নাৎসি জার্মানি

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Heathen History.

“Nazism was not radical enough, it did not dare to disturb the basic structure of the modern capitalist social space (which is why it had to invent and focus on destroying an external enemy, Jews). This is why one should oppose the fascination with Hitler according to which Hitler was, of course, a bad guy, responsible for the death of millions—but he definitely had balls, he pursued with iron will what he wanted. […] This point is not only ethically repulsive, but simply wrong: no, Hitler did not ‘have the balls’ to really change things; he did not really act, all his actions were fundamentally reactions, i.e., he acted so that nothing would really change, he stages a big spectacle of Revolution so that the capitalist order could survive.”

Slavoj Žižek (1949-), Slovenian Philosopher & Cultural Critic

“National Socialism had created a new type of political criminals: criminals who had not committed a crime.”

Vasily Grossman (1905-64), Soviet Writer & Journalist

“A thousand years will pass and still this guilt of Germany will not have been erased.”

Hans Frank (1900-46), Nazi War Criminal

“To sum it all up, I must say that I regret nothing.”

Adolf Eichmann (1906-62), German-Austrian Nazi SS Officer & War Criminal

“The trouble with Eichmann was precisely that so many were like him, and that the many were neither perverted nor sadistic, that they were, and still are, terribly and terrifyingly normal.”

Hannah Arendt (1906-75), German-American Political Theorist

“Those who cannot remember the past are condemned to repeat it.”

George Santayana (1863-1952), Spanish-American Philosopher

সাল

১৮৫১ রিচার্ড ভাগনার, জিউইশনেস ইন মিউজিক

১৮৫৬ আর্থার দে গোবিনু, ট্রিটিজ অন দি ইনইকুয়ালিটি অফ হিউম্যান রেসেস

১৮৭১ অটো ফন বিসমার্ক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হলো জার্মান সাম্রাজ্য।

১৮৭৩ উইলহেল্ম মার, দ্য ভিক্টোরি অফ জিউডম ওভার জার্মানডোম: ভিউপয়েন্ট ফ্রম আ নন-কনফেশনাল স্ট্যান্ডপয়েন্ট

১৮৭৮ বার্লিনে ইহুদিবিদ্বেষী ক্রিশ্চিয়ান সোশাল পার্টি গঠন করলেন এডলফ স্টোকার।

১৮৮৯ এপ্রিল ২০ অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ অন দ্য ইনে জন্ম নিলেন এডলফ হিটলার।

১৮৮৯-১৯৪৫ Adolf Hitler – Wikipedia

১৮৯১ গঠন করা হলো প্যান-জার্মান লীগ।

১৮৯২ জার্মান কনজারভেটিভ পার্টির টিভোলি কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে জার্মানিতে “কলুষিত” ইহুদি প্রভাব হ্রাস করার আহবান জানানো হলো।

১৮৯৯ সামাজিক নীতিতে ইউজেনিকসের প্রয়োগ বিষয়ক একটি নিবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেন ভিলহেল্ম শালমেয়ার।

আর্য “রেসের” শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে এবং তাদের লেবেনস্রাময়ের (লিভিং-স্পেস) জরুরতের কথা উল্লেখ করে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করলেন লুডভিগ ভোল্টম্যান।

হাউস্টন স্টুয়ার্ট চেম্বারলিন, দ্য ফাউন্ডেশনস অফ দ্য নাইন্টিন্থ সেঞ্চুরি

১৯০৫ প্রতিষ্ঠা করা হলো রেসিয়াল হাইজিন সোসাইটি।

১৯১২ গঠন করা হলো জার্মানিক অর্ডার।*
* পরবর্তীতে থুলে সোসাইটি।

হেইনরিখ ক্লাস, ইফ আই ওয়্যার দ্য কাইজার

১৯১৪-১৮ World War I – Wikipedia

১৯১৪ আগস্ট প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। বাভারিয়ান সেনাবাহিনীতে নাম লেখালেন হিটলার।

১৯১৭ রুশ বিপ্লব। গঠন করা হলো দ্য ফাদারল্যান্ড পার্টি।

১৯১৮-১৯ German revolution of 1918–1919 – Wikipedia

১৯১৮ নভেম্বর জার্মানি আত্মসমর্পণ করলো। সম্রাট মসনদ ছাড়লেন। ঘোষিত হলো জার্মান প্রজাতন্ত্র।

১৯১৯ জানুয়ারি বার্লিনে কমিউনিস্ট অভ্যুত্থান। নির্বাচিত হলো জাতীয় পরিষদ।
মিউনিখে গঠন করা হলো জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি (ডিএপি)।

ফেব্রুয়ারি সংবিধান মুসাবিদা করতে ভাইমারে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসলো।

এপ্রিল ৪-১ মে মিউনিখে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র।

জুন ২৮ ভার্সাই চুক্তি সাক্ষরিত।

জুলাই ৩১ অনুমোদন লাভ করলো ভাইমার সংবিধান।

আগস্ট ঘোষিত হলো ভাইমার প্রজাতন্ত্র। প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন ফ্রেডরিখ এবার্ট।

সেপ্টেম্বর ১৬ জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে (ডিএপি) যোগ দিলেন হিটলার।

১৯২০ ফেব্রুয়ারি জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নাম বদলে ন্যাশনাল সোশালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি ((Nationalsozialistische Deutsche Arbeiterpartei: NSDAP)* রাখা হলো। গৃহীত হলো ২৫ দফা কর্মসূচি।
* ১৯২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হিটলার দলটি পুনর্গঠন করেন। ১৯৩৩ সালের জুলাই থেকে ১৯৪৫ সালের মেতে জার্মানি আত্মসমর্পণ করার আগ পর্যন্ত নাৎসি পার্টিই ছিলো দেশটির একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল। হিটলার ছিলেন দলের সর্বময় নেতা বা ফ্যুরার (Führer)।

মার্চ ১৩-১৭ বার্লিনে ডানপন্থী কাপ-লুটভিজ অভ্যুত্থান। ব্যর্থ হলো। রুর অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ।

১৯২০-৪৫ Nazi Party – Wikipedia

১৯২১ জুলাই এডলফ হিটলারকে নাৎসি পার্টি প্রধান বানানো হলো।

নভেম্বর গঠন করা হলো স্টর্মট্রুপার্স (এসএ)।

১৯২২ জুন গুপ্তহত্যার শিকার হলেন নাৎসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাল্টার রাথেনু।

আগস্ট জার্মান মুদ্রার পতনের সূচনা; দ্রুত মুদ্রাস্ফীতির সূত্রপাত।

১৯২২-৯১ সোভিয়েত ইউনিয়ন – সময়রেখা

১৯২৩ জানুয়ারি ১১ রুর অঞ্চল দখল করে নিলো ফরাসি ও বেলজীয় সেনারা।

সেপ্টেম্বর ২৬ রুর অঞ্চলে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিরোধ অভিযানের সমাপ্তি ঘটালো জার্মান সরকার।

অক্টোবর সাক্সোনি ও থুরিঙ্গিয়ায় কমিউনিস্ট অভ্যুত্থান।
২৩ মুদ্রাস্ফীতির সর্বোচ্চ বিন্দু। ১ ডলারের মূল্য এ সময় ৪০০ কোটি মার্ক।

নভেম্বর ৮-৯ মিউনিখে হিটলারের নেতৃত্বে বিয়ার হল অভ্যুত্থান। ব্যর্থ হলো। নাৎসি পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হলো।

১৯২৪ ফেব্রুয়ারি-মার্চ হিটলারের বিচার। ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলো। তিনি জেলে বসে মাইন কাম্ফ লিখতে শুরু করেন।

মে রাইখস্ট্যাগ নির্বাচন।

ডিসেম্বর জেল থেকে মুক্তি পেলেন এডলফ হিটলার। জাতীয় নির্বাচন।

১৯২৫ ফেব্রুয়ারি নাৎসি পার্টি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলেন হিটলার। গঠন করা হল এসএস।

এপ্রিল ২৬ জার্মানির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন হিন্ডেনবার্গ।

জুলাই প্রকাশিত হলো মাইন কাম্ফয়ের প্রথম খণ্ড।

১৯২৮ মে জাতীয় নির্বাচন। নাৎসি পার্টি মাত্র ২.৬% ভোট পেলো। রাইখস্ট্যাগে জিতলো ১২টি আসন।

ডিসেম্বর প্রকাশিত হলো মাইন কাম্ফয়ের দ্বিতীয় খণ্ড।

১৯২৯ জানুয়ারি এসএসের রাইখসফ্যুরার হিসেবে নিয়োগ পেলেন হিমলার।

অক্টোবর Wall Street crash of 1929 – Wikipedia

১৯৩০ মার্চ জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেলেন হাইনরিশ ব্রুনিং।

সেপ্টেম্বর জাতীয় নির্বাচন। নাৎসি পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ালো ১৮.৩%। রাইখস্ট্যাগে জিতলো ১০৭টি আসন।

১৯৩১ মে জার্মান ব্যাংক সংকট।

জুন জার্মানির ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেন হুভার।

অক্টোবর ১১ গঠন করা হল ভাইমার-বিরোধী হার্জবুর্গ ফ্রন্ট।

১৯৩২ জানুয়ারি জার্মানিতে বেকারের সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়ে গেলো।

মার্চ ১৩/এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে হিটলারকে পরাজিত করে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন হিন্ডেনবার্গ।

জুন জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেলেন ফ্রানৎস ফন পাপেন।

জুলাই জাতীয় নির্বাচন। নাৎসি পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ালো ৩৭.৩%। রাইখস্ট্যাগে জিতলো ২৩০টি আসন।*
প্রুসেনস্ট্রেইখ। প্রুশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটালেন পাপেন।
* বৃহত্তম সংসদীয় দল হয়ে উঠলো নাৎসি পার্টি।

নভেম্বর জাতীয় নির্বাচন। নাৎসি পার্টির প্রাপ্ত ভোটের হার একটু কমলো: ৩৩.১% শতাংশ। রাইখস্ট্যাগে জেতা আসন সংখ্যাও ১৯৬টিতে নেমে এলো।

ডিসেম্বর জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেলেন কুর্ট ফন শ্লেইচার।

১৯৩৩-৪৫ Nazi Germany – Wikipedia।*
* থার্ড রাইখ বা তৃতীয় সাম্রাজ্য নামেও পরিচিত।

১৯৩৩ জানুয়ারি ৩০ হিটলারকে জার্মানির চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দিলেন হিন্ডেনবার্গ।

ফেব্রুয়ারি ২৭ Reichstag fire – Wikipedia
২৮ রাইখস্ট্যাগ* ফায়ার ডিক্রি। যা জনগণ ও রাষ্ট্রের সুরক্ষা বিষয়ক ডিক্রি বলেও পরিচিত।
* জার্মান সংসদ। হিটলার রাইখস্ট্যাগ ভেঙে দেন নাই। কিন্তু এ বছরের মার্চ মাসের এনাবলিং অ্যাক্টের মাধ্যমে এর আইন প্রণয়ন ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছিলো।

মার্চ জার্মানির বিভিন্ন রাজ্য ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া শুরু করলো নাৎসিরা।
নাৎসি পার্টি মাত্র ৪৩.৯% ভোট পেলো। রাইখস্ট্যাগে জিতলো ২৮৮টি আসন।
১৩ প্রতিষ্ঠা করা হলো মিনিস্ট্রি অফ পাবলিক এনলাইটেনমেন্ট অ্যান্ড প্রোপাগান্ডা।
২০ প্রতিষ্ঠা করা হলো দাচাউ কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।
২১ পটসডাম দিবসে রাইখস্ট্যাগ খুলে দেয়া হলো।
২৪ ৪৪৪ ভোটে পাশ হলো এনাবলিং অ্যাক্ট। বিপক্ষে ৯৪টি ভোট পড়ে।
৩১ জার্মান রাজ্যগুলোর সমন্বয় সাধন সংক্রান্ত প্রথম আইন।

এপ্রিল প্রুশিয়ায় গঠন করা হলো গেস্তাপো।
দেশ জুড়ে ইহুদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের বয়কট করা শুরু হলো। বাভারিয়ার রাজনৈতিক পুলিশের প্রধান নিযুক্ত হলেন হিমলার।
৭/২৭ পাশ হলো ল ফর দ্য রেস্টোরেশন অফ দ্য প্রফেশনাল সিভিল সার্ভিস। রাজ্যগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দ্বিতীয় আইন। রাইখ গভর্নরের পদ তৈরি করা হলো।

মে ট্রেড ইউনিয়নগুলো বিলুপ্ত করা হলো। গঠন করা হলো জার্মান লেবার ফ্রন্ট (ডিএএফ)। নাৎসি পার্টিতে নতুন সদস্য নেয়া বন্ধ করা হলো।
১০ দেশ জুড়ে শুরু হলো বই পোড়ানোর মচ্ছব।

জুন রাইনহার্ট কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু হলো। গোপন সামরিক ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলো। বিয়ের জন্য ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা চালু হলো।
২২ জার্মান সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এসডিপি) নিষিদ্ধ করা হলো।

জুলাই ১৪ পাশ হলো ল অ্যাগেইন্সট দ্য ফাউন্ডিং অফ নিউ পার্টিজ। * জার্মানির সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়ে গেলো। দেশটির একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হয়ে উঠলো নাৎসি পার্টি।
২০ ভ্যাটিকান ও তৃতীয় সাম্রাজ্যের মধ্যে চুক্তি সই হলো।
“বংশগতভাবে” অসুস্থ ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক বন্ধ্যাকরণ আইন গৃহীত হলো।

সেপ্টেম্বর “ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের” ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হলো।
গঠিত হলো Reich Association of Jews in Germany – Wikipedia (Reichsvereinigung der Juden in Deutschland: RvD)।
২২ প্রতিষ্ঠা করা হলো Reich Chamber of Culture – Wikipedia (Reichskulturkammer: RKK)

অক্টোবর ১৪ লীগ অফ নেশনস ও নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করলো জার্মানি।

নভেম্বর “অভ্যাসগত” অপরাধীদের “নিরাপত্তা-জনিত আটক” সংক্রান্ত জাতীয় আইন এবং “পেশাদার” অপরাধীদের “প্রতিরোধমূলক পুলিশি হেফাজত” সংক্রান্ত প্রুশীয় আইন গ্রহণ করা হলো।

ডিসেম্বর ১ “দল ও রাষ্ট্রের ঐক্য প্রতিষ্ঠা” সংক্রান্ত আইন গ্রহণ করা হলো। মন্ত্রিসভায় নিযুক্ত হলেন হেস।

১৯৩৪ জানুয়ারি জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে অনাক্রমণ চুক্তি সই।
৩০ জার্মানির ফেডারেল ব্যবস্থা বিলুপ্ত করলো Law on the Reconstruction of the Reich – Wikipedia

এপ্রিল প্রুশিয়ার গেস্তাপো প্রধান নিযুক্ত হলেন হিমলার। হাইড্রিখ তাঁর ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
প্রতিষ্ঠা করা হলো People’s Court (Germany) – Wikipedia (Volksgerichtshof)।

মে প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মতাত্ত্বিকদের বারমেন ঘোষণা।

জুন ৩০-২ জুলাই দীর্ঘ ছুরির রাত্রি। এসএ প্রধান রোহমকে তাঁর সমর্থক ও কনজারভেটিভ বিরোধী দলের সদস্যদের সহ নির্মূল করলেন হিটলার ও তাঁর সমর্থকরা।

জুলাই এসএ থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন সংগঠনে পরিণত হলো এসএস। একই সময়ে, ভিয়েনায় নাৎসিদের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আগস্ট ১ প্রেসিডেন্ট পদ ও চ্যান্সেলর পদ একত্রিত করে আইন পাশ হলো।
হিন্ডেনবার্গের মৃত্যু। ‘ফ্যুরার ও রাইখ চ্যান্সেলর’ উপাধি গ্রহণ করলেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেন হিটলার। হিটলারের প্রতি অনুগত থাকার শপথ নিলো রাইখসভেয়ার।*
* ভাইমার প্রজাতন্ত্র ও তৃতীয় রাইখের প্রথম বছরগুলোতে জার্মানির স্থায়ী সেনাবাহিনী। রাইখসভেয়ার ছিল ১,০০,০০০ সেনার একটি বাহিনী, যার সেনা সংখ্যা ভার্সাই চুক্তির বিধান অনুযায়ী সীমাবদ্ধ ছিলো। ১৯৩৫ সালে নাম পরিবর্তন করে ভেরমাখট রাখা হয়, যা ছিলো তৃতীয় রাইখের সশস্ত্র বাহিনী।

সেপ্টেম্বর জার্মান অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে শাখটের ‘নিউ প্ল্যান’।

হিটলারের ভেনিস সফর।

১৯৩৫ জানুয়ারি সার অঞ্চল জার্মানির সাথে পুনরায় যুক্ত হলো।

মার্চ ১৬ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনরায় চালু করলো সরকার।

এপ্রিল জিহোভাজ উইটনেসের সদস্যদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

জুন ইঙ্গ-জার্মান নৌ চুক্তি।

সেপ্টেম্বর ১৫ নুরেমবার্গ বর্ণবাদী আইন। জার্মান ইহুদিদের নাগরিকত্ব আইনীভাবে কেড়ে নেয়া হলো। কথিত “আর্য রক্তের” শুদ্ধতা রক্ষার দোহাই দিয়ে জার্মানির জেন্টাইলদের সাথে ইহুদিদের প্রেম, বিয়ে, বা যে কোন যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করা হলো।

অক্টোবর প্রথমবারের মতো শিশু ভাতা চালু করা হলো।

১৯৩৬ মার্চ ৭ জার্মান সেনারা ডিমিলিটারাইজড রাইনল্যান্ড দখল করে নিলো।

জুন হিমলারকে “এসএসের নেতা ও জার্মান পুলিশের প্রধান” হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো।

জুলাই প্রতিষ্ঠা করা হলো সাখসেনহাউজেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।
স্পেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ফ্রাঙ্কোকে সহায়তা করতে এগিয়ে এলো জার্মানি।

আগস্ট: বার্লিনে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হলো।
জিহোভাজ উইটনেসের সদস্যদের আবারও ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হলো।

সেপ্টেম্বর চারশালা পরিকল্পনা। গোয়েরিংকে এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

অক্টোবর ২৫ গঠন করা হলো বার্লিন-রোম অক্ষ শক্তি।

নভেম্বর ২৫ কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের (কমিনটার্ন) বিরুদ্ধে নাৎসি জার্মানি আর সাম্রাজ্যিক জাপানের মধ্যে গঠিত হল এন্টাই-কমিনটার্ন প্যাক্ট।*
* পরের বছর ইতালি এই প্যাক্টে যোগদান করে।

নিজেকে একটি “জার্মান রাজ্য” ঘোষণা করলো অস্ট্রিয়া। নাৎসি জার্মানি ঘুরে এসে ফ্যালাঞ্জে পার্টি প্রতিষ্ঠা করলেন পিয়েরে জেমায়েল।

১৯৩৭ মার্চ মুক্তি পাওয়া দণ্ডিত বন্দি ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হলো।

মে নাৎসি পার্টি সাময়িকভাবে নতুন সদস্য নেয়া আবার শুরু করলো।

জুলাই প্রতিষ্ঠা করা হলো বুখেনভাল্ড কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।

নভেম্বর অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শাখট।
হসব্যাখ সম্মেলন। জার্মানির ভূখণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হিটলার।

ডিসেম্বর প্রতিরোধমূলক পুলিশি হেফাজত সংক্রান্ত আইন পুরো জার্মানিতে কার্যকর করা হলো।

১৯৩৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধমন্ত্রী ব্লমবার্গ ও সেনা কমান্ডার ফ্রিটশকে তাঁদের নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। হিটলার নিজেই সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হিটলার। একই সময়ে, নিউরাথকে সরিয়ে রিবেনট্রপকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়।

মার্চ আনশলুস।*
* জার্মান সেনারা অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করলো। অস্ট্রিয়াকে জার্মানির সীমানাভুক্ত করা হলো। সেখানে নতুন করে ইহুদিবিদ্বেষী নানান পদক্ষেপ নেয়া হলো।

এপ্রিল ‘অলস’ ব্যক্তিদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হলো।

মে প্রতিষ্ঠা করা হলো ফ্লোসেনবুর্গ কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।

জুন “অসামাজিক” ব্যক্তি ও ইহুদিদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হলো।

আগস্ট সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বেক।
প্রতিষ্ঠা করা হলো মাউথাউসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।

সেপ্টেম্বর ৩০ মিউনিখ চুক্তি। মিউনিখ চুক্তির মাধ্যমে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতেন অঞ্চল জার্মানির কাছে হস্তান্তর করা হয়, যার ফলে হাঙ্গেরি তার ১৯২০ সালে হারানো ভূখণ্ডের কিছু অংশ ফিরে পায়। কিন্তু এই চুক্তি জার্মানির আগ্রাসন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়; কয়েক মাসের মধ্যেই জার্মানি চেকোস্লোভাকিয়ার বাকি অংশও দখল করে নেয়।

অক্টোবর পোল্যান্ডের যেসব ইহুদি নাগরিক জার্মানিতে বসবাস করছিলেন, তাঁদের জার্মানি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

নভেম্বর ৯-১০ Kristallnacht – Wikipediaভাঙা কাচের রাত্রি, নভেম্বর পোগরোম নামেও পরিচিত। সশস্ত্র নাৎসি দাঙ্গাবাজরা জার্মানি আর অস্ট্রিয়ায় ইহুদিদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা চালায়। এ সময় বহু সিনাগোগ, ইহুদি কবরস্থান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়। ইহুদিদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়।
ইহুদি নিপীড়ন আরও তীব্র করতে ব্যাপক ও কঠোর ইহুদিবিদ্বেষী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ডিসেম্বর Himmler Decree on “Combating the Gypsy Plague” | Holocaust Encyclopedia

১৯৩৯ মার্চ ১৫ জার্মান সেনারা চেকোস্লোভাকিয়া দখল করে দেশটির স্বাধীনতার অবসান ঘটালো। গঠিত হলো স্বাধীন স্লোভাক প্রজাতন্ত্র। যা দ্রুত জার্মানির একটি উপগ্রহে পরিণত হয়।

আগস্ট ২৩ Molotov–Ribbentrop Pact – Wikipedia।*
* নাৎসি জার্মানির সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনাগ্রাসন চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে পোল্যান্ডকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় নাৎসি জার্মানি আর সোভিয়েত ইউনিয়ন।
২৯ মলোটোভ-রিবেনট্রোপ চুক্তি অনুসমর্থন করলো সুপ্রীম সোভিয়েত।

সেপ্টেম্বর ১ পোল্যান্ডের একাংশ দখল করলো নাৎসি জার্মানি।*
* এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো ব্রিটেন ও ফ্রান্স।
১৭ পোল্যান্ডের অপরাংশ দখল করল সোভিয়েত ইউনিয়ন।

লীগ অফ নেশনস থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে জার্মানি, জাপান, ও ইতালির অ্যান্টাই-কমিনটার্ন প্যাক্টে যোগ দিলো হাঙ্গেরি। ইউক্রেনের পোল্যান্ড-নিয়ন্ত্রিত অংশে প্রবেশ করলো লাল ফৌজ। নাৎসি জার্মানির সাথে দশ বছরের জন্য অনাগ্রাসন চুক্তি সই করলো ডেনমার্ক।

১৯৩৯-৪৫ World War II – Wikipedia।*
* ১৯৩৯ সালে নাৎসি জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। নাৎসিদের নেতৃত্বে পূর্ব রণাঙ্গনে লড়াই চালায় অস্ট্রীয়রা। আয়ারল্যান্ড নিরপেক্ষতা নীতি গ্রহণ করে, তবে বহু আইরিশ মিত্রপক্ষে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফিনল্যান্ড নিরপেক্ষতা নীতি ঘোষণা করে। যুদ্ধে স্পেন কাগজেকলমে নিরপেক্ষতা নীতি গ্রহণ করলেও অক্ষশক্তির প্রতি তার পরিষ্কার পক্ষপাত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যান্ডোরা নিরপেক্ষ থাকে এবং ভিকি ফ্রান্স থেকে নিরপেক্ষ স্পেনে চোরাচালানের গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে ওঠে। যুদ্ধের প্রাক্কালে নিরপেক্ষতা নীতি ঘোষণা করে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নেদারল্যান্ডস নিরপেক্ষতা ঘোষণা করে, রানী উইলহেলমিনা তাঁর সরকারসমেত লন্ডনে নির্বাসিত হন। জার্মান বোমারুরা রটেরডামের অধিকাংশ ধবংস করে দেয়। এ সময় লিশটেনস্টাইন তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। এ সময় তুরস্ক প্রজাতন্ত্র নিরপেক্ষতা নীতি গ্রহণ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির সাথে মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ থাকতে গিয়ে তার যে ক্ষতি হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এই সতর্কতা। ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নাৎসি জার্মানি ও সাম্রাজ্যিক জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তুরস্ক।

১৯৪০-৪৯ হলোকাস্ট। ইওরোপীয় ইহুদিদের ওপর পদ্ধতিগত নাৎসি নিধনযজ্ঞ।

১৯৪০-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডেনমার্ক নাৎসি দখলদারিত্বে ছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার দায়ভার গ্রহণ করল যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৪০ এপ্রিল কাতিন হত্যাযজ্ঞ। সোভিয়েত গোপন পুলিশ ২০ হাজারেরও বেশি পোল জাতীয়তাবাদী সেনা কর্মকর্তা, সরকারি কর্মচারী, ও পেশাজীবীকে ঠাণ্ডা মাথায় ও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। সমকালে অপরাধের দায় নাৎসিদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেও ১৯৮০র দশকের শেষদিকে এসে সোভিয়েতরা হত্যাযজ্ঞের দায় স্বীকার করে নেয়।
১০ নরওয়ে* ও ডেনমার্কে** আক্রমণ চালালো জার্মানি।
* রাজপরিবার আর নরওয়ে সরকার ব্রিটেনে পালিয়ে গেলো। লন্ডনে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করা হলো। ভিডকুন কুইন্সলিং নিজেকে অধিকৃত নরওয়ের রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করলেন।
** জার্মানদের ডেনমার্ক দখল করে নেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশরা আইসল্যান্ড দখল করে নিলো।

মে ১০ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামে হামলা চালালো জার্মানি।

জুন ১৪ প্যারিস দখল করে নিলো জার্মান সেনাদল।*
* নাৎসি জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নিলো। দক্ষিণপূর্ব ফ্রান্সে দালাল ভিকি সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হলো। দ্য গল প্রতিষ্ঠা করলেন দা ফ্রি ফ্রেঞ্চ।

সেপ্টেম্বর ২৭ জার্মানি, ইতালি ও জাপানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষে যোগ দেয় ইতালি।

জেনারেল আয়ন আন্তোনেস্কু ক্ষমতা দখল করলেন এবং রোমানিয়াকে নাৎসি জার্মানির সাথে মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ করলেন। নাৎসি জার্মানির উৎসাহে রুমানিয়ার কাছ থেকে উত্তর ট্রান্সসিলভানিয়া ফিরে পেল হাঙ্গেরি। জার্মানদের সহায়তায় দোব্রুদজার দক্ষিণাঞ্চল ফিরে পেল বুলগেরিয়া।

নাৎসি জার্মানির সাথে ফিনল্যান্ডের সহযোগিতা চুক্তি সই। সুইডেন নাৎসি জার্মানিকে ট্রানজিট দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু জার্মানি সুইডেনকে নাৎসি নেতৃত্বাধীন “নয়া বিশ্ব ব্যবস্থায়” যোগদান করার প্রস্তাব দিলে সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন। এসময় নরওয়ে আর ডেনমার্ক নাৎসি দখলদারিত্বে থাকায় বহু নরওয়েজীয় আর দিনেমারের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে সুইডেন।

১৯৪১ মার্চ অক্ষশক্তির হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিল বুলগেরিয়া।

জুন ২২ সোভিয়েত ইউনিয়নে হামলা চালালো জার্মানি।
২৬ ফিনল্যান্ড তার হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করার উদ্দেশ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো।

জুলাই ২৩ স্তালিনের বেতার সম্প্রচার।

ডিসেম্বর ৭ জাপানিরা পার্ল হারবার আক্রমণ করলো।
১১ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো জার্মানি।

পোল্যান্ডে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বানাতে শুরু করল জার্মানরা।*
* তাদের নামগুলো; আউশভভিৎজ, ত্রেবলিনকা, আর মাজদেনাক; হলোকাস্টের সমার্থক হয়ে গেছে।

নাৎসি জার্মানি দখল করে নিল বেলারুশ। ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশে আক্রমণ চালাল নাৎসি জার্মানি। লাতভিয়ায় নাৎসি হামলা। নাৎসি খুনি বাহিনী ও লাতভীয় আধাসামরিক বাহিনীগুলোর হাতে ৭০ হাজার লাতভীয় ইহুদি খুন হলেন। লিথুয়ানিয়ায় নাৎসি হামলা। দেশটিতে জার্মান নাৎসিদের দখলদারিত্বের পর্ব শুরু হল। নাৎসি জার্মানি এস্তোনিয়া দখল করে নিল। নাৎসি জার্মানি ও রোমানিয়া ট্রান্সনিস্ট্রিয়া দখল করে নিল। দেশটির ইহুদি ও কমিউনিস্টদের মৃত্যু শিবিরে পাঠানো হল।

গ্রিক সেনাপতি মেটাজাসের মৃত্যু। জার্মান নাৎসিরা গ্রিস দখল করে নিল। অধিকৃত গ্রিসে দুর্ভিক্ষে ১ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারালেন।

নাৎসি জার্মানি, ফ্যাসিস্ট ইতালি, বুলগারিয়া ও হাঙ্গেরি সম্মিলিতভাবে যুগোস্লাভিয়া আক্রমণ করল। বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং সার্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে “বৃহত্তর ক্রোয়েশিয়া” গঠন করা হল, আন্তে পাভেলিচের পুতুল সরকারকে দেশটির ক্ষমতায় বসান হল। ক্রোয়েশীয় ফ্যাসিস্ট সংগঠন উসতাসি ক্যাথলিক ক্রোয়াট রাজত্ব তৈরির অজুহাতে সার্ব, ইহুদি, ও জিপসিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করে।*
* ক্রোয়াট মুসলমানরা এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যান। উসতাসি বিশ্বাস করত, ক্রোয়াট মুসলমানরা “ধাতগতভাবে” ক্রোয়াট ক্যাথলিক, কারণ ধর্মান্তরিত হলেও তাঁদের “শরীরের ক্রোয়াট রক্ত” পাল্টায় নাই। শরীরের রক্ত দিয়ে ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করার এই বিচিত্র বর্ণবাদী বিশ্বাস মুসলমানদের বাঁচিয়েছিল বটে, কিন্তু একটা বিশ্রি বাস্তবতারও জন্ম দিয়েছিল: ক্রোয়াট মুসলমানদের অনেকেই উসতাসি-সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে সহায়তা করেন।

স্লোভেনিয়ায় নাৎসি জার্মানি ও ফ্যাসিস্ট ইতালির দখলদারিত্ব।

নাৎসি আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে আইসল্যান্ডের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেজা শাহ অক্ষশক্তির পক্ষাবলম্বন করলে ব্রিটেন আর সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলে দখল করে নেয় ইরান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইরাকে অক্ষশক্তির পক্ষে ক্যুদেতা সংঘটিত হলে সেই উছিলায় পুনরায় ইরাক দখল করে নিল ব্রিটেন। ভিকি ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল সিরিয়া।* লেবানন দখল করল ব্রিটিশ ও ফ্রি ফ্রেঞ্চ আর্মি। ভিকিদের হাত থেকে বৈরুত ছিনিয়ে নিল। লেবাননকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়ার ওয়াদা করল ফ্রান্স।
* ভিকি ফ্রান্স বলতে ফ্রান্সের সেই সরকারটিকে বুঝায় যারা নাৎসি জার্মানির পুতুল সরকার ছিল।

১৯৪১-৪৪ নাৎসি দখলদারিত্বে ১০ লক্ষাধিক বেলারুশী খুন হন। যাঁদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন ইহুদি। ইউক্রেন এ সময় নাৎসি দখলদারিত্বে আছে, হলোকাস্টে ইউক্রেনের ৬০ শতাংশ ইহুদির মৃত্যু ঘটল।

১৯৪১-৪৫ মহা দেশপ্রেমিক যুদ্ধ। নাৎসি জার্মানির সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণের প্রেক্ষিতে তার মিত্র রোমানিয়া মলদোভার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল।

১৯৪২-৪৪ নাৎসিদের বিরুদ্ধে গ্রিকরা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুললেন। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে একটা অংশ ছিলেন রাজতন্ত্রী। আরেকটা অংশ কমিউনিস্ট।

১৯৪২ জানুয়ারি ২০ Wannsee Conference – Wikipedia।*
* ইওরোপে ‘ইহুদি প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান’ সমন্বয় করতে অনুষ্ঠিত হয়।

ফেব্রুয়ারি অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ বিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হলেন আলবার্ট স্পিয়ার।

মে পূর্ব ইওরোপ শোষণের জন্য ‘জেনারেলপ্লান ওস্ট’ মুসাবিদা করা হলো।
জুন চেক প্রতিরোধ বাহিনীর হাতে নিহত হলেন এসডি প্রধান রাইনহার্ট হাইড্রিখ।

গ্রীষ্মকাল অ্যাকশন রাইনহার্ট। বেলজেক, সোবিবর ও ত্রেবলিঙ্কা হত্যাকেন্দ্রে পোলিশ ইহুদিদের নির্মূল করার জন্য ধরপাকড় চালানো হলো। নির্মিত হলো আউশভিৎস-বিরকেনাউয়ের দ্বিতীয় গ্যাস চেম্বার।

আগস্ট জার্মানরা স্তালিনগ্রাদে পৌঁছাল।

সেপ্টেম্বর স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ শুরু।

নভেম্বর জার্মান সেনারা ভিকি ফ্রান্স দখল করে নেয়। এল আলামেইনে ব্রিটিশদের বিজয়।
১৯ স্তালিনগ্রাদে সোভিয়েতদের পাল্টা অভিযানের সূচনা।
২৩ জার্মানদের ষষ্ঠ সেনাবাহিনী স্তালিনগ্রাদ ঘেরাও করে ফেলল।

মাল্টায় অবস্থিত মিত্রশক্তির ঘাঁটির ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করল ফ্যাসিস্ট ইতালি আর নাৎসি জার্মানি। রাজা ষষ্ঠ জর্জ মাল্টাকে জর্জ ক্রস দিলেন। এটা বীরত্বের জন্য ব্রিটেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান।

১৯৪৩ জানুয়ারি স্তালিনগ্রাদে আত্মসমর্পণ করলো জার্মানির সিক্সথ আর্মি।

ফেব্রুয়ারি মিউনিখের ‘হোয়াইট রোজ’ প্রতিরোধ দলটি ভেঙে দেয়া হলো এবং এর নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।
অ-ইহুদিদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকা জার্মান ইহুদিদের নির্বাসিত করার বিরুদ্ধে বার্লিনের রোজেনস্ট্রাসে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।
১৮ ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ প্রচেষ্টা ঘোষণা করলেন গোয়েবলস।

মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হলেন হিমলার।
দিমিতুর পেশেভের হস্তক্ষেপের দরুণ বুলগেরীয় ইহুদিরা নাৎসি এক্সটারমিনেশন ক্যাম্পে নির্বাসিত ও খুন হওয়ার হাত থেকে বেচে গেল।

এপ্রিল ১৯-১৬ মে Warsaw Ghetto Uprising – Wikipedia

জুন ১৫-২৯ Operation Mammoth – Wikipedia।*
* জার্মান গুপ্তচরদের একটা ছোট দল গোপনে প্যারাশুট দিয়ে বাসুর তথা ইরাকি কুর্দিস্তানে নামে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল একটি কুর্দি অভ্যুত্থান ঘটানো। প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। নাৎসিরা কুর্দিদের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনাও করেছিল। যাতে অঞ্চলটি থেকে ব্রিটিশদের তাড়িয়ে দিতে পারে। এর বিনিময়ে একটি স্বাধীন কুর্দিস্তান রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে কুর্দিরা পাবে জার্মান সহায়তা। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই এই মিশন ব্যর্থ হয়।

জুলাই সিসিলিতে অবতরণ করলো মিত্রবাহিনী।*
হামবুর্গে মিত্রবাহিনীর বোমাবর্ষণ।
* মিত্রপক্ষ সিসিলিতে আক্রমণ চালিয়ে মুসোলিনিকে উৎখাত করল। মিত্রপক্ষের সাথে অস্ত্রবিরতি সই করল ইতালি। নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল ইতালি।

আগস্ট রাশিয়ায় জার্মান গ্রীষ্মকালীন আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে গেলো।

সেপ্টেম্বর এ সময় ইতালির বেশিরভাগ অংশ এবং ইতালি-অধিকৃত যুগোস্লাভিয়া, গ্রিস ও ফ্রান্সের অংশবিশেষ জার্মানির দখলে ছিলো।

ফ্যাসিস্ট ইতালির আত্মসমর্পণের প্রেক্ষিতে নাৎসি জার্মানির সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে আলবেনিয়া দখল করে নিলো। জার্মানির সাথে ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করলো সুইডেন। নাৎসিদের হাতে গণহত্যার শিকার হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য কয়েক হাজার দিনেমার ইহুদি সুইডেনে আশ্রয় নিলেন দিনেমারদের সাথে করা ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এল আইসল্যান্ড। ডেনমার্ক তখনো নাৎসিদের কবলে আছে।

১৯৪৪-৪৫ জার্মান নাৎসিরা কারাগার থেকে মুসোলিনিকে বের করে আনলেও শেষ রক্ষা হলো না, ফ্যাসিবিরোধী পার্টিজানরা বেনিতো মুসোলিনিকে পাকড়াও করলেন ও তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেন।

১৯৪৪ জানুয়ারি ক্রেইসাউ প্রতিরোধকারীদের চক্র ভেঙে দেয়া হলো।

মার্চ হাঙ্গেরি দখল করে নিলো জার্মান সেনারা।

জুন ৬ ডি-ডে অবতরণ, নর্ম্যান্ডিতে নামল মিত্রপক্ষ।

জুলাই গোয়েবলসকে সর্বাত্মক যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য পূর্ণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হলো।
২০ হিটলারকে হত্যা করার ‘জুলাই ষড়যন্ত্র’ ব্যর্থ হলো।

আগস্ট রোমানিয়ার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলো জার্মানি। পোল্যান্ডের প্রতিরোধ বাহিনীগুলো ওয়ারশর নিয়ন্ত্রণ নিলো।
২৫ প্যারিসের মুক্তি।

সেপ্টেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন আর ফিনল্যান্ডের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সই। ফিনল্যান্ড সোভিয়েত ইউনিয়নকে আরো জমি ও বিরাটাকারে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হল। ফিনল্যান্ডের সাথে ল্যাপল্যান্ড যুদ্ধে লিপ্ত হলো জার্মানি।
গঠন করা হলো Volkssturm – Wikipedia মিলিশিয়া।

অক্টোবর নাৎসিরা ওয়ারশ পুনর্দখল করলো।

আগস্ট-অক্টোবর পোলিশ হোম আর্মির ওয়ারশ বিদ্রোহ।

সান মারিনোতে নাৎসি জার্মানির দখলদারিত্বের কাল। দীর্ঘস্থায়ী হয় নাই। মিত্রপক্ষ সান মারিনোর সমরে দেশটিকে মুক্ত করে। হাঙ্গেরীয় নাৎসিদের ক্ষমতাদখল। দেশটির ইহুদি আর জিপসিদেরকে মৃত্যুশিবিরে পাঠানো হল। রোমানিয়া পক্ষ বদলে সোভিয়েত শিবিরে চলে গেল। স্লোভাকিয়ায় জার্মান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্লোভাকদের জাতীয় অভ্যুত্থান। লাল ফৌজ নাৎসিদের বেলারুশ থেকে তাড়িয়ে দেয়। নাৎসি বাহিনীকে ইউক্রেন থেকে তাড়িয়ে দেয়া হলো। ক্রিমীয় তাতারদের বিরুদ্ধে নাৎসিদের দোসর হওয়ার অভিযোগ এনে প্রায় ২ লক্ষ ক্রিমীয় তাতারকে সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করলেন স্তালিন। ব্রিটিশ আর গ্রিক বাহিনীগুলোর সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে নাৎসিরা গ্রিস ছেড়ে যেতে বাধ্য হলো। কমিউনিস্টদের প্রতিরোধের মুখে জার্মান নাৎসিরা পিছু হঠলো। আলবানিয়ার নতুন রাষ্ট্রনায়ক হলেন আনোয়ার হোজ্জা।

১৯৪৫ জানুয়ারি সোভিয়েত সেনারা জার্মান ভূখণ্ডে প্রবেশ করলো।
২৭ সোভিয়েত সেনাদের দ্বারা মুক্ত হলো আউশভিৎস কনসেনট্রেশন ক্যাম্প।

ফেব্রুয়ারি ড্রেসডেনে বোমাবর্ষণ করলো মিত্রবাহিনী।
ইয়াল্টা সম্মেলন।

মার্চ জার্মানিতে পোড়ামাটি নীতি অনুসরণ করার হুকুম দিলেন হিটলার।

এপ্রিল সোভিয়েতরা জার্মানদের হাঙ্গেরি থেকে বের করে দিলো।
৩০ আত্মহত্যা করলেন হিটলার।

মে ১ আত্মহত্যা করলেন গোয়েবলস।
লাল ফৌজের হাতে বার্লিনের পতন ঘটল।
মিত্রশক্তির কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করলো জার্মানি।
ভিই ডে: ইওরোপে যুদ্ধের অবসান।

জুন ৫ জার্মানির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলো অ্যালাইড কন্ট্রোল কাউন্সিল।

জুলাই-আগস্ট পটসডাম সম্মেলন।

নাৎসি দখলদারিত্ব থেকে চেকোস্লোভাকিয়াকে মুক্ত করা হল। সোভিয়েত সেনারা ভিয়েনাকে মুক্ত করলো। নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে ল্যাপল্যান্ড যুদ্ধে ফিনদের জয়লাভ। নরওয়ে অবস্থানকারী জার্মান বাহিনীগুলো আত্মসমর্পণ করলো। নরওয়ের রাজা দেশে ফিরে আসলেন। নাৎসি দালালের ভূমিকা পালন করে নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার অপরাধে ভিডকুন কুইন্সলিয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। পোল্যান্ড থেকে নাৎসিদের তাড়িয়ে দিলো সোভিয়েতরা। কিছু পোল ভূখণ্ড সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হলো। কিন্তু একইসাথে, জার্মানির দখলে থাকা কিছু ভূখণ্ড ফিরে পেলো পোল্যান্ড। ওডার নদীর পূর্বদিকের এলাকা পোল্যান্ডকে দেয়া হলো। জার্মানির বাকি অংশ মিত্রপক্ষ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলদারিত্বে থাকলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিশ্ববাসী জানতে পারলো, জার্মানির নাৎসিরা ৬০ লক্ষ ইহুদিকে খুন করেছে।

তথ্যসূত্র

Benz, Wolfgang. 2006. A Concise History of the Third Reich. Translated by Thomas Dunlap. University of California Press.

Caplan, Jane (ed.). 2008. Nazi Germany. Oxford University Press.

Holocaust Encyclopedia
United States Holocaust Memorial Museum
https://encyclopedia.ushmm.org/

Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *