
সাম্রাজ্যিক চীন
Featured Image: Encyclopedia Britannica.
পূর্বসাল
পূর্বসাল ২২১-১৯১২ সাল সাম্রাজ্যিক চীন।
২২১-২১০ ঐক্যবদ্ধ চীনের প্রথম সম্রাট শি হুয়াংদির শাসনকাল। এসময়ই চীনের মহাপ্রাচীরের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
কিন রাজবংশ
২২১-২০৬ পূর্বসাল

২২১-২০৬ কিন রাজবংশ।
২১৪ কিন রাজবংশ হংকংকে চীনের অন্তর্ভুক্ত করে নিল।
২১৩ চীনে আইনবাদীদের প্রভাবে মূলত কনফুশীয় দার্শনিকদেরকে জ্যান্ত কবর দেয়া ও তাঁদের বই পোড়ানোর একটি পর্ব শুরু হল।
২১৩-২০৬ কিন রাজবংশ আইনবাদকে চীনের দরবারি দর্শন হিসাবে স্বীকৃতি দিল ও বাকি সব দর্শন নিষিদ্ধ করে দিল।
২১০-২০৬ চীনে কিন রাজবংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা দিল।
২০৯-৬ এসময় স্বীয় রাজধানী শাংআন থেকে চীন শাসন করছে পশ্চিম হান রাজবংশ।
২০৭ পাঁচ শতাব্দী ধরে আউ লাক রাজ্য শাসন করার পর চীনের কিন রাজবংশের হাতে থুকদের পতন ঘটল। বিজয়ী চীনা বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন ঝাও তুয়ো, ভিয়েতনামী ভাষায় যাঁর নাম ত্রিউ দা। পরের বছর হান রাজবংশ চীনে ক্ষমতা দখল করলেও হানদের আনুগত্য স্বীকার করেন নি ত্রিউ দা, থুকদের রাজ্যের সাথে তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা চীনা অঞ্চলগুলো জোড়া লাগিয়ে তিনি গঠন করলেন এক নতুন রাজ্য: নাম ভিয়েত।
২০৬ শি হুয়াংদির মৃত্যু। ৮০০০ সৈন্যের এক পোড়ামাটির সেনাবাহিনীর সাথে তাঁকে এক প্রাসাদ সমাধিতে কবরস্থ করা হল। চীনে কিন রাজবংশের পতন ও গৃহযুদ্ধের সূচনা।
২০২ লিউ বাং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল হান রাজবংশ। লিউ বাংকে চীনের সম্রাট ঘোষণা করা হল। দেশটির প্রথম হান সম্রাট লিউ বাং গাওজু নামেও পরিচিত।
পূর্বসাল ২০২-২২০ সাল চীনে এসময় আইনবাদী দর্শনের প্রভাব হ্রাস পায়।
১৯৫-১৮০ সম্রাট গাওজুর মৃত্যু। এসময় পুতুল রাজারা শাসন করছেন চীন। আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছেন সম্রাজ্ঞী লু ঝি, যিনি লু হুয়ো নামেও পরিচিত।
১৪১-৮৭ হান সম্রাটদের মধ্যে দক্ষতম বিবেচিত উ’র শাসনকাল। কনফুশীয়বাদকে চীনের দরবারি দর্শন হিসাবে স্বীকৃতি দিল হান রাজবংশ। আইনবাদের রাষ্ট্রীয় আনুগত্য লাভের অবসান।
১৩৮-১২৬ চীনের হান সম্রাট উর দূত ঝাং কিয়ান চীন আর মধ্য এশিয়ার মধ্যকার প্রবাদপ্রতিম বাণিজ্যপথ সিল্ক রোড খুললেন।
১১৭-১০০ চীনের মহাপ্রাচীরের পশ্চিম অংশ সম্প্রসারিত করলেন হানরা।
১১১ চীনা সেনাবাহিনী নাম ভিয়েত দখল করে নিল।
১০৯ তিয়েন রাজ্য দখল করে নিলেন হান সম্রাট।
১০৪-১০১ স্বর্গীয় ঘোড়াদের যুদ্ধ।
সাল
২ এসময় সাম্রাজ্যিক চীনের রাজধানী শাং’আনের জনসংখ্যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার।
৯ চীনে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বসলেন ওয়াং মাং। সংস্কারবাদী বলে পরিচিত। ওয়াং মাং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হল জিন রাজবংশ।
৯-২৩ জিন রাজবংশ।
২৩ সাম্রাজ্যিক চীনের রাজধানী শাং’আনকে ধবংসস্তূপে পরিণত করলেন লিউ জিউ, রাজধানী লুয়োইয়াংয়ে সরিয়ে আনলেন।
২৫-২২০ পূর্ব হান রাজবংশ।
৩৯ ভিয়েতনামে চীনা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ত্রুং বোনেদের বিদ্রোহ। স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেন রানী ত্রুং ত্রাক। ৪৩ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল এই রাজ্য।
৪৩ ত্রুংদের হাত থেকে নাম ভিয়েত পুনর্দখল করল চীনারা। কিছুদিনের মধ্যেই ত্রুং বোনেদের লাশ পাওয়া গেল। তাঁদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। চীনা ঐতিহাসিকদের মতে, ত্রুং বোনেরা চিনা সেনাবাহিনীর হাতে খুন হয়ে গেছিলেন। কিন্তু ভিয়েতনামী ঐতিহাসিকরা এই ইতিহাস অস্বীকার করেন। সত্য যাই হোক, মৃতারা শহিদে পরিণত হন। আজকে তাঁদেরকে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামীদের প্রতিরোধের প্রতীক হিসাবে দেখা হয়।
৭৩-১০২ হানদের শিনচিয়াং বিজয়।
৮২ হান চীনের সাথে ইয়ায়োই জাপানের যোগাযোগ স্থাপিত হল।
৯১ চীনের হান রাজবংশ মঙ্গোলিয়া দখল করে নিল।
১০৮ চীন কোরীয় উপদ্বীপের উত্তরাংশ দখল করে নিল।
১৫৫-২২০ চীনের সামরিক স্বৈরতন্ত্রী কাও কাওয়ের জীবনকাল।
১৬০ চীনে হান রাজবংশের পতনের কাল শুরু হল।
১৬৮-১৮৯ এসময় চীন শাসন করছেন সম্রাট লিং।
১৮৪ হলুদ পাগড়ি বিদ্রোহ।
১৮৪-১৯২ চীনা কৃষকদের হলুদ পাগড়ি বিদ্রোহ রক্তে ডুবিয়ে দিয়ে দমন করল হানরা।
১৮৯ চীনা সমরপ্রভু ডং ঝুয়ো হান রাজবংশের রাজধানী লুয়োইয়াংকে ধবংসস্তূপে পরিণত করলেন। পরের বছর শহরটি পুড়িয়ে দেয়া হয়। লিউ জিয়ি নামের একটি শিশুকে মসনদে বসানো হয়।
১৮৯-২৪৮ জাপানে রানী হিমিকোর শাসনকাল।
২০৫ চীনের সাবেক হান সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিলেন কাও কাও। নিজেকে চ্যান্সেলর হিসাবে নিয়োগ দিলেন। কার্যত একজন সামরিক স্বৈরতন্ত্রী।
২০৮ চীনকে তিনটি আঞ্চলিক রাজ্যে বিভক্ত করা হল।
২২০ কাও কাওয়ের মৃত্যু। চীনের মসনদের ওপর অধিকার ছাড়লেন লিউ জিয়ি। শুরু হল সাড়ে তিনশো বছরের অনিশ্চয়তার কাল।
২৩৮ চীনে একটি শুভেচ্ছামূলক প্রতিনিধিদল প্রেরণ করলেন জাপানের রানী হিমিকো।
২৪৮ চীনাদের বিরুদ্ধে ও চীন-কবলিত ভিয়েতনামী সমাজে নারীর অবস্থানের ক্রমাবনতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিলেন ভিয়েতনামী নারী ত্রিউ আউ।*
* চীনাদের বিরুদ্ধে ভিয়েতনামীদের এই বিদ্রোহ সফল হয়নি। তবে এসব বিদ্রোহ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে, ভিয়েতনামী নারীরা বিশেষভাবেই নেতৃত্বগুণসম্পন্ন। চীনা শাসনকে একতরফাভাবে খারাপ বলা যায় না। কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছিল। বহু রাস্তাঘাট, সেতু, ও পোতাশ্রয় নির্মিত হয়েছিল। কনফুশিয়াসের মতবাদ ও তাওবাদের সাথে পরিচয় ঘটেছিল ভিয়েতনামী সমাজের অভিজাতদের। তবে সাধারণ লোকে চীনাদের ঘৃণাই করত, কারণ চীনারা ভিয়েতনামীদেরকে “বর্বর” মনে করত।
৩০৪ যাযাবর গোষ্ঠী জিওনগু চীনের মহাপ্রাচীর ভেদ করে দেশটিতে ঢুকে পড়ল।
৩১৩ কোরীয়রা চীনাদের কোরীয় উপদ্বীপ থেকে তাড়িয়ে দিল।
৩৪২ চীনের মুরং হুয়াং কোরিয়া আক্রমণ করলেন।
৪১৩-৭৮ জাপানের রাজারা এসময় চীনে রাষ্ট্রদূত ও শুভেচ্ছাদল প্রেরণ করছেন।
৪৯৪ চীনের উত্তরাঞ্চলের ওয়েউ রাজ্য লুয়োইয়াংকে তাঁদের রাজধানী নির্বাচন করল।
৫২৮ স্তেপের বাসিন্দারা সাম্রাজ্যিক চীনের রাজধানী লুয়োইয়াং আক্রমণ করল।
৫৪২ চীনা শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন ভিয়েতনামী লাই বন। সাময়িক সাফল্য পেলেন, প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের রাজ্য। ৫৪৬ সালে চীনাদের হাতে পরাস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত লাই বন ক্ষমতায় থাকবেন।
৫৮১-৬১৮ সুই রাজবংশ।
৫৮১-৬০১ চীনের প্রথম সুই সম্রাট ওয়েনদির রাজত্বকাল।
৬০৪-১৮ চীনের দ্বিতীয় ও শেষ সুই সম্রাট ইয়াংদির রাজত্বকাল।
তাং রাজবংশ
৬১৮-৯০৭ সাল

৬১৮-৯০৭ তাং রাজবংশ।*
* এ সময় তাওধর্মের, যা দাওধর্ম নামেও পরিচিত, বিকাশ ঘটে।
৬১৮-২৬ চীনের প্রথম তাং সম্রাট গাওজুর রাজত্বকাল।
৬১৮ চীনের তাং রাজবংশ নাম ভিয়েতএর নাম পাল্টে আন্নাম রাখল।
৬২৬-৪৯ চীনে তাং সম্রাট তাইজংয়ের রাজত্বকাল।
৬৩৪ তিব্বত ও চীনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত।
৬৪৯-৮৩ চীনে তাং সম্রাট গাওজংয়ের রাজত্বকাল।
৬৬৮ চীনের তাংদের আক্রমণে কোরিয়ার গোগুরইয়েও রাজ্যের পতন।
৬৯০-৭০৪ চীনের ইতিহাসের একমাত্র সম্রাজ্ঞী উ জেতিয়ানের রাজত্বকাল।
৭১২-৫৬ চীনে তাং সম্রাট জুয়ানজংয়ের রাজত্বকাল।*
* তাওধর্ম, যা দাওধর্ম নামেও পরিচিত, এসময় চীনের দরবারি ধর্ম হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
৭৫৬-৯০৭ চীনে এসময় তাং রাজবংশের অবক্ষয় শুরু হয়। সাম্রাজ্যিক অনুগ্রহের ওপর টিকে থাকা তাওবাদী দর্শনের, যা দাওবাদী দর্শন নামেও পরিচিত, জনপ্রিয়তাও একইসাথে কমে আসতে থাকে। জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে কনফুশীয়বাদ ও বৌদ্ধধর্ম।
৭৬৮-৮২৪ চীনের শেকসপীয়ার বলে খ্যাত হান ইয়ু’র জীবনকাল।
৮৪২-৪৫ চীনের বৌদ্ধ ভিক্ষু ও তাঁদের মঠগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।
৮৪৩ আন্তঃমঙ্গোলিয়ায় হামলা চালিয়ে ১০,০০০ যাযাবর উইঘুরকে হত্যা করল তাং সাম্রাজ্য।
৯০৭-৯৬০ পাঁচ রাজবংশ আর দশ রাজ্য পর্ব।
৯০৭-১১২৫ খিতান গোষ্ঠীর মানুষেরা প্রতিষ্ঠা করলেন লিয়াও রাজবংশ। মঙ্গোলিয়ার একাংশ, মাঞ্চুরিয়া, আর চীনের উত্তরাঞ্চল শাসন করছেন লিয়াওরা।
৯৩৭-৭৫ চীনে আকর্ষণীয় দেখানোর নামে মেয়েদের পা বেঁধে রাখার জঘন্য অমানবিক পিতৃতান্ত্রিক প্রথার প্রথম উল্লেখ এসময় থেকে পাওয়া যায়।
৯৩৮ খিতানদের লিয়াও রাজবংশ চীনের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালাল। বাখ দাং নদীর ঐতিহাসিক সমরে চীনাদেরকে পরাস্ত করলেন ভিয়েতনামী সেনাপতি নগো কুয়েন।
৯৩৯ চীনা শাসনের হাত থেকে মুক্ত নাম ভিয়েত-এর রাজা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেন নগো কুয়েন।
৯৬০-১১২৫ উত্তর সং রাজবংশ।
৯৭৬-৯৭ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট তাইজং।
৯৯০-১০৩০ চীনা চিত্রকর ফান কুয়ানের জীবনকাল।
৯৯৭-১০২২ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট ঝেনঝং।
১০০৪ চীনে লিয়াও আর সংদের মধ্যে শানইউয়ান চুক্তি।
১০২২-৬৩ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট রেনজং।
১০২৩ চীনে প্রথমবারের মত ব্যবহৃত হচ্ছে কাগজের মুদ্রা।
১০৬৩-৬৭ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট ইয়িংজং।
১০৬৭-৮৪ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট শেনজং।
১০৮৫-১১০০ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট ঝিজং।
১১০০-২৬ এসময় চীন শাসন করছেন সং সম্রাট হুইজং।
১১১৫-১২৩৪ মঙ্গোলিয়া ও চীনের উত্তরাঞ্চলে জুর্জেন জিন রাজবংশ।
১১১৫-২৩ জুর্জেন জিন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট তাইজুর রাজত্বকাল।
১১২৫ সং রাজবংশের ওপর জুর্জেন জিনরা হামলা চালাল। এতে সংরা চীনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে সরে আসল। সেখানে প্রতিষ্ঠা করল তারা দক্ষিণ সং রাজবংশ।
১১২৫-১২৭৯ দক্ষিণ সং রাজবংশ।
১১২৭-৬২ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট গাওজং।
১১৩৮ হাংঝৌকে (লিনান) দক্ষিণ সং রাজবংশ তাদের রাজধানী বানাল।
১১৪২ জুর্জেন জিন আর দক্ষিণ সংরা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি শান্তি চুক্তিতে সই করল।
১১৫৩ জুর্জেন জিনরা তাদের রাজধানী শানজিং (হারবিন) থেকে সরিয়ে ইয়ানজিংয়ে (বেইজিং) নিয়ে আসল।
১১৬২-৮৯ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট জিয়াওজং।
১১৮৯-৯৪ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট গুয়াংজং।
১১৯৪-১২২৪ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট নিনজং।
১২০৫, ১২০৯, ১২১১, ১২১৫ চীনের উত্তরাঞ্চলের জুর্জেন জিনদের ওপর মঙ্গোলদের একের পর এক হামলা।
১২২৪-৬৪ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট লিজং।
১২৩৪ ফেব্রুয়ারি জুর্জেন জিনদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর চীন দখল করে নিল মঙ্গোলরা।
১২৬৪-৭৪ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ চীন সম্রাট দুজং।
১২৭১ চীনে কুবলাই খান প্রতিষ্ঠা করলেন ইউয়ান রাজবংশ।
১২৭১-১৩৬৮ মঙ্গোলদের ইউয়ান রাজবংশ।
১২৭৩ মঙ্গোলদের হাতে জিয়াংইয়াংয়ের পতন ঘটল।
১২৭৪-৭৫ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট গংজং।
১২৭৫-৭৭ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং সম্রাট দুয়ানজং।
১২৭৫-৭৯ সং চীনের যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, কুবলাই খানের নেতৃত্বে সেটুকুও দখল করে নিল মঙ্গোলরা।
১২৭৮-৭৯ এসময় দক্ষিণ চীন শাসন করছেন দক্ষিণ সং রাজবংশের শেষ সম্রাট দিবিং।
মিং রাজবংশ
১৩৬৮-১৬৪৪ সাল

১৩৬৮-১৬৪৪ মিং রাজবংশ।
১৩৯২ কোরিয়ায় স্থাপিত হল ইয়ি রাজবংশ, ইয়িরা ১৯১০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
১৫১৩ মুক্তা নদীর মোহনায় নোঙর ফেলল একটি পর্তুগিজ জাহাজ। পর্তুগিজ নাবিক হোর্হে আলভারেজ হংকংয়ে আদিতম ইওরোপীয় পর্যটক।
১৫২০-২৯ পর্তুগিজ বণিকরা হংকংয়ে ঘাঁটি গাড়লেও সামরিক সংঘাতের পর তারা সেখান থেকে বহিষ্কৃত হল।
১৫২১-৪৯ পর্তুগিজরা মাকাওয়ে জবরদস্তিমূলকভাবে বাণিজ্যকুঠি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাল, কিন্তু একাধিক সমরে মিং চীনা বাহিনীর হাতে পরাস্ত হল।
১৫৪৯ পর্তুগিজ-চীনা বাণিজ্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল।
১৫৫০-১৬০০ চীনা রেশমি পণ্য জাপানে রফতানি করার মূল সংযোগসূত্র হিসেবে মাকাওয়ের বাণিজ্য উৎকর্ষের চূড়ায় পৌঁছাল।
১৫৫৪ ‘লুসো-চীন চুক্তি’: পর্তুগিজরা মাকাওকে একটা বাণিজ্যকুঠি হিসেবে ভাড়া নিল।
১৫৫৭ মাকাওয়ের ওপর চিরস্থায়ী লিজ বুঝে পেল পর্তুগাল।
১৬২২ ওলন্দাজরা মাকাও দখল করে নেয়ার চেষ্টা চালাল।
১৬৩০-৩৯ উত্তর চীনের মাঞ্চুরা কোরিয়া দখল করে নিল। শাসন করতে লাগল। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়ি রাজবংশেরই অধীনস্ত রইল দেশটি।
১৬৪০-৪৯ জাপানিরা বাণিজ্য স্থগিত করলে মাকাওয়ের অর্থনীতিতে বিপর্যয় দেখা দিল। এসময়ই কখনো স্পেনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পর্তুগাল। পর্তুগিজদের হাত থেকে মালাক্কা ওলন্দাজদের হাতে পড়ল।
কিং রাজবংশ
১৬৪৪-১৯১১ সাল

১৬৪৪-১৯১১ মাঞ্চু রাজবংশ, কিং রাজবংশ বলেও পরিচিত।
১৬৫০-৫৯ ওলন্দাজরা এসময় তাইওয়ানে চীনা অভিবাসনে উৎসাহ যোগাচ্ছে, চীনা চাষীদেরকে শস্তায় কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে।
১৬৬৪ তাইওয়ানে ওলন্দাজ উপনিবেশিক শাসনের অবসান হল, এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন চীনা সমরনায়ক ছেং চেং-কুং।
১৬৮০ এই দশক নাগাদ ১ থেকে দেড় লক্ষ হান চীনা বসতিস্থাপনকারী তাইওয়ানে বসতিস্থাপন করলেন।
১৬৮৩ চীনের কিং রাজবংশ তাইওয়ান দখল করে নিল।
১৭০১-১৮০০ পশ্চিমাদের কাছে আফিম বাণিজ্যের কদর বৃদ্ধি পাওয়ায় মাকাও একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হল।
১৭৫৭ ক্যান্টন ব্যবস্থার অধীনে বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নানা ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করল কিন চীন। এতে ওভারসিজ বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে উঠল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের ক্যান্টন বন্দর। বর্তমানে যার নাম গুয়াংঝু।
চা, রেশম, ও পোর্সেলিনের মত চীনা পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে ব্রিটিশ বণিকরা চীনের কাছে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় আফিম বিক্রি করল। মাদক সংকটের মুখে, আফিম বাণিজ্য ঠেকাতে কিন কর্মকর্তারা আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে শুরু করলেন।
১৮৩৯-৪২ আফিম যুদ্ধ।
১৮৪২ ১ম আফিম যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় হংকংকে গ্রেট ব্রিটেনের হাতে তুলে দিল চীন। পরবর্তী দশকগুলোতে হাজার হাজার চীনা অভিবাসী উপনিবেশটিতে বসতিস্থাপন করলেন।
১৮৪০-৬৪ তাইপিং বিদ্রোহ।
১৮৫০ এসময়ই কখনো বাণিজ্যে মাকাওকে ছাড়িয়ে যায় হংকং।*
* বণিকরা ধীরে ধীরে পর্তুগিজ-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড ছেড়ে যায়।
১৮৬০ পিকিং সম্মেলন, কওলুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের হাতে তুলে দিল হংকং।
১৮৭৭ চীন সফর করলেন ইউলিসিস এস. গ্রান্ট, যিনি পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন।
১৮৯৪-৯৫ প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ। শিমোনোসেকি চুক্তি। এই যুদ্ধে মাত্র ৯ মাসে হেরে যায় চীন এবং তাইওয়ান চীনের হাতছাড়া হয়।
১৮৯৮ জুলাই ১ চীন হংকংয়ের দ্য নিউ টেরিটোরিজকে ২৩৫টি দ্বীপের সাথে ৯৯ বছরের জন্য ব্রিটেনের কাছে লিজ দিল।
১৮৯৯ চীনে খনি প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত আছেন হার্বার্ট হুভার, যিনি পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবেন।
১৯০০ বক্সার বিদ্রোহ।
১৯১১ চীনে কয়েক হাজার বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান। গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে চীনে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। চীন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষিত হলেন সান ইয়াত-সেন।
তথ্যসূত্র
Whiteford, Gary T., and Salter, Christopher L.. 2010. China. 2nd ed. Chelsea House.
World History Encyclopedia
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



