
নববী যুগ
Featured Image: Wikimedia Commons.

Wikimedia Commons.
“The Mullahs say Ahmed went to heaven, Sarmad says that heaven came down to Ahmed.”
Hazrat Sarmad Shaheed (1590-1661), Armenian Mystic
সাল
১-১০০ দক্ষিণ আরবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠেছে হিমইয়ারিরা।
১০০-২৫০ এ সময় জুরহামের ইয়েমেনি গোষ্ঠীগুলো মক্কা শাসন করছে।
১০১-২০০ পশ্চিম আরবের সামুদরা রোমক সাম্রাজ্যকে খাজনা দিচ্ছে।
১০৫ রোমক আরব। নাবাতীয় রাজ্যকে রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল।
১৩২ ফিলিস্তিন থেকে আরব উপদ্বীপে অভিবাসিত হলেন ইহুদিরা।
২০১-৩০০ আরবের লাখমি গোত্র পারসিকদের মক্কেলে পরিণত হল।
২২৪-৬৫১ সাসানীয় সাম্রাজ্য।
২৪১ সাসানীয় আরব। হাত্রানদের রাজ্যকে সাসানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হল।
৩০১-৪০০ পূর্ব আরবে পারসিক সাম্রাজ্যের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ল।
৩১২ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেন রোমক সম্রাট কনস্টান্টাইন।
৩২৮ লাখমি রাজা ইমরুল কায়েসের এপিটাফে তাঁকে সকল আরবের রাজা বলে বর্ণনা করা হল।
৩৩০-১৪৫৩ পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য।*
* রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙনের পর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য (Βασιλεία Ρωμαίων) নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কুরআন শরিফের ৩০ সংখ্যক সূরার নাম আর-রুম। সেখানে রুম বলতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকেই বোঝানো হয়েছে। যার কেন্দ্র ছিল কনস্টান্টিনোপল। বর্তমান তুরস্কের ইস্তানবুল। আজকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আর পূর্ব রোমক সাম্রাজ্য পদ দুটি সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার, পূর্ব রোমক সাম্রাজ্যের নাগরিকরা নিজেদের রুমি বিবেচনা করতেন। গ্রিক ভাষায় কথা বললেও আচারব্যবহারে রুমি ছিলেন। তারা কখনোই নিজেদের মাতৃভূমিকে বাইজেন্টাইন বলেন নি। কিন্তু অতিকথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাইজেন্টাইন। শব্দটি ব্যবহারিক কারণে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। আজ আর এই ভুল শোধরানো সম্ভব নয়।
৪৯০ আরবের বনু ঘাসসান গোত্র বাইজেন্টাইনদের মক্কেলে পরিণত হল।
৪৯৬-৫৭৮ আবদুল মুত্তালিবের জীবনকাল।
৫০০ মক্কার ওপর কুরাইশ গোত্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।
৫০১-৬০০ আরবে এ সময় ইরানি আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের মক্কেলদের মধ্যে ভয়াবহ আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। ঘাসসানি আর লাখমিদের এলাকাগুলোয় খ্রিস্টধর্মের প্রসার। এ সময়ই কখনো হিমইয়ারিদের রাজা ইহুদিধর্ম গ্রহণ করেন।
৫১৮ নাজরান ম্যাসাকার। হিমইয়ারিরা নাজরানের খ্রিস্টানদের ওপর একটা হত্যালীলা চালাল।
৫২৫ ইথিওপিয়ার খ্রিস্টান রাজ্য হিমইয়ারি-সাবাঈ রাজ্য জয় করে।
৫৩৫-৬১৯ আবু তালেব ইবনে আবদুল মুত্তালিবের জীবনকাল।
৫৪৫-৭০ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের জীবনকাল।
৫৪৯-৭৭ আমিনা বিনতে ওহাবের জীবনকাল।
৫৫৪-৬১৯ উম্মুল মোমিনিন* খাদিজা বিনতে খুওয়ালিদের জীবনকাল।
* অর্থ: “বিশ্বাসীদের আম্মাজান”। ইসলামের নবির স্ত্রীদের ক্ষেত্রে সম্মানসূচকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই রচনার সর্বত্র প্রাসঙ্গিক স্থলে ব্যবহৃত হবে।
৫৬৬/৮০-৬৪৪/৭৪ উম্মুল মোমিনিন সাওদা বিনতে জাম’আর জীবনকাল।
৫৭০ আবদুল্লার মৃত্যু। মক্কার কুরাইশ গোত্রের বনু হাশিম শাখায় জন্ম নিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।* সম্ভাব্য জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল।
* ইসলামের নবি হযরত মুহাম্মদের (সা.) অনুসারীরা মুসলিম (المسلمون) নামে পরিচিত। আরবিতে আল-মুসলিমুন অর্থ “আত্মসমর্পণকারী”। যাঁরা আল্লাহর (ٱللَّٰه) কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরাই মুসলিম। বাংলায় পরম্পরাগতভাবে মুসলমান শব্দটিই বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে মুসলমান শব্দটি ব্যবহার করি আমি। মুসলমানদের পবিত্র বই কুরআন ( ٱلۡقُرۡءَانُ ) নামে পরিচিত। যার অর্থ “পাঠ করা” বা “তিলাওয়াত করা”।
৫৭৭ আমিনার মৃত্যু।
৫৮০/৯৬-৬৮০/৮৩ উম্মুল মোমিনিন উম্মে সালামার জীবনকাল।
৫৮২ বাইজেন্টাইনদের মক্কেলগিরি থেকে ঘাসসানিদের বরখাস্ত করা হল।
৫৮৩ হযরত মুহাম্মদ (সা.) এ সময় সিরিয়ায় অবস্থান করছেন।
৫৮৯/৯৪-৬৬৪/৬৫ উম্মুল মোমিনিন উম্মে হাবিবার জীবনকাল।
৫৯০-৬৪০/৪১ উম্মুল মোমিনিন জয়নব বিনতে জাহশের জীবনকাল।
৫৯৪ লাখমিরা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হল।
৫৯৪-৬৭১ উম্মুল মোমিনিন মায়মুনা বিনতে আল-হারিস আল-হিলালিয়ার জীবনকাল।
৫৯৫ খাদিজা বিনতে খুওয়ালিদকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* এই বিয়ের সময় খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর। মুহাম্মদের (সা.) ২৫ বছর। ৬১৯ সালে খাদিজার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আর কাউকে বিয়ে করেননি।
৫৯৬-৬২৫ উম্মুল মোমিনিন জয়নব বিনতে খুজাইমার জীবনকাল।
৫৯৮-৬০১ কাশিম ইবনে মুহাম্মদের জীবনকাল।*
* মুহাম্মদের (সা.) বড় ছেলে। নাবালক দশায় মারা যান।
৬০০-২৯ জয়নব বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।
৬০২ সাসানীয়রা তাঁদের মক্কেল লাখমি সর্দারকে খুন করে।
৬০৩-২৪ রুকাইয়াহ বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।
৬০৩-৩০ উম্মে কুলসুম বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।
৬০৫ কাবা পুনর্নিমাণ করার বছর, অংশ নেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
৬০৫/৬১৫-৩২ ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদের জীবনকাল।*
* মুহাম্মদের (সা.) ছোট মেয়ে। সাইয়্যিদাত নিসা আল-জান্না অর্থাৎ বেহেশতি নারীকুলের সর্দার বিবেচিত। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে শিয়া আর সুন্নীদের মধ্যে মতভেদ আছে।
৬০৫/০৬-৬১০ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদের জীবনকাল।*
* মুহাম্মদের (সা.) মেঝো ছেলে। নাবালক দশায় মারা যান।
৬০৫-৬৫ উম্মুল মোমিনিন হাফসা বিনতে ওমরের জীবনকাল।
৬০৮-৭৬ উম্মুল মোমিনিন জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসের জীবনকাল।
৬১০ ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। মক্কার হেরা গুহার জাবাল আল-নূর অর্থাৎ আলোর পাহাড়ে জিবরাইল ফেরেশতার আগমনের মধ্য দিয়ে কুরআন নাজিলের সূচনা হল। তিনি গোপনে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করলেন।
ঝুকারে লাখমিদের সেনাবাহিনী সাসানীয়দের বিরুদ্ধে জয়লাভ করল।
৬১০/১৪-৬৬৪/৭২ উম্মুল মোমিনিন সাফিয়া বিনতে হুওয়াইয়ের জীবনকাল।
৬১৩ মক্কায় প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচার করতে শুরু করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
৬১৪ সাসানীয়রা আরবের উত্তর সীমান্ত দখল করে নিল। বাইজেন্টাইনদের পরাজিত করল। মক্কায় মুসলমানদের ওপর ব্যাপক জুলুম শুরু হল।
৬১৪-২৮ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে সাসানীয় দখলদারিত্বের কাল।
৬১৪-৭৮ উম্মুল মোমিনিন আয়েশা বিনতে আবু বকরের জীবনকাল।
৬১৫ মুসলমানদের একটি দল আকজুম রাজ্যে হিজরত করল।*
* আফ্রিকার আবিসিনিয়ায়, বর্তমানে যা ইথিওপিয়া নামে পরিচিত।
৬১৬-১৯ বনু হাশিমের তরফে মুসলমানদের বয়কট করার বছরগুলো।
৬১৯ শোকের বছর। হযরত মুহাম্মদের (সা.) স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালেব একই বছরে মারা যান। এ বছরই সাওদা বিনতে জাম’আকে বিয়ে করেন তিনি।
৬২০ মেরাজের বছর। এ বছরই আয়েশা বিনতে আবু বকরকে বিয়ে করেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* ইসলামের নবির তৃতীয় ও সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী। প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের মেয়ে। তিনি একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ছিলেন।
৬২২ জুলাই ১৬ হিজরত। মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। আরবিতে মদিনা অর্থ: “শহর।” মদিনা শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। এর অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এবছর থেকে শুরু হয়।
৬২৪ মার্চ ১৩ বদরের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে আরব মুসলমানদের জয়লাভ।
৬২৫ হাফসা বিনতে ওমরকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা ওমরের মেয়ে। হাফসার প্রথম স্বামী ছিলেন খুনাইস বিন হুজাফা নামের জনৈক সাহাবি। ৬২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষদিকে মৃত্যুবরণ করেন খুনাইস।
জয়নব বিনতে খুজাইমাকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* উম্মুল মাসাকিন বা গরিবদের মা হিসেবে পরিচিত।
হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়াকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* তাঁর কুনিয়া উম্মে সালামা অর্থাৎ সালামার মা হিসেবে অধিক পরিচিত।
মার্চ ২৩ উহুদের যুদ্ধ। আরব মুসলমানদের বিরুদ্ধে মক্কার ক্ষমতাশালীদের জয়লাভ।
৬২৭ নিনেভেতে সাসানীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটা নির্ধারকমূলক বিজয় অর্জন করলেন বাইজেন্টাইন সম্রাট হেরাক্লিয়াস।
জয়নব বিনতে জাহশকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* জয়নবের প্রথম স্বামী ছিলেন জায়েদ ইবনে হারিস। জায়েদ ছিলেন একজন দাস, যাঁকে ইসলামের নবি খাদিজাকে বিয়ে করার সময় শেষোক্তের কাছ থেকে তোহফা হিসেবে পেয়েছিলেন। পরে হযরত মুহাম্মদ (সা.) জায়েদকে আজাদ করে দেন এবং স্বীয় পুত্র হিসেবে দত্তক নেন।
জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* জুওয়াইরিয়ার প্রথম স্বামী ছিলেন মোস্তফা ইবনে সাফওয়ান। ৬২৭ সালে বনু মুস্তালিকের সাথে মুসলমানদের সমর চলাকালে প্রথমোক্ত পক্ষের মোস্তফার মৃত্যু হয়। বনু মুস্তালিকের সর্দারের মেয়ে জুওয়াইরিয়া যুদ্ধবন্দী হন, যাকে পরে ইসলামের নবি আজাদ করে দেন।
মার্চ ৩১-১৪ এপ্রিল খন্দকের যুদ্ধ। মক্কার ক্ষমতাশালীরা মদিনা ঘেরাও করার চেষ্টা চালাল। আরব মুসলমানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হল।
বনু কুরাইজা ঘটনা।*
* পরম্পরাগত ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনার ইহুদিরা আরব মুসলমানদের সাথে থাকা তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, এবং গোপনে মক্কার ক্ষমতাশালীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল। তাই রাজনৈতিক গাদ্দারির সাজা হিসেবে পরম্পরাগত ইহুদি আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বনু কুরাইজার সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের শিরশ্ছেদ করা হয় এবং নারী ও শিশুদের দাস হিসেবে বেচে দেয়া হয়। বিদ্যায়তনিক ঐতিহাসিকদের অন্তত একজন এই ঘটনার ঐতিহাসিকতা ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। (Arafat 1976)
রায়হানা বিনতে জায়েদকে বিয়ে করলেন বা কনক্যুবাইন হিসেবে পেলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* রায়হানা ইসলামের নবির স্ত্রী ছিলেন না উপপত্নী ছিলেন তা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে। তাঁর জন্ম মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাদিরে, আর প্রথম বিয়ে মদিনার আরেক ইহুদি গোত্র বনু কুরাইজায়। বনু কুরাইজা ঘটনার সময় তিনি বিধবা ও যুদ্ধবন্দী হন, পরবর্তীতে ধর্মান্তরিত হলে ইসলামের নবির স্ত্রী/কনক্যুবাইন হন।
৬২৮ মার্চ হুদায়বিয়ার সন্ধি। মক্কার ক্ষমতাশালী ও মুসলমানদের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদী শান্তিচুক্তি সই হল।
খায়বার বিজয়। এই সমর বেদুঈনদের মধ্যে মুসলমানদের জনপ্রিয়তা বাড়ায়, বহু বেদুঈন এ সময় ইসলাম গ্রহণ করেন।
সাফিয়া বিনতে হুওয়াইকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* সাফিয়ার জন্ম মদিনার ইহুদি গোত্র বনু নাদিরে। খায়বারের সমরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়ার সময় তাঁর বাবা আর স্বামী উভয়েই নিহত হন। ইসলামের নবি যুদ্ধবন্দী সাফিয়াকে ইসলাম গ্রহন করার দাওয়াত ও বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা কবুল করেন।
রামলা বিনতে আবু সুফিয়ান আল হার্বকে বিয়ে করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* তাঁর কুনিয়া উম্মে হাবিবা অর্থাৎ হাবিবার মা হিসেবে অধিক পরিচিত। তৃতীয় রাশিদুন খলিফা ওসমানের কাজিন। প্রথম উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার সৎ বোন।
আলেকজান্দ্রিয়ার জনৈক খ্রিস্টান প্রশাসক আল-মুকাওকিসের কাছ থেকে কপ্টিক খ্রিস্টান দাসী মারিয়া আল-কিবতিয়াকে তোহফা হিসেবে পেলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।*
* ইসলামের নবি মারিয়াকে বিয়ে করেছিলেন, নাকি তিনি উপপত্নী রয়ে গেছিলেন তা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে।
৬২৮-৩২ সাসানীয় সাম্রাজ্যের গৃহযুদ্ধ।
৬২৯ হযরত মুহাম্মদের (সা.) নেতৃত্বে মুসলমানদের মক্কা গমন ও ওমরা পালন। মুত’আর যুদ্ধ। বাইজেন্টাইনদের কাছ থেকে জর্দান নদীর পূর্বদিকের একটি গ্রাম দখল করার চেষ্টা করলেন মুসলমানরা, কিন্তু ব্যর্থ হলেন।
৬২৯ ডিসেম্বর-জানুয়ারি ৬৩০ মক্কা বিজয়।
হুনাইনের যুদ্ধ। বেদুঈন হাওয়াজিন গোত্রের বিরুদ্ধে একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয় অর্জন করলেন আরব মুসলমানরা। তায়েফ শহর ও থাকিফ গোত্রের সাথে জোট গঠন করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
জেরুসালেমে পবিত্র ক্রুশকাঠের অংশবিশেষ পুনর্বহাল করলেন রোমক সম্রাট হেরাক্লিয়াস।
৬৩০-৩২ ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদের জীবনকাল।
৬৩১ রায়হানা বিনতে জায়েদের মৃত্যু।
৬৩২ বিদায় হজ।
মদিনায় হযরত মুহাম্মদের (সা.) মৃত্যু। তাঁর কোন জীবিত পুত্রসন্তান না থাকায় ও উত্তরাধিকারী মনোনীত করে না যাওয়ায় যে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়, কালক্রমে তাই শিয়া-সুন্নী বিভাজনে রূপ নেবে।*
* শিয়া-সুন্নী বিভাজনের ইতিহাস জানতে, দেখুন, Hazleton (2010), McHugo (2017) ও Louër (2020).
৬৩৭ মারিয়া আল-কিবতিয়ার মৃত্যু।
তথ্যসূত্র
Arafat, W. N. 1976. “New Light on the Story of Banū Qurayẓa and the Jews of Medina.” Journal of the Royal Asiatic Society of Great Britain and Ireland, no. 2: 100–107.
http://www.jstor.org/stable/25203706.
Hazleton, Lesley. 2010. After the Prophet: The Epic Story of the Shia-Sunni Split in Islam. Vintage.
Hoyland, Robert G.. 2014. In God’s Path: the Arab Conquests and the Creation of an Islamic Empire. Oxford University Press.
Louër, Laurence. 2020. Sunnis and Shiʻa: A Political History of Discord. Translated by Ethan Rundell. Princeton University Press.
McHugo, John. 2018. A Concise History of Sunnis & Shi‘is. Georgetown University Press.
Wikipedia
The Free Encyclopedia
https://www.wikipedia.org
World History Encyclopedia.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



