বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

বিশ্ব মানচিত্র ব্লগ

পূর্বসাল

প্রাচীন প্রস্তর যুগ বর্তমানে যেখানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সেখানে এ সময় মানব বসতি থাকার নজির মিলেছে।

নব্য প্রস্তর যুগ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় এ সময় স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসূচক সংস্কৃতির হাজিরা ছিল, সারায়েভোর কাছের বুতমির এ পর্বের সেরা নিদর্শন।

ব্রোঞ্জ যুগ অঞ্চলটিতে এ সময় একাধিক মানব বসতি ছিল।

১১০০ ইলিরীয় নামে পরিচিত ইন্দো-ইওরোপীয় গোষ্ঠীগুলো ম্যাকিদোনিয়া থেকে আল্পস পর্যন্ত বসতি স্থাপন করছে।

১০০০-১ বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় বাস করছে ইলিরীয়রা।

৩৫৯ বলকানে কেল্ট আক্রমণ।

২২৯ রুমিদের সাথে ইলিরীয়দের দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হল।

২০০-১ ইলিরিয়া এ সময় রোমক সাম্রাজ্যের ইলিরিকাম প্রদেশ।

সাল

দুইশো বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর রুমিরা শেষ পর্যন্ত ইলিরীয়দের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে সক্ষম হয়।

১০ অগাস্টাস রোমক সাম্রাজ্যের ইলিরিকাম প্রদেশকে প্যানোনিয়া আর ডালমেশিয়া নামের দুটি প্রদেশে ভাগ করেন। আজকের বসনিয়ার উত্তরাঞ্চল এই প্যানোনিয়ার অংশ ছিল। আর বাকিটুকু ডালমেশিয়ার।

৩৯৫ রোমক সাম্রাজ্য দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল। দুই সাম্রাজ্যের সীমানা টানা হয়েছিল বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার দ্রিনা নদীর তীর ঘেঁষে। যা সার্বিয়ার সাথে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বর্তমান সীমান্ত।

৫০১-৬০০ সার্ব আর ক্রোয়াট নামের দুটি স্লাভিক গোষ্ঠী বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় বসতিস্থাপন করেন।

৬০০ বলকান অঞ্চলে প্রথম স্লাভিক অভিবাসন। তাঁরা আক্রমণকারী আভারদের সাথে এসেছিলেন। বা তাঁদের সেবায়েতরূপে।

৬০১-৭০০ স্লাভরা মূলত এসময়ই খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন।*
* তবে খ্রিস্টানদের মধ্যে অর্থোডক্স ক্যাথলিক বৈচিত্র্য আছে। সার্বরা অর্থোডক্স চার্চের অনুসারী। ক্রোয়াটরা ক্যাথলিক চার্চের।

৬২৬-৩৫ পোল্যান্ডের বর্তমান রাজধানী ক্র্যাকাওয়ের কাছের এক রাজ্য হোয়াইট ক্রোয়েশিয়া থেকে আসা ক্রোয়াটরা আভারদের সাথে লড়াই করল। আড্রিয়াটিক সাগরের পুব উপকূলে বসতিস্থাপন করল। বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ক্রোয়াট ডোমেইনের অংশ হয়ে গেল।

৬৩৫ বর্তমান জার্মানির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল থেকে বর্তমান সার্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অভিবাসিত হল সার্বরা।

৮৭৭ প্রথমবারের মত উল্লেখকৃত হল বসনিয়ার ক্যাথলিক ডায়োসিস।

৯২৫ বর্তমানে বসনীয় শহর তোমিস্লাভগ্রাদে প্রথম ক্রোয়েশীয় রাজা তোমিস্লাভের রাজ্যাভিষেক।

৯৪৯-৯৬০ আদি বসনীয় ভূখণ্ড সার্ব শাসক চাসলাভের অধীনস্ত।

৯৬০-৯৯০ বসনিয়া আবার ক্রোয়েশীয় রাজাদের অধীনস্ত হল।

৯৯০ বুলগেরিয়া স্বল্প সময়ের জন্য বসনিয়া শাসন করল।

১০১৮-৪০ বাইজেন্টিয়ামের অধীনস্ত হল বসনিয়া।

১০৪০-৮৭ বসনিয়া আবার ক্রোয়েশিয়ান শাসনের অংশ হয়ে গেল।

১০৬০ প্রতিষ্ঠা করা হল ভ্রবসনার ক্যাথলিক ডায়োসিস।

১০৮৭-১১০২ বসনিয়া দুকজার (ডায়োক্লিয়া) অধীনস্ত হল।

১১৩৭ বর্তমান বসনিয়ার পুরোটাই দখল করে নিল হাঙ্গেরি।

১১৫৪-৬৩ প্রথম বসনীয় বান (ভাইসরয়) বরিসের রাজত্বকাল।

১১৬৪-১২০৪ বসনিয়ায় কুলিন বানয়ের রাজত্বকাল।

১১৬৭ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য* হাঙ্গেরির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল বসনিয়া।
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙন পরবর্তী পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ((Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত। এখানে বাইজেন্টাইন বলতে সাম্রাজ্যটির শাসকদেরকে বোঝাবে। বাইজেন্টাইনের কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল, বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল।

১১৮০ হাঙ্গেরি বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে বসনিয়া পুনর্দখল করল।

১১৮০-১২০৪ বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় রাজা কুলিনের রাজত্ব। কুলিনের শাসনামলে বসনিয়া স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। তাঁর শাসনামলকে বসনিয়ার স্বর্ণযুগ ভাবা হয়ে থাকে।*
* কুলিনের ধর্ম বিষয়ক চিন্তা বেশ কৌতূহলউদ্দীপক ছিল। তিনি ঘোষণা করেন, বসনিয়ার খ্রিস্টানদের উচিত ক্যাথলিক আর অর্থোডক্স উভয় ধারাকে প্রত্যাখ্যান করে বগোমিলি নামের একটি ভিন্ন খ্রিস্টধর্মীয় ধারা অনুসরণ করা। ঐতিহাসিকদের মত হল, বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পুবদিকের অর্থোডক্স (যেখানে বর্তমান সার্বিয়া অবস্থিত) আর পশ্চিমদিকের ক্যাথলিক প্রভাবের (যেখানে বর্তমানে ক্রোয়েশিয়া অবস্থিত) বিরুদ্ধে দেশটির স্বাধীনতা রক্ষার বাসনাই এই ধর্ম বিষয়ক প্রথাবিরোধী চিন্তার আসল কারণ।

১২৩৫-৮১ বসনিয়ার বগোমিলদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডের ডাক দিলেন পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ট।

১৩১২ বসনিয়ার রাজা হলেন বান স্তেফান কত্রোমানিচ।

১৩৭৭ বসনিয়া ও সার্বিয়ার রাজা হলেন প্রথম বান স্তেফান ভ্রতকো।

১৪৬৫-৮১ বর্তমানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নামে পরিচিত অঞ্চলটি এ বছর দখল করে নেন ওসমানিরা। শুরু হয় ওসমানি সুলতানদের ৪০০ বছরের শাসন। যে বসনীয় মুসলমানরা বসনিয়াক নামে পরিচিত, এরা মূলত এই সময়ই ইসলাম গ্রহণ করেন।*
* সার্ব পরিচয়বাদীরা এটাকে একটা বেঈমানি হিসেবে দেখেন। তাঁরা মনে করেন, ইসলাম ওসমানি তুর্কিদের বয়ে আনা “বিজাতীয়” ধর্ম, যাঁরা “বহিরাগতদের” ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাঁরাও “বহিরাগত”। বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে, যখন বসনিয়াকদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত করা হয়, তখন এই যুক্তিই ছিল তার মূল চালিকাশক্তি।

কিন্তু এই পরিচয়বাদী যুক্তি ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন। সার্বরা নিজেরাই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের আগে পৌত্তলিক ছিলেন। ধর্ম পাল্টালেই কারো জাতিগত পরিচয় বদলায় না।

দুর্ভাগ্যবশত, শুধু বলকানেই নয়, দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশসহ দুনিয়ার বহু অঞ্চলে পরিচয়বাদ নিরর্থক সংঘাত ও রক্তপাতের কারণ হয়েছে।

১৪৯২ এ বছর ক্যাথলিক সাম্রাজ্যের হাতে আন্দালুসীয় স্পেনের পতন ঘটলে দেশটি থেকে বিতাড়িত বহু ইহুদি ওসমানি বসনিয়ায় আশ্রয় নেন।

১৫০১-১৬০০ রবোসোনা শহরের নাম পাল্টে সারায়েভো রাখা হল।

১৮৭৫ হার্জেগোভিনায় খ্রিস্টান চাষীদের বিদ্রোহ দেখা দিল।

১৮৭৮ বার্লিন কংগ্রেস পূর্ব ইওরোপকে বিভাজিত করল। এই কংগ্রেসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের হাতে তুলে দেয়া হল।

১৯০৮ অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য। হাপসবুর্গ সাম্রাজ্য নামেও পরিচিত। আনুষ্ঠানিকভাবে বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা দখল করে নিল।

১৯১৪ জুন ২৮ সারায়েভোতে এক বসনীয় সার্ব ছাত্র গাভরিলো প্রিন্সিপের গুলিতে সস্ত্রীক নিহত হলেন অস্ট্রিয়ার আর্কডিউক, শুরু হল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

১৯১৮ অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের পতন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে বলকানে সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্য ঘোষিত হল। বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা রাজ্যটির অন্তর্ভুক্ত হল।

১৯২১ সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের প্রথম সংবিধান প্রণীত হল। ভিদোভান সংবিধান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত নির্ধারণ করল।

১৯২৯ সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের নাম বদলেযুগোস্লাভিয়া রাখা হল।* রাজকীয় একনায়কত্ব কায়েম। এর ফলে দেশটির সরকারব্যবস্থা আরো কেন্দ্রীভূত হল।
*যুগোস্লাভিয়া শব্দের মানে হল দক্ষিণ স্লাভদের ভূমি।

১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

১৯৪১ নাৎসি জার্মানির পুতুল ক্রোয়াট ফ্যাসিস্টদের সরকার দখল করে নিল বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। হাজার হাজার সার্ব, ইহুদি, আর জিপসিকে মৃত্যু শিবিরে পাঠানো হল।

১৯৪৫ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে মুক্ত করল টিটোর পার্টিজানরা। জোসিপ ব্রজ টিটোর নেতৃত্বে যুগোস্লাভিয়া সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্র কায়েম করা হল যেখানে, কাগজেকলমে, সব জাতির সমঅধিকার ছিল।* পরবর্তী প্রায় পাঁচ দশক ধরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এই ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের অংশ ছিল।
* ছয়টি প্রজাতন্ত্রের সমষ্টি ছিল এই ফেডারেল প্রজাতন্ত্র। সার্বিয়া (রাজধানী বেলগ্রেড), মন্টেনিগ্রো (রাজধানী টিটোগ্রাদ), স্লোভেনিয়া (রাজধানী জুবজানা), ক্রোয়েশিয়া (রাজধানী জাগরেব), বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (রাজধানী সারায়েভো), এবং ম্যাকিদোনিয়া (রাজধানী স্কোপজে)। এদের মধ্যে সার্বিয়ায় দুটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ছিল: কসোভো (রাজধানী প্রিস্টিনা) ও ভোজভোদিনা (রাজধানী নোভি সাদ)।

১৯৪৫-৯১ যুগোস্লাভিয়া সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্র

১৯৫৬ রেবেকা ওয়েস্ট, ব্ল্যাক ল্যাম্ব অ্যান্ড গ্রে ফ্যালকন: আ জার্নি থ্রু যুগোস্লাভিয়া

১৯৬৮ যুগোস্লাভিয়া সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের ষষ্ঠ প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

যুগোস্লাভিয়া মুসলমানদের “জাতিগত সংখ্যালঘু” হিসেবে চিহ্নিত করল। কমিউনিস্টদের এই অদ্ভুত বর্গীকরণের কারণে এমন একটা ধারণা তৈরি হল, যেন সার্বরা সার্ব আর ক্রোয়াটরা ক্রোয়াট, কিন্তু জাতিগত ফারাক নির্বিশেষে যুগোস্লাভিয়ায় বাস করা সব মুসলমান শুধুই মুসলমান। দুই দশক পর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (১৯৯২-৯৫) এবং কসোভোয় (১৯৯৮-৯৯) যে যুদ্ধ দেখা দেয়, তার একটা শেকড় এই বিভ্রান্তিকর রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রোথিত ছিল।

১৯৭৭ ইভো আন্দ্রিচ, দ্য ব্রিজ অন দ্য দ্রিনা

১৯৮৪ এ বছরের শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন করে সারায়েভো।

১৯৯০-৯২ যুগোস্লাভিয়ায় দ্য লীগ অফ দ্য কমিউনিস্টসের বিলুপ্তি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আলিয়া আলী ইজেতবেগোভিচ। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করল।*
* যুক্তরাষ্ট্র ও ইওরোপীয় কমিউনিটি এই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়।

বসনীয়দের বিরুদ্ধে সার্বদের জাতিগত শুদ্ধি অভিযান শুরু

১৯৯২-৯৫ সিয়েজ অফ সারায়েভো, একজন মুসলমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বসনীয় সার্বদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তার প্রকাশ ঘটেছিল এ বছরের ১২ এপ্রিল, একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালিয়ে সার্ব বন্দুকবাজরা যখন ৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল। ১৯৯২ সালের এই দিনটি থেকে ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকে সারায়েভো। সার্ব সেনাবাহিনী আর মিলোসেভিচের নিজস্ব স্নাইপারদের যুগপৎ আক্রমণে শহরটি রীতিমতো ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়, হাজার হাজার মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণায় মারা যান, বহু হতাহত হওয়ার ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

১৯৯৩ মস্তার নিয়ে বসনিয়াক আর ক্রোয়াটদের মধ্যে যুদ্ধ। ক্রোয়াটরা বোমা মেরে মস্তার সেতু উড়িয়ে দিল। এই ঐতিহাসিক সেতুটি ওসমানি আমলে নির্মিত হয়েছিল। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই) গঠন করল জাতিসংঘ।

রয় গুটম্যান, আ উইটনেস টু জেনোসাইড
স্লাভেনকা দ্রাকুলিচ, দ্য বলকান এক্সপ্রেস: ফ্র্যাগমেন্টস ফ্রম দ্য আদার সাইড অফ ওয়ার
রবার্ট ডি. কাপলান, বলকান ঘোস্টস: আ জার্নি থ্রু হিস্ট্রি
জলাতকো দিদারেভিচ, সারায়েভো: আ ওয়ার জার্নাল
রাবিয়া আলী ও লরেন্স লিফশুলৎজ (সম্পা.), হোয়াই বসনিয়া? রাইটিংস অন দ্য বলকান ওয়ার

১৯৯৪ গোরাজদের নিকটবর্তী একটি জায়গায় বসনীয় সার্ব বাহিনীর বিরুদ্ধে ন্যাটো তার ইতিহাসের প্রথম সামরিক আক্রমণাভিযান পরিচালনা করল।

ফেব্রুয়ারি সারায়েভোর বাজারে ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক বসনীয় সার্বদের হাতে হত্যাযজ্ঞের শিকার হন।

মার্চ জাতিসংঘের সহায়তায় গঠিত হয় বসনীয়-ক্রোয়াট ফেডারেশন।

নোয়েল ম্যালকম, বসনিয়া: আ শর্ট হিস্ট্রি
বোগদান দেনিচ, এথনিক ন্যাশনালিজম: দ্য ট্রাজিক ডেথ অফ যুগোস্লাভিয়া
মিশা গ্লেনি, দ্য ফল অফ যুগোস্লাভিয়া: দ্য থার্ড বলকান ওয়ার
আনা কাতালদি, লেটার্স ফ্রম সারায়েভো: ভয়েসেস অফ আ বিসেইজড সিটি
জলাতা ফিলিপোভিচ, জলাতাজ ডায়েরি: আ চাইল্ড’স লাইফ ইন সারায়েভো

১৯৯৫ ফেব্রুয়ারি ২৩ ২১ জন বসনীয় সার্বকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করলো জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল

জুন ২৮ স্রেবেনিকায় একটি সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনায় বসলেন স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রীম কমাণ্ডার রাদোভান কারাদজিচ, স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংসদের প্রেসিডেন্ট মোমচিলো ক্রাজিসনিক এবং ভিআরএস দ্রিনা কর্পসের চিফ অফ স্টাফ রাদিস্লাভ ক্রস্তিচ। বৈঠকের পর একটি যুদ্ধ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করতে শুরু করলো কোর কমাণ্ড।

জুলাই ৬ আনুমানিক ভোর ৩টা, শুরু হলো ক্রিভায়া ৯৫। স্রেব্রেনিকা শহর এবং ইউএনপ্রোফরের ডাচ ব্যাটালিয়নের (ডাচব্যাট) পর্যবেক্ষণ চৌকিগুলো গোলাবর্ষণের লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিলো। পরবর্তী দিনগুলোতে স্রেব্রেনিকার আশেপাশের ইউএনপ্রোফরের পর্যবেক্ষণ চৌকিগুলো বসনীয় সার্ব বাহিনীর হাতে চলে যায়।
৯-১০ রাদোভান কারাদজিচের হুকুম তামিল করে বসনীয় সার্ব বাহিনী স্রেবেনিকা দখল করতে শুরু করলো। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী (বিআইএইচ আর্মি) ও ডাচব্যাটের মিলিত প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে পরবর্তী দিনগুলোতে গোলাবর্ষণ তীব্রতর করে বসনীয় সার্ব বাহিনী। স্রেব্রেনিকা ছিটমহলের গ্রামগুলোর পতন ও অবরোধ আরও কঠোর হওয়ার সাথে সাথে আশ্রয়ের সন্ধানে দলে দলে শহরটিতে আসতে থাকে বসনীয় মুসলিমরা।
১১ বিকালে বসনীয় সার্ব বাহিনী স্রেব্রেনিকায় প্রবেশ করে শহরটি দখল করে নেয়।
১১-১২ ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনা করার জন্য নিকটবর্তী ব্রাতুনাক শহরের হোটেল ফন্টানায় বসনীয় সার্ব বাহিনীর নেতৃত্ব ও ডাচব্যাট কমান্ডারদের মধ্যে তিনটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৈঠকে বসনীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর বেসামরিক প্রতিনিধিরা যোগ দেন। বৈঠক শেষে ছিটমহলটি থেকে বসনীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে নেয়ার জন্য শর্ত আরোপ করে বসনীয় সার্ব বাহিনী।
১২ হোটেল ফন্টানায় তৃতীয় বৈঠকের আগে, ভিআরএস দ্রিনা কোরের লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ভুয়াদিন পোপোভিচ তাঁর সহকর্মী, ভিআরএস ব্রাতুনাক ব্রিগেডের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রধান মোমির নিকোলিচকে বলেন, স্রেব্রেনিকার হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম নারী ও শিশুকে পোটোকারি থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং সক্ষম পুরুষদের আলাদা করে ব্রাতুনাকে সাময়িকভাবে আটক রেখে পরে হত্যা করা হবে।
সকাল হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম স্রেব্রেনিকা থেকে পালিয়ে যান। নিকটবর্তী পোটোকারিতে অবস্থিত জাতিসংঘ কম্পাউন্ডে আশ্রয় নেন। সকাল নাগাদ জাতিসংঘ কম্পাউন্ডের আশেপাশের এলাকায় প্রায় ৩০,০০০ বসনীয় মুসলিম এসে জড়ো হন। যাঁদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পর্যাপ্ত খাবার, পানি বা ওষুধপত্র নেই। শৌচাগারের ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। অসহনীয় গরম। কিছু নারী সন্তান প্রসব করেন। কেউ কেউ মারা যান। অনেকে আত্মহত্যা করেন বা করার চেষ্টা চালান।
দুপুর পোটোকারি দখল করে নেয় বসনীয় সার্ব বাহিনী। ডাচব্যাট কম্পাউন্ডের সামনে কয়েক ডজন বাস ও ট্রাক আসতে শুরু করে। শুরু হলো বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালকদের আলাদা করা।
নারী, শিশু এবং কিছু বয়স্ক পুরুষ বসনীয় সার্ব বাহিনীর পাঠানো বাস ও ট্রাকে উঠলেন। পরের দিনের মধ্যে, ৩০,০০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক পুরুষকে পোটোকারি থেকে বিআইএইচ আর্মি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ক্লাদাঞ্জে জোরপূর্বক স্থানান্তর করা হলো।
ভিআরএস প্রধান স্টাফের কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচ পোটোকারির ভিড়ের মধ্যে হেঁটে এসে তাঁদের বললেন, বয়স নির্বিশেষে যে-ই স্থানান্তরিত হতে চাইবে তাঁকেই অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি তাঁদের ভয় পেতে বা আতঙ্কিত হতে নিষেধ করলেন এবং জানালেন যে কেউ তাঁদের কোন ক্ষতি করবে না। তিনি আরও বললেন, নারী ও শিশুদের আগে যেতে দেওয়া উচিত, এবং তাঁদের ক্লাদাঞ্জে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৩০টি বাস আসবে।
শত শত বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে পোটোকারির হোয়াইট হাউজ নামে পরিচিত একটি ভবনে আটক করা হলো। ভিআরএসের সশস্ত্র সৈন্যরা তাঁদের পরিচয়পত্র, পকেটে থাকা টাকা, মানিব্যাগ, মালপত্র, পোশাক এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ফেলে যেতে বাধ্য করে। যেগুলো পরে আগুনে পুড়িয়ে দেয় ভিআরএস।
১৩ স্রেব্রেনিকার পতনের অল্প সময়ের মধ্যেই সক্ষম পুরুষরা তাঁদের পরিবারের সাথে পোটোকারিতে গেলে খুন হতে হবে, এই আশঙ্কায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ১৬-৬৫ বছর বয়সী বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালক, প্রায় দশ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কলাম গঠন করে বিআইএইচ আর্মি অধিকৃত এলাকা তুজলার দিকে রওনা দেন। বেসামরিক নাগরিক এবং বিআইএইচ আর্মির সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই কলাম থেকে হাজার হাজার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে বন্দী করে ভিআরএস এবং কোনিয়েভিচ পোলিয়ে, সান্দিচি ও নোভা কাসাবা গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে আটক রাখে।
১৩-১৪ স্রেব্রেনিকা ও তার আশেপাশে থেকে আটক হওয়া বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালকদের প্রথমে ব্রাতুনাক পৌরসভা এবং পরে ভোরনিকের হত্যাস্থলে নিয়ে যাবার আগে আটক রাখা হয়। তাঁরা বাস, ট্রাক বা অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাত কাটান। যেখানে খাবার সামান্য বা একেবারেই ছিলো না। পানি ছিলো অপর্যাপ্ত। কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিলো না। কিছু বন্দীকে বসনীয় সার্ব বাহিনীর সদস্যরা মারধর করেন। অন্যদের বলা হয় তাঁদের ব্যাগগুলো রেখে যেতে, কারণ সেগুলোর আর প্রয়োজন হবে না।
১২-১৪ হোয়াইট হাউজে আটক বা বসনীয় সার্ব বাহিনীর হাতে ইতোপূর্বে উল্লেখিত কলাম থেকে বন্দী হওয়া বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও ছেলেদের ব্রাতুনাক শহরে নিয়ে গিয়ে ভুক কারাদজিচ স্কুলে আটকে রাখা হয়। স্কুলের ভেতরে সবার বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিলো না। বন্দীদের তাঁদের সাথে আনা খাবারসহ সমস্ত জিনিসপত্র বাইরে রেখে আসার নির্দেশ দেয়া হয়। স্কুলের ভেতরে কোন খাবার ছিলো না এবং যেটুকু পানি সরবরাহ করা হয়েছিলো তা যথেষ্ট ছিলো। বন্দীদের শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে যাওয়ার পথে রাইফেলের বাট দিয়ে পেটানো হয়। পরে তারা শৌচাগারে যেতে এতটাই ভয় পান যে, যেখানে ছিলেন সেখানেই প্রস্রাব করেন। প্রায়শই বসনীয় সার্ব বাহিনীর সদস্যরা বন্দীদের ধরে নিয়ে যেত, যাঁরা আর কখনোই ফিরে আসে না। স্কুলের বাইরে বন্দীদের গোঙানি ও চিৎকারের শব্দ অবিরাম শোনা যাচ্ছিলো। ভুক কারাদজিচ স্কুলের ভেতরে এবং আশেপাশের এলাকায় বসনীয় সার্ব বাহিনীর হাতে অন্তত ৫০ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ নিহত হন।
১৩ ও ১৪ ১৩ তারিখ বিকেলে, সান্দিচি তৃণভূমিতে আটক পুরুষ ও বালকদের বাসে করে ক্রাভিকা গুদামে — ব্রাতুনাক-কোনিয়েভিচ পোলিয়ে সড়কের উপর অবস্থিত একটি একতলা ভবনে — নিয়ে যাওয়া হয়। বিকল্প বর্ণনা অনুসারে, তাঁদের একটি কলাম গঠন করে সেদিকে মার্চ করার হুকুম দেয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বন্দীদের সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বিকেল ৫টার মধ্যে গুদামটি এতটাই জনাকীর্ণ হয়ে যায় যে, বন্দীরা প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সেই সন্ধ্যায় গোলাগুলি শুরু হয়। বসনীয় সার্ব বাহিনী গুদামে প্রবেশ করে এবং এম-৮৪ মেশিনগান ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে বন্দীদের ওপর গুলি চালায়। তারা জানালা দিয়ে হ্যান্ড-গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং বাইরে থেকে দরজা ও জানালায় গুলি চালায়। রাত নামার সাথে সাথে গোলাগুলি কমে আসে। কিন্তু সারারাত ধরে থেমে থেমে চলতে থাকে। ক্রাভিকা গুদামে অন্তত ১,০০০ বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালক নিহত হন।
১৪ ১৪ তারিখ ভোর ২টা থেকে দুপুর পর্যন্ত, বন্দীদের ব্রাতুনাক থেকে ভোরনিক ব্রিগেডের দায়িত্বাধীন এলাকাভুক্ত গ্রাম ওরাহোভাকের স্কুলে নিয়ে গেলো বাসের বহর। স্কুলটির জিমনেসিয়াম প্রায় ২৫০০ বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালক দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়। যাঁদের অধিকাংশই ১৫-৭০ বছর বয়সী। তবে কিছু কম বয়সী বালকও উপস্থিত ছিলো। সেই বিকেলে, ভিআরএস দ্রিনা কোরের নিরাপত্তা প্রধান ভুয়াদিন পোপোভিচ, ভিআরএস প্রধান স্টাফের নিরাপত্তা প্রধান লুবিশা বেয়ারা এবং ভিআরএস দ্রিনা কোরের ভোরনিক ব্রিগেডের নিরাপত্তা প্রধান দ্রাগো নিকোলিচ সহ বেশ কয়েকজন ভিআরএস কর্মকর্তা ইশকুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই, বন্দীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে চোখ বেঁধে ফেলা হয়। তারপর স্কুল থেকে বের করে একটি ট্রাকে তুলে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে দুটি নিকটবর্তী তৃণভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তৃণভূমিতে পৌঁছানোর পর, বন্দীদের ট্রাক থেকে লাফিয়ে নেমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আদেশ দেওয়া হয়। ট্রাকগুলো রওনা হওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয় বন্দুকের গুলির বর্ষণ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বন্দীদের ট্রাকে করে আনা, সারিবদ্ধ হওয়ার আদেশ দেওয়া এবং গুলি করা অব্যাহত থাকে। প্রথম তৃণভূমিটি লাশে ভরে গেলে, সৈন্যরা দ্বিতীয় তৃণভূমিতে চলে যায়। অব্যাহত থাকে হত্যাযজ্ঞ। বসনীয় সার্ব বাহিনী এই তৃণভূমিগুলোতে কমপক্ষে ৮৩৯ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করে।
১৪ ও ১৫ ১৪ তারিখ বিকালে, ব্রাতুনাক থেকে প্রায় ১,০০০ বন্দী বাস বা ট্রাকে করে পেতকোভচির নতুন স্কুলে এসে পৌঁছালো। যা ভোরনিক ব্রিগেডের একটি ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তর থেকে অল্প দূরে অবস্থিত। বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালকরা ট্রাক থেকে নামার সাথে সাথে তাদের মাথার পেছনে হাত রাখার এবং সার্ব জাতীয়তাবাদী গান গাওয়ার হুকুম দেয়া হয়। স্কুলের ভেতরে একজন বসনীয় সার্ব সৈন্যের বলার পরে এই কথাগুলো তাঁদের দিয়ে পুনরাবৃত্তি করানো হয়, “এটা সার্বদের ভূমি আর চিরকাল তাই থাকবে” এবং “স্রেব্রেনিকা সবসময়ই সার্বদের ছিল আর তাই থাকবে।” সন্ধ্যা থেকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত, সৈন্যরা বন্দীদের দলবদ্ধভাবে শ্রেণীকক্ষ থেকে ডেকে বের করে। গুলির শব্দ শোনা যায়। মধ্যরাতের কিছু সময় পরে, বন্দীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে ট্রাকে তোলা হয়। এরপর পেতকোভচি বাঁধের পাশের একটি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ৫ থেকে ১০ জন করে ট্রাক থেকে নেমে একটি জায়গা খুঁজে নিয়ে সারিবদ্ধ হতে আদেশ দেয়া হয়। কালো বালাক্লাভা পরা সৈন্যরা ৭ থেকে ১০ মিটার দূর থেকে বন্দীদের পিঠে গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিবিদ্ধরা তাদের আগে নিহতদের লাশের ওপর লুটিয়ে পড়েন। বসনীয় সার্ব বাহিনী পেতকোভচিতে অন্তত ৮১৫ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে স্কুলে এবং বাকিদের বাঁধের কাছের একটি মাঠে হত্যা করা হয়।

১৫ ১৪ তারিখে ব্রাতুনাক থেকে বন্দীদের নিয়ে কয়েকটি বাস রওনা দেয়। বাসগুলো ভোরজিক-বিয়েলজিনা প্রধান সড়কের পাশেই রোচেভিচ নামক এলাকার একটি স্কুলে পৌঁছায়। সেদিন বিকালে ভিআরএস দ্রিনা কর্পসের নিরাপত্তা প্রধান ভুয়াদিন পপোভিচ সেখানে আসেন। তিনি এসে স্কুলের জিমনেসিয়ামের ভেতর বন্দিদের দেখতে পান। পরদিন বিকালে এই বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালকদের ট্রাকে করে দ্রিনা নদীর তীরের একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। জায়গাটি কোজলুক গ্রামের কাছে অবস্থিত। সেখানে পৌঁছানোর পর ট্রাকগুলোকে পেছনের দিকে চালিয়ে আগে থেকে খুঁড়ে রাখা একটি গর্তের মুখে আনা হয়। এরপর বন্দিদের ট্রাক থেকে লাফ দিয়ে সেই গর্তের ভেতর নামার হুকুম দেয়া হয়। গর্তের দুই পাশে মুখোশ পরা বন্দুকধারীরা দুটি সমান্তরাল লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। বন্দিরা ট্রাক থেকে নেমে গর্তে পড়ার সাথে সাথেই তারা দুই দিক থেকে গুলি করতে শুরু করে। এই গুলিবর্ষণের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও এলোমেলো। অনেক আহত বন্দী দ্রিনা নদীতে নেমে এবং ঝোপঝাড় আঁকড়ে ধরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তাঁদের ওপর অনবরত গুলি চালানো হতে থাকে। একটি ছোট বালক তার জীবন ভিক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
বসনীয় সার্ব বাহিনী অন্তত ৮১৫ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করে। তাদের কয়েকজনকে রোচেভিচ স্কুলে এবং বাকিদের কোজলুক গ্রামের কাছে দ্রিনা নদীর তীরে হত্যা করা হয়।

১৬ ১৪ তারিখ বিকালে ব্রাতুনাক থেকে বন্দীবাহী আরও বেশ কয়েকটি বাস পিলিকা গ্রামের কুলা পাড়ার একটি স্কুলে এসে পৌঁছায়। ১৬ তারিখ এই পুরুষ ও বালকদের মধ্যে কয়েকজনকে বাসে করে কাছের ব্রানিয়েভো সামরিক খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাস থেকে নামানোর পর দায়িত্বরত সেনারা বন্দীদের কাছে টাকা দাবি করে। বন্দীরা টাকা নেই বললেই তাদের ওপর নির্মম মারধর চালানো হয়। সবাইকে একটি তৃণভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন্দিদের থামতে বলা হয় এবং সেনাদের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়ানোর হুকুম দেয়া হয়। এরপরই সেনারা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। প্রতিটি গুলিবর্ষণের পর সেনারা জোরে জিজ্ঞেস করত কেউ জীবিত আছে কি না। তারা প্রতিশ্রুতি দিত যে জীবিতদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেয়া হবে। যারা এই কথায় সাড়া দিয়ে বেঁচে থাকার কথা জানাতো, তাদের মাথায় একটি করে গুলি করে মেরে ফেলা হতো। তবে এক ব্যক্তি যখন নিজের মৃত্যু ভিক্ষা চাইছিল, সেনারা তাকে লক্ষ্য করে বলে, “ওকে কষ্ট পেতে দাও। পরে মারব।” ব্রানিয়েভো সামরিক খামারে বসনীয় সার্ব বাহিনী প্রায় ১,২০০ বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে হত্যা করে। সেনারা যখন কুলা স্কুল থেকে আনা শেষ দলটিকে হত্যা করছিল, ঠিক তখন যে লেফটেন্যান্ট-কর্নেল এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি সেখানে ফিরে আসেন। তিনি সেনাদের জানান, পিলিকা কালচারাল সেন্টারে (যা ‘ডোম কালচার’ নামেও পরিচিত) বন্দি থাকা স্রেবেনিকার ৫০০ জন বসনীয় মুসলিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি তাদেরও অবিলম্বে হত্যা করার নির্দেশ দেন।
১৯৯৬ এবং ১৯৯৮ সালে পিলিকা কালচারাল সেন্টারে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হয়। এই পরীক্ষায় সেখানকার দেয়াল ও মেঝেতে মানুষের রক্ত, হাড় এবং মাংসের কণা লেগে থাকার প্রমাণ মেলে। এছাড়াও পুরো ভবন জুড়ে অস্ত্র ও গ্রেনেডের আঘাতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তের সময় মঞ্চের পেছনের দেয়ালে গুলির দাগ পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, বন্দীদের মঞ্চের ওপর দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ভবনের ভেতরে ও বাইরে প্রচুর গুলির খোসা ছড়িয়েছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। বসনীয় সার্ব বাহিনী পিলিকা কালচারাল সেন্টারে প্রায় ৫০০ জন বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে নির্মমভাবে হত্যা করে।

১৭ জুলাই থেকে আগস্টের শুরু পর্যন্ত স্রেবেনিকা থেকে পালিয়ে যাওয়া বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালকদের ধরতে আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায় বসনীয় সার্ব বাহিনী। এই অভিযানের সময় বলজকোভিকায় চারজন, স্নাগোভো শহরের কাছে দুজন, বিশিনায় ৩৯ জন এবং ত্রনোভো শহরের কাছে ছয়জন বসনীয় মুসলিম পুরুষকে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে কারও কারও হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিলো। কারও কারও চোখ ছিলো কাপড় দিয়ে বাঁধা। আবার কয়েকজনের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখা হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর স্রেবেনিকার বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালকদের এই গণকবরের প্রমাণ লুকিয়ে ফেলার একটি বড় চেষ্টা চালানো হয়। বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় মূল গণকবরগুলো খুঁড়ে লাশগুলো বের করে আনে বসনীয় সার্ব বাহিনী। এরপর সেগুলো দূরবর্তী অন্য জায়গায় দ্বিতীয়বার কবর দেয়।
গ্লোগোভা গ্রামটি ক্রাভিকা গুদাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যায়, গ্লোগোভার গণকবরগুলো প্রথম খোঁড়া হয়েছিলো ১৯৯৫ সালের ১৭ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে। পরবর্তীতে মাটি খুঁড়ে ফেলার এবং একটি ফ্রন্ট লোডারের উপস্থিতির ছবি দেখে বোঝা যায়, ১৯৯৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার আগেই এই কবরগুলো পুনরায় খোঁড়া হয়েছে।
গ্লোগোভার গণকবর থেকে তুলে নেওয়া লাশগুলো পরে জেলেনি জাদার সড়কের পাশের দ্বিতীয় গণকবরগুলোতে পাওয়া যায়। এই দ্বিতীয় গণকবরগুলোতে পুরুষদের মরদেহ ছিলো। তাদের বেশিরভাগেরই শরীরে গুলির ক্ষত ছিলো। কয়েকজনের হাত বাঁধা ছিল। এছাড়াও কবরগুলোতে ক্রাভিকা গুদামঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যায়। যেমন — কাঁটাতার, মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ, ইট, টালি, চীনামাটির বাসন এবং খড়ের আঁটি।

নভেম্বর ২১ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে ডেটন চুক্তির মধ্য দিয়ে বসনিয়া যুদ্ধের অবসান।*
* এই যুদ্ধে ১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়, ৫০ হাজার মুসলমান নারী ও কন্যাশিশু পদ্ধতিগত ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হন। বসনিয়া যুদ্ধের সবচে আলোচিত ঘটনা স্রেবেনিকা হত্যাযজ্ঞ। সেনাপতি রাতকো ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন বসনীয় সার্ব বাহিনীগুলো জাতিসংঘ-কর্তৃক ‘সেফ হ্যাভেন’ ঘোষিত স্রেব্রেনিকায় ঢুকে শান্তিরক্ষীদের চোখের সামনে ৭ হাজারেরও বেশি বসনিয়াক (বসনীয় মুসলমান) পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করে।

ডিসেম্বর ডেটন চুক্তি অনুসারে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে দুটি পৃথক অঞ্চলে ভাগ করা হল। একটি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফেডারেশন (Federacija Bosne i Hercegovine: FBiH), যা মুসলমান ও ক্রোয়াটদের যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকল। অন্যটি স্প্রসকা প্রজাতন্ত্র (Republika Srpska: RS), যা বসনীয় সার্বদের নিয়ন্ত্রণাধীন। এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করে একটি সর্বোচ্চ প্রতিনিধির কার্যালয় সৃষ্টি করা হল। একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হল।
১৪ প্যারিসে যুদ্ধরত সব পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই।

টম জেলতান, সারায়েভো ডেইলি: আ সিটি অ্যান্ড ইটস নিউজপেপার আন্ডার সিয়েজ
নরম্যান সিগার, জেনোসাইড ইন বসনিয়া: দ্য পলিসি অফ ‘এথনিক ক্লিনজিং’

১৯৯৬ নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই) কাজ করতে শুরু করল। স্রেবেনিচা গণহত্যায় ভূমিকা রাখার দায়ে সার্ব দ্রাজেন এর্দেমোভিচকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল। দ্বিতীয় মেয়াদে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট হলেন আলিয়া আলী ইজেতবেগোভিচ।

১৯৯৭ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় নিরাপত্তা রক্ষা করতে ন্যাটো গঠন করল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স (এসফোর)।

আদেমির কেনোভিচ, দ্য পারফেক্ট সার্কেল
মাইকেল উইন্টারবটম, ওয়েলকাম টু সারায়েভো

১৯৯৮ প্রেদরাগ আন্তোনিজেভিচ, সেভিয়ার
ডেভিড এটউড, শট থ্রু দ্য হার্ট

১৯৯৯ লেসলি উডহেড, স্রেব্রেনিচা: আ ক্রাই ফ্রম দ্য গ্রেভ

২০০০ নির্বাচনে মুসলমান-ক্রোয়াট অঞ্চলে মডারেটরা ভালো ফল করলেন, বসনীয় সার্ব-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে জাতীয়তাবাদীরা এগিয়ে থাকলেন। সার্ব জাতীয়তাবাদী দল একটি ঐক্যজোট গঠন করল। যার নেতৃত্বে ছিলেন মডারেট প্রধানমন্ত্রী ম্লাদেন ইভানিচ।

২০০১ আগস্ট জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা রাদিস্লাভ ক্রিস্তিচকে স্রেবেনিচা হত্যাযজ্ঞে ভূমিকা রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৬ বছরের কারাদণ্ড দিল।

ইভান লভরেনোভিচ, বসনিয়া: আ কালচারাল হিস্ট্রি

ডেনিস তানোভিচ, নো ম্যান’স ল্যান্ড
জন মুর, বিহাইন্ড এনিমি লাইনস

২০০২ মে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হলেন ব্রিটিশ রাজনীতিক প্যাডি অ্যাশডাউন।

অক্টোবর ফেডারেশন প্রেসিডেন্সিয়াল, সংসদীয়, ও স্থানীয় নির্বাচনে জিতে জাতীয়তাবাদীরা আবার ক্ষমতায় ফিরল।

২০০৪ ডিসেম্বর একটি ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইউফোরের হাতে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব হস্তান্তর করল ন্যাটো।

২০০৫ সাবিনা ভাজরাচা, ব্যাক টু বসনিয়া

২০০৬ ডিসেম্বর ন্যাটোর পার্টনারশিপ ফর পীস প্রি-মেম্বারশিপ প্রোগ্রামে যোগ দিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

জাসমিলা জবানিচ, গ্রবাভিচা
ক্রিশ্চিনা ভাগনার, ওয়ারচাইল্ড।

২০০৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা আদালতের (আইসিজে) রায়ে বলা হল, ১৯৯৫ সালের স্রেবেনিচা হত্যাযজ্ঞ একটি গণহত্যা ছিল; তবে আদালত খোদ সার্বিয়া রাষ্ট্রকে এই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা থেকে বিরত থাকলেন।

২০০৮ জুলাই ১৩ বছর পলাতক থাকার পর বেলগ্রেডে সার্বীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেন রাদোভান কারাদজিচ, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা।

জিয়াকমো বাত্তিয়াতো, রেজল্যুশন ৮১৯

২০১০ জুয়ানিতা উইলসন, অ্যাজ ইফ আই অ্যাম নট দেয়ার

২০১১ মে সার্ব কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হলেন যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক বসনীয় সার্ব সেনাপ্রধান রাতকো ম্লাদিচ ও ক্রোয়েশীয় সার্ব গোরান হাদজিচ।

ডিসেম্বর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুসলমান, সার্ব, ও ক্রোয়াট নেতারা একটি নতুন কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করার ব্যাপারে রাজি হলেন। এতে ১৪ মাসের রাজনৈতিক স্থবিরতার অবসান হল।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ইন দ্য ল্যান্ড অফ মিল্ক অ্যান্ড হানি

২০১৩ মে জাতিসংঘের একটি ট্রাইব্যুনাল ছয়জন সাবেক বসনীয় ক্রোয়াট নেতাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করল।

স্রদান গোলুবভিচ, সার্কেলস
মার্ক স্টিভেন্স জনসন, কিলিং সিজন

২০১৪ মে তীব্র বন্যায় ৫ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হলেন এবং জনগণের এক-চতুর্থাংশ পানীয় জলের সংকটে পড়ল।

২০১৫ মার্চ ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে স্টেবিলাইজেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি সই করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

২০১৬ ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আনুষ্ঠানিক সদস্যপদের জন্য আবেদন করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

মার্চ জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা রাদোভান কারাদজিচকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দিল।

ওজান আচিকতান, মাই মাদার্স উন্ড

২০১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল সাবেক বসনীয় সার্ব সামরিক কমাণ্ডার রাতকো ম্লাদিচকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল।

তারিক হদজিচ, স্ক্রিম ফর মি সারায়েভো
লার্স ফেল্ডবেল পিটারসন, দ্য আনফরগিভেন

২০১৮ অক্টোবর তিন-সদস্যবিশিষ্ট ফেডারেল প্রেসিডেন্সিতে সার্বদের জন্য বরাদ্দকৃত আসন জিতলেন সার্ব পরিচয়বাদী নেতা মিলোরাদ দোদিক। তিনি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা থেকে দেশটির বসনীয় সার্ব-নিয়ন্ত্রিত স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করলেন।

২০২০ জাসমিলা বানিক, কুয়ো ভাদিস, আইদা?

২০২১ জুলাই সাধারণভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায় অস্বীকার করা এবং বিশেষভাবে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিচা গণহত্যার দায় অস্বীকার করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধি ভ্যালেন্তিন ইনজকো একটি আইন বলবৎ করলেন। স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের সার্ব জাতীয়তাবাদী নেতারা এই আইন বলবৎ করার কঠোর বিরোধিতা করেন।

অক্টোবর বসনীয় সার্ব পরিচয়বাদী নেতা মিলোরাদ দোদিক ঘোষণা করলেন, স্প্রসকা প্রজাতন্ত্র বসনিয়ার সেনাবাহিনী, শীর্ষস্থানীয় আইনী সংস্থাসমূহ, ও কর প্রশাসন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিবে। এতে অঞ্চলটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংকটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ল।

২০২২ ফেব্রুয়ারি ২৫ ইউক্রেনের প্রতি সংহতি জানাতে সারায়েভোতে জড়ো হলেন বিক্ষোভকারীরা।

এপ্রিল ২২ ২০২২ সালের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ভূমিকম্প। একজন নিহত। ১৪ জন আহত।

মে ২৫ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সারায়েভো ক্যান্টনের স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইমেইলের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বোমা হামলার হুমকি দেয়া হলো। লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কোন বোমা পাওয়া যায় নি।

জুলাই ৩ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় মাঙ্কিপক্সের প্রথম নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হলেন।

আগস্ট ৬ পোল্যান্ড থেকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মেদজুগোর্জেগামী তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস ক্রোয়েশিয়ার পোডভোরেকে বিধ্বস্ত হলো। ১২ জন নিহত। আরও ৩২ জন আহত হন।

অক্টোবর ২ বসনিয়ার ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচন। তাঁদের জাতিগতভাবে বিভক্ত সরকারের ৩ সদস্যকে নির্বাচিত করলেন বসনিয়ার ভোটাররা। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪২টি আসনের মধ্যে ৯টি জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলো পার্টি অফ ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন।

নভেম্বর ১৬ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্সি হিসেবে তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন দেনিস বেচিরোভিচ*, জেলকা ভিয়ানোভিচ**, জেলকো কমসিচ***।
* বসনিয়াকদের প্রতিনিধি।
** বসনীয় সার্বদের প্রতিনিধি।
*** বসনীয় ক্রোয়াটদের প্রতিনিধি।

ডিসেম্বর ১৩ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার আবেদনের মর্যাদা উন্নত করতে রাজি হলেন ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইওরোপ বিষয়ক মন্ত্রীরা। যা ইউনিয়নে যোগদানের জন্য দেশটির প্রার্থিতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।
১৫ আনুষ্ঠানিকভাবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে প্রার্থী মর্যাদা প্রদান করলো ইওরোপীয় কাউন্সিল।

২০২৩ অক্টোবর ২২ সারায়েভোতে ফিলিস্তিনি ও বসনীয় পতাকা হাতে নিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ বন্ধের দাবিতে সমবেত হলেন কয়েক হাজার মানুষ।

২০২৪ জুন ২১ ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে দেশের বেশিরভাগ অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়লো।

আগস্ট ২১ সানস্কি মোস্টের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে গোলাগুলির ঘটনায় ৩ কর্মচারী নিহত। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যিনি নিজেও ওই বিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী, নিজেকে গুলি করার পর হাসপাতালে ভর্তি হন।
২২ সার্বিয়া সীমান্তবর্তী ব্রাতুনাচের কাছে দ্রিনা নদীতে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১১ জন নিহত।

সেপ্টেম্বর ১৯ মেদজুগোর্জেকে একটি ক্যাথলিক তীর্থস্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিলো ভ্যাটিকান। কিন্তু আওয়ার লেডি অফ মেদজুগোর্জের সাথে সম্পর্কিত অলৌকিক আবির্ভাবের দাবিগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া থেকে বিরত থাকলো।

অক্টোবর ৪ জাব্লানিকা এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধ্বসে অন্তত ২৬ জন নিহত।
বসনিয়ায় ২০২৬ সালের পৌরসভা নির্বাচন।
২৩ বসনিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় চেলেবিচি শিবিরের একজন কারারক্ষী হিসেবে জাতিগত সার্বদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে নিজের ভূমিকা ধামাচাপা দিয়ে শরণার্থী মর্যাদা ও পরবর্তীকালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করার অভিযোগে কেমাল মর্নজিচকে জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করলো যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালত।
২৪ বসানস্কা ক্রুপার এক পুলিশ স্টেশনে ছুরি হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত। আর একজন আহত। সন্দেহভাজন ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হলো।

২০২৫ ফেব্রুয়ারি ২৬ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের আদেশ অমান্য করার দায়ে স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মিলোরাদ দোদিককে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড দিলো সারায়েভোর এক আদালত। ৬ বছরের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলো।
ব্রাচকোর একটি বাড়ির ভেতর থেকে ৩১ জন নাবালককে উদ্ধারের পর শিশু পাচারের সন্দেহে ৩ ব্যক্তি গ্রেপ্তার।
২৮ ফেডারেল প্রজিকিউটর, আদালত এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার গোয়েন্দা-নিরাপত্তা সংস্থার কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে ভোট দিলো স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংসদ।

মার্চ ১৭ কারাদণ্ড ভোগ করতে দোদিকের অস্বীকৃতি জানানোর কারণে অসাংবিধানিক আচরণের দায়ে মিলোরাদ দোদিক, স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী রাদোভান ভিশকোভিচ এবং স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংসদের স্পিকার নেনাদ স্তেভানদিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার আদালত।

এপ্রিল ২৩ বসনিয়ার স্টেট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সির এজেন্টরা সারায়েভোর পুবদিকের একটি কার্যালয় থেকে স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মিলোরাদ দোদিককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে। কিন্তু স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।

মে ২৬ ব্লাজুইয়ের একটি আশ্রয় শিবিরের কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী অভিবাসী পাচারকারী দলগুলোর মধ্যে গোলাগুলিতে ৬ জন আহত।

জুলাই ৪ বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগে প্রজিকিউটরদের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে রাজি হবার পর মিলোরাদ দোদিকের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নিলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার আদালত।

আগস্ট ৬ ফেব্রুয়ারিতে একটি আপিল আদালত মিলোরাদ দোদিকের সাজা বহাল রাখার ধারাবাহিকতায় তাঁকে স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণ করলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশন।

সেপ্টেম্বর ১১ স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মিলোরাদ দোদিকের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো স্লোভেনিয়া।

অক্টোবর ১৮ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনা ত্রিসিচ-বাবিচকে নিয়োগ দিলো স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংসদ।
২৫ ২০২৫ সালের স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের গণভোট।
২৯ ২০২২ সালে মিলোরাদ দোদিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলো, এ বছর তা তুলে নেয়া হয়।

নভেম্বর ৪ ২০২৫ সালের তুজলা বৃদ্ধাশ্রম অগ্নিকাণ্ড। তুজলার এক বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডে ১৮ জন নিহত। আরও ৩৫ জন আহত।
মিলোরাদ দোদিকের ৬ বছরের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাংবিধানিক আদালত। দোদিকের আপিল প্রত্যাখ্যান করলো। এই মর্মে রায় দিলো যে, উক্ত নিষেধাজ্ঞা সংবিধান লঙ্ঘণ করে নি।

নভেম্বর ২৩ ২০২৫ সালের স্প্রসকা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ৫০.৮৯% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ক্ষমতাসীন এসএনএসডি দলের সিনিশা কারান।

২০২৬ জানুয়ারি ৫ সারায়েভোতে শীতকালীন ঝড়ের পর ভারী তুষারপাতের কারণে একটি গাছ পড়ে গেলে এতে একজন নিহত হন।
২৬ ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কর্তৃক এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে একটি সমন্বিত অবরোধ পালন করলেন ট্রাক চালকরা।

ফেব্রুয়ারি ১২ সারায়েভোতে একটি ট্রাম লাইনচ্যুত হয়ে এক ব্যক্তি নিহত ও আরও চারজন আহত।
১৫ ২০২৬ সালের সারায়েভো ট্রাম লাইনচ্যুতির ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদের মুখে সারায়েভো ক্যান্টনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নিহাদ উক।

এপ্রিল ২৮ ক্রোয়েশিয়ার ক্রক দ্বীপের এলএনজি টার্মিনালের সাথে বসনিয়াকে সংযুক্ত করা সাউদার্ন ইন্টারকানেকশন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের জন্য একটি চুক্তিতে সই করলো ক্রোয়েশিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

মে ১১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার ঘোষণা দিলেন ক্রিশ্চিয়ান শ্মিডট। তবে তাঁর স্থলে অন্য কাউকে নিয়োগ না দেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল থাকবেন।

আগস্ট ২৭ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় ১৯৯২-৯৫ সালের যুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘ-ঘোষিত “সেফ এরিয়া” স্রেবেনিকায় ৭ হাজারেরও বেশি বসনীয় মুসলমান পুরুষ ও কিশোরের বিরুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার দায়ে আইসিটিওয়াই প্রদত্ত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা প্রাক্তন বসনীয় সার্ব জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ ৮৪ বছর বয়সে স্বাভাবিকভাবে মারা গেলেন।

অক্টোবর ৪ বসনিয়ায় ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্র

BBC.

Čuvalo, Ante. 2007. Historical Dictionary of Bosnia and Herzegovina. 2nd Edition. Scarecrow Press.

Internet Movie Database (IMDb).

Srebrenica: Timeline of Genocide

Phillips, Douglas. 2004. Bosnia and Herzegovina. Chelsea House.

Schuman, Michael A. 2004. Bosnia and Herzegovina. Facts of File.

The New York Times.

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *