রাশিদুন খেলাফত

Spread the love

Featured Image: World History Encyclopedia.

Wikimedia Commons.

সাল

৬৩২-৬১ রাশিদুন খেলাফত।*
* সুন্নিরা যেই চার খলিফাকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশিত বলে বিশ্বাস করেন, সেই রাশিদুন খেলাফতের কাল। শিয়াদের অধিকাংশ প্রথম তিন খলিফাকে অবৈধ ভাবেন, তাঁদের বিশ্বাসে সুন্নিদের চতুর্থ খলিফা আলীই একমাত্র বৈধ খলিফা। তবে জায়েদি শিয়ারা চার খলিফাকেই বৈধ ভাবেন।

৬৩২-৩৪ প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের শাসনকাল।

৬৩২-৩৩ রিদ্দা যুদ্ধ। হযরত মুহাম্মদের মৃত্যুর পর অনেক গোত্রাধিপতি ইসলাম ত্যাগ করতে শুরু করেন, এদের কেউ কেউ এমনকি নিজেকে নবি দাবি করে বসেন। এই মুরতাদদের (ধর্মত্যাগী) বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন খলিফা আবু বকর, সমগ্র আরব উপদ্বীপকে ইসলামের ব্যানারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেন।

৬৩২ ইয়ামামার যুদ্ধ। এই যুদ্ধে নিহত হন মুসাইলামা। মুসলমানদের কাছে তিনি ভণ্ড নবি ও আল-কাজ্জাব (মিথ্যুক) হিসেবে পরিচিত।

৬৩৪ আজনাদাইনের যুদ্ধ। এটি ছিল রাশিদুন খেলাফতের জন্য একটি নিষ্পত্তিমূলক বিজয়। আরব মুসলমানদের দামিশক জয়।

৬৩৪-৪৪ দ্বিতীয় রাশিদুন খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাবের শাসনকাল।

৬৩৫ ফাহলের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের বাহিনী বাইজেন্টাইনদের ফিলিস্তিন গ্যারিসনকে পরাজিত করল। আল-আহসা মরুদ্যানে নির্মিত হল জাওয়াথা মসজিদ, যা পূর্ব আরবের প্রাচীনতম মসজিদ বিবেচিত হয়।

৬৩৬ আগস্ট ইয়ারমুকের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের হাতে বাইজেন্টাইনরা পরাস্ত হলেন।

৬৩৭ রাশিদুন খেলাফতের লেভান্ত* জয়, অঞ্চলটি থেকে বাইজেন্টাইনদেরকে বের করে দেয়া হল।
* সেকালের এশিয়া মাইনর আর ফিনিশিয়া নিয়ে গঠিত। বর্তমান তুরস্ক, সিরিয়া, আর লেবানন অঞ্চলটির অন্তর্গত। বৃহত্তর অর্থে গ্রিস আর মিসরের মধ্যবর্তী পুরো অঞ্চলটাকেই লেভান্ত বলা যেতে পারে।

৬৩৮ কাদিসিয়ার যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের জেরুসালেম জয়।

৬৪০-৪২ রাশিদুন খেলাফতের মিসর জয়।

৬৪০ রাশিদুন খেলাফতের সেলুসিয়া-তেসিফন জয়। আর্মেনিয়ার তৎকালীন রাজধানী দভিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হল। সিরিয়ার প্রশাসক নিযুক্ত হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান।

৬৪১ রাশিদুন খেলাফতের সিজারিয়া জয়।

৬৪২ রাশিদুন খেলাফতের আলেকজান্দ্রিয়া জয়। নেহাওয়ান্দের যুদ্ধ। রাশিদুন খেলাফতের হাতে পরাজিত হল সাসানীয় বাহিনী।

৬৪৩ আর্মেনিয়া ও ককেশাসে একটি অসফল অভিযান পরিচালনা করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৪৪-৫৬ তৃতীয় রাশিদুন খলিফা উসমান ইবনে আফফানের শাসনকাল।

৬৪৬ সাময়িকভাবে আলেকজান্দ্রিয়া পুনর্দখল করল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৪৯-৫০ রাশিদুন খেলাফত সাইপ্রাস ও আরওয়াদ অভিযান।

৬৫০-৫৩ রাশিদুন খেলাফতের সাথে সন্ধি করল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য।

৬৫০ খলিফা উসমানের উদ্যোগে কুরআন শরিফের একটি মান সংস্করণ প্রস্তুত করা হল। এটি আল-মুশহাফ আল-উসমানি নামে পরিচিত। বাকি সব সংস্করণ ধ্বংস করে ফেলা হল।

নুবিয়ায় একটা ব্যর্থ অভিযান চালাল রাশিদুন খেলাফত।

৬৫১ রাশিদুন খেলাফতের মেসোপটেমিয়া জয়।*
* “দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান”। মেসোপটেমিয়া বর্তমান ইরাক ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর গ্রিকদের দেয়া নাম। দুই নদী হল দজলা ও ফোরাত।

রাশিদুন খেলাফতের হাতে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতন। রাশিদুন খেলাফতের ইরান জয়। শেষ সাসানীয় সম্রাট তৃতীয় ইয়াজদিগার্দের মৃত্যু।

৬৫২-৫৩ রাশিদুন খেলাফতের করদ রাজ্যে পরিণত হল আর্মেনিয়া।

৬৫৪ রাশিদুন খেলাফতের ক্রীট, কস, ও রোডস জয়।

৬৫৪-৫৫ মাস্তুলের যুদ্ধ। কন্সটান্টিনোপলের বিরুদ্ধে রাশিদুন খেলাফতের প্রথম বৃহদায়তন অভিযান।

৬৫৬ একদল বিদ্রোহীর হাতে খুন হলেন খলিফা উসমান।

৬৫৬-৬১ চতুর্থ খলিফা ও শিয়াদের প্রথম ইমাম আলি ইবনে আবু তালেবের শাসনকাল। প্রথম ফিতনা। আরবিতে ফিতনাত মাকতাল উসমান বলে পরিচিত। খলিফা উসমান হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেখা দেয়।

৬৫৯ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সাথে শান্তিচুক্তি সই করল রাশিদুন খেলাফত।

৬৬১ মুসাইলামার স্ত্রী সাজাহ বিনতে আল-হারিস ইবনে সুয়াদের মৃত্যু, রিদ্দা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনিই একমাত্র মহিলা যিনি নিজেকে নবি বলে দাবি করেছিলেন।

তথ্যসূত্র

রাফিন, ইরফানুর রহমান। ২০২২। সময়রেখা: মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে করোনাসংকট পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি। দিব্যপ্রকাশ।

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

One Reply to “রাশিদুন খেলাফত”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *