যুগোস্লাভিয়া

Spread the love

Featured Image: Wikimedia Commons.

Image: Perry-Castañeda Library Map Collection, The University of Texas at Austin.

“The past is a foreign country; they do things differently there.”

L.P. Hartley (1895-1972), English Novelist

সাল

১৯১৪-১৮ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

১৯১৫ সাময়িকভাবে কসোভোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাল সার্বিয়া।

১৯১৮ অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের পতন।

অক্টোবর ৫-৬ জাগরেবে সরকারি কাজের দায়িত্ব নিল স্লোভেন, ক্রোয়াট, ও সার্বদের জাতীয় কাউন্সিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়া অস্ট্রিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করল ক্রোয়েশীয় সাবর। দক্ষিণ স্লাভদের সাধারণ রাজ্যের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করল।

সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্য ঘোষিত হল।*
* সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজত্বে যোগ দিল স্লোভেনিয়া। ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় সংসদ নবগঠিত রাজ্যটিতে যোগদানের পক্ষে ভোট দিল। মন্টেনিগ্রো ও কসোভো এই রাজ্যের অংশ হয়ে গেল। উত্তর ম্যাকিদোনিয়া এ সময় সার্বিয়ার অংশ ছিল।

সার্ব কারাদোরদেভিচ রাজত্ব বহাল করা হল।

১৯১৯ এপ্রিল ২০-২৪ বেলগ্রেডে, একটি “ইউনিফিকেশন কংগ্রেসে”, গঠন করা হল সোশালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি অফ যুগোস্লাভিয়া।

নভেম্বর ১২ রাপাল্লো চুক্তি। সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্য আর ইতালি রাজ্যের মধ্যে সম্পাদিত হয়। ইস্ত্রিয়াসহ কয়েকটি আড্রিয়াটিক দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ লাভ করল ইতালি।
২৮ সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের সংবিধান সভা নির্বাচনে ক্রোয়েশিয়া-স্লাভোনিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেল জেপান রাদিচের ক্রোয়াট পিপলস পিজ্যান্ট পার্টি।

গঠন করা হল যুগোস্লাভ মুসলিম অর্গানাইজেশন (Jugoslavenska Muslimanska Organizacija : JMO)।

প্রতিষ্ঠা করা হল জাগরেবের এথনোগ্রাফিক মিউজিয়াম।

১৯২০ জুন ২০-২৪ অতীতের সোশালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি অফ যুগোস্লাভিয়া, যাকে এ সময় বলা হচ্ছিল কমিউনিস্ট পার্টি অফ যুগোস্লাভিয়া (সিপিওয়াই), আয়োজন করল এর ভুকোভার কংগ্রেস।

১৯২১ সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের প্রথম সংবিধান প্রণীত হল। ভিদোভান সংবিধান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত নির্ধারণ করল। সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের জন্য প্রণীত সংবিধানে ক্রোয়েশিয়ার স্বায়ত্তশাসন বিলুপ্ত করা হলে স্বায়ত্তশাসন পুনর্বহালের দাবিতে ক্রোয়েশিয়ার কৃষক দল প্রচারাভিযান চালাতে শুরু করল।

১৯২৮ জুন ২০ বেলগ্রেডের সংসদে পিপলস পিজ্যান্ট পার্টির নেতা জেপান রাদিচকে গুলি করে মারলেন সার্ব র‍্যাডিকাল পুনিসা রাচিচ। জাগরেবে দাঙ্গা বেঁধে গেল।

আগস্ট ৮ রাদিচের মৃত্যু।

১৯২৯ জানুয়ারি ৬ রাজা প্রথম আলেকজান্দার কারাদোরদেভিচ সব “গোত্রবাদী” পার্টি নিষিদ্ধ করলেন এবং একটি ব্যক্তিগত একনায়কত্ব কায়েম করলেন। সার্ব, ক্রোয়াট, ও স্লোভেনদের রাজ্যের নাম বদলেযুগোস্লাভিয়া রাখা হল।* পার্টি অফ রাইটসের জনৈক সদস্য আন্তে পাভেলিচ ক্রোয়েশীয় ফ্যাসিবাদী সংগঠন উসতাসি গঠন করলেন ও ইতালিতে হিজরত করলেন।
* যুগোস্লাভিয়া শব্দের মানে হল দক্ষিণ স্লাভদের ভূমি।

১৯৩২ মিরোস্লাভ ক্রলেজা, দ্য রিটার্ন অফ ফিলিপ লাতিনোভিচা

১৯৩৪ মার্সেইয়ে ক্রোয়েশীয় আর ম্যাকিদোনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে গুপ্তহত্যার শিকার হলেন সার্বিয়ার রাজা প্রথম আলেকজান্দার।

১৯৩৬ সেপ্টেম্বর ৯ সিপিওয়াইয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেন টিটো। যুগোস্লাভ প্রশ্নে পার্টি এ সময় থেকে ঐক্যমূলক লাইন অনুসরণ করতে শুরু করে।

আন্তে পাভেলিচ, দ্য ক্রোয়াট কোশ্চেন

১৯৩৯ আগস্ট ২৬ স্পোরাজুম সই করলেন দ্রাগিসা চেতকোভিচ ও ভ্লাদকো মাচেক। যুগোস্লাভিয়ার একটা স্বায়ত্তশাসিত বানাতে (বানোভিনা) পরিনত হল ক্রোয়েশিয়া, বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার অংশবিশেষ যার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ক্রোয়েশিয়ার কৃষক দল দেশটির স্বায়ত্তশাসন আংশিকভাবে পুনর্বহাল করল।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় “তরুণ মুসলিম” আন্দোলনের শুরুয়াত।

১৯৩৯-৪৫ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

১৯৪১-৪৫ নাৎসি জার্মানি, ফ্যাসিস্ট ইতালি, বুলগারিয়া ও হাঙ্গেরি সম্মিলিতভাবে আক্রমণ করল যুগোস্লাভিয়া। ক্রোয়েশীয় ফ্যাসিস্ট সংগঠন উসতাসি ক্যাথলিক ক্রোয়াট রাজত্ব তৈরির উদ্দেশ্যে সার্ব ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করল।

১৯৪১ এপ্রিল ৬ নাৎসি জার্মানি, ফ্যাসিস্ট ইতালি, বুলগারিয়া ও হাঙ্গেরি সম্মিলিতভাবে যুগোস্লাভিয়া আক্রমণ করল।
১০ ক্রোয়েশিয়াকে একটি স্বাধীন রাজ্য ঘোষণা করা হল। বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং সার্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে “বৃহত্তর ক্রোয়েশিয়া” গঠন করা হল। আন্তে পাভেলিচের পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হল।

টিটোর পার্টিজানদের সাথে মিহাইলোভিচের চেতনিকদের তীব্র সংঘাত। নাৎসি জার্মানির পুতুল ক্রোয়াট ফ্যাসিস্টদের সরকার দখল করে নিল বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। ক্রোয়েশীয় ফ্যাসিস্ট সংগঠন উসতাসি ক্যাথলিক ক্রোয়াট রাজত্ব তৈরির অজুহাতে সার্ব, ইহুদি, ও জিপসিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করে।*
* ক্রোয়াট মুসলমানরা এই হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যান। উসতাসি বিশ্বাস করত, ক্রোয়াট মুসলমানরা “ধাতগতভাবে” ক্রোয়াট ক্যাথলিক, কারণ ধর্মান্তরিত হলেও তাঁদের দেহের ক্রোয়াট রক্ত পাল্টায় নাই। দেহের রক্ত দিয়ে ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করার এই বিচিত্র বর্ণবাদী বিশ্বাস মুসলমানদের বাঁচিয়েছিল বটে, কিন্তু একটা বিশ্রি বাস্তবতারও জন্ম দিয়েছিল: ক্রোয়াট মুসলমানদের অনেকেই উসতাসি-সংঘটিত যুদ্ধাপরাধে সহায়তা করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কসোভোর প্রায় পুরোটাই ফ্যাশিস্ত ইতালি-নিয়ন্ত্রিত বৃহত্তর আলবানিয়ার অংশ হয়ে যায়।

১৯৪৩ মার্চ ৭ জোসিপ ব্রজ টিটোর নেতৃত্বে ডেমোক্রেটিক ফেডারেটিভ যুগোস্লাভিয়া (ডিএফওয়াই) নামের একটি অস্থায়ী রাষ্ট্র ঘোষণা করা হল যেখানে, ফেডারেল প্রজাতন্ত্রে বসবাসরত সব জাতির সমঅধিকার ছিল।* যুদ্ধের পরে এটিই বিবর্তিত হয়ে সোশালিস্ট ফেডারেল রিপাবলিক অফ যুগোস্লাভিয়ার (এসএফআরওয়াই) রূপলাভ করে।
* ছয়টি প্রজাতন্ত্রের সমষ্টি ছিল এই ফেডারেল প্রজাতন্ত্র। সার্বিয়া (রাজধানী বেলগ্রেড), মন্টেনিগ্রো (রাজধানী টিটোগ্রাদ), স্লোভেনিয়া (রাজধানী জুবজানা), ক্রোয়েশিয়া (রাজধানী জাগরেব), বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (রাজধানী সারায়েভো), এবং ম্যাকিদোনিয়া (রাজধানী স্কোপজে)। এদের মধ্যে সার্বিয়ায় দুটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ছিল: কসোভো (রাজধানী প্রিস্টিনা) ও ভোজভোদিনা (রাজধানী নোভি সাদ)।

মে ৮ জাগরেবের পতন।

নভেম্বর ন্যাশনাল লিবারেশন অফ যুগোস্লাভিয়ার (আভনোজ) ফ্যাসিবাদ-বিরোধী কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেয়া হল, ভবিষ্যৎ যুগোস্লাভিয়াকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

১৯৪৫-৯১ সোশালিস্ট ফেডারেল রিপাবলিক অফ যুগোস্লাভিয়া (এসএফআরওয়াই)

১৯৪৫ ইভো আন্দ্রিচ, দ্য ব্রিজ অন রিভার দ্রিনা।*
* ইভো আন্দ্রিচ পরবর্তীতে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। বর্তমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ভিসেগ্রাদ শহরে ওসমানি আমলে নির্মিত এই দ্রিনা নদীর ওপরকার সেতু পরবর্তীকালে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে ওঠে। ১৯৯১-৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধ চলাকালে বসনীয় সার্ব বাহিনী দ্রিনা নদীর ওপরকার এই সেতুতে বসনিয়াক (বসনীয় মুসলমান) নারী, পুরুষ ও শিশুদের হত্যা করে তাঁদের লাশ পানিতে ছুঁড়ে ফেলত।

খুনীদের চোখে এই হত্যাকাণ্ড ছিল “ইতিহাসের দায়মোচন”। ওসমানি সুলতানশাহির দেভশির্মে নামে একটা প্রতিষ্ঠান ছিল, যাতে ভর্তি করতে তারা তাদের বলকান প্রদেশগুলোর খ্রিস্টান প্রজাদের ছেলে বাচ্চাদের জোর করে ধরে নিয়ে যেত। সেকালে বহু সার্ব খ্রিস্টান মায়েদের কাছ থেকে তাঁদের ছেলেদের ছিনিয়ে নিয়ে দ্রিনা নদীর ওপরকার সেতু দিয়ে তুরস্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ লেখক টিম জুদাহ ঠিকই লিখেছেন, “ইতিহাসের সমস্যা হচ্ছে, এটা কখনো থামে না।

১৯৪৬ যুদ্ধকালে উসতাসি হুকুমতের দালালি করার দায়ে একটি আদালত ক্যাথলিক কার্ডিনাল আর্চবিশপ আলোজিজে স্তেপিনাকের বিচার ও দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিল। সমর্থকরা এটাকে দেখনদারি বিচার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাঁকে “কমিউনিজম ঠেকানোর যুদ্ধের শহিদ” হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। ২০১৬ সালে জাগরেবের এক আদালত আলোজিজে স্তেপিনাকের বিচার প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ছিল বলে আগের রায় বাতিল করে দেয়।

১৯৪৮ কমিনফর্মে টিটো-স্তালিন বিরোধ। যুগোস্লাভ স্তালিনপন্থীদের পার্জ করা হল। এঁদের একজন ক্রোয়াট কমিউনিস্ট আন্দ্রিজা হেবরাং।

১৯৫০-৫৯ যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটোর নেতৃত্বে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা। কমিউনিস্ট পার্টির নাম বদলে দ্য লীগ অফ কমিউনিস্টস রাখা হল।

১৯৫২ স্ব-ব্যবস্থাপনার যুগোস্লাভ ব্যবস্থা প্রবর্তনে প্রথম পদক্ষেপটি নেয়া হল, যার মূলে ছিল কারখানা কাউন্সিল।

১৯৫৪ ক্ষমতাচ্যুত হলেন কমিউনিস্ট নেতা মিলোভান জিলাস, যিনি দেশটিতে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদের পক্ষে ওকালতি করতে শুরু করেছিলেন।

১৯৫৬ রেবেকা ওয়েস্ট, ব্ল্যাক ল্যাম্ব অ্যান্ড গ্রে ফ্যালকন: আ জার্নি থ্রু যুগোস্লাভিয়া

১৯৬১ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন ইভো আন্দ্রিচ।

১৯৬৫ বিরাট অর্থনৈতিক সংস্কার।

১৯৬৬ ক্ষমতাচ্যুত হলেন রক্ষণশীল কেন্দ্রীকরণপন্থী নেতা আলেকজান্দার রানকোভিচ।

১৯৬৭ ক্রোয়াট লেখকরা অধিকতর ভাষিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুললেন, যা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথ করে দিল।

১৯৬৭-৭২ ক্রোয়েশীয় বসন্ত। স্থানীয় নেতৃত্ব অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলল। দীর্ঘকাল দোনোমোনো করলেও, শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশীয় নেতৃত্বকে চূর্ণ করলেন টিটো।

১৯৬৮ যুগোস্লাভিয়া সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের ষষ্ঠ প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

১৯৭১ যুগোস্লাভিয়া এ বছরের আদমশুমারিতে মুসলমানদের “জাতিগত সংখ্যালঘু” হিসেবে চিহ্নিত করে, যা পরবর্তী দলিলগুলোতে একটি সাংবিধানিক রূপ পায়। কমিউনিস্টদের এই বিচিত্র বর্গীকরণের কারণে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়, যেন যুগোশ্লাভ খ্রিস্টানদের মধ্যে নৃতাত্ত্বিক (উদাহরণস্বরূপ, সার্ব ক্রোয়াট) ও ফেরকাগত (উদাহরণস্বরূপ, ক্যাথলিক অর্থোডক্স) ফারাক রয়েছে; কিন্তু যুগোস্লাভ মুসলমানরা সব রকমের নৃতাত্ত্বিক ও ফেরকাগত ফারাকের উর্দ্ধে উঠে যাওয়া শুধুই মুসলমান! এই বিভ্রান্তিকর রাষ্ট্রীয় নীতি দেশটির মুসলমানদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদী অনুভূতি জোরদার করায় ভূমিকা রাখে, যা দুই দশক পরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা (১৯৯২-৯৫) এবং কসোভোয় (১৯৯৮-৯৯) যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখা দিয়েছিল তার অন্যতম কারণ।

১৯৭২ উদার ও জাতীয়তাবাদী প্রতিপক্ষকে পার্জ করলেন টিটো।

১৯৭৪ যুগোস্লাভিয়ার জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণীত হল। তাতে প্রজাতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোকে অধিকতর ক্ষমতা দেয়ার মাধ্যমে এক ধরণের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটল। এই সংবিধানে কসোভোকে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়।

১৯৮০ মে ৪ মার্শাল টিটোর মৃত্যু।

১৯৮০-৮৯ যুগোস্লাভিয়া ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত প্রজাতন্ত্রগুলোয় প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদের উত্থান।

১৯৮১ কসোভোয় স্বাধীনতাকামী আন্দোলন দমন করল যুগোস্লাভ সেনারা।

১৯৮১ জুন কসোভোর রাজপথে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও দাঙ্গা দেখা দিল।

১৯৮২ দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা কর্মসূচি বিষয়ক একটি প্রস্তাব পেশ করল ক্রেইগার কমিশন।

১৯৮৪ এ বছরের শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন করে সারায়েভো।

১৯৮৬ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হলেন স্লোবোদান মিলোসেভিচ। সার্বিয়ান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সদস্য কর্তৃক মুসাবিদা করা একটি নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদী স্মারকলিপি আইনীভাবে বলবৎযোগ্য করলেন। সানু মেমোরাণ্ডাম নামের এই দলিলটিতে দাবি করা হয়েছিল, যুগোস্লাভিয়ার ফেডারেল কাঠামো সার্বদের প্রতি বৈষম্যমূলক, এবং বিকেন্দ্রীকরণ দেশটিকে ভাঙনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

১৯৮৭ মিলোসেভিচের কসোভো সফর। সংখ্যাগুরু কসোভার আলবানীয়দের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সার্বদের উত্তেজিত করলেন। নোভা রেভিজার ৫৭তম সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হল স্লোভেনীয় বসন্ত

১৯৮৮ নোভি সাদে ইয়োগার্ট বিপ্লব ভোজভোদিনায় মিলোসেভিচ সমর্থকদের ক্ষমতায় আনল। কসোভোয় সামরিক আইন জারি করলেন স্লোবোদান মিলোসেভিচ।

১৯৮৯ কসোভোর স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিতে ব্রতী হলেন মিলোসেভিচ।

১৯৯০ সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন কসোভার আলবানীয়রা।

স্লোভেনিয়ায় প্রথম বহুদলীয় নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট হলেন মিলান কুচান। গণভোটে অধিকাংশ স্লোভেন স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলেন।

ক্রোয়েশিয়ায় পাঁচ দশকের মধ্যে প্রথম মুক্ত নির্বাচন। নির্বাচনে কমিউনিস্টরা হারে। ক্ষমতায় আসে ফ্রাঞ্জো তুজমানের রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী দল।

১৯৯০-৯২ যুগোস্লাভিয়ায় দ্য লীগ অফ দ্য কমিউনিস্টসের বিলুপ্তি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আলিয়া আলী ইজেতবেগোভিচ। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করল।*
* যুক্তরাষ্ট্র ও ইওরোপীয় কমিউনিটি এই স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৯১ ক্রোয়েশিয়ার মত করে স্লোভেনিয়াও স্বাধীনতা ঘোষণা করল। যুগোস্লাভ ফেডারেল সেনাবাহিনী ‘অখণ্ডতা’ রক্ষার অজুহাত দিয়ে অনুপ্রবেশ চালালে স্লোভেন বাহিনীগুলো রুখে দাঁড়াল। ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যস্ততায় একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে সেনা প্রত্যাহার করে নিল যুগোস্লাভিয়া।

মন্টেনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী হলেন মিলো জুকানোভিচ। সার্বিয়ার সাথে ইউনিয়ন গঠন করল মন্টেনিগ্রো।

ম্যাকিদোনিয়ায় গণভোটে অধিকাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলেন। ম্যাকিদোনিয়া নামটা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র গ্রিসের আপত্তি থাকায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের গতি শ্লথ হয়ে এল। আপত্তির কারণ গ্রিসের একটি প্রদেশের নামও ম্যাকিদোনিয়া।

১৯৯১ জুন ২৫ ক্রোয়েশিয়া আর স্লোভেনিয়া নিজেদের সার্বভৌম ঘোষণা করে যুগোস্লাভিয়া থেকে বেরিয়ে এল, রক্তপাতের সূচনা। যুগোস্লাভ সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে ক্রোয়েশীয় সার্বরা দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে ক্রোয়াটদের বের করে দেয়। এই বছরের শেষ নাগাদ বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড সার্বদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

১৯৯২ সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো যুগোস্লাভ ফেডারেল প্রজাতন্ত্র গঠন করল।

কসোভোর আত্মস্বীকৃত প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হলেন ইব্রাহিম রুগোভা।

বসনিয়া আর ম্যাকিদোনিয়া নিজেদেরকে স্বাধীন ঘোষণা করল।

সিয়েজ অফ সারায়েভো। বসনীয়দের বিরুদ্ধে সার্বদের জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের শুরুয়াত। যুগোস্লাভ ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের ওপর অবরোধ দিল জাতিসংঘ।

ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র স্লোভেনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিল। জাতিসংঘে যোগ দিল স্লোভেনিয়া। সদ্যস্বাধীন রাষ্ট্রে প্রথমবারের মত আয়োজিত হওয়া সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনঃনির্বাচিত হলেন মিলান কুচান, প্রধানমন্ত্রী হলেন জানেজ দ্রনোভসেক।

জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করল ক্রোয়েশিয়া। জাতিসংঘ ক্রোয়েশিয়ায় চারটা সংরক্ষিত অঞ্চল তৈরি করে; যেসব অঞ্চলে ১৪০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়, যাদের কাজ ছিল দেশটির ক্রোয়াট আর ক্রোয়েশীয় সার্বদেরকে আলাদা রাখা। ফ্রাঞ্জো তুজমান ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।

জেলেনা রাজকোভিচ, ব্লু হেলমেট

১৯৯২-৯৫ সিয়েজ অফ সারায়েভো। একজন মুসলমান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বসনীয় সার্বদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তার প্রকাশ ঘটে ১৯৯২ সালের ১২ এপ্রিল। একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালিয়ে সার্ব বন্দুকবাজরা ৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল। ১৯৯২ সালের এই দিনটি থেকে ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকে সারায়েভো। সার্ব সেনাবাহিনী আর মিলোসেভিচের নিজস্ব স্নাইপারদের যুগপৎ আক্রমণে শহরটি রীতিমতো ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণায় মারা যান, বহু হতাহতের ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

১৯৯৩ মস্তার নিয়ে বসনীয় আর ক্রোয়াটদের মধ্যে যুদ্ধ। ক্রোয়াটরা বোমা মেরে মস্তার সেতু উড়িয়ে দিল। এই ঐতিহাসিক সেতুটি ওসমানি আমলে নির্মিত হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ক্রিজ শহরে মুসলমানরা ৩৫ জনেরও বেশি বেসামরিক ক্রোয়াট নাগরিককে হত্যা করে।

অক্টোবর ক্রোয়াটরা অসংখ্য বেসামরিক মুসলমান নাগরিককে হত্যা করে। বসনীয়-ক্রোয়াট সংঘাতের সবচে তীব্র পর্যায়।

জাতিসংঘ এ বছর সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই) গঠন করল।

সাবেক যুগোশ্লাভ প্রজাতন্ত্র নামে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করল ম্যাকিদোনিয়া।

কসোভো লিবারেশন আর্মি (কেএলএ) প্রতিষ্ঠিত হল।

রয় গুটম্যান, আ উইটনেস টু জেনোসাইড
স্লাভেনকা দ্রাকুলিচ, দ্য বলকান এক্সপ্রেস: ফ্র্যাগমেন্টস ফ্রম দ্য আদার সাইড অফ ওয়ার
রবার্ট ডি. কাপলান, বলকান ঘোস্টস: আ জার্নি থ্রু হিস্ট্রি
জলাতকো দিদারেভিচ, সারায়েভো: আ ওয়ার জার্নাল
রাবিয়া আলী ও লরেন্স লিফশুলৎজ (সম্পা.), হোয়াই বসনিয়া? রাইটিংস অন দ্য বলকান ওয়ার

১৯৯৪ ফেব্রুয়ারি সারায়েভোর বাজারে ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক বসনীয় সার্বদের হাতে হত্যাযজ্ঞের শিকার হন।

মার্চ জাতিসংঘের সহায়তায় গঠিত হয় বসনীয়-ক্রোয়াট ফেডারেশন।

মে ক্রোয়েশীয় মুদ্রা দিনার নতুন মুদ্রা কুনা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হল।

গোরাজদের নিকটবর্তী একটি জায়গায় বসনীয় সার্ব সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ন্যাটো তার ইতিহাসের প্রথম সামরিক আক্রমণাভিযান পরিচালনা করল।

নোয়েল ম্যালকম, বসনিয়া: আ শর্ট হিস্ট্রি
বোগদান দেনিচ, এথনিক ন্যাশনালিজম: দ্য ট্রাজিক ডেথ অফ যুগোস্লাভিয়া
মিশা গ্লেনি, দ্য ফল অফ যুগোস্লাভিয়া: দ্য থার্ড বলকান ওয়ার
আনা কাতালদি, লেটার্স ফ্রম সারায়েভো: ভয়েসেস অফ আ বিসেইজড সিটি
জলাতা ফিলিপোভিচ, জলাতাজ ডায়েরি: আ চাইল্ড’স লাইফ ইন সারায়েভো

লুকাস নোলার, এভরি টাইম উই পার্ট

১৯৯৫ ফেব্রুয়ারি ২৩ জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল ২১ জন বসনীয় সার্বকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করল।

নভেম্বর ২১ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপে ডেটন চুক্তির মধ্য দিয়ে বসনিয়া যুদ্ধের অবসান।*
* এই যুদ্ধে ১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়, ৫০ হাজার মুসলমান নারী ও কন্যাশিশু পদ্ধতিগত ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হন। বসনিয়া যুদ্ধের সবচে আলোচিত ঘটনা স্রেবেনিচা হত্যাযজ্ঞ। সেনাপতি রাতকো ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন বসনীয় সার্ব বাহিনীগুলো জাতিসংঘ-কর্তৃক ‘সেফ হ্যাভেন’ ঘোষিত স্রেব্রেনিচায় ঢুকে শান্তিরক্ষীদের চোখের সামনে ৭ হাজারেরও বেশি বসনিয়াক (বসনীয় মুসলমান) পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করে।

ডিসেম্বর ডেটন চুক্তি অনুসারে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে দুটি পৃথক অঞ্চলে ভাগ করা হল। একটি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ফেডারেশন (FBiH), যা মুসলমান ও ক্রোয়াটদের যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকল। অন্যটি স্প্রসকা প্রজাতন্ত্র (RS), যা বসনীয় সার্বদের নিয়ন্ত্রণাধীন। এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণ করে একটি সর্বোচ্চ প্রতিনিধির কার্যালয় সৃষ্টি করা হল। একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হল।
১৪ প্যারিসে যুদ্ধরত সব পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি সই।

ক্রোয়াটদের বিজয়ে প্রতিহিংসামূলক আক্রমণের ভয়ে ক্রোয়েশীয় সার্বরা সার্বিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় পালিয়ে গেলেন। ক্রোয়েশিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধের অবসান।* যেই ডেটন চুক্তিতে সই করার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের অবসান ঘটে তার সাক্ষরকারীদের একজন ছিলেন ফ্রাঞ্জ তুজমান।
* ক্রোয়েশিয়া যুদ্ধে প্রায় ৩০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়, আড়াই লক্ষ মানুষ তাঁদের নিবাসচ্যুত হন।

ম্যাকিদোনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতিপ্রদান করল গ্রিস, দেশটির ওপর পূর্বে আরোপিত বাণিজ্য অবরোধ তুলে নিল।

টম জেলতান, সারায়েভো ডেইলি: আ সিটি অ্যান্ড ইটস নিউজপেপার আন্ডার সিয়েজ
নরম্যান সিগার, জেনোসাইড ইন বসনিয়া: দ্য পলিসি অফ ‘এথনিক ক্লিনজিং’

১৯৯৬ ইইউয়ের সাথে অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি সই করল স্লোভেনিয়া। ক্রোয়েশিয়া যুগোস্লাভিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করল। কাউন্সিল অফ ইওরোপে যোগ দিল ক্রোয়েশিয়া।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই) কাজ করতে শুরু করল। স্রেবেনিচা গণহত্যায় ভূমিকা রাখার দায়ে সার্ব দ্রাজেন এর্দেমোভিচকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল। দ্বিতীয় মেয়াদে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রেসিডেন্ট হলেন আলিয়া আলী ইজেতবেগোভিচ।

ভিনকো ব্রেসান, হাউ দ্য ওয়ার স্টার্টেড অন মাই আইল্যান্ড

১৯৯৭ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় নিরাপত্তা রক্ষা করতে ন্যাটো গঠন করল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স (এসফোর)।

ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনর্নির্বাচিত হলেন ফ্রাঞ্জো তুজমান।

আদেমির কেনোভিচ, দ্য পারফেক্ট সার্কেল
মাইকেল উইন্টারবটম, ওয়েলকাম টু সারায়েভো

১৯৯৮ সার্ব শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল কসোভো লিবারেশন আর্মি (কেএলএ)।

কসোভার আলবানীয়দের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান শুরু করলেন মিলোসেভিচ। কসোভো যুদ্ধের সূচনা। বিপুল সংখ্যক কসোভার আলবানীয় কসোভো ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।

নোয়েল ম্যালকম, কসোভো: আ শর্ট হিস্ট্রি
মিরান্ডা ভিকার্স, বিটউইন সার্ব অ্যান্ড আলবানিয়ান: আ হিস্ট্রি অফ কসোভো

প্রেদরাগ আন্তোনিজেভিচ, সেভিয়ার
ডেভিড এটউড, শট থ্রু দ্য হার্ট

১৯৯৯ বিলুপ্তপ্রায় যুগোস্লাভিয়ার শেষ দুই প্রজাতন্ত্র সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে ৭৮ দিন ব্যাপী বিমান হামলা পরিচালনা করল ন্যাটো। ন্যাটো কসোভো আর সার্বিয়ায় বোমাবর্ষণ চালানোর সময় সংগঠনটিকে নিজের আকাশপথ ব্যবহার করার অনুমতি দেয় ন্যাটোর পার্টনারশিপ ফর পীস কর্মসূচির সদস্য স্লোভেনিয়া। মন্টেনিগ্রোর মিলো জুকানোভিচ নিরপেক্ষতা নীতি ঘোষণা করেন। কসোভো থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হলেন মিলোসেভিচ। বহু বেসামরিক সার্ব নাগরিক কসোভো ছেড়ে পালালেন। কসোভো সার্বিয়ার ভেতরে জাতিসংঘের প্রটেক্টোরেটে পরিণত হল। জাতিসংঘ স্থাপন করল কসোভো পীস ইমপ্লিমেন্টেশন ফোর্স (কেফোর)। কসোভো লিবারেশন আর্মি (কেএলএ) অস্ত্র সমর্পণে রাজি হল। কসোভো যুদ্ধের সমাপ্তি।*
* (Judah 2008)য়ের হিসেবে কসোভো যুদ্ধে প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের শিকার হন।

১৯৯৮-৯৯ সালে সার্বিয়া আর কেএলএ দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করে। ন্যাটোর বিমান হামলায়ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ঘটে। এইসব যুদ্ধাপরাধের দুটি সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি নিচে দেখুন:

http://archive.today/QPqRT
http://archive.today/G8KHi

সার্ব পরিচয়বাদীদের হাতে পাইকারি হত্যাকাণ্ড ও বিতাড়নের শিকার কসোভার আলবানীয়রা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোয় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে লাগলেন।

দেশটির মুদ্রা হিসেবে দিনারকে প্রতিস্থাপিত করল জার্মান ডয়েচেমার্ক।

ফ্রাঞ্জো তুজমানের মৃত্যু।

লেসলি উডহেড, স্রেব্রেনিচা: আ ক্রাই ফ্রম দ্য গ্রেভ

২০০০ নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন স্লোবোদান মিলোসেভিচ। সার্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন ভোজিস্লাভ কস্তুনিচা। যুগোস্লাভ ফেডারেল প্রজাতন্ত্র জাতিসংঘে যোগ দিল।

ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হলেন উদারপন্থী ক্রোয়েশীয় পিপলস পার্টির স্তেপান মেসিচ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করল ক্রোয়েশিয়া।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নির্বাচনে মুসলমান-ক্রোয়াট অঞ্চলে মডারেটরা ভালো ফল করলেন, বসনীয় সার্ব-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে জাতীয়তাবাদীরা এগিয়ে থাকলেন। সার্ব জাতীয়তাবাদী দল একটি ঐক্যজোট গঠন করল। যার নেতৃত্বে ছিলেন মডারেট প্রধানমন্ত্রী ম্লাদেন ইভানিচ।

মাইকেল প্যারেন্টি, টু কিল আ নেশন: দ্য অ্যাটাক অন যুগোস্লাভিয়া

২০০১ রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ করা আর ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বেলগ্রেডে গ্রেপ্তার হলেন স্লোবোদান মিলোসেভিচ। তাঁকে আইসিটিওয়াইয়ের হাতে তুলে দেয়া হল। ১৯৯০য়ের দশকের শুরুর দিকে ক্রোয়েশিয়ায় ক্রোয়াটদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে যুগোস্লাভ প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করল নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আইসিটিওয়াই।

সার্বিয়ার ইতিহাসের প্রথম অকমিউনিস্ট প্রধানমন্ত্রী হলেন জোরান জিনজিচ।

আগস্ট জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল সাবেক বসনীয় সার্ব নেতা রাদিস্লাভ ক্রিস্তিচকে স্রেবেনিচা হত্যাযজ্ঞে ভূমিকা রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৬ বছরের কারাদণ্ড দিল।

অক্টোবর ৩১ ক্রোয়েশীয় প্রেসিডেন্ট স্তেপান মেসিচ বর্তমান ইসরায়েলে অবস্থিত ইয়াদ ভাশেমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্রোয়াট ফ্যাসিস্টদের হাতে ইহুদি নিধনের জন্য ইহুদিদের কাছে ক্ষমা চাইলেন।

ইভান লভরেনোভিচ, বসনিয়া: আ কালচারাল হিস্ট্রি

ডেনিস তানোভিচ, নো ম্যান’স ল্যান্ড
জন মুর, বিহাইন্ড এনিমি লাইনস

২০০২ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে দ্য নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে স্লোবোদান মিলোসেভিচের বিচার শুরু হল।

জানুয়ারি মুদ্রা হিসেবে ইওরো গ্রহণ করে নিল মন্টেনিগ্রো।

মে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হলেন ব্রিটিশ রাজনীতিক প্যাডি অ্যাশডাউন।

জুলাই ১৫ ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোতে এক ঐতিহাসিক সম্মেলনে মিলিত হলেন।

অক্টোবর ফেডারেশন প্রেসিডেন্সিয়াল, সংসদীয়, ও স্থানীয় নির্বাচনে জিতে জাতীয়তাবাদীরা আবার ক্ষমতায় ফিরল।

২০০৩ যুগোস্লাভিয়ার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি। গঠিত হল নতুন রাষ্ট্র সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো। বেলগ্রেডে আততায়ীদের হাতে খুন হলেন প্রধানমন্ত্রী জোরান জিনজিচ।

মে মন্টেনিগ্রোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ফিলিপ ভুজানোভিচ।

ইওরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য আবেদন করল ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯১ সালে কিছু বেসামরিক সার্ব নাগরিককে হত্যা করার দায়ে ক্রোয়াট সেনাপতি মির্কো নোরাচকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল, বহু ক্রোয়াটের চোখে যিনি যুদ্ধনায়ক।

২০০৪ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির বরিস তাদিচ, ইওরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘোষণা ব্যক্ত করলেন।

আত্মস্বীকৃত ক্রাজিনা সার্ব প্রজাতন্ত্রের সাবেক নেতা ক্রোয়েশীয় সার্ব মিলান বাবিচকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দিল আইসিটিওয়াই।

মিত্রোভিচা শহরে সার্ব-আলবানীয় দ্বন্দ্বে ১৯ জনের মৃত্যু। কসোভোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নিবাচিত হলেন ইব্রাহিম রুগোভা, দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন সাবেক বিদ্রোহী কমাণ্ডার রামুশ হারাদিনাজ। কসোভোয় সংখ্যালঘু সার্বরা এই নির্বাচন বয়কট করেন।

ডিসেম্বর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সদস্যপদের জন্য আহবান জানাল মন্টেনিগ্রো। একটি ইওরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইউফোরের হাতে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব হস্তান্তর করল ন্যাটো।

২০০৫ দ্য নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরস্থ জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল দ্বারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হলেন রামুশ হারাদিনাজ, কসোভোর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন।

সাবিনা ভাজরাচা, ব্যাক টু বসনিয়া

২০০৬ জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালে দ্য নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে স্লোবোদান মিলোসেভিচকে নিজ সেলে মৃতাবস্থায় পাওয়া গেল।

মে মন্টেনিগ্রোয় স্বাধীনতা গণভোট আয়োজিত। অধিকাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিলেন।*
* যুগোস্লাভিয়ার শেষ চিহ্নটুকু পর্যন্ত মুছে গেল।

জুন ১৯২তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দিল মন্টেনিগ্রো।

ডিসেম্বর ন্যাটোর পার্টনারশিপ ফর পীস প্রি-মেম্বারশিপ প্রোগ্রামে যোগ দিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

সার্বিয়া গণভোটের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করল যেখানে কসোভোকে দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দেখানো হল।

জাসমিলা জবানিচ, গ্রবাভিচা
ক্রিশ্চিনা ভাগনার, ওয়ারচাইল্ড

২০০৮ ফেব্রুয়ারি ১৭ কসোভো সার্বিয়া থেকে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করল, সার্বিয়া বলল এই স্বাধীনতার ঘোষণা অবৈধ। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইওরোপীয় দেশগুলো কসোভোকে স্বীকৃতি দিল। রাশিয়া কসোভোকে সার্বিয়ার অংশ বলে বিবেচনা করে।*
* জাতিসংঘের সদস্য-রাষ্ট্র নয়। তবে জাতিসংঘের শতাধিক সদস্য-রাষ্ট্রের স্বীকৃতিলাভ করেছে কসোভো। সার্বিয়া কসোভোর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে থাকে।

তথ্যসূত্র

BBC.

Čuvalo, Ante. 2007. Historical Dictionary of Bosnia and Herzegovina. 2nd Edition. Scarecrow Press.

Cox, John K.. 2002. The History of Serbia. Greenwood Press.

Judah, Tim. 2008. Kosovo: What Everyone Needs to Know. Oxford University Press.

Schuman, Michael A.. 2004. Serbia and Montenegro. Facts of File.

Pavlovic´, Zoran. 2003. Croatia. Chelsea House.

Phillips, Douglas. 2004. Bosnia and Herzegovina. Chelsea House.

Schuman, Michael A.. 2003. Croatia. Facts on File.
— 2004. Bosnia and Herzegovina. Facts of File.

নোট: ইরফানুর রহমান রাফিনের নন-ফিকশন সময়রেখা ঢাকার দিব্যপ্রকাশ কর্তৃক ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়। এই ব্লগটি সেই বই সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্প। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ও সিলেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে সময়রেখা, এবং অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সংগ্রহ করা যাবে।

অনলাইন অর্ডার লিংকসমূহ

দিব্যপ্রকাশ । বাতিঘর । বইবাজার । বইয়ের দুনিয়া । বইফেরী । বুক হাউজ । ওয়াফিলাইফ । রকমারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *