আল-আন্দালুস

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

DeepSeek and Gemini.

পূর্বসাল

১৯ ইবেরীয় উপদ্বীপে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করল রুমিরা। প্রতিষ্ঠা করল হিসপানিয়া। তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে, “শান্তি ও সমৃদ্ধির” পর্ব।

পূর্বসাল ৬-৩০ সাল বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের শহর বেথলেহেমে জন্ম নেয়া খ্রিস্টধর্মের প্রাণকেন্দ্র জেসাস ক্রাইস্টের* জীবনকাল।
* ইবরানি জেশুয়া মেসিয়ার গ্রিক অনুবাদ ইউসুস খ্রিস্তোস; ইউসুস খ্রিস্তোসের ইংরেজি অনুবাদ জেসাস ক্রাইস্ট। জেসাস ক্রাইস্টের অনুসারীরা খ্রিস্টান নামে পরিচিত। বাংলায় খ্রিস্টান শব্দটি গ্রিক ভাষার খ্রিস্তোস (Χριστός) থেকে এসেছে, এর সোজাসাপটা অর্থ ‘ত্রাতা।’

সাল

৩৯৫ রোমক সাম্রাজ্যের ভাঙন হিসপানিয়ায় অস্থিতিশীলতা তৈরি করল।

৪০৯ জার্মানিক গোষ্ঠীগুলো হিসপানিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালাল ও কালক্রমে পুরো উপদ্বীপটিতে ছড়িয়ে পড়ল।

৫৬৮ রাজা লিওভিজিল্ডের ক্ষমতায় আসার ভেতর দিয়ে ইবেরীয় উপদ্বীপে ভিসিগথিক রাজ্য সংহতি লাভ করে।

৫৭০ মক্কার কুরাইশ গোত্রে জন্ম নিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

৬২২ জুলাই ১৬ মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। আরবিতে মদিনা অর্থ: “শহর।” মদিনা শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। এর অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এবছর থেকে শুরু হয়।

৬২২ জুলাই ১৬ মক্কা থেকে ইয়াসরিবে হিজরত করলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদিনা নামে পরিচিতি পাবে। আরবিতে মদিনা অর্থ: “শহর।” মদিনা শব্দটি মদিনাতুন নবির অংশ। এর অর্থ: “নবির শহর।” মুসলিম পঞ্জিকার, যা হিজরি সন বলে পরিচিত, গণনা এবছর থেকে শুরু হয়।

৬৩৭ রাশিদুন খেলাফতের লেভান্ত* জয়, অঞ্চলটি থেকে বাইজেন্টাইনদেরকে বের করে দেয়া হল।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

৬৬১-৭৫০ উমাইয়া খেলাফত।*
* এই খেলাফতের কেন্দ্র ছিল বর্তমান সিরিয়ার দামিশক।

৬৮১ উত্তর আফ্রিকা বিজয় শেষে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছে গেল ইসলামী বাহিনী।

৭০৫-১৭ খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজত্বকাল।

৭১০ রাজকীয় ওয়ারিশ নিয়ে ভিসিগথিক রাজ্যে গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেল।

৭১১-১৪৯২ আল-আন্দালুস

৭১১ একটি ফৌজ নিয়ে কাল্পে হাজির হলেন তারিক বিন জিয়াদ। ইওরোপীয় ভাষায় জায়গাটি জিব্রাল্টার নামে পরিচিত। যা এসেছে আরবি জাবাল তারিক থেকে।

৭১২ তারিফার উত্তর-পশ্চিমের এক স্থানে উমাইয়াদের কাছে নিষ্পত্তিমূলকভাবে হেরে গেল ভিসিগথিক বাহিনী।

৭১৮ ওভেইদোর কোভাদোঙ্গায় এক সংঘর্ষে একটি মুসলিম বাহিনীকে পরাস্ত করলেন ভিসগথিক সর্দার পেলায়ো।

৭২০ ক্যান্টাবেরিয়া ও পাইরিনিজ পর্বতমালা ছাড়া ইবেরীয় উপদ্বীপের বাকিটুকু মুসলিম নিয়ন্ত্রণে চলে এল।*
* ইহাই ভৌগোলিকভাবে আল-আন্দালুস।

৭৩২পয়তিয়ের্সের/তুর্সের সমর। ফ্রান্সে শার্ল মার্টেলের হাতে উমাইয়া সেনাবাহিনীর পরাজয়।

৭৪০-৪২ উমাইয়া খেলাফতের বিরুদ্ধে উত্তর আফ্রিকায় বার্বার বিদ্রোহ।

৭৪৯ আব্বাসীদের কুফা বিজয় ও উমাইয়া খেলাফত উৎখাত।

৭৫০ আব্বাসীরা উমাইয়াদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে ক্ষমতায় আসে। এই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া উমাইয়া রাজকুমার প্রথম আবদুর রহমান শরণার্থী হিসেবে সাম্রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তে পালিয়ে যান। পাঁচবছর পর তিনি নিজেকে আল-আন্দালুসে আবিষ্কার করেন।

৭৫৬-১০৩১ কর্দোবায় উমাইয়া রাজ্য

৭৫৬-৯২৯ কর্দোবা আমিরশাহি

৭৫৬-৭৮৮ কর্দোবা আমিরশাহির প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আবদুর রহমানের শাসনকাল।

৭৭৭ শার্লামেইনকে স্পেনে দাওয়াত দিল জারাগোজা।

৭৭৮ আগস্ট ১৫ রনচেজভালেজের সমর। স্পেন থেকে পশ্চাৎপসারণের সময় শার্লামেইনের সেনাদলের পৃষ্ঠরক্ষাবাহিনী পরাজিত হল। শার্লামেইনের জীবনের একমাত্র হার বিবেচিত হয়।

৭৮৩ কর্দোবা আমিরশাহির বাহিনীর হাতে জারাগোজা শহরের পতন।

৭৮৪ মেসকিতা নামে পরিচিত কর্দোবার জামে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করলেন প্রথম আবদুর রহমান।

৭৯১ ক্ষমতায় এলেন খ্রিস্টান রাজা দ্বিতীয় আলফসোঁ। ওভেইদোতে বসালেন আস্তুরীয় দরবার। ভিসিগথিক দরবারি পরম্পরা নতুন করে চালু করলেন।

৮৩৩ দ্বিতীয়বারের মতো কর্দোবার জামে মসজিদ সম্প্রসারণের দায়িত্ব নিলেন দ্বিতীয় আবদুর রহমান।

৮৪৪ আল-আন্দালুসে ভাইকিং হামলা। সেভিলের দক্ষিণে তাবলাদায় দ্বিতীয় আবদুর রহমানের বাহিনী ভাইকিংদের পরাজিত করল।

৮৮৩ স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম নেতা উমর ইবনে হাফসুনের বিদ্রোহ দমনের একটা অসফল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মালাগা পর্বতমালা পেরোলো আমিরের বাহিনী।

৮৯০ ডিসেম্বর ১৮ কর্দোবায় জন্ম নিলেন তৃতীয় আবদুর রহমান।

৯১২ কর্দোবার আমির আবদুল্লার মৃত্যু।

কর্দোবা আমিরশাহির ক্ষমতায় এলেন তৃতীয় আবদুর রহমান। তাঁকে তিনটি হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হয়: উত্তর আফ্রিকার ফাতিমিরা, উত্তরের খ্রিস্টানরা, আর ইবনে হাফসুনের চলমান বিদ্রোহ। তাঁর শাসনামলে তিনি এই হুমকিগুলো অতিক্রম করতে বা নিয়ন্ত্রণসীমার মধ্যে রাখতে সক্ষম হন।

৯১২-৬১ কর্দোবা খেলাফতের প্রতিষ্ঠাতা তৃতীয় আবদুর রহমানের রাজত্বকাল।

৯১২ কর্দোবার নতুন আমির হলেন তৃতীয় আবদুর রহমান।

৯১৫ তৃতীয় আবদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন উমাইয়া বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম নেতা উমর ইবনে হাফসুন।

৯১৬ লিওন রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করলেন তৃতীয় আবদুর রহমান।

৯২৪ নাভারের রাজধানী পাম্পলোনায় ধবংসলীলা চালাল উমাইয়া বাহিনী।

৯২৮ তৃতীয় আবদুর রহমানের হাতে বিদ্রোহী নগর বোবাস্ত্রোর পতন ঘটল।

৯২৯ মেরিদাকে অন্তর্ভুক্ত করে লোয়ার মার্চ পুনর্দখল করলেন তৃতীয় আবদুর রহমান। এই বছরই তিনি নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। কর্দোবা আমিরশাহিকে কর্দোবা খেলাফতে রূপান্তরিত করেন।*
* যা দ্বিতীয় উমাইয়া খেলাফত নামেও পরিচিত।

৯২৯-১০৩১ কর্দোবা খেলাফত

৯৩২ স্থানীয় সমরনায়কের হাত থেকে তলেদো পুনর্দখল করলেন তৃতীয় আবদুর রহমান।

৯৩৪ তৃতীয় আবদুর রহমানের জারাগোজা, নাভারে, ও লিওন অভিযান। নাভারে এ সময় তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে।

৯৩৬ কর্দোবার বাইরে মেদিনাত আল-জাহরায় একটা নতুন উমাইয়া প্রাসাদ নির্মাণ করলেন তৃতীয় আবদুর রহমান।

৯৩৭ স্বায়ত্তশাসিত শাসক মুহাম্মদ ইবনে হিশাম আল-তুজিবির কাছ থেকে জারাগোজা পুনর্দখল করলেন তৃতীয় আবদুর রহমান।

৯৩৯ সিমানকাসের সমর।* উমাইয়াদের পরাস্ত করল লিওনের বাহিনী।
* আলহান্দেজার সমর নামেও পরিচিত।

৯৪০ লিওন রাজ্য ও কর্দোবা খেলাফতের মধ্যে শান্তিচুক্তি।

৯৫০ কর্দোবা খেলাফতের করদ রাজ্যে পরিণত হল বার্সেলোনা।

৯৫৭ নাভারেতে ও লিওনে অভিযান চালাল উমাইয়া বাহিনী।

৯৫৮ নাভারে ও লিওনের রাজারা তৃতীয় আবদুর রহমানের সামন্তে পরিণত হলেন।

৯৬১ তৃতীয় আবদুর রহমানের মৃত্যু। নয়া খলিফা হলেন তাঁর পুত্র আল-হাকাম। তৃতীয়বারের মতো সম্প্রসারিত হল কর্দোবার জামে মসজিদ।

৯৭৬ আল-হাকামের মৃত্যুতে কার্যত ক্ষমতা দখল করেন জনৈক মন্ত্রী। যাঁর নাম আল-মানজুর। একজন অল্পবয়সী খলিফাকে সামনে রেখে দেশ চালান। উমাইয়া শাসন অব্যাহত থাকার গল্পটাকে ভিত্তি দিতে। তাঁর বুলন্দ নিয়ন্ত্রণে আল-আন্দালুস সমৃদ্ধ হতে থাকে। চতুর্থ ও শেষবারের মতো কর্দোবার জামে মসজিদের সম্প্রসারণের হুকুম দেন আল-মানজুর।

১০০২ খ্রিস্টান ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়ে ফেরার পথে আল-মানজুরের মৃত্যু। তাঁর পুত্ররা ক্ষমতা দখল করে। নতুন খলিফা মনোনয়নের একটা ব্যর্থ চেষ্টার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

১০৩১ কর্দোবার বিশিষ্টজনেরা খেলাফত বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। ভেঙে যায় আল-আন্দালুস। কর্দোবা খেলাফত বা দ্বিতীয় উমাইয়া খেলাফতের পতন। তাইফা ব্যবস্থার আবির্ভাব। ৩০টিরও বেশি তাইফা, স্বাধীন রাজ্য, গড়ে ওঠে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। সেভিলের মত কিছু তাইফার ভেতরে শিকারী মনোভাব দেখা যায়, যারা অপেক্ষাকৃত আকারের ছোট তাইফাগুলোকে গিলে খেয়ে ফেলে। খ্রিস্টান রাজ্যগুলো মুসলমানদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুসলিম অঞ্চলগুলোর গভীরে হামলা চালায় এবং কর আদায় করতে থাকে।

১০৪৩-৯৯ এল সিদ।*
* আরবি আস-সাঈদের বিবর্তিত স্পেনীয় রূপ। আসল নাম রদ্রিগো দিয়াজ দে ভিভার। কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া এই কাস্তিলিয়ান নাইট জীবনের বিভিন্ন সময়ে খ্রিস্টান আর মুসলিম দুই পক্ষের হয়েই লড়েছেন।

১০৫০-১১৪৭ মুরাবিতুন রাজবংশ।*
* স্পেনীয় নাম আলমোরাভিদ অধিক পরিচিত হওয়ায় এই লেখার অন্যত্র সেটিই ব্যবহৃত হয়েছে।

১০৮৫ মুসলমানদের কাছ থেকে তলেদো পুনর্দখল করলেন লিওন ও কাস্তিলের রাজা ষষ্ঠ আলফসোঁ।

১০৯০ মরক্কো থেকে ইবেরীয় উপদ্বীপে আসে একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী আলমোরাভিদ। খ্রিস্টান হুমকি দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করে। দুর্বল ও ভোগবিলাসে মত্ত তাইফা শাসকদের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করে আল-আন্দালুসের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

১১২১-১২৬৯ মুওয়াহহিদিন রাজবংশ।*
* স্পেনীয় নাম আলমোহাদ অধিক পরিচিত হওয়ায় এই লেখার অন্যত্র সেটিই ব্যবহৃত হয়েছে।

১১৪৪ আল-আন্দালুসে দেখা দিল দ্বিতীয় তাইফা ব্যবস্থা।

১১৪৭ আলমোরাভিদদের রাজধানী মারাক্কেশ দখল করে নিল আলমোহাদরা। আরেকটি মৌলবাদী গোষ্ঠী। ১১৬০ সাল নাগাদ তাঁদের ক্ষমতা পোক্ত হয়।

সেভিলের গিরাল্ডা ও মারাক্কেশের কুতুবিয়া মসজিদের মত বিশাল সব ভবন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়।

জুন-অক্টোবর দ্বিতীয় ক্রুসেডের সময় লিসবনে অবরোধ দেয়া হল।

১১৪৭ অক্টোবর ১৭ দ্বিতীয় ক্রুসেডের সময় মুসলমানদের কাছ থেকে স্পেনের উত্তরাঞ্চলের আলমেরিয়া পুনর্দখল করল ক্রুসেডাররা।
২১ লিসবন পুনর্দখল করল ক্রুসেডাররা।

১১৪৮ ডিসেম্বর ৩০ দ্বিতীয় ক্রুসেডের সময় মুসলমানদের কাছ থেকে স্পেনের পূর্বাঞ্চলের তর্তোজা পুনর্দখল করল ক্রুসেডাররা।

১১৫৮ স্পেনে প্রতিষ্ঠিত হল দি অর্ডার অফ কালাত্রাভা।

১১৭২-১২১২ আল-আন্দালুসে আলমোহাদদের আধিপত্য।

১১৭০ স্পেনে প্রতিষ্ঠিত হল দি অর্ডার অফ সান্তিয়াগো।

১১৭৩ স্পেনের আরাগেঁ প্রতিষ্ঠিত হল দি অর্ডার অফ মন্টজয়।

১১৭৬ স্পেনে প্রতিষ্ঠিত হল দি অর্ডার অফ আলকান্তারা।

১১৭৮ পর্তুগালে প্রতিষ্ঠিত হল দি অর্ডার অফ ইভোরা।

১১৯৫ আলারকোসের সমর। স্পেনের খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর ওপর মুসলমানরা একটা বিজয় অর্জন করল।

১২১২ আল-আন্দালুসে তৃতীয় তাইফা পর্বের সূচনা। লাস নাভাস দে তলোসায় তিনটি স্পেনীয় রাজ্যের এক যৌথবাহিনীর হাতে মুসলমানদের পরাজয়। আলমোহাদদের ক্ষমতা ক্ষয়ে যেতে শুরু করল।

১২৩২-১৪৯২ নাসরি রাজবংশ

১২৩৬ আল-আন্দালুসের বিশাল অংশ খ্রিস্টানদের হাতে চলে এল। কাস্তিল ও লিওনের ষষ্ঠ আলফসোঁর কর্দোবা বিজয়।

১২৩৮ রিকঙ্কুইস্তাদোররা মুসলমানদের কাছ থেকে ভ্যালেন্সিয়া পুনর্বিজয় করল। গ্রানাদার মসনদে বসলেন ইবনে আল-আহমার।* ইবেরীয় উপদ্বীপে আল-আন্দালুসের হাজিরানার শেষ প্রতীক নাসরি রাজবংশের সূচনা।
* রাজ্যাভিষেকের পর তাঁর নাম হয় প্রথম মুহাম্মদ।

১২৪৬ কাস্তিলের রাজা তৃতীয় ফার্নান্দোর সাথে একটা চুক্তি সই করলেন গ্রানাদার রাজা প্রথম মুহাম্মদ। কয়েক বছরের স্থিতিশীলতা। প্রথম মুহাম্মদ আলহামব্রার নির্মাণকাজ শুরুর হুকুম দিলেন।

১২৪৮ রিকঙ্কুইস্তাদোররা মুসলমানদের কাছ থেকে সেভিল পুনর্বিজয় করল।

১২৭৩ পিতার মৃত্যুতে ক্ষমতায় আসেন তৃতীয় মুহাম্মদ। দ্বন্দ্বসংঘাতে ভরা এক বিভ্রান্তিকর সময়ের শুরুয়াত। জিব্রাল্টার প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে উত্তর আফ্রিকার মারিনি ও কাস্তিলীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়। ফলে জোট-বদলের একটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে আরাগীঁরাও এতে যুক্ত হয়।

১৩৪৪ আলহেসিরাস দখল করল কাস্তিলিরা। এ সময় প্রথমবারের মতো গানপাউডার ও কামান ব্যবহৃত হয়। কাস্তিলীরা ধীরে ধীরে আর্টিলারির ব্যবহারে ওস্তাদ হয়ে ওঠে।

১৩৫৪ পঞ্চম মুহাম্মদ সিংহাসনে আরোহণ করলেন। তিনি তার পিতার শুরু করা বিশাল নির্মাণকাজের ধারা আরও এক দশক ধরে চালিয়ে যান। কাস্তিলের সাথে শান্তিচুক্তি বলবৎ থাকার কারণে এটি ছিল সমৃদ্ধির সময়, এবং এ সময়েই আলহামব্রার কিছু শ্রেষ্ঠ স্থাপনা নির্মিত হয়।

১৩৬৪ সেভিলের রয়্যাল আলকাজার প্রাসাদের নির্মাণকাজ শুরু করেন কাস্তিলের প্রথম পেদ্রো (“দ্য ক্রুয়েল”), যাতে মুসলিম কারিগরদের কাজে লাগানো হয়েছিল।

১৪৬৯ আরাগেঁর রাজা ফের্নান্দোর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন কাস্তিলের রানী ইসাবেলা। পরে তাঁরা “ক্যাথলিক মোনার্কস” নামে পরিচিতি পাবেন। ইবেরীয় উপদ্বীপের দুই শক্তিশালী খ্রিস্টান রাজ্য এক হল। স্থাপিত হল আধুনিক স্পেনের ভিত্তিপ্রস্তর। ইওরোপের ডিইসলামাইজেশনে এই সাম্রাজ্যিক দম্পতির ভূমিকাটা অতুলনীয়। একইসাথে ইওরোপীয় উপনিবেশবাদ প্রথম তহবিল তাঁরাই যোগান। রিকঙ্কুইস্তার সাথে ইওরোপীয় উপনিবেশবাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে।

১৪৮২ গ্রানাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যাথলিক মোনার্কদের বাহিনী আলহামা দে গ্রানাদা দখল করে। পরের বছরগুলোতে তারা ধাপে ধাপে গ্রানাদা রাজ্যের বিভিন্ন শহর দখল করতে থাকে।

১৪৮৭ দীর্ঘ অবরোধের পর গ্রানাদার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মালাগা দখল করল ক্যাথলিক মোনার্কদের বাহিনী।

১৪৯১ গ্রানাদার অবরোধ শুরু।

১৪৯২ স্পেনের শেষ মুসলিম রাজ্য গ্রানাদার পতন। ক্যাথলিক মোনার্কদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন গ্রানাদার শেষ মুসলিম শাসক বোয়াবদিল। একটি চুক্তিতে সই করলেন। যেখানে গ্রানাদার মুসলমানদের কিছু অধিকার দেয়া হয়। কয়েক মাস পরে স্পেনের ইহুদিদের বলা হল, “খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো, নতুবা দেশত্যাগ করো।”

১৪৯৯ চুক্তিভঙ্গের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন গ্রানাদার মুসলমানরা। রাজ্যের সব মুসলমানকে বলা হল, “খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো, নতুবা দেশত্যাগ করো।” গণ বাপ্তাইজীকরণের কারণে মরিস্কোস নামে একটি সম্প্রদায় দেখা দিল: যে মুসলমানদের জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল।

১৫৭০ আলপুজারাসে মরিস্কোস অভ্যুত্থান। রক্তাক্ত উপায়ে এই অভ্যুত্থান দমন করা হয়। সব মরিস্কোসকে গ্রানাদা রাজ্য থেকে স্পেনের অন্যান্য অংশে বিতাড়িত করা হল।

১৬০৯ স্পেন থেকে সব মরিস্কোসকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত নিলেন রাজা তৃতীয় ফিলিপ। প্রক্রিয়াটা শুরু হল ভ্যালেন্সিয়া। কালক্রমে স্পেনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ল।

১৬১৪ স্পেন থেকে মরিস্কোসদের বিতাড়নের প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হল, যাঁদের অধিকাংশই উত্তর আফ্রিকায় চলে গেলেন।

তথ্যসূত্র

Barry, Michael. 2022. Homage to Al-Andalus: The Rise and Fall of Islamic Spain. Amazon paperback edition. Andalus Press.

World History Encyclopedia.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *