
কলোনিয়াল মিডল ইস্ট
Featured Image: “Capture and occupation of Palestine by British. British troops on parade at Jaffa Gate. December 1917”. Matson (G. Eric and Edith) Photograph Collection. Library of Congress.

“THE MIDDLE OF WHAT? EAST OF WHERE? THE REGION’S VERY name is based on a European view of the world, and it is a European view of the region that shaped it. The Europeans used ink to draw lines on maps: they were lines that did not exist in reality and created some of the most artificial borders the world has seen. An attempt is now being made to redraw them in blood.”
Tim Marshall (1959-), British Journalist and Author
“Rush, O Muslims to your state. It is your state. Syria is not for Syrians, and Iraq is not for Iraqis. The land is for the Muslims, all Muslims. This is my advice to you. If you hold to it you will conquer Rome and own the world, if Allah wills.”
Abu Bakr al-Baghdadi (1971-2019), Self-proclaimed Caliph
“We were mistaken when we thought the homeland was only the past… the homeland is the future.”
Ghassan Kanafani (1936-72), Palestinian Writer and Revolutionary
সাল
১২৯৯-১৯২২ ওসমানি সুলতানশাহি।
১৫০১-১৭৩৬ সাফাভি সাম্রাজ্য।
১৫০১-১৬০০ মশলা বাণিজ্যের ওপর নিজেদের একচেটিয়া কায়েম রাখতে একটি বাণিজ্য কুঠি হিসেবে বাহরাইনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল পর্তুগিজরা। ইয়েমেন ওসমানি সুলতানশাহির অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল।
১৫০৭ পর্তুগিজ উপনিবেশিক শক্তি মাস্কাটে একটি ধবংসযজ্ঞ চালাল এবং ওমান উপকূল দখল করে নিল।
১৫১৪ চালদিরানের সমর। কুর্দিস্তানে ওসমানি সুলতানশাহি ও সাফাভি সাম্রাজ্যের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারিত হল।
১৫১৪-১৬ ওসমানিদের কুর্দিস্তান বিজয়।
১৫১৬ বর্তমান লেবানন ওসমানি সুলতানশাহির অংশ হয়ে গেল। গাজায় ওসমানি দখলদারিত্ব।
১৫১৭ হিজাজের ওপর ওসমানি সুলতানশাহির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
১৫১৭-১৯১৭ এ সময় ফিলিস্তিন শাসন করছেন তুরস্কের ওসমানি সুলতানশাহি।
১৫১৮ এ সময় ওসমানিরা জর্দান জয় করে।
১৫৩৫ সিরিয়ার ফরাসি খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সুরক্ষা দিল ওসমানিরা।
১৫৪১ জেদ্দায় পর্তুগিজদের হামলা।
১৫৫০ আল-আহসার ওপর ওসমানি সুলতানশাহির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
১৫৭১ ওসমানি সুলতানশাহি সাইপ্রাস দখল করে নিল।
১৫৮০ সিরিয়ার ব্রিটিশ খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সুরক্ষা দিল ওসমানিরা।
১৬০০ আনুমানিক এ সময় থেকে জর্দানের ওপর ওসমানি প্রভাব হ্রাস পেতে থাকে।
১৬০১-১৭০০ ইয়েমেন থেকে ওসমানিদের তাড়িয়ে দেয়া হল।
১৬০৬-০৭ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে কুর্দি কানপোলাদ রাজবংশের বিদ্রোহ। বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়। কানপোলাদরা লেবানন পর্বতমালায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
১৬০৯-১৬১০ সাফাভিদের হাতে পারস্যের পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি পার্বত্য দুর্গ দিমদিমের পতন। এর সমস্ত রক্ষকরা বন্দী হওয়ার পরিবর্তে আত্মহত্যা করে। কার্যত, কুর্দি মাসাদা।
১৬৩৯ জুহাবের চুক্তি। কুর্দিস্তানে ওসমানি সুলতানশাহি ও সাফাভি সাম্রাজ্যের মধ্যকার সীমান্ত পুনঃনির্ধারিত হল। কিরকুক অঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিল ওসমানি সুলতানশাহি।
১৬৫৫ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন বিতলিসের কুর্দি প্রশাসক আবদুল খান।
১৬৫০ ওমান থেকে পতুর্গিজ উপনিবেশিক শক্তি বিতাড়িত হল।
১৭০৩-৯২ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব।*
* ওহাবিবাদ ইসলামের একটি শুদ্ধতাবাদী ধারা, যারা মুসলমানদের ঐতিহ্যিক চর্চাগুলো বর্জন করে কথিত ‘শুদ্ধ ইসলামে’ ফিরে যাওয়ার পক্ষপাতী।
১৭০৩-০৭ জেরুসালেমে ওসমানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নকিব আল-আশরাফ* বিদ্রোহ।
* এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন মোহাম্মদ বিন মোস্তফা আল-ওয়াফা’ই আল-হোসেইনি। তিনি ছিলেন তাঁদের নকিব (প্রধান), যাঁদের ইসলামের নবির সরাসরি বংশধর (আশরাফ) ভাবা হয়। তাই এই নামকরণ।
১৭১১ ওসমানিদের হাতে পরাজিত হলেন পিটার দ্য গ্রেট।
১৭২৭/১৭৪৪-১৮১৮ প্রথম সৌদি রাষ্ট্র। *
* দিরিয়া আমিরশাহি নামেও পরিচিত। মোহাম্মদ বিন আবদুল ওহাবের সাথে একটি ধর্মতাত্ত্বিক-রাজনৈতিক মৈত্রীবন্ধনের মধ্য দিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন মোহাম্মদ বিন সৌদ আল মুকরিন।
১৭৩৬-৪৭ পারস্যের নাদির শাহ কিছু খোরাসানি কুর্দিকে গিলানে পুনর্বাসিত করেন।
১৭৩৭ ওমানে পারসিকদের হামলা।
১৭৪৬-৭৫ স্বাধীনভাবে আক্রে শাসন করছেন জহির আল-ওমর আল-জায়দানি।*
* গালিলির জায়দানি বংশ প্রত্যক্ষ ওসমানি শাসনকে চ্যালেঞ্জ করে বসে। তুলা, শস্য, জলপাইয়ের তেল, আর তামাক রফতানির ওপর নিজ একচেটিয়া কাজে লাগিয়ে গালিলি ও তার পশ্চাৎভূমির ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করলেন জহির আল-ওমর আল-জায়দানি, নাজারেথ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন। আক্রেকে নিজের রাজধানী বানালেন জহির।
১৭৪৯ ওমান থেকে পারসিকদের তাড়িয়ে দেয়া হল। ক্ষমতায় এল আল বু সাঈদ রাজবংশ। আজতক দেশটি তারাই শাসন করছে।
১৭৫২/৫৬ কুয়েত ওসমানি সুলতানদের করদ রাজ্যে পরিণত হল।
১৭৬৮-১৭৭৪ রুশ-তুর্কি যুদ্ধ।*
* এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি হয় কুচুক কাইনারজি চুক্তিতে, যা সাম্রাজ্যিক রাশিয়াকে কৃষ্ণসাগরের উত্তরে বিপুল ভূখণ্ডগত সহায়তা প্রদান করে।
১৭৭৫ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুবাদে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে কুয়েতের প্রথম পরিচয় ঘটল।
১৭৭৫-১৮০৪ ওসমানি সুলতানশাহি জায়দানি স্বায়ত্তশাসনের অবসান ঘটাল। ওসমানি সুলতান আহমাদ পাশা আল-জাজ্জারকে সিদন উলাইয়াতের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলেন। আল-জাজ্জার আক্রেতে তার সরকার স্থাপন করলেন এবং আক্রে-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক একচেটিয়া টিকিয়ে রাখলেন; তবে প্রকাশ্যে ইস্তানবুলের ওসমানি কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করা থেকে বিরত থাকলেন।
১৭৭৫ কুর্দিদের বাজালান ট্রাইবাল কনফেডারেশনকে পরাস্ত করল পারসিকরা।
১৭৭৬ মশহুর ইংরেজ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন লিখলেন, “মানবজাতির [সমষ্টিগত] স্মৃতিতে চিরকাল বেঁচে থাকবে ফিনিশিয়া (বর্তমান লেবানন) ও ফিলিস্তিন।”
১৭৮৭-৯১ তুরস্কের সাথে যুদ্ধ, রুশ ভূখণ্ডের পরিমাণ বাড়ল।
১৭৮৭ কুর্দি গোত্রগুলোর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করলেন রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন।
১৭৮৯-১৯২৫ কাজার ইরান।
১৭৯৮-১৯৬০ কলোনিয়াল মিডল ইস্ট।
১৭৯৮ ফ্রান্সের নেপোলিয়ান বোনাপার্তে মিসর আক্রমণ করলেন।
১৭৯৯ ফেব্রুয়ারি-মে মিসর থেকে ফিলিস্তিনে হামলা চালালেন নেপোলিয়ন বোনাপার্তে। হাইফা দখল করার পর তাঁর সেনাবাহিনী আক্রের দেয়াল পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং অবরোধ দেয়। কিন্তু আহমাদ পাশা আল-জাজ্জারের তীব্র প্রতিরোধের মুখে বোনাপার্তে রণে ভঙ্গ দিয়ে মিসরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
১৮০১ ব্রিটিশ ও ওসমানি তুর্কিদের একটা যৌথ বাহিনী মিসর থেকে নেপোলিয়ানকে বিতাড়িত করল।
১৮০৫ মিসর কাগজেকলমে ওসমানি সুলতানশাহির অংশ রয়ে গেলেও মিসরে ওসমানি আলবানীয় কমান্ডার মোহাম্মদ আলি এ বছর একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন যা ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।
১৮০৬ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে আবদুররহমান পাশা বাবানের বিদ্রোহ।
১৮০৬-০৯ রুশ-তুর্কি যুদ্ধ।
১৮১১ একটি ওসমানি নৌবহর থেকে জুবারায় বোমাবর্ষণ করা হল।
১৮১৩ গুলিস্তান চুক্তি, ১৮২৮ তুর্কমানচাই চুক্তি এই দুটি আলাদা চুক্তির মাধ্যমে পারস্যের ককেশীয় অঞ্চলগুলো (জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, ও আজারবাইজান) দখল করে সাম্রাজ্যিক রাশিয়া।
১৮১৪ সৌদিদের কাছ থেকে আল হিজাজ ছিনিয়ে নিলেন মিসরের ওসমানি প্রশাসক মোহাম্মদ আলি।
১৮১৫ মিসরের মোহাম্মদ আলির বাহিনী ওহাবিদের পরাজিত করল।
১৮১৭ নভেম্বর ১২ তেহরানে মির্জা হুসাইন আলী নূরির জন্ম।
১৮১৮ দিরিয়ার সৌদি রাষ্ট্র ধবংস করে দিলেন মোহাম্মদ আলির পুত্র ইব্রাহিম পাশা। আবদুল্লা বিন সৌদকে ইস্তানবুলে নিয়ে যাওয়া গেল। সেখানে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়।
১৮১৯ প্রথম ইওরোপীয় হিসেবে আরব উপদ্বীপ অতিক্রম করলেন জে. এফ. স্যাডলিয়ের।
১৮১৯ অক্টোবর ২০ শিরাজে সিয়িদ আলি মুহাম্মদের জন্ম।
১৮২০ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট ক্লডিয়াস রিচের সুলেইমানিয়া সফর। রিচের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এ সময় শহরটির জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। ছিল ৫টি বাজার, ২টি মসজিদ, ও ১টি হাম্মামখানা।
পারস্য উপসাগরের উপকূলের ছয়টি আরব আমিরশাহির শাসকরা জলদস্যুতা ঠেকাতে ব্রিটিশদের সাথে চুক্তি করলেন।
১৮২০-১৯৭১ ট্রুসিয়াল স্টেটস।
১৮২৪-৯১ দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র।*
* নজদ আমিরশাহি নামেও পরিচিত।
১৮২৫-২৬ ওসমানিদের জোরপূর্বক কর সংগ্রহের বিরুদ্ধে জেরুসালেম বিদ্রোহ। ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেমের নিয়ন্ত্রণ নিলেন এবং শহরটি থেকে ওসমানি সেনাদের তাড়িয়ে দিলেন। বিদ্রোহের জন্য নেতাদের কোন সাজা দেয়া হবে না, ওসমানিরা এই ওয়াদা করার পর, বিদ্রোহীদের শান্তিপূর্ণ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
১৮২৫ কাতারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করল আল থানি। বাহরাইনি আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তিলাভের চেষ্টা চালাল
১৮২৭-২৯ রুশ-তুর্কি যুদ্ধ। রাশিয়ার বিজয় ও আদ্রিয়ানোপোল চুক্তির মধ্য দিয়ে শেষ হল।
১৮৩১-৩৪ মিসরের শাসক মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম পাশার নেতৃত্বে মিসরীয় সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনে হামলা চালাল। ওসমানিদের কাছ থেকে অঞ্চলটির অধিকাংশের নিয়ন্ত্রণ নিল। যা পুরো লেভান্তয়ে দখলদারির পথ খুলে দিল।
১৮৩২ রাওয়ানদুজ থেকে সিনজারে হামলা করলেন মোহাম্মদ পাশা।
১৮৩৪ এপ্রিল-আগস্ট মিসরীয় শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে গণঅভ্যুত্থান দেখা দিল। নাবলুসে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ অচিরেই ছড়িয়ে পড়ল উত্তরের গালিলি থেকে গাজা, জেরুসালেমের পাহাড়ে, ও হেবরনে। স্থানীয়দের গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাময়িকভাবে পিছু হটে জাফায় অবস্থান নিতে বাধ্য হলেন ইব্রাহিম পাশা। কিন্তু মিসর থেকে নতুন করে সেনাদল এলেই দ্রুত ফিলিস্তিনের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল করলেন। গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের মৃত্যদণ্ড কার্যকর করা হল। উলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নির্বাসিত করা হল। হেবরন আর আল-কারাককে বিশেষভাবেই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।
১৮৩৬ দিয়ারবাকিরে ওসমানিদের গ্রিক প্রশাসক রশিদ মেহমেত পাশার হাতে পরাস্ত হলেন রাওয়ানদুজের মীর মোহাম্মদ। তাঁকে তদনগদ ইস্তানবুলে পাঠানো হল, যেখানে তাঁকে “কুর্দিস্তানের প্রকাশক” হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। ফেরার পথে ওসমানি এজেন্টরা তাঁকে খুন করে।
১৮৩৭ সিনজারে হামলা চালালেন দিয়ারবাকিরের ওসমানি প্রশাসক হাফিজ পাশা।
১৮৩৮ মোহাম্মদ আলি রিয়াদ দখল করলেন।
১৮৩৯ নভেম্বর ৩ ওসমানি সুলতানশাহিতে তানজিমাত সংস্কারের সূচনা।
ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে এল অ্যাডেন বন্দর।
জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল গ্রেট ব্রিটেন।
১৮৩৯-৭৬ তানজিমাত, ওসমানি সুলতানশাহি জুড়ে উদারপন্থী সংস্কার কর্মসূচি।
১৮৩৯-৬২ ইওরোপীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল। পবিত্র ভূমিতে বসবাসরত খ্রিস্টানদের রক্ষা করার দোহাই দিয়ে নেয়া হয়েছিল এই পদক্ষেপ। আসল উদ্দেশ্য ছিল ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসা ওসমানি সুলতানশাহিতে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
১৮৩৯-৪১ ওসমানি সুলতানশাহির সমর্থনে এগিয়ে এল ইওরোপীয় শক্তিবর্গ। লেভান্ত ও আনাতোলিয়া থেকে মিসরীয় সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করতে হস্তক্ষেপ চালাল গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া, ও অস্ট্রিয়া। মোহাম্মদ আলী লেভান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন।
১৮৩৯-৬২ ইওরোপীয় দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্র জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল। পবিত্র ভূমিতে বসবাসরত খ্রিস্টানদের রক্ষা করার দোহাই দিয়ে নেয়া হয়েছিল এই পদক্ষেপ। আসল উদ্দেশ্য ছিল ক্রমেই দুর্বল হয়ে আসা ওসমানি সুলতানশাহিতে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করা।
১৮৪০ এক দল কুর্দি আমিরের সাথে এক গুচ্ছ জোট গঠন করলেন বদর খান বেগ। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুকুসের খান মাহমুদ এবং হাক্কারির নুরুল্লা বে। বিচার ব্যবস্থা ও সেনা সংস্কার করেন বেগ।
আল হিজাজে প্রত্যক্ষ ওসমানি শাসন পুনর্বহাল করা হল।
লেবানন পর্বতমালায় বিদেশি শক্তিদের সামরিক হস্তক্ষেপে মিসরীয় শাসনের অবসান।
১৮৪১ জর্দানের ওপর ওসমানিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল। লেবানন পর্বতমালায় গৃহবিবাদ।
১৮৪২ সিজরের প্রশাসনিক এখতিয়ার দিয়ারবাকির থেকে মসুলে স্থানান্তরিত করে বদর খান বেগের আমিরশাহি ভাঙার চেষ্টা চালাল ওসমানি সরকার। এঁর প্রতিক্রিয়ায় বদর খান প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন। নিজের নামে মুদ্রা বানাতে শুরু করেন তিনি। তবে সবচে বড় কথা, জুমার খুতবায় সুলতানের নাম নিজের নাম দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেন। ইসলামি ঐতিহ্যে জুমার খুতবা কার নামে পড়ানো হবে, এর বিশাল রাজনৈতিক তাৎপর্য ছিল। ছিল সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই, বেগ মূলত নিজের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করছিলেন।
জানুয়ারি ১৩ লেবানন পর্বতমালার আমিরশাহির অবসান ঘোষণা করল ওসমানিরা।
১৮৪৩, ১৮৪৬ হাক্কারির নেস্টোরিয়ান খ্রিস্টানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালান বদর খান বেগ, যা ইওরোপের বৃহৎ শক্তিদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করে।
১৮৪৩ রিয়াদে সৌদি রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলেন ফয়সাল বিন তুর্কি।
দ্বৈত কা’য়িম মাকামিয়া, লেবানন পর্বতমালাকে একটি খ্রিস্টান এলাকা ও একটি দ্রুজ এলাকায় বিভক্ত করা হল।
জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল প্রুশিয়া, ফ্রান্স, ও সার্ডিনিয়া।
১৮৪৪ মে ২৩ সিয়িদ আলি মুহাম্মদ নিজেকে ঐশী বানীপ্রাপ্ত ঘোষণা করলেন। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে বাব ডাকা শুরু করলেন, অর্থ দরজা। ধর্মটি বাবীধর্ম নামে পরিচিত হলেন।
বাবীধর্মে দীক্ষিত হলেন মির্জা হুসাইন আলী নূরি।
১৮৪৪-১৯২১ মির্জা হুসাইন আলী নূরির ছেলে আবদুল বাহার জীবনকাল।
১৮৪৫ ওসমানিদের হাতে পরাজিত হলেন আহমেদ পাশা বাবান। লেবানন পর্বতমালায় নতুন করে গৃহবিবাদ শুরু।
১৮৪৬ বদর খান বেগের ভাতিজা ও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সেনা কমান্ডার ইয়েজদান শার ওসমানিদের পক্ষে যোগ দিলে তিনি পিছু হঠতে বাধ্য হয়। ওসমানিরা ইয়েজদানকে লোভ দেখিয়েছিল, তাঁদের পক্ষে চলে এলে বোহতানের নয়া আমির বানিয়ে দিবে। ইয়েজদান, বলাই বাহুল্য, এই প্রস্তাব লুফে নেন।
গ্রেপ্তার এড়িয়ে শিরাজ ছেড়ে গেলেন বাব।
১৮৪৬-৬৭ এয়ালেত-ই কুর্দিস্তান।*
* ওসমানি সুলতানশাহি এই প্রথম কুর্দিস্তান শব্দটা ভৌগোলিক অঞ্চলের বদলে প্রকাশনিক ইউনিট অর্থে ব্যবহার করল।
১৮৪৭-৯৭ সৌদ রাজপরিবারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিদি রাজপরিবার এই অর্ধ শতাব্দী মধ্য আরব শাসন করেছে।
১৮৪৭ ওসমানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন শেষ আধা-স্বাধীন কুর্দি আমিরশাহির আমির বদর খান বেগ।
১৮৪৮-৫০ বাবীদের ইসলামের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালাল পারস্যের মোল্লারা।
১৮৪৮ বাদাশতে বাবীদের একটা সম্মেলন আয়োজিত হল। এই সম্মেলনেই বাহাউল্লা উপাধি লাভ করলেন নূরি। এর অর্থ: “ঈশ্বরের গৌরব”।
১৮৪৯ সিনজারে ওসমানি সুলতানশাহির প্রথম স্থায়ী প্রতিনিধি।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ওসমানিদের প্রত্যাবর্তন।
জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য।
১৮৫০-৭৬ কুর্দি অভিজাত পরিবারগুলোর পতনে কুর্দিস্তান জুড়ে ক্ষমতার জায়গাটায় একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়। অচিরেই এই শূন্যতাটা পূরণ করেন কুর্দি শেখরা। তাঁরা ছিলেন অঞ্চলটির বিভিন্ন সূফি তরিকার প্রধান।
ওসমানিরা যে তানজিমাত বা উদারপন্থী সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, এটা কুর্দি জনগণ ভালোভাবে নেননি। ওসমানি প্রশাসনের ওপর ইওরোপীয় সরকারগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তাঁরা মুসলমানদের ওপর খ্রিস্টানদের আধিপত্য লাভের বাসনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছিলেন। এ সময় অঞ্চলটিতে ইওরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে খ্রিস্টান মিশনারিদের আগমন পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।
কুর্দিরা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, ইসলামের পরম্পরাগত কর্তৃত্ব হুমকির মুখে; আর এই বিশ্বাস শেখদের শক্তিশালী করে তোলে।
১৮৫০ মোল্লাদের হুকুমে ৭৫০ জন আরমানি খ্রিস্টানের একটি ফায়ারিং স্কোয়াড বাবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল। এরপর মুসলমান সৈনিকদেরকে এই দায়িত্ব দেয়া হল। তারা এতে সফল হল, নিহত হলেন বাব।
১৮৫১-১৯০৬ পারস্যের মধ্য এশীয় ভূখণ্ডগুলো নিয়ে নিল রাশিয়া। ব্রিটিশরা পারস্যবাদীদের বাধ্য করল আফগানিস্তানে হেরাত-সহ অন্যান্য শহরের ওপর তার দাবি ছেড়ে দিতে।
১৮৫২ বিশৃঙ্খলা আর নেতৃত্বশূন্যতার কারণে বাবীধর্মের অবক্ষয়ের শুরু। সিয়া-চালে কারারুদ্ধ হলেন বাহাউল্লা, অন্ধকূপে শেকলে বাঁধা থাকা অবস্থায় তাঁর মনে হল, তিনি ঐশী প্রত্যাদেশ লাভ করেছেন। বাগদাদে নির্বাসিত হলেন।
১৮৫৩-১৮৫৬ ক্রিমিয়া যুদ্ধ। একপক্ষে ছিল সাম্রাজ্যিক রাশিয়া, আর অপরপক্ষে ছিল ওসমানি সুলতানশাহি, গ্রেট ব্রিটেন, ও ফ্রান্স। প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে।*
* ক্রিমিয়া যুদ্ধের সাথে উপমহাদেশের বিচিত্র সম্পর্ক আছে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের অন্যতম নেতা আজিমুল্লাহ খান ক্রিমিয়া যুদ্ধে রুশদের হাতে ইংরেজদের মার খাওয়ার ঘটনায় উদ্দীপিত হয়েছিলেন। তিনি রুশ গোয়েন্দাদের সাথে যোগাযোগ করেন, যারা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেয়, ভারতবাসী ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে রাশিয়া তাতে মদত যোগাবে। (সেন ২০১৮)
১৮৫৪-৫৬ ওসমানিরা তাদের সুলতানশাহিতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করল। এর প্রতিক্রিয়ায় মক্কায় দাঙ্গাহাঙ্গামা দেখা দিল।
১৮৫৪ জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল স্পেন।
১৮৫৫ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ইয়েজদান শার।
১৮৫৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ইসলাহাত হাত্তি-ই হুমায়ূন নামে একটি ফরমান জারি করলেন সুলতান প্রথম আবদুল মজিদ। যা তানজিমাতয়ের অংশ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ওসমানি সুলতানশাহির সংস্কার ও আধুনিকীকরণ।
জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল যুক্তরাষ্ট্র।
১৮৫৮ এপ্রিল ২১ হিজরি ১২৭৪ সনের ৭ রমজান ওসমানি সুলতানশাহির সর্বত্র জারি করা হল ওসমানি ভূমি বিধি। বিপুল সংখ্যক ভূমি ব্যক্তিগত মালিকানায় রাখার অনুমতি দেয়া এই আইন ফিলিস্তিনে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলে।
জেদ্দায় খ্রিস্টান হত্যাযজ্ঞ। বোমাবর্ষণ করল ব্রিটিশ নৌবাহিনী। জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল রাশিয়া।
এসময়ই কখনো কালিমাত-ই-মাকনুনিহ লেখা শেষ করেন বাহাউল্লা।
১৮৫৯ ওসমানি রাষ্ট্রদূতকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হল।
১৮৫৯-৬৯ সুয়েজ খাল নির্মিত।
১৮৬১ বাহরাইনের প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্কের দায়িত্বভার গ্রহণ করল ব্রিটেন।
ফরাসিরা সিরিয়ার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল লেবানন।
১৮৬১-১৯১৫ লেবানন পর্বতমালায় আল-মুতাসাররিফিয়া।
১৮৬২ জেরুসালেমে কনস্যুলেট খুলল গ্রিস।
কিতাব-ই-ইকান লেখা শেষ করলেন বাহাউল্লা।
মোজেস হেস, রোম অ্যান্ড জেরুসালেম।
১৮৬৩ ইস্তানবুলে নির্বাসিত হলেন বাহাউল্লা। রিদভান ঘোষণা। এদির্নেতে নির্বাসিত হলেন বাহাউল্লা।
১৮৬৪ নভেম্বর ৭ ওসমানিরা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন প্রশাসনিকভাবে পুনর্গঠন করলেন; ফলে জেরুসালেম, নাবলুস, আর আক্রে সিরিয়া প্রদেশের অংশ হয়ে গেল।
১৮৬৫ রিয়াদ সফর করলেন উপসাগরীয় অঞ্চলে উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মকর্তা কর্নেল লুইস পেলি।
১৮৬৬ ইঙ্গ-সৌদি চুক্তি।
প্রতিষ্ঠিত হল আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুত।
১৮৬৭ জুন ১০ হিজরি ১২৮৪ সনের ৭ সফর ওসমানি সুলতানশাহিতে বিদেশিদের বৈধভাবে জমি কেনার অধিকার দেয়া আইন পাশ হল। এর আগ পর্যন্ত এই অধিকার স্রেফ মুসলমান ও ওসমানি প্রজাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর ফলে ওসমানি ফিলিস্তিনের ভূমি বাজার ইহুদি-অইহুদি নির্বিশেষে ইওরোপীয়দের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেল।
কুর্দিদের আরদালান প্রিন্সিপালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে দিলেন পারস্যের রাজা নাসের আল-দ্বীন শাহ কাজার।
প্রথম ওসমানি সুলতান হিসেবে ইওরোপ সফর করলেন আবদুল আজিজ।
১৮৬৮ বাগদাদের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে মিদহাত পাশার নিয়োগের ভেতর দিয়ে আরব উপদ্বীপে ওসমানিদের সম্প্রসারণবাদী পর্যায় শুরু হল। ওসমানিরা পূর্ব আরবের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করল। স্থানীয় আইয়িদ রাজবংশের কাছ থেকে দখল করল আসির।
গ্রেট ব্রিটেনের সাথে চুক্তি সই করলেন মোহাম্মদ বিন থানি।
আক্রেতে কারারুদ্ধ হলেন বাহাউল্লা।
১৮৬৯ সেপ্টেম্বর ২০ ওসমানি শিক্ষা আইন পাশ করা হল। সাম্রাজ্য জুড়ে ঘটল আধুনিক শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার। বিশেষত, লেভান্তের প্রধান শহরগুলোতে।
সুয়েজ খাল চালু হবার পর অ্যাডেন বন্দর একটা প্রধান রিফুয়েলিং পোর্ট হয়ে উঠল।
১৮৭২ জেরুসালেম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাকে একটি স্বাধীন সানজাকয়ের (জেলা) মর্যাদা দেয়া হল, যারা সরাসরি ইস্তানবুলের সাথে ডিল করবে।
সানায় ওসমানি দখলদারিত্ব।*
* অতীতে নানান সময় অঞ্চলটি শাসন করেছেন ওসমানিরা।
১৮৭৩ কিতাব-ই-আকদাস লেখা শেষ করলেন বাহাউল্লা।
১৮৭৬ ডিসেম্বর ১৯ মৌলিক আইন (Kānûn-ı Esâsî) নামে ওসমানি সুলতানশাহির সংবিধান প্রবর্তন করলেন আবদুল হামিদ।*
* এই সংবিধান প্রথমবারের মত সাম্রাজ্যের সকল প্রজার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এমন একটি ওসমানি রাজনৈতিক পরিচয় গঠন করার চেষ্টা চালায়। সেইসাথে একটি দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব দেয়। এর একটি হবে সিনেট, যার সদস্যরা সুলতান কর্তৃক মনোনীত হবেন; অন্যটি হবে চেম্বার অফ ডেপুটিজ, যার সদস্যরা বিভিন্ন প্রদেশে নির্বাচিত হবেন।
১৮৭৭ মার্চ ১৯ জেরুসালেমের প্রতিনিধি হিসেবে ওসমানি চেম্বার অফ ডেপুটিজে নির্বাচিত হলেন ইউসূফ দিয়া-উদ্দিন পাশা আল-খালিদি।*
* ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ঐতিহাসিক ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক আরব অধ্যয়নের এডওয়ার্ড সাঈদ অধ্যাপক রশিদ খালিদির পূর্বপুরুষ।
১৮৭৮ ওসমানি ফিলিস্তিনের দলিলপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, এসময় জেরুসালেম, নাবলুস আর আক্রে শহরে বসবাসরত চার লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে মাত্র ১৫,০০০ ইহুদি। বিদেশি নাগরিক হিসেবে আরো ১০,০০০ ইহুদি আছেন। এসময় স্পষ্টত আরবরাই ফিলিস্তিনের জনমিতিক সংখ্যাগুরু।
বার্লিন কংগ্রেস, ওসমানি তুর্করা তাঁদের অধিকাংশ ইওরোপীয় ভূখণ্ড হারায়, এ সময় থেকেই জার্মানি তুরস্কের বন্ধুরাষ্ট্র হয়ে উঠতে থাকে।
ব্রিটিশদের কাছে সাইপ্রাসকে লিজ দিল ওসমানি সুলতানশাহি, তবে কাগজেকলমে তা তুর্কিদের সাম্রাজ্যভুক্তই ছিল।
১৮৭৮-৮২ জেরুসালেমের ইহুদিরা জাফার নিকটবর্তী ফিলিস্তিনি গ্রাম মুলাব্বাসে প্রতিষ্ঠা করলেন পেতাহ তিকভা (আশার দরজা)। এঁরা স্থানীয় ইহুদি। ক্ষুধা আর ম্যালেরিয়ার ধকল সইতে না পারায় দ্রুত বসতিটি ছেড়ে যান তাঁরা।
১৮৮০-৯০ জর্দানে প্রত্যক্ষ শাসন জারি করল ওসমানিরা।
১৮৮০ কুর্দিদের জন্য আজাদির দাবি তোলেন শেখ ওবায়দুল্লা। তাঁর বিদ্রোহ এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এই বিদ্রোহ কুর্দি জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছিল।
একটি ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল বাহরাইন।
১৮৮১-৮৪ সাম্রাজ্যিক রাশিয়ায় ইহুদিদের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ পোগরোম দেখা দিল।
১৮৮১ নভেম্বর ২৪ ওসমানি সুলতানশাহিতে ইহুদি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের তরফে কিছু শর্ত দেয়া হল। এগুলো ছিল:
১) ইওরোপীয় ইহুদিরা ওসমানি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বসতিস্থাপন করতে পারবেন, কিন্তু ফিলিস্তিনে না,
২) তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বসতিস্থাপন করতে হবে,
৩) তাদের নিজেদের বিদেশি নাগরিকত্ব বিসর্জন দিতে হবে এবং ওসমানি প্রজা হয়ে যেতে হবে, এবং
৪) তারা কোন বিশেষাধিকার দাবি করতে পারবেন না, এবং সাম্রাজ্যের আইন মেনে চলবেন।
১৯১৭-১৮ সালে ফিলিস্তিন ব্রিটিশ দখলদারিত্বে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কাগজেকলমে এসব নীতি বহাল ছিল। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানান খামতি রয়ে গেছিল। যার কারণ ছিল আইনী ফাঁকফোকর, বাস্তব বাধাবিপত্তি, এবং ওসমানি রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের দুর্নীতি।
ফরাসি জেসুইটরা বৈরুতে খুলল দ্য রোমান ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি সাঁ-জোসেফ।
১৮৮২-১৯০৩ প্রথম আলিয়া, মূলত রাশিয়া থেকে ২৫ হাজার ইহুদির আগমন। ধনী ইওরোপীয় ইহুদিদের ব্যাপক অর্থনৈতিক সহায়তার ফলে বসতিস্থাপনকারীরা কৃষিকেন্দ্রিক বানিজ্যোদ্যোগ নিতে সমর্থ হন। ব্যারন এডমন্ড দে রথসচাইল্ড আর ব্যারন মরিস দে হির্শ এরকম দুজন উল্লেখযোগ্য মদতদাতা।
১৮৮২ প্রথম আলিয়ায় ফিলিস্তিনে আসা ইহুদিদের হাত ধরে স্থানীয় ইহুদিদের ছেড়ে যাওয়া পেতাহ তিকভায় (আশার দরজা) প্রতিষ্ঠিত হল দেশটির প্রথম জায়নবাদী বসতি। জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল আরো দুটি বসতি: রিশন লেজায়ন এবং নেস ৎসিয়না। আর দুটি বসতি প্রতিষ্ঠিত হল নাবলুস জেলায়: জিখরন ইয়া’কভ ও রশ পিনা।
মিসরীয় সেনাবাহিনীকে হারিয়ে ব্রিটিশ সেনারা দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিল।
লিওন পিন্সকার, অটো-ইমানসিপেশন।*
* বইটি লেখকের নাম ছাড়া প্রকাশিত হয়। পিন্সকার ইহুদিদের জাতীয় চেতনা বিকাশের ডাক দিয়েছিলেন। রাশিয়া ও পূর্ব ইওরোপের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠল অসংখ্য হোবেবেই জায়ন (জায়নের প্রেমিকেরা)।
১৮৮৩ নাবলুস জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল ইয়েসুদ মা’আলা বসতি।
১৮৮৪ কাত্তোভিৎজে হোবেবেই জায়নয়ের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হল। এতে সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের ইহুদি চাষীদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি চ্যারিটি গঠন করা হয়। এর সভাপতি নির্বাচিত হন লিওন পিন্সকার।
জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল একরন আর গাদেরা বসতি।
১৮৮৬ মার্চ ২৯ ভূমি মালিকানা নিয়ে আল-ইয়াহুদিয়া গ্রামের ফিলিস্তিনি আরবদের সাথে পেতাহ তিকভা বসতির ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিল। আরবদের আক্রমণে এক ইহুদি বসতিস্থাপনকারী খুন হলেন। ওসমানি সেনারা ৩০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করে। তাঁদের জাফায় নিয়ে আসা হয়। সেখানকার ইওরোপীয় কনস্যুলেটগুলো, যারা মূলত ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করতেন, গ্রেফতারকৃত আরবদের সাজা দিতে হবে এই দাবি তোলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কারো বিচার করা হয়নি। আদালতের বাইরে দুপক্ষের মধ্যে একটা আপোসরফা হয়েছিল।
১৮৮৮ মার্চ ওসমানিরা সিরিয়া প্রদেশকে সিরিয়া আর বৈরুত প্রদেশে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ফিলিস্তিনে, নাবলুস আর আক্রে জেলাকে বৈরুতের সাথে জুড়ে দেয়া হল। জেরুসালেম জেলা ইস্তানবুলের সাথে সম্পর্কিত থেকে গেল।
মার্চ ২-৪ অক্টোবর ওসমানিরা ইওরোপীয় শক্তিগুলোকে অবহিত করল, ফিলিস্তিনে পা রাখার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা তিন মাসের আবাসন অনুমতিপত্র পেতে হলে ইহুদিদের পাসপোর্টে “পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করতে হবে, তাঁরা শুধু তীর্থস্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে জেরুসালেমে যাচ্ছেন, ব্যবসাবাণিজ্য করতে বা বসবাস করার উদ্দেশ্যে নয়।” ব্রিটেন, ফ্রান্স, ও যুক্তরাষ্ট্র শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করে। অক্টোবরে, ওসমানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, এইসব বিধিনিষেধ শুধু ফিলিস্তিনে বড় আকারে অভিবাসিত হওয়া ইহুদিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইহুদিদের কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।
তুরস্কের মুস শহরে বাসরত হাজি মুসা নামের জনৈক কুর্দি শেখ আরমেনুহি নামের এক আরমানি তরুণীকে অপহরণ করেন। মেয়েটিকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করে তারপর বিয়ে করেন। নাম রাখেন গুলিজার।
এই ঘটনা ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দাবাদের জন্ম দেয়। মেয়েটিকে পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। যদিও পরের বছর হাজি মুসাকে কাঠগড়ায় তোলে ওসমানি সরকার, তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
এই রায় সুলতানের আরমানি প্রজা ও বৃহত্তর ইওরোপীয় জনগণ উভয়কেই ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৮৮৯ ইস্তানবুলে উদারপন্থী সংস্কার আন্দোলনে ‘তরুণ তুর্কি’-দের সাথে যোগ দিলেন কুর্দি বুদ্ধিজীবীরা।
১৮৯০ একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে তামাক উৎপাদন ও বিক্রির ওপর একচেটিয়া অধিকার প্রদান করেন কাজার রাজা নাসিরুদ্দিন শাহ। পারস্যবাসী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করলে মির্জা শিরাজি নামের এক মোল্লা পারস্যবাসীদেরকে তামাক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ও তামাক বয়কট করার আহবান জানিয়ে ফতোয়া দেন। কাজাররা ব্রিটিশদের সাথে করা চুক্তি রদ করতে বাধ্য হয়।
জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল রেহোবত বসতি। আক্রে জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল মিশমার হাইয়ারদিন বসতি।
গাই লা স্ট্রেঞ্জ, প্যালেস্টাইন আন্ডার দ্য মোসলেমস: আ ডেসক্রিপশন অফ সিরিয়া অ্যান্ড দ্য হোলি ল্যান্ড ফ্রম এডি ৬৫০ টু ১৫০০।
১৮৯১ হামিদিয়ে নামে একটি কুর্দি ঘোড়সওয়ার বাহিনী গঠন করলেন ওসমানি সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ।
জুন ২৪ জেরুসালেমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ফিলিস্তিনে রুশ ইহুদিদের বসতিস্থাপন ও জমি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইস্তানবুলে একটা পিটিশন করলেন।
সেপ্টেম্বর জার্মান ব্যারন মরিস দে হির্শ কর্তৃক লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হল জিউইশ কলোনাইজেশন অ্যাসোসিয়েশন (জেসিএ)।
আক্রে জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল হাদেরা, শেফেইয়া, ও এইন জেইতিম বসতি।
১৮৯২ ইস্তানবুলে একটা সাম্রাজ্যিক ট্রাইবাল স্কুল (Mekteb-i Aşiret-i Humayun) খোলা হল, যার পাঠ্যসূচিতে তুর্কি ভাষা ও ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ও রাখা হয়েছিল। যদিও প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল আরব গোত্রনেতাদের ছেলেদের ‘উপজাতি’ থেকে ‘সভ্য’ বানানো, কুর্দিদের জন্যও স্কুলের দরজা খোলা ছিল। ১৯০৭ সালে স্কুলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
মসুল থেকে সিনজারে হামলা করলেন ওমর ওয়াহবি পাশা। নির্মিত হল জাফা-জেরুসালেম রেলরাস্তা।
আরব আমিরশাহিগুলোর শাসকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে, তাঁরা অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন; আর ব্রিটেন বহির্দেশীয় সম্পর্কের দিকটা দেখবে।
১৮৯২ মে ২৯ বাহাউল্লার মৃত্যু।
১৮৯২-৯৩ নভেম্বর ২৬-৩ এপ্রিল ওসমানি প্রজা হোক আর বিদেশি হোক, সকল ইহুদির কাছে মিরি (private usufruct State land) বেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল ওসমানি সরকার। ইওরোপীয় শক্তিবর্গ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল। ওসমানিরা ঘোষণা করলেন, যেসব বিদেশি ইহুদি ফিলিস্তিনে বৈধভাবে বাস করেন, তাঁরা চাইলে ওসমানি ফিলিস্তিনে জমি কিনতে পারবেন।
১৮৯৪-১৯২৪ ৩০ বছর ধরে প্রথমে ওসমানি সুলতানশাহি, তারপর তরুণ তুর্কি, ও সেক্যুলার প্রজাতন্ত্রীরা তুরস্কের সংখ্যালঘু অ্যাসিরীয়, আরমানি, ও গ্রিক খ্রিস্টানদের ওপর এক ভয়াবহ ও পদ্ধতিগত গণহত্যা চালায়। আরমানি গণহত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটা ছিল এই বৃহত্তর গণহত্যার একটি অংশ। (Morris & Ze’evi 2019)
১৮৯৪-৯৬ হামিদিয়ে হত্যাযজ্ঞ। সুলতানের কুর্দি অশ্বারোহী বাহিনী ওসমানি অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন হিসাবে ৮০ হাজার থেকে ৩ লক্ষ আরমানিকে খুন করে। ঘটনাটা জানাজানি হলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়; সুলতান দ্বিতীয় আবদুলহামিদকে এই হত্যাযজ্ঞের জন্য রাজনৈতিকভাবে দায়ী করা হয় এবং তাঁকে বিরোধীদের তরফে ‘লাল সুলতান’ আখ্যা দেয়া হয়।
১৮৯৪ জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল মোতসা বসতি।
ফ্রান্সে দ্রেইফুস ঘটনা।
১৮৯৫ জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল হার্তুব বসতি।
১৮৯৬ জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল বীর তুব্যা বসতি। আক্রে জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল মেতুলা বসতি। ফিলিস্তিনে ইহুদি কৃষি বসতিস্থাপনে মদত দিতে শুরু করল জেসিএ।
থিওডর হার্জেল, দ্য জিউইশ স্টেট।*
* ইওরোপীয় ইহুদিবিদ্বেষের প্রেক্ষিতে ও ফ্রান্সের দ্রেইফুস ঘটনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অস্ট্রীয় সাংবাদিক হার্জেল Der Judenstaat নামের এই বই প্রকাশ করেন। তাতে তিনি “ইহুদি প্রশ্নের” সমাধান হিসেবে ফিলিস্তিন বা অন্য কোথাও একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার পক্ষে ওকালতি করেন, যা কিনা “গঠন করবে এশিয়ার বিরুদ্ধে ইওরোপের প্রাচীরের একাংশ, হবে বর্বরতার বিরুদ্ধে সভ্যতার একটি ঘাঁটি।” তাঁকে আধুনিক রাজনৈতিক জায়নবাদের পিতা ভাবা হয়।
১৮৯৭-১৯৫৭ বাহাইধর্মের গার্ডিয়ান অফ দ্য ফেইথ শোগি এফেন্দি রাব্বানির জীবনকাল। বাহাউল্লা আর আবদুল বাহার লেখাগুলো অনুবাদ করেন। সারা দুনিয়ায় বাহাইধর্ম প্রচার করার উদ্যোগ নেন।
১৮৯৭-১৯০১ জেরুসালেমের মুফতি মোহাম্মদ তাহের আল-হোসেনির নেতৃত্বে একটি কমিশন জেরুসালেম জেলায় জায়নবাদীদের জমি কেনা রুখে দিতে সক্ষম হল।
১৮৯৭ আগস্ট ২৯-৩১ সুইজারল্যান্ডের বাসেলে অনুষ্ঠিত হল প্রথম বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস। প্রতিষ্ঠা করা হল বিশ্ব জায়নবাদী সংগঠন। এর প্রেসিডেন্ট হলেন অস্ট্রীয় সাংবাদিক থিওডর হার্জেল।
১৮৯৮ মিসরে নির্বাসিত থাকা অবস্থায় মিদহাত বদর খান কর্তৃক প্রকাশিত হল কুর্দি পত্রিকা কুর্দিস্তান।
আগস্ট ২৯-৩১ সুইজারল্যান্ডের বাসেলে অনুষ্ঠিত হল দ্বিতীয় বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস।
১৮৯৯ জানুয়ারি ২৩ মহান মোবারক ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম সই হল, যাতে কুয়েতের সার্বভৌমত্বের কাগুজে স্বীকৃতি দেয়া হল। কার্যত, কুয়েত ব্রিটেনের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল। ওসমানি সুলতানশাহির সম্প্রসারণের ভয়ে দেশটি নিজ বৈদেশিক ও পররাষ্ট্র নীতির নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিল।
মার্চ ১৯ জেরুসালেমের মেয়র ইউসূফ দিয়া-উদ্দিন পাশা আল-খালিদির সাথে থিওডর হার্জেলের পত্রবিনিময়।
আগস্ট ১৫-১৮ বাসেলে অনুষ্ঠিত হল তৃতীয় বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস। এই কংগ্রেসে ফিলিস্তিনে ইহুদি উপনিবেশায়নে আর্থিক মদত যোগানোর উদ্দেশ্যে ইহুদি উপনিবেশিক ট্রাস্ট গঠন অণুসমর্থন করা হয়। সেইসাথে ঠিক করা হল যে, এই ট্রাস্টের তহবিল শুধুমাত্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে ব্যয় করা হবে।
আক্রে জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল সেজেরা ও মাহানায়িম বসতি।
১৯০০-০৮ জর্দানের ভেতর দিয়ে নির্মিত হল হিজাজ-কন্সটান্টিনোপল রেলরাস্তা।
১৯০০ আগস্ট ১৩-১৬ লন্ডনে অনুষ্ঠিত হল চতুর্থ বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস। এই কংগ্রেসে একটি ইহুদি জাতীয় তহবিল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফিলিস্তিনে জমি ক্রয় ও উন্নয়নের একটি সংগঠন হিসেবে।
নভেম্বর ২৯-১৯০১ জানুয়ারি ২৮ ইস্তাম্বুলের ওসমানি মন্ত্রিপরিষদ ফিলিস্তিনে ইহুদিদের বসবাস ও জমি ক্রয় সম্পর্কিত একগুচ্ছ নিয়মাবলী জারি করল যা জানুয়ারি ২৮, ১৯০১ থেকে কার্যকর ধরে নিতে হবে। ফিলিস্তিনে “দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী” বিদেশী ইহুদিরা (অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে অবৈধ ইহুদি বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে) এবং “যাদের বসবাস নিষিদ্ধ নয়” তারা ওসমানি প্রজাদের মতো একই অধিকার ভোগ করবে। ভূমি কোড অনুসারে মিরি জমি (যার মূল মালিকানা রাষ্ট্রের এবং যা বিনিয়োগকারী ব্যক্তিদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়) কিনতে এবং তার উপর নির্মাণকার্য চালাতে পারবে। ইহুদি তীর্থযাত্রীরা যাতে ফিলিস্তিনে অতিরিক্ত সময় অবস্থান না করে এবং জমি ক্রয় না করে তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশিকাও জারি করা হল। জেরুজালেমে “ইহুদি অভিবাসীদের ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন প্রতিরোধের জন্য বিশেষ কমিশন” গঠন করা হল। তবে, এই বিধিনিষেধগুলি ১৮৮১ সাল থেকে জারি করে আসা বিধিনিষেধগুলোর চেয়ে অধিক কার্যকর প্রমাণিত হয় নাই।
ডিসেম্বর ৮-নভেম্বর ১১ জায়নবাদী ভূমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে এক বিরল বিজয় লাভ করল টাইবেরিয়াসের ফিলিস্তিনি চাষীরা।
১৯০১ নভেম্বর ২-১০ মাইতিলিন চুক্তি, ওসমানি সুলতানশাহি ও ফ্রান্সের মধ্যে সই হল।*
* এই চুক্তিতে ওসমানি ফিলিস্তিনে সক্রিয় থাকা ক্যাথলিক ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষাধিকারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ১৯১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর সাক্ষরিত ইস্তানবুল চুক্তির ভেতর দিয়ে ফরাসি বিশেষাধিকারগুলো মজবুত হয়। বলাই বাহুল্য, প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ডিসেম্বর ২৬-৩০ বাসেলে অনুষ্ঠিত হল পঞ্চম বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস।
প্রতিষ্ঠা করা হল জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ড (জেএনএফ)।
১৯০২ প্যারিসে ‘তরুণ তুর্কি’ আন্দোলনের কংগ্রেস অফ অটোমান অপোজিশনে শামিল হলেন কুর্দি অভিজাত আবদুররহমান বদর খান ও হিকমেত বাবান।
আক্রে জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল মাস-হা ও ইয়েভনিয়েল বসতি।
খোমিনে রুহুল্লার জন্ম।*
* পরবর্তীকালে আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনি নামে পরিচিত হবেন।
১৯০২-বর্তমান তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্র।*
* বর্তমান সৌদি রাষ্ট্র। আগের দুটোর ওয়ারিশ। ১৯০২-১৩ কালপর্বে রিয়াদ আমিরশাহি ও ১৯১৩-২১ কালপর্বে নজদ ও হাসার আমিরশাহি নামে পরিচিত ছিল।
১৯০৩ জুলাই-নভেম্বর লন্ডনের জিউইশ কলোনিয়াল ট্রাস্টের সাবসিডিয়ারি হিসেবে অ্যাংলো-প্যালেস্টাইন কোম্পানি ফিলিস্তিনে কাজ করা শুরু করল।
আগস্ট ২৩-২৮ বাসেলে অনুষ্ঠিত হল ষষ্ঠ বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস। এই কংগ্রেসে ব্রিটিশ রাজনীতিক জোসেফ চেম্বারলিন পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডায় একটা স্বায়ত্তশাসিত ইহুদি বসতি স্থাপন করার প্রস্তাব দিলেন। প্রস্তাবিত ভূখণ্ডটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি “তদন্ত কমিশন” পাঠানোর প্রস্তাবনা গৃহীত হল।
মাস-হা বসতি যে আরব গ্রামে স্থাপন করা হয়েছিল তার স্মৃতি মুছে দিতে এর নাম বদলে কফার তাভর বসতি রাখা হল।
১৯০৪-১৪ দ্বিতীয় আলিয়া, মূলত রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার ইহুদির আগমন।
১৯০৪ আগস্ট-সেপ্টেম্বর টাইবেরিয়াস অঞ্চলে আল-শাজারা গ্রামের ফিলিস্তিনি চাষীদের সাথে সেজারা উপনিবেশের বসতিস্থাপনকারীদের দ্বন্দ্ব দেখা দিলে এক বসতিস্থাপনকারী নিহত।
আক্রে জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল বেইত গান বসতি।
থিওডর হার্জেলের মৃত্যু। জায়নবাদী আন্দোলনের নতুন নেতা হলেন ডেভিড উলফসন।
১৯০৫ জুলাই ২৭-২ আগস্ট বাসেলে অনুষ্ঠিত হল সপ্তম বিশ্ব জায়নবাদী কংগ্রেস। ইহুদি বসতিস্থাপনের জন্য উগান্ডা “অনুপযুক্ত” সাব্যস্ত হল। ফিলিস্তিনের বিকল্প বাতলানোর বিরুদ্ধে প্রস্তাবনা গৃহীত হল।
আল-কাশিমে একটি ছোট ওসমানি গ্যারিসন মোতায়েন করা হল। ইয়েমেনের ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্য আর ওসমানি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলার মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণ করা হল।
দামিশক ও মদীনাকে যুক্ত করা হিজাজ রেলপথের নির্মাণকাজ শেষ হল।*
* এর সদরদপ্তর ছিল ওসমানি ফিলিস্তিনের হাইফা।
নাজিব আজুরি, দি এওয়েকেনিং অফ দি আরব নেশন ইন এশিয়াটিক তুর্কি।
১৯০৫-১৪ ফিলিস্তিনি পরিচয় ও আরব জাতীয়তাবাদের উত্থানের কাল।
১৯০৬ সাংবিধানিক বিপ্লব, প্রথম সংসদ মজলিস প্রতিষ্ঠা। মোজাফফরুদ্দিন শাহ একটা সংবিধান প্রবর্তন করলেন, যেখানে মোল্লাদের যেকোন বিধানের বিরুদ্ধে ভেটো দেয়ার অধিকার দেয়া হল।
বোহতান প্রিন্সিপালিটির শেষ আমিরের নাতি আবদুররেজাক বদর খান ও তাঁর পরিবারকে নির্বাসিত করল ওসমানিরা।
গাজা অঞ্চল ও মিশরের মধ্যে প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণ করা হল, যা রাফার মধ্য দিয়ে গেছে। জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল বীর ইয়াকভ বসতি। জেরুসালেমে প্রথম বেসরকারি মুসলিম ইশকুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল দ্য ন্যাশনাল অটোমান ইসলামিক স্কুল।
১৯০৭-০৮ ওসমানিদের বিরুদ্ধে শেখ আবদুস সালাম বারজানির বিদ্রোহ।
১৯০৭ জেরুসালেম জেলায় প্রতিষ্ঠিত হল বেন শেমেন বসতি।
১৯০৮ জুলাই ৩-২৪ তরুণ তুর্কি বিপ্লব।
সেপ্টেম্বর ইস্তানবুলে প্রতিষ্ঠা করা হল কুর্দিশ সোসাইটি ফর মিউচুয়াল এইড অ্যান্ড প্রগ্রেস (Kürt Teavün ve Terakki Cemiyeti: KTTC)।
আগস্ট ইস্তানবুলে অধ্যয়নরত একদল ছাত্র মিলে গঠন করলেন কুর্দিশ স্টুডেন্ট হোপ সোসাইটি।
প্রতিষ্ঠা করা হল ফিলিস্তিন অফিস।* গাজায় প্রথম মোটর গাড়ি চালু করা হল।
* ১৯২৯ সালে এটি ইহুদি এজেন্সিতে পরিণত হবে।
জেরুসালেম থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করল আল-কুদস আর হাইফা থেকে আল-কারমেল।
তেল আবিষ্কৃত, পারস্যে ব্রিটিশ প্রভাব বৃদ্ধি পেল।
১৯০৮-২০ দ্বিতীয় সাংবিধানিক পর্ব।
১৯০৯ প্রতিষ্ঠা করা হল কিব্বুজ দেগানিয়া ও তেল আবিব। প্রতিষ্ঠা করা হল হাশোমের।
১৯১০ প্রথম ইংরেজ হিসেবে আবদুল আজিজের সাথে সাক্ষাৎ করলেন কুয়েতে ব্রিটিশদের রাজনৈতিক এজেন্ট ক্যাপ্টেন ডব্লিউ. এইচ. আই. শেক্সপিয়র।
১৯১০-১১ সাংবিধানিক সরকারের সাথে মোহাম্মদ আলী-শাহের দ্বন্দ্ব দেখা দিল। আলী-শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল। তেহরানে হোজ্জাতুল ইসলাম শেখ ফজলুল্লাহ নূরিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হল।
১৯১১ জাফা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করল ফিলাস্তিন।
১৯১২ ইরশাদ নামে একটি বিপ্লবী দল গঠন করলেন আবদুররেজাক বদর খান। টিকলো না। পরের বছর তাঁর অন্যতম সাথী হায়রেদ্দিন বেরাজি খুন হলে দলটি ধবংস হয়ে যায়।
আগস্ট ইস্তানবুলে অধ্যয়নরত একদল ছাত্র মিলে গঠন করলেন কুর্দিশ স্টুডেন্ট হোপ সোসাইটি।
১৯১৩ বাহরাইনের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়ে ব্রিটেন আর ওসমানি সুলতানশাহির মধ্যে একটি চুক্তি সই হল।*
* তবে বাহরাইন ব্রিটিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থেকে গেল।
জুলাই ২৯ ইঙ্গ-ওসমানি কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল। “ব্লু লাইন”কে ওসমানি ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে পূর্ব আরবের সীমানা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হল। কাতার থেকে সেনা প্রত্যাহারের দরখাস্ত করলে ওসমানিরা তাতে রাজি হল।
ইঙ্গ-ওসমানি চুক্তি, কুয়েত আর ইরাকের মধ্যকার সীমান্ত আঁকা হল।
প্রতিষ্ঠিত হল এন্টাই-ডিফেমেশন লীগ (এডিএল)।
১৯১৪ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে দেখা যাচ্ছে, ফিলিস্তিনে আরবদের সংখ্যা ৬৮৩,০০০ আর ইহুদিদের সংখ্যা ৬০,০০০।
মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, জোরোয়েস্ট্রিয়ান থিওলজি।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
১৯১৪ মে ওসমানিদের সাথে একটি চুক্তি সই করলেন আবদুল আজিজ।
মসুলে শেখ আবদুস সালাম বারজানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল।
ব্রিটিশরা সাইপ্রাসকে নিজেদের সাম্রাজ্যভুক্ত করে নিল। মিসর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হল।
১৯১৪-২১ পারস্যের বিপ্লবী মির্জা কুচিক খানের জঙ্গল আন্দোলন।
১৯১৫-১৬ হোসেন-ম্যাকমোহন পত্রালাপ।*
* প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের ওসমানি সুলতানশাহি ব্রিটিশ ও ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত জার্মানির মিত্র ছিল। এসময় মিসরে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমোহন মক্কার শরিফ হোসেনের কাছে একটা গোপন চিঠি পাঠান। সেখানে ম্যাকমোহন বলেন, আরবরা যদি ওসমানিদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের সহায়তা করে, তাহলে ব্রিটিশরা ওসমানি সুলতানশাহির আরব প্রদেশগুলোতে একটি স্বাধীন আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে, যার অংশ হবে ফিলিস্তিন। হোসেন এই টোপ গিললেন এবং তাঁর পুত্র ফয়সাল ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে একটি সফল আরব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিলেন। ‘লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া’ নামে খ্যাত টি. ই. লরেন্স এই আরব বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। জাতীয়তাবাদী আরবদের বোকা বানিয়ে এভাবেই ব্রিটিশরা ওসমানি সুলতানশাহির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল ফিলিস্তিন।
তুরস্কের বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী কমিটি ফর ইউনিয়ন অ্যান্ড প্রগ্রেস (সিইউপি) কর্তৃক আরমানি গণহত্যা সংঘটিত।*
* এই গণহত্যার শিকারের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তুর্কি ঐতিহাসিকরা দাবি করেন সংখ্যাটা ২ লক্ষ, অন্যদিকে আরমানি ঐতিহাসিকরা দাবি করেন সংখ্যাটা ২০ লক্ষ বা তারচেও বেশি। লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টার্কিশ স্টাডিজের অধ্যাপক এরিক জে. জুর্খারের মতে, সংখ্যাটা ৬-৮ লক্ষের মত। (Zürcher 2017)
১৯১৫ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর ওসমানি সুলতানশাহি তাঁর সৈন্যদল সুয়েজ খাল থেকে গাজায় সরিয়ে আনল।
ডিসেম্বর ২৬ ইঙ্গ-সৌদি চুক্তি, আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমানের জন্য ব্রিটিশ স্বীকৃতি এনে দিল।
‘তরুণ তুর্কি’দের চালানো জেনোসাইডের হাত থেকে বাঁচতে খ্রিস্টান ও ইয়েজিদিরা ওসমানি সুলতানশাহির বিভিন্ন এলাকা থেকে সিনজারে পালিয়ে এলে ইয়েজিদি গোত্র সর্দার হেমোয়ে শেরো তাঁদের আশ্রয় দেন।
আল সৌদ ও আল রাশিদের মধ্যে জারাবের সমরে নিহত হলেন ক্যাপ্টেন শেক্সপিয়র।
১৯১৬-১৮ ওসমানি সুলতানশাহির বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহে সিরীয়দের অংশগ্রহণ।
১৯১৬ সাইকস-পিকো গোপন চুক্তি।
ব্রিটিশদের সাথে কাতারিরা একটা চুক্তি সই করল। ঠিক হল, ব্রিটিশরা কাতারিদের সুরক্ষা প্রদান করবে। বিনিময়ে কাতারের বহির্দেশীয় সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ পাবে ব্রিটেন।
বৈরুত ও লেবানন পর্বতমালায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল।
১৯১৭ রুশ বিপ্লব।
মার্চ-নভেম্বর গাজার জন্য লড়াই ব্রিটিশ বিজয়ে শেষ হল।
নভেম্বর ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দখল করে নিল জেরুসালেম।
২ ইস্যু করা হল ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার বেলফোরের বেলফোর ঘোষণা; যাতে বলা হল, ফিলিস্তিনে “ইহুদিদের একটি জাতীয় নিবাসভূমি” স্থাপনে সহায়তা দেবে গ্রেট ব্রিটেন।
ডিসেম্বর ১১ জেরুসালেমের ওল্ড সিটিতে ঢুকলেন জেনারেল এডমুন্ড অ্যালেনবি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা বাগদাদ দখল করল।
পারস্যের সোশাল ডেমোক্র্যাটরা প্রতিষ্ঠা করলেন জাস্টিস পার্টি।
এরভাদ ফিরোজ শাপুরজি মাসানি, জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম: অ্যানসেইন অ্যান্ড মডার্ন।
১৯১৭-২০ ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব ও সামরিক প্রশাসন।
১৯১৭-১৮ ব্রিটিশ ও মক্কার শরিফ হোসেনের যৌথ বাহিনীর জর্দান বিজয়।
১৯১৮ সিনজারে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব। বাসুর বা ইরাকি কুর্দিস্তানে শেখ মাহমুদ বারজিনজির দশকব্যাপী অসফল বিদ্রোহের সূচনা। ইস্তানবুলে প্রতিষ্ঠা করা হল সোসাইটি ফর দ্য বেটারমেন্ট অফ কুর্দিস্তান (Komela Tealîya Kurdistanê)।
অক্টোবর ৩০ মুদরোস অস্ত্রবিরতি সাক্ষরিত।
লেবাননকে ফরাসি সামরিক দখলদারিত্বের আওতায় আনা হল।
ওসমানিদের কাছ থেকে স্বাধীনতালাভ করল উত্তর ইয়েমেন। পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল মুত্তাওয়াকিলাত জায়েদি ইমামত।
১৯১৮-১৯ বিশ্বযুদ্ধের সময় ইরান দখল করে রাখা বিদেশি সেনারা দেশটি ছেড়ে গেল। রুহুল্লা আরাকে চলে এলেন, মাদ্রাসায় ভর্তি হলেন। এরপর শেখ আবদুল-করিমকে অনুসরণ করে কোমে চলে গেলেন ও সেখানেই থিতু হলেন।
১৯১৯-২৩ তৃতীয় আলিয়া, মূলত রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার ইহুদির আগমন।
১৯১৯, মে ১৫-২৪ জুলাই, ১৯২৩ তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধ।*
* গ্রিকরা পরাজিত হয়। তাদের ইওরোপীয় মিত্ররা আনাতোলিয়া ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই যুদ্ধে কুর্দিরা তুর্কিদের সমর্থন প্রদান করে।
১৯১৯-২২ পারস্যে শেকাক গোত্রের কুর্দি সর্দার ইসমাইল আগা সিমকোর বিদ্রোহ।
১৯১৯ ভার্সাই চুক্তির পরে ওসমানি সুলতানশাহির সীমান্তগুলো আজকের তুরস্ক রাষ্ট্রের সীমান্তগুলোর চেহারা লাভ করে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে সর্বজনীন ইশকুল ব্যবস্থা চালু করল বাহরাইন।
দামিশক থেকে জর্দান শাসন করছেন মক্কার শরিফ হোসেনের পুত্র আমির ফয়সাল।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন শেখ মাহমুদ বারজানি।
১৯২০বেলফোর ঘোষণার বিরুদ্ধে জেরুসালেমে প্রতিবাদ দেখা দিল।
সান রেমো সম্মেলন। ব্রিটিশরা জর্দান ও ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেট লাভ করল। লীগ অফ নেশনসের কাছ থেকে ইরাকের ম্যান্ডেট পেল ব্রিটেন। সিরিয়া ও লেবাননের ম্যান্ডেট পেল ফ্রান্স।
ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন হার্বার্ট স্যামুয়েল। তিনি জর্দানকে একটি ব্রিটিশ ম্যান্ডেট বলে ঘোষণা করলেন। আমির ফয়সালকে জর্দানের রাজা ঘোষণা করা হল। দামিশক থেকে ফয়সালকে বিতাড়িত করল ফরাসি বাহিনী। জর্দানে ঢুকলেন মক্কার শরিফ হোসেনের আরেক পুত্র আবদুল্লা।
প্রতিষ্ঠিত হল ইসরায়েলে শ্রমিকদের সাধারণ সংগঠন (হিস্তাদরুত) ও জায়নবাদী প্যারামিলিটারি সংগঠন হাগান্না।
জুন সোভিয়েত লাল ফৌজের সহায়তায় ইরানের গিলান প্রদেশে পার্সিয়ান সোশালিস্ট সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন মির্জা কুচিক খান। অস্বীকৃত রাষ্ট্রটি ১৯২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকেছিল।
জুলাই ২৪ মাইসালুনের সমর। দামিশকে আরব শাসন উৎখাত করল ফরাসি সেনাদল।
আগস্ট সেভরেসের চুক্তি। কুর্দিদের স্বাধীনতা দেয়ার ওয়াদা করা হল। যা স্রেফ কাগুজে ব্যাপার ছিল।
আগস্ট ৩১-১ সেপ্টেম্বর লেবানন পর্বতমালা, উত্তর লেবানন, দক্ষিণ লেবানন ও বেকা অঞ্চল নিয়ে বৃহত্তর লেবানন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করল ফ্রান্স।
ব্রিটিশদের দূতিয়ালিতে ওমানের মধ্যাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন মেনে নিলেন দেশটির সুলতান।
পারস্যের জাস্টিস পার্টির নাম বদলে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরান রাখা হল।
১৯২০-২৯ সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত হল লাছিন, “লাল কুর্দিস্তান”।
১৯২০-২১ সিরিয়াকে তিনটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভাগ করল ফ্রান্স। উপকূলীয় অঞ্চলে আলাওয়ি আর দক্ষিণে দ্রুজদের জন্য স্বতন্ত্র এলাকা রাখা হল। এক শতাব্দী পরে সিরিয়ার যুদ্ধ যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা থেকে চরম সাম্প্রদায়িক বিকারে অধঃপতিত হবে তার শেকড় অনেকটাই এই উপনিবেশিক ভাগাভাগিতে নিহিত।
১৯২১ সেপ্টেম্বর-জুলাই ১৯২৪ ‘কুর্দিস্তানের রাজা’ শেখ মাহমুদ বারজানির রাজত্বকাল।
১৯২১ ব্রিটিশদের মদতে সামরিক কর্মকর্তা রেজা খানের ক্যুদেতা। এতে কাজারদের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
সেপ্টেম্বর জঙ্গল আন্দোলনের নেতা মির্জা কুচিক খানের মৃত্যুতে পার্সিয়ান সোশালিস্ট সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের পতন। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইরানকে নিষিদ্ধ করা হল।
মক্কার শরিফ হোসেনের ছেলে ফয়সালকে ইরাকের রাজা হিসেবে নিয়োগ দিল ব্রিটেন।
জর্দান নদীর পশ্চিমদিকে প্রতিষ্ঠিত হল ম্যান্ডেট ফিলিস্তিন। উপনিবেশিক সচিব চার্চিলের সাথে সাক্ষাৎ করলেন আবদুল্লা। ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে জর্দানের শাসক হওয়ার প্রস্তাব মেনে নিলেন।
ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনের একটি সম্ভ্রান্ত আরব পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ আমিন আল-হুসেইনিকে জেরুসালেমের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ দিল।
প্রতিষ্ঠিত হল মোশাব* নাহালাল।*
* ইসরায়েলের এক ধরণের কৃষি সমবায়কেন্দ্রিক বসতি, সমাজতান্ত্রিক/শ্রম জায়নবাদীদের হাতে যার শুরু হয়।
মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, জোরোয়েস্ট্রিয়ান সিভিলাইজেশন।
১৯২২ মিসরের রাজা হলেন প্রথম ফুয়াদ। ব্রিটিশদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করল মিসর। তবে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত দেশটির ওপর ব্রিটিশদের প্রভাব রয়ে যায়।
জুন ৩ শ্বেতপত্র হিসেবে ইস্যু করা হল চার্চিল মেমোরান্ডাম। ব্রিটিশরা জর্দান নদীর পুবদিকের এলাকাকে ম্যান্ডেট ফিলিস্তিন থেকে আলাদা করে গঠন করল ট্রান্সজর্দান। এর প্রথম শাসক হলেন আমির আবদুল্লাহ।
জুলাই ম্যান্ডেট ফিলিস্তিনকে অনুসমর্থন করল লীগ অফ নেশনস।
নভেম্বর ১ ওসমানি সুলতানশাহি বিলুপ্ত করে দিল তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, ছয় শতাব্দীর সাম্রাজ্যের অবসান।
ব্রিটিশরা জর্দান নদীর পুবদিকের এলাকাকে ম্যান্ডেট ফিলিস্তিন থেকে আলাদা করে গঠন করল ট্রান্সজর্দান। এর প্রথম শাসক হলেন আমির আবদুল্লাহ। লীগ অফ নেশনসের কাছ থেকে ট্রান্সজর্দানের ম্যান্ডেট লাভ করল ব্রিটেন। গঠন করা হল ট্রান্সজর্দান আমিরশাহির সশস্ত্র বাহিনী। নাম দি আরব লিজিয়ন। এর প্রথম কমাণ্ডার হলেন কর্নেল এফ পীয়াক। সৌদিরা জর্দান দখলের একটি অসফল চেষ্টা চালাল।
উকাইর প্রোটোকল। সৌদি আরবের সাথে নিরপেক্ষ জোন প্রতিষ্ঠা করল কুয়েত।
বেলফোর ঘোষণা বরণ করে নিল মার্কিন কংগ্রেস।
১৯২২-২৬ ক্ষমতা সংহত করলেন রেজা খান। শাহেনশাহ (রাজাদের রাজা) খেতাব নিয়ে গদিতে বসলেন। প্রতিষ্ঠা করলেন পাহলবী রাজবংশ।
১৯২৩ জুলাই ২৪ লসানে চুক্তি। এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্র পক্ষের সাথে তুরস্কের যুদ্ধের অবসান ঘটায়, এবং নবগঠিত রাষ্ট্রটির সীমান্ত নির্ধারণ করে। কিন্তু, কোন অধিকার দেয়া তো পরের কথা; এই চুক্তিতে কুর্দিদের উল্লেখই করা হয়নি।
অক্টোবর ২৯ তুরস্ককে একটি প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হল।
আল-আহসার জন্য তেল ছাড় নিশ্চিত করলেন মেজর ফ্রাঙ্ক হোমস।
লেবানন ও সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল ফ্রান্স।
১৯২৪-২৮ চতুর্থ আলিয়া, মূলত পোল্যান্ড থেকে ৮০ হাজার ইহুদির আগমন।
১৯২৪ মার্চ ৩ ডিক্রি জারি করে খেলাফত বিলুপ্ত করে দিল তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি।
সৌদিরা দ্বিতীয়বারের মত জর্দান দখলের একটি অসফল চেষ্টা চালাল।
১৯২৫-৭৯ পাহলবী ইরান।
১৯২৫-২৭ ফরাসি উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সিরীয়দের বিদ্রোহ। দেখা দিল গণঅভ্যুত্থান। দামিশকে বোমা ফেলে অভ্যুত্থান দমন করল ফরাসিরা।
১৯২৫ ওসমানি সুলতানশাহির পতন এবং কুর্দি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের ক্রমবর্ধমাণ বৈরিতা তুরস্কের কুর্দিদের মধ্যে অভ্যুত্থানের মনোভাব উসকে দেয়। আজাদি নামে কুর্দি সামরিক কর্মকর্তাদের এক গোপন কমিটি বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে, আন্দোলনের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন শেখ সাঈদ। ১৯২৫ সালের বসন্তে তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। ইসলামি মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটানোর অভিযোগ এনে। ১০ হাজার কুর্দি যোদ্ধার এক বাহিনী নিয়ে দিয়ারবাকির ঘেরাও করেন সাঈদ। সরকারপন্থী কুর্দি গোত্রগুলোর সহায়তায় এই বিদ্রোহ দমন করে তুরস্ক, শেখ সাঈদকে ফাঁসিতে ঝুলায়।
নভেম্বর আবদুল আজিজের সাথে হাদ্দা ও বাহরা চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন স্যার গিলবার্ট ক্লেটন।
জেরুসালেমের স্কোপাস পর্বতে প্রতিষ্ঠা করা হল জেরুসালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়।
সাইপ্রাস একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হল।
১৯২৬ পারস্যের প্রথম পাহলবী রাজা হলেন রেজা খান। রেজা শাহ পাহলবী নামে মসনদে আরোহণ করেন।
জানুয়ারি ৮ আল-হিজাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আবদুল আজিজকে আল-হিজাজের রাজা এবং নজদ ও এর আশ্রিত রাজ্যগুলোর সুলতান ঘোষণা করলেন।
ফেব্রুয়ারি আল-হিজাজের রাজা হিসেবে আবদুল আজিজকে স্বীকৃতি দিল ব্রিটেন।
লেবাননে একটি সংবিধান গৃহীত হল এবং দেশটিকে ফরাসি ম্যান্ডেটের অধীনে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করা হল।
১৯২৭-৪০ রেজা শাহ নিজের সেক্যুলারাইজেশন প্রচারাভিযান চালু করলেন। মোল্লাদের বিদ্রোহ রক্তাক্ত উপায়ে দমন করা হল, সারা দেশের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব জোরদার করা হল। মহিলাদের হিজাব করা নিষিদ্ধ করা হল, মোল্লাদের দাঁড়ি কামাতে এবং পাগড়ির পরিবর্তে কেপি পরতে বাধ্য করা হল।
১৯২৭ আল-হিজাজের রাজা ও নজদের সুলতান হিসেবে আবদুল আজিজকে স্বীকৃত দিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।
মে ২০ ইঙ্গ-সৌদি জেদ্দা চুক্তি। আবদুল আজিজের পূর্ণ স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিল ব্রিটিশ সরকার। এর বিনিময়ে, উপসাগরীয় শেখতন্ত্রগুলোর সাথে ব্রিটিশদের চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কগুলোকে স্বীকৃতি দিলেন সৌদি নেতা।
অক্টোবর ইখওয়ানিরা আল-বুসায়া পুলিশ ফাঁড়িতে ইরাকিদের হত্যা করে। যার ফলে ব্রিটেন ও আবদুল আজিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যা বছরখানেক স্থায়ী হয়।
১৯২৮ হাসান আল-বান্না কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল মুসলিম ব্রাদারহুড। বান্না স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মিসরকে পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত করা।
গাজার মেয়র হলেন ফাহমি আল-হুসেইনি।
জর্দানের সংবিধান হিসেবে অর্গানিক ল ঘোষণা করা হল। ইঙ্গ-জর্দানি চুক্তি সই। অনুষ্ঠিত হল প্রথম আইন পরিষদ নির্বাচন।
প্রতিষ্ঠা করা হল ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (আইপিসি)।
১৯২৯-৩৯ পঞ্চম আলিয়া, নাৎসিদের উত্থানের প্রেক্ষিতে মূলত জার্মানভাষী দেশগুলো থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ইহুদির আগমন।*
* তবে এসময় অনেকে পোল্যান্ড থেকেও এসেছিলেন ফিলিস্তিনে।
১৯২৯ আগস্ট বেতার ইহুদি যুব আন্দোলন জেরুসালেমের পশ্চিম দেয়ালের ওপর একটি জায়নবাদী পতাকা ঝোলান। আল আকসা মসজিদ আক্রান্ত হতে পারে এই আশঙ্কায় আরবরা জেরুসালেম, হেবরন, আর সাফেদে ইহুদিদের ওপর হামলা চালান। ফলে আরব-ইহুদি দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে এক সপ্তাহে ১৩৩ জন ইহুদি ও ১১৫ জন আরবের মৃত্যু হয়।
১৯৩০-৩৯ স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির মত কিছু মার্কিন তেল কোম্পানির ভূগোলবিদরা বর্তমান সৌদি আরবের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে বিপুল তেল আবিষ্কার করলেন। মার্কিন-সৌদি সুসম্পর্কের সূচনা। সৌদিদের কাছ থেকে অবিরত তেল পায় মার্কিনীরা, বিনিময়ে সৌদিরা দুনিয়ার সবচে শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সমর্থন পায়।
এই দশকে ব্যাপক তেল রিজার্ভ আবিষ্কৃত হওয়াটা কুয়েতের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনল।
১৯৩০-৩৫ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে শেখ ইজ্জাদদিন আল-কাশেমের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনিদের লড়াই শুরু হল।
১৯৩০ আরারাত অঞ্চলের কুর্দি বিদ্রোহ দমন করল তুরস্ক।
পারস্যে গুপ্তঘাতকদের হাতে খুন হলেন শেকাক গোত্রের কুর্দি সর্দার ইসমাইল আগা সিমকো।
প্রথমবারের মত কোন ব্রিটিশ মন্ত্রীর জেদ্দা আগমন।
ব্রিটিশদের কাছ থেকে দি আরব লিজিয়নের দায়িত্ব লাভ করলেন মেজর জন গ্লুব।
১৯৩১ জাবাল আল-দুখানে তেল আবিষ্কার করল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির (সোকাল) একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (বাপকো)।
ফেব্রুয়ারি জেদ্দায় আবদুল আজিজের সাথে সাক্ষাৎ করলেন চার্লস ক্রেন। কার্ল এস. টুইচেলকে পাঠালেন দেশটির প্রথম ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করার জন্য।
সিপ্রিয়টরা দ্বীপটির গভর্নমেন্ট হাউজে আগুণ ধরিয়ে দিলেন।
হাগান্নার কমান্ডারদের একাংশ সংগঠনটির ওপর বিরক্ত হয়ে গড়ে তুললেন নতুন প্যারামিলিটারি সংগঠন ইরগুন।
১৯৩২ ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অবসান, স্বাধীনতা লাভ করল ইরাক।
নবগঠিত রাষ্ট্র ইরাকের অংশ হয়ে গেল সিনজার। বারজানিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাল ব্রিটিশ আরএএফ। ইরাকি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন শেখ মাহমুদ বারজানি।
সেপ্টেম্বর ২২ গঠন করা হলো সৌদি আরব রাজ্য। সৌদি আরবের বাদশা উপাধি নিলেন আবদুল আজিজ।
তেল উৎপাদন করতে শুরু করল বাপকো।
বেদুঈন অভিযান থামিয়ে দিল দি আরব লিজিয়নে মেজর জন গ্লুবের ইউনিট।
১৯৩৩-৩৯ নাৎসি জার্মানিতে চলছে ইহুদিদের ওপর বর্ণবাদী নিপীড়ন।
১৯৩৪ সীমান্ত প্রশ্নে ব্রিটেন আর ইয়েমেনের ইমামত একমত হল। সৌদি আরবের সাথে যুদ্ধে হেরে গেল ইমামত। ইয়েমেনের কাছ থেকে সীমান্তবর্তী আসির, নাজরান, আর জিজান প্রদেশ দখল করে নিল সৌদিরা, প্রাথমিকভাবে এক ২০ বছর মেয়াদী চুক্তিতে।
তেল ছাড় লাভ করল কুয়েত তেল কোম্পানি। খননকার্য শুরু করল। বৃষ্টিতে কুয়েতের বহু মাটির ঘর ধ্বসে গেল
১৯৩৫ পারস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে ইরান রাখা হয়।*
* পার্সিয়া – বাংলায় পারস্য – নামটা গ্রিকদের দেয়া। ইরান নামটা এসেছে আরইয়ানা ভায়েহো থেকে। এর অর্থ হল: “আর্যদের উৎপত্তিস্থল”।
ধর্মীয় পোষাক পরিধানের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে মাশহাদের এক মোল্লার অনুসারীরা রেজা শাহের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শুরু করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মসজিদে বোমাবর্ষণ করেন রেজা শাহ।
সংশোধনবাদী জায়নবাদ, ভ্লাদিমির জি’ভ জাবোতিনস্কির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হল নয়া জায়নবাদীদের সংগঠন।
ভূমিপথে হামলার হাত থেকে কাতারকে সুরক্ষা দিতে রাজি হল ব্রিটেন।
১৯৩৬ মিসর ছেড়ে যেতে শুরু করল ব্রিটিশরা। ফরাসিরা সিরিয়াকে স্বাধীনতা দিতে নীতিগতভাবে সম্মতি জানাল।
নাৎসি জার্মানি ঘুরে এসে ফ্যালাঞ্জে পার্টি প্রতিষ্ঠা করলেন পিয়েরে জেমায়েল। ফ্রান্স ও লেবাননের মধ্যে স্বাধীনতা চুক্তি।
কুয়েতে তেল খননকার্য শুরু করল অ্যাংলো-পার্সিয়ান অয়েল কোম্পানি (আপোক)।
১৯৩৬-৩৯ জাফায় ফিলিস্তিনি বিদ্রোহ, যা ব্রিটিশরা জায়নবাদী মিলিশিয়া ও আরব বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় দমন করে। এই বিদ্রোহে ৫,০০০এরও বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়, আর আহত হন ১৫,০০০এরও বেশি ফিলিস্তিনি। গ্রেপ্তার এড়াতে ফরাসি-নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ায় পালিয়ে যান আল-হুসেইনি।
১৯৩৭ পিল কমিশনের দাখিল করা প্রতিবেদনে প্রথমবারের মত ফিলিস্তিনকে আরব আর ইহুদি অংশে পার্টিশনড করার সুপারিশ করা হল।
১৯৩৭-৩৮ দেরসিম হত্যাযজ্ঞ। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের দেরসিম অঞ্চলে বিভিন্ন হিসাবে ১৩ থেকে ৭০ হাজার আলেভি কুর্দি নারী, পুরুষ, ও শিশুকে হত্যা করে তুর্কি জাতীয়তাবাদীরা। শ্বাসরোধ করে, জবাই করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে, পাহাড় থেকে ফেলে দিয়ে, ও পানিতে ডুবিয়ে সম্পন্ন করা হয় এই হত্যাযজ্ঞ। দেরসিমের নাম পাল্টে ফেলে রাখা হয় তুনসেলি। হাজার হাজার কুর্দি মধ্য আনাতোলিয়ায় নির্বাসিত হন। এটি ছিল অঞ্চলটির ‘তুর্কিকরণের’ বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর দেরসিম হত্যাযজ্ঞের জন্য তুরস্ক রাষ্ট্রের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন প্রেসিডেন্ট রেসিপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
১৯৩৮ সরকারে রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিত্বের দাবিতে কুয়েতে মজলিস আন্দোলন শুরু।
মানেকজি নাসেরওয়ানজি ধাল্লা, দ্য হিস্ট্রি অফ জোরোয়েস্ট্রিয়ানিজম।
১৯৩৯ মে ১৭ ব্রিটিশ সরকারের শ্বেতপত্র।*
* এতে ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের আগমন সীমিত করা হল। জায়নবাদীরা এই শ্বেতপত্র প্রকাশকে বেঈমানি হিসেবে দেখলেন। জায়নবাদী-ব্রিটিশ মৈত্রীর অবসানের বছর।
গাজার মেয়র হলেন রুশদি শাওয়া।
ব্রিটেন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে, বাহরাইন ও কাতারের মধ্যবর্তী হাওয়ার দ্বীপপুঞ্জ বাহরাইনের বলে বিবেচিত হবে।
সিগমুন্ড ফ্রয়েড, মোজেস অ্যান্ড মনোথিজম।
১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
১৯৪০-৪৯ হলোকাস্ট, ইওরোপীয় ইহুদিদের ওপর পদ্ধতিগত নাৎসি নিধনযজ্ঞ। এসময় ইহুদিরা গণহারে ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করেন। ফিলিস্তিনে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সশস্ত্র ইহুদি গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯৪০ অ্যালেক্স বেইন, থিওডর হার্জল:আ বায়োগ্রাফি।
১৯৪১ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেজা শাহ অক্ষশক্তির পক্ষাবলম্বন করলে ব্রিটেন আর সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলে দখল করে নেয় ইরান। চাপের মুখে পুত্রের পক্ষে সিংহাসন ত্যাগ করেন রেজা শাহ ও নির্বাসনে চলে যান। শাহ হিসাবে শপথ নেন রেজা শাহের পুত্র মোহাম্মদ শাহ।
সোলেইমান মির্জা এসকান্দারি প্রতিষ্ঠা করলেন তুদেহ পার্টি।*
* একটি কমিউনিস্ট পার্টি।
ইরাকে অক্ষশক্তিপন্থী ক্যুদেতা দমনে ব্রিটিশদের সহায়তা করল দি আরব লিজিয়ন।
ভিকি ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল সিরিয়া।* ব্রিটিশ বাহিনী ও ফ্রি ফ্রেঞ্চ আর্মি সিরিয়ায় প্রবেশ করল। ফ্রান্সের শার্ল দ্য গল ফরাসি ম্যান্ডেটের অবসান ঘটানোর ওয়াদা করলেন।
* ভিকি ফ্রান্স বলতে ফ্রান্সের সেই সরকারটিকে বুঝায় যারা নাৎসি জার্মানির পুতুল সরকার ছিল।
লেবানন দখল করল ব্রিটিশ ও ফ্রি ফ্রেঞ্চ আর্মি। ভিকিদের হাত থেকে বৈরুত ছিনিয়ে নিল। লেবাননকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়ার ওয়াদা করল ফ্রান্স।
১৯৪২ মে নিউ ইয়র্কে জায়নবাদীদের দ্বারা প্রণীত হল বিল্টমোর কর্মসূচি।
আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমিনি, কাশফ আল আসরার।
১৯৪৩ অপারেশন ম্যামথ।*
* জার্মান গুপ্তচরদের একটা ছোট দল গোপনে প্যারাশুট দিয়ে বাসুর তথা ইরাকি কুর্দিস্তানে নামে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল একটি কুর্দি অভ্যুত্থান ঘটানো। প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। নাৎসিরা কুর্দিদের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনাও করেছিল। যাতে অঞ্চলটি থেকে ব্রিটিশদের তাড়িয়ে দিতে পারে। এর বিনিময়ে একটি স্বাধীন কুর্দিস্তান রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে কুর্দিরা পাবে জার্মান সহায়তা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই এই মিশন ব্যর্থ হয়।
নভেম্বর লেবাননের সংসদ ফরাসি ম্যান্ডেট বাতিল করে দিল। লেবাননের সংসদ ভেঙে দিলেন ফরাসি প্রতিনিধি হেলু। প্রেসিডেন্ট বিশারা আল-খুরি, প্রধানমন্ত্রী সুল, আর মন্ত্রী উসাইরান আর টাকলাকে গ্রেপ্তার করা হল।
২২ মুক্তি পেলেন প্রেসিডেন্ট আল-খুরি আর তাঁর সাথীরা। লেবাননের স্বাধীনতা লাভ। ঠিক হল, দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন ম্যারোনাইট খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন সুন্নী সম্প্রদায় থেকে, আর চেম্বার অফ ডেপুটিজের স্পীকার হবেন একজন শিয়া।*
* স্বাধীনতার সূচনালগ্নেই সাম্প্রদায়িকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে প্রতিনিধিত্বের একটা বিভ্রম তৈরি হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বৃদ্ধি পায়, যা নাগরিকত্বের বোধকে দুর্বল করে তোলে।
১৯৪৫ আগস্ট ১৬ কাজী মোহাম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (পিডিকেআই)।
নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হল ইঙ্গ-আমেরিকান অনুসন্ধান কমিটি।
কাজী মোহাম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিশ্ববাসী জানতে পারল, জার্মানির নাৎসিরা ৬০ লক্ষ ইহুদিকে খুন করেছে।
১৯৪৬ জানুয়ারি ২২ ইরানে কুর্দি নেতাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিহীন সোভিয়েত পুতুল রাষ্ট্র মাহাবাদ প্রজাতন্ত্র। ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কূটনৈতিক চাপের মুখে সোভিয়েত ইউনিয়ন ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে এই প্রজাতন্ত্রের পতন হয়।
জুলাই ২২ জেরুসালেমের রাজা ডেভিড হোটেল-স্থিত ব্রিটিশ সদরদপ্তরে বোমা হামলা চালাল ইরগুন। এ বছরের শেষ নাগাদ ম্যান্ডেট ফিলিস্তিনে বসবাসরত আরবদের সংখ্যা ১২ লক্ষেরও বেশি, ইহুদিদের সংখ্যা ৬ লক্ষের মত। ৭ শতাংশ জমি কিনে নিয়েছে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা, যা মোট আবাদি জমির ২০ শতাংশ।
আগস্ট ১৬ মোস্তফা বারজানি কর্তৃক রোজহিলাত বা ইরানি কুর্দিস্তানের মাহাবাদে প্রতিষ্ঠিত হল কুর্দিশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি)।
নভেম্বর ২৫ গাজায় মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা খোলা হল।
ডিসেম্বর ১৫ মাহাবাদ প্রজাতন্ত্রের পতন।
শেষ ফরাসি সৈন্যটি সিরিয়া ছেড়ে চলে গেল। শেষ পর্যন্ত লেবানন ছেড়ে গেল ফরাসি সেনাদল।
জর্দানকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ। একটা নতুন ইঙ্গ-জর্দানি চুক্তি সই। আবদুল্লাকে জর্দানের হাশেমি রাজ্যের রাজা ঘোষণা করা হল। একটা নয়া সংবিধান ঘোষণা করা হল।
প্রথমবারের মত বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল জাহাজে করে রফতানি করল কুয়েত।
১৯৪৭ ফেব্রুয়ারি ১৫ গ্রেট ব্রিটেন ফিলিস্তিন ইস্যু জাতিসংঘের হাতে তুলে দিল।
মার্চ ৩১ কুর্দি নেতা কাজী মোহাম্মদকে ফাঁসিতে ঝোলাল ইরান।
মে মাহাবাদ প্রজাতন্ত্রের পতনের পর ৫৬০ জন লোকের একটা বাহিনী নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে পালিয়ে গেলেন মোল্লা মোস্তফা বারজানি।
নভেম্বর ২৯ জাতিসংঘের পার্টিশন পরিকল্পনা [প্রস্তাব নং ১৮১(২)]। ফিলিস্তিনের বুকে একটি আরব রাষ্ট্র ও একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের এবং জেরুসালেম আর তার আশেপাশের এলাকার ওপর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কায়েমের প্রস্তাব দেয়া হল। যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের পার্টিশন পরিকল্পনা সমর্থন করলেও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।
কামরান মরুভূমিতে ছাগল চড়াতে গিয়ে এক আরব বালক মৃত সাগর পুঁথিগুলোর সন্ধান পেল।
১৯৪৮ ম্যান্ডেট ফিলিস্তিনের অবসান।
মে ১৪ ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েল রাষ্ট্র ঘোষিত হল। ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন শাইম ওয়াইজম্যান। দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন ডেভিড বেন-গুয়িরন। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিল।
২৬ প্রতিষ্ঠিত হল ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)।
সেপ্টেম্বর ২২ গাজায় একটি নিখিল ফিলিস্তিন সরকার ঘোষিত হল।
ডিসেম্বর ১১ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৪ নং প্রস্তাব পাশ হল।
১৯৪৮-৪৯ প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ।*
* ১৯৪৮ সালের ১৫ মে থেকে ১৯৪৯ সালের ৭ জুন পর্যন্ত চলে এই যুদ্ধ। জর্দান পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেম এবং মিসর গাজা উপত্যকা দখল করে নিল। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বাকি অংশটুকু ইসরায়েলের দখলে থাকল।
নাকবা, ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের শিকার হয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হন। ফিলিস্তিনিরা এই ঘটনাকে নাকবা হিসাবে দেখে থাকেন। আরবিতে নাকবা শব্দের অর্থ হল বিপর্যয়।
১৯৪৯ আগের বছরের যুদ্ধে হেরে গিয়েছিল আরব রাষ্ট্রগুলো। তরুণ সেনাকর্মকর্তারা রাষ্ট্রগুলোর অযোগ্য ও পশ্চাৎপদ রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন। এবছর মিসরে রাজতন্ত্র উৎখাত করতে গঠিত হল কমিটি অফ দ্য ফ্রি অফিসার্স মুভমেন্ট।
মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ কর্তৃক গঠিত হল ন্যাশনাল ফ্রন্ট। মোল্লাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লা বোরুজের্দি একটি সম্প্রসারিত সেমিনার আয়োজন করলেন। রুহুল্লা এই সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন এবং সক্রিয়তাবাদী উপদলের পক্ষে ছিলেন।
১৯৪৯-১৯৬৯ ১০ লক্ষেরও বেশি ইহুদি, যাদের মধ্যে আড়াই লক্ষ হলোকাস্ট সার্ভাইভার, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ফিলিস্তিনে বসতিস্থাপন করেন।
১৯৫০ ইরানের দ্বিতীয় পাহলবি রাজা হলেন রেজা শাহের ছোট ছেলে ও রাজপুত্র মোহাম্মদ রেজা।
সাইপ্রাসের আর্চবিশপ হিসেবে নির্বাচিত হলেন তৃতীয় ম্যাকারিওস।
১৯৫১ ফেদাইন ইসলাম সংগঠনের এক সদস্যের আততায়ী হামলায় খুন হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী হজ আলী-রাহমারা। নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন মোহাম্মদ মোসাদ্দেগ। শাহ রাজকীয় অনুমতি প্রদান করলে মোসাদ্দেগ সরকার ইরানের তেল শিল্পের জাতীয়করণ করে। এতে ব্রিটেনের সাথে সম্পর্কে তিক্ততা দেখা দেয়। ইরানের তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজকীয় নৌবহর। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়া প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেগ দেশটির মোল্লাদের এক উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন পান, যাঁদের অন্যতম আয়াতুল্লাহ কাশানি। এসময় ইরানের রাজনীতিতে মোল্লাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
১৯৫২ কায়রোতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ২০ জন খুন হলেন। ফ্রি অফিসার্স ক্যুদেতা। মিসরে কয়েক হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান।
মোসাদ্দেগ ও শাহের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এতে আয়াতুল্লা কাশানি প্রথমে মোসাদ্দেগের পক্ষে ছিলেন। পরে পক্ষত্যাগ করে শাহের শিবিরে চলে যান।
১৯৫৩-৫৪ কমিউনিস্ট তুদেহ পার্টি ইরানের রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে। শাহ-মোসাদ্দেগ দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত মাত্রায় এসে পৌঁছাল। দেশ ছাড়লেন শাহ। সিআইএ-পরিচালিত এক ক্যুদেতায় মোসাদ্দেগ সরকারের পতন। ফজলুল্লাহ জাহেদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হল। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলবির সাময়িক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
১৯৫৪-৫৯ জেবেল আখদার যুদ্ধ। ইমাম গালিব আল হিনাইয়ের নেতৃত্বে মধ্যাঞ্চলের স্থানীয় ওমানিরা ব্রিটিশ মদতপুষ্ট সুলতানের বাহিনীগুলোর সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। বৈশ্বিক তেল কোম্পানিগুলো সুলতানের পক্ষকে মদত দেয়, কারণ ওমানের তেল রিজার্ভ মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত।
১৯৫৫ শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ, ফরাসি, ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাথে ইরানের একটা নতুন তেল চুক্তি সম্পাদিত হল। গঠিত হল সাভাক, শুরু হল কমিউনিস্ট শিকার। সেনাবাহিনীতে ৬০০ জন সোভিয়েতপন্থী সামরিক কর্মকর্তার একটি নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হল।
সাইপ্রাসকে মুক্ত করে গ্রিসের সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যে গ্রিক সিপ্রিয়টরা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে নামলেন। ব্রিটিশ, গ্রিক, ও তুর্কিদের সম্মেলনে বোমা হামলা। তুরস্কে গ্রিকবিরোধী দাঙ্গা।
সুয়েজ খাল সংকটের সময় দোহায় প্রতিবাদ মিছিল।
১৯৫৬ আর্চবিশপ ম্যাকারিওসকে সেশেলেসে নির্বাসিত করা হল।
১৯৫৮ সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্র (ইউএআর) গঠনে মিসর ও সিরিয়ার সাথে হাত মেলাল ইয়েমেনের ইমামত।
১৯৫৯ দক্ষিণ ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠিত হল আরব আমিরশাহিদের ফেডারেশন। যা ব্রিটিশ আধিপত্যের অধীনে অ্যাডেনের পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ ও পূর্বাঞ্চলের একটি আশ্রিত রাজ্যকে একীভূত করে।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ও রাজকীয় বিমান বাহিনীর (আরএএফ) বোমাবর্ষণ অভিযানের সহায়তায় ওমানের মধ্যাঞ্চল পুনরুদ্ধার করলেন সুলতান সাঈদ বিন তৈমুর।
আর্চবিশপ ম্যাকারিওস সাইপ্রাসে ফিরে এলেন ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন।
১৯৬০ সাইপ্রাস নিজের অধিকাংশ ভূখণ্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব পেল, তবে দ্বীপটির দুটি সামরিক ঘাঁটির ওপর ব্রিটিশদের সার্বভৌমত্ব রয়ে গেল। গ্রিক ও তুর্কি সিপ্রিয়টরা একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে রাজি হলেন। ট্রিটি অফ গ্যারান্টি, ব্রিটেন, গ্রিস, ও তুরস্ককে প্রয়োজনবোধে সাইপ্রাসে হস্তক্ষেপ করার অধিকার দিল।
কুয়েত ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (কেএনপিসি) প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৯৬১ জুন ১৯ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল কুয়েত।
১৯৬২ সেপ্টেম্বর ২৬ দক্ষিণ আরব ফেডারেশনে অ্যাডেনের যোগদানের পক্ষে ভোট দিল অ্যাডেন বিধানসভা পরিষদ। ইমাম আহমাদের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসার মাত্র ১০ দিনের মাথায় সানায় উৎখাত হলেন ইমাম বদর। ঘোষিত হল ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র, কিছুদিনের মধ্যেই নাসেরের মিসরের সমর্থন লাভ করে।
১৯৬৭ ব্রিটেন উপসাগরীয় অঞ্চলে তাঁর প্রধান নৌ ঘাঁটি এডেন থেকে সরিয়ে বাহরাইনে নিয়ে এল।
১৯৬৮ সুয়েজের পুবদিকের সব ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল ব্রিটিশরা। ট্রুসিয়াল স্টেটসে যোগ দিল বাহরাইন ও কাতার।
১৯৭০ মে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হল, বাহরাইন ব্রিটেন বা ইরান কারো অধীনেই থাকতে চায় না, দেশটি স্বাধীনতা চায়। ইরানের শাহ বাহরাইনের ওপর দাবি ত্যাগ করলেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে একটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে দেশটির নতুন শাসকরা শাহের এই দাবিত্যাগকে স্বীকৃতি দিতে নারাজি জানান।
১৯৭১ ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল বাহরাইন।
সেপ্টেম্বর ৩ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল কাতার।
ডিসেম্বর ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করল আমিরশাহিগুলো, এর মধ্য দিয়ে ট্রুসিয়াল স্টেটস ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
২ আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, ফুজায়রা, শারজা, এবং উম্মে আল-কাওয়াইন মিলে গঠন করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
তথ্যসূত্র
রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।
সেন, সত্যেন। ২০১৮। মহাবিদ্রোহের কাহিনী। দশম প্রকাশ। মুক্তধারা।
Abrahamian, Ervand. 2018. A History of Modern Iran. 2nd ed. Cambridge University Press.
Al-Rasheed, Madawi. 2010. A History of Saudi Arabia. 2nd ed. Cambridge University Press.
BBC.
Beinin, Joel, and Hajjar, Lisa. 2014. “Palestine, Israel and the Arab-Israeli Conflict: A Primer.” Middle East Research and Information Project.
Blean, I. R. 2008. Iraq. Rourke Publishing LLC.
Blumberg, Arnold. 1998. The History of Israel. Greenwood Press.
Bowen, Wayne H. 2008. The History of Saudi Arabia. Greenwood Press.
Casey, Michael S. 2007. The History of Kuwait. Greenwood Press.
Filiu, Jean-Pierre. 2025. Gaza: A History. 2nd ed. Oxford University Press.
Fisk, Robert. 2001. Pity the Nation: Lebanon at War. 3rd ed. Oxford University Press.
Gillespie, Carol Ann. 2002. Bahrain. Chelsea House.
Gubser, Peter. 1991. Historical Dictionary of the Hashemite Kingdom of Jordan. The Scarecrow Press.
Gunter, Michael M. 2009. The A to Z the Kurds. Scarecrow Press.
— 2018. Historical Dictionary of the Kurds. 3rd ed. Rowman & Littlefield.
Harms, Gregory with Ferry Todd M. 2017. The Palestine-Israel Conflict: A Brief Introduction. 4th ed. Pluto Press.
Harper, Robert A. 2007. Saudi Arabia. 2nd ed. Chelsea House.
Heper, Metin, Öztürk-Tunçel, Duygu, and Criss, Nur Bilge. Historical Dictionary of Turkey. 4th ed. Rowman & Littlefield.
Hunt, Courtney. 2005. The History of Iraq. Greenwood Press.
Interactive Encyclopedia of the Palestinian Question
Isiorho, Solomon A. 2002. Kuwait. Chelsea House.
Kurdistan Memory Programme.
https://kurdistanmemoryprogramme.com/
Lackner, Helen. 2023. Yemen in Crisis: Devastating Conflict, Fragile Hope. new updated ed. Saqi Books.
Lightfoot, Dale. 2007. Iraq. Chelsea House.
Mallinson, William. 2005. Cyprus, a Modern History. I. B. Tauris.
Malaspina, Ann. 2009. Lebanon. Chelsea House.
Morris, Benny, and Ze’evi, Dror. 2019. The Thirty-Year Genocide: Turkey’s Destruction of Its Christian Minorities, 1894-1924. Harvard University Press.
Morrison, Jack. 2009. Syria. Chelsea House.
Morton, Michael Quentin. 2020. Masters of Pearl: A History of Qatar. Reaktion Books.
Peterson, J. E. 2003. Historical Dictionary of Saudi Arabia. 2nd ed. The Scarecrow Press.
Phillips, Douglas A. 2010. Syria. Chelsea House.
Reich, Bernard. 2008. A Brief History of Israel. 2nd ed. Facts on File.
Reich, Bernard, and Goldberg, David H. 2016. Historical Dictionary of Israel. 3rd ed. Rowman & Littlefield.
Rose, Jenny. 2011. Zoroastrianism: A Guide for the Perplexed. Bloomsbury.
Schmidinger, Thomas. 2022. The World Has Forgotten Us: Sinjar and the Islamic State’s Genocide of the Yezidis. Translated by Michael Schiffmann. Pluto Press.
Shlaim, Avi. 2014. The Iron Wall: Israel and the Arab World. 2nd ed. W. W. Norton & Company.
Shoup, John A.. 2018. The History of Syria. Greenwood.
Stewart, James. 2008. Lebanon. Rourke Publishing LLC.
Taheri, Amir. 1985. The Spirit of Allah: Khomeini and the Islamic Revolution. Hutchinson.
Traboulsi, Fawwaz. 2012. A History of Modern Lebanon. 2nd ed. Pluto Press.
Wynbrandt, James. 2010. A Brief History of Saudi Arabia. 2nd ed. Facts on File.
Zeigler, Donald J. 2007. Israel. 2nd ed. Chelsea House.
Zürcher, Erik J.. 2017. Turkey: A Modern History. 4th ed. I. B. Tauris.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



