প্রাচীন বাংলা

Spread the love

Featured Image: Md. Ahsanul Haque Nayem/Wikimedia Commons.

Wikimedia Commons.

পূর্বসাল

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ১২০০ সাল প্রাচীন ভারত

৩৩০০-১৩০০ সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতা

পূর্বসাল ৩০০০-১২০০ সাল প্রাচীন বাংলা

২০০০-১০০১ বর্তমানে যা ভারতের উত্তরপশ্চিমাঞ্চল ও পাকিস্তান, সেখানে মধ্য এশিয়া থেকে যাযাবর আর্যদের আগমন।

১২০০-৪০০ বাংলায়* পশ্চিম থেকে আর্যদের** আগমন।
* বাংলা বলতে এই রচনায় ১৯৪৭ সালপূর্ব সময়ে বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতীয় বাংলার অন্তর্গত যে ভূখণ্ড তাকে বুঝাবে।
* এই রচনায় আর্য আর দ্রাবিড়ের মত শব্দগুলো স্রেফ ভাষা গোষ্ঠী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। জাতি অর্থে নয়। উনিশ শতকের বর্ণবাদী নৃবিজ্ঞান যে ভয়াবহ আর্য জাতিতত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিল, যে জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ শতকে নাৎসি হলোকাস্ট পরিচালিত হয়, আজকে তা ছদ্মবিজ্ঞান বলে পরিত্যাজ্য।

এ সময়ই কখনো বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী ও রংপুরে পুন্ড্র রাজ্যের উত্থান ঘটে, যা পুন্ড্রবর্ধন নামে অধিক পরিচিত।

১১০০-৩০০ অঙ্গ ও বঙ্গ রাজ্য।

১০০০ বাংলায় দক্ষিণ থেকে দ্রাবিড়দের আগমন।*
*  বাংলা শব্দটির সত্যিকার উৎস কেউই জানেন না। অনেকগুলো তত্ত্ব রয়েছে। এর একটি হল, এ সময় যে দ্রাবিড়রা বাংলায় বসতি গেড়েছিলেন, তাঁদের একটি গোত্রের নাম বঙ্গ থেকেই বাংলা।

৭০০ মহাস্থানগড়ে* এ সময়ে নাগরিক সভ্যতার বিকাশ ঘটছে।
* পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী, বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় অবস্থিত।

৬০০-৩৪৫ গাঙ্গেয় উপত্যকায় নগরায়ন, গড়ে উঠল ১৬টি মহাজনপদ।*
* অবন্তী, অশ্মক, অঙ্গ, কম্বোজ, কাশী, কুরু, কোশল, গান্ধার, চেদি, বৃজি, বৎস, পাঞ্চাল, মগধ, মৎস্য, মল্ল ও শূরসেন।

৫৪৪ সিংহল দ্বীপ জয় করলেন বাঙালি বিজয় সিংহ।*
* সিংহল দ্বীপ বর্তমান শ্রীলঙ্কার একটি প্রাচীন নাম। বিজয় সিংহ কিংবদন্তী চরিত্র। তাঁর বাস্তব অস্তিত্বের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ মেলেনি।

৫৪৩-৩২১ মগধ রাজ্যের উত্থান।*
* বাংলা ও বিহারের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।

৫০০-৪০১ বাংলায় নাগরিক সভ্যতা। দূর দেশের সাথে সামুদ্রিক বাণিজ্য চালু হচ্ছে। প্রথমবারের মত বিবেচনাযোগ্য আকারের রাষ্ট্র গড়ে উঠছে। এসময় ইন্দো-ইওরোপীয় ভাষাগুলো পশ্চিম থেকে ছড়িয়ে পড়ছে। আর্য সংস্কৃতির বিস্তার। বাংলার অঞ্চলগুলো ও মানুষেরা নিজেদের বঙ্গ, গৌড়, রাঢ়, পুন্ড্র, বরেন্দ্র, সমতট, হরিকেল ইত্যাদি শব্দ দ্বারা নির্দেশিত করছেন।

৪৫০ স্থাপিত হল গঙ্গাঋদ্ধি রাজ্য। উয়ারী-বটেশ্বরে নাগরিক সভ্যতা।*
* বর্তমান বাংলাদেশের নরসিংদীতে অবস্থিত।

৩০০ বাংলায় মৌর্য শাসনের সূচনা।

সাল

১৫০ ক্লডিয়াস টলেমির মানচিত্রে গঙ্গাঋদ্ধি রাজ্যটি দেখানো হল।

৩৩৫ বাংলাকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল।

৫৩০ বঙ্গে গোপচন্দ্রের স্বাধীন রাজ্য।

৫৪৩-৪৪ উত্তরবঙ্গে গুপ্তশাসন অব্যাহত।

৫৬৭-৯৭ বঙ্গে অভিযান চালালেন চালুক্যের রাজা কীর্তিবর্মণ।

৫৭০ হযরত মুহাম্মদের (সা.) জন্ম।

৫৮১-৬০০ উত্তরবঙ্গে অভিযান চালালেন তীব্বতের রাজা স্রং-সান।

৫৯৩ গৌড়ে জয়নাগের স্বাধীন রাজ্য।

৬০৫-৬৩৭ গৌড়ে শশাঙ্কের উত্থান।

৬৩৮ আরাকানের রাজা কর্তৃক প্রবর্তিত হল মঘী সন।

৬৪০ চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের বর্ণনায় পূর্ববঙ্গের কথা উল্লেখ করা হল।

৬৪৭-৪৮ বঙ্গ আক্রমণ করলেন তীব্বতরাজ ওয়েন হিয়েন সে।

৬৫০ বঙ্গে খরগ রাজবংশ, সমতট ও ত্রিপুরায় রাত রাজবংশ।

৬৫০-৭৫০ উত্তরবঙ্গে মাৎস্যন্যায় পর্ব।

৭০১-১২০০ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রথমবারের মত মুসলমানদের আগমন।

৭৫০-৮০০ বঙ্গে দেব রাজবংশ।

৭৬০ বাংলা, বিহার, ও আসামে পাল রাজবংশের উত্থান।

৭৬০-১১৪২ বাংলা, বিহার, ও আসাম শাসন করছেন পাল রাজবংশ।

৭৫৬-৮১ গোপালের রাজত্ব।

৭৮১-৮২১ ধর্মপালের রাজত্ব।

৮০১-৯০০ বাংলার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে এ সময়ই নির্মিত হয় পাহাড়পুর।

৮২১-৮৬১ দেবপালের রাজত্ব।

৮৫১ দেবপালের মৃত্যু।

৯০০-১০৪৫ বঙ্গে চন্দ্র রাজবংশ।

৯৩০ বঙ্গে শ্রীচন্দ্রের শাসনের শুরু। বিক্রমপুরে রাজধানী স্থাপন করা হল।

৯৫০ এ সময়ের কাছাকাছি কখনো জন্ম নেয় বাংলা ভাষা।

৯৫৮ সিংহাসনে বসলেন মহীপাল।

৯৯৫-১০৪৩ মহীপালের রাজত্ব।

১০২১-২৪ বঙ্গে অভিযান চালালেন দক্ষিণ ভারতের রাজেন্দ্র চোল।

১০৪০ তিব্বত সফর করলেন পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।

১০৪৭ বঙ্গ আক্রমণ করলেন কলচুরীর রাজা লক্ষীকর্ণ। চন্দ্রবংশের পতন।

১০৭০ বরেন্দ্রে কৈবর্ত বিদ্রোহ।

১০৭৫-৮০ বরেন্দ্রে কৈবর্ত রাজত্ব।

১০৮০-১১৫০ বঙ্গে বর্মণ রাজবংশ।

১০৮২-১১২৪ রামপালের রাজত্ব। পালদের পুনরুত্থান।

১১০১-১২০০ এ সময় সেন রাজ্যের রাজধানী ছিল লক্ষণাবতী।

১১৪২-১২৩০ বাংলায় সেন রাজবংশ।

১১৫৯ বাংলায় ক্ষমতায় আসলেন বল্লাল সেন। সর্বানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন টীকাসর্বস্ব, সংস্কৃত অভিধান অমরকোষের টীকা। আমাদের জানাশোনার মধ্যেই এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম অভিধান।

১১৬৫ বল্লাল সেনের বরেন্দ্র বিজয়।

১১৭৮-১২০৬ লক্ষণ সেনের রাজত্বকাল।

১১৯১ অযোধ্যায় মালিক হিশাম উদ্দিনের সেনাদলে কাজ পেলেন আফগানিস্তানের হেলমান্দ নদীর ধারের তেরে আগা গ্রাম থেকে আসা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি।

১১৯৩ ওদন্তপুরীর বৌদ্ধ মহাবিহার বখতিয়ার খলজির হস্তগত হল। তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকাটির নাম রাখলেন বিহার শরিফ। কালক্রমে বিহার একটি প্রদেশের নাম হয়ে গেল।

১২০৪ লক্ষণ সেনকে হারিয়ে বখতিয়ার খলজির নবদ্বীপ জয়।

১২০৫ বখতিয়ার খলজির সৈন্যরা গৌড়ের পুরাতন রাজধানী লক্ষণাবতী – বর্তমান গৌড় ও মালদহ – দখল করে নিল। এই শহরের নামে বখতিয়ার তাঁর নবলব্ধ রাজ্যের নাম রাখলেন লখনৌতি। চারদিক থেকেই নদীবেষ্টিত এই রাজ্যের পূর্বে ছিল করতোয়া, পশ্চিমে গঙ্গা, দক্ষিণে পদ্মা, আর উত্তরে তিস্তা।

১২০৬ তিব্বত জয়ের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে লখনৌতির সীমান্ত পেরোলেন বখতিয়ার খলজি।

তথ্যসূত্র

আজাদ, হুমায়ুন। ২০১৯। লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ সপ্তদশ মুদ্রণ। আগামী।
— ২০২১। কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী। দ্বিতীয় সংস্করণ একাদশ মুদ্রণ। আগামী।

রহমান, মুহাম্মদ হাবিবুর। ২০০৮। বাংলাদেশের তারিখ। তৃতীয় সংস্করণ। মাওলা ব্রাদার্স।

শাহরিয়ার, খন্দকার স্বনন। ২০২৩। প্রাচীন যুগের বাংলা: গঙ্গারাজ্য থেকে গৌড়। প্রথম সংস্করণ। বাতিঘর।

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *