসূত্র

আজাদ, হুমায়ুন। ২০১৯। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ সপ্তদশ মুদ্রণ। আগামী।— ২০২১। কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ একাদশ মুদ্রণ। আগামী।

উমর, বদরুদ্দীন। ২০২৫। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক। বাতিঘর।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ
https://bjpbengal.org/

বসু, সৌম্য। ২০২৩। অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মহাসভা: সমাজনীতি ও রাজনীতি ১৯১৫-৪৭। বুকপোস্ট।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
https://cpimwestbengal.org/

মনু, রক। ২০১৩। “সহমরণ হতে সতীদাহ।” বাছবিচার।
https://bacbichar.net/2013/07/art.1154.bb/

রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর। ২০০৮। বাংলাদেশের তারিখ। তৃতীয় সংস্করণ। মাওলা ব্রাদার্স।

রায়, সুপ্রকাশ। ২০১৮। ভারতের কৃষক-বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। দ্বিতীয় র‍্যাডিকাল প্রকাশ। র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন।

Bagchi, Suvojit. 2021. “Bengal through the Decades: The More Things Change, Have they Stayed the Same?” Occasional Paper No. 310, Observer Research Foundation, April 2021.

Bhattacharya, Debraj. 2021. “The Many Faces of ‘Parivartan’: West Bengal under Mamata Banerjee 2011-2021”. Economic & Political Weekly 56 (17). https://ojs.epw.in/index.php/epw/article/view/30067.

Bhowmick, Sourjya. 2021. Gangster State: The Rise and Fall of the CPI(M) in West Bengal. Pan Macmillan, 2021.

Communist Party of India (Marxist-Leninist) Liberation
https://cpiml.org/

Internet Movie Database (IMDb).

Outlook News Desk. 2024. “Trinamool Congress: A Timeline Tracing The Journey Of The Party.” Outlook India, March 26, 2024. https://www.outlookindia.com/elections/trinamool-congress-a-timeline-tracing-the-journey-of-the-party.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *