
মুঘল সাম্রাজ্য
Featured Artwork: Attributed to Bhavanidas (-1748)/Wikimedia Commons.

World History Encyclopedia.
সাল
১২০৬-২৭ চেঙ্গিজ খানের রাজত্বকাল।
১৩৭০-১৪০৫ আমির তৈমুরের রাজত্বকাল।
১৩৯৮ আমির তৈমুরের আক্রমণে দিল্লি ধবংস হয়ে গেল।
১৪৮৩-১৫৩০ জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর।
১৪৯৮ উত্তরাধিকার সূত্রে ফারগানা লাভ করলেন বাবুর।
১৫০৪ মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিজ খান আর বাপের দিক থেকে আমির তৈমুরের বংশধর ১৯-বছর-বয়সী তুর্কি যুবক জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর কাবুল জয় করেন।
১৫০৪-২৬ কাবুলের আমির হিসেবে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুরের রাজত্বকাল।
১৫০৮-৫৬ নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন।
১৫২৬-১৮৫৮ মুঘল সাম্রাজ্য।
১৫২৬ এপ্রিল ২১ পানিপথের প্রথম যুদ্ধ। জাহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুরের কাছে হেরে গেলেন দিল্লির লোদি রাজবংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদি। দিল্লি সুলতানশাহির অবসান ও মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।
১৫২৬-৩০ মুঘল সম্রাট হিসেবে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুরের রাজত্বকাল।
১৫২৮ বাবুরের কাছে আশ্রয় চাইলেন শের খান, যাঁর বাবা হাসান খান সূরি আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসে দিল্লির সুলতান বাহালুল খান লোদির আনুকূল্য ও বিহারের তিনটি পরগনার – তান্ডা, সাসারাম, আর খাবাসপুর – জমিদারি লাভ করেছিলেন।
১৫২৯ বাবুরের বাংলা আক্রমণ।
১৫৩০ উত্তর ভারতের পাশাপাশি আফগানিস্তানের অধিকাংশ অঞ্চল বাবুরের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এ বছরই আগ্রায় মৃত্যুবরণ করেন জাহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবুর। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে কাবুলে কবর দেয়া হয়।*
* জায়গাটি বাগ-ই-বাবুর, বা ‘বাবুরের বাগিচা’, নামে পরিচিত।
মুঘল সম্রাটের পক্ষে বিহারের অল্পবয়স্ক শাসনকর্তা জালাল খান লোহানির অভিভাবক নিযুক্ত হলেন শের খান।
১৫৩০-৪০ নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুনের প্রথম রাজত্বকাল।
১৫৪০ ফরিদুদ্দিন শেরশাহ নামে দিল্লির মসনদে বসলেন শের খান।
১৫৪০-৪৫ বর্তমান ভারতের উত্তরাঞ্চল শাসন করছেন শের শাহ। সুরি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমান বাংলায় শাসনকালটি পাঠান রাজত্ব বলে পরিচিত।
১৫৪২-১৬০৫ জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর।
১৫৪২ উত্তর ভারত জয় করলেন শের শাহ। রাজস্ব আদায়ের একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করলেন।
১৫৪৫ কলিঙ্গ দুর্গ অবরোধ করাকালে শেরশাহের মৃত্যু।
১৫৪৫-৫৪ শের শাহের পরে সুরি সাম্রাজ্যের মসনদে আসীন হলেন তাঁর পুত্র ইসলাম শাহ।
১৫৫৪ ইসলাম শাহকে পরাস্ত করলেন হুমায়ুন। মুঘল শাসন পুনঃপ্রবর্তন।
১৫৫৫-৫৬ নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ হুমায়ুনের দ্বিতীয় রাজত্বকাল।
১৫৫৬-১৬০৫ জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবরের রাজত্বকাল।
১৫৫৬ পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিদ্রোহী হেমুকে হারালেন আকবর।
১৫৬২ রাজপ্রতিনিধিত্বের অবসান ঘটিয়ে রাজপুত বিবাহের নীতি শুরু করলেন আকবর।
১৫৬৪ শেরশাহের এককালীন সেনাপতি তাজ খান কররানি মুঘলদের ধাওয়া খেয়ে বিহার থেকে বাংলায় এসে নিজেকে বাংলার সুলতান বলে ঘোষণা করলেন।
১৫৬৪-৭৬ বাংলায় কররানিদের রাজত্ব।
১৫৬৬ তৈরি করা হল নয়া ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা।
১৫৬৯-১৬২৭ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ সেলিম।*
* জাহাঙ্গীর নামে অধিক পরিচিত।
১৫৭১-৮৫ এ সময় সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল ফতেপুর সিক্রি।
১৫৭৪ আকবরের গুজরাত জয়। তৈরি করা হল জাগির-মনসবদার ব্যবস্থা। দাউদ খান কররানির কাছ থেকে রাজা উপাধি পেলেন প্রতাপাদিত্যের পিতা বিক্রমাদিত্য। গৌড়ের যশ হরণ করে বিক্রমাদিত্যের রাজ্যের সমৃদ্ধি ঘটেছে দাবি করে গৌড় থেকে আসা কিছু লোক রাজ্যটিকে ‘যশোহর’ ডাকা শুরু করল। কালক্রমে যা লোকমুখে যশোর হয়ে উঠবে।
১৫৭৫ সুলায়মান খান কররানির ছেলে দাউদ খান কররানির বিদ্রোহ দমন করতে বাংলায় এলেন দিল্লির সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর, বিদ্রোহ দমন করে মুনেম খানকে সুবাদার নিযুক্ত করে আকবর ফিরে গেলেন আগ্রায়। মহামারীতে মুনেম খানের মৃত্যু। সোনারগাঁওয়ের কাছাকাছি অবস্থান নেয়া মুঘল নৌবহর ধবংস করে ফেললেন ঈসা খাঁ, দাউদ খান কররানি দ্বিতীয়বারের মত বাংলা দখলের চেষ্টা চালালেন।
১৫৭৬ জুলাই ১২ রাজমহলের যুদ্ধ। মুঘলদের কাছে পরাজিত হলেন দাউদ খান কররানি। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল।
১৫৭৯ মুজাফফর খান তুরবাতিকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করলেন আকবর। প্রচারিত হল আকবরের ধর্মীয় কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেয়া দলিল।
১৫৮০ এপ্রিল ১৯ মুঘল সম্রাটের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহ করলেন মুঘল সেনাপতি মাসুম খান কাবুলি। তান্ডায় তুরবাতিকে খুন করলেন তিনি।
জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবরের অর্থমন্ত্রী টোডরমলের বাংলা আগমন।
১৫৮১ মাসুম খান কাবুলির সাথে ঈসা খাঁর মৈত্রীচুক্তি। নিজেকে বাংলার পূর্বাংশের স্বাধীন শাসক বলে ঘোষণা করলেন তিনি, সুবর্ণগ্রাম হল পূর্ব বাংলার রাজধানী। উপাধি নিলেন মসনদ-ই-আলা।
১৫৮২ জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবরকে বিভ্রান্ত করে যশোর রাজ্যের সনদ নিজের নামে লিখে নিয়ে বাংলায় ফিরলেন প্রতাপাদিত্য, মনক্ষুন্ন হলেন তাঁর কাকা বসন্ত রায়।
১৫৮৪ এবছর পর্যন্ত মুঘলদের সাথে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলেছেন ঈসা খাঁ, তবে মুঘলদের বিরুদ্ধে মাসুম খান কাবুলিকে নিয়মিত নৌবহর দিয়ে সাহায্য করেছেন। বক্তারপুরে ঈসা খাঁর নৌঘাঁটি আক্রমণ করলেন মুঘল সুবাদার শাহবাজ খান। এগারসিন্দুর আর ভাওয়ালের যুদ্ধে ঈসা খাঁর জয়।
১৫৮৪-১৬১২ বারো ভূঁইয়া বিদ্রোহ।*
* এই বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে গেলেও বাংলার বিদ্রোহী মনোভাবের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে।
১৫৮৬ কাশ্মীরকে মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে আনলেন আকবর। শাহবাজ খানের সাথে ঈসা খাঁর মৈত্রীচুক্তি। কিন্তু এই চুক্তি বেশিদিন টেকেনি।
১৫৯২-১৬৬৬ শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররম।*
* শাহজাহান নামে অধিক পরিচিত।
১৫৯৪ মানসিংহকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করলেন জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর, দায়িত্ব দিলেন ঈসা খাঁকে উৎখাত করার।
১৫৯৭ মানসিংহের ছেলে কুমার দুর্জন সিংহ বিক্রমপুরে ঈসা খাঁর মুখোমুখি হলেন, যুদ্ধে কুমার সিংহের মৃত্যু। আগ্রায় গিয়ে আকবরের সাথে সাক্ষাৎ করেন ঈসা খাঁ। আকবর ঈসা খাঁর মসনদ-ই-আলা উপাধি স্বীকার করে নেন, তাঁকে বাংলার দেওয়ান নিযুক্ত করেন, এবং নামমাত্র কর দিয়ে ঈসা খাঁ স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।
১৫৯৯ এগারসিন্দুর দুর্গ থেকে বক্তারপুরে নৌঁঘাটি পরিদর্শন করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ঈসা খাঁ। অচিরেই মৃত্যুবরণ করেন। ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর বাংলার মসনদে বসেন মুসা খাঁ। পূর্বসূরীর মত তিনিও মুঘলদের আনুগত্য অস্বীকার করেন। লড়াই চালিয়ে যান সুবর্ণগ্রাম থেকে।
১৬০০ প্রথম এলিজাবেথের ইস্যুকৃত রাজকীয় সনদের ভিত্তিতে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬০২ গঠিত হল ওলন্দাজ সংযুক্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (ভিওসি)।
১৬০৫-২৭ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ সেলিমের রাজত্বকাল।*
* নামকাওয়াস্তে বাদশা ছিলেন জাহাঙ্গীর। কার্যত সম্রাজ্ঞী নূরজাহানই দেশ চালাতেন। তাই এই পর্বটাকে তাঁদের যৌথ শাসন বলা যায়।
১৬০৮ ইসলাম খানকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর।
১৬০৯ রাজা প্রতাপাদিত্যের প্রতি সুবাদার ইসলাম খানের প্রস্তাব: মুসা খাঁর বিরুদ্ধে মুঘলদের অভিযানে সৈন্য ও নৌবহর দিয়ে সাহায্য করবেন প্রতাপাদিত্য। বিনিময়ে তিনি পাবেন শ্রীপুর ও বিক্রমপুরের জমিদারি। সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও টালবাহানা করলেন প্রতাপাদিত্য। ইসলাম খানের সেনাপতি ইনায়েত খান আক্রমণ করলেন প্রতাপাদিত্যকে।
১৬১০ মুসা খাঁকে পরাজিত করলেন সুবাদার ইসলাম খান। পরবর্তী সুবাদার ইব্রাহিম খান ফতেহ-ই-জঙ্গ মুসা খাঁর সাথে মৈত্রী স্থাপন করে তাঁকে মুঘলদের ত্রিপুরা ও কামরূপ অভিযানে কাজে লাগান। মুঘল বাহিনীর সাথে প্রতাপাদিত্যের বাহিনীর তুমুল লড়াই। পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন রাজা প্রতাপাদিত্য। ঢাকাকে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হল। সুবাদার ইসলাম খান কর্তৃক নতুন নামকরণ: জাহাঙ্গীরনগর। জাহাঙ্গীরনগর এসময় থেকে বাংলার রাজধানী হয়ে ওঠে।
১৬১১ রাজা প্রতাপাদিত্যকে শিকলে বেঁধে বাঘের মত করে প্রদর্শন করতে করতে ঢাকা থেকে আগ্রায় নিয়ে যাবার সময় সম্ভবত কাশীতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নূরজাহানের উত্থান।
১৬১২ উপমহাদেশে ব্রিটিশদের আগমন। বঙ্গীয় বদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলের ওপর মুঘলদের শাসন কায়েম হল।
১৬১৩-১৪ রাজা প্রথম জেমসের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে বাদশা জাহাঙ্গীরের সামনে উপস্থাপন করলেন স্যার টমাস রো।
১৬১৫-১৮ এ সময় মুঘল দরবারে অবস্থান করছেন স্যার টমাস রো। মুঘলরা ভারতে ব্রিটিশদের ব্যবসা করার ও কারখানা খোলার অনুমতি দিল।
১৬১৮-১৭০৭ মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর।*
* আওরঙ্গজেব নামে অধিক পরিচিত।
১৬১৮ আওরঙ্গজেবের জন্ম।
১৬২৮-৫৮ শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ খুররমের রাজত্বকাল।
১৬৩০-৮০ ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ।
১৬২৭-৫৮ দাক্ষিণাত্যের উত্তরাঞ্চলের বিপুল অঞ্চল জয় করলেন শাহজাহান।
১৬৩১-৫৩ নির্মিত হল তাজমহল।
১৬৩৩ সম্রাট শাহজাহানের এক ফরমানের বলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় তাঁদের উপনিবেশিক বাণিজ্য শুরু করে। একটি মত্ত হাতির মুখোমুখি হলেন আওরঙ্গজেব।
১৬৩৬ আনুগত্য চুক্তি করল গোলকুন্ডা ও বিজাপুর।
১৬৩৬-৪৪ দাক্ষিণাত্যের ভাইসরয় হলেন আওরঙ্গজেব।
১৬৩৭ আওরঙ্গজেবের প্রথম বিয়ে।
১৬৩৯ নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদ।
১৬৩৯-৪৮ নির্মিত হল লাল কেল্লা।
১৬৪৬ মহারাষ্ট্রের পুনেতে ঘাঁটি গাড়লেন শিবাজী।
১৬৪৭-১৭১২ প্রথম বাহাদুর শাহ।
১৬৫৩-৫৪ গায়িকা হীরাবাঈয়ের সাথে প্রেম করছেন আওরঙ্গজেব।
১৬৫৫ গোলকুন্ডা সুলতানশাহিতে হামলা চালালেন আওরঙ্গজেব।
১৬৫৭ আওরঙ্গজেবের স্ত্রী দিলরাস বানু বেগমের মৃত্যু। অসুস্থ হয়ে পড়লেন শাহজাহান। ভাইদের মধ্যে উত্তরাধিকারের যুদ্ধ শুরু।
১৬৫৮ আওরঙ্গজেবের প্রথম রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠান।
১৬৫৮-৬৬ শাহজাহানকে কারারুদ্ধ করা হল।
১৬৫৮-১৭০৭ মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীরের রাজত্বকাল। তাঁর শাসনামলেই মুঘলরা দক্ষিণ ভারত জয় করে। আওরঙ্গজেব তাঁর শাসনামলের প্রায় পুরোটাই উত্থানশীল মারাঠা শক্তির সাথে লড়েছেন।
১৬৫৯ আওরঙ্গজেবের দ্বিতীয় রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠান। দারা শুকোকে হত্যা করা হল।
১৬৬০ আগস্ট ২৬ উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে দাক্ষিণাত্যের সুবাদার শাহজাদা আওরঙ্গজেবের কাছে হেরে আরাকানের রাজধানী ম্রোহংয়ে পালিয়ে গেলেন বাংলার সুবাদার শাহ সুজা। আশ্রয় নিলেন আরাকানের রাজা চন্দ্র সুধর্মার দরবারে। এক পর্যায়ে তিনি সেখানেই সপরিবারে নিহত হন।
১৬৬১ মুরাদ বখশকে হত্যা করা হল।
১৬৬১-১৭১৩ জাহান্দার শাহ।
১৬৬৩ রাজা রঘুনাথের মৃত্যু।
১৬৬৪-৭৮ বাংলায় সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা সুবাদার শায়েস্তা খানের আমল।*
* সমৃদ্ধি আর প্রাচুর্যের যুগ হিসেবে প্রবাদপ্রতিম হয়ে আছে।
১৬৬৪, ১৬৭০ মুঘলদের সাম্রাজ্যিক বন্দর সুরাট দখল করলেন শিবাজী।
১৬৬৬ জানুয়ারি ২৭ চট্টগ্রামের ওপর দাবি ছেড়ে দিল পর্তুগিজ উপনিবেশিক শক্তি আর আরাকানিরা, ফলে তা মুঘলদের নিয়ন্ত্রণে এল।
মুঘল দরবার থেকে পালিয়ে গেলেন শিবাজী।
শাহজাহানের মৃত্যু।
১৬৬৭ ফতোয়ায়ে আলমগীরির সূচনা।
১৬৬৯ বেনারসের বিশ্বনাথ মন্দির ধবংস করা হল।
১৬৭৩-৭৪ লাহোরের বাদশাহি মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হল।
১৬৭৪-১৮১৮ মারাঠা কনফেডারেসি।*
* ছত্রপতি শিবাজি রাজে ভোঁসলে কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত।
১৬৭৫ তেঘ বাহাদুরকে হত্যা করা হল।
১৬৭৯-৮০ রাঠোর-সিসোদিয়া বিদ্রোহ।
১৬৭৯ জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করা হল। মুঘল অভিজাতদের মধ্যে হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব বাড়তে শুরু করল।
১৬৮০ শিবাজীর মৃত্যু।
১৬৮১ রাজকুমার আকবরের বিদ্রোহ। দাক্ষিণাত্যে সরে এলেন আওরঙ্গজেব। প্রতিষ্ঠা করলেন নতুন রাজধানী আওরঙ্গাবাদ।
১৬৮৩-১৭১৯ ফররুখশিয়ার।
১৬৮৫ চট্টগ্রামে একটা ব্রিটিশ নৌবহরকে পরাজিত করল মুঘলরা।
১৬৮৫-৮৬ বিজাপুর অবরোধ।
১৬৮৭ গোলকুন্ডার পতন।
১৬৮৬-৮৭ বিজাপুর ও গোলকুন্ডার সুলতানশাহি দুটিকে নিজ সাম্রাজ্যের সীমানাভুক্ত করে নিলেন আওরঙ্গজেব।
১৬৮৯ শিবাজীর পুত্র সাম্ভাজীকে হত্যা করা হল।
১৬৯৬-১৭১৯ দ্বিতীয় শাহ জাহান।
১৬৯৮ আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে কলিকাতা, সুতানুটি, আর গোবিন্দপুর – এই তিনটি গ্রাম খরিদ করার অনুমতি পেল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। জিঞ্জির পতন।
১৬৯৯-১৭৫৯ দ্বিতীয় আলমগীর।
১৬৯৯-১৭১৯ রাফি-উদ-দারাজাত।
১৭০০ এসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ভাগ ২৭ শতাংশ।
১৭০২-৪৮ মুহাম্মদ শাহ।
১৭০৪ নির্বাসনে থাকাকালে মারা গেলেন রাজকুমার আকবর। দাক্ষিণাত্যে জিজিয়া কর মকুব করা হল।
১৭০৫ ফারসি রামায়ণ আওরঙ্গজেবকে উৎসর্গ করলেন অমর সিং।
১৭০৭ আওরঙ্গজেবের মৃত্যু।
১৭০৭-১২ প্রথম বাহাদুর শাহের রাজত্বকাল।
১৭১২-১৩ জাহান্দার শাহের রাজত্বকাল।
১৭১৩-১৯ ফররুখশিয়ারের রাজত্বকাল।
১৭১৫-৬০ বর্তমান বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এ সময় মুঘলদের রাজস্ব হিসেবে কার্পাস প্রদান করত; তাই কার্পাসমহল নামে পরিচিত হয়।
১৭১৯ রাফি-উদ-দারাজাতের রাজত্বকাল।
১৭১৯ দ্বিতীয় শাহজাহানের রাজত্বকাল।
১৭১৯-৪৮ মুহাম্মদ শাহের রাজত্বকাল।
১৭২৫-৭৪ রবার্ট ক্লাইভের জীবনকাল।
১৭২৫-৭৫ আহমাদ শাহ।
১৭২৮-১৮০৬ দ্বিতীয় শাহ আলম।
১৭৩৩ মির্জা মুহাম্মদ শাহ কুলির জন্ম, ইতিহাসে যিনি তাঁর উপাধি সিরাজুদ্দৌলা নামেই পরিচিত হয়ে আছেন।
১৭৩৯ পারস্যের শাসক নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করলেন। মুঘলদের ময়ূর সিংহাসন নিয়ে গেলেন পারস্যে। এর কাছাকাছি সময়েই বাংলায় মারাঠা আক্রমণ আরম্ভ হয়, ইতিহাসে যা বর্গি আক্রমণ বলে পরিচিত হয়ে আছে।
১৭৪৮-৫৪ আহমাদ শাহের রাজত্বকাল।
১৭৫১ তামিলনাড়ুর আরকট কবজা করলেন ২৬-বছর-বয়সী রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৫৪-৫৯ দ্বিতীয় আলমগীরের রাজত্বকাল।
১৭৫৬-৫৭ নবাব সিরাজুদ্দৌলার আমল।
১৭৫৬ আলিবর্দি খানের মৃত্যু। সিরাজুদ্দৌলার হাতে প্রথমে কাশিমবাজার কুঠি, তারপর ফোর্ট উইলিয়ামের পতন। কলকাতা জয় করে নগরীর নতুন নাম দিলেন আলিনগর।
১৭৫৭ জুন ২৩ পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশদের হাতে নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়। মুর্শিদাবাদের নবাবির পতন। বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সূচনা।
জুন ২৮ ব্রিটিশ পুতুল হিসাবে নামকাওয়াস্তে নবাব হলেন মির জাফর আলি খান। বাংলার গভর্নর হলেন রবার্ট ক্লাইভ।
১৭৬০-৮৮ দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রথম রাজত্বকাল।
১৭৬০-১৮৩৭ দ্বিতীয় আকবর।
১৭৬০ ২৭ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে বর্ধমান, মেদিনীপুর, ও চট্টগ্রাম জেলা তুলে দিলেন মির কাশেম। পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্রিটিশদের রাজস্ব প্রদান শুরু করল।
১৭৬৫ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি করলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসক রবার্ট ক্লাইভ। বাংলা, বিহার, ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করল কোম্পানি। ভারতে কাগজে-কলমে মুঘল সাম্রাজ্য টিকে থাকলেও এসময় থেকেই কার্যত ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়।
১৭৭১ দিল্লি মারাঠাদের হাতে এল।
১৭৭৫-১৮৬২ দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।*
* বাহাদুর শাহ জাফর নামে অধিক পরিচিত।
১৭৮৮-১৮০৬ দ্বিতীয় শাহ আলমের দ্বিতীয় রাজত্বকাল।
১৮০৩ ব্রিটিশদের দিল্লি বিজয়, স্থায়ী রাজনৈতিক প্রতিনিধির প্রতিষ্ঠা।
১৮০৬-৩৭ দ্বিতীয় আকবরের রাজত্বকাল।
১৮০৭ দিল্লিতে কৃষক অভ্যুত্থান।
১৮২৯ কলকাতা মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে ঐচ্ছিক ও অতিরিক্ত বিষয় হিসাবে ইংরেজি ভাষা চালু করা হল।
১৮৩০-৩৯ দরবারি ভাষা হিসেবে ফারসিকে প্রতিস্থাপিত করল ইংরেজি।
১৮৩৭-৫৭ বাহাদুর শাহ জাফরের রাজত্বকাল।
১৮৩৮ আদালতে ফারসির পরিবর্তে ইংরেজি চালু করা হল।
১৮৫৭ জানুয়ারি ১ প্রতিষ্ঠা করা হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
মহাবিদ্রোহ। দিল্লির সেপাইরা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। দ্রুত ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহের আগুন।*
* এই বিদ্রোহ শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নামে হলেও কার্যত এর কোনো একক কেন্দ্র বা নেতৃত্ব ছিল না, সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে যে যার মত করে লড়েছেন। মহাবিদ্রোহের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব – প্রিন্স আজিমুল্লাহ, নানাসাহেব, ঝাঁসির রানী লক্ষী বাঈ, আওধের নবাব বেগম হযরত মহল। এই বিদ্রোহ ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের তাড়াতে সক্ষম না হলেও সাম্রাজ্যকে ধাক্কা দিয়েছিল, পরের বছর কোম্পানি বিলুপ্তি করে দিয়ে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনস্ত করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পুনরাবৃত্তি রোখা।
মে ১১ বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে নিলেন।
সেপ্টেম্বর ১৪ বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ব্রিটিশরা ছিনিয়ে নিল দিল্লি।
২১ বাহাদুর শাহ জাফরের সিংহাসনত্যাগের মধ্য দিয়ে ৩৩১ বছর বয়সী মুঘল সাম্রাজ্যের অবসান।*
* মার্কিন ঐতিহাসিক রিচার্ড এম. ইটন দিল্লি সুলতানশাহি আর মুঘল সাম্রাজ্যের ছয়শো বছরকে বলেছেন পার্সিয়ানাত: ফারসি ভাষার সাম্রাজ্য। ১৮৫৭ সালের আগ পর্যন্ত ভারত – গ্রিকে ইন্ডিয়া আর ফারসিতে হিন্দুস্তান – স্রেফ একটা geographical territory ছিল, রাষ্ট্র নয়। ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলেই কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী প্রতিষ্ঠান অর্থে রাষ্ট্র হয়ে ওঠে, যার উত্তরাধিকার বর্তমান পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ।
১৮৫৮ সিপাহি যুদ্ধের কারণে ব্রিটিশ রাজপরিবার বুঝতে পারে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনের জন্য একটা বোঝায় পরিণত হচ্ছে। খোদ ব্রিটেনে কোম্পানির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছিল।
নভেম্বর ১ রানী ভিক্টোরিয়া ভারত শাসনের দায়ভার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে নিজের হাতে তুলে নিলেন; ব্রিটিশ সংসদে লর্ড স্ট্যানলির আনা ভারত বিল পাশের মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে আনা হয়।
১৮৬২ বার্মায় নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন বাহাদুর শাহ জাফর।
তথ্যসূত্র
আন্তোনভা, কোকা, বোনগার্দ-লেভিন, গ্রিগোরি, ও কতোভস্কি, গ্রিগোরি। ১৯৮৮। ভারতবর্ষের ইতিহাস। তৃতীয় সংস্করণ।
শাহরিয়ার, খন্দকার স্বনন। ২০২১। মধ্যযুগের বাংলা: বখতিয়ার খলজি থেকে সিরাজ-উদ-দৌলা। প্রথম সংস্করণ। বাতিঘর।
Burki, Shahid Javed. 2006. Historical Dictionary of Pakistan. 3rd ed. The Scarecrow Press.
Crompton, Samuel Willard. 2007. Pakistan. 2nd Ed. Chelsea House.
Fisher, Michael H. 2016. A Short History of the Mughal Empire. I. B. Tauris.
Kulke, Hermann, and Dietmar Rothermund. 2004. A History of India. 4th ed. Routledge.
Malik, Iftikhar H.. 2008. The History of Pakistan. Greenwood Press.
Mansingh, Surjit. 2006. Historical Dictionary of India. 2nd ed. The Scarecrow Press.
Mcleod, John. 2015. The History of India. 2nd ed. Greenwood.
Phillips, Douglas A., and Gritzner, Charles F. 2003. India. Chelsea House.
Truschke, Audrey. 2017. Aurangzeb: The Life and Legacy of India’s Most Controversial King. Stanford University Press.
Wahab, Shaista, and Youngerman, Barry. 2007. A Brief History of Afghanistan. Facts On File.
Wynbrandt, James. 2009. A Brief History of Pakistan. Facts On File.
নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ
দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি



