
ব্রিটিশ ভারত
Featured Artwork: Francis Hayman.

World History Encyclopedia.
“I have seen a great people starving to death before my eyes, and I am convinced that this exhaustion and starvation are due not, as their beneficiaries claim, to over-population and superstition, but to the most sordid and criminal exploitation of one nation by another in all recorded history.”
Will Durant (1885-1981), American Historian
“The English have taught us that we were not one nation before and that it will require centuries before we become one nation. This is without foundation. We were one nation before they came to India. One thought inspired us. Our mode of life was the same. It was because we were one nation that they were able to establish one kingdom. Subsequently they divided us.”
Mohandas Karamchand Gandhi (1869-1948), British Indian Politician
“Gandhiji, I have no Homeland. No Untouchable worth the name will be proud of this land.”
Bhimrao Ramji Ambedkar (1891-1956), British Indian Politician
“It is extremely difficult to appreciate why our Hindu friends fail to understand the real nature of Islam and Hinduism. They are not religions in the strict sense of the word, but are, in fact, different and distinct social orders, and it is a dream that the Hindus and Muslims can ever evolve a common nationality, and this misconception of one Indian nation has troubles and will lead India to destruction if we fail to revise our notions in time. The Hindus and Muslims belong to two different religious philosophies, social customs, litterateurs. They neither intermarry nor interdine together and, indeed, they belong to two different civilizations which are based mainly on conflicting ideas and conceptions. Their aspect on life and of life are different. It is quite clear that Hindus and Mussalmans (Muslims) derive their inspiration from different sources of history. They have different epics, different heroes, and different episodes.”
Muhammad Ali Jinnah (1876-1948), British Indian-Pakistani Politician
“I have no quarrel with Mr Jinnah’s two-nation theory. We Hindus are a nation by ourselves and it is a historical fact that Hindus and Muslims are two nations.”
Vinayak Damodar Savarkar (1883-1966), British Indian Politician
সাল
১৫২৬-১৮৫৮ মুঘল সাম্রাজ্য।
১৬০০ প্রথম এলিজাবেথের ইস্যুকৃত রাজকীয় সনদের ভিত্তিতে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬০১-১৭০০ এই শতাব্দীতে কেরালায় কথাকলি নাচের উৎপত্তি ঘটে।
১৬০২ রাজা প্রতাপাদিত্য তাঁর কাকা বসন্তরায় ও বসন্তরায়ের ছেলেদের হত্যা করলেন। কারভালহোর সন্দ্বীপ জয়।গঠিত হল ওলন্দাজ সংযুক্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওসি)।
১৬০২-১০ মহাভারতের আংশিক বাংলা অনুবাদ করলেন কাশীরাম দাস।
১৬১৩-১৪ উইলিয়াম হকিনসের নেতৃত্বে মসুলিপত্নম ও সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। রাজা প্রথম জেমসের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে বাদশা জাহাঙ্গীরের সামনে উপস্থাপন করলেন স্যার টমাস রো।
১৬০৮-৪৯ তুকারামের জীবনকাল।
১৬১৩ ইসলাম খানের মৃত্যু।
১৬১৫-১৮ এ সময় মুঘল দরবারে অবস্থান করছেন স্যার টমাস রো। মুঘলরা ভারতে ব্রিটিশদের ব্যবসা করার ও কারখানা খোলার অনুমতি দিল।
১৬২৩ মুসা খাঁর মৃত্যু।*
* মুসা খাঁ ঢাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠা করা মসজিদের উত্তর-পূর্বে কোণে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন, তাঁর কবরটি বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ ছাত্রাবাসের নিকটেই অবস্থিত।
১৬৩৩ সম্রাট শাহজাহানের এক ফরমানের বলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় তাঁদের উপনিবেশিক বাণিজ্য শুরু করে।
১৬৫০-৫৯ এ সময় আরাকানের রাজসভায় সক্রিয় আছেন বাঙালি কবি ও অনুবাদক আলাওল।
১৬৬৪ লোরেইনেঁ প্রতিষ্ঠিত হল ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬৬৯ গোকলা অভ্যুত্থান।
১৬৭০-৭৯ এ সময়ই কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম বোম্বে পার্সি পঞ্চায়েত।
১৬৭৪ ভারতে বাণিজ্যকুঠি নির্মাণ করতে শুরু করল ফরাসিরা।
১৬৭৪-১৮১৮ মারাঠা কনফেডারেসি।*
* ছত্রপতি শিবাজি রাজে ভোঁসলে কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত।
১৬৮৫ চট্টগ্রামে একটা ব্রিটিশ নৌবহরকে পরাজিত করল মুঘলরা।
১৬৯০ সুতানুটি, ডিহি কলকাতা, ও গোবিন্দপুর এই তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা শহরের পত্তন করা হল।
১৬৯৮ আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে কলিকাতা, সুতানুটি, আর গোবিন্দপুর – এই তিনটি গ্রাম খরিদ করার অনুমতি পেল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬৯৯ গুরু গোবিন্দ সিং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল খালসা।
১৬৯৯-১৯৩৫ ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সি।
১৭০০ এসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ভাগ ২৭ শতাংশ।
মহানির্বাণ তন্ত্র ও কল্কিপুরাণ।
১৭০১-১৮০০ মণিপুরে মণিপুরি নাচের উৎপত্তি।
১৭০২ মাদ্রাজের প্রশাসক টমাস পিট চুরি করলেন পিট হীরক, এরপর তা ১ লক্ষ ৩৫ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে ফ্রান্সের রাজপ্রতিনিধির কাছে বেচে দিলেন।
১৭২০-৮১ রামপ্রসাদ সেন।
১৭২৩ ভারতে সফর করতে গিয়ে এক বণিক আবেস্তার একটি পাণ্ডুলিপি সাথে নিয়ে ব্রিটেনে ফিরলেন। ইওরোপীয়রা এই বইটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারল। পাণ্ডুলিপিটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বডলেইয়ান পাঠাগারে রাখা হল।
১৭২৫-৭৪ রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৩৩-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
১৭৪৩ লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত হল বাংলা বই।*
* মুদ্রিত বই তিনটি: ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ, কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ, ও ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগলা ই পোরতুগীজ। প্রথম বইটির লেখক বাঙালি, নাম দোম আন্তোনিয়ো। পরের দুইটির প্রণেতা-সংকলক মানোএল দা আসসুম্পসাউঁ।
১৭৪৭-৭৩ “আফগানিস্তানের জনক” খ্যাত আহমাদ শাহ দুররানির রাজত্বকাল।
১৭৫১ তামিলনাড়ুর আরকট কবজা করলেন ২৬-বছর-বয়সী রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৫৫ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বডলেইয়ান পাঠাগারে রাখা আবেস্তার পাণ্ডুলিপিটি আব্রাহাম হায়াসিন্থ আনকোতিল-দুপ্রে নামের এক ফরাসি পণ্ডিতের নজরে আসলো।
১৭৫৬-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলার আমল।
১৭৫৬ আলিবর্দি খানের মৃত্যু। সিরাজুদ্দৌলার হাতে প্রথমে কাশিমবাজার কুঠি, তারপর ফোর্ট উইলিয়ামের পতন। কলকাতা জয় করে নগরীর নতুন নাম দিলেন আলিনগর।
১৭৫৭ জানুয়ারি ২ ব্রিটিশ বণিকরা পুনর্দখল করল কলকাতা, পুনরুদ্ধার করল ফোর্ট উইলিয়াম। মণিহারির প্রান্তরে – বর্তমান নবাবগঞ্জ, বিহার – শওকত জংকে পরাস্ত করলেন সিরাজুদ্দৌলা।
ফেব্রুয়ারি আলিনগরে সিরাজুদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে সন্ধি করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন।
মার্চ ইংরেজি নৌবহর ফরাসি ঘাঁটি চন্দননগর আক্রমণ করল।
জুন কোম্পানির গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের মুর্শিদাবাদ যাত্রা।
২৩ পলাশীর যুদ্ধ, নিজের আত্মীয়, দেশি অমাত্য, আর বিদেশি বণিকদের ত্রিমুখী আক্রমণের শিকার হয়ে পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত হলেন নবাব সিরাজুদ্দৌলা। মুর্শিদাবাদের নবাবি আরো কিছুদিন নামকাওয়াস্তে টিকে থাকলেও সিরাজই শেষ স্বাধীন নবাব বিবেচিত হন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উপনিবেশিক শাসনের শুরুয়াত।
২৮ ব্রিটিশ পুতুল হিসেবে নামকাওয়াস্তে নবাব হলেন মির জাফর আলি খান। বাংলার গভর্নর হলেন রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৫৭-১৮৫৮ কোম্পানি আমল।
১৭৫৮ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হল চব্বিশ পরগনা।
১৭৫৯ রবার্ট ক্লাইভের সৈন্যরা মিরনকে গুলি করে হত্যা করল, ক্লাইভ অবশ্য রটিয়ে দিলেন বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে মিরনের।
১৭৬০ ওয়ান্ডিওয়াশের যুদ্ধ। ব্রিটিশ সেনারা ফরাসিদের পরাজিত করে।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রবার্ট ক্লাইভকে ইংল্যান্ডে ফেরত পাঠাল। কোম্পানির নতুন প্রশাসক হলেন হেনরি ভ্যানসিটারট। প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার পাউন্ড নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ক্লাইভ। তৃতীয় জর্জের রাজ্যাভিষেক। তিনি রবার্ট ক্লাইভকে ব্যারন অফ পলাশি খেতাব দিলেন। ভ্যানসিটারট মুর্শিদাবাদ গিয়ে মির জাফরকে অপসারণ করলেন। বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার নতুন নবাব হিসেবে মির জাফরের মেয়ের জামাই মির কাসিমকে স্বীকৃতি দেয়া হল।
নবাবকে রাজ্য পরিচালনার কাজে ‘সহযোগিতা’ করার দায়িত্ব দেয়া হল কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
সেপ্টেম্বর ২৭ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে বর্ধমান, মেদিনীপুর, ও চট্টগ্রাম জেলা তুলে দিলেন মির কাশেম।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রিটিশদের রাজস্ব প্রদান শুরু করল।
১৭৬১-৯৯ মহীশূর রাজ্য।
১৭৬১-৮২ হায়দার আলির রাজত্বকাল।
১৭৬১ ব্রিটিশদের হাতে ভারতে ফরাসিদের রাজধানী পণ্ডিচেরির পতন।
পানিপথের যুদ্ধ। মারাঠাদের পরাজিত করেন আফগান শাসক আহমদ শাহ দুররানি। মারাঠারা দক্ষিণে সরে যায়।
১৭৬২ আবেস্তা পুনরুদ্ধার করতে ভারত সফর করলেন আনকোতিল-দুপ্রে। ফ্রান্সে ফিরলেন ১৮০টা আবেস্তান পাণ্ডুলিপি সাথে নিয়ে। শুরু করলেন অনুবাদ।
১৭৬৩ কোম্পানির নতুন প্রশাসক জোসেফ অ্যামিয়টকে খুন করলেন মির কাসিমের সেনাপতি মুহাম্মদ ত্বকি খান। কোম্পানির পরিষদ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অ্যামিয়ট হত্যার বদলা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল। মির কাসিমের স্থলে আবার মির জাফর আলী খানকে বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার নবাবের পদে বসান হল। পলাশীর কাছাকাছি মির কাসিমের বাহিনী হেরে গেল ইংরেজ বাহিনীর কাছে। মুর্শিদাবাদের পতন ঘটল। কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।
১৭৬৩-১৮০০ ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।*
* ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকরা এই বিদ্রোহীদেরকে ‘ডাকাত’ হিসেবে দেখেছেন, উপমহাদেশের ‘মূলধারার’ জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকরাও এদেরকে প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দেন নি। কিন্তু ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ উপনিবেশিক আমলে যে-কৃষক বিদ্রোহের ঐতিহ্য তৈরি করেছিল, তাই পরবর্তী সকল কৃষক বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। এই বিদ্রোহের নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মজনু শাহ, ভবানী পাঠক, ও দেবী চৌধুরানী।
১৭৬৩-৬৯ উপনিবেশিক ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রথম পর্ব।
১৭৬৪ অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও কাশীর রাজা বলবন্ত সিংয়ের সাথে জোট বাঁধলেন মির কাসিম।
অক্টোবর ২২ বক্সারের যুদ্ধ। গঙ্গার তীরে বক্সার শহরে তিন বাহিনী ইংরেজদের মুখোমুখি হল। মেজর হেক্টর মুনরোর কাছে হেরে গেল মিলিত বাহিনী।
১৭৬৫ কুষ্ঠরোগে মির জাফর আলী খানের মৃত্যু।
মার্চ তৃতীয়বারের মত ভারতে এলেন রবার্ট ক্লাইভ। ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ ফেরার অনুমতি পেলেন সিরাজুদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নিসা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাঁর জন্য মাসিক ১০০ টাকা ভাতা বরাদ্দ করল।
আগস্ট ১২ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাৎসরিক ২৬ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলা, বিহার, ও ওড়িশার ভূমি রাজস্ব সংগ্রহ করার অধিকার, দেওয়ানি, লাভ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৭৬৫-৬৭ গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের দ্বিতীয় আমল।
১৭৬৭ প্রথম ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ।*
* এই যুদ্ধে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, মারাঠা, আর হায়দ্রাবাদের নিজামের সম্মিলিত বাহিনী মহীশূরের হায়দার আলীর কাছে পরাজিত।
১৭৬৭-৬৮ ত্রিপুরার সমশের গাজীর বিদ্রোহ।
১৭৬৯ হায়দার আলী, যিনি ১৭৬১ সালে মহীশূরের সিংহাসন দখল করেছিলেন, দক্ষিণ ভারতের বিশাল অংশ জয় করেন।
সন্দ্বীপের প্রথম কৃষক বিদ্রোহ।
১৭৭০ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিষ্কাশনমূলক রাজস্ব নীতির ফলে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। বাংলার ১ কোটি মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেলেন।
১৭৭০-৭২, ১৭৭৩-৭৮, ১৭৭৫-৮০, ১৭৮১-৮৬, ১৭৮৭-৯২ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ পর্ব।
১৭৭২-৮৫ বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংসের আমল।
১৭৭২-১৮৯০ লালন শাহ।
১৭৭২-১৮৩৩ রামমোহন রায়।
১৭৭৩ রেগুলেটিং অ্যাক্ট। বাংলার আফিমের উৎপাদন ও বিক্রয়ের ওপর একচেটিয়া অধিকার লাভ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ব্রিটিশ সংসদে অনুমোদন পেল ভারত নিয়ন্ত্রণ আইন।
১৭৭৩/৭৪ ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
১৭৭৫ আগস্ট ৬ মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসি।
১৭৭৫-৮৪ প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ।
১৭৭৬-৭৭ প্রথম চাকমা বিদ্রোহ।
১৭৭৭ ফকিরের বেশে রোহিলাখন্ড ও এলাহাবাদ হয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেয়া মির কাসিম কপর্দকশূন্য অবস্থায় রাস্তার পাশে মারা যান।*
* তাঁর শেষ সম্পদ ছিল দুটো দামি শাল। এগুলো বেচে মির কাসিমকে কবর দিতে হয়। শেষ হয়ে যায় মুর্শিদাবাদে নবাবি আমল।
১৭৭৮ সেপ্টেম্বর ৬ হুগলিতে প্রথম বাংলা ছাপাখানা স্থাপন করা হল।
১৭৭৯-১৮০২ ফরস্টার, ইংরেজি-বাঙ্গালা ও বাঙ্গালা-ইংরেজি অভিধান।
১৭৮০ জানুয়ারি ২৯ প্রকাশিত হতে শুরু করল হিকির বেঙ্গল গেজেট।
১৭৮০-৮৪ দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ।
১৭৮১ হায়দার আলীর ছেলে টিপু সুলতানের হাতে ব্রিটিশদের পরাজয়।
আরমানি বণিকরা ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করলেন আর্মেনীয় চার্চ। ইরানের ইস্ফাহানে জন্মানো জনৈক আরমানি বণিক জোসেফ ল্যাজারাসের এস্টেট থেকে এই চার্চর জন্য ১ লক্ষ রুপি এসেছিল।
বাংলার একটি মানচিত্র প্রকাশ করলেন মেজর জেমস রেনেল।
১৭৮২ হায়দার আলী মারা যান।
মারাঠাদের সাথে সালবাইয়ের সন্ধি করলেন হেস্টিংস, যাতে দক্ষিণে মনোযোগ দিতে পারেন।
দ্বিতীয় চাকমা বিদ্রোহ।*
* চাকমা রাজা শের দৌলত খানের মৃত্যু। চাকমাদের নতুন রাজা হলেন জান বকশ খান। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পিতার বিদ্রোহ অব্যাহত রাখেন তিনি।
১৭৮২-৯৯ টিপু সুলতানের রাজত্বকাল।
১৭৮৩ রংপুর বিদ্রোহ।
১৭৮৪ পাশ হল উইলিয়াম পিটের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অ্যাক্ট। উদ্দেশ্য কোম্পানির রাশ টেনে ধরে সংসদীয় কর্তৃত্বের অধীনে আনা। লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হল বোর্ড অব কন্ট্রোল।
যশোর ও খুলনার প্রথম প্রজাবিদ্রোহ।
জানুয়ারি ১৫ আইনজীবী ও ভাষাবিজ্ঞানী স্যার উইলিয়াম জোনস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটি।
জোনাথন ডানকান, মফস্বল দেওয়ানী আদালত সকলের ও সদর দেওয়ানী আদালতের বিচার ও ইনসাফ চলন হইবার কারণ ধারা ও নিয়ম।
১৭৮৪-৮৭ তৃতীয় ও শেষ চাকমা বিদ্রোহ।
১৭৮৫ ওয়ারেন হেস্টিংসের অভিশংসন। হেস্টিংসের উত্তরসূরি লর্ড কর্নওয়ালিস টিপু সুলতানকে পরাজিত করে তার অর্ধেক রাজ্য দখল করেন।
১৭৮৫-৮৬ বীরভূমের গণবিদ্রোহ।
১৭৮৬ ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় গভর্নর-জেনারেল হলেন লর্ড কর্নওয়ালিস।
উইলিয়াম জোনস কর্তৃক ঘোষিত হল ইন্দো-ইওরোপীয় ভাষাপরিবার।
১৭৮৬-৯৩ লর্ড কর্নওয়ালিসের প্রথম আমল।
১৭৮৭-৯৫ ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল থাকাকালীন সময়কার অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির দায়ে ব্রিটেনের সংসদে অভিশংসন বিচারের সম্মুখীন হলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। এই বিচারে প্রজিকিউশনের নেতৃত্বে দেন এডমুন্ড বার্কে। বিচারের মূলে ছিল উপনিবেশবাদ বিষয়ে দুই দৃষ্টিভঙ্গি। হেস্টিংস ব্রিটিশদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন, আর বিশ্বাসী ছিলেন নিরঙ্কুশ ক্ষমতার চর্চায়। বার্কে মনে করতেন, উপনিবেশের জনগণের অধিকারের একটা স্বীকৃতি থাকা দরকার, সাম্রাজ্যিক ক্ষমতার চর্চারও একটা সীমা থাকা উচিত। বিচার শেষে অধিকাংশ অভিযোগ থেকে খালাস পান হেস্টিংস, সংখ্যাগুরুর ভোট তার পক্ষে যাওয়ায় অভিশংসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ যায়। এটা ব্রিটেনের ইতিহাসের সবচে বিখ্যাত মামলাগুলার একটা।
১৭৮৭ চাকমা রাজা জান বখশ খান শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশদের বশ্যতা স্বীকার করলেন। বিনিময়ে ব্রিটিশরা অঞ্চলটির প্রশাসনিক ব্যাপারে নাক না গলানোর প্রতিশ্রুতি দিল। এসময় দ্বিতীয় শের দৌলত খান নামে অভিহিত আরেকজন চাকমা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।
১৭৮৮ ন্যাথানিয়াল ব্র্যাসি হ্যালহেড, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৭৮৯ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে চাকমা রাজা দ্বিতীয় শের দৌলত খানের বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়ে গেল, এর ফলে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
১৭৮৯-৯১ বীরভূম ও বাঁকুড়ার পাহাড়িয়া বিদ্রোহ।
১৭৯০-৯২ তৃতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ।
১৭৯০ নবাব সিরাজুদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নিসার মৃত্যু।
১৭৯৩ সিভিল সার্ভিসের সংস্কার।
আপজন, ইঙ্গরাজি ও বাঙালা বোকবিলারি।
১৭৯২ বাখরগঞ্জের সুবান্দিয়া বিদ্রোহ।
১৭৯৩ সিভিল সার্ভিসের সংস্কার।
১৭৯৩-৯৪ লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, স্থানীয় অনুগত জমিদারদের হাতে পাকাপাকিভাবে ভূমি মালিকানা তুলে দিল, সর্বনাশ করল বাংলার কৃষকদের।*
* এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, উমর (২০২৫)।
১৭৯৩-১৮০০ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের শেষ পর্ব।
১৭৯৩-১৮০১ আফগানিস্তানে জামান শাহ দুররানির রাজত্বকাল।
১৭৯৫ নভেম্বর ১৫ গেরাসিম লেবেদেফ, ছদ্মবেশী।
১৭৯৬ যশোর ও খুলনার দ্বিতীয় প্রজাবিদ্রোহ।
১৭৯৭-৯৮ শিখদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের জামান শাহ দুররানির দুটি অভিযান। ব্যর্থ হয়ে গেল। লাহোরে নিজেরই রাজ্যপাল রঞ্জিৎ সিংয়ের কাছে হারলেন।
১৭৯৮ ব্রিটিশ ভারতের তৃতীয় গভর্নর-জেনারেল হলেন লর্ড ওয়ালেসলি।
১৭৯৮-১৮০৫ লর্ড ওয়েলেসলি আমল।
১৭৯৯ চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ। ৫ হাজার ব্রিটিশ সৈনিক মহীশূরের রাজা টিপু সুলতানের রাজধানী শ্রীরঙ্গপত্নম দখল করে নিল। শহিদ হলেন টিপু।
১৮০১-১৮৩৯ পাঞ্জাবে শিখ সাম্রাজ্য স্থাপন করলেন ‘শের-ই-পাঞ্জাব’ মহারাজা রণজিৎ সিং।
১৮০১ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করা হল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ।*
আজকে আমরা “প্রমিত” বাংলা বলতে যা বুঝি, তা এই কলেজের তৈয়ার; বাংলা ভাষা থেকে বিপুল পরিমাণে আরবিফারসি গোড়ার শব্দ খেদিয়ে ও অপ্রচলিত সংস্কৃত গোড়ার শব্দ আমদানি করে তৈরি করা হয় এই উপনিবেশিক বাংলা।
উইলিয়াম কেরি, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৮০৩ ব্রিটিশদের দিল্লি বিজয়, স্থায়ী রাজনৈতিক প্রতিনিধির প্রতিষ্ঠা।
শ্রীরামপুরের মিশনারিদের দ্বারা মুদ্রিত হল কৃত্তিবাসের রামায়ণ।
১৮০৩-৫ দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ।*
* ব্রিটিশরা দিল্লি দখল করে নিল এবং ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করল।
আওধের নবাব তার রাজ্যের দক্ষিণ ও পশ্চিম জেলাগুলো ব্রিটিশদের কাছে হস্তান্তর করেন।
১৮০৫ লর্ড ওয়েলেসলির দ্বিতীয় আমল।
১৮০৬ ভেলোর বিদ্রোহ রক্তাক্ত উপায়ে দমন করা হল।
১৮০৭-১৩ লর্ড মিন্টো আমল।
১৮০৭ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জনৈক কর্মচারী জেমস প্রিন্সেপ প্রথমবারের মত সম্রাট অশোকের শিলালিপিগুলোর পাঠোদ্ধার করতে সমর্থ হলেন।*
* বহু আগেই, সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক মীরাটে সম্রাট অশোকের একটি স্তম্ভলিপির সন্ধান পেয়েছিলেন। তিনি সেটি দিল্লি নিয়ে আসেন এবং তাঁর দরবারের পণ্ডিতদের বলেন এর পাঠোদ্ধার করতে। পণ্ডিতরা ব্যর্থ হন। (শর্মা ২০১৭)
১৮১২ ময়মনসিংহের কৃষক বিদ্রোহ।
১৮১২-৯৫ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
১৮১৩ ভারত সনদ আইন।
এপ্রিল ২০ সতীদাহ নিষিদ্ধ করল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।* কোম্পানির সনদ নবায়ন করা হল। এ বছরই মিশনারিদের খ্রিস্টধর্ম প্রচারের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হয়।
* “একই সাথে সহমরণকে আইনীভাবে রিকগনাইজ করে। নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, ১৬ বছরের নিচে বিধবা হলে, গর্ভবতী অবস্থায় হলে বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মা বিধবা–এনারা সহমরণে যেতে পারবে না; এবং নেশাদ্রব্য সেবন বা জোরারোপের মাধ্যমে স্বামীর চিতায় বিধবাকে পোড়ানো যাবে না; সহমরণের একমাত্র বৈধ উপায় বিধবার উইল; বিধবার ইচ্ছা ভিন্ন কোন উপায় নাই আর। বিধবার ‘উইল’ জিনিসটা এইখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ; ইংরেজ তথা ইউরোপীয় অনুমান ছিলো সহমরণ হয় না আসলে, ওইটা সতীদাহ।” (মনু ২০১৩)
১৮১৩-২৩ লর্ড হেস্টিংস আমল।
১৮১৫ প্রতিষ্ঠিত হল আর্যসভা।
১৮১৭ জানুয়ারি ২০ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করা হল হিন্দু কলেজ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ, বঙ্গভাষাভিধান।
১৮১৭-১৯ তৃতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ।
১৮১৭-৯৮ সৈয়দ আহমদ খানের জীবনকাল।
১৮১৮ মারাঠাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের চূড়ান্ত বিজয়।
শ্রীরামপুরের মিশনারিরা প্রকাশ করলেন বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা দিকদর্শন। এ বছরই শ্রীরামপুর মিশন থেকে জে সি মার্শম্যানের সম্পাদনায় বেরোল একটি সাপ্তাহিকপত্র সমাচার দর্পন। প্রকাশিত হল গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য ও হরচন্দ্র রায়ের বাঙ্গালা গেজেট। রাজা রাধাকান্ত দেবের সংস্কৃত অভিধান শব্দকল্পদ্রুময়ের মুদ্রণ শুরু হল।
১৮১৯ সন্দ্বীপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কৃষক বিদ্রোহ।
১৮২০-৯১ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
রাধাকান্ত দেব, বাঙ্গালা শিক্ষক।
১৮২৩-২৮ লর্ড আর্মহার্স্ট আমল।
স্থাপিত হল জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইন্সট্রাকশন। কলকাতায় স্থাপিত হল রক্ষণশীল গৌড়ীয় সমাজ। খিদিরপুর ডকে নির্মিত হল প্রথম বাষ্পশক্তি-চালিত জাহাজ ডায়ানা।
১৮২৪ ব্যারাকপুরে সিপাহি বিদ্রোহ।
১৮২৪-৭৩ মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
১৮২৪-৬১ হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
১৮২৪-৮৩ স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী।
১৮২৫-১৯১৭ দাদাভাই নওরোজী।
১৮২৫-২৭ ময়মনসিংহের প্রথম ‘পাগলপন্থী’ বিদ্রোহ।
১৮২৫ ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ থেকে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় শ্রমিক রিইউনিয়ন ও মরিশাসে অভিবাসিত হলেন।
উইলিয়াম কেরি, বাঙ্গালা অভিধান।
১৮২৬ রামমোহন রায়, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৮২৮ লাখেরাজ জমি বাজেয়াপ্ত করার আইন।
রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল ব্রাহ্মসভা। পরবর্তীতে ব্রাহ্ম সমাজে পরিণত হয়। ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
১৮২৮-৩৩ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক আমল।
১৮২৯ কলকাতা মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে ঐচ্ছিক ও অতিরিক্ত বিষয় হিসাবে ইংরেজি ভাষা চালু করা হল।
১৮৩০-৩৯ দরবারি ভাষা হিসেবে ফারসিকে প্রতিস্থাপিত করল ইংরেজি।
১৮৩১ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন বারাসাতের মীর নিসার আলি। ইতিহাসে যিনি তিতুমীর নামেই অমর হয়ে আছেন। ব্রিটিশরা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা কামান দেগে উড়িয়ে দেয়।
নভেম্বর ১৪ শহিদ হন তিতুমীর। তাঁর অনুসারীদের ১৪০ জনকে প্রহসনের বিচারের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিতুমীরের ভাগ্নে ও সেনাপতি গোলাম মাসুমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মাসুমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ধবংসপ্রাপ্ত বাঁশের কেল্লার সামনে তাঁকে ফাঁসি দেয়ার মাধ্যমে।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় বেরোতে শুরু করল সম্বাদপ্রভাকর।
১৮৩২-৩৩ ময়মনসিংহের দ্বিতীয় ‘পাগলপন্থী’ বিদ্রোহ।
১৮৩৩ সনদ আইন*, ব্রিটিশ সংসদে এই আইন পাশ হওয়ার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসায়িক তৎপরতার আইনী অবসান ঘটল।
* ব্রিটিশ সংসদে এই আইন পাশ হওয়ার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসায়িক তৎপরতার আইনী অবসান ঘটে।
রামমোহন রায়, গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
হটন, বাঙ্গালা-ইংরেজি অভিধান।
১৮৩৪ ব্রিটিশ ভারতের প্রথম আইন কমিশন গঠিত হল।
রামকমল সেন, আ ডিকশনারি ইন ইংলিশ অ্যান্ড বেঙ্গলি।
১৮৩৪/৬-১৮৮৬ রামকৃষ্ণ পরমহংস।
১৮৩৫ ব্রিটিশ ভারতে পশ্চিমা শিক্ষা বিস্তারের পক্ষে ম্যাকলের মিনিট। ইংলিশ এডুকেশন অ্যাক্ট, ফারসির বদলে ইংরেজিকে দাপ্তরিক ও দরবারি ভাষার মর্যাদা দেয়া হল। মরিশাসে ১৯ হাজার শর্তাবদ্ধ ভারতীয় শ্রমিকের আগমন।
১৮৩৬-৪২ লর্ড অকল্যান্ড আমল।
১৮৩৭-৮২ ময়মনসিংহের গারো বিদ্রোহ।
১৮৩৮ আদালতে ফারসির পরিবর্তে ইংরেজি চালু করা হল। হাজী শরিয়তুল্লার নেতৃত্বে শুরু হল ফরায়েজি আন্দোলন।
১৮৩৮-৪৭ ফরায়েজি আন্দোলন।
১৮৩৮-৯৪ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১৮৩৯ ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করলেন ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম হাউইট।
১৮৪০ ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরিয়তুল্লার মৃত্যু।
ঢাকার জনসংখ্যা কমতে কমতে ৫০ হাজারে এসে ঠেকল।
১৮৪০-৭০ কালীপ্রসন্ন সিংহ।
১৮৪১ প্রতিষ্ঠিত হল ঢাকা কলেজ।
১৮৪২-৪৪ লর্ড এলেনবরা আমল।
১৮৪৩ ব্রিটিশরা সিন্ধু প্রদেশ দখল করে নিল। ডক্ট্রিন অফ ল্যাপস। কোন দেশীয় রাজা ওয়ারিশ না রেখে মারা গেলে তার রাজ্য গ্রাস করে নেয়ার আইন বানানো হল।
ব্রাহ্ম সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করে তুললেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৮৪৪-৪৮ লর্ড হার্ডিঞ্জ আমল।
১৮৪৪ সরকারি চাকরির জন্য ইংরেজি জানা অত্যাবশ্যক ঘোষিত হল।
১৮৪৪-৯০ কুকি বিদ্রোহ।
১৮৪৫-৪৬ প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধ।
১৮৪৭ ব্রিটিশ ভারতে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরিয়তুল্লার ছেলে দুদু মিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিচার শুরু হল। এই প্রহসনের বিচারে তাঁরা দোষী সাব্যস্ত হন এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজা লাভ করেন। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করলে পূর্ববর্তী রায় বাতিল হয়ে যায় এবং দুদু মিয়া ও তাঁর অনুসারীরা মুক্তি লাভ করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বেতালপঞ্চবিংশতি।
১৮৪৭-১৯১২ মীর মশাররফ হোসেন।
১৮৪৮ জুন ১২ ঢাকার প্রথম প্রাইভেট স্কুল পোগোজ স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন আরমানি বণিক জোয়াখিম গ্রেগরি নিকোলাস পোগোজ, ওরফে “নিকি পোগোজ।”
১৮৪৮-৪৯ দ্বিতীয় ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধ।
১৮৪৮-১৯২৮ সৈয়দ আমীর আলী।
১৮৪৮-১৯২৫ সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী।
১৮৪৮-৫৬ লর্ড ডালহৌসি আমল।
১৮৪৯ শিখদের পরাজিত করে পাঞ্জাব নিয়ে নিল ব্রিটিশরা।
১৮৪৯-১৮৫৬ বাংলা, রাজস্থান, পাঞ্জাব, আর আওধের প্রিন্সলি স্টেটগুলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন গভর্নর-জেনারেল লর্ড ডালহৌসি।
১৮৫০-৯৫ বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের – যা অতীতে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (এনডব্লিউএফপি) নামে পরিচিত ছিল – নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটিশ ও রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হল, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে গ্রেট গেম নামে পরিচিত।*
* ম্যাকিদোনিয়ার সেকান্দার শা থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর তক সব বিজেতাই এই প্রদেশস্থিত খাইবার পাস দিয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছেন।
১৮৫০-৫৯ বাংলায় রেলপথের বিস্তার।
১৮৫০ তিপ্রা বিদ্রোহ।
শ্যামাচরণ সরকার, বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
১৮৫২ হানা ক্যাথরিন মুলেন্স,ফুলমণি ও করুণার বিবরণ।
১৮৫৩ ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় আইন কমিশন গঠিত হল। বোম্বে ও থানেকে সংযুক্ত করা রেলরাস্তা বসানো হল।
১৮৫৩-১৯৩১ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
১৮৫৪ বোম্বেতে প্রথম কাপড়ের কারখানা খোলা হল। ডাকটিকেট চালু করা হল। শকুন্তলা বাংলায় অনুবাদ করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
১৮৫৪-১৯২২ হাসন রাজা।
১৮৫৫-৫৭ সাঁওতাল বিদ্রোহ।
১৮৫৫ হিন্দু বিধবা আইন প্রবর্তন করা হল। কলকাতা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হল। হিন্দু কলেজের নাম বদলে প্রেসিডেন্সি কলেজ রাখা হল।
১৮৫৬-১৯২০ বাল গঙ্গাধর তিলক।
১৮৫৬-১৯১৮ শিরডির সাই বাবা।*
* তাঁকে হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই ভালোবাসেন। হিন্দুরা তাঁকে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শিবের অবতার মনে করেন। আর মুসলমানরা তাঁকে একজন ফকির হিসেবে দেখেন।
১৮৫৬-১৯২৩ অশ্বিনীকুমার দত্ত।
১৮৫৬-৬২ লর্ড ক্যানিং আমল।
১৮৫৭ জানুয়ারি ১ প্রতিষ্ঠা করা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
কলকাতা, বোম্বে, ও মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হল।
মার্চ ২৯ ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহ করল ৩৪ দেশীয় পদাতিক বাহিনীর বিদ্রোহ। মহাবিদ্রোহ। দিল্লির সেপাইরা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। দ্রুত উপমহাদেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহের আগুন।*
* এই বিদ্রোহ শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামে হলেও কার্যত এর কোনো একক কেন্দ্র বা নেতৃত্ব ছিল না, সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে যে যার মত করে লড়েছেন। মহাবিদ্রোহের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব – প্রিন্স আজিমুল্লাহ, নানাসাহেব, ঝাঁসির রানী লক্ষী বাঈ, আওধের নবাব বেগম হযরত মহল। এই বিদ্রোহ ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়াতে সক্ষম না হলেও সাম্রাজ্যকে ধাক্কা দিয়েছিল, পরের বছর কোম্পানি বিলুপ্তি করে দিয়ে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনস্ত করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পুনরাবৃত্তি রোখা।
মে ১১ বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে নিলেন।
সেপ্টেম্বর ১৪ বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ব্রিটিশরা ছিনিয়ে নিল দিল্লি।
২১ বাহাদুর শাহ জাফরের সিংহাসনত্যাগের মধ্য দিয়ে ৩৩১ বছর বয়সী মুঘল সাম্রাজ্যের অবসান।*
* মার্কিন ঐতিহাসিক রিচার্ড এম. ইটন দিল্লি সুলতানশাহি আর মুঘল সাম্রাজ্যের ছয়শো বছরকে বলেছেন পার্সিয়ানাত: ফারসি ভাষার সাম্রাজ্য। ১৮৫৭ সালের আগ পর্যন্ত ভারত – গ্রিকে ইন্ডিয়া আর ফারসিতে হিন্দুস্তান – স্রেফ একটা geographical territory ছিল, রাষ্ট্র নয়। ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলেই কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী প্রতিষ্ঠান অর্থে রাষ্ট্র হয়ে ওঠে, যার উত্তরাধিকার বর্তমান পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ।
১৮৫৮ সিপাহি যুদ্ধের কারণে ব্রিটিশ রাজপরিবার বুঝতে পারে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনের জন্য একটা বোঝায় পরিণত হচ্ছে। খোদ ব্রিটেনে কোম্পানির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছিল।
নভেম্বর ১ রানী ভিক্টোরিয়া ভারত শাসনের দায়ভার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে নিজের হাতে তুলে নিলেন; ব্রিটিশ সংসদে লর্ড স্ট্যানলির আনা ভারত বিল পাশের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে আনা হয়। এই শতকের শেষাবধি, ভারতবর্ষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডে রাজ করে ব্রিটিশরা।*
* বাকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থাকে প্রিন্সলি স্টেটগুলোর দখলে। ১৯৪৭ সাল নাগাদ এরকম ৫০০-৬০০ প্রিন্সলি স্টেট ছিল, যাদের শাসকরা ব্রিটিশদের সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে, আধা-স্বাধীনভাবে রাজত্ব করতেন। ১৯৪৭-৪৯ সালে অধিকাংশ প্রিন্সলি স্টেট ভারতে ও অল্প কয়েকটি পাকিস্তানে যোগদান করে; অবশ্য জম্মু ও কাশ্মির, জুনাগড় এবং হায়দারাবাদের মত কয়েকটি প্রিন্সলি স্টেট নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
ভারতীয়দের সিভিল সার্ভিসে যোগদানের অধিকার দেয়া হল। স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমান সমাজের ব্রিটিশ কৃষ্টিকালচার গ্রহণ করে নেয়ার ও ইসলামের সংস্কারের পক্ষে কলম ধরলেন।
প্যারীচাঁদ মিত্র, তখল্লুস টেকচাঁদ ঠাকুর, আলালের ঘরের দুলাল।*
* এই উপন্যাসটি সাধু ভাষায় লেখা হয় নি। আজকের দিনে ‘প্রমিত চলিত বাংলা’ বলতে যা বোঝায় এমনকি তাতেও নয়। প্যারীচাঁদ মিত্র আলালের ঘরের দুলাল লিখেছিলেন সমকালীন চলতি ভাষায়।
১৮৫৮-১৯৪৭ ব্রিটিশ রাজ।
১৮৫৮-১৯৩৭ জগদীশ চন্দ্র বসু।
১৮৫৯ বাংলার ভূমিরাজস্ব আইন: ভারতের প্রথম প্রজাস্বত্ব আইন।
১৮৫৯-৬১ নীল বিদ্রোহ।*
* বাংলার ইতিহাসে প্রচারণার মাধ্যমে যাঁদের ‘উনিশ শতকের মহাপুরুষ’ বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তাঁরাসহ বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের প্রায় সবাই ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের মত নীল বিদ্রোহের ব্যাপারেও নির্লিপ্ত ছিলেন। হরিশ মুখার্জি এই ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। হিন্দু প্যাট্রিয়ট পত্রিকার এই সম্পাদক শুধু যে নীল বিদ্রোহে বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থন দিয়েছেন তাই নয়, বিদ্রোহী চাষীদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছেন।
১৮৬০ পার্বত্য চট্টগ্রাম দখল করে নিল ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তি। চট্টগ্রাম থেকে আলাদা করল। পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে একটি স্বতন্ত্র জেলা গঠন করল।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সীতার বনবাস।
দীনবন্ধু মিত্র, নীলদর্পণ।
১৮৬০-১৯২০ ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকার বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সেচকার্যের প্রকল্প হাতে নেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পাঞ্জাবকে পাকিস্তানের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত করে। প্রদেশটির জন্য এর ফল হয়েছে সুদূরপ্রসারী। পাকিস্তানের সবচে ক্ষমতাশালী প্রদেশ পাঞ্জাব, দেশটির রাজনীতি অর্থনীতি মূলত পাঞ্জাবিরাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
১৮৬০-৬১ কুকি অভ্যুত্থান।
১৮৬১-১৯৪১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনকাল।
১৮৬১ সুন্দরবন অঞ্চলের বিদ্রোহ।
ব্রিটিশ ভারতের তৃতীয় আইন কমিশন গঠিত হল। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট। ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা (ভারতীয় সদস্যরা ভাইসরয় কর্তৃক মনোনীত)।
আহমেদাবাদে একটি কাপড়ের কারখানা খোলা হল।
মার্চ ৭ প্রকাশিত হতে শুরু করল ঢাকার প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশ।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মেঘনাদবধ কাব্য।
১৮৬১-১৯৪১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৮৬২ বার্মায় নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন বাহাদুর শাহ জাফর।
সেপ্টেম্বর ২৪ ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা দুদু মিয়ার মৃত্যু।
১৮৬২-৬৩ লর্ড এলগিন আমল।
এ সময়ই কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা হাইকোর্ট। স্থাপন করা হয় ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ের লাইন।
১৮৬২-১৯০২ স্বামী বিবেকানন্দ।
১৮৬৩ জমাতিয়া বিদ্রোহ।
মৌলভী আবদুল লতিফ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি।
কালীপ্রসন্ন সিংহ, হুতোম প্যাঁচার নকশা।
১৮৬৩-১৯১৩ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
১৮৬৪-৬৮ স্যার জন লরেন্স আমল।
১৮৬৪ হজ পালন করলেন ভোপালের নবাব সিকান্দার বেগম।
১৮৬৫ ইওরোপের সাথে ব্রিটিশ ভারতের টেলিযোগাযোগ স্থাপিত হল।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দুর্গেশনন্দিনী।
১৮৬৬-৮৮ এ সময়ই কখনো দেওবন্দে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা।*
* এই মাদ্রাসার বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপনিবেশবাদবিরোধী লড়াইয়ে অবদান রেখেছেন।
১৮৬৬ ওড়িশা দুর্ভিক্ষ, ১৫ লক্ষ ভারতীয়র মৃত্যু।
১৮৬৯-৭২ লর্ড মেয়ো আমল।
প্রতিষ্ঠা করা হল চট্টগ্রাম কলেজ।
১৮৬৯-১৯৪৮ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
১৮৬৯ উইলিয়াম শেকসপিয়ারের কমেডি অফ এররস বাংলায় রূপান্তরিত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বেরোলো ভ্রান্তিবিলাস নামে। তালাক আইন।
১৮৭০-১৯২৫ চিত্তরঞ্জন দাশ।
১৮৭০ সন্দ্বীপের চতুর্থ কৃষক বিদ্রোহ। ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে সরাসরি টেলিগ্রাফ লাইন। বঙ্গচন্দ্র রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হল পাক্ষিক বঙ্গবন্ধু।
গঠন করা হল পুনে সর্বজনিক সভা।
১৮৭১-১৯১৫ নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ।
১৮৭২-৭৬ লর্ড নর্থব্রুক আমল।
১৮৭২ ব্রিটিশ ভারতের প্রথম আদমশুমারি। পাঞ্জাবের নামধারী বিদ্রোহ। পার্বত্য চট্টগ্রামে এ সময় পাহাড়িদের জনসংখ্যার হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি। বাঙালিদের জনসংখ্যার হার মাত্র ১.৭৩ শতাংশ।
চুক্তি আইন ও সাক্ষ্য আইন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত হল বঙ্গদর্শন পত্রিকা।
১৮৭২-১৯৪৮ অরবিন্দ ঘোষ।
১৮৭৩ সিরাজগঞ্জে কৃষক বিদ্রোহ। পাবনা জেলার সর্বত্র গড়ে উঠল কৃষক সমিতি। প্রতিষ্ঠা করা হল রাজশাহী কলেজ।
মীর মশাররফ হোসেন, জমিদার দর্পণ।
১৮৭৩-১৯২৪ মহাকবি কুমারান আসান।
১৮৭৩-৭৫ মহারাষ্ট্রে মহাজনদের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ।
১৮৭৪ বাংলা ও বিহারে দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সির বাংলাভাষী অঞ্চল গোয়ালপাড়া ও কাছারকে আসামের সাথে যুক্ত করা হল। প্রতিষ্ঠা করা হল ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা।
১৮৭৫ স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল আর্য সমাজ। হেলেনা ব্লাভাতস্কি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল থিওজফিকাল সোসাইটি। সাবালক আইন।
১৮৭৬-১৯৪৮ মুহাম্মদ আলি জিন্না।
১৮৭৬-৮০ লর্ড লিটন আমল।
১৮৭৬-৭৭ ভাইসরয় লর্ড লিটনের দায়ে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ।
১৮৭৭ জানুয়ারি ১ মহারানী ভিক্টোরিয়াকে ভারতবর্ষের সম্রাজ্ঞী ঘোষণা করা হল।
নাগপুরের কাপড়ের কলে প্রথম শ্রমিক ধর্মঘট। কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হল জাতীয় মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিষ্ঠা করা হল সেন্ট্রাল মোহামেডান এসোসিয়েশন।
১৮৭৭-১৯৩৮ আল্লামা ইকবাল।
১৮৭৮ ব্রিটিশ ভারতে পাশ হল দুটি নিবর্তনমূলক আইন: ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট আর আর্মস অ্যাক্ট।
১৮৭৯ বাসুদেব বলবন্ত ফাড়কের বিদ্রোহ।
১৮৭৯-৮৩ রাম্পার কৃষক অভ্যুত্থান।
১৮৮০-৮৫ লর্ড রিপন আমল।
১৮৮০ আফগান যুদ্ধে পরাজয় ব্রিটিশ নির্বাচনকে প্রভাবিত করে। গ্ল্যাডস্টোন লিবারেল ভাইসরয় লর্ড রিপনকে ভারতে পাঠান।
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম দুর্ভিক্ষ কমিশন গঠিত হল।
১৮৮০-১৯৭৬ মৌলানা ভাসানী।
১৮৮০-১৯৩২ মিসেস আর এস হোসেইন।*
* বেগম রোকেয়া নামে অধিক পরিচিত। যদিও বেগম তাঁর নামের অংশ নয়। মিসেস আর এস হোসেইন নামে লিখতেন।
১৮৮১ ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় আদমশুমারি। প্রণয়ন করা হল ব্রিটিশ ভারতের প্রথম কারখানা আইন। ইসমাইলি নেতা প্রথম আগা খানের মৃত্যু।
১৮৮২ ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট বাতিল করা হল।
১৮৮৩ প্রণীত হল ফেমিন কোড।
১৮৮৪-৮৮ লর্ড ডাফরিন আমল।
ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করা হল জগন্নাথ কলেজ।
১৮৮৪ বোম্বেতে বস্ত্রকল শ্রমিকদের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হল। প্রতিষ্ঠিত হল প্রথম ভারতীয় শ্রমিক ইউনিয়ন।
১৮৮৫-৯১ মীর মোশাররফ হোসেন, বিষাদসিন্ধু।
১৮৮৫ ইম্পেরিয়াল সিভিল সার্ভিসের, পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা, অ্যালান অক্টাভিয়াম হিউম প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি)।
১৮৮৫-১৯ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
১৮৮৭-১৯২৩ সুকুমার রায়।
১৮৮৯-১৯৬৪ জওহরলাল নেহরু।
১৮৯১ এইজ অফ কনসেন্ট বিল।*
*বাংলা আর মহারাষ্ট্রের হিন্দুদের বিরোধিতার মুখে স্ট্যাচুয়েটরি রেপের বয়সসীমা ১০ থেকে ১২ করল ব্রিটিশ ভারতের উপনিবেশিক সরকার।
মণিপুরে গণঅভ্যুত্থান।
সিলেটে প্রতিষ্ঠা করা হল এম সি কলেজ।
সৈয়দ আমির আলী, দ্য স্পিরিট অফ ইসলাম।
১৮৯১-১৯৫৬ বাবাসাহেব ভীমরাও রামজি আম্বেদকার।
১৮৯২ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট। ব্রিটিশ ভারতের বাংলা, বোম্বে, আর মাদ্রাজের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলোর প্রতিনিধিদের অপ্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত করার আইন পাশ হল। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পরীক্ষায় বসার বয়স বাড়িয়ে ২৩ করা হল।
আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে উদ্বোধন।
১৮৯৩ ব্রিটিশ ভারতের ফরেন সেক্রেটারি মর্তিমার দুরান্দ কর্তৃক আফগানিস্তান আর ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার মাঝখানে আঁকা হল দুরান্দ রেখা। এই রেখা আঁকা হয়েছিল পশতুনদের গোত্রীয় জমিজমার ওপর দিয়ে। এই রেখা আঁকার মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম সংসদে অংশ নিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। ‘গোরক্ষা’ ইস্যুতে হিন্দু মুসলমান উত্তেজনা দেখা দিল।
ঢাকায় দুর্ভিক্ষ।
১৮৯৩-১৯৫২ পরমহংস যোগানন্দ।
১৮৯৫-১৯৮৬ জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তি।
১৮৯৬-১৯৭৭ এ. সি. ভক্তিবেদান্ত।*
* ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) প্রতিষ্ঠাতা।
১৮৯৬ ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা ও মারাঠি পণ্ডিত বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রচেষ্টায় উদযাপিত হল গণেশ বিসর্জন ও শিবাজি উৎসব।*
* তিলকই প্রথম ‘পূর্ন স্বরাজ’-য়ের দাবি উত্থাপন করেন।
১৮৯৭ ব্রিটিশ ভারতে একটি বড় মাপের দুর্ভিক্ষ চলাকালে রানী ভিক্টোরিয়ার হীরক জয়ন্তী উদযাপিত হল।
মার্চ ১ স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করলেন রামকৃষ্ণ মিশন।
রিখটার স্কেলে ৮.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প বাংলা ও আসামে আঘাত হানল।
১৮৯৭-১৯৪৬ সুভাষচন্দ্র বসু।
১৮৯৮ মানিকগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হল দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠাতা হীরালাল সেন। ভোলার এসডিওর বাংলোতে প্রথম বায়োস্কোপ প্রদর্শনীতে কিছু ফুটেজ দেখানো হল, পরে ঢাকার সদরঘাটের পটুয়াটুলীতে পুনঃপ্রদর্শিত হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি আইন।
১৮৯৯-১৯০৪ লর্ড কার্জন আমল।
১৮৯৯ কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠা করা হল ভিক্টোরিয়া কলেজ।
১৮৯৯-১৯৭৬ কাজী নজরুল ইসলাম।
১৯০০-৭৩ নিম কারোলি বাবা।
১৯০০ ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর জয়দেবপুর প্রাসাদে ছায়াছবি প্রদর্শন করল হীরালাল সেনের দ্য রয়েল বায়োস্কোপ কোম্পানি।
ব্রিটেনে এ সময় ব্রিটিশ ভারত থেকে ১৩৭ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থমূল্যের চা রফতানি হচ্ছে।
মে ১৭ পাশ হল চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল ল।
১৯০১ ব্রিটিশ সাংবাদিক উইলিয়াম ডিগবি লিখলেন, “দেড়শ বছর আগেও বাংলা ব্রিটেনের চেয়ে অনেক বেশি ধনী ছিল।”
ব্রিটিশ ভারতের প্রথম এথনোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করলেন হার্বার্ট রিজলি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল শান্তিনিকেতন।
দাদাভাই নওরোজী, পোভার্টি অ্যান্ড আন-ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া।
১৯০২ শিক্ষানীতি ঘোষণা করলেন লর্ড কার্জন।
১৯০৩-৭৯ আবু আলা মওদূদী।
১৯০৩-১৯২৮ জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন (সংকলন ও সম্পাদনা), লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।
১৯০৩ লর্ড কার্জনের দিল্লি দরবার। সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ডের রাজ্যাভিষেক।
১৯০৪-১০ দ্বিতীয় লর্ড মিন্টোর আমল।
১৯০৫ অক্টোবর ১৬ ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকরা বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করলেন, উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ গঠন করা। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে শুরু হল স্বদেশী আন্দোলন। লর্ড কার্জনের পদত্যাগ।
শ্যামাজি কৃষ্ণবর্মা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল দ্য হোমরুল সোসাইটি।
১৯০৬ কলকাতায় বালগঙ্গাধর তিলক উদ্বোধন করলেন শিবাজি উৎসব।
ডিসেম্বর ৩০ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (এআইএমএল)।
মিসেস আর এস হোসেইন, সুলতানার স্বপ্ন।
১৯০৬-০৮ অনুশীলন সমিতির তৎপরতা বৃদ্ধি।
১৯০৭ সুরাটে আইএনসির কংগ্রসে প্রথম ভাঙন দেখা দিল। কুমিল্লা, জামালপুর, ও পাবনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নেপাল গমন।*
* তিনি নেপালি রাজপরিবারের গ্রন্থাগার থেকে কয়েকটি অপরিচিত বই নিয়ে আসেন, এর একটি চর্যাপদ।
১৯০৮ জুলাই ১৩-২২ বালগঙ্গাধর তিলকের মামলা ও ছয় বছরের কারাদণ্ড।
২৩ সাধারণ রাজনৈতিক ধর্মঘট।
২৪ বোম্বেতে রাজনৈতিক ধর্মঘট।
আগস্ট ১১ ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি।
সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীদের কার্যক্রম শুরু। বি.এ. পরীক্ষা পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য আবশ্যিক পাঠ্য হিসাবে নির্ধারিত হল। দেওয়ানি কার্যবিধি ও তামাদি আইন।
১৯০৯ মর্লে-মিন্টো সংস্কার। মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচনব্যবস্থা চালু করা হল।
১৯০৯-৬৬ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা।
১৯১০ রাজশাহীতে বরেন্দ্র গবেষণা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৯১০-১৬ লর্ড হার্ডিঞ্জ আমল।
১৯১১-৩২ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
১৯১১ সেপ্টেম্বর ৪ প্রতিষ্ঠা করা হল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি।
ডিসেম্বর ১২ পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষ্যে ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে শেষবারের মত বসল দিল্লি দরবার, তাতে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হল।
জামশেদপুরে নির্মিত হল ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ধাতুশিল্প কারখানা।
১৯১২ ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হল।
১৯১৩ মুসলিম লীগে যোগ দিলেন গুজরাটের মুহাম্মদালি জিন্নাভাই।* যুক্তরাষ্ট্রে গঠিত হল ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন (পরে, গদর পার্টি)। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
* পরবর্তীতে তাঁর নামের প্রথম অংশের মুহাম্মদ আরআলি আলাদা হয়ে যাবে আর জিন্নাভাই থেকে ভাই ঝরে পড়বে, তিনি হয়ে উঠবেন মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ।
আগস্ট ৭ প্রতিষ্ঠা করা হল ঢাকা যাদুঘর।
১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
এ সময়ই কখনো জনৈক ইংরেজ কর্তৃক পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় স্থাপিত হল ঢাকার প্রথম সিনেমা হল পিকচার হাউজ।
১৯১৪-২০০২ স্বামী সচ্চিদানন্দ।
১৯১৪ মুসলিম লীগ ক্রমেই ব্রিটিশবিরোধী অবস্থান নিতে শুরু করায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আগা খান।
১৯১৫ হরিদ্বারে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।*
* অংশত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়ায় গড়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মাতৃসংগঠন বলা যেতে পারে। এই সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, বসু (২০২৩)।
বার্লিনে প্রতিষ্ঠিত হল ভারত স্বাধীনতা কমিটির সংগঠন। কাবুলে প্রতিষ্ঠিত হল প্রবাসী অস্থায়ী ভারত সরকার। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে এলেন গান্ধী।
নভেম্বর সিঙ্গাপুরে ভারতীয় সেপাইদের বিদ্রোহ। গান্ধীর নেতৃত্বে প্রথম সত্যাগ্রহ আন্দোলন।
১৯১৬ লখনৌ চুক্তি। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সই হয়। গঠিত হল নিখিল ভারত হোমরুল লীগ।
পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা।
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ,শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।*
* রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ১৩৮৫ সালের আগের কোনো সময়ে রচিত হয়। এখন মনে করা হয়, এটি ১৩৫০ থেকে ১৪০০ সালের মাঝামাঝি কখনো রচিত হয়েছিল। কাব্যের নামটি অবশ্য কবি বড়ু চণ্ডীদাস দেননি, দিয়েছেন সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ, যিনি ১৯০৯ সালেবাঁকুড়ার এক গেরস্তের গোয়ালঘর থেকে কাব্যটি উদ্ধার করেন।
১৯১৭ রুশ বিপ্লব।
মন্টেগুর ‘দায়িত্বশীল সরকার’ সংক্রান্ত ঘোষণা।
নির্বাক সিনেমা সত্যবাদী রাজা হরিশচন্দ্রয়ে প্রথমবারের মত বাংলা সাবটাইটেল ব্যবহার করা হয়।
জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস, বাঙ্গালা অভিধান।
১৯১৮ মাদ্রাজে প্রতিষ্ঠিত হল ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন।
আগস্ট আইএনসিতে আবার ভাঙন দেখা দিল। গঠিত হল লিবারেল ফেডারেশন।
খেলাফত আন্দোলন গ্রহণ করে নিল মুসলিম লীগ।
স্পেনীয় ফ্লুতে সারা পৃথিবীতে ২ কোটি ১৬ লক্ষ মানুষের মৃত্যু। এদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভারতীয়।
ব্রিটেনের রয়েল সোসাইটির ফেলোশিপ পেলেন শ্রীনিবাস রামানুজন।
১৯১৮-২০০৮ মহর্ষি মহেশ যোগী।
১৯১৯ ভারত শাসন আইন। মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার। প্রদেশগুলিতে দ্বৈতশাসন।
মার্চ ৩০ রাওলাট আইনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ ভারত জুড়ে হরতাল।
এপ্রিল ১৩ অমৃতসরের কসাই রেজিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড।
১৯১৯-২২ অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলন।
১৯২০-৭৫ শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯২০ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম পর্যায়।
সেপ্টেম্বর অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করে নিল আইএনসি।
অক্টোবর ১৭/২৬ মধ্য এশিয়ার তাশখন্দে অথবা ব্রিটিশ ভারতের কানপুরে গঠিত হল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)।*
* সিপিআই গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে, দেখুন, আহমদ (১৯৬৯)।
ডিসেম্বর আইএনসি কর্তৃক গৃহীত হল প্রথম পার্টি সংবিধান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেন পরমহংস যোগানন্দ। গঠিত হল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)। প্রতিষ্ঠিত হল নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস।
বর্তমান পাকিস্তানে আবিষ্কৃত হল সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা।
দীনেশচন্দ্র সেন (সম্পাদিত), ময়মনসিংহ গীতিকা।
১৯২০-২৯ ঢাকায় বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হল গড়ে ওঠে: সিনেমা প্যালেস (পরে মোতিমহল ও রূপমহল), লায়ন সিনেমা, মুকুল সিনেমা (পরে আজাদ)।
১৯২১-২৬ লর্ড রিডিং আমল।
স্ট্যাটিউট ল রিভিশন কমিটি গঠন করা হল।
১৯২১-২২ যুক্তপ্রদেশে চাষীদের একা আন্দোলন, পাঞ্জাবে আকালি আন্দোলন, মালাবারে মাপিলা বিদ্রোহ।
১৯২১ মে আসামে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট।
জুলাই ১ প্রতিষ্ঠা করা হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
নভেম্বর বোম্বেতে চারদিনের রাজনৈতিক ধর্মঘট।
ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হল।
১৯২২ জানুয়ারি ২৭ সিরাজগঞ্জের সালংগার হাটে বিদেশী পণ্য বর্জনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে বহু মানুষ হতাহত।
ফেব্রুয়ারি বারদোলি প্রস্তাব।
মে চৌরিচৌরা থানার ঘটনা। অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন গান্ধী।
আগস্ট ১১ প্রকাশিত হল কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘ধূমকেতু’।
নভেম্বর ২৩ প্রথমবারের মত নিষিদ্ধ হল নজরুলের বই যুগবাণী।
ব্রিটিশ সরকার কবি ইকবালকে নাইটহুড প্রদান করল। আয়কর আইন।
কাজী নজরুল ইসলাম, ব্যথার দান।
১৯২২-২৭ পেশওয়ার ষড়যন্ত্র মামলা।
১৯২৩ খনি আইন ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন।
বিনায়ক দামোদর সাভারকার, হিন্দুত্ব: হু ইজ আ হিন্দু?
১৯২৪ বাংলা, পাঞ্জাব, ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (এনডব্লিউএফপি) মত ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে ফেডারেল কাঠামোর আওতায় কয়েকটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ গঠনের দাবি তুলল অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ। কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হলেন চিত্তরঞ্জন দাশ আর ডেপুটি মেয়র হলেন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী।
স্থাপিত হল ঢাকার দ্বিতীয় সিনেমা হল সিনেমা প্যালেস।*
* পরে এর নাম পাল্টে রাখা হয় রূপমহল।
১৯২৫ বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে কেশব বলিরাম হেজওয়ার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল হিন্দুত্ববাদী আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।
১৯২৬ দেশীয়করণ আইন।
১৯২৬-৪৭ সুকান্ত ভট্টাচার্য।
১৯২৬-৩০ ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, ও বরিশালে দাঙ্গা।
১৯২৬-৩১ লর্ড আরউইন আমল।
১৯২৭ অম্বুজপ্রসন্ন গুপ্ত, সুকুমারী।
১৯২৮ বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন (সংশোধিত)। গঠন করা হল সাইমন কমিশন। ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় স্থাপিত হল ম্যাডান থিয়েটার্স লিমিটেড।
ঢাকায় বানানো প্রথম নির্বাক সিনেমা সুকুমারি।
১৯২৯ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন।
ডিসেম্বর ১৫ কলকাতার আলবার্ট হলে কাজী নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা দেয়া হল।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পথের পাঁচালী।
১৯৩০ প্রতিবেদন দাখিল করল সাইমন কমিশন।
মার্চ ১২-৬ এপ্রিল গান্ধীর লবণ মার্চ ও অসহযোগ আন্দোলন।
লন্ডনে প্রথম গোলটেবিল বৈঠক কংগ্রেস কর্তৃক বয়কট।
৮ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন।
১৯৩০-৩১ মহামন্দা (কৃষি মূল্যের পতন) ভারতকে আঘাত করে। কংগ্রেস কর্তৃক কৃষক অস্থিরতা প্রকাশিত।
১৯৩১ গান্ধী-আরউইন চুক্তি। গান্ধী দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন।
অমর চৌধুরী, জামাই ষষ্ঠী।*
প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, দেনাপাওনা।**
অম্বুজপ্রসন্ন গুপ্ত, দা লাস্ট কিস।***
* ঢাকায় বানানো প্রথম সবাক সিনেমা।
** কলকাতায় বানানো প্রথম সবাক সিনেমা।
*** এই নির্বাক সিনেমার পৃষ্ঠপোষক ছিল ঢাকার নবাব পরিবার। প্রথম প্রদর্শিত হয় ঢাকার মুকুল টকিজে। সিনেমার প্রথম প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আর সি মজুমদার।
১৯৩১-৩৬ লর্ড উইলিংডন আমল।
১৯৩২ সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ও পুনা চুক্তি।*
* * গান্ধী-আম্বেদকর চুক্তি নামে অধিক পরিচিত। হিন্দু আর দলিত কিংবা তফসিলি জাতিদের মধ্যে। অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক নির্বাচনী এলাকার পরিবর্তে সংরক্ষিত আসন।
অসহযোগ আন্দোলন পুনরায় শুরু। অংশীদারী আইন।
১৯৩৩ অসহযোগ আন্দোলনের সমাপ্তি।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চার পর্বে সমাপ্ত শ্রীকান্ত উপন্যাসের শেষ পর্ব প্রকাশিত, ১৯১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছিল।
নৈতিকতা বিরোধী বৃত্তি দমন আইন ও শিশু (শ্রম বন্ধ) আইন।
১৯৩৪ কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচন। কংগ্রেস বেশ কয়েকটি আসন জেতে।
জানুয়ারি ১২ সূর্যসেন ও তারকেশ্বরের ফাঁসি।
১৯৩৫ আগস্ট ২ ভারত শাসন আইন।*
* ভারতে একটি ফেডারেটেড সরকার প্রতিষ্ঠা করা হল। কেন্দ্রের শাসনভার থাকল ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের হাতে। আর প্রদেশগুলোর শাসনভার অর্পিত হল নির্বাচিত স্থানীয় কর্মকর্তাদের হাতে।
দীনেশচন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ।
১৯৩৬ নির্বাচন। কংগ্রেস সাতটি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
অক্টোবর ৩১ কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করল দৈনিক আজাদ।
ফোর্ট উইলিয়ামের প্রেসিডেন্সি থেকে উড়িষ্যাকে বিচ্ছিন্ন করা হল।
গঠিত হল সর্বভারতীয় কৃষক সভা।
মজুরি পরিশোধ আইন।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, পুতুলনাচের ইতিকথা।
১৯৩৬-৪৩ লর্ড লিনলিথগো আমল।
১৯৩৭-১৯৪৭ বাংলা প্রদেশ।
১৯৩৭ এপ্রিল ১ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তিত।*
* ভারত শাসন আইনয়ের ভিত্তিতে এ বছর ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ব্রিটিশ ভারতের আটটি প্রদেশের সবগুলোতে জেতে ও প্রাদেশিক সরকার গঠন করে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি)। মুসলিম লীগ প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে জিতে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলেও কংগ্রেসি রাজনীতিকরা মুসলিম লীগের রাজনীতিকদের কিছু ছাড় দেন।
গভর্নরের জরুরি ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবাদের পর কংগ্রেস পদ গ্রহণ করে।
১৯৩৮ ঋণ শালিসি বোর্ড গঠন করা হল। জমিদারি প্রথা উচ্ছেদে ফ্লাউড কমিশন গঠন করা হল। শিশু নিয়োগ আইন।
অক্টোবর ১ নিখিল ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের সভাপতির ভাষণে হিন্দির পরিবর্তে উর্দুকে ভারতের সাধারণ ভাষারূপে গ্রহণ করার প্রস্তাব দিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
১৯৩৯ কংগ্রেস মন্ত্রীদের পদত্যাগ।
ডিসেম্বর ১৬ ঢাকা থেকে প্রথম বেতার অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হল।
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা আইন, ও মোটরযান আইন।
১৯৪০ মার্চ ২৩ লাহোর প্রস্তাব।*
* ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলনে মুসলমান-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দাবি গৃহীত হল।
ডিসেম্বর ২০ কলকাতার ওপর প্রথমবারের মত বোমাবর্ষণ করল সাম্রাজ্যিক জাপান।
দীনেশচন্দ্র সেন, প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।
সুকুমার রায়, পাগলা দাশু।
১৯৪১ জানুয়ারি ১৫ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান।
আগস্ট ২৬ লাহোর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে আবু আলা মওদূদী প্রতিষ্ঠা করলেন জামায়াতে ইসলামী।*
* মওদূদী লাহোর প্রস্তাব সমর্থন করেননি। কেননা তিনি সর্বপ্রকার জাতীয়তাবাদকে ‘ইসলামবিরোধী’ বলে মনে করতেন।
ডিসেম্বর ১০ মুসলিম লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেন শেরে বাংলা।
১২ গঠিত হল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা।
খনি শ্রমিক প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা আইন।
১৯৪২ ভারতে আপোস প্রস্তাব নিয়ে ক্রিপস মিশনের আগমন। এই মিশন থেকে প্রস্তাব রাখা হল, বিশ্বযুদ্ধের পরে ভারতকে ডমিনিয়ন স্ট্যাটাস দেয়া হবে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল।
আগস্ট ৯ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হল ভারত ছাড় আন্দোলন।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অক্ষশক্তির সাথে হাত মেলালেন। তার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আইএনএ) বার্মায় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হল। আইএনএ ও সাম্রাজ্যিক জাপানের হাতে সিঙ্গাপুরের পতন।
১৯৪৩ পঞ্চাশের মন্বন্তর।*
* চার্চিলের উপনিবেশিক বর্ণবাদী নীতির ফলে বাংলায় দুর্ভিক্ষ। চলল ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত। এ সময় মারা যান ৩৫ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের পরাস্ত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ইওরোপে যুদ্ধনায়ক বিবেচিত হন চার্চিল, আর সেটা ন্যায্যও বটে। কিন্তু ফসলে উদ্বৃত্ত বাংলায় ভাতের জন্য হাহাকার করতে করতে মৃত্যুবরণ করা ৩৫ লক্ষ বাঙালির চোখে উইনস্টন চার্চিল কোন নায়ক ছিলেন না। ইতিহাসে নায়ক আর খলনায়কের বিচারটা অত্যন্ত আপেক্ষিক। বিস্তারিত জানতে, দেখুন Mukherjee (2010) ও Mukherjee (2015)।
১৯৪৩-৪৫ অস্থায়ী আজাদ হিন্দ সরকার (আর্জি হুকুমতে-আজাদ হিন্দ)।*
* জাপান সাম্রাজ্যের পুতুল সরকার বলে বিবেচিত হয়।
১৯৪৩-৪৭ লর্ড ওয়াভেল আমল।
১৯৪৪ গান্ধী-জিন্নাহ আলোচনা ফলবিহীন শেষ হয়।
মার্চ ১৮ মণিপুর আক্রমণ করল আজাদ হিন্দ ফৌজ।
আগস্ট কোহিমা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজ পিছু হঠল।
আবুল মনসুর আহমেদ, ফুড কনফারেন্স।
১৯৪৫ ব্রিটিশ ভারতের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে মুসলমান-সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোতে মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবিতে প্রচারণা চালাল মুসলিম লীগ।* প্রায় সবকটি মুসলিম আসনে মুসলিম লীগ জিতল। অমুসলিম আসনগুলোর ৯১ শতাংশ জিতল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি)।
* এ সময় থেকেই অখণ্ড পাকিস্তানের ধারণা সংহত হয়।
সিমলা সম্মেলন। জিন্নাহর দাবির কারণে জাতীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন সম্ভব হয়নি।
এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু।
১৯৪৬ ফেব্রুয়ারি ১৮-২৫ ভারতীয় রাজকীয় নৌবাহিনীতে বিদ্রোহ।
এপ্রিল ৯ অখণ্ড পাকিস্তানের প্রস্তাব দিলেন হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী।
মে ১৬ ব্রিটিশ ভারতে কেবিনেট মিশনের আগমন। কিন্তু ভবিষ্যৎ ভারত সরকারের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর ব্যাপারে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) ও মুসলিম লীগের নেতারা একমত হতে না পারায় মিশন ব্যর্থ হল।
আগস্ট ১৬ মুহাম্মদ আলি জিন্না পাকিস্তানের প্রতি মুসলমানদের অঙ্গীকারবদ্ধতা প্রদর্শন করতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের ডাক দিলেন। কলকাতা, নোয়াখালি, ও বিহারে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা। অমৃতসর ও লাহোরে শিখ মুসলিম দাঙ্গা।
তেভাগা আন্দোলন শুরু।
গঠিত হল অন্তর্বর্তী সরকার: জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী।
হিমাদ্রি চৌধুরী, দুঃখে যাদের জীবন গড়া।*
* “ঐ সময়ে কোলকাতার চলচ্চিত্র শিল্প ছিল পুরোপুরি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রিত। প্রথম দিকে অবশ্য কিছু সংখ্যক পরিবেশক ছবির পরিচালক ওবায়েদ-উল-হক-এর নামেই ছবিটি মুক্তি দিতে রাজি হয়েছিলেন। সেভাবে ছবির প্রচারও চালানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে আসতে লাগলো হুমকির পর হুমকি। চিঠি এলো “মুসলিম পরিচালক ওবায়েদ-উল-হক-এর নামে যে সব হলে ছবি মুক্তি দেয়া হবে, সেগুলো পুড়িয়ে দেয়া হবে।” ফলে ওবায়েদ-উল-হক বাধ্য হয়ে পরিবর্তিত হলেন ‘হিমাদ্রি চৌধুরী’ নামে। পরিচালক হিমাদ্রি চৌধুরী এই নামেই ওবায়েদ-উল-হক পরিচালিত ছবি ‘দুঃখে যাদের জীবন গড়া’ মুক্তি ১৯৪৬ সালের ২০ ডিসেম্বর।” (কাদের ১৯৯৩)
১৯৪৭ ফেব্রুয়ারি ২০ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, ১৯৪৮ সালের জুনে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
মার্চ ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় হলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
এপ্রিল ২৭ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা গঠনের আহবান জানালেন সোহরাওয়ার্দী।
মে ২০ শরৎচন্দ্র বসু আর আবুল হাশিমের দস্তখতে প্রকাশিত হল স্বাধীন বাংলার কাঠামো।
জুন ৩ ভারত ও পাকিস্তানের ভিত্তিতে স্বাধীনতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল, যার অর্থ ছিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের দুই ভাগ হয়ে যাওয়া।
২০ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাসমূহের কংগ্রেস সদস্য, হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও কমিউনিস্ট পার্টির জ্যোতি বসু সমেত ৫৮ জন বিধায়ক বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের ১১৬ জন মুসলিম লীগ সদস্য বাংলা ভাগের বিপক্ষে ও ৩৪ জন কংগ্রেস সদস্য বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট দেন। অমুসলিমদের মধ্যে দলিতদের তফশিলি ফেডারেশনের ৫ জন বিধায়কও বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দেন।
জুলাই ৬-৭ গণভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানে যোগদানের রায় দিল সিলেট।
১৮ ব্রিটেনের পার্লামেন্টে পাশ হল ভারতের স্বাধীনতা আইন।
আগস্ট ১৩ র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ। খুলনার মতও পার্বত্য চট্টগ্রামও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হল।*
* এটা চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস পিপলস এসোসিয়েশন ভালোভাবে নেয়নি। ফলে রাঙামাটিতে ভারতের জাতীয় পতাকা আর বান্দরবানে বার্মার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
১৪, মধ্যরাত ব্রিটিশ ভারতের অবসান।
১৪ ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের একটি স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষিত হল পাকিস্তান অধিরাজ্য (Dominion of Pakistan)।*
* ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত টিকে ছিল। দরবারি প্রধান ছিলেন ব্রিটেনের রাজা, পরবর্তীতে রানী। ১৯৫৬ সালে প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে পাকিস্তানের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ফেডারেল অধিরাজ্য স্ট্যাটাস বিলুপ্ত হয়।
১৫ ব্রিটিশ সাধারণতন্ত্রের একটি স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্র ঘোষিত হল ভারত অধিরাজ্য (Dominion of India)।*
* ১৯৫০ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকে ছিল। দরবারি প্রধান ছিলেন ব্রিটেনের রাজা। ১৯৫০ সালে প্রজাতন্ত্র গঠিত হলে ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ফেডারেল অধিরাজ্য স্ট্যাটাস বিলুপ্ত হয়।
১৭ পার্টিশন বাউন্ডারি। বাউন্ডারি কমিশন প্রধান সিরিল র্যাডক্লিফ কর্তৃক ব্রিটিশ ভারত ভাগ হল।*
* হিন্দু, মুসলমান, ও শিখদের আন্তঃসাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হল। গৃহহীন হলেন ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। ১৯৪৯ সালের মধ্যে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য ভারতে এবং অল্প কয়েকটি পাকিস্তানে যোগ দেয়।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি।
তথ্যসূত্র
আজাদ, হুমায়ুন। ২০১৯। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ সপ্তদশ মুদ্রণ। আগামী।— ২০২১। কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ একাদশ মুদ্রণ। আগামী।
আন্তোনভা, কোকা, বোনগার্দ-লেভিন, গ্রিগোরি, ও কতোভস্কি, গ্রিগোরি। ১৯৮৮। ভারতবর্ষের ইতিহাস। তৃতীয় সংস্করণ। মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় ও দ্বিজেন শর্মা কর্তৃক অনূদিত। প্রগতি প্রকাশন।
আহমদ, মুজফ্ফর। ১৯৬৯। আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। এনবিএ।
ইকবাল, ড. শহীদ। ২০১৮। বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাস। দ্বিতীয় সংস্করণ। আহমদ পাবলিশিং হাউস।
উমর, বদরুদ্দীন। ২০২৫। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে বাঙলাদেশের কৃষক। বাতিঘর।
কাদের, মির্জা তারেকুল। ১৯৯৩। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প। বাংলা একাডেমি।
বসু, সৌম্য। ২০২৩। অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মহাসভা: সমাজনীতি ও রাজনীতি ১৯১৫-৪৭। বুকপোস্ট।
বাংলাপিডিয়া।
মনু, রক। ২০১৩। “সহমরণ হতে সতীদাহ।” বাছবিচার।
https://bacbichar.net/2013/07/art.1154.bb/
রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর। ২০০৮। বাংলাদেশের তারিখ। তৃতীয় সংস্করণ। মাওলা ব্রাদার্স।
রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।
রায়, সুপ্রকাশ। ২০১৮। ভারতের কৃষক-বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। দ্বিতীয় র্যাডিকাল প্রকাশ। র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন।
শর্মা, রাম শরণ। ২০১৭। প্রাচীন ভারত। ষষ্ঠ মুদ্রণ। সুমন চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক ভাষান্তরিত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষৎ।
হাসান, ইমরুল। ২০২২। আ ক্রিটিকাল হিস্ট্রি অফ বাংলাদেশি সিনেমা। প্রথম সংস্করণ। বাছবিচার।
Haq, Fahmidul. 2020. Cinema of Bangladesh: A Brief History. Nokta.
Jones, Constance A., and Ryan, James D. 2007. Encyclopedia of Hinduism. Facts On File.
Kulke, Hermann, and Dietmar Rothermund. 2004. A History of India. 4th ed. Routledge.
Mansingh, Surjit. 2006. Historical Dictionary of India. 2nd ed. The Scarecrow Press.
Mcleod, John. 2015. The History of India. 2nd ed. Greenwood.
Mukherjee, Janam. 2015. Hungry Bengal: War, Famine and the End of Empire. Oxford University Press.
Mukerjee, Madhusree. 2010. Churchill’s Secret War: The British Empire and the Ravaging of India During World War II. Basic Books.
Phillips, Douglas A., and Gritzner, Charles F. 2003. India. Chelsea House.
Robinson, Andrew. 2014. India: A Short History. Thames & Hudson.
Rose, Jenny. 2011. Zoroastrianism: A Guide for the Perplexed. Bloomsbury.
Tharoor, Shashi. 2016. An Era of Darkness: The British Empire in India. Aleph Book Company.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



